অমৃত

৩২/৪. অমৃত
Ambrosia (এ্যামব্রোজিয়া)/ ‘الشهي’ (আশশাহায়ি)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দুগ্ধ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা দুগ্ধ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ক্ষীর। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতরসজল এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা রসশুভ্রাংশু। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত দুগ্ধ’, ‘শুক্র’, ‘সুধামধু ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন। এটি; শ্বরবিজ্ঞানে; বিভিন্ন উপমায় ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষায় ব্যবহৃত হয়। সেজন্য; এর বাংলা আভিধানিক প্রতিশব্দ; রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার প্রতিশব্দগুলো পাঠক মাত্রই জানা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
অমৃত (রূউপ)বি সুধা, পীযূষ, মোক্ষ, যা পান করলে অমর হওয়া যায়, অতিশয় সুস্বাদু খাদ্য, অমর-সত্তা, ambrosia, ‘الشهي’ (আশশাহায়ি) বিণ অমর, অতি সুস্বাদু, রসনার তৃপ্তিদায়ক, nectar, ‘طعام الآلهة’ (ত্বয়ামিল ইলাহ) . (অগ্নি রয়েছে ভস্মে ঢাকা, অমৃত রয়েছে গরলে মাখা, সেরূপে কত রসিক সুজন, ডুবে তার অন্বেষণ করছে”) (পবিত্র লালন- ৭২৯/২) . (গোঁসাইর লীলা চমৎকারা, বিষেতে অমৃত পোরা, অসাধ্যকে সাধ্য করা, ছুঁলে বিষ ওঠে ধেয়ে”) (পবিত্র লালন- ৯৮৭/২) (ব্য্য) জীবন রক্ষা করে এমন জল। দেব দেবতাগণ যে জল পান করে অমরত্বলাভ করেছেন। বিশেষতঃ সোম রসকেই অমৃত বলা হয়। এ রস অমৃতের নির্ঝর এবং পীযুষ নামেও বিশেষভাবে খ্যাত (প্র) পৌরাণিক বর্ণনা অনুসারে; স্বর্গীয় দেবতাগণ যে জল পান করে অমরত্বলাভ করে থাকেন (শ্ববি) দুধ, ক্ষীর, স্তন্য, milk, লাবান (.ﻟﺒﻦ), হালিব (.ﺤﻟﻴﺐ) (রূপ্রশ) মিষ্টান্ন, সুধা, সুরা, মদ, মধু, শুভ্রজল, স্বর্গীয় পানীয় (ইপ) দিররা (.ﺪﺭﺓ) (ইংপ) sap, latex, suck (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দুগ্ধ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; যে কোনো সুপেয় পানীয়কে অমৃত বলা হয়. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, কেবল পবিত্র মানবজলকে রূপকার্থে অমৃত বলা হয় (বাপৌছ) রস ও শুভ্রাংশু (বাপৌচা) অমৃত (বাপৌউ) অমৃতরস ও জল (বাপৌরূ) ক্ষীর (বাপৌমূ) দুগ্ধ।

(প্র) মহাভারতে অমৃতের উৎপত্তি সম্বন্ধে এমন কথিত আছে যে; অসুরদের সঙ্গে ক্রমাগত যুদ্ধ করে দেবতাগণ তাঁদের শক্তি হারিয়ে ফেলেন। সেজন্য; তাঁরা বিষ্ণুর কাছে গিয়ে শক্তি ও অমরত্বলাভ প্রার্থনা করেন। বিষ্ণু দেবতাগণকে বলে দেন যে; সমুদ্র মন্থন করে এ অমৃতকে তোমরা সংগ্রহ করো। বিষ্ণু নিজে কূর্ম রূপ-ধারণ করে অমৃতমন্থনে সাহায্য করেন। মন্দার পর্বতকে মন্থনদণ্ড ও বাসুকী সর্পকে মন্থন রজ্জু রূপে ব্যবহার করে সমুদ্রগর্ভ হতে অমৃত উত্তোলন করেন।

পুরাণে অমৃত সম্বন্ধে এমন বর্ণনা রয়েছে যে; পৃথুরাজার উপদেশ অনুসারে ধরিত্রীকে গাভীরূপা ও ইন্দ্রকে বৎস করে দেবতাগণের দ্বারা হিরন্ময় পাত্রে দুগ্ধ দোহন করা হলে তা হতে অমৃত উৎপন্ন হয়। দুর্বাসার অভিশাপে এ অমৃত সমুদ্রগর্ভে পতিত হয়। পরে ইন্দ্র দুর্বাসার দ্বারা অভিশপ্ত হয়ে বিষ্ণুর কাছে যান। তখন বিষ্ণু নিজে কূর্ম রূপ-ধারণ করেন এবং মন্দার পর্বতকে মন্থনদণ্ড ও বাসুকীকে মন্থনরজ্জু নির্ধারণ করে সমুদ্রমন্থন করে তা হতে অমৃত, ঐরাবত ও উচ্চৈঃশ্রবা ইত্যাদি উত্তোলন করেন। বায়ু ও মৎস্য পুরাণে আছে যে; সুর ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনের ফলে অমৃত উঠল। এ সঙ্গে দধি, সুরা, সোম, লক্ষ্মী, অশ্ব, কৌস্তভ ও পারিজাত এবং শেষে কালকূট উঠল। তারপর; উঠল ধন্বন্তরী। অসুরদের বিভ্রান্ত করার জন্য বিষ্ণু মোহিনী রূপ-ধারণ করে এ অমৃত দেবতাগণের মধ্যে বিতরণ করলেন। রাহুকে অমৃতগ্রহণ করতে দেখা গেলে তাঁর মস্তক খণ্ডিত হয়। এরূপে পরাজিত হয়ে অসুররা দেবতাগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন (পৌরাণিক অভিধান)

অমৃতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of ambrosia)
১.   অমৃত-সাগরের সুধা, পান করলে জীবের ক্ষুধা তৃষ্ণা, রয় না, লালন মরল জল পিপাসায়রে, কাছে থাকতে নদী মেঘনা।” (পবিত্র লালন- ২৫৭/৫)(মুখ; ও যার আপন খবর আপনার হয় না”)
২.   “আমার সাড়ে তিন টন- অমৃতসুধা রসরতন, আর মাল্লা বারোজনা- মণিপুর ত্রিবেণে গিয়া- ধনীকে নিঃস্ব বানাইয়া, ডাকাতরা চক্ষু করে কানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৯)(মুখ; ছয় ডাকাতে দিয়াছে হানা, নৌকাখানা”)
৩.   গোঁসাইর লীলা চমৎকারা, বিষেতে অমৃত পোরা, অসাধ্যকে সাধ্য করা, ছুঁলে বিষ ওঠে ধেয়ে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৭/২)(মুখ; হলাম না রে রসিক ভেয়ে, না জেনে রসের ভিয়ান, মরতে হলো গরল খেয়ে”)
৪.   গোপী বিনা জানে কেবা, শুদ্ধরস অমৃতসেবা, গোপীর পাপ-পুণ্য জ্ঞান থাকে না, কৃষ্ণদর্শনে।” (পবিত্র লালন- ৯৭০/২)(মুখ; সে ভাব সবাই কী জানে, যেভাবে শ্যাম আছে বাঁধা, গোপীর সনে”)
৫.   “চলাফেরা তাহার জলে, সাধুগণ অমৃতসুধা বলে, বলন কয় কপাল ফলে, মনরে ধর তারে ছেড় না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩)(মুখ; আপন চিনলি না রে মনা, তোর আপন চিনলি না, যাকে অধিক বাসলি ভালো, সে তোরে ফিরে চাইল না”)
৬.   চাতক স্বভাব না হলে, অমৃতমেঘের সে বারি, কথায় কী মিলে।” (পবিত্র লালন- ৪৪২/১)
৭.   “দুগ্ধে যেমন থাকে ননি, ভেয়ানে বিভিন্ন জানি, অমৃতসুধা ঢাকা তেমনি, আগে পরে গরল দিয়ে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৭/৩)(মুখ; হলাম না রে রসিক ভেয়ে, না জেনে রসের ভিয়ান, মরতে হলো গরল খেয়ে”)।৮.   “ফুলে মধু প্রফুল্লতা, ফলে তার অমৃতসুধা, এমন ফুল দিন দুনিয়ায় পয়দা, জানলে দুর্গতি যায়।” (পবিত্র লালন- ২৬০/২)(মুখ; ও সে ফুলের মর্ম জানতে হয়, যে ফুলে অটলবিহারী, শুনতে লাগে ভয়”)
৯.   মাওলার মহিমা এমনই, সে নদীতে বয় অমৃতপানি, তার একরতি পরশে অমনি, অমর হয় সেজনে।” (পবিত্র লালন- ১২০/৩)(মুখ; আবহায়াতের নদী কোনখানে, যাও জিন্দাপিরের খান্দানে, দেখিয়ে দিবে সন্ধানে”)
১০. “সকাল বিকাল জোয়ার ভাটা ত্রিধারা-সাগরে, রক্তিম সাদা পাড়ি দিয়া যাইও কালা ধারে, অমৃতসুধা দুগ্ধ মধু যত পারো খাইতে যাদু, বলন কয় সাবধানে সাধু প্রাণ ভরিয়া খাও।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫২)(মুখ; এবার সাজাইয়া লও আপন দেশের নাও, রে মনমাঝি ধীরে ধীরে বাইয়া যাও”)

অমৃতের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of ambrosia)
১.   “অগ্নি রয়েছে ভস্মে ঢাকা, অমৃত রয়েছে গরলে মাখা, সেরূপে কত রসিক সুজন, ডুবে তার অন্বেষণ করছে।” (পবিত্র লালন- ৭২৯/২)
২.   “অমৃতঔষধ খেলি, তাতে মুক্তি নাহি পেলি, লোভ লালসে ভুলে রইলি, ধিক তোর লালসেরে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৫/৩)
৩.   “কখন অমৃতমেঘের বরিষণ, চাতক স্বভাব জানরে মন, তার এক বিন্দু পরশিলে, শমন-জ্বালা ঘুচে যায়।” (পবিত্র লালন- ৯১৬/২)
৪.   “দাঁড়াতে গেলে হয় দ্বিগুণ ক্ষতি, হারিয়ে যায় অমৃতসুধা মতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪১)
৫.   “নাম শুনেছি অমৃতসুধা, পান করা মোর হলো না, একটি ফোটা দয়া করে, আমায় ভোজন করাও না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৭)
৬.   “ফলে যার অমৃতসুধা, ফুলে মধু প্রফুল্লতা, পান করলে হরে ক্ষুদা, দারিদ্রতা দূরে যায়।” (পবিত্র লালন- ৫৪৫/৩)
৭.   “যে জলে এ তরী চলে, যারে অমৃতসুধা বলে, তারে আমি অবহেলে, জল সাধনা হলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৯)
৮.   “যে পেয়েছে সে বুঝেছে, অমৃতফলের চাকা, তারে বর্তমানে সাধন করো, ত্রিবেণীতে পাবি দেখা।” (পবিত্র লালন- ৬৮১/২)
৯.   “শুদ্ধপ্রেম রসিক হলে, রসরতী উজান চলে, ভিয়ানে সুধা ফলে, অমৃতমিছরি ওলা, লালন বলে আমার কেবল, প্রেমজল তোলা ফেলা।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৫)
১০. “সাতাশনক্ষত্র সাঁইত্রিশ যোগেতে, কোন সময় চলে সাঁইত্রিশেতে, যোগের এমনই লক্ষণ, অমৃতফলের স্থান, জানত যদি দরিদ্র মন, অসার কিছুই থাকত না।” (পবিত্র লালন- ৬৩৬/২)
১১.  “সাধুরচরণ পরশিলে, অমৃতসুধার গুদাম মিলে, একবিন্দু পান করিলে, জন্ম-মরণ রহে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৭)
১২.  “সুবুদ্ধি সুস্বভাব গেল, কাকের স্বভাব মনের হলো, ত্যেজিয়ে অমৃতফল, মাকালফলে মন মজিলরে।” (পবিত্র লালন- ১৪৬/২)
১৩. “সেই পঞ্চরস অমৃতসুধার বাণিজ্য মেলায়, দুগ্ধ রতী সুধা মধু কত যে ভেঁসে বেড়ায়, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, ত্রিবেণীর দরজা খুলে, পঞ্চরস নিও গো তুলে জনমভরি (ও ভোলা মন)।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪১)

অমৃতের সংজ্ঞা (Definition of Ambrosia)
সাধারণত; যে কোনো সুপেয় পানীয়কে অমৃত বলে।

অমৃতের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of ambrosia)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; দুগ্ধ, শুক্র, সুধা ও মধু এ চার প্রকার মানবজলকে অমৃত বলে।

অমৃতের প্রকারভেদ (Variations of ambrosia)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; অমৃত চার প্রকার। যথা; ১. দুগ্ধ ২. শুক্র ৩. সুধা ও ৪. মধু।

. দুগ্ধ (Milk)
মাতৃস্তন্য হতে নিঃসৃত সুপেয় সাদাবর্ণের পানীয়কে দুগ্ধ বলে।

. শুক্র (Semen)
মৈথুনের সময়ে নরদেহ হতে শিশ্নের মাধ্যমে শ্বেতবর্ণের যে তরল পদার্থ স্খলিত হওয়ার পর নরজীবের কামবাসনা প্রশমিত হয় তাকে শুক্র বলে।

. সুধা (Nectar)
যে কোনো সুপেয় পানীয়কে সুধা বলে।

. মধু (Honey)
জরায়ুতে সঞ্চিত সুমিষ্ট ও সুপেয় গাঢ় তরল পদার্থকে মধু বলে।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; অমৃত দুই প্রকার। যথা; ১.উপমান অমৃত ও ২.উপমিত অমৃত।

. উপমান অমৃত (Analogical ambrosia)
সাধারণত; যে কোনো সুপেয় পানীয়কে উপমান অমৃত বলে।

. উপমিত অমৃত (Compared ambrosia)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; দুগ্ধ, শুক্র, সুধা ও মধু এ চার প্রকার মানবজলকে উপমিত অমৃত বলে।

অমৃতের উপকার (Benefits of ambrosia)
অমৃতের উপকারিতার শেষ নেই। এটি; শ্বরবিজ্ঞানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; এটি; বিশ্বের সর্ব রোগের ঔষধ। এ রস নিয়মিত পান করতে থাকলে সাধারণত; চুল-দাড়ি আমরণ পাকে না। বীর্য ক্রমে ক্রমে গাঢ় হতে থাকে। আয়ু বাড়তে থাকে। এক কথায় এ রস নিয়মিত পান করলে প্রয়াণ ব্যতীত অন্য কোনো রোগে আক্রমণ করতে পারে না।

অমৃতের পরিচয় (Identity of ambrosia)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দুগ্ধ পরিবারের অধীন বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

বর্তমানে অমৃত নিয়ে অপসংস্কৃতি, অপব্যখ্যা, অপব্যবহার ও অপপ্রচারের শেষ নেই। সাধারণ মানুষরা মনে করেন অমৃত হয়তো ‘সোনারহরিণ’ নয়তো ‘পরশপাথ’। জীবনে কেউ কখনই এর সন্ধান পান নি এবং কোনো দিন পাবেনও না। তারা আরও বলেন এটি; গুরু গোঁসাইদের মৌখিক গালগল্প মাত্র ইত্যাদি। এমন ধারণাকারীদের ব্যাপারে পরামর্শ হলো সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক ভূতুড়ে কিংবদন্তি হতে বের হয়ে আসার সময় হয়েছে। অমৃত ‘সোনারহরিণ’ বা ‘পরশপাথর’ কিছু নয়  বরং এটি; সাধনীয় বস্তু। একনিষ্ঠভাবে সাধন করলে অবশ্যই এ সম্পদ আহরণ করা যায়। শ্বরবিজ্ঞানে; দুগ্ধ, শুক্র, সুধা ও মধু এ চারটি মানবজলকেই অমৃত বলা হয়। এর বাইরে অন্যকিছুকে অমৃত বলা, চিন্তা করা, ধারণা করা ও অনুমান করা সম্পূর্ণই পাপ। যেমন; মূত্র, রজ, রক্ত, ভ্রূণজল, গুরুর জ্ঞান ইত্যাদিকে অমৃত ভাবা সম্পূর্ণই পাপ। অমৃত আহরণ ও সেবন বিষয়টি একান্ত গোপনীয় সাধক গোঁসাই বা গুরুর নিকট হতে ভালোভাবে জেনে ও বুঝে নেওয়া সব সাধকের একান্ত প্রয়োজন।

বর্তমানে বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার যুগ। এ যুগে সাম্প্রদায়িক-পারম্পরিক ও সামাজিক সর্বপ্রকার অন্ধবিশ্বাস, অপসংস্কৃতি ও অনুমান নির্ভর অভিধা হতে বের হয়ে আসা সব মানুষের একান্ত প্রয়োজন। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক যে কোনো বিষয়ের ব্যাপারে প্রমাণ ভিন্ন কেবল গুরু, গোঁসাই, অর্হৎ, দীশারী, কাণ্ডারী, আলিম, ঠাকুর, ভিক্ষু কিংবা ব্রাহ্মণ-পুরোহিতের মুখের কথার ওপর নির্ভর করা কঠিন পাপ। কারণ; অনুমান ও মনগড়া সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ হতে বর্তমানে সমাজের কল্যাণ ও মঙ্গলের পরিবর্তে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উদ্ভব-উৎপত্তি হচ্ছে। শ্বরবিজ্ঞানে; দুগ্ধ, শুক্র, সুধা ও মধুকেই অমৃত বলা হয়। তবে; এখানে; কেবল দুগ্ধকেই অমৃত বলা হয়েছে। মজার বিষয় হলো সমাজে একদল নির্বোধ সাধু কিংবা শিষ্যরা গুরুর জ্ঞানকে অমৃত বলে বিশ্বাস করেন এবং তা প্রচার ও প্রসার করে থাকেন। পরবর্তী শিরোনামে আমরা অমৃতের আরও ভালো বিবরণ উপস্থাপন করার আশা করছি।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!