ঘোষক২

৮১/১৫. ঘোষক
Herald (হ্যারল্ড)/ ‘النذير’ (আন্নাযির)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা রজ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা জোয়ার। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা গরল, তিক্তজল, বন্যা, লালবাতি, সংবাদপত্র হলাহল। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অরুণ, নক্ষত্র, বসিধ, মহল্লাল, রংলাল লালিমা এবং এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আদিমাতা, শতরূপা, শেষবসিধ, সরস্বতী ধর্মপ্রচারক। এই বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাটি কামরস এবং রজ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

অভিধা (Appellation)
ঘোষক (বাপৌছ)বিণ ঘোষণাকারী, উপস্থাপক বি নিনাদক, প্রচারক, herald, ‘النذير’ (আন্নাযির) (প্রাঅ) রজ, আর্তব, স্রাব, menses, dust, menstrual, আদাত (.ﻋﺎﺪﺓ), কুরউ (.ﻘﺮﺃ), মাহিজ (.ﻤﺤﻴﺾ) (আঞ্চ) ঋতু, মাসিক (ব্য্য) রজস্রাব কিশোরীকে যুবতী পর্যায়ে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা করে এবং বিনোদন, সাঁইসাধন ও কাঁইসাধনের ঘোষণা করে বলে রজকে ঘোষক বলা হয় (শ্ববি) অবতার, জোয়ার, বন্যা, রক্তবন্যা, লালজল (ইদে) নবি (.نبي), পয়গাম্বর (ফা.ﭙﻴﮕﻤﺒﺭ), হাওয়া (.ﺤﻮﺍﺀ) (ইপ) ইঞ্জিল (.ﺍﻧﺠﻴﻝ), যাবুর (.ﺯﺒﻮﺭ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). যে কোনো ঘোষণাকারীকে ঘোষক বলা হয় . রজস্বলাদের জরায়ু হতে প্রকৃতির নিয়মে প্রতি মাসে প্রবাহিত রক্তধারাকে রূপকার্থে ঘোষক বলা হয় (বাপৌছ) আদিমাতা, ঘোষক, শতরূপা, শেষবসিধ ও সরস্বতী (বাপৌচা) অরুণ, নক্ষত্র, বসিধ, মহল্লাল, রংলাল ও লালিমা (বাপৌউ) গরল, তিক্তজল, বন্যা, লালবাতি, সংবাদপত্র ও হলাহল (বাপৌরূ) জোয়ার (বাপৌমূ) রজ।

ঘোষকের সংজ্ঞা (Definition of herald)
সাধারণত; যে কোনো ঘোষণাকারীকে ঘোষক বলে।

ঘোষকের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of herald)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; রজস্বলাদের জরায়ু হতে প্রকৃতির নিয়মে প্রতি মাসে প্রবাহিত রজধারাকে ঘোষক বলে।

ঘোষকের প্রকারভেদ (Variations of herald)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে ঘোষক দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান ঘোষক ও ২. উপমিত ঘোষক।

. উপমান ঘোষক (Analogical herald)
সাধারণত; যে কোনো ঘোষণাকারীকে উপমান ঘোষক বলে।

. উপমিত ঘোষক (Compared herald)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে রজস্বলাদের জরায়ু হতে প্রতি মাসে প্রবাহিত রজকে উপমিত ঘোষক বলে।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে ঘোষক দুই প্রকার। যথা; ১. সরব ঘোষক ও ২. নীরব ঘোষক।

. সরব ঘোষক (Loud herald)
সাধারণত; উচ্চশব্দের দ্বারা ঘোষণাকারীকে সরব ঘোষক বলে। যেমন; মানুষ।

. নীরব ঘোষক (Silent herald)
সাধারণত; ইঙ্গিতের দ্বারা ঘোষণাকারীকে নীরব ঘোষক বলে। যেমন; চিঠি ও কম্পন।

ঘোষকের পরিচয় (Identity of herald)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজ পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। কোনকিছুর ঘোষণাকারীকে ঘোষক বলা হয়। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ব্যাপক পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিভাষা। এ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাটি কামরস ও রজস্রাব উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। কেবল ঘটনাবলী, বিবরণ ও ভাবের ওপর একে চি‎হ্নিত করতে হয়। এমন দ্বৈত অভিধাধারী আরও কিছু পরিভাষা শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহার হতে দেখা যায়। যেমন; মানুষ। মানুষ পরিভাষাটি সাঁই অর্থে আবার আকারী মানুষ অর্থেও ব্যবহার হতে দেখা যায়। কেবল ঘটনাবলী, বিবরণ ও ভাবের ওপর নির্ভর করেই এদের চি‎হ্নিত করতে হয়। একে স্বর্গীয় ঘোষক দেবতা বলা হয়। এ দেবতাটি হঠাৎ করে অরজার নিকট আগমন করে তাকে যুবতী বা রজস্বলা হওয়ার ঘোষণা প্রদান করে বলে একে ঘোষক দেবতা বলা হয়। মুসলমানদের মধ্যে একটি বাণী দীর্ঘদিন হতে শোনা যায়। সে বাণীটি হলো; “ﺍﻧﺎ ﺨﺎﺗﻡ ﺍﻟﻧﺑﻰ ﻭ ﻻ ﻧﺑﻰ ﺑﻌﺿﻰ” উচ্চারণ; “আনা খাত্বামান নাবি ওয়া লা নাবিয়া বাদি” অর্থ; “আমি হলাম সর্বশেষ বসিধ এবং আমার পরে আর কোনো বসিধ নেই” (আল হাদিস)। আবার পবিত্র কুরানেও এমন একটি উক্তি দেখতে পাওয়া যায়। “ مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ” উচ্চারণ; “মা কানা মুহাম্মাদুন আবা আহাদিম মির রিজালিকুম, ওয়া লাকির রাসুলাল্লাহি, ওয়া খাতামান নাবিয়্যিনা, ওয়া কানাল্লাহা বিকুল্লি শাইয়্যিন আলিমা” অর্থ; “সাঁই (মুহাম্মদ) কারো পিতা ছিলেন না, তোমাদের পুরুষরা (যেমন)। তিনি ছিলেন কাঁইয়ের তত্ত্ববাহক এবং সর্বশেষ বসিধ এবং কাঁই সর্ববিষয়ে সুবিজ্ঞ” (কুরান- আহযাব- ৪০)। চিরন্তন এ বাণীটি নিঃসন্দেহে এ ঘোষক দেবতার উক্তি। কারণ; একটি কন্যা সন্তানের দেহ সর্বোতভাবে সুগঠিত হওয়ার পর সর্বশেষে তার কটিদেশ ও বুকের স্ফীত অংশ বিকশিত হয়। সন্তান ধারণ ও প্রতিপালনের যাবতীয় দৈহিক প্রস্তুতি সুসম্পন্ন হওয়ার পর সর্বশেষে বসিধ দেবতার আগমন ঘটে। চরম ও পরম বাস্তবতার ভিত্তিতে বলা যায় কন্যাদের দেহে রজস্রাব আগমনের পরে আর কোনো নতুন বিষয়বস্তুর আগমন ঘটে না। এবার বলা যায় রজস্রাবই নারীদেহের সর্বশেষে সাংবাদিক। শ্বরবিজ্ঞানে; এ রজস্রাবকেই বসিধ দেবতা বলা হয়। এজন্য; বলা যায় এমন উক্তিকারী সত্তাই হলেন রমণীদের রজস্রাব। অন্যদিকে; পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণের পর ক্রমে ক্রমে তার নাসিকা, মুখ, চোখ, কর্ণ, হাত ও পা কর্মক্ষম হয়ে ওঠে শিশুকে শৈশবে উত্তরণ করে। অতঃপর; শৈশব হতে পদার্পণ করে কৈশোরে। তারপর; স্বর্গধাম হতে গোঁফ এসে উদ্গত হয়ে তাকে একেবারে যৌবনের কাছাকাছি নিয়ে যায়। অতঃপর; হঠাৎ একদিন স্বর্গধাম হতে সর্বশেষ সত্তা দাড়ি আগমন করে কৈশোরকে চিরদিনের মতো হত্যা করে তাকে যৌবনে উত্তরণ করে। দাড়ি আগমনের পর আর কোনো স্বর্গীয় দূত পুরুষদেহে আগমন করে না। এজন্য; যেমন; নরদেহের জন্য দাড়িকে সর্বশেষ স্বর্গীয় অবতার বলা হয়; তেমনই; নারীদেহের জন্য রজস্রাবকে সর্বশেষ ঐশিদূত বলা হয়।

“আমি হলাম সর্বশেষ বসিধ এবং আমার পরে আর কোনো বসিধ নেই” এমন চিরন্তন উক্তি ৯৯ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার মধ্যে কার হতে পারে? এর উত্তরে এবার শক্ত করেই বলা যায় যে; আলোচ্য উক্তিটি হয়তো নরদেহের দাড়ির নয়তো নারীদেহের রজস্রাবের। তবে; নরদেহের দাড়ির আলোচনা শ্বরবিজ্ঞানে একেবারেই নেই বললেই চলে। যে দুয়েক স্থানে দাড়ির আলোচনা পাওয়া যায়, তবুও;; তার উপমিত-সত্তা শিশ্ন। যেমন;  পবিত্র কুরানে রয়েছে- “ قَالَ يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي إِنِّي خَشِيتُ أَنْ تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِي(৯৪)” উচ্চারণ; “ক্বালা ইয়াবনাউহুম্মা লা তা’খুজ বিলিহইয়ায়ি, ওয়া লা বিরা’সি ইন্নি খাশিয়াতু আন তাকুলা ফাররাক্বতা বাইনা বানি ইসরাইলা ওয়া লাম তারক্বাব কাউলি।” অর্থ; “তিনি বললেন; হে আমার ভাই আমার দাড়ি ও চুল ধরে টেনো না, আমি ভয় করি যে তুমি বলবে তুমি মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি” (কুরান- ত্বোয়াহা- ৯৪)। দাড়ি কেবল দাড়ি অর্থে শ্বরবিজ্ঞানের কোথাও তেমন ব্যবহার হয় নি। এবার পরিষ্কার করে এবং শক্ত করে বলা যায় উপরোক্ত উক্তিটি অবশ্যই রজস্রাবের এবং এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

লিহইয়া [ﻟﺤﻴﺔ] (আপৌছ)বি দাড়ি, শ্মশ্রু, চিবুক, থুতনি, মুখের চিবুকের লোম (বাপৌমূ) বলাই {}

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো বাংভারতের একদল খুষ্ক লেখক ও ব্যৈখ্যিক ও টৈকিক এ সর্বশেষ ঘোষককে একজন মানুষ কল্পনা করে যত গান ও গল্প লিখে যাচ্ছেন তাতে সাধারণ মানুষ কোনো দিনই প্রকৃত সর্বশেষ ঘোষক চিনতে ও জানতে পারবে বলে মনে হয় না। আবার কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যে; রমণীদের স্তনের দুগ্ধও তো রজ আগমনের অনেক পরে আসে তবে তাকে কী সর্বশেষ দেবতা বলা যায় না? এমন প্রশ্নে উত্তর হলো; স্তনের দুগ্ধ নারীদেহের মৌলিক কোনো দেবতা নয়। কারণ; এটি; কেবল সন্তানগ্রহণের কারণেই আগমন করে। সাধারণত; কোনো রমণী সন্তানগ্রহণ না করলে; কোনো কারণ ব্যতীত; তার স্তনে দুগ্ধ আগমন করে না। যদি বিকল্পভাবে অনূঢ়া বা নবোঢ়ার স্তনে দুগ্ধ উৎপাদন করা হয়। তবে; তা রজ আগমনের পূর্বেও করা যায় এবং রজ আগমনের পরেও করা যায়। এজন্য; রমণীদের স্তনের দুগ্ধকে নারীদেহের সর্বশেষ স্বর্গীয় অবতার বলা যায় না। সুবিজ্ঞ রূপকার ও সুমহান আত্মজ্ঞানীগণের দ্বারা নরদেহের দাড়িরূপ এবং নারীদেহের রজ সত্তা দ্বারা নির্মিত মন্ত্রটি হলো; “ﺍﻨﺎ ﺨﺎﺘﻡ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” উচ্চারণ; “আনা খাতামান নাবি ওয়া লা নাবিয়া বাদি” অর্থ; “আমিই সর্বশেষ বসিধ এবং আমার পরে আগমনকারী কোনো বসিধ নেই।” এ বাক্যটির অনুকূলে আরবীয় পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে সারাবিশ্বে কথককে একজন মানুষ কল্পনা করে বর্তমানে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক অঙ্গনে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা হতে আর কোনো দিন বেরিয়ে আসতে পারবে কী মানুষ?

মন্ত্রটি নির্মাণের প্রেক্ষাপট (Making background of the verses)

রূপকারগণের হেয়ালিখেলার বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার এক হাস্যকর গল্পের আসরে গোঁফ একবার বলে উঠল; “আমিই সর্বশেষ বসিধ এবং আমার পরে আগমনকারী কোনো বসিধ নেই।” তখন এর উত্তরে দাড়ি বলল; “না না।” অতঃপর; আবার “ﻘﺎﻞ ﺍﻟﺤﻴﻰ ﺍﻨﺎ ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻟﺠﺴﻢ ﺍﻟﺭﺠﻞ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” উচ্চারণ; “কালাল লিহইয়াউ, আনা খাতামান নাবি লি জিসমির রাজুলিউ, ওয়া লা নাবিয়া বাদি” অর্থ; “দাড়ি বলল; আমি নরদেহে সর্বশেষে আগমনকারী বসিধ এবং আমার পরে আগমনকারী কোনো বসিধ নেই।” গোঁফ ও দাড়ির এমন দেহতাত্ত্বিক আলোচনা শুনে সহাস্য বদনে রজ বললো; “ﻘﺎﻞ ﺍﻟﺤﻴﺾ ﺍﻨﺎ ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻟﺠﺴﻢ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” “কালাল হায়িজু আনা খাতামান নাবি লি জিসমিন নিসায়িউ ওয়া লা নাবিয়া বাদি” অর্থ; “রজ বলল আমি নারীদেহে সর্বশেষে আগমনকারী বসিধ এবং আমার পরে আগমনকারী কোনো বসিধ নেই।”

কিন্তু পরবর্তীকালে সাধারণ পাঠক ও শ্রোতাকে ধাঁধায় ফেলার জন্য “ﻘﺎﻞ ﺍﻟﺤﻴﻰ ﺍﻨﺎ ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻟﺠﺴﻢ ﺍﻟﺭﺠﻞ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” এ বাক্যটি হতে “ﻘﺎﻞ ﺍﻟﺤﻴﻰ” (কালাল লিহইয়াউ) এ অংশ ও “ﻟﺠﺴﻢ ﺍﻟﺭﺠﻞ” (লি জিসমির রাজুলিন) এ অংশটুকু ফেলে দিয়ে এবং “ﻘﺎﻞ ﺍﻟﺤﻴﺾ ﺍﻨﺎ ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻟﺠﺴﻢ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” এ বাক্যটি হতে “ﻘﺎﻞ ﺍﻟﺤﻴﺾ” (কালাল হায়িজু) এ অংশ ও “ﻟﺠﺴﻢ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ” (লি জিসমিন নিসায়ি) এ অংশটুকু ফেলে দিয়ে কেবল “ ﺍﻨﺎ ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” (আনা খাতামান নাবিউ ওয়া লা নাবিয়া বাদি) এ অংশ বর্ণনা করার প্রথা চালু করা হয়েছে। এজন্য; এ বাক্যটির প্রকৃত কথক সহজে বের করা যায় না।

আরও অনেক পরে বাক্যটি অনেক বড় বড় সংকলকগণের দ্বারাই সংকলিত হওয়া আরম্ভ হয়। অবশেষে গত বারোশত বছর পূর্বে হাদিস সংকলকগণের দ্বারা বাক্যটি হাদিস রূপে সংকলিত হয়। তখন হতেই এ বাক্যটি মুসলমানদের নিকট হাদিস রূপেই গণ্য হয়ে আসছে। বড় মজার ব্যাপার হলো বড় বড় মুসলমান মনীষীগণও বসিধকে হায়াতুন নবি “ﺤﻴﺎﺖ ﺍﻟﻨﺑﺊ” (চিরঞ্জীবী বসিধ) এবং সাঁইকে হায়াতুল মুরসালিন “ﺍﻟﻤﺭﺴﻟﻴﻦ ﺤﻴﺎﺖ” (চিরঞ্জীবী সাঁই) বলে থাকেন। উল্লেখ্য যে; ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ খাতামান নবিকেই (সর্বশেষ বসিধ) হায়াতুন নবি “ﺤﻴﺎﺖ ﺍﻟﻨﺑﺊ” (চিরঞ্জীবী বসিধ) এবং ﺨﺎﺗﻢ ﺍﻟﺭﺴﻮﻞ খাতামার রাসুলকেই (সর্বশেষ সাঁই) হায়াতুল মুরসালিন ﺍﻟﻤﺭﺴﻟﻴﻦ ﺤﻴﺎﺖ (চিরঞ্জীবী সাঁই) বলা হয়। সে-ই চিরঞ্জীবী বসিধ এবং চিরঞ্জীবী সাঁইই আত্মজ্ঞানীগণের বসিধ ও সাঁই।

মুসলমানদের একদল বসিধকে চিরঞ্জীবী বলেন আরেকদল আবার সেই বসিধকেই প্রয়াত বলেন। প্রতি বছর মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়ালে মহাধুমধামে বসিধের জন্ম-মৃত্যু দিবসও পালন করে থাকেন। কোনো বসিধ চিরঞ্জীবী এবং কোনো বসিধ প্রয়াত, তা তারা একবার পাত্তা করার প্রয়োজনটুকুও মনে করে না। অথচ; আত্মজ্ঞানীগণ যাকে সর্বশেষ বসিধ বলে থাকেন তাঁর জন্ম-মৃত্যু কিছুই নেই। তিনি যোনিজাত নন; তিনি চিরন্তন। সারাবিশ্বের সর্বত্রই তাঁর চরম ও পরম বাস্তবতা রয়েছে। তেমনই; আত্মজ্ঞানীগণ যাকে সর্বশেষ সাঁই বলে থাকেন তাঁরও জন্ম-মৃত্যু কিছুই নেই। তিনিও যোনিজাত নন। আবার তিনিও চিরন্তন। সারাবিশ্বের সর্বত্রই তাঁরও চরম ও পরম বাস্তবতা রয়েছে। এঁরা হলেন একজন চিরঞ্জীবী বসিধ অন্যজন চিরঞ্জীবী সাঁই। বড় মজার ব্যাপার হলো মুসলমানদের একদল এঁদেরকে বলেন মাটির সৃষ্টি আবার আরেকদল বলেন এঁরা জ্যোতির সৃষ্টি। প্রকৃত ব্যাপার হলো সাম্প্রদায়িকদের বসিধ কেবলই কাহিনীনির্ভর। কিন্তু বাস্তবে হলো Bogus boh কিন্তু আত্মজ্ঞানীগণের বসিধ সর্বপ্রকার দ্বন্দ্ব, সন্দেহ ও তর্কবিতর্ক বিমুক্ত। চির জীবন্ত ও চিরঞ্জীবী।

ইংরেজি- Bogus boh অর্থ; মিথ্যা কথার ভয়ঙ্কর বুড়ী।

এখন আমরা বলতে পারি সাম্প্রদায়িকদের বসিধ হলো চির কাল্পনিক। সামান্য কিছু পৌরাণিক কাহিনী ব্যতীত এর কোনো বাস্তবতা বা আগাগোড়া নেই কিন্তু আত্মজ্ঞানীগণের বসিধ হলো চির বাস্তব দেহতাত্ত্বিক সত্তা এবং তা হলো রমণীদের রজ। এবার ভেবে দেখুন জন্মের পর হতে ক্রমান্বয়ে ইন্দ্রিয়াদি সচল হতে থাকে। শ্বরবিজ্ঞানের ইন্দ্রিয়াদির ক্রমমাণ অনুসারে তাদের ক্রমিক বসিয়ে দেখানো হলো। সর্বপ্রথমে সচল হয় ৩.নাসিকা, তারপর; সচল হয় ৬.বাক্ (বলন)। জন্মগ্রহণের পর নাসিকা দ্বারা অম্লজান প্রবেশ করার সাথেই সাথেই সন্তান ‘উঁয়া উঁয়া’ করে কেঁদে ওঠে। এর অর্থ সন্তানের বাক্ ইন্দ্রিয় সচল হয়েছে। অতঃপর; ক্রমান্বয়ে ৭.পাণি (হাত), ৮.পাদ (পা) ও ৪.জিহবা সচল হয়। যার ফলে সন্তান খাওয়া আরম্ভ করে। খাওয়া আরম্ভ করার অল্প সময় পরের সন্তানের ৯.পায়ু সচল হয়। অতঃপর; সচল হয় সন্তানের ৫.ত্বক। তাই; তারা শীত-গ্রীষ্ম অনুভব করতে পারে। তারপর; সন্তানের ২.কর্ণ ও ১.চক্ষু সচল হতে সময় লাগে প্রায় ছ’মাস। অতঃপর; ১০ হতে ১২ বছর পর সন্তানের ১০.উপস্থ নামক কামিন্দ্রটি সচল হয়। উল্লেখ্য যে; চুল গর্ভের মধ্যেই উদ্গত হয়। প্রথম পর্যায়ের দাঁত ১ হতেবছরের মধ্যেই উদ্গত হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের দাঁত ৪ হতে ১০ বছরের মধ্যেই উদ্গত হয়। এ বর্ণনাটুকু পুত্র ও কন্যা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

অতঃপর; প্রায় ১০ হতে ১৬ বছরের মধ্যে কিশোরীর রজ আগমন করে এবং প্রায় ১৬ হতে ১৮ বছরের মধ্যে কিশোরের মুখে গোঁফ উদ্গত হয়। তারপর; দাড়ি উদ্গত হয়। এগুলো সবই স্বর্গীয় অবতার। প্রাথমিক অবস্থায় সন্তানের বলন সচল হয়। অন্যদিকে; সে অর্থ বোধক কথা বলতে পারে না। তেমনই; দোলনায় সন্তানের হাত ও পা সচল হয়। অন্যদিকে; সে হাত দ্বারা কোনকিছু ধরতে ও পা দ্বারা হাঁটতে পারে না। প্রাথমিক অবস্থায় সন্তানের কর্ণ ও চক্ষু সচল হয়। অন্যদিকে; প্রায় ছ’মাস হতে এক বছরের মধ্যে সে কর্ণ দ্বারা শুনে কোনকিছুই অনুভব করতে পারে না; তেমনই; এ সময়ের মধ্যে চক্ষু দ্বারা দেখেও কাউকে চিনতে পারে না। পরিশেষে বলা যায় আগমনের দিক থেকে রমণীদের রজ এবং পুরুষের দাড়িই সর্বশেষ অবতার। এটা; যেমন; চরম বাস্তব; তেমনই; সর্বজন স্বীকৃত। এবার বলা যায় সারাবিশ্বের কিছু কিছু সাম্প্রদায়িক মনীষী ও বক্তারা আরবি ‘ﺨﺎﺗﻢ’ (খতম) পরিভাষাটির অর্থ আংটি বা ছাপাংকনের কথাও বলে থাকেন। এবার ‘ﺨﺎﺗﻢ’ (খতম) অর্থ ছাপাংকন ধরা হলে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় “আমিই পরিসমাপ্তিকারী বসিধ এবং আমার পরে কোনো বসিধ নেই। বাংলা ‘সর্বশেষ’ কথার আরও স্পষ্ট আরবি প্রতিশব্দ রয়েছে। যেমন; ‘ﺍﺨﻴﺭ’ (আখির)। এবার আরবি ‘ﺨﺎﺗﻢ’ (খতম) পরিভাষাটি আরবি ‘ﺍﺨﻴﺭ’ (আখির) পরিভাষাটির দ্বারা প্রতিস্থাপন করলে বাক্যটি সম্পূর্ণই বিতর্কমুক্ত হয়ে যায়। যেমন; “ﺍﻨﺎ ﺍﺨﻴﺭ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻮ ﻻ ﻨﺒﻰ ﺒﻌﺿﻰ” “আনা আখিরুন নাবি ওয়া লা নাবিয়া বাদি” অর্থ; “আমিই সর্বশেষ বসিধ এবং আমার পরে কোনো বসিধ নেই।” এ বাক্যটি পাঠ করলে কারো কোনো বিতর্ক করার সুযোগ থাকে না।

সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পৌরাণিক সাহিত্যাদির মধ্যে বর্ণিত সব সত্তার উপমান বিষয়বস্তু বাইরে পাওয়া গেলেও উপমিত বিষয়বস্তু কেবল মানবদেহ ভিন্ন অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। কিন্তু খুষ্কমুষ্কজ্ঞানী, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী ও বক্তারা জীবন-বিধান রূপ সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের বিষয়বস্তুও দেহের ভিতর অন্বেষণ না করে প্রকৃতিতে অন্বেষণ করে সম্পূর্ণ উল্টো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ লিখে সারা সাম্প্রদায়িক অঙ্গন একেবারেই লেজে গোবরে করে ফেলেছে। তাই; বর্তমানে কোনো বুদ্ধিমান মানুষ সাম্প্রদায়িক-সত্তাগুলোর অপব্যাখ্যা ফেলে আত্মতত্ত্বে ফিরে আসতে চাইলেও সহজেই তিনি পারবে না। কারণ; বর্তমান বিশ্বে আত্মজ্ঞানী মহাধীমান মনীষী সংখ্যা একেবারেই স্বল্প।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!