ঈশ্বর

৪৮/১৮. ঈশ্বর
Jehovah (জিহৌভ)/ ‘يهوه’ (ইয়াহুয়াহু)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পালনকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সাঁই। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ফুল। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ হরি এবং এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ সুধা

অভিধা (Appellation)
ঈশ্বর (বাপৌছ)বি সৃজক, স্রষ্টা, সৃষ্টিকর্তা, jehovah, ‘يهوه’ (ইয়াহুয়াহু) (প্রাঅ) বিধাতা, অধিপতি, হৃদয়েশ God, Lord, রাসুল (ﺮﺴﻮﻝ) ও আল্লাহ (ﺍﻠﻠﻪ) বিণ শ্রেষ্ঠ, প্রধান, গুরুত্বপূর্ণ (বীরেশ্বর) (প্র) সনাতনীদের পবিত্রস্থান বা মৃতের নামের পূর্বে ব্যবহার্য মহিমাজ্ঞাপক    চিহ্ন (ব্য্য). বাঙালী পুরাণ মতে; মহাদেব একাদশবার ভিন্ন ভিন্ন মূর্তি ধারণ করে একাদশ রুদ্র নামে খ্যাত হন। যথা; ১. অজ ২. একপাদ ৩. অহিব্রধ্ন ৪. পিনাকী ৫. অপরাজিত ৬. ত্র্যম্বক ৭. মহেশ্বর ৮. বৃষাকপি ৯. শম্ভু ১০. হর ও ১১. ঈশ্বর। অর্থাৎ; ঈশ্বর হলো মহাদেবের ১১টি আকার বা মূর্তির মধ্যে একটি আকার বা মূর্তি . বাংভারতীয় শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; ইষ্ট (আত্মীয়) হতে ঈশ্বর পরিভাষাটির উৎপত্তি। মানবের আদি-লালনপালনকর্তা সাঁই মাতৃগর্ভে সন্তান লালনপালন করেন বলে তার চেয়ে নিকটতম আত্মীয় বা ইষ্ট আর কেউই হতে পারেন না। এজন্য; অত্যন্ত আপন বা অত্যন্ত ইষ্ট হতেই ‘ঈশ্বর’ পরিভাষাটির উৎপত্তি. বাংভারতীয় শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; সাঁই ও কাঁই কিংবা বিষ্ণু ও ব্রহ্মাকে একত্রে ঈশ্বর বলা হয়। তবে; সাধারণত; ঈশ্বর বলতে সাঁই বা বিষ্ণুকেই বুঝায়। সংস্কৃত ঈশ্বর পরিভাষাটির দ্বারা বাংলা ভাষার সাঁই ও কাঁই উভয় উপাস্যয় বুঝায়। এজন্য; ঈশ্বরকে সাঁই ও কাঁই উভয় রূপেই ভজন-পুজন করা হয় (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) সাঁই, কাঁই, লালন, প্রভু, পতি, স্বামী, প্রণয়ী, গুরু, গোঁসাই (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সারা জগতের পালনকর্তাকে সাঁই বা ঈশ্বর বলা হয়. মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত শ্বেতবর্ণের মানবজলকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে ঈশ্বর বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা Jস্ত্রী ঈশ্বরী {বাং.ইষ্টি+ বাং.বর> ইষ্টর>}

মাবুদ [ﻤﻌﺑﻭﺪ] (আপৌছ)বি উপাস্য, পূজনীয়, উপাসনার যোগ্য, সাধনার যোগ্য (শ্ববি) ঈশ্বর, গুরু, গোঁসাই, পালনকর্তা, প্রভু, বিষ্ণু, সাঁই, guardian, রব (.ﺮﺐ) (রূপ্রশ) নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইংপ) God, nectar, elixir (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (পারদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ) (ইদে) মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; সর্বপ্রকার উপাস্যকেই ﻤﻌﺑﻭﺪমাবুদ বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে উপাস্য বা রূপকার্থে ﻤﻌﺑﻭﺪমাবুদ বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {}

ঈশ্বরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of jehovah)
১.   “অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং সারাচরাচর, গুরু তুমি পতিতপাবন পরম ঈশ্বর।” (পবিত্র লালন- ৪২/১)
২.   “আল্লাহ আল্লাহ কয়জন বলে, এ বিশ্ব ভূমণ্ডলে, ঈশ্বর গড কেন বলে, ভূপতি এক আল্লাহ হলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৫)

ঈশ্বরের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of Jehovah)
১.   “একদণ্ড জরায়ু ধরে, একেক ঈশ্বর সৃষ্টি করে, আগম নিগম চরাচরে, তাইতো; জাত ভিন্ন বলে।” (পবিত্র লালন- ৯১৮/২)
২.   “গোষ্ঠে গোপাল যে দুঃখ পায়, কেঁদে কেঁদে বলে আমায়, ঈশ্বর বলিস আর- স্কন্ধে চড়িস তার, কোন বিচারে।” (পবিত্র লালন- ৬৭৩/৩)
৩.   “জানা যায়রে কেবা ঈশ্বর, যার জন্ম সে নেয় বারবার, সিরাজ সাঁইজি কয় লালন এবার, সে বুঝে যে যারে বুঝায়।” (পবিত্র লালন- ৫৩৮/৪)
৪.   “টলে জীব অটলে ঈশ্বর, আত্মসুখ কামনা দোহার, শুদ্ধপ্রেম নাই অধিকার, হেতুশূন্য গমনা।” (পবিত্র লালন- ৮৮৯/২)
৫.   “টলে জীব অটলে ঈশ্বর, তাতে কী হয় রসিকনাগর, লালন কয় রসিক বিভোর, রস-ধ্যানে।” (পবিত্র লালন- ৯৭০/৪)
৬.   “পর অর্থে পরমঈশ্বর, আত্মা রূপে করেন বিহার, দ্বিদল বারামখানা, শতদল হাজার দলে- রয়েছে কেশের আড়ালে, সহজে দর্শন হয় না।” (পবিত্র লালন- ১১৮/২)
৭.   “বলরে বলাই তোদের শাস্ত্র কেমন হায়রে, তোরা বলিস চিরকাল ঈশ্বর ঐ গোপাল, মানিস কইরে।” (পবিত্র লালন- ৬৭৩/১)
৮.   “ব্রহ্ম ঈশ্বর দুই তো, লেখা যায় সাধ্য মতো, উঁচুনিচু কী তারও তো, করতে হয় সেও দিশে।” (পবিত্র লালন- ৮০৪/২)
৯.   “ভজে শুদ্ধ ঈশ্বরের চরণা, তাই সে বেদ মানে না, লালন কয় প্রেম-উপাসনা, করো দেখি কী দোষ তাতে।” (পবিত্র লালন- ২২০/৪)
১০. “মরলে ঈশ্বপ্রাপ্তি হয়, সেতো কথার কথা, জীবন থাকতে তারে পাওয়া যায় না, কে বলে এমন কথা।” (পবিত্র লালন- ৭৬৭/১)
১১.  “মানুষের করণ সেকিরে সাধারণ, জানে রসিক যারা, টলে জীব বিরাগী, অটলে ঈশ্বররাগী, সেও রাগ দেখি বৈদিক রাগের ধারা।” (পবিত্র লালন- ৭৮৮/১)
১২.  “যাওয়া আসা এক দ্বারে হয়, নারী-পুরুষ দুইজাতি কয়, এক ঈশ্বর এক জগৎময়, লালন কয় খুঁজে দেখ মনা।” (পবিত্র লালন- ৯১৭/৩)
১৩. “যারে তারে ঈশ্বর বলা, বুদ্ধি নাই তার অর্ধতোলা, ঈশ্বরের হয় যমজ্বালা, ভেবেছ কী একবার মনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৪/৩)
১৪. “রাম নারায়ণ গৌরহরি, ঈশ্বর যদি গণ্য করি, তারাও জীবের বংশধারী, এ সংসারে হয় কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৪/২)
১৫. “ষোল কলা চামকুঠরি- দশদশায় রইল ঘিরি, একেঈশ্বর অটলসাধন- আশিজনে কাঁন্ধে করে- চুরাশিফেরে ঘুরে, বলন কয় শোনরে মন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৯)

ঈশ্বরের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ লালন (A full Lalon on the jehovah)

মরলে ঈশ্বরপ্রাপ্ত হয় কেন বলে,
সেকথার পাই না বিচার,
কারো কাছে শুধালে।

মরলে যদি হয় ঈশ্বরপ্রাপ্ত,
সাধু অসাধু সমস্ত,
তবে কেন জপ তপ এত,
করেরে জলেস্থলে।

যে পঞ্চে পঞ্চভূত হয়,
মরলে তা যদি তাতে মিশায়,
ঈশ্বর অংশ ঈশ্বরে যায়,
স্বর্গ নরক কার মিলে।

স্থূল জীবের এ শরীরে,
ঈশ্বর অংশ বলি কারে,
লালন বলে চিনলে তারে,
মরার ফল তাজায় ফলে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৬)

ঈশ্বরের সংজ্ঞা (Definition of jehovah)
সাধারণত; সারা জগতের পালনকর্তাকে সাঁই বা ঈশ্বর বলে।

ঈশ্বরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of jehovah)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে জরায়ুতে ভ্রূণ পালনকারী শ্বেতবর্ণের মানবজলকে পালনকর্তা বা ঈশ্বর বলে।

ঈশ্বরের প্রকারভেদ (Variations of jehovah)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে ঈশ্বর দুই প্রকার। যথা; ১. সাদা ঈশ্বর ও ২. কালো ঈশ্বর।

. সাদা ঈশ্বর (White jehovah)
মানবদেহে প্রাপ্ত সুমিষ্ট ও সুপেয় ডাবের জলবৎ সাদাবর্ণের মস্তিষ্ক মেরুজলকে সাদাঈশ্বর বলে। যেমন; সাঁই।

. কালো ঈশ্বর (Black jehovah)
মানবদেহে প্রাপ্ত মধুবৎ সুমিষ্ট ও সুপেয় কালোবর্ণের মস্তিষ্ক মেরুজলকে কালোঈশ্বর বলে। যেমন; কাঁই।

সাদাঈশ্বরকে সংক্ষেপে সাঁই ও কালোঈশ্বরকে সংক্ষেপে কাঁই বলে। ‘সাঁই’ ও ‘কাঁই’ পরিভাষাদ্বয় বাংলাভাষার শ্বরবিজ্ঞানের দেবতা। সাদাঈশ্বরের দর্শনলাভকারী সাধকগণ সাঁইজি এবং কালো ঈশ্বরের দর্শনলাভকারী সাধকগণ কাঁইজি উপাধিলাভ করেন। এক বা একাধিক শব্দের ব্যাপক পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে দেবতামূলক পরিভাষার উৎপত্তি হয়। নিচে ‘সাঁই’ ও ‘কাঁই’ পরিভাষাদ্বয়ের উৎপত্তিমূল তুলে ধরা হলো।

সাঁই পরিভাষাটির উৎপত্তিমূল বিশ্লেষণ (The original derivation analysis of the God terminology)
সাদা (বাপৌছ)বিণ শুভ্র, শ্বেত, অকুটিল, আড়ম্বরহীন, অলঙ্কারহীন, শান্ত, ভদ্র, নম্র বি শ্বেতবর্ণ, সহজ (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

সাদা + ঈশ্বর =সাঈ (উভয় শব্দের প্রথম বর্ণ গ্রহণ করে)। ‘সাঈ’ পরিভাষাটির দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটির দীর্ঘস্বর পড়তে কষ্ট হয়। এজন্য; পড়ার সুবিধার্থে দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটিকে হ্রস্বই (ই) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে এবং সে পরিবর্তনের চিহ্নস্বরূপ একটি চন্দ্রবিন্দু ‘ ঁ ’ গ্রহণ করে ‘সাঈ’ পরিভাষাটি হতে ‘সাঁই’ পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। ‘সাঁই’ পরিভাষা হতেই ‘সাঁইজি’ পরিভাষাটির উৎপত্তি। বাংলা ‘সাঁই’ এবং তুর্কি ‘জি (ﺠﻰ)’ পরিভাষাদ্বয় একত্রিত করে (সাঁই+জি) হতে ‘সাঁইজি’ পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে।

সাঁই (বাপৌরূ)বি ঈশ্বর, প্রভু, বুদ্ধ, পতি, স্বামী (বাদে) বিষ্ণু (ইংপ) God (ইদে) রাসুল (رَسُولَ) (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {(সাদা+ঈশ্বর)> (সা+ঈ)> সাঈ>}

জি [ﺠﻰ] অব্য নামের পরে ব্যবহৃত সম্বোধনসূচক শব্দ (নানাজি) {তু}

সাঁইজি (বাপৌছ)বি প্রাণনাথ, প্রাণপতি, প্রাণস্বামী, প্রাণেশ্বর, বিশ্বনাথ, বিশ্বপতি বিণ বৈষ্ণব, সাঁইবিহারী, সাঁইচারী (ব্য্য) জ্ঞানের নৈরাকারস্তর এবং রসাশ্রয় ও রূপাশ্রয় হতে এ ‘সাঁইজি’ সম্প্রদায়ের উৎপত্তি (প্র). সাঁইদর্শনকারী সাধক সাধিকার উপাধি বিশেষ. সাঁই বা লালনপালনকর্তার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভকারী. শ্বরবিজ্ঞানের আউল, বাউল, নাড়া ও সাঁইজি; এ চারটি সাধনপথের সর্বশেষ পথ বিশেষ (বাপু) বৈষ্ণব (ইংপ) Godship (ইপ) ‘إلهية’ (ইলহিয়া), নায়েবেরাসুল (ﻧﺎﺌﺐ ﺮﺴﻭﻞ) {বাং.সাঁই+.জি}

সাধনের চতুর্পথ অনুচ্ছেদের ‘সাঁইজি’ অধ্যায়ে এর আলোচনা করা হয়েছে।

কাঁই পরিভাষাটির উৎপত্তিমূল বিশ্লেষণ (The original derivation analysis of the Lord terminology)
কালো (বাপৌছ)বি কালো, কৃষ্ণবর্ণ, শ্যামবর্ণ বিণ কৃষ্ণবর্ণযুক্ত, শ্যামবর্ণবিশিষ্ট (বাপৌছ) আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (বাপৌচা) অসিত, কালা, কালু, কৃষ্ণ ও  ব্রহ্মা (বাপৌউ) ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও শস্য (বাপৌরূ) কাঁই (বাপৌমূ) সৃষ্টিকর্তা।

কালো + ঈশ্বর = কাঈ (উভয় শব্দের প্রথম বর্ণ গ্রহণ করে)। ‘কাঈ’ পরিভাষাটির দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটির দীর্ঘস্বর পড়তে কষ্ট হয়। এজন্য; পড়ার সুবিধার্থে দীর্ঘই (ঈ) বর্ণটিকে হ্রস্বই (ই) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করে এবং সে পরিবর্তনের চিহ্নস্বরূপ একটি চন্দ্রবিন্দু ‘ ঁ ’ গ্রহণ করে ‘কাঈ’ পরিভাষাটি হতে ‘কাঁই’ পরিভাষা সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলা ‘কাঁই’ পরিভাষাটি হতেই ‘কাঁইজি’ পরিভাষাটির উৎপত্তি। আবার বাংলা ‘কাঁই’ এবং তুর্কি ‘জি (ﺠﻰ)’ পরিভাষাদ্বয় একত্রিত করে (কাঁই+জি)  হতে “কাঁইজি” পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে।

কাঁই (বাপৌরূ)বি ব্র‏হ্মা, বিরিঞ্চি, কাজলা, কালা, কালিয়া, কালু, কেলে, কৃষ্ণ, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা (ব্য্য) কাঁইশক্তি বা জীবনীশক্তি ভিন্ন জীব সৃষ্টি হয় না বলে কাঁইকে সৃষ্টিকর্তা বলা হয় (প্র). মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের মানবজল বা মধুবৎ মিষ্ট অমৃতসুধা. আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; বীজের অংকুরোদ্গম ক্ষমতা। অর্থাৎ; যে শক্তির দ্বারা বীজ বা জীবের বংশবৃদ্ধি হয় (শ্ববি) সৃষ্টিকর্তা, জগৎস্রষ্টা, বিধাতা, কমলাসন, চতুরানন, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, স্বায়ম্ভু, ব্রহ্মশক্তি (বাদে) ব্রহ্মা (ইংপ) Lord (ইদে) আল্লাহ (ﺍﻟﻟﻪ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; বাংলা ভাষায় সৃষ্টিকর্তাকে রূপকার্থে কাঁই বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে কাঁই বলা হয় (বাপৌছ) আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (বাপৌচা) অসিত, কালা, কালু, কৃষ্ণ ও  ব্রহ্মা (বাপৌউ) ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও শস্য (বাপৌরূ) কাঁই (বাপৌমূ) সৃষ্টিকর্তা {(কালো + ঈশ্বর) > কা + ঈ > কাঈ >}

জি [ﺠﻰ] অব্য নামের পরে ব্যবহৃত সম্বোধনসূচক শব্দ (নানাজি) {তু}

কাঁইজি (বাপৌছ)বি পরমেশ্বর, পরমপতি, বিশ্বেশ্বর, বিশ্বনাথ, বিশ্বপতি (প্রাঅ) ব্রাহ্মণ, বৈরিঞ্চি, কাঁইচারী, কাঁইবিহারী, ব্র‏হ্মচারী, Lordship (ব্য্য) জ্ঞানের নৈরাকারস্তর এবং রসাশ্রয় ও রূপাশ্রয় হতে এ ‘সাঁইজি’ ও ‘কাঁইজি’ সম্প্রদায়ের উৎপত্তি (প্র). কাঁইদর্শনকারী সাধকসাধিকার উপাধি বিশেষ. কাঁইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দর্শনলাভকারী. শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত আউল, বাউল, নাড়া ও সাঁইজি; এ চতুর্সাধন পথের সর্বশেষ পথের অন্তর্ভুক্ত (বাপু) ব্রাহ্মণ (ইংপ) Lordship (ইপ) নায়িবে ইলাহি (ﻧﺎﺌﺐ ﺍﻟﻬﻰ) {বাং.কাঁই+ তু.জি.ﺟﻰ}

ঈশ্বরের পরিচয় (Identity of jehovah)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত; হিন্দু মনীষীদের মতে; সারা জগতের পালনকর্তাকে ঈশ্বর বলা হয় কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত শ্বেতবর্ণের মানবজলকে রূপকার্থে ঈশ্বর বলা হয়। ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে কী? কোথায় তাঁর অবস্থান? এমন প্রশ্ন আজ অনেকেরই। বিজ্ঞানী, দার্শনিক, মরমী, সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও শ্বরবিজ্ঞানীরা ঈশ্বর-সত্তাটি নিয়ে আদিকাল হতেই ভিন্ন ভিন্ন মতামত পোষণ করে আসছেন। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ হতে আলোচনাকৃত ঈশ্বরের অভিধাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞানীদের ঈশ্বর (The God of scientists)
বিজ্ঞানীরা বলেন জগতের সবকিছুই আপেক্ষিক। একই সাথে আছে এবং নেই। সবকিছুই নশ্বর আবার অবিনশ্বও বটে। বিশ্বের সবকিছুই পরিবর্তন বা রূপান্তরশীল এবং প্রতি নিয়তই রূপান্তর হচ্ছে। তারা বলেন; “বস্তুর পরিবর্তন হতে হতে পরিমাণগত পরিবর্তন হওয়ার পর তার গুণগত পরিবর্তন ঘটে থাকে।” এক পর্যায়ে বস্তু সম্পূর্ণ নতুন অন্য এক বস্তুতে রূপান্তরিত হয়। বিজ্ঞানী এঙ্গেলস বলেন; “বস্তু তাহাই যাহা মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয়।” এঙ্গেলস এর সূত্র মতে; বস্তুর পরিধি আরও অসীমত্বে প্রবেশ করে। অর্থাৎ; শব্দ, চিন্তা, আলোক, শীত, গ্রীষ্ম ইত্যাদিও বস্তুতে পরিণত হয়ে যায়। তিনি আরও পরিষ্কার করে বলেছেন; “শক্তিগুলোই হলো বস্তু।” অর্থাৎ; বিশ্বে যা কিছু রয়েছে সবই শক্তি এবং শক্তিই হলো বস্তু। শক্তিই বস্তু রূপে যুগে যুগে প্রকাশিত হয় মাত্র। শক্তির প্রকাশিত এ রূপটিই বিনাশী এবং অদৃশ্য বা অপ্রকাশিত শক্তিই অবিনাশী। শক্তিই একমাত্র নিত্য ও স্থিতিশীল কিন্তু প্রকাশিত রূপটিই বিনাশশীল। আবার দেখা যায় শক্তি বস্তু আকারে ছাড়া থাকতে পারে না। সে কারণে বস্তুই নিত্য ও অবিনাশী। অর্থাৎ; প্রকৃত নিত্য হলো শক্তি, শক্তি ছিল, শক্তি আছে, শক্তি থাকবে। যেহেতু; কোনো বিশেষ ক্ষণে শক্তি সৃষ্টি হয় নি; সেহেতু; কোনো বিশেষ ক্ষণেও এর ধ্বংসও নেই (দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ পরিচিতি) অর্থাৎ; ঈশ্বর বলতে কেবল শক্তিকেই বুঝায়।

দার্শনিকদের ঈশ্বর (The God of philosophers)
“ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি, মানুষের সমাজ আর সংস্কৃতি।” “ঈশ্বর হলো সমাজের সৃষ্ট অসহায়জনদের জন্য সমাজেরই সৃষ্টি এক মিথ্যা অবলম্বন মাত্র।” তিনি কোনকিছুই দেখেন না, শোনেন না, বোঝেন না, তার রাগ নেই, ক্ষোভ নেই, তিনি সন্তুষ্ট হন না, আবার অসন্তুষ্টও হন না। তিনি আদেশও করেন না আবার নিষেধও করেন না। তিনি কোনো ইচ্ছে করতে পারেন না। তিনি সচেতন কোনো সত্তাও নন। তিনি ভালো কাজের জন্য পুরস্কার কিংবা মন্দ কাজের জন্য শাস্তিও দেন না। “ঈশ্বর কেবলই জড়রূপী শক্তি মাত্র।” এ বিশ্বের অস্তিত্বশীল গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, আগুন, জল, বাতাস, মাটি, জীব, জন্তু, তরুলতা, পাহাড়, পর্বত, অণু, পরমাণু, সময় ও কাল ইত্যাদি নিয়েই ঈশ্বর। বিশ্ব চরাচরের অস্তিত্বশীল কিংবা ক্রিয়াশীল কোনো একটি উপাদান ব্যতীতও ঈশ্বর নন। দেহ হতে একেএকে জীব কোষগুলোকে পৃথক করে ফেললে এক পর্যায়ে যেমন দেহের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। তাদৃশ বিশ্বজগতের প্রতিটি উপাদান বা পদার্থকে যদি অস্তিত্বহীন কল্পনা করা হয় তবে ঈশ্বর বলেও কোনকিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। সুতরাং; যেমন; আমার দেহের প্রতিটি জীবকোষই একেকজন আমি; তেমনই; বিশ্বজগতের প্রতিটি উপাদানও একেকজন ঈশ্বর। অর্থাৎ; বিশ্বজগতের অতি ক্ষুদ্র উপাদান রূপে আমিই ঈশ্বর। এ ঈশ্বর ছিল, আছে এবং থাকবে। এ ঈশ্বর কোনো বিশেষ দিনে সৃষ্ট নয়। সে কারণে কোনো বিশেষ দিনে এর ধ্বংসও নেই। ঈশ্বর এক রূপ হতে অন্য রূপে রূপান্তরিত হচ্ছে মাত্র। প্রতিনিয়তই হচ্ছে, প্রতিনিয়তই হবে। এভাবেই চলতে থাকবে। এককথায় “ঈশ্বর হলো এ মহাজাগতিক সামগ্রিকশক্তির নাম। মানুষের সংজ্ঞা ও প্রজ্ঞা এ শক্তিকে চিহ্নিত ও নামকরণ করেছে মাত্র। আসলে বিবেচক মানুষের নিকট জ্ঞান-ই ঈশ্বর” (দ্বন্দ্বে ও দ্বৈরথে)

সাম্প্রদায়িকদের ঈশ্বর (The God of schismatics)
ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তিনিই পরম-সত্তা ও মহাশক্তি। তার কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই। তিনিই মানুষের পাপের বিচার ও পুণ্যের পুরস্কার প্রদান করে থাকেন। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ ও সচেতন একক-সত্তা। তিনি নির্দিষ্ট স্থানে বাস করেও সবকিছু দেখেন, জানেন, শোনেন ও বোঝেন। তার রাগ আছে, ক্ষোভ আছে, তিনি সন্তুষ্ট হন, আবার অসন্তুষ্টও হন। তিনি আদেশ দেন আবার নিষেধও করেন। তিনিই মানুষকে সুপথে আনার জন্য যুগে যুগে দৈবদূত প্রেরণ করেন।

মরমীদের ঈশ্বর (The God of mystics)
বিশ্বে যত প্রকার আধ্যাত্মিক গান গীতি সঙ্গীত, বাউল গান গীতি সঙ্গীত, মুর্শিদী গান গীতি সঙ্গীত, মারিফতি গান গীতি সঙ্গীত, তত্ত্বগান গীতি সঙ্গীত, ভাবগান গীতি সঙ্গীত এবং সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ ও উপন্যাসগুলো রয়েছে সবার একমাত্র মূল হলো; এ ঈশ্বররূপ মানবজলদ্বয়। মানবদেহে প্রাপ্ত শুভ্র ও কালোবর্ণের মানবজলদ্বয়কে অধিকাংশ মরমী একত্রে ঈশ্বর বলে থাকেন। বাংলা ঈশ্বর পরিভাষাটি ইষ্টি শব্দ হতে উৎপত্তি। ইষ্টি অর্থ আপন, প্রিয়, উপাস্য ইত্যাদি অভিধার প্রতি লক্ষ্য করেই মনীষীগণ (ইষ্টি+বর)> ইষ্টর> ঈশ্বর পরিভাষাটির সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ; মানবদেহের মধ্যে একজন পরম ও চরম আপন বা উপাস্য রয়েছেন কিন্তু সে চোরের মতো অত্যন্ত গোপনে আসা যাওয়া করেন। এ হতেই হিন্দুদের “হরে কৃষ্ণ হরে রাম” অর্থ; “কৃষ্ণ চোর ও রাম চোর”  বীজ মন্ত্রের উদ্ভব হয়েছে। তিনিই হলেন মানুষের একমাত্র উপাস্য। একমাত্র তাকে ধরার জন্যই মনীষীগণের এত লেখা, এত চেষ্টা ও সাধনা। সাধকগণ আলোচ্য ঈশ্বরকে ধরার জন্যই এত সাধন বা উপাসনা করে থাকেন।

আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি ঈশ্বরের রূপ দুটি। তা হলো; সাঁই ও কাঁই। মানবদেহে সাঁই কবে আসেন, কীভাবে আসেন, কতদিন অবস্থান করেন, কোনো সাধনে তাকে ধরা যায়, তাকে পূজন ও ভোজনের নিয়মাবলী কী কী ও সাঁই সাধনের উপাদানাদি কী কী ইত্যাদি নিয়েই নির্মিত হয়েছে বিশাল বিশাল মহাকাব্য বা বড় বড় সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ। আবার মানবদেহে কাঁই কবে আসেন, কাঁই কীভাবে আসেন, তিনি কতদিন অবস্থান করেন, কোনো সাধনে তাকে ধরা যায়, তাকে পূজন ও ভোজনের নিয়মাবলী কী কী ও কাঁই সাধনের উপাদানাদি কী কী ইত্যাদি নিয়েই নির্মিত হয়েছে বিশাল বিশাল মহাকাব্য বা বড় বড় সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ। আরও বলা যায় বিশ্বের এ সাঁইতত্ত্ব ও কাঁইতত্ত্ব নিয়েই নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সব পুরাণ। যেমন;

.                 নিরীক্ষ বান্ধরে দুই নয়নে ভুইলনা মন তাহারে
ঐ নাম ভুল করিলে যাবিরে মারা
পড়বিরে বিষম ফেরে।

আগে আপনকে চেন
পরে গুরুকে মান
দেহ পাশ করে আন
ওরে সই মহলের নকল গুরু
দেবেন তোমায় দয়া করে।

প্রেমের গাছে দুটি ফল
রসে করে টলমল
কত ভ্রমর হয় পাগল
সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্য খাইলে
অমর হয় সে সংসারে।

প্রেমের হাটে গেলা না
প্রেমের সদাই কিনলানা
প্রেমের-মানুষ চিনলানা
ওরে সেই মানুষের লাইগারে
মানুষ জঙ্গলে বসত করে।

ফকির কালুশাহ তাই কয়
মনরে বলি যে তোমায়
এই প্রেম সামান্যেতে নয়
এই প্রেমের লাইগারে মানুষ
ঘুরে জনম ভরে।” (কালুশাহ ফকির)

.                 বাহান্ন পণ্যারের মাঝে দুটি মাত্র ফল দেখি
তিপ্পান্ন গলিতে লুকায় মানুষকে দিয়ে ফাঁকি।

খোঁজে দেখ পঞ্চান্ন ধারা
তেষট্টিবাই সে খাড়া
ছেষট্টিতল গিট্টু মারা
তিয়াত্তর পাকপাকি।

বাহাত্তর স্পন্ধকী ঘড়ি
সাতাত্তরপালা ধড়ি
মর না বাতাসে চড়ি
চুরাশিফের খাটি।

নিরানব্বইনাম সাধনা
পেলে বা কী ছাইখানা
বলন কয় ফল নমুনা
সাঁই বিষ্ণু ব্রহ্মা কাঁইজি।” (বলন তত্ত্বাবলী, ২১১)

মনীষীগণের এমন বর্ণনাগুলো দেখে অনেকে মনে করে থাকেন- মানবদেহের জল হলে- শুক্র, প্রস্রাব ও স্রাব ইত্যাদি হতে পারে! এসব তাদের মামলি অনুমান। কখনই এমন চিন্তা করা উচিত নয়। কারণ; এসবই যদি সাঁই ও কাঁই হতো তবে সাধন ভজনের কোনো প্রয়োজন হতো না। এসব প্রতিনিয়ত প্রকৃতিগতভাবেই দেহ হতে বর্জ্য আকারে বের হয়ে যায় বরং সাঁইতত্ত্ব ও কাঁইতত্ত্ব আরও অনেক অনেক গভীরে। সত্তাদ্বয় যদি এত তুচ্ছই হতো তবে বেদ, ত্রিপিটক, তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান ও লালনগীতির মতো মহা গ্রন্থাদির মধ্যে রসদ্বয় আহরণ এবং উভয় রসের সাধন ও ভোজনের ব্যাপারে এত গুরুত্ব প্রদান করা হতো না। এ সত্তাদ্বয় মানবদেহে থাকলেও তা সাধারণ মানুষের জ্ঞানের অনেক অনেক ঊর্ধ্বে রয়েছে।

আমি একদিনও না দেখিলাম তারে
আমার বাড়ির কাছে আরশিনগর
সেথায় এক পড়শি বসত করে।

পড়শি যদি আমার ছুঁতো
যম যাতনা সব যেত দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু সহস্র যোজন ফাঁকরে” (পবিত্র লালন- ৪১৮)

পবিত্র কুরানে অনেকবার এমন কথা বলা হয়েছে- “আমি এমন স্থানে রেখেছি যে; কোনো চোখ তা দেখে নি কোনো কর্ণ তা শ্রবণ করে নি, এমনকি; কোনো হৃদয় তা কল্পনাও করেনি” ইত্যাদি। আবার এ কথাও বলা হয়েছে যে; নিষ্ঠাবান সাধকগণকে তা গোপন (পরম্পরা) মাধ্যমে জানিয়ে দিই। যেমন;  “جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدَ الرَّحْمَانُ عِبَادَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّهُ كَانَ وَعْدُهُ مَأْتِيًّا ” উচ্চারণ; “জান্নাতি আদনিল লাতি ওয়াদার রাহমানু ইবাদাহ বিল গায়বি। ইন্নাহু কানা ওয়াদাহু মা’তিয়া” অর্থ; “সে নিত্যনিবাস! যা দয়াময় দাসদের সাথে গোপন অঙ্গীকার (পরম্পরা) করেছেন। নিশ্চয় তার অঙ্গীকার পূরণযোগ্য” (কুরান, মরিয়াম- ৬১)

আদিকাল হতে পরম্পরা বা গুরু-শিষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে এমন গোপন জ্ঞান বা পরাজ্ঞানের ধারা অদ্যোবধি চলে আসছে। এজন্য; বলা যায় একমাত্র পরম্পরা বা গুরু শিষ্য ভিন্ন সাঁইতত্ত্ব ও কাঁইতত্ত্ব চির গোপন। তবু কোনো কোনো রূপকার, ব্যৈখ্যিক ও টৈকিক কোনো কোনো লেখনির মধ্যে সামান্য সামান্য প্রকাশ করেছেন। যেমন; “أَلَمْ تَرَى أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنْ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ ثَمَرَاتٍ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهَا وَمِنْ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ” অর্থ; “তুমি কী দেখ নাই যে; কাঁই আকাশ হতে বৃষ্টিবর্ষণ করেন, অতঃপর; আমরা তা দ্বারা ফলপুঞ্জ বের করি, সে সবের বর্ণ বিভিন্ন প্রকার এবং পাহাড়ে বিভিন্ন বর্ণের গীরিপথ রয়েছে, পথগুলো বিভিন্ন বর্ণের- তা হলো শ্বেত, লাল ও নিকষকালো (কুরান, ফাতির- ২৭) আবার জনৈক বাঙালী মরমীকবি লিখেছেন;

“দুই পাহাড়ের মাঝে মাওলা মসজিদ বানাইছে
কামিনীরা কাম করিয়া কোথায় যেন লুকাইছে।
মসজিদের তিনটি খিড়কি দ্বার, সাপিয়ে রাখছে জল ওজু করিবার
সে জলেতে দিনের নবি, আল্লাহর জিকির করতেছে।
নদীতে জোয়ার যায় যখন, তিন প্রকার জল আসে লাল সাদা কালাবরণ
সে জলেতে মরা কুম্ভীর, হাজার ডিম্ব পাড়তেছে।”

বিশ্লেষণ (The analysis)
ওপরে উল্লেখিত উদ্ধৃতিদ্বয় হতে দেখতে পাই; পবিত্র গ্রন্থের বর্ণনা মতে; তিনটি গিরিপথ রয়েছে; ১. লাল ২. সাদা ও ৩. কালো এবং বাংলাভাষায় মরমী গীতির বর্ণনা হলো নদীর তিনটি ধারা রয়েছে; ১. লাল ২. সাদা ও ৩. কালো। এটা ভাষা ও উপমা নির্মাণশৈলির পার্থক্য মাত্র কিন্তু মূলগত কোনো পার্থক্য নেই। এজন্য; উপমাদ্বয় হতে বলা যায় একমাত্র মানবদেহ ব্যতীত বিশ্বের কোথাও ১. লাল ২. সাদা ও ৩. কালো গীরিপথের যেমন; অস্তিত্ব নেই, তেমনই, ১. লাল ২. সাদা ও ৩. কালো ধারারো কোনো অস্তিত্ব নেই। উপমাদ্বয়ে বর্ণিত লাল সাদা ও কালো পথ বা ধারা হলো; ১.রজধারা- যা প্রকৃতির নিয়মে প্রতি মাসেই রজস্বলাদের জরায়ু হতে প্রবাহিত হয়। ২.সুধাধারা- যা সাদাবর্ণের মানবজল বা অমৃতসুধা রূপে পরিচিত। সাঁইসাধন শিক্ষা করার পর মানবদেহ হতে উক্ত জলধারা উদ্ঘাটন করতে হয়। ৩. মধুধারা; যা কালোবর্ণের মানবজল। কাঁইসাধন শিক্ষা করার পর মানবদেহ হতে উক্ত জলধারা উদ্ঘাটন করতে হয়। গমনাগমন হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকা ব্যতীত রজধারার কোনো সাধনভজন নেই কিন্তু সুধাধারা সাঁই ও মধুধারা কাঁই মানবের স্বয়ং উপাস্য। এজন্য; উক্ত ধারাদ্বয়ের সাধনভজন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় উক্ত সাধনদ্বয় বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন; বাংলাভাষায় কাঁইসাধনকে আরবিভাষায় এতেকাফ (.ﺍﻋﺘﻜﺎﻒ) বলে এবং সংস্কৃতভাষায় ব্রহ্মসাধন বলে। পরিশেষে বলা যায় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষীদের ঈশ্বর হলো নিরাকার আদি ও অনন্ত-সত্তা। তারা আরও বলেন; তিনি ছিলেন তিনি আছেন এবং তিনি থাকবেন। অন্যদিকে; বিজ্ঞানীগণও বলে থাকেন একমাত্র ‘শক্তি’ হলো আদি ও অনন্ত, শক্তির দৃশ্যমান রূপটি পদার্থ এবং শক্তির অদৃশ্য রূপটিই ‘ঈশ্বর’ শক্তির ঊর্ধ্বে কোনকিছুই নেই। তারা আরও বলেন; শক্তি ছিল, শক্তি আছে এবং শক্তি চিরকাল থাকবে। দার্শনিকদের মতে; ঈশ্বর বলে কোনকিছুই নেই একমাত্র অন্ধবিশ্বাস ছাড়া কিন্তু মরমীগণের ঈশ্বর হলো; মানবদেহে প্রাপ্ত সাঁইরূপ সাদাবর্ণের মানবজল এবং কাঁইরূপ কালোবর্ণের মানবজল।

আত্মজ্ঞানীদের ঈশ্বর (The God of metaphysician)
আত্মজ্ঞানী দার্শনিকগণ মনে করেন যে; যেহেতু; বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণ আত্মতত্ত্ব নির্ভর ও আত্মকেন্দ্রিক; সেহেতু; ঈশ্বরও অবশ্যই শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার অন্তর্ভুক্ত। আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ আরও বলেন যে; পালনকর্তার চেয়ে আপন বা ইষ্ট মানুষের নিকট আর কেউ নেই। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার মধ্যে কেবল পালনকর্তাকেই ঈশ্বর বলা হয়। অর্থাৎ; বিশ্ববিখ্যাত আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ জীবের পালনকর্তাকেই মানবের একমাত্র ঈশ্বর বলে অভিহিত করে থাকেন। আর এ সূত্র ধরেই বলা যায় জীবকুলের বাইরে ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ; জড়কুলে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই।

বহুঈশ্বরবাদ নাকি পৌরাণিক ভুল বোঝাবুঝি? (Polytheism or fabulous literature misunderstanding?)
সাম্প্রতিককালে পুরাণে বর্ণিত দেব-দেবতা, স্রষ্টা-সৃষ্টি, দুর্বল-সবল, পুরুষ-নারী, মানব-দানব কিংবা সুর-অসুরের কাহিনীগুলোকে অনেক গবেষক প্রচলিত বহুঈশ্বরবাদের উৎসমূল নির্ধারণ করার অপচেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে এমন ধারণা কখনই সঠিক নয়। কারণ; এসব দেব-দেবী, মানব-দানব কিংবা সুরাসুরের কাহিনী এখনও শ্বরবিজ্ঞান দ্বারা নির্মাণ করা যায়।

শ্বরবিজ্ঞান সঠিকভাবে বুঝতে না পারা হতে বহুঈশ্বরবাদের উদ্ভব; নাকি বহুঈশ্বরবাদ হতে পুরাণের উদ্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- শ্বরবিজ্ঞান বুঝতে না পারা হতে বহুঈশ্বরবাদের উদ্ভব। কারণ; সারা বিশ্বে একেক ভাষায় একেকভাবে পুরাণ নির্মিত হয়েছে। আর এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি Indian mythology অনুযায়ী কখনও ছিল রাম, কখনও ছিল কৃষ্ণ। আবার কখনও ছিল ব্রহ্মা। অন্যদিকে; Arabian mythology অনুযায়ী কখনও ছিল মুহাম্মদ আবার কখনও ছিল আল্লাহ। এবার এসব কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর সমতা করলে; একদিকে পড়ে রাম ও মুহাম্মদ; এবং অন্যদিকে; পড়ে কৃষ্ণ, ব্রহ্মা ও আল্লাহ। রাম ও মুহাম্মদ বর্তমানকালে পালনকর্তা নামে অভিহিত এবং কৃষ্ণ, ব্রহ্মা ও আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা নামে পরিচিত। এবার কেউ যদি ভিন্ন ভিন্ন শ্বরবিজ্ঞানের এসব কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন ঈশ্বর কল্পনা করে। তবে; তার ঈশ্বরের সংখ্যা হবে পাঁচটি। ১. রাম ২. কৃষ্ণ ৩. ব্রহ্মা ৪. মুহাম্মদ ও ৫. আল্লাহ। আর যদি এসবের মূল-সত্তা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় তবে তার ঈশ্বর হবে দুটি। যথা; ১. পালনকর্তা ও ২. সৃষ্টিকর্তা। আর সারা বিশ্বের পালনকর্তাপদ একটি। যেমন; প্রধানমন্ত্রী পদ একটি। তবে; অসংখ্য ব্যক্তি এ পদে আসীন হতে পারেন। অনুরূপভাবে সৃষ্টিকর্তাপদ মাত্র একটি। তবে; অসংখ্য ভাষায় এর অসংখ্য নাম হতে পারে। এবার আমরা গ্রিক পুরাণের একটি কাহিনী তুলে ধরছি।

“এথিনী একজন দেবী। সে ছিল গ্রীসের নগররাষ্ট্রসমুহের তথা এথেন্সের প্রধান রক্ষক। এথিনী ছিলো গ্রীক পূরাণের জ্ঞান-বিজ্ঞান, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও চারুশিল্পের দেবী। দেবরাজ জিউস ও তার প্রথম স্ত্রী মেটিসের কন্যা। জন্ম মুহূর্তেই সে ছিল পূর্ণ-যৌবনা। দেবীদের মধ্যে একমাত্র এথিনীই কঠোরভাবে সতীত্ব রক্ষা করে চলতো। রোমান পূরাণে এথিনীর নাম মিনার্ভা। [কথিত আছে যে; এ এথিনী (অঃযবহধ) এর নামানুসারেই প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্র এথেন্সের (বর্তমান গ্রিসের রাজধানি) নামকরণ করা হয়।]

মানব-দানব, সুরাসুর, স্রষ্টা-সৃষ্টি এসবের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়েই নির্মিত হয়েছে Mythology (মিথোলজি)। বিভিন্ন বিষয়ে দেব-দেবীদের মধ্যে সমঝোতা-সহযোগিতা থাকলেও প্রায় সব ঘটনায় তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধিতা, কলহ ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনাবলী। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতাও ছিল। শ্রেষ্ঠা সুন্দরীর প্রাপ্য স্বর্ণ আপেল প্রতিযোগিতায় এথিনীর প্রতিদ্বন্দী ছিল তারই বৈমাত্রেয় বোন আফ্রোদিতি এবং বিমাতা হেরা। স্বর্ণ আপেলটি প্যারিস এথিনীর হাতে না দেওয়ায় ট্রয়ের যুদ্ধে এথিনী গ্রিকপক্ষ অবলম্বন করেন।”

পৌরাণিক এসব উপকথার ওপর নির্ভর করে একেকজন একেক প্রকার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। যেমন; একজন বলেছেন; “প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সকল বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রমণের উপায় খুঁজে চলেছে-দুটো উপায়ে! একদল প্রগতীর মাধ্যমে, অন্যদল আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় একদল আবিষ্কার করেছে প্রস্তর থেকে অস্ত্র এবং ব্যাবহার্য জিনিসপত্র, অন্যদল মুক্তির উপায় খুজেছে সুর্য কিংবা অগ্নি পুঁজার মাধ্যমে। প্রাচীন মানুষেরা যেখানে- যা কিছু দ্বারাই বাঁধাপ্রাপ্ত হয়েছে তাদেরকেই শক্তিমান মনে করে তাদের কাছে মাথা নত করেছে। কালে এটাই বহুঈশ্বরবাদের দিকে মানুষকে ধাবিত করেছে। প্রাচীন সকল ধর্মই ছিল বহুঈশ্বরবাদী। বহুঈশ্বরবাদের ধারণা থেকে একেশ্বরবাদে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বহুঈশ্বরবাদের দেব-দেবীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সেই সকল দেব-দেবীদের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। যারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দী (একেশ্বরবাদের বর্ণনায় বহুঈশ্বরবাদের ধারণা নাকচের ক্ষেত্রে এই উদাহরণটি বিশেষ করে দেওয়া হয়)। যার ফলে একেশ্বরবাদ আস্তে আস্তে প্রাধান্য বিস্তার করতে থাকে। সেই প্রাধান্য আজও বিদ্যমান। তবে; আশার কথা হচ্ছে; মানুষ ধীরে ধীরে প্রগতীর দিকেই ধাবিত হচেছ। মানুষ এখন পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে বসতি গড়ার চিন্তা করছে। যদিও কিছু মানুষ আজও আমাজন তো দূরের কথা সুন্দরবনে কাঠ কিংবা মধু সংগ্রহে যাওয়ার পূর্বে বাঘমামাকে পূঁজা করে-বাঘের থাবা থেকে বাচার জন্য!!” (বাঁধ ভাঙার আওয়াজ)

কথা হলো; দর্শন শাস্ত্রের কথিত বহুঈশ্বরবাদ এটি; আগেও ছিল না এবং এখনও নেই। আছে কেবল কাগজের পাতায় পাতায়। আর বহু দেব-দেবীর বা বহুঈশ্বর হতে বহুঈশ্বরবাদের সৃষ্টি হয় নি। এ মতবাদটির সৃষ্টি হয়েছে পুরাণ ভুল বোঝাবুঝি হতে। যেমন; লালন সাঁইজি বলেছেন;

“আল্লাহ হরি ভজন পুজন,
এই সব মানুষের সৃজন।”

যারা এখনও পুরাণ বুঝে না তারা এখনও ভুল করে। যেমন; একজন তার সন্তানের নাম রেখেছে খিঞ্জির। এ পরিভাষাটি কুরানে আছে তাই। কারণ; সে তো জানে না যে; খিঞ্জির অর্থ শূকোর বা বরাহ। কিশোরগঞ্জের একটি থানার নাম হচ্ছে মদন। যারা নামকরণ করেছে তারা কেউ হয়তো জানত না যে; মদন অর্থ শিশ্ন। ঠিক তেমনই, অজ্ঞরা কালে কালে শ্বরবিজ্ঞানের গল্প-কাহিনীর মধ্যে প্রাপ্ত চরিত্রগুলোকে ঈশ্বর মনে করে হয়তো তার পূজা করেছে।

আমরা দীর্ঘকাল হতে বহুঈশ্বর, বহুঈশ্বরবাদ ও বহুঈশ্বরবাদী পরিভাষাগুলো শুনে ও লেখেই আসছি। আজও কোথাও পেলাম না, ৫০ বা ১০০টি ঈশ্বরের নাম বা অস্তিত্ব। তেমনই, আজও পেলাম না বহুঈশ্বরবাদী জাতি। ব্রহ্মা, বিরিঞ্চি, কৃষ্ণ ও কাঁই এসবের পূজা অনেকেই করে থাকেন। তাই; বলে এসব ভিন্ন ভিন্ন সত্তা নয়। বরং এসবের সত্তা এক ও অভিন্ন। যেমন; ঝাড়ু, মুড়া, পিছা, বাড়ুন, মার্জনি, সম্মার্জনি এসব পরিভাষার সত্তা এক ও অভিন্ন। যেমন; খাদা, ডুহি, মালশা, ঢোকশা, পানিটাওয়া ও আউত্তা এসব পরিভাষার অভিধা এক ও অভিন্ন। যেমন; মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন;

“আরবি ভাষায় বলে আল্লাহ
ফারসিতে কয় খোদা তায়ালা
গড বলেছেন যিশুর চেলা
ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভাবে।”

কেউ ব্রহ্মাণ্ডপূজা, কেউ বিরিঞ্চি-যজ্ঞ, কেউ কৃষ্ণ-দর্শন, কেউ হরিভক্তি, কেউ কাঁই সাধন ও কেউবা মারাংবুরুর হোম করে থাকে। অর্থাৎ; সবাই এসব ঈশ্বরের উপাসনা করে। যথা; ১. ঈশ্বর ২. ওয়াহিগুরু ৩. কাঁই ৪. ব্রহ্মা ৫. স্রষ্টা ৬. Lord (লর্ড) ৭. Jehovah (জোভ) ৮. Chúa tể (চো তে) ৯. Here (হিরিই) ১০. Tanrı (তানরি) ১১. Chúa tể (চো তে) ১২. ‘الله’ (আল্লাহ) ১৩. ‘خدا’ (খোদা) ১৪. ‘خداوند’ (খোদাওন্দ) ১৫. 老爺 (লাংইয়ে) ১৬. 범천 (হামসান) ১৭. 主 (চু) ও ১৮. ロード (এয়াদা)। যে যাই করুক সবাই ঐ এক ঈশ্বরেরই উপাসনা করে। বহুঈশ্বর পূজা হয় কিভাবে? হ্যাঁ কেউ যদি মৎস্য-পূজা, বৃক্ষ-পূজা, আকাশ-পূজা, বাতাস-পূজা, সূর্য-পূজা, চন্দ্র-পূজা, নদী-পূজা ও সাগর-পূজা করে থাকে। তবে; তা কখনই ঈশ্বরের পূজা নয় বরং ঐসব ছিল তাদের সামাজিক সংস্কৃতি। যেমন; বর্তমানকালেও অনেক মানুষ আছে; পির ধরতে হবে তাই ধরে, গোঁসাই-গুরু ধরতে হবে তাই ধরে। তারা কোনো দিন পির, গুরু ও গোঁসাইয়ের বাড়িতেও যাই না, তার কোনো ছবকও আদায় করে না। যেমন; পির-গুরু-গোঁসাই ধরা; বাংভারতের একটি সামাজিক সংস্কারে পরিণত হয়ে গেছে; তেমনই; ছিল তখন ঐসব বিষয়বস্তুর পূজা করা। ঐসব পূজাগুলো তারা ঈশ্বর মনে করে করতো না। বরং সামাজিক সংস্কা রূপে সবাই করে তাই করতো। যেমন; এদেশেও অনেক লোক আছে যারা ‘সবাই নামাজ পড়ে তাই পড়ে।’ এরা আল্লাহ পাওয়ার জন্যও পড়ে না আবার নরকের ভয়েও পড়ে না। পরিশেষে এমন বলা যায় যে; সারা বিশ্বে কিছু কিছু পরিভাষা আছে কিন্তু এদের কোনো সত্তা নেই। যেমন; অশ্বডিম্ব, আকাশকুসুম ও পরশপাথর ইত্যাদি। তেমনই; বহুঈশ্বরবাদী ও ওয়াবী। এ পরিভাষাদ্বয় দ্বারা যা বুঝায় তা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় নি।

প্রামাণ্য গ্রন্থাদি নির্দেশিকা (Guidance of authenticity books)
১.   দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ পরিচিতি- ডি. পাদোস্তেনিক ও ইয়াখোত- (অনুবাদ, শরীফ হারুন), বাংলা একাডেমি, ঢাকা- ১৯৮৫।
২.   দ্বন্দ্বে ও দ্বৈরথে, বেনজীন খান, চারুলিপি প্রকাশন, ৩৮/৪ বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০, দ্বিতীয় মুদ্রণ, ফাল্গুন- ১৪১৪।
৩.   বিশিষ্ট মরমী গীতিকার কানাইশাহ।
৪.   বলন তত্ত্বাবলী, বলন-২১১, বলন কাঁইজি, আনন্দ পাবলিশার্স, ৩৮/৪ক, বাংলাবাজার ঢাকা- ১১০০, প্রথম প্রকাশ মার্চ ২০০৮।
৫.   পবিত্র লালন; বলন কাঁইজি, সমাচার, ৩৭ পি. কে. রায় রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা, লালন- ৪১৮।
৬.   কুরান; সুরা; মরিয়াম; ৬১। ৭.কুরান, সুরা- ফাতির- ২৭।  ৮.জনৈক মরমীকবি।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!