৩৮. নারী

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

উপমান পরিভাষা

চারিত্রিক পরিভাষা

ছদ্মনাম পরিভাষা

৩৮. নারী
Female (ফিমেল)/ ‘امرأة’ (ইমরা)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ছাগল। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ক্ষেত্রপ্রকৃতি। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা গলস্তনীসাগরী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা শিখীস্বস্তিক। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
নারী (বাপৌরূ)বিস্ত্রী ঘরণী, জায়া, রমণী, female, ‘امرأة’ (ইমরা), wife, woman, ইমরাত (.ﺍﻤﺮﺃﺓ), নিসা (.ﻨﺴﺎﺀ) (শ্ববি) কামিনী, গোপী, সেবিকা (ব্য) কোলবালিশ (ব্য্য) যেমন; প্রকৃতি বৃক্ষলতা উৎপন্ন করে উদ্ভিদ প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখে; তেমনই; নারীরাও সন্তান উৎপাদন করে জীবকুলকে টিকিয়ে রাখে। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে নারীকে প্রকৃতি বলা হয় (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীনারী পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; ভগ-চিহ্নধারিণী প্রাণীকে বাংলায় ‘নারী বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, পুরুষজাতির শুক্রকে রূপকার্থে ‘নারী বলা হয় (বাপৌছ) শিখী ও স্বস্তিক (বাপৌচা) গলস্তনী ও সাগরী (বাপৌউ) ক্ষেত্র ও প্রকৃতি (বাপৌরূ) ছাগল (বাপৌমূ) নারী।

নারীর সংজ্ঞা (Definition of female)
সাধারণত; ভগচি‎‎হ্নধারিণী জীবকে নারী বলে।

নারীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of female)
শ্বরবিজ্ঞানে; নরদেহের শুক্রকে নারী বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

নারী ছাগল ক্ষেত্র ও প্রকৃতি গলস্তনী ও সাগরী শিখী ও স্বস্তিক

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
নারীর আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; নারী।
বাংলা আভিধানিক প্রতিশব্দ;  মনুষী, মহিলা ও মানবী।
বাঙালী পৌরাণিক রূপক;   ছাগল।
বাঙালী পৌরাণিক উপমান;   ক্ষেত্র।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; গলস্তনী, গাড়ল ও স্বস্তিক।
বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম;   অজ, গড্ডল, গ্রন্থধারী, ছাগ, প্রকৃতি, ভেড়া ও ভেড়ী।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

৩৮. নারী Female (ফিমেল) ‘امرأة’ (ইমরা)
৩৮/১. ছাগল Goat (গট) ‘عنزة’ (আঞ্জা)
৩৮/২.  প্রকৃতি Cosmos (কসমজ) ‘الكون’ (আলকাওন)

নারীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of female)
১.   “আছে তিনজন নারী তারা বড়ই সুন্দরী, হায়রে যেমন মাতা তেমনই ছেলেরে, আবার বিনা বীজে ছেলের পয়দা, ভোলামন বীজ বিনা ফলে।” (পবিত্র লালন- ১৮৯/২)
২.   “(কোথায়) নারী বাইরে পুরুষ ঘরে, একনারী বহু পতি ধরে (গো), দণ্ড হয় পুরুষের পরে, যাবজ্জীবন জেলখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)
৩.   ‘দিব্য-আইন অনুসারে, এক নারী বহু পতি ধরে, এ দেশেতে হলে পরে, ব্যভিচারে দণ্ড দেয়।” (পবিত্র লালন- ৬২৩/২)
৪.   “পরদ্রব্য পরনারী হরণ করো না, পারে যেতে পারবে না, যতবার করবে হরণ ততবার হয় জনম।” (পবিত্র লালন- ৯০৫/৩)
৫.   “সুন্নত দিলে হয় মুসলমান, নারী লোকের হয় কী বিধান, বামন চিনি পৈতা প্রমাণ, বামনী চিনি কী ধরে।” (পবিত্র লালন- ৯১৩/৩)

নারীর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of female)
১.   আমরা যত পুরুষ-নারী, দেখতে এসেছি হরি, হরিকে হরিল হরি, সে হরি কোনখানে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৬/৩)
২.   “একনারী এক পুরুষে, ভব মজায় রঙ্গরসে, পঞ্চনারী ঘুরে পিছে, তার ননদী রয় ছয়জনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৫)
৩.   একজন পুরুষ একজন নারী, ভাসছে সদাই বরাবরি, ওপরওয়ালা সদরবাড়ি, যোগ তাতে দেয়।” (পবিত্র লালন- ৬০৬/২)
৪.   একি অনন্তভাব হায় গো ধনী দেখালে এবার, ক্ষণেক পুরুষ ক্ষণেক নারী, ক্ষণেক হও নীরাকার।” (পবিত্র লালন- ২০৩/১)
৫.   ওরে প্রেম শিখালি যারে, সে এখন তোরে বেঁধে মারে, নয়নে নয়নে সন্ধানে স্মরণে, মরমে বেঁধেছে এ কুলের নারী।” (পবিত্র লালন- ৬৫৪/২)
৬.   কানা করে দোকানদারী, বোবা কিনে মাল নিচ্ছে তারই, সে হাটে এক বাঁজা নারী, ছেলে কোলে, হাসছে মনে মনে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৭/৩)
৭.   কালো চুলে শোভে নারী, সাদা চুলে হয় সে বুড়ী, লালন বলে রসের বুড়ো, সাদা চুলে কলফ ঘসে।” (পবিত্র লালন- ২৯১/৪)
৮.   “কেউ নারী ছেড়ে জঙ্গলে যায়, স্বপ্নদোষ কী হয় না সেথায়, আপন মনের বাঘে যাহারে খায়, কে ঠেকায়রে।” (পবিত্র লালন- ৩৬২/২)
৯.   কোন প্রেমে সে দিন দয়াময়, নারীর চরণ নিলেন মাথায়, একি লীলা চমৎকার- বুঝা হলো ভার, অধীন লালন তাই বলে।” (পবিত্র লালন- ২০৯/৩)
১০. গোরারূপ ঝুঝতে পারে কে এমন, ছিল পুরুষ করল নারীর বেশ ধারণ, দিব্যজ্ঞানে বলছে লালন, আছে শতদলে ভাব মনিহারা।” (পবিত্র লালন- ২৩৭/৪)
১১.  গৌরহরি দেখে এবার, কত পুরুষ-নারী ছাড়ল ঘর, হরি কী করে এবার, লালন ভাবে মনে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৬/৪)
১২. ঘাটের সে পঞ্চনারী, বসে আছে খড়গ ধরি, হঠাৎ করে নাইতে গেলে তারই, এক কোপে ছেদন করে।” (পবিত্র লালন- ৯৫২/৩)
১৩. দিব্যচক্ষে দেখ চেয়ে, কখন পুরুষ কখন মেয়ে, মানুষের অন্ত না পেয়ে, নারী হিজড়া পুরুষ খোজা।” (পবিত্র লালন- ৭৮৩/৩)
১৪. দুঃখের কথা বলবো কী ছাই, কথায় কথায় মান করে রাই, নারীলোকের বুদ্ধি তো নাই, মানের দায়ে শুধু কেঁদে ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৮৯৬/২)
১৫. “দু’জনে করে যুগল মিলন, সৃজন করে এ বিশ্ব ভুবন, ভাবিয়া কয় কাঁইজি বলন, সেই নারীর বড় ছলনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৫)
১৬. দেখেছ কে কোথায়, পুরুষকে নারীর পায়ে ধরায়, কোন নারী, রাগে কয় বিন্দে, লালন কী জানে তারই।” (পবিত্র লালন- ৫৯৮/৪)
১৭.  “ধন-নারীর মায়া করলি, মূলধন সকল হারালি, বলন কয় মিছে সকলি, সে ভেদ জানলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৭)
১৮. নর-নারীর ভাব থাকতে, পারবি কী সে ভাব রাখতে, আপনার আপনি হয় ভুলতে, যেজন গৌররূপ নিহারা।” (পবিত্র লালন- ২৪৭/৩)
১৯. না জানি এমন হবে, বাঘ শিকারীকে বাঘে ধরে খাবে, অনুরাগের বাঘে খেলো লালনরে, যেমন গর্ভে ধরে অসৎনারী।” (পবিত্র লালন- ৬৫৪/৪)
২০. নারী-পুরুষ নপুংসকরে, তার তুলনা সে কী হয়রে, সে রূপ অন্বেষণ- জানে যেজন, সে করে শক্তি উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ১৮১/৩)
২১. নারীর এত মান ভালো নয়, ও রাই-কিশোরী, যত সাধে শ্যাম, আরও বাড়াও মান ভারী।” (পবিত্র লালন- ৫৯৮/১)
২২. পুরুষ বলতে দম্ভ ভারী, এক বীজে হয় পুরুষ-নারী, বারিতে সৃষ্টি বরাবরি, একফুলে দু’রঙ ধরায়।” (পবিত্র লালন- ৮৭৯/৩)
২৩. বাঁজা নারীর ছেলে মরল, একি হলো দায়, মরা ছেলের কান্না দেখে, মোল্লাজি ডরায়।” (পবিত্র লালন- ৬৮৪/১)
২৪. “মতিঝিল কল্যাণপুরে, নারীরা সব পুরুষ মারে, বলন কাঁইজির হলো না রে, তেতলা বাড়ি ঢাকায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৮)
২৫. মুখে গুরু গুরু বলি, অন্তরেতে জুয়াচুরি, পরনারী দেখে রসে মেতে রই, লালন ফকির ভেবে বলে, গুরুনামে পাষাণ গলে, মনপাষাণ গলে কই।” (পবিত্র লালন- ৯৪০/৩)
২৬. যাওয়া আসা এক দ্বারে হয়, নারী-পুরুষ দুইজাতি কয়, এক ঈশ্বর এক জগৎময়, লালন কয় খুঁজে দেখনা।” (পবিত্র লালন- ৯১৭/৩)
২৭. লীলা দেখে কম্পিত ব্রজধাম, রাধার মান ঘুচাতে যোগী হলেন শ্যাম, দুর্জয় মানের দায়- বাঁকা শ্যামরায়, নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৩)
২৮. স্বরূপে আসন যার, পবন হিল্লোলে নিহার, পক্ষান্তরে; দেখ এবার, দিব্যচক্ষু প্রকাশ করে, সাঁই দ্বিপক্ষেতে খেলছে খেলা, নর-নারীরূপ ধরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮২/৩)

নারীর প্রকারভেদ (Variations of female)
নারীজাতি চার প্রকার। যথা; ১. পদ্মিনী ২. চিত্রাণী ৩. শঙ্খিনী ও ৪. হস্তিনী।

. পদ্মিনী (Lotusary)
সর্বোত্তম নারীদেরকে পদ্মিনী নারী বলে।

পদ্মিনী নারীরা অধিক সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, মতবাদ পরায়না ও রুচিশীল হয়। শারীরিক গঠনের দিক থেকে তাদের দেহ সুগঠিত, লম্বা আকৃতির, সুশ্রী ও কোমল প্রকৃতির। তাদের শরীরের বর্ণ কখনও কালো হয় না। এ শ্রেণির নারীদের চোখ পদ্মের মতো সুদীর্ঘ ও প্রশস্ত। তাদের কণ্ঠস্বর সুমিষ্ট, তারা মিষ্টভাষী, সত্যবাদী ও সামান্য আহার করতে ও সামান্য ঘুমাতে পছন্দ করেন। এদের স্তন সুগঠিত ও উন্নত। এদের হাঁটন ধীর ও ছন্দময় গতিতে হয়। তারা গুরুজনদের শ্রদ্ধা করতে ভালোবাসেন। এ শ্রেণির নারীরা সাধারণত; লজ্জাশীলা ও দয়ালু হয়। এদের ভগ পদ্ম পাপড়ির মতো হয়। এদের শরীর হতে সব সময় সুঘ্রাণ বের হতে থাকে। যেমন; লালন সাঁইজি লিখেছেন; “চিত্রাণী পদ্মিনী রমণী, পতি সেবার অধিকারিণী, হস্তিনী শঙ্খিনী রমণী, কর্কশ ভাষায় কয় বচন” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৪)

. চিত্রাণী (Thoughtess)
উত্তম নারীদেরকে চিত্রাণীনারী বলে।

শারীরিক গঠনের দিক থেকে তাদের দেহ সুগঠিত ও মধ্যম আকৃতির লম্বাটে কিন্তু দেহ কোমল। তাদের দেহ সুশ্রী ও কোমল প্রকৃতির। তাদের শরীরের বর্ণ প্রায় শ্যামলা হয়। তাদের গণ্ডদেশ গোলাকার ও শঙ্খের মতো। তাদের চোখ দুটি হরিণের চোখের মতো চঞ্চল। তাদের বুক অধিক চওড়া ও স্তনদ্বয় অনুন্নত, কটি গোরু। এদের নিতম্ব ও উরু অত্যন্ত সুন্দর। তবে; এদের পা দুটি গোরু। এদের কণ্ঠস্বর সামান্য তীব্র। এদের চলন ছন্দময় গতিতে ধীরে ধীরে। শিল্পকলা তথা নাচ গান বাদ্যযন্ত্র ও অভিনয় অধিক মনোনীত করেন তারা। এ প্রকৃতির নারীগণ সাধারণত; চুম্বন, আলিঙ্গন, শৃঙ্গারগুলো অধিক মনোনীত করলেও সম্ভোগের জন্য ততো আসক্ত নয়। এরা সুগন্ধি বিলাসদ্রব্য ও বিচিত্র বসন অত্যন্ত ভালোবাসে। যেমন; লালন সাঁইজি লিখেছেন; “চিত্রাণী পদ্মিনী রমণী, পতি সেবার অধিকারিণী, হস্তিনী শঙ্খিনী রমণী, কর্কশভাষায় কয় বচন” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৪)

. শঙ্খিনী (Doubtess)
মধ্যমনারীদেরকে শঙ্খিনী নারী বলে।

শারীরিক গঠনের দিক থেকে তাদের দেহ অধিক মাংসল, তাদের মাথার চুল ঘন কালো হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কপাল উঁচু ও চওড়া হয়। এদের চোখ কুশ্রী ও ছোট হয়। এদের গায়ের লোম হয় অধিক বড় বড়। তাদের গায়ের বর্ণ সামান্য পিঙ্গল। তাদের হাত দুটি লম্বা, নিতম্ব বা পাছা হয় চওড়া। কখনও কখনও এদের স্তন দুটি অধিক বড় আবার কখনও কখনও স্তনদ্বয় অধিক ছোটও হয়। এদের কণ্ঠস্বর প্রায় চড়া ও কর্কশ। এরা অত্যন্ত কামুকনারী। সম্ভোগের সময়ে তারা পুরুষের উৎপীড়ন অত্যন্ত পছন্দ করেন। তাঁরা নিজেও পুরুষদেরকে কামড় দিয়ে, আঁচড় দিয়ে কিংবা খাবলা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে অধিক আনন্দ পেয়ে থাকে। মৈথুনের সময়ে তাদের যৌনোত্তেজনা প্রচণ্ড বৃদ্ধি পায়। শঙ্খিনী রমণীগণ লালবর্ণ, লালফুল ও লালবসন অধিক ভালোবেসে থাকেন। যেমন; লালন সাঁইজি লিখেছেন; “চিত্রাণী পদ্মিনী রমণী, পতি সেবার অধিকারিণী, হস্তিনী শঙ্খিনী রমণী, কর্কশভাষায় কয় বচন।” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৪)

. হস্তিনী (Elephantine)
নীচনারীদেরকে হস্তিনিনারী বলে।

শারীরিক গঠনের দিক থেকে তাদের দেহ বেঁটে, মাংসল, মোটা ও মেদযুক্ত হয়। তাদের চোখ হয় ছোট আকৃতিযুক্ত, গায়ের বর্ণ ও মাথার চুল ঘন পিঙ্গল হয়। তাদের চোখে মুখে কামভাব ও লোভ প্রকাশ পায়। তাদের ঠোঁট দুটি মোটা ও কম্পমান হয়। তাদের নিতম্ব বা পাছা এবং উরু অত্যন্ত চওড়া ও মাংসল হয়। এদের পায়ের আঙ্গুল সামান্য বাঁকা হয়। হস্তিনী নারীদের যোনি অধিক চওড়া ও গভীর হয়। এসব নারীরা নির্লজ্জ, ঝগড়াটে ও স্বার্থপর প্রকৃতির হয়। এদের কণ্ঠস্বর উঁচু ও কর্কশ হয়। উন্মত্ত হস্তির মতোই তাদের যৌনাকাঙ্খা। হস্তিনী নারীরা কখনই এক পুরুষে তুষ্ট নয়। তাদের চলন হস্তির মতো ধীরে ধীরে কিন্তু তারা হয় অত্যন্ত ক্রুর স্বভাবের। হস্তিনী জাতীয় নারীরা টক ও ঝাল খেতে অত্যন্ত ভালোবাসেন। যেমন; লালন সাঁইজি লিখেছেন; “চিত্রাণী পদ্মিনী রমণী, পতি সেবার অধিকারিণী, হস্তিনী শঙ্খিনী রমণী, কর্কশভাষায় কয় বচন” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৪)

এছাড়াও; জ্যোতিষশাস্ত্র মতে; নারীজাতি দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা ১. জরায়ু প্রধান নারী ও ২. ভগাংকুর প্রধান নারী।

. জরায়ুপ্রধান নারী (Uterus-main female)
জরায়ু (বাপৌমূ)বি জঠর, গর্ভাশয়, গর্ভকোষ, পেট, উদর, গর্ভ, অন্তর, অন্তরীক্ষ, হৃদয়, womb.

জরায়ুপ্রধান নারীর সংজ্ঞা (Definition of uterus-main female)
যেসব নারী অল্প সম্ভোগে সন্তুষ্ট হয় তাদেরকে জরায়ুপ্রধান নারী বলে।

জরায়ু প্রধান নারীরা সন্তান ধারণের জন্যই স্বামীর সাথে সহবাস করে থাকে। এ শ্রেণির নারীরা সৎচরিত্রা, মতবাদ পরায়ণা ও প্রতিব্রতা হয়। এ প্রকৃতির নারীরা যৌনবিষয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ বা উৎসাহ দেখানোকে অশোভন বা লজ্জাস্কর মনে করেন।

. ভগাংকুরপ্রধান নারী (Clitoris-main female)
ভগাংকুর (বাপৌমূ)বি যোনিমুখ, গুহ্যদ্বার।

ভগাংকুর প্রধান নারীর সংজ্ঞা (Definition of clitoris-main female)
যেসব নারী অল্প সম্ভোগে সন্তুষ্ট হয় না। সব সময় অধিক সম্ভোগের জন্য লালায়িত থাকে তাদেরকে ভগাংকুর প্রধান নারী বলে।

এ প্রকৃতির নারীরা সর্বদা সম্ভোগ বা যৌনক্রিয়া করতে ভালোবাসে। এ শ্রেণির নারীরা অত্যন্ত পরিপাটি, সাজসজ্জাপ্রিয়া, বিলাসিনী ও সম্ভোগপ্রিয়া হয়।

নারীর উপকার (Benefits of female)
১.   নারীগণ নিয়মিত কামতৃপ্তি দিয়ে নরগণের মস্তিষ্ক শান্ত রাখে।
২.   নর ও নারীর যুগলমিলনে দাম্পত্যজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩.   নারীজাতির গর্ভে সন্তানধারণের দ্বারা জীবের বংশগতির ধারা রক্ষা হয়।

শ্বরবিজ্ঞানের পুরুষ-নারী সূত্র (The male-female formula of the theology)
‘প্রবল কোনো সত্তাকে পুরুষ ধরতে হলে অবশ্যই সমগোত্রীয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোনো সত্তাকে নারী ধরতে হবে।’

          পুরুষ (Male)                               নারী (Female)
পিঙ্গলাকে পুরুষ ধরতে হলে;         ইড়াকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
যৌবনকালকে পুরুষ ধরতে হলে;   কৈশরকালকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
আত্মাকে পুরুষ ধরতে হলে;            দেহকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
আকাশকে পুরুষ ধরতে হলে;         পাতালকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
জ্ঞানকে পুরুষ ধরতে হলে;             মনকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
আত্মাকে পুরুষ ধরতে হলে;            রতীকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
গুরুকে পুরুষ ধরতে হলে;               শিষ্যকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।
গোরুকে পুরুষ ধরতে হলে;             ছাগলকে অবশ্যই নারী ধরতে হবে।

নারীর পরিচয় (Identity of female)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীনারী পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। সাধারণত; ভগচিহ্নধারিণী জীবকে নারী বলা হয় বা স্ত্রীচিহ্নধারী জীবকে নারী বলা হয়। বিশ্ববিখ্যাত আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; নারীকে জীবের অর্ধাঙ্গী বলা হয়। নর অর্ধাঙ্গ এবং নারী অর্ধাঙ্গী। অর্ধাঙ্গ ও অর্ধাঙ্গী মিলেই পুর্নাঙ্গজীব হয়। বিশ্ববিখ্যাত আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; শুধু নর কিংবা শুধু নারীর ভিন্ন ভিন্ন তেমন কোনো সাধন নেই। নর-নারী দাম্পত্যরূপ মধুরপ্রেমে আবদ্ধ হলেই কেবল তাদের সাঁই ও কাঁইদর্শন রূপ সাধনের সুযোগ হয়। সারা পৃথিবীব্যাপি নর-নারীর ভিন্ন ভিন্ন যত প্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক সাধন রয়েছে সবই কেবল মনগড়া ও অনুমানপ্রসূত। তবে; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক উপাসনা ব্যতীত কিছু কিছু তান্ত্রিক যোগের কথা ভিন্ন। তান্ত্রিক যোগ নারী-পুরুষ উভয়েই একাকী করতে পারে। তবে; কথা হলো; সাম্প্রদায়িক উপাসনার বিষয় নিয়ে। সাম্প্রদায়িক উপসনার মূলবিষয়ই হলো কাম। আর নর-নারী ভিন্ন শুধু নর ও শুধু নারীর দ্বারা কামযজ্ঞ সম্ভব নয়। সেজন্য; শক্ত করেই বলা যায় কেবল নর বা কেবল নারীর একাকিভাবে বা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সাম্প্রদায়িক কোনো সাধন নেই। যেসব সাধনের কথা সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে তা সবই কেবল কামের সাথে সংযুক্ত। এছাড়াও; শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষ দেহের শুক্রকেও নারী বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; নারী চরিত্র অর্থই শুক্র। যেমন; কমলা, বেহুল, লক্ষ্মী, দুর্গা, হাজেরা, বিলকিস, জুলেখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে; বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা শ্বরবিজ্ঞানে; বর্ণিত নারী পরিভাষাটির দ্বারা কেবল রক্তমাংসে নির্মিত রমণীজাতিকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তাই; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিক বা আত্মতত্ত্বের জ্ঞানে চিরান্ধ। শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত নারী যে কখনই বাস্তব নারীজাতি নয় বরং সেটি পুরুষজাতির শুক্র এ বিষয়টি তারা জানেও না ও বুঝেও না। নারী-বিচ্ছেদ, নারী-ত্যাগ, নারী-স্বাধীনতা, নারী-অধিকার, নারী-হিস্যা, নারী-পণ, নারী-যৌতুক ও নারী-শ্রদ্ধা ইত্যাদি নিয়ে শ্বরবিজ্ঞানে যেসব বর্ণনা রয়েছে তা আদৌ বাস্তব রক্তমাংসে গড়া নারীজাতি নিয়ে নয়। বরং তা হলো কেবল শুক্র নিয়ে। শুক্র কিভাবে রক্ষা করতে হয়, কয়বার শুক্র-পাত করা যায়, মাসে কতবার মিলন করা যায়, কতক্ষণ পাশাখেলা যায়, কিভাবে ঊর্ধ্বরেতা হওয়া যায়, কামনদী অতিক্রম করতে কত সময় লাগে, সাঁই ও কাঁইদর্শন কিভাবে সম্ভব ইত্যাদি নিয়েই এসব লেখালেখি। শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত শুক্রের বিধি-বিধানগুলো বর্তমানকালে নারীর বিধিবিধান নামে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা প্রচলন করেছে। তাই; বাস্তবতার সাথে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক নীতিমালার কোনো মিল পাওয়া যায় না। উল্লেখ্য যে; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকদের বিধানগুলো যদি যথাযথ হতো তবে তো পৃথকভাবে রাষ্ট্রীয় বিধানগুলোর প্রয়োজন হতো না। আলোচ্য ‘বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা’র বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!