০৪. অবিশ্বাসী

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

উপমান পরিভাষা

চারিত্রিক পরিভাষা

ছদ্মনাম পরিভাষা

০৪. অবিশ্বাসী
Incredulous (ইনক্রিডুলাস)/ ‘شكاك’ (শাকাকি)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং অবিশ্বাসী পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা নাস্তিক এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা যবন। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
অবিশ্বাসী (বাপৌরূ)বিণ সন্দিগ্ধ, বিশ্বাস করে না এমন, incredulous, ‘شكاك’ (শাকাকি) বিপ আস্তিক (ব্য্য) সাম্প্রদায়িক সংস্কার অবিশ্বাসী ব্যক্তি (পরি) সৃষ্টিকর্তা (কাঁই) পালনকর্তা (সাঁই) ও পুনর্জন্মে অবিশ্বাসী ব্যক্তি (রূপ্রশ) নাস্তিক, যবন, পাপিষ্ঠ, মতবাদ বিদ্বেষী (ইংপ) unfaithful (ইপৌচা) মিলহিদ (.ﻤﻟﺤﺩ), কাফির (.ﻜﺎﻔﺮ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীঅবিশ্বাসী পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; কোনকিছু যুক্তি, দর্শন ও প্রমাণ থাকার পরও বিশ্বাস করতে চায় না; এমন ব্যক্তিকে বাংলায় ‘অবিশ্বাসী বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, দেবতাগণের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে রূপকার্থে ‘অবিশ্বাসী বলা হয় (বাপৌছ) যবন (বাপৌরূ) নাস্তিক (বাপৌমূ) অবিশ্বাসী {বাং. অ+ বাং. বিশ্বাস >}

অবিশ্বাসের সংজ্ঞা (Definition of incredulous)
কোনো বিষয়ের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে অবিশ্বাসী বলে।

অবিশ্বাসের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of incredulous)
সাম্প্রদায়িক অলীক পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি অনাস্থা প্রদানকারীকে অবিশ্বাসী বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

অবিশ্বাসী নাস্তিক যবন

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
অবিশ্বাসীর আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; অবিশ্বাসী।
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; নাস্তিক।
বাঙালী পৌরাণিক উপমান; ০০।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; ০০।
বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম;   যবন।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

০৪. অবিশ্বাসী Incredulous (ইনক্রিডুলাস) ‘شكاك’ (শাকাকি)
০৪/০১. নাস্তিক Atheist (এ্যাথিস্ট) ‘ملحد’ (মিলহিদ)
০৪/০২. যবন Infidel (ইনফিডেল) ‘ﻜﺎﻔﺮ’ (কাফির)

অবিশ্বাসীর কয়েকটি উদ্ধৃতি (Some important quotations of incredulous)
১.   “অবিশ্বাসী রয় কিনারে, বিশ্বাসীরা যায় পারে, বলন কয় কঠিন না রে, পার করিবে গুরু যারে (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৮)
২.   “চল দেখি মন কোন দেশে যাবি, অবিশ্বাসী হলে কোথায় কী পাবি” (পবিত্র লালন- ৪৩৩/১)

অবিশ্বাসীর প্রকারভেদ (Variations of incredulous)
শ্বরবিজ্ঞানে; অবিশ্বাসী ৫ প্রকার। ১. সাধারণ অবিশ্বাসী ২. অবতারবাদ অবিশ্বাসী ৩. ঐশিবাদ অবিশ্বাসী ৪. সাম্প্রদায়িক মতবাদ অবিশ্বাসী ও ৫. পরম্পরা মতবাদ অবিশ্বাসী।

. সাধারণ অবিশ্বাসী (Common incredulous)
যুক্তি, দর্শন ও বিজ্ঞান পর্যন্ত বিশ্বাস করতে চায় না এমন ব্যক্তিকে সাধারণ অবিশ্বাসী বলে।

. অবতারবাদ অবিশ্বাসী (Personifism incredulous)
১.   ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা জীব রূপে অবতরণ করতে পারেন না এমন মন্তব্যকারীকে অবতারবাদ অবিশ্বাসী বলে।
২.   অবতার বলে কিছুই নেই। এজন্য; কখনও অবতার অবতরণ করেন না এমন মন্তব্যকারীকে অবতারবাদ অবিশ্বাসী বলে।

. ঐশিবাদ অবিশ্বাসী (Havenism incredulous)
‘ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা নিজে অবতরণ করেন না। তবে; তিনি কেবল মানুষের মাধ্যমে তার জ্যোতি প্রকাশ করেন’; এটি; মহা বিভ্রান্তকারী মতবাদ এমন মন্তব্যকারীকে ঐশিবাদ অবিশ্বাসী বলে।

. সাম্প্রদায়িক মতবাদ অবিশ্বাসী (Schismatism incredulous)
সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংবাদদাতা ও সংহারকর্তা বলে কিছুই নেই। এজন্য; এসব একান্ত অলীক ও মনগড়া এমন মন্তব্যকারীকে সাম্প্রদায়িক মতবাদ অবিশ্বাসী বলে।

. পরম্পরা মতবাদ বিশ্বাসী (Sequencism incredulous)
“জ্ঞান মাত্রই কেবল গুরু-শিষ্যের দ্বারা প্রবাহিত হয়।” এটা বিভ্রান্ত মতবাদ এমন মন্তব্যকারীকে পরম্পরা মতবাদ অবিশ্বাসী বলে।

শ্বরবিজ্ঞানে; আবার অবিশ্বাসী দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান অবিশ্বাসী ও ২. উপমিত অবিশ্বাসী।

. উপমান অবিশ্বাসী (Analogical incredulous)
সাধারণত; যুক্তি, দর্শন ও প্রমাণ থাকার পরও কোনকিছু বিশ্বাস করতে চায় না এমন ব্যক্তিকে উপমান অবিশ্বাসী বলে।

. উপমিত অবিশ্বাসী (Compared incredulous)
দেবতাগণের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে নাস্তিক বা উপমিত অবিশ্বাসী বলে।

অবিশ্বাসীর পরিচয় (Identity of incredulous)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীঅবিশ্বাসী পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পৌরাণিক কাহিনীগুলো যুক্তি, দর্শন ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ব্যতীত অগ্রাহ্যকারীকে অবিশ্বাসী বলা হয়। অবিশ্বাস হলো সন্দেহ। সন্দেহ হতেই অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। অবিশ্বাসকারীকেই অবিশ্বাসী বলা হয়। কাউকে অধিক বিশ্বাস করাও ভালো নয়। আবার কাউকে অধিক অবিশ্বাস করাও ভালো নয়। যাচাইবাছাই বা প্রমাণ সাপেক্ষে সবকিছুই বিশ্বাস করা উত্তম। তবে; যে কোনো বিচারকমণ্ডলীর দ্বারা কোনো বিষয় প্রমাণিত হলে; তা বিশ্বাস করায় কোনো অসুবিধা নেই। যদিও বিশ্বাস ও বাস্তবতার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। কোনো ব্যক্তির মনে অবিশ্বাসের পরিমাণ অধিক হলে; তাকে মাঝে মাঝে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অবিশ্বাস হতেই ঘরের তালা আবিষ্কার হয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করে।

কাফির [ﻜﺎﻔﺭ] বিণ যবন, কৃতঘ্ন, অকৃতজ্ঞ, তৃণ, গুপ্ত, সমুদ্র, লৌহবস্ত্র, সত্য অস্বীকারকারী, অন্ধকার রাত্রি, বিশাল উপত্যকা, ঘনীভূত মেঘরাশি, খেজুরের কলির আবরণ, সমতল ভূমি {}

এবার প্রশ্ন হতে পারে যে; যারা বিশ্বের কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদই বিশ্বাস করে না; তবে তাদের কী বলা হয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়; সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে সাম্প্রদায়িক মতবাদ বিমুখ ব্যক্তিকে নাস্তিক বা অবিশ্বাসী বলা হয়। কিন্তু আমাদের কথা হলো কেবল সাম্প্রদায়িক মতবাদ ও উপাসনাদি অস্বীকারকারী বা অবিশ্বাসকারীকে নাস্তিক বা অবিশ্বাসী বলা উচিত নয়। কারণ; নাস্তিকরা কখনই সাম্প্রদায়িক মতবাদ ও উপাসনাগুলো পুরোটাই অস্বীকার করে না। তারা কেবল সাম্প্রদায়িক মতবাদের সে অংশগুলোই অস্বীকার করে; যেসব অত্যন্ত গোজামিল, অসংলগ্ন ও রূপকথায় একেবারে ভরপুর। কিন্তু কোনো নাস্তিক কখনই স্বস্ব স্রষ্টাকে অস্বীকার করে না। নাস্তিকদের ব্যাপারে এতটুকু বলা যায় যে; সৃষ্টিকর্তা রূপে কেউ জ্ঞানকে, কেউবা শক্তিকে, আবার কেউবা প্রকৃতিকে স্বীকার করে। যেমন; কোনো নাস্তিক বললো; “জ্ঞানই সবকিছু  সৃষ্টি করেছে ও করছে।” এজন্য; সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকে। তবে; তা হলো জ্ঞান। আবার কোনো নাস্তিক বললো; শক্তিই সবকিছু  সৃষ্টি করেছে ও করছে। এজন্য; সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকে; তবে তা হলো শক্তি। আবার কোনো কোনো নাস্তিক বলে যে; প্রকৃতিই সবকিছু  সৃষ্টি করেছে ও করছে। এজন্য; সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকে; তবে তা হলো প্রকৃতি। নাস্তিকরা যে যা-ই বলুক না কেন; সবাই কোনো না কোনো পরিভাষার দ্বারা সৃষ্টিকর্তাকে অবশ্যই স্বীকার করে।

আবার আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ বলেন যে; প্রকৃতি-সৃষ্টিকারী স্রষ্টা ও জীব-সৃষ্টিকারী স্রষ্টা এক নয়। এজন্য; প্রকৃতির স্রষ্টা ও সাম্প্রদায়িক স্রষ্টা এক নয়। তেমনই; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক স্রষ্টা এক নয়। প্রকৃতির স্রষ্টাই বিজ্ঞান, দর্শন ও সাম্প্রদায়িক স্রষ্টা হতে পারে। কিন্তু; পারম্পরিক দর্শন ও দেহতাত্ত্বিক দর্শনের স্রষ্টা সম্পূর্ণই ভিন্ন। এমন চির দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্যই বৈষয়িক স্রষ্টা ও পারম্পরিক স্রষ্টা রূপে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন স্রষ্টার ভিন্ন ভিন্ন অস্তিত্বের বর্ণনা করা হয়। বিজ্ঞান, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা ও সাম্প্রদায়িক মতবাদের নিরাকার স্রষ্টাকে বৈষয়িক স্রষ্টা বলা হয়। তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বলা হয়; হয়তোবা তা হবে জ্ঞান কিংবা তা হবে শক্তি; অথবা তা হবে প্রকৃতি। অন্যদিকে; পৌরাণিক স্রষ্টাকে পারম্পরিক স্রষ্টা বলা হয়। তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বলা হয়; হয়তোবা তা হবে কাঁই নয়তোবা তা হবে শুক্র। এবার বলা যায় যে; একদল অন্যদলের স্রষ্টাকে কখনই বিশ্বাস করে না। অর্থাৎ; সাম্প্রদায়িকরা বিজ্ঞানীদের স্রষ্টাকে এবং বিজ্ঞানীরা সাম্প্রদায়িকদের স্রষ্টাকে কখনই বিশ্বাস করে না। তাহলে; বিজ্ঞানীদের নিকট সাম্প্রদায়িকরা নাস্তিক এবং সাম্প্রদায়িকদের নিকট বিজ্ঞানীরা নাস্তিক। তেমনই; হিন্দুদের নিকট মুসলমানরা নাস্তিক এবং মুসলমানদের নিকট হিন্দুরা নাস্তিক। আবার স্বস্ব স্থানে অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক, জ্যোতিষী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা স্বস্ব স্রষ্টাকে অবশ্যই বিশ্বাস করে। এজন্য; সবাই আস্তিক। যেহেতু; ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সবাই স্বস্ব স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে ও মান্য করে। সেহেতু; পৃথিবীতে নাস্তিক বলে কেউ নেই। এজন্য; বলা যায়; পৃথিবীতে নাস্তিক বা নাস্তিক্যবাদ বলে কিছুই নেই। আরও বলা যায়; মানুষ স্থূলদৃষ্টিতে একে অন্যকে নাস্তিক বলে অবুঝের মতো গালাগালি করে। কিন্তু; সূক্ষ্মদৃষ্টিতে সারাবিশ্বের কোথাও নাস্তিক বা নাস্তিক্যবাদ বলে কিছুই নেই।

আবার প্রশ্ন হতে পারে; একই সমাজে বাস করে, একদল অন্যদলকে বা একজন অন্যজনকে নাস্তিক বলে গালি দেয় কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়; স্রষ্টা কী? নাস্তিক কাকে বলে? নাস্তিক্যবাদ কাকে বলে? কোন কোন সত্তাকে অস্বীকার করলে মানুষকে নাস্তিক বলা হয়? এসব বিষয়ে জ্ঞানের চরম দৈন্যতার কারণেই; মানুষ একে অন্যকে নাস্তিক বলে গালি দিয়ে নিজের নির্বুদ্ধিতায় প্রকাশ করে। যার মধ্যে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদ বিরাজমান; কেবল সে অন্যকে নাস্তিক বলে গালি দিতে পারে। যুক্তি রূপে বলা যায় “পাত্রে যা থাকে ঢাললে তাই পড়ে”। যার ভিতরে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদ আছে। এজন্য; তার ভিতর থেকে তা-ই বের হচ্ছে। এজন্য; বলা যায়; অন্যকে নাস্তিক বলে কটুক্তি করাই; তার নিজের নাস্তিকতা প্রমাণ করা। সাম্প্রদায়িক মনীষীরা নিজের মনমতো করে স্রষ্টার হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, মন, জ্ঞান, রাগ, বিবেক ও বিচার সৃষ্টি করবে; তা অন্যকে বিনা বিচারে গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে বলবে; কেউ মেনে না নিলেই তাকে নাস্তিক বলবে; এটা কখনই হতে পারে না। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেও দেখা যায়; কারো স্রষ্টার হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, মন, জ্ঞান, রাগ, বিবেক ও বিচার সবই আছে; আবার কারো স্রষ্টার এসব নেই। তাহলে; স্রষ্টা নির্মাণ একান্ত শৈল্পিক বিষয়। স্বস্ব দলের রূপকার গুরু ও গোঁসাইরা স্বস্ব স্রষ্টা নির্মাণ করে তাঁকে মনের মাধুরিতে রূপদান করেছে। সেটা হোক সাম্প্রদায়িক স্রষ্টা বা বিজ্ঞানীদের স্রষ্টা। যেমন; ব্রহ্মা, ঈশ্বর, লর্ড (Lord), ডেমিয়াজ (Demiurge) প্রভৃতি।

কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলার পূর্বে; তা ভালোভাবে জানা ও বুঝা একান্ত প্রয়োজন। পরিষ্কার কথা হলো; শ্বরবিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র দ্বারা বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও পৌরাণিক স্রষ্টা নির্মাণ করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের সুমহান মনীষীরা একান্তই স্বস্ব স্রষ্টা নির্মাণ করে; মনের রঙতুলিতে স্বস্ব স্রষ্টার অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, রাগ, বিবেক ও বিচার নির্মাণ করেছে। এছাড়া; বিশ্বের কেউই স্রষ্টার এতবড় নিকট আত্মীয় নয় যে; স্রষ্টার বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে অথবা স্রষ্টাকে নিমন্ত্রণ করে নিজের বাড়িতে এনে স্রষ্টার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে; বা চাচক্রে মিলিত হয়ে; স্রষ্টার আয়তন, অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, রাগ, বিবেক, বিচার, আসন, বসন, তার পরিবারের সদস্য; এমনকি; স্রষ্টার আহার নিদ্রা পর্যন্ত স্বচক্ষে  দেখে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ; কোনো রূপকারই স্রষ্টার বাড়ির চাচক্রের নিমন্ত্রিত অতিথি নয় এবং স্রষ্টাও কোনো রূপকারের বাড়ির চাচক্রের নিমন্ত্রিত অতিথি নন। মূল বিষয় হলো; সুবিজ্ঞ রূপকাররা স্বস্ব স্রষ্টার সব রূপক বর্ণনা স্বস্ব মনের রঙতুলি দিয়ে মনের মাধুরীতে অনন্য রূপে অংকন করেছে। এজন্য; একজনের স্রষ্টা অন্যজনের অবিশ্বাস হওয়াই স্বাভাবিক। একজনের স্রষ্টার বর্ণনার চেয়ে অন্যজনের স্রষ্টার বর্ণনা ভিন্ন ভিন্ন বা ভালো-মন্দ হওয়াই স্বাভাবিক। সর্বশেষে বলা যায়; আস্তিক ও নাস্তিক এমন সাধারণ শব্দাবলী দ্বারা আত্মতৃপ্তি বা কটুক্তি না করে; বরং সবারই আত্মসংযম করা উচিত। স্রষ্টা বিষয়ে একে অন্যকে গালি দেওয়া হতে বিরত থাকা উচিত।

ধর্ম মূলতঃ বস্তুবাদীদের পদার্থ বিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। পদার্থ বিজ্ঞানে পদার্থের বৈশিষ্ট্যকে ধর্ম বলা হয়। তাহলে; বিজ্ঞানীরা মানুষের নির্মিত সামাজিক মতবাদকে ধর্ম রূপে গ্রহণ করবে কেন? পদার্থ বিজ্ঞানের ধর্ম পরিভাষাকে সাম্প্রদায়িক বা পারম্পরিকরা তাদের স্বস্ব নির্মিত মতবাদ বুঝানোর জন্য গ্রহণ করছে কেন? এখনই; এসব প্রশ্নের সমাধান করা প্রয়োজন। তা নাহলে; এটি; আগামীতে আরও ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করবে। এখন থেকেই বক্তা, আলোচক, লেখক, গবেষক, বৈখ্যিক, টৈকিক, অনুবাদক ও অভিধানবিদদের মতবাদকে মতবাদ এবং ধর্মকে ধর্মই বলতে হবে। কোনো ক্রমেই মতবাদকে ধর্ম এবং ধর্মকে মতবাদ বলা যাবে না।

এখনই; তাদের বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে; ধর্ম ও মতবাদ এক নয়। ধর্ম হলো বস্তু বা পদার্থের গুণাগুণ। অন্যদিকে; মতবাদ হলো অন্ধবিশ্বাস। ধর্ম চিরন্তন কিন্তু মতবাদ আপেক্ষিক। ধর্ম আদি ও অনন্ত; কিন্তু মতবাদ কাল কেন্দ্রিক। হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য; ব্যক্তি বিশেষের (সাম্প্রদায়িক মনীষীদের) নির্মিত মতবাদকে ধর্ম বলা বা ধর্ম রূপে প্রমাণ করার দিন ফুরিয়ে গেছে। অন্ধবিশ্বাস দ্বারা সাধারণ মানুষের সরলবিশ্বাসকে বিভ্রান্ত করার সময় ফুরিয়ে এসেছে। পুণ্য-বাণিজ্য ও স্বর্গ-বাণিজ্যের সময় শেষ হয়েছে।

প্রকৃত বিষয় হলো; এদেশে মানব নির্মিত মতবাদকে ধর্ম বলা হয়। আর মানব নির্মিত এসব মতবাদ না মানলেই এদেশে তাকে নাস্তিক বা অবিশ্বাসী বলা হয়। অন্যদিকে; যেসব অন্ধবিশ্বাসী মানব নির্মিত মতবাদগুলো মান্য করে, এদেশে তাদের বিশ্বাসী বা ধর্মভীরু বলা হয়। এদেশে তাদের আস্তিক বলা হয়। এ সূত্র ধরেই এ অঞ্চলের গবেষক, চিন্তাবিদ ও মুক্তচিন্তা চর্চাকারীদের নাস্তিক বলা হয়। অর্থাৎ; মানব নির্মিত সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ অন্ধভাবে বিশ্বাস করলে সে আস্তিক। অন্যদিকে; তা অবিশ্বাস করলেই সে নাস্তিক। গবেষকদের মতে; আস্তিক ও নাস্তিক বাজি কেবল ভারতবর্ষেই দেখা যায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা দেখা যায় না। নিচে ধর্ম ও মতবাদের পার্থক্য আলোচনা করা হলো।

ধর্ম ও মতবাদের পার্থক্য (Differences between attribute and ism)

ধর্ম (attribute)

মতবাদ (ism)

১. সাধারণত; পদার্থবিজ্ঞানে কোনকিছুর গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্যকে স্বভাব বা ধর্ম বলে। ১. কোনো দল বা গোষ্ঠী কর্তৃক গৃহীত কোনো বিশেষ ব্যক্তির বিষয়ভিত্তিক সুগভীর চিন্তাকে মতবাদ বলে।
২.  ধর্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি। যেমন; আগুনের দাহ্য ধর্ম। ২. মতবাদ মানুষের সৃষ্টি। যেমন; সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক মতবাদ।
৩.  ধর্ম দুই প্রকার। যথা; স্থায়ী ও অস্থায়ী। ৩.  মতবাদ অসংখ্য।
৪. ধর্ম চিরন্তন। ৪. মতবাদ আপেক্ষিক।
৫. ধর্ম আদি ও অনন্ত। ৫.  মতবাদ কাল কেন্দ্রিক।
৬. ধর্ম প্রাকৃতিক। ৬.  মতবাদ কৃত্রিম।

বাপ-দাদার ধর্ম (Children producing of ancestors)
“الأطفال بإنتاج من الأسلاف” (আলয়াত্বফালু বিলইন্তাজি মিনাল আসলাফি)

বাপ-দাদার ধর্ম প্রবাদটির প্রচলনও এদেশে দেখা যায়। কুরানে এর অনেক বর্ণনা রয়েছে। যেমন;  “سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن شَيْءٍ ۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ حَتَّىٰ ذَاقُوا بَأْسَنَا ۗ قُلْ هَلْ عِندَكُم مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا ۖ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ” অর্থ; “অচিরেই অংশীবাদীরা বলবে, ‘কাঁই যদি চাইতেন, আমরা অংশী করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না এবং আমরা কোনো কিছু নিষিদ্ধ করতাম না’। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, যে পর্যন্ত না তারা আমাদের শাস্তি আস্বাদন করেছে। বলো; ‘তোমাদের কাছে কি কোনো জ্ঞান আছে, যা তোমরা আমাদের জন্য প্রকাশ করবে? তোমরা তো শুধু ধারণার অনুসরণ করছো এবং তোমরা তো কেবল অনুমান করছো।” (কুরান, সুরা আনয়াম১৪৮)। “وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ” অর্থ; “অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে প্রতিভাস পাঠানো হয়েছে যে; তুমি অংশী নির্ধারণ করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই। অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (কুরান, সুরা জুমার৬৫)

এখানে; পূর্বপুরুষদের ধর্ম ও পূর্বপুরুষদের আদর্শ বলতে সন্তান সৃষ্টি করাকে বুঝানো হয়েছে। সন্তান উৎপাদন করাকেই কুরানে পূর্বপুরুষেদের ধর্ম বলা হয়েছে। সন্তান সৃষ্টি করাকেই রূপকার্থে মূর্তিপূজা বলা হয়েছে। অন্যদিকে; কাঠ, বাঁশ, মাটি বা পাথরের প্রতিমাকে বিশ্বের কোনো সাম্প্রদায়িক গ্রন্থেই মূর্তি বলা হয় নি। ভৌত প্রতিমার পূজাকেও কোথাও নিষিদ্ধ করা হয় নি। এসব নিতান্তই সামাজিক বা জাতীয় ঐতিহ্য। কোনো জাতির সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যকে নিষিদ্ধ করা বা ঘৃণা করা কোনো সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের কাজ নয়। সাম্প্রদায়িক পুস্তক-পুস্তিকায় কেবল মানুষের নৈতিক চরিত্রের উন্নতির বিষয় আলোচনা করা হয়। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে কোনো দেশ বা জাতীর সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যকে নিষিদ্ধ করা বা আঘাত করার বিষয় আলোচনা করা হয় না। আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার অন্যান্য পরিভাষা যথাস্থানে আলোচনা করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৪র্থ খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!