দুর্গা

৮৭/৯. দুর্গা
Fortress (ফোর্ট্রেস)/ ‘قلعتي’ (কাল‘য়াতি)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শুক্র। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ধন। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন রুটি। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা সুন্দরী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য, মহামায়া, মা স্বর্গীয় ফল

অভিধা (Appellation)
দুর্গা (বাপৌচা)বিণস্ত্রী আদ্যা, আদ্যাশক্তি, আদিভূতা, কালী, গৌরী, পার্বতী, ভগবতী, মহামায়া, বিপত্তারিণী, fortress, ‘قلعتي’ (কাল‘য়াতি) বি প্রকৃতি, পরমেশ্বরী, od, ‘التطوير التنظيمي’ (আত্তাত্বায়িরু আত্তাঞ্জিম) (প্র) বাঙালী পৌরাণিক শিব বা মহাদেবের পত্নী  (শ্ববি) শুক্র, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, semen, ‘.ﻤﻧﻰ’ (মনি), ‘.ﻧﻂﻔﺔ’ (নুত্বফা) (রূপ্রশ) গোবিন্দ, জল, বারি, পিতৃধন  অহল্যা, কালী, দুর্গা, বৈষ্ণবী, সীতা (ইদে).ﺍﺪﻢ’ (আদম), ‘.عزى’ (উয্যা), ‘.ﺠﻦ’ (জিন), ‘ফা.ﭙﺮﻯ’ (পরি), ‘الزكاة’ (আজ্ঝাকাত), ‘.ﻟﻮﻄ’ (লুত্ব), ‘.ﻴﺯﻴﺪ’ (ইয়াজিদ) ‘.ﺯﻟﻴﺠﺎ’ (জুলেখা), ‘. ‘ﺯﻫﺭﺍﺓ’ (জোহরা), ‘.بلقيس’ (বিলকিস) (ব্য্য) সর্বসাম্প্রদায়িক মতবাদে শুক্র দ্বারা আদিমানব বা আদিপিতা নির্মাণ করা হয়। যেমন;  গোবিন্দ ও ‘.ﺍﺪﻢ’ (আদম) প্রমুখ। এছাড়াও; শুক্র দ্বারা শ্বরবিজ্ঞানের সর্বক্ষেত্রে নারীচরিত্র নির্মাণ করা হয়। যেমন;  কালী ও ‘.ﺯﻟﻴﺠ’ (জুলেখা) প্রমুখ (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). বাঙালী পৌরাণিক শিবের স্ত্রীকে দুর্গা বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে দুর্গা বলা হয় (বাপৌছ) আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য, মহামায়া, মা ও স্বর্গীয় ফল (বাপৌচা) দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা ও সুন্দরী (বাপৌউ) অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন ও রুটি (বাপৌরূ) ধন (বাপৌমূ) শুক্র {বাং.আদ্যা+ বাং.শক্তি}

Od [ওড] (GMP)n আদ্যাশক্তি, ঈশ্বর, প্রভু, উপাস্য, দেবতা, fortress, creator, God, ‘التطوير التنظيمي’ (আত্তাত্বায়িরু আত্তাঞ্জিম) {}
দুর্গার ইংরেজি অনুবাদ Od। ইংরেজি ভাষায় Od এর তিনটি রূপ রয়েছে। যথা; OD, Od & od।এ তিন Od বিষয়ে ইংরেজি বিশ্বের অভিধানবিদদের অভিমতগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

Random House Webster’s Dictionary
Od or <‘ Od> or <Odd>; (od)  interj.
Archaic. a shortened form of ‘God’.

American Heritage Dictionary
Od or Odd (Ld) interj. Archaic. Used as a mild oath. [Alteration of God.]

দুর্গার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of fortress)
১.   “নীর নূরে গুপ্তবারি, সাঁই রেখেছেন ঘিরে, ছিল নীরাকারে আদ্যনূর, অচিন-মানুষ কয় যারে।” (পবিত্র লালন- ৬০৫/১)
২.   “বিরজা ফল্গু গয়াধামে, ভক্তি দাও মার চরণকোনে, নিরীক্ষ রেখে নয়নে- বৃন্দাবন আর কৈলাশ টিলে, মাকে রাখো আদ্যামূলে, মা জননী সাতরাজার সমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)
৩.   “লামুক্বামে আছেন নূরী, সে কথা অকৈতব ভারী, লালন কয় দ্বারের দারী, আদ্যামাতা সে।” (পবিত্র লালন- ৮৫৩/৪)
৪.   “লাল রঙে রঙিনী যিনি, আদ্যাশক্তি মা প্রসবিনী, সিতারারূপ ধরে তখনি, লালন কয় আগম অনুসারে।” (পবিত্র লালন- ৬০৫/৪)

দুর্গার সংজ্ঞা (Definition of fortress)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে বর্ণিত শিবের স্ত্রীকে দুর্গা বলে।

দুর্গার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of fortress)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পুরুষজাতির বীর্যকে রূপকার্থে দুর্গা বলে।

দুর্গার পরিচয় (Identity of fortress)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। বাঙালী পৌরাণিক দর্শনে এখন পর্যন্ত স্বর্গীয়া একজন কিন্নরীই আদ্যশক্তি (দুর্গা) বলে গণ্য হয়ে আসছেন। অধিকাংশ হিন্দুরাই জানেন না কী এ আদ্যাশক্তি (দুর্গার) বাস্তবমূলক? ভারতীয় কিংবা আরবীয় পৌরাণিক সবাই বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা হারিয়ে কেবল রূপক, ব্যাপক ও উপমান সত্তার ভূতুড়ে অভিধা গ্রহণ করেই বর্তমানে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক অঙ্গনে এত অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। উপদেশ আকারে বলা যায় যে সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের ভূতুড়ে সত্তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে আত্মতত্ত্বে ফিরে আসা সব মানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। হিন্দু সাম্প্রদায়িক মনীষীগণ দুর্গার প্রকৃত অর্থ বা সঠিক অভিধা না জানার কারণে; সারা বিশ্বের হিন্দুরা এ দেবীর পূজা করা ও বিসর্জন দেওয়ার মধ্যেই একে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। এর থেকে কল্যাণ গ্রহণ করা হয় নি তিলমাত্র। যাই হোক আলোচ্য দুর্গার আত্মদর্শন বা আত্মতাত্ত্বিক সত্তা হচ্ছে পুরুষজাতির বীর্য বা শুক্র।

অন্যদিকে; বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত দুর্গা পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কল্পিত ও অজানা এক দেবীকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তাই; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা আত্মতত্ত্বের জ্ঞানে চির অন্ধ। আর এজন্য; সাম্প্রদায়িকদের থেকে সারা বিশ্বে যুগে যুগে এত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন সংঘটিত হয়েছে। এমনকি; বর্তমানকালেও সাম্প্রদায়িকরাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শীর্ষে।

দুর্গার স্বরূপ বিশ্লেষণ (Analysis of sooth of fortress)
‘ تحليل واقع من ‘التطوير التنظيمي’ (তাহলিল ওয়াক্বায়া মিন আত্তাতুয়ির আত্তাঞ্জিমি)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত সব পরিভাষার সর্বদা দুটি দিক বিদ্যামান। তা হচ্ছে কাল্পনিকদর্শন Mythology বা প্রপক Extensive ও আত্মদর্শন Theosophy অথবা কাল্পনিকতত্ত্ব  Mythology ও আত্মতত্ত্ব  Theology। এ সূত্র অনুসারে দুর্গারও দুটি দিক রয়েছে। সাধারণ মানুষ, অর্থাৎ; সাধারণ সাম্প্রদায়িকরা কেবল কাল্পনিক দর্শন ছিটেফোটা জানে কিন্তু আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব জানে না একেবারেই। মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে, দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে, কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে, আমার মনের ঘোর গেল না।” (পবিত্র লালন- ৮২৮/৩)। শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত পরিভাষাগুলোর আত্মদর্শন না জানা আর বোকার রাজ্যে বাস করা সমান। সেজন্য; এখানে; সংক্ষিপ্তভাবে দুর্গার কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন আলোচনা করা হলো।

কাল্পনিকদর্শন (Mythology) বা প্রপক (Extensive)
পরমা প্রকৃতি, বিশ্বের আদিকারণ ও বাঙালী পৌরাণিক শিবপত্নী। মহিষাসুর দেবতাগণের স্বর্গ হতে বিতাড়িত করে স্বর্গরাজ্য লাভ করেন। দেবতাগণ বিপন্ন হয়ে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মা শিব ও দেবতাগণের সঙ্গে নিয়ে বিষ্ণুর কাছে যান। অতঃপর; তাঁদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন ও তাঁদের বিপদ হতে উদ্ধার করতে অনুরোধ করেন। কারণ; ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর পুরুষের অবাধ্য হয়েছে। তখন বিষ্ণু বলেন; এই অসুরকে বধ করতে হলে নিজ নিজ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়ে স্বস্ব তেজের কাছে এই প্রার্থনা করতে হবে যে; এই সমবেতভাবে উৎপন্ন তেজ হতে যেন এক নারী-মূর্তি আবির্ভূতা হন। এই নারীই অসুরকে বধ করতে পারবেন। এমন শুনে ব্রহ্মা, ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতা দেহ হতে তেজ নির্গত হলো। সমবেত তেজরাশি হতে এক নারী-মূর্তি আবির্ভূতা হলেন। তখন সব দেবতা তাঁদের নিজ নিজ অস্ত্রাদি তাঁকে দান করলেন। এই দেবী মহিষাসুরকে তিনবার বধ করেন। প্রথমবার অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডা রূপে, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার দশভূজা দুর্গা রূপে। রাত্রে ভদ্রকালীর মূর্তি স্বপ্নে দেখে মহিষাসুর এই মূর্তির আরাধনা করেছিলেন। দেবী মহিষাসুরের কাছে এলে মহিষাসুর বলেন, “আপনার হাতে মৃত্যুর জন্য কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু আপনার সঙ্গে আমিও যাতে সর্বজনের পূজিত হই; তারই ব্যবস্থা করুন।” দেবী তখন বললেন; উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দুর্গা- এই তিন মূর্তিতে তুমি সব সময় আমার পদলগ্ন হয়ে দেবতা, মানুষ ও রাক্ষসদের পূজ্য হবে।” (দেবী ভাগবত, মার্কণ্ডেয় চণ্ডী ও কালিকা পুরাণ)

সত্যযুগে সুরখ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দুর্গা-মূর্তি প্রস্তুত করে তিন বছর পূজার্চনা করেছিলেন। ত্রেতাযুগে রাবণ চৈত্রমাসে বসন্তকালে এ দুর্গা দেবীর পূজা করতেন। সেজন্য; এই পূজা বাসন্তীপূজা নামে বিখ্যাত। এছাড়াও; শ্রী রামচন্দ্র অকালে বোধন করে রাবণ বধের জন্য এই পূজা করেছিলেন (পৌরাণিক অভিধান)। অন্যদিকে; রাবণ বধ এবং জানকীকে উদ্ধার করার জন্য শ্রী রামচন্দ্র বসন্তকালের পূর্বে শরৎকালে দেবীপূজা করেছিলেন। উল্লেখ্য, শ্রী রামচন্দ্র দেবী ভগবতীকে অকালে বোধন করেছিলেন। মূলত দেবীর পূজা বসন্তকালে হয়। আর সেই থেকে শরতে দেবীপূজা অকালবোধন নামে পরিচিত। শরতের এই পূজাই দুর্গোৎসব। শরতের সঙ্গে সঙ্গে হেমন্তে কাত্যায়নী দুর্গা, বসন্তে বাসন্তী পূজারও প্রচলন আছে। (তথ্যসূত্রঃ- দৈনিক যুগান্তর, ২২ অক্টোবর, ২০১২ ইং)

দুর্গার গমন ও আগমন বাহনসমূহ
সাধারণত; দুর্গার গমন ও আগমনে চারটি বাহন দেখা যায়।
১.    গজ বা হাতি
২.   ঘোটক বা ঘোড়া
৩.   নৌকা
৪.   দোলা বা পালকি

দেবী দুর্গার গজ এ আগমন ও গমনকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছে- “গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।” অর্থাৎ; এই আগমন ও গমনে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণ হয়ে মানুষকে সুখ, স্বাচ্ছন্দ্যে ভরিয়ে তুলবে। অন্যদিকে; ঘোটক দেব-দেবী ও মানুষের কাজে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে; গজের মতো মর্যাদা না দিয়ে ঘোটকে দুর্গার আগমন ও গমন নিয়ে বলা হয়েছে-“ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে”। অর্থাৎ; ঘোটকে আগমন ও গমনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রেও অস্থিরতা প্রকাশ পাবে। যেমন; রাজনৈতিক উত্থান, পতন, সামাজিক স্তরে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, গৃহযুদ্ধ, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যু ইত্যাদির প্রভাব বাড়বে।

আবার নৌকায় আগমন ও গমনে বলা হয়েছে “শস্যবৃদ্ধিস্তুথাজলম।” এক্ষেত্রে প্রবল বন্যা, ঝড়; একদিকে; অতিবৃষ্টি ইত্যাদির জন্যে প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতি; এবং অন্যদিকে; দ্বিগুণ শস্যবৃদ্ধি। এর মধ্যে দোলায় আগমন ও গমন সবচেয়ে অশুভ। তাই; দোলা সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে; “দোলায়াং মরকং ভবেৎ”। মহামারি, ভূমিকম্প, যুদ্ধ, মন্বন্তর, খরা ইত্যাদির প্রভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু তো ঘটাবেই, আবার সেই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতিও হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে; একমাত্র গজ ছাড়া দেবী দুর্গার অন্য তিন যানবাহনের মাধ্যমে ধ্বংস বা লয়কে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধুমাত্র গজই প্রয়োজন মতো বৃষ্টিধারায় বসুন্ধরাকে ধন- ধান্যে সমৃদ্ধ করে তুলবে।

কৈলাস (Kailash)/ (Male body)
এটি একটি পর্বতমালা বিশেষ। বাঙালী পৌরাণিক মহাদেব ও কুবেরের বাসস্থান রূপে এ পর্বত বিখ্যাত। এর অবস্থান হিমালয়ের চূড়ায় মানস-সরোবরের উত্তর-পশ্চিম দিকে। এখানে; মহাদেবের রাজপুরী অবস্থিত। মহাদেবের মহামান্যা স্ত্রী শ্রীমতি দুর্গা, শ্রীমতি পার্বতী এখানে বাস করেন। এ কৈলাস হতেই মহামান্যা শ্রীমতি দুর্গা প্রতিবছর মর্ত্যধামে গমনাগমন করে থাকেন।

আত্মদর্শন  (Theosophy)
এবার কথা হচ্ছে কে এই দুর্গা? আর হিন্দুরা কেন দুর্গাকে মা বলে থাকেন? অন্যদিকে; মুসলমানরা ফাত্বিমাকে মা বলে থাকেন। তবে; কী দুর্গা ও ফাত্বিমার মধ্যে তাত্ত্বিক কোনো মিল আছে? হ্যাঁ এমন প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- বাংভারতীয় হিন্দুরা মানবদেহের যে সত্তাকে মা দুর্গা বলে থাকেন; মুসলমানরা সে সত্তাকেই মা ফাত্বিমা বলে থাকেন। মা দুর্গা ও মা ফাত্বিমা মানবদেহের একই সত্তা কেবল ভাষার ভিন্নতা মাত্র। দুর্গার অন্যান্য নাম আদ্যা বা আদ্যাশক্তি। যিনি জগৎ সৃষ্টির আদিকারণ। যাকে সৃষ্টি করা না হলে এ বিশ্ব সৃষ্টি করা হতো না। নিচে দুর্গা বা আদ্যাশক্তির আত্মতাত্ত্বিক দর্শন তুলে ধরা হলো। সর্বপ্রথমে উপরোক্ত প্রপকটির মধ্যে ব্যবহৃত রূপক ও ছদ্মনামগুলোর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বের করে দেখানো হলো।

ক্রমিক ছদ্মনাম মূলক
১. মহাদেব শিশ্ন
২. কৈলাস পুরুষদেহ
৩. পার্বতী বীর্য
৪. হাতি/ গজ পুরুষদেহ
৫. ঘোড়া/ ঘোটক পুরুষদেহ ও মন
৬. নৌকা পুরুষদেহ, নারীদেহ ও ভগ
৭. দোলা/ পালকি নারীদেহ
৮. শিব ও মহিষাসুর শিশ্ন
৯. দুর্গা বীর্য
১০. স্বর্গ দেহ, জরায়ু
১১. দেবতা বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক নামে দেবতায়িত পৌরাণিক চরিত্র।
১২. ব্রহ্মা কালোবর্ণের মানব জল
১৩. বিষ্ণু সাদাবর্ণের মানব জল
১৪. মহিষাসুর বধ বীর্যপাত

হাতি/ গজ (Elephant)
সাধারণত; বিশালদেহী এক প্রকার বন্য প্রাণীকে হাতি বলা হয়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; যে কোনো বিশালদেহী প্রাণীকেই হাতি বলা হয়। এ সূত্র ধরেই শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহকে হাতি বলা হয়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত হাতি পরিভাষাটির দ্বারা একমাত্র পুরুষদেহকেই বুঝায়। যেমন; পবিত্র কুরানে বলা হয়েছে; “আপনি কী দেখেন না যে; আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ আচরণ করেন?” “أَلَمْ تَرَى كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ” (আলাম তারা কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বি আসহাবিল ফিল)। (Alam tara kayfa fa’ala rabbuka bi-ashabil feel). ” Have you not seen how your Lord dealt with the Elephant forces? (কুরান, সুরা ফিল- ১)। “তাদের চক্রান্তকে তিনি কী পথভ্রষ্টায় পতিত করেন না?” “أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ” (আলাম ইয়াজয়াল কাইদাহুম ফি তাদলিল)। (Alam yeaj’al kaydahum fee tadleel). ” Did He not make their plot go astray?” (কুরান, সুরা ফিল- ২)। “তাদের প্রতি পক্ষীদল প্রেরিত হয়।” “وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ” (ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বইরান আবাবিল)। (Wa arsala alayhim tayran ababeel). ” And sent against them birds, in flocks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৩)। “তাদের প্রতি তলদেশ হতে প্রস্তর নিক্ষিপ্ত হয়।” “تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ” (তারমিহিম বিহিজারতিম মিন সিজ্জিল)। (Tarmeehim bihijaratim min sijjeel). ” Striking them with stones of Sijjîl.” (কুরান, সুরা ফিল- ৪)। “পরে তাদের চর্বণকৃত ভুষিবৎ করা হয়।” “فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ” (ফাজায়ালাহুম কায়াসফিম মা’কুল)। (Fa ja’lahum ka’asfim ma’kul). ” And made them like an empty field of stalks.” (কুরান, সুরা ফিল- ৫)

ঘোড়া/ ঘোটকঃ (Horse (হর্স)/ Pony (ফোনি)/ ‘حِصَان’ (হিসান)
সাধারণত; এক প্রকার ভারবাহী ও দ্রুত গমনশীল গৃহপালিত প্রাণীকে ঘোড়া বলা হয়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহ ও মনকে ঘোড়া বলা হয়। এখানে; ঘোড়া বলতে মানবদেহকে বুঝানো হয়েছে। মানবদেহ দুই প্রকার। যথা; ১.পুরুষদেহ ও ২.নারীদেহ। শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত ঘোড়া পরিভাষাটির দ্বারা যদি দেহ বুঝানো হয় তবে তা হবে অবশ্যই পুরুষদেহ। কারণ; নারীদেহকে কখনই ঘোড়া বলা হয় না। যেমন;  মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “শশকপুরুষ সত্যবাদী, মৃগপুরুষ ঊর্ধ্বভেদী, অশ্ব বৃষ বেহুঁশ নিরবধি, কু’কর্মেতে সদাই মন” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৩)

নৌকাঃ (Boat. বোট)/ ‘ﻔﻟﻚ’ (ফুল্ক)
সাধারণত; সনাতনী ভাবে প্রস্তুত জলযানকে নৌকা বা তরী বলা হয়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; দেহ ও মনকে নৌকা বলা হয়। তবে; এখানে; কেবল দেহকে নৌকা বলা হয়েছে। দেহ দুই প্রকার। যথা; ১. পুরুষদেহ ও ২. নারীদেহ। এখানে; দেহ বলতে কেবল পুরুষদেহকেই বুঝাবে। উল্লেখ্য যে; দুর্গা হচ্ছে পুরুষদেহের বীর্য, নৌকা হচ্ছে পুরুষদেহ এবং দোলা হচ্ছে নারীদেহ। এই বীর্য পুরুষ দেহরূপ নৌকায় চড়ে আসে এবং বীর্যপাতের পর নারীদেহরূপ দোলায় চড়ে স্বর্গধামরূপ জরায়ুতে যায়। যেমন; মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন; “এ দেশেতে এ সুখ হলো, আবার কোথায় যাই না জানি, পেয়েছি এক ভাঙ্গা নৌকা, জনম গেল সেচতে পানি।” (পবিত্র লালন- ২১৬/১)

দোলা/পালকি (Sedan/ Palanquin)/ ‘نقل’ (নাক্বালা)/ ‘ﻔﻟﻚ’ (ফুল্ক)
সাধারণত; রাজা, সম্রাট ও বিত্তবানরা মধ্যযুগে ও আধুনিক যুগের প্রাথমিক দিকে কোথাও যাওয়া আসার জন্য যে সনাতনী মানবযান ব্যবহার করতেন তাকে পালকি বা দোলা বলা হয়। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল নারীদেহকে পালকি বা দোলা বলা হয়। মৈথুনের সময় নারীদেহ পুরুষকে নাগরদোলার মতো দোলায় বলেই এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। যেমন; বলা হয়েছে; “দোলা দে দোলা দে, দোলা দেরে পাগলা।”

মহিষাসুর তিনবার বধের ব্যাখ্যা (Explanation the three-kill of piercer)
শ্বরবিজ্ঞানে; শিশ্নকে রূপকার্থে মহিষাসুর বলা হয়। মৈথুনে রত হলে মহিষাসুরকে হত্যা করার জন্য স্ত্রী জননাঙ্গ তিনবার কামরস নিক্ষেপ করে। ঊর্ধ্বরেতা সাধকরা বৈতরণী অতিক্রম করতে পারে কিন্তু সাধারণ কামুকরা যোনির হাতে মৃত্যুবরণ করে। একেই রূপক আকারে তিনবার মহিষাসুর বধ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও; প্রকৃতপক্ষে মহিষাসুর কখনই তিনবার মৃত্যুবরণ করে না। যদিও কোনো কোনো বর্ণনায় এর প্রমাণও তুলে ধরা হয়, তাও রূপক।

অন্যদিকে; সাম্প্রদায়িক মুসলমান মনীষীগণ বর্থ্যকে পাথর মারা বলে বিষয়টি উল্লেখ করে থাকেন। মৈথুনে তিনবার কামরস নিঃসরণের চিহ্ন রূপে তিনবার পাথর মারা হয়। এখানে; বর্থ্য হচ্ছে ব্যর্থতা। শিশ্নের চিহ্ন রূপে একটি কাঠি পুঁতে রেখে তাকে সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এর অর্থ হচ্ছে প্রতি ৭ মিনিট পর একবার কামরস নিঃসরণ হয়। এ সূত্র মতে; মৈথুনে রত হওয়ার প্রায় ৭ মিনিট, ১৪ মিনিট ও ২১ মিনিট পর কামরস নিঃসৃত হয়। তারপর; আর কামরস আসে না। এরই রূপক ব্যাখ্যা রূপে তিনবারে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে শুক্রপাত না হলে সাধক অটলত্বলাভ করে। আর শুক্রপাত হলে সে মৃত্যুবরণ করে। হিন্দুদের মহিষাসুর বধ ও মুসলমানদের বর্থ্যকে (‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’. শয়তান) পাথর মারার মূল বিষয়টি এক ও অভিন্ন। কেবল উপমা নির্মাণের নৈপুণ্যতাটাই ভিন্ন।

প্রতিমা বিশ্লেষণ (Embodiment analysis)
এবার দুর্গা প্রতিমা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ওপরের চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি; দুর্গা একটি সিংহের ওপরে আরোহণকৃত। তার ১০টি হাত। প্রতিটি হাতে ভিন্ন ভিন্ন মারণাস্ত্র। তিনি সিংহের পিষ্ঠে আরোহণ করে মহিষাসুরকে বধ করতে উদ্যোত। এছাড়াও; প্রতিমা বিষারদরা একেক জনে একেক ভাবে প্রতিমা নির্মাণ করে থাকেন। তবে; ওপরের চিত্রটির মধ্যে দুর্গা ও দুর্গপূজার প্রায় সব উপাদান রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। নিচে প্রতিমার অবয়বে রূপক ও ছদ্মনাম রূপে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করে দেখানো হলো।

ক্র ছদ্মনাম মূলক
শিব ও মহিষাসুর শিশ্ন
দুর্গা বীর্য
স্বর্গ দেহ
সিংহ দেহ
হাত ইন্দ্রিয় (১. চক্ষু, ২. কর্ণ, ৩. নাসিকা, ৪. জিহবা. ৫. ত্বক. ৬. বাক্, ৭. পাণি, ৮. পাদ, ৯. পায়ু ও ১০. উপস্থ)
অস্ত্র ইন্দ্রিয়াদির ভিন্ন ভিন্ন কার্য
মহিষাসুর বধ বীর্যপাত

ইন্দ্রিয়াদির পরিচয় ও কাজ (Identity and jobs of the organs)

মানবদেহে ১০টি প্রধান ইন্দ্রিয় রয়েছে। তারমধ্যে; ৪টি প্রধান। যথা; ১. চক্ষু ২. কর্ণ ৩. নাসিকা ও ৪. জিহবা। শ্বরবিজ্ঞানে; এদের প্রধান চার দেবতা বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; এদের ছদ্মনামও রয়েছে। যথা; ১. চক্ষুকে বলা হয় দ্রষ্টা ২. কর্ণকে বলা হয় শ্রোত্র ৩. নাসিকাকে বাঁশী ও ৪. জিহবাকে বলা হয় বলন বা সুবোল। এগুলোকে আরবি ভাষায় মিকাইল, আযরাইল, ইসরাফিল ও জিব্রাইল বলা হয়। উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে; সর্বদা ইন্দ্রিয়দের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়। ইন্দ্রিয়দের ছদ্মনাম ব্যবহার করে পুরাণ নির্মাণ করা হয় বলে সাধারণ পাঠক-শ্রোতাবৃন্দ এদের চিনতে ও জানতে ভুল করেন।

. চক্ষু (Eye. আই)/ ‘ﻋﻴﻦ’ (আইন)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং চক্ষু পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা দ্রষ্টা। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক মূলক প্রধান মূলক সত্তা

চক্ষের কাজ (Jobs of eyes)
১.    চর্ম-চক্ষু দ্বারা স্থূল দ্রব্যাদি দর্শন করা যায়।
২.   জ্ঞান-চক্ষু দ্বারা অতি সহজে বৃত্তি ও ব্যবসা করা যায়।
৩.   অন্তর-চক্ষু দ্বারা কল্পনা, বিচার ও বিবেচনা করা যায়।
৪.   দিব্য-চক্ষু দ্বারা অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালের সর্বপ্রকার বিষয় অনুধাবন করা যায়।

. কর্ণ  (Ear. ইয়ার)/ ‘إذن’ (উযনান)
কর্ণ (বাপৌছ)বি ১. কান, শ্রোত্র, শ্রাবক, শ্রবণেন্দ্রিয় ক্রি শ্রবণ করা, হৃদয়ঙ্গম করা, কথা বা শব্দ অনুধাবন করা ২. হাল, বৈঠা, মাঝি, কাণ্ডারী ৩. কোণ, কোনা, চতুর্ভূজের বিপরীত কোণা যুক্তকারী রেখা, Ear, ‘أُذْن’ (উযন)।

কর্ণের কাজ (Jobs of ears)
১.   কর্ণ দ্বারা জীবকুল শাব্দগুলোর বোধ অনুধাবন করে থাকে।
২.   কর্ণ দ্বারা জীবকুল সুরের ভালোমন্দ বিচার ও বিবেচনা করে থাকে।
৩.   যেসব প্রাণীর চোখ নেই তারা কর্ণ দ্বারা শব্দ সঙ্কেত ব্যবহার করে চলাফেরা করে থাকে।

. নাসিকা (Nose. নৌজ)/ ‘أنف’ (আনিফা)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এবং নাসিকা পরিবার প্রধান বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বাঁশী। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বীণ এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা শিঙ্গা। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক প্রধান মূলক সত্তা

নাসিকার কাজ (Jobs of nose)
১.   নাসিকার সাহায্যে সুঘ্রাণ ও দুর্গন্ধ অনুভব করা যায়।
২.   এর সাহায্যে শ্বাসগ্রহণ বর্জনের মাধ্যমে বাতাস হতে জীবনধারণের অম্লজান গ্রহণ করা যায়।
৩.   এর সাহায্যে কোনো কাজের শুভাশুভ ফলাফল অগ্রিম জানা যায়।
৪.   এর সাহায্যে ইচ্ছা অনুযায়ী পুত্র ও কন্যা সন্তান উৎপাদন করা যায়।
৫.   চন্দ্রশ্বাসের দ্বারা মানবদেহ হতে সুধারূপ জীবজল জীবোদক আহরণ করা যায়।
৬.   সূর্যশ্বাসের দ্বারা মানবদেহ হতে মধুরূপ জীবজল বা জীবোদক আহরণ করা যায়।
৭.   সূর্যশ্বাসের দ্বারা পুত্রসন্তান সৃষ্টি করা যায়।
৮.   চন্দ্রশ্বাসের দ্বারা কন্যাসন্তান সৃষ্টি করা যায়।

৪ জিহবা (Tongue. টাং)/ ‘لسان’ (লিসান)
১.   এর দ্বারা কথা বলা যায়।
২.   এর দ্বারা অন্ন-পানীয় গলদকরণ করা যায়।

৫ ত্বক (Skin. স্কিন)/ ‘بشرة’ (বুশারা)
১.    এর দ্বারা স্পর্শ-জ্ঞানলাভ করা যায়।
২.   এর দ্বারা শীতল-উষ্ণতা অনুভব করা যায়।

. বাক্ (Speech. স্পিচ)/ ‘كلام’ (কালাম)
বাক্ (বাপৌছ)বি বলন, কথা, ভাষণ, speak, ক্বওল (.ﻗﻮﻞ), Gabriel, ‘ﺠﺑﺮﺍﺌﻴﻞ’ (জিব্রাইল), orator.

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ইঙ্গিত পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা ইঙ্গিত বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা প্রত্যাদেশ। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঐশিবাণী, দীপন দৈববাণী।  এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা গীর্বাণ, গীষ্পতি সুবোল এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা অবতার ঐশিদূত

বাকের কাজ (Jobs of orator)
১.    বাক ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়।
২.   এর সাহায্যে আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ করা যায়।

. পাণি (Forearm. ফোরাম)/ ‘ساعد’ (সায়াদা)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বলাই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর প্রকৃত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শিশ্ন রূপান্তরিতমূলক বলাই বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিম্বল। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা আঁচল, আঙ্গুল, খুঁটি, গাছ, চরণ, পদ, বৈঠা, রশি লাঠি। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অনস্থী, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য শুক্রাচার্য এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা শ্রীচরণ

পাণির কাজ (Jobs of hands)
১.    পাণি দ্বারা স্থূল দ্রব্যাদি ধারণ করা যায়।
২.   এর দ্বারা খাদ্য গ্রহণসহ দৈহিক ক্রিয়া কর্মগুলো সম্পাদন করা যায়।

. পাদ (Footsie. ফুটজিই)/ ‘ساق’ (সাক্বা)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বলাই পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা শিশ্ন; এর রূপান্তরিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বলাই; বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিম্বল। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা আঁচল, আঙ্গুল, খুঁটি, গাছ, বৈঠা, লাঠি হাত। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাঅনস্থী, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য শুক্রাচার্য এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা শ্রীচরণ

পাদের কাজ (Jobs of footsie)
১.    পাদের সাহায্যে জীবকুল স্বাভাবিক চলাফেরাসহ আহার সংগ্রহ কার্য সম্পাদন করে থাকে।
২.   এর সাহায্যে হাঁটা চলাসহ দৈহিক ক্রিয়া কর্মও সম্প্রদান করা যায়।

. পায়ু (Anus. এইনাস)/ ‘شرج’ (শারাজ)
১.    এর দ্বারা রেচন কার্য করা হয়।
২.   এর দ্বারা দেহের অসার বর্জ্য বের হয়।

১০. উপস্থ (Genitals. জেনিটাল্স)/ ‘عورة’ (আওরা)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা।  বর্তমানে এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা যোনি-শিশ্ন। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা কণ্ডনি। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঘানী। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা জনিত্র এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা দ্বাপরভগবান। এটি একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম প্রধান মূলক সত্তা

উপস্থের কাজ (Jobs of genitalia)
১.    উপস্থ জীবকুলকে কাম প্রশান্তি ও বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
২.   প্রজননতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সত্তা কানাই ও বলাই। বিপরীতধর্মী নারী ও নরের নিকট অবস্থান করায় একাকী ভবঘুরে বা যাযাবর জীবন হতে প্রাণীকুলকে সঙ্গবদ্ধ ও সাংসারিক জীবনে আবদ্ধ হতে সাহায্য করে। আমরা শিশ্ন ও যোনি অনুচ্ছেদে ভিন্ন ভিন্নভাবে এর আলোচনা করেছি।

অস্ত্রাদি (Weaponry)
১. কৃপাণ ২. গদা ৩. গাণ্ডিব ৪. বাণ ৫. শংখ ৬. ভূষণ্ডী ৭. চক্র ৮. বজ্র ৯. ত্রিশুল ও ১০. যষ্টি।

প্রতীক মূলক
১. কৃপাণ ভৃগু
২. গদা  (Mace. মেইস) শিশ্ন
৩. গাণ্ডিব ভগ
৪. বাণ শিশ্ন
৫. শংখ নাসিকা
৬. ভূষণ্ডী শিশ্ন
৭. চক্র ভৃগু
৮. বজ্র কামরস
৯. ত্রিশুল ভৃগু
১০. যষ্টি শিশ্ন

উপরোক্ত রূপক বর্ণনা ও কল্পিত প্রতিমা প্রদর্শনের দ্বারা মৈথুনে পুরুষজাতির বীর্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। যখন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল না তখন এমন রূপকভাবেই সাধারণ মানুষকে আত্মতত্ত্ব শিক্ষা দেওয়া হতো। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে হিন্দুরা দুর্গাপূজাকে কেবল সাধারণ শাস্ত্রকর্ম বলেই মনে করে। তাই; তারা প্রতি বছর সাম্প্রদায়িক দুর্গাপূজা করে এবং প্রতিমা বিসর্জন দেয়। অন্যদিকে; যবনরা একে অত্যন্ত মন্দ ও গর্হিত কাজ মনে করে এর মূর্তি ভাঙ্গাভাঙ্গি নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

একদল মূর্তি গড়ে-পূজা করে আর বিসর্জন দেয়; অন্যদল মূর্তি/ প্রতিমা ভাঙ্গে। উভয় দলই সমান। এদের গাধার সাথে তুলনা করা যায়। যেমন;  গাধা বোঝা বহন করে কিন্তু তারমধ্যে; কী আছে জানে না। তেমনই; যারা মূর্তি গড়ে-পূজা করে আর বিসর্জন দেয়; তারাও জানে না রূপকার মনীষীগণ এর দ্বারা মানুষকে কী শিক্ষা প্রদান করেছেন? তেমনই; যারা তাচ্ছিল ও ঘৃণাভরে মূর্তি/ প্রতিমা ভাঙচুর করে তারাও জানে না যে; মূর্তিপূজার মধ্যে কী কী মহানদর্শন ও মহান শিক্ষা লুকায়িত আছে?

আবার কোনো শিক্ষা নাইবা থাক। এটি; তো একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি। যেমন; নিজের সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি নিজের কাছে প্রিয়; তেমনই; অন্যদের সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি তাদের কাছে প্রিয়। যেমন; মসজিদ ভাঙলে, আল্লাহ, রাসুল ও মালাকিদের গালি দিলে ও কুরান শরিফ পুড়ালে, মুসলমানদের চিত্তে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়; তেমনই; মূর্তি/ প্রতিমা ভাঙলে, দেব-দেবীদের গালি দিলে, মন্দির/ মঠ/ পূজামণ্ডপ ভাঙলে, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পুড়ালে, হিন্দুদের চিত্তে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। এককথায় যেমন; প্রত্যেকের বাবা-মা, প্রেমিক-প্রেমিকা ও প্রিয়জন প্রত্যেকের কাছে প্রিয়; তেমনই; প্রত্যেকের সাম্প্রদায়িক মতবাদ, সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক দেবতা প্রত্যেকের কাছে প্রিয়। তাই; একে অন্যের সাম্প্রদায়িক সংস্কার, সংস্কৃতি, পুস্তক-পুস্তিকা ও শাস্ত্রকর্ম নিয়ে কটাক্ষ, গালাগালি, ভাংচুর ও শত্রুতা করার কোনো অবকাশ নেই। এ ব্যাপারে কুরানে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে; “তোমাদের মতবাদ তোমাদের জন্য এবং আমাদের মতবাদ আমাদের জন্য।” “لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ” (লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়া দিন)। (Lakum deenukum waliya deen). ” To you be your religion and to me my religion.” (কুরান, সুরা কাফিরুন- ৬)

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!