ত্রিবেণী

৭০/১. ত্রিবেণী
Triad (ট্রাইয়ার্ড)/ ‘ثالوثا’ (ছালুসা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ভৃগু পরিবারের অধীন গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা জরায়ুমুখ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা ভৃগু। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা খিড়কি, পর্বত, পাখি সিঁধ। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অর্জুন, জিষ্ণু, দ্বারী মহারাজ এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা অসি, পরশু, স্বর্গদ্বার স্বর্গমুখ

অভিধা (Appellation)
ত্রি বি তিন, সংখ্যা বিণ সংখ্যক।

বীণ (বাপৌউ)বি বীন, বীণা, বাদ্যযন্ত্র বিশেষ, সাপুড়িয়াদের এক প্রকার বাদ্যযন্ত্র বিশেষ।

বীণ (বাপৌছ)বি ছিদ্র, ফুটা, রন্ধ্র, ছেদা, ফোড়া (যেতে পথে কামনদীতে পাড়ি দিতে ত্রিবেণে- লালন)

ত্রিবেণী (বাপৌরূ)বি ত্রিবীণি, তিনটি স্রোতের মিলনস্থল ১. লাল ২. সাদা ও ৩. কালা; এ তিনটি ধারার মিলনস্থন বা ১. গঙ্গা ২. যমুনা ও ৩. সরস্বতী; এ তিনটি নদীর মিলন বা বিচ্ছেদস্থল, triad, ‘ثالوثا’ (ছালুসা) (পরি) জরায়ুমুখ, womb aperture, একমাত্র জরায়ুমুখ হতে লাল (রজ), সাদা (সুধা) ও কালো (মধু); এ তিনটি ধারা প্রবাহিত হয়। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে ভৃগুকে রূপকার্থে তিনটিধারার সঙ্গমস্থল বা ত্রিবেণী বা ত্রিবেণী বলা হয়, the face of womb, the mouth of womb (ব্য্য) মৈথুনে শুক্রপাতের মাধ্যমে মানুষ হতে মানুষ কেটে, গিয়ে আবার সন্তান সদৃশ মানুষ আকারে বের করে দেয়। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুমুখকে ক্ষুর বা ভৃগু বলা হয় (শ্ববি) ১. ভৃগু, প্রপাত, জলপ্রপাত, নির্ঝরের পতনস্থান ২. ক্ষুর, তলোয়ার, পরশু, ভৃগুদেশ, ভৃগুমুণি, ভৃগুরাজ, ভৃগুপতি, স্বর্গদ্বার, অক্রুর, ত্রিকুট, ত্রিত, ত্রিনাথ, ত্রিপুর, ত্রিপাদ, ত্রিমূর্তি, ত্রিলোচন, ত্রিশংকু, ত্র্যম্বক, ধনঞ্জয়, নারদ, বজ্রপাণি, যক্ষ, সগর, সান্দীপনি, হিমবান, হিমালয়, হিরণ্যবর্মা, হিরণ্যরেতা, হৈহয় (গ্রিপৌছ) chopper, declivity, precipice, slope, plateau (ইপৌচা) আত্তার (.ﻋﻄﺎﺮ), আফলাত (ফা.ﺍﻔﻼﻄﻭﻦ), ওহোদ (.ﺍﺤﺪ), কেল্লাদার (.ﻘﻟﻌﻪ ﺪﺍﺭ), কোহি (ফা.ﻜﻮﻩ), কোহিতুর  (ফা.ﻛﻭﻩ ﻄﻭﺮ), ছেমহলা (ফা.ﺴﻪﻤﺤﻝ), জঙ্গিজ (তু.ﺟﻨﮕﻴﺯ), জল্লাদ (.ﺠﻼﺪ), জাঁহাবাজ (ফা.ﺠﺎﻧﺑﺎﺯ), জাসুস (.ﺠﺎﺴﻭﺱ), জুলকারনাইন (.ﺬﻮ ﺍﻟﻗﺭﻧﻴﻦ), নজাশি (.ﻨﺟﺎﺸﻰ), মিযান (.ﻤﻴﺯﺍﻦ), মিসর (.ﻤﺻﺮ), মুসা (.ﻤﻭﺴﻰٰ), মোক্তা (.ﻤﻗﻄﻊ), শাদ্দাদ (.ﺸﺪﺍﺪ), শাবান (.ﺷﻌﺒﺎﻦ), সেকান্দর (.ﺳﻛﻨﺩﺮ), হায়দার (.ﺤﻴﺪﺮ), হুদহুদ (.ﻫﺪﻫﺪ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ভৃগু পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; তিনটি স্রোতের মিলনস্থলকে বাংলায় ত্রিবেণী বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, জরায়ুমুখকে রূপকার্থে ত্রিবেণী বলা হয় (বাপৌছ) অসি, পরশু, স্বর্গদ্বার ও স্বর্গমুখ (বাপৌচা) অর্জুন, জিষ্ণু, দ্বারী ও মহারাজ (বাপৌউ) খিড়কি, পর্বত, পাখি ও সিঁধ (বাপৌরূ) ত্রিবেণী (বাপৌমূ) ভৃগু {বাং. ত্রি + বাং. বেণী}

Triad [ট্রাইয়ার্ড] (GMP)n ত্রয়ী, ত্রিত্ব, ত্রয়, তেতার, ত্রিত্রয়, three, trio, trio, triplication, threesome, triplet, tern, ‘الثالوث’ (আস্সালুস), ‘ترياد’ (তারিয়াদ) {}

ثالوثا [ছালুসা] (আপৌছ)বি ত্রয়ী, ত্রিত্ব, ত্রয়, তেতার, ত্রিত্রয়, three, trio, trio, triplication, threesome, triplet, tern, ‘الثالوث’ (আস্সালুস), ‘ترياد’ (তারিয়াদ) {}

ত্রিবেণীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of triad)
১.  “আমার সাড়ে তিন টন- অমৃতসুধা রসরতন, আর মাল্লা বারোজনা, মণিপুর ত্রিবেণে গিয়া- ধনীকে নিঃস্ব বানাইয়া, ডাকাতরা চক্ষু করে কানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৯)
২.  “তোর চাঁদবদন দেখার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে (রে), মদনরাজা বুদ্ধি নাশে, ছয়চোরাতে কাটে ঘর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৭)
৩.  “ত্রিবেণীর ত্রিধারে, মীন রূপে সাঁই বিহার করে, তুমি ওপর ওপর বেড়াও ঘুরে, সে গভীরে ডুবলে না।” (পবিত্র লালন- ৯২২/২)
৪.  “দেখবি গিয়ে সাগরপাড়ে, ত্রিধারা বয় এক সাগরে, যেতে হবে মিঠা ধারে, নিরীক্ষ ধরে ত্রিবেণীর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩২)
৫.  “যেতে পথে কামনদীতে, পাড়ি দিতে ত্রিবেণে, কত ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা, পড়ে নদীর ঘোর তুফানে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/২)

ত্রিবেণীর সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of triad)
১.   “অগণিত উপ তত্ত্ববাহক বিদায় এ ধরাতে, জিন্দা বাহক আছে কলির জীবকে তরাইতে, পাইতে তত্ত্ববাহকের দেখা- গুরুকে কর সখা, স্বরূপ সাধন পুরে নিরীক্ষ ধর ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৩)
২.   “অমাবস্যার পর চন্দ্র উদয়, দেখতে যার বাসনা হয়, লালন বলে থাকো সদাই, ত্রিবেণীতে থাকো বসে।” (পবিত্র লালন- ৯৭৬/৪)
৩.   “অমূল্য ধন মাণিক রতন, ঐ নিশিতে হয় বিতরণ, কলির জীবকে তরাতে-, আপন ঘরে হয় বিতরণ, পেলে ধন হয় মহাজন, নিতাইশালের ত্রিবেণীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)
৪.   “আমায় পার কর দয়াল, ত্রিবেণীর স্বরূপঘাটে, তুমি বিনা এ অধিনে, পারের কাণ্ডার কে আছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮)
৫.   “আমি কেমনে তরাইব তীরে, তোমার দয়া বিহনে, এ পাপীরে তরাও গো তীরে, দয়াল কঠিন ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১)
৬.   “উর্ধ্বগমন ত্রিধমনী, ঐ কামের সাঁকো ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯)
৭.   “এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবিদের কথা বলে, এক জনকেই জিয়ান রেখে সবায় তো গেছে চলে, জিন্দানবি চেনে ধর- আপনার জীব কর্ম সার, বলন কাঁইজি ভাবিয়া কয়- সে ঠিকানা হয় ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫১)
৮.   “এ ভুবনে মানুষ নমুনা, স্বরূপ বিনা অন্য কিছু না, মাসে একবার আনা গোনা, ত্রিবেণীর দুই ধারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৩)
৯.   “ঐ অমাবস্যা পূর্ণিমাতে, দ্বিতীয়া যোগ প্রথমেতে, ভাগ্যবানরা পায় দেখিতে, ত্রিবেণীর কোণে নিঠাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)
১০. “ও মন বাতাস বুঝে ভাসারে তরী, তেহাটা ত্রিবেণীর তোড় তুফান ভারী।” (পবিত্র লালন- ২৫৪/১)
১১.  “ও যার শতদল কমলে, ত্রিবেণীতে তুফান খেলে, ভাটার প্রতি যায় না সে, চলে উজান পানে।” (পবিত্র লালন- ৬৫৬/২)
১২.  “করণকারায় বসে থেকে, ত্রিবেণে বাজায় বীণখানা, জলের মধ্যে জ্বালায় বাতি, সাধু বিনা দেখে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫২)
১৩. “কর্ম সাধন যে করেছে, পাকাগুরুর বচনে, সোনার-মানুষ সে পেয়েছে, আপন ঘরের ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭২)
১৪. “করে ভাড়া করা উপাসনা, তাতে তো দয়াল মিলে না, নিজেই নিজের করো প্রার্থনা, ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৭)
১৫. “কেন শান্ত হও না রে আমার মন, ত্রিবেণী নদীর করো অন্বেষণ।” (পবিত্র লালন- ৩৩৫/১)
১৬.  “কোন পথে সাঁই ঘুরেফেরে, কাঁই আসে কয়দিন পরে, কোন গলিতে নিরীক্ষ ধরে, বসে থাকি ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)
১৭. “গুরু-রূপ যাদের অন্তরে, অধর-সাঁই তারাই ধরে, যায়রে তারা পরপারে, নিদানের কঠিন ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫২)
১৮. “চৌদ্দশাখে চব্বিশফুল- দেখতে ভারি অতুল, একটি ফুল থাকে গোপনে-, সাধু সন্ন্যাসী বাউল- তুলতে যায় সে কালোফুল, মোহিন্দ্র যোগে ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০২)
১৯.  “জিন্দা নবির খবর করে, রসিক ত্রিবেণীতে অধর ধরে, আপন কর্ম আপনি সারে, লালনের ভাগ্যে তাও হলো না।” (পবিত্র লালন- ৫৭৪/৪)
২০. “জ্ঞানের পারায় ভাব লাগিয়ে, ত্রিবেণী পাড়ে বসগে গিয়ে, নয়নে নিরীক্ষ বান্ধিয়ে, ঝরার খালে রাখ পাহারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৯)
২১.  “ত্রিশ বছর মানুষ-নিধি, আসে যায় নিরবধি, অধর-মানুষ ধরবি যদি, দ্বিপদে ত্রিবেণে বয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬২)।২২. “তুমি হে জগৎকাণ্ডারী, ডাকি তোমায় চরণ ধরি, দয়াল তুমি তরাইলে তরি, বলন কয় ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১)
২৩. “ত্রিধারা ভরা নদী, সকালেই যাইতাম যদি, নদীটি পাড়ি দিয়ে-, এ জনম সফল হতো, কাঁইয়ের দেখা মিলিত, গুরু ত্রিবেণীর পাড়ে গিয়ে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৪)
২৪. “ত্রিবেণীনগর মেঙ্গে খাব, সাধুর মেলে বাস করিব, ভজিব চরণ দু’খানি-, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, থেকে সাধুর চরণতলে, দেখব স্বরূপ রৌশনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯)
২৫. “ত্রিবেণী পাড়ি দিতে ভবে, দয়াল বিনা কে তরাবে, বলন কয় আমার কী হবে, কঠিন পারের বেলায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৩)
২৬. “ত্রিবেণীর কোন ঘাটে মধু, সে ভেদ জানে নিষ্ঠাসাধু, সাধুর নিকট জেনে যাদু, মধু খারে হাজার মাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৬)
২৭. “ত্রিবেণীর ত্রিধারে, মীন রূপে গুরু বিরাজ করে, কেমন করে ধরবি তারে, বলরে অবুঝ মন।” (পবিত্র লালন- ১৫৩/৩)
২৮. “ত্রিবেণীর ত্রিধারা বয়, ধারা চেনে তারে ধরতে হয়, কোন ধারায়- তার সদাই, বিহার হচ্ছে ভাবের ভুবনে।” (পবিত্র লালন- ৭৩৯/২)
২৯. “ত্রিবেণীর ত্রিসন্ধি, খুলতে পারে সে ফন্দি, প্রেমডুবুরী হলে, তবে সে মীন- আপনাপনি, আসবে হাতে চলে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩/৩)
৩০. “ত্রিবেণীর পিছনঘাটে, বিনা হাওয়ায় মৌজ ছোটে, বোবায় কথা কয়- কালায় শুনতে পায়, আন্ধেলায় পরখ করে সে না।” (পবিত্র লালন- ৫২৭/৩)
৩১. “দক্ষিণের কালশশী উদয় হয় উত্তরে গিয়া, বসে থাকে পারঘাটেতে শক্তিরূপ ধরিয়া, পারমিদের মহান মহিমা- অলৌকিকশক্তির নিশানা, পাইতে সে শক্তিখানা- নিরীক্ষ ধররে ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৪)
৩২. “দেখবি গিয়ে সাগর পাড়ে, ত্রিধারা বয় এক সাগরে, যেতে হবে মিঠা ধারে, নিরীক্ষ ধরে ত্রিবেণীর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩২)
৩৩. “দ্বিপদিকাল চলে গেল, চতুষ্পদ যমকল, ষষ্ঠপদ ত্রিবেণীতে পলো, সাঁইদর্শন হলো না আর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৮)
৩৪. “নিগূঢ় ঘরের খুলে তালা- জগৎগুরু দেখ উজ্বালা, খেললে সেথা অটলখেলা- দেখতে পাবিরে নমুনা, নয় দরজা এগারনালা- ত্রিবেণে ত্রিরসের খেলা, উযান ধারায় করলে হেলা- জীবনে গুরু মিলে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৪)
৩৫. “পথের নাম ত্রিবেণীঘাট, বাঘে সর্পে ঘিরে আছে বাট, রসিকজনা ঘাটের লাট, মহামীন আসে তার সাথে।” (পবিত্র লালন- ২৩৩/৩)
৩৬. “পাঁচশত বছর পাঞ্জালড়ে, ঘর বাঁধো নিঠাঁইপুরে, দেখা কর চুপিসারে, ত্রিবেণীতে দাও ঠিকানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৪)
৩৭. “পূর্ণিমার যোগাযোগ হলে, শুকনানদী উজান চলে, ত্রিবেণীর পিছলঘাটে, নিঃশব্দে বন্যা ছোটে, চাঁদ-চকোরে ভাটার চোটে, বাঁধ ভেঙ্গে যায় তৎক্ষণা।” (পবিত্র লালন- ৬৩৬/৩)
৩৮. “প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে, কামনদীর এক ধাক্কা এসে, কেটে যায় বাঁধন ছাদন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/২)
৩৯. “বড় রসিক রাখাল যারা, ত্রিবেণে বসে থাকে তারা, আমায় করে জিন্দা মরা, ধেনু ফিরানে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৭/২)
৪০. “বলন কাঁইজি ভেবে বলে, মহাশক্তি দেখবি মূলে, গুরুদক্ষিণা সঠিক হলে, দয়াল মিলিবে ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩)
৪১. “বলন বলে পড়ে জালে শেষকালে তোমার দেখা চাই, তুমি বিনা নিদানে ত্রিবেণে এ অধীনের কাণ্ডারী নাই, সাঁইয়ের চরণ বিনা কেমনে, পাড়ি দিব ত্রিমোহনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৩)
৪২. “বারো চৌদ্দেতে যাইয়া-স্থিতি হয় রতীতে গিয়া, সারি সারি রয় দাঁড়াইয়া- ত্রিশ হাজার হইতে পার-, ত্রিবেণীর কোমলকোঠায়– বসে থাকে দয়াল গোঁসাই, গুরু নামের দিয়া দোহাই- হইয়া যায় নদী পার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০১)
৪৩. “ভোলা মন দেখরে সাঁইজির রঙ্গিন ভোজবাজি, ত্রিবেণীতে দুরঙ্গেতে দ্বিকর্তা সাঁই কাঁইজি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৯)
৪৪. “মণিপুর ত্রিবেণীতে গিয়ে, শুধুই লীলায় মইজ না, দিন ধরিয়ে তিনের ঘরে, কর সঠিক উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৮)
৪৫. “মণিপুরে মনোহারী নল, ত্রিবেণীতে আছে বাঁকা কল, মাকড়ার আঁশে বন্দি জল, লালন বলে কেউ বুঝে কেউ পড়ে ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৯৫/৪)
৪৬. “মণিমঞ্চ মৈথনদণ্ড, গিলে খায় অহিমুণ্ড, ত্রিবেণীতে হয় বিখণ্ড, বলন কয় অটল ছাড়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১)
৪৭. “মন চোরারে ধরবি যদি মন, ফাঁদ পেতে বস ত্রিবেণে, অমাবস্যার পর পূর্ণিমাতে, বারাম দেয় সেখানে।” (পবিত্র লালন- ৭৩৯/১)
৪৮. “মন তোর ত্রিবেণী ডিঙ্গিখানা, ভরা গাঙ্গে কেন বাইলি না, শুকায় গেলে প্রেমযমুনা, কী পাবিরে বাইলে তরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৯)
৪৯. “মন্মথ কবন্ধখানি, লয়ে কাগজ লেখনী, মনযানে যাবি ত্রিবেণে-, মহাতলে দিয়ে প্রণতি, হয়ে যাও ঊর্ধ্বগতি, পাল উড়াও বাম পবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৭)
৫০. “মহাজনের ধন এনে, ডুবালি এ ত্রিবেণে, মাডুয়াবাদীর মত যাবি, ধরা পড়ি।” (পবিত্র লালন- ২৫৪/৩)
৫১. “যে পেয়েছে সে বুঝেছে, অমৃতফলের চাকা, তারে বর্তমানে সাধন করো, ত্রিবেণীতে পাবি দেখা।” (পবিত্র লালন- ৬৮১/২)
৫২. “রসরতীর নাই নিরূপণ, আন্দাজি করি সাধন, কিসে হয় প্রাপ্তি সে ধন, ঘুচে না মনের ঘোলা, উজানে কী ভেটেনে পড়ি, ত্রিবেণীর তীর নালা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৫/৪)
৫৩. “রূপনদে স্বরূপ ধর আপন জীবকর্ম সার, রূপ স্বরূপ জোয়ার-ভাটায় ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)
৫৪. “শুনি গো সাধুর বচনে, করণকারা হয় ত্রিবেণে, সেথায় আমি যাই কেমনে, সাধন বিহীন অজ্ঞানী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮০)
৫৫. “শুনেছি ত্রিবেণীর ঘাটে, আজগুবি এক ফুল ফুটে, সে ফুল থাকে মায়ের পেটে, রসিক ধরে ফুল প্রেমডুরিতে।” (পবিত্র লালন- ৮৩১/৩)
৫৬. “শ্রীগুরুরূপ আশ্রিত যারা, সব খবরের জবর তারা, লালন কয় অধর ধরা, ফাঁদ পেতে ত্রিবেণী বয়।” (পবিত্র লালন- ৪৮৭/৪)
৫৭. “সঠিক পরিমাপ চিনতে হলে, থাকো সাধুর চরণতলে, জাত মারিলে শান্তি মিলে, বিশ্বময় ও ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৪)
৫৮. “সবে বলে স্বরূপমণি, থাক না বসে দ্বার ত্রিবেণী, লালন কয় সামাল ধনী, সে কিনারা।” (পবিত্র লালন- ৯৮০/৪)
৫৯. “সাতকুড়ি ত্রিবেণী তলে, আল্লাহ ব্রহ্মা কাঁই জলে, যোগাযোগ দুই মৃণালে, বিণয় করে বলন কয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৩)
৬০. “সাতাশেতে দিকের কাঁটা, ছয়প্রহরে দিনের ভাটা, সাড়ে তিনে ঘণ্টা কাঁটা, বেল বারটা ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১০)
৬১.  “সাধ্য কী মোর তোমায় বিনে, একা ধরব পাড়ি ত্রিবেণে, দিও দিও দিও চরণ, গুরু ঐ আশে রয় বলন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৫)
৬২. “সামান্যে কী চেনা যায় সে নদী, বিনা হাওয়ায় ঢেউ ওঠে নিরবধি, শুভযোগে জোয়ার আসে, ত্রিবেণী ভাসে বানে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৫/২)
৬৩. “সিরাজ সাঁইজি বলেরে লালন, স্বরূপ রূপে দিলে নয়ন, সেথায় পার হয়ে যাবি তখন, সাধন বিনা সে ত্রিবেণে, ভুগবি মনে ভবের ভোগে।” (পবিত্র লালন- ৭১৩/৪)
৬৪. “সেই পঞ্চ রস অমৃতসুধার বাণিজ্য মেলায়, দুগ্ধ রতী সুধা মধু কত যে ভেঁসে বেড়ায়, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, ত্রিবেণীর দরজা খুলে, পঞ্চরস নিও তুলে জনমভরি (ও ভোলা মন)।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪১)
৬৫. “সে ধনের আশায় যারা, ত্রিবেণী দেয় পাহারা, পেয়ে মহাযোগ- এড়ায় ভবরোগ, লালন মরল মনের গুণে।” (পবিত্র লালন- ৭১৮/৪)
৬৬. “সে নদীর নালে খালে, আজব এক জাহাজ চলে, ত্রিবেণীতে বসে চালায় জাহাজখানা, দিবানিশি চালায় জাহাজ, কখনও সে ঘুমায় না।” (পবিত্র লালন- ৫২৯/৩)

ত্রিবেণীর সংজ্ঞা (Definition of triad)
সাধারণত; তিনটি স্রোতের মিলনস্থলকে ত্রিবেণী বলে।

ত্রিবেণীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of triad)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জরায়ুমুখকে ভৃগু বা ত্রিবেণী বলে।

ত্রিবেণীর প্রকারভেদ (Variations of triad)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ত্রিবেণী দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান ত্রিবেণী ও ২. উপমিত ত্রিবেণী।

. উপমান ত্রিবেণী (Analogical triad)
সাধারণত; তিনটি স্রোতের মিলনস্থলকে উপমান ত্রিবেণী বলে।

. উপমিত ত্রিবেণী (Compared triad)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জরায়ুমুখকে ভৃগু বা উপমিত ত্রিবেণী বলে।

ত্রিবেণীর পরিচয় (Identity of triad)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ভৃগু পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। তিনটি স্রোতের মিলনস্থলকে ত্রিবেণী বলা হয় কিংবা যে কোনো ত্রিধারার মিলনস্থলকেই ত্রিবেণী বা ত্রিবেণী বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; ত্রিবেণী ও ত্রিবীণী পরিভাষাদ্বয় একই অর্থেই ব্যবহৃত হয়। শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার মধ্যে ত্রিবেণীর ব্যবহার সর্বাধিক লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রদায়িক হিন্দু ও মুসলমান ব্যৈখ্যিক ও টৈকিকগণ পদ্মা-যমুনা-মেঘনার মিলনস্থল বলে অনেকেই বাংলাদেশের চাঁদপুরকে ত্রিবেণী বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ এর কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বরং নীরব থাকাই উত্তম মনে করেছেন। বিশ্ববরেণ্য আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ বলেন যে; একমাত্র আত্মদর্শন ভিন্ন বহিঃবিশ্বের কোথাও ত্রিবেণীর অস্তিত্ব নেই। যদি তিনটি পথের মোড়কে ত্রিবেণী বলা হয়, তবুও; পরিভাষাটির স্থূল অর্থের সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ হয় না। কারণ; পরিভাষাটির উৎপত্তি মূল হলো; ত্রি+বীণ = (ত্রি+ছিদ্র)। যারফলে; এর প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় তিনটি ছিদ্রযুক্ত। ত্রি-মোহনা বা ত্রি-মোহনী হলেও কোথাও কোথাও তিনটি নদীর মিলনস্থল আছে বলে ধরে নেওয়া যেত। যেহেতু; এটি; তিনটি বীণ। এজন্য; ত্রিবেণী হতে হলে অবশ্যই তিনটি ছিদ্রের সাথে সম্পৃক্ত হতেই হবে। এর আরও একটি প্রতিশব্দ রয়েছে।

ত্রিবেণী (বাপৌরূ)বি তিনটি স্রোতের মিলনস্থল (প্র) ১. গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী; এ তিনটি নদীর মিলন বা বিচ্ছেদস্থল ২. লাল, সাদা ও কালা; এ তিনটি ধারার মিলনস্থল।

প্রায় ছয় হাজার বছর (৬,০০০) পূর্বে সুমহান আত্মজ্ঞানী রূপকার মনীষীগণ স্ত্রীজাতির জরায়ুমুখ হতে লাল (রজ), সাদা (সুধা) ও কালো (মধু)- এ তিনটি ধারা প্রবাহিত হতে দেখে এর এমন নামকরণ করেছিলেন। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শ্বরবিজ্ঞানে এ তিনটি ধারার বর্ণনার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। নিচে এ ত্রিধারার সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো।

লাল, সাদা ও কালো ধারার বিবরণ (Description of red, white and black clause)
মরমীকবি কানাইলাল শীল লিখেছেন;

                        দুই পাহাড়ের মাঝে মাওলা মসজিদ বানাইছে
            কামিনীরা কাম করিয়া কোথায় যেন লুকাইছে।

মসজিদের তিনটি খিড়কি দ্বার
সাপিয়ে রাখছে পানি ওজু করিবার
সেই পানিতে দিনের নবি
আল্লাহর জিকির করতেছে।

নদীতে জোয়ার যায় যখন
তিন প্রকার পানি আসে লাল সাদা কালাবরণ
সেই পানিতে মরা কুম্ভীর
হাজার  ডিম্ব পাড়তেছে।”

লাল, সাদা ও কালো ধারার বৈদিক প্রমাণ (The vedas’s evidence of red, white and black clause)
১.    “অগ্নি সকলের ত্রাণকর্তা অহি দীপ্তিশালী অভীষ্টবর্ষী শিখা ও ঔষধিগুলো দ্বারা সমাচ্ছাদিত। তিনি অপ্রতিহত গতি এবং লাল, সাদা ও কৃষ্ণবর্ণ জ্বালাগুলোতে পরিব্যাপ্ত। তিনি বর্ষণকারী ও অন্নদাতা। আমরা তাকে আহবান করছি, তিনি সমস্ত ধন রক্ষার সাথে আসুন।” (ঋবেসপ্রখপম, সূ-৪৩, ঋ-১৩)
২.   “ধোঁয়া বর্ণের তিনটি পশু বসন্ত দেবতার, সাদা বর্ণের তিনটি পশু গ্রীষ্ম দেবতার, কালো বর্ণের তিনটি পশু বর্ষা দেবতার, লাল বর্ণের তিনটি পশু শরৎ দেবতার, বিভিন্ন বর্ণের বিন্দুযুক্ত তিনটি পশু হেমন্ত দেবতার, রক্তিমাযুক্ত পিঙ্গলবর্ণের তিনটি পশু শিশির দেবতার উদ্দেশে যুক্ত করছি।” (যবেসচবিঅ পৃন-১৫১, য-১১)

লাল, সাদা ও কালো ধারার তৌরাতিক প্রমাণ (The torah’s evidence of red, white and black clause)

লাল (বাপৌছ)বি প্রিয়, প্রিয়পুত্র, প্রিয়বৎস, প্রিয় সন্তান।
লাল (বাপৌছ)বি থুথু, ছ্যাপ, মুখজাত রস।
লাল [ﻻﻝ] ((আপৌছ)বি শিশুপুত্র, প্রিয় সন্তান, প্রিয়বৎস {ফা}
লাল [ﻻﻝ] (আপৌছ)বি লোহিত, লোহিতবর্ণ, রক্তবর্ণ, রক্তিম, রঞ্জন, নাল, ঘোড়ার খুরের লোহার পাত (প্রাঅ) রক্তিমা, লালজল, রক্তিমাবতার, মাসিকাবতার, যৌবনাবতার (“আবে খাকে গঠল পিঞ্জিরে, শুকপাখি আমার কিসে গঠেছেরে, পাখি পুষলাম চিরকাল, নীল কিংবা লাল, একদিন না দেখলাম সে রূপ সামনে ধরে”) (পবিত্র লালন১২১/) (শ্ববি) রজ, আর্তব, স্রাব, ঋতুস্রাব, dust, menstrual, আদাত (.ﻋﺎﺪﺓ), কুরউ (.ﻘﺮﺃ), মাহিজ (.ﻤﺤﻴﺾ) (আঞ্চ) ঋতু, মাসিক (রূপ্রশ) অবতার, জোয়ার, প্লাবন, বন্যা, রক্তবন্যা, রক্তবৃষ্টি, রক্তিমা, লালজল, ভার্গব, সরস্বতী (বাপু) ভীস্ম (ফাপ) পয়গাম্বর (ফা.ﭙﻴﮕﻤﺒﺭ) (ইপ) নবি (.نبي), ইঞ্জিল (.ﺍﻧﺠﻴﻝ), যাবুর (.ﺯﺒﻮﺭ), হাওয়া (.ﺤﻮﺍﺀ) (ইংপ) messenger (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; রক্তিমবর্ণকে লাল ﻻﻝ বলা হয় . আরবীয় শ্বরবিজ্ঞানে; রজস্বলাদের জরায়ু হতে প্রবাহিত রজরক্তকে রূপকার্থে লাল ﻻﻝ বলা হয় (বাপৌচা) অরুণ, নক্ষত্র, বসিধ, মহল্লাল, রংলাল ও লালিমা (বাপৌউ) গরল, তিক্তজল, বন্যা, লালবাতি, সংবাদপত্র ও হলাহল (বাপৌরূ) জোয়ার (বাপৌমূ) রজ {ফা}

১.   “সন্তান প্রসবের সময় দেখা গেল সত্যিই তার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। প্রথমে যে সন্তানটির জন্ম হলো তার গায়ের বর্ণ ছিল লাল ও তার শরীর লোমের কোর্তার মতো লোমে ঢাকা। এজন্য; তার নাম রাখা হলো লোমশ। অতঃপর; লোমশের পায়ের গোড়ালী ধরা অবস্থায়, তার ভাইয়ের জন্ম হলো। এজন্য; তার নাম রাখা হলো গোড়ালীধর (ইয়াকুব)। ইসহাকের ষাটবছর বয়সে, তার স্ত্রীর গর্ভে এদের জন্ম হয়।” (তৌরাত, সূচনাক্রম, ২৫/২৪-২৬)

২.   “সন্তান প্রসবের সময় দেখা গেল, তামরের গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে। প্রসবের সময় একটি সন্তান তার হাত বের করল। তখন ধাত্রী একটা লাল সুতা, তার হাতে বেঁধে দিয়ে বললেন, “এটির জন্ম আগে হলো”। কিন্তু আশ্চর্য এ যে; সে সন্তানটি যখন তার হাত ভিতরে টেনে নিল, তখনই তার ভাই বের হয়ে এলো। তখন ধাত্রী বললেন, “কী করে তুমি বাধা ভেঙ্গে বেরিয়ে এলে?”। এজন্য; তার নাম রাখা হলো পেরস (বাধা ভাঙ্গা)। তারপর; তার ভাই হাতে লাল সুতা বাঁধা অবস্থায়, বের হয়ে এলো। তার নাম রাখা হলো সেরহ।” (তৌরাত, সূচনাক্রম, ৩৮/২৭-৩০)

৩.   তার ওপরটা ঢেকে দেওয়ার জন্য লাল বর্ণ করা ভেড়ার চামড়া দিয়ে একটা ঢাকনি নির্মাণ করাতে হবে ও তার ওপরটা ঢেকে দিতে হবে শূশুকের চামড়ার ঢাকনি দিয়ে।” (তৌরাত, স্থানান্তর, ২৬/১৪)

সাদা (বাপৌছ)বিণ শুভ্র, শ্বেত, অকুটিল, আড়ম্বরহীন, অলঙ্কারহীন, শান্ত, ভদ্র, নম্র বি শ্বেতবর্ণ, সহজ “সাদা ভাব তার সাদা করণ, নাইরে কালামালা ধারণ, ও সে পঞ্চক্রিয়া সাঙ্গ করে, ঘরে রাত্রদিন নিহারা।” (পবিত্র লালন- ৮০৬/২) (শ্ববি) উপাস্য, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, স্বরূপ (ইপৌচা) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ), মা’বুদ (.ﻤﻌﺑﻭﺪ), মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও বাঙালী পৌরাণিক পালনকর্তা দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; শুভ্রবর্ণের কোনো বিষয়বস্তুকে ‘সাদা বলা হয় ২. শ্বরবিজ্ঞানে; জরায়ুর মধ্যে সর্ব জীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট ও সুপেয় শ্বেতবর্ণের অমৃতরসকে বাংলায় পালনকর্তা বা রূপকার্থে ‘সাদা বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {ফা.}

“লাবন কিন্তু সে দিনই তাঁর পশুপাল থেকে, ইয়াকুবের পাওনা ডোরাকাটা ও বড় বড় ছাপের সব ছাগল ও ছোট ছোট ও বড় বড় ছাপের সব ছাগী, অর্থাৎ; যাদের গায়ে স্থানে স্থানে সাদা লোম ছিল সেগুলো ও কালো ছানাগুলো সরিয়ে রাখলেন। এগুলোর দেখাশুনার ভার, তিনি তাঁর ছেলেদের হাতে দিলেন। তারপর; তিনি ইয়াকুবের কাছ থেকে তিনদিনের পথ দূরে সরে গেলেন, আর ইয়াকুব লাবনের অবশিষ্ট পশুগুলোর দেখাশুনা করতে লাগলেন।” (তৌরাত, সূচনাক্রম, ৩০/৩৫-৩৬)

কালো (বাপৌছ)বি কৃষ্ণবর্ণ, শ্যামবর্ণ বিণ কৃষ্ণবর্ণযুক্ত, শ্যামবর্ণবিশিষ্ট। “সবে বলে কালো কালো, কালো নয় সে চাঁদের আলো, সে যে কালাচাঁদ নাই এমন চাঁদ, যে চাঁদের তুলনা তারই সনে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৫/২) (শ্ববি) সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা, পিতা, জনক, Creator, author, খালিক্ব (.ﺨﺎﻟﻖ) (রূপ্রশ) অনন্ত, বিধাতা, বিবস্বান, স্বায়ম্ভু (বাদে) কাঁই, ব্রহ্মা, বিরিঞ্চি, অগ্নি, ঈশ্বর, কাজলা, কালা, কালিয়া, কেলে, কৃষ্ণ, শ্যাম, শ্যামল, শ্যামলা (ইদে) আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (.ﺷﺄﻢ), শামস (.ﺸﻤﺲ), শিশ (.ﺸﻴﺶ) (ইংপ) Lord, maker, designer (সংজ্ঞা) সৃষ্টিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ গ্রহণকারীকে সৃষ্টিকর্তা বা রূপকার্থে কালো বলা হয় (পরি) মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের মধুবৎ মিষ্ট অমৃতজল (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; সর্বপ্রকার কৃষ্ণবর্ণকে কালো বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহে প্রাপ্ত কালোবর্ণের অমৃতজলকে কালো বলা হয় (বাপৌছ) আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভু ও হর (বাপৌচা) অসিত, কালা, কালু, কৃষ্ণ ও  ব্রহ্মা (বাপৌউ) ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও শস্য (বাপৌরূ) কাঁই (বাপৌমূ) সৃষ্টিকর্তা।

“লাবন কিন্তু সে দিনই তাঁর পশুপাল থেকে ইয়াকুবের পাওনা ডোরাকাটা ও বড় বড় ছাপের সব ছাগল ও ছোট ছোট ও বড় বড় ছাপের সব ছাগী, অর্থাৎ; যাদের গায়ে স্থানে স্থানে সাদা লোম ছিল সেগুলো ও কালো বর্ণের ছানাগুলো সরিয়ে রাখলেন। এগুলোর দেখাশুনার ভার, তিনি তাঁর ছেলেদের হাতে দিলেন। তারপর; তিনি ইয়াকুবের কাছ থেকে তিনদিনের পথ দূরে সরে গেলেন, আর ইয়াকুব লাবনের বাকী পশুগুলোর দেখাশুনা করতে লাগলেন।” (তৌরাত, সূচনাক্রম, ৩০/৩৫-৩৬)

লাল সাদা ও কালো সত্তার এমন একই বর্ণনা পবিত্র ইঞ্জিলেও দেখতে পাওয়া যায়।

লাল, সাদা ও কালো ধারার ইঞ্জিলিক প্রমাণ (The gospel’s evidence of red, white and black clause)
১.   (ক) “মেষশিশু যখন দ্বিতীয় তালা ভাঙ্গলেন, তখন আমি দ্বিতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম, ‘এসো’। তখন আগুনের অন্য একটি লাল ঘোড়া বের হয়ে এলো (ইঞ্জিল- ২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ৬/৩-৬)

(খ). “অতঃপর; সে উদ্দীপক আমাকে মরু প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। তখন আমি পবিত্র আত্মার বশে ছিলাম। সেখানে একজন স্ত্রীলোককে, একটা লাল জন্তুর ওপর বসে থাকতে দেখলাম। অস্বীকার করার জন্য, সাঁইয়ের অনেকগুলো নাম, সে জন্তুটার ওপর লেখা ছিল। তার সাতটা মাথা ও দশটা শিং। সে স্ত্রীলোকটি বেগুনী ও রক্তিম বর্ণের বসন পরে ছিল এবং তার গায়ে সোনা, মূল্যবান পাথর ও মুক্তার গহনা ছিল (ইঞ্জিল- ২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ১৭/৩-৪)

২.   “মেষশিশু যখন চতুর্থ তালা ভাঙ্গলেন, তখন আমি তৃতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম, “এসো”। তখন আমি একটা সাদা ঘোড়া দেখতে পেলাম। যে সে ঘোড়ার ওপর বসে ছিল, তার নাম ‘মৃত্যু’, মৃত্যদের আত্মার স্থান ঠিক তার পিছনে পিছনে চলছিল। পার্থিবতার চারভাগের একভাগের ওপর, তাদের ক্ষমতা দেওয়া হলো, যেন তারা ছোরা, দুর্ভিক্ষ, মৃত্যু ও বন্য জন্তু দিয়ে, লোকদের মেরে ফেলে (ইঞ্জিল-২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ৬/৭-৮)

৩.   “মেষশিশু যখন তৃতীয় তালা ভাঙ্গলেন, তখন আমি তৃতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম “এসো”। তারপর; আমি একটা কালো ঘোড়া দেখতে পেলাম। যে সে ঘোড়াটার ওপর বসে ছিল, তার হাতে একটা মাপকাঠি ছিল। আমি সে চারজন জীবন্ত প্রাণীর মাঝখানে কাউকে বলতে শুনলাম, “একজন শ্রমিকের একদিনের আয়ে মাত্র একসের গম বা তিনসের যব পাওয়া যায়। তেল আর আঙ্গুর রস তুমি নষ্ট কর না (ইঞ্জিল-২৭শ খণ্ড, প্রকাশিত কথা, ৬/৫-৬)

লাল, সাদা ও কালো ধারার এমন বর্ণনা পবিত্র কুরানেও দেখতে পাওয়া যায়।

লাল, সাদা ও কালো ধারার কুরানিক প্রমাণ (The quranic evidence of red, white and black clause)
“ أَلَمْ تَرَى أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنْ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ ثَمَرَاتٍ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهَا وَمِنْ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ” “আলাম তারা আন্নাল্লাহ আনজালা মিনাছামায়ি মায়া, ফা আখরাজনা বিহি সামারাতিম মুখতালিফান আলওয়ানুহা, ওয়া মিনাল জিবালি জুদাদুম বাইজুউ ওয়া হুমরুম মুখতালিফুন আলওয়ানুহা ওয়া গারাবিবু ছুউদু” অর্থ; “তুমি কী দেখ নাই যে; কাঁই আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর; আমরা তা দ্বারা বিভিন্ন বর্ণের ফল উৎপন্ন করি এবং নতুন গীরিগুহায় বিভিন্ন বর্ণের- লাল, সাদা ও নিকষ-কালো ধারা রয়েছে (কুরান, ফাতির- ২৭)

বিশ্বের প্রায় সব মরমী সাহিত্য, পুরাণ ও সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে এ তিনটি ধারা যত না বর্ণনা করা হয়েছে- অন্য কোনো বিষয়াদি নিয়ে এত অধিক লেখালেখি আর হয় নি। এককথায় বলতে গেলে, একমাত্র অমৃতসুধার গুণাগুণ ও তার আহরণ পদ্ধতির বর্ণনা নিয়েই গড়ে ওঠেছে বিশ্বের সব পুরাণ ও সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক গ্রন্থ। প্রমাণ রূপে দেখা যায় যে; বিশ্বের প্রায় সব মহাকাব্যেই লালধারা বসিধ, সাদাধারা সাঁই ও কালোধারা কাঁইয়ের অবিকল বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন; ১. “তিন প্রকার পানি আসে লাল সাদা কালাবরণ(কানাইশাহ)। ২. “পন্থগুলো বিভিন্ন বর্ণের- তা হলো লাল সাদা নিকষ কালো(কুরান)। ৩. লাল ঘোড়া সাদা ঘোড়া কালো ঘোড়া (ইঞ্জিল)। ৪.লালসুতা সাদা লোম কালো ছানা (তৌরাত)। ৫.“তিনি অপ্রতিহত গতি এবং লাল, সাদা কৃষ্ণবর্ণ জ্বালাগুলোতে পরিব্যাপ্ত” (বেদ)

অমৃতসুধা আহরণ পদ্ধতি (Panacea accumulation methods)
অমৃতসুধা আহরণের দুটি পদ্ধতির সন্ধান পাওয়া যায়। যথা; ১. প্রাকৃতিক পদ্ধতি ও ২. কৃত্রিম পদ্ধতি।

. প্রাকৃতিক পদ্ধতি (Natural methodology)
কোনো প্রযুক্তির সাহায্য ব্যতীত, কেবল অটল ক্ষমতা বলে মৈথুনের দ্বারা, মানবদেহ হতে অমৃতরস আহরণ করাকে, অমৃতসুধা আহরণের প্রাকৃতিক পদ্ধতি বলে।

একজন দিব্যজ্ঞানী ও পাকা গুরুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করে, আগে অটলতা অর্জন করতে হয়। অতঃপর; ঊষা প্রহরে, সাঁই নামক এ অমৃতরস আহরণ করতে হয়। কামযজ্ঞ বা চাপকল ব্যতীত এটি; মূলাধার চক্রে সঞ্চিত হতে চায় না। এজন্য; কামযজ্ঞ দ্বারাই একে সঞ্চয় করা উচিত। মৈথুনে নিরত হয়ে, অটলতা অটুট রেখে, অবিরত ইন্দ্রিয় সঞ্চালন করতে থাকলে, ক্রমে ক্রমে এ রস মূলাধারে সঞ্চিত হতে থাকে। অতঃপর; পাত্রটি পরিপূর্ণ হয়ে গেলে, যখন এটি; ঝরে পড়ার উপক্রম হয়, তখন একটা পাত্র দ্বারা এটি; ধারণ করতে হয়। অতঃপর; এটি; শীতল করে পান করতে হয়।

. কৃত্রিম পদ্ধতি (Synthetic methodology)
কৃত্রিম প্রযুক্তি বা বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্যে মানবদেহ হতে অমৃতরস আহরণ করাকে অমৃতসুধা আহরণের কৃত্রিম পদ্ধতি বলে। যেমন; চাপকল দ্বারা অমৃতসুধা আহরণ।

কামযজ্ঞ ছাড়াও বর্তমান বিজ্ঞানের অবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেও, মানবদেহ হতে অমৃতরস আহরণ করা যায়। পাশ্চাত্য বিজ্ঞানীরা এক প্রকার চাপকল আবিষ্কার করেছেন। এ কলটি যথাযথভাবে স্থাপন করে চাপ দিলে; এটি; স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূলাধার চক্রে চাপ দিতে থাকে। যারফলে; নির্দিষ্ট সময় পর আপনাপনি সঞ্চিত অমৃতরস বের হওয়ার উপক্রম হয়। তখন চাপকলটি সরিয়ে নিয়ে পাত্র দ্বারা এ রস আহরণ করা যায়। সাবধান একমাত্র ঊষা প্রহরের প্রথম বা দ্বিতীয় দিবস ভিন্ন এ কলটি লাগানো উচিত নয়। একটি সন্তান গ্রহণের পূর্বে কোনো রমণীরই এ স্বয়ংক্রিয় কলটি লাগানো উচিত নয়। কারণ; এতে জঠর যে চাপ অনুভব করে, তাতে পরবর্তীকালে সন্তান ধারণের ক্ষমতা একেবারেই হারিয়ে ফেলতে পারে।

অমৃতসুধার পরিমাণ (Amount of panacea)
সাধারণত; এ রস এক পোয়া হতে এক সের পর্যন্ত হয়। স্বাস্থ্য ভালো ও পদ্মিনিরমণী হলে- এ রসের পরিমাণ সবচেয়ে অধিক হয়। গড় ১৮ হতে ২৫ বছর বয়সী রমণীদের মধ্যেই অমৃতসুধার পরিমাণ সর্বাধিক পাওয়া যায়। গড়ে ৩০ বছর অতিক্রম করার সাথে সাথে রমণীদেহ হতে এ রসের পরিমাণ ক্রমে ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। অতঃপর; রজ আগমন বন্ধ হয়ে গেলে, নারীদেহ হতে এ রসদ্বয়ও চিরদিনের মতো বন্ধ হয়ে যায়।

অমৃতসুধার পরিচয় (Identity of panacea)
রক্ত মস্তিষ্কে যখন যায় তখন হৃদপিণ্ডের প্রথম ও দ্বিতীয় ভেণ্ট্রীলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেখানে রক্ত থেকে মস্তিষ্ক মেরুজল (Cerebro spinal fluid. সিরিব্র স্পাইনাল ফ্লুইড) পৃথক হয়ে যায়। এ জলকেই বলে প্রধান জীবনরস বা জীবনজল নেক্টার (nectar) বা ভাইটাল লাইফ জুস (vital life juice)। সাধু ও যোগীগণ একে অমৃতসুধা বলে থাকেন। সাধু ও যোগীগণ এ জল পান করার দ্বারা অল্প আহার করে দীর্ঘায়ুলাভ করে থাকেন। এ রস মস্তিষ্ক হতে প্রবাহিত হয়ে মেরুদণ্ডের মাধ্যমে প্রোষ্টেট গ্রন্থি পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং মোটর নিউরণকে সক্রিয় রাখে।

অমৃতসুধার গুণাগুণ (Panacea’s quality)
যেমন; দুধ আদর্শ পানীয়; তেমন; অমৃতসুধাও এক প্রকার আদর্শ পানীয়। যেমন; দুধের মধ্যে খাদ্যের সব গুণাগুণ পরিপূর্ণভাবেই নিহিত থাকে; ঠিক তেমনই; অমৃতসুধার মধ্যেও খাদ্যের সব গুণাগুণ যথাযথভাবেই নিহিত থাকে। অমৃতসুধার মধ্যে নিহিত খাদ্যসারের পরিমাণ নিম্নরূপ। প্রতি ১০০ মিলিলিটার অমৃতসুধার মধ্যে থাকে- প্রোটিন ১৫-৪৫ মিলিগ্রাম, গ্লুকোজ ৪০-৫০ মিলিগ্রাম, ক্লোরাইড ৭২০-৭৫০ মিলিগ্রাম এবং কোষ ও লসিকা ০.৫ মিলিগ্রাম ইত্যাদি।

আহরিত অমৃতসুধা পানের সময়সীমা (The drinking deadlines of the derives panacea)
মানবদেহ হতে অমৃতসুধা আহরণের পর; প্রায় দশ মিনিট পর পান করা উচিত। কারণ; এটি; নিঃসরণের সময় অধিক উষ্ণ থাকে। সে কারণে; এটি; শীতল করার জন্য কিছু সময় একটি পাত্রে রেখে দেওয়া উচিত। তবে; এটি; তিনঘণ্টার অধিক সময় কোনো ক্রমেই রাখা ঠিক নয়। কারণ; বাংভারতের জলবায়ুর তাপমাত্রা অনুযায়ী প্রায় তিনঘণ্টা পর এর পচনক্রিয়া আরম্ভ হয়। যেমন; খেজুর রস পচে গেলে পান করা যায় না; তেমনই; অমৃতসুধাও পচে গেলে তা আর পান করা যায় না। পাত্রে ধারণের সঙ্গে সঙ্গে এটা পান করা উচিত নয়। কারণ; সামান্য শীতল হলে এর স্বাদ অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও; জননপথ হতে পতিত সামান্য ময়লা যদি থাকে, তবে উক্ত রস শীতল হওয়া পর্যন্ত পাতন করলে, উক্ত ময়লা নিচে তলানি রূপে সঞ্চিত হয়। যারফলে; ওপর হতে অমৃতরস পান করে নিচের ময়লাযুক্ত অংশ ফেলে দেওয়া যায়।

অমৃতসুধা হিমাগারে রাখার নিয়ম (The panacea’s cold storage rules)
আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত হিমাগারের সাহায্য নিলে; এটি; আবার কয়েক দিন পর্যন্তও রাখা যায়। তবে; এটি; হিমাগার ব্যতীত স্বাভাবিকভাবে মাত্র তিনঘণ্টার অধিক সময় রাখা যায় না। একটি পরিষ্কার বোতলে ভরে, ভালোভাবে মুখ আটকিয়ে, হিমাগারের সাধারণ স্তরে এ সুধা রাখা যায়। গভীরে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ; এটি; গভীরে রাখলে বরফ হয়ে যায়। তবে; সাবধান বোতলে ভরে মুখ আটকিয়ে রাখলেও প্রতিদিন একবার করে বের করে বোতলের মুখ খুলে, সঞ্চিত বায়ব পদার্থ বের করে দিতে হয়। তা না হলে বোতলের ভিতরে সঞ্চিত বায়ব, বোতল বিষ্ফোরণ করে বের হয়ে যায়। বোতলের বায়ব বোতল ভেঙ্গে রেব হয়ে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ হয় এবং হিমাগারেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এসব কারণে অমৃতরস অধিক সময় বোতলে ভরে হিমাগারে রাখা উচিত নয়।

অমৃতসুধা একবার পান করলে জন্ম-মৃত্যু রহিত হয় কিভাবে? (How to birth and death are abolished by once panacea drinking?)
এটি; এমন এক প্রকার অমৃতজল যে; এজল ব্যতীত বিশ্বের কোনো প্রাণীই সৃষ্টি হতে পারে না। শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে- এ জলকে প্রাকৃতিক ধাত্রী বলা হয়। ধাত্রী যদি ধাত্রীনির্ভর সন্তান লালনপালন না করে, তবে সে সন্তানও কিছু দিনের মধ্যে আপনাপনিই প্রয়াণ কোলে ঢলে পড়ে। রজস্বলাদের গর্ভে- ১.ঊষা ২.নিশা ৩.ঊর্ধ্বা ৪.শঙ্কা ৫.বিপদ ও ৬.নীরব- এ ছয় প্রহরের মধ্যে শুক্রনিক্ষেপ করলে সন্তান সৃষ্টি হতে পারে। যদি গর্ভে সন্তান সৃষ্টি হয়, তবে সে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এ অমৃতজলটি ধাত্রী রূপে লালনপালন করে থাকে। তাই; একে প্রাকৃতিক ধাত্রী বলা হয়।

শুক্রনিক্ষেপ না করে, মূলাধার হতে এ জল একবার বের করে নিলে, ঐ মাসে ঐ জল আর সৃষ্টিও হয় না। যারফলে; গর্ভে সন্তানও আর সৃষ্টি হয় না। গর্ভে সৃষ্ট সন্তান পালন করে যে ধাত্রী, সে ধাত্রীই যদি না থাকে, তবে সন্তান লালনপালন করবে কে? এজন্য; ঐ মাসে জননপথে শুক্রপাতরূপ মৃত্যুবরণ করলেও, দশ মাস পর সন্তান রূপে আর পুনর্জন্ম হয় না। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে বলা হয় যে; একবার অমৃতসুধা পান করলে তার আর জন্ম-মৃত্যু হয় না। অর্থাৎ; সন্তান রূপে জন্মও হয় না এবং সন্তান রূপে জন্ম না হলে, বলা যায় তার শুক্রপাতরূপ মৃত্যুও হয় না। জীবনে একবার যে সাধক অমৃতসুধা ও অমৃতমধু আহরণ করার কৌশল আয়ত্ত করতে পারেন- তিনি প্রতি মাসে অমৃতসুধা ও অমৃতমধু আহরণ করে পান করতে থাকে। যারফলে; জীবনে কখনই তার সন্তান হয় না। কিন্তু বাস্তবে সে আঁটকুড়া নয়। তবে; রোগের জন্য যদি কেউ আঁটকুড়া হয় সেটি ভিন্ন কথা।

মধুরসের বিবরণ (Description of honey juice)
মধুরসের বর্ণনা ও বিবরণ প্রায় সুধারসের মতই। তবে; কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন; মধুরস আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে এবং এটি; আহরণ করতে প্রায় ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। এটি; দেখতে কালো ও মধুবৎ মিষ্ট হয়। এটি; সাধকদের সর্বশেষ সাধনস্তর। এ রসের দর্শনলাভ করার পর সাধন সম্পূর্ণ রূপে সিদ্ধিলাভ করে থাকেন। এ রসের সন্ধানলাভের পর সাধকের কেবল জ্ঞান বিতরণ করা ব্যতীত আর কোনো কর্মই অবশিষ্ট থাকে না।

সুধা ও মধুরসের ব্যবহারিক পার্থক্য (The practical difference of nectar and honey juice)

সুধারস মধুরস
১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত, কচি ডাবের জলবৎ, সাদা ও সামান্য মিষ্ট মানবজলকে সুধারস বলে। ১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত, কালো বর্ণের ও মধুবৎ মিষ্ট মানবজলকে মধুরস বলে।
২. সুধারসকে শ্বরবিজ্ঞানে রূপকভাবে সাঁই বা পালনকর্তা বলা হয়। ২. মধুরসকে শ্বরবিজ্ঞানে রূপকভাবে কাঁই বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়।
৩. সুধারস আহরণ করতে হয় ঊষা প্রহরে। ৩. মধুরস আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে।
৪. সুধারস আহরণ করতে সময় লাগে ১০০০ শ্বাস বা ৪২ মিনিট। ৪. মধুরস আহরণ করতে সময় লাগে ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট।
৫. সুধারসের পরিমাণ হয় এক পোয়া হতে প্রায় এক সের পর্যন্ত। ৫. মধুরসের পরিমাণ হয় আধা পোয়া হতে এক পোয়া পর্যন্ত।
৬. সুধারসের বর্ণ কচি ডাবের জলবৎ সাদা। ৬. মধুরসের বর্ণ পাকাজামের রজবৎ কালো।
৭. সুধারস দর্শনের দ্বারা সাধক- সাঁইজি ও বৈষ্ণব উপাধিতে ভূষিত হন। ৭. মধুরস দর্শনের দ্বারা সাধক- কাঁইজি ও ব্র‏হ্মচারী উপাধিতে ভূষিত হন।
৮. এরস প্রায় সব রমণী হতেই আহরণ করা যায়। ৮. এরস একমাত্র পদ্মিনিরমণী ব্যতীত আহরণ করা যায় না।
৯. এ শুভ্ররসের অবতরণকাল হিন্দুদের কোজাগর ও মুসলমানদের শবেবরাত (ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) নামে পরিচিত। ৯. এ কৃষ্ণরসের অবতরণকাল হিন্দুদের ব্র‏হ্মানিশি ও মুসলমানদের শবেক্বদর (ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ) নামে পরিচিত।

পরিশেষে বলতে হয় ত্রিবেণী সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে ও না বুঝে কোনো কোনো খুষ্ক পারম্পরিক নাসামূলকে ত্রিবেণী বলে থাকেন। আবার কেউবা লিঙ্গমূলকে ত্রিবেণী বলে শিষ্যদেরকে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এমন চির বিভ্রান্তকর ও একান্ত মনগড়া বিষয়াশয় হতে সব বুদ্ধিমানদের সরে আসা একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে; অত্র গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের পালনকর্তা বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার অনুকূলে অবশিষ্ট আলোচনা করা হয়েছে।

প্রামাণ্য গ্রন্থপঞ্জি (Authoritative books)
. আপনার স্বাস্থ্য আপনার হাতে- দেবেন্দ্র ভোরা, বঙ্গানুবাদ প্রবীর রায় চৌধুরী, নবনীত পাবলিকেশন (ইন্ডিয়া) লিমিটেড, প্রকাশকাল- ১৯৮২।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!