জন্মান্তরবাদ (৫)

২৬/০. জন্মান্তরবাদ
Transmigration (ট্র্যান্সমাইগ্রেশন)/ ‘تقمص’ (তাক্বমুসু)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জন্ম পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা জন্ম। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা পুনর্জন্ম, জন্মান্তর পুরুত্থানবাদ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পুনরুত্থান। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ফিরা ভাসা। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা প্রবসন মন্বন্তর এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা পুনর্জন্ম সম্মেলন

অভিধা (Appellation)
জন্মান্তরবাদ (বাপৌছ)বি পুনর্জন্মবাদ, transmigration, ‘تقمص’ (তাক্বমুসু), reincarnationism, ‘التجددية’ (আত্তাজদাদিয়া), ‘نظرية التناسخ’ (নাজারিয়াত আত্তানাসুখ) (প্র) . জীব পুনঃপুন জন্মগ্রহণ হয় এমন মতবাদ . জীবকুল পুনরায় দেহ ধারণ করে আত্মার সাথে পুনঃপুন সংযুক্ত হয় এ মতবাদ।

Metempsychosis (GMP)n 1. The supposed transmigration at death of the soul of a human being or animal into a new body of the same or a different species. 2. A doctrine that on the death of the body the soul migrates to or is born again in another body 3 After death the soul begins a new cycle of existence in another human body ‘تقمص’ (তাক্বমাস) [syn: {rebirth}] [also: {metempsychoses} (pl)]

Etymology: Late Latin, from Greek metempsychōsis, from metempsychousthai to undergo metempsychosis, from meta + empsychos animate, from en + psychē soul- more at Psych date:1591: The passing of the soul at death into another body either human or animal.

জন্মান্তরবাদের সংজ্ঞা (Theological definition of transmigration)
১.    প্রয়াণের পর কর্মফল অনুযায়ী মানুষকে আবার বিভিন্ন যোনিতে প্রেরণ করা হয় এমন মতবাদকে জন্মান্তরবাদ বলে।
২.   জন্মান্তর সম্পর্কিত সব আলোচনাকে একত্রে জন্মান্তরবাদ বলে।

জন্মান্তরবাদের আলোচনা (Ordinary discussion of the transmigration)
জীব হতে জীবের জন্ম। কাঠালগাছ হতে কাঠালের জন্ম। ইলিশ মাছ হতে ইলিশ মাছের জন্ম। ঠিক তেমনিভাবে; মানুষ হতে মানুষ এবং গোরু হতে গোরুর জন্ম। এটিই জন্মান্তরের চিরন্তন মতবাদ।

জন্মান্তরবাদের পৌরাণিক আলোচনা (Mythological discussion of the transmigration)
অতি প্রাচীনকালে পুরাণে অন্ধবিশ্বাসীরা মনে করতো; মানুষের আত্মা কর্মদোষে বিভিন্ন প্রাণী রূপে জন্মগ্রহণ করে অন্যায় কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করে। অতঃপর; তাদের কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত শেষ হলে; আত্মা আবার মানবকুলে ফিরে আসতে পারে। এ মতবাদকে তারা আত্মার মুক্তি মতবাদ বলে প্রচার করেছে। কেবল এতেই তারা ক্ষ্যান্ত হয় নি। এর প্রমাণস্বরূপ তারা নিচের তথ্যাদিও উপস্থাপন করেছে।

হিন্দু মনীষীদের আত্মা মুক্তির সাম্প্রদায়িক মতবাদ (Self-release schismatical doctrine of hindus)
অধিকাংশ হিন্দু মনীষী বলে থাকে যে; মানুষ যে জীবের মতো কর্ম করে, মৃত্যুর পর সে জীব হয়েই সে জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর; আবার সে পৃথিবীতে ফিরে আসে। তারা আরও বলে যে; কেউ যদি কষাইয়ের কাজ করতে গিয়ে নিত্য নিত্য গোরু বধ করে; তবে পরজন্মে অবশ্যই তাকে গোরু হয়েই জন্মগ্রহণ করতে হবে। আবার কর্মজীবনে কেউ যদি কুকুরের আচরণ অধিক করে; তবে পরজন্মে অবশ্যই তাকে কুকুর হয়েই জন্মগ্রহণ করতে হবে। অথবা কর্মজীবনে কেউ যদি মানুষের মতো উত্তম কর্মগুলো সম্পাদন করে; তবে পরজন্মে অবশ্যই সে মানবকুলে জন্মলাভ করতে পারবে। তারা আরও ধারণা করে যে; কর্ম দোষে একবার যদি কেউ কুলভ্রষ্ট হয়; তবে তাকে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে আবার মানবকুল লাভ করতে হয়। এ মতের প্রবক্তারা আত্মার যোনি ভ্রমণের যে নির্ঘণ্ট প্রদান করেছেন তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

৩০,০০,০০০  বৃক্ষকুল
১০,০০,০০০  কৃমিকুল
৯,০০,০০০ মৎস্যকুল
১১,০০,০০০ পক্ষীকুল
২০,০০,০০০  পশুকুল
   ৪,০০,০০০ মানবকুল
 ৮৪,০০,০০০  জন্ম

“হিন্দু শাস্ত্রে যাহা আছে বর্ণন
শুন সে চুরাশি লক্ষ যোনি বিবরণ।
ত্রিশলক্ষ বার বৃক্ষ যোনিতে জনম
তাতে যত কষ্ট হয় অশেষ করণ।
ত্রিশলক্ষ বার বৃক্ষ যোনিতে ভ্রমিতে
কত যুগ যুগান্তর যাবে ক্রমেতে।
মৎস্যে কূর্মে নয় লক্ষ বার জন্ম হয়
ভ্রমিতে পাড়িতে জীব কত কষ্ট পায়।
নয় লক্ষ বার জন্ম হয় ধীরে ধীরে
ঘরবাড়ি ঠিক নাই যথাতথা ফিরে।
কৃমিজন্ম দশলক্ষ ভ্রমিয়া বিশেষে
একাদশ লক্ষ বার পক্ষীযোনি শেষে।
বিশলক্ষ বার জন্ম পশুর যোনিতে
নানাভাবে কত কষ্ট পায় অবনীতে।
অবশেষে গো যোনিতে জন্ম লয়
এর চেয়ে উত্তম জন্ম পশুকুলে নাই।
গো যোনির শেষে পশুযোনি নাই
মানুষ্য যোনিতে জন্ম গোযোনি ছাড়াই।
মানবকুলেতে জন্ম চারলক্ষ বার
অপরূপ সে বারতা কহি সবিস্তার।
জন্মিয়া মানবকুলে আত্মা না উদ্ধারে
পুনঃ সে চুরাশিলক্ষ যোনিপথে ঘুরে।
বারবার জন্মলাভে কত কষ্ট পায়
শ্রীচরণ দাসে বলে নাইকো উপায়।”

এ মতের প্রবক্তারা আরও বলে যে; পাশবিক স্বভাবের কারণে; কুলভ্রষ্ট নর-নারী এ দীর্ঘ ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে সর্বশেষে উপনীত হয় গোরুকুলে। অতঃপর; গোরুকুলে পরিপূর্ণ এক জন্ম অতিবাহিত করার পরই কেবল পাপী আত্মা কলুষমুক্ত হয়। কুলভ্রষ্ট আত্মা বা পাপী আত্মাকে কলুষমুক্ত করার জন্য তাদের দীর্ঘ চুরাশি লক্ষ জন্ম ভ্রমণ করানো হয়। অতঃপর; গোরুকুলে এক জন্ম থাকার পর তারা আবার মানবকুলে জন্মগ্রহণ করে। আত্মা পাপমুক্ত না হলে কখনই মুক্তিলাভ করতে পারে না। আর আত্মা মুক্তিলাভ করতে না পারলে; মানবকুলে জন্মগ্রহণ করতে পারে না। হিন্দু মনীষীদের ধারণা; প্রথমতঃ যদি কেউ মৃত্যুর পর ভালোকর্মের দ্বারা আবার মানবকুলে জন্মগ্রহণ করার সুযোগ পায়; তবেই কেবল আত্মার মুক্তিলাভ হয়। দ্বিতীয়তঃ যদি কেউ মৃত্যুর পর মন্দকর্মের কারণে; চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করে আবার মানবকুলে জন্মগ্রহণ করার সুযোগ পায়; তবেই কেবল আত্মার মুক্তিলাভ হয়। তাই; তারা বলে থাকে ভালোকর্মের দ্বারা মানুষ পুনঃপুন মানবকুলে জন্মগ্রহণ করার সুযোগ পায়। অন্যদিকে; মন্দকর্মের দ্বারা মানুষ চুরাশি লক্ষ জন্মের ফেরে পতিত হয়। এজন্য; মনুষ্যবৎ ভালোকর্মই আত্মা মুক্তির একমাত্র পথ। অন্যদিকে; মন্দকর্ম করলে মানুষের কুলভ্রষ্ট হওয়া বা চুরাশির ফেরে পড়া অবশ্যম্ভাবী। এটি; সম্পূর্ণ রূপক একটি মতবাদ। যখন; মানুষ আত্মা সম্পর্কে জানত না; জানত না মানুষের মন ও জ্ঞান সম্পর্কে। তখন; কেবল মানুষ এমন মন্তব্য করতো। তবে; বর্তমানে মানুষের আত্মা, মন ও জ্ঞানের স্বরূপ আবিষ্কৃত হয়েছে। এজন্য; এ অত্যাধুনিক যুগে অনেক গবেষকই অতি প্রাচীনকালের সেসব অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক মতবাদ কোনো ক্রমেই গ্রহণ করতে চায় না। পৌরাণিকদের অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক ও মনগড়া এ জন্মান্তরবাদটি তাদের পবিত্র মহাগ্রন্থ বেদই সমর্থন করে না। বেদের কোথাও এমন মনগড়া জন্মান্তরবাদের প্রমাণ পাওয়া যায় না। যেমন; এ মতবাদের ভিত্তি দুর্বল; তার চেয়ে অধিক দুর্বল এর পরিসংখ্যানটি। তবে; এটি; যে একটি রূপক ব্যাখ্যা তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

৮৪ সংখ্যার মহাকাব্যিক প্রমাণ (Evidence of magnum opus of the number 84)

বলনিক প্রমাণ (Bolonic evidence)
১.   “আপনারে চিন্তে যে পারে, নিজেরে চিন্তে যে পারে, ওসে ঘরে বসে অচিন চেনে, পড়ে না চুরাশি ফেরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১)
২.   “ওরে পাঁচশত বছরে ঝরে পাতালে মেঘের বারি, ধর তারে কৌশল করে হাজার বছর পাঞ্জালড়ি, কহে বলন- হলে মরণ, পড়বি চুরাশি ফেরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৫)
৩.   “গুরু কৃপায় পার না হবে, পারে শত বিপদ ঘটিবে, চুরাশিফের পড়িবে, ঘুরবে জন্মান্তরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৮)
৪.   “দয়াল মুক্ত কর গো আমারে, দিও না চুরাশি ফেরে, সহস্রাব্দ খাড়া দ্বারে, খুলে দাও দুয়ারখানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬০)
৫.   “পঞ্চাশ হাজার বছর ঘুরে, ত্রিশ হাজার পারাপারে, চুরাশি ফের পড়িলে, কাটবে না এক জীবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১০)
৬.   “পড়লে ধরা পারাপারে, পড়ে এক জীবনের ফেরে, চুরাশি পূর্ণের দায়ে, সে হইয়া থাকে দেহাধার- দশ উদ্দীপক ষোল সাথী, একদেহে করে বসতি, আবার হইয়া যায়রে মতি, বলন কয় জলধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩১)
৭.   “বাহাত্তর স্পন্ধকী ঘড়ি, সাতাত্তর পালা ধড়ি, আবার মর না বাতাসে চড়ি, চুরাশি ফের খাটি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১১)
৮.   “বাহান্নহাট তিপ্পান্নগলি, তিষট্টিবাই ছিষট্টিতলি, গুরু তিয়াত্তরপাকে চলি, চুরাশি ফের কাটল না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭০)
৯.   “বলন কাঁইজি কয় পারাপারে, পড়িয়া চুরাশি ফেরে, ঘুরি এ ভবের পরে, স্বরূপ সাধন হলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৪)
১০. “শক্তি সাঁই আত্মা ইন্দ্রিয়, রিপু কর্ম ভাব কেন্দ্র, নভ ভূমি সূর্য চন্দ্র, চল্লিশগুণ চুরাশি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৬)
১১.  “ষড়ভুজা চৌদ্দভূবন, চুরাশিতে অধঃপতন, না জানলে ষোল নিয়ম, শেষে করবিরে হায়ঃ হায়ঃ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৭)
১২.  “ষোল কলা চামকুঠরী, দশদশায় রইল ঘিরি, একেশ্বর অটলসাধন, আশিজনায় কাঁন্ধে করে, চুরাশি ফেরে ঘুরে, বলন কয় শোনরে মন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৯)
১৩. “সাধক বলন কাঁইজি বলে, ঐ সত্তর চুরাশি হলে, সে পড়বে সাঁইয়ের কোপানলে, ঘুরবে নাগরদোলায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮)
১৪. “সেথা ঘাট রাণী সর্বনাশে, জোয়ার ভাটা বার মাসে, বলন কয় বাউল বাতাসে, পড়িয়া চুরাশি পাকে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯৮)

লালনীয় প্রমাণ (Lalonic evidence)
১.   “অনুমানে জানা গেল, চুরাশি ফের পড়ল, আর কবে তুই হবি ভালো, রঙমহলে কখন পড়বে হানা।” (পবিত্র লালন- ৪৯০/৩)
২.   “একে নিরীক্ষ যার, হতে ভবনদী পার, সে তরী কভু টাল খাবে না, পাঁচপীরে চলন- চলে লালন, চুরাশি করে আনাগোনা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৫/৪)
৩.   “কারণ সমুদ্রের পাড়ে, গেলে পায় অধর-চাঁদেরে, লালন বলে নইলে ঘুরে, মরবি চুরাশি।” (পবিত্র লালন- ৮৫৪/৪)
৪.   “চিনলাম না গুরু কী ধন, জানলাম না সেবা সাধন, ঘুরতে বুঝি হলোরে মন, আবার চুরাশি।” (পবিত্র লালন- ১৪৩/৩)
৫.   “সমঝে সাধন করো ভবে, এবার গেলে আর কী হবে, লালন কয় পড়বি তবে, চুরাশি ফেরেতে।” (পবিত্র লালন- ৩৩৩/৪)
৬.   “সে গোলা শূন্যধামে, রসের খেলা রাত্রিদিনে, মতবাদ দোষী- আর চুরাশি, পরশ হয় তার পরশনে।” (পবিত্র লালন- ৭১৮/২)

ইঞ্জিলীয় প্রমাণ (Gospelic evidence)
“তখন হান্নাহ নামে একজন দেবী ছিলেন। তিনি রস বংশের মণিপুরী মেয়ে ছিলেন। তার অনেক বয়স হয়েছিল। সাত বছর স্বামীর ঘর করবার পর চুরাশি বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিধবার জীবন কাটিয়েছিলেন (ইঞ্জিল, ৩য় খণ্ড, লুক, ২/৩৬-৩৭)

পর্যালোনা (Review)
উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলো হতে চুরাশির যেসব বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা সহগ পরিভাষা পাওয়া যায় তা হলো; চুরাশি, চুরাশি আনাগোনা, চুরাশি পাক, চুরাশি ফের ও চুরাশি বছর। এসব বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা সহগ পরিভাষা দ্বারা কখনই চুরাশি লক্ষ, বা চুরাশি লক্ষ যোনি প্রমাণিত হয় না। এছাড়াও; বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল (Bible) (তোরাহ, যাবুর, ইঞ্জিল), কুরান, লালন ও বলন এর মত মহাপবিত্র গ্রন্থাদির মধ্যে কেবল ইঞ্জিল, লালন ও বলন ব্যতীত এ ৮৪ পৌরাণিক মূলক সংখ্যাটির অস্তিত্ব বা প্রমাণ অন্য কোনো গ্রন্থের মধ্যে পাওয়া যায় না। হিন্দুদের সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ হলো বেদ। যেহেতু; এ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তাটির কোনো প্রমাণ পবিত্র বেদের মধ্যে নেই; সেহেতু এটি; যে একটি মনগড়া মতবাদ তাতে কোনোই সন্দেহ নেই।

৮৪ সংখ্যাটির দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন (Theological etymology unlocking of the number 84)
এবার আমরা ৮৪ পৌরাণিক মূলক সংখ্যাটির দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করব। মানুষের হাত ও পায়ে মোট ঊনিশটি (১৯) করে গ্রন্থি রয়েছে। এবার হাতের কব্জি ও পায়ের গ্রন্থিকে কর রূপে গ্রহণ করে ঊনিশটি (১৯) গ্রন্থির সাথে ১টি কব্জি যোগ করলে (১৯ + ১) মোট বিশটি (২০) গ্রন্থি পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে ১টি পায়েরও গ্রন্থি ২০টি। এবার এক হাত ও এক পায়ের গ্রন্থি ২০টি হলে; দুই হাত ও দুই পায়ের গ্রন্থি হচ্ছে {(৪ × ২০) = ৮০} ৮০টি। এটি একটি পৌরাণিক মূলক সংখ্যা। একে আশি কর বলা হয়। এবার পৌরাণিক মূলক সংখ্যা আশি-কর (৮০) ও পৌরাণিক মূলক সংখ্যা চার-চন্দ্রের (৪) যোগফল {(৮০ + ৪) = ৮৪ কর-চন্দ্র = ৮৪ ফের} দ্বারা চুরাশি ফের (৮৪) যোজক-সংখ্যাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ চুরাশি ফেরও একটি পৌরাণিক মূলক সংখ্যা। শ্বরবিজ্ঞানে; একে চুরাশি ফের (৮৪) বলা হয়।

সূত্রটির গাণিতিক বিশ্লেষণ (Mathematical analysis of this formula)
মানুষের ২টি হাত ও ২টি পা।
মানুষের হাতের কব্জিসহ ১ হাতে কর ২০টি
\   ”       ”       ”      ২   ”    ”  (২০ × ২) = ৪০টি।
আবার মানুষের পায়ের গিরাসহ ১ পায়ের কর ২০টি
\    ”       ”       ”      ২   ”    ”  (২০ × ২) = ৪০টি।
অর্থাৎ; মানুষের হাত ও পায়ের কর মোট (৪০ + ৪০) = ৮০টি।

শ্বরবিজ্ঞানে; এ ৮০কে আশি (৮০) কর বলা হয়। এবার এ আশি করের সাথে বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা চার (৪) চন্দ্র যোগ করলে (৮০ + ৪) = ৮৪ কর-চন্দ্র হয়। অতঃপর; শ্বরবিজ্ঞানে; এ ৮৪কে চুরাশি ফের (৮৪) বলা হয়। অতঃপর; শ্বরবিজ্ঞানে; এ চুরাশি কর-চন্দ্রকে ৮৪ ফের, ৮৪ ভুবন, ৮৪ জন্ম, ৮৪ লক্ষ যোনি, ৮৪ কোটি জন্ম ইত্যাদি বলা হয়। এ সূত্র হতেই উক্ত চমৎকারে মহাধীমান বলন কাঁইজি দেহের এ ৮৪টি সদস্যকে রূপকভাবে ৮৪জন শিষ্য রূপে উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে বলা যায়; মানুষের বৃক্ষকুলে, ডিম্বকুলে ও ছানাকুলে জন্মগ্রহণের যে ভ্রান্ত মতবাদ হিন্দু সমাজে প্রচলিত রয়েছে। বর্তমানকালে সেখান থেকে এ ভ্রান্ত মতবাদটি ক্রমে ক্রমে বঙ্গদেশের বাউল, মরমীয়া ও সহজিয়াদের মধ্যেও প্রবেশ করতে আরম্ভ করেছে। প্রকৃতপক্ষে; এ মতবাদটির স্বরূপ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়; এটি একটি রূপক মতবাদ। মানুষ; যেমন কর্ম করে সে রূপ ফল পায়। ইংরেজিতে বলে; “As you sow so you ripe.” মানুষ আবার সন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করে। শ্বরবিজ্ঞানে; মানুষের সন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করাকেই মানুষের পশুকুলে জন্মগ্রহণ করা বলা হয়। অতঃপর; একজন পাকা সাধকগুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মনের পশুত্বভাব বিতাড়িত করে আত্মশুদ্ধি করাকে মানবকুলে জন্ম বলা হয়। আবার আত্মশুদ্ধির পর নিজকে জন্ম-মৃত্যুর অধীনতা মুক্ত করাকে দেবতাকুলে জন্ম বলা হয়। অতঃপর; দিব্যজ্ঞান বা শ্বরবিজ্ঞানের সম্যক জ্ঞানার্জন করে সাঁইদর্শন ও কাঁইদর্শন করে সিদ্ধিলাভ করাকে গুরুকুলে জন্ম বলা হয়। তেমনই; মাতৃগর্ভে মানব ডিম্বক প্রস্ফুটিত হয়ে প্রায় ত্রিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান করে (যদিও জীব বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে একটি ডিম্বক জন্ম হওয়ার পর তা সর্বোচ্চ আঠাশ (২৮) দিন জীবিত থাকে)।

পৌরাণিক মূলক সংখ্যায় শূন্য (০) হ্রাস-বৃদ্ধি করলে; গাণিতিকভাবে দশগুণ পরিবর্তন হয়, কিন্তু; শ্বরবিজ্ঞানে পৌরাণিক মূলক সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।” একে শূন্যক সূত্র বলা হয় (Depletion formula)। এ সূত্রটির দ্বারা নির্মিত পৌরাণিক রূপক সংখ্যাগুলোর সাথে ইচ্ছেমতো শূন্য (০) বসিয়ে লক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। সাথে সাথে বর্তমান কালকে ভবিষ্যৎকালে স্থাপন করে; হয় হচ্ছে-কে হবে করা হয়েছে।  এবার শ্বরবিজ্ঞানের শূন্যক সূত্র অনুযায়ী ত্রিশ দিনকে ত্রিশ লক্ষ বছর বলা হয়। এ সূত্র ধরেই বাঙালী পুরাণে বলা হয়েছে; মানুষকে ৩০,০০,০০০ বছর বৃক্ষকুলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।

অতঃপর; ডিম্বকটি শুক্রাণুর সাথে নিষিক্ত হওয়ার পর ক্রমে ক্রমে কৃমির মতো লম্বাকৃতি ধারণ করে। অতঃপর; দেহে ক্রমে ক্রমে ১০টি ইন্দ্রিয় সংস্থাপন হতে থাকে। তাই; শ্বরবিজ্ঞানের শূন্যক সূত্র অনুযায়ী বাঙালী পুরাণে বলা হয়েছে যে; মানুষকে ১০,০০,০০০ বছর কৃমিকুলে শাস্তি খাটতে হবে। অতঃপর; উক্ত মানব ভ্রূণটি জরায়ুর জলের মধ্যে মাছের মতো সন্তরণ করতে থাকে। অতঃপর; দেহে ৯টি দু’য়ার সংস্থাপিত হতে থাকে। তাই; শ্বরবিজ্ঞানের শূন্যক সূত্র অনুযায়ী বাঙালী পুরাণে বলা হয়েছে; মানুষকে ,০০,০০০ বছর মৎস্যকুলে শাস্তি খাটতে হবে। অতঃপর; মানবসন্তান মাতার দেহের ১১টি দুয়ার ঘুরেফিরে বড় হতে থাকে। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানের শূন্যক সূত্র অনুযায়ী বাঙালী পুরাণে বলা হয়েছে; মানুষকে আবার ১১,০০,০০০ বছর পক্ষীকুলে শাস্তি খাটতে হবে। সর্বশেষে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মানবসন্তান পশুকুল প্রাপ্ত হয়। যেমন; বিশ্বের সব জীব পশুকুল প্রাপ্ত হয়। শ্বরবিজ্ঞান মতে; পুরুষ অর্ধাঙ্গ ও নারী অর্ধাঙ্গী। অর্ধাঙ্গ ও অর্ধাঙ্গ মিলেই পূর্ণাঙ্গ হয়। মানবসন্তান যখনই প্রাপ্তবয়স্ক হয়; তখনই তার সঙ্গী-সঙ্গিনীর প্রয়োজন হয়। সূচনা হয় দাম্পত্য। দাম্পত্যে পুরুষের ১০টি ইন্দ্রিয় ও নারীর ১০টি ইন্দ্রিয় একত্র হয়। অর্থাৎ; ২০টি ইন্দ্রিয় মিলে সুখের নীড় নির্মাণ করতে হয়। তারপর; স্বামী-স্ত্রী মিলেই পাকা সাধক-গুরুর নিকট দীক্ষা-গ্রহণ করে পশুত্ব দূর করে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। তারপর; মানবকুল অর্জন করার পথে অগ্রসর হতে হয়। তাই; শ্বরবিজ্ঞানের শূন্যক সূত্র অনুযায়ী বাঙালী পুরাণে বলা হয়েছে; মানুষকে আরও ২০,০০,০০০ বছর পশুকুলে শাস্তি খাটতে হবে। তারপর; মানুষকে আউল, বাউল, নাড়া ও সাঁইজি; এ ৪টি সাধন-স্তর অতিক্রম করতে হয়। অতঃপর; অবদমন করতে হয় দেহের আগুন, জল, মাটি ও বাতাস এ ৪টি আদিভূত। তারপর; কেবল প্রকৃত মানবকুল অর্জন করা সম্ভব। তাই; শ্বরবিজ্ঞানের শূন্যক সূত্র অনুযায়ী বাঙালী পুরাণে বলা হয়েছে; মানুষকে মানবকুল পেতে আরও ,০০,০০০ বছর মানবকুলেই শাস্তি খাটতে হবে। এটাই হলো বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণের চরম বাস্তবমুখী দেহতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। এ ব্যাখ্যাটি চিরন্তন ও চির সত্য কিন্তু সম্পূর্ণই রূপক

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!