৫৭. বর্তমান জন্ম

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

উপমান পরিভাষা

চারিত্রিক পরিভাষা

ছদ্মনাম পরিভাষা

৫৭. বর্তমান জন্ম
Subsistence (সাবসিস্টান্স)/ ‘عيش’ (আইয়্যিশা)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং বর্তমান জন্ম পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ইহকাল। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ইহধাম এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ইহলোক। এটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
বর্তমান জন্ম (বাপৌমূ)বি জীবিতকাল, subsistence, ‘عيش’ (আইয়্যিশা), present birth, ‘ﻤﻴﻼﺪ الحالي’ (মিলাদাল হালিউ) (শ্ববি) এপার, ইহকাল, ইহজন্ম (ব্য্য) পিতা-মাতার সন্তান রূপে বর্তমান জন্মগ্রহণ (ইপ) হাশর (.ﺤﺸﺭ) (ইংপ) regeneration (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবর্তমানজন্ম পরিবার প্রধান ও একটি বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. দেহ ও আত্মাসহ বেঁচে থাকাকেই বাংলায় ‘বর্তমান জন্ম বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মানুষের প্রত্যেক জন্মকেই রূপকার্থে ‘বর্তমান জন্ম বলা হয় (বাপৌছ) ইহলোক (বাপৌউ) ইহধাম (বাপৌরূ) ইহকাল (বাপৌমূ) বর্তমান জন্ম {বাং. বর্তমান + বাং. জন্ম}

বর্তমান জন্মের সংজ্ঞা (Definition of subsistence)
দেহ ও আত্মাসহ বর্তমান বেঁচে থাকাকেই বর্তমান জন্ম বলে।

বর্তমান জন্মের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of subsistence)
যার যার প্রত্যেক জন্মকেই বর্তমান জন্ম বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

বর্তমান জন্ম ইহকাল ইহধাম ইহলোক

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
বর্তমানজন্মের আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; বর্তমান জন্ম।
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; ইহকাল।
বাঙালী পৌরাণিক উপমান;    ইহধাম।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; ০।
বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম; ইহলোক, ইহজগৎ, ইহসংসার, ইহজন্ম, ইহজীবন, ইহধাম, এধার, এপার, এপাশ, এপিঠ, এবার, এবারকার, এবে, এমুড়া ও জীবিতকাল।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

৫৭. বর্তমান জন্ম Subsistence  (সাবসিসটানস) ‘عيش’ (আইয়্যিশা)
৫৭/০. মানবকর্ম Accomplishment (একামপ্লিশমেন্ট) ‘إنجاز’ (ইনজাঝ)
৫৭/১. ইহকাল Armageddon (আর্মাগেডান) ‘هرمجدون’ (হারামাজাদুন)
৫৭/২. ইহধাম Lifespan (লাইফস্প্যান) ‘عمرية’ (আমরিয়্যা)
৫৭/৩. ইহলোক Herein (হিয়ারিন) ‘هنا’ (হানা)

বর্তমান জন্মের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of subsistence)
১.   “অনন্তরূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই, মানবের চেয়ে উত্তম কিছু নাই, দেব-দেবতাগণ করে আরাধন, জনম নিতে এ মানবে।” (পবিত্র লালন- ২২৭/২)(মুখ; এমন মানবজনম আর কী হবে, মন যা চাও ত্বরায় করো এ ভবে।”)
২.   “আর কী হবে এমন জনম বসবে সাধুর মেলে, হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়, ঘিরে এলো কালে।” (পবিত্র লালন- ১৭১/১)
৩.   “কত ভাগ্যের ফলে না জানি, মনরে পেয়েছ এ মানবতরণী, বেয়ে যাও ত্বরায়, তরী সু-ধারায়, যেন ভরা না ডুবে।” (পবিত্র লালন- ২২৭/৩)(মুখ; এমন মানবজনম আর কী হবে, মন যা চাও ত্বরায় করো এ ভবে।”)
৪.   “কয়বার যেন ঘুরিফিরি, পেলে এ মানবপুরী, এবার যেন অলস করি, সে নাম ভুলো না।” (পবিত্র লালন- ৯৮১/৩)(মুখ; হক্ব নাম বলো রসনা, যে নাম স্মরণেরে মন, যাবে যম যাতনা”)
৫.   “দেব-দেবতার বাসনা হয়, মানবকুলে জনম নিতে চায়, লালন বলে গোলক-ধাঁধায়, মানুষের করণ করলি না।” (পবিত্র লালন- ৪৯০/৪)(মুখ; তিন পোড়াতে খাঁটি হলি না, শেষকালে মন তোর কপালে, কী আছে তাও নাই জানা”)
৬.   “নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে; সাকার আকার হলো সে, যে দিব্যজ্ঞানী হয়- সে জানতে পায়, কলিযুগে হয় মানব অবতার।” (পবিত্র লালন- ৯২৬/৩)(মুখ; সর্ব সাধন সিদ্ধি হয় তার, (ভবে) মানুষগুরু নিষ্ঠা যার”)
৭.   “লালন সাঁইজি বলেরে মন, হলো না মোর সাধন-ভজন, ভুলে সিরাজ সাঁইজির চরণ, মানবজনম বৃথা গেল।” (পবিত্র লালন- ৯৯৪/৪)(মুখ; হায়রে বিধি ওরে বিধি, তোর মনে কী এটাই ছিল, সমুদ্রের কিনারে থেকে, জল বিনা চাতকী মরল”)

বর্তমান জন্মের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of subsistence)
১.   “অহল্যা পাষাণী ছিল, তোমার চরণধুলায় মানবী হলো, লালন পথে পড়ে রইল, যা করেন সাঁই দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬/৪)
২.   “অহল্যা পাষাণী ছিল, সেও তো মানবী হলো, তোমার চরণ ধূলে, আমি তোমার কেউ নয় গো, তাই কী মনে ভাবলে।” (পবিত্র লালন- ৪১৭/৩)
৩.   “আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, সাঁইদর্শন সে পেয়েছে, মানবজনম সার্থক হয়েছে, বলন কয় সে রতীধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৩)
৪.   “এ জনম গেলরে অসার ভেবে, পেয়েছ মানবজনম, হেন দুর্লভজনম আর কী হবে।” (পবিত্র লালন- ২১৫/১)
৫.   “এমন জনম হবে কী আর, দেবের দুর্লভ-জনম, এমন জনমে এসে আবার, করলি কিরে।” (পবিত্র লালন- ৩৩২/২)
৬.   “ও রাই তোর জন্য গোলক ছেড়েছি, সব ছেড়ে মানবরূপ ধরেছি, আর কী আছেরে বাকি, এ ভাব করে স্মরণ- তুমি দাও চরণ, তাপিত মন শীতল করি।” (পবিত্র লালন- ১৬৬/২)
৭.   “কে তোর মালিক, চিনলি না তারে, এমন মানবজনম, আর কী হবেরে।” (পবিত্র লালন- ৩৩২/১)
৮.   “গুরুজি দিয়েছে বাক্য, আমার মনে হয় না ঐক্য, তাই বুঝি মানবজনম, আমার বৃথা যায়।” (পবিত্র লালন- ৪১০/২)
৯.   “গুরু যদি জানায় তারে, তবে মরা জানতে পারে, শমনজ্বালা যাবে দূরে, মানবজনম সফল নিশ্চয়।” (পবিত্র লালন- ৭৭১/৩)
১০. “গুরুর চরণ অমূল্য-ধন, বাঁধ ভক্তিরসে, মানবজীবন সফল হয়, গুরুর উপদেশে।” (পবিত্র লালন- ৪০৭/১)
১১.  “গোঁসাই হয় জ্ঞানের গুরু, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের তরু, গুরুহীন জ্ঞান দুরুদুরু, বৃথায় মানবজনম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬১)
১২. “তিনরস সাড়ে তিন রতি, তিন বিভাগে করে স্থিতি, গুরুর ঠাঁই জেনে পাতি, শাসন করে নিরালা, তার মানবজনম সফল হয়, এড়ায় শমনজ্বালা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৫/৩)
১৩. দয়াল তুমি থাক নিকটে দেখি সহস্র যোজন ফাঁকে, আমার এ অন্ধ চোখে, না পেলে তোমার দর্শন মিছে এ মানবজনম, কী হবে অন্ধ পূজাতে, হীরা মাণিক কিছুই চাই না করি শুধু দর্শন আশ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭)
১৪. “নামে বিষ্ণু ব্রহ্মা সাঁই, একখানে রহে তিনজনাই, কাঁইজি বলন ভাবিয়া জানায়, মানবের ঊর্ধ্বে নয় তারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)
১৫. “ভেবে কয় কাঁইজি বলন, হলো না রস অন্বেষণ, বৃথা গেল মানবজনম, এ জনম আর পাবি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৬)
১৬. “মরা পেলে আহার কর জীয়ন্তের কাছে আস না, তাইতো; আমি জন্ম অন্ধ দুঃখদশা ঘুচল না, তোমার শ্রীচরণ বিনা, মানবজনম হয় মিছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭১)
১৭.  “মরার অগে মরে যে জন, অনায়াসে পায় সাঁই দরশন, সার্থক হয় মানবজনম, বসে থাক সে আশাতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১৮. “মানব দলেতে আসার আশায়, দেব-দেবতার বাঞ্ছা সদাই, হেন জনম তোমায়- দিলো দয়াময়, কোন কর্মফলে।” (পবিত্র লালন- ১৭১/২)
১৯. “লালন দরবেশ বলে, মনারে মনা আয় সকালে, এ মানবজনম যায় বিফলে, বসে সঠিক বিধান কর।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/৪)
২০. “সাঁইদর্শন না পেলে, মানবের মুক্তি মিলে না, লালন সাঁইজি বলে দিন থাকতে, গুরু ধরে করো সাধনা।” (পবিত্র লালন- ২১৮/৩)

বর্তমান জন্মের ওপর কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ লালন (Some full Lalon on the subsistence)

আর কী হয় এমন জনম
বসবে সাধুর মেলে,
হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়,
ঘিরে এলো কালে।

মানব দলেতে আসার আশায়,
দেব-দেবতার বাঞ্ছা সদাই,
হেন জনম তোমায়-
দিলো দয়াময়,
কোন কর্মফলে।

কত কত সহস্র যোনি,
ভ্রমণ করে এসেছ শুনি,
মৎস্যকূল ডিম্বকুলে-
তারপরে মানবকুলে 
            এসে কী করলে।

ভুলো না রে মন রসনা,
সুমঝে করো বেচাকেনা,
লালন বলে-
আবার পড়বি গোলে,
এবার ঠকে গেলে।” (পবিত্র লালন- ১৭১)

এমন মানবজনম আর কী হবে,
            মন যা চাও ত্বরায় করো এ ভবে।

অনন্তরূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই,
মানবের চেয়ে উত্তম কিছু নাই,
দেব-দেবতাগণ করে আরাধন,
          জনম নিতে এ মানবে

কত ভাগ্যের ফলে না জানি,
মনরে পেয়েছ এ মানবতরণী,
বেয়ে যাও ত্বরায় তরী সুধারায়,
যেন ভরা না ডুবে।

এ মানুষ হয় মাধুর্য ভজন,
তাইতো; মানুষ রূপ গঠলেন নিরঞ্জন,
ঠকলে এবার না দেখি কিনার,
লালন কয় কাতরভাবে।” (পবিত্র লালন- ২২৭)

বর্তমান জন্মের প্রকারভেদ (Variations of subsistence)
জন্ম চার প্রকার। যথা; ১. পশুকুল জন্ম ২. মানবকুল জন্ম ৩. দেবতাকুল জন্ম ও ৪. গুরুকুল জন্ম।

. পশুকুল জন্ম (Animal lineage)
সব প্রাণীর জন্মকেই পশুকুল জন্ম বলে।

. মানবকুল জন্ম (Man lineage)
গুরুদীক্ষা গ্রহণ করার পর আত্মশুদ্ধি করাকেই মানবকুল জন্ম বলে।

. দেবতাকুল জন্ম (Angel lineage)
মূলক-সত্তার মধ্য হতে যে কোনো একটি সত্তার ছদ্মনাম গ্রহণ করে মহাসাধকগণের দেবতা রূপে আত্মপ্রকাশ করাকে দেবতাকুল জন্ম বলে।

. গুরুকুল জন্ম (Preceptor lineage)
পুনর্জন্মহীন-সংযতইন্দ্রিয় সিদ্ধসাধকদের দিব্যজ্ঞানার্জন, দেবতাগণের গুণাগুণ অর্জন ও দেবতাগণের নামকে ছদ্মনাম রূপে গ্রহণ করাকে গুরুকুল জন্ম বলে।

বর্তমান জন্মের উপকার (Benefits of subsistence)
বর্তমানজন্মই মানবজন্ম সার্থক করার সময়। বর্তমানজন্মে মানবের পালনকর্তা সাঁই ও সৃষ্টিকর্তা কাঁইয়ের দর্শনলাভ না হলে পরবর্তীজন্মে বা জন্মান্তরে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

বর্তমান জন্মের পরিচয় (Identity of subsistence)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবর্তমান জন্ম পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। প্রতিটি জীবের নশ্বর আয়ুষ্কালকে বর্তমানজন্ম বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; অনেক ক্ষেত্রে পশুকুল জন্মকে অসুরকুল জন্ম এবং দেবতাকুল জন্মকে দেবতাকুল জন্মও বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; মানবের পূর্বের পিতারূপ জন্ম এবং পরের সন্তানরূপ জন্মের মধ্যবর্তী বর্তমান আমিরূপ জন্মই বর্তমান জন্ম রূপে খ্যাত। আমার এ জন্মই বর্তমান জন্ম। শ্বরবিজ্ঞানে; বিগত জন্ম ও ভবিষ্যৎ জীবনের চেয়ে বর্তমান জীবনের অধিক মূল্য দেওয়া হয়। বিগত জন্ম আর ফিরে পাওয়া যাবে না। আবার ভবিষ্যৎ জন্মগুলো তো আমার আয়ত্তের মধ্যে থাকবে না। এজন্য; ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর আশাও করা যায় না। এমন চুলচিরা বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- বর্তমান জন্ম ভিন্ন সাধকের সিদ্ধিলাভের কোনো উপায় নেই। এজন্য; সাঁইসাধন ও কাঁইসাধন করে সিদ্ধিলাভ করার জন্য বর্তমান জন্মই একমাত্র উপযুক্ত জন্ম। তাই; বিখ্যাত শ্বরবিজ্ঞানীগণ বর্তমানজন্মকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জন্ম বলে উল্লেখ করে থাকেন।

প্রতিটি বর্তমান জীবনে প্রত্যেক মানুষ মোট চারটি কুল পরিভ্রমণ করে থাকে। যেমন, ১. পশুকুল ২. মানবকুল ৩. দেবতাকুল ও ৪.গুরুকুল। প্রত্যেকে সাধারণভাবে পশুকুলে জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর; জীবনে যদি কখনও আত্মজ্ঞানী পাকা সাধক গুরুর শরণাপন্ন হয়ে তার নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে মনের পশুত্ব বিতাড়িত করে মনুষত্ব অর্জন করতে পারে তবে সে মানবকুল পায়। অন্যথায়; যেমন পশুকুলেই তার জন্ম; তেমনই, পশুকুলেই তার প্রয়াণ হয়। জীবের মানবকুল জীবনের দ্বিতীয় স্তর। মানবকুল পাওয়ার পর যদি কোনো মানব দেবতাগণের কর্মাকর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হন; তবে তিনি দেবতাকুল লাভ করেন। দেবতাগণের কর্মাকর্ম হচ্ছে; অখণ্ড, অটল, অনাহার ও অগ্নি-জল-বাতাসগুলো নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। দেবতাকুললাভ করার পর মানুষরূপী জীব আর জীব থাকে না। বরং উক্ত সাধক দেবতাতে রূপান্তর হয়ে যায়। আবার দেবতারূপ সাধক যদি ঈশ্বরের কর্মাকর্ম সম্পাদন করতে সক্ষম হয় তবে তিনি ঈশ্বরকুললাভ করে থাকেন। ঈশ্বরের কর্মাকর্ম হচ্ছে- সৃষ্টিকুলের ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, জীব হত্যা না করা, সর্বদা সাঁই ও কাঁই দর্শনলাভের সাধনায় ব্রত থাকা, সর্বদা জাতকুলের ঊর্ধ্বে অবস্থান করা, সাধ্যমত সর্ব শ্রেণির জীব ও সর্ব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গদান করা এবং সর্বদা জীবকুলের কল্যাণ-মঙ্গলের চিন্তায় নিমগ্ন থাকা। ঈশ্বরের এসব গুণাবলী অর্জন করে দেবতাকুল প্রাপ্ত সাধক ঈশ্বরকুললাভ করে থাকে। শ্বরবিজ্ঞানে; ঈশ্বরকুলকে গুরুকুলও বলা হয়। অর্থাৎ; গুরুকুল ও ঈশ্বরকুল একই। এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটিই সাধকের সর্বশেষ স্তর। এ স্তর হতেই বিশ্ববিখ্যাত মহামানবের আবির্ভাব হয়। যেমন; বেদব্যস, জারির তাবরী, লোকনাথ, মনমোহন, রাধারমণ, লালন ও বলন।

পরিশেষে বলতে চাই বর্তমানজন্ম পাওয়া মাত্র প্রতিটি মানুষকে মানবকুল পাওয়ার জন্য সচেষ্ট হওয়া একান্ত প্রয়োজন। মানবকুলে পদার্পণ করা সব মানুষের নিজ নিজ আবশ্যকীয় দায়িত্ব। পবিত্র কুরানে এমন বাণী অনেক স্থানেই উচ্চারিত হয়েছে। যেমন,

১.   “ وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَابَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمْ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ” অর্থ; “এরই অন্তিমইচ্ছা করেছেন পৌরুষ (ইব্রাহিম) তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে; হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় কাঁই তোমাদের জন্য এ পথকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মানবকুললাভ না করে কখনও মৃত্যুবরণ করো না।” (কুরান, সুরা- বাক্বারা- ১৩২)। “And this was enjoined by ‘Victorious’ upon his sons and by ‘Younger’, “O my sons! Lord has chosen for you the (true) religion, then die not except in the faith of man lineage.” (Quran, Baqara- 132)

২.   “يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ” অর্থ; “হে বিশ্বাসীরা! কাঁইকে যেমন ভয় করা উচিত; তেমনিভাবে, ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মানবকুললাভ না করে মৃত্যুবরণ করো না।” (কুরান, সুরা- ইমরান- ১০২) “O you who believe! Fear Lord as he should be feared. And die not except in a state of man lineage.” (Quran, Imran- 102)

কুরানের উপরোক্ত বাণীদ্বয় হতে পরিষ্কারভাবেই বুঝা যায় যে; প্রত্যেক জীবকে আত্মশুদ্ধি করেই মানব হতে হয়। আর জীব রূপে জন্মগ্রহণ করে যদি মানবকুল না পায় তবে তার মতো হতভাগা আর কেবা থাকতে পারে জগতে? অন্যদিকে; সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা মনে করে কেবল সাম্প্রদায়িক কর্মাকর্ম করলেই মানুষ হওয়া যায়। একজন পাকা সাধকগুরুর নিকট দীক্ষা নেওয়ার পূর্বে কোনো প্রকারে মানুষ আত্মশুদ্ধি করতে পারে না। পুস্তক-পুস্তিকা পাঠ করে একা একা আত্মশুদ্ধি করা যায় না। যারা গুরুদীক্ষার বিরোধীতা করে থাকেন তারা শুক্র নিয়ন্ত্রণ করবেন কোনো শাস্ত্র দ্বারা? পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তার দর্শনলাভ করবেন সাম্প্রদায়িক কোনো কর্ম দ্বারা? আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ সাধারণের চেয়ে কোটি কোটি গুণ অধিক জ্ঞান রাখেন। সেজন্য; বিতর্ক করতে চেষ্টা করবেন না। আত্মজ্ঞানী, মরমী ও পারম্পরিকদের বিরোধীতা করবেন না। আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!