চোর

৪৮/২০. চোর
Thief (থিফ) / ‘ﺴﺎﺭﻖ’ (সারাক্বা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পালনকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সাঁই’। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ফুল। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ হরি এবং এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ঈশ্বর, উপাস্য, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ সুধা। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত শত্রু, শিশ্ন, পালনকর্তাসৃষ্টিকর্তা ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃর হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
চোর (বাপৌছ)বি হর, হরি, তস্কর, দস্যু, thief, ‘ﺴﺎﺭﻖ’ (সারাক্বা) (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) পালনকর্তা, ঈশ্বর, উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, প্রভু, স্বরূপ, guardian, রব (.ﺮﺐ) (পারদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ) (ইদে) মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; না বলে বা না জানিয়ে অপরের দ্রব্য আত্মসাৎকারীকে চোর বলা হয় . শ্বরবিজ্ঞানে; জীবের পালনকর্তাকে চোর বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা Jস্ত্রী চুন্নী।

চোরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of thief)
১.   “কেবা চোর কেবা সেনা, কে করে ঠিক ঠিকানা, হাওয়ায় তার বারামখানা, হাওয়ায় মূলাধার তাতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬/৩)
২.   “চোর দিয়ে চোর ধরা আজব কারখানা, জানব বলে জিজ্ঞেস করি কেউ বলে না, সাধু সব চুরি করে- চোর পালায় ডরে, নিয়ে যায় শূন্যঘরে, কোনখানে।” (পবিত্র লালন- ২৬৬/৩)
৩.   “চোর ধরে রাখবি যদি, হৃদগারদ করগে খাঁটি, লালন কয় খুঁটিনাটি, থাকতে কী সে দেয় ছুঁতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬/৪)
৪.   “ধরো চোর হাওয়ার ঘরে, ফাঁদ পেতে, সে কিরে সামান্য চোরা, ধরবি কোনাকাঞ্চিতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬/১)
৫.   “পাতালে চোরের বহর, দেখায় আকাশের ওপর, তিনতারে হচ্ছে খবর, শুভাশুভ যোগ মতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬/২)
৬.   “রাজ্যেশ্বর রাজা যিনি, তিনি চোরের শিরোমণি, নালিশ করব আমি, কোনখানে কার নিকটে।” (পবিত্র লালন- ৮৮৩/৩)

সাধারণ চোর অর্থে চোরপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology thief sense for the ordinary thief)
১.   “চোরে যেমন চুরি করে, ধরা পড়লে দোষে পড়ে, হাক্বিক্বতি সে প্রকারে, চোরা মারে মহারথী।” (পবিত্র লালন- ৩৩৯/৩)
২.   “যেই সম্পদে চোরা সাজে, আসবে না রে কোন কাজে, বলন কয় সংসার মাঝে, মনই সকল চুরি করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮১)
৩.   “শুনে মনের কথা চম্পকলতা, মাথা যায় ঘুরে, চোরের মতো বুদ্ধিহত, দাঁড়িয়ে আছি তার দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৮৯৬/১)

শত্রু অর্থে চোরপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology thief sense for enemy)
১.   “চুরি করে ছয়টি চোরা, আমার বলাই পড়ে ধরা, মারিস না রে নিষ্ঠুর মারা, তোর অথৈ পারাপারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৫)
২.   “দেখে আমার ভরাতরী- চোর ডাকাতরা বুদ্ধি করি, পিছে পিছে দিয়েছে রওয়ানা- রংপুর ছেড়ে ঢাকা যাব- নিতাইশালে মাল কিনিব, ত্রিমোহনা পাড়ি দিলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৯)
৩.   “নিশিদিনে চোরের হানা, কী ধন লুটে টের পায় না, বলন কয় সাঁই এলো না, মহাকাল শমন এলো।” (বলন তত্ত্বাবলী)

————————————————————————————

১.   “কলিকালে অমানুষের জোর, যত ভালোমানুষ বানায় তারা চোর, সমঝে ভবে না চললে, বোম্বেটের হাতে পড়বি ভাই।” (পবিত্র লালন- ১৯২/২)
২.   “ঘরের মাঝে আড়া কষা, চোর দস্যুদের যাওয়া আসা, তার মাঝে ঘরামী বসা, এমন বিষম করণি।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “চোরের সঙ্গে না খাটে ধর্মছড়া, হাতের অস্ত্র কভু করো না হাতছাড়া, রাগের অস্ত্র ধরো- দুষ্ট দমন করো, স্বদেশে গমন করোরে ত্বরায়।” (পবিত্র লালন- ৭৩/৩)
৪.   “তিনশত ষাট জীবন ও মন্ত্রী চল্লিশজন, বাহাত্তর হাজার গ্রামে চব্বিশ হাজার ইউনিয়ন, দশথানা প্রতি জিলাতে- উৎপাত করে চোর ডাকাতে, ছয়জনা চোর ঠেকাতে- আমি একা পারলাম না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৮)
৫.   “সকাল বিকাল দুই রং ধরে সাদা কালো একমাসে, বলন কয় থাইক সেই তাজা কালো ফলের আশে, চার বাহক ছয় প্রহরে- পাহারা দেয় ৬টি চোরে, ফাঁকি দিয়া তিন চক্ষুকে- বুলবুলিতে খাইয়া যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৬)
৬.   “সকাল-সন্ধ্যা পুরুষ মারে, ভরা সেথা চোর বাটপাড়ে, বলন কয় ধন বাঁচাতে, তিলতলা পাহারা চাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯১)

ষোল কলা অর্থে চোরপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology thief sense for sixteenth art)
“একঘরে ষোল চৌকিদার সবাই তো চোরা, সবাই মিলে যুক্তি করে মন পরায় হাতকড়া, বলন কয় ও লোভী মন, ডাণ্ডাবেড়ী পরিস না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৪)

শিশ্ন অর্থে চোরপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology thief sense for penis)
১.   “এবার পাছবাড়ি আঁটিল করো, ঘর চোরারে চেনে ধরো, লালন বলে নইলে তোর, থাকবে না মূল এককড়া।” (পবিত্র লালন- ৭৪১/৪)
২.   “মন আমার আজ পড়লি ফেরে, দিন দিন তোর পৈতৃকধন গেল চোরে।” (পবিত্র লালন- ৭৩০/১)

————————————————————————————

১.   “এক শহরে হয় চৌদ্দজিলা, দেগেছেরে কামান দু’বেলা, বলে জয় জয়, ওরে ধন্য চোরে– ও ঘর মারে, রাখে না সে কারো ভয়।” (পবিত্র লালন- ১৯৮/৩)
২.   “এখন তোর হুঁশ হলো না, রাঙ দেখে ভাবলি সোনা, বলন কাঁইজি কয়রে কানা, চোরকে করলি উপপতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৭)
৩.   “কানা চোরা চুরি করে, ঘর থুয়ে সিঁধ দেয় বাইরে, হস্ত নাই সে ওজন করে, বোবায় গান করে, বয়রায় বসে শোনে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৭/২)
৪.   “কানা চোরা চুরি করে, ঘর থুয়ে সিঁধ দেয় পাগারে, কানা মিছে খেটে মরে, কানার ভাগ্যে ধন মিলে না।” (পবিত্র লালন- ৮৩৩/৩)
৫.   “কানা চোরা চুরি করে, ঘর থুয়ে সিঁধ দেয় পাগারে, সারানিশি খেটে মরে, কানার ভাগ্যে ধন মিলে না।” (পবিত্র লালন- ৮৩৭/৩)
৬.   “কোন কোণায় কী হচ্ছে ঘরে, একদিন তো দেখলি না রে, পৈতৃকধন সব নিলো চোরে, হলিরে তুই ফুক্বারা।” (পবিত্র লালন- ৭৪১/৩)
৭.   “ঘর চোরারে চেনে ধর, পঞ্চবাণ পাঁচ পঞ্চে মার, আগে মরে- যাও নিগম ঘরে, দয়াল দেখ অনায়াসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯)
৮.   “ঘরের চোরে ঘর মারে মন, ঘুমিয়ে থেকে জানবি কখন, একবার দিলি না নয়ন, আপন ঘরে।” (পবিত্র লালন- ৭৩০/৩)
৯.   “ঘরের চোরে মারে ঘর, বসতির সুখ হয় কী তার, ভুতের কীর্তি তেমনই প্রকার, এমন তার বসতখানা।” (পবিত্র লালন- ৬৮৩/২)
১০. “ঘরের চোরে সিঁধ কাটিয়া অমূল্য-ধন নিয়া যায়, নামটি তার মদনচোরা ধরলি না মনকানাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৩)
১১.  “বলন কাঁইজি ভেবে বলে, চেনে সে চোর ধরিলে, থেকে সাধু চরণতলে, আপনজনা চেনা যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৩)
১২.  “দুর্শাসনের রাষ্ট্র ভেঙ্গে করেছি রাষ্ট্র গঠন, সুশাসন করব রাষ্ট্র শান্তি পাবে জনগণ, প্রধান মন্ত্রী আছে যিনি- তিনি চোরের শিরোমণি, দেশ করছে চোরের খনি- আমায় রেখে জেলখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৮)
১৩. “দেখেশুনে আত্মকলহ, কর্তাব্যক্তি হত হলো, সাক্ষাতে ধন চোরে গেল, এ লজ্জা তো যাবে না।” (পবিত্র লালন- ৬৮৩/৩)
১৪. “দেহের মাঝে বাড়ি আছে, সে বাড়িতে চোর ঢুকেছে, ছয়জনাতে সিঁধ কাটে, কেবল চুরি করে একজনা।” (পবিত্র লালন- ৫২৮/২)
১৫. “ভবপারে যাবি কেরে, গুরুর চরণ শরণ কর আগে, পিতৃধন তোর গেল চোরে, পারে যাবি কোন রাগে।” (পবিত্র লালন- ৭১৩/১)
১৬.  “যে চোরের দায়ে দেশান্তরী, সে-ই চোরের সঙ্গ ধরি, মদনরাজার ডঙ্কা ভারী, কামজ্বালা দেয় সন্তোষপুরী, ভুলে যায় মন কাণ্ডারী, কী করবে গুণিজনা।” (পবিত্র লালন- ৭২৩/৩)
১৭. “রঙমহলে চুরি করে, কোথায় সে চোরের বাড়ি, ধরতে পারলে সে চোরেরে, পরাতাম মনোবেড়ি।” (পবিত্র লালন- ৮৫৫/১)
১৮. “লয়ে এলাম ষোল আনা, ব্যাপার করব জানাশুনা, সব শেষ হলো দিনে দিনে, চোরেরে আর কী বলি, নষ্ট হলো সকলি, আমার অবহেলায় অজ্ঞানে।” (পবিত্র লালন- ১৬৪/৩)
১৯.  “সপ্ততল পাতালে ঘর, চাবি রাখা আকাশের পর, খুলে ঘর দিনে দু’বার, অরসিক পায় চোরের হানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৪)

পালনকর্তা অর্থে চোরপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology thief sense for guardian)
১.   আমার মন চোরারে কোথায় পাই, কোথায় যাই কী দিয়ে আমার মনেরে বুঝাই।” (পবিত্র লালন- ৩৩৯/২)
২.   লাগল ধুম প্রেমের থানাতে, মনচোরা পড়েছে ধরা রসিকের হাতে, ও সে ধরেছে চোরকে, হাওয়ায় ফাঁদ পেতে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৮/১)

————————————————————————————

১.   “আদিতত্ত্ব ভেদজগৎ, সাধুরা জেনে পেল তড়িৎ, জানিলে তত্ত্বজগৎ, ধরা পড়বে ঘরের চোর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২১)
২.   “আপনি চোরা আপনবাড়ি, আপনি লয় আপন বেড়ি, লালন বলে এ নাচারি, কই না থাকি চুপচাপে।” (পবিত্র লালন- ৩৭০/৪)
৩.   “এক আসমানি চোর ভাবের শহর লুটছে সদাই, তার আসা-যাওয়া কেমন রাহা, কে দেখেছে বল আমায়।” (পবিত্র লালন- ১৯৮/১)
৪.   “চেতন ঘরে হলে চুরি, সে চোর কী আর ধরতে পারি, আলেকসাঁই নাম ধরি, দ্বিদলে সে রয় নির্জনে।” (পবিত্র লালন- ৪৫১/২)
৫.   “মনচোরা চোর সে যে নাগর, তলে আসে তলে যায়, ওপর ওপর খুঁজি, জীব সবাই।” (পবিত্র লালন- ৮৫৯/৩)
৬.   “মন চোরারে ধরবি যদি মন, ফাঁদ পেতে বস ত্রিবেণে, অমাবস্যার পর পূর্ণিমাতে, বারাম দেয় সেখানে।” (পবিত্র লালন- ৭৩৯/১)
৭.   “মনোবুদ্ধির অগোচর চোরা, বললে কী পথ করবি তোরা, আজ আমার কথায়, সাঁইজি লালন বলে- ভাবুক হলে, ধাক্কা লাগে গায়।” (পবিত্র লালন- ১৯৮/৪)
৮.   “শহর বেড়া অগাধ দোরে, তার মাঝখানে ভাবমন্দিরে, সে নিগম জায়গায়, পবনদ্বারে- চৌকি ফিরে, এমন ঘরে চোর আসে যায়।” (পবিত্র লালন- ১৯৮/২)
৯.   “সোনার মানুষ চলেফেরে, দুইবেলা দুইরূপ ধরে, সারা বিশ্ব ঘুরে চোরে, বাস করিয়া প্রভাপুর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৩)

চোরের ওপর কয়েকটি পূর্ণ লালন (Some full Lalon on the thief)

.                 ধরো চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে
সে কিরে সামান্য চোরা,
ধরবি কোনাকাঞ্চিতে।

পাতালে চোরের বহর,
দেখায় আকাশের ওপর,
তিনতারে হচ্ছে খবর,
শুভাশুভ যোগ মতে।

কেবা চোর কেবা সেনা,
কে করে ঠিক ঠিকানা,
হাওয়ায় তার বারামখানা,
হাওয়ায় মূলাধার তাতে।

চোর ধরে রাখবি যদি,
হৃদগারদ করগে খাঁটি,
লালন কয় খুঁটিনাটি,
থাকতে কী সে দেয় ছুঁতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬)

.                 রঙমহলে চুরি করে,
            কোথায় সে চোরের বাড়ি,
ধরতে পারলে সে চোরেরে,
পরাতাম মনোবেড়ি।

সিংদরজায় চৌকিদার একজন,
অপ্রহর সচেতন,
কিরূপভাবে ভেল্কি মেরে,
কোন চোরা করে চুরি।

ঘর বেড়ে ষোল জন সিপাই,
একেক জনের বলের সীমা নাই,
তারাও চোরের না পেলে টের,
কার হাতে দিব দড়ি।

পিতৃধন আজ সব নিলো লুটে,
লেংটি ঝাড়া করল বটে,
লালন বলে অন্তিমকালে,
চোরের হলো কী আড়ি।” (পবিত্র লালন- ৮৫৫)

.                 লাগল ধুম প্রেমের থানাতে,
মনচোরা পড়েছে ধরা রসিকের হাতে
ও সে ধরেছে চোরকে,
হাওয়ায় ফাঁদ পেতে।

ভক্তি-জমাদারের হাতে,
দু’দিন চোর জিম্মি থাকে,
তিনদিনের দিন দেয় সে চালান,
আষ্টেপিষ্টে বেঁধে।

চোর এলে অটলের ঘরে,
সাধকজনা জানতে পারে,
লালন বলে স্বরূপ মিলে,
দিব্যজ্ঞানের উদয়েতে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৮)

চোরের সংজ্ঞা (Definition of thief)
সাধারণত; না বলে বা না জানিয়ে অপরের দ্রব্য আত্মসাৎকারীকে চোর বলে।

চোরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of thief)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জীবের পালনকর্তাকে চোর বলে।

চোরের প্রকারভেদ (Variations of thief)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে চোর দুই প্রকার। যথা; ১. পার্থিব চোর ও ২. স্বর্গীয় চোর।

. পার্থিব চোর (Mundane thief)
পার্থিব দ্রব্যাদি গোপনে আত্মসাৎকারীকে পার্থিব চোর বলে। যেমন; টাকা চোর ও গোরু চোর ইত্যাদি।

. স্বর্গীয় চোর (Celestial thief)
মানবদেহে গোপনে অবস্থানকারী সত্তাদের স্বর্গীয় চোর বলে। যেমন; সাঁই ও কাঁই।

স্বর্গীয় চোর আবার দুই প্রকার। যথা; ১. রিপু চোর ও ২. উপাস্য চোর।

. রিপু চোর (Foe thief)
মনের মধ্যে আত্মগোপন করে অবস্থানকারী শত্রুদের রিপু বলে। যেমন; কাম ও ক্রোধ ইত্যাদি।

. উপাস্য চোর (Adorable thief)
বৈকুণ্ঠে আত্মগোপন করে অবস্থানকারী পালনকর্তা ও সৃষ্টিকর্তাকে মানবের উপাস্য বলে।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে চোর দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান চোর ও ২. উপমিত চোর।

. উপমান চোর (Analogical thief)
সাধারণত; না বলে বা না জানিয়ে অপরের দ্রব্য আত্মসাৎকারীকে উপমান চোর বলে।

. উপমিত চোর (Compared thief)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জীবের পালনকর্তাকে উপমিত চোর বলে।

চোরের পরিচয় (Identity of thief)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানে বিভিন্ন পারিভাষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে; বাক্যের ভাবের ওপর এর প্রকৃত-সত্তা নির্ধারণ করতে হয়।

সাধারণত; পরদ্রব্য হরণকারী বা আত্মসাৎকারীকে চোর বলা হয় কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল রিপু, মন, সাঁই ও কাঁইকে চোর বলা হয়। তবে; এখানে; কেবল সাঁইকে চোর বলা হয়েছে। শ্বরবিজ্ঞানের সুমহান মনীষীদের মতে; কেবল দুটি মহান-সত্তাকে মানবদেহের চোর বলা হয়। এ চোরের ওপর হিন্দুদের বিশেষ ‘বীজমন্ত্র’ই রয়েছে। যেমন; “হরে কৃষ্ণ হরে রাম” অর্থ; “কৃষ্ণ চোর এবং রাম চোর।” অর্থাৎ; কৃষ্ণ (ব্র‏‏হ্মা) বা কাঁই এবং রাম (বিষ্ণু) বা সাঁই মানবদেহের মধ্যে চির লুকায়িত রয়েছেন বুদ্ধিমান সাধকরা তাদের অন্বেষণ করে বের করেই দর্শনলাভ করে যার যার জন্ম ধন্য করে থাকেন। এছাড়াও; মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন; “ধরো চোর হাওয়ার ঘরে, ফাঁদ পেতে, সে কিরে সামান্য চোরা, ধরবি কোনাকাঞ্চিতে। পাতালে চোরের বহর, দেখায় আকাশের ওপর, তিনতারে হচ্ছে খবর, শুভাশুভ যোগ মতে। কেবা চোর কেবা সেনা, কে করে ঠিক ঠিকানা, হাওয়ায় তার বারামখানা, হাওয়ায় মূলাধার তাতে। চোর ধরে রাখবি যদি, হৃদগারদ করগে খাঁটি, লালন কয় খুঁটিনাটি, থাকতে কী সে দেয় ছুঁতে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৬)। পরিশেষে বলা যায়; পৌরাণিক চরিত্রায়িত চোর ভিন্ন মানুষ চোরের তেমন আলোচনা করা হয় না।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!