আকাশ

২৭/০৭. আকাশ
Sky (স্কাই)/ ‘سماء’ (সামায়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জরায়ু পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা জরায়ু। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা নিধুয়া। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা কুঞ্জ, ঢাকা, পাতাল, ফুল স্বর্গপুর। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অম্বর, বৈকুণ্ঠ মিথিলা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কাশী, দেবধাম, ব্রজধাম, মথুরা স্বর্গধাম। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের আগধড়’, জরায়ু’, পুরুষভৃগু ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার ব্যাপক পরিভাষা রূপেও ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
আকাশ (বাপৌচা)বি ব্যোম, শূন্য, অম্বর, অন্তরীক্ষ, স্বর্গ, sky, ‘سماء’ (সামায়া) (প্র) শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত; গুরু, জ্ঞান, ভৃগু, সাঁই, স্বর্গ, আগধড়, নাভির ঊর্ধ্বাংশ (শ্ববি) জরায়ু, গর্ভাশয়, uterus, womb, রেহেম (.ﺮﺤﻢ) (রূপ্রশ) কাশী, ঢাকা, মথুরা, বৈকুণ্ঠ, মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান (ইংপ) heaven, paradise (ফাপ) বেহেস্ত (ফা.ﺒﻬﺷﺖ) (ইপ) জান্নাত (.ﺠﻨﺎﺖ), আরশ (.ﻋﺭﺶ), ক্বলব (.ﻗﻟﺐ), মদিনা (.ﻤﺪﻴﻧﻪ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জরায়ু পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; মাথার ওপরে অবস্থিত বিশাল মহাশূন্যকে আকাশ বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, ঋতুমতীর জরায়ুকে উপমার্থে আকাশ বলা হয় (বাপৌছ) কাশী, দেবধাম, ব্রজধাম, মথুরা ও স্বর্গধাম (বাপৌচা) অম্বর, আকাশ, বৈকুণ্ঠ ও মিথিলা (বাপৌউ) কুঞ্জ, ঢাকা, পাতাল, ফুল ও স্বর্গপুর (বাপৌরূ) নিধুয়া (বাপৌমূ) জরায়ু।

আকাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of sky)
১.   “আকাশে হয় ভাটা জোয়ার, কূল ভাঙ্গে পাতালে তার, ঢাকানগরের অবাক ব্যাপার, টার্মিনাল মহাখালে।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; কাঁই কাঁইরে মজার খাল কেটেছে ভারি কৌশলে, একবিন্দু জল নাইরে খালে, কাপড় ভিজে ঝাঁপ দিলে”)
২.   “আকাশে সাঁই ঠাঁই নিয়েছে, পাহাড়ের চূড়ায়, নয়া বিজয়ের ডাক এসেছে, প্রতিপদে পূর্ণিমায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮)
৩.   “আপনস্বামী রেখে ঘরে- পরপুরুষের সঙ্গ করে, বাহুঠুকে করে পোদ্দারি- বলন কয় মরার ভয়ে- সাধুরা যায় মেয়ে হয়ে, আকাশে বায় সোনারতরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩০)(মুখ; তিনশত ষাটটি বিয়ের পরও, কন্যা থাকে বাপের বাড়ি, সত্য করে কও গোঁসাই গো, কেমন সেই সুন্দরী”)

আকাশের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of sky)
১.   “আকাশ ভূমি বিশ্বব্যাপী একটি শশী দেখা যায়, সপ্ততল পাতালে দেখ দুটি চন্দ্র শোভা পায়, একটি চন্দ্র দেখে সবে, দুটি মেঘের আড়ালে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৮)
২.   “আকাশে গড়িয়া বাড়ি, মাঝখানেতে করেছ খাড়ি, হাঁকাইছ বায়ুগাড়ি, দ্বিপদী মৃণাল করিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৪)
৩.   “আকাশে বরিষণ হলে, মনরে সুষুম্না ইড়া পিঙ্গলে, বলন কয় নিরীক্ষ বলে, যায়রে সুধার ভেদ জানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮)
৪.   “আকাশে মই লাগিলে উড়ে পাতালে যায় বাতাসে, সাদা কালো দুটি চন্দ্র তার হাতে আসে অনায়াসে, পায় না চাঁদ অস্ত গেলে, পাহাড় সাগর খগোলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৮)
৫.   “আকাশে মই লাগাইয়া, ফল পাড়ে দুইজনে গিয়া, বলন কয় দ্বার খুলিয়া, সাধুরা ফল খাইতেছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৮)
৬.   “আয়রে সাত আকাশের দ্বার খুলিয়া জলেতে মিশে, আয়রে প্রাতঃ সন্ধ্যা কোমলকোঠায় বাতাসে ভেঁসে, হাজার মাস যোগ ধরিলে, দেখতে পাবি গুরু-সাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১২)
৭.   “গুরু গো পাতালেতে ঘর গড়িয়া তুমি থাক আকাশে, আবার মাটির ঘরে আমায় রেখে তুমি ঘুর বাতাসে, একদিন আর খোঁজ নিলে না, শিষ্য কোথায় রয়েছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭১)
৮.   “ছয়টি প্রহরেতে মানবসৃষ্টি সর্ব মতে, আকাশ ভূমি সৃজনের ভেদ জানতে, লালন করে বাসনা।” (পবিত্র লালন- ২০২/৩)
৯.   “জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা, দেখায় সবাই আসমানে, খোদা আছেন কোন স্বর্গপুরে, কয়জনে ভেন জানে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৩/১)
১০. “পাতালের চাঁদ উদয় আকাশে, তিনদিন রয় সাধনপুরে, দ্বিখণ্ড হয় অনায়াশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮১)
১১.  “প্রভুর জ্যোতি দেখ মনরায়, যে জ্যোতিতে আকাশ-ভূমি, ত্রিভুবন উজ্বালাময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৬)
১২.  “বারোবছর হইলে শুনি, প্রথম আকাশে আসে ননি, সে জন হয় ধনের ধনী, যে জন রয় সাধনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)
১৩. “লালনিশানে ভক্তি দিয়া, সাত আকাশের দ্বার খুলিয়া, দুই দেবতা আসবে নিয়া, পাইলে রেখ যতনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)
১৪. “শক্তি সাঁই আত্মা ইন্দ্রিয়, রিপু কর্ম ভাবকেন্দ্র, আকাশ ভূমি সূর্য চন্দ্র, চল্লিশগুণ চুরাশি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৬)
১৫. “সিনা সফিনার মানি, ফাঁকাফাঁকি দিনরজনী, কেউ দেখে বর্ত্ম শুনে মত্ত, কেউ আকাশ ধেয়েছে।” (পবিত্র লালন- ৭৫৬/২)
১৬.  “হায় হায় পূর্ণিমা রজনী এলে, সাত আকাশের দুয়ার খোলে, সত্তর হাজার পর্দা তুলে, দেখা দিবে দয়াল সাঁই, পঞ্চাশ হাজার বছর, নিরীক্ষ ধরে থাকা চাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭)

সাধারণ আকাশ অর্থে আকাশপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology sky sense for ordinary sky)
১.   “অনুমানের ঘোড়ায় চড়ে, মথুরা মদিনায় ঘুরে, বিমানযোগে আকাশে উড়ে, চেনে না যমদুয়ার।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; পাগল দেখি পাগলের মাস্টার, ছেঁড়া তার সব জোড়া দিয়ে, বাজায় বসে ট্যঞ্জিস্টার”)
২.   “আপন ঘরে কে কথা কয়, না জেনে আকাশে দেখায়, হায়াত রূপে কেবা হেথায়, লালন ভাবে দিব্যজ্ঞানে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৩/৪)
৩.   “ঊর্ধ্বদিকে দিবা হলে, অধঃদিকে নিশি বলে, আকাশ তো দেখে সকলে, খোদা দেখে কয়জনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৩/৩)
৪.   “ডুবে দেখ দেখি মন, কিরূপ লীলাময়, যারে আকাশে পাতালে খুঁজি, এ দেহে সে রয়।” (পবিত্র লালন- ৪৮০/১)
৫.   “নয়নে না দেখলাম যারে, কী মতে ভজব তারে, নিচের বালি না গণে, আকাশ ধরছ অন্ধকারে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৭/৩)
৬.   “যেন আকাশ ভূমিতে মিশে, দেখ দূর মাঠের পাশে, ধরতে গেলে দূরে যায় সে, তারে কেবা পায় জীবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪)
৭.   “যেমন সবাই বলে দেহের সূর্য আকাশে নিয়া, তেমন আকাশের সাঁই ধরা পড়ে পাতালে গিয়া, বলন কয় খুঁজ সদাই, সাঁই ঘুরে নাকের কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৯)

আগধড় অর্থে আকাশপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology sky sense for ascender)
১.   “আকাশ-পাতাল মিলে দেহরতী, উপাসনায় চাই সে মোতি, যদি চেতনগুরু পাই- তারে শুধাই, লালন বলে ঘুচাই মনের দিশে।” (পবিত্র লালন- ৩৬১/৪)
২.   “আকাশ-ভূমি জুড়ে ঘড়িটা, দুইদিকেতে নয়টি ফুটা, মাঝখানেতে একটি খুঁটা, বলন কাঁইজি কয় গণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১০)
৩.   “একটি চন্দ্র সহস্র তারা, সারা আকাশ ছেয়ে রয়, অমাবস্যা লাগলে সে চন্দ্র, আবার কোথায় গিয়ে লুকায়।” (পবিত্র লালন- ৬৭৯/৩)
৪.   “কল্পবৃক্ষে যেজন বসে রয়, বাঞ্ছা করলে ফল তাতে পায়, ভুবন জুড়া গাছের গোড়া, মূল শিকড় আকাশে।” (পবিত্র লালন- ৮৩৮/২)
৫.   “ছয় দিনে গড়ে আকাশ ভূমি, মনের মত করে তিনি, কোন ঘড়িতে দিন গণে, মন চল ঘড়ি সন্ধানে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১০)
৬.   “জীবকে তরাতে বৈতরণী, চলাফেরা করেন তিনি, বলন কয় আকাশ-ভূমি, ভেঙ্গেচুরে একত্র করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৬)
৭.   “তিন তিনটি চন্দ্র উদয় আকাশ ভূমি পাতালে, পশ্চিমে সূর্য উদয় হয়গো ভরা সন্ধ্যাকালে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৮)
৮.   “দেহের আকাশ দেহের পাতাল, নিরূপণ করতে হইওনা বেতাল, ধর্মকর্ম ও ধার্মিকের আল, করতে হয় লঙ্ঘনা।” (পবিত্র লালন- ৭৭৯/৩)
(মুখ; মানবদেহ ঠিক করে করো সাধনা, নইলে পরে পড়বি ফেরে, কাঁদলে আর সারবে না”)
৯.   “পাক-পাঞ্জাতনের পঞ্চ নূর, চার যুগে হলেন উদয়, একসঙ্গে পাঁচটি তারা, থাকে সে আকাশের গায়।” (পবিত্র লালন- ৬১৮/১)
১০. “মূল শাখা ডাল আকাশে গাছের ফল ধরে পাতালে, গুরু কৃপায় কারো ভাগ্যে সেই তাজা ফলটি মিলে, উল্টোবৃক্ষে ফল পাকিলে- গুরু খাইয়া শিষ্যে দিলে, মরার আগে মরিলে- যমদুত ভয়ে পালায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৬)

পঞ্চভূত অর্থে আকাশপরিভাষাটির ব্যবহার

(Using the terminology sky sense for penta elements)

“ক্ষিতি জল বাও হুতাশনে, যার যার বস্তু সে সেখানে, মিশবে তাই মনা, আকাশে মিশবে আকাশ, সবার গোড়ায় এ পাঁচজনা।” (পবিত্র লালন- ৯৯৯/৩)

পুরুষ অর্থে আকাশ পরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology Sky sense for male)
১.   “আকাশে আখেটি করতে পাশ পাতে পাতালে, বাতাসে কৌশল করিয়া বসিয়া রহে জলে, প্রেমের রশি লাগায়- বাঁন্ধিয়া রাখে কারায়, যদি ধরা পড়ে হায়, মুক্তি পাবার সাধ্য নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬০)(মুখ; কাঁইয়ের নিগূঢ়লীলা বুঝা বড় দায় (মনরে), মধ্যমূলে কল বসাইয়া খেলছে বসে নিরালায়”)
২.   “সাঁই আকাশে ঠিকানা দিয়া, বাস করে পাতালে গিয়া, যত রাখ মোহ দিয়া, হারা হবি তার নাগাল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২০)(মুখ; কার মায়ায় মজিলিরে অবোধ মন বাঙাল, মায়ারশি টেনে ছিঁড়ে প্রাণ অজানায় দিবে উড়াল”)
৩.   “সে আকাশে ঠিকানা দিয়ে, ঠাঁই নিয়েছে পাতালে গিয়ে, উত্তর কী দক্ষিণ বায়ে, কৃষ্ণকালা ভবের ব্রজ্যা।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; যার ভাবে এ কোপনি মজা, শ্বেত বসনে সাধু সাজা, জাতি কুল সব ত্যাজিয়ে, সেজেছে সে পথের রাজা”)
৪.   “পাতালে চোরের বহর, দেখায় আকাশের ওপর, তিন তারে হচ্ছে খবর, শুভাশুভ যোগ মতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬/২)(মুখ; ধরো চোর হাওয়ার ঘরে, ফাঁদ পেতে, সে কিরে সামান্য চোরা, ধরবি কোনাকাঞ্চিতে”)
৫.   “সপ্ততল পাতালে ঘর, চাবি রাখা আকাশের পর, খুলে ঘর দিনে দু’বার, অরসিক পায় চোরের হানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৪)

ভৃগু অর্থে আকাশপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology sky sense for cervix)
১.   “আকাশে এক দাঁড়িপাল্লা, দয়াল স্থাপন করেছে, দয়াল দেখা সেই পেয়েছে, মাপে যেই ঠিক হয়েছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯)
২.   “দয়াল আকাশেতে দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করিয়া, বায়ু দ্বারা গণনা করে আড়ালেতে বসিয়া, বাহিরেতে তালা লাগায়- ভিতরে রহে লুকায়, কারবা এমন সাধ্য তাই- নিগূঢ় ঘরের তালা খোলা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪০)

আকাশের সংজ্ঞা (Definition of sky)
সাধারণত; মানুষের মাথার ওপরে অবস্থিত বিশাল মহাশূন্যকে আকাশ বলা হয়।

আকাশের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of sky)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; স্ত্রী জননতন্ত্রের সন্তান ধারণ ও লালনপালনে নিয়োজিত অন্ত্রকে রূপকার্থে আকাশ বলে।

আকাশের প্রকারভেদ (Variations of sky)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; আকাশ দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান আকাশ ও ২. উপমিত আকাশ।

. উপমান আকাশ (Analogical sky)
সাধারণত; মাথার ওপরে অবস্থিত বিশাল মহাশূন্যকে উপমান আকাশ বলে।

. উপমিত আকাশ (Compared sky)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ঋতুমতীর জরায়ুকে উপমিত আকাশ বলে।

পৌরাণিক আকাশভূমি সূত্র (Mythological sky-land formula)
ভূমিকা (Prolegomenon)
সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ, মরমী গীতি এবং সাম্প্রদায়িক-পারম্পরিক শাস্ত্রীয় পুস্তক-পুস্তিকায় আকাশভূমি, আকাশপাতালদ্যুলোকভূলোক ইত্যাদি পরিভাষার অসংখ্য ব্যবহার দেখা যায়। আর সাধারণত সাম্প্রদায়িক-পারম্পরিক ঠাক-পুরুৎ, মোল্লা-মুন্সি, প্রেমিক, অনুসারী, অনুরাগী, পাঠক, শ্রোতা, বক্তা, ওয়ায়েজিন, আলোচক, পালাগান গায়ক, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা উক্ত আকাশভূমি, আকাশপাতালদ্যুলোকভূলোক ইত্যাদি পরিভাষা দ্বারা কেবল নভমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। কিন্তু পৌরাণিক বিশ্বে আকাশ ও দ্যুলোক পরিভাষা দ্বারা কখনই নভমণ্ডলকে বুঝানো হয় না; বরং আগধড়, আত্মা, আলো, গুরু, জরায়ু, জ্ঞান, দ্যুলোক, নাভির ঊর্ধ্বাংশ, পুরুষ, বৈকুণ্ঠ, পিতা ও সুস্থতা বুঝানো হয়। অনুরূপভাবে; পৌরাণিক বিশ্বে ভূমি ও পাতাল পরিভাষা দ্বারা কখনই ভূমণ্ডলকে বুঝানো হয় না; বরং ক্ষেত্রবিশেষে অন্ধকার, অসুস্থতা, দেহ, জননপথ, নাভির নিম্নাংশ, নারী, পাছধড়, পুত্র, বৈতরণী, ভূলোক, মন ও শিষ্য ইত্যাদি বুঝানো হয়। বিষয়টি তারা জানেও না বুঝেও না। আর না বুঝার কারণেই সাম্প্রদায়িক-পারম্পরিক অঙ্গনে এত জাতিভেদ ও দলাদলি। আবার; একই সম্প্রদায়ের মধ্যে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা ও দল উপদল। আর যুগে যুগে এই অজ্ঞ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরাই রাজনৈতিক বলির পাঁঠা।

পৌরাণিক আকাশভূমি সূত্র (Mythological sky-land formula)
“কোনো প্রবল শক্তিশালী সত্ত্বাকে আকাশ ধরতে হলে অবশ্যই সমগোত্রীয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল সত্ত্বাকে পাতাল ধরতে হবে।”

পৌরাণিক আকাশভূমি সূত্রের সংজ্ঞা (Definition of mythological sky-land formula)
পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণের সময়ে মানুষে বিদ্যমান প্রবল কোনো সত্তাকে আকাশ ধরা ও সমগোত্রীয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল সত্তাকে ভূমি ধরার নিয়মকে পৌরাণিক আকাশভূমি সূত্র বলে।

পৌরাণিক আকাশ-ভূমি বা আকাশ-পাতাল সূত্রের অনেক প্রেক্ষিত আছে। তারমধ্যে; নিচে ১৫টি প্রেক্ষিত দেখানো হয়েছে।

          আকাশ  (Sky)                                 ভূমি  (Land)
১.    আগধড়কে আকাশ ধরতে হলে;      পাছধড়কে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
২.   আত্মাকে আকাশ ধরতে হলে;          দেহকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৩.   আলোকে আকাশ ধরতে হলে;         অন্ধকারকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৪.   গুরুকে আকাশ ধরতে হলে;             শিষ্যকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৫.   জরায়ুকে আকাশ ধরতে হলে;         জননপথকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৬.   জ্ঞানকে আকাশ ধরতে হলে;           মনকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৭.   নাভির ঊর্ধ্বাংশকে আকাশ ধরতে হলে; নাভির নিম্নাংশকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৮.   পুরুষকে আকাশ ধরতে হলে;         নারীকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
৯.   বৈকুণ্ঠ আকাশ ধরতে হলে;             বৈতরণীকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
১০. পিতাকে আকাশ ধরতে হলে;         পুত্রকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
১১.  ভৃগুকে আকাশ ধরতে হলে;           ভগকে অবশ্যই পাতাল ধরতে হবে।
১২.  সবলকে আকাশ ধরতে হলে;         দুর্বলকে অবশ্যই পাতাল ধরতে হবে।
১৩. সাঁইকে আকাশ ধরতে হলে;            রতীকে অবশ্যই পাতাল ধরতে হবে।
১৪. সুস্থতাকে আকাশ ধরতে হলে;        অসুস্থতাকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।
১৫. স্বর্গকে আকাশ ধরতে হলে;           মর্ত্যকে অবশ্যই ভূমি ধরতে হবে।

অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো; শ্বরবিজ্ঞানের আকাশ-পাতাল পুরোটাই কেবল বাক্যের ভাবের ওপর নির্ভর করে। আর সে আকাশ-পাতাল অবশ্যই মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদি এর মধ্যে অবস্থিত। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ মরমী-বাণী ও বিভিন্ন পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে আকাশ-পাতাল পরিভাষা দেখামাত্রই মানুষের মাথার ওপরে অবস্থিত মহাশূন্য ও ভূমির ষষ্ঠতম তল বুঝে এবং বুঝিয়ে থাকে। যেমন; এতে কোনো জ্ঞান অর্জিত হয় না; তেমনই; কোনো উপকারেও আসে না। আত্মদর্শনকে বলা হয় মহাদর্শন বা সর্বোচ্চ দর্শন (super philosophy)। যদি এ দর্শনকে কেউ জ্যোতির্বিদ্যা মনে করে; কিংবা মহাকাশ বিজ্ঞান মনে করে; তবে তার মতো নরাধম আর কেবা থাকতে পারে? এ সূত্রটি না জানার কারণে; সাম্প্রদায়িকরা যার যার শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ ও মরমী বাণীতে বর্ণিত আকাশ-পাতালের অভিধা নির্ণয় করতে প্রায় ভুল করে। কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তার কাল্পনিক মহিমা ও ভুয়োসি প্রশংসা করতে করতে মুখে ফেনা তোলে। সঠিকভাবে শাস্ত্রীয় আকাশ-পাতাল হতে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। এখন কাল্পনিক ও নিরাকার সৃষ্টিকর্তার খপ্পর হতে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে।

আকাশের পরিচয় (Identity of sky)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জরায়ু পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে; সাধারণ পাঠক-পাঠিকাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

সাধারণত; মানুষের মাথার ওপরে অবস্থিত বিশাল মহাশূন্যকে আকাশ ধরা হয়। এটা ন্যূনাধিক সবাই জানে ও বুঝে। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; ঊর্ধ্বাঙ্গ, আত্মা, গুরু, জ্ঞান, পুরুষ, বৈকুণ্ঠ, ভৃগু, সবল ও সাঁই প্রভৃতি সত্তাকে আকাশ বলা হয়। বড় মজার বিষয় হলো; বর্তমানে অভিধানবিদ হতে আরম্ভ করে লেখক, গবেষক, বৈখ্যিক ও টৈকিকরা সবাই আকাশ পরিভাষাটির অভিধা মহাশূন্য গ্রহণ করা আরম্ভ করেছেন। যারফলে; তাদের নির্মিত অভিধান, অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও টীকাগুলোও মহাশূন্যেই পরিণত হতে আরম্ভ করেছে। তাই; বর্তমানে বিশ্ববাসী বিশ্ববিখ্যাত সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মহাগ্রন্থগুলো পাঠ-অধ্যায়ন করে উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে উগ্র-আগ্রাসনবাদী ও যুদ্ধাংদেহী হওয়া আরম্ভ হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত মহাগ্রন্থ হলো; মানুষের জীবনবিধান। যেমন; বেদ, বাইবেল (Bible) ত্রিপিটক, কুরান, লালন ও বলন। জীবনবিধানকে নির্বোধ মনীষীরা বর্তমানে রাষ্ট্রীয়-বিধান, সমাজ-বিধান, মহাকাশ-বিধান, মহাসাগর-বিধান ও পাহাড়-পবর্ত বিধান বলে গলা ফাটিয়ে প্রমাণ করার অপচেষ্টায় রত হয়েছে। এরফলেই; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের কার্যকারিতা আজ মুখথুবড়ে পড়েছে। মানুষের ভজন-সাধনের নিষ্কণ্টক পথ-পন্থাগুলো আজ লেজে গোবরে হয়ে পড়েছে। পরিশেষে বলা যায়; বিশ্ববিখ্যাত শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণে বর্ণিত আকাশ পরিভাষাটির দ্বারা কখনই মাথার ওপরে অবস্থিত মহাশূন্যকে বুঝায় না। বরং আকাশ দ্বারা ঊর্ধ্বাঙ্গ, আত্মা, গুরু, জ্ঞান, পুরুষ, বৈকুণ্ঠ, ভৃগু, সবল ও সাঁই এর যে কোনো একটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তাকে বুঝায়। এজন্য; এসব পরিভাষা ধরে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মহাগ্রন্থ, শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ পাঠ করলেই তার মূলশিক্ষা উদ্ঘাটন করা সম্ভব। অন্যথায়; গ্রন্থ পাঠ করা হবে বটে কিন্তু বুঝা যাবে না কিছুই। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা শ্বরবিজ্ঞান বা আত্মদর্শন অনুযায়ীই পাঠ করা উচিত। উল্লেখ্য; বিশ্বের যে দেশ ও যে জাতি আত্মতত্ত্বের জ্ঞানে যত উন্নত অর্থনৈতিকভাবেও তারা ততই উন্নত।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!