৭৩. মানুষ

সহযোগী মূলক পরভিাষা

রূপক পরিভাষা

সহযোগী রূপক পরভিাষা

উপমান পরিভাষা

চারিত্রিক পরিভাষা

ছদ্মনাম পরিভাষা

৭৩. মানুষ
Man (ম্যান)/ ‘رجل’ (রাজুলা)

ভূমিকা (Introduction)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং মানুষ পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা গাছ। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা চতুষ্পদ চাঁদ। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা শর্মা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা উবুদগাছ কল্পতরু। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

অভিধা (Appellation)
মানুষ (বাপৌমূ)বি মানব, লোক, জন, man, ‘رجل’ (রাজুলা) (.ﺒﺸﺭ), মারয়ু (.ﻤﺭﺀ) বিণ মানবীয়, বয়ঃপ্রাপ্ত, মানুষ্য সম্পর্কীয়, মানবীয় গুণসম্পন্ন, লালন পালন দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত (শ্ববি) গোরু, গাছ, পাহাড়, হাতি (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীমানুষ পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; এখন পর্যন্ত সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ জীবকে বাংলায় ‘মানুষ বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সুপেয় মানবজলকে রূপকার্থে ‘মানুষ বলা হয় (বাপৌছ) উবুদ-গাছ ও কল্পতরু (বাপৌচা) শর্মা (বাপৌউ) চতুষ্পদ ও চাঁদ (বাপৌরূ) গাছ (বাপৌমূ) মানুষ Jস্ত্রী মানুষী।

মানুষের সংজ্ঞা (Definition of man)
১.   সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ জীবকে মানুষ বলে।
২.   সৃষ্টির সর্বোচ্চ বিবেকবান জীবকে মানুষ বলে।

মানুষের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of man)
মানবের স্বরূপ বা সাঁইকে মানুষ বলে।

পারিবারিক অবস্থান (Domestic position)

মূলক রূপক উপমান চারিত্রিক ছদ্মনাম
মানুষ গাছ চতুষ্পদ ও চাঁদ শর্মা উবুদগাছ ও কল্পতরু

প্রাথমিক পরিপত্র (Primary circular)
মানুষের আভিধানিক, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা।

বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা; মানুষ।
বাংলা আভিধানিক প্রতিশব্দ; জন, মনুজ, মনুষ্য, মানব ও লোক
বাঙালী পৌরাণিক রূপক; গাছ
বাঙালী পৌরাণিক উপমান;   চতুষ্পদ, চতুষ্পাদ, চাঁদ ও চৌপদী।
বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক; শর্মা।
বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম;   উবুদগাছ, কল্পতরু, জগজ্জন, বনমানুষ ও সুরতরু।

বাংলা, ইংরেজি ও আরবি (Bengali, English and Arabic)

বাংলা ইংরেজি আরবি
৭৩. মানুষ Man (ম্যান) ‘رجل’ (রাজুলা)
৭৩/১. গাছ Tree (ট্রি) ‘شَجَرَةُ ’ (শাজরা)
৭৩/২. চাঁদ Moon (মুন) ‘ﻘﻤﺮ’ (ক্বামরা)
৭৩/৩. উবুদগাছ Inverts (ইনভার্টস) ‘المقلوب’ (আলমাক্বলুব)
৭৩/৪. কল্পতরু Yggdrasil (ইগড্র্যাজিল) ‘اغدراسيل’ (ইগদিরাসিল)

মানুষের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of man)
১.   “বন্দী হয়ে মায়ার সংসারে, আপন-মানুষ চিনলাম না রে, কী হারিয়ে পেলাম কিরে, হলো না রে মানবকরণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)
২.   “বাদুড়ের আমদানি যেমন, মানুষের চলা তেমন, বুঝতে চায় না গুরুর বচন, খায়রে শুধু চুবানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৩)
৩.   “মানুষ-তত্ত্ব যার সত্য হয় মনে, সেকি অন্য তত্ত্ব মানে।” (পবিত্র লালন- ৭৮১/১)
৪.   “হাজার বছর সে সাধনে, যেবা বসে রয় গোপনে, দেখা পায় মানুষের সনে, খুঁজে পায় রাঙাচরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪)

মানুষের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of man)
১.   “আপনদেশে যেতে পথে, মানুষ খণ্ড হয় মূল হতে, পুনর্জনম কয় সাধু মতে, শাস্ত্রে সন্তান জন্ম হয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৪)
২.   “এ মন করো যতন, মন হবে মানুষ্য-রতন, বিনয় করে কয় বলন, মনের দরে মানুষের দাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮২)
৩.   “এ মানুষ খুঁজিলে মিলে, ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব নিতাই, এ মানুষে বিরাজ করে, দয়াল গুরু সাঁই কাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৩)
৪.   “কাঁইয়ের বাণী ভিন্ন নয়রে বিশ্ব চরাচরে, সাম্প্রদায়িক এ ভেদাভেদ মানুষে সৃষ্টি করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৩)
৫.   “কোথায়রে পাপ-পুণ্যের গুদাম, সাম্প্রদায়িকদের কাল্পনিক অনুমান, মানুষের বাইরে নাইরে কিছু, কেবল প্রতীকী ও উপমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮১)
৬.   “চিহ্নকে কয়রে কালিমা, দেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয়খানা, পঞ্চভদ্রে মানুষ চেনা, পঞ্চচিহ্নের নমুনায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮০)
৭.   “তিনমাসে আঠারো সন্তান, জাতি-কুল-মান সব গেল, মানুষ না চিনিয়া বাবা, কার সাথে বিয়া দিলো।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৮.   “দেখ মানুষ মানুষে বিহার, পুরুষ-প্রকৃতি নাই তার, মানুষের মানুষ আহার, বিতংস পেতে বায়ুর ঘরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৩)
৯.   “নামিস না পিছলঘাটে, পিছলানিরে মানুষ কাটে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৮)
১০. “নিজকে নিজে মানুষ করা, এক জীবনে তিনবার মরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬২)
১১.  “ফাঁদ পাতিয়া মানুষ ধরে, প্রেমযমুনার ত্রিপুরে, মানুষ ধরে ভোর-দুপুরে, জেলখানায় রাখে ভরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
১২. “ফাল্গুন মাসের তিনতারিখ শনিবার যেদিন, ধাতব-পাখি হানবে আঘাত করিবে জনহীন, পাতালভেদী কত মানুষ– কর্মদায় রবে বেহুঁশ, কাঁধে লয়ে আপনার দোষ পূর্বেতে করবে ধিয়ান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৭)
১৩. “বাস করে সাগরপাড়ে, দিন দুপুরে মানুষ মারে, শূন্য রসিক সরোবরে, মাসান্তে তার আনাগোনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৫)
১৪. “বাহান্ন পণ্যারের মাঝে, দুটি মাত্র ফল দেখি, তিপ্পান্ন গলিতে লুকায়, মানুষকে দিয়ে ফাঁকি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১১)
১৫. “ভুতের রাজ্যে দশটি থানা- রয়েছে বাহাত্তরজনা, সে রাজ্যের প্রধান ব্যাপারী-, তারা সবে চুপিসারে- ভুত-মানুষ পরিমাপ করে, আগুন ও বাতাস ধরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৭)
১৬. “মানুষ যদি সবার শীর্ষে, ভেদাভেদ রইল কিসে, গলাবাজী তো সবই মিছে, জাতির পর্দা তুলে দেখনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৫)
১৭.  “মানুষে মানুষ গাঁথা রয়, যখন যে খণ্ড হয়, তারে তার পুনর্জনম কয়, হয় না জনম তারণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১০)
১৮. “যদি দেশের মানুষ পাই, জাতির মুখে দিবো ছাই (গো), বলন কয় আপন কেউ নাই, মন হলো সর্বনাশী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৮)
১৯. “সামনে এক সূক্ষ্মসেতু স্থাপন করা হবে, বাহাত্তরহাত অগ্নিশিকল পরাইয়া দিবে, কত মানুষ উত্থানদণ্ডে- কেটে পড়বে খণ্ডে খণ্ডে, পড়বে শুধু নরককুণ্ডে পারে যাবে বীর্যবান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৭)
২০. “হায় হায় হাজার বছর পাঞ্জালড়ে, সাঁই আসে বাতাসে উড়ে, দ্বিদলে সাঁই নড়েচড়ে, মানুষ ছাড়া নাই ঠাঁই, রক্তিমধারা পাড়ি দিয়ে, বস গিয়ে সাদা ধারায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭)

মানুষের ওপর ১টি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the man)

ভিন্ন নয়রে সাঁইয়ের বাণী,
ভিন্নতা করেছে মানুষে জানি।

সৃষ্টিমূলে ছিল যাহা,
এখনও ঠিক আছে তাহা,
কম বেশী মানুষের বাঁধা,
সাদা দিন কালো রজনী।

এক দেশে যা সিদ্ধ বলে,
অন্যত্র নিষিদ্ধ হলে,
এসব করে জাতি কুলে,
মিছে শাস্ত্রের কানাকানি।

সাম্প্রদায়িকবাদ মানুষের রচনা,
সাঁই নামে করে ছলনা,
বলন কয় তাই বলো না,
সাঁইজির বাণী কোনখানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ০৬)

মানুষতত্ত্ব (Microcosmology)
মানুষ কী? মানুষ কাকে বলে? কোনো মানুষের সাধন ও ভজন কিভাবে করতে হয়? এসব প্রশ্নের সূক্ষ্ম সমাধানগুলোই হলো মানুষ-তত্ত্ব।

মানুষ-তত্ত্বের সংজ্ঞা (Definition of microcosmology)
আকার, সাকার ও নিরাকার মানুষ সম্পর্কীয় জ্ঞানকে মানুষ-তত্ত্ব বলে।

মহাত্মা লালন সাঁইজি তাঁর নির্মিত লালনগুলোর মধ্যে সবিস্তারে মানুষের প্রকারভেদ, মানুষ-তত্ত্ব ও মানুষ সাধনের করণ কারণ বর্ণনা করেছেন। যেমন; তিনি বলেছেন;
১.   “ওগো মানুষের তত্ত্ব বলো না, সত্য করে বলো গোঁসাই, ভাবের-মানুষ কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/১)
২.   “পঞ্চতত্ত্ব বেদের বিচার, পণ্ডিতেরা করেন প্রচার, মানুষ-তত্ত্ব ভজনের সার, বেদ ছাড়া বৈরাগ্যের মানে।” (পবিত্র লালন- ৭০২/২)
৩.   “মানুষ-তত্ত্ব যার সত্য হয় মনে, সেকি অন্য তত্ত্ব মানে।” (পবিত্র লালন- ৭৮১/১)

লালন সাঁইজির দৃষ্টিতে আল্লাহ (ﺍﻟﻟﻪ) ও রাসুল (ﺮﺴﻮﻞ) দুটি অবতার। যেমন; তিনি বলেছেন; “আল্লাহ রাসুল দুটি অবতার, এক নূরেতে মিশাল করা, ঐ নূর সাধলে নিরঞ্জনকে, অতি সহজে যায় ধরা।” (পবিত্র লালন- ২৫২/৩)। শ্বরবিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী আল্লাহ (ﺍﻟﻟﻪ) মানবদেহে প্রাপ্ত কালো বর্ণের মানবজল এবং রাসুল (ﺮﺴﻮﻞ) মানবদেহে প্রাপ্ত সাদা বর্ণের মানবজল বা সাকার-মানুষ। এছাড়াও; তাঁর দৃষ্টিতে মানুষের মনও এক প্রকার মানুষ। যেমন; “মন আর তুমি মানুষ দু’জন, এ দু’জনাতেই প্রেমালাপন, কখন সুধার বরিষণ, কখন গরল পেয়ে যন্ত্রণা।” (পবিত্র লালন- ৪২২/২)। মহাত্মা লালন সাঁইজির মতে; মানুষ-তত্ত্ব জ্ঞানার্জন করাই মানবের বিশেষ উপাসনা। যেমন; তিনি বলেছেন; “জানগে যা গুরুর দ্বারে, জ্ঞান-উপাসনা, কোন মানুষের কেমন কৃতি, যাবেরে জানা।” (পবিত্র লালন- ৪৬৫/১)

মানুষের পরিচয় (Identity of Man)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীমানুষ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিশেষ। সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ জীবকে মানুষ বলা হয়। স্থূলদৃষ্টিতে যদিও আমরা মানবাকৃতি জীবকেই মানুষ বলে থাকি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানবাকৃতি জীবের নর ও নারী মিলে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়। শুধু নর পূর্ণাঙ্গ মানুষের অর্ধাঙ্গ এবং শুধু নারী পূর্ণাঙ্গ মানুষের অর্ধাঙ্গী। এজন্য; অর্ধাঙ্গ ও অর্ধাঙ্গী মিলেই পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; শুধু নর ও শুধু নারীকে মানুষ বলা হয় না বরং নর ও নারীর একত্র রূপকেই মানুষ বলা হয়। যারফলে; মানুষের পা (২+২=৪) মোট চারটি। এটাই পুরাণ নির্মাণের কৌশল। এ কারণে শ্বরবিজ্ঞানে নর ও নারীর ভিন্ন ভিন্ন কোনো সাধন ও ভজন নেই। নর ও নারী একত্র হয়ে দাম্পত্য জীবনে পদার্পণ করলেই কেবল সাধন ভজনের সূচনা হয়। সংসার বা দাম্পত্য ত্যাগ করে যারা শান্তরতী রূপে বনে বা অরণ্যে আশ্রয় নেয় তারাই তাদের স্বর্ণময় জীবন ও যৌবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এটা তাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দৈন্যতা বৈ নয়। এতদকারণে নারীসংশ্রব পরিত্যাগ করে শান্তরতী রূপে যারা একাকী জীবন গ্রহণ করে। তারা কখনও জীবের পালনকর্তা সাঁই ও জীবের সৃষ্টিকর্তা কাঁইয়ের সন্ধানলাভ করতে পারে না। কেউ যদি বলে থাকে যে; একাকী জীবনেও সাঁই বা কাঁইয়ের সন্ধানলাভ করা যায় তবে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। পক্ষান্তরে; যারা ঊর্ধ্বরতী রূপে নারীসঙ্গ গ্রহণ করে দাম্পত্য জীবনযাপন করে তারাই জীবের পালনকর্তা সাঁই ও সৃষ্টিকর্তা কাঁইয়ের দর্শনলাভ করে মানবজন্ম ধন্য করে থাকেন। শ্বরবিজ্ঞানে; শান্তরতীর কোনো স্থান নেই। শান্তরেতা নির্বোধ সাধারণ সাধকদের একটি সংস্কার মাত্র।

শ্বরবিজ্ঞানে প্রকৃতপক্ষে যাঁকে মানুষ বলা হয় তিনি হলেন জীবের পালনকর্তা সাঁই বা স্বরূপ। পদার্থের তিনটি রূপ- ১.কঠিন ২.তরল ও ৩.বায়ুবীয়। মানুষ একটি পদার্থ। যেহেতু; মানুষের আকার, আয়তন ও ভর আছে। মানুষের মূর্তমান রূপটি অবশ্যই একটি পদার্থ। তবে; মানুষের তরলরূপ কোনটি? আজ হতে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বেই অনুসন্ধানী সাধুগণ এমন চিন্তাভাবনা করেই; মানুষের তরল-রূপের সন্ধান করতে থাকেন। অবশেষে তাঁরা মানুষের তরল রূপ খুঁজে বের করতে সক্ষম হন এবং তার নাম দেন স্বরূপ বা সাঁই। যেমন; ডাবগাছ একটি মূর্তমান বা কঠিনরূপ। এ ডাবগাছের স্বরূপ বা তরলরূপ হলো ডাবের জল। কেননা ডাবের জলই ক্রমে ক্রমে শাঁস হয় এবং শাঁস হতেই অঙ্কুর হয় এবং সে অঙ্কুরটিই একদিন বিশাল ডাবগাছে পরিণত হয়। তাদৃশ কুক্কুটও একটি মূর্তমান বা কঠিন রূপ কিন্তু তার ডিমের মধ্যের তরল পদার্থটি কুক্কুটের স্বরূপ বা তরল রূপ। তাদৃশ মানুষ আকারটিও মানুষের মূর্তমান বা কঠিন রূপ কিন্তু মাতৃগর্ভে অবতরণকারী সাঁই রূপ জীবজল বা স্বরূপই হলো মানুষের তরল রূপ। কারণ; সাঁই বা স্বরূপ হতেই মানবভ্রূণের সৃষ্টি হয় এবং উক্ত রসেই মানবসন্তান লালিতপালিত হয়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মানবসন্তান সে রসের মধ্যেই ডুবন্তভাবে অবস্থান করে। এ তরল মানুষটিকে পানীয় রূপে পান করা যায়। মানুষ হয়ে এমন তরল-মানুষ সন্ধান করাই সাধকের প্রকৃত সাধন।

কুলের বিবরণ (Description of lineage)
বিভিন্ন পুরাণ, সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ ও লোকসাহিত্য হতে বিভিন্ন প্রকার কুলের সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন; ১. গুরুকুল ২. গৃহকুল ৩. গোপীকুল ৪. গৌরকুল ৫. জীবকুল ৬. পশুকুল ৭. পিতৃকুল ৮. দেবতাকুল ৯. মৎস্যকুল ১০. মাতৃকুল ১১. মানবকুল ১২. লোককুল ১৩. শ্বশুরকুল ও ১৪. সাধুকুল ইত্যাদি। এসব কুলকে চারভাগে ভাগ করা হয়। পশুকুল; শ্বরবিজ্ঞানে; জীবকুলকে পশুকুল বলে। মানবকুল; শ্বরবিজ্ঞানে; মানবীয় গুণাগুণ অর্জনকারী সাধক সম্প্রদায়কে মানবকুল বলা হয়। দেবতাকুল; শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক নামে দেবতায়িত পৌরাণিক চরিত্র গ্রহণ করে দেবতা রূপে আত্মপ্রকাশকারী মহাসাধক সম্প্রদায়কে দেবতাকুল বলা হয়। যেমন; লালন ও বলন প্রমুখ। গুরুকুল; শ্বরবিজ্ঞানে; পুনর্জন্মহীন, সংযতইন্দ্রিয়, দেবতাগণের গুণাগুণ অর্জনকারী ও ছদ্মনামধারী মহাসাধক সম্প্রদায়কে গুরুকুল বলা হয়।

. পশুকুল (Animalia. অ্যানিম্যালিয়া)/ ‘حيوانية’ (হাইওয়ানিয়া)

পশু (বাপৌছ)বি প্রাণী, মূঢ়, অবিবেকী, জীব, পশু প্রকৃতির মানুষ, (তন্ত্রমতে) মদ্য মাংস বর্জনকারী সংযমশীল সাধক।
পশুকুল (বাপৌছ)বি পশুজাতি, পশুপক্ষী, স্থলচর, জলচর ও খেচর সব জীবজন্তুকে একত্রে পশুকুল বলা হয়, animalia, ‘حيوانية’ (হাইওয়ানিয়া) {বাং.পশু+ বাং.কুল}

পশুকুলের সংজ্ঞা (Definition of animalia)
১.   শ্বরবিজ্ঞানে; জীবকুলকে পশুকুল বলে।
২.   শ্বরবিজ্ঞানে; জলচর ও খেচর সব জীবজন্তুকে একত্রে পশুকুল বলা হয়।

পশুকুলের পরিচয় (Identity of animalia)
ডিম্বজাত ও গর্ভজাত সব প্রাণীকে একত্রে জীব বলা হয়। এজন্য; মানুষও এক প্রকার জীব। প্রকৃতিগতভাবে সব মানুষই পশুকুলে জন্মগ্রহণ করে থাকে। তাই; পশুদের সব আচরণই মানুষের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে- পারম্পরিক গুরুদীক্ষা গ্রহণ করার পর মানুষ যখন মনের পশুত্বভাব বর্জন করে মনে মনুষ্যত্বভাব প্রতিষ্ঠা করে কেবল তখনই সে মানবকুলে পদার্পণ করে থাকে। তাই; বলা যায় সব মানুষই জীব কিন্তু সব মানুষই মানব নয়। মানবের আচরণ গ্রহণ করার পূর্বে বৈষয়িকসাহিত্য অনুযায়ী তাকে মানব বলা হয়। অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞানে তাকে কখনই মানব বলা হয় না। গুরুদীক্ষা গ্রহণ করা ব্যতীত শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বারা মানবীয় গুণাগুণ অর্জন করা যায় না। কারণ; কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থিদের মানসিক ও নৈতিক উত্তরণমূলক পুস্তক-পুস্তিকা পাঠ্যসূচীভুক্ত করা হয় না। তবে; যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মশুদ্ধিমূলক কোনো পুস্তক-পুস্তিকা একান্তই পাঠসূচীভুক্ত করা হয় তা ভিন্ন কথা।

মানবীয় গুণাগুণ অর্জন না করার কারণে দেখা যায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত বড় বড় মানুষরাই পশুর কাজ কর্ম অধিক করে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গুরু ভজনকারী শিষ্যরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক বা প্রাকৃতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। তাদের দ্বারা পরিবারে ও সমাজে তেমন কোনো অমানবিক কার্যক্রম সংঘটিত হয় না। মানুষ জন্মগতভাবে জীবকুল বা পশুকুলে জন্মগ্রহণ করে থাকে। যারফলে; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা বা গুরুবাদী শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষকে পশুকুল হতে মানবকুলে উন্নীত হতে হয়। মানুষরূপী পশুদেরকে নৈতিক ও মানসিক শিক্ষা দেওয়ার জন্যই বেদ, ত্রিপিটক, তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, লালন বলন এর মতো বিশ্ববিখ্যাত পুস্তক-পুস্তিকা যুগে যুগে মহামানবগণ নির্মাণ করে গেছেন। অর্থাৎ; নৈতিক ও মানসিক শিক্ষা দিয়ে মানবরূপী পশুদেরকে পশুকুল হতে মানবকুলে আনয়ন করার জন্য বিশ্ববিখ্যাত এতসব মহাগ্রন্থ নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পবিত্র পুস্তক-পুস্তিকাগুলো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো কেবল পশুদের মানবীয় গুণাগুণ শিক্ষা দিয়ে তাদের চিত্তে মনুষ্যত্বভাব প্রতিষ্ঠা করা।

. মানবকুল (Humania. হিউম্যানিয়া)/ ‘بشرية’ (বাশারিয়া)

মানব (বাপৌছ)বি মানুষ, মানুষ্য, মনু, নর, নৃ বিণ মনু সম্পর্কীয়, মনু কর্তৃক প্রণীত (শ্ববি) মানুষ, মানব, লোক, জন, man, নাছ (.ﻨﺎﺲ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীমানুষ পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; ভারতীয় পৌরাণিক আদিমানব মনুর বংশধরকে ‘মানব বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; মানুষকে রূপকার্থে ‘মানব বলা হয় (বাপৌছ) উবুদ-গাছ ও কল্পতরু (বাপৌচা) শর্মা (বাপৌউ) চতুষ্পদ ও চাঁদ (বাপৌরূ) গাছ (বাপৌমূ) মানুষ Jস্ত্রী মানবী।

মানবকুল (বাপৌছ)বি মানুষজাতি, মানুষ নামক জীব, মানব রূপে জন্মগ্রহণকারী, মানুষ রূপে পুনরুত্থানকারী, humania, ‘بشرية’ (বাশারিয়া) “দেব দেবতার বাসনা হয়, মানবকুলে জনম নিতে চায়, লালন বলে গোলকধাঁধায়, মানুষের করণ করলি না।” (পবিত্র লালন- ৪৯০/৪) {বাং.মানব + বাং.কুল}

মানবকুলের সংজ্ঞা (Definition of humania)
১.   শ্বরবিজ্ঞানে; মানবীয় গুণাগুণ অর্জনকারী সাধক সম্প্রদায়কে মানবকুল বলে।
২.   শ্বরবিজ্ঞানে; পশুকুলে জন্মগ্রহণ করে গুরুদীক্ষা গ্রহণ করার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মনুষ্যত্বগুণ অর্জনকারী সম্প্রদায়কে মানবকুল বলে।

মানবকুলের ওপর ২টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Two highly important quotations of humania)
১.   “কত কত সহস্র যোনি, ভ্রমণ করে এসেছ শুনি, মৎস্যকূল ডিম্বকুলে- তারপরে মানবকুলে, এসে কী করলে।” (পবিত্র লালন- ১৭১/৩)
২.   “দেব-দেবতার বাসনা হয়, মানবকুলে জনম নিতে চায়, লালন বলে গোলক-ধাঁধায়, মানুষের করণ করলি না।” (পবিত্র লালন- ৪৯০/৪)

মানবকুলের পরিচয় (Identity of humania)
অঙ্কুরজাত, ডিম্বজাত ও গর্ভজাত সব সৃষ্টিই জীব। যেহেতু; মানুষ গর্ভজাত সৃষ্টি। এজন্য; মানুষও এক প্রকার জীব। গুরু পরম্পরার মাধ্যমে মানুষ সঠিকভাবে গুরুদীক্ষা গ্রহণ করার পর মানবকুলে পদার্পণ করে থাকে। মানবকুলে পদার্পণের পূর্বে মানুষের মনের মধ্যে যেসব পশু স্বভাব থাকে গুরুদীক্ষা গ্রহণ করার পর তা আর দেখা যায় না। কেবল মানুষের মতো আকার, আকৃতি থাকলেই তাকে মানুষ বলা যায় না। মানুষের মতো আকার ও আকৃতিধারী মানুষরূপী পশুর সংখ্যাই বর্তমানে অধিক। গুরুদীক্ষাহীন নরপশুরা বন্যপশুর চেয়েও আরও জঘন্য। গুরু-শিক্ষা গ্রহণের দ্বারা মানুষরূপী জীব জীবকুল হতে মানবকুলে পদার্পণ করে। অতঃপর; মানবকুল প্রাপ্ত সাধু সন্ন্যাসীরা সাধন ও ভজন বলে দেবতাগণের মতো জন্ম-মৃত্যুহীন গুণাগুণ অর্জন করে দেবতাকুলে উন্নীত হন। উল্লেখ্য যে; দেবতাকুলে উন্নীত হতে হলে সাধককে আরও একটি গুণ অর্জন করতে হয়। তা হলো বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীর মধ্যে যে কোনো একটি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এর ছদ্মনাম গ্রহণ করতে হয়।

. দেবতাকুল (Angelia. অ্যাঞ্জেলিয়া)/ ‘ملائكية’ (মালায়িকিয়া)
দেবতা (বাপৌরূ)বি অধিপতি, অমর, অদৃষ্টপুরূষ, ঈশ্বর, ঐশিদূত, ঐশি সংবাদিক, ঠাকুর, দেব, দেবী, দৈবদূত, দৈবসত্তা, প্রভু, স্বর্গীয় প্রকৃতি, ঠাকুরালী, সুর, স্রষ্টা, স্বর্গীয় অবতার, স্বর্গীয় বার্তাবাহক, স্বর্গীয় দূত (প্র) সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষীদের মতে; অত্যন্ত সূক্ষ্ম দেহহীন নিষ্পাপ স্বর্গীয় দূত বিশেষ (শ্ববি) মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদি, body part, ‘جزء الجسم’ (জুঝুজ জেসম) (গ্রিপৌচা) angel, deity, divinity, idol, god, godhead, godhood, cherubim (ইপৌচা) মালাকি (.ملاك), নবি (نبي) ও রাসুল (ﺮﺴﻭﻝ) (পারদে) ফেরেস্তা (ফা.ﻔﺮﺸﺗﻪ), পয়গাম্বর (ফা.ﭙﻴﮕﻤﺒﺭ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীদেহাংশ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও বাঙালী বাঙালী পৌরাণিক দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. ভারতীয়, গ্রিক ও পারসিক পুরাণে বর্ণিত; অত্যন্ত সূক্ষ্ম দেহহীন নিষ্পাপ স্বর্গীয় দূতকে বাংলায় দেবতা বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে দেবতায়িত চরিত্রকে বাংলায় রূপকার্থে দেবতা বলা হয় (শিশ্ন> বিম্বল) (বাপৌছ) স্বর্গদূত (বাপৌচা) কিন্নর (বাপৌউ) সুর (বাপৌরূ) দেবতা (বাপৌমূ) দেহাংশ।

দেবতা কুল (বাপৌছ)বি ঐশিদূত কুল, Angelia, Pantheon, cherubim, animal lineage, ‘ملائكية’ (মালায়িকিয়া) (প্র) শ্বরবিজ্ঞানে দেবতাগণকে একত্রে দেবতা কুল বলা হয় {বাং.দেবতা+ বাং.কুল}

দেবতা কুলের সংজ্ঞা (Definition of angelia)
বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার পৌরাণিক দেবতায়িত চরিত্রকে দেবতা কুল বলে। যেমন; লালন ও বলন প্রমুখ।

দেবতা কুলের পরিচয় (Identity of angelia)
মানুষ সাধন-বলে আকৃতিগতভাবে দেবতা হতে পারে না সত্য। তবে; সাধক সাধ্য সাধনবলে দেবতার আচরণ অর্জন করার দ্বারা দেবতাকুলে উন্নীত হতে অবশ্যই পারেন। সাধকের দেবতাকুলে পদার্পণ মানবকুলে পদার্পণের মতোই। তবে; মানবকুলে পদার্পণের জন্য সাধকের নিজের বংশ পরিচয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় গোপন করা ও দেবতাগণের ছদ্মনাম গ্রহণ করার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু দেবতাকুলে উন্নীত হতে হলে- অবশ্যই সাধককে তার বংশ পরিচয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় গোপন রাখতে হয় এবং বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তাদের মধ্যে হতে যে কোনো একটি সত্তার ছদ্মনাম গ্রহণ করতে হয়। যেমন; লালন, বলন, লোকনাথ, বুদ্ধ, মুহাম্মদ (ﻤﺤﻤﺪ), ইসা (ﻋﻴﺴﻰٰ) ও মুসা (ﻤﻭﺴﻰٰ) ইত্যাদি। মানবকুলে পদার্পণ করার পর; মানুষ তাঁর বংশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় গোপন করে শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার দেবতায়িত ছদ্মনাম গ্রহণ করার মাধ্যমে দেবতাকুলে উন্নীত হন। আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে আধ্যাত্মিকবিদ্যা পরিচিতি পুস্তিকাটির রূপাশ্রয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

. গুরুকুল (Baptisia. ব্যাপ্টিজিয়া)/ ‘معمدانية’ (মা‘মিদানিয়া)

মানুষগুরু যে কোনো সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ বা যে কোনো গোত্রের হতে পারেন। গুরুর কোনো জাত নেই এবং গুরুর কোনো সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ নেই। যে কোনো মতবাদের বা যে কোনো গোত্রের লোক তাঁর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। গুরু ভক্তের উদ্ধারকারী বা ত্রাতা।

শ্বরবিজ্ঞানে; ‘গুরু’ পরিভাষাটি দ্বারা চারটি অভিধা প্রকাশিত হয়। যেমন; ১. জ্ঞান ২. শ্বাস ৩. সাঁই ও ৪. শিশ্ন। ক্ষেত্র বিশেষে এদের প্রত্যেককেই গুরু বলা হয়। সেজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে গুরু চার প্রকার; ১. মানুষগুরু (জ্ঞান) ২. জগৎগুরু (শ্বাস) ৩. কামগুরু (শিশ্ন) ও ৪. পরমগুরু (সাঁই)। মানুষগুরু প্রকৃত গুরু নয়। প্রকৃত গুরু হলেন; সাঁই। এজন্য; প্রকৃত গুরুর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত একের পর এক মানুষগুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করে যাওয়াই সব বুদ্ধিমানের কাজ। প্রকৃতগুরুর সন্ধানলাভ করার জন্য একাধিক গুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করা সর্বকালেই সিদ্ধ। তবে; প্রকৃতগুরুর সন্ধান পেয়ে গেলে আর মানুষগুরু পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।

গুরু (বাপৌরূ)বি উপদেষ্টা, উপদেশক, শিক্ষক, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী, সাম্প্রদায়িক জীবনের উপদেষ্টা, সাধনপন্থা নির্দেশক, সম্মানে বা বয়সে জ্যেষ্ঠ, মাননীয় ব্যক্তি, preceptor, ‘معلم’ (মুয়াল্লিম) বিণ ভারী, গুণসম্পন্ন, দুর্বহ, দায়িত্বপূর্ণ, কঠিন, মহান, দুরূহ, শ্রদ্ধেয়, মাননীয়, অতিশয়, অধিক (ব্যা) দীর্ঘ মাত্রাযুক্ত (প্র) ১. শ্বরবিজ্ঞানে; গুরু চার প্রকার। যথা; ১. মানুষগুরু (জ্ঞান) ২. জগৎগুরু (শ্বাস) ৩. কামগুরু (বলাই) ও ৪. পরমগুরু (সাঁই) ২. শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; নাসিকার সূর্যশ্বাস ও চন্দ্রশ্বাস বিশেষ . আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে; প্রেমগুরু বা কামগুরু। অর্থাৎ; কামের দেবতা মদন . আত্মতাত্ত্বিক ও মরমী সাধকদের মতে; জীবের লালনপালনকর্তা সাঁই (শ্ববি) জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, knowledge, আক্বল (.ﻋﻘﻝ), ইলিম (.ﻋﻟﻢ) (রূপ্রশ) বিচারক (ইপৌচা) মাহাদি (. ﻤﻬﺪﻯ), মুর্শিদ (.ﻤﺭﺷﺪ), পির (ফা.ﭙﻴﺭ), শায়েখ (.ﺷﻴﺦ)  (ইংপ) master, teacher (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীজ্ঞান পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও বাঙালী বাঙালী পৌরাণিক দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাদানকারী মহান মনীষীকে বাংলায় ‘গুরু বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; চিত্তপটে সঞ্চিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্যাদিকে বাংলায় জ্ঞান বা রূপকার্থে ‘গুরু বলা হয় (বাপৌছ) মানুষগুরু (বাপৌচা) সম্বিত (বাপৌউ) আলো (বাপৌরূ) গুরু (বাপৌমূ) জ্ঞান।

গুরু (বাপৌছ)বি উপদেষ্টা, উপদেশক, শিক্ষক, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী, সাম্প্রদায়িক জীবনের উপদেষ্টা, সাধনপন্থা নির্দেশক, সম্মানে বা বয়সে জ্যেষ্ঠ, মাননীয় ব্যক্তি, preceptor, ‘معلم’ (মুয়াল্লিম) বিণ ভারী, গুণসম্পন্ন, দুর্বহ, দায়িত্বপূর্ণ, কঠিন, মহান, দুরূহ, শ্রদ্ধেয়, মাননীয়, অতিশয়, অধিক (ব্যা) দীর্ঘ মাত্রাযুক্ত (প্র) ১. শ্বরবিজ্ঞানে; গুরু চার প্রকার। যথা; ১. মানুষগুরু (জ্ঞান) ২. জগৎগুরু (শ্বাস) ৩. কামগুরু (বলাই) ও ৪. পরমগুরু (সাঁই) ২. শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; নাসিকার সূর্যশ্বাস ও চন্দ্রশ্বাস বিশেষ . আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে; প্রেমগুরু বা কামগুরু। অর্থাৎ; কামের দেবতা মদন . আত্মতাত্ত্বিক ও মরমী সাধকদের মতে; জীবের লালনপালনকর্তা সাঁই ১. (অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং সারা চরাচর, গুরু তুমি পতিতপাবন পরমও ঈশ্বর (পবিত্র লালন- ৪২/১) ২. (রণে বনে পাহাড়ে ও জঙ্গলে যেখানে আমাকে স্মরণ করবে সেখানেই আমাকে পাবে (লোকনাথ ব্র‏‏হ্মচারী) (শ্ববি) শ্বাস, নিঃশ্বাস, প্রশ্বাস, breath,  respiration, দম (.ﺪﻡ), নাফ্স (.ﻧﻔﺲ) (রূপ্রশ)  ঘোণা, সৈনিক, যোদ্ধা, diarchy, horn, trumpet (পরি) নাসিকার সূর্যশ্বাস ও চন্দ্রশ্বাস বিশেষ (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীশ্বাস পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও ভারতীয় বাঙালী পৌরাণিক দেবতা বিশেষ (বায়ুর ক্ষেত্রে) (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাদানকারী মহান মনীষীকে বাংলায় ‘গুরু বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; নাসিকাযোগে চলাচলকারী বায়ুকে বাংলায় শ্বাস বা রূপকার্থে ‘গুরু বলা হয় (বাপৌছ) জগৎগুরু ও ফুৎকার (বাপৌচা) অনিল, পবন ও সমীর (বাপৌউ) কুকুর, প্রহরী ও সুর (বাপৌরূ) বাতাস (বাপৌমূ) শ্বাস।

গুরু (বাপৌছ)বি উপদেষ্টা, উপদেশক, শিক্ষক, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী, সাম্প্রদায়িক জীবনের উপদেষ্টা, সাধনপন্থা নির্দেশক, সম্মানে বা বয়সে জ্যেষ্ঠ, মাননীয় ব্যক্তি, preceptor, ‘معلم’ (মুয়াল্লিম) বিণ ভারী, গুণসম্পন্ন, দুর্বহ, দায়িত্বপূর্ণ, কঠিন, মহান, দুরূহ, শ্রদ্ধেয়, মাননীয়, অতিশয়, অধিক (ব্যা) দীর্ঘ মাত্রাযুক্ত (প্র) ১. শ্বরবিজ্ঞানে; গুরু চার প্রকার। যথা; ১. মানুষগুরু (জ্ঞান) ২. জগৎগুরু (শ্বাস) ৩. কামগুরু (বলাই) ও ৪. পরমগুরু (সাঁই) ২. শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; নাসিকার সূর্যশ্বাস ও চন্দ্রশ্বাস বিশেষ . আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে; প্রেমগুরু বা কামগুরু। অর্থাৎ; কামের দেবতা মদন . আত্মতাত্ত্বিক ও মরমী সাধকদের মতে; জীবের লালনপালনকর্তা সাঁই (“ত্রিবেণীর ত্রিধারে, মীন রূপে গুরু বিরাজ করে, কেমন করে ধরবি তারে, বলরে অবুঝ মন”) (পবিত্র লালন- ১৫৩/৩) (শ্ববি) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইপৌচা) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীপালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও বাঙালী পৌরাণিক পালনকর্তা দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাদানকারী মহান মনীষীকে বাংলায় ‘গুরু বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে বাংলায় পালনকর্তা বা রূপকার্থে ‘গুরু বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

গুরু (বাপৌছ)বি উপদেষ্টা, উপদেশক, শিক্ষক, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী, সাম্প্রদায়িক জীবনের উপদেষ্টা, সাধনপন্থা নির্দেশক, সম্মানে বা বয়সে জ্যেষ্ঠ, মাননীয় ব্যক্তি, preceptor, ‘معلم’ (মুয়াল্লিম) বিণ ভারী, গুণসম্পন্ন, দুর্বহ, দায়িত্বপূর্ণ, কঠিন, মহান, দুরূহ, শ্রদ্ধেয়, মাননীয়, অতিশয়, অধিক (ব্যা) দীর্ঘ মাত্রাযুক্ত (প্র) ১. শ্বরবিজ্ঞানে; গুরু চার প্রকার। যথা; ১. মানুষগুরু (জ্ঞান) ২. জগৎগুরু (শ্বাস) ৩. কামগুরু (বলাই) ও ৪. পরমগুরু (সাঁই) ২. শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; নাসিকার সূর্যশ্বাস ও চন্দ্রশ্বাস বিশেষ . আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে; প্রেমগুরু বা কামগুরু। অর্থাৎ; কামের দেবতা মদন . আত্মতাত্ত্বিক ও মরমী সাধকদের মতে; জীবের লালনপালনকর্তা সাঁই (পরমগুরু প্রেম পিরিতি, কামগুরু হয় নিজপতি, কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি, তাই ভাবে লালন”) (পবিত্র লালন- ২৬৫/৪) (শ্ববি) শিশ্ন, বাঁড়া, মেঢ়্র, হোল, penis, জকর (.ﺬﻜﺭ) (আঞ্চ) সোনা, পোতা, ধন (রূপ্রশ) বলাই, কামদেব, নারদ, বিম্বল, মদন, মন্মথ, মহাদেব, মাধব, রাবণ, লাঠি, শিব, হাত, পা, গাছ, রশি (ইপৌচা) আসা (.ﻋَﺼَﺎ), জাকারিয়া (.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (.ﺸﻤﺭ), হাবিল (.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইংপ) finger (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবলাই পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; মানুষকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাদানকারী মহান মনীষীকে বাংলায় ‘গুরু বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে বাংলায় বলাই বা রূপকার্থে ‘গুরু বলা হয় (বাপৌছ) কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, বামন, মরা ও শ্রী-চরণ (বাপৌচা) অনস্থী, আঙ্গুল, কর্ণ, জগাই, জনক, বিম্বল ও শুক্রাচার্য (বাপৌউ) আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, দৈত্য, লাঠি ও হাত (বাপৌরূ) বৈঠা (বাপৌমূ) বলাই।

গুরুকুল (বাপৌছ)বি গুরুপদ প্রাপ্ত মনীষীগণ, গুরুবৃত্তিধারী মনীষীগণ, গুরুর বংশ, গুরুর গোত্র কোন কুলে যাবি মন মনরায়, গুরুকুল যদি কেউ চায়, লোককুল তার ছাড়তে হয় (পবিত্র লালন- ৩৫৭/১) (শ্ববি) সিদ্ধিস্তর, সিদ্ধিকুল, একেশ্বর রাজ্য, জন্ম-মৃত্যুহীন দেশ, পুনর্জন্মহীনভাবে একেশ্বরে অবস্থান, সাধনপর্ব শেষ করে গুরুর নিকট হতে সর্ব সাধারণকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করার অনুমতি প্রাপ্তগণ (পরি) শ্বরবিজ্ঞানের সর্বশেষ আশ্রয় বা রূপাশ্রয়- যে আশ্রয়ে প্রবেশ করে সাধক যাজক হয়ে যাজন দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হন {বাং.গুরু+ বাং.কুল}

গুরুকুলের সংজ্ঞা (Definition of baptisia)
১.   শ্বরবিজ্ঞানে; পুনর্জন্মহীন, সংযতইন্দ্রিয় ও দেবতাগণের গুণাগুণ অর্জনকারী মহাসাধক সম্প্রদায়কে গুরুকুল বলে।
২.   শ্বরবিজ্ঞানে; জীবকুলে জন্মগ্রহণ করেও সাধন ভজনবলে সিদ্ধিলাভকারী মহাসাধক সম্প্রদায়কে গুরুকুল বলে।

গুরুকুলের পরিচয় (Identity of baptisia)
মানুষ ঈশ্বর হতে পারে না এবং ঈশ্বরও মানুষ হতে পারে না এ কথা চির সত্য। তেমনই; মানুষ গোরু হতে পারে না এবং গোরুও মানুষ হতে পারে না এ কথাও চির সত্য। তবে; কোনো মানুষের মধ্যে যখন গোরুর আচরণ দেখা যায় তখন ঐ লোকটিকে গোরু বলা হয়। মানুষকে গোরু বললে মানুষ আকৃতিগতভাবে গোরু হয়ে যায় না বরং তাঁর মধ্যে গোরুর স্বভাব বিদ্যমান তাই তাঁকে গোরু বলা হয়। ঠিক তেমনই; মানুষকে ঈশ্বর বললেই তিনি ঈশ্বর হয়ে যান না বরং মানুষ ঈশ্বরের মতো স্বভাব বা আচরণ অর্জন করেছেন এমন বুঝায়। ঈশ্বরের মধ্যে যত গুণাগুণ রয়েছে সব গুণাগুণ অর্জন না করলেই যে তাঁকে ঈশ্বর বলা যাবে না বিষয়টি এমন নয়। যেমন; মানুষকে গোরু বলার জন্য গোরুর সবগুণ মানুষের মধ্যে পাওয়ার প্রয়োজন হয় না বরং গোরুর যে কোনো একটি গুণ মানুষের মধ্যে পাওয়া গেলেই তাকে গোরু বলা যায়। তেমনই; মানুষকে ঈশ্বর (কুলেশ্বর, হৃদয়েশ্বর) বলার জন্য ঈশ্বরের সবগুণ তাঁর মধ্যে থাকার প্রয়োজন নেই বরং একটিগুণ পাওয়া গেলেই তাঁকে কুলেশ্বর বা হৃদয়েশ্বর বলা যায়।

মানুষগুরু (Inductor)
শ্বরবিজ্ঞানে; রক্তমাংসে গড়া জীবন্ত মানুষকে কখনই গুরু বলা হয় না। বরং গুরু বলা হয় মানুষের জ্ঞানকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদক মানুষরূপী গুরুকেই গুরু বলে বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। মানুষগুরু কৃত্রিমগুরু মাত্র। কালুশাহ ফকির একে নকলগুরু বলেছেন। মানুষরূপী গুরু যে প্রকৃত গুরু নন- এ ব্যাপারে নিচে কিছু প্রমাণ তুলে ধরা হলো। বলন কাঁইজি লিখেছেন;

গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়
      জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষগুরু ভজতে হয়।

মানুষগুরুর প্রেমপণ্যারে- জগৎগুরু চলেফেরে
ধরতে গেলে যায়রে দূরে- পরমগুরু কাছে রয়-
মানুষগুরু হইলে সদয়- জগৎগুরু দেয় পরিচয়
জানতে হয় তা নিরালায়- ভক্তিভজন রেখে ভয়।

মানুষগুরু হয় আকারে- জগৎগুরু রয় নিরাকারে
জ্ঞান দ্বারা ধরো তারে- নিকটে সে দূরে নয়-
দমে যায় দমেতে আসে- দিনরজনী ডানে বাঁয় সে
ফাঁদ পাঁতিয়া ধর কষে- ভক্তি দিয়ে উত্তরা বায়।

জগৎগুরু অপারলীলা- দেখবি তার রূপ রঙ্গিলা
করিসনে আর অবহেলা- সময় তোর অধিক নাই-
উত্তরা বায় ধরলে পাড়ি- মানুষগুরু হয় কাণ্ডারী
বলন কয় ভয় কী তারই- কালসমন দূরে পালায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)

মরমী সাধক কালুশাহ ফকির লিখেছেন;

নিরীক্ষ বান্ধরে দুই নয়নে ভুইলনা মন তাহারে
ঐ নাম ভুল করিলে যাবিরে মারা, পড়বিরে বিষম ফেরে।

আগে আপনকে চেন
পরে গুরুকে মান
দেহ পাশ করে আন
ওরে সই মহলের নকল গুরু
দেবেন তোমায় দয়া করে।

প্রেমের গাছে দুটি ফল
রসে করে টলমল
কত ভ্রমর হয় পাগল
সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্যে খাইলে
অমর হয় সে সংসারে।

প্রেমের হাটে গেলা না
প্রেমের সদাই কিনলা না
প্রেমের মানুষ চিনলা না
ওরে সেই মানুষের লাইগারে
মানুষ জঙ্গলে বসত করে।

ফকির কালুশাহ তাই কয়
মনরে বলি যে তোমায়
এই প্রেম সামান্যেতে নয়
এই প্রেমের লাইগারে মানুষ
ঘুরে জনম ভরে।” (গীতিকারঃ কালুশাহ ফকির)

মানুষের প্রকারভেদ (Variations of man)
সাধারণত; মানুষ দুই প্রকার। যথা; ১.নর ও ২.নারী।

. নর (Male)

নরের সংজ্ঞা (Definition of male)
শিশ্নবিশিষ্ট জীবকে নর বলে।

নরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of male)
অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী সত্তাকে নর বলে।

নরের প্রকারভেদ (Variations of male)
দৈহিকগঠন ও প্রকৃতিগতভাবে নর চার প্রকার। যথা; ১. শশক ২. মৃগ ৩. বৃষ ও ৪. অশ্ব।

এ বিষয়টি অত্র গ্রন্থের ‘নর’ শিরোনামে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

. নারী (Female)

নারীর সংজ্ঞা (Definition of female)
ভগচি‎‎হ্নধারিণী জীবকে নারী বলে।

নারীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of female)
নরদেহের শুক্রকে স্ত্রী বা নারী বলে।

নারীর প্রকারভেদ (Variations of female)
দৈহিক গঠন ও প্রকৃতিগতভাবে নারীজাতি চার প্রকার। যথা; ১. পদ্মিনী ২. চিত্রাণী ৩. শঙ্খিনী ও ৪. হস্তিনী।

এ বিষয়টি অত্র গ্রন্থের নারী শিরোনামে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অবস্থা ভেদে মানুষ আবার তিন প্রকার। যথা; ১. আকার-মানুষ ২. সাকার-মানুষ ও ৩. নিরাকার-মানুষ। বিশ্বের প্রতিটি পদার্থ আকারগত ভিন্ন ভিন্ন হলেও; সাকার, নিরাকার ও শক্তি এক রূপ। এ ব্যাপারে লালন সাঁইজি বলেছেন; “আকার অনন্ত রূপ সাকার এক রূপ, রয় সর্ব ঘটেতে, বান্দার রূপ খোদার রূপ হয়, ফকির লালন ভেবে কয়, পাক পাঞ্জাতন যাতে” (পবিত্র লালন- ৩৮৫/৪)। সারাবিশ্বের সব ভাষায়, সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদে, মানুষের অনেক ছদ্মনাম পাওয়া যায়। যেমন; “১. উবুদ-মানুষ, উবুদ-গাছ এবং ২.অচিন-মানুষ, অজানা-মানুষ, অটল-মানুষ, অধর-মানুষ, আলেক-মানুষ, কাছের-মানুষ, দেহের-মানুষ, নৈর-মানুষ, প্রেমের-মানুষ, মনের মানুষ, ভাবের-মানুষ, মানুষ-নিধি, মানুষ-রতন, মূল-মানুষ, রসের-মানুষ, রূপের-মানুষ, সত্য-মানুষ, সরল-মানুষ, সহজ-মানুষ, সোনার-মানুষ ও স্বরূপ-মানুষ।” যেমন; বাংলা ভাষায় মানুষের অনেক নাম দেখতে পাওয়া যায়; তেমনই; বিশ্বের সব ভাষাতেই মানুষের অনেক নাম পাওয়া যায়। পুরাণ ও বৈষয়িক সাহিত্যাদি হতে প্রাপ্ত নামগুলোর ওপর নির্ভর করেই, মানুষকে মোটামোটি তিনভাগে ভাগ করা হয়। ১. আকার-মানুষ ২. সাকার-মানুষ ও ৩. নিরাকার-মানুষ।

আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে; সর্ব পদার্থের অবস্থা তিনটি। ১. কঠিন ২. তরল ও ৩. বায়বীয়। তেমনই; শ্বরবিজ্ঞানের বস্তু তিন প্রকার। ১. আকার ২. সাকার ও ৩. নিরাকার। যেহেতু; মানুষ পদার্থ। এজন্য; মানুষের অবস্থাও তিন প্রকার হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ১. আকার ২. সাকার ও ৩. নিরাকার। বা ১. কঠিন ২. তরল ও ৩. বায়বীয়। লালন সাঁইজি এ ব্যাপারে পরিষ্কার সমাধান প্রদান করেছেন; “তিন মানুষের করণ বিচক্ষণ, তাই জানলে হয় এক নিরূপণ, অধীন লালন পড়ল গোলমালে, বিষম গোলমালে।” (পবিত্র লালন- ৮২/৪)। বিশ্বের সব সৃষ্টিকুল আকারে ভিন্ন ভিন্ন দেখালেও যখন তরল বা সাকাররূপ প্রাপ্ত হয় তখন সবকিছুই মাত্র একটি রূপে রূপান্তরিত হয়। আবার যখন নিরাকার রূপলাভ করে তখন সব পদার্থই স্রষ্টা রূপে বিশ্বের সবর্ত্র বিরাজ করতে পারে। অর্থাৎ; বিশ্বের সব পদার্থই আকার, সাকার ও নিরাকার- এ তিন অবস্থার বাইরে নয়। এ সূত্র হতে দেখা যায় যে; বিশ্বের সবকিছুরই সর্বশেষ রূপটি হলো শক্তি। আর শক্তিই হলো সবকিছুর স্রষ্টা। অর্থাৎ; মানুষ একবার শক্তি রূপে স্রষ্টা, একবার নিরাকার রূপে অদৃশ্য, আরেকবার তরল রূপে সাকার এবং সর্বশেষে কঠিন রূপে আকার। একটি সারণীর মাধ্যমে নিচে তা দেখানো হলো।

ক্র আকার / কঠিন সাকার / তরল নিরাকার /বায়বীয় শক্তি
১. ১. আকার লোহা ২. সাকার লোহা ৩. নিরাকার শক্তি
২. ১. আকার ডাবগাছ ২. সাকার ডাবগাছ ৩. নিরাকার শক্তি
৩. ১. আকার কুক্কুট ২. সাকার কুক্কুট ৩. নিরাকার শক্তি
৪. ১. আকার-মানুষ ২. সাকার-মানুষ ৩. নিরাকার শক্তি

আকার-মানুষ (Corporeal man)

আকার (বাপৌছ)বি ১. মূর্তি, আকৃতি, গঠন, ধরন, লক্ষণ ২. ‘া’-এই চিহ্ন, ‘আ’-স্বরবর্ণ ব্যঞ্জন বর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হলে যে বিশিষ্ট রূপ লাভ করে তার নাম (বাপৌরূ) মূর্তি (বাপৌমূ) দেহ।

আকার-মানুষ (বাপৌছ)বি মানব, মানুষ্য, মনু, লোক, জন, নর, ব্যক্তি, man, নাছ (.ﻨﺎﺲ), বাশার (.ﺒﺸﺭ), রাজুল (.ﺮﺠﻞ), মারয়ু (.ﻤﺭﺀ) বিণ মানবীয়, বয়ঃপ্রাপ্ত, মানুষ্য সম্পর্কীয়, মানবীয় গুণসম্পন্ন, লালনপালন দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত (শ্ববি) বৃক্ষ, কল্পতরু, কল্পদ্রুম, কল্পবৃক্ষ, পাহাড় (সংজ্ঞা) সৃষ্টিকুলের সর্বোচ্চ বিবেকবান জীবকে মানুষ বা রূপকার্থে গাছ বলা হয় (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীর মানুষ পরিবার প্রধান ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (বাপৌউ) চাঁদ, উবুদগাছ (বাপৌরূ) গাছ (বাপৌমূ) মানুষ।

আকার-মানুষের সংজ্ঞা (Definition of corporeal man)
১.   বিশ্বের সর্বোচ্চ বিবেকসম্পন্ন জীবকে আকার-মানুষ বলে।
২.   রক্তমাংসে গড়া দেহধারী মানুষকে আকার-মানুষ বলে।
৩.   শুক্রাণু ও ডিম্বানু মিলিত হওয়ার পর যে মানব ভ্রূণ সৃষ্টি হয় তাকে আকার-মানুষ বলে।

মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হওয়া ও ক্রমে ক্রমে বড় হওয়া রক্তমাংসে গড়া দেহধারী মানুষই হলো আকার-মানুষ। শ্বরবিজ্ঞানে; আকার-মানুষকে ‘উবুদ-মানুষ’, ‘উবুদ-গাছ’ ও ‘জ্যান্ত-মানুষ’ বলা হয়। আকার-মানুষ যে ভজন ও পূজনের যোগ্য নয় তা সাঁইজির বাণীতেই প্রমাণিত হয়েছে। যেমন; “ভজনের মূল নয় আকার, গুরু শিষ্য হয় প্রচার, সাকার রূপেতে আকার নির্ণয়, আকার ছাড়া সাকার রূপ নাহি রয়।” (পবিত্র লালন- ৬৬/২)

আকার মানুষের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of corporeal man)
১.   “উবুদ-মানুষ জগতের মূল গোড়া হয়, করণ তার বেদ ছাড়া, ধরা সহজ নয়।” (পবিত্র লালন- ১৯৬/১)
২.   “সে পথেতে তিনটি মরা, জ্যান্ত-মানুষ খাচ্ছে তারা, লালন বলে মরার মরা, খেলছে খেলা তার সাথে।” (পবিত্র লালন- ২৩৩/৪)

তরল-মানুষ (Aqueous man)

তরল বিণ পাতলা, গলিত, আর্দ্র, ভেজা, সিক্ত, অস্থির, চঞ্চল, লঘু, গলিত জলবৎ রূপপ্রাপ্ত স্ত্রী তরলা।
তরল-মানুষ (বাপৌছ)বি মানব, মানুষ্য, মনু, লোক, জন, নৃ, নর, ব্যক্তি বিণ মানবীয়, বয়ঃপ্রাপ্ত, মানুষ্য সম্পর্কীয়, মানবীয় গুণসম্পন্ন, লালনপালন দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত (বাপৌউ) উপাস্য, পালক (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা স্ত্রী মানুষী।

তরল-মানুষের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of aqueous man)
১.   “জলের-মানুষ না হলে, মানুষ-নিধি ভাগ্যে কী মিলে, যে জলে জ্বালায় আগুন, সে জল পায় যোগ্য হলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৬)
২.   “ধরবি যদি মানুষ-নিধি, ধরগে দ্বিপদী বায়ুনদী, গুরু রূপে নয়ন বাঁধি, রসবিহারী কর নিজেকে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৪)

তরল-মানুষের সংজ্ঞা (Definition of aqueous man)
কঠিন আকার ধারণ করার পূর্বে স্বাধিষ্ঠানচক্রে অবস্থিত জলাকার স্বরূপকে তরল-মানুষ বলে।

মানুষের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের প্রতি লক্ষ্য করেই মহাত্মা লালন সাঁইজি আজ হতে প্রায় সার্ধশত বছর পূর্বে সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষের; “অচিন-মানুষ, অজানা-মানুষ, অটল-মানুষ, অধর-মানুষ, আলেক-মানুষ, কাছের-মানুষ, দেহের-মানুষ, নৈর-মানুষ, প্রেমের-মানুষ, মনের মানুষ, ভাবের-মানুষ, মানুষ-নিধি, মানুষ-রতন, মূল-মানুষ, রসের-মানুষ, রূপের-মানুষ, সত্য-মানুষ, সরল-মানুষ, সহজ-মানুষ, সোনার-মানুষ ও স্বরূপ-মানুষ”; এসব ছদ্মনাম নির্মাণ করেছিলেন। আলোচ্য ছদ্মনামগুলো দ্বারা একমাত্র তরল-মানুষ বা সাকার-মানুষ সাঁই বুঝায়।

সাকার-মানুষ (Waterish man)
সাকার (বাপৌছ)বি কিছুটা মূর্তমান হয়েছে এমন, কিছুটা রূপ ধরেছে এমন, পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে নি এমন (ভাঅ) তরলবৎ, জলবৎ, জলাকার, তরল আকার (বাপৌউ) উপাস্য, পালক (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা Jস্ত্রী সাকারা।

সাকার-মানুষ (বাপৌছ)বি স্বরূপ-মানুষ, তরল-মানুষ (শ্ববি) পালনকর্তা, ঈশ্বর, প্রভু, বিষ্ণু, বুদ্ধ, স্বামী, guardian, রব (.ﺮﺐ) (রূপ্রশ) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) মাতৃগর্ভে মানব-ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত মানবজলকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে সাকার-মানুষ বলা হয় (পরি) তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্বপালনকারী সুমিষ্ট সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (বাপৌউ) উপাস্য, পালক (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {বাং.সাকার + বাং.মানুষ}

সাকার-মানুষের সংজ্ঞা (Definition of waterish man)
মাতৃগর্ভে মানব-ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত জলকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে সাকার-মানুষ বলে।

শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত সব পরিভাষা দ্বারা শব্দের আভিধানিক অর্থ বুঝায় না। বাক্যের ভাবার্থের ওপর লক্ষ্য করলে দেখা দেখা যায়, একই পরিভাষা দ্বারা কখনও বাস্তব অভিধা ও কখনও রূপকাভিধা প্রকাশ করে। আলোচ্য সাকারী মানুষকে রূপকার্থে; “অচিন-মানুষ, অজানা-মানুষ, অটল-মানুষ, অধর-মানুষ, আলেক-মানুষ, কাছের-মানুষ, দেহের-মানুষ, নৈর-মানুষ, প্রেমের-মানুষ, মনের মানুষ, ভাবের-মানুষ, মানুষ-নিধি, মানুষ-রতন, মূল-মানুষ, রসের-মানুষ, রূপের-মানুষ, সত্য-মানুষ, সরল-মানুষ, সহজ-মানুষ, সোনার-মানুষ ও স্বরূপ-মানুষ” ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। যেমন; “ঘর আছে দুয়ার নাই, মানুষ আছে তার কথা নাই, কেবা তার আহার জোগায়, কে দেয় সন্ধ্যাবাতি” (পবিত্র লালন- ৪৪০/৩)

“এত মাছ ধরা পড়েছে দেখে শিমোন ও তাঁর সঙ্গীরা সবাই আশ্চর্য হলো। কল্মাষের ব্যবসার ভাগীদার ইয়াকুব ও ইউহোন্না নামে সিবদিয়ের দুটা ছেলেও আশ্চর্য হলেন। কানীন কল্মাষকে বললেন; “ভয় কর না এখন হতে তুমি সাঁইজির জন্য মানুষ ধরবে।” (ইঞ্জিল- ৩য় খণ্ড, লূক- ৫/৯- ১০)

নিরাকার-মানুষ (Incorporeal man)
নিরাকার বিণ বিমূর্ত, আকারহীন, অবয়বহীন, দেহহীন, নিরবয়ব, মূর্তিহীন বি আকাশ {বাং.নির+ বাং.আকার}
নিরাকার-মানুষ (বাপৌছ)বি বায়বীয়-মানুষ, আকার বা সাকার রূপ-ধারণ করে নি এমন মানুষ।

নিরাকার-মানুষের সংজ্ঞা (Definition of incorporeal man)
মানুষের কঠিন বা তরল আকার ধারণ করার পূর্ববর্তী অবস্থাকে নিরাকার-মানুষ বলে। (যদিও এ সংজ্ঞাটি যুক্তিযুক্ত নয়)

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের ধারণা মতে; বিশ্বের সব আকারী বা কঠিন পদার্থেই তাপ প্রয়োগ করলে সাকার বা তরল রূপ-ধারণ করে। আরও অধিক তাপ প্রয়োগ করলে তা নিরাকার বা বায়বীয় রূপ-ধারণ করে। বায়বীয় রূপ-ধারণ করলে সব পদার্থই নিরাকার রূপে অবস্থান করে। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে এমন হওয়া অবাস্তব, তবুও; একান্ত যৌক্তিক কারণে শ্বরবিজ্ঞানের কোথাও কোথাও নিরাকার-মানুষের আলোচনা করা হয়। নিরাকার-মানুষের বাস্তব কোনো সাধন ও ভজন না থাকলেও শ্বরবিজ্ঞানে নিরাকার-মানুষের যৌক্তিক সামান্য আলোচনা লক্ষ্য করা যায়। যেমন; “নিরাকার ব্রহ্ম হয় সে, সদাই ফিরে অচিনদেশে, দোসর তার নাইকো পাশে, সে ফিরে একা একা” (পবিত্র লালন- ৭০৩/২)

মানুষের চরণ (Leg of man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানুষের শিশ্ন ও স্ত্রী জননাঙ্গকে একত্রে রূপকার্থে মানুষের চরণ বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানের পবিত্রতা ও সার্বজনীনতা রক্ষা করার জন্যই, উক্ত লজ্জাস্কর পরিভাষা দুটি পরিহার করে ‘চরণ’ নামক এমন বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা গ্রহণ করা হয়েছে।

চরণ (বাপৌউ)বি পা, পদ, পাদ, বিচরণ, ভ্রমণ, চলন, আচরণ, অনুষ্ঠান বা কার্যকলাপ, কবিতার পদ, শ্লোকের এক চতুর্থাংশ (শ্ববি) শিশ্ন, বাঁড়া, মেঢ়্র, হোল, penis, জকর (.ﺬﻜﺭ) (আঞ্চ) সোনা, পোতা, ধন (রূপ্রশ) বলাই, কামদেব, নারদ, বিম্বল, মদন, মন্মথ, মহাদেব, মাধব, রাবণ, লাঠি, শিব, হাত, পা, গাছ, রশি (ইপৌচা) আসা (.ﻋَﺼَﺎ), জাকারিয়া (.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (.ﺸﻤﺭ), হাবিল (.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইংপ) finger (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবলাই পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; পা বা পদকে বাংলায় ‘চরণ বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে বাংলায় বলাই বা রূপকার্থে ‘চরণ বলা হয় (বাপৌছ) কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, বামন, মরা ও শ্রী-চরণ (বাপৌচা) অনস্থী, আঙ্গুল, কর্ণ, জগাই, জনক, বিম্বল ও শুক্রাচার্য (বাপৌউ) আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, দৈত্য, লাঠি ও হাত (বাপৌরূ) বৈঠা (বাপৌমূ) বলাই।

মানুষের চরণ (বাপৌছ)বি মানুষের পা, মানুষের পদ ১. “ভজবি যদি মানুষের চরণ, মক্কাতে কেন করো গমন, যা ইচ্ছা তাই করো এখন, এ জনম যে আর পাবি না।” (পবিত্র লালন- ৫২৫/২) ২. “ভজ মানুষের চরণ দুটি, নিত্যবস্তু পাবি খাঁটি, মরলে সব হয় মাটি, ত্বরায় এ ভেদ লও জেনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/২) (সংজ্ঞা) শিশ্ন ও স্ত্রী জননাঙ্গকে একত্রে উপস্থ বা রূপকার্থে মানুষের চরণ বলা হয় (শ্ববি) কণ্ডনী, ঘানি, ভগবান, শুম্ভ-নিশুম্ভ, মধু-কৈটভ, সুন্দ-উপসুন্দ, হারুত মারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ ﻤﺎﺭﻮﺓ) (বাপৌউ)  ঘানি (বাপৌরূ) কণ্ডনী (বাপৌমূ) উপস্থ {বাং.মানুষ > + বাং.চরণ}

উল্লেখ্য যে; যদিও সাধারণ সাহিত্যে চরণ পরিভাষাটি দ্বারা কেবল পা ও কবিতার পদ বুঝায়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; ‘চরণ’ পরিভাষাটি দ্বারা আরও পাঁচটি অভিধা বুঝানো হয়। যেমন; ১. আশ্রয় ২. নাসিকা ৩. দর্শন ৪. উপস্থ ও ৫. কাম। ক্ষেত্র বিশেষে এদের প্রত্যেককেই চরণ বলা হয়। এজন্য; চরণের উপরোক্ত অভিধার সাথে নিচে পাঁচটি আধ্যাত্মিক অভিধা প্রদান করা হলো।

চরণ (বাপৌছ)বি পা, পদ, পাদ, বিচরণ, ভ্রমণ, চলন, আচরণ, অনুষ্ঠান বা কার্যকলাপ, কবিতার পদ, শ্লোকের এক চতুর্থাংশ (শ্ববি) . আশ্রয়, প্রশ্রয়, ঠাঁই। যেমন; “আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই, নইলে মোর দশা কী এমন হয়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬) . দর্শন, সন্ধান, পাত্তা, পরিচয়, ইয়ত্তা, অবগতি, দেখা, সাক্ষাত, দর্শনলাভ। আমায় চরণ ছাড়া করো না, হে দয়ালহরি, পাপ করি পামরা বটে, দোষ দিই তোমারি (পবিত্র লালন- ১২২/১)

চরণ (বাপৌছ)বি পা, পদ, পাদ, বিচরণ, ভ্রমণ, চলন, আচরণ, অনুষ্ঠান বা কার্যকলাপ, কবিতার পদ, শ্লোকের এক চতুর্থাংশ ভজ মানুষের চরণ দুটি, নিত্যবস্তু পাবে খাঁটি, মরলে সব হবে মাটি, ত্বরায় এ ভেদ লও জেনে (পবিত্র লালন- ৯২৮/২) (শ্ববি) উপস্থ, কণ্ডনী, ঘানি, জনিত্র, ভগবান, সেগো, শুম্ভ-নিশুম্ভ, জননেন্দ্রিয়, the reproductive organ (ব্য্য) শিশ্ন ও স্ত্রী জননাঙ্গকে একত্রে উপস্থ বলা হয় (ফাপ) মাহগির (ফা.ﻤﻫﻰﮔﻴﺭ) (ইংপ) reproducer (ইদে) হারুতমারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ ﻤﺎﺭﻮﺓ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীউপস্থ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; পা বা পদকে চরণ বলা হয় . শ্বরবিজ্ঞানে; শিশ্ন ও স্ত্রী জননাঙ্গকে একত্রে উপস্থ বা রূপকার্থে চরণ বলা হয় (বাপৌছ) দ্বাপর ও ভগবান (বাপৌচা) জনিত্র ও মধুমালা (বাপৌউ) ঘানী ও তপোবন (বাপৌরূ) কণ্ডনী (বাপৌমূ) উপস্থ।

উপস্থের সত্তা আবার ২টি। যথা; ১.বলাই ও ২.কানাই। নিচে এদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

চরণ (বাপৌছ)বি পা, পদ, পাদ, বিচরণ, ভ্রমণ, চলন, আচরণ, অনুষ্ঠান বা কার্যকলাপ, কবিতার পদ, শ্লোকের এক চতুর্থাংশ “একদিন চরণ থেমেছিল, তাইতো; মন্দাকিনী হলো, পাপ হরা সুশীতল, সে মধুর চরণখানি” (পবিত্র লালন- ৪৫০/২) (শ্ববি) (শ্ববি) বলাই, মদন, মাধব, নারদ, লাঠি, নাড়া, হাত, গাছ, রশি (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীবলাই পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; পা বা পদকে চরণ বলা হয় . শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে বলাই বা রূপকার্থে চরণ বলা হয় (ইদে) জাকারিয়া (.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (.ﺸﻤﺭ), হাবিল (.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইংপ) Finger (বাপৌছ) কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, বামন, মরা ও শ্রী-চরণ (বাপৌচা) অনস্থী, আঙ্গুল, কর্ণ, জগাই, জনক, বিম্বল ও শুক্রাচার্য (বাপৌউ) আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, দৈত্য, লাঠি ও হাত (বাপৌরূ) বৈঠা (বাপৌমূ) বলাই।

চরণ (বাপৌছ)বি পা, পদ, পাদ, বিচরণ, ভ্রমণ, চলন, আচরণ, অনুষ্ঠান বা কার্যকলাপ, কবিতার পদ, শ্লোকের এক চতুর্থাংশ “মুর্শিদের চরণ সুধা, পান করলে হরে ক্ষুধা, করো না মন দিলে দ্বিধা, যে মুর্শিদ সে-ই তো খোদা, বুঝ অলিয়াম মুর্শিদা আয়াত লেখা কুরানেতে(পবিত্র লালন- ৭৯৯/২) (শ্ববি) অযোধ্যা, কানাই, গণ্ডগ্রাম, গোকুল, গোষ্ঠ, নাগিনী, ব্রজ, রজকিনী (ভাঅ) গুয়া, যোনি, vagina, ফারজ (.ﻔﺮﺝ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীকানাই পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; পা বা পদকে চরণ বলা হয় . শ্বরবিজ্ঞানে; যোনিকে কানাই বা রূপকার্থে চরণ বলা হয় (ইংপ) origin, source (ইপ) মক্কা (.ﻤﻜﺔ) (ইদে) দাজ্জাল (.ﺪﺟﺎﻞ), হামান (.ﻫﺎﻤﺎﻦ), হারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ) (বাপৌছ) কলাপী, কালনাগিনী, দস্যু, দানব, ব্রজপুর, মরা ও রাক্ষস (বাপৌচা) অনন্ত, কবন্ধ, ধন্বন্তরী, বরুণ, বৃত্র, মাধাই ও হিবাচী (বাপৌউ) অন্ধকূপ, করঙ্গ, গোকুল, চিতা, চুলা, পাখি ও প্রস্তর (বাপৌরূ) রজকিনী (বাপৌমূ) কানাই ।

চরণ (বাপৌছ)বি পা, পদ, পাদ, বিচরণ, ভ্রমণ, চলন, আচরণ, অনুষ্ঠান বা কার্যকলাপ, কবিতার পদ, শ্লোকের এক চতুর্থাংশ; “চরণ ছেড় না রে ছেড় না, দয়াল নিতাই কাউরে, ফেলে যাবে না(পবিত্র লালন- ৫১৪/১) (শ্ববি) কাম, কেলি, সাধন, পূজা, যজ্ঞ, হোম, নিত্যকর্ম, পাশাখেলা, বাইচালি, বপ্রকেলি, বপ্রক্রীড়া, journey (ভাঅ) গমন, মিলন, কাম, সঙ্গম, সম্ভোগ, sexual intercours, ওয়াত্বিউ (.ﻭﻄﻰ), জিমাউ (.ﺠﻤﺎﻉ), লাওয়াত্বাত (.ﻟﻮﺍﻄﺔ) (অশি) চুদ, চুদন, চুদা (আঞ্চ) করা, লাগানো, গুয়ানো (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীসঙ্গম পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; পা বা পদকে চরণ বলা হয় . শ্বরবিজ্ঞানে পুরুষ-নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা রূপকার্থে চরণ বলা হয় (ফাপ) বন্দেগি (ফা.ﺒﻧﺪﮔﻰ) (ইপ) ইবাদত (.عبادة), সালাত (.ﺻﻠﻮﺓ) (ইংপ) prayer, rape, copulation (বাপৌছ) তাপন, পাশাখেলা ও বাইচালি (বাপৌচা) আহব, উদ্বন্ধন ও পূজা (বাপৌউ) পর্যটন, ভ্রমণ ও যজ্ঞ (বাপৌরূ) উপাসনা (বাপৌমূ) কাম।

শ্বরবিজ্ঞানে; চরণ আবার চার প্রকার। যথা; ১. অভয়চরণ ২. যুগলচরণ ৩. রাঙাচরণ ও ৪ .শ্রীচরণ। নিচে তাদের সংজ্ঞা বর্ণনা করা হলো।

. অভয়চরণ (Interpid leg)
পিতা-মাতা ও গুরুজনের চরণকে অভয়চরণ বলে।

. যুগলচরণ (Pairs leg)
উপস্থ বা নাসিকার শ্বাসদ্বয়কে একত্রে যুগলচরণ বলে।

. রাঙাচরণ (Flushed leg)
১.   সাঁই ও কাঁই দর্শনকে রাঙাচরণ বলে।
২.   চক্ষুবন্ধ করে ধ্যানরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া গুরুজনের আলোকময় চরণকে রাঙাচরণ বলে।

. শ্রীচরণ (Lithe. লাইদ)/ ‘رشيق’ (রাশিক্ব)
১.   শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে শ্রীচরণ বলে।
২.   শ্বরবিজ্ঞানে; সাঁই ও কাঁই দর্শনকে শ্রীচরণ বলে।

মানুষের লীলাখেলা (Strange amusement of man)
“ভাব দিয়ে খুলো ভাবের তালা, দেখবি মানুষের লীলাখেলা, ঘুচে যাবে শমনজ্বালা, থাকলে ঐরূপ নিহারে” (পবিত্র লালন- ৮৫/২)। নর ও নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা রূপকার্থে লীলাখেলা বলা হয়।

অচেনা-মানুষ (Unknown man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে অচিন-মানুষ বলা হয়। তবে; ‘অচিন-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাস, আত্মা বা মনকেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘অচিন-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা সাঁই বা সাকার-মানুষ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

অচেনা মানুষের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of unknown man)
১.   “অচেন-মানুষ আপন ঘরে, কে তারে চিনতে পারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ০২)
২.   “আছে দিন দুনিয়ার অচেনা-মানুষ একজনা, কাজের বেলায় পরশমণি, অসময়ে তাঁরে কেউ চেনে না।” (পবিত্র লালন- ৮৩/১)
৩.   “সূক্ষ্ম প্রেমরসিক যারা, চেনে নিগূঢ় সে ত্রিধারা, অচেন-মানুষ চেনে তারা, দুই রূপে একরূপ ধরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ০২)

অজানা-মানুষ (Unsighted man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে অজানা-মানুষ বলা হয়। তবে; ‘অজানা-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাস, আত্মা বা মনকেউ বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘অজান-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা সাঁই বা সাকার-মানুষ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

অজানা-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of unsighted man)
“শুনে অজানা এক মানুষের কথা, প্রভু গোরাচাঁদ মুড়ালেন মাথা।” (পবিত্র লালন- ৮৯৫/১)

অটল-মানুষ (Constant man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘অটল-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ’অটল-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘অটল-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

অটল-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of constant man)
অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)

অধর-মানুষ (Elusive man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মাতৃগর্ভে সর্বজীব লালনপালনে নিয়োজিত অমৃতরসকে পালনকর্তা বা অধর-মানুষ বলা হয়। মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘অধর-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘অধর-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাস, আত্মা বা মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘অধর-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা সাঁই বা সাকার-মানুষ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

অধর-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of elusive man)
“সপ্ততালা ভেদ করলে, হাওয়ার ঘরে যাওয়া যায়, হাওয়ার ঘরে গেলে পরে, অধর-মানুষ ধরা যায়।” (পবিত্র লালন- ৯১১/১)

আলেক-মানুষ (Miraculous Man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে আলেক-মানুষ বলা হয়। তবে; আলেক-মানুষবাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘আলেক-মানুষ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

আলেক মানুষের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of miraculous man)
১.   “অলোক-মানুষ নদীয়ায়, ভাসছে রসে ত্রিধারায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ০৭)
২.   “আলেক-মানুষ ধররে ধর, অমরাপুর নদীয়ায়, আপন ঘরে পরমনিধি, প্রাতঃ-সন্ধ্যা আসে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৭)
৩.   “একি অনন্তলীলে দেখ এবার, আলেক-মানুষ আপে বারি, ক্ষণেক সাকার ক্ষণেক নিরাকার।” (পবিত্র লালন- ২০৪/১)
৪.   “জলের মধ্যে চাঁদ দেখা যায়, ধরতে গেলে হাতে কে পায়, আলেক-মানুষ তেমনি সদাই, থাকে আলেকে মিশে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৭/২)
৫.   “শুদ্ধ-প্রেম রসিক বিনা, কে তারে পায়, যার নাম আলেক-মানুষ আলেকে রয়।” (পবিত্র লালন- ৮৮৬/১)
৬.   “সহজে কী পাবি তারে, আলেক-মানুষ নিঠাঁই ঘরে, কঠিন গোপনে অগোচরে, পড়শি লয়ে চুরি করে। ” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৩)

উবুদ-মানুষ (Prostrate man)
শ্বরবিজ্ঞানে; “উবুদ-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা আকার-মানুষ বা রক্তমাংসে গড়া দেহধারী মানুষ বুঝায়। এছাড়াও; উবুদ-গাছ, উবুদ-নদী ও জ্যান্ত-মানুষ ইত্যাদি পরিভাষা দ্বারাও জীবন্ত মানবদেহ বুঝায়। এ বিষয়ে বিশ্বের সব ভাষার ও সব পরম্পরার মরমী গীতিকার বা রূপকারগণ একমত।

উবুদ মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of prostrate man)
উবুদ-মানুষ জগতের মূল গোড়া হয়, করণ তার বেদ ছাড়া, ধরা সহজ নয়।” (পবিত্র লালন- ১৯৬/১)

কাছের-মানুষ (Approaching man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “কাছের-মানুষ” বলা হয়। তবে; “কাছের-মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “কাছের-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

কাছের-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of approaching man)
কাছের-মানুষ  ডাকছ কেন, সুর করে, ক্ষ্যাপা তুই যেখানে সেও সেখানে, অযথা খুঁজে বেড়াস কারে।” (পবিত্র লালন- ২৬৯/১)

জ্যান্ত-মানুষ (Alive man)
শ্বরবিজ্ঞানে; “জ্যান্ত-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা আকার-মানুষ বা রক্তমাংসে গড়া দেহধারী মানুষ বুঝায়। এছাড়াও; উবুদ-গাছ, উবুদ-নদী ও উবুদ-মানুষ ইত্যাদি পরিভাষা দ্বারাও জীবন্ত মানবদেহ বুঝায়। এ বিষয়ে বিশ্বের সব ভাষার ও সব পরম্পরার মরমী গীতিকার বা রূপকারগণ একমত।

জ্যান্ত-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of alive man)
“সে পথেতে তিনটি মরা, জ্যান্ত-মানুষ খাচ্ছে তারা, লালন বলে মরার মরা, খেলছে খেলা তার সাথে।” (পবিত্র লালন- ২৩৩/৪)

তরল-মানুষ (Watery man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘তরল-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘তরল-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘তরল-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

তরল-মানুষের প্রকারভেদ (Variations of watery man)
তরল-মানুষ দুই প্রকার। ১. শুক্র ও ২. সুধা।

. শুক্র (Semen)
শ্বরবিজ্ঞানে; কয়েক প্রকার মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়। সর্বপ্রকার মানুষকে ১. আকার-মানুষ ২. সাকার-মানুষ ও ৩. নিরাকার-মানুষ; এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। এখানে; সাকার বা তরল-মানুষের কথা এসেছে। যে মানব রস এখনও মূর্ত আকার ধারণ করে নি তাকেই তরল বা সাকার-মানুষ বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; সাকার-মানুষের অবস্থা দুটি। যথা; ১. শুক্র ও ২. সুধা। যথাস্থানে এসব বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে।

শুক্র অর্থে ব্যবহৃত তরল মানুষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some important quotes of the liquid man, used in the sense of semen)
১.   “অথৈজলে জল কারাগার সে সপ্তসাগর তলে, কিঞ্চিৎ জল দেয় পান করিবার মাসটি গত হলে, মনোহরী সাগরকন্যা সেথায় মানুষ ধরে খায়, পালাক্রমে আহার করে কারো নিস্তার নাই, কী ঘটে অন্তিমকালে, আমার পরাণ কাঁপে ডরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৩)
২.   “কানা নেংড়া যুক্তি করে, বিতংস পেতে মানুষ ধরে, চোখ বেন্ধে মুক্ত করে, ভরে রাখে জেলখানাতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬)
৩.   “ভূতের বাড়ির পশ্চিমে অন্ধকার যে কুঠরি, ঐ বন্দিশালে বন্দী রাখে মরা-মানুষ ধরি ধরি, করে মরা গোরু ভজনা- বিচারপালা হয় সূচনা, বলন কয় সে ভেদখানা, জানাও গো আমার কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৬)
৪.   “ষোল কলা নয় প্রহরে, মানুষ মারে দিন দুপুরে, বলন কয় গোপন ঘরে, গিয়ে কর গুরু ভজনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৪)

. সুধা (Nectar)
শ্বরবিজ্ঞানের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো সুধা। শ্বরবিজ্ঞানে; একে রূপকে বর্ণনা করা হয় বলে সাধারণ পাঠকরা তা অনুধাবন করতে পারে না। উল্লেখ্য যে; কেবল মানবজলকেই সুধা বলা হয়। অন্যথা যারা গুরুর জ্ঞান ও গুরুর মুখের বাণীকে সুধা বলে থাকেন তারা বোকার রাজ্যের বাসিন্দা। এছাড়াও; যে সাম্প্রদায়িকরা প্রয়াণোত্তরকালে সুধা পাওয়া যাবে, প্রয়াণের পূর্বে সুধা পাওয়া যায় না, সুধা বলে কিছু নেই, সাম্প্রদায়িক জ্ঞানই সুধা ও ভালো কথাই সুধা এমন বলে থাকেন, তারাও বোকার রাজ্যের বাসিন্দা। যথা স্থানে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সুধা অর্থে ব্যবহৃত তরল-মানুষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(A important quotes of the liquid man, used in the sense of nectar)
“তিন মহাজন বসে একঘরে, মন বাঁধা এক নিহারে, তরল-মানুষ ধরবি যদি, ভাঙ্গো দেখি বেদের বেড়া।” (পবিত্র লালন- ৭৭০/৩)

দেহের-মানুষ (Man of body)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘দেহের-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘দেহের-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘দেহের-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

দেহের মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of man of body)
“আমার মনরে দিন থাকতে, চেনে দেহের-মানুষ ধর, আগে মনের-মানুষ ধর, সার আপনকর্ম সার।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/১)

নৈর-মানুষ (Aquatic man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “নৈর-মানুষ” বলা হয়। তবে; “নৈর-মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস, ‘আত্মা বা ‘মনকেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “নৈর-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

নৈর-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of aquatic man)
“আবার নৈর-মানুষের কথা, শুনলে মনে লাগে ব্যথা, লালন বলে ভাঙ্গবি মাথা, পড়লে কাঠমোল্লার হাতে।” (পবিত্র লালন- ১৮৬/৩)

প্রেমের-মানুষ (Man of love)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “প্রেমের-মানুষ” বলা হয়। তবে; “প্রেমের-মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “প্রেমের-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

প্রেমের-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of man of love)
“অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)

ভাবের-মানুষ (Man of affection)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “ভাবের-মানুষ” বলা হয়। তবে; “ভাবের-মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “ভাবের-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

ভাবের-মানুষের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of man of affection)
১.   “অচেনা এক অচিনদেশে, ভাবের এক মানুষ এসে, ঘুরে বেড়ায় কী তালাসে, সদাই ঘুরেফিরে সে কোন মানুষে।” (পবিত্র লালন- ২২৫/২)
২.   “অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)

মনের-মানুষ (Sexton. সেক্সটোন)/ ‘قندلفت’ (কান্দালিফাত)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘মনের-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘মনের-মানুষ; এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাস, আত্মা বা মনকেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘মনের-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

মনের-মানুষের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of man of mind)
১.   “কী সন্ধানে যাই সেখানে মনের-মানুষ যেখানে, আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি, দিবারাতি নাই সেখানে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/১)
২.   “পূর্ণিমাশশী বিলীন হইলে তমসা নেমে আসে, মনের-মানুষ ছাড়িয়া গেলে নয় নজলে ভাসে, ডুবিয়া গেলে রবি শশীরে, ঐ আলো জ্বলে কী কিরণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)
৩.   “মনের-মানুষ হারাইয়া গেলে পুড়ে প্রেমাগুনে, অন্তরেন নিদারুণ ব্যথা কেহ নাহি জানে, দয়ালের বিচ্ছেদের ব্যথায়রে, বলন পুড়িছে আগুনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)
৪.   “মিলন হব কত দিনে, আমার মনের-মানুষের সনে।” (পবিত্র লালন- ৭৯১/১)

মনের-মানুষের ওপর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of man of mind)
১.   “কর্মে বড় হও এ ধরাতে, মানুষ কর্মেই বড় হয় জগতে, এখনও ঠাওর হলো না, জাতির বড়াই ভরা মনেতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৬)
২.   “জোয়ারে আইসা বান্ধব জোয়ারে যায় ভাসিয়া, মনের-মানুষ ফেলিয়া রইলে মরার ঘুমে ঘুমাইয়া, ভাঙ্গাঘরে চন্দ্র উদয়, প্রতি মাসে দিবসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)
৩.   “দেহ আত্মা মন ধন, মন হয় মানুষ-রতন, মনের চেয়ে নাই বড় ধন, বিশ্ব চলে মনের ’পরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৪)
৪.   “নাইরে মানুষ বৃন্দাবনে, তীর্থ কিংবা বিজনে, মনের-মানুষ আপনঘরে, আছে নিগমে গোপনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫২)
৬.   “প্রেমপণ্যারের মতিঝিলে, কে কে যাবি আয়রে আয়, প্রেমেরহাট মতিঝিলে, মনের-মানুষ আসে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৮)
৭.   “ফেলেদে তোর জাতির লোটা, ফেলেদে তোর ক্ষ্যাপা বেটা, মেরে ফ্যাল রিপু কটা, পাবিই মানুষ-নিধিখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৫)
৮.   “বলন কয় খোলামেলা, গুরু শিষ্যের গোপন খেলা, মনের-মানুষ পায় নিরালা, পাকাগুরুর কারণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫২)
৯.   “মনের-মানুষ হারাইয়া গেলে, প্রেমানল মনে সদাই জ্বলে, বুকের জ্বালা জুড়ায় না-, অভাগিনির হৃদকমলে, বিনাকাষ্ঠে আগুন জ্বলে, কখনও তা নিভে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫০)
১০. “মানুষ হবি মানুষ ধরে, মনের কাঠি কব্জা করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৪)
১১.  “সপ্ততল পাতালের ভানু উদয় হলো গগণে, শুভলগ্ন হারাইলে বান্ধব পাবে না জীবনে, মনের-মানুষ দোল দিয়ে যায়, হায়রে উত্তরা বাতাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)
১২. “সোনার-মানুষ চলেফেরে, দুইবেলা দুই রূপ ধরে, সারা বিশ্ব ঘুরে চোরে, বাস করিয়া প্রভাপুর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৩)

মনের-মানুষের ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the man of mind)

মানুষ চিনবি কেমন করে
সে গোপনে চলেফেরে
মনের-মানুষ অচিন দেশে
মাসে একবার ঝলক মারে।

এ ভুবনে মানুষ নমুনা
স্বরূপ বিনা অন্য কিছু না
মাসে একবার আনাগোনা
ত্রিবেণীর দুই ধারে।

মহামায়ার জাল কাটিয়া
সংসার ছেড়ে উড়াল দিয়া
তেমাথায় ঘর বান্ধিয়া
বাস করে জলের পরে।

দেখ মানুষ মানুষে বিহার
পুরুষ-প্রকৃতি নাই তার
মানুষের মানুষ আহার
বিতংস পেতে বায়ুর ঘরে।

দয়াল সাঁইজি বলে শেষে
বলনরে সে মানুষের দেশে
যেতে হয় অটল বেশে
টল গেলে সবাই মরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৩)

মানুষ-নিধি (Repertory man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “মানুষ নিধি” বলা হয়। তবে; “মানুষ নিধি” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘মানুষ নিধি’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

মানুষ-নিধির উদ্ধৃতি (A highly important quotations of repertory man)
“মানুষ অবিশ্বাসে পাই না সে মানুষ-নিধি, এ মানুষে মিলত মানুষ-রতন, চিনিতাম যদি।” (পবিত্র লালন- ৭৮০/১)

মানুষ-রতন (Jeweled man)
জীবের আকার ধারণের পূর্বে আগুন, জল, মাটি, বাতাস ও আলোক- দেহ গঠনের এ আদি-পঞ্চভূত একসময় বায়বীয় আকারে এবং এক সময় তরল আকারে একত্রে অবস্থান করে। আদি-পঞ্চভূতের মিশ্র এ তরল পদার্থটি স্বচ্ছ জলের মতো দেখায়। এটা সুপেয় ও অত্যন্ত সুস্বাদু। আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানে একে অমৃতসুধা বলা হয়। এটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বলবর্ধক পানীয়। এটা পানের দ্বারা সহজে চুল ও দাড়ি পাকে না। নিয়মিত এটা সেবনে দীর্ঘায়ুলাভ করা যায় ও অনন্ত যৌবনা হওয়া যায়। নিয়মিত এটা সেবন করলে সহজে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের আধুনিক কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। এ অমৃতসুধা পান করে সাধক ‘সাঁইজি’ উপাধিলাভ করে থাকেন। শ্বরবিজ্ঞানে; এ মানবজলকে মানুষ-রতন, মনের-মানুষ, ভাবের-মানুষ ইত্যাদি বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “মানুষ-রতন” বলা হয়। তবে; “মানুষ-রতন” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “মানুষ-রতন” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

মানুষ-রতনের উদ্ধৃতি (A highly important quotations of jeweled man)
“এ মানুষে আছেরে ধন, যারে বলে মানুষ-রতন, লালন বলে পেয়ে সে ধন, পারলাম না চিনতে।” (পবিত্র লালন- ১২৪/৪)

মূল-মানুষ (Original man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “মূল-মানুষ” বলা হয়। তবে; “মূল-মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “মূল-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

মূল মানুষের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of original man)
১.   “অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)
২.   “সপ্ততল পাতালের তলে, মূল রয়েছে অতি গোপনে, মূল-মানুষ স্থূলে রেখে, কী ধন খুঁজ বনে বনে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/৪)

মূল-মানুষের ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the original man)

মূল-মানুষ চেনা হলে
সত্য-মানুষ চিনতে পায়
মানুষ ভজলে মানুষ রূপে 
যাওয়া-আসা বন্ধ হয়।

মানুষে মানুষ-রতন
বারি রূপে হয় বরিষণ
হলে দ্বিদল নিরূপণ
অষ্টাঙ্গ হাজারী জয়।

ত্রিশ বছর মানুষ-নিধি
আসে যায় নিরবধি
অধর-মানুষ ধরবি যদি
দ্বিপদে ত্রিবেণে বয়।

মৃণাল দণ্ডের উত্তাপাদি
নিয়ন্ত্রণ করো রাখ রতী
বলন কয় শাসন দূর্গতি
ঘটলে জনম বৃথা যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬২)

রসের-মানুষ (Man of juice)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “রসের-মানুষ” বলা হয়। তবে; “রসের-মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “রসের-মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

রসের মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of man of juice)
“অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)

রূপের মানুষ (Man of sooth)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে “রূপের মানুষ” বলা হয়। তবে; “রূপের মানুষ” এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। “রূপের মানুষ” বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

রূপের মানুষের উদ্ধৃতি (A highly important quotations of man of sooth)
“তারে দিব্যজ্ঞানে দেখনা মনরায়, ঝরার খালে বাঁধ বাঁধলে, রূপের মানুষ ঝলক দেয়।” (পবিত্র লালন- ৪৮৭/১)

সত্য-মানুষ (Real man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘সত্য-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘সত্য-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘সত্য-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

সত্য-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of real man)
“আছে সত্য-মানুষ বর্তমান, কামদরজায় বিতংস বান, ধরা পড়বে সাঁই দয়াবান, ধড়ে পাবি ব্রহ্মাণ্ডের খবর।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/২)

সরল-মানুষ (Unsighted man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘সরল-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘সরল-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘সরল-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

সরল-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of unsighted man)
“অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরনল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)

সহজ-মানুষ (Hydrous man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘সহজ-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘সহজ-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘সহজ-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

সহজ-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of hydrous man)
সহজ-মানুষ ভজে দেখনা রে মন দিব্যজ্ঞানে, পাবিরে অমূল্য-নিধি পাবি বর্তমানে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/১)

সোনার-মানুষ (Golden man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘সোনার-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘সোনার-মানুষ’ এ রূপক  পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘সোনার-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

সোনার-মানুষের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of golden man)
১.   “দ্বিদলের মৃণালে, সোনার-মানুষ উজ্বলে, মানুষগুরুর কৃপা হলে, জানতে পাবি।” (পবিত্র লালন- ৭৮৪/২)
২.   “মানুষ ভজলে সোনার-মানুষ পাবি, মানুষ ছাড়লে ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি।” (পবিত্র লালন- ৭৮৪/১)

সোনার-মানুষের ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the golden man)

রসিক বিনা কে মানুষ চেনে
মানুষ থাকে গোপনে
মনের-মানুষ ঘরে রেখে
কেবা পাই খুঁজে বনে।

তত্ত্ব সাধন না জানিয়া
বৃথা মহাযোগ সাধনে
নাম জপে কী পায় মানুষ
দেখাদেখি ভুয়া সাধনে।

কর্ম সাধন যে করেছে
পাকাগুরুর বচনে
সোনার-মানুষ সে পেয়েছে
আপন ঘরের ত্রিবেণে।

সুরসিকে সোনার-মানুষ
আপন ঘরে বসে চেনে
বলন কয় আমার হলো না
এ জনম গেল ভ্রমে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭২)

স্বরূপ-মানুষ (Sooth man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত সাকার-মানুষ বা তরল-মানুষকে রূপকার্থে ‘স্বরূপ-মানুষ’ বলা হয়। তবে; ‘স্বরূপ-মানুষ’ এ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা কোনো কোনো মরমী গীতিকার ও রূপকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘শ্বাস’, ‘আত্মা’ বা ‘মন’কেও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু এটা যথাযথ নয়। ‘স্বরূপ-মানুষ’ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র ‘সাঁই’ বা ‘সাকার-মানুষ’ বুঝানোই যুক্তিযুক্ত।

স্বরূপ-মানুষের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of sooth man)
“গুরু ভক্তির তুল্য দিব কী, যে ভক্তিতে সাঁই থাকে রাজি, লালন বলে গুরু রূপে, স্বরূপ-মানুষ ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৪১২/৪)

মানুষের কাজ (Job of man)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানুষ সাধন ও ভজন করাকেই মানুষের করণ বলা হয়। মানুষের করণ কী? কিভাবে মানুষের সাধন ও ভজন করতে হয়। এটিই হলো মানুষ-তত্ত্বের মূল আলোচনা বা প্রতিপাদ্য বিষয়। একজন পাকা আধ্যাত্মিক গুরু বা আত্মজ্ঞানী গুরুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করে, কাম সাধনের মাধ্যমে, প্রথমে অটল হতে হয়। অতঃপর; সাঁইরাতে সাঁইসাধন বা কাঁইরাতে কাঁইসাধন করে, আকারধারী মানুষকে সাকার মানুষের সন্ধান করতে হয়। শ্বরবিজ্ঞানের সুমহান আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; মানুষের প্রকৃত কর্ম মোট তিনটি। যথা; ১.মৌনিক ২.বলনিক ও ৩.কায়িক। এ ত্রি-মৌলিক কর্মই প্রকৃত মানবকর্ম। তবে; কোনো কোনো মনীষীর মতে; মানবকর্ম মোট সাতটি। যথা; ১.দর্শন, ২.শ্রবণ, ৩.শ্বসন, ৪.বলন, ৫.মৌনতা, ৬.বিজ্ঞতা ও ৭.নিষ্কামিতা। এ সাতটি কর্ম দ্বারাই মানুষ জগতে মহিয়ান ও গরিয়ান হন।

মানুষের কাজের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of job of man)
১.   “অবোধ মন তোর হলো না দিশে, এবার মানুষের করণ হয় কিসে।” (পবিত্র লালন- ৫৭/১)
২.   “আপনারে চিনতাম যদি, মিলত অটল চরণনিধি, মানুষের করণ হতো সিদ্ধি, শুনি আগম পুরাণে।” (পবিত্র লালন- ১১৬/২)

মানুষের সাধন ভজন (Pursuit and chant of man)
কোনো মানুষের সাধন ও ভজন করতে হবে তা লালন সাঁইজি প্রশ্নই করে গেছেন। যেমন; “ফকির লালন বলে, মানুষ মানুষ সবাই বলে, এ মানুষে সে মানুষ রইলে, কোনো মানুষের করি ভজনা” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৪)। অথচ একদল মূর্খ সাঁইজি নাম ধারণ করে; মূর্খ শিষ্যদের নিকট গুরুর ভক্তি-পূজার প্রতি অধিক গুরত্ব প্রদান করার শিষ্যদীক্ষা দিচ্ছে। এটি; গুরুবাদী মতবাদ বা গুরুবাদী পরম্পরা নাম ফাটিয়ে; তারা এসব প্রচার প্রসার করছে। তারা আরও বলে যে; “এজন্য; গুরুর ভক্তিপুজা করা ছাড়া অন্য কোনো সাধন ও ভজন শিষ্যদের নেই।” এটি; নিশ্চিত এক প্রকার প্রতারণা। তারা প্রকৃত মানুষের সন্ধান শিষ্যদের না দিয়ে বরং শিষ্যদের দ্বারা নিজের ভক্তি পুজা করিয়ে নিচ্ছেন। আবার সাঁইজি প্রকৃত উপাস্য-মানুষ অন্বেষণ করার জন্য বিভিন্ন লালন বিভিন্নভাবে উপস্থান করেছেন। অর্থাৎ; সাকার-মানুষের অবস্থান, সাধন ও ভজন অন্বেষণ করে বের করার পূর্ব পর্যন্ত কোথায় যাব কী করব এমন অনেক চিন্তা ভাবনা করতে বলেছেন। যেমন;

মানুষের সাধন ভজনের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of pursuit and chant of man)
১.   “এ মানুষ যায় না চেনা, কী বস্তু কেমনজনা, নৈরাকার নিরঞ্জনা, হয়রে জানতে।” (পবিত্র লালন- ৬৭৭/৩)। ২.   “ফকির লালন বলে হায়রে হায়, কী করি কোথায় যাই, এ যে মানুষ ঐ যে মানুষ, মানুষ চেনা বিষম দায়।” (পবিত্র লালন- ৭৬০/৪)
৩.   “মানুষ লুকাল কোন শহরে, সারাজগৎ মানুষ খুঁজি পাই না তারে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৬/১)

এসব প্রশ্নের উত্তরও তিনি এভাবে দিয়েছেন; “জানগে যা গুরুর দ্বারে, জ্ঞান উপাসনা, কোনো মানুষের কেমন কৃতি, যাবেরে জানা” (পবিত্র লালন- ৪৬৫/১)। এখানে; শক্তি উপাসনা অর্থ অটল উপাসনা। যারা অটল হতে পারেন তারাই কেবল প্রকৃত-মানুষ চিনতে পারেন। এছাড়াও; বৈষয়িক ও সাম্প্রদায়িক-সাহিত্যাদিতে উৎপত্তি ও মর্যাদাভেদে মানুষ চার প্রকার। যথা; ১. মাটির মানব ২. আদি মানব ৩. সন্তান মানব ও ৪. উপাস্য মানব। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “মানুষ-তত্ত্ব যার সত্য হয় মনে, সেকি অন্য তত্ত্ব মানে” (পবিত্র লালন- ৭৮১/১)। আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ (৬ষ্ঠ খণ্ড)লেখকবলন কাঁইজি)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!