চরণ

৫৮/৫. চরণ
Leg (লেগ)/ ‘قدم’ (ক্বদিমা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বলাই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা শিশ্ন। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা বলাই। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বৈঠা। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা আঁচল, খুঁটি, গাছ, দৈত্য, লাঠি হাত। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অনস্থী, আঙ্গুল, কর্ণ, জগাই, জনক, বিম্বল শুক্রাচার্য এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, বামন, মরা শ্রীচরণ। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত মন্ত্রবলাই প্রভৃতি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তারই ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক আত্মতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
চরণ (বাপৌউ)বি পদ, পা, পদচিহ্ন, পদাংক, পদক্ষেপ, পায়ের ছাপ, leg, ‘قدم’ (ক্বদিমা) (আপ্রশ) শিশ্ন, বাঁড়া, মেঢ়্র, হোল, penis, জকর (.ﺬﻜﺭ) (আঞ্চ) সোনা, পোতা, ধন (শ্ববি) বলাই, কামদেব, নারদ, বিম্বল, মদন, মন্মথ, মহাদেব, মাধব, রাবণ, লাঠি, শিব, হাত, পা, গাছ, রশি (ইদে) আসা (.ﻋَﺼَﺎ), জাকারিয়া (.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (.ﺸﻤﺭ), হাবিল (.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইংপ) finger (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শিশ্ন পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণভাবে সর্বপ্রকার পদকে চরণ বলা হয় . শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে চরণ বলা হয় (বাপৌছ) কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা ও শ্রীচরণ (বাপৌচা) অনস্থী, আঙ্গুল, কর্ণ, জগাই, জনক, বিম্বল ও শুক্রাচার্য (বাপৌউ) আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, দৈত্য, লাঠি ও হাত (বাপৌরূ) বৈঠা (বাপৌমূ) বলাই।

চরণের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of leg)
১.   “অহল্যা পাষাণী ছিল, তোমার চরণধুলায় মানবী হলো, লালন পথে পড়ে রইল, যা করেন সাঁই দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬/৪)
২.   “আমারে কী রাখবেন গুরু চরণদাসী, ইতরপনা কার্য আমার অহর্নিশি।” (পবিত্র লালন- ১৪৩/১)
৩.   “আর আমারে মারিস না মা, বলি মা তোর চরণ ধরে, ননি চুরি আর করব না।” (পবিত্র লালন- ১৬৫/১)
৪.   “কেউ সাধুর চরণ ধরে- বসে থাকবে বাম ধারে, হাজার বছরের পরে- শান্ত হবে অগ্নিবান- দয়ালের দরশন পেলে- তারাই যাবে গুরুকুলে, বাঁশী সব আগুনে জ্বলে, বলন কয় দিবে প্রাণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৬)
৫.   “বিরজা ফল্গু গয়াধামে, ভক্তি দাও মার চরণ-কোণে, নিরীক্ষ রেখে নয়নে- বৃন্দাবন আর কৈলাশটিলে, মাকে রাখো আদ্যামূলে, মা জননী সাতরাজার সমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)
৬.   “মা করে লালনপালন মা মারে সন্তানের প্রাণ, প্রণাম জননীর চরণে প্রণাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)
৭.   “মুর্শিদের চরণ-সুধা, পান করলে হরে ক্ষুধা, করো না মন দিলে দ্বিধা, যে মুর্শিদ সে-ই তো খোদা, বুঝ ‘অলিয়াম মুর্শিদা, আয়াত লিখে কুরানেতে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৯/২)(মুখ; মুর্শিদ বিনা কী ধন আর, আছেরে মন এ জগতে, যে নাম স্মরণে তাপিত অঙ্গ শীতল করে, ভববন্ধন জ্বালা যায়রে দূরে, জপ ঐ নাম দিবারাতে।”)

চরণের সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of leg)
১.   “অটল-রূপের সরোবর, শ্রীরূপ সে ঘাটের ঘেটেলা, যাও যদি মন সে শহরে, মায়ের চরণ ধরো এ বেলা।” (পবিত্র লালন- ৪৭/১)
২.   “আজ বুঝি গোচারণ খেলা, খেললি না রে নন্দলালা, লালন বলে চরণখেলা, তলায় পাই না বুঝি ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৩৫২/৪)
৩.   “একদিন চরণ থেমেছিল, তাইতো; মন্দাকিনী হলো, পাপহরা সুশীতল, সে মধুর চরণখানি।” (পবিত্র লালন- ৪৫০/২)
৪.   “কিসে ত্রাণ পাবি সংকটে, বৈতরণীর তটে, গুরুর চরণতরী তারণ করবে, অকপটে।” (পবিত্র লালন- ২৯৬/১)
৫.   “কৃষ্ণ ছিল গৌরবরণ, তার বুকে কালীর চরণ, সোনাবরণ লক্ষ্মী ঠাকুরাণী, বিষ্ণুর চরণ টিপতেছে।” (পবিত্র লালন- ২৯১/২)
৬.   “গরিব নেওয়াজ মু’ইনুদ্দিন, আব্দুলক্বাদির মু’হিউদ্দিন, শাহজালাল শাহপরাণ, সবাই নেয় তার চরণধূল।” (পবিত্র লালন- ৮০২/৩)
৭.   “গুরুরূপ যে ধ্যানে রয়, কী করবে তারে শমন রায়, নেচে গেয়ে ভব পারে যায়, সে গুরুর চরণতরীতে।” (পবিত্র লালন- ২৩৯/২)
৮.   “কোন চরণ এ দিনহীনকে দিবে, দুটি চরণ বৈ নয়, আছে শতভক্তের হৃদয়, দয়াময় আমার ভাগ্যে কী হবে।” (পবিত্র লালন- ৩৫৮/১)
৯.   “দেখা শোনা বলা বারণ, বন্ধ রাখা পাণি চরণ, পঞ্চচিহ্ন বলে বলন, গোপন কালিমা বলে তাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮০)
১০. “নবির চরণ রেখো স্মরণ, পাবে হাক্বিক্বতের জ্ঞান, লালন বলে এলো শমন, মিযান খাড়া সামনে।” (পবিত্র লালন- ৭৩৫/৪)
১১.  “নিধুবনে খেলব পাশা বুকে বুক মিশাইয়া, প্রেমাগুন নিবারণ করব আলিঙ্গন করিয়া, তোমার চরণ করব ভজন, মাথার কেশে মুছিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১২.  “বসুমতি লীলাবতী মাগো ছাঁয়া দে মা চরণতলে, গোষ্ঠ খেলে কষ্ট পেয়ে মরিমরি দুষ্ট ছেলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০১)
১৩. “ভেবে বলে সাধক বলন, আগে চেন আপন চরণ, হবে না রে অকালে মরণ, পাকা গুরুর সঙ্গ ধরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১)
১৪. “যারে নিজশক্তিতে গঠল নারায়ণ, আবার গুরু বলে ভজলেন তার চরণ, একি ব্যবহার- শুনতে চমৎকার, জীবের বুঝা ভার ভূমণ্ডলে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/২)
১৫. “যে ভাবে সব গোপীনিরা, হয়েছিল পাগলপারা, চরণ চেনে তেমনি ধারা, ভাব দিতে হবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৫/৩)
১৬.  “লালন সাঁইজি ভেবে বলে, শিষ্য হওয়া বড় দায়, তিনমনকে একমন করে, ঐ চরণে সাধন করতে হয়।” (পবিত্র লালন- ৪১৩/৪)
১৭. “লীলা দেখে কম্পিত ব্রজধাম, রাধার মান ঘুচাতে যোগী হলেন শ্যাম, দুর্জয় মানের দায়- বাঁকা শ্যামরায়, নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৩)
১৮. “সুধার কথা লোকে বলছে, গুরুর কাছে খবর আছে, জানগা উদ্দিশে, সুধানিধি দেখতে পাবি, ভক্তি দিলে ঐ চরণে।” (পবিত্র লালন- ৪০৪/২)

নৈকট্য অর্থে চরণপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology leg sense for contiguity)
১.   “আমায় চরণ ছাড়া করো না, হে দয়াল হরি, পাপ করি পামরা বটে, দোষ দিই তোমারি।” (পবিত্র লালন- ১২২/১)
২.   “আমি আমি কে বলে মন, যে জানে তার চরণ শরণ, লও না, পড়লে পরে বেদের গোলেরে, হবি চোখ থাকতে কানা।” (পবিত্র লালন- ২৫৭/৪)(মুখ; ও যার আপন খবর আপনার হয় না।”)
৩.   “আমি বসে আছি আশাসিন্ধু কুলেতে সদাই, কবে সাধুর চরণধূলি লাগবে গায়।” (পবিত্র লালন- ১৫৪/১)
৪.   “আশাসিন্ধু তীরে বসে আছি সদাই, কবে সাধুর চরণধূলি, মোর লাগবে গায়।” (পবিত্র লালন- ১৮৩/১)
৫.   “কেন ডুবলি না মন, গুরুর চরণে, এসে কালশমন বাঁধবে কোন্ দিনে।” (পবিত্র লালন- ৩৩৪/১)
৬.   “গুরুর চরণ অমূল্য-ধন, বাঁধ ভক্তিরসে, মানবজীবন সফল হয়, গুরুর উপদেশে।” (পবিত্র লালন- ৪০৭/১)
৭.   “গুরু সুভাব দাও আমার মনে, তোমার চরণ যেন ভুলিনে।” (পবিত্র লালন- ৪১৫/১)
৮.   “তুমি দাতার শিরোমণি, আমি চাতক অভাগিনী, তোমায় ভিন্ন আর না জানি, রেখ চরণে।” (পবিত্র লালন- ৪৪১/৩)(মুখ; চাতক বাঁচে কেমনে, মেঘের বরিষণ বিনে”)
৯.   “দয়াল নিতাই কাউরে, ফেলে যাবে না, চরণ ছেড়ো না রে ছেড়ো না।” (পবিত্র লালন- ৫১৪/১)
১০. “দৃঢ় বিশ্বাস করেরে মন, ধরো নিতাই চাঁদের চরণ, পার হবি পার হবি তুফান, অপারে কেউ থাকবে না।” (পবিত্র লালন- ৫১৪/২)
১১.  “লালন বিনয় করে সিরাজ সাঁইজির পায়, স্বামী মারলে নালিস করিব কোথায়, স্বামী মোর প্রাণপতি- কী দিয়ে রাখব রতী, কেমনে হব সতী, চরণে।” (পবিত্র লালন- ২৬০/৪)(মুখ; করি মানা কাম ছাড়ে না মদনে।”)
১২.  “লালন সাঁইজি বলেরে মন, হলো না মোর সাধন-ভজন, ভুলে সিরাজ সাঁইজির চরণ, মানবজনম বৃথা গেল।” (পবিত্র লালন- ৯৯৪/৪)(মুখ; হায়রে বিধি ওরে বিধি, তোর মনে কী এটাই ছিল, সমুদ্রের কিনারে থেকে, জল বিনা চাতকী মরল।”)
১৩. “শুনেছি সাধুর করুণা, সাধুর চরণ পরশিলে হয় গো সোনা, আমার ভাগ্যে বুঝি তাও হলো না, ফকির লালন কেঁদে কয়।” (পবিত্র লালন- ১৫৪/৪)
১৪. “সাধু পেলে চরণ ধরে, অমূল্য-ধন বিক্রি করে, ঘর বাঁন্ধ গিয়ে ঢাকায়, (তেতলা) মালখানাটা নিলামেতে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯১)
১৫. “সাধুর চরণ ভজব বলেরে, আমার জনম হলো অবসান, ঐ আশায় আশায় জনম গেল, হলো না সন্ধান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯২)

———————————————————–

১.   “অদৃষ্ট সাধন করা, যেমন আন্ধার ঘরে সর্প ধরা, লালন বলে ভাবুক যারা, প্রেম জ্যোতিতে চরণ পাবে।” (পবিত্র লালন- ৭১৯/৪)
২.   “অধীন লালনের নিবেদন, ধরি সিরাজ সাঁইজির চরণ, শমন এড়াবে শান্তি পাবে, পাপপথে করবে না গমন।” (পবিত্র লালন- ৪৭২/৫)
৩.   “অহল্যা পাষাণী ছিল, সেও তো মানবী হলো, তোমার চরণধূলে, আমি তোমার কেউ নয় গো, তাই কী মনে ভাবলে।” (পবিত্র লালন- ৪১৭/৩)
৪.   “আগে সাধুর চরণ ধর, আগ-বাজারে সদাই কর, পারাপারে সদাই মর, তবুও; তোর হুঁশ হলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭২)
৫.   “আত্মতত্ত্ব জানবিরে মন, গুরুর চরণ করগে ভজন, লালন সাঁইজি করছে বারণ, কারো ধোঁকায় পড়ো না।” (পবিত্র লালন- ৮৩৭/৪)
৬.   “আপন পাপ স্বীকার করি, সিরাজ সাঁইজির চরণ ধরি, লালন বলে পুণ্য পাবে স্বর্গে যাবে, এর বেশি কী ভাবো।” (পবিত্র লালন- ৭১৫/৪)
৭.   “আমায় কর গো গোঁসাই তোমার দাসের অনুদাস, স্থান যেন পাই চরণ-কোণে মনের অভিলাষ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭)
৮.   “আমি বলি তোরেরে মন, গুরুর চরণ কররে ভজন, গুরুর চরণ পরমরতন কররে সাধন।” (পবিত্র লালন- ১৫৩/১)
৯.   “আর কতকাল আমায় কাঁদাবি ও রাই-কিশোরী, আমি তো অনুগত তোর চরণ ভিখারী।” (পবিত্র লালন- ১৬৬/১)
১০. “ইরফানির আদেখা ত্বরিক্ব, দায়িমী বজরক্বে নিরীক্ষ, সিরাজ সাঁইজির চরণ, ভেবে কয় ফকির লালন, দায়িমী নামাজী যেজন, শমন তারও আজ্ঞাকারী।” (পবিত্র লালন- ৬১৩/৪)
১১.  “একে-শূন্যে বেঁন্ধে ভেলা, করছে সাঁই লীলাখেলা, বসে জানগে ভেদ নিরালা, গুরুর চরণ পণ করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৯)
১২.  “একের জুতে তিনটি লক্ষণ, তিনের ঘরে আছেরে ধন, ত্বরিক্বের মঞ্জিলে জানতে পাবে, সাঁইজি সিরাজের হক্বের চরণ, ভেবে কয় ফকির লালন, কথায় কী হয় আচরণ, খাঁটি হও মন দিনের ভাবে।” (পবিত্র লালন- ৫৩১/৩)
১৩. “এবার গুরুর রূপে নয়ন দিয়ে, নিরীক্ষ পানে থাক গে চেয়ে, মানুষ-জনম সফল করতে, পড়ে থাক চরণতলে।” (পবিত্র লালন- ৮১/৩)
১৪. “ও রাই তোর জন্য গোলক ছেড়েছি, সব ছেড়ে মানবরূপ ধরেছি, আর কী আছেরে বাকি, এ ভাব করে স্মরণ- তুমি দাও চরণ, তাপিত মন শীতল করি।” (পবিত্র লালন- ১৬৬/২)
১৫. “কতদিন আর রইবি রঙ্গে, গুরুর চরণ ধরো এ বেলা, যদি বাঁচতে চাও তরঙ্গে।” (পবিত্র লালন- ২৬২/১)
১৬.  “কতদিন পরে গোষ্ঠে এসে বনে, কালোফুল নিতে এসে রণে, মাগো তোর চরণ বিহনে, যাই বুঝি গো রসাতলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০১)
১৭. “কোন প্রেমে সে দিন দয়াময়, নারীর চরণ নিলেন মাথায়, একি লীলা চমৎকার- বুঝা হলো ভার, অধীন লালন তাই বলে।” (পবিত্র লালন- ২০৯/৩)
১৮. “গয়া কাশী বৃন্দাবনে, হরি পেলে কেউ ফিরত না রে, গির্জাগৃহে গড পেলে, খ্রিস্টানেরা ভুলত না রে, লালন বলে থাকলে গুরুর চরণতলে, পাবিরে নিরঞ্জন।” (পবিত্র লালন- ১০৩/৩)
১৯.  “গুরু আমার দয়ালনিধি, গুরু আমার বিষয়াদি, পারে যেতে ভবনদী, ভরসা তোমার চরণখানা।” (পবিত্র লালন- ৫২০/২)
২০. “গুরুজি ভজনের মূল, তার চরণ করে ভুল, লালন কয় নামাকুল, ধায় কেন গয়া-কাশী।” (পবিত্র লালন- ৮১০/৪)
২১.  “গুরু ধরে জ্যান্ত মরে, বসাও গুরু হৃদমন্দিরে, সিরাজ সাঁইয়ের চরণ ভুলে, লালন মিছে বেড়াও ঘুরে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/৪)
২২. “গুরুর চরণ কর ভজন, নিজকে নিজে কর লালন, থাকবে না জাত প্রকরণ, বলন হয় লালন হলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯৫)
২৩. “গুরুর চরণে না হলে মতি, দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয় কী, লালনের হলো করুণ গতি, শোধ হলো না ঋণ।” (পবিত্র লালন- ৫০৯/৪)
২৪. “গ্রন্থ পড়ে যায় না জানা, ভেদ জান্তে গ্রন্থ লাগে না, সাধুর চরণ করলে ভজনা, অনায়াসে সে ভেদ মিলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৫)
২৫. “জলে গেলে হরি পায়, কাছিম সেতো মন্দ নয়, তবে কেন সাধতে হয়, হয়ে চরণদাসী।” (পবিত্র লালন- ৮১০/৩)
২৬. “জাত বিজাতের গোলকধাঁধায়, পাইয়া তারে আবার হারায়, ভুলিয়া রয় কত জনায়, গুরুদেবের চরণ বিনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)
২৭. “তারে আমি ভুলি কেমনে, দিয়েছি মন যে চরণে, যেদিকে ফিরি সে দিকে হেরি, ঐ রূপের মাধুরী দুই নয়নে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৫/১)
২৮. “তুমি রাধা তুমি কৃষ্ণ, মন্ত্রদাতা পরমইষ্ট, মন্ত্র দাও কানে, মন্ত্র দিতে সঁপে দিলে, সাধুগুরু বৈষ্ণব গোঁসাইর চরণে।” (পবিত্র লালন- ২৬৮/২)
২৯. “থেকে সাধুর চরণতলে, তোর স্থুল-জ্ঞান সূক্ষ্ম হলে, পরকাল পাবি ইহকালে, বলন কয় ভেদখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৩)
৩০. “দয়ালের বন্দনা, আমার গুরুর বন্দনা, ত্রিধারা নিদানে অধম, পাই যেন চরণখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯০)
৩১. “দয়া করে অধমেরে, জানাও নবির দিন, তুমি দয়া না করলে, হয় না চরণ এক্বিন।” (পবিত্র লালন- ৫০৯/১)
৩২. “দয়াল অপরাধ মার্জনা করো এবার, আমি নিয়েছি তোমার চরণের ভার।” (পবিত্র লালন- ৫১০/১)
৩৩. “দিন গেলে দিন কী পাবি, পড়ে রবে বিষয় সবি, সাধুর সঙ্গ কবে নিবি, চরণ পরশে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩৪. “দেবের দুঃসাধ্য পদে সে, সাধু নাম যার সত্যে ভাসে, পতিতপাবনী- গঙ্গাজননী, সাধুর চরণ সেও তো বাঞ্ছা করে।” (পবিত্র লালন- ১৭০/৩)
৩৫. “নীরাকার হলে নিরঞ্জন, করবে সে সাঁই ভোজনা, বিনয় করে বলে বলন, ভজ সাধুর চরণখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৮)
৩৬. “পাইতে সে অমূল্যরতন, ভজ গিয়া গুরুর চরণ, ভাবিয়া কয় কাঁইজি বলন, পাবিরে ধনের খনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৩)
৩৭. “পুনঃপুন জনম নিলে, কিভাবেতে মুক্তি মিলে, বলন কয় সাধুর চরণতলে, জনম রোধ কর ধারণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১০)
৩৮. “পেতে পরম বন্ধুর দরশন, ভজ পাকাগুরু চরণ, প্রাণ বন্ধু কর বরণ, থাক তার অঙ্গেতে মিশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৪)
৩৯. “বলন কাঁইজি ভেবে বলে, চেনে সে চোর ধরিলে, থেকে সাধু চরণতলে, আপনজনা চেনা যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৩)
৪০. “বলি গো সাঁই চরণ ধরি, পার করো এ পাপীতরী, বলন কয় বিনয় করি, জুড়াও পাপীর পরানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)
৪১. “বসতবাড়ি নাই ভুবনে, ভেসে রয় সে মহাশূন্যে, সাধু গুরুর চরণ ভিন্নে, মিলে না তার খবর।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৪২. “ভক্তি নইলে কী মন, গুরুর চরণ হয় শরণ, ভেবে কয় অধীন লালন, কেমনে শোধব গুরুঋণ।” (পবিত্র লালন- ৪৯৪/৪)
৪৩. “ভজলে গুরুর চরণ, রাসুল-রূপের হয় নিরূপণ, অজান-মানুষের করণ, সে-ই জানতে পায়।” (পবিত্র লালন- ৯৭১/৩)
৪৪. “ভজে সাধুর চরণখানা, পরকালের কর ঠিকানা, সাধুশাস্ত্রে কইতে মানা, শিষ্য বিনা অন্যের কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৩)
৪৫. “ভবপারে যাবি কেরে, গুরুর চরণ শরণ কর আগে, পিতৃধন তোর গেল চোরে, পারে যাবি কোন রাগে।” (পবিত্র লালন- ৭১৩/১)
৪৬. “ভাবছি বসে নদীর কূলে, কী যেন হয় মোর কপালে, ভীষণ যন্ত্রণা পারেরে, লালন বলে ওরে গোপাল, গুরুর চরণ খানা ছেড় না।” (পবিত্র লালন- ১৪১/৪)
৪৭. “মন এখনও লও নবি চেনে, মনেতে মন মিশিয়ে থেকো নবির চরণে।” (পবিত্র লালন- ৭৩৫/১)
৪৮. “মন তুমি গুরুর চরণ ভুলো না, গুরু বিনা এ ভুবনে, পারে যাওয়া যাবে না।” (পবিত্র লালন- ৭৪২/১)
৪৯. “মায়াতে মত্ত হলে, গুরুর চরণ না চিনলে, সত্যপথ হারালে, সব খুয়াবি গুরুবস্তু ধন।” (পবিত্র লালন- ১৫৩/২)
৫০. “মা’শুক্বরূপ হৃদয়ে রেখে, থাকে সে পরমসুখে, শতশত স্বর্গ দেখে, মা’শুক্বের চরণে ধরা।” (পবিত্র লালন- ১৮৫/৩)
৫১. “মিষ্টি পানি খাবিরে মন, ভজো বসে সাধুর চরণ, বলন কাঁইজি করে বারণ, কুতর্কে করিসনে খেলা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪২)
৫২. “যাবি যদি ঊর্ধ্বগমনে (মি’রাজ) গমনে, সাধুর চরণ করগে ভজন, গোপনে নিরজনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৭)
৫৩. “যাবি যদি সেই রতীরণে, ভজ সাধুর চরণ-কোণে, দৃঢ় বিশ্বাস রেখে মনে, সহজে পার হয়ে যাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৮)
৫৪. “যে পেয়েছে বলন জ্যোতি, ভবে নাইরে তার দুর্গতি, জগৎজুড়া অঢেল ক্ষ্যাতি, সবাই ভজে তার চরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯৬)
৫৫. “রাধার কথা কী বলবো মা, তার গুণের নাই সীমা, মুনি ঋষি ধ্যানীজ্ঞানী, না পেল তার চরণকমলে।” (পবিত্র লালন- ৮৮১/২)
৫৬. “রূপা বলে গিয়েছিলাম, কত রাঙ দেখে এলাম, সত্য সত্য বলে গেলাম, কুমির রয়েছে গভীর ধারে, গুরুর চরণ হৃদয়ে রেখে, ঝাঁপ দিলাম দরিয়াতে, লালন পড়ে রইল তাতে, গুরুর বচন ধরে।” (পবিত্র লালন- ২৫০/৪)
৫৭. “লালন কয় চিন্তা করে, শোনরে মন বলি তোরে, কী করবে মান গুমারে, মন সঁপেছি ফটিক-চাঁদের চরণে।” (পবিত্র লালন- ৫২২/৪)
৫৮. “লালন বলে কাননবালা, কাঁধে নিব নেছড়া ঝোলা, সিরাজ সাঁইজির চরণ বিনারে, আমার অন্য আশা নাই।” (পবিত্র লালন- ৮১৮/৪)
৫৯. “লালন সাঁইজি বলে, মুর্শিদের চরণ ভজলে, সিনার ভেদ দিবে খুলে, আসমানি কিতাবে কয়।” (পবিত্র লালন- ৫১৯/৪)
৬০. “শাক্ততত্ত্ব সাধন করে, পেত যদি সে চাঁদেরে, বৈরাগীরা জেনেশুনে- আঁচলা গুদড়ি টানে, কুলের বার হয় চরণ বাঞ্ছায়।” (পবিত্র লালন- ২৯৪/২)
৬১.  “শোলা যেমন জলে ডুবে না, মরা তেমন আর মরে না, এসব কথা জানতে মনা, সাধকগুরুর চরণ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৬২. “সঠিক পরিমাপ চিনতে হলে, থাকো সাধুর চরণতলে, জাত মারিলে শান্তি মিলে, বিশ্বময় ও ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৪)
৬৩. “সাঁতার শিখে ডুবরে মন, সমুদ্রে ভাসো কলাগাছের মতন, লালন কয়রে মন, গুরুর চরণ সার কর।” (পবিত্র লালন- ৫৩৩/৪)
৬৪. “সাড়ে সাত পান্তি পথের মুড়া, আটপান্তি আদ্যমূল গোড়া, সিরাজ সাঁইজির চরণ– ভুলে লালন, অঘাটেতে মারা যাচ্ছ কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৭০৭/৪)
৬৫. “সাধুর চরণ করে ভজন, নিত্যকর্ম করে সারা, পাড়ি ধরে- অথৈ পারাপারে, তারা ধরে অধর ধরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৪)
৬৬. “সাধুর চরণ পরশিলে, অমৃতসুধার গুদাম মিলে, একবিন্দু পান করিলে, জন্ম-মরণ রহে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৭)
৬৭. “সাধুর চরণ পরশিলে, সত্তর হাজার পর্দা খুলে, সাঁই আসে সাধুর নাগালে, বলন কয় ভেদখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৩)
৬৮. “সাধু পেলে চরণ ধর, অমূল্য-ধন রক্ষা কর, মর মরার আগে মর, ছাড় কুল জাতির বড়াই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)।৬৯. “সিরাজ সাঁইজির প্রেমধন, করবি যদি বিতরণ, ধর লালন তাঁর চরণ, সঁপে প্রাণ মন।” (পবিত্র লালন- ৬৩৯/৫)

পা অর্থে চরণপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology leg sense for foot)
১.   “এক সুন্দরী বিশ্ব পরে বেশ্যা রূপে ঘুরেফিরে, বলো সে সুন্দরীর কী নাম, গুরুর চরণে প্রণাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৫)
২.   “ছেলের চক্ষু নাই বেশ দেখতে পায়, চরণ নাই হেঁটে বেড়ায়, যেথা সেথায়, হস্ত নাই বিমূর্তগুণে, আহা কী ক্ষমতা।” (পবিত্র লালন- ৫৫২/৩)।  (মুখ; ধড় নাই শুধুই মাথা, ছেলের মা রইল কোথা।”)
৩.   “হাঁটতে মানা আছে চরণ, মুখ আছে তার খেতে বারণ, ফকির লালন কয় এ যে কঠিন মরণ, তা কী পারবি তোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৭/৩)(মুখ; জ্যান্ত মরা প্রেমসাধন কী পারবি তোরা, যে প্রেমে কিশোরকিশোরী, হয়েছে পাগলপারা।”)

——————————————————————————–

১.   “চক্ষু কর্ণ করো সংবরণ, বন্ধ রাখ পাণি চরণ, পঞ্চচিহ্ন বলে বলন, গোপন চিহ্ন বলে তাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮০)
২.   “তুমি হে জগৎকাণ্ডারী, ডাকি তোমায় চরণ ধরি, দয়াল তুমি তরাইলে তরি, বলন কয় ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১)
৩.   “বন্দি যত জ্ঞানীর চরণ, যত আছেন সাধু মহাজন (গো), দূরে কাছের ভাই বন্ধুগণ, বন্দিলাম সবজনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯০)
৪.   “বলন কাঁইজির দেহ বন্দি, অদ্য গীতির আসর বন্দি (গো), সহযোগীর চরণ বন্দি, বন্দিলাম যন্ত্রখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯০)

সাঁইদর্শন অর্থে চরণপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology leg sense for Godfind)
১.   “আপনারে চিনতাম যদি, মিলত অটল চরণনিধি, মানুষের করণ হতো সিদ্ধি, শুনি আগম পুরাণে।” (পবিত্র লালন- ১১৬/২)(মুখ; আপনারে আপনি চেনে নে”)
২.   “এসো হে অপারের কাণ্ডারী, আমি পড়েছি অকূল পাথারে, এসে দাও আমায় চরণতরী।” (পবিত্র লালন- ২৩৫/১)
৩.   “কবে হবে সজল বরষা, রেখেছি মন সে ভরসা, আমার এ ভগ্নদশা, যাবে কতদিন পরে, এবার যদি না পাই চরণ, আবার কী পড়ি ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৮৬০/২)(মুখ; রাখলেন সাঁই কূপজল করে, আন্ধেলা পুকুরে।”)
৪.   “কার দোষ দিব এ ভুবনে, হীন হয়েছি ভজন বিনে, লালন বলে কতদিনে, পাব সাঁইয়ের চরণখানি।” (পবিত্র লালন- ২১৬/৪)(মুখ; এ দেশেতে এ সুখ হলো”)
৫.   “কোথায় রইলে হে, অপারের কাণ্ডারী, এ ভবতরঙ্গে আমায়, দাও হে চরণতরী।” (পবিত্র লালন- ৩৫৪/১)
৬.   “গঙ্গা মা ঐ ডাকে শুনি, সঙ্গে তাহার নারদমুনি, পরশিব চরণখানি, গঙ্গা স্নানের নিশিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৬)
৭.   “চরণ পাই যেন অন্তিমকালে, আমায় ফেলো না নরাধম বলে।” (পবিত্র লালন- ৪৩২/১)
৮.   “জগৎ ভক্তিতে ভুলালে সাঁই, ভক্তিপদ দাও হে আমায়, যাতে চরণ পাই।” (পবিত্র লালন- ৪৫৫/১)
৯.   “জন্মান্ধ আমার নয়ন, গুরু তুমি করো সচেতন, চরণ দেখবে অধীন লালন, জ্ঞানাঞ্জন দাও নয়নে।” (পবিত্র লালন- ৪১৩/৪)(মুখ; গুরু সুভাব দাও আমার মনে, তোমার চরণ যেন ভুলিনে।”)
১০. “ধর সুজন রঙ্গিলার চরণ আমার অবোধ মন, আড় নয়নে কাছে ডাকে রঙ্গিলা সোনার বরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৮)
১১.  “ভজে শুদ্ধ ঈশ্বরের চরণা, তাই সে বেদ মানে না, লালন কয় প্রেম-উপাসনা, করো দেখি কী দোষ তাতে।” (পবিত্র লালন- ২২০/৪)(মুখ; এনেছে এক নবীন আইন নদীয়াতে, বেদ পুরাণ সব দিচ্ছে দোষে, সে আইনের বিচার মতে।”)
১২.  “মনের-মানুষ চিনলাম না রে, পেতাম যদি মনের-মানুষ, সাধতাম তার চরণ ধরে।” (পবিত্র লালন- ৭৫৯/১)
১৩. “যদি উজান বাঁকে তুলসি ধায়, খাঁটি তার পূজা বটে, চরণচাঁদ পায়।” (পবিত্র লালন- ৮০৭/১)।
১৪. “যাত্রা ভঙ্গ যার সনে, সে বানর হনুমানে, নিষ্ঠাবান রামচরণে, সাধুর খাতায় তার সুখ্যাতি।” (পবিত্র লালন- ৩১৮/৩)(মুখ; কী হয় যেন আমার গতি, এত জেনে এত শুনে, ঠিক হয় না মনের মতি।”)

——————————————————————————–

১.   “আয় নাগরী দেখগে তোরা, নবরসের নবগোরা, কিরূপ সোনার ছবি দেখলে মন জুড়ায়, লালন বলে অন্তিমকালে, চরণ দিবেন দয়াল সাঁই।” (পবিত্র লালন- ৯৬১/৪)
২.   “আমি চরণ পাব কোন্ দিনে, ঘাটে ঘাটে পথে পথে, কাঁদছি তোমার জন্যে।” (পবিত্র লালন- ১৫১/১)
৩.   “আমি রায় ক্ষীরোদ রসে, ভক্তির পরীক্ষা দিলে, পায় অনায়াসে, লালন অপদার্থ সে, চরণ ভিক্ষা করে এসে।” (পবিত্র লালন- ৫৯৫/৫)
৪.   “ঐ চরণ পাবার আশী, ফিরি তোমার দাসের দাসী, লালন কয় আমি অধম, কুল পাব কোন দিনে।” (পবিত্র লালন- ১৫১/৩)
৫.   “ও দয়াল গুরু রতন, কাঙ্গালেরে দিও গো চরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৫)
৬.   “করে তোর চরণের আশা, ঘটল আমার এ দুর্দশা, সার হলো যাওয়া আসা, কিনার পেলাম না।” (পবিত্র লালন- ৯৩১/৩)
৭.   “কাষ্ঠ লোহা হয়রে সোনা দয়াল গুরুর পরশে, আর কত জনম ঘুরব গুরুর চরণের আশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭১)
৮.   “গয়া কাশী বৃন্দাবনে- উদয় হয়রে কত নামে, যে যায় মক্কা মদিনে- নিতে তারই চরণধুলা– সপ্ততল পাতালে গিয়ে- লুকায় সেথা নীর হয়ে, বাতাস রূপে দ্বিদ্বারে- চালায় তার অবলীলা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)
৯.   “চরণধনের যার আশা, অন্য ধনের নাই লালসা, লালন ভেড়ে বুদ্ধি নাশা, দো’আশা ভাবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৭/৫)
১০. “ডুবাও ভাসাও হাত তোমার, তুমি বিনা কেউ নাই আমার, লালন কয় দোহাই তোমার, চরণে নিও তরী।” (পবিত্র লালন- ৩৫৫/৪)
১১.  “তুমি দয়া না’ই করিলে, দয়াল নাম যায় বিফলে, বলন কয় অন্তিমকালে, ঐ চরণ যেন পাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬)
১২.  “দিন থাকতে গুরু ধরে, সাধন ভজন কর গো তোরা, ফকির লালন বলে সাঁই চরণের, ভেদ পাবা না গুরু ছাড়া।” (পবিত্র লালন- ২৫২/৪)
১৩. “দেবের দুর্লভ গোপাল, চিনলে যারে ফিরে কপাল, যে চরণ আশায়- শ্মশানবাসী হয়, দেবাধিদেব পঞ্চাননে।” (পবিত্র লালন- ৪২১/২)
১৪. “নদেবাসীর ভাগ্যে ছিল, গৌর হেরে মুক্তি পেল, অবোধ লালন ফেরে পড়ল, না পেয়ে সে চরণখানি।” (পবিত্র লালন- ৬৭১/৪)
১৫. “নিজগুণে দিয়ে চরণ, পাপীতাপী করো তারণ, পতিতকে উদ্ধারের কারণ, পতিতপাবন নামটি তোমার।” (পবিত্র লালন- ৫১০/২)
১৬.  “নিষ্কামী নির্বিকার হয়ে, যে থাকবে সে চরণ চেয়ে, শ্রীরূপ এসে তারে লয়ে, যাবে রূপের দ্বারায়।” (পবিত্র লালন- ৭০০/৩)
১৭. “পাইলে আমার জীবনে- ভজতাম চরণ যতনে, সুজন বুঝি থাকে নিধুবনে- তার জন্য উদাসী হব- তারে বিনা প্রাণ ত্যেজিব, আমি আর আমার নই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬২)
১৮. “বলন বলে পড়ে জালে শেষকালে তোমার দেখা চাই, তুমি বিনা নিদানে ত্রিবেণে এ অধীনের কাণ্ডারী নাই, সাঁইয়ের চরণ বিনা কেমনে, পাড়ি দিব ত্রিমোহনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৩)
১৯.  “বালক বৃদ্ধ যুবাদি, তারা নিরানন্দ নিরবধি, তারা না দেখে চরণনিধি, তোর ওরে।” (পবিত্র লালন- ২৭২/৩)
২০. “বিনা জলে হয় চরণামৃত, যা পান করলে যায় জরা-মৃত, লালন বলে চেতনগুরুর সঙ্গ নিলে, সোজা দেখিয়ে দেয়।” (পবিত্র লালন- ৯১৬/৪)
২১.  “বিষয় মোহ ছেড়ে কবে, মন আমার শান্ত হবে, কবে সে চরণ– করব শরণ, যাতে শীতল হয় তাপিত পরানি।” (পবিত্র লালন- ৬৯৭/২)
২২. “ভজবি যদি মানুষের চরণ, মক্কাতে কেন করো গমন, যা ইচ্ছা তাই করো এখন, এ জনম যে আর পাবি না।” (পবিত্র লালন- ৫২৫/২)
২৩. “ভাব জেনে ভাব না দিলে তখন, বৃথা যাবে সে ভক্তি ভজন, বাঞ্ছা যদি হয় চরণ, ভাব দে না সেভাবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৫/২)
২৪. “মহাভারত পুরাণে শুনি, পতিতপাবন নামের ধ্বনি, লালন বলে সত্য জানি, আমারে চরণ দিলে।” (পবিত্র লালন- ৪৩২/৪)
২৫. “যার জন্য আজ মুড়িয়েছি মাথা, তারে পেলে যায় মনের ব্যথা, কী সাধনে কোন পূজায়, সে চরণে পাব ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৭০৪/৩)
২৬. “যুগ যুগান্তর যোগী ঋষি, হয়েছে সব বনবাসী, পাব বলে ঐ চরণশশী, তপ করে তরু তলে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৮/২)
২৭. “রস চেনে না অরসিক যারা, লাফিয়ে ধরতে চাই অধর, যায় না চাঁদ ধরা- মিছে শ্রম করা, সে চাঁদের চরণ পাওয়া ভার।” (পবিত্র লালন- ২৩০/২)
২৮. “লালন কয় ভারে ঠারে, শোনরে মন বলি তোরে, ঐ ভাব ছিল যার অন্তরে, সে সাঁইয়ের চরণ পেলে।” (পবিত্র লালন- ৮১/৪)
২৯. “শাক্ত শৈব্য বৈরাগ্য ভাব, তাতে যদি হয় চরণলাভ, তবে দয়াময়- কেন সর্বদায়, ভক্তি দায়ে দোষীবে তাই।” (পবিত্র লালন- ১৪৯/২)
৩০. “সমঝে ভবে করো সাধন, যাতে মিলে গুরুর চরণ, সিরাজ সাঁইজির বচন- শোন বলি লালন, এবার ছাড় সাধের জলসেচা।” (পবিত্র লালন- ৪৪৬/৪)
৩১. “সাধ্য কী মোর তোমায় বিনে, একা পাড়ি ধরব ত্রিবেণে, দিও দিও দিও চরণ, ঐ আশায় রইল বলন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৫)
৩২. “সালিকের বাহ্যপানা, মাজ্জুবি আশিক্ব দিওয়ানা, আশিক্বের মন করে ফানা, মা’শুক্ব বৈ আর জানে না, আশাঝুলি লয়ে সে না, মা’শুক্বের চরণ ভিখারী।” (পবিত্র লালন- ৬১৩/৩)
৩৩. “সিরাজ সাঁইজির চরণ ভুলে, অধীন লালন কেঁদে বলে, চরণ দিও অন্তিমকালে, আমায় ভুলো না।” (পবিত্র লালন- ৩৮৩/৪)
৩৪. “সিরাজ সাঁইজি বলে, সে মানুষ নিহার হলে, অন্তিমকালে পাবি লালন, সাঁইয়ের চরণখানা।” (পবিত্র লালন- ৮৭৭/৪)
৩৫. “স্থূল প্রবর্ত সাধন সিদ্ধি, আমার কোন দেশে নাই স্থিতি, লালন বলে উপায় কী, আমার কী হয় গতি, কোনগুণে সাঁইয়ের চরণ পাব।” (পবিত্র লালন- ৩৬৪/৩)

কাঁইদর্শন অর্থে চরণপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology leg sense for Lordfind)
১.   “ওরে ও ভাই কেলেসোনা, চরণে নুপুর দেনা, মাথায় মোহনচূড়া নেনা, ধড়া পর বংশীধারী।” (পবিত্র লালন- ৪২৫/৩)(মুখ; গোষ্ঠে চল হরি-মুরারী, লয়ে গোধন গোষ্ঠের কানন, চল গোকুল-বিহারী”)
২.   “কালাচাঁদকে হারিয়ে হলাম যোগিনী, দিবানিশি না জুড়ায় পরানি, লালন কয় কালার চরণ পেলাম না, এখন কেঁদে হবে কী।” (পবিত্র লালন- ৩২৪/৪)(মুখ; কৃষ্ণপ্রেমের পোড়াদেহ, কী দিয়ে জুড়াই গো সখী, কে বুঝবে অন্তরের ব্যথা, কে মুছবে আঁখি”)
৩.   “চাতক প্রায় অহর্নিশি, চেয়ে থাকে কালোশশী, হব বলে চরণদাসী, ও তা হয় না কপাল গুণে।” (পবিত্র লালন- ৭৯১/২)(মুখ; মিলন হব কত দিনে, আমার মনেরমানুষের সনে”)
৪.   “বিনোদবেণী সাজিয়ে মনে, কুলভুষণ নে খুলে নে, বিষ্ণু গমন- কৃষ্ণ দরশন, ভক্তি মিলবে চরণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৭)
৫.   “মায়াবী এ ভ্রমের উত্তরণ, কবে করবি তাই ভাবে বলন, কবে পাবি কাঁইয়ের চরণ, কোন সাধনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৬.   “যে করবে কালার চরণের আশা, জানো না রে মন তার কী দুর্দশা, ভক্তবলি রাজা ছিল- সর্বস্ব তার নিলো, বামন রূপে প্রভু করে ছলনা।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/২)(মুখ; মন আমার গেল জানা, রবে না এ ধন, জীবন ও যৌবন।”)

————————————————————

১.   “কেমন করে আল্লাহ পাব তোমারে, ভজন সাধন জানি না চরণ দাও আমারে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৬/১)
২.   “তোরা যতসব সখীগণেতে, বর দে কৃষ্ণচরণ পাই যাতে, অধীন লালন ভেবে বলে, কৃষ্ণ লীলার অন্ত নাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৪/৪)

চরণের ওপর কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ বলন (Some full Bolon on the leg)

.                 বসুমতি লীলাবতী মাগো ছাঁয়া দে মা চরণতলে,
            গোষ্ঠ খেলে কষ্ট পেয়ে মরিমরি দুষ্ট ছেলে।

মায়াকানন কুসুমবাগে,
সাদা কালো দুই শশী জাগে,
বাছাধন কেষ্ট মাঙ্গে,
তোর দুয়ার দে খুলে।

কতদিন পরে গোষ্ঠে এসে বনে,
কালোফুল নিতে এসে রণে,
মাগো তোর চরণ বিহনে,
যাই বুঝি গো রসাতলে।

চরণ ধরে মিনতি করি,
একূল ওকূল দু’কূল ঘুরি,
আজ দে গো পারের কড়ি,
বলন কাঁইজিকে দয়া বলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০১)

.                 সাধুর চরণ ভজব বলেরে,
            আমার জনম হলো অবসান,
ঐ আশায় আশায় জনম গেল,
হলো না সন্ধান।

সাধুর চরণ পরশিলে,
অমূল্য-ধনের গুদাম মিলে,
মনের ফেরে গণ্ডগোলে,
হলাম শুধু অপমান।

পেলে পরে কাষ্ঠের ছোঁয়া,
সাগরে ভেঁসে যায়রে লোহা,
আর কখনও ডুবে না তা,
সদাই থাকে ভাসমান।

ছুঁইলে সাধুর চরণখানা,
পচালে ফলে কাঁচাসোনা,
বলন কয় পরশ বিনা,
হয় না কেউ মহিয়ান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯২)

চরণের ওপর কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ লালন (Some full Lalon on the leg)

.                 আমায় চরণ ছাড়া করো না
            হে দয়াল হরি,
পাপ করি পামরা বটে
দোষ দিই তোমারি।

অনিত্যসুখ গড়ে সর্ব ঠাঁই,
তাই দিয়ে জীব ভুলাও গো সাঁই,
চরণ দিতে কেন তবে,
করো চাতুরি।

চরণ পাবার যোগ্য আমি নই,
তবু মন রাঙাচরণ চায়,
দয়ালচাঁদের দয়া হলে,
যেত মনের বিমারি।

ক্ষম অধীন দাসের অপরাধ,
শীতলচরণ দাও হে দিননাথ,
লালন বলে ঘুরাইও না,
হে ক্ববুলকারী।” (পবিত্র লালন- ১২২)

.                 আমি ঐ চরণে দাসের যোগ্য নই,
            নইলে মোর দশা কী এমন হয়।

ভাব জানি না প্রেম জানি না,
দাসীরে চরণ ছাড়া করো না,
ভাব দিয়ে ভাব নিলে মনা,
সে রাঙাচরণ পায়।

তুমি দয়া করে পদবিন্দু,
দাও যদি হে দিনবন্ধু,
তবে তরি এ ভবসিন্ধু,
নইলে না দেখি উপায়।

অহল্যা পাষাণী ছিল,
তোমার চরণধুলায় মানবী হলো,
লালন পথে পড়ে রইল,
যা করেন সাঁই দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬)

.                 কোন চরণ এ দিনহীনকে দিবে,
দুটি চরণ বৈ নয় আছে শতভক্তের হৃদয়
দয়াময় আমার ভাগ্যে কী হবে।

শুনেছি সে ত্রেতাযুগে,
রাম অবতার ভক্তের লেগে,
মহাতীর্থস্থান যোগে যুদ্ধে জয় করবে
তুমি গজাসুরকে চরণ দিয়ে,
বন্ধু হয়েছে ভক্তিভাবে।

প্রহ্লাদ নারদাদি,
চরণ ভজে নিরবধি আমার বঞ্চিত বিধি
অধমের ভার কে নিবে,
চরণ পাবার আশায় ত্রিপুরারি,
বেড়ায় শ্মশানে পাগলভাবে।

পাষাণী মানব হলো চরণধূলায়,
হনুমান মালা পরায় রামের গলায়,
লালন বলে চরণ বিক্রে,
জনমে ফিরে কেউ কী পাবে?” (পবিত্র লালন- ৩৫৮)

.                 জগৎ ভক্তিতে ভুলালে সাঁই,
ভক্তিপদ দাও হে আমায়,
যাতে চরণ পাই।

রাঙাচরণ দেখব বলে,
বাঞ্ছা সদাই হৃদকমলে,
নামের মিঠায় মন মজেছে,
রূপ কেমন তাই দেখতে চাই।

ভক্তিপদ বঞ্চিত করে,
শক্তিপদ দিছো মোরে,
যাতে জীব ব্রহ্মাণ্ডে ঘুরে,
কাণ্ড তোমার দেখি তাই।

চরণের যোগ্য মন নয়,
তথাপি ঐ চরণ চায়,
অধীন লালন বলে হে দয়াময়,
দয়া করো আজ আমায়।” (পবিত্র লালন- ৪৫৫)

চরণের সংজ্ঞা (Definition of leg)
সাধারণত; সর্বপ্রকার পদকেই চরণ বলে।

চরণের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of leg)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শিশ্নকে চরণ বলে।

চরণের প্রকারভেদ (Variations of leg)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; চরণ চার প্রকার। যথা; ১. অভয় চরণ ২. যুগল চরণ ৩. রাঙা চরণ ও ৪. শ্রী চরণ।

. অভয় চরণ (Fearless leg)/ ‘قدم بلا خوف’ (ক্বাদিমা বাল্লা খাউওয়াফা)
পিতা-মাতা ও গুরুজনের চরণকে অভয়চরণ বলে।
“যে ত্বরায় ত্রিভুবন, সে যাবে আজ গোষ্ঠের কানন, ঠিক রেখ মন অভয়চরণ, লালন চরণ ভিখারী।” (পবিত্র লালন- ৪২৫/৪)(মুখ; গোষ্ঠে চল হরি-মুরারী, লয়ে গোধন গোষ্ঠের কানন, চল গোকুল-বিহারী”)

টীকা (Commentary)
যদিও সাধারণভাবে পিতা-মাতা ও শ্রদ্ধাষ্পদ-শ্রদ্ধাষ্পদীদের পদযুগলকে অভয়চরণ বলা হয় কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; উপস্থকে অভয়চরণ বলা হয়। বাংভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত মরমী সাধক মহাত্মা লালন সাঁইজির- “যে ত্বরায় ত্রিভুবন, সে যাবে আজ গোষ্ঠের কানন, ঠিক রেখ মন অভয়চরণ, লালন চরণ ভিখারী।” (পবিত্র লালন- ৪২৫/৪)।”- এই বাণীটি তা-ই প্রমাণ করে। অন্যদিকে; এ উপমহাদেশের প্রায় সব মরমী সাধক, মরমী গবেষক ও বাউলপন্থীরা কেবল পিতা-মাতা বা গুণীজনদের পদযুগলকেই অভয়চরণ বলে বুঝেন ও বুজিয়ে থাকেন। শ্রদ্ধাবানদের পদযুগলকে অভয়চরণ বলায় লাভ কী? আর উক্ত পদযুগল দ্বারা কাজ কী? এমন প্রশ্ন করলে মরমীদের ঠুনকো মতবাদটি অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তাই; অভয়চরণ বলতে উপস্থকেই বুঝানো হয়। এটা অধিকাংশ আত্মজ্ঞানী মনীষীর অভিমত। বিচারক পাঠককুল।

. যুগল চরণ (Pairs leg)/ ‘قدم أزواج’ (ক্বাদিমা আজওয়াজ)
উপস্থ বা নাসিকার শ্বাসদ্বয়কে একত্রে যুগলচরণ বলে।

১.   “বসুমতি মা কাতরে বিনয় করি গো যুগলচরণে, তোর দয়া বিনা স্বরূপনদী পাড়ি দিব কেমনে।” (বলন তত্ত্বাবলী– ২০০)
২.   “ভজ মানুষের চরণ দুটি, নিত্যবস্তু পাবি খাঁটি, মরলে সব হয় মাটি, ত্বরায় এ ভেদ লও জেনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/২)(মুখ; সহজ-মানুষ ভজে দেখ রে মন দিব্যজ্ঞানে, পাবিরে অমূল্যনিধি পাবি বর্তমানে।”)

——————————————————————————–

১.   “কোথায় বা শরার টাটি, আশিক্বে বেভুল সেটি, মা’শুক্বের চরণ দুটি, নয়নে আছে নিহারা।” (পবিত্র লালন- ১৮৫/২)
২.   “ত্রিবেণীনগর মেঙ্গে খাব, সাধুর মেলে বাস করিব, ভজিব চরণ দুখানি- বলন কাঁইজি ভেবে বলে, থেকে সাধুর চরণতলে, দেখব স্বরূপ রৌশনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯)
৩.   “প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতু প্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগলচরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, প্রেম-দ্বারে বাঁধা রয়।” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)

. রাঙা চরণ (Flushed leg) ‘قدم طهرتها’ (ক্বাদিমা ত্বহেরাতহা)
১    সাঁই ও কাঁই দর্শনকে রাঙাচরণ বলে।
২    চক্ষুবন্ধ করে ধ্যানরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া গুরুজনের আলোকময় চরণকে রাঙাচরণ বলে।

——————————————————————————–

১.   “গুরু তোমার চরণ বিহনে আমি কিছুই চাহি না, সুখে দুঃখে রাঙাচরণ গুরু করব আমি ভজনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৮)।
২.   “বৃন্দাবনে তারার সনে নিশি জাগিয়া, চন্দ্রতারার মালা গেঁথে রাখছি তুলিয়া, রাঙাচরণ ভজব বলন, বুকেতে শোয়াইয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “রাঙাচরণ কী মুখের কথায় হয়, চেতনগুরুর সঙ্গ ধরে সাধন করে, রসিক মহাশয়।” (পবিত্র লালন- ৮৬১/১)
৪.   “রাঙাচরণ দেখব বলে, বাঞ্ছা সদাই হৃদকমলে, নামের মিঠায় মন মজেছে, রূপ কেমন তাই দেখতে চাই।” (পবিত্র লালন- ৪৫৫/২)(মুখ; জগৎ ভক্তিতে ভুলালে সাঁই, ভক্তিপদ দাও হে আমায়, যাতে চরণ পাই।”)
৫.   “হাজার বছর সে সাধনে, যেবা বসে রয় গোপনে, দেখা পায় মানুষের সনে, খুঁজে পায় রাঙাচরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪)

——————————————————————————–

১.   “কোথায় রাধে কোথায় কৃষ্ণধন, কোথায়রে তার সব সখীগণ, আর কতদিন চললেরে মন, রাঙাচরণ পাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৪/২)
২.   “গুরু ছয়জনা সহযাত্রী ঘরে বাইরে দিবারাত্রি, আমায় করে জ্বালাতন, বলন কয় এ দূরদেশে তোমার রাঙাচরণ আশে, ঘুরি গো পাগলের মতন, তোমার চরণ না পেলে সাধন হবে সর্বনাশ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭)
৩.   “দুইদেহ একদেহ হলে, তবেই সে ধন পায়, লালন বলে তা নইলে কী, গুরুর রাঙাচরণ পাওয়া যায়।” (পবিত্র লালন- ৮৬১/৪)
৪.   “দেখেছি তার রাঙাচরণ, না দেখেই দিয়েছি মন, করে বন্দনা, লালন কয় ঐ রাঙাচরণ, আমার ভাগ্যে হলো না।” (পবিত্র লালন- ৭৫/৩)
৫.   “দেহতরী খাইল ঘুনে, করুণা কর আপন গুণে, তোমার রাঙাচরণ দর্শনে, হাজার বছর আছি বসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮)
৬.   “পাকাগুরুর সঙ্গ লইয়া, থাকো তার নিরীক্ষে বইয়া, ভক্তি দাও নত হইয়া, গুরুর ঐ রাঙাচরণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫২)
৭.   “বিকারেতে না পায় দেখা, বৈদিক মেঘে রয় সে রূপ ঢাকা, নিরবধি নিরঞ্জন, ফকির লালন বলে কুলের ঘোরে হারালাম রাঙাচরণ।” (পবিত্র লালন- ৯৭৮/৩)
৮.   “বিনয় করে বলে বলন, জগৎ সৃজন ননির কারণ, ননিই গুরুর রাঙাচরণ, ননিই হলো জগৎসাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১৩)
৯.   “ভক্তিতে করলে গো বরণ- পেতে দাও রাঙাচরণ, থাকে না জন্ম-মরণ- মধুময় মিলন ভুবনে, এসমে আজম গোপনে- দাও প্রিয়জন প্রিয়জনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)
১০. “ভাব জানি না, প্রেম জানি না, দাসীরে চরণ ছাড়া করো না, ভাব দিয়ে ভাব নিলে মনা, সে-ই সে রাঙাচরণ পায়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬/২)

. শ্রী চরণ Lithe (লাইদ) ‘رشيق’ (রাশিক্ব)
১.    শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে শ্রীচরণ বলে।
২.   শ্বরবিজ্ঞানে; সাঁই ও কাঁই দর্শনকে শ্রীচরণ বলে।

“প্রাপ্তপথ ভুলে এবার, ভবরোগে জ্বলব কত আর, তুমি নিজ গুণে শ্রীচরণ দাও, তবে তল পেতে পারি।” (পবিত্র লালন- ২৩৫/২)(মুখ; এসো হে অপারের কাণ্ডারী, আমি পড়েছি অকূল পাথারে, এসে দাও আমায় চরণতরী।”)

১.   “অন্য ধনের নয়রে দুঃখী, মনে বলে হৃদয়ে রাখি, শ্রীচরণখানা, লালন বলে মোর- পাপে চক্ষু ঘোর, তাইতো; আশাপূর্ণ হলো না।” (পবিত্র লালন- ২৮৪/৪)
২.   “আমি বলি শ্রীচরণ, মনে যদি হয় কখন, নেচে ওঠে হায়- দুষ্ট সে সময়, বৈদিক টানে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৬/৩)
৩.   “কৃষ্ণের আনন্দপুরে, লোভিকামী যেতে না রে, শুদ্ধভক্তি ভক্তের দ্বারে, সে চরণকমল নিকটে যায়।” (পবিত্র লালন- ৭৫০/২)
৪.   “ক্ষম অধীন দাসের অপরাধ, শীতলচরণ দাও হে দিননাথ, লালন বলে ঘুরাইও না, হে ক্ববুলকারী।” (পবিত্র লালন- ১২২/৪)
৫.   “চাঁদগৌর যদি পাই, কুলের মুখে দিব ছাই, ফকির লালন অবশেষে তাই, শ্রীচরণে দাসী হলো।” (পবিত্র লালন- ৬২৭/৪)
৬.   “দিয়ে শ্রীচরণে ভার, কত অধম হলো পার, সিরাজ সাঁইজি কয় লালনরে তোর বিগাড় যায় না রে।” (পবিত্র লালন- ১৫৭/৪)
৭.   “ফোঁটা তিলক তসবিহ মালা, তা জপ কী কারণে, লালন বলে ছয়রিপু, বলি দাও গুরুর শ্রীচরণে।” (পবিত্র লালন- ৪০৮/৩)
৮.   “মরা পেলে আহার কর জীয়ন্তের কাছে আস না, তাইতো; আমি জন্ম অন্ধ দুঃখদশা ঘুচল না, তোমার শ্রীচরণ বিনা, মানবজনম হয় মিছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭১)
৯.   “যাতে যায় শমন যন্ত্রণা, ভুলো না রে মন গুরুর শীতলচরণ ভুলো না।” (পবিত্র লালন- ৮১৬/১)

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; চরণ দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান চরণ ও ২. উপমিত চরণ।

. উপমান চরণ (Analogical leg)
সাধারণত; সর্বপ্রকার পদকেই উপমান চরণ বলে।

. উপমিত চরণ (Compared leg)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শিশ্নকে উপমিত চরণ বলে।

চরণের উপকার (Benefits of leg)
১.   চরণের সাহায্যে জীবকুল স্বাভাবিক চলাফেরাসহ আহার গ্রহণ কার্যাদি সম্পাদন করে থাকে।
২.   এর সাহায্যে হাঁটা চলাসহ দৈহিক ক্রিয়া কর্মগুলোও সম্প্রদান করা যায়।

চরণের পরিচয় (Identity of leg)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বলাই পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। জীবের চলাফেরার কাজে সাহায্যকারী অঙ্গই পা বা চরণ নামে পরিচিত। সৃষ্টিজগতের একেক প্রাণীর একেক প্রকার চরণ লক্ষ্য করা যায়। ২, ৬, ৮, ১৬ ও ৩২ ইত্যাদি অনুপাতে প্রাণীকুলের চরণ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন; মানুষ চার চরণ বা চার-পা যুক্ত ও অক্টোপাস ১৬টি পাদযুক্ত। শ্বরবিজ্ঞানে; দ্বিপস্থ প্রাণীদের পুরুষ ও নারীকে একত্রে পূর্ণপ্রাণী এবং যেসব প্রাণীর কোনো কামাচার নেই তাদের প্রত্যেককেই প্রাণী ধরা হয়।

মানুষ দিপস্থজীব। পুরুষের ২টি চরণ এবং নারীর ২টি চরণ। পুরুষ অর্ধাঙ্গ এবং নারী অর্ধাঙ্গী। শুধু পুরুষ অর্ধজীব এবং শুধু নারীও অর্ধজীব। এজন্য; পুরুষ ও নারী মিলেই মানুষ পূর্নাঙ্গ প্রাণী রূপে পরিচিত। যারফলে; পুরুষের দুই চরণ এবং নারীর দুই চরণ (২+২) সমান চারটি চরণ। অর্থাৎ; মানুষের চরণ মোট চারটি। এজন্য; বিশ্বের সব শ্বরবিজ্ঞানে মানুষকে চতুষ্পদী জীব রূপে কল্পনা করা হয়। তেমনই; বিশ্বের সব শ্বরবিজ্ঞানে; অক্টোপাসের ক্ষেত্রেও পুরুষের ৮টি চরণ এবং নারীর ৮টি চরণ গণণা করা হয়। আধ্যাত্মিক জ্ঞান দৈন্যতার কারণে অনুবাদকরা চতুষ্পদী জীব বলতে কেবলই গোরু ও ছাগলগুলোকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। অথচ মূলে গোরু ও ছাগল অষ্টপদী প্রাণী। অনুবাদকদের দৈন্যতা হেতু তাদের অনুবাদকৃত পুস্তক-পুস্তিকা পড়ে প্রথম হতেই সাধারণ মানুষ শ্বরবিজ্ঞান হতে ক্রমে ক্রমে অত্যন্ত ব্যবধানে পতিত হয়েছে। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে; বাংলাভাষায় কোনো আধ্যাত্মিক গ্রন্থ নির্মিত না হওয়ায় সমাজে প্রচলিত সব আধ্যাত্মিক গ্রন্থ বিদেশী কোনো না কোনো ভাষা হতে অনুবাদ করা হয়েছে।

উদাহরণত বলা যায়; লেখনীর দুটি অংশ। একটি আঁকা অন্যটি মুখা। যেমন; শুধু আঁকাও লেখনি নয়; তেমনই; শুধু মুখাও লেখনি নয়। আঁকা ও মুখাকে একত্রে মিলেই লেখনি বলা হয়। তাই; এক অংশ ব্যতীত অন্য অংশ বিক্রিও হয় না কিংবা ব্যবহার করাও যায় না। আবার কালি শেষ হয়ে গেলে একই সঙ্গে আঁকা ও মুখা দুটোই অচল বলে ফেলে দেওয়া হয়। তেমনই; দ্বিপস্থ জীবকুলের পুরুষ ও নারী দুটি অংশ। পুরুষ নারীর অংশ এবং নারী পুরুষের অংশ। পুরুষ ও নারী মিলেই পূর্ণাঙ্গজীব। আর যেসব জীবের পুরুষ কিংবা নারীরূপ পৃথক লিঙ্গ নেই তারা একাই পূর্ণাঙ্গ জীব। পরিশেষে বলা যায় শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত চরণ দ্বারা কখনই জীবের পা বুঝায় না বরং উপস্থ ও নাসিকার শ্বাসদ্বয়কে বুঝায়। কিন্তু বড় হাস্যোপহাসের বিষয় হলো বাংভারতের অন্ধবিশ্বাসী সাম্প্রদায়িকরা চরণ বলতে কেবলই জীবের পা-কে বুঝেন বা বুঝিয়ে থাকেন। আর এ হতেই পুরাণ বা শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত পা পরিভাষাটির ভাবার্থ বা পারিভাষিক অভিধা চিরদিনের মতোই পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

অথচ অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য যে; আলোচ্য ‘চরণ’ পরিভাষাটির ব্যাপক ব্যবহার শ্বরবিজ্ঞানে থাকলেও এর অভিধাগুলো জানা নেই অনেক গোঁসাই-গুরুরও। অন্ধবৎ শিষ্যরাও গোঁসাই-গুরুর নিকট হতে এর অভিধাগুলো জানা ও বুঝার চেষ্টাও করে না। ওপরে আমরা লালন ও বলন হতে সবগুলো উদ্ধৃতি সংকলন করেছি। তারমধ্যে; ‘পা’ অর্থে ব্যবহার পাওয়া গেছে মাত্র ৭টি। নৈকট্য অভিধা পাওয়া গেছে সবচেয়ে অধিক। তারপর; সাঁইদর্শন ও কাঁইদর্শন অভিধার স্থান। তারপর; চার প্রকার চরণের অভিধা পাওয়া গেছে। এ চার প্রকার চরণ আবার একটিও ‘পা’ অর্থে ব্যবহৃত হয় না। যা ওপরে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ গোঁসাই-গুরুকে ‘চরণ’ পরিভাষাটির অর্থ জিজ্ঞেস করলে তারা কেবল পা-ই বলে থাকেন। অনুরূপভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকরাও উত্তর দিয়ে থাকেন। এবার অনুধাবন করুণ যে; এ উপমহাদেশের শ্বরবিজ্ঞানের মাণ কতটা করুণ। শ্বরবিজ্ঞানের এমন নাজুক অবস্থা হলে কী হবে; একেক গোঁসাই-গুরুর আশ্রমে শিষ্যের সংখ্যা একেবারে কম নয়। কোনো গুরুর শিষ্য তিনকোটি, কোনো গুরুর দুই কোটি। হাজারের তো অভাব নেই। আলোচনার শেষপ্রান্তে উপনীত হয়ে আকুল আবেদন হলো; বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে আনন্দদায়ক ও বিশ্ব মানবতার উপকারী এ পুরাণ শিল্পটিকে রক্ষা ও সমাজে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লেখক ও গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ সাহিত্যটির প্রকৃত শিক্ষা সমাজের সর্বশ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে সাম্প্রদায়িক পুস্তক-পুস্তিকা পড়ে ভাবী প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদে আর জড়িয়ে পড়ার সুযোগ না পায়।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!