উপাসনা

১৭/০১. উপাসনা
Adoration (অ্যাডোরেশন)/ ‘عبادة’ (ইবাদত)

ভূমিকা (Prolegomenon)

 এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কাম পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা সঙ্গম। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা কাম। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা কামকলা, কামমন্ত্র, বিনোদনপুণ্যস্নান। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা পর্যটন, ভ্রমণযজ্ঞ। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা আহব, উদ্বন্ধনপূজা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা তাপন, পাশাখেলাবাইচালি

অভিধা (Appellation)

উপাসনা (বাপৌরূ)বি অর্চনা, আরাধনা, প্রশংসা, স্তুতি, গুণকীর্তন, সংবর্ধনা, সম্মাননা, ভক্তি, শ্রদ্ধা, ধ্যান, adoration, ‘عبادة’ (ইবাদত), worship ক্রি আরাধনা করা, অর্চনা করা, ভক্তিশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা (শ্ববি) কাম, সঙ্গম, মৈথুন, সম্ভোগ, lust, ‘شهوة’ (শাহওয়া) (অশি) চুদ, চুদন, চুদা, sexual intercours (আঞ্চ) লাগানো, গুয়ানো (রূপ্রশ) অক্ষক্রীড়া, কামকেলি, নিত্যকর্ম, পাশাখেলা, বপ্রক্রীড়া, বপ্রকেলি, বপ্রক্রিয়া, বাইচালি, journey (ফাপ) বন্দেগি (ফা.ﺒﻧﺪﮔﻰ) (ইপ) সালাত (.ﺻﻠﻮﺓ) (ইংপ) prayer, rape, copulation (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কাম পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; সর্বপ্রকার সাধনাকে বাংলায় ‘উপাসনা বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, বর্ণিত ঈশ্বরের আরাধনাকে রূপকার্থে উপাসনা বলা হয় ৩. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, নর-নারীর যৌনমিলনকে রূপকার্থে ‘উপাসনা বলা হয় (বাপৌছ) তাপন, পাশাখেলা ও বাইচালি (বাপৌচা) আহব, উদ্বন্ধন ও পূজা (বাপৌউ) পর্যটন, ভ্রমণ ও যজ্ঞ (বাপৌরূ) উপাসনা (বাপৌমূ) কাম।

উপাসনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি

(Some highly important quotations of adoration)

১.   “অমৃতরসের মর্ম যেজন পায়, উপাসনা তারই বটে হয়, সিরাজ সাঁইজির আদেশে হায়, লালন ভনে।” (পবিত্র লালন- ১২০/৪)(মুখ; আবহায়াতের নদী কোনখানে, যাও জিন্দাপিরের খান্দানে, দেখিয়ে দিবে সন্ধানে”)

২.   “আপনাকে আপনি চেনা, সে বটে উপাসনা, লালন কয় আলেক চেনা, যার হয় দিশে।” (পবিত্র লালন- ৬৭০/৪)(মুখ; বল কারে খুঁজিস ক্ষ্যাপা, দেশ বিদেশে, আপন ঘর খুঁজলে, রতন পাবি অনায়াসে”)

৩.   “মণিপুর ত্রিবেণীতে গিয়ে, শুধুই লীলায় মইজ না, দিন ধরিয়ে তিনের ঘরে, কর সঠিক উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৮)(মুখ; ওরে রসিক বিনা নিরঞ্জন মিলে না, পাগল মনা”)

উপাসনার কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি

(Some ordinary quotations of adoration)

১.   “আকাশ পাতাল মিলে দেহরতী, উপাসনায় চাই সে মোতি, যদি চেতনগুরু পাই- তারে শুধাই, লালন বলে ঘুচাই মনের দিশে।” (পবিত্র লালন- ৩৬১/৪)

২.   “কোথায় দয়াল কোথায় হরি, এক দিনও খোঁজ না করি, বলন কয় ভুরিভুরি, উপাসনায় দয়াল নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)

৩.   “চামকুঠরী প্রেমযমুনা, মৎস্য ধরাই উপাসনা, মিঠাবারি প্রেম-মালখানা, মৎস্য চলে কফিন পরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১)

৪.   “দলপদ্ম নিরূপণ হয় যার, উপাসনা নাই গো তার, কোথায় কী মিলে, তীর্থব্রতের জন্য- যা করি গণ্য, দেহে তার সব মিলে।” (পবিত্র লালন- ২৯৩/৩)

১৭ কাম

৫.   “দেহ রক্ষা করাই উপাসনা, গ্রন্থে কয় অটল-সাধনা, বলন কয় মনরে কানা, বারংবার তোরে জানাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)

৬.   “প্রেমনদীতে ভেসে যায় প্রেমের মরী, লালন কয় মরার সাথে করো আড়ি, প্রেমের শকুন হয়ে- মরিটা ফেলাও খেয়ে, সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)

৭.   “ব্যভিচার ভয় অধিক করে, গোপনে যায় বেশ্যার ঘরে, উপাসনার বড়াই করে, গোপন কথা মনে রয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)

৮.   “শক্তি উপাসনা করে যারা, মনের-মানুষ চেনে তারা, লালন ফকির পাগলপারা, শিমুল ফুলের রঙ দেখলে।” (পবিত্র লালন- ৬৮৬/৪)

৯.   “শম্ভু-রসের উপাসনা, না জানলে রসিক হয় না, গজমোতি গোরোচনা, নানা শস্য যাতে ফলে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৪/২)

১০. “সাঁই সুভ্ররসের উপাসনা কুঁড়ে মন তোর হলো না, কোথায় রইল স্রাবস্তি একবার ভেবে, দেখলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৬)

১১.  “সে অটল রূপের উপাসনা, কেউ জানে কেউ জানে না।” (পবিত্র লালন- ৯৫৬/১)

১২.  “স্বরূপ রূপে রূপকে জানা, সেতো বটে উপাসনা, গাঁজায় দম চড়িয়ে মনা, বমকালী আর বলো না রে।” (পবিত্র লালন- ৯০৭/২)

উপাসনার সংজ্ঞা (Definition of adoration)

সাধারণত; সর্বপ্রকার সাধনাকে উপাসনা বলে।

উপাসনার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of adoration)

বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পুরুষ-নারীর যৌনমিলনকে সঙ্গম বা রূপকার্থে উপাসনা বলে।

উপাসনার প্রকারভেদ (Variations of adoration)

বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; উপাসনা দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান উপাসনা ও ২. উপমিত উপাসনা।

. উপমান উপাসনা (Analogical adoration)

সাধারণত; সর্বপ্রকার আরাধনাকে উপমান উপাসনা বলে।

. উপমিত উপাসনা (Compared adoration)

বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পুরুষ-নারীর মিলনকে উপমিত উপাসনা বলে।

মানবকর্মের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি

(Some important quotations of realization)

১.   “আপনারে চিনতাম যদি, মিলত অটল চরণনিধি, মানুষের করণ হতো সিদ্ধি, শুনি আগম পুরাণে।” (পবিত্র লালন- ১১৬/২)(মুখ; আপনারে আপনি চেনে নে, দিন-দুনিয়ার পর যার নাম অধর তারে চিনব কেমনে”)

২.   “মানবকরণি সেরেসুরে, মরার আগে যেজন মরে, যমে আর ছুঁয় না তারে, মুক্তি পায় ভবের পর।” (বলন তত্ত্বাবলী)

৩.   “সবাই কী আর হবেরে মন, ধর্মপরায়ণ, যার যার কর্ম সে সে করে, তোমার বলা অকারণ।” (পবিত্র লালন- ৯১৫/১)

মানবকর্মের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি

(Some ordinary quotations of realization)

১.   “আমার মনরে দিন থাকতে চেনে দেহের মানুষ ধর, আগে মনের-মানুষ ধর, সার আপনকর্ম সার।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/১)

২.   “একলক্ষ চব্বিশ হাজার নবিদের কথা বলে, একজনকেই জিয়ান রেখে সবাই তো গেছে চলে, জিয়ান নবি চেনে ধর- আপনার জীবকর্ম সার, বলন কাঁইজি ভাবিয়া কয়- সে ঠিকানা হয় ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫১)

৩.   “এ ভুবনে বিধি বড় বল ধরে, কর্মফাঁসে বেঁধে মারল মোরে, লালন ফকির সদাই দিচ্ছে গুরুর দোহাই, আর যেন আসি না এমন দেশে।” (পবিত্র লালন- ১৩৮/৪)

৪.   “কী বলে এ ভবে এলি, সে কর্ম কিবা করলি, মহামায়ায় ভুলে রইলি, গুরুকর্ম করলি না একদিন।” (পবিত্র লালন- ২৮৯/২)

৫.   “কী বলে এ ভবে এলি, কিবা কর্ম করে গেলি, মিছে মায়ায় ভুলে রইলি, সেকথা আর মনে হয় না।” (পবিত্র লালন- ৪০৮/২)

৬.   “গণে আনি দেয়া হয়ে যায় কুয়া, তেমনি, হলো আমার সব কর্ম ভুয়া, কারে বলবো কথা কে ঘুচাবে ব্যথা, আগুনে মন দগ্ধ হতেছে।” (পবিত্র লালন- ১৩৮/৩)

৭.   “জিন্দা নবির খবর করে, রসিক ত্রিবেণীতে অধর ধরে, আপনকর্ম আপনি সারে, লালনের ভাগ্যে তাও হলো না।” (পবিত্র লালন- ৫৭৪/৪)

৮.   “জীব মরলে যায় জীবান্তরে, জীবের মুক্তিগতি হয় ভক্তির দ্বারে, জীবের কর্মবন্ধন না হয় খণ্ডন, প্রতিবন্ধন কর্মের ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/১)

৯.   “তাইতো; বলি ওরে কানা, সর্বজীব হয় গুরুজনা, চৈতন্যগুরু করো সাধনা, তাতে কর্মদোষ যায়।” (পবিত্র লালন- ৬৩৭/৩)

১০. “দয়াল নবি চিনলি না, মানবকর্ম সারা হলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৮)

১১.  “দয়াল সাঁই বলে বলন, সহজ নয় সেই যে মরণ, না মরলে সব অকারণ, হয় না মানবকর্ম সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬২)

১২.  “ধনের আশে পাগলের মতন, মানবকর্মে হলি অধঃপতন, পিতৃধন হলো না যতন, ইতরে আচার না গেল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৫)

১৩. “না মানে সে ধর্মাধর্ম, যার হয়েছে বিচার সাম্য, লালন কয় সাঁই মহামান্য, তবে মানবকরণ সারা।” (পবিত্র লালন- ১৮৫/৪)

১৪. “পঞ্চবাণ আর ষোল কলা, করলি কেন অবহেলা, বলন কয় ডুবলে বেলা, মানবকর্ম হবে না রে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪২)

১৫. “পশ্চিমে যখন সূর্য উদয় হয়, মানবকর্মের হয়রে সারা, জন্ম-মৃত্যু দূরে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)

১৬.  “পাপকর্ম যদি পূর্বে লেখা যায়, কর্মের লিখিত কাজ করলে, দোষগুণ তার কী হয়।” (পবিত্র লালন- ৬২২/১)

১৭. “পুণ্যমর্ম হিতকর্ম, চেনো তার নিগূঢ়মর্ম, যাতে হবে মন্দ তাই সঙ্গ, করেছ আজন্মকাল।” (পবিত্র লালন- ৭১৫/৩)

১৮. “পূর্ব রাগ অবধি যারে, আশ্রয় দিলে নিরাকারে, কর্ম দোষে সে দাসেরে, ত্যাজিলে কী পৌরুষ তোমার।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/৩)

১৯.  “প্রেমশক্তি চতুর্দলে, কুম্ভকে ওঠায় ঠেলে, প্রেমশক্তির বাহুবলে, উজান ধারায় বায় তারা, শতদল লঙ্ঘন করে, সহজে আগমন করে, লালনের এ ফলাফল, আসা যাওয়ার কর্মসারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/৪)

২০. “প্রেমসাগরের তুফান ভারী, ধাক্কা লাগে ব্রহ্মপুরী, কর্মযোগে ধর্মতরী, কারো কারো তাতে বেঁচে ওঠে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/২)

২১.  “বন্দী হয়ে মায়ার সংসারে, আপন-মানুষ চিনলাম না রে, কী হারিয়ে পেলাম কিরে, হলো না রে মানবকরণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)

২২. “ভবে আসা হলো অসার মানবকর্ম হলো না আর, ছয়বাঘেই মৃগ তাড়াবে এক জীবনে কত আর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৯)

২৩. “মণিকোঠা থাকলে ধিয়ান, চামকুঠিতে আসে বান, দেখা দিবে দয়াল চাঁন, মানবকর্মের হবে সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৯)

২৪. “শেষ নবি যেদিন এলো, মানবকর্মের সূচনা হলো, বলন কয় দিন ফুরাল, তবু হয় না নবি চেনা।” (বলন তত্ত্বাবলী)

২৫. “রূপনদে স্বরূপ ধর আপন জীবকর্ম সার, রূপ স্বরূপ জোয়ার-ভাটায় ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)

২৬. “যেতে সাধ হয়রে কাশী, কর্মফাঁসি বাধে গলায়, আমি আর কতদিন ঘুরব, এমন নাগরদোলায়।” (পবিত্র লালন- ৮৪৩/১)

২৭. “যে সাধন জোরে, কেটে যায় কর্মফাঁসি, যদি জানবি সে সাধনের কথা, হও গুরুর দাসী।” (পবিত্র লালন- ৮৫৪/১)

২৮. “শুকনা গঙ্গা ভরা বানে, মনের কথা লুকায় মনে, আপনকর্ম সারলি গোপনে, জিজ্ঞাসার ধার ধারলি না রে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪২)

২৯. “শ্রী রূপের আশ্রিত যারা, অনায়াসে প্রেম সাধল তারা, হলো না মোর কর্মসারা, কপালে এ ছিল।” (পবিত্র লালন- ৮৯৯/৩)

৩০. “সাধক বলন কয় মনরে, পাড়ি দিতে ক্ষীর সাগররে, পাকাগুরু অন্বেষণ করে, পূর্ণ কর মানবসাধনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৫)

৩১. “সে ঘাটের রাজা নিতাই, রাইরাধা রসবতী চুন্নী সেথাই, মরলে সে ঘাটে- সব যাবে লাটে, ঝকমারি কর্ম করো না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৩/৩)

৩২. “হলে সাঁই কাঁই সন্ধান করা, মানবকর্মের হয়রে সারা, পরপারে যায় সাধু ঋষিরা, বলন কাঁইজি কয় ভুবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)

ধর্মকর্ম (Worship)

১.   “কী ভাব নিমাই তোর অন্তরে, মা জননীরে চক্ষের দেখা, তাতে কী তোর ধর্মকর্ম যায়রে।” (পবিত্র লালন- ৩১১/১)

২.   “তীর্থকর্ম গয়া কাশী, বালাকুঞ্জ বারানসী, মথুরা বৃন্দাবনে, তীর্থে যদি গৌর পেত, ভজন সাধন করে মানব কী জন্যে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৮/৩)

৩.   “ত্যাজ্য করে মাতাপিতা, কী ধর্মকর্ম করবি কোথা, মায়ের কথায় চল- কোপনি খুলে ফেল, লালন কয় যেমন মায়ে কয়রে।” (পবিত্র লালন- ৩২৭/৪)

৪.   “দেহের আকাশ দেহের পাতাল, নিরূপণ করতে হইওনা বেতাল, ধর্মকর্ম ও ধার্মিকের আল, করতে হয় লঙ্ঘনা।” (পবিত্র লালন- ৭৭৯/৩)

৫.   “ধর্মকর্ম আপনার মন, কর্ম করে সব মু’মিনগণ, কর্ম করো বলছে লালন, নইলে পাবি না নিরঞ্জন।” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৫)

৬.   “মুর্শিদের মহৎগুণ লেনা বুঝে, যার ক্বদম বিনা ধর্মকর্ম মিছে।” (পবিত্র লালন- ৮০১/১)

৭.   “শুদ্ধপ্রেম রসিকের কর্ম, মানে না বেদ-বিধির কর্ম, রসরাজ উপাস্যের মর্ম, রসিক বৈ আর কে জেনেছে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৮/২)

১৭ কাম

এখানে; ধর্মকর্ম বলতে সাম্প্রদায়িক কর্মকে বুঝানো হয়েছে। সাধারণত; সাম্প্রদায়িক সংস্কারকেই ধর্মকর্ম বলা হয়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিভাগ এটি। কারণ; সবকিছুর লিখিত বিধান থাকে। আর ঐসব বিধান পরিচালনা করে ঐ বিভাগের সবচেয়ে বড় বড় জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা। ঐ বিধানের বাইরে কোনো কথা-মন্তব্য কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে; সাম্প্রদায়িক ব্যাপারটা সম্পূর্ণই ভিন্ন। সাম্প্রদায়িক অঙ্গনে লিখিত বিধানের চেয়ে অলিখিত বিধানই অধিক। প্রতিটি কাজের খুঁত ধরাই এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন; বসা। একেক সম্প্রদায়ের নিকট গেলে একেক প্রকার ‘বসা’ নিয়ম দেখতে পাওয়া যায়। এসব কেবলই অতিরঞ্জন-অতিভঞ্জন। এসব খুঁত-ধরা মানবজীবনে কোনো প্রয়োজন নেই। উপাসনা একেক সম্প্রদায়ের একেক প্রকার। এসব উপাসনা মানবজীবনে কোনো প্রয়োজন নেই। খাদ্য-পানীয় একেক সম্প্রদায়ের একেক প্রকার। খাদ্যের মধ্যে কেবল বিষক্রিয়াযুক্ত বস্তু ব্যতীত কোনো বাছবিচার করার প্রয়োজন নেই। এছাড়া; শুক্রপাত, রজ, প্রসব-স্রাব, মলমূত্র ত্যাগ এসব নিয়ে একেক সম্প্রদায়ের মধ্যে একেক প্রকার বিধান দেখা যায়। মানবজীবনে এসব বিধানের কোনো প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “ধর্মকর্ম ও ধার্মিকের আল, করতে হয় লঙ্ঘনা।” (পবিত্র লালন- ৭৭৯/৩)। অন্যদিকে; মহাধীমান বলন কাঁইজি লিখেছেন; “প্রকৃতি মান্যই শাস্ত্রকর্ম, শাস্ত্রাশাস্ত্রের এ সংসারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯)

জীব মাত্রই যার শুচি; সেই করতে পারে। মানুষও এটি; অবশ্যই করতে পারবে। যেসব দেশে সাম্প্রদায়িক বিধান নেই বা মান্য করা হয় না; তারা আচার-ব্যবহার, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও অর্থ-সম্পদে সাম্প্রদায়িকদের চেয়ে কোনো অংশে নিচে পড়ে নেই! বরং; সাম্প্রদায়িকরাই অসাম্প্রদায়িকদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানকালের সাম্প্রদায়িকরা ক্রমে ক্রমেই সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসীবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু অসাম্প্রদায়িকদের এমন হওয়ার সুযোগ নেই।

মানবকর্মের ওপর একটি পূর্ণ বলন

(A full Bolon on the realization)

মন সঠিক বস্তু পাবি না রে

            জোড়াতালির শাস্ত্রকর্ম করে।

সঠিক শাস্ত্র কেউ আনিলে

পদদলিত করে দেয় রসাতলে

কত শত শাস্ত্র ভূমণ্ডলে

            সুজন বিনা হাতড়ে মরে।

প্রকৃতি ভজন প্রকৃতকর্ম

জানগে পুছে সঠিক মর্ম

প্রকৃতি মান্যই শাস্ত্রকর্ম

            শাস্ত্রাশাস্ত্রের এ সংসারে।

সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে যা লেখা রয়

এ দেহের প্রকৃতি নির্ণয়

বলন কাঁইজি বিনয় করে কয়

            জানগে গুরু ভজন করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯)

মানুষের প্রকৃত উপাসনা কী? কেন মানুষ উপাসনা করবে? এমন প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণ করা; সব মানুষের একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানকালে সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা উপাসনার প্রয়োজন ও যথার্থতা অন্বেষণ না করেই কেবল দেখাদেখি উপাসনা আরম্ভ করে। শ্বরবিজ্ঞান মতে; পশুকুলে জন্ম নিয়ে কোনো পশু যদি আত্মদর্শন জ্ঞান গ্রহণ করে; পশুত্ব দূর করে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে, তবে তার মানবকুলের সূচনা হয়। অর্থাৎ; পশু মনুষ্যত্ব অর্জন করলে সে মানবকুল পায়। মানবকুল পাওয়ার পর; তার কী কী উপাসনা প্রয়োজন? এর ওপর বাংভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী আধ্যাত্মিক মহামানব মহাত্মা লালন সাঁইজি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক দার্শনিক মহাধীমান বলন কাঁইজির মহামূল্যবান বাণীগুলো আমরা ওপরে তুলে ধরেছি। আশা করি উক্ত বাণীগুলো পড়লে বিষয়টি সহজেই বুঝে আসবে।

মানবকর্ম (Accomplishment. একোমপ্লিশমেন্ট)/ ‘إنجاز’ (ইনজাঝ)

মানবকর্ম কী? এখানে; এ বিষয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উদ্ধৃতির অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো; ১. “অটল-সাধনা করাই উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০) ২. “অমৃত-রসের মর্ম যেজন পায়, উপাসনা তারই বটে হয়।” (পবিত্র লালন- ১২০/৪) ৩. “আগে মনের-মানুষ ধর, সার আপনকর্ম সার।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/১) ৪. “আপনাকে আপনি চেনা, সে বটে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৬৭০/৪) ৫. “দেহ রক্ষা করাই উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০) ৬. “প্রকৃতি ভজন প্রকৃতকর্ম, জানগে পুছে সঠিক মর্ম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯) ৭. “মৎস্য ধরাই উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১) ৮. “রসিক ত্রিবেণীতে অধর ধরে, আপনকর্ম আপনি সারে।” (পবিত্র লালন- ৫৭৪/৪) ৯. “রূপ নদে স্বরূপ ধর, আপন জীবকর্ম সার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪) ১০. “শক্তি উপাসনা করে যারা, মনের-মানুষ চেনে তারা।” (পবিত্র লালন- ৬৮৬/৪) ১১. “শম্ভু-রসের উপাসনা, না জানলে রসিক হয় না।” (পবিত্র লালন- ৭৯৪/২) ১২. “সাঁইদর্শন না পেলে, মানবের মুক্তি মিলে না।” (পবিত্র লালন- ২১৮/৩) ১৩. “সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩) ১৪. “স্বরূপ রূপে রূপকে জানা, সেতো বটে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৯০৭/২) ও ১৫. “জীবের মুক্তিগতি হয় ভক্তির দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/১)।” এখানে; মানবকর্মের যেসব বিষয় ফুটে ওঠেছে। এর অধিক লেখার প্রয়োজন নেই।

মানবকর্মের সূচনা (Beginnings of accomplishment)

মানবদেহে সর্বশেষ স্বর্গীয় অবতার অবতরণ করার পর মানবকর্মের সূচনা হয়। পুরুষদেহে সর্বশেষে আগমন করে শুক্র। অন্যদিকে; নারীদেহে সর্বশেষে আগমন করে রজ। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষদেহের সর্বশেষ অবতার বলা হয় শুক্রকে। অন্যদিকে; নারীদেহের সর্বশেষ অবতার বলা হয় রজকে। আর এ দুটি অবতারকে আরবীয় পুরাণে বলা হয় শেষ নবি। শেষ অবতার দুটির আগমন ঘটলেই কেবল মানবকর্ম বা সাধনকর্মের সূচনা হয়। এ ব্যাপারে মহাধীমান বলন কাঁইজির একটি বাণী হলো; “শেষ নবি যেদিন এলো, মানবকর্মের সূচনা হলো।” (বলন তত্ত্বাবলী)। অন্যদিকে; বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো; সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা পুরাণে বর্ণিত ‘শেষ অবতার’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কল্পিত ও অজানা এক অবতারকেই বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। তারা মানবদেহের সর্বশেষ অবতার চেনে না ও বুঝে না। তাই; তার উপাসনা শেখেও না এবং করেও না। সাম্প্রদায়িক মনীষীরা সর্বদা অনুমান ও মনগড়া বিষয়-আশয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

মানবকর্মের সমাপ্তি (Finishing of accomplishment)

মানবকর্মের সমাপ্তি কখন কিভাবে হয়? এমন প্রশ্ন অনেকেরই। বিশ্ববিখ্যাত আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; আত্মশুদ্ধি করার পর সাঁইদর্শন করাই মানবের প্রকৃত মানবকর্ম। একজন পাকা সাধকগুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধি করতে হবে। অতঃপর; গুরুর পরামর্শ অনুযায়ী পালনকর্তার দর্শনলাভ করতে হবে। পালনকর্তার দর্শনলাভ করার পর মানবকর্ম অবশিষ্ট থাকে না। অর্থাৎ; সাঁইদর্শনের দ্বারা মানবকর্মের পরিসমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে; কখনই সাম্প্রদায়িকদের সাম্প্রদায়িক কর্মের সমাপ্তি নেই। কোনো মতবাদে প্রয়াণের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক কর্ম করতে হবে। না করলে অর্থদণ্ড দিতে হবে। আবার কোনো মতবাদে শেষ বয়স পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক কর্ম করতে হবে। প্রকৃতকথা হলো; পৃথিবীতে যত প্রকার সাধন আছে; সব সাধনেরই সূচনা-শেষ আছে। কেবল সাম্প্রদায়িক সাধনের সূচনা আছে কিন্তু শেষ নেই। নিচে মানবকর্ম ব্যাপারে কয়েকটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো; ১. “দলপদ্ম নিরূপণ হয় যার, উপাসনা নাই গো তার।” (পবিত্র লালন- ২৯৩/৩)।, ২. “পশ্চিমে যখন সূর্য উদয় হয়, মানবকর্মের হয়রে সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)। ও ৩. “হলে সাঁই কাঁই সন্ধান করা, মানবকর্মের হয়রে সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)। উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে দেখা যায়; মানুষের পালনকর্তার দর্শনলাভের পর মানবকর্ম সারা হয়ে যায়। এ মতবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। সাম্প্রদায়িক মতবাদ সাম্প্রদায়িকদের বিষয়।

উপাসনার পরিচয় (Identity of adoration)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কাম পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর সর্বাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত; সর্বপ্রকার আরাধনাকেই উপাসনা বলা হয়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল অটল গমনকেই উপাসনা বা যজ্ঞ বলা হয়। বড় অবাক হবার বিষয় হলো; সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী-বক্তা যার যার মতবাদ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পূজাবিধি বা ভিন্ন ভিন্ন উপাসনা নির্মাণ করে; তা দিয়ে সাধারণ সাম্প্রদায়িকদের ভুলিয়ে রেখেছে। পক্ষান্তরে; প্রকৃত উপাসনা হলো জ্ঞানার্জন করা, শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা, জন্মনিয়ন্ত্রণ করা, সাঁইদর্শন ও কাঁইদর্শন করা ইত্যাদি। কৃত্রিম উপাসনা বা সামাজিক উপাসনায় মত্ত মানুষ কখনই প্রকৃত উপাসনার সন্ধানলাভ করতে পারছে না। এখন উচিত; সাম্প্রদায়িক মতবাদ হতে ক্রমে ক্রমে বেরিয়ে আসা। কারণ; সাম্প্রদায়িক মতবাদ যে সম্পূর্ণই অন্তঃসারশূন্য; তা ইতোপূর্বে প্রকাশিত হয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িকরা সাম্প্রদায়িক মতবাদ ভালোভাবে জানে না ও বুঝেও না। এ কারণেই তারা ক্রমে ক্রমে দলাদলি, সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী কর্মকণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রদায়িক মতবাদগুলো ক্রমে ক্রমেই বিশ্বের সর্বত্র অশান্তি সৃষ্টি করছে। আরও অধিক মজার বিষয় হলো; শ্বরবিজ্ঞানে বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর লজ্জাষ্কর মুলক ‘সঙ্গম রূপান্তর করে ‘কাম করা হয়েছে। এই কামের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা হচ্ছে আলোচ্য এই ‘উপাসনা। সাম্প্রদায়িকরা যখনই উপাসনা পরিভাষাটি দেখেছে; তখনই ভিন্ন ভিন্ন উপাসনা নির্মাণ করতে আরম্ভ করে দিয়েছে। কেউ ধ্যান, কেউ জপনা, কেউ পূজা, কেউ গীতবাদ্য, কেউ প্রাণীবধ, কেউ সন্ন্যাস, কেউ বৈরাগ্য; আবার কেউবা গার্হস্থ্য। কেউ ভেবে দেখে নি যে; কার উপাসনা, কিসের উপাসনা, কেন উপাসনা, কী উপাসনা? প্রায় তিনহাজার বছর পূর্ব হতে সাম্প্রদায়িক উপাসনা নির্মাণ আরম্ভ হয়। আজ পর্যন্ত উপাসনা পদ্ধতি নির্মাণ হয়েই চলেছে। বর্তমানে যদি সাম্প্রদায়িক উপাসনা শুমারি করা হয়; তবে কয়েক হাজার যে ছাড়িয়ে যাবে; তাতে সন্দেহ নেই। কথায় বলে; “যার বিয়ে তার নাম নেই, পাড়া-পড়শীর ঘুম নেই।” সাম্প্রদায়িক উপাসনার চাপে সাম্প্রদায়িকদের প্রকৃত উপাসনার ধারণাও নেই। অর্থাৎ; প্রকৃত উপাসনা যে মনুষ্যত্ব অর্জন করা ও শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা; তা তাদের জানাও পর্যন্ত নেই। সাম্প্রদায়িকরা স্বস্ব মনীষীদের নির্মিত একের পর এক শাস্ত্রকর্ম করেই চলেছে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!