তরী

৩৩/৫. তরী
Yawl (ইওল)/ ‘قارب’ (ক্বারিবা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা দেহ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পৃথিবী। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, বৃক্ষ হাতি। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ ভুবন এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র স্বর্গালয়। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের কানাই’, ‘দেহভগ প্রভৃতি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তারই বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; কেবল বর্ণনার ওপর নির্ভর করেই এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা সর্ব শ্রেণির পাঠক-পাঠিকার একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অভিধা (Appellation)
তরী (বাপৌউ)বি নাও, তরণী, নৌকা, ডিঙ্গা, ভেলা, ডোঙ্গা, yawl, ‘قارب’ (ক্বারিবা) (শ্ববি) দেহ, খাঁচা, ধড়, পিঞ্জর, বপু, body, জাসাদ (.ﺠﺴﺪ), বদন (.ﺒﺪﻦ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; নৌকা বা ভেলাকে তরী বলা হয়. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মানুষের স্থূল দেহকে উপমার্থে তরী বলা হয় (বাপৌছ) দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয় (বাপৌচা) কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ ও ভুবন (বাপৌউ) অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ ও হাতি (বাপৌরূ) পৃথিবী (বাপৌমূ) দেহ।

তরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of yawl)
১.   “কোথায় রইলে হে, অপারের কাণ্ডারী, এ ভবতরঙ্গে আমায়, দাও হে চরণতরী।” (পবিত্র লালন- ৩৫৪/১)।২.   “কোথায় রইলে হে, দয়াল কাণ্ডারী, এ ভবতরঙ্গে আমার, কিনারায় লাগাও তরী।” (পবিত্র লালন- ৩৫৫/১)।৩.   “কোন প্রেমে গুরু ভবতরী, কোন প্রেমে শিষ্য হয় কাণ্ডারী, না জেনে লালন- প্রেমের উদ্দিপন, পিরিত করে মিছে।” (পবিত্র লালন- ৬০০/৪)।৪.   “দরদের ভাই বন্ধুজনা, মরলে সঙ্গে কেউ যাবে না, মন তোমারি, সেদিন খালি হাতে একা পথে, বিদায় দিবে তরী।” (পবিত্র লালন- ৫৩৬/৩)।৫.   “যে আশায় ভবে আসা, তাতে হলো ভগ্নদশা, লালন কয় একি দুর্দশা, উজাতে ভেটেনে পড়ল তরী।” (পবিত্র লালন- ৫২১/৪)।৬.   “রসিক যারা পার হয় তারা, তারাই নদীর ধারা চেনে, উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে, তারাই স্বরূপসাধন জানে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/৩)

. দেহ অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology yawl sense for body)
১.   “অখণ্ডধামের অটলতরী, বেয়ে চলরে তাড়াতাড়ি, বলন কয় গুরুর বাড়ি, দেখবি সামনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)।২.   “অথৈ তরঙ্গে আতঙ্কে মরি, কোথায় হে অপারের কাণ্ডারী, ফকির লালন বলে তরাও তরী, নইলে দয়াল নামে দোষ, রবে সংসারে।” (পবিত্র লালন- ৩৭২/৪)।৩.   “আদ্য-জ্ঞান সত্যের ঠিকানা, নিজকে নিজে যায়রে চেনা, গুরুকৃপায় স্বর্গ কেনা, তরীতে উড়াইয়া পাল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৭)।৪.   “আপনস্বামী রেখে ঘরে- পরপুরুষের সঙ্গ করে, বাহুঠুকে করে পোদ্দারি- বলন কয় মরার ভয়ে- সাধুরা যায় মেয়ে হয়ে, আকাশে বায় সোনারতরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩০)।৫.   “আমার ঠাহর নাই গো মন ব্যাপারী, এবার ত্রি’ধারায় বুঝি ডুবল তরী।” (পবিত্র লালন- ১২৬/১)।৬.   “আমার সোনার নৌকা গেল তলিয়ে, তরী হয়েছে বানকানা, কেমনে যাবো ভব পারে, পাড়ি বুঝি আর জমে না।” (পবিত্র লালন- ১৪১/১)।৭.   “আমি হাড় করেছি কালি, চেয়ে তার রূপের ডালি, লয়ে যাক চন্দ্রাবলী, খাবে ধুয়ে ধুয়ে, লালন বলে অবেলা ভাসিয়ে তরী, মরলাম বেয়ে।” (পবিত্র লালন- ৪৫৮/৪)।৮.   “আর আমার কেউ নাই, গুরু তুমি বিনে, অযতনে ডুবল তরী, তরাও গুরু নিজগুণে।” (পবিত্র লালন- ১৬৪/১)।৯.   “উত্তরা সুরে বংশী বাজাও, ধীরে তরী উজানে বাও, গুরু নামের পাল উড়াও, রায় কানন ধনুকধারী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৯)।১০. “উথালপাতাল ভবতরী, বান চুঁয়াইয়া ওঠে বারি, কখন ভাঙ্গে বৈঠা তারই, প্রাণে লাগে ভীষণ ডর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)।১১.  “একে তো মোর জীর্ণতরী, পাপে বোঝাই হয়েছে ভারী, কোন্ দিন যেন তরী ডুবে যায়, লালন বলে গুরু এসে হও কাণ্ডারী, এ প্রেমনৌকায়।” (পবিত্র লালন- ৪০০/৩)।১২.  “একে নিরীক্ষ যার, হতে ভবনদী পার, সে তরী কভু টাল খাবে না, পাঁচপীরে চলন- চলে লালন, চুরাশি করে আনাগোনা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৩/৪)।১৩. “এমনই তার অঙ্গ ভারী, গুরু বিনা নাই কাণ্ডারী, লালন বলে ভাসাও তরী, যা করেন সাঁই কৃপাতে।” (পবিত্র লালন- ২৩৯/৪)।১৪. “ও মন বাতাস বুঝে ভাসারে তরী, তেহাটা ত্রিবেণীর তোড় তুফান ভারী।” (পবিত্র লালন- ২৫৪/১)।১৫. “কত ভাগ্যের ফলে না জানি, মনরে পেয়েছ এ মানবতরণী, বেয়ে যাও ত্বরায়, তরী সু-ধারায়, যেন ভরা না ডুবে।” (পবিত্র লালন- ২২৭/৩)।১৬.  “করণসাগর অথৈ পাড়ি, কেমনে যাই স্বর্ণগীরি, বলন কয় তাড়াতাড়ী, মানবতরী চালাইয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৪)।১৭. “করুণাসিন্ধু দ্বারে- দাঁড়াই স্বরূপ দেখিবারে, দয়া চাই তোমার তরে- অধমেরে আর ফিরাইও না, তোমার দয়া না পাইলে- মানবতরী যায় ডুবে জলে, এ জনম যায় বিফলে- ভজন-সাধন মিলে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৫)।১৮. “কী করতে কিবা করি, পাপে বোঝাই হলো তরী, লালন কয় তরঙ্গ ভারী, সামনে।” (পবিত্র লালন- ৭৫৭/৪)।১৯.  “কী ছার কুলের গৌরব করি, অকূলের কূল গৌরহরি, এ ভবতরঙ্গের তরী, আমার গৌরগোঁসাই।” (পবিত্র লালন- ৮০৮/৩)।২০. “কোথায় দয়াল হরি, আপনি এসে হও কাণ্ডারী, তোমায় স্মরণ করি- ভাসালাম ভবতরী, লালন কয় যেন বিপাকে না মরি।” (পবিত্র লালন- ১২৬/৪)।২১.  “কোথায় এনে আমায়, পথ ভুলালে, দুরন্ত তরঙ্গে তরীখানি ডুবালে।” (পবিত্র লালন- ৩৫৩/১)।২২. “ছুতার বেটার কারসাজিতে, দেহতরীর তলা ফুটা ভাই, তরীর আশেপাশের কাষ্ঠ সরল, ফুটাকাঠ পড়েছে তলায়।” (পবিত্র লালন- ৪৪৭/৩)।২৩. “ডুবাও ভাসাও হাত তোমার, তুমি বিনা কেউ নাই আমার, লালন কয় দোহাই তোমার, চরণে নিও তরী।” (পবিত্র লালন- ৩৫৫/৪)।২৪. “ডুবুডুবু মানবতরী, কখন আবার ডুবে মরি, সাঁই নাম ভরসা করি, করুণা চাই তোমার কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮)।২৫. “দয়াল তোমার নাম নিয়ে, তরী ভাসালাম যমুনায়, তুমি নাবিক পারের মালিক, সে আশায় চড়েছি নায়।” (পবিত্র লালন- ৫১১/১)।২৬. “দয়ালের দয়া বিহনে, মানবতরী যায় পতনে, বলন কাঁইজি কয় জীবনে, দয়া বিনা গতি নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০২)।২৭. “দেহতরী খাইল ঘুনে, করুণা কর আপন গুণে, তোমার রাঙ্গা চরণ দর্শনে, হাজার বছর আছি বসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮)।২৮. “নিতাইগঞ্জের চালান নিয়ে, লাভেমূলের বারি বয়ে, অনায়াসে ভবপারে যায়, তরী বায় উজান ধারায়।” (পবিত্র লালন- ২৫৯/২)।২৯. “নিরীক্ষ রেখ ঈশান কোণে, চালাও তরী সযতনে, খালি খালি মরবি প্রাণে, জানা যাবে মাঝিগিরি।” (পবিত্র লালন- ৯৫১/২)।৩০. “পাগল মন ব্যাপারী, শুকনা গঙ্গায় বাইতে তরী, জোয়ার ভাটার ভাও না জেনে, করিস কেন দৌড়াদৌড়ী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৯)।৩১. “পেতে সে ধনের সন্ধান- সাধুগণ রয় ত্রস্তবান, উপাসনা করে ঐ রাতে, পেলে সে সাঁইয়ের দরশন- থাকে না জীবের মরণ, চমৎকার দেহতরীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)।৩২. “বলন কাঁইজি ভেবে বলে, সঙ্গে যায় না কিছু ম’লে, পড়ে মায়া লোভের ছলে, অধঃপতন করলি তরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৭)।৩৩. “বলি গো সাঁই চরণ ধরি, পার করো এ পাপীতরী, বলন কয় বিনয় করি, জুড়াও পাপীর পরানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)।৩৪. “ভাটি বাঁকে পাকের ঘোলায়, কতজন তরী ডুবায়, সামাল সামাল মনরায়, থেক হুঁশিয়ারি।” (পবিত্র লালন- ৭৭৪/৩)।৩৫. “ভাসাও অনুরাগ তরী, বসাও গুরু কাণ্ডারী, লালন কয় সে যে পাড়ি, যাবে সেরে।” (পবিত্র লালন- ১৯৯/৪)।৩৬. “মাকাল ফলটি রাঙা চোঙ্গা, তাই দেখে হলি খোঙ্গা, লালন কয় তালডোঙ্গা, কখন তরী ডুবে তুফানে।” (পবিত্র লালন- ৩০৪/৪)।৩৭. “মাঝি ভাই উজানে চালাও তরী, মাঝখানে বসে নায়ের শক্ত করে হাল ধরি।” (পবিত্র লালন- ৭৭৪/১)।৩৮. “মুখে বলে হরি হরি, নয়নে বইছে বারি, তার ঢলঢল তনুতরী, বুঝি পড়া মাত্র যায় মরে।” (পবিত্র লালন- ৫৬২/৩)।৩৯. “মূল হারালাম লাভ করতে এসে, দিলাম ভাঙ্গা নায়ে বোঝাই ঠেশে, জনম ভাঙ্গা তরী নিয়ে, বল ফুরালাম জল সেচে।” (পবিত্র লালন- ৮০৩/১)।৪০. “মূলাধার অবধি পঞ্চচক্রভেদী, লালন কয় আজ্ঞাচক্রে রয় নিরবধি, হেরিলে সে নিধি যায় ভবব্যাধি, ভাসাও তরী সাগরে।” (পবিত্র লালন- ১৭২/৪)।৪১. “যে ছুতারের নৌকা গঠন, তারে যদি পেতাম এখন, লালন কয় মনের মতন, সারতাম তরী তার কাছে।” (পবিত্র লালন- ৮০৩/৪)।৪২. “লালন কয় শ্রীরাধে বলে, দেহতরী দিলাম ছেড়ে, সোনার কমল সুরধুনীর ঘাটে, দেখ নাগরী যায় ভেসে কোন মানুষে।” (পবিত্র লালন- ২২৫/৩)।৪৩. “শুদ্ধ মাস্তুল ঠিক করে, প্রেমবাদাম দাও খেটে, মদনগঞ্জ বাঁয়ে রেখে, চালাও তরী উজান ধার।” (পবিত্র লালন- ৪০৫/২)।৪৪. “শোষায় শোষে না ছাড়ে বান, ঘোর তুফানে বায় তরী উজান, তার কামনদীতে চর পড়েছে, প্রেমনদীতে জল পোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৭/২)।৪৫. “শোষায় শোষে না ছাড়ে শ্বাস, উজান তরী চালায় বারোমাস, কতজন তাই- চুবানি খায়, সাধুগণ যায় ধামে।” (পবিত্র লালন- ২৪২/৪)।৪৬. “সাধের একখান তরী ছিল, অযতনে বিনাশ হলো, জল চুয়ায় রাত্রি দিনে, সময়ে গাব দিতাম যদি, বাইতে পারতাম জীবন অবধি, তরী আদর করতো মহাজনে।” (পবিত্র লালন- ১৬৪/২)।৪৭. “সামাল সামাল সামাল তরী, ভবনদীর তুফান ভারী।” (পবিত্র লালন- ৯৫১/১)।৪৮. “সারাজনম সুখ পাইলাম না গুরু তরীটি বেয়ে, আমার এ ভাঙ্গাতরী যায় বুঝি ডাঙ্গায় ডুবিয়ে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৪)

. কানাই অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology yawl sense for leaky)
১.   “এক নদীতে তিন ধারা, নাই নদীর কূল কিনারা, বেগে তুফান বয়- দেখে লাগে ভয়, পার হও যদি সাজাও প্রেমতরীরে।” (পবিত্র লালন- ৫৪০/৩)।২.   “এ ভবেতে প্রেমতরী, পাঠিয়ে দিলেন পাপীর লাগি, মানুষ চাপিয়ে তাতে- অনায়াসেতে, স্বর্গেতে পায় অধিকার।” (পবিত্র লালন- ৯৬৭/২)।৩.   “এস মায়ানদ ত্রিধারায়, প্রেমতরী ধীরে চালায়- গো, নিতাইশালের ত্রিমোহনায়, ভাঙ্গিও না বৈঠাখান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)।৪.   “ওরে রসিক যারা, প্রেম জোয়ারে রসের তরী বায়, জোয়ার ভাটা জেনেশুনে, সাবধানে তরী চালায়।” (পবিত্র লালন- ২৫৯/১)।৫.   “গুরুচাঁদ হলে কাণ্ডারী, উজান বেয়ে যায় সে তরী, মরণের ভয় না করি, বাস করে সে মধুপুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২)।৬.   “চিরদিন কাণ্ডারী হয়ে, কত তরী বেড়াও বয়ে, আমার জীর্ণতরী রেখ যতনে, যদি তোমার মনে লয়।” (পবিত্র লালন- ৫১১/২)।৭.   “ছিদ্র ছিল নায়ের মাঝখানে, ভরল তরী জল ছুয়ানে, জানতাম যদি ছিদ্র গোপনে, লালন কয় নায়ে চড়তাম না।” (পবিত্র লালন- ৭২/৪)।৮.   “ত্রিধারায় বাইতে তরী, তোমার নাম ভরসা করি, তুমি নায়ে হও কাণ্ডারী, তুমি বিনা কিছু চাই না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০১)।৯.   “প্রেম-নদীতে প্রেমের-বড়শি ফেলবি খবর্দার, নিয়ে গুরু-মন্ত্র ছাড়ো যন্ত্র, ঠিক হয়ে বসো তরীর ‘পর।” (পবিত্র লালন- ৬৪৬/১)।১০. “প্রেমনদেতে প্রেমতরী, কখন যেন ডুবিয়া মরি, আমি কেমনেতে দিব পাড়ি, অথৈ ত্রিকোণ পারাপার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)।১১.  “প্রেমরসের ঘাট ভাঁড়িয়ে, তরী বায়ো না, আইন জানো না, বললে কথা মানো না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৩/১)।১২.  “ভাগ্যবান যেজন ছিল, সে তরীতে পার হলো, লালন ঘোর তুফানে পড়ল, ভক্তি কেটে।” (পবিত্র লালন- ৬২৯/৪)।১৩. “মন ত্রিবেণী ডিঙ্গিখানা, ভরা গাঙ্গে কেন বাইলি না, শুকায় গেলে প্রেমযমুনা, কী পাবিরে বাইলে তরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৯)।১৪. “মায়ার গিরা কাট, ত্বরায় প্রেমতরীতে উঠ, কারণ সমুদ্দুর- পার হয় চতুর, লালন কয় যাও পারে গুরুর বাক্ ধরে।” (পবিত্র লালন- ৫৪০/৪)।১৫. “যে গঠেছে এ প্রেমতরী, সে হয়েছে চড়ন্দারী, কুলের ঘোরে চিনতে নারি, মিছে গোলবাধাই।” (পবিত্র লালন- ১১২/২)।১৬.  “শুদ্ধ প্রেমতরীখানা, একমনের বেশি ধরে না, গুরু শিষ্য একজনা, লালন একমন ওজন তার।” (পবিত্র লালন- ৪০৫/৩)।১৭. “সু ধারায় বাও প্রেমতরী, চুবানি যেন দেয় না অরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৯)

. পুরুষদেহ অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology Yawl sense for Earthen)
১.   “দয়াল মহারসী অথৈপাথার, মণিতরীতে হলাম সাঁতার, কী সাধনে হই পারাপার, কখন যে খাই চুবানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)।২.   “মণিপুরী প্রেমতরী, কোন্ দিন হবে ক্ষীরধর, প্রেমযমুনার ত্রিমোহনায়, শ্যামবন্ধুর ঘর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)।৩.   “যে জলে এ তরী চলে, যারে অমৃতসুধা বলে, তারে আমি অবহেলে, জল সাধনা হলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৯)।৪.   “লক্ষকোটি জনম ঘুরি, পেরিয়ে তিনশদশটি পুরি, যতবার পতন তরী, ততোবারই হয় জনম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৭)

. টল অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology Yawl sense for Stagger)
“গুরু যার হয় কাণ্ডারী, শুকনাতে চালায় অচলতরী, ভবতুফানে ভয় কী তারই, নেচে গেয়ে পারে যাবে।” (পবিত্র লালন- ৩৯৮/২)

. সাম্প্রদায়িক মতবাদ অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology Yawl sense for schismatic doctrine)
“প্রেমসাগরের তুফান ভারী, ধাক্কা লাগে ব্রহ্মপুরী, কর্মযোগে শাস্ত্রতরী, কারো কারো তাতে বেঁচে ওঠে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/২)

. যৌবনকাল অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology yawl sense for maturation)
“দেখে আমার ভরাতরী– চোর ডাকাতরা বুদ্ধি করি, পিছে পিছে দিয়েছে রওয়ানা- রংপুর ছেড়ে ঢাকা যাব- নিতাইশালে মাল কিনিব, ত্রিমোহনা পাড়ি দিলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৬)

. দেখা দেওয়া অর্থে তরীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology yawl sense for appearance)
১.   “এসো হে অপারের কাণ্ডারী, আমি পড়েছি অকূল পাথারে, এসে দাও আমায় চরণতরী।” (পবিত্র লালন- ২৩৫/১)।২.   “কিসে ত্রাণ পাবি সংকটে, বৈতরণীর তটে, গুরুর চরণতরী তারণ করবে, অকপটে।” (পবিত্র লালন- ২৯৬/১)।৩.   “গুরুরূপ যে ধ্যানে রয়, কী করবে তারে শমন রায়, নেচে গেয়ে ভব পারে যায়, সে গুরুর চরণতরীতে।” (পবিত্র লালন- ২৩৯/২)

তরীর সংজ্ঞা (Definition of yawl)
সাধারণত; নৌকা বা ভেলাকে তরী বলে।

তরীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of yawl)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানবের স্থূল আকারকে দেহ বা রূপকার্থে তরী বলে।

তরীর প্রকারভেদ (Variations of yawl)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে তরী দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান তরী ও ২. উপমিত তরী।

. উপমান তরী (Analogical yawl)
সাধারণত; নৌকা বা ভেলাকে উপমান তরী বলে।

. উপমিত তরী (Compared yawl)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানবের স্থূল আকারকে দেহ বা উপমিত তরী বলে।

তরীর পরিচয় (Identity of yawl)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহ পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ। জলপথে মানুষ ও দ্রব্যাদি আনা-নেওয়ার সাধারণ যানকে তরী বলা হয় কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল মানবের স্থূল আকারকে তরী বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে তরীরূপ এ পরিভাষাটির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; একেক ভাষায় একেকভাবে ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগাচর হয় না। অত্যন্ত হাস্য-উপহাসের বিষয় হলো সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক ও অনুবাদকরা সাম্প্রদায়িক মতবাদের সেই সূচনালগ্ন হতে আজ পর্যন্ত শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত তরী পরিভাষাটির দ্বারা কেবল জলে প্রবাহিত নৌকা বা ভেলাকেই বুঝেন এবং বুঝিয়ে থাকেন। যেমন; তারা নিজেরাও উপমানপদের উপমেয় পদ জানে না; তেমনই; পাঠক-পাঠিকাকেও তা জানতে ও বুঝতে দেয় না। যেমন; এ পরিভাষাটি দ্বারা সাধারণ সাহিত্যে নৌকা বুঝায়; তেমনই; শ্বরবিজ্ঞানে ‘কানাই’, ‘দেহ’ ও ‘ভগ’ বুঝায়। এ বিষয়টি সাম্প্রদায়িক মনীষী-বক্তাদের হয়তো ধারণাও নেই।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!