অটল

৮৮/১. অটল
Perpetual (পার্পিচুয়াল)/ ‘دائم’ (দায়িম)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্রধর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শুক্রধর। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঊর্ধ্বরেতা, ডুবুরী স্বাধীন। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ঋভু, ওজম্বল সম্রাট এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা নির্বাণ, মরা স্তম্ভন। এ পরিভাষাটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা’, ‘ভৃগুশুক্রধর ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক বা ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা প্রত্যেক পাঠক-পাঠিকার একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
অটল (বাপৌরূ)বিণ দৃঢ়, পটু, নিপুন, পাকা, perpetual, ‘دائم’ (দায়িম), steady, ‘دائم’ (দায়িম) (শ্ববি) ঊর্ধ্বরেতা, ডুবুরী, নিষ্কামী, পারমী, ‘ﺜﺎﺑﺖ’ (সাবিত) (ইংপ) semener, spermer, spirited, strong, steadfast, consistent, resolute (ইপৌচা) আলি (.ﻋﻠﻰ), গাজি (.ﻏﺎﺯﯼ), হাজি (.ﺤﺎﺠﻰ), পালোয়ান (ফা.ﭙﻬﻟﻭﺍﻦ) বি বিলায়েত (ﻮﻻﻴﺖ), মর্দামি (ফা.ﻤﺭﺪﻤﻰ), মুরোত (.ﻤﺮﻮﺖ), সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ), রোজা (ﺭﻭﺯﻩ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্রধর পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; পটু ও নিপুনকে বাংলায় ‘অটল বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মৈথুনে কোনক্রমেই জননপথে শুক্রপাত না করাকে রূপকার্থে ‘অটল বলা হয় (বাপৌছ) নির্বাণ, মরা ও স্তম্ভন (বাপৌচা) ঋভু, ওজম্বল  ও সম্রাট (বাপৌউ) ঊর্ধ্বরেতা, ডুবুরী ও স্বাধীন (বাপৌরূ) অটল (বাপৌমূ) শুক্রধর {বাং. অ + বাং. টল}

অটলের ওপর ১টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (A highly important quotations of perpetual)
১.    “আপনারে চিনতাম যদি, মিলত অটল চরণনিধি, মানুষের করণ হতো সিদ্ধি, শুনি আগম পুরাণে।” (পবিত্র লালন- ১১৬/২)
২.   “ত্রিধারা জলের কারবার, পুণ্য হয় অটলবিহার, অধঃপতন পাপ সমাচার, সাধের দেহ হয় শ্মশান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮১)
৩.   “সবাই কী তার মর্ম জানতে পায়, কেবল জানে সে জন, যে কামসাধনে অটল হয়।” (পবিত্র লালন- ৯১৬/১)

অটলের সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of perpetual)
১.   “অখণ্ডধামের অটলতরী, বেয়ে চলরে তাড়াতাড়ি, বলন কয় গুরুর বাড়ি, দেখবি সামনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২.   “অদেখা সাঁইয়ের দেখা, দেখবি যদি আয় যৌবনে, অটলের ঝাণ্ডা নিয়ে, এ বেণুবনে নিধুবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩)
৩.   “অনাদির আদি শ্রীকৃষ্ণনিধি, তার কী আছে কভু গোষ্ঠখেলা, ব্রহ্ম রূপে সে অটলে বসে, লীলাকারী তার অংশকলা।” (পবিত্র লালন- ৪৯/১)
৪.   “অমাবস্যা পূর্ণিমালীলা, জোয়ার চেনে ভাসা ভেলা, দ্বিদলে অটলখেলা, বলন কয় প্রেমনদীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৪)
৫.   “আরবিতে যাকাতের মানি, এই দেহের নির্যাস মণি, অটলে পায় স্বরূপখনি, যার যার দিব্যজ্ঞানে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৫)
৬.   “উপোস অটলসাধন, পূর্ণিমাতে দয়ালদর্শন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৭)
৭.   “করঙ্গ ও কোপনি বালা, সব হারায় পারের বেলা, বলন কয় পেতে কালা, আগে হও অটলবীর্যা।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৮.   “করিলে উপস্থ শাসন, কিংবা মদনের অটলসাধন, সাঁই কাঁই হবে দরশন, জন্ম-মরণ রবে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৫)
৯.   “কোথায় সে হায়াতনদী, জোয়ার বয় নিরবধি, সে ধারা ধরবি যদি, খেলবি অটলের খেলা।” (পবিত্র লালন- ৭১০/৩)
১০. “কোমলকোঠা গোলকধামে- রক্তিমা রঙ বৃষ্টি নামে, পূর্ণিমার প্রথমে আনাগোনা- বলন কয় বিশ্ব ঘুরে- বসে থাকে নিতাইপুরে, অটল বিনা পায় না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৩)
১১.  “চোর এলে অটলের ঘরে, সাধকজনা জানতে পারে, লালন বলে স্বরূপ মিলে, দিব্যজ্ঞানের উদয়েতে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৮/৩)
১২.  “চৌদ্দতালা নৌকাখানি, বাঁধ মানে না চুঁয়ায় পানি, অটল রাখি কী দিয়ে- বলন কয় দয়া করে, আমায় নেও গো পারে, নিজ হাতে হাত ধরিয়ে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৪)
১৩. “টলে জীব অটলে ঈশ্বর, আত্মসুখ কামনা দোহার, শুদ্ধপ্রেম নাই অধিকার, হেতুশূন্য গমনা।” (পবিত্র লালন- ৮৮৯/২)
১৪. “টলে জীব অটলে ঈশ্বর, তাতে কী হয় রসিকনাগর, লালন কয় রসিক বিভোর, রস-ধ্যানে।” (পবিত্র লালন- ৯৭০/৪)
১৫. “তিনকোশী মহারসী, দ্বিমোহনা খিড়কি আটা, বলন কয়- অটল যাত্রায়, ধরা পড়ে বিষ্ণু বরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৪)
১৬.  “তুলসি দেয় যত, ভেটে যায় তত, কোথায় সে অটলপদ, তুলসি কোথায়।” (পবিত্র লালন- ৮০৭/২)
১৭. “দয়াল সাঁইজি বলে শেষে, বলনরে সে মানুষের দেশে, যেতে হয় অটল বেশে, টল গেলে সবাই মরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৩)
১৮. “দেহ রক্ষাই উপাসনা, গ্রন্থে কয় অটলসাধনা, বলন কয় মনরে কানা, বারংবার তোরে জানাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)
১৯.  “দ্বিদলে মোর সাঁই দরদী, স্বরূপনালে রয় নিরবধি, অটলখেলা খেলবি যদি, আগে কর গুরু ভজনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮)
২০. “নিগূঢ় ঘরের খুলে তালা- জগৎগুরু দেখ উজ্বালা, খেললে সেথা অটলখেলা– দেখতে পাবিরে নমুনা- নয় দরজা এগারনালা- ত্রিবেণে ত্রিরসের খেলা, উযান ধারায় করলে হেলা- জীবনে গুরু মিলে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৪)
২১.  “নির্মম বিচারের ধারা, পঞ্চাশ হাজার বছর খাড়া, পার হবে না অটল ছাড়া, জোরফোর না চলিবে চলিবে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১১)
২২. “পাগল করে যে রমণী- তার বুকে কাটাও রজনী, তারে কর ধনের ধনী- দয়াল কারণ অকারণে- বলন কয় অটলগুণে– সর্বত্র গমনাগমনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)
২৩. “প্রেমনগরে ভাবের তালা, গুরু বিনা যায় না খোলা, বলন কয় অটলখেলা, খেলিলে সাঁই পড়ে ধরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৯)
২৪. “বন্ধুরবাড়ি যাবিরে মন, নিত্যকর্মে অটলসাধন, বলন কয় বৃথা গমন, করিস না মন হাউসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৪)
২৫. “বলো কোন খান্দানে, নবি শিষ্য হয়, অটল অখণ্ড অরজা গুরু কয়।” (পবিত্র লালন- ৬৭৯/১)
২৬. “ভাণ্ডের জল ঢেলে ফেলে, শ্যাম বলে ওঠালে, আধা যায় খাকে মিলে- জল আর কী মিলে, সেখানে নাই টলাটল, সে অটল হয়ে বসেছে।” (পবিত্র লালন- ৮২১/২)
২৭. “মণিমঞ্চ মৈথনণ্ড, গিলে খায় অহিমুণ্ড, ত্রিবেণীতে হয় বিখণ্ড, বলন কয় অটল ছাড়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১)
২৮. “মানুষের করণ সেকিরে সাধারণ, জানে রসিক যারা, টলে জীব বিরাগী, অটলে ঈশ্বররাগী, সেও রাগ দেখি বৈদিক রাগের ধারা।” (পবিত্র লালন- ৭৮৮/১)
২৯. “মাসে তিনদিন সে ঘর খুলে, শত সাধুরা দেখে অটলবলে, বলন কয়রে হীনবলে, খুলে না কেন জানি।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩০. “যাস যদি জল আনিবারে, যাত্রা শুভ ঐ সোমবারে, অটলযজ্ঞ শিক্ষা করে, মন বেচিয়া সাধুর কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯৮)
৩১. “যেমন অটলসাধনকে পাহাড় বলে গ্রন্থে বর্ণনা, তেমনই; রতীপাতকে মরণ বলে রয়েছে ঘোষণা, রূপকার্থে লেখাজোখা, সর্ব গ্রন্থে প্রমাণ আছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৯)
৩২. “লাহুত নাছুত মালাকুত জাবারুত, তার পরে হাহুত, কুরানে রয়েছে সাবুত, পড়ে দেখ অভিধান, নয় দরজায় তালা মেরে, অটলের করো ছোড়ান।” (পবিত্র লালন- ৫৮১/৩)
৩৩. “শুক্র রূপে একত্র করে দেহ গড়ে গ্রন্থাকারে, পাঠ করবার নীতিমালা অটল সাধকরা করে, লালন বলন মনীষী আজ- বসাচ্ছে অলঙ্কার সাজ, রঙবাজারে বসে আজ- থুথু দিয়ে আয়াত গণি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৪)
৩৪. “ষোল কোটি গোপীর সঙ্গে, কৃষ্ণপ্রেম রসরঙ্গে, সে যে টলের কার্য নয় অটল না বলায়, সে আর কেমন।” (পবিত্র লালন-৭০/২)
৩৫. “শুনতে পাই অধার্মিক সবে, দুঃখের ঠাঁই সিজ্জিনে যাবে, সেথা সবাই ক্বয়েদি হবে, তারা হীন অটল ক্ষমতা।” (পবিত্র লালন- ২৮১/২)
৩৬. “ষোল কলা চামকুঠরি- দশদশায় রইল ঘিরি, একেঈশ্বর অটলসাধন– আশিজনে কাঁন্ধে করে- চুরাশিফেরে ঘুরে, বলন কয় শোনরে মন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৯)
৩৭. “স্বরূপ রূপের জারির ধরণ, দোহারভাবে টলে দোহার মন, অটলকে টলাতে পরে, বলো কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ৯৫৬/৩)

জরায়ু অর্থে অটল পরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology perpetual sense for uterus)
১.   “অটল রূপের সরোবর, শ্রীরূপ সে ঘাটের ঘেটেলা, যাও যদি মন সে শহরে, মায়ের চরণ ধরো এ বেলা।” (পবিত্র লালন- ৪৭/১)
২.   “যেজন দেখেছে অটল রূপের বিহার, মুখে বলুক না বলুক, সে থাকে ঐরূপ নিহার।” (পবিত্র লালন- ৮৩৫/১)

পালনকর্তা অর্থে অটল পরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology perpetual sense for guardian)
১.   “অটল-মানুষ প্রেমের-মানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোনজনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)
২.   “অটলরূপ সাঁই ভেবে দেখ তাই, সে রূপের কভু লীলানিত্য নাই, যেজন পঞ্চতত্ত্ব ভজে- লীলা রূপে মজে, সে কী ভুলে কভু অটল রূপের ধারা।” (পবিত্র লালন- ৯৭৭/৩)
৩.   “আখিরে অটলপ্রাপ্ত কিসে হয়, গুরুর ঠাঁই জানা যায়, সিরাজ সাঁইজি কয় লালন, ভোগীস না ভবের রোগে।” (পবিত্র লালন- ৬৬২/৪)
৪.   “ও সে ফুলের মর্ম জানতে হয়, যে ফুলে অটলবিহারী, শুনতে লাগে ভয়।” (পবিত্র লালন- ২৬০/১)
৫.   “কারে বলে অটলপ্রাপ্তি ভাবি তাই, অঙ্গ লয় হলে নির্বাণ বলে তাও দোষাই।” (পবিত্র লালন- ২৮৫/১)
৬.   “কার্য দ্বারা জ্ঞান হয় যে; অটলচাঁদ নেমেছে ব্রজে, নইলে সে বিষম বিষে, কালীদহে বাঁচত না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৯/২)
৭.   “গুরু রূপে ভক্তি দিয়ে, বসেছে যে যোগ সাধনে, অটল অমূল্যনিধি দেখতে পায় সে নয়নে।” (পবিত্র লালন- ৪১১/১)
৮.   “গোলকের অটলহরি, ব্রজপুরে হয় বংশীধারী, নদীয়া ধামেতে অবতারী, দয়াল বামন রূপে প্রকাশে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৬/২)
৯.   “তোর ভাব বুঝতে নারি, আজ কিসের কাঙাল আমার অটলবিহারী, ছিল অগৌর চন্দন- যে অঙ্গে ভূষণ, সে অঙ্গ আজ কেন লুণ্ঠিত ধরায়।” (পবিত্র লালন- ৭৮৫/২)
১০. “থাকলে গুরু-রূপের হিলায়, অটলরূপ তারই মিলায়, তাতে লালন ফকির কয়, সে ভিন্ন নয়রে।” (পবিত্র লালন- ৮৩০/৪)
১১.  “দেখারে কয় অটলপ্রাপ্তি, কিবা হয় সঙ্গের সাথী, ভজন সারা সে অবধি, পামরের কী শান্তি নাই।” (পবিত্র লালন- ২৮৫/২)
১২.  “নিজরূপ গুরুর মাঝার, ফানার বিধি মান মনরে আমার, পিছে গুরুরূপ- অপরূপ স্বরূপ, মিলাও সাঁইয়ের অটলনূরে।” (পবিত্র লালন- ৮১৪/৩)
১৩. “বর্তমানে তারে দেখ ধরি, নরদেহ হয় অটলবিহারী, মরো কেন বলে হরি, কাঠের মালা টিপে হায়রে।” (পবিত্র লালন- ৯০৭/৩)
১৪. “মূলধন জ্ঞান মন দেহ, ছিনে নিতে পারে না কেহ, অটলমণি সুধাগৃহ, নিষ্ঠাজন যত্নবান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮২)
১৫. “যে দেখেছে সে অটলরূপ, বাক্ নাই মেরেছে চুপ, পার হলো সে ভবকূপ, স্বরূপের নাম হৃদয়ে জপে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৪/২)
১৬.  “যেজন পদ্মহীন সরোবরে যায়, অটল অমূল্যনিধি সে অনায়াসে পায়।” (পবিত্র লালন- ৮৩৬/১)
১৭. “রসের ধ্যান যে করেছে, গুরুকৃপা সে পেয়েছে, কারণ্যবারি তাতে বইছে, অটলবিহারী রয়েছে সে, লালন বলে মরিমরি, মনেরে বুঝাই কী ছলে।” (পবিত্র লালন- ৬৭৮/৪)
১৮. “রসের রসিক না হলে, কে গো জানতে পায়, কোথায় সাঁই অটল রূপে বারাম দেয়।” (পবিত্র লালন- ৮৫৯/১)
১৯.  “শুদ্ধরাগে থাকতে যদি, হাতে পেতে অটলনিধি, বলি মন তাই নিরবধি, বাগ মানে না।” (পবিত্র লালন- ৭৩৪/২)
২০. “শুনতে পাই চারকারের আগে, সাঁইশাস্ত্র করেছিল রাগে, সাঁই এসে অটল রূপে ঢেকে, মানুষ রূপ লীলা জগতে দেখায়।” (পবিত্র লালন- ৪৮০/২)
২১.  “সবে বলে অটলহরি, সে কেন হয় ণ্ডধারী, কিসের অভাব তারই, ঐ ভাবনা ভেবে ঠিক না মিলে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৫/৩)
২২. “সামান্য জ্ঞানে কী তাঁর, মর্ম জানা যায়, যে ভাবে অটরহরি এলো নদীয়ায়।” (পবিত্র লালন- ৯৪৩/১)
২৩. “সাঁই আমার অটলপদার্থ, নাই তার জরামৃত্যু, যদি জরামৃত রয়- অটলপদার্থ কে কয়, লালন বলে তা কয়জন বুঝে।” (পবিত্র লালন- ৭৭২/৪)
২৪. “সে অটল রূপের উপাসনা, কেউ জানে কেউ জানে না।” (পবিত্র লালন- ৯৫৬/১)
২৫. “স্বরূপঘরে অটল রূপ বিহারে, চেয়ে দেখ রে তোরা, ফণী-মণি রূপের বাখানি, দু’রূপ আছে সেরূপে হল করা।” (পবিত্র লালন- ৯৭৭/১)
২৬. “হাওয়াদ্বারী দমকুঠরি, মাঝখানে অটলবিহারী, শূণ্যবিহার স্বর্ণপুরী, কলকাঠি তার ব্রহ্মদ্বারে আছে।” (পবিত্র লালন- ৮৪১/৩)

ভৃগু অর্থে অটল পরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology perpetual sense for cervix)
“আছে বেহেস্তের আশায় মু’মিনগণ, হিন্দুরা দেয় স্বর্গেতে মন, টল কী অটলমুক্বাম, লিহাজ করে জানো আগে।” (পবিত্র লালন- ৬৬২/২)

অটলের সংজ্ঞা (Definition of perpetual)
সাধারণত; কোনকিছুর স্থির, নিশ্চল বা দৃঢ় অবস্থাকে অটল বলে।

অটলের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of perpetual)
১.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শুক্রপাতহীনভাবে গমনাগমনকারীকে অটল বলে।
২.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কামকেলি ব্রত পালনে গিয়ে কোনো ক্রমেই শুক্রপাত করে না এমন সাধককে অটল বলে।
৩.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; রমণ বা মৈথুনে শুক্র নিয়ন্ত্রণকারীকে অটল বলে।

অটলের প্রকারভেদ (Variations of perpetual)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে অটল চার (৪) প্রকার। যথা; ১. স্বল্পাটল ২. কল্পাটল ৩. নিটোল ও ৪. সুটোল।

. স্বল্পাটল (Periodical. পিরিওডিক্যাল)/ (‘مؤقت’. মুয়াক্কাত)
স্বল্পকাল (৫০০ শ্বাস/ ২১ মিঃ) পর্যন্ত শুক্র নিয়ন্ত্রণে রেখে কাম ক্রিয়া সুসম্পূর্ণকারীকে স্বল্পাটল বলে।

. কল্পাটল (Permanent. পার্মানেন্ট)/ (‘مستمر’. মুস্তামির)
কল্পকাল (১০০০ শ্বাস/ ৪২ মিঃ) পর্যন্ত শুক্রনিয়ন্ত্রণে রেখে কাম ক্রিয়া সুসম্পূর্ণকারীকে কল্পাটল বলে।

. নিটোল (Perfect. পার্ফেক্ট)/ (‘كامل’. কামেল)
সুষম আসন অবলম্বন করে মৈথুনে শুক্র আগমনের পূর্বমুহূর্তে শিশ্নোদ্ধার করে শুক্রের সদ্ব্যবহারকারীকে নিটোল বলে।

. সুটল (Perfector. পার্ফেক্টর)/ (‘ﻤﻜﺎﻤﻝ’. মাকামাল)
গুরুদীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শুক্র নিয়ন্ত্রণ কৌশল অর্জন করে চিরদিনের জন্য শুক্রপাত বন্ধকারীকে সুটল বলে।

অটলের পরিচয় (Identity of perpetual)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্রধর পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। কোনকিছুর স্থির, নিশ্চল বা দৃঢ় অবস্থাকে অটল বলা হয়। মৈথুনে কোনো ক্রমেই শুক্রপাত না করাই মূলতঃ শ্বরবিজ্ঞানে অটল নামে পরিচিত। অটল কৌশল অবলম্বনকারীগণই প্রকৃত সাধক। ডান পা ও ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি সুষম চেপে ধরলে বীর্য বা শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উক্ত কৌশল দ্বারা ক্রমে ক্রমে অটলত্ব অর্জন করা যায়। এ প্রক্রিয়াই প্রায় ৫০০ শ্বাস শুক্র নিয়ন্ত্রণে রাখলে স্তম্ভন প্রতিষ্ঠা হয়। শুক্রপাতহীনভাবে প্রায় ১০০০ শ্বাসইন্দ্রিয় সঞ্চালন করলে বৈতরণী পেরিয়ে বৈকুণ্ঠ বা স্বর্গধামে প্রবেশ করা যায়। স্বর্গধামে প্রবেশ করেই জীবের পালনকর্তা সাঁই এবং জীবের সৃষ্টিকর্তা কাঁইয়ের দর্শনলাভ করতে হয়। বর্তমান সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীগণের আবিষ্কারের মধ্যে মানুষই জীবকুলের সবার শীর্ষে রয়েছে। শ্রেষ্ঠ জীব রূপে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান কাজ হলো; প্রাণধন বা পৈত্রিক সম্পদ বীর্য বা শুক্রসম্পদ রক্ষা করে কাম বা রমণ করা। বীর্য বা শুক্র নরদেহের প্রধান ইন্দ্রিয়চালিকা শক্তি। যৌবনকাল হতে শুক্ররক্ষার পতি যত্নবান না হলে অকালেই ইন্দ্রিয়শক্তি হারিয়ে পুরুষত্বহীন হতে হয়। পুরুষের ইন্দ্রিয়শক্তি হারানোর মতো এমন ক্ষতি মানবজীবনে আর নেই। শুক্ররক্ষাকে শুক্রধারিতা বলে। শ্বরবিজ্ঞানে; এ শুক্রধারিতাকেই অটল বলে। অটল কৌশল, অটল হওয়া, অটল থাকা ও অটলের ফলাফল শ্বরবিজ্ঞানের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয়।

সাধারণ মানুষ রমণ বা মৈথুনে শুক্রপাত করাকেই চরমপুলক বা পরম তৃপ্তিলাভ বলে মনে করে থাকলেও আত্মজ্ঞানীগণ তার সম্পূর্ণ উল্টো মতামত প্রদান করে থাকেন। শুক্র নিয়ন্ত্রণ মানুষের সাধ্যশক্তি। মহাবিজ্ঞানীগণ বলে থাকেন- পাকাগুরুর নিকট হতে প্রকৃত আদ্য-শিক্ষা গ্রহণ করলে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা অতি সহজব্যাপার। কোনো বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি বা প্রাকৃতিক ভেষজ ঔষধ ব্যবহার ছাড়াও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে একমাত্র নাসিকার নিঃশ্বাস ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা কিংবা স্থায়ীভাবে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করে রমণ বা কাম কার্য সুসম্পন্ন করা যায়। পর্যায়ক্রমে ৫০০ শ্বাস, ১০০০ শ্বাস বা ১৫০০ শ্বাস সময় পর্যন্ত শুক্র নিয়ন্ত্রণে রেখে রমণ বা কাম ক্রিয়া সুসম্পন্ন করাতেই প্রকৃত চরমপুলকলাভ হয় এবং পৌরুষত্বের প্রকৃতপরিচয় প্রদান করা যায়। শুক্রপাতকে যারা চরমপুলক বলে মনে করে থাকেন তারা পৌরুষহীন কাপুরুষ।

আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানে শুক্ররক্ষাকারীকে অটল বা নির্বাণলাভকারী বা প্রবজ্যালাভকারী বলে। আরব্য শ্বরবিজ্ঞানে; অটলকে আলী (ﻋﻟﻰ) বলা হয়। পুরাণে অটল বা আলীকে (ﻋﻟﻰ) কখনও নায়ক, কখনও সাধু আবার কখনও দেবতা চরিত্র রূপেও উপস্থাপন করা হয়। একমাত্র অটলের মাধ্যমেই কাম হতে নিষ্কামী হওয়া যায়। একবার অটলত্ব অর্জন করলে দাম্পত্য জীবনে জন্ম-নিয়ন্ত্রণের কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আদৌ প্রয়োজন হয় না। যারফলে; দাম্পত্য জীবন হয় সুখী, সুন্দর ও মধুময়। অটলতা অর্জনকে পুরুষ জীবনের একটি চরম সাধও বলা যায়। যেমন;  লালন সাঁইজি লিখেছেন; “হায়রে মজার তিলেখাজা, দেখলি না মন কেমন মজা, লালন কয় বিজাতির রাজা, পড়ে আছে এ অকূলে (পবিত্র লালন- ৬১৬/৪)। এখানে; তিলেখাজা অর্থ অটলত্ব। অটলতা অর্জন করা ব্যতীত কোনো পুরুষই কামসাধনে গিয়ে সামান্য স্বাদও অনুভব করতে পারেন না। এখানেই; শ্বরবিজ্ঞানের চরম ও পরম বাস্তবতা। এছাড়াও; অনেক মনীষীর মুখেও শুনতে পাওয়া যায় “যার নেই ইন্দ্রিয়শক্তি তার নেই ভগবান ভক্তি।” এখানেও; ইন্দ্রিয়শক্তি অর্থও অবশ্যই অটলতা। এককথায় বলা যায় পুরুষকুলে জনম নিলে অটলতা অর্জন করার প্রয়োজন অপরিসীম। এছাড়াও; সাংসারিক জীবনেও অটলতার গুরুত্ব অনেক। তবে; সংসার জীবনে মনের অটলতাই প্রধান।

অটলের উপকার (Benefits of perpetual)
১.    অটল কৌশল অবলম্বনের দ্বারা দীর্ঘায়ুলাভ করা যায়।
২.   অটলতা অকালে চুল দাড়ি পাকার হাত হতে মানুষকে রক্ষা করে।
৩.   অটল-অভ্যাস করলে দাম্পত্য জীবনে কৃত্রিম জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না।
৪.   অটলকৌশল দ্বারা স্থায়ী পুরষত্বশক্তিলাভ করা যায়।
৫.   অটলতা দাম্পত্য জীবন সুখী ও সুন্দর করে এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয় প্রদান করে।
৬.   স্বল্পাটল দ্বারা স্তম্ভন প্রতিষ্ঠা করা যায়।
৭.   কল্পাটল দ্বারা সাঁই ও কাঁই-দর্শন লাভ করা যায়।
৮.   কল্পাটল দ্বারা কাম হতে নিষ্কামী হওয়া যায়।
৯.   কল্পাটলের দ্বারাই মহান সাধু ও সন্ন্যাসীগণ ক্রমে ক্রমে জীবকুল হতে দেবতাকুলে পদার্পণ করে থাকেন।
১০. নিটল দ্বার সর্বপ্রকার কৃত্রিম জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি দ্বারা সৃষ্ট সর্বপ্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
১১.        সুটল দ্বারা দেহকে চির সুস্থ রাখা যায়।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!