১৭. কাম

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

উপমান পরিভাষা

চারিত্রিক পরিভাষা

ছদ্মনাম পরিভাষা

১৭. কাম
Lust (লাস্ট)/ ‘شهوة’ (শাহওয়া)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা সঙ্গম। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা কামকলা, কামমন্ত্র, বিনোদন পুণ্যস্নান। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা উপাসনা। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা পর্যটন, ভ্রমণযজ্ঞ। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা আহব, উদ্বন্ধনপূজা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা তাপন, পাশাখেলাবাইচালি। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
কাম (বাপৌছ)বি কাজ, পরিশ্রম, কর্ম, বৃত্তি, প্রয়োজন, আবশ্যক।
কাম (বাপৌছ)বি কামনা, ইচ্ছা, বাসনা, সম্ভোগেচ্ছা, অভিলাষ, অনুরাগ।
কাম (বাপৌরূ)বি সঙ্গম, গমন, মিলন, মৈথুন, সম্ভোগ, lust, ‘شهوة’ (শাহওয়া) (আল) বিনোদন, পর্যটন, ভ্রমণ (রূপ্রশ) অক্ষক্রীড়া, কামকেলি, নিত্যকর্ম, পাশাখেলা, বপ্রক্রীড়া, বপ্রকেলি, বাইচালি, journey (ভাঅ) সঙ্গম, sexual intercours, ‘.ﻭﻄﻰ’ (ওয়াত্বিউ), ‘.ﺠﻤﺎﻉ’ (জিমাউ), ‘.ﻟﻮﺍﻄﺔ’ (লাওয়াত্বাত) (অশি) চুদ, চুদন, চুদা (আঞ্চ) লাগানো, গুয়ানো (ইংপ) heating, prayer, rape, copulation (ফাপ)ফা.ﺒﻧﺪﮔﻰ’ (বন্দেগি) (ইপ) ‘عبادة’ (ইবাদত), ‘ﺻﻠﻮﺓ’ (সালাত) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীকাম পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; সর্বপ্রকার কাজকর্মকেই বাংলায় ‘কাম বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে রূপকার্থে ‘কাম বলা হয় (বাপৌছ) তাপন, পাশাখেলা ও বাইচালি (বাপৌচা) আহব, উদ্বন্ধন ও পূজা (বাপৌউ) পর্যটন, ভ্রমণ ও যজ্ঞ (বাপৌরূ) উপাসনা (বাপৌমূ) কাম।

কামের সংজ্ঞা (Definition of lust)
সাধারণত; সর্বপ্রকার কাজকর্মকেই কাম বলা হয়।

কামের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of lust)
শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষ ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা কাম বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

কাম  উপাসনা পর্যটন, ভ্রমণ ও যজ্ঞ আহব, উদ্বন্ধন ও পূজা তাপন, পাশাখেলা ও বাইচালি

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
কামের আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা; কাম।
বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা; সঙ্গম।
বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা; কামকলা, কামমন্ত্র ও পুণ্যস্নান।
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; উপাসনা।
বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত প্রতিশব্দ; মৈথুন, রমণ, শৃঙ্গার, সঙ্গ, সম্ভোগ, স্ত্রীগমন, স্ত্রীসংসর্গ, স্ত্রীসঙ্গম ও স্ত্রীসহবাস।
বাংলা আভিধানিক প্রতিশব্দ; কামকেলি, কেলি, গমন, গমনাগমন, দ্যূত, দ্যূতক্রীড়া, বপ্রকেলি, বপ্রক্রিয়া, বপ্রক্রীড়া, মিলন ও সহবাস।
অশ্লীল প্রতিশব্দ; চুদ, চুদন, চুদা ও ভরণ।
আঞ্চলিক প্রতিশব্দ; করা, লাগানো, গুয়ানো।
বাঙালী পৌরাণিক উপমান; অবগাহন, আরাধন, কর্ম, কর্ষণ, কাজ, কৃষিকর্ম, কৃষিকাজ, খেলা, গাহন, চাষ, ঝাঁপই, ঠাকুরডুবান, ঠাকুরসেবা, ডুব, ডুবন, ধর্মকর্ম, ধর্ম, ধর্মকার্য, ধর্মক্রিয়া, ধর্মচর্চা, ধর্মপালন, ধর্মযুদ্ধ, ধর্মাচরণ, ধর্মাচার, ধ্বজিমারা, নাওয়া, পর্যটন, পূজন, বিহার, ভ্রমণ, যজ্ঞ, যাত্রা, যুদ্ধ, রণ, রণখেলা, রতীরমণ, রথযাত্রা, রাজকর্ম, রাজকার্য, রাসযাত্রা, রাসলীলা, লড়াই, লীলা, লীলাখেলা, সংগ্রাম, সংসর্গ, সন্তরণ, সমর, সাঁতার, সাধন, স্নান, স্নানযাত্রা ও হলকর্ষণ।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; আহব, উদ্বন্ধন, পূজা, বিলাস, সবন ও হবন।
বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম; অক্ষক্রীড়া, অগ্নিকর্ম, অগ্নিকার্য, অগ্নিক্রিয়া, অগ্নিক্রীড়া, অগ্নিসংস্কার, অগ্নিসৎকার, অশ্বমেধ, ইন্দ্রিয়তৃপ্তি, কাবাডি, কিষাণি, ক্রতু, গঙ্গাস্নান, গদাযুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, গোষ্ঠলীলা, ঘোষযাত্রা, জলকেলি, জলক্রীড়া, জলখেলা, জলবিহার, জলযুদ্ধ, তাণ্ডব, তাণ্ডবনৃত্য, তাণ্ডবলীলা, তাপন, তীর্থস্নান, দক্ষযজ্ঞ, দন, দশাশ্বমেধ, দুর্গোৎসব, দেবকার্য, দেবলীলা, দেবসভা, নরলীলা, নর্তন, নর্ম, নর্মাচার, নাচ, নাচন, নাট, নিত্যকর্ম, নিত্যকৃত্য, নিত্যক্রিয়া, নিয়তাচার, পরিব্রজন, পরিব্রাজন, পাল, পাশাখেলা, পুণ্যস্নান, পুতুলখেলা, পুতুলনাচ, প্রঘাত, প্রদক্ষিণ, প্রেমলতা, ফল্গুৎসব, ফাঁশি, ফুলদোল, বলাবলি, বসন্তবিহার, বসন্তোৎসব, বাইচালি, বারাবানা, বারুণীস্নান, বিগ্রহ, বিনোদন, বৈঠক, ব্রজলীলা, ব্রজ্যা, ব্রত, ভজনা, ভজা, ভবলীলা, ভানা, মর্ত্যলীলা, মল্লযুদ্ধ, মহাযজ্ঞ, মহাযুদ্ধ, মহিন্দ্রযোগ, মানুষ-লীলা, মিলনমেলা, মেধ, যজ্ঞ, যাগ, যুদ্ধবিগ্রহ, যুদ্ধযাত্রা, যোগসাধন, যোগসাধনা, যোধ, যোধন, রঙ্গ, রমা, লড়ালড়ি, সনাতনধর্ম, সভা, সমুদ্রমন্থন, সম্মেলন, সুরতি, সেবা, হরিসভা, হলচালন, হলচালনা, হাঁড়িভাঙ্গা, হোত্র, হোলি ও হোলিখেলা।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

১৭. কাম Lust (লাস্ট) ‘شهوة’ (শাহওয়া)
১৭/০. সঙ্গম Copulation (কপুলেশন) ‘معاشرة’ (মুয়াশিরা)
১৭/০. কামকলা Erotic science (ইরোটিক সাইন্স) ‘علم شهواني’ (আলিম শাহওয়ানি)
১৭/০. কামমন্ত্র Eroticism (ইরোটিসিজম) ‘شبق’ (শাবিক্বা)
১৭/০. বিনোদন Relaxation (রিল্যাক্সেশন) ‘استرخاء’ (ইস্তেরখাউ)
১৭/০. পুণ্যস্নান Ablution (এ্যাবলুশন) ‘الوضوء’ (আলওয়াদুউ)
১৭/০১. উপাসনা Adoration (এ্যাডোরেশন) ‘عبادة’ (ইবাদত)
১৭/০২. পর্যটন Touring (টুরিং) ‘يجول’ (ইউজাওয়াল)
১৭/০৩. ভ্রমণ Travel (ট্র্যাভেল) ‘ﺴﻔﺭ’ (সাফারা)
১৭/০৪. যজ্ঞ Sacrifice (স্যাক্রিফাইস) ‘تضحية’ (তাদহিয়া)
১৭/০৫. পূজা Worship (ওরশিপ) ‘تعبدا’ (তায়াব্বাদা)
১৭/০৬. তাপন Heating (হিটিং) ‘صلاة’ (সলাত)
১৭/০৭. পাশাখেলা Coitus (কোয়িটাস) ‘مضاجعة’ (মুদাজায়া)
১৭/০৮. বাইচালি Fuck (ফাক) ‘نكاح’ (নিকাহ)

কামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of lust)
১.    “আগে কপাট মারো কামের ঘরে, মানুষ ঝলক দিবে রূপ-নিহারে।” (পবিত্র লালন- ৬৭/১)
২.   “আত্মামুক্তি কামেতে হয়, ভেদ জানলে জানা যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২)
৩.   “আমার দেহনদীর বেগ থাকে না, আমি বাঁধব কয় মোহনা, কামজ্বালাতে জ্বলে মরি কই হলোরে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ১২৮/১)
৪.   “ঊর্ধ্বগমনের সুষুম্না ধমনী, ঐ কামের সাঁকো ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৯)
৫.   “করি মানা কাম ছাড়ে না মদনে, প্রেমরসিক হব কেমনে।” (পবিত্র লালন- ২৬৬/১)
৬.   “কামের ঘরে কপাট মেরে, উজান দিকে চালাও রস, দমের ঘর বন্ধ রেখে, যমরাজারে করো বশ।” (পবিত্র লালন- ২৭৫/১)
৭.   “কাল কাটালি কালের বশে, এত যৌবনকাল কামে চিত্ত কাল, কোন কালে আর হয় দিশে।” (পবিত্র লালন- ২৮৮/১)
৮.   “কেন মরলি রে মন, ঝাঁপ দিয়ে তোর বাবার পুকুরে, দেখি চিত্ত কামে মত্ত, পাগলপারা প্রায় তোরে।” (পবিত্র লালন- ৩৩৬/১)
৯.   “দম কষে তুই বয়রে ক্ষ্যাপা প্রেমনদীতে, ধরবি যদি তুই মীন মক্করা, কাম রেখে আয় তফাতে।” (পবিত্র লালন- ৫০৭/১)
১০. “সবাই কী তার মর্ম জানতে পায়, কেবল জানে সে জন, যে কাম সাধনে অটল হয়।” (পবিত্র লালন- ৯১৬/১)

কামের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of lust)
১.   “ঊর্ধ্বরেতা রসিক যারা, পুলটি পার হবে তারা, মনোবাসনা করবে পুরা, কাটবে না কামের ধারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৮)
২.   “কাম থেকে যে নিষ্কামী হয়, কামরতী হয় শক্তির আশ্রয়, লালন ফকিরে- ফাঁকে ফিরে, কঠিন দেখেশুনে।” (পবিত্র লালন- ২৪২/৫)
৩.   “কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসর্য, এ কয়জন দেহের অবাধ্য, প্রেমাগুনে করো দগ্ধ, জব্ত্ব করো শক্তহাতে।” (পবিত্র লালন- ৫০৭/৩)
৪.   “কামের ঘরে কপাট মারো, ভাবের একতালা গড়ো, এঁটে দাও প্রেম ছোড়ানে, সে টললে জীব- না টললে শিব, জানে যে শুদ্ধ রসিকজনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৭/২)
৫.   “গোপীর অনুগত যারা, ব্রজের সে প্রেম জানে তারা, তাদের কামের ঘরে হুড়কা মারা, মরাই মরে ধরায় ধরে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৫/৩)
৬.   “তিনজনে একত্র ঘুরে যেমন বরফ বাষ্প পানি, মিছে করো জাতির গৌরব মিছে কানাকানি, বলন কয় কামের জয়ে, গগণে হয় আগমন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৯)
৭.   “পঞ্চবাণ যথাযথ মারো, পঞ্চক্ষণ তাপিত করো, কামের ঘরে কপাট মারো, মরিয়া জিয়ান-মরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৯)
৮.   “পিছলানী দক্ষিণে পাইলে, পিষে কামের যাঁতাকলে, বলন কয় কামের ছলে, দুইমুখে কামড়াইয়া খায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০)
৯.   “প্রেমিক সে কবির ভক্ত, সদাই কৃষ্ণের দর্শন পেত, লালন বলে আমার সেতো, প্রেম করা কামলোভী যথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪১/৩)
১০. “বলবো কী সে প্রেমের বাণী, কাম থেকে হয় নিষ্কামী, শুদ্ধ সহজরস- করে বিশ্বাস, দোহার মন করে দোহারভাবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৯/৩)
১১.  “বাপের ভোজনালয় গেল লাটে, কামলোভী আর হোসনেরে মন, নাগরদোলার ঐ ঘাটে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৫)
১২. “মহতের সঙ্গ ধরো, কামের ঘরে কপাট মারো, লালন বলে কুলের ঘোরো, হারালিরে পরশরতন।” (পবিত্র লালন- ১৫৩/৪)
১৩. “রাজার গিন্নী পিছলানী, নরখাদক রাক্ষসিনী, আহার করে জীবনপানি, নিত্যলীলা কামের দায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০)
১৪. “রাগের আশ্রয় নিলেরে মন, কী করতে পারে মদন, আমার হলো কামলোভী মন, মদন-রাজার গাঁঠরি টানা।” (পবিত্র লালন- ১২৭/৩)
১৫. “সাড়ে তিনে গণনা করে, কপাট মারো কামের ঘরে, হাজারে অষ্টাঙ্গের পরে, বসে দেখ দয়াল নমূনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮)
১৬. “লালন কয় ভাঙ্গরে খেলা, করিস না আর অবহেলা, মন হলি কাম-ভোলা, পাশাখেলা ফেলে যা দেশে।” (পবিত্র লালন- ৩০৮/৪)
১৭.  “সে প্রেমের করণ করা, কামের ঘরে নিষ্কামী যারা, নির্হেতু প্রেমে অধর ধরা, ব্রজগোপীর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৯৬৬/২)
১৮. “সে রসিক শিখরে, যে মানুষ বাস করে, হেতুশূন্য করণ মানুষের করা, নির্হেতু বিশ্বাসে- মিলে এ মানুষে, লালন ফকির কামহেতু যায় মারা।” (পবিত্র লালন- ৭৮৮/৪)

সাধারণ কাজ অর্থে কামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology lust sense for ordinary work)
১.   “অন্যকে বুঝাতে তামাম, করেন রাসুল জাহিরা কাম, বাতিনে মশগুল মুদাম, কারো কারো জানালে।” (পবিত্র লালন- ৭২৪/৪)(মুখ; ভুলো না মন কারো ভোলে, রাসুলের দিন সত্য মানো, ডাক সদাই আল্লাহ বলে”)
২.   “প্রকাশ্যের পাপের কাম, দিবালোকে হয় সমাধান, মনেতে থাকেরে ধিয়ান, কথা ভুলে না জীবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)
৩.   “অঙ্গ ভেঙ্গে করে দু’খানা, তনে পাঁচ’জান বসালেন জানা, কে বুঝবে সাঁইয়ের কাম, স্বজলায় রূপ গঠলেন তৎক্ষণা।” (পবিত্র লালন- ৯৫৪/৩)
৪.   “ছয়মাসে বালিকা বৃদ্ধা হয়ে হয় কালা ও সাদা, নাতি জন্মের নয় মাস পরে জন্ম হয় বড় দাদা, আটমাস আগে মরে বাবা, বেশ্যাবৃত্তি মেয়ের কাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৪)

বৈতরণী অর্থে কামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology lust sense for styx)
১.   “একে সে প্রেমনদীর জলে, থাই মিলে না নোঙর ফেলে, বেঁহুশ হয়ে নাইতে গেলে, কাম-কুম্ভীরে খায়।” (পবিত্র লালন- ৪২৮/৩)(মুখ; গৌরপ্রেম অথায়, আমি ঝাঁপ দিয়ে চিতায়, এখন আমার প্রাণ বাঁচান ভার, করি কী উপায়”)
২.   “যেতে পথে কামনদীতে, পাড়ি দিতে ত্রিবেণে, কত ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা, পড়ে নদীর ঘোর তুফানে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/২)(মুখ; কী সন্ধানে যাই সেখানে মনের-মানুষ যেখানে, আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি, দিবারাতি নাই সেখানে”)
৩.   “শোষায় শোষে না ছাড়ে বান, ঘোর তুফানে বায় তরী উজান, তার কামনদীতে চর পড়েছে, প্রেমনদীতে জল পোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৭/২)(মুখ; জ্যান্তমরা প্রেমসাধন কী পারবি তোরা, যে প্রেমে কিশোর-কিশোরী, হয়েছে পাগলপারা”)
৪.   “প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে, কামনদীর এক ধাক্কা এসে, কেটে যায় বাঁধন ছাদন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/২)(মুখ; করি কেমনে শুদ্ধসহজ, প্রেমসাধন, প্রেমসাধতে ফেঁপে ওঠে, প্রেমনদীর তুফান”)
৫.   “সহজবস্তু সহজ হয়ে, পাকাগুরুর শিক্ষা লয়ে, সেধেছে যে জনা, তার কামসাগরে চর পড়েছে, প্রেমসাগরে জল আঁটে না।” (পবিত্র লালন- ৮৫৮/২)(মুখ; রসিকের ভঙ্গিতে যায় চেনা, দেখ তার শান্তচিত্ত ঊর্ধ্বরতী, মায়া বরণ কাঞ্চাসোনা”)
৬.   “করি কেমনে শুদ্ধসহজ, প্রেমসাধন, প্রেমসাধতে ফেঁপে ওঠে, প্রেমনদীর তুফান।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/১)
৭.   “করে কামসাগরে এ কামনা, দান করে মধু কুলবধূ, পেয়েছ কেলেসোনা।” (পবিত্র লালন- ২৬৭/১)
৮.   “কামনদীর তরঙ্গ ভারী, কেমনে ধরিব পাড়ি গো, বেলা গেল সন্ধ্যা হলো, পড়ে রলাম কিনারায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯০)
৯.   “কামনদীর রূপ দেখিয়া, পরাণ কাঁপে কূলে বইয়া, ঝরার খাল যায় ঝরিয়া, কোনোই বাঁধন মানে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৬)
১০. “গুরু চেনাই দুই চেনালে, দুশ্চিন্তা ভয় না থাকিলে, শিষ্যের ভার কাঁন্ধে নিলে, কামনদীর পারাপারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৯)
১১.  “জোয়ার এলে ওঠে সোনা, ধরে নেয় রসিক জনা, কামনদীর ঘাটে লোনা, লালন কয় সেথায় মানুষ মরে।” (পবিত্র লালন- ৮৩৪/৫)
১২. “নদীর স্রোত যদি তীরে ছুটে, কামনদীর পিছলঘাটে তরঙ্গ ওঠে, লালন বলে মোহর এঁটে, নিরীক্ষ রাখ রাগের তলায়।” (পবিত্র লালন- ১০১/৪)
১৩. “প্রেমগঞ্জের রসিকের কামগঞ্জে হলে ভুল, কাম থাকতে পায় না সে প্রেমতরঙ্গের কুল, এপারে বসে দেখি ঐপারে মূল, মানুষ মারি মানুষ ধরি মানুষ খবরদার।” (পবিত্র লালন- ৪৮/২)

শিশ্ন অর্থে কামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology lust sense for penis)
১.   “আছে সত্য-মানুষ বর্তমান, কামদরজায় বিতংস বান, ধরা পড়বে সাঁই দয়াবান, ধড়ে পাবি ব্রহ্মাণ্ডের খবর।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/২)
২.   “পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪)
৩.   “প্রেম প্রকৃতি স্বরূপসতী, কামগুরু হয় নিজপতি, ও মন অনুরাগী না হলে, ভজন সাধন হয় না।” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/২)

শুক্র অর্থে কামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology lust sense for semen)
১.   “আগে উদয় কামরতী, রস আগমন তারই সাথী, সে রসে হয়ে স্থিতি, খেলছে মানুষ প্রেমদাতা।” (পবিত্র লালন- ৮৮৮/২)
২.   “আবাদ করি পদ্মবিলে, মন মাতোয়ারা কাম-সলিলে, জমিন গেল ধ্বসে, জমিনের বাঁধ বুনিয়াদ ভেসে গেল, কাঁদি জমিনের আলে বসে।” (পবিত্র লালন- ১৪০/৩)(মুখ; আমার সাধ মিটে না লাঙল চষে, হারা হলাম দিশে, জমিন করব আবাদ ঘটে বিবাদ, দুপুরে ডাকিনী পুষে”)
৩.   “শুদ্ধপ্রেম সাধল যারা, কাম-রতীকে রাখল কোথা, বলো রসিক রসের মুয়াফিক্ব, ঘুচাও আমার মনের ব্যথা।” (পবিত্র লালন- ৮৮৮/১)

কবন্ধ অর্থে কামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology lust sense for acephalous)
১.   “একে সে প্রেমনদীর জলে, থাই মিলে না নোঙর ফেলে, বেঁহুশ হয়ে নাইতে গেলে, কাম-কুম্ভীরে খায়।” (পবিত্র লালন- ৪২৮/৩)(মুখ; গৌরপ্রেম অথায়, আমি ঝাঁপ দিয়ে চিতায়, এখন আমার প্রাণ বাঁচান ভার, করি কী উপায়”)
২.   “নতুনগাঙ্গে জোয়ার আসে, কালকুটে কাম-কুম্ভীর ভাসে, লালন বলে মানুষ গ্রাসে, অসাবধানে নামিস না।” (পবিত্র লালন- ৭২০/৪)

কামের প্রকারভেদ (Variations of lust)
শ্বরবিজ্ঞানে; কাম তিন প্রকার। ১. বিনোদনমূলক কাম ২. প্রজননমূলক কাম ও ৩. সাধনমূলক কাম।

. বিনোদনমূলক কাম (Recreational lust)
কেবল চন্দ্রচেতনা প্রশমনের জন্য সম্পাদিত কামব্রতকে বিনোদনমূলক কাম বলে।

সাধারণত; এটি; পশুকুলের মধ্যে দেখা যায় না। চটক-পাখি ও সিংহের মতো পশুদের মধ্যে অধিক কামপ্রবণতা দেখা যায়। তবে; সেটি আদৌ বিনোদনমূলক কাম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে; সিংহের ১,২০০-১,৫০০ বার কামের ফলে একটি শাবকের জন্ম হয়। অর্থাৎ; সিংহের প্রতি কামব্রতেই শাবক উৎপাদনকারী শুক্র স্খলন হয় না। একাধিকবার কাম করতে করতে হঠাৎ সিংহীর গর্ভে শাবক সৃষ্টি হয়। তাদৃশ; চটক-পাখিও। একাধিকবার কামব্রত না করলে স্ত্রী চটক-পাখিও ছানা উৎপাদনকারী ডিম প্রসব করতে পারে না। অন্যদিকে; বিনোদনমূলক কাম মানবকুলের প্রায় সবাই করে। যদিও; প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রতিবার স্খলনকৃত শুক্রই সন্তান উৎপাদন করার ক্ষমতা রাখে। তাই; বলা যায়; বিনোদনমূলক কামপ্রবণতা কেবল মানবজাতির মধ্যে দেখা যায়। অন্যান্য পশুকুলের মধ্যে দেখা যায় না।

. প্রজননমূলক কাম (Reproductional lust)
সৃষ্টিকুলের জীব মাত্রই প্রজননমূলক কাম করে। আর এটি; করা না হলে দ্বিপস্থ জীব প্রজাতি কখনই টিকে থাকত না। এমন কামপ্রবণতা (amorousness) পশুকুল ও মানবকুল সবার মধ্যেই দেখা যায়। তবে; বিবাহিত দম্পতির মধ্যেই এ প্রবণতা সবচেয়ে অধিক। অন্যদিকে; ব্যতিক্রম কেবল সাধকগণ। সাধকগণ কখনই প্রজননমূলক কামব্রত করেন না। কারণ; তাঁরা সর্বদা অখণ্ডই থাকতে চান। যেমন; লোকনাথ ও লালন। এঁরা অখণ্ড। কারণ; তাঁদের সন্তান নেই। তাই; বলে তাঁরা কী কামব্রত করেননি? অবশ্যই করেছেন। তবে; তাঁরা কামব্রতে সর্বদা অটলত্ব রক্ষা করেছেন। এবার কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে; “এভাবে সবাই যদি নিঃসন্তান থাকেন; তবে মানবকুল তো বিলুপ্ত হয়ে পড়বে।” এমন কথার উত্তর হচ্ছে; চিকিৎসা বিদ্যার শাখা উম্মুক্ত থাকার পরও; যেমন সবাই চিকিৎসক হয় না। নিঃসন্তানত্ব (childlessness) গ্রহণ করার সুযোগ থাকার পরও; তেমনই; সবাই সন্তানহীন জীবন গ্রহণ করতে পারে না।

যেমন; কুরানে বলা হয়েছে; “إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ” উচ্চারণ; “ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার।” অর্থ; “নিশ্চয় যিনি আপনার প্রেমিক তিনি আঁটকুড়ে।” (কুরান, কাউসার- ৩)। কুরানের অন্যত্র বর্ণিত আছে যে; “مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا” উচ্চারণ; “মা কানা মুহাম্মাদুন আবা আহাদিম মির রিজালিকুম, ওয়া লাকির রাসুলাল্লাহি, ওয়া খাতামান নাবিয়্যিনা, ওয়া কানাল্লাহু বিকুল্লি শাইয়্যিন আলিমা।” অর্থ; “সাঁই (মুহাম্মদ) কারো পিতা ছিলেন না, তোমাদের পুরুষরা (যেমন)। তিনি ছিলেন কাঁইয়ের তত্ত্ববাহক এবং সর্বশেষ বসিধ এবং কাঁই সর্ববিষয়ে সুবিজ্ঞ।” (কুরান- আহযাব-৪০)। মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “১অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং সারা চরাচর, গুরু তুমি পতিতপাবন পরমঈশ্বর।” (পবিত্র লালন- ৪২/১)। অন্যদিকে; বলন কাঁইজি কর্তৃক নির্মিত বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ বলন তত্ত্বাবলী এর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে যে; “মরেছিল সাঁইজি লালন, পাই না তাঁর পুনর্জনম, এমন মরা মরে কয়জন, স্বেচ্ছা ঝুলে ফাঁসিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; মরাকে আর মারবি কত, বেন্ধে কাম-রশিতে, যমের কী আর সাধ্য আছে, আবার তারে মারিতে”)। বিশ্ববিখ্যাত মহাসাধকগণ স্বেচ্ছায় সন্তানগ্রহণ করেন না। এজন্য; কখনই তাঁদের আঁটকুড়ে বলা উচিত নয়। কারণ; নিঃসন্তানতা খাস্তবাদের প্রথমধাপ।

. সাধনমূলক কাম (Accomplishment lust)
সাধনমূলক কামব্রত কেবল সাধকদের জন্য নির্দিষ্ট। তাই; পশুকুল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সাধনমূলক কামপ্রবণতা দেখা যায় না। সাধকগণ কাম সাধনের মাধ্যমে স্বস্ব রতীর ঊর্ধ্বগতি করেন। স্বস্ব জন্মনিয়ন্ত্রণ করেন। অতঃপর; এর দ্বারা মানবের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তার দর্শনলাভ করেন।

কামের উপকার (Benefits of lust)
১. কামের দ্বারা চিত্তস্থিরতা অর্জন হয়।
২. এর দ্বারা মনের চঞ্চলতা দূর হয়।
৩. এর দ্বারা ঊর্ধ্বরেতা হওয়া যায়।
৪. এর দ্বারা সন্তান সৃষ্টি করে বংশগতির ধারা রক্ষা করা যায়।
৫. এর দ্বারা সাঁই ও কাঁইয়ের সন্ধানলাভ করা যায়।

কামের অপকার (Disservice of lust)
১.   অধিক কামের ফলে অধিক শুক্রক্ষরণের দ্বারা আয়ু হ্রাস পায়।
২.   অধিক কামের ফলে অধিক শুক্রক্ষরণের দ্বারা যথাসময়ের পূর্বেই বার্ধক্য আক্রমণ করে।
৩.   অধিক কামের ফলে অধিক শুক্রক্ষরণের দ্বারা অল্প বয়সেই চুল দাড়ি পেকে যায়।

কামের পরিচয় (Identity of lust)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীর ‘সঙ্গম’ নামক বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তাবাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা বিশেষ। সর্বপ্রকার কাজকর্মকেই কাম বলা হয়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল নারী ও পুরুষের সঙ্গমকে কাম বলা হয়। কাম জীবকুলের সহজাত প্রবৃত্তি। প্রায় সব দ্বিপস্থ জীবের মধ্যেই পরিণত বয়সে; কাম বা সঙ্গম প্রবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়। একমাত্র মানুষ ব্যতীত সৃষ্টিকুলের প্রায় সব জীবকেই প্রকাশ্য কিংবা দিবালোকে কামকেলি করতে দেখা যায়। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব। তাই; ব্রীড়া বা লজ্জাবশত; অতীব প্রয়োজনীয় নিত্যকর্ম বা কামক্রিয়া শিক্ষা করে; অত্যন্ত গোপনে লুকোচুরি করে। আজীবন তা লুকোচুরি করেই করতে থাকে। সুবিজ্ঞ সাধু, সন্ন্যাসী, ঋষি ও মনীষীগণ লজ্জাস্কর সঙ্গম (চুদ চুদন চুদা ইত্যাদি) পরিভাষাকে সুকৌশলে (আরাধনা, পূজা, যজ্ঞ, সাধন, হোম, কামকেলি, কেলি, গোষ্ঠখেলা, গোষ্ঠলীলা, মতবাদ-যুদ্ধ, নিত্যকর্ম, নিত্যকৃত্য, নিত্যক্রিয়া, নিত্যপ্রলয়, নির্জনবাস, পর্যটন, পাশাখেলা, প্রমোদ, বিলাস, ভ্রমণ, মিলন, শুক্রক্রীড়া, শুক্ররণ, লীলা, সংযোগ, সম্ভোগ, সহবাস, সাক্ষাৎ, স্বেচ্ছামৃত্যু) ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা দ্বারা পরিবর্তন করেছেন। অতঃপর; এসব বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা দ্বারা রূপকার্থে কৃত্রিম উপমা বা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তারপর; তা কাব্যাকারে বা গীতি আকারে নির্মাণের দ্বারা মনোমুগ্ধকর চমৎকার নির্মাণ করেছেন। অতঃপর; বিশ্ববিখ্যাত গীতি ও মনোমুগ্ধকর চমৎকার দ্বারা সুসঙ্গমের সুশিক্ষা প্রদান করেছেন। যেমন; মরমী কবি দীনহীন (১৮৫৫-১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ) লিখেছেন; “আজ পাশাখেলবরে শ্যাম, ও শ্যামরে তোমার সনে, একেলা পেয়েছিরে শ্যাম এ নিধুবনে।”

কামের আসন (Seats of lust)
কামের অনেক প্রকার আসন রয়েছে। তারমধ্যে; ভেকাসনটি অটল বা ঊর্ধ্বরেতা প্রশিক্ষণার্থী অনুরাগীদের জন্য প্রযোজ্য। কারণ; এ আসন ব্যতীত কোনো ক্রমেই শুক্রকে অটল রাখা যায় না। এ আসনে কাম প্রশিক্ষণ করতে থাকলে; ক্রমে ক্রমেই কামের স্থায়িত্ব বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই অটলত্ব অর্জন করা যায়।

শুক্র নিয়ন্ত্রণের কামাসন (Lust seats of the semen control)
শুক্র নিয়ন্ত্রণের কামাসন হলো ব্যাঘ্রাসন বা ভেকাসন। ভেক (ব্যাঙ) বা বাঘ যেভাবে বসে ঠিক সেভাবে বসে রমণ বা গমন করলে অনায়াসে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাধক-গুরু বা সাধক-গোঁসাইয়ের নিকট হতে বিষয়টি সব অনুসন্ধানীদের উত্তমভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ রইল।

সমকামিতা (Lesbianism/ homosexuality/ uranism)
নারী-নারী বা পুরুষ-পুরুষে কামকেলি করাকে সমকামিতা বলে।

মানুষের দ্বারা সংঘটিত যত প্রকার অপকর্ম রয়েছে; তারমধ্যে; সবচেয়ে জঘন্যতম হলো সমকামিতা। সৃষ্টিকুলের অধিকাংশ প্রাণীর মধ্যেই এ প্রবৃত্তিটি দেখা যায় না। সৃষ্টিকুলের অন্যান্য জীবের মতো কাম মানুষেরও সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষের উপস্থ (শিশ্ন ও যোনি) ইন্দ্রিয়টি অত্যন্ত কোমল। যারফলে; ইন্দ্রিয়টি কামসাধনে নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি যেমন আনন্দদায়কভাবে ক্রিয়াশীল; সমকামিতায় তেমনভাবে ক্রিয়াশীল নয়। অর্থাৎ; শিশ্ন কেবল স্ত্রী জননাঙ্গে বিনোদক; তেমনই; স্ত্রী জননাঙ্গও কেবল শিশ্ন সঞ্চালনের বিনোদক। সবচেয়ে নাজুক ও কোমল ইন্দ্রিয়কে সুনির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার না করে; সমকামিতায় ব্যবহার করা হলে; অল্প সময়ের মধ্যেই উভয় অঙ্গই বিকল হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। এককথায় বলা যায়; সমকামিতা প্রকৃতি বিরুদ্ধ ও চরম আত্মবিধ্বংসী কাজ। সেজন্য; বুদ্ধিমানদের উচিত সমকামিতা ও হস্তমৈথুনের মতো গর্হিত কার্যাদি হতে বিরত থাকা। পাশাপাশি সমাজ সচেতনতা গড়ে তোলা। অত্র গ্রন্থের ‘পাশাখেলা’ পরিভাষার অনুকূলে অবশিষ্ট আলোচনা করা হয়েছে।

বহুগামিতা (Polygamy)
এক পুরুষ বহু নারীতে বা এক নারী বহু পুরুষে সঙ্গম করাকে বহুগামিতা বলে।

এটি; মারাত্মক অপরাধ। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক। কী সাম্প্রদায়িক, কী মানবিক (অলিখিত), কী সামাজিক কিংবা কী রাষ্ট্রীয়; কোনো বিধানই একে সমর্থন দেয় না। কারণ; এর দ্বারা একজনের ছোঁয়াচে যৌনরোগ; অনায়াসে অন্যের দেহে প্রবেশ করে। এজন্য; আদিকাল হতে সর্বপ্রকার শাস্ত্রই একে অত্যন্ত গর্হিত, মন্দ ও ঘৃণিত কাজ বলে থাকে। তবু; এখনও অনেক স্থানে অনেক পুরুষ-নারী বহুগামিতা নামক এমন গর্হিত কাজ করে। সবারই এসব কঠিন মন্দ অভ্যাস হতে দূরে থাকা উচিত।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৪র্থ খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!