৩৩. দেহ

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

৩৩. দেহ
Body (বডি)/ ‘جسم’ (জেসিমা)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং দেহপরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পৃথিবী। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ হাতি। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ ভুবন এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র স্বর্গালয়। এটি; একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
দেহ (বাপৌমূ)বি খাঁচা, ধড়, পিঞ্জর, body, ‘جسم’ (জেসিমা), corpus, physique, substance, trunk, organism, বদন (.ﺒﺪﻦ) (আল) কংকাল, কলেবর (রূপ্রশ) ১. উষ্ট্র, ঘোড়া, নদীয়া, নবদ্বীপ, পাহাড়, ব্রহ্মাণ্ড, হাতি ২. কল্পতরু, কল্পদ্রুম, কল্পবৃক্ষ (ইংপ) world (ফাপ) জাহান (ফা.ﺠﻬﺎﻦ) (ইপ) আলম (.ﻋﺎﻠﻡ), ক্ববর (.ﻘﺑﺮ), ফিল (.ﻔﻴﻞ), মিসর (.ﻤﺻﺮ), মুলুক (.ﻤﻟﻚ), শাজারা (.ﺸﺠﺮﺓ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীদেহ পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; জীবের স্থূল আকারকে বাংলায় ‘দেহ বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, আত্মা, জ্ঞান ও মন বহনকারী জীবন্ত কাঠামোকে রূপকার্থে ‘দেহ বলা হয় (বাপৌছ) দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয় (বাপৌচা) কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ ও ভুবন (বাপৌউ) অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ ও হাতি (বাপৌরূ) পৃথিবী (বাপৌমূ) দেহ।

দেহের সংজ্ঞা (Definition of body)
সাধারণত; জীবের স্থূল আকারকে দেহ বলে।

দেহের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of body)
শ্বরবিজ্ঞানে; আত্মা, জ্ঞান ও মন বহনকারী জীবন্ত কাঠামোকে দেহ বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

দেহ পৃথিবী অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ ও হাতি কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ ও  ভুবন দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয়

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
দেহের আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; দেহ।
আভিধানিক প্রতিশব্দ;  অঙ্গ, অবয়, অবয়ব, আকার, আকৃতি, কঙ্কাল, কলেবর, কায়, কায়া, গা, গাত্র, ঠাট, তনু, ধড়, রূপ, শরীর ও স্থূলদেহ।
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; পৃথিবী।
বাঙালী পৌরাণিক উপমান; অগ্নিগিরি, অদ্রি, অশ্ব, উষ্ট্র, উষ্ট্রী, ঐরাবত, কানন, খাঁচা, গজ, গাছ, গাড়ি, গিরি, গাঁ, গৃহ, গেরাম, গ্রাম, ঘড়ি, ঘর, ঘোড়া, জাহাজ, ঝি, টিলা, ডোঙ্গা, তরণী, তরান্ধু, তরিত্র, তরী, তরু, দেশ, ধরণী, ধরা, ধাম, নাও, পর্বত, পাঠমন্দির, পাঠশালা, পাহাড়, পিঞ্জর, পুস্তক, বন, বাটী, বাড়ি, বিদ্যাপীঠ, বিদ্যালয়, বৃক্ষ, ভবন, ভিটা, ভূমি, ভেলা, মঠ, মাটি, মেঘ, যান, রাজ্য, রাষ্ট্র, শকট ও হাতি।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক;  অত্রি, ইরা, গান্ধার, গিরিরাজ, জীমূত, জম্বু, তক্ষ, দশবল, দশরথ, দ্রুম, নগেন্দ্র, নিখিল, পল্লব, পল্লবী, পৃথ্বী, বদর, বপু, বলাহক, বসুমতী, বিপিন, বিমান, ব্রজ, ভুবন, মান্দাস, মেঘলা, মেদিনী, মেদেনী, শমি ও শৈলেন।

বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম; অংশকলা, অবনি, অভ্র, অম্ভোজ, অম্ভোদ, অরণ্য, অর্ণবতরী, অর্ণবপোত, অর্ণবযান, অর্ধনারীশ্বর, অশ্বযান, আখড়া, আদল, আদিপুরাণ, আপণ, আবাস, আয়ুর্বেদ, আসন, উইঢিবি, উট, উটজ, উড়ুপ, উড়োজাহাজ, উপনিষদ, উপপুরাণ, উপবেদ, ঋক্ষ, ঋগবেদ, কঠোপনিষদ, কদম, কল্পগিরি, কল্পতরু, কল্পদ্রুম, কল্পবৃক্ষ, কল্পলতা, কাননিকা, কারাগার, কারাগৃহ, কাষ্ঠপুত্তল, কাষ্ঠপুত্তলিকা, কাষ্ঠফলক, কাষ্ঠমঞ্চ, কাষ্ঠাসন, কুটির, কুটজ, কুলায়, কুলায়িকা, কুশপুত্তলিকা, কুসুমকানন, কোশল, ক্রন্দ, ক্রৌঞ্চদ্বীপ, ক্ষিতি, ক্ষিতিধর, ক্ষিতিভৃৎ, ক্ষোণী, খাঞ্চা, খাণ্ডবপ্রস্থ, খাণ্ডববন, গিরিবর, গৈরেয়, ঘন, চতুর্দশভুবন, চরা, চরাচর, চাঁদোয়া, চিত্রকূট, চৌদ্দহাতী, ছত্র, ছত্রশালা, ছায়াতরু, জগ, জগৎ, জগৎসংসার, জগন্ম-ল, জগমণ্ডল, জঙ্গল, জনপদ, জনপাদ, জম্বুদ্বীপ, জলদ, জলধর, জলমুখ, জীবলোক, জীবালয়, ঝর্ঝরিক, টাপু, তনুয়া, তপোবন, তরুবর, তরুরাজ, তৃণকুটির, তোয়দ, তোয়ধর, ত্রিদশালয়, ত্রিদিব, দণ্ডকারণ্য, দল, দশকুশী, দশকোষী, দশচক্র, দশমূল, দশাক্ষর, দশার্ণদেশ, দে, দেবপুরী, দেবলোক, দেবালয়, দেয়া, দেহপিঞ্জর, দেহভাণ্ড, দ্রবিড়, ধরতি, ধরাতল, ধরাধর, ধরাধাম, ধরিত্রী, ধর্মগ্রন্থ, ধর্মপুস্তক, ধর্মশাস্ত্র, নগ, নগপতি, নগরাজ, নগাধিপ, নগাধিপতি, নগাধিরাজ, নদে, নয় দুয়ারী, নরযান, নরলোক, না (নৌকা), নিত্যগোলক, নিত্যপুরী, নিদর্শনপাহাড়, নিরুক্ত, নৃলোক। পঞ্চগড়, পঞ্চবটী, পয়োমুখ, পর্ণ, পর্ণকুটির, পর্ণশয্যা, পর্ণশালা, পর্ণী, পর্বতকন্দর, পর্বতপতি, পল্লবী, পল্লি, পশার, পশুশালা, পাঞ্চাল, পাড়া, পাদপ, পান্থপাদপ, পাপতরণী, পার্গু, পীঠস্থান, পুথি, পুরাণ, পুস্তকাগার, পুস্তকালয়, পুস্তিকা, প্রতীক, প্রবালদ্বীপ, প্রাণীজগৎ, প্রাসাদ, প্রেমঘড়ি, প্রেমডালি, প্রেমতরণী, প্রেমনৌকা, বঙ্গ, বদরি, বদরিকা, বনানী, বসতবাটি, বসতবাড়ি, বসতভিটা, বসুধা, বসুন্ধরা, বস্তি, বস্ত্রকুটির, বস্ত্রগৃহ, বস্ত্রাবাস, বাজি, বাঞ্ছাকল্পতরু, বাটিকা, বারদুয়ারি, বারিতস্কর, বারিরথ, বালুচর, বাসা, বাস্তু, বিটপী, বিদ্যামন্দির, বিশ্ব, বিশ্বকোষ, বিশ্বচরাচর, বিশ্বজগৎ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভুবন, বিশ্বসংসার, বিশ্বসাহিত্য, বিষবৃক্ষ, বৃহৎবৃন্দাবন, বেদ, বেদান্ত, বেশ্ম, বৈদ্যশাস্ত্র, বোধিদ্রুম, বোধিবৃক্ষ, ব্যোমযান, ব্রজ, ব্রহ্মাণ্ড, ভব, ভবতরী, ভবধাম, ভবলোক, ভারতবর্ষ, ভিটে, ভুঁই, ভূ, ভূতময়, ভূতাবাস, ভূধর, ভূভৃৎ, ভূবলয়, ভূমণ্ডল, ভূলোক, ভূমিরুহ, ভূমীরুহ, ভূর্লোক, ভেদবিদ্যালয়, ভোগায়তন, মণিকুট্টিম, মণ্ডপ, মনুষ্যলোক, মনুসংহিতা, মন্দির, মরুজাহাজ, মরুসাগর, মর্ত্য, মর্ত্যধাম, মর্ত্যভূমি, মর্ত্যলোক, মলয়পর্বত, মলয়াচল, মলয়াপর্বত, মহাকাব্য, মহাকাশবিমান, মহাচ্ছায়, মহাদেশ, মহাপুরাণ, মহাবন, মহাভারত, মহামৃগ, মহাযান, মহারণ্য, মহারথ, মহারাষ্ট্র, মহাশূন্যযান, মহি, মহী, মহীতল, মহীধর, মহীরুহ, মাচা, মাচান, মাচিয়া, মাতঙ্গ, মতামহ, মাতুলালয়, মুরৎ, মূরতি, মূর্তিমন্ত, মূর্তিমান, মৃৎপাত্র, মৃৎভাণ্ড, যজুর্বেদ, যাববাহন, যোগবাশিষ্ট, রজতগিরি, রত্নগিরি, রথ, রাসমণ্ডপ, রাসমণ্ডল, রূপরেখা, লালদালান, লোক, শক্রবাহ, শরণদ্বীপ, শাখী, শাস্ত্র, শিখরী, শিবির, শুণ্ডাল, শৈল, সংসার, সংহিতা, সদ্ম, সমাধি, সমাধিক্ষেত্র, সমাধিস্থল, সমাধিস্থান, সাম্রাজ্য, স্থান, স্বর্গালয়, স্বগৃহ, স্বগ্রাম, স্বর্ণপিঞ্জর, স্বর্ণপ্রতিমা, হরাদ্রি, হরিণবাড়ি, হস্তিনাপুর, হস্তী ও হিরণ্যদা।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

৩৩. দেহ Body (বডি) ‘جسم’ (জেসিমা)
৩৩/১. পৃথিবী World (ওয়ার্ল্ড) ‘عالم’ (আলম)
৩৩/২. অশ্ব Horse (হর্স) ‘ﻔﺮﺱ’ (ফারাস)
৩৩/৩. গাড়ি Vehicle (ভীকল) ‘نقل’ (নাক্বালা)
৩৩/৪. জাহাজ Ship (শিপ) ‘سفينة’ (সফিনা)
৩৩/৫. তরী Yawl (ইওল) ‘قارب’ (ক্বারিবা)
৩৩/৬. বৃক্ষ Plant (প্ল্যান্ট) ‘نبات’ (নুবাত)
৩৩/৭. হাতি Elephant (এলিফেন্ট) ‘ﻔﻴﻝ’ (ফীল)
৩৩/৮. কানন Garden (গার্ডেন) ‘حديقة’ (হাদিক্বা)
৩৩/৯. পাহাড় Mountain (মাউনটেন) ‘ﺠﺒﻞ’ (জাবালা)
৩৩/১০. বপু Bulk (বাল্ক) ‘السائبة’ (আসসাবিয়া)
৩৩/১১. ব্রজ Flesh (ফ্ল্যাস) ‘الجسد’ (আজজেসেম)
৩৩/১২. ভুবন Orb (ওর্ব) ‘مدار’ (মাদার)
৩৩/১৩. দেবালয় Sanctum/ Pantheon ‘معتكفه’ (মু’তাকিফাহ)
৩৩/১৪. বিশ্ব Microcosm (মাইক্রৌকজম) ‘مصغرا’ (মুসাগারাং)
৩৩/১৫. মন্দির Temple (টেম্পল) ‘معبد’ (মুয়াব্বাদ)
৩৩/১৬. রথ Waggon (ওয়াগন) ‘مركبة’ (মুরাক্কাবা)
৩৩/১৭. শাস্ত্র Scripture (স্ক্রিপচার) ‘شريعة’ (শরিয়া)
৩৩/১৮. স্বর্গালয় Eden (ইডেন) ‘عدن’ (আদন)

দেহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of body)
১.   “আত্মা নামিবে ভুবনে হইলে মিলন সুদিন সুজনে, দেহ ভাঙ্গিয়া গড়িবে যেদিন, সে দিনটি রেখ স্মরণে (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)
২.   “আরবিতে যাকাতের মানি, এ দেহের নির্যাস মণি, অটলে পায় স্বরূপখনি, যার যার দিব্যজ্ঞানে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৬)
৩.   “চৌদ্দপোয়া দেহের গড়ন, ধরতে যদি পারো লালন, তবে স্বদেশী চলন, জানবি দিব্যজ্ঞান অনুসারে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৭/৪)
৪.   “দেহের খবর বলি শোনরে মন, দেহের উত্তর দিকে আছে বেশি দক্ষিণেতে কম।” (পবিত্র লালন- ৫৫০/১)
৫.   “পিতার বীর্যে পুত্রের সৃজন, তাতেই পিতার পুনর্জনম, সুধা শুক্রে দেহের গঠন, আলেক রূপে ফিরে সদাই।” (পবিত্র লালন- ৫৩৮/২)
৬.   “সাঁই মিলে গুরু ভজনে, চৌদ্দতলা দেহভুবনে, বিনয় করে বলন ভনে, যারা মরার আগে মরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪১)

দেহের প্রকারভেদ (Variations of body)
দেহ দুই প্রকার। যথা; ১. নরদেহ ও ২. নারীদেহ।

. নরদেহ (Male body)
শিশ্ন চিহ্নধারী দেহকে নরদেহ বলে।

এ বিষয়টি নিয়ে নরদেহ শিরোনামে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।

. নারীদেহ (Female body)
ভগচিহ্নধারী দেহকে নারীদেহ বলে।

এ বিষয়টি নিয়ে নারীদেহ শিরোনামে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।

দেহের উপকার (Benefits of body)
১.   দেহের দ্বারা মন ও জ্ঞানের বিকাশসাধন হয়।
২.   এটি; জীব প্রজাতির পরিচয় বহন করে।
৩.   এটি; জীবের আহার্য রূপে ব্যবহৃত হয়।
৪.   এর চর্ম ও হাড় ব্যবহারিক দ্রব্যাদি প্রস্তুতে ব্যবহার করা যায়।

দেহ গঠনের উপাদান (Body building components)
অধিকাংশ সুমহান আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; মানবদেহ মোট আঠারটি বিষয়বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত। এ আঠারটি সত্তাকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়। যেমন; পিতার চার, মাতার চার এবং প্রকৃতির দশ।

পিতার চার (Four members of father)
১. হাড় ২. হৃদরা ৩. শুক্র ও ৪. ঘিলু।

মাতার চার (Four members of mother)
১. চুল ২. চামড়া ৩. মাংস ও ৪. চর্বি।

প্রকৃতির দশ (Ten members of nature)
১. চক্ষু ২. কর্ণ ৩. নাসিকা ৪. জিহবা ৫. ত্বক ৬. বাক্ ৭. পাণি ৮. পাদ ৯. পায়ু ও ১০. উপস্থ।

দেহের পরিচয় (Identity of body)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীদেহ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। জীবের আত্মা, মন ও জ্ঞানধারণকারী আধারকে দেহ বলা হয়। প্রতিটি জীবের মাথা হতে লেজ বা পায়ের নখ পর্যন্ত পুরো অংশকে একত্রে দেহ বলা হয়। দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিষয়বস্তু, অবস্থা ও শক্তিগুলোকে শ্বরবিজ্ঞানে; দেবতা ও সুর বলা হয়। অর্থাৎ; আরবিতে ‘ملاك’ (মালাকি), ফার্সিতে ‘ﻔﺮﺸﺗﻪ’ (ফেরেস্তা) এবং ইংরেজিতে angel বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; রিপু, রুদ্র ও দশাদের অসুর এবং অন্যান্যদের সুর বলে বিবেচনা করা হয়। দেহের সব সত্তাকে একত্রে সুরাসুর বলে। শ্বরবিজ্ঞানের অসংখ্য দেবতার আবাস্থল এ মানবদেহ। এজন্য; মানবদেহকে দেবপুরী বা দেবধাম বা দেবালয় বা স্বর্গপুরী ইত্যাদি বলা হয়। ভারতবর্ষীয় ব্রহ্মা, বিষ্ণু, হরি, নিতাই, রাম, লক্ষ্মণ, সীতা, শিব, কালী ও মহাদেবসহ শ্বরবিজ্ঞানের সর্বপ্রকার কল্পিত দেবতাগণ ও উপাস্যগণ এ মানবদেহেই বাস করেন। তেমনই; আরব বিশ্বের আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ), রাসুল (ﺭﺴﻮﻝ), আদম (ﺁﺪﻢ), জিন (ﺠﻥ) ও জান্নাতসহ (ﺠﻨﺔ) শ্বরবিজ্ঞানের সর্বপ্রকার রূপক চরিত্র ও উপাস্যগণ এ মানবদেহেই বাস করেন। দেহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। ১. আকাশ ২. ভূমি ও ৩. পাতাল। আকাশ- নাভি হতে ঊর্ধ্বাঙ্গকে আকাশ ধরা হয়। ভূমি- নাভি হতে নিম্নাঙ্গকে ভূমি ধরা হয়। পাতাল- জঠর বা জরায়ুকে পাতাল ধরা হয়। জরায়ুরূপ এ পাতালেই বাংভারতীয় শ্বরবিজ্ঞানের ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এবং আরবীয় শ্বরবিজ্ঞানের আল্লাহ ও রাসুল অবতরণ করেন। একজন সুবিজ্ঞ সাধকগুরুর সহচার্য গ্রহণ করে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু বা আল্লাহ ও রাসুলের সন্ধান করতে হয়।

দেহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য ‘আত্মতত্ত্ব ভেদ’ (১ম খণ্ড) গ্রন্থটি পাঠ করতে পারেন। কারণ; উক্ত গ্রন্থটির মধ্যে কেবল মানবদেহ, দেহ সৃষ্টি ও দেহের ক্রমবিকাশ নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। সারা বিশ্বের শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; আলোচ্য এ দেহই হলো একমাত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। দেহ নামক এ বিশ্ববিদ্যালয় যিনি একবার উত্তরণ করেন তিনিই বিশ্ববিখ্যাত মহামানব রূপে স্বীকৃতিলাভ করেন। এ আত্মদর্শনেই শ্বরবিজ্ঞানের সব উপাদন অবস্থিত। এ শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা, রূপক, ব্যাপক, উপমান ও সংখ্যাসূত্রগুলোর সাহায্যে বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা নির্মিত হয়েছে। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন; আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে, আমার মনের ঘোর গেল না (পবিত্র লালন- ৮২৮/৩)। অর্থাৎ; যে কোনো লোক একবার আত্মতত্ত্ব ভালোভাবে জেনে নিলেই তিনি দিব্যজ্ঞানী হয়ে যান। অর্থাৎ; বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক জ্ঞান কেবল ‘আত্মতত্ত্ব ভেদ’ অর্জন করার দ্বারা অর্জন করা যায়।

সাধারণত; সারা সৃষ্টি জগৎকে বিশ্ব বলা হয়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল মানবদেহকে বিশ্ব বলা হয়। আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ বলে থাকেন; “বিশ্ব একটি বৃহত্তম মানুষ এবং মানুষ একটি ক্ষুদ্রতম বিশ্ব।” অর্থাৎ; মানুষ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রূপ এবং বিশ্ব মানুষের বৃহত্তম রূপ। আর এ সূত্র ধরেই আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মুখে শুনতে পাওয়া যায়- “যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে মানবভাণ্ডে।” এমন কথা পবিত্র কুরানেও স্পটতই উল্লেখ আছে। যথা; “ وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِلْمُوقِنِينَ(২০) وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ(২১)”- উচ্চারণ; “ওয়া ফিল আরদি আয়াতুল্লিল মুক্বিনিনা (২০) ওয়া ফি আনফুসিকুম, আফালা তুবসিরুন (২১)।” অর্থ; “বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীর যত নিদর্শন, তোমাদের মধ্যেই রয়েছে- তোমরা কর না দর্শন।” আধ্যাত্মিক প্রবাদটি হলো; “যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে, তা আছে মানবভাণ্ডে।” (কুরান সূরা যারিয়াত-২০-২১)

আধুনিক বিজ্ঞানের কিছু তথ্যঃ (Some information of modern science)
১.   একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তের পরিমাণ তার মোট ভরের ১৩ ভাগের ভাগ।
২.   দেহে অম্লজান বহনকারী লোহিত রক্ত কণিকা ২৫০০ কোটি। এরা চার মাস বাঁচে।
৩.   দেহে রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্ত কণিকা ২৫০ কোটি এবং এরা অর্ধদিন বাঁচে।
৪.   একস্থান হতে আরম্ভ করে ঐ স্থানে ফিরে আসতে একটি রক্ত কণিকার লক্ষ কি.মি পথ অতিক্রম করতে হয়। তা পৃথিবী ৭ বার অতিক্রম করার সমান।
৫.   দেহের শিরাকে পাশাপাশি সাজালে দেড় একর ভূমির প্রয়োজন হবে।
৬.   দেহের স্নায়ুতন্ত্র এত লম্বা যে তা দ্বারা পৃথিবী ৭ বার পেচানো সম্ভব।
৭.   অনুভূতি স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে ঘণ্টায় ২০০ মাইল বেগে পরিবাহিত হয়।
৮.   মনে অনুভূতির উদয় হলে তা মস্তিষ্কে পৌঁছতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগে।
৯.   মানব সন্তান জন্মের সময় তার দেহে হাড় থাকে ৩৫০টি।
১০. ৭০ বছর বয়সী একজন মানুষ সারা জীবনে ৪০ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
১১.  প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দেহের চামড়ার পরিমাণ ২০ বর্গফুল।
১২. মানুষের দেহের চামড়ার ওপরে লোম থাকে প্রায় কোটি।
১৩. একজন মানুষের শরীরে যে পরিমাণ চর্বি থাকে তা দ্বারা ৭টি বড় কেক প্রস্তত করা যাবে।
১৪. মানবদেহে ৬৫০টি পেশি আছে। কেবল মুখেই ৩০টি পেশি আছে। হাসার সময় ১৫টিরও অধিক পেশি সক্রিয় হয়। কোনো কোনো কাজের সময় ২০০টিরও অধিক পেশি সক্রিয় হয়।
১৫. মস্তিষ্ক ১০ হাজার ঘ্রাণ চিনতে ও মনে রাখতে পারে।

——————————————————————————

১. পুরুষরা দিনে ৪০টি এবং মহিলারা ৭০ চুল হারায়।
২. মানবদেহের রক্তে মহাসাগরের সমপরিমাণ লবণ আছে।
৩. মানুষ রাতের তুলনায় সকালে অধিক লম্বা।
৪. মানবদেহের হৃদয় প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ বার রক্ত সঞ্চালন করে।
৫. চোখের পাতার লোম ১৫০ দিন স্থায়ী থাকে।
৬. চোখের ভ্রূতে ৫০০টি লোম থাকে।
৭. মানবদেহে গড়ে ১০০ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ আছে।
৮. সিদ্ধ করা খাদ্য একবার পরিপাক হওয়ার সময়ের মধ্যে অসিদ্ধ খাবার দুইবার পরিপাক হয়।
৯. মানুষের হাড় কংক্রিটের তুলনায়গুণ শক্তিশালী।
১০. মানুষের রুচিবোধ প্রতি ১০ দিন পর পর পরিবর্তন হয়।
১১. কেউ যদি হাঁটুর ছিপি ছাড়া জন্মগ্রহণ করে তবে তা দুই হতে ছয় বছর পর্যন্ত দেখা যায় না।
১২. শিশুরা বসন্তকালেই দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি পায়।
১৩.  চোখ সারাজীবন একইরূপ থাকে কিন্তু নাক ও কান বাড়তেই থাকে।
১৪. মানব শিশু ৩০০টি হাড়সহ জন্ম নেয় কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হাড় থাকে ২০৬টি।
১৫.  মানুষের মাথার খুলি ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন হাড় দ্বারা গঠিত।
১৬.  মানুষের হাতের নখ ও চুল একই উপাদানে গঠিত।
১৭. মানুষের হাঁচির সময়ে হৃদকম্পনসহ দেহের সমগ্র কার্যকলাপ বন্ধ থাকে।
১৮.  জিহ্বা মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশী।
১৯. মানুষ সাধারণত; দিনে ছয় বার শৌচাগারে যায়।
২০.  খাদ্য মুখ থেকে পাকস্থলিতে যেতে ৭ সেকেন্ড সময় লাগে।
২১.  প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মুখে অধিক স্বাদ-বোধ রয়েছে।
২২.  হাঁচিতে নাক হতে বায়ু বের হয় প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে।
২৩.  মানুষের শরীরের বৃহত্তম পেশীর ওপর মানুষ বসে।
২৪. কান মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম হাড়।
২৫.  মানবদেহে প্রাকৃতিক সোডিয়াম প্রয়োজন কিন্তু সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ নয়।
২৬.  সূর্যের তাপে শরীরের জল হ্রাস পায়।
২৭.  খাদ্যের চেয়ে জলই হচ্ছে মানবদেহে শক্তির প্রধান উৎস।
২৮. মানবদেহ হতে লবণ ও তেল পরিষ্কার করার পর যকৃতসহ অন্যান্য সমস্ত অঙ্গ পুনরুজ্জীবিত হয়।
২৯. মানুষের বংশগত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়াবেটিসও বংশগত।
৩০. নোনতা খাদ্যই ডায়াবেটিসসহ অনেক রোগের প্রধান কারণ।
৩১. প্রাপ্তবয়স্কদের (১১ বছরের ওপরে) দিনে ১,৫০০ মিলিগ্রাম বা ০.৭৫ চা-চামচের অধিক সোডিয়াম ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩২.  লবণ শরীর ফুলে যাওয়া ও দেহে পানি জমা এবং কিডনি ও ফুসফুস সংক্রমণের প্রধান কারণ। (Dr Gautham Kashyap Ph.D./ Hyderabad. Andhra Pradesh, India)

আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!