৪৮. পালনকর্তা

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

৪৮. পালনকর্তা 
Guardian (গার্জিয়ান)/ ‘رب’ (রাব্বা)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং পালনকর্তা পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সাঁই। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ফুল। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ হরি এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ সুধা। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
পালনকর্তা (বাপৌমূ)বিণ লালনপালনকর্তা, ঈশ্বর, প্রভু, guardian, ‘رب’ (রাব্বা) (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইপৌচা) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীপালনকর্তা পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; যে কোনো লালন-পালনকারীকে বাংলায় ‘পালনকর্তা বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে রূপকার্থে ‘পালনকর্তা বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {বাং. পালন + বাং. কর্তা}

পালনকর্তার সংজ্ঞা (Definition of guardian)
লালন-পালনকারীকে পালনকর্তা বলে।

পালনকর্তার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of guardian)
দ্বিপস্থ জীবের মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিতকে পালনকর্তা বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

পালন-কর্তা সাঁই অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
পালনকর্তার আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; পালনকর্তা।
বাংলা আভিধানিক প্রতিশব্দ; আদি-পালক, পালক ও পালন
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; সাঁই।

বাঙালী পৌরাণিক উপমান; অপ, অমির, অমৃত, অমৃতসুধা, অম্বু, আসব, উদক, কনক, খজল, খবারি, খবাষ্প, গগনাম্বু, গঙ্গা, গঙ্গাজল, গঙ্গোদক, গোরস, গ্রন্থ, চন্দ্র, ছানা, জল, জলফল, জলরাজ, জীবজল, জীবাম্বু, জীবোদক, তীর্থজল, তীর্থবারি, তীর্থোদক, দধি, দধিসার, দানবারি, দিব্যোদক, নিধি, নীর, নীরজ, পক্ষী, পদোদক, পদ্ম, পাখি, পাদক, পাদোদক, পীযূষ, পুষ্পরাগ, প্রবাল, প্রেমনিধি, প্রেমসুধা, ফল, ফুল, ফটিকজল, বরিষণ, বৃষ্টি, মণি, মৎস্য, মাখন, মাখনা, মাখম, মাছ, মাণিক্য, মীন, মুক্তা, মৃদুজল, মোতি, যজ্ঞরস, রতন, রত্ন, রত্নধন, রস, রসগোল্লা, শ্রমজল, শ্রমবারি, সুরস, সুরা, সুধারস, সোনা, সোম, সোমরস ও স্বর্ণ।

বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; অগস্ত্য, অধিদেব, অধিনায়ক, অধিপ, অধিপতি, অধীশ, অধীশ্বর, অধ্যক্ষ, অবনিপতি, অমিতাভ, অরণ্যচর, ইন্দিবর, ইন্দু, ইন্দ্র, ইন্দ্রনীল, উপরিচরবসু, কমল, কমলাপতি, কলাধর, কলানাথ, কাঞ্চন, কাদম্বর, কান্তিমান, কুমুদনাথ, কুলনাথ, ক্ষিতিনাথ, ক্ষিতীশ, ক্ষিতীশ্বর, ক্ষৌণীশ, গউর, গন্ধেশ্বরী, গোতম, গোলকনাথ, গৌউর, গৌতম, গৌরাঙ্গ, চন্দন, চিত্রাশ্ব, চৈতন্যদেব, জগদীশ, জগদীশ্বর, জগন্নাথ, জনার্দন, জৈগিষব্য, তমিনাথ, তারানাথ, দীননাথ, দীনবন্ধু, দীনেশ, দেবরাজ, দেবিন্দ্র, দেবেন্দ্র, দ্রবিণ, ধরণীশ্বর, ননি, নরনাথ, নরেন্দ্র, নরেশ, নরেশ্বর, নারায়ণ, নিতাই, নিত্যানন্দ, নিমাই, নিরঞ্জন, পরেশ, পরেশনাথ, পুরঞ্জয়, পুরন্দর, প্রণব, প্রাণেশ, প্রাণেশ্বর, বটুক, বসু, বিমল, বিশ্বরূপ, বিশ্বাবসু, বিশ্বেশ্বর, বিষ্ণু, মরিচি, মহিন্দ্র, মহেন্দ্র, মাণিক, মাহেন্দ্র, মুকুন্দ, মৃগাঙ্ক, রঘু, রঘুনাথ, রজনিকান্ত, রজনিনাথ, রমাকান্ত, রমানাথ, রমেশ, রাকেশ, রাজন, রাজা, রাজীব, রাজেন্দ্র, রাম, রামচন্দ্র, রামেশ্বর, লালক, লালন, লোকনাথ, শচীন্দ্র, শচীশ, শশাঙ্ক, শাক্যমুনি, শাক্যসিংহ, শ্রীকান্ত, শ্রীনাথ, সত্যবান, সিদ্ধার্থ, সুরেন্দ্র, সৌভরি, স্বরূপ, হরি, হরিশ্চন্দ্র, হিমাংশু ও হেমাঙ্গ।

বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম; অধর, অধিদেবতা, অধিদৈবত, অনুজ, অমিয়া, অমূল্য, অমূল্যনিধি, আত্মরূপ, আত্মারাম, আদিপুরুন্দর, আয়ুষ্কর, আয়ুষ্য, ইষ্ট, ইষ্টর, ইষ্টি, ঈশ, ঈশ্বর, উপাস্য, করুণানিধি, করুণাময়, করুণাসিন্ধু, কর্পূর, কলানিধি, কল্কী, কাণ্ডারী, কান্ত, কান্তপদ্ম, কারণবারি, কারুণ্যবারি, কুলপতি, কুলপ্রদীপ, কুলর্ষভ, কুস্তরি, কৌমুদীপতি, ক্ষিতিপ, ক্ষিতিপতি, ক্ষিতিপাল, ক্ষীরাব্ধিজ, ক্ষীরোদনন্দন, গদাধর, গরুড়ধ্বজ, গরুড়বাহন, গৃহদেবতা, গৃহপতি, গৃহপাল, গোরা, গোরাচাঁদ, গোরারায়, গোরোচনা, গোলকপতি, গোলকবিহারী, গৌর, গৌরচন্দ্র, গৌরবর্ণ, গৌরাঙ্গাবতার, ঘটোৎভব, ঘরা, ঘরামি, ঘরী, চক্রপাণি, চতুর্ভূজ, চন্দ, চন্দমা, চন্দা, চন্দ্র, চন্দ্রমা, চন্দ্রসুধা, চন্দ্রিমা, চাঁদ, চাঁদা, চাঁদিমা, চান্দ, চান্দা, চিরজীবী, চূড়ামণি, চোর, ছত্রপতি, জগৎকর্তা, জগৎপতি, জগৎপিতা, জগদ্বন্ধু, জগদ্বরেণ্য, জগদ্বিখ্যাত, জগদ্বিধান, জগদ্বিধাতা, জগদ্ব্যাপী, জগন্নিবাস, জগবন্ধু, জীবিতনাথ, জীবিতেশ, জীবিতেশ্বর, জীমূতবাহন, জীমূতবাহী, তপোধন, তপোনিধি, তপোময়, তপোমূর্তি, তমোঘ্ন, তমোহর, তলানি, তারাধিপ, তারাপতি, তিলেখাজা, তীর্থাংকর, তুষারকর, তোয়, ত্রিনাথ, ত্বষ্ট, ত্বষ্টা, ত্বিষ, ত্বিষা, দয়াবান, দয়াময়, দয়াল, দয়ালু, দয়াশীল, দয়িত, দলপতি, দশমাবতার, দিগ্বিজয়ী, দীনশরণ, দেবদুর্লভ, দেবশিল্পী, দৈত্যনিসূদন, দৈত্যারি, দ্রাক্ষারস, ধব, ধবল, ধরণীপতি, ধরণীভৃৎ, ধ্রুব, নক্ষত্রনাথ, নক্ষত্রনেমি, নক্ষত্রপতি, নক্ষত্ররাজ, নক্ষত্রেশ, নদেরচাঁন, ননুয়া, নবনী, নবনীত, নমুচিসূদন, নয়নমণি, নয়নমোহন, নয়নরঞ্জন, নয়নানন্দ, নয়নাভিরাম, নরপতি, নরাধিপ, নরোত্তম, নর্মকীল, নাগেশ্বর, নাথ, নির্ঝর, নিশাকর, নিশানাথ, নিশাপতি, নিস্তারক, নীলমোতি, নীলরতন, নীলোৎপল, নৃমণি, নৃপ, নৃপতি, নৃপবর, নৃপমণি, পক্ষজ, পক্ষধর, পড়শি, পতি, পতিতপাবন, পদ্মনাভ, পদ্মপাণি, পদ্মভূ, পদ্মসম্ভব, পদ্মোদ্ভব, পদ্মোদ্ভব, পবিত্রাত্মা, পরমগুরু, পরমরতন, পরমপিতা, পরমপুরুষ, পরশমণি, পর্জন্য, পাকশাসন, পাখি, পানক, পান্না, পাবন, পীতাব্ধি, পুরুষোত্তম, পূর্ণচন্দ্র, পূর্ণচাঁদ, প্রতিপালক, প্রতিবাসী, প্রতিবেশী, প্রধান, প্রভু, প্রাণকান্ত, প্রাণনাথ, প্রাণপতি, প্রাণপ্রতিম, প্রাণপ্রিয়, প্রাণবল্লভ, প্রেমচাঁদ, প্রেমচন্দন, ফটিক, ফটিকচাঁদ, ফটিকচাঁন, ফণামণি, বজ্রধর, বজ্রপাণি, বজ্রমণি, বজ্রী, বড়লাট, বনফুল, বনবিহারী, বরয়িতা, বলনিসূদন, বসুধারা, বস্তুধন, বাপ, বারিচর, বারিরূহ, বিধি, বিধু, বিশল্যকরণী, বিশ্বপা, বিশ্বপাতা, বিশ্ববিধাতা, বিষ্টু, বিষ্ণুপদী, বিসা, বুদ্ধ, বৃত্রঘ্ন, বৃত্রহা, বৃত্রারি, বৃষ্ণি, বেদাশ্রয়, বৈকুণ্ঠনাথ, বৈকুণ্ঠপতি, ব্রহ্মনাভ, ভরত, ভারতীগোঁসাই, ভর্তা, ভুবনেশ্বর, ভূতভাবন, ভূপ, ভূপতি, ভূপাল, ভূস্বামী, ভৃগুপতি, ভৃগুরাজ, মঘবন, মঘবা, মঘবান, মঞ্জুঘোষ, মঞ্জুশ্রী, মৎস্যরাজ, মৎস্য অবতার, মদ, মনের-মানুষ, মনোচোর, মনরায়, মনোহর, মনোহরা, মন্মথবন্ধু, ময়স্ক, মরি, মরী, মহাভিক্ষু, মহারজত, মহারত্ন, মহৌষধ, মাধুকী, মানুষ, মানুষ্য, মেঘবাহন, মৈত্রেয়, যজ্ঞপতি, যজ্ঞপুরুষ, যজ্ঞেশ্বর, যাজ্ঞিকান্ন, যামিনীনাথ, যামিনীপতি, যামিনীভূষণ, যোগিশ্বর, রঘুকুলতিলক, রঘুকুলপতি, রঘুনন্দন, রঘুপতি, রঘুবর, রঘুমণি, রঘুশ্রেষ্ঠ, রজত, রমাপতি, রসোত্তর, রাই, রাকাপতি, রাঘব, রাজজল, রাজপ্রসাদ, রাজরাজেশ্বর, রাজাধিরাজ, রাজানুকম্পা, রাজানুগ্রহ, রাজ্যেশ্বর, রাত্রিমণি, রায়, লক্ষ্মীকান্ত, লক্ষ্মীপতি, শক্র, শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী, শচীনন্দন, শচীপতি, শচীবিলাস, শরণ্য, শশধর, শশবিন্দু, শশভৃৎ, শশলক্ষণ, শশলাঞ্ছন, শশী, শাক্য, শাস্তা, শীতাংশু, শীল, শুক্ল, শুভ্র, শুভ্রকেশ, শ্রীনিবাস, শ্রীপতি, শ্রীবৎসলাঞ্ছন, শ্রীহরি, শ্বেত, শ্বেতকি, শ্বেতজটা, শ্বেতবসন, সংরক্ষক, সর্বগুণনিধি, সর্বগুণাধার, সর্বময়, সহস্র নয়ন, সহস্রপাদ, সহস্র লোচন, সহস্রাক্ষ, সাকার, সাদা, সাদাঈশ্বর, সারবস্তু, সীতাপতি, সুধা, সুধাংশু, সুধাকর, সুধানিধি, সুধাবর্ষী, সুধাবাস, সুধাময়, সুধামাখা, সুবর্ণপদ্ম, সুরপতি, সোমক, সোমরাজ, সোয়ামি, সৌদামিনি, স্পর্শমণি, স্বরূপমণি, স্বর্ণমৃগ, স্বামী, হবি, হবিষ্য, হবিষ্যান্ন, হবিষ্যি, হরচূড়ামণি, হরিণ, হরিণাংক, হর্যশ্ব, হিমকর, হিরণ্য, হৃৎপদ্ম, হৃদিপদ্ম, হৃষীকেশ, হেম, হেমচন্দ্র, হেমপুষ্প ও হৈম।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

৪৮. পালনকর্তা Guardian (গার্জিয়ান) ‘رب’ (রাব্বা)
৪৮/১. সাঁই God (গড) ‘رسول’ (রাসুল)
৪৮/২. অমৃতসুধা Manna (মান্না) ‘الْمَنَّ’ (আলমান্না)
৪৮/৩. গ্রন্থ Book (বুক) ‘ﻜﺘﺎﺐ’ (কিতাব)
৪৮/৪. চন্দ্র Phoebe (ফিবি) ‘القمر’ (আলক্বামার)
৪৮/৫. জল Water (ওয়াটার) ‘ﻤﺎﺀ’ (মাও)
৪৯/৬. তীর্থবারি Kickshaw (কিকশো) ‘لذيذ’ (লাজিয)
৪৮/৭. পাখি Pegasus (পেগাসাস) ‘بيغاسوس’ (বিয়াগাসুস)
৪৮/৮. ফল Fruit (ফ্রুট) ‘فاﻜﻬﺔ’ (ফাকিহা)
৪৮/৯. ফুল Amaranth (অ্যামার‌্যান্থ) ‘قطيفة’ (ক্বাত্বিফা)
৪৮/১০. ননি Cream (ক্রিম) ‘ﻘﺸﺪﺓ’ (ক্বিশদা)
৪৮/১১. বিষ্ণু Venomnot (ভেনমনট) ‘ليسالسم’ (লাইসাস্সাম)
৪৮/১২. মাণিক Jewel (জুয়েল) ‘جوهرة’ (জাওহার)
৪৮/১৩. রাজা King (কিং) ‘عاهل’ (আহিল)
৪৮/১৪. রাম Glorious (গ্লোরিয়াস) ‘محمد’ (মুহাম্মদ)
৪৮/১৫. লালন Cherisher (চেরিশার) ‘مربي’ (মুরাব্বিয়া)
৪৮/১৬. স্বরূপ Sooth (সুথ) ‘حقيقة’ (হাক্বিক্বি)
৪৮/১৭. হরি Hoary (হোরি) ‘اشيب’ (আশিব)
৪৮/১৮. ঈশ্বর Jehovah (জিহৌভ) ‘يهوه’ (ইয়াহুয়াহু)
৪৮/১৯. উপাস্য Adored (অ্যাডোর্ড) ‘المعشوق’ (আলমা‘শুক্ব)
৪৮/২০. চোর Thief (থিফ) ‘ﺴﺎﺭﻖ’ (সারাক্বা)
৪৮/২১. পতিতপাবন Rescuer (রেসকিউয়ার) ‘محرر’ (মুহার্রার)
৪৮/২২. পরমগুরু Beverage (বেভ্যারিজ) ‘مشروبات’ (মাশরুবাত)
৪৮/২৩. প্রভু Master (মাস্টার) ‘الرب’ (আররব)
৪৮/২৪. মনের-মানুষ Sexton (সেক্সটোন) ‘قندلفت’ (কান্দালিফাত)
৪৮/২৫. সুধা Nectar (নেক্টার) ‘رحيق’ (রাহিক্ব)

পালনকর্তার ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of guardian)
“নগরকর্তা হলে শাসন, পালনকর্তার হয় দর্শন, পেরিয়ে সে জন্ম-মরণ, সৃষ্টিকর্তা দেখে নিবি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬১)

পালনকর্তার প্রকারভেদ (Variations of guardian)
পালনকর্তা দুই প্রকার। যথা; ১. আদি-পালনকর্তা ও ২. অন্তঃপালনকর্তা ।

. আদি-পালনকর্তা (First guardian)
ভ্রূণাকারে সৃষ্টি হওয়ার পর এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মাতৃগর্ভে সন্তান লালনপালনে নিয়োজিত সাঁইকে আদি-পালনকর্তা বলে।

. অন্তপালনকর্তা (Last guardian)
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যে ব্যক্তি সন্তান রূপে লালনপালন করে তাকে অন্তঃ-পালনকর্তা বলে। যেমন; পিতা-মাতা, পালকপিতা, পালকমাতা ইত্যাদি।

আবার পালনকর্তা দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান পালনকর্তা ও ২. উপমিত পালনকর্তা।

. উপমান পালনকর্তা (Analogical guardian)
যে কোনো লালন-পালনকারীকে পালনকর্তা বলে।

. উপমিত পালনকর্তা (Compared guardian)
দ্বিপস্থ জীবের মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে পালনকর্তা বলে।

পালনকর্তার পরিচয় (Identity of guardian)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীপালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। নারী জাতির জরায়ুর মধ্যে সন্তান লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী জলকে পালনকর্তা বলা হয়। সাম্প্রদায়িক সংস্কারগুলোতে অন্তপালনকর্তা পিতা-মাতা বা পালকপিতা-পালকমাতার ব্যাপক আলোচনা করা হয় বলে শ্বরবিজ্ঞানে অন্তপালনকর্তার আলোচনা সংক্ষিপ্ত করা হয়। অত্র গ্রন্থে আদি-পালনকর্তার আলোচনা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। সারা জগতের সব জীবের আদি-পালনকর্তা হলেন সাঁই। সাঁই বা বিষ্ণুই শ্বরবিজ্ঞানের প্রকৃত আলোচনার বিষয়। সাঁইয়ের দর্শনলাভের জন্যই মরমীগণের যত লেখা ও যতসব আলোচনা। মরমীগণ মনে করেন মানবজীবনে সাঁই ও কাঁইয়ের দর্শনলাভ করতে পারলেই জন্ম ধন্য হয়। সাম্প্রদায়িক সংস্কারগুলোতে পিতা-মাতা বা পালকপিতা বা পালকমাতার ব্যাপক আলোচনা করা হয় বলে শ্বরবিজ্ঞানে অন্তঃপালক পিতা-মাতার আলোচনা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয় এবং আদি-পালকের আলোচনা দীর্ঘায়িত করা হয়। অত্র গ্রন্থে আদি-পালকের আলোচনা করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। সারা জগতের সব জীবের আদি-পালনকর্তা হলেন জীবজল বা জীবোদক ‘সাঁই’। সবকিছুর লালনপালনে নিয়োজিতকেই পালনকর্তা বলা হয়। এটা সর্বজন স্বীকৃত। তবে; স্থূলদৃষ্টিতে সব পালনকারীকেই পালনকর্তা বলা হয়। অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল সাঁইকেই পালনকর্তা বলা হয়। আরও বলা হয় ‘সাঁই’ হলেন বিশ্বকর্মা। সাঁই বিশ্বজগৎ লালনপালন করেন বলেই সাঁইকে বিশ্বের পালনকর্তা বা বিশ্বকর্মা বলা হয়।

যার যার ত্রি’কর্তার সন্ধান জানা প্রত্যেক মানুষের একান্ত প্রয়োজন। ত্রি’কর্তা হলো; ১. সৃষ্টিকর্তা ২. পালনকর্তা ও ৩. নগরকর্তা। শ্বরবিজ্ঞানে; কাঁইকে সৃষ্টিকর্তা, সাঁইকে পালনকর্তা ও বঙ্কিমকে নগরকর্তা বলা হয়। এ ত্রি’কর্তার মানবদেহে অবস্থান, সাধন ও শাসন সম্পর্কে সম্যক-জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মানুষের একান্ত কর্তব্য। মানুষ নিজকে যত বড় জ্ঞানীই মনে করুন না কেন; যদি তারমধ্যে স্বস্ব ত্রি’কর্তার সম্যক-জ্ঞান না থাকে- তবে তিনি চরম অজ্ঞ ও অত্যন্ত মূর্খ। এ ত্রি’কর্তার জ্ঞানই হলো আত্মতত্ত্ব জ্ঞান। আর আত্মতত্ত্ব জ্ঞান যার নেই তার কোনো জ্ঞানই নেই। কেবল আত্মতত্ত্ব জ্ঞানই হলো বিশ্বের সব জ্ঞানের মূল। তাই; বলা হয় মূল জ্ঞান যার নেই; তার কোনো জ্ঞানই নেই। মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে, আমার মনের ঘোর গেল না” (পবিত্র লালন- ৮২৮/৩)। এখানে; আমরা কেবল মানুষের তথা জীবের পালনকর্তার আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাসনা রাখি। এছাড়াও; সৃষ্টিকর্তা শিরোনামে সৃষ্টিকর্তা এবং মন শিরোনামে অধীনে নগরকর্তার আলোচনা করা হয়েছে। পরিশেষে বলতে চাই মানবের পালনকর্তা হলো সাঁই।

পালনকর্তার উপকার (Benefits of guardian)
১.   আদি-পালনকর্তার দ্বারা দেহ সুগঠিত হয়।
২.   আদি-পালনকর্তার দ্বারা দেহের মধ্যে আত্মা ও ইন্দ্রিয় সুষম সংস্থাপিত হয়।
৩.   অন্তপালনকর্তার দ্বারা নবজাতক শৈশবকাল ও কৈশোরকাল অতিক্রম করে যৌবনকালে পদার্পণ করে।

জীবের পালনকর্তা (The guardian of organisms)
ব্র‏হ্মাণ্ডের পালক বা প্রতিপালক বা লালনপালনে নিয়োজিত কে, তিনি কোথায় থাকেন, তাঁর বাস্তবিক কোনো অস্তিত্ব আছে কী না এসব বিষয়ে বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও মরমীগণ আদিকাল হতে ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা ও অভিধা প্রকাশ করে আসছেন। বলতে গেলে আধ্যাত্মিক পরিভাষাগুলোর ব্যাপারে এ চারটি বিভাগ প্রায় চার মেরুতে অবস্থান নিয়েছে আবহমানকাল হতে। এ চির দ্বন্দ্বের অবসান হয় নি কোনো দিন। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো বিজ্ঞানী, দার্শনিক, সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও মরমী এ বিভাগগুলো এবং বিশ্বের বিভিন্ন মতবাদ আধ্যাত্মিক পরিভাষাগুলোর ব্যাপারে অন্তত একটিমাত্র অভিধা প্রদানের চেষ্টা করা। যাতে চিরাচরিত অভিধাদ্বন্দ্বের কিছুটা হলেও অবসান ঘটে এবং বক্তব্য, পাল্টা-বক্তব্য ও যুদ্ধ-বিগ্রহ সামান্য হলেও হ্রাস পায়।

পালনকর্তা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক ধারণা (The scientific concepts about the guardian)
বিজ্ঞানীগণ বলে থাকেন; বিশ্বচরাচরের প্রকৃত কোনো সৃজনকর্তা ও লালনকর্তা বা পালনকর্তা নেই। আজ হতে প্রায় দুই হাজার কোটি বছর (২০০০,০০,০০,০০০০) পূর্বে একটি মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে এ মহাজগতের সৃষ্টি হয়। আজ হতে প্রায় পাঁচশত কোটি হতে দেড়শত কোটি (৫০০,০০,০০,০০০- ১৫০,০০,০০,০০০) বছর পূর্বে ভূস্তর গঠিত হয় এবং আদি-এককোষী প্রাণীর উদ্ভব হয়। অতঃপর; আজ হতে প্রায় দেড়শত কোটি হতে ছয়কোটি (১৫০,০০,০০,০০০- ৬,০০,০০,০০০) বছর পূর্বে ব্যাকটেরিয়া, অ্যালগি ও ফাঙ্গাসের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বহুকোষী প্রাণীর উদ্ভব হয়। আজ হতে প্রায় ছয়কোটি হতে দুইকোটি বিশলাখ বছর পূর্বে সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী, মাছ, পতঙ্গ ও সরীসৃপ ইত্যাদি প্রাণীর সৃষ্টি হয়। ভূপৃষ্ঠের আয়তন বাড়তে থাকে এবং জলবায়ু ক্রমে ক্রমে উষ্ণ হতে থাকে। আজ হতে প্রায় সাতকোটি বছর পূর্ব হতে দুইকোটি বিশলাখ বছর পূর্বে ডাইনোসরের মতো প্রকাণ্ড সরীসৃপ প্রাণীর উদ্ভব হয়। আবার তারাও বিলুপ্ত হয়। ফল ও ফুলের গাছপালা সৃষ্টি হতে থাকে। আজ হতে প্রায় সাতকোটি হতে একলক্ষবছর (৭,০০,০০,০০০- ১,০০,০০০) পূর্বে পৃথিবীতে  প্রজাতির পাখি ও স্তন্যপায়ী জীব সৃষ্টি হয়।

আজ হতে প্রায় ত্রিশ হাজার বছর (৩০,০০০) পূর্বেই ইউরোপে প্লিস্টোসিন (Plestosen) প্রজাতির মানবের উদ্ভব হয়। তারো অনেক পূর্বে অর্থাৎ; আজ হতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার বছর (৫০,০০০) পূর্বে ইউরোপে মুস্টারিয়ান (Mousterions) ও নিয়ানডার্টাল (Neandertel) মানুষের উদ্ভব হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক মনীষীগণ মনে করেন তারো অনেক পূর্বে অর্থাৎ; আজ হতে প্রায় দুইলক্ষ পঞ্চাশ হাজার বছর (২,৫০,০০০) পূর্বে এশিয়ার চেনে সর্বপ্রথম আদিম-মানুষের উদ্ভব হয়। আদিম মানুষেরা পাথরের উপকরণ ব্যবহার করতেন বলে বিজ্ঞানীগণ এ যুগকে পাথরের যুগ বলে থাকেন। আদিম-মানুষের পাথরের যুগটি প্রায় দুই লক্ষ বছর (২,০০,০০০) দীর্ঘ ছিল। আদিম-মানুষের উদ্ভবের পর হতে বিকাশের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে বর্তমান মানুষের আকার আকৃতি প্রাপ্ত হয়েছে। বিজ্ঞানীগণ মনে করেন মহাবিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা বিবর্তনের মাধ্যমেই হয়েছে। প্রকৃতি নিজেই নিজের পালনকর্তা। জীব নিজেই নিজের লালনপালনকর্তা। তা ভিন্ন কোনো পালনকর্তার অস্তিত্ব বিজ্ঞানীগণ স্বীকার করতে চান না কখনও।

পালনকর্তা বিষয়ক দার্শনিক ধারণা (The philosophical concepts about the guardian)
দার্শনিকগণ সম্পূর্ণ ভিন্ন মত ব্যক্ত করে বলে থাকেন যে; জীব সৃষ্টি হওয়ার পর হতেই জীবের (মানুষের) সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার অন্বেষণের সূচনা হয়। সে পঞ্চাশ হাজার বছর (৫০,০০০) পূর্বে নিয়ানডার্টাল (Neandertel) প্রজাতির মানুষের উদ্ভব হয়। তখন তারা এভাবেই তাদের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে অন্বেষণ করতেন। অতঃপর; ত্রিশ হাজার বছর (৩০,০০০) পূর্বেও প্লিস্টোসিন (Plestosen) প্রজাতির মানুষের সৃষ্টি হয়। তখনও তারা এভাবেই তাদের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে অন্বেষণ করেছিলেন। বর্তমানেও একদল মানুষ তাদের পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে অন্বেষণ করেই চলেছেন। তাদের পাত্তা মিলে নি কখনও এবং আর কোনো দিন মিলবেও না। কারণ; পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তা নামক পরিভাষা দুটি সাম্প্রদায়িক অন্ধবিশ্বাস হতে উৎপত্তি হয়েছে। এজন্য; মানুষের ভাগ্যে এ দুটি সত্তার সন্ধান মিলবে না কোনো দিন।

পালনকর্তা বিষয়ক সাম্প্রদায়িক ধারণা (The schismatical concepts about the guardian)
বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক মনীষী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার অভিধার মধ্যে ন্যূনাধিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন; বাংভারতীয় সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বগণ (ঠাকুর, পুরোহিত) বলে থাকেন ব্রহ্মা হলেন সৃষ্টিকর্তা এবং বিষ্ণু হলেন পালনকর্তা। ব্রহ্মা জগৎ সৃষ্টি করেন এবং বিষ্ণু জগদ্বাসীকে প্রতিপালন করেন। কিন্তু মুসলমান মনীষীগণ বলে থাকেন একমাত্র আল্লাহ (ﺍﻟﻟﻪ) সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনিই সবকিছুর পালনকর্তা। তাঁদের মতে; পালনকর্তা বলে পৃথক কোনো সত্তা নেই। এজন্য; তারা পৃথক কোনো পালনকর্তার অস্তিত্বও স্বীকার করেন না।

ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত; বিষ্ণু ক্ষীরোদশায়ী। তাঁর শয্যা অনন্ত, স্ত্রী লক্ষ্মী, পুত্র কামদেব, ধাম বৈকুণ্ঠ, বাহন গরুড়। তাঁর শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্য, চক্র সুদর্শন, গদা কৌমদকী, ধনু শারঙ্গ, অসি নন্দক ও মণি কৌস্তভ। তিনি দেবগণের শ্রেষ্ঠ। ইন্দ্রিয়াদি দেবতাগণ বিপদের সময় তাঁর শরণাপন্ন হন। প্রজাপতি কশ্যপের ঔরসে অতিদির গর্ভে বিষ্ণু জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণুর দুইজন স্ত্রী- লক্ষ্মী ও সরস্বতী। পৃথিবীর কল্যাণের জন্য, দেবতাগণের সাহায্য করবার জন্য ও দানবদলনের জন্য তিনি যুগে যুগে মানব অবতার রূপে জন্মগ্রহণ করেন। পুরাণে তাঁর দশটি দেবতার কথা উল্লেখ রয়েছে। যথা; ১. মৎস্য ২. কূর্ম ৩. বরাহ ৪. নৃসিংহ ৫. বামন ৬. পরশুরাম ৭. রাম ৮.বলরাম ৯. বুদ্ধ ও ১০. কল্কি। তিনযুগে বিষ্ণু অনেক দৈত্যদানবকে বধ বা সংহার করেছেন। যেমন; মধু, ধেনুক, পুতনা, যমলার্জুন, কালনেমি, হয়গ্রীব, শটক, অরিষ্ট, কৈটভ, কংশ, কেশী, শাল্ব, বাণ, কালীয়, নরক, বলি ও শিশুপাল ইত্যাদি।

তাঁর চারটি হস্ত- এক হস্তে পাঞ্চজন্য শঙ্খ, দ্বিতীয় হস্তে সুদর্শন চক্র, তৃতীয় হস্তে কৌমুদকী গদা এবং চতুর্থ হস্তে পদ্ম। তাঁর ধনুকের নাম শারঙ্গ ও অসির নাম নন্দক। তাঁর বক্ষে কৌস্তভ মণি বিলম্বিত এবং শ্রীবৎস নামে এক অদ্ভূত চিহ্ন অংকিত। তাঁর মণিবন্ধে স্যমন্তক মণি বর্তমান। বিষ্ণু ঋক্বেদের অনেক সুক্তে স্তুত হয়েছেন। কোনো কোনো স্থানে ইনি আদিত্যের সঙ্গে অভিন্ন রূপে বর্ণিত হয়েছেন। কোথাও বা তিনি সূর্যরশ্মির সঙ্গে ব্যাপ্ত বলেও বর্ণিত হয়েছেন। বিষ্ণু সপ্তকিরণের সঙ্গে ভূ-পরিক্রম করেন। ইনি রক্ষক, তিনিই ধর্ম ধারণ করেন। বিষ্ণুই ইন্দ্রের সখা। তিনি ত্রিপদে জগৎ ব্যাপিয়া রয়েছেন।

আর্যদের তিনজন প্রধান দেবতার মধ্যে বিষ্ণু গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সৎগুণের আধার। সৃষ্টিজগতের লালনপালননের ভার তাঁর ওপর অর্পিত। তিনিই পুরুষ, অব্যয়, ঈশ্বর, অনাময়, বিশ্বব্যাপী ও প্রভু। প্রলয় সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় নারায়ণ রূপে মানুষ্য দেহধারী হয়ে তিনি শেষনাগের ওপর শায়িত আছেন। তাঁর নাভি উদ্ভূত পদ্ম হতে সৃষ্টিকর্তা ব্র‏হ্মার উৎপত্তি হয়। জগৎ সৃষ্টিকালে মধু ও কৈটভ নামক দুই দানবকে হত্যা করে তাদের মেদ হতে তিনি মেদিনী সৃষ্টি করেন। মহাভারত ও পুরাণে বিষ্ণু প্রজাপতি ও শ্রেষ্ঠ দেবতা। প্রজাপ্রতি রূপে তাঁর তিনটি অবস্থার উল্লেখ রয়েছে। প্রথমে সক্রিয় সৃষ্টিকর্তা রূপে ব্রহ্মা, তিনি নিদ্রিত বিষ্ণুর নাভিপদ্ম হতে উত্থিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বিষ্ণু- স্বয়ং রক্ষক রূপে দেবতা। তৃতীয় শিব বা রুদ্র। বিষ্ণুর কপাল হতে উদ্ভূত এবং ধ্বংসের দেবতা (পৌরাণিক অভিধান)

কিন্তু আরবীয় সাম্প্রদায়িক মনীষী (আলিম) বা তাদের অনুসারীরা বলে থাকে “স্রষ্টা কারো দ্বারা সৃষ্টি নন। তিনি অনাদি ও অনন্ত। স্রষ্টা বা আল্লাহ (ﺍﻟﻠﻪ) বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করার পর হতে তিনি নিজেই লালনপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনিই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই মানুষের পালনকর্তা, তিনিই অন্নদাতা, তিনিই মৃত্যুদাতা, বিচারকর্তা, পাপের শাস্তিদাতা, পুণ্যের পুরস্কারদাতা” ইত্যাদি। বিশ্বে যত গুণবাচক {রহিম (ﺮﺤﻴﻡ), করিম (ﻜﺮﻴﻡ)} ইত্যাদি নাম রয়েছে সবই তাঁর। গুণবাচক সব আখ্যগুলো দ্বারা একমাত্র আল্লাহকেই (ﺍﻟﻠﻪ) বুঝায়। আল্লাহ (ﺍﻟﻠﻪ) ব্যতীত পালনকর্তার অন্য কোনো সত্তা আছে বা থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করে না আরবীয় সাম্প্রদায়িক মনীষী (আলিম) বা তাদের অনুসারীরা।

পালনকর্তা বিষয়ক মরমী ধারণা (The mystical concepts about the guardian)
মরমীগণের পালনকর্তা উপরোক্ত ত্রি-অভিধা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মরমীগণ মনে করেন ‘স্রষ্টা স্রষ্টাই’। পালনকর্তা স্রষ্টা হতে পারেন না এবং স্রষ্টাও পালনকর্তা হতে পারেন না। স্রষ্টা ও পালনকর্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন সত্তা। এ সত্তা অবশ্যই মানবদেহের মধ্যেই অবস্থিত। শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত কোনো সত্তার অস্তিত্ব আত্মদর্শনের বাইরে কোথাও নেই। মরমীগণের সূত্র হলো; যা আছে ব্রহ্মাণ্ডে তা আছে মানবভাণ্ডে। যেমন; পবিত্র কুরানে বলা হয়েছে; “وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِلْمُوقِنِينَ (٢٠) وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ (٢١)” উচ্চারণ; “ওয়া ফিল আরদি আয়াতুল্লিল মুক্বিনিনা (২০) ওয়া ফি আনফুসিকুম আফালা তুবসিরুন।” অর্থ; “ বিশ্বাসীদের জন্য যা আছে ব্র‏হ্মাণ্ডে, তা আছে মানবভাণ্ডে, তোমরা তা জানো না।” (কুরান, যারিয়াত, ২০-২১)। তাঁরা আত্মদর্শনের বিষয়বস্তু, শক্তি ও অবস্থাগুলোর মূল মানবদেহে রেখে ১. বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সৃষ্টি করেন ২. প্রকৃতির উপমান বিষয়বস্তুর সাথে তুলনা করেন ৩. পৌরাণিক চরিত্রায়ন করেন ও ৪. পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণ করেন। তারপর; পৌরাণিক কাহিনী সংকলনকেই পুরাণ বলা হয়।

শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত প্রতিটি সত্তার ন্যূনতম চারটি করে রূপক পরিচিতি রয়েছে। যথা; ১.রূপক পরিচিতি, ২.উপমান পরিচিতি, ৩.চারিত্রিক পরিচিতি এবং ৪.ছদ্মনাম পরিচিতি। মানবদেহের মধ্যে প্রাপ্ত সৃষ্টির অনুঘটক সত্তাকে ভারতবর্ষের মরমীগণ আভিধানিক নাম দিয়েছেন ‘ঈশ্বর’ এবং ছদ্মনাম দিয়েছেন ‘ব্র‏হ্মা’ বা ‘কাঁই’ ও আরববিশ্বের মরমীগণ আভিধানিক নাম দিয়েছেন ‘খালেক’ (ﺨﺎﻟﻖ) এবং ছদ্মনাম দিয়েছেন ‘আল্লাহ’ (ﺍﻠﻠﻪ)। মরমীগণ বা মহাবিজ্ঞানীগণ বলেন; জীবের সৃষ্টিক্রিয়াই সরাসরি অংশগ্রহণকারী স্বায়ম্ভুর অর্থ জীবনীশক্তি, শুক্র, সাঁই, কাঁই, যৌনোত্তেজনা, কানাই ও বলাই ইত্যাদি। এসবই প্রকৃতপক্ষে জীবের অন্তঃস্রষ্টা। আদি স্রষ্টা স্রষ্টাই। আদি স্রষ্টা মরমীগণের আলোচ্য বিষয় নয়। আদিস্রষ্টা নিয়ে পুরাণ কিংবা আধ্যাত্মিক সাহিত্য নির্মাণও করা হয় না। বিষয়টি নিয়ে অত্র গ্রন্থের ৭ম খণ্ডের স্রষ্টা অনুচ্ছেদে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে।

স্রষ্টার সৃষ্টিকৃত অণুজীব বা ক্ষুদ্রজীব প্রকৃতিতে বসবাসের উপযোগী হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যিনি বা যে সত্তা জরায়ুতে ভ্রূণ বা সন্তান লালনপালন করেন তাকেই পালনকর্তা বলে। এ পালনকর্তা উদ্ভিদকুলের ফুলের গর্ভাশয়ে মিষ্ট রস রূপে অবস্থান করেন। মৌমাছি সুকৌশলে তা তুলে এনে চাকে সঞ্চিত করলে সে পালনকর্তাকেই আমরা মধু বলি। এটা ন্যূনাধিক সব ফুলের মধ্যেই অবস্থিত। এ সুমিষ্টরস ব্যতীত কোনো ফুলেরই পরাগায়ন সম্ভব নয়। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত- ১.টক ২.ঝাল ৩.তিক্ত ৪.মিষ্ট ৫.লবণ ও ৬.কষা; এ ষড়স্বাদের রসের মধ্যে একমাত্র মিষ্টরস ব্যতীত অবশিষ্ট; এ পঞ্চস্বাদের রসের মধ্যে জীবের ভ্রূণ সৃষ্টি হতে পারে না। জীবের ভ্রূণ সৃষ্টি হওয়ার পর জঠর হতে স্বাভাবিক পরিবেশে প্রকাশিত/ ভূমিষ্ঠ/ প্রসূত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লালনপালনে নিয়োজিত দেবতাই মরমীগণের পালনকর্তা। মানুষের ক্ষেত্রে মানুষের জরায়ুর মধ্যে প্রায় দশমাস দশ দিন (৩১০ দিন) যে দেবতা বা সত্তা সন্তান লালনপালন করেন তিনিই আদি-পালনকর্তা। পিতা-মাতা হলো; অন্তপালনকর্তা। মরমীগণের পালনকর্তার প্রকৃত বাস্তবতা যদি নাই থাকবে তবে কেন তাঁরা এত কালি ব্যয় করে এত পৃষ্ঠা কাগজ নষ্ট করবেন? হ্যাঁ মরমীগণের পালনকর্তার অস্তিত্ব অবশ্যই রয়েছে। তা হলো জীবের জরায়ুতে প্রাপ্ত সুমিষ্টরস। যিনি জীবের ভ্রূণ লালনপালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে অবতারিত হন। দ্বিপস্থ জীবের নর-নারী মিলনের ফলে জরায়ুতে যে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়, তিনি এসে তা লালনপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যথাসময় লালনপালনের পর গর্ভ হতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলেই তার দায়িত্ব শেষ হয়।

মানুষের ক্ষেত্রে জরায়ু হতে তিনটি ধারা প্রবাহিত হয়। প্রথম ধারাটি হলো রক্তিম। এটি;কে ঋতুস্রাব বলে- যা প্রকৃতির নিয়মে প্রতি মাসেই যথাযথভাবে প্রবাহিত হয়। এটা অসার এবং দুষিত রক্তধারা। দ্বিতীয় ধারাটি হলো সাদা। এটি;কে অমৃতসুধা বলে। এছাড়াও; একে সাঁই, বিষ্ণু, বুদ্ধ, ঈশ্বর, বিশ্বকর্মা ও লালন ইত্যাদি বলা হয়- যা মানবসন্তান লালনপালনের জন্য জরায়ুতে যথা সময়ে অবতারিত হয়। সাধকগণ সাধনবলে তাঁর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভ করে সাঁইজি, বৈষ্ণব ও সিদ্ধার্থ ইত্যাদি উপাধিলাভ করেন। এটা সুস্বাদু ও সুপেয় সুভ্রজল। আরবীয় অলি আব্দালগণ ফুরাত (ﻔﺭﺍﺖ) বলে, ফার্সি দরবেশগণ আবহায়াত (ﺁﺐﺤﻴﺎﺖ) বলে, সংস্কৃত সাধুগণ সোম বলে, বাঙালী সাধুগণ অমৃতসুধা বলে, পালি ভিক্ষুগণ শীল বলে এবং লালন সাঁইজি মীন বলে এঁর নামকরণ করেছেন। তৃতীয় ধারাটি হলো মধু- যা অত্র গ্রন্থের সৃষ্টিকর্তা অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

মানুষের ক্ষেত্রে পালনকর্তাকে Cerebro spinal fluid বা মস্তিস্ক মেরুজল বলে। রক্ত যখন মস্তিষ্কে যায়, তখন হৃদপিণ্ডের প্রথম ও দ্বিতীয় ভেন্ট্রীলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেখানে রক্ত থেকে মস্তিষ্ক মেরুজল টেনে বের করা হয়। একেই বলে প্রধান জীবনরস বা জীবনজল, nectar (vital life juice) । সাধক ও যোগিগণ একে অমৃতসুধা বলেন। বর্ণিত এ অমৃতরস মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয় এবং মেরুদণ্ডের মধ্যস্থিত বৈয়াম্বুর মাধ্যমে প্রোটেস্ট গ্রন্থি পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং নিউরণ মোটরকে সক্রিয় রাখে। প্রতি ১০০ মিলিলিটার অমৃতসুধার মধ্যে থাকে; প্রোটিন ১৫-৪৫ মিলিগ্রাম, গ্লুকোজ ৪০-৫০ মিলিগ্রাম, ক্লোরাইড ৭২০-৭৫০ মিলিগ্রাম, কোষ ০.৫ মিলিগ্রাম + লসিকা ইত্যাদি। মানবদেহে প্রতি সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় ১২৫ মিলি অমৃতরস উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ; প্রতিদিন প্রায় ৪৪৫ মিলি মস্তিষ্ক মেরুজল মানবদেহে সৃষ্টি হয়- যার থেকে ২০০ হতে ২৫০ মিলি শর্করা সৃষ্টি হয়ে শরীরের কোষগুলোর প্রয়োজন মেটায়। এ মস্তিষ্ক মেরুজল কখনই রক্তের সঙ্গে মিশে না। অনেক পূর্বে যোগী, বিবাগী বা সাধু সন্ন্যাসীগণ মানবদেহে এ রসের সন্ধানলাভ করেন। অতঃপর; একটি বিশেষ পদ্ধতির সাহায্যে এটা আহরণ করার কৌশল যোগিরাই আবিষ্কার করেন। তারা এ মেরুজল পান করতে সক্ষম হন। এ ক্রিয়াকে অমৃতপান বলে। এ অমৃতপান করলে ক্ষুধা ও পিপাসা অনেকটা হ্রাস পায়। যোগী বা সাধকগণ এ অমৃতসুধা পান করে অত্যন্ত অল্প খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে সুস্থ দিব্য জীবনযাপন করতেন (আপনার স্বাস্থ্য আপনার হাতে)

এ মস্তিষ্ক মেরুজলকেই মরমীগণ শ্বরবিজ্ঞানে; সাঁই বা বিষ্ণু বলে থাকেন। সাঁই বা বিষ্ণু প্রতিটি দ্বিপস্থজীবের মাতৃগর্ভে অবস্থান করে সন্তান ভূমিষ্ঠ বা প্রসব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লালনপালন করেন বলেই তাঁকে পালনকর্তা বা লালনপালনকর্তা বলা হয়। পরিশেষে বলা যায় আদি-লালনপালনকর্তাকে লালনকর্তা, পালনকর্তা বা সংক্ষেপে লালন বলা হয়। পালনকর্তার বাংলা ছদ্মনাম হলো ‘সাঁই’। জীবের লালনপালনকর্তাকেই বাংলাভাষায় রূপকভাবে ‘সাঁই’ ইংরেজি ভাষায় রূপকভাবে God এবং আরবিভাষায় রূপকভাবে রব (ﺮﺐ) বা রাসুল (ﺮﺴﻮﻝ) বা মুর্শিদ (ﻤﺮﺷﺪ) এবং ফার্সিভাসায় খোদা (ﺨﺪﺍ) বলা হয়। নিচে সাঁই পরিভাষাটির গঠন ও তাৎপর্য তুলে ধরা হলো।

সাঁই পরিভাষাটির উৎপত্তি-মূল বিশ্লেষণ (The derivation-root analysis of the guardian terminology)
সাদা বিণ শুভ্র, শ্বেত, অকুটিল, আড়ম্বরহীন, অলঙ্কারহীন, শান্ত, ভদ্র, নম্র বি শ্বেতবর্ণ, সহজ (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

ঈশ্বর (বাপৌছ)বি সৃজক, স্রষ্টা, সৃষ্টিকর্তা বিণ শ্রেষ্ঠ, প্রধান, গুরুত্বপূর্ণ (ভাঅ) বিধাতা, অধিপতি, হৃদয়েশ (প্র) সনাতনীদের পবিত্রস্থান বা মৃতের নামের পূর্বে ব্যবহার্য মহিমাজ্ঞাপক  ‘ ঁ ’  চিহ্ন, God, Lord (ব্য্য) ইষ্ট (আত্মীয়) হতে ঈশ্বর পরিভাষাটির উৎপত্তি। মানবের আদি-লালনপালনকর্তা ‘সাঁই’ই মাতৃগর্ভে সন্তান লালনপালন করেন। এজন্য; তার চেয়ে নিকটতম আত্মীয় বা ইষ্ট আর কেউই হতে পারেন না। অত্যন্ত আপন বা অত্যন্ত ইষ্ট হতে ঈশ্বর পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে (পরি) সাঁই ও কাঁই কিংবা বিষ্ণু ও ব্রহ্মাকে একত্রে ঈশ্বর বলা হয়। তবে; সাধারণত; ঈশ্বর বলতে সাঁই বা বিষ্ণুকেই বুঝায়। সংস্কৃত ঈশ্বর পরিভাষাটির দ্বারা বাংলাভাষার সাঁই ও কাঁই উভয় উপাস্যই বুঝায়। এজন্য; ঈশ্বরকে সাঁই ও কাঁই উভয় রূপেই ভজন-পুজন করা যায়। মহা কল্যাণকর পরম কাম্য উপাস্যকে ঈশ্বর বলা হয়। যেমন; সাঁই। মানবদেহে প্রাপ্ত শুভ্র ও কালোবর্ণের এ জীবজল দুটিকে একত্রে ঈশ্বর বলা হয় (শ্ববি) সাঁই, কাঁই, লালন, প্রভু, পতি, স্বামী, গুরু, গোঁসাই (ইদে) রাসুল (ﺮﺴﻮﻝ) ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) (বাদে) সাঁই ও কাঁই (ইংপ) God I Lord (দেপ্র) এটি; বাংলা বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীপালনকর্তা; পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . ভারতীয় পুরাণ মতে; জীবের সৃষ্টিকর্তাকে ব্রহ্মা বা ঈশ্বর বলা হয় . মানবদেহে প্রাপ্ত শুভ্র ও কালোবর্ণের এ জীবজল দুটিকে একত্রে ঈশ্বর বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা Jস্ত্রী ঈশ্বরী {বাং.ইষ্টি+ বাং.বর> ইষ্টর>}

সাদা + ঈশ্বর = সাঈ (উভয় শব্দের প্রথম বর্ণ গ্রহণ করে)সাঈ পরিভাষাটির দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটির দীর্ঘস্বর পড়তে কষ্ট হয়। এজন্য; পড়ার সুবিধার্থে দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটিকে হ্রস্বই (ই) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে এবং সে পরিবর্তনের চিহ্নস্বরূপ একটি চন্দ্রবিন্দু ‘ ঁ ’ গ্রহণ করে- ‘সাঈ’ পরিভাষাটি হতে ‘সাঁই’ পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে।

সাঁই (বাপৌরূ)বি পালনকর্তা, ঈশ্বর, বুদ্ধ, পতি, স্বামী, God, ‘رسول’ (রাসুল) (প্র) বাংলা শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত বাঙালীদের পালনকর্তা বিশেষ (পরি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (শ্ববি) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইপৌচা) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীপালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও বাঙালী পৌরাণিক পালনকর্তা দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; সারা জগতের পালনকর্তাকে বাংলায় প্রভু বা ‘সাঁই বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে বাংলায় পালনকর্তা বা রূপকার্থে ‘সাঁই বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {বাং.সাদা+ বাং.ঈশ্বর> (সা+ঈ)> সাঈ>}

পরবর্তীকালে সাঁই পরিভাষা হতেই সাঁইজি পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। বাংলা সাঁই এবং তুর্কি জি (ﺠﻰ)’ পরিভাষাদ্বয় একত্রিত করে (সাঁই+জি) হতে সাঁইজি পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে।

সাঁইজি (বাপৌছ)বি প্রাণনাথ, প্রাণপতি, প্রাণস্বামী, প্রাণেশ্বর, বিশ্বনাথ, বিশ্বপতি বিণ বৈষ্ণব, সাঁইবিহারী, সাঁইচারী (পরি) জ্ঞানের নৈরাকারস্তর এবং রসাশ্রয় ও রূপাশ্রয় হতে এ সাঁইজি সম্প্রদায়ের উৎপত্তি (প্র). সাঁইদর্শনকারী সাধক সাধিকার উপাধি বিশেষ. শ্বরবিজ্ঞানের আউল, বাউল, নাড়া ও সাঁইজি- এ চতুর্সাধন পথের সর্বশেষ পথ বিশেষ. সাঁই বা লালনপালনকর্তার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভকারী (ইংপ) Godship (ইদে) ‘إلهية’ (ইলহিয়া), নায়েবেরাসুল (ﻧﺎﺌﺐ ﺮﺴﻭﻞ) {বাং.সাঁই+.জি}
জি [ﺠﻰ] অব্য নামের পরে ব্যবহৃত সম্বোধনসূচক শব্দ (নানাজি) {তু}

আধ্যাত্মিকবিদ্যা পরিচিতি গ্রন্থের সাধনের চতুর্পথ অনুচ্ছেদের ‘সাঁইজি’ অধ্যায়ে এর আলোচনা করা হয়েছে।

অমৃতজলের কৌরানিক প্রমাণ (The triadic evidence of nectar-water)
“وَمَا يَسْتَوِي الْبَحْرَانِ هَذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَائِغٌ شَرَابُهُ وَهَذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَمِنْ كُلٍّ تَأْكُلُونَ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُونَ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ فِيهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ” অর্থ; “দু’সাগর পরস্পর তুল্য হয় না। একটা জল সুমধুর, সুস্বাদু ও তৃপ্তিকর এবং অন্যটা লবণাক্ত ও তিক্ত। প্রত্যেক সাগর হতে তোমরা সদ্যমাংস ভক্ষণ করো এবং অলঙ্কার বের করে তা পরিধান করে থাকো। তুমি তারমধ্যে; বারি বিদীর্ণকারী নৌকা সব দেখতে পাচ্ছ, তাতে তোমরা তার প্রাসাদে জীবিকা অন্বেষণ করো। হয়তো তোমরা কৃতজ্ঞ হবে” (কুরআন, ফাতির-১২)। আলোচ্য দুটি সাগরের অস্তিত্ব মানব দেহের বাইরে কোথায় যে নেই তা শক্ত করেই বলা যায়। দেহবিশ্ব ব্যতীত বহিঃবিশ্বে এমন কোনো সাগর নেই যে; একই সাগরে সুমধুর ও লোনা জলের রয়েছে। একমাত্র মানব দেহের মধ্যে মিষ্ট, তিক্ত, লবণ, কষা, টক ও ঝাল এ ষড়স্বাদের জলের অস্তিত্ব রয়েছে। তাই; এটা সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় যে; পবিত্র কুরানের উপরোক্ত বাণীটি মানব দেহের মিষ্ট ও লোনা জলের প্রতি ইঙ্গিত করেই নির্মাণ করা হয়েছে। আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৫ম খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!