কালা

৯৬/৮. কালা
Melanin (মিলেনিন)/ ‘ميلانين’ (মিলেনিন)

ভূমিকা (Prolegomenon) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা সৃষ্টিকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা মধুচন্দ্রিমা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা কাঁই। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঘি, নীর, পীযূষ, মধু শস্য। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অসিত, কালু, কৃষ্ণ ব্রহ্মা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভূ হর। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত জীবনীশক্তিসৃষ্টিকর্তা এ ২টি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তারই উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
কালা (বাপৌচা)বি কালো, কৃষ্ণবর্ণ, কলঙ্কিত, melanin, ‘ميلانين’ (মিলেনিন), darkey, ‘أسود’ (আসওয়াদ) (শ্ববি) . অগ্নি, কাঁই, কাজলা, কালিয়া, কালু, কেলে, কৃষ্ণ, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা . ঈশ্বর, অনন্ত, প্রজাপতি, হিরণ্যগর্ভ, বিধাতা, বিবস্বান, স্বায়ম্ভূ (ইংপ) Lord, maker, designer (ইদে) আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (.ﺷﺄﻢ), শামস (.ﺸﻤﺲ), শিশ (.ﺸﻴﺶ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; কালোবর্ণের সবকিছুকেই কালা বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে কালা বলা হয় (বাপৌছ) আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভূ ও হর (বাপৌচা) অসিত, কালা, কালু, কৃষ্ণ ও  ব্রহ্মা (বাপৌউ) ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও শস্য (বাপৌরূ) কাঁই (বাপৌমূ) সৃষ্টিকর্তা।
কালা বিণ বধির, ঠোসা, শব্দ শোনে না এমন।
কালা বিণ ঠাণ্ডা, শীতল, হিমেল, অত্যন্ত ঠাণ্ডা।

Melanin [মিলেনিন] (GMP)n জীবের ত্বক ও চুলে প্রাপ্ত কালচে বাদামি বর্ণের রঞ্জক পদার্থ বিশেষ, ‘ميلانين’ (মিলেনিন), ‘الميلانين’ (আলমিলেনিন), ‘مادة الميلانين’ (মাদ্দা আলমিলেনিন) {. ভিয়েতনামীয়}

ميلانين [মিলেনিন] (আপৌমূ)বি জীবের ত্বক ও চুলে প্রাপ্ত কালচে বাদামি বর্ণের রঞ্জক পদার্থ বিশেষ, melanin (মিলেনিন) {. ভিয়েতনামীয়}

Enzyme [অ্যানজাইম] (GMP)n উৎসেচক, দ্রাবক, জীবকোষে উৎপন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ, প্রাচীন জীবকোষ উৎপন্নকারী পদার্থ বিশেষ {}

কালার কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of melanin)
১.   “আকাশে ঠিকানা দিয়ে, নিয়েছে ঠাঁই পাতালে গিয়ে, উত্তর কী দক্ষিণে বায়ে, কৃষ্ণকালা ভবের ব্রজ্যা।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২.   “আসবে আসবে বলে কালা, ফুরাইল যৌবনবেলা, দেখা দাও আসিয়ারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩)
৩.   “কী অপরূপ রূপের কিরণ, কালা হয় জীবের জীবন, ঐ পিরিতে দিয়া নয়ন, প্রেমানলে পুইড়া মরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭২)
৪.   “কী আগুন জ্বালাইয়া গেলিরে, জ্বালা সইতে না পারি, আমি একাকিনী রই কেমনে, কালার সঙ্গ ছাড়ি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭২)
৫.   “নিধুবনেই বসে কালা, বংশীটি বাজায় দোতালা, সকাল বিকাল দুই বেলা, তার দু’রঙ্গে আনাগোনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩)
৬.   “ভক্ত কবির জাতে জোলা, শুদ্ধভক্তি মাতোয়ালা, নাম ধরেছে ব্রজের কালা, শুনি সর্বত্র তাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৭/২)
৭.   “মানুষে মনষ্কামনা, সিদ্ধি করো বর্তমানে, খেলছে খেলা বিনোদকালা, এ মানুষের তনভুবনে।” (পবিত্র লালন- ৬০৯/২)
৮.   “মেঘের বিদ্যুৎ মেঘে যেমন, লুকালে না পায় অন্বেষণ, কালারে হারিয়ে তেমন, ঐরূপ হেরি হৃদ দর্পণে।” (পবিত্র লালন- ৭৯১/৩)
৯.   “যে করবে কালার চরণের আশা, জানো না রে মন তার কী দুর্দশা, ভক্তবলি রাজা ছিল- সর্বস্ব তার নিলো, বামন রূপে প্রভু করে ছলনা।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/২)
১০. “রোজ নিশিতে মথুরাতে দুয়ার খুলিয়া, আসবে বলে শ্যামকালা থাকি বসিয়া, তোমার দর্শন পাবার আশে, চিত্ত যায় উড়িয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)।১১.  “শতদল কমলে কালা, আসনশূন্য সিংহাসনে, চৌদ্দভুবন ফিরায় নিশান, ঝলক দিচ্ছে নয়ন কোণে।” (পবিত্র লালন- ৬০৯/৩)
১২. “সে কালাচাঁদ নদে এসেছে, সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই, ব্রজঙ্গনার কুল নাশে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/১)

কালার কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of melanin)
১.   “আর তো কালার সে ভাব নাইকো সই, সে না ত্যেজিয়ে মদন, প্রেমপাথারে খেলছে সদাই প্রেমঝাঁপই।” (পবিত্র লালন- ১৭৩/১)
২.   “আমি কেন এলাম যমুনা ঘাটে, ঐ কালারূপ দেখলাম তটে, আমার কাঙ্খের কলসি কাঙ্খে রইল, দুই নয়নের জলে, কলসি ভেসে গেল।” (পবিত্র লালন- ৫৬৩/২)
৩.   “আমি যখন রাঁধতে বসি, কালা তখন বাজায় বাঁশী, নিকুঞ্জবনের কিনারে, আমার শাশুড়ী ননদী ঘরে, কেমন করে যাই তার তরে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৬/৩)
৪.   “এস গো দয়াল বন্ধু শ্যাম কালাচাঁন, মনের বনে ফুল ফুটেছে, প্রেমযমুনায় ভরা বান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)
৫.   “ও কালার ঊরু বাঁকা ভ্রূ বাঁকা, ময়ূরপঙ্খি নাও উড়ায় প্রাণসখা, তাতে আছে আমার নাম লেখা, আমি কেন পাই না দেখা, সখারে বলো।” (পবিত্র লালন- ৫৬৩/৩)
৬.   “ও কালার কথা কেন বলো আজ আমায়, যার নাম শুনলে আগুন জ্বলে তাপিত অঙ্গ শীতল হয়।” (পবিত্র লালন- ২৪১/১)
৭.   “ওপরে রবে ঝড়ের জ্বালা- চৌদিকে আগুনের লালা, জ্বলে পুড়ে হবে কালা– যারা রবে সাধনবিহীন, ভঙ্গ করে আপন সন্ধি- লাখে লাখে হবে বন্দী, সত্তরহাত শিকলে বান্ধি- করবে কত কারাধীন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৮)
৮.   “কত শত মুনি ঋষি, যুগ যুগান্তর বনবাসী, পাব বলে সে কালশশী, বসে বসে তপে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৭/৩)
৯.   “কালা কালা বলে কেনো হয়েছ উতলা, গোপনে সে গাঁথা মালা প্রকাশিলে জ্বালা, ঐ কালা কালা নয় ঐ কালাতে কিবা হয়, কৃষ্ণ কালা বলে কেনো ভুলে রইছ ও ভোলা সে কালা।” (পবিত্র লালন- ২৯০/১)
১০. “কালা কী মন্ত্রে মন ভুলাল, এখন আমার ঘরে থাকা দায় হলো, সখী কী করিরে, লালন বলে তাইতো; রাধা, যাবে না ঘরে ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৬/৪)
১১.  “কালা মধুপুর বিজনে বসি, রোজ বাজায় বিষের বাঁশী, লীলার লোভে মাসে আসি, প্রেম জাগায় রাধার মনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১২. “কালার গলে পরিয়ে মালা, জুড়াব মনের সকল জ্বালা (গো), বলন কয় মালা পরাও, দয়াল সাঁইয়ের গলাতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৯)
১৩. “কালার রূপে নয়ন দিয়ে, প্রেমানলে মরলাম জ্বলে, ওরে বিধি একি হলো, আমার কাঁদতে কাঁদতে জনম গেল।” (পবিত্র লালন- ১৪৪/২)
১৪. “কালার সাথে প্রেম করে, জনম গেল কাঁদতে, জন্মাবধি অপরাধী, হলাম কালার পদেতে, দেহ করলাম সমর্পণ, পাই নি কালার মন, মান ভাঙতে মন ভেঙে যায়, লালন ভনে তাই।” (পবিত্র লালন- ৬৯১/৪)
১৫. “কালো কোকিলের ডাক, না শুনব কর্ণে, ঘ্যানর ঘ্যানর কথা, না শুনব শ্রবণে, যে কবে কালার কথা, তার সঙ্গে মোর নাই কথা, যে দিবে অন্তরে ব্যথা, সইবে না এ রাই।” (পবিত্র লালন- ৬৯১/৩)
১৬. “ছয়মাসে বালিকা বৃদ্ধা হয়ে হয় কালা ও সাদা, নাতি জন্মের নয় মাস পরে জন্ম হয় বড় দাদা, আটমাস আগে মরে বাবা, বেশ্যাবৃত্তি মেয়ের কাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৫)
১৭.  “তলার ওপরে তলা, তার ভিতরে চিকনকালা, দেখা দেয় সে দিনের বেলা, রসেতে ভেসে।” (পবিত্র লালন- ৮৫৩/৩)
১৮. “তুমি সাঁই করিমকালা হর, এক অংশে তিন করো আকার, কারে ভজে কারে পাব ভেবে, জনম গেল অকাতরে।” (পবিত্র লালন- ২০৩/৩)
১৯. “তেমন বলন হয় পোড়াহৃদয়, সাথী হারাইয়া কাঁদে সদাই, ভুবনে কোথাও মিলে না, হারাইয়া চিকনকালা, বুকের জ্বালে দারুণ জ্বালা, তারে ছাড়া বাঁচে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫০)
২০. “তোমরা আর আমায় কালার কথা বলো না, ঠেকে শিখলাম গো, কালার রূপ আর ভুলব না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৬/১)
২১. “দুটি উরু কলারি বোল, সিঙ্গ মাজা দেখি কেবল, তাতে রয়েছে যুগল, আদির আদি অনাদি কালা।” (পবিত্র লালন- ৫৪১/৩)
২২. “দেবাধিদেব শিব ভোলা, তার গুরু ঐ চিকনকালা, তোরা বলিস চিরকাল- গোরা রাখাল, কেমন রাখাল জানগে বেদ পুরাণে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৫/৩)
২৩. “নিঠাঁই ঘরের খুলে তালা, দেখো স্বরূপ রবি কালা, ঘুচবে যত ভবজ্বালা, ভেবে বলে বলন তাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)
২৪. “নিধুবনেই বসে কালা, বংশীটি বাজায় দোতালা, সকাল বিকাল দুই বেলা, তার দু’রঙ্গে আনাগোনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩)
২৫. “পঞ্চবাণে তাপন নিরূপণ করিবার ভেদ বিচার, ষোল কলার জানলে বিধি থাকবে না কভু বিমার, হলে পশ্চিমে সূর্য উদয়- জন্মমরণ দূরে পালায়, বলন কয় নাই ভয়- ধরা পড়ে শ্যামকালা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪০)
২৬. “পরলাম কলংকের হার তবু তো ও কালার মন পেলাম না, ঘৃণায় মরে যাই এমন প্রেম আর করব না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৬/২)
২৭. “পাকাও এক রাগের সুতা, ভাবের টোপ গেঁথে দাও সেথা, নিচে সাড়া পেলে উঠবে ভেসে, ব্রহ্মা কালা একেশ্বর।” (পবিত্র লালন- ৬৪৬/২)
২৮. “পূর্ণ করে ষোল কলা, ভেদ করে সপ্ততলা, তার ওপরে বসে কালা মধু খায়, ষটচক্র পর- আদি-বিধান তার, সে জন মৃণাল ধরে উজান ধায়।” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/৩)
২৯. “বলে বলুক কালা কালা, তার গলায় পরাব মালা, কালার প্রেমে এত জ্বালা, কেমনে সহ্য করি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩)
৩০. “বারিযোগে বারিতা’লা, বিনোদ কালা খেলছে খেলা হৃদকমলে, হলো না মোর সাধন ভজন, জাতি কুলের গণ্ডগোলে।” (পবিত্র লালন- ৬৮৭/১)।৩১. “বিনোদকালা বংশীওয়ালা বংশীটি বন্ধ করিবে, তোমার সত্তরজন প্রধানেরা বিদায় হয়ে যাবে, বলন কয় অন্তিমকালে, মিটিবে সংসারের ভ্রম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৬)
৩২. “বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত সে ধন, মানুষ রূপে এ বৃন্দাবন, জানে যত রসিক সুজন, সে কালার গুণ বাখানি।” (পবিত্র লালন- ৪৫০/৩)
৩৩. “ব্রজের কালার সনে (নিষ্ঠুর কালার সনে), সন্ধ্যাবেলা দেখা হলো মাধবী বনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩৪. “ভবে পিরিতির কী জ্বালা, বুঝে না নিষ্ঠুরকালা, শ্যাম যদি জান্ত জ্বালা, থাকত না সে নিরালায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৮)
৩৫. “ভাণ্ড ব্রহ্মাণ্ড মাঝে, সাঁই বিনা কী খেলা আছে, লালন কয় নাম ধরেছে, কৃষ্ণ করিম কালা।” (পবিত্র লালন- ৯৩২/৪)
৩৬. “মথুরাতে কৃষ্ণকালা অর্জুনের শালা, সুভদ্রা ভগ্নী তাহার অভিমন্যু তাহার পোলা, দেখরে কেমন জ্বালা মিছে কেনো বলো কালা, কালার ঘরে বাতি জ্বলে অন্ধকারে উজালা সে কালা।” (পবিত্র লালন- ২৯০/৪)
৩৭. “যেমন রূপ কালো; তেমনি, মন কালো একি কালার ছলনা, বেড়ায় ব্যঞ্জন চেখে লজ্জা গণে না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৬/৩)
৩৮. “যে যা ভাবে তেমন সে হয়, লর্ড ব্রহ্মা কৃষ্ণ কালা, এক আল্লাহ জগৎময়।” (পবিত্র লালন- ৮৫২/১)
৩৯. “রক্তিম সাদা কালা ধারা, অষ্টাঙ্গে মহাযোগ করা, বলন কয় পড় না ধরা, পাড়ি দিতে গিয়ে ত্রিবেণা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৭)
৪০. “রাধে লো তোরে করিরে মানা, কালার সঙ্গে কথা বলো না, লালন বলে সর্বাঙ্গ বেঁধে নিবে, তোরে ছাড়বে না।” (পবিত্র লালন- ৪৫৩/৪)
৪১. “শূন্যের পরে ছিলেন সাঁই, গুপ্ত জ্যোতির্ময়, কৃষ্ণকালা গৌরবালা ছিলেন কোথায়।” (পবিত্র লালন- ৮৯৮/১)
৪২. “সবে বলে কালো কালো, কালো নয় সে চাঁদের আলো, সে যে কালাচাঁদ– নাই এমন চাঁদ, যে চাঁদের তুলনা তারই সনে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৫/২)
৪৩. “সকাল বিকাল জোয়ার ভাটা ত্রিধারাসাগরে, রক্তিম সাদা পাড়ি দিয়া যাইও কালা ধারে, অমৃতসুধা দুগ্ধ মধু যত পারো খাইতে যাদু, বলন কয় সাবধানে সাধু প্রাণ ভরিয়া খাও।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫২)
৪৪. “সাদা কালো ফুলের বাসর, পঞ্চরসে পেতেছি আসর- গো, নিধুবনে নাইকো দোসর, রাঙ্গা ঠোঁটী খাইয়া পান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)
৪৫. “সাদা সুতা দেখে উপবাসনা, কালা সুতা দেখে কর ভোজনা, তবে হয় উপোস সাধনা, নতশিরে কয় বলন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৭)
৪৬. “সাধন পথে কী না হলো, বাদশাহর বাদশাহী গেল, কত কুলবতীর কুল গেল, কালারে ভেবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৭/২)
৪৭. “সে কালার প্রেম করা সামান্যের কাজ নয়, ভালো হয় তো ভালোই ভালো, নইলে লেঠা হয়।” (পবিত্র লালন- ৯৬০/১)
৪৮. “সে কালা মোর চতুরালী, আবার ননিচোরা বনমালী, রসিক নাম ধরে, সে যে বাজায় মোহনবাঁশী, রাধার স্বরে গান করে।” (পবিত্র লালন- ১৩৩/৩)

কালার ওপরে কয়েকটি পূর্ণ লালন (Some full Lolon on the melanin)

.                 কালা বলে দিন ফুরাল,
            ডুবে এলো বেলা, সদাই বলো কালা

কালা কালা বলে কেন হয়েছ উতালা
গোপনে সে গাঁথা মালা প্রকাশিলে জ্বালা
কালা কালা নয়-
কালাতে কিবা হয়
ভুলে রইছ ও ভোলা সে কালা

কালা জন্ম নেয় নাই দৈবকির ঘরে
ষোল শত গোপীর সঙ্গে খেলা না করে
থাকে বসে একেলা-
চারযুগে তার খেলা
কালা গুণমণি চৌদ্দতালা সে কালা

মথুরায় কৃষ্ণকালা অর্জুনের শালা
সুভদ্রা ভগ্নী অভিমন্যু তার পোলা,
দেখরে কেমন জ্বালা-
মিছে কেন বলো কালা
কালা অন্ধকারে উজালা সে কালা

লালন বলে মায়াজালে প্রাণ যায়
চারযুগে দেখি কালা দয়াময়,
সে নিঠুর কালা-
নাই তার বিচ্ছেদ জ্বালা
চক্ষু বুঁজে জপে মালা সে কালা।” (পবিত্র লালন- ২৯০)

.                কৃষ্ণপ্রেমের পোড়াদেহ,
            কী দিয়ে জুড়াই গো সখী,
কে বুঝবে অন্তরের ব্যথা,
কে মুছবে আঁখি।

যে দেশে গেছে বন্ধু কালা,
সে দেশে নিয়ে যাব ফুলের মালা,
আমি ঘুরব নগর যোগিনী বেশে,
সুখ নাই যে মনে গো সখী।

তোরা যদি দেখিস কালারে,
বলে দে খবর আমারে,
নইলে আমি প্রাণ ত্যাজিব যমুনার জলে
কালার আশায় জীবন গেল একাকী।

কালাচাঁদকে হারিয়ে হলাম যোগিনী
দিবানিশি না জুড়ায় পরানি,
লালন কয় কালার চরণ পেলাম না
এখন কেঁদে হবে কী।” (পবিত্র লালন- ৩২৪)

.                তোমরা আর আমায়,
            কালার কথা বলো না,
ঠেকে শিখলাম গো,
কালার রূপ আর ভুলব না।

পরলাম কলংকের হার,
তবু তো ও কালার,
মন পেলাম না,
ঘৃণায় মরে যাই- কী করি উপায়,
এমন প্রেম আর করব না।

যেমন রূপ কালো, তেমনি, মন কালো,
একি কালার ছলনা,
একি প্রেমের শিক্ষে- বেড়াও ব্যঞ্জন চেখে
লজ্জা করে না।

এক মন কয় জায়গায় বিকায়,
লজ্জায় মরে যাই,
বলা যায় না,
মন নিয়ে কালা- খেলছ খেলা,
শেষে ভালো হবে না।

যেমন দেখি চন্দ্রাবলী,
তেমনি, দেখি রাধার অলি,
থাক সে দু’জনা,
শুনে রাধার বোল- লালনের বোল
আর চলে না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৬)

.                প্রেম করে বাড়ল দ্বিগুন জ্বালা,
ছল করে মন হরে নিলো কালা
সখীরে আমি যখন রাঁধতে বসি,
কালা তখন বাজায় বাঁশী,
মন হয় যে উদাসী,
কী করি ভেবে মরি,
একি করল কালা

সখীরে আমার জন্য কালা,
প্রেমের হাট বসাল কদমতলা,
কদমতলায় করেছি কত লীলা,
তাইতো; জীবন বরি হলো কালা

সখী শুইলে স্বপনে দেখি,
শ্যাম এসে ধরে আঁখি,
হেঁসে বলে চাঁদমুখী,
লালন বলে রাই পরায়,
শ্যামের গলে মালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪২)

.                সকালবেলা চিকনকালা,
এলে কী মনে করে,
এলে কেন নিশি জাগা রাধার দ্বারে।

তোমার আশাতে ভাই,
আমরা গোপীগণ সবাই,
মনের সুখে বাসর-ঘর সাজাই,
ওহে রাখালরাজা,
মজালে কুলবধূ রাধারে।

কে বুঝে শ্যাম তোমার লীলে,
বলো গতনিশি কার কুঞ্জে ছিলে,
বদনবিধ শুকিয়ে গেছে,
কে তোমায় দিয়েছে দফা সেরে।

পোহায়ে গেছে নিশি,
শ্যাম তুমি হয়েছ দোষী,
বাজাইও না বিষের বাঁশী,
লালন কয় কিশোরী আছে মান করে।” (পবিত্র লালন- ৯০২)

.                সে কালাচাঁদ নদে এসেছে,
সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই,
ব্রজঙ্গনার কুলনাশে।

মজবি যদি কালার পিরিতি,
আগে জানগে তার কেমন রীতি,
উত্তম প্রেম করা নয় প্রাণে মরা,
অনুমানে বুঝিয়েছে।

যদি রাজ্যপদ ঐপদে কেউ দেয়,
তবুও; কালার মন না পাওয়া যায়,
রাধা ব’লে বাজে বাঁশী,
এখন তারে কত কাঁদিয়েছে।

ও না ব্রজে ছিল জলদ কালো,
না জানি কী সাধনে গৌর হলো,
ফকির লালন বলে চিহৃ কেবল,
দুই নয়নে বাঁকা আছে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯)

কালার ওপরে কয়েকটি পূর্ণ বলন (Some full Bolon on the melanin)
.                 যার ভাবে এ কোপনি মজা
            শ্বেত বসনে সাধু সাজা
জাতি কুল সব ত্যাজিয়ে
সেজেছে সে পথের রাজা।

আকাশে ঠিকানা দিয়ে
নিয়েছে ঠাঁই পাতালে গিয়ে
উত্তর কী দক্ষিণে বায়ে
কৃষ্ণকালা ভবের ব্রজ্যা।

কুল ত্যেজে গিয়ে অকুলে
বসে রয় সে সিদ্ধিমূলে
ক্ষণেক ভাসে শুভ্র জলে
উত্তরে উড়িয়ে ধ্বজা।

করঙ্গ ও কোপনি বালা
সব হারায় পারের বেলা
বলন কয় পেতে কালা
            আগে হও অটলবীর্যা।” (বলন তত্ত্বাবলী)

.                কোথায় রইলারে শ্যাম কালিয়া
পাগল বানাইয়া আমায়
উদাসী করিয়ারে
(শ্যাম কালিয়া)।

পাশাখেলতে ফুলবনে
নিত্য আসো নিধুবনে
লালবাতি জ্বালাইয়ারে।

আসবে আসবে বলে কালা
ফুরাইল যৌবনবেলা
দেখা দাও আসিয়ারে।

বান্ধব নাইরে শ্যাম বিনা
বলন কাঁন্দে ব্রজধামে
দিবস জাগিয়ারে।” (বলন তত্ত্বাবলী)

.                কী আগুন জ্বালাইয়া গেলিরে
            জ্বালা সইতে না পারি
আমি একাকিনী রই কেমনে
কালার সঙ্গ ছাড়ি।

কী অপরূপ রূপের কিরণ
কালা হয় জীবের জীবন
ঐ পিরিতে দিয়া নয়ন
প্রেমানলে পুইড়া মরি।

বলে বলুক কালা কালা
তার গলায় পরাব মালা

কালার প্রেমে এত জ্বালা
কেমনে সহ্য করি।

বলন কয় কালাকালে
থাকে করণবিন্দু নালে
পাইলে তারে কোন কালে
হৃদয়ে রাখব ভরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭২)

বুকে আসন দিব কারেরে
            কালা বিনা জ্বালা বুঝবে কে

কালারে আনিয়া দে লো
আমার বান্ধবরে আনিয়া দে।

বংশীওয়ালা বিনোদকালা আমার গলার মালা
তারে না দেখলে আমার বুকে বাড়ে জ্বালা
প্রেমানলে হৃদকমলে
জ্বালা ধিকিধিকি জ্বলে।

নিদারূণ ফাগুন মনের আগুন ভরা যৌবনে
হৃদয় পুড়ার জ্বালা আমার কালা নাহি জানে
ও তার বিরহ বেদনা
জ্বলে দাউ দাউ করে।

বলন কাঁইজি ভিক্ষার ঝুলি বান্ধিয়া গলায়
বুকের মাণিক কালাচাঁদরে খুঁজিয়া বেড়ায়
না পাইলে কালার দর্শন
ভেকবসনে কী শোভা আছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৫)

কালার ওপরে ১টি পূর্ণ রাধারমণ (A full Radharoman on the melanin)

কালায় প্রাণটি নিলো বাঁশীটি বাজাইয়া
            আমারে যে থুইয়া গেল উদাসী বানাইয়া। (রে)

কে বাজাইয়া যাওরে বাঁশী
রাজ-পথ দিয়া
মনে লয় তার সঙ্গে যাইতাম
কুল-মান তেজিয়া। (রে)

বাঁশীটি বাজায়রে বন্দে
বইয়া কদমতলে
নিলুয়া বাতাসে বাঁশী
রাধা-রাধা বলে। (রে)

তাইতো; রাধারমণ বলে
মনেতে ভাবিয়া
নিভা ছিল মনের আগুন
কে দিল জ্বালাইয়া। (রে)।” (মরমী কবি রাধারমণ)

সাধারণ বয়রা অর্থে কালাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology melanin sense ordinary the deaf)
১.   “তিল পরিমাণ জায়গা সে যে; শতরঙ তারই মাঝে, কালায় শুনে অন্ধে দেখে, নাংড়ার নাচনা।” (পবিত্র লালন- ৩৪০/৩)
২.   “ত্রিবেণীর পিছনঘাটে, বিনা হাওয়ায় মৌজ ছোটে, বোবায় কথা কয়- কালায় শুনতে পায়, আন্ধেলায় পরখ করে সে না।” (পবিত্র লালন- ৫২৭/৩)

সাধারণ কালোবর্ণ অর্থে কালাপরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology melanin sense ordinary for black)

১.   “ধলা কী কালা বরণ, বাস করে সে কোন ভুবন, কোন দিন এ নয়নে, তারে দেখলাম না।” (পবিত্র লালন- ৬৭৮/৩)
২.   “সাদাভাব তার সাদাকরণ, নাইরে কালামালা ধারণ, সে পঞ্চক্রিয়া সাঙ্গ করে, ঘরে রাত্রদিন নিহারা।” (পবিত্র লালন- ৮০৬/২)

কালার সংজ্ঞা (Definition of melanin)
সাধারণত; পিতৃহীন কাননে উৎপন্ন সন্তানকেই কালা বলে।

কালার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of melanin)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সর্বপ্রকার জীবনীশক্তিকেই কালা বলে।

কালার প্রকারভেদ (Variations of melanin)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে কালা দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান কালা ও ২. উপমিত কালা।

. উপমান কালা (Analogical melanin)
সাধারণত; সর্বপ্রকার অঙ্কুরকেই উপমান কালা বলে।

. উপমিত কালা (Compared melanin)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কেবল জীবনীশক্তিকেই উপমিত কালা বলে।

কালার পরিচয় (Identity of melanin)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। জীবনীশক্তি জীবদেহে আপনাপনিই উৎপত্তি হয়। সাধারণ মানুষ এ শক্তিকেই স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা বলে থাকেন। কিন্তু বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টির মূলেই রয়েছে তাপ, চাপ ও চুম্বক। জীবনীশক্তি, তাপ, চাপ ও চুম্বকের বাইরে আর অন্য কোনো সত্তার অস্তিত্ব নেই। এবার যদি আমরা প্রশ্ন করতে পারি যে; কে এই কালা? বাংলা মরমী সাহিত্যে কালাকে নিয়ে এত লেখালেখি কেন? উদ্ধৃতির বাইরেও কালা, কালু, কাজলা, কালিয়া, কেলে, কালোমাণিক, কেলেসোনা, কালোশশী, কালোভ্রমর ও কালছিপিয়া নিয়ে আরও অসংখ্য মরমী বাণী রয়েছে। এছাড়াও; কালোর কয়েকটি উদ্ধৃতি আমরা তুলে ধরছি-

১.   “ও না ব্রজে ছিল জলদ কালো, না জানি কী সাধনে গৌর হলো, ফকির লালন বলে চিহৃ কেবল, দুই নয়নে বাঁকা আছে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/৪)।২.   “দাসের প্রতি নিদয় হয়ো না, দাও হে কিঞ্চিৎ প্রেম উপাসনা, ব্রজের জলদ কালো- গৌরাঙ্গ হলো, কোন প্রেম সেধে বাঁকা শ্যামরায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬৫/২)
৩.   “ব্রজে ছিল কালো ধরণ, নদেয় হলো গৌরবরণ, লালন বলে রাগের করণ, দর্শনে রূপ ঝাঁপিনী।” (পবিত্র লালন- ৭৩৮/৪)
৪.   “ব্রজে ছিল জলদ কালো, প্রেম সেধে গৌরাঙ্গ হলো, সে প্রেম কী সামান্য বলো, যে প্রেমের রসিক দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ৬৪৩/৩)
৫.   “ব্রজের ঐ জলদ কালো, যে পরশে গৌর হলো, লালন বলে মনরে চলো, জানতে সে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৮৪৮/৩)

উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলো দ্বারা অবশ্যই বুঝা যায় যে; মহাত্মা লালন সাঁইজি কালো বর্ণের একটা সত্তার কথা পুনঃপুন উল্লেখ করেছেন। এ কালো সত্তাটিই আলোচ্য কালা।

বাংভারতীয় (বাংলাদেশ ও ভারত) উপমহাদেশ ফর্সাপ্রিয় অঞ্চল
Bangindian (Bangladesh & India) subcontinent is fairness favorite region

পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চল কালোপ্রিয়, কোনো কোনো অঞ্চল ফর্সাপ্রিয়, কোনো কোনো অঞ্চল বেঁটেপ্রিয়, আবার কোনো কোনো অঞ্চল মোটাপ্রিয়। যেমন;  জাপান ছোট পা-প্রিয়। আফ্রিকার অনেক দেশ কালোপ্রিয়। আফ্রিকার কিছু কিছু দেশ মোটা মহিলাপ্রিয়। তেমনই; বাংভারত ফর্সাপ্রিয়। অবাক হবার বিষয় হলো ফর্সা প্রিয়ে-প্রিয়া কিংবা ফর্সা প্রেমিক-প্রেমিকা নিয়ে একটি মরমী বাণীও বাংভারতে পাওয়া যায় না। যেহেতু; ফর্সা প্রেমিক নিয়ে একটি বাণীও পাওয়া যায় না। আবার এ উপমহাদেশ ফর্সাপ্রিয়। তবে; প্রেমিক, প্রেমিকা, মনের-মানুষ, উপাস্যবস্তু ও সাধনার ধন; এসব বুঝাতে কোন কালার কথা বাঙালী রূপকার, গীতিকার, কবি, সাহিত্যিক, মরমী ও মহাজনরা আবহমানকাল হতে প্রকাশ করে আসছেন? সে ছয় হাজার বছর পূর্ব হতে কৃষ্ণ, কালা ও কালিয়া এমন কৃষ্ণবর্ণপ্রবণ পরিভাষা দ্বারা কাকেইবা সাধকরা বুঝিয়ে আসছেন?

উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে; জীবদেহে চুল, দাড়ি ও তিলককে কালোবর্ণ প্রদানকারী এক প্রকার রস রয়েছে। যাদের চুল, দাড়ি ও তিলক সাদা তাদের দেহেও এ রসটির অস্তিত্ব রয়েছে। ইংরেজি ভাষায় একে Melanin এবং আরবি ভাষাতেও ‘ميلانين’ (মিলেফিন) বলা হয়। পূর্বকালের যোগীরা যোগবলে এ রস আহরণ করতেন। এ রসের উপকার অনেক। একে প্রায়ই মধুর সাথে তুলনা করা হয়। এ রসকে কেন্দ্র করেই শ্বরবিজ্ঞানের গোড়াপত্তন করা হয়। বিশ্ববিখ্যাত সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ বেদ, ত্রিপিটক, তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, লালন ও বলন এসব গ্রন্থের মূল আলোচনাই হলো এ কালো রস। শ্বরবিজ্ঞানে; একে সৃষ্টিকতা বলা হয়। অধিকাংশ আত্মজ্ঞানী দার্শনিকের মতে; জীব সৃষ্টিক্রিয়ার প্রত্যক্ষ অনুঘটক বলেই একে সৃষ্টিকর্তা বলা হয়। একেই আরবীয় Mythology তে ‘ﺍﻠﻠﻪ’ (আল্লাহ) ও গ্রিক Mythology তে Lord বলা হয়। প্রকৃত আত্মদর্শন বা মরমীবাদে এখনও একে জীবদেহের এক প্রকার রসই বলা হয়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; এর আলোচনা সর্বক্ষেত্রে কেবল রূপকে রূপকে করা হয়। পুরাণকে অশালীনতা ও অশ্লীলতার হাত হতে রক্ষা করার জন্যই রূপক আলোচনার উদ্ভাবন করা হয়। একটা বাস্তব বিষয় রূপকে আলোচনা করতে গিয়েই বর্তমানকালে প্রচলিত এ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বকালের রূপকারগণ যেসব রূপক উপমা প্রদান করে গেছেন, সেই উপমান বিষয়াদি নিয়েই আরম্ভ হয় প্রতীকী আত্মদর্শন। এক সময় অধিকাংশ মানুষই যখন প্রতীকী আত্মদর্শন নির্ভর হয়ে পড়ে তখনই উদ্ভব হয় প্রতীকী আত্মদর্শন নির্ভর সাম্প্রদায়িক মতবাদ।

বড় উদ্বেগের বিষয় প্রায় এক হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে, অর্থাৎ; প্রায় তিন হাজার বছর পূর্বে আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব দর্শন দু‘ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তা হলো; ১.প্রকৃত আত্মদর্শন (Real theosophy) ও ২.প্রতীকী আত্মদর্শন (Symbolic theosophy)। তারপর; প্রকৃত আত্মদর্শনের ধারাটি গুরু-পরম্পরার মাধ্যমে এবং প্রতীকী আত্মদর্শনের ধারাটি প্রায় আগ্রাসনের মাধ্যমে কালাতিপাত করতে আরম্ভ করে।

প্রকৃত আত্মদর্শনের শাখা প্রশাখা রূপে বলা যায়, বাউল, বৈষ্ণব, সহজিয়া, মরমী, আত্মজ্ঞানী, দেহতাত্ত্বিক এবং এমন আরও অনেক ইত্যাদি। আর যুগে যুগে যত মহামানব এমন তাত্ত্বিক ধারা হতেই আবির্ভূত হয়েছেন। যেমন;  বেদব্যাস, বাল্মীকি, শ্রীচরণ, হোমার, জারির তাবারী, লালন ও বলন প্রমুখ। প্রকৃত আত্মদর্শন দ্বারা বরাবরই পাপী-তাপী তারণ হয়। পাপীদেরও শুদ্ধ মানুষে পরিণত করার মাধ্যমই হলো এ প্রকৃত আত্মদর্শন। প্রকৃত আত্মদর্শন হতে ছিটকে পড়া ছিল সাম্প্রদায়িকদের জন্য প্রথম বিচ্যুতি। প্রতীকী আত্মদর্শনের ফসল হলো সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ, আগ্রাসন ও একদল অন্যদলকে গালাগালি। এছাড়াও; এদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহারকর্তা, আদিমানব, আদিমানবী, পাপ, পুণ্য, স্বর্গ, নরক, উপাসনা ও বর্থ্য। তাদের কাজই হলো  কাল্পনিক ভাবে নির্মিত স্রষ্টার উপাসনার জন্য সাধারণ মানুষের উপর বল প্রয়োগ করা। স্বস্ব নির্মিত স্রষ্টার উপাসনা না করলে মানুষকে হত্যা, হনন, বধ ও বলি দেওয়া। একবার মন্দির ও মসজিদ গড়া। আরেকবার মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ এবং মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির গড়া। প্রতীকী আত্মদর্শনধারী সাম্প্রদায়িক বা পারম্পরিকরা সম্পূর্ণই ছিন্নমূল। কারণ; প্রতীকী আত্মদর্শনের মূল হলো প্রকৃত আত্মদর্শন। আর ছিন্নমূল হওয়ার কারণেই ক্রমে ক্রমে এরা অসংখ্য দল উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এদের শাখা প্রশাখাগুলো হলো, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদি, শিখ, জৈন, অরিয়া, কন্ফুসিয়াসি ও মুসলমান।

এদের মধ্যে থেকেই উদ্ভব হয়েছিল হিটলার, হালাকুখান, মোসোলিনী, বাবর, আকবর, হুমায়ন, জাহাঙ্গির, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব ও বর্তমানকালে ওসামা বিন লাদেন। এদের বর্তমান শাখা প্রশাখা হলো নাইজেরিয়ার বোকোহারাম, মধ্যপ্রাচ্যের আলকায়দা, ভারতের শিবসেনা, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী ইত্যাদি। বর্তমানকালে আবার উপরোক্ত উভয়দল হতে দ্বিতীয় বিচ্যুতির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে তাবলিগ জামাত, পিরপূজারী, উরশপূজারী, মাজারপূজারী ও সুফিবাদী ইত্যাদি সম্প্রদায়। প্রকৃত আত্মদর্শন হতে বিচ্যুতির পর, বিচ্যুতি দ্বারা সৃষ্ট এসব সাম্প্রদায়িকরা মানুষের আকারী উপাস্যকে নিরাকারে পরিণত করেছে। নিরাকার উপাস্যের পূজা-আরাধনা করার জন্য প্রতীকী ভজনালয় মন্দির, মঠ, বেদি ও বিহার ইত্যাদি নির্মাণ করেছে। সুকৌশলে নির্মাণ করেছে স্বস্ব কল্পিত ও নিরাকার উপাস্যের পূজাবিধি। বর্তমানে সাম্প্রদায়িকদের শাস্ত্রিক কার্যক্রম দেখে অনেক বুদ্ধিমান মানুষও তা অস্বীকার করতে সমর্থ হবেন না। কারণ; সাম্প্রদায়িকরা তাদের ‘সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহারকর্তা, আদিমানব, আদিমানবী, বিচার, পাপ, পুণ্য, স্বর্গ, নরক, উপাসনা ও বর্থ্য’ এর নামধাম, আসন-বসন, আহার-বিহার, শয়ন-বয়ন, তপ-জপ ও তন্ত্র-মন্ত্র পর্যন্ত আবিষ্কার করে সেরেছে।

বঙ্গদেশের বর্তমান সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অনুবাদক ও অভিধানবিদরা এখনও জানেন না যে; আবহমানকাল হতে শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত সেই কালা-ই সাম্প্রদায়িক সৃষ্টিকর্তা। সাম্প্রদায়িকদের সৃষ্টিকর্তা হলো, ১. ঈশ্বর ২. ওয়াহিগুরু ৩. কাঁই ৪. ব্রহ্মা ৫. স্রষ্টা ৬. Lord (লর্ড) ৭. Jehovah (জোভ) ৮. Chúa tể (চো তে) ৯. Here (হিরিই) ১০. Tanrı (তানরি) ১১. Chúa tể (চো তে) ১২. ‘الله’ (আল্লাহ) ১৩. ‘خدا’ (খোদা) ১৪. ‘خداوند’ (খোদাওন্দ) ১৫. 老爺 (লাংইয়ে) ১৬. 범천 (হামসান) ১৭. 主 (চু) ও ১৮. ロード (এয়াদা) ইত্যাদি। তাদের নিকট যদি বলা হয় শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত সেই কালা-ই বাঙালী সৃষ্টিকর্তা। তবে; মার বা গাল না দিলেও অন্তত নির্বুদ্ধিতার একটা হাসি যে দিবে তাতে ভুল নেই। এসব কারণে ‘কালা’ পরিভাষাটির অভিধা বাঙালীদের সৃষ্টিকর্তা হয়েও নিজগৃহেই পরবাসী হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বাংভারতীয় শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ‘কালা’ পরিভাষাটির ভাবার্থ বা মর্মার্থ যে সৃষ্টিকর্তা তা অনেকেই জানেন না। নিরপেক্ষ চিত্তে কালা, কালিয়া, কাজলা, কৃষ্ণ, কালু, কেলে, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা, শ্যামলা-কালছিপিয়া এসব পরিভাষা দ্বারা নির্মিত ঐশিবাণীগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ রইল। এ বিষয়টি ভাববার জন্য আরও অনুরোধ রইল, এসব পরিভাষা দ্বারা কাকে ডাকা হয়েছে ও কার কাছে জানানো হয়েছে বুকচেরা এত আর্তনাদ?

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!