৭১. মন

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

উপমান পরিভাষা

চারিত্রিক পরিভাষা

ছদ্মনাম পরিভাষা

৭১. মন
Nous (নাওয়াস)/ ‘فؤاد’ (ফুয়াদ)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং মন পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা শিষ্য। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঘোড়া বঙ্কিম। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা টেটন ঠেঁটা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা তস্কর পাখি। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক মূলক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
মন (বাপৌমূ)বি অন্তর, চিত্ত, প্রবৃত্তি, হৃদয়, nous, ‘فؤاد’ (ফুয়াদ) (আল) বুক, বক্ষ (শ্ববি) অরাল, কল্পলোক, নাট্যাচার্য, বক্র, বঙ্কিম, মনাই, মনমাঝি, শিষ্য, দুষ্ট (ফাপ) সিনা (ফা.ﺴﻴﻨﻪ), দিল (ফা.ﺪﻞ) (ইপ) মাল্লা (.ﻤﻼﺡ) (ইংপ) sense, mood (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীমন পরিবার প্রধান ও বাঙালী পৌরাণিক মূলক প্রধান মূলক সত্তা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; জীবের কাজকর্ম পরিচালনাকারী শক্তিকে বাংলায় ‘মন বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, জীবের স্মৃতিভাণ্ডারকে ‘মন বলা হয় (বাপৌছ) তস্কর ও পাখি (বাপৌচা) টেটন ও ঠেঁটা (বাপৌউ) ঘোড়া ও বঙ্কিম (বাপৌরূ) শিষ্য (বাপৌমূ) মন।

মনের সংজ্ঞা (Definition of nous)
শ্বরবিজ্ঞানে; জ্ঞানেন্দ্রিয় দ্বারা আহরিত ইঙ্গিত বা সঙ্কেতের সাহায্যে জীবের যাবতীয় কার্য পরিচালনাকারী ও মানবীয় আচার-ব্যবহারের ধারক বাহক শক্তিকে সত্তাকে মন বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক

রূপক উপমান চারিত্রিক

ছদ্মনাম

মন শিষ্য ঘোড়া ও বঙ্কিম টেটন ও ঠেঁটা তস্কর ও পাখি

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
মনের আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; মন।
বাংলা আভিধানিক প্রতিশব্দ; চিত্ত, বুক, মনা ও মনরায়
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; শিষ্য।
বাঙালী পৌরাণিক উপমান;  ঘোড়া ও বঙ্কিম।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; টেটন ও ঠেঁটা।
বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম; অরাল, আকাশযান, উপমন, কল্পলোক, চেলা, ছাত্র, টেটন, ঠেটা, তস্কর, দাস, ধর্মরাজ্য, নাইয়া, নাবিক, নেয়ে, পরিচর, পরিচারক, পাখি, প্রত্যাদিষ্ট, প্রধানমন্ত্রী, বঙ্ক, বঙ্কিম, বাঙ্গাল, ভক্ত, ভাবনগর, ভৃত্য, মনপবন, মনরায়, মনঘোড়া, মনোজগৎ, মনোতুলসি, মনোরথ, মনরাজ্য, মানবাত্মা, মানস, শিষ্য ও হালি।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা

ইংরেজি

আরবি

৭১. মন Nous (নাওয়াস) ‘فؤاد’ (ফুয়াদ)
৭১/১. শিষ্য Disciple (ডিসিপল) ‘ﺗﺎﺑﻊ’ (তাবিয়া)
৭১/২. ঘোড়া Pony (ফোনি) ‘حِصَان’ (হিসান)
৭১/৩. বঙ্কিম Insidious (ইন্সিডিয়াস) ‘منافقة’ (মুনাফাক্বা)
৭১/৪. টেটন Trickster (ট্রিক্সটার) ‘مخادع’ (মুখাদা)
৭১/৫. ঠেঁটা Impudent (ইম্পিউডেন্ট) ‘ماجن’ (মাজান)
৭১/৬. তস্কর Abductor (আবডাকটার) ‘المبعدة’ (আলমাবাদা)

মনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of nous)
১.   “অবোধ মন যাবি কী করে, সাঁইজির গোপন সে ঘরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫)
২.   “আপন ছেড়ে কারে খুঁজিস মন গিয়ে বৃন্দাবন, পূজাঘর আশ্রম খুঁজে আপন পাবি নাকের যম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪)
৩.   “মন আমার কী ছার গৌরব করছ ভবে, দেখনা রে হাওয়ার খেলা, বন্ধ হতে দের কী হবে।” (পবিত্র লালন- ৭৩১/১)
৪.   “মন আমার গেল জানা, রবে না এ ধন, জীবন ও যৌবন, তবে কেন মন এত বাসনা, একবার সবুরের দেশে, বয় দেখি দম কষে, উঠিস না রে ভেসে, পেয়ে যন্ত্রণা।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/১)
৫.   “মন আর তুমি একজন হলে, অনায়াসে অমূল্য-ধন মিলে, একজনে আরেকজন এলে, হয় মুর্শিদরূপ প্রকাশনা।” (পবিত্র লালন- ৪২২/৩)
৬.   “মন আর তুমি মানুষ দু’জন, এ দু’জনাতেই প্রেমালাপন, কখন সুধার বরিষণ, কখন গরল পিয়ে যন্ত্রণা।” (পবিত্র লালন- ৪২২/২)

মনের প্রকারভেদ (Variations of nous)
মন চার প্রকার। ১.অচেতন মন ২.অবচেতন মন ৩.চেতন মন ও ৪.সচেতন মন।

. অচেতন মন (Unconscious nous)
অচেতন বিণ অজ্ঞান, মূর্খ, সংজ্ঞাহীন, চেতনাহীন, চেতনাশূন্য, জড়, বাহ্য-জ্ঞানহীন, মোহগ্রস্ত (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীর অচেতন, অবচেতন, চেতন ও সচেতন- এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
অচেতন মন বিণ চেতনাহীন মন, চেতনাশূন্য মন, চেতনা উদয় হওয়ার পূর্ববর্তী মন (প্র) এটি; শ্বরবিজ্ঞানের; অচেতন মন, অবচেতন মন, চেতন মন ও সচেতন মন- এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
অচেতন মনের সংজ্ঞা (Definition of unconscious nous)
মানবসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর হতে চন্দ্রচেতনা উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মনকে অচেতন মন বলে।

যার আকার ও আয়তন আছে তাকেই পদার্থ বলে। পদার্থের সৃষ্টি ও ধ্বংস নেই, পদার্থের শুধু রূপান্তর রয়েছে (বিজ্ঞান)। তেমনই; বিশ্বের কোনকিছুরই সৃষ্টি ও ধ্বংস নেই; শুধু রূপান্তর রয়েছে। তেমনই; জীবকুল বা প্রাণীকুলেরও সৃষ্টি ও ধ্বংস নেই কিন্তু রূপান্তর আছে। জীবকুল প্রাপ্ত বয়সে যার যার বীর্যের মধ্যে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। অতঃপর; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে আবার শুক্রাধার ভেদ করে বেরিয়ে আসে। যেমন;  ধান। ধান শুধু তার বীর্যের মধ্যে প্রবেশ করে আবার যথাযথ ভূমিতে বপণ করলে তা হতে অঙ্কুর বেরিয়ে আসে। আবার তাতে অনুরূপ ধানই উৎপন্ন হয়। তেমনই; বিশ্বের প্রতিটি জীবই যার যার বয়স অনুযায়ী অমোঘ প্রকৃতির রূপান্তর চক্রাধীন। মানুষও এক প্রকার জীব। প্রকৃতির এ অমোঘ রূপান্তর চক্রে মানুষও ঘূর্ণায়মান। জন্মগ্রহণের পর প্রাপ্তবয়সে মানুষ আবার শুক্রে প্রবেশ করে। এ শুক্র জরায়ুতে স্থাপন করলে মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে সে আবার মানবসন্তান রূপে বেরিয়ে আসে। শুক্রাকারে জরায়ুতে যায় আবার বেরিয়ে আসে। এটাই হলো; অমোঘ প্রকৃতির চির রূপান্তর জীবচক্র। প্রকৃতির রূপান্তর চক্রাধীন এ মানুষ শুক্র রূপে জরায়ুতে প্রবেশ করার পর কিছু সময়ের ব্যবধানে মানবসন্তান রূপে ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তার মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ অচেতন থাকে। অর্থাৎ; গর্ভস্থভ্রূণ বা সন্তানের মন সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় অবস্থান করে। এজন্য; জীবের গর্ভাবস্থার মনকে অচেতন মন বলে।

. অবচেতন মন (Subconscious nous)
অবচেতন বিণ অর্ধ-চেতন, অর্ধ-সজ্ঞান, subconscious (প্র) এটি; ১. অচেতন ২. অবচেতন ৩. চেতন ও ৪. সচেতন; এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (পরি) কৈশোরকাল, প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রে জন্ম হতে চন্দ্রচেতনা বা কামোদ্দীপনা উদয় হওয়া পর্যন্ত সময়, মানুষের ক্ষেত্রে জন্ম হতে গড়ে ১৪ বছর সময়।
অবচেতন মন বিণ সম্পূর্ণ চেতনাহীন বা সম্পূর্ণ চেতনাবান নয় এমন মন, অচেতনও নয় আবার পরিপূর্ণ চেতনাও উদ্ভব হয় নি এমন মন, চন্দ্রচেতনা বা যৌনচেতনার উদয় হয় নি এমন মন (প্র) এটি; শ্বরবিজ্ঞানের; ১.অচেতন মন, ২.অবচেতন মন, ৩.চেতন মন ও ৪.সচেতন মন- এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
অবচেতন মনের সংজ্ঞা (Definition of subconscious nous)
১.   অচেতন নয় আবার চেতনও নয় এমন মনকেই অবচেতন মন বলে।
২.   মানবসন্তান জন্মগ্রহণ করার পর তার চন্দ্রচেতনা (যৌনচেতনা) উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মনকে অবচেতন মন বলে।

মানবসন্তান জন্মগ্রহণের পর দেহ, আত্মা ও মন প্রকৃতিগতভাবেই অর্জন করে থাকে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাসিকা যোগে বাতাসের মাধ্যমে অম্লজান সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনের সৃষ্টি হয়। শৈশবকালে জীবের মনটি একেবারে শিশুই থাকে। শৈশবকাল অতিক্রম করে কৈশোরকালে পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গেই জীবের মধ্যে চন্দ্রচেতনার অনুভব হতে থাকে। এ সময় জীবের মন অচেতনও থাকে না। আবার পরিপূর্ণ চেতনাও প্রাপ্ত হয় না। জীব মনের এ অবস্থাকেই মহাবিজ্ঞানে অবচেতন মন বলে ধরা হয়। সৃষ্টি জগতের সর্বজীবের ক্ষেত্রে একমাত্র চন্দ্রচেতন হওয়াকেই জীবের যৌবনোন্মেষ হওয়া বা চেতন হওয়া বলে। চন্দ্রচেতন হওয়াকে জীবের চেতন হওয়া বলার কারণ হলো; পূর্বজন্মে জীবের যে কর্মের কারণে তাকে পরজন্মে আবার উদয় হতে হয়েছে- সে কর্মের চেতনা উদয় হওয়া। একমাত্র এ চন্দ্রচেতনা অনুভূতি ব্যতীত অন্যান্য বিষয়বস্তু; যেমন ছিল তেমনই রয়েছে। যেমন;  হাত, পা, অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গগুলো, আকাশ, বাতাস, সূর্য-চন্দ্র সবকিছু; যেমন ছিল তেমনই রয়েছে। অমোঘ প্রকৃতির এ চির রূপান্তর চক্রাধীন জীবের শুধু চন্দ্রচেতনাটিই সাময়িক বন্ধ থাকে আবার সক্রিয় হয়। জীবের গর্ভকাল হতে শৈশবকাল পর্যন্ত চন্দ্রচেতনা থাকে না। এছাড়াও; বিশ্বের চলমান অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যে অন্য কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। বিশ্বের সবকিছুই চলমান। তেমনই; সৃষ্টিগুলোও চলমান হওয়ার কারণে; কোনো সৃষ্টির কোনো শক্তির পরিবর্তন হয় না। একমাত্র জীবের চন্দ্রচেতনা শক্তিটি সাময়িক অচেতন ও অবচেতন হয় অর্থাৎ; জীবের চন্দ্রচেতনা শক্তিটি সাময়িক বন্ধ থাকে। সারা সৃষ্টিজগতে শুধু এ পরিবর্তন টুকুই লক্ষ্য করা যায়। তা’ছাড়া সৃষ্টি জগতের সবকিছু যথানিয়মেই চলমান রয়েছে।

. চেতন মন (Conscious nous)
চেতন বিণ জাগ্রত, জীবন্ত, সজীব, জ্ঞানযুক্ত, জ্ঞানবান, প্রাণবান, সংজ্ঞাবিশিষ্ট বি . চেতনা, সংজ্ঞা, জাগ্রত অবস্থা . আত্মা, প্রাণ, জীবন, সত্ত্বা (প্র) এটি; ১. অচেতন ২. অবচেতন ৩. চেতন ও ৪. সচেতন; এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
চেতন মন বিণ চেতনাযুক্ত মন, বোধ ও বুদ্ধির উদয় হয়েছে এমন মন, চন্দ্রচেতনা বা যৌন চেতনার উদয় হয়েছে এমন মন (প্র) এটি; শ্বরবিজ্ঞানের; ১. অচেতন মন ২. অবচেতন মন ৩. চেতন মন ও ৪. সচেতন মন; এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
চেতন মনের সংজ্ঞা (Definition of conscious nous)
জীবের চন্দ্রচেতনাযুক্ত মনকে চেতন মন বলে।

জীবের যৌবনকালকেই সাধারণত; চেতন মানসিককাল ধরা হয়। জীবের মনে দুই প্রকার চেতনার উদয় হয়। সেজন্য; মনকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যথা; ১. চন্দ্রচেতনগতভাবে চেতন মন ও ২. মানসিকভাবে চেতন মন।

চন্দ্র (বাপৌউ)বি চাঁদ, শশী, চন্দমা, চন্দন, নিশাকর, নিশাকান্ত, শশধর, হিমাংশু, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, বিধূ, মৃগাংক, শ্রেষ্ঠ, বাঙালী হিন্দুরে উপাধি বিশেষ, পৃথিবীর একটি উপগ্রহ- যা পৃথিবীকে মাসে একবার প্রদক্ষিণ করে বিণ চিত্তরঞ্জক, আনন্দদায়ক, আহ্লাদজনক, চন্দ্রের মতো সুন্দর (প্র) শ্বরবিজ্ঞানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর পরে ‘চন্দ্র, চাঁদ, পদ্ম, ফুল ও বাবু’ পরিভাষা প্রত্যয়ের মতো ব্যবহৃত হয় (গুরু-চাঁদ, গুরু-চন্দ্র)। এটি; গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষার পরে বসে কিন্তু কখনও অর্থের পরিবর্তন ঘটায় না (শ্ববি) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইপৌচা) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীপালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ও বাঙালী পৌরাণিক পালনকর্তা দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদকে ‘চন্দ্র বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে বাংলায় পালনকর্তা বা রূপকার্থে ‘চন্দ্র বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

. চন্দ্রচেতনাগতভাবে চেতন মন (Sexually conscious nous)
চন্দ্রচেতনা (বাপৌরূ)বি কামোদ্দীপনা, প্রেমাগুন, যৌবনজ্বালা, sexuality, ‘جنسانية’ (জেনাসানিয়া) (রূপ্রশ) আগুন, ইরম্মদ, হোমানল (ইপ) নার (.ﻧﺎﺮ), নারইজাহান্নাম (.ﻧﺎﺮ ﺠﻬﻧﻢ) (ইপৌচা) আযরাইল (.ﻋﺫﺭ ﺍﺌﻴﻞ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীচন্দ্রচেতনা পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) শ্বরবিজ্ঞানে; জীবের কামোত্তেজনাকে বাংলায় যৌনচেতনা বা রূপকার্থে ‘চন্দ্রচেতনা বলা হয় (বাপৌছ) নরান্তক ও রৌরব (বাপৌচা) যম ও শিখা (বাপৌউ) জ্বর ও ঝড় (বাপৌরূ) আগুন (বাপৌমূ) চন্দ্রচেতনা {বাং.চন্দ্র (যৌনোত্তেজনা) + বাং.চেতনা}

পূর্ব জন্মের চন্দ্রচেতনাবৎ পুনঃচন্দ্রচেতন মন অর্থাৎ; জীবের পিতা-মাতা রূপে অবস্থান কালে, জীবের মধ্যে চন্দ্রচেতনার যে অবস্থা ছিল পরজন্মেও গর্ভাবস্থা শৈশব ও কৈশোরকাল অতিক্রম করে যৌবনকালে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই জীবের চন্দ্রচেতনা ঠিক পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। পরিপূর্ণ যৌবনকালে একটি জীবের মধ্যে ব্যক্তিত্বের যে যে উপাদানাদি বিদ্যমান পূর্ব জন্মেও জীবের মধ্যে ঠিক সে সে উপাদানই বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ; যৌবনকালের পিতা-মাতা এবং যৌবনকালের ছেলে-মেয়ের মধ্যে ব্যক্তিত্বের উপাদানের বিন্দুমাত্র পার্থক্য থাকে না। এ হতেই বুঝা যায় জীবের মন সাময়িক অচেতন ও অবচেতন হলেও যৌবনকালে পুনরায় পূর্বজন্মবৎ পরিপূর্ণ চেতনা প্রাপ্ত হয়।

. মানসিকভাবে চেতন মন (Mentally conscious nous)
মানসিক বিণ মানত, কল্পনাপ্রসূত, কল্পনাজাত, মন সংক্রান্ত।

যেমন; পূর্বজন্মে পিতা-মাতার মানসপটে রিপু, রুদ্র ও দশাগুলোর উপস্থিতি ছিল; তেমনই; পরজন্মের যৌবনকালের সন্তানের মানসপটে অবিকল রিপু, রুদ্র ও দশাগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ; প্রাপ্তবয়স্ক পিতা-মাতা এবং প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের মধ্যে মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন। উপরোক্ত আলোচনা হতে বুঝা যায় যে প্রকৃতির অমোঘ রূপান্তর চক্রাধীন মন গর্ভাবস্থায় অচেতন, শৈশব ও কৈশোরকালে অবচেতন থাকলেও যৌবনকালে পুনরায় পরিপূর্ণ চেতনা ফিরে পায়।

. সচেতন মন (Superconscious nous)
সচেতন বিণ জীবন্ত, জিয়ান, সতর্ক, সজাগ, সজ্ঞান, প্রাণবান, চেতনা বিশিষ্ট বিপ অচেতন (প্র) এটি; ১. অচেতন ২. অবচেতন ৩. চেতন ও ৪. সচেতন; এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
সচেতন মন বিণ চেতনাযুক্ত মন, বোধ ও বুদ্ধির উদয় হয়েছে এমন মন, আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা পারম্পরিক-জ্ঞান দ্বারা আত্মশুদ্ধি করেছে এমন মন (প্র) এটি; শ্বরবিজ্ঞানের; ১. অচেতন মন ২. অবচেতন মন ৩. চেতন মন ও ৪. সচেতন মন; এ চার প্রকার মনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতন মনের সংজ্ঞা (Definition of superconscious nous)
যে মনের কার্যকলাপ জ্ঞানের বিচার বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত হয় তাকে সচেতন মন বলে।

মনের পরিচয় (Identity of nous)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীমন পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। জীবের কাজকর্ম পরিচালনাকারী শক্তিকে মন বলা হয় কিংবা মানবীয় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সত্তাকে মানবাত্মা বলে। মানবাত্মা হলো জীবের মন। সর্বজীবে ন্যূনাধিক মন থাকা সত্ত্বেও, একে অন্য কোনো নামে নামকরণ না করে, মানবাত্মা বলার কারণ- মানবাত্মা একমাত্র মানবের মধ্যেই সর্বাধিক সার্থক, সাবলীল ও শক্তিশালী রূপে দেখা যায়। সেজন্য; এ আত্মাকে মানবাত্মা বলা হয়। উল্লেখ্য যে; জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মনের কোনো জ্ঞান নেই। সর্বজীবের মধ্যে ন্যূনাধিক মন দেখা গেলেও, একমাত্র মানুষের মধ্যেই মন পরিপূর্ণ রূপে পরিদৃষ্ট হয়। মনের প্রভাব বিভিন্ন জীবের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার লক্ষ্য করা যায়। মনের প্রভাবের হ্রাস-বৃদ্ধি, জীবের ইন্দ্রের সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। যে জীবের ইন্দ্রিয় সংখ্যা যতোধিক, সে জীবের মনও ততো শক্তিশালী। সারা সৃষ্টি জগতে ইন্দ্রিয় মোট ১০টি। যথা; ১. চক্ষু ২. কর্ণ ৩. নাসিকা ৪. জিহ্বা ৫. ত্বক ৬. বাক্ ৭. পাণি ৮. পাদ ৯. পায়ু ও ১০. উপস্থ। তারমধ্যে; ১. চক্ষু ২. কর্ণ ৩. নাসিকা ৪. জিহ্বা ও ৫. ত্বক; এ পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং অবশিষ্ট ৬. বাক্ ৭. পাণি ৮. পাদ ৯. পায়ু ও ১০. উপস্থ; এ পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়। ১০টি ইন্দ্রিয় পরিপূর্ণভাবে একমাত্র মানুষের দেহে বিদ্যমান। এজন্য; মানুষ জীবশ্রেষ্ঠ বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। একমাত্র ইন্দ্রিয়গুণেই মানুষকে জীবশ্রেষ্ঠ বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলা হয়।

জীবের ইন্দ্রিয়াদির প্রত্যেকটিই একেকটি বিশাল প্রযুক্তি। প্রযুক্তি যত বৃদ্ধি পায়, শক্তির কার্যকারিতাও ততো অধিক হয়। যেমন; কেঁচো। কেঁচোর দেহে মাত্র তিনটি ইন্দ্রিয় বর্তমান। যথা; ১. মুখ ২. পায়ু ও ৩. ত্বক। ইন্দ্রিয় রূপ প্রযুক্তি স্বল্প হওয়ার কারণে কেঁচো অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অধিক দুর্বল। আবার অনেক প্রাণীর দেহে ১০টি ইন্দ্রিয় দেখা গেলেও ইন্দ্রিয়রূপ প্রযুক্তিগুলো দুর্বল হওয়ার কারণে, তারা মানুষের চেয়ে দুর্বল। যেমন;  হাতি। হাতির ১০টি ইন্দ্রিয় থাকলেও- হাতির হাত মানুষের হাতের মতো কার্য সুবিধাধর নয়। হাতির বাক্ মানুষের বাকের ন্যায় অধিক ভাব বিনিময়কারী নয়। অর্থাৎ; সৃষ্টি জগতের মধ্যে একমাত্র মানবের ইন্দ্রিয়াদি যেমন সবল ও শক্তিশালী অন্যান্য প্রাণীদের ইন্দ্রিয়াদি তেমন সবল ও শক্তিশালী নয়। এজন্য; কোনো জীব মানুষের তুল্য ক্ষমতাধর নয়। জীবের জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সঙ্গে মন সংযুক্ত। জ্ঞানেন্দ্রিগুলো; ১. চক্ষু ২. কর্ণ ৩. নাসিকা ৪. জিহ্বা ও ৫. ত্বক। জীবের জ্ঞানেন্দ্রিয়াদি তিন প্রকারে কাজ করে। যেমন; ১. দৃশ্য ২. অদৃশ্য ও ৩. স্পর্শ। দৃশ্য-জ্ঞান আহরণ করে চক্ষু, স্পর্শ-জ্ঞান আহরণ করে জিহ্বা ও চামড়া এবং অদৃশ্য-জ্ঞান আহরণ করে জীবের কর্ণ ও নাসিকা। চক্ষু দিয়ে যা দেখা যায় তাই দৃশ্য-জ্ঞান। যেমন;  জীবজন্তু, পাহাড়, বৃক্ষরাজি ইত্যাদি। জিহ্বা ও চামড়ার সাহায্যে যা অনুভব করা যায় তাই স্পর্শ-জ্ঞান। যেমন;  স্বাদ ও শীত-গ্রীষ্ম। কর্ণ ও নাসিকার সাহায্যে যা অনুভব করা যায় তাই অদৃশ্য-জ্ঞান। যেমন;  কর্ণ দ্বারা শব্দ ধারণ, নাসিকা দ্বারা ঘ্রাণগুলো আহরণ। শব্দ ও ঘ্রাণগুলোই জীবের অদৃশ্য-জ্ঞান। শীত-গ্রীষ্ম ও স্বাদ জীবের স্পর্শ-জ্ঞান এবং চিত্রাদি ও বর্ণগুলো জীবের দৃশ্য-জ্ঞান।

জীবদেহে মন যে কোনো সময় যে কোনো প্রয়োজনে সংযোজন ও বিয়োজন করা যায়। যেমন;  ঔষধ সেবন বা প্রয়োগের মাধ্যমে জীবকে অজ্ঞান করে বা ঘুম পাড়িয়ে মন অপসারণ করা যায়। আবার অজ্ঞান ব্যক্তি চেতন করে বা ঘুমন্ত-ব্যক্তিকে জাগরিত করে মন সংযোজন করা যায় ইত্যাদি। বর্তমানে মনের ওপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্বই মানুষের হাতের মুঠোয়। মানুষ ইচ্ছে করলে অনায়াসেই মন সম্প্রদান ও হরণ উভয় করতে পারে। মনের সৃষ্টি-ধ্বংস নেই তবে এর  হ্রাস-বৃদ্ধি ও সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা উভয় রয়েছে। মন নিষ্ক্রিয় করা যায়। যেমন;  ঔষধ সেবন ও প্রয়োগের মাধ্যমে মনবান প্রাণীর মন সাময়িক নিষ্ক্রিয় করা, আবার ঔষধের মাধ্যমে অত্যন্ত চঞ্চল জীবকেও জীবন্ত মূর্তিতে পরিণত করা ইত্যাদি। মনের হ্রাস করা যায়। যেমন;  অনুশীলন বা চর্চা হ্রাসের দ্বারা ক্রমে ক্রমে মননশীলতার হ্রাস করা। মনসত্বের হ্রাস পাওয়াকে মনের হ্রাস পাওয়া বলা হয়। মনের বৃদ্ধি করা যায়। যেমন; শ্বরবিজ্ঞানের জ্ঞানর্জনের দ্বারা রুচিবোধ বৃদ্ধি করা যায়। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অনুশীলন দ্বারা রুচিবোধ সৃষ্টি করা। এর সংযোজন ও বিয়োজন সম্পূর্ণই বর্তমানে মানুষের ইচ্ছাধীন। আধ্যাত্মিক সাধনা দ্বারা মনের চরম উৎকর্ষতা-সাধন করা যায়। মন বিশ্বের সব ভালো ও মন্দ কর্মকাণ্ডের মূল। মনের অনেক প্রকার সাধন রয়েছে।

আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে; মনের কোনো জ্ঞান নেই। মন জীবের প্রকৃতিগত এক প্রকার শক্তি। যেহেতু; মনের জ্ঞান নেই তবে তাকে সচেতন বলার কারণ কী? প্রকৃতপক্ষে যার জ্ঞান নেই তারমধ্যে; সচেতনতাও থাকতে পারে না। এমন চির দ্বান্দ্বিক সম্বন্ধপদ ব্যবহার করার সূক্ষ্ম সমাধাটি নিচে তুলে ধরা হলো। জীবের যৌবনকালে মন যখন মানসিকভাবে চেতন হয় তখন মনের মাঝে তার চির সাথী ও চির সঙ্গী রিপু, রুদ্র ও দশাগুলোও এসে উপস্থিত হয়। এ রিপু, রুদ্র ও দশাগুলোর কারণে পরিবার ও সমাজে সৃষ্টি হয় মারামারি ও হানাহানি। তারপর; সৃষ্টি হয় লুণ্ঠন ও প্রাণহানি। মানব মনের রিপু, রুদ্র ও দশাগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব হতেই এসব ঘটনা সংঘটিত হয়। মানসপট হতে এসব ধ্বংসাত্মক বা মানবতা বিধ্বংসী সদস্যগুলো অপসারণের জন্য চেতন মনকে দিব্যজ্ঞানের নিকট শিষ্যত্ববরণ করাতে হয়। দিব্যজ্ঞান থাকে দিব্যজ্ঞানীর নিকট। এজন্য; চেতনমনের মানসপট হতে অপরিপু দূর করানোর জন্য তাকে একজন দিব্যজ্ঞানীর নিকট শিষ্যত্ববরণ করাতে হয়।

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে মনের জ্ঞান নেই তবে মনের শিষ্যত্ব বরণের প্রয়োজন কী? উত্তরে বলা যায়- মন ও জ্ঞান সর্বসময় একই পাত্রে যুগপদ রূপে বিদ্যমান। এজন্য; মন শাসনের জন্য জ্ঞানের যথাযথ জ্ঞান প্রয়োজন। তাই; তো প্রবাদ বলে- “জ্ঞানী যায় জ্ঞানীর কাছে, চৈতন্য-জ্ঞান পাবার আশে।” একজন স্বল্পজ্ঞানী চৈতন্যজ্ঞানীর নিকট ধারাবাহিকভাবে জ্ঞানার্জন করতে করতে যখন চৈতন্য-জ্ঞান বা দিব্যজ্ঞান সাগর হতে চৈতন্য-জ্ঞান প্রাপ্ত হন তখন তিনি নিজেই দিব্যজ্ঞানী হয়ে যান। দিব্যজ্ঞানী নিজের জ্ঞান দ্বারা নিজের মন শাসন করতে পারেন। অর্থাৎ; নিজের জ্ঞানের নিকট নিজের মনকে শিষ্যত্ববরণ করাতে পারেন। যেমন;  লালন সাঁইজি লিখেছেন; “(দেহের গুরু আছে কেবা, শিষ্য হয়ে কে দেয় সেবা, যেদিন তাই জানতে পাবা, কুলের ঘোর যাবে তখন- লালন- ২২৩/৩)” জীবদেহের জ্ঞানকে বলা হয় গুরু এবং মনকে বলা হয় শিষ্য।

মানুষের ক্ষেত্রে বলা যায়- সাধারণ মানুষ কোনো চৈতন্যজ্ঞানী বা দিব্যজ্ঞানী গুরু বা গোঁসাইয়ের নিকট শিষ্যত্বপদ গ্রহণ করে যথাযথ আদ্য-জ্ঞান অর্জন করে যখন নিজের জ্ঞান দ্বারা নিজের মনকে শাসন করতে থাকে তখন সে লোকের দ্বারা কোনো পাপগুলো কর্ম সংঘটিত হয় না। নিষ্কলুষ ও নিষ্পাপ মনকেই সচেতন মন বলা যায়। যেহেতু; মন কোনো জ্ঞান রাখে না; সে ক্ষেত্রে মনের সচেতন হওয়া ও না হওয়া উভয়ই সমান। তাই; বলা যায়- এ সমস্যা সমাধানের জন্য “সচেতন মন” বিশেষণটির পরিবর্তে “সচেতনব্যক্তি” বলাই যুক্তিযুক্ত ছিল। উত্তরে বলা যায়; যেহেতু; এখানে; মনের প্রকার ভেদ নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। এজন্য; বিশেষণটিও মনের সম্বন্ধপদ হওয়াই যুক্তিযুক্ত। এজন্য; “সচেতন মনের” পরিবর্তে “সচেতনব্যক্তি” বলা সিদ্ধ হবে না। এখানে; মনের অবস্থার বিভাগের কারণে একান্ত নিরুপায় হয়েই এমন অসঙ্গত, দ্বান্দ্বিক ও সাংঘর্ষিক সম্বন্ধ পদটি ব্যবহার করা জন্য পাঠককুলের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী।

পরিশেষে বলা যায় মনের সচেতনতা বলতে ব্যক্তির সচেতনতাই বুঝায়। প্রতিটি জীবের পুনর্জন্মের পর মন প্রকৃতিগতভাবেই চেতন হয় বটে কিন্তু সচেতন হয় না। মন সচেতন করতে হলে কোনো দিব্যজ্ঞানীর নিকট হতে দিব্যজ্ঞান অর্জন করেই চেতনমনকে পুনঃসচেতন করতে হয়। এ হতেই আদিকালে গুরু ও শিষ্য পরম্পরার সৃষ্টি হয়। পূর্বকালে প্রতিটি মানুষই দিব্যজ্ঞান অর্জন করার জন্য কোনো না কোনো দিব্যজ্ঞানী গুরুর নিকট শিষ্যপাঠ গ্রহণ করতেন এবং পরম্পরার মাধ্যমে আদ্য-জ্ঞান অর্জন করতেন। এজন্য; বিগত প্রায় ১০০০ বছর পূর্বেও অসংখ্য দিব্যজ্ঞানী মহান ব্যক্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যেত। যেমন; বেদব্যাস, বুদ্ধদেব, হযরত মুহাম্মদ, জারির তাবারি, ইবনে জারির ইত্যাদি। কিন্তু বিগত প্রায় ১০০০ বছর পূর্ব হতে পরম্পরার কৃত্রিম উপধারার উৎপত্তি হয়। পরম্পরার এ কৃত্রিম উপধারার ধ্বজাধারীরা পরম্পরাকে পুঁজি করে লাখে লাখে শিষ্য করেন বটে, কিন্তু দিব্যজ্ঞান বা আদ্য-জ্ঞান প্রদান না করে সাম্প্রদায়িক অন্ধবিশ্বাসের মরণনিগঢ়ে আবদ্ধ করে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক কিছু পরিভাষা ও নীতিমালার জ্ঞান দান করে বলে দেন যে; এ সবই আধ্যাত্মিক জ্ঞান। সে কারণে বাংভারতীয় উপমহাদেশের হতভাগ্য সরলমনা বাঙালীরা গত এক হাজার বছর পূর্ব হতে, প্রকৃত আধ্যাত্মিক জ্ঞান হতে চির বঞ্চিত। আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)লেখকবলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!