দ্বাপর

১৩/০৫. দ্বাপর
Couple (কাপল)/ ‘زوجان’ (জাওজান)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের অধীন গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা যোনি-শিশ্ন। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা উপস্থ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা কণ্ডনী। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঘানী তপলোক। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা জনিত্র মধুমালা এবং এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ভগবান

অভিধা (Appellation)
দ্বাপর (বাপৌছ)বি . দুই, দো, দ্বি, couple, ‘زوجان’ (জাওজান) qবিণ দ্বিগুণ, দ্বিতয়, জোড়া, জোড়, জুড়ি, যুগল, যুগ্ম . দম্পতি, এক জোড়া, জোড়ার একটি, যমজের যে কোনো এক জন . একত্রে জুড়ে দেওয়া, বিয়ে দেওয়া, যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া (ব্য্য) দ্বিপর (দুইয়ের ওপর) এর সংক্ষিপ্ত রূপ বিশেষ (প্র) . বাঙালী পৌরাণিক যুগ বিশেষ . সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি এ চারযুগের তৃতীয় যুগ . সাম্প্রদায়িক হিন্দু মনীষীদের মতে; ত্রিশ হাজার (৩০,০০০) বছর . স্থূলগণনায় আটলক্ষ চৌষট্টি হাজার (৮,৬৪,০০০) বছর। আবার কারো কারো মতে; আট লক্ষ (৮,০০,০০০) বছর . শিশ্ন ও যোনি এ দুটি বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা এর সমন্বয়ে গঠিত উপস্থকে দ্বাপর বলা হয়. দাম্পত্য জীবন, যুগল জীবন, স্বামী ও স্ত্রী মিলে সাংসারিক জীবন (শ্ববি) উপস্থ, জননতন্ত্র, জননেন্দ্রিয়, pudenda, ‘سوأة’ (সুওয়া), the reproductive organ (রূপ্রশ) কণ্ডনী, ঘানী, সেগো, ভগবান, শুম্ভ-নিশুম্ভ, কানাই-বলাই, জগাই-মাধাই (ফাপ) মাহগির (ফা.ﻤﻫﻰﮔﻴﺭ) (ইংপ) reproducer (ইদে) হারুত-মারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ ﻤﺎﺭﻮﺓ), হাবিল ক্বাবিল (.ﻗﺎﺑﻞ ﺤﺑﻝ), শিমন-পিতর (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; যে কোনো দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত বিষয়বস্তুকে দ্বাপর বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, শিশ্ন ও যোনিকে একত্রে রূপকার্থে দ্বাপর বলা হয় (বাপৌছ) দ্বাপর ও ভগবান (বাপৌচা) জনিত্র ও মধুমালা (বাপৌউ) ঘানী ও তপোবন (বাপৌরূ) কণ্ডনী (বাপৌমূ) উপস্থ।

দ্বাপরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of couple)
১.   “দ্বাপরে প্রভু রূপলীলা করে, সাদা কালো দুই রূপ ধরে, আনাগোনা বাতাসের পরে, সে সংবাদ কী রাখলি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৩)(মুখ; কয়বার এলি কয়বার গেলি, মন কিবা মায়ায় ভুলে রইলি”)
২.   “সৃষ্টিতত্ত্ব দ্বাপরলীলা, আমি শুনতে পাই, চাঁদ হতে হয় চাঁদের সৃষ্টি, চাঁদ চাঁদে হয় চাঁদময়।” (পবিত্র লালন- ৯৫৫/১)

দ্বাপরের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of couple)
১.   “আদিতে একা ছিল হরি রূপ ধরি, দ্বাপরে হলো কবন্ধ ধনুকধারী, ত্রেতায় ননিপুর বংশীধারী, তারপর; হয়েছে আকারী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৩)
২.   “সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি হয়, গোরা তার মাঝে দিব্যযুগ দেখায়, লালন বলে সেভাব জানে, ঐ ভাবের ভাবুক যারা।” (পবিত্র লালন- ৫০০/৪)
৩.   “তাঁর রশ্মি সকল প্রাণীগণকে রক্ষা করে বিচরণ করে। দ্বিপদ ও চতুষ্পদ জন্তুগণ তাঁর কিরণে বিচরণ করে। তুমি বিচিত্র দীপ্তিযুক্ত এবং সকল বস্তু প্রদর্শন করো। তুমি ঊষা হতেও মহৎ। হে অগ্নি! তুমি বন্ধু থাকলে আমরা হিংসিত হবো না।” (ঋবেসপ্রখপ্রম- সূ-৯৪, ঋ-৫)
৪.   “হে যজ্ঞবর্ধয়িতা অশ্বিদ্বয়! এ অতিশয় মধুর সোম তোমাদের জন্য অভিযুক্ত হয়েছে। এটি; কল্য প্রস্তুত হয়েছে, পান করো এবং হব্যদাতা যজমানকে রমণীয় ধন দান করো।” (ঋবেসপ্রখপ্রম- সূ-৪৭, ঋ-১)
৫.   “وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ” অর্থ; “আমরা প্রত্যেককে দ্বিবিদ করে সৃজন করেছি। ভরসা যে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।”/ And of everything we have created pairs that you may remember. (কুরআন- যারিয়াত- ৪৯)

দ্বাপরের সংজ্ঞা (Definition of couple)
সাধারণত; যে কোনো দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত বিষয়বস্তুকে দ্বাপর বলে।

দ্বাপরের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of couple)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শিশ্ন ও যোনিকে একত্রে উপস্থ বা রূপকার্থে দ্বাপর বলে।

দ্বাপরের প্রকারভেদ (Variations of couple)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; দ্বাপর দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান দ্বাপর ও ২. উপমিত দ্বাপর।

. উপমান দ্বাপর (Analogical couple)
সাধারণত; যে কোনো দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত বিষয়বস্তুকে উপমান দ্বাপর বলে।

. উপমিত দ্বাপর (Compared couple)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শিশ্ন ও যোনিকে একত্রে উপস্থ বা উপমিত দ্বাপর বলে।

দ্বাপরের পরিচয় (Identity of couple)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে; সাধারণ পাঠক-শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

সাধারণত; উপস্থকে দ্বাপর বলা হয়। দ্বাপরের সত্তা দুটি। যথা শিশ্ন ও যোনি। শ্বরবিজ্ঞানে; এঁদের অশ্বদ্বয়, দুই ভাই, দুই বোন, দুই বন্ধু, দুই দেবতা ও দুই দৈত্য ইত্যাদি বলা হয়। যেমন; বাঙালী পুরাণে শুম্ভ-নিশুম্ভ, গ্রিক পুরাণে শিমন-পিতর, আরবীয় পুরাণে হাবিল-কাবিল ও হারুৎ-মারুৎ ইত্যাদি। এছাড়া; হিন্দু দর্শন অনুযায়ী জনিত্র বা দ্বাপরকে ভগবানও বলা হয়। রূপকারগণ জনিত্র বা উপস্থের এ দুটি বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তাকে অশ্বদ্বয়, ভ্রাতৃদ্বয় ও দুই বন্ধু রূপে উপস্থাপন করে অসংখ্য শিক্ষামূলক উপাখ্যান নির্মাণ করেছেন। অথচ; জনিত্র বা উপস্থের সত্তা দুটির বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা চিনতে ও জানতে না পেরে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা চরম বিভ্রান্তিকর, হাস্যকর ও উপহাসকর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রদান করেছে। আর তা হতেই এখন সৃষ্টি হচ্ছে যতসব দল উপদলের। সৃষ্টি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সৃষ্টি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের।


১৩/০৬. ভগবান

Genitalia (জেনিটেলিয়া)/ ‘التناسلية’ (আত্তানাসুলিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের অধীন গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা যোনি-শিশ্ন। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা উপস্থ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা কণ্ডনী। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঘানী তপলোক। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা জনিত্র মধুমালা এবং এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা দ্বাপর

অভিধা (Appellation)

ভগবান (বাপৌছ)বি পরমেশ্বর, ষড়গুণের অধিকারী, genitalia, ‘التناسلية’ (আত্তানাসুলিয়া), genitals, ‘عورة’ (আওরা) qবিণ মান্য, পুজ্য, দেবতুল্য (প্র) . ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এ ছয়টি গুণসম্পন্ন ব্যক্তি . শিশ্ন ও যোনি এ দুটি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার সমন্বয়ে গঠিত জননেন্দ্রিয় বিশেষ (শ্ববি) উপস্থ, জনিত্র, জননতন্ত্র, জননেন্দ্রিয়, reproductive organ, ‘سوء أو عورة’ (সুয়া আও আওরা), ‘أعضاء تناسلية’ (আ’দা তানাসুলিয়া) (রূপ্রশ) কণ্ডনী, ঘানী, সেগো, কানাই-বলাই, জগাই-মাধাই, রজকিনী-চণ্ডীদাস, শুম্ভ-নিশুম্ভ, সুন্দ-উপসুন্দ (ইংপ) Satyr, lethe-lithe, reproducer (ফাপ) মাহগির (ফা.ﻤﻫﻰﮔﻴﺭ) (ইদে) হারুত-মারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ ﻤﺎﺭﻮﺓ), হাবিল ক্বাবিল (.ﻗﺎﺑﻞ ﺤﺑﻝ), শিমন-পিতর (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; বাঙালী পুরাণ মতে; পরমেশ্বরকে ভগবান বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, শিশ্ন ও যোনিকে একত্রে রূপকার্থে ভগবান বলা হয় (বাপৌছ) দ্বাপর (অশ্বদ্বয়, দুইবন্ধু ও দুইভাই) ও ভগবান (বাপৌচা) জনিত্র ও মধুমালা (বাপৌউ) ঘানী ও তপোবন (বাপৌরূ) কণ্ডনী (বাপৌমূ) উপস্থ Jস্ত্রী ভগবতী {বাং.ভগ+ বাং.বাণ}

ভগবানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি

(A highly important quotations of genitalia)

“যদি ভোগ দিলে ভগবান মিলতো খোদা মিলতো শিন্নিতে, ধনী লোকেরা শিন্নি করে দেখতে পারতো আল্লাকে, জাহেরে বাতেনে মাওলা ভক্ত নিয়ে করে খেলা, কোন রূপে তার নিত্যলীলা, করছনি তার অন্বেষণ।” (মুখ; ধোকলাবাজের ধোকায় পড়ে, আন্দাজি করলি সাধন, কোন সাধনে মিলবে মাওলার দরশন”) (রাধাবল্লভ)

ভগবানের সংজ্ঞা (Definition of genitalia)

সাধারণত; আধুনিক বাঙালী পুরাণ মতে; পরমেশ্বরকে ভগবান বলে।

ভগবানের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of genitalia)

বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শিশ্ন ও যোনিকে একত্রে উপস্থ বা রূপকার্থে ভগবান বলে।

ভগবানের প্রকারভেদ (Variations of genitalia)

বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ভগবান দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান ভগবান ও ২. উপমিত ভগবান।

. উপমান ভগবান (Analogical genitalia)

আধুনিক বাঙালী পুরাণ মতে; পরমেশ্বরকে উপমান ভগবান বলে।

. উপমিত ভগবান (Compared genitalia)

বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শিশ্ন ও যোনিকে একত্রে উপস্থ বা উপমিত ভগবান বলে।

ভগবানের পরিচয় (Identity of genitalia)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপস্থ পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে; সাধারণ পাঠক-শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

ভগবান আধুনিক বাঙালী পৌরাণিক মনীষীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। তাদের মতে; যে কোনো শ্রদ্ধাভাজন দেবতাই ভগবান। তাই; তারা রামায়ণ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রামকে বলেন ভগবান শ্রী রামচন্দ্র। তাদৃশ; মহাভারত উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কৃষ্ণকে বলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। যেমন; মুসলমান মনীষীগণ সম্মানিত বা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিবর্গকে ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) বলে সম্বোধন করেন; তাদৃশ; বাঙালী পৌরাণিক মনীষীগণও বর্তমানে সম্মানিত দেবতাগণকে ভগবান নামে সম্বোধন করতে আরম্ভ করেছেন। হিন্দুরা মনে করে ভগবান অর্থ হয়তোবা ঈশ্বর। তাই; সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি বা দেবতাগণের ভগবান বলাতে দোষ নেই। অন্যদিকে; মুসলমানরা মনে করে ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) অর্থ হয়তোবা সম্মানিত বা মহান। তাই; সম্মানিত ও মহান ব্যক্তিদেরকে ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) বলাতে কোনো দোষ নেই। এমন ধারণা হতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে; অভিধা বিভ্রান্তি-মহামারি প্রবেশ করেছে। এসব অভিধা বিভ্রান্তি-মহামারি হতে বর্তমানে সৃষ্টি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী বৃত্তি।

 অত্যন্ত আশ্চর্য হবার বিষয় হচ্ছে; হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত সম্বোধন দুটোই ভুল। কারণ; ভগবান অর্থ ‘উপস্থ’ এবং ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) অর্থ উপস্থিত। যেমন; ভগবান অর্থও সম্মানিত নয়; তেমনই; ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) অর্থও সম্মানিত নয়। পরিভাষার অভিধা না জেনে ও না বুঝে হিন্দুরা উপস্থকে মনে করে ঈশ্বর এবং মুসলমানরা উপস্থিতকে মনে করে সম্মানিত। নিঃসন্দেহে এসব দর্শন ও অভিধান নিয়ে বধ, বলি হত্যা ও হননের শোণিত ঝরানো জুয়াখেলা ব্যতীত কিছু নয়!  অর্থ ও অভিধাহীন ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত)! গ্রামে-গঞ্জে ছাটি-ছুটক্যা মোল্লা-মুন্সিকে ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) বলে সম্বোধন করলে; তাদের হাসির কল্লোল অধর বেয়ে মাটিতে পড়ে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুসলমান বক্তাদের ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) বলে জোকার দিলে; তাদের মুখে খই ফুটে। তাদের বাহারি ছোটকি (shortish) শুনে হাসতে হাসতে পেটের নাড়ি পর্যন্ত শক্ত হয়ে যায়। মুসলমানদের যাকেতাকে ‘ﺤﺿﺮﺖ’ (হযরত) বললে; কী যে আনন্দিত হয় তা সকলের জানা। অন্যদিকে; যেমন; বক্তৃতা করার সময়ে বা কথা বলার সময়ে রামকে ‘ভগবান শ্রীরামচন্দ্র’ ও কৃষ্ণকে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’ বলে সম্বোধন না করে; কেবল রাম ও কৃষ্ণ বললে হিন্দুরা রেগেমেগে লাল হয়ে ওঠেন; তাদৃশ মুহাম্মদকে ‘ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ) ‘ﺤﻀﺮﺖ ﻤﺤﻤﺪ’ (হযরত মুহাম্মদ) না বলে; শুধু ‘ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ) বললে; মুসলমানরা দাঁড়িয়ে বক্তার বক্তব্য বন্ধ করে। এমনকি; বক্তার গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করে না। এবার; অনুবাদ বিষয়ে আসা যাক। ‘ভগবান পরিভাষাটির গুগল অনুবাদ হচ্ছে Bhagwan, Bhagavan, god, Lord of hosts, সদাপ্রভু ও সর্বশক্তিমান প্রভু। আর আরবিতে করা হয়েছে ‘الله’, (আল্লাহ) ‘إله’ (ইলা) ‘الإله’ (আলইলা) ও ‘اله’ (ইলা)। এছাড়াও; ছোট g (জি) এর god ও বড় G (জি) এর God  এবং ছোট l (এল) এর lord ও বড় L (এল) এর Lord  এর গুগল অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো।

god [গড] (GMP)n ১. অক্কা, অক্ষর, অজর, অদৃষ্টপুরূষ, অব্যক্ত, অব্যয়, অমর, অমর্ত্য, উপাস্য, বিগ্রহ, ঋত, ঋভু, গুণাতীত, গোস্বামী, ঠাকুর, দেবতা, ধাতা, নিকায়, নিরঁজন, নিরাকার, প্রভু, বিশ্বস্রষ্টা, ব্রহ্ম, ভগবান, ভব, সুর, স্রষ্টা ২. ঈশ্বর, দেবপ্রতিমা, বিশ্ববিধাতা, সর্বশক্তিমান ৩. খোদা ৪. god, our father, First cause, od, The almighty, the creator {}

God [গড] (GMP)n ঈশ্বর, উপাস্য, দেবতা, ভগবান, শ্বর, heaven, deity, maker, God, Lord {}

lord [লর্ড] (GMP)n ১. অধিপতি, অধীশ্বর, অধ্যক্ষ, ঠাকুর, নরপতি, নাথ, নৃপতি, প্রভু, ভূস্বামী, মনিব, রাজা, রাজাধিরাজ, শাসক, সম্রাট, স্বামী, master, lord, owner, overlord, baboo, babu ২. জোতদার, মালিক, হজরত (ক্রি) প্রভুর পদ দেওয়া, কর্তৃত্ব করা, শাসন করা {}

Lord [লর্ড] (GMP)n প্রভু, ঈশ্বর, পালনকর্তা, সৃষ্টিকর্তা, heaven, deity, maker, God, Lord {}

বড় হাস্যকর বিষয় (Stars ridiculous topics)

বড় হাস্যকর বিষয় হলো; বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (৭ম পুণর্মূদ্রণ: জৈষ্ঠ ১৪১২/জুন ২০০৫, পৃষ্ঠা- ১১৯৪)– এ লেখা হয়েছে;

হরি [হোরি] বি ১. হিন্দুদেবতা বিষ্ণু, নারায়ণ, কৃষ্ণ, যম, ২. সূর্য ৩. চন্দ্র ৪. বায়ু ৫. সিংহ ৬. অশ্ব ৭. পশু ৮. বানর ৯. ময়ুর ১০. কোকিল, পিক ১১. সর্প ১২. ভেক; ব্যাঙ, মণ্ডুক ১৩. কিরণ ১৪. হংস ১৫. সবুজবর্ণ ১৬. পিঙ্গলবর্ণ এবং ১৭. ধান্য বিশেষ।

পর্যালোচনা (Review)

পুরাণে ব্যবহৃত বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাবাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা না জানা অর্থাৎ; আত্মদর্শন না জানার কারণে; অভিধানবিদরা পরিভাষাটির ১৭টি অভিধা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু মাত্র দুটি হয়েছে। যথা; বিষ্ণু ও নারায়ণ। আর অবশিষ্ট ১৫টি হয় নি। এবার কথা হলো; স্বয়ং অভিধানবিদদের ব্যাপারেই যদি এমন মহাবিভ্রান্তি ও বিভ্রম ঘটে। তবে; সাধারণ সাম্প্রদায়িকদের অবস্থা কী? এছাড়াও; সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, আলোচক ও অনুবাদকদের অবস্থাইবা কী? পূর্বেও বলা হয়েছে এবং এখনও বলা হচ্ছে। আত্মতত্ত্ব বা আত্মদর্শন না জেনে ও না বুঝে বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল, তোরাহ, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, জেন্দাবেস্তা, জ্ঞান-সাহেব, লালন, জালাল ও বলন এর মতো মহা গ্রন্থাদির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন ও মন্তব্য লেখতে আরম্ভ করা বোকামির নিম্নস্তর ব্যতীত কিছু নয়। যারা করেছে, করছে ও করবে তারা সম্পূর্ণই অন্যায় করেছে, করছে ও করবে। এমন করলে; যেমন; সে নিজেও চরম পথভ্রষ্ট; তেমনই; পুরো জাতিকেই পথভ্রষ্ট করছে। প্রবাদে বলে; “কামারের কাজ কুমোরকে দিয়ে হয় না।”

এখন শক্ত করেই বলা যায়; বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল, তোরাহ, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, জেন্দাবেস্তা, জ্ঞান-সাহেব, লালন, জালাল ও বলন অত্যন্ত উচ্চমার্গের শ্বরবিজ্ঞান। সেজন্য; এসব গ্রন্থের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন ও মন্তব্য লেখতে হলে; অবশ্যই আত্মতত্ত্ববিদ হতে হবে। আত্মদর্শন না জেনে ও না বুঝেই যারা উক্ত গ্রন্থাদির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, অনুবাদ, অভিধান প্রণয়ন ও মন্তব্য লেখতে গেছে, যাচ্ছে ও যাবে তারাই অনধিকার চর্চাকারী বলে গণ্য হবে। আত্মদর্শনহীন বা আত্মতত্ত্ব জ্ঞানহীন সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, আলোচক, প্রচারক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকদের দ্বারা নির্মিত অনুবাদ গ্রন্থ, ব্যাখ্যা গ্রন্থ ও টীকার পুস্তক-পুস্তিকা পাঠ করেই সৃষ্টি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতা (ধর্মীয় সন্ত্রাস, ধর্মীয় উগ্রবাদ, ধর্মীয় আতঙ্কবাদ)।

এমন বলার উদ্দেশ্য হলো; দেশের বরেণ্য অভিধাবিদদের দ্বারা যে অভিধান সংকলন করানো হয়েছে। সে অভিধানের মধ্যেই যদি ‘হরি’ পরিভাষাটির এমন নাজুক অবস্থা হয়। তবে; অন্যান্য ক্ষেত্রের অবস্থা পাঠককুলের বিচারের ওপর ছেড়ে দিলাম।

সমাধান (Solution)

আমরা যা করি সবই করে হরি।আল্লাহ বলে মারব লাফ যা করে হরি।হরি বোল হরি বোল। এসব বাক্য দ্বারা কোন সত্তাকে বুঝানো হয়েছে? সে সত্তার অবস্থান ও অবস্থিতি কোথায় ও কিরূপে? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য; সর্বপ্রথম হরি রূপ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাটির প্রপক জানতে হবে। অতঃপর; ছদ্মনাম, চারিত্রিক, উপমান, বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা জানতে হবে। তারপর; বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা অবশ্যই জানতে হবে।

কাল্পনিক দর্শন (Mythology)

(প্রপক) (Extensive)- 1

বাঙালী পুরাণ মতে; নারায়ণের অন্য নাম ছিল হরি।

(প্রপক) (Extensive)- 2

বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; দৈত্যরাজ তাড়কাক্ষের পুত্র ছিল হরি।

একবার হরি অত্যন্ত কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করে বরলাভ করেছিলেন। এ বরের প্রভাব দ্বারা ত্রিপুরে মৃতসঞ্জীবনী সরোবর নির্মাণ করেছিলেন। এ সরোবরের এমন গুণ ছিল যে; এর মধ্যে মৃত দৈত্যসৈন্য নিক্ষেপ করলে তারা পুনর্জীবিত হয়ে ফিরে আসত। (পৌরাণিক অভিধান)। উপরোক্ত প্রপক দুটি হলো; পৌরাণিক রূপক বর্ণনা। আর সাহিত্যের রূপক বর্ণনাকেই mythology বলা হয়। সেজন্য; ওপরের বর্ণনাকে বলা যায় mythology. এটি; mythology হলে অবশ্যই এর theology আছে। নিচে উপরোক্ত myth  দুটির theology বর্ণনা করা হলো।

আত্মদর্শন  (Theosophy)

এখানে; নারায়ণ হলো দেহের অমৃত। অর্থাৎ; পবিত্র মানবজল। বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষায় একে সাঁই বলা হয়। প্রপক এক (১) অনুসারে।

১৩ উপস্থ

এখানে; ব্রহ্মা হলেন স্বয়ং কাঁই। ত্রিপুর হলো জরায়ু। জরায়ু হতে লাল, সাদা ও কালো এ ৩টি ধারা প্রবাহিত হয়। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে একে ত্রিপুর বলা হয়। এ জরায়ুকেই মৃতসঞ্জীবনী সরোবর বলা হয়। উল্লেখ্য; শ্বরবিজ্ঞানে শুক্রপাত করাকে মরা বা মৃত্যুবরণ করা বলা হয়। আর মানুষকেই রাক্ষস, দৈত্য ও দানব বলা হয়। এ সূত্র ধরে বলা যায়; অলৌকিক সরোবরে মৃত-দৈত্যসেনা নিক্ষেপ করার অর্থ হলো; দম্পতি মৈথুনে রতো হয়ে জননপথে শুক্র নিক্ষেপ করা। অতঃপর; পুনর্জীবিত হয়ে ফিরে আসার অর্থ হলো; দশ মাস পরে মানবসন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করা। এবার বলা যায়; শুক্র নিক্ষেপ করার পর; প্রসব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যে ঐশি দেবতা গর্ভের মধ্যে মানব ভ্রূণ লালনপালন করার গুরু-দায়িত্ব পালন করেন তিনিই হলেন লালন। আর শ্বরবিজ্ঞানে; এ লালনকেই ‘হরি’ বলা হয়। ভারতবর্ষের অধিকাংশ মানুষ এখনও অক্ষরজ্ঞানহীন। জ্ঞান তো আরও দূরের ব্যাপার। এ উপমহাদেশের কী সাম্প্রদায়িক মনীষী, কী বক্তা, কী বৈখ্যিক, কী টৈকিক, কী অভিধানবিদ আর কী অনুবাদক; না জানে উপমিতি, না জানে আত্মদর্শন, না জানে রূপক-সংখ্যাতত্ত্ব, আর না জানে খাস্তবাদ। সবাই যেন একই প্রকার অন্ধ।

এর আরও একটি তাত্ত্বিক প্রমাণ আছে। তা হলো; এ দেবতা দেহের মধ্যে হরের (চোর) মতো আত্মগোপন করে অবস্থান করে। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে একে হর বা হরি বলা হয়। সমাধানের যবনিকায় এসে বলা যায়; হর বা হরি হলেন জীবের পালনকর্তা। যাকে বাংলা ভাষায়; ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ স্বরূপ ইত্যাদি বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় Hoary, Cherisher, God, nectar, elixir ইত্যাদি বলা হয়। অনুরূপভাবে আরবি ভাষায় ‘اشيب’ (আশিব), ‘مشرف’ (মুশারিফ), ‘ﻤﻌﺑﻭﺪ’ (মা’বুদ), ‘ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ), ‘رَسُول’ (রাসুল), ‘ﻜﻭﺛﺮ’ (কাওসার), ‘ﻔﺭﺍﺖ’ (ফুরাত) ইত্যাদি বলা হয়। অনুরূপভাবে ফার্সি ভাষায় ‘ﺨﺪﺍ’ (খোদা) বলা হয়। কিন্তু আত্মদর্শন না জেনে ও না বুঝে অভিধানবিদরা “১.হিন্দুদেবতা বিষ্ণু, নারায়ণ, কৃষ্ণ, যম, ২.সূর্য ৩.চন্দ্র ৪.বায়ু ৫.সিংহ ৬.অশ্ব ৭.পশু ৮.বানর ৯.ময়ুর ১০.কোকিল, পিক ১১.সর্প ১২.ভেক; ব্যাঙ, মণ্ডুক ১৩.কিরণ ১৪.হংস ১৫.সবুজবর্ণ ১৬.পিঙ্গলবর্ণ এবং ১৭.ধান্যবিশেষ” এসব বলেছে। তারা একান্ত অনুমানের ওপর আবোলতাবোল বলতে আর বাদ রাখে নি। তারা তো অভিধানবিদ! তারা যদি ‘হরি’ পরিভাষাটির অভিধা যমুনাব্রিজ, পদ্মাব্রিজ, শাহবাগের যাদুঘর, লালনসেতু, হাদিকাতুল হাইওয়ান (কুলায়িকা) ও গুলিস্তানের কামান এসবও বলে, তবুও; তাদের ভুল ধরবে কে? প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে লালন সাঁইজি বলে গেছেন; “এসব দেখি কানার হাটবাজার, বেদ-বিধির ’পর শাস্ত্র কানা, আরেক কানা মন আমার।” (পবিত্র লালন- ২৩১/১)। পরিশেষে বলা যায়; যেমন; সাম্প্রদায়িক দিশারীরাও কানা; তেমনই; অনুসারীরাও কানা।

আবার ভগবান প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। এবার ভগবান পরিভাষাটির গুগল অনুবাদেও আমরা ঠিক তেমনিই, দেখতে পাচ্ছি। যেমন; “Bhagwan, Bhagavan, god, Lord of hosts, সদাপ্রভু ও সর্বশক্তিমান প্রভু। আর আরবিতে করা হয়েছে ‘الله’, (আল্লাহ) ‘إله’ (ইলা) ‘الإله’ (আলইলা) ও ‘اله’ (ইলা)।” কোনকিছু বাদ দেয় নি। কথা হলো; এসব অনুমানভিত্তিক অনুবাদকদের সম্পাদিত অনুবাদ দ্বারা ছেয়ে গেছে সারা সাম্প্রদায়িক-বিশ্ব। তাই; সারা বিশ্বে এত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ। ভগবান সমস্যার সমাধান করতে হলে অবশ্যই এর Extensive (প্রপক) জানতে হবে। নিচে ভগবান প্রপক তুলে ধরা হলো।

কাল্পনিক দর্শন (Mythology)/ প্রপক (Extensive)

লোকসৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভগবান একাদশ ইন্দ্রিয় ও পঞ্চ মহাভূত এই ষোড়শকলা বিশিষ্ট পুরুষ রূপে কথিত দেহধারণ করেন।

ভগবানের প্রথম অবতার সেই দেবাত্মা ব্রাহ্মণ সদৃশ; যিনি কৌমার নামক সৃষ্টি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আবির্ভূত হন। অতঃপর; দুশ্চর, অখণ্ড ব্রহ্মচর্য পালন করেন। দ্বিতীয় অবতার হলেন বরাহ। বিশ্ব প্রতিপালকের জন্য যজ্ঞেশ্বর মহাদেব রসাতলগতা রমণীকে উদ্ধার করার জন্য শূকর দেহধারণ করেন। তৃতীয় অবতার হলো; ঋষি-সৃষ্টি। দেবর্ষি নারদের রূপ-ধারণ করে ভগবান নৈষ্কর্ম বিধানকারী বৈষ্ণব তন্ত্রের ব্যাখ্যা করেন। চতুর্থ অবতার হলো; ধর্মকলা সৃষ্টি। নর-নারয়ণ ঋষি রূপ-ধারণ করে আবির্ভূত হন। তারপর; ভগবান চিত্তবৃত্তি নিবৃত্ত করে দুশ্চর তপস্যার সাধনা করেন। পঞ্চম অবতারে সিদ্ধেশ্বর কল্কি রূপে আবির্ভূত হন। তারপর; আসুচি নামক ঋষিকে কালগতিতে নষ্টপ্রায় চতুর্বিংশতি সাংখ্যদর্শন বলেছিলেন। ষষ্ঠ অবতারে অনসূয়ার প্রার্থিত গর্ভে অদ্রিমুনির পুত্র দত্তাত্রেয় রূপে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর; অলর্ক ও প্রহ্লাদাদিকে আত্মবিদ্যার উপদেশ দেন। সপ্তম অবতারে রুচির ঔরসে আকুতির গর্ভে ‘যজ্ঞ’ নাম নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। অষ্টম অবতারে রাজা নাভির ঔরসে মরুদেবীর গর্ভে ঋষভ নাম নিয়ে ভগবান বিষ্ণু জন্মগ্রহণ করেন। নবম অবতারে তিনি রাজা। ঋষিরা তাঁকে প্রার্থনা করেছিলেন। তাই; তাঁর নাম হয় পৃথু। দশম অবতারে তিনি মৎস্য রূপ-ধারণ করেন।

একাদশ অবতারে তিনি বিষ্ণুকূর্ম রূপে নিজের পিঠে মন্দার পর্বতকে ধারণ করেন। ত্রয়োদশ অবতারে তিনি হলেন সমুদ্র মন্থন উদ্ভূত মোহিনী। যিনি ললনা রূপে অসুরদের মোহ বিমুগ্ধ করে দেবতাগণের অমৃতপান করিয়েছিলেন। চতুর্দশ অবতারে তিনি নরসিংহ রূপ-ধারণ করে দৈত্যরাজ মহাগর্বী হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন। পঞ্চদশ অবতারে তিনি বামণ রূপে দৈত্যরাজ বলিকে দমন করেন। ষোড়শ অবতারে তিনি পরশুরাম রূপে আবির্ভূত হন। অতঃপর; ব্রাহ্মণ বিদ্বেষী ক্ষত্রিয় রাজাদের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে একুশ বার পৃথিবী ক্ষত্রিয় মুক্ত করেন। সপ্তদশ অবতারে তিনি পরাশরের ঔরসে সত্যবতীর গর্ভে ব্যাসদেব রূপে জন্মগ্রহণ করেন। বেদ সদৃশ মহীরুহকে খণ্ড খণ্ড করে (বেদ চার ভাগে ভাগ করে) তিনি বেদব্যাস নামে খ্যাত হন। দেবতাগণের কার্যসাধনের জন্য তিনি অষ্টাদশ অবতার হন। এ জন্মে ভগবান অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যার পুত্র শ্রীরামচন্দ্র। ঊনবিংশ অবতারে তিনি শ্রীবলরাম রূপে বৃষ্ণি বংশে (যদুবংশ) জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীর ভার বহন করেন। বিংশ অবতারে শ্রীকৃষ্ণ রূপে বৃষ্ণি বংশে (যদুবংশ) জন্মগ্রহণ করে ভগবান পৃথিবীর ভার বহন করেন। একবিংশ অবতারে তিনি বুদ্ধ রূপে জন্মগ্রহণ করে অহিংসা মতবাদ প্রচার করেন। দ্বাবিংশ অবতারে তিনি কলির শেষে ব্রাহ্মণ বিষ্ণুযশার পুত্র রূপে জন্মগ্রহণ করে কল্কি নাম ধারণ করবেন (শ্রীমদ্ভগবত)

আত্মদর্শন/  আত্মতত্ত্ব/ (Theosophy/ Theology)

এমনই ভাবে শত শত পৃষ্ঠা বর্ণনা-বিবরণ তুলে ধরা হলেও ভগবানের স্বরূপ উদ্ঘাটন করা যে সম্ভব নয়; তা পাঠককুল ইতোপূর্বেই অনুমান করতে পেরেছে। তাহলে; স্বরূপ উদ্ঘাটন করার জন্য ‘ভগবান’ পরিভাষাটির বিশ্লেষণ করা অতীব প্রয়োজন। ভগবান পরিভাষাটি ‘ভগ’ ও ‘বাণ’ এ দুটি পরিভাষার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। ‘ভগ’ যোনি (যোনিমুখ) এবং ‘বাণ’ অর্থ তীর। পুরুষের শিশ্ন দেখতে তীরের মতো। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে একে তীর বলা হয়। এই ভগ ও বাণ হতে আলোচ্য ভগবান পরিভাষাটির উদ্ভব। অর্থাৎ; ভগ + বাণ> ভগবাণ> ভগবান। এবার বলা যায়; ভগবানের সত্তা দুটি। তা হচ্ছে যোনিশিশ্ন। শ্বরবিজ্ঞানে; যোনি-শিশ্নকে একত্রে উপস্থ বলা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর এবার বলা যায়; আলোচ্য ভগবান অর্থ উপস্থ। ভগবানকে ইংরেজি ভাষায় Pudendum এবং আরবি ভাষায় ‘المحاشم’ (আলমুহাশাম) বলা হয়। কিন্তু উপস্থকে ইংরেজি ভাষায় Genitalia এবং আরবি ভাষায় ‘عورة’ (আওরা) বলা হয়। বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও মরমী শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণে কেবল এই উপস্থের বর্ণনা-বিবরণই করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ পুরাণ বুঝে না, তাই বিশ্বাস করতে চাই না। এবার বলা যায় যে; ভগবান বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাটির দ্বারা যে উপস্থ বুঝানো হয়েছে; সারা সৃষ্টিকুল ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তার পূজায় ব্যতিব্যস্ত। সাম্প্রদায়িক কর্ম সাম্প্রদায়িক রীতি মাত্র।

অথচ; বাঙালী হিন্দু সমাজে ভগবান বলতে যে অবাস্তব সত্তা গড়ে ওঠেছে। তা বলায় বাহুল্য। ভগবান অদৃশ্য; তিনি আকাশে থাকেন; তিনি মানুষের ভালো-মন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন। পূজা দিয়ে ভগবানকে তুষ্ট করতে না পারলে মানবজীবনই বৃথা, ———- ইত্যাদি। অন্যদিকে; বাঙালী মুসলমান সমাজে আল্লাহ বলতে যা গড়ে ওঠেছে; তা হলো; আল্লাহ নিরাকার; তিনি সর্বত্র বিরাজমান; তিনি দেখেন ও শোনেন। তিনি প্রয়াণোত্তর মানুষের বিচার করবেন। তিনি পুণ্যবানদের স্বর্গ ও পাপীদের নরক প্রদান করবেন, ———- ইত্যাদি।

এসব হলো; হিন্দু সাম্প্রদায়িক ও মুসলমান সাম্প্রদায়িকদের একান্তই পৌরাণিক কাহিনী। তাদের মূল সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের কোথাও এমন বর্ণনা নেই। যে ব্রহ্মা ও যে আল্লাহর পৌরাণিক কাহিনী সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে; তা তারা কোনো দলই অন্বেষণ করে না। হিন্দুদের সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে ব্রহ্মা বলতে মানবদেহে প্রাপ্ত কালো বর্ণের প্রাণরসকে বুঝানো। অন্যদিকে; মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক গ্রন্থেও আল্লাহ বলতে মানবদেহে প্রাপ্ত কালো বর্ণের প্রাণরসকে বুঝানো হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়; যেমন; হিন্দুরাও ব্রহ্মা বা কৃষ্ণের পূজা করছে না। তেমনই; মুসলমানরাও আল্লাহর উপাসনা করছে না। উভয় সম্প্রদায়ই কেবল শাস্ত্রকর্ম রূপে কিছু আনুষ্ঠানিকতা করছে। তারা যা করছে, তা স্রষ্টার নৈকট্যলাভের প্রতীকী প্রশিক্ষণ মাত্র। প্রতীকী নৈকট্যলাভ প্রশিক্ষণ দ্বারা কখনই বাস্তব নৈকট্যলাভ করা যায় না।

বাঙালী মরমী, আত্মজ্ঞানী, আত্মতাত্ত্বিক, দিব্যজ্ঞানী ও অধ্যাত্মবাদী সাধকগণ আল্লাহকে কালা, কাজলা, কালিয়া, কৃষ্ণ, শ্যাম ও শ্যামলা নামে প্রচার করে চলেছেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মুসলমানরা এসব মহান সাধককে বরাবরই গালাগালি করে আসছে। যাঁরা আল্লাহকে চেনেন ও জানেন; যাঁরা আল্লাহর বাণী প্রচার করছেন; এমনকি; যাঁরা মহান আল্লাহর নাম প্রচার করছেন; ভুল সাম্প্রদায়িক দর্শনের কারণে; এখন সাম্প্রদায়িকরা সেই মহান সাধকদেরকেই গালাগালি করছে। অন্যদিকে; যারা আল্লাহ সম্পর্কে কিছুই জানে না, কিছুই বুঝে না; তারাই মুসলমান সমাজের আল্লামা, মাওলানা, পির ও হুজুর কেবলা সেজে বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে। এসবই মুসলমান জাতির অধঃপতনের মূল কারণ।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!