ধন

৮৭/১. ধন
Riches (রিসেজ)/ ‘ كنز’ (কানাজা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শুক্র। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন রুটি। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা সুন্দরী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য, মহামায়া, মা স্বর্গীয় ফল। এ পরিভাষাটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জ্ঞান, পালনকর্তা, মন, যৌবন, সন্তানসৃষ্টিকর্তা এ ৬টি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক ও ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করে পাঠ করা প্রত্যেক পাঠকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অভিধা (Appellation)
ধন (বাপৌরূ)বি অর্থ, টাকা, সম্পদ, সম্পত্তি, সম্বল, স্নেহ, সম্বোধন, riches, ‘ كنز’ (কানাজা) (শ্ববি) শুক্র, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, semen, ‘.ﻤﻧﻰ’ (মনি), ‘.ﻧﻂﻔﺔ’ (নুত্বফা) (রূপ্রশ) গোবিন্দ, জল, বারি, পিতৃধন Jস্ত্রী অহল্যা, কালী, দুর্গা, বৈষ্ণবী, সীতা (ইপৌচা).ﺍﺪﻢ’ (আদম), ‘.عُزَّىْ’ (ওয্যা), ‘.ﺠﻦ’ (জিন), ‘الزكاة’ (আজ্ঝাকাত), ‘.ﻟﻮﻄ’ (লুত্ব), ‘ﻴﺯﻴﺪ’ (ইয়াজিদ) Jস্ত্রী.ﺯﻟﻴﺠﺎ’ (জুলেখা), ‘.بلقيس’ (বিলকিস), মারিয়ম (ﻤَﺮِﻴَﻢٌ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; সর্বপ্রকার সম্পদকেই বাংলায় ‘ধন বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মৈথুনের সময়ে শিশ্ন হতে নিঃসৃত শুভ্রবর্ণের তরল পদার্থকে রূপকার্থে ‘ধন বলা হয় (বাপৌছ) আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য, মহামায়া, মা ও স্বর্গীয়-ফল (বাপৌচা) দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা ও সুন্দরী (বাপৌউ) অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন ও রুটি (বাপৌরূ) ধন (বাপৌমূ) শুক্র।

ধন (বাপৌরূ)বি অর্থ, টাকা, সম্পদ, সম্পত্তি, সম্বল, স্নেহ, সম্বোধন (বাপৌছ) প্রভু, পরমগুরু, চোর (বাপৌচা) লালন (বাপৌউ) উপাস্য, গ্রন্থ, ধন, ননি, পাখি, ফল, অমৃতসুধা, স্বর্গীয়ান্ন (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

ধনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of riches)
১.   “অবোধ মন তোরে আর কী বলি, পেয়ে ধন সে ধন সব হারালি।” (পবিত্র লালন- ৫৮/১)
২.   “এনে মহাজনের ধন, বিনাশ করলি ক্ষ্যাপা, সদ্য বাকির দায় যাবি যমুনায়, হবেরে কপালে দায়মাল ছাপা।” (পবিত্র লালন- ২২১/১)
৩.   “কোন কোণায় কী হচ্ছে ঘরে, একদিন তো দেখলি না রে, পৈতৃকধন সব নিলো চোরে, হলিরে তুই ফুক্বারা।” (পবিত্র লালন- ৭৪১/৩)
৪.   “গেল গেল ধন নিলামায়, খালি ঘর দেখি জমায়, লালন কয় খাজনার দায়, তাও কবে যায় লাটে।” (পবিত্র লালন- ৮৮৩/৪)
৫.   “গোষ্ঠে চল হরি-মুরারী, লয়ে গোধন গোষ্ঠের কানন, চল গোকুল-বিহারী।” (পবিত্র লালন- ৪২৫/১)
৬.   “চটকেতে ভুলেরে মন, হারালি অমূল্য-ধন, হেরে বাজি কাঁদলে এখন, আর সারবে না।” (পবিত্র লালন- ৯৯৮/২)
৭.   “নিশিদিনে চোরের হানা, কী ধন লুটে টের পায় না, বলন কয় সাঁই এলো না, মহাকাল শমন এলো।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৮.   “পরদ্রব্য পরনারী হরণ করো না, পারে যেতে পারবে না, যতবার করবে হরণ ততবার হয় জনম।” (পবিত্র লালন- ৯০৫/৩)
৯.   “বাপের ধন খেল সর্পে, রাগচক্ষু নাই দেখবি কিরূপে, লালন বলে হিসাব কালে, যাবে জানা।” (পবিত্র লালন- ৭৩৪/৪)
১০. “মন আমার আজ পড়লি ফেরে, দিন দিন তোর পৈতৃকধন গেল চোরে।” (পবিত্র লালন- ৭৩০/১)
১১.  “মহাজনের ধন এনে, ছিঁটালি তুই উলুবনে, কী হয় নিক্বাশের দিনে, সে ভাবনা কই ভাবলি।” (পবিত্র লালন- ৫৮/২)
১২.  “লালন বলে মরলাম জ্বলে, মরলাম জ্বলে নিশিদিনে, মণি-হারা ফণীর মতো, হারা হলাম পিতৃধনে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/৫)

ধনের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of riches)
১.   “অভাগিনীর আর কেউ নাই, কেবল মাত্র একা কানাই, সে ধন হারা হলে বলাই, কিসের ঘরকন্না।” (পবিত্র লালন- ৪২০/৩)
২.   “অমূল্য দোকান খুলিয়া দয়াময় তেমাথা পথে, শিষ্যের পানে রয় চাহিয়া আপনার ধন বিলাতে, মনের দরে জ্ঞান বেচিয়া, দান করে ধনের খনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯২)
৩.   “অসার ভেবে সারদিন গেল আমার, সারবস্তু ধন হ’লাম হারা, হাওয়া বন্ধ হলে সব যাবে বিফলে, দেখেশুনে লালস গেল না মারা।” (পবিত্র লালন- ৬১/১)
৪.   “আমার বিষয় আমার বাড়িঘর, এ ভাবনায় দিন গেলরে তোর, বিষয়বিষ খাবি- ধন হারাবি, শেষে কাঁদলে কী শুনবে তাই।” (পবিত্র লালন- ৯০৮/৩)
৫.   “ওরে কুঁড়েমি আলস্যপনা, বাড়ায় শুধু দুর্ভাবনা, কর্ম বিনা ধন মিলে না, যত বাড়াবাড়ি সব মিছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৫)
৬.   “ক্বদর দীর্ঘ অবতরণ আত্মতত্ত্বখানি, সাধনবলে পায় সে ধন যেজন পারমী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৪)
৭.   “থাক সে ভবের ভাই বেরাদর, প্রাণপাখি ও নয় আপনার, পরের মজায় মজে এবার, প্রাপ্তধন হারায় পাছে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৩/২)
৮.   “দিনে দিনে কামশক্তি বেড়ে যায়, কামিনীকাঞ্চন লুটে পিতৃধন হায়, কাঞ্চন কুলাই ঝেড়েঝুড়ে নেয়, চাল নাই শুধু তুষ দেখি।” (পবিত্র লালন- ৭১৬/২)
৯.   “দেখেশুনে আত্মকলহ, কর্তাব্যক্তি হত হলো, সাক্ষাতে ধন চোরে গেল, এ লজ্জা তো যাবে না।” (পবিত্র লালন- ৬৮৩/৩)
১০. “নিজের ধন নিজে চেনে না, সাধনহীনে কভু পায় না, মিছে করে যমগমনা, পড়িয়া রিপুর ধোঁকায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৬)
১১.  “পিছলঘাটা ত্রিভঙ্গ বাঁকা, কতজন কাটল মাথা, মানে না দোহায়ের কথা, পিতৃধন সব তুলে লাটে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৮)
১২.  “পিতৃধন আজ সব নিলো লুটে, লেংটি ঝাড়া করল বটে, লালন বলে অন্তিম কালে, চোরের হলো কী আড়ি।” (পবিত্র লালন- ৮৫৫/৪)
১৩. “পেতে প্রেমপরশ রতন, হেন ধন করো হে যতন।” (পবিত্র লালন- ৬৩৯/১)
১৪. “পেয়ে ধন হারাই যেজন, কেবল তার হয়রে মরণ, বিনয় করে কয়রে বলন, পেয়েছে সে মরার বর।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১৫. “বাপ-পুতে এক দোকানে, সদা কিনলি দাদার গুণে, পৈতৃকধন যায় নিলামে, একবার ভেবে দেখলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯৩)
১৬.  “বারোবছর হইলে শুনি, প্রথম আকাশে আসে ননি, সেজন হয় ধনের ধনী, যেজন রয় সাধনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)
১৭. “ভবপারে যাবি কেরে, গুরুর চরণ শরণ কর আগে, পিতৃধন তোর গেল চোরে, পারে যাবি কোন রাগে।” (পবিত্র লালন- ৭১৩/১)
১৮. “ভাবলি না শেষের ভাবনা, মহাজনের ধন খোয়ালি ষোল আনা, বলছে লালন মন রসনা, একদিনও তা ভাবলি না রে।” (পবিত্র লালন- ৮২৪/৪)
১৯.  “ভেবে কয় ফকির লালন, পরের সঙ্গে দিন কাটালাম, পিতৃধন গেল তামাম, সে ভাবনা ভাবলাম না।” (পবিত্র লালন- ১৫২/৪)
২০. “ভেবে দেখরে মনকানা, এই ধন যৌবন রবে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৮)
২১.  “মহাজনের ধন এনে, ডুবালি এ ত্রিবেণে, মাডুয়াবাদীর মত যাবি, ধরা পড়ি।” (পবিত্র লালন- ২৫৪/৩)
২২. “মানববীজ ধন এনে, ছিঁটালি মন উলু বনে, কী হবে গণনার দিনে, বলন কয় চালান পাবি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭২)
২৩. “যেতে পথে প্রেমনদেতে, পিতৃধন খায় কুরে কুরে (ভোলামন মনরে), না জানি হায়-ষোল কলায়, ভরা দেহ উজাড় করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
২৪. “যে ধন নিয়ে ভবে এলি, হারালি তার মূল সকলি, বলন কয় কী যোগালি, পারের বেলা যাবে জানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৮)
২৫. “যৌবনকালে রঙ্গে দিলি মন, দিনে দিনে হারালি পিতৃধন, গেল রবির জোর- আঁখি হলো ঘোর, কখন ঘিরবে মহাকালে এসে।” (পবিত্র লালন- ২৮৮/২)
২৬. “শোনরে মন তোরে বলি, তুই আমারে ডুবালি, পরের ধনে লোভ করলি, সে ধন আর কয়দিন খাবি।” (পবিত্র লালন- ৮১২/২)
২৭. “সাঁই পূজার গোপন ঘরে, তিনশষাটটি মুর্তি ঘুরে, অমূল্য-ধন নিলাম করে, বলন কয় প্রতিমাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৮)
২৮. “সাধু পেলে চরণ ধর, অমূল্য-ধন রক্ষা কর, মর মরার আগে মর, ছাড় কুল জাতির বড়াই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)

সাধারণ সম্পদ অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology riches sense for assets)
১.   “এ ধন যৌবন চিরদিনের নয়, বিনয় করে নিমাই মায়েরে কয়।” (পবিত্র লালন- ২১৭/১)
২.   “কোন্ দিন শ্মশানবাসী হব, কী ধন সঙ্গে নিয়ে যাব, কী করি কী কই- ভুতের বোঝা বই, ভাবলাম না গুরুর বাণী।” (পবিত্র লালন- ৬৯৭/৩)
৩.   “দেখলাম এ সংসার, ভোজ-বাজির প্রকার, দেখতে দেখতে অমনি কেবা কোথায় যায়, মিছে এ ঘরবাড়ি- মিছে ধন কড়ি, মিছে দৌড়াদড়ি করি কার মায়ায়।” (পবিত্র লালন- ৫৪৪/১)
৪.   “ধন ও নারীর মায়া করলি, মূলধন সকল হারালি, বলন কয় মিছে সকলি, সে ভেদ জানলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৭)
৫.   “ধন ধরা গজ বাজি, তাতে মন না হয় রাজি, আমার কানাইরে পাবার জন্যি, মন আকুল সদাই।” (পবিত্র লালন- ৯৩/৩)
৬.   “না হলে মন সরলে, কী ধন মিলে কোথায় খোঁজে, হাতে হাতে বেড়াও মিছে, তওবা পড়ে।” (পবিত্র লালন- ৫৯৯/১)
৭.   “পরপারের সম্বল বিনা, ঠেকবি গণনার দিনে, কী হবে ছাই ধন স্বজনে, সকলি থাকবে পড়ি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৭)
৮.   “বিনা কর্মে ধন উপার্জন, কে করতে পারে, নাম জপে কী বস্তুর স্বাদ, আঁচ করতে পারে।” (পবিত্র লালন- ৬৯৩/১)
৯.   “ভাব জানি না প্রেম জানি না, জানি না ভজন সাধনা, কী ধন থুয়ে কী ধন দেব, দয়ালরে তোর গুরুদক্ষিণা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৪)
১০. “ভেবে দেখরে মনকানা, এই ধন যৌবন রবে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৮)
১১.  “মন আমার গেল জানা, রবে না এ ধন, জীবন ও যৌবন, তবে কেন মন এত বাসনা, একবার সবুরের দেশে, বয় দেখি দম কষে, উঠিস না রে ভেসে, পেয়ে যন্ত্রণা।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/১)

জ্ঞান অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology riches sense for wisdom)
১.   “গুরু বলে চেনো তারে, যার ভয় চিন্তা নাই ভবের ’পরে, আপন ধন বিলিয়ে দিয়ে, শূন্য রয় যে এ সংসারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৯)
২.   “মূলধন জ্ঞান মন দেহ, ছিনে নিতে পারে না কেহ, অটলমণি সুধাগৃহ, নিষ্ঠাজন যত্নবান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮২)
৩.   “যে আমারে করিবে পার, করলাম না সেবা তাহার, বলন কয় একি ব্যপার, গুরুধন চিনলাম না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০০)

মন অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology riches sense for psyche)
১.   “অমূল্য-ধন লয়ে মাথায়- নিধি কিনতে যা ঢাকায়, বিনা মূল্যে দিবেরে নিতাই, বলন কয় কিছু নাই- সে ধন আসে থাক সদাই, পেতেরে রঙ্গিলার মন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৮)
২.   “ঠিক ভুলো না মন রসনা, এসে কড়াল করে, সে প্রকার কর যোগাও এবার, অমূল্য-ধন দিয়েরে।” (পবিত্র লালন- ৯২৫/২)
৩.   “সাধু পেলে চরণ ধরে, অমূল্য-ধন বিক্রি করে, ঘর বাঁন্ধ গিয়ে ঢাকায়, (তেতলা) মালখানাটা নিলামেতে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯১)

সাঁই অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার- ১ (Using the terminology riches sense for God- 1)
১.   “অমূল্য দোকান খূলেছে নবি, যে ধন চাবি সে ধন পাবি, বিনা কড়ির ধন- সেধে দেয় এখন, না নিলে পস্তাবি আখিরের দিনে।” (পবিত্র লালন- ১৬০/৩)
২.   “আপ্ততত্ত্বে ফাজিল যারা, নিগূঢ়লীলা দেখছে তারা, নীরে নিরঞ্জন অকৈতবধন, লালন খুঁজে বেড়ায় বন জঙ্গলে।” (পবিত্র লালন- ১৭৮/৪)
৩.   “আমার ঘরের চাবি পরের হাতে, কেমনে খুলে সে ধন দেখব চোখেতে।” (পবিত্র লালন- ১২৪/১)
৪.   “এ মানুষে আছেরে ধন, যারে বলে মানুষ-রতন, লালন বলে পেয়ে সে ধন, পারলাম না চিনতে।” (পবিত্র লালন- ১২৪/৪)
৫.   “গুরুপদে নিষ্ঠা মন যার হবে, সঁপে দিলে সর্বস্ব তার, অমূল্য-ধন হাতে সে পাবে।” (পবিত্র লালন- ৩৯৮/১)
৬.   “চিনলাম না গুরু কী ধন, জানলাম না সেবা সাধন, ঘুরতে বুঝি হলোরে মন, চুরাশি।” (পবিত্র লালন- ১৪৩/৩)
৭.   “বহুতর্কে দিন বয়ে যায়, বিশ্বাসে ধন নিকটে পায়, সিরাজ সাঁইজি ডেকে- বলে লালনকে, কু’তর্কের দোকান খুলিস না আর।” (পবিত্র লালন- ৯২৬/৪)
৮.   “মুর্শিদ বিনা কী ধন আর, আছেরে মন এ জগতে, যে নাম স্মরণে তাপিত অঙ্গ শীতল করে, ভববন্ধন জ্বালা যায়রে দূরে, জপ ঐ নাম দিবারাতে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৯/১)
৯.   “সপ্ততল পাতালের তলে, মূল রয়েছে অতি গোপনে, মূল-মানুষ স্থূলে রেখে, কী ধন খুঁজ বনে বনে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/৪)

সাঁই অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার- ২ (Using the terminology riches sense for God- 2)
১.   “অমূল্য দোকান খুলিয়া দয়াময় তেমাথা পথে, শিষ্যের পানে রয় চাহিয়া আপনার ধন বিলাতে, মনের দরে জ্ঞান বেচিয়া, দান করে ধনের খনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯২)
২.   “অমূল্য-ধন মাণিক-রতন, ঐ নিশিতে হয় বিতরণ, কলির জীবকে তরাতে- আপন ঘরে হয় বিতরণ, পেলে ধন হয় মহাজন, নিতাইশালের ত্রিবেণীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)
৩.   “অমূল্য-ধন লয়ে মাথায়- নিধি কিনতে যা ঢাকায়, বিনা মূল্যে দিবেরে নিতাই, বলন কয় কিছু নাই- সে ধন আসে থাক সদাই, পেতেরে রঙ্গিলার মন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৮)
৪.   “আজ আমার গউর পদে মন মজল, আর কিছু লাগে না ভালো, সদাই মনে চিন্তা এই, আমার সর্বস্বধন চাঁদগৌরাঙ্গ, সে ধন পাই কিসে তাই শুধাই।” (পবিত্র লালন- ৮৯/২)
৫.   “ঊর্ধ্বরেতা রসিক যারা, ঐ ধনের ধনীরে তারা, দানের প্রাপক মরে যারা, গিয়ে কামকামিনী গমনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৫)
৬.   “এনে মহাজনের ধন, বিনাশ করলি ক্ষ্যাপা, সদ্য বাকির দায় যাবি যমুনায়, হবেরে কপালে দায়মাল ছাপা।” (পবিত্র লালন- ২২১/১)
৭.   “কানাই হেন ধন হারিয়ে, আছে সদাই হত হয়ে, বলরে কোন দেশে গেলে, আমি সে নীলরতন পাই।” (পবিত্র লালন- ৯৩/২)
৮.   “কানা চোরা চুরি করে, ঘর থুয়ে সিঁধ দেয় পাগারে, কানা মিছে খেটে মরে, কানার ভাগ্যে ধন মিলে না।” (পবিত্র লালন- ৮৩৩/৩)
৯.   “কৃর্তিকর্মা সে ধনী, অমূল্য মাণিক মণি, করল তোরে কৃপা, সে ধন এখন- হারালিরে মন, এমন তোর কপাল বদবখতা।” (পবিত্র লালন- ২২১/২)
১০. “কেউ রাজা কেউ বাদশাহগিরি, ছেড়ে কেউ করে ফকিরি, আমি নিমাই- কী ছার নিমাই, কী ধন ছেড়ে বেহাল পরেছি গায়।” (পবিত্র লালন- ২১৭/২)
১১.  “খুঁজে দেখ তোর আপন ঘরে, আপন ঘরে রেখে সে ধন, কেন খুঁজো বার বাইরে।” (পবিত্র লালন- ৩৭৮/১)
১২.  “খুঁজে ধন পাই কী মতে, পরের হাতে ঘরের কলকাঠি, শতেক তালা মালকুঠি।” (পবিত্র লালন- ৩৭৯/১)
১৩. “খুলবে কেমনে সে ধন, গ্রাহক বিনে, কত মুক্তা মণি রেখেছে ধনী, বাঁধাই করে যে দোকানে।” (পবিত্র লালন- ৩৮০/১)
১৪. “গুরুধন সাধনের বেলা, আপনি এসে লাগায় ভেলা, হাতের কাছে দেখরে খেলা, রয়েছে কোন ঘরে বসে।” (পবিত্র লালন- ৭১/৩)
১৫. “গুরুবস্তু অমূল্য-ধন, ঘুমের ঘোরে চিনলি না মন, ঐ ঘুমেতে হয় মরণ, যেতে হয় শমনের অধীন।” (পবিত্র লালন- ২৮৯/৩)
১৬.  “গুরু বিনা কী ধন আছে, কী ধন খুঁজিস ক্ষ্যাপা কার কাছে।” (পবিত্র লালন- ৪০৩/১)
১৭. “ঘর ছেড়ে ধন বাইরে খোঁজা, বয় সে চিনির বোঝা, পায় না সে চিনির মজা, বলদ যেমন পায় ছাই।” (পবিত্র লালন- ৮২৯/২)
১৮. “ঘরের কোণে ধনের খনি তবু কেন হস কাঙ্গাল, পরের ধনে বাবুগীরি করিস না রে মন বাঙ্গাল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০২)
১৯.  “ঘরের বাইরে সাঁই পাবি না, ঘুরিয়া মথুরা মদিনা, আপনঘরে রেখে সে ধন, কোথায় খুঁজে বেড়াস কানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৪)
২০. “ঠাউরে ভজন সাধন করো, নিকটে ধন পেতে পারো, লালন বলে নিজ মুক্বাম খোঁজ, বহু দূরে নাই।” (পবিত্র লালন- ৩৫০/৫)
২১.  “ত্রিধারা বয়রে নদী ত্রিধারা বয়, কোন ধারাতে কী ধন প্রাপ্তি হয়।” (পবিত্র লালন- ৫০৩/১)
২২. “দয়াল সাঁইজি বলে বলন, চিনলি না গুরু কী ধন, শুনলি না বাউলের গান, আত্মজ্ঞান মহাখনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬১)
২৩. “দিয়েছে যে ধন সাঁই, কেড়ে নিতে দেরি নাই, লালন কয় খোঁজ তাই, ঘরের ছোড়ানকাঠি।” (পবিত্র লালন- ৯৯৭/৪)
২৪. “দুইদেহ একদেহ হলে, তবেই সে ধন পায়, লালন বলে তা নইলে কী, গুরুর রাঙাচরণ পাওয়া যায়।” (পবিত্র লালন- ৮৬১/৪)
২৫. “ধন সিন্ধুকে ভরা, ক্ষণেক্ষণে দেয় পাহারা, সে শক্তি আকর্ষণে, নদীর জোয়ার ধরে- লেনাদেনা পরেপরে, লালন বলে কূল পাড়ি দে না।” (পবিত্র লালন- ৯২৭/৩)
২৬. “ধনের আশে পাগলের মতন, মানবকর্মে হলি অধঃপতন, পিতৃধন হলো না যতন, ইতরে আচার না গেল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৫)
২৭. “নিকটে থাকতে সে ধন, বিষয় চঞ্চলাতে খুঁজলি না এখন, লালন কয়- সে ধন কোথায়, আখিরে খালি হাতে সবাই যায়।” (পবিত্র লালন- ৯০৮/৪)
২৮. “পাইতে সে অমূল্যরতন, ভজ গিয়া গুরুর চরণ, ভাবিয়া কয় কাঁইজি বলন, পাবিরে ধনের খনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৩)
২৯. “পাগল করে যে রমণী- তার বুকে কাটাও রজনী, তারে কর ধনের ধনী- দয়াল কারণ অকারণে, বলন কয় অটলগুণে- সর্বত্র গমনাগমনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)
৩০. “পেতে সে ধনের সন্ধান, সাধুগণ রয় ত্রস্তবান, উপাসনা করে ঐ রাতে, পেলে সে সাঁইয়ের দরশন, থাকে না জীবের মরণ, চমৎকার দেহতরীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)
৩১. “প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে, কামনদীর এক ধাক্কা এসে, কেটে যায় বাঁধন ছাদন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/২)
৩২. “বলন কাঁইজি ভেবে বলে- প্লবতা নাই ঐ নদীর জলে, গুরু রূপের দিব্যি দিলে- হয়ে যায় সে নদী পার, অথৈজলের ডুবুরী হলে- অমূল্য-ধন মাণিক মিলে, গুরুর করুণা হলে- অনায়াসে হয় নদী পার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৬)
৩৩. “মন আর তুমি একজন হলে, অনায়াসে অমূল্য-ধন মিলে, একজনে আরেকজন এলে, হয় মুর্শিদরূপ প্রকাশনা।” (পবিত্র লালন- ৪২২/৩)
৩৪. “মন দিয়ে তার হও তলব্দার, গুরুর বাক্ ধরে, কোথায় সে ধন পাবি লালন, শুদ্ধ ভক্তির জোরে।” (পবিত্র লালন- ৯২৫/৪)
৩৫. “মন বুঝে ধন দিতে পারে, কে আছে এ ভাবনগরে, কার কাছে মন জুড়াই, যদি গুরু দয়াময়- এ অনল নিভায়, লালন বলে সে-ই তো উপায়।” (পবিত্র লালন- ১৩০/৪)
৩৬. “মানুষগুরু যে ভজেছে, জ্ঞান-নয়ন তার খুলেছে, অমূল্য-ধন সে পেয়েছে, ভেসে আনন্দ সলিলে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৮/৩)
৩৭. “মুসলমানের মক্কাতে মন, হিন্দুরা করে কাশী ভ্রমণ, দেহের মধ্যে অমূল্য-ধন, কে দূরে যায়।” (পবিত্র লালন- ১০৯/২)
৩৮. “রসরতীর নাই নিরূপণ, আন্দাজি করি সাধন, কিসে হয় প্রাপ্তি সে ধন, ঘুচে না মনের ঘোলা, উজানে কী ভেটেনে পড়ি, ত্রিবেণীর তীর নালা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৫/৪)
৩৯. “রোজা নামাজ বেহেস্তের ভজন, তাই করে কী পাবে সে ধন, বিনয় করে বলছে লালন, থাকতে পারে ভেদ গুরুর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ১৮৭/৪)
৪০. “যাদের সঙ্গে রইলি চিরকাল, কালাকালে তারাই হয় কাল, মনরে জানো না- কার কী গুণপনা, ধনীর ধন গেল সব রিপুর বশে।” (পবিত্র লালন- ২৮৮/৩)
৪১. “যার মস্তক সে কামড়াইয়া মগজ খুইল্যা খায়, পরমধন হারাইয়া শেষে করে হায়ঃ হায়ঃ, শেষে কাঁদলে ফল হবে কী, আগে কেহই কাঁন্দে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৪)
৪২. “যে জাগে সে ভাবের সাথে, অমূল্য-ধন পায় সে হাতে, ক্ষুধা-তৃষ্ণা যাবে তাতে, এমন ধন খুঁজলে না।” (পবিত্র লালন- ৭৪৮/২)
৪৩. “যে ধন বাঞ্ছিত সদাই, তোর ঘরে মা সে দয়াময়, নইলে কী তার বাঁশীর সুরে, আর ফিরে গঙ্গা।” (পবিত্র লালন- ৪৯৯/৩)
৪৪. “সব পুর্ণ্যরে পুণ্যফল, গুরু বিনা নাই সম্বল, লালন কয় তার জনম সফল, যেজন গুরুধন পেয়েছে।” (পবিত্র লালন- ৮৩২/৪)
৪৫. “সাধু মহাজন যারা, মালের মূল্য জানেন তারা, মূল্য দিয়ে লন- অমূল্যরতন, সে ধন কেন জেনেশুনে।” (পবিত্র লালন- ৩৮০/২)
৪৬. “সাধুর চরণ পরশিলে, অমূল্য-ধনের গুদাম মিলে, মনের ফেরে গণ্ডগোলে, হলাম শুধু অপমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯২)
৪৭. “সামান্য বিচার করো, ভক্তি বিশ্বাস নিয়ে ধরো, অমূল্য-ধন পেতে পারো, তাতে অনায়াসে।” (পবিত্র লালন- ৩২৩/৩)
৪৮. “সামান্যে কী সে ধন পাবে, দিনের অধীন হয়ে সাধতে হবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৭/১)।৪৯. “সামান্যে কী সে ধন মিলে, মিটে সব আশা সব পিপাসা, সে অমূল্যরতন পেলে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৮/১)

সন্তান অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology riches sense for progeny)
“মায়াকানন কুসুমবাগে, সাদা কালো দুই শশী জাগে, বাছাধন কেষ্ট মাঙ্গে, তোর দুয়ার দে খুলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০১)

বিশ্বাস অর্থে ধনপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology riches sense for believe)
“ঈমান ধন আখিরের পুঁজি, সে ঘরে দিলে না কুঞ্জি, লালন বলে হারলে বাজি, শেষে কাঁদলে সারবে না।” (পবিত্র লালন- ৭৭৩/৪)

ধনের ওপর কয়েকটি পূর্ণ বলন (Some full Bolon on the riches)
.                 যার ভাগ্য সে নিজে লেখে
নিজ কলমে নিজ খাতাতে, নিশি বরাতে।

অমূল্য-ধন মাণিক-রতন
ঐ নিশিতে হয় বিতরণ
কলির জীবকে তরাতে-
আপন ঘরে হয় বিতরণ
পেলে ধন হয় মহাজন
নিতাইশালের ত্রিবেণীতে।

পেতে সে ধনের সন্ধান
সাধুগণ রয় ত্রস্তবান
উপাসনা করে ঐ রাতে-
পেলে সে সাঁইয়ের দরশন
থাকে না জীবের মরণ
চমৎকার দেহতরীতে।

বলন কাঁইজি ভেবে বলে
সাধনবলে গুদাম মিলে
পাকা গুরুর কৃপাতে-
তিনশত ষাট বরাত পেতে
গুরুধন লইও সাথে
সেই কঠিন পারাপারেতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)

.                 লোভী মন কবে হবি ভালো
            এ জনম বিফল হলো।

ধনের আশে পাগলের মতন
মানবকর্মে হলি অধঃপতন
পিতৃধন হলো না যতন
ইতরে আচার না গেল।

যত কর ধন আহরণ
এত ধন খাবি কখন
নাক ডগায় ঘুরে শমন
ধন দিয়ে কে রক্ষা পেল।

যত ধনী লাট বাহাদুর
তারা ভবে নয় চতুর
বলন কয় মূল ফতুর
মন তোর সে দশা হলো।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৫)

.                 সাধু পেলে চরণ ধরে, অমূল্য-ধন বিক্রি করে
ঘর বাঁন্ধ গিয়ে ঢাকায়, (তেতলা) মালখানাটা নিলামেতে যায়।
চৌদ্দতলা জমিদারী
দশতলে বিচার আচারি
ছয়তলায় দাতাগিরি
তিনতলাতে ধন বোঝায়।

ঢাকানগরের যত জায়গা
সাড়ে তিনেতে মিলে বিঘা
শতক গণে সাতাশ দিয়া
মাপ নিতে হয় আটকাঠায়।

সকাল-সন্ধ্যা পুরুষ মারে
ভরা সেথা চোর বাটপাড়ে
বলন কয় ধন বাঁচাতে
তিলতলা পাহারা চাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯১)

ধনের ওপর কয়েকটি পূর্ণ লালন (Some full Lalon on the riches)
.                 খুলবে কেমনে সে ধন গ্রাহক বিনে
কত মুক্তা মণি রেখেছে ধনী,
বাঁধাই করে যে দোকানে।

সাধু মহাজন যারা,
মালের মূল্য জানেন তারা,
মূল্য দিয়ে লন- অমূল্যরতন,
সে ধন কেন জেনেশুনে।

মাকাল ফলের রক্বম দেখে,
ডালে বসে নাচে কাকে,
তেমনি, আমার মন- চটকে গমন,
দিন ফুরালি দিনে দিনে।

মন তোমার গুণ জানা গেল,
পিতল কিনে সোনা বলো,
লালন বলে মন- চিনলি না ধন,
মূল হারালি নিজের গুণে।” (পবিত্র লালন- ৩৮০)

.                 গুরু বিনা কী ধন আছে,
কী ধন খুঁজিস ক্ষ্যাপা কার কাছে।

বিষয় ধনের ভরসা নাই,
ধন বলতে ধন গুরু গোঁসাই,
সে ধনের দিয়ে দোহাই,
ভবতুফান যাবে বেঁচে।

স্ত্রী পুত্র পরিবার বড় ধন,
পেয়েছ এ ভবের ভূষণ,
মিছে মায়ায় ভুলেরে মন,
গুরুধনকে ভাবলি মিছে।

কোন ধনের কী গুণপনা,
অন্তিমকালে যাবে জানা,
গুরুধন কী চিনলে না,
নিদানে পস্তাবি পাছে।

গুরুধন অমূল্য-ধনরে,
বুঝালে বুঝিস না রে,
সিরাজ সাঁইজি কয় লালন তোরে,
নিতান্ত পেঁচোয় পেয়েছে।” (পবিত্র লালন- ৪০৩)

ধনের সংজ্ঞা (Definition of riches)
সাধারণত; সর্বপ্রকার সম্পদকেই ধন বলে।

ধনের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of riches)
১.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মৈথুনে শিশ্ন হতে নিঃসৃত শুভ্রবর্ণের তরল পদার্থকে শুক্র বা ধন বলা হয়।
২.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মাতৃগর্ভে সর্বজীবের ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত সুমিষ্ট সুপেয় ও সাদাবর্ণের অমৃতরসকে পালনকর্তা বা ধন বলা হয়

ধনের প্রকারভেদ (Variations of riches)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে ধন দুই প্রকার। যথা; ১. স্থায়ী ধন ও ২. অস্থায়ী ধন।

. স্থায়ী ধন (Permanent riches)
শ্বরবিজ্ঞানে জ্ঞান ও চরিত্রকে স্থায়ী ধন বলে।

. অস্থায়ী ধন (Temporary riches)
যৌবন, শুক্র, সুধা, অর্থ, ভূমি, জনবল ও পদমর্যাদা ইত্যাদিকে অস্থায়ী ধন বলে।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে ধন দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান ধন ও ২. উপমিত ধন।

. উপমান ধন (Analogical riches)
সাধারণত; সর্বপ্রকার সম্পদকেই উপমান ধন বলে।

. উপমিত ধন (Compared riches)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে মৈথুনে শিশ্ন হতে নিঃসৃত শুভ্রবর্ণের তরল পদার্থকে উপমিত ধন বলে।

ধনের পরিচয় (Identity of riches)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। সর্বপ্রকার সম্পদকেই ধন বলা হয়। স্থূলদৃষ্টিতে কেবল অর্থ, ভূমি, জনবল ও পদমর্যাদে ধন বলা হয়। অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞানে জ্ঞান ও চরিত্রকে প্রকৃত ধন বলা হয়। এখানেই; শেষ নয় এ সাহিত্যে জ্ঞান ও চরিত্রকে রীতিমত স্থায়ী সম্পদও বলা হয়। কারণ; যেমন; জ্ঞান ও চরিত্র বহন করার জন্য কোনো গাড়ি ঘোড়াও ব্যবহার করতে হয় না; তেমনই; কোনো বেগও পেতে হয় না। আবার এ দুটি সম্পদ সহজে নিঃশেষও হয় না। অথচ একদিকে যেমন; অর্থ, ভূমি, জনবল ও পদমর্যাদা সহজে বহন করা যায় না; অন্যদিকে; তেমনই; এসব আবার প্রাণনাশের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। উপমা রূপে বলা যায় যে; মনিবকে যে লোকজন পাহারা দেয়, অর্থের লোভে তারাই তাঁকে হত্যা করতেও কুণ্ঠিত হয় না। যে অর্থের বড়াই করে সে বেঁচে থাকে, সে অর্থের জন্যই তাঁকে প্রাণ দিতে হয়। অর্থাৎ; অর্থই অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় দেখা যায় রাজা ও সম্রাটরাও রাজ্যহারা অবস্থায় ভিখারীর বেশে পথে পথে ঘুরে বেড়ান। সংসদের এম.পি ও মন্ত্রীরাও আত্মগোপন করা অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।

সেজন্য; সুমহান রূপকারগণ এসব পার্থিব বিষয়বস্তুকে ধন বলেন না বরং কেবল জ্ঞান, চরিত্র, যৌবন, শুক্র, সুধা, মধু, দুগ্ধ, মনুষ্যত্ব এব অর্জিত প্রযুক্তি বা প্রকৌশলকেই প্রকৃত ধন বা প্রকৃত সম্পদ বলে থাকেন। সব বুদ্ধিমানের কাজ হলো অস্থায়ী সম্পদের লোভ পরিহার করে স্থায়ী ধন অর্জন করায় মনোনিবেশ করা। অস্থায়ী ধন সম্পদের অধিকারী বা মোহে আচ্ছন্ন ব্যক্তিরা জীবনে কখনই সুখ পান না কিন্তু স্থায়ী ধন সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিগণ চিরদিনই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন। এসব আলোচনার এমন অর্থ গ্রহণ করা কারো উচিত হবে না যে; একেবারেই অর্থ, ভূমি, জনবল ও পদ অর্জন করাই যাবে না। হ্যাঁ সচ্ছলভাবে জীবনযাপনের জন্য যে পরিমাণ অর্থ সম্পদ প্রয়োজন তা অর্জন করা ও ব্যবহার করা কখনই অবৈধ নয়। তবে; অতিরিক্ত সম্পদের মোহে আচ্ছন্ন হওয়া কখনই কারো উচিত নয়। অধিক সম্পদের মোহে আচ্ছন্ন হওয়া অর্থই যমদূতের কাঁধে ভর করে দিগ্বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর হওয়া। যেমন; যম যে কোনো সময় প্রাণনাশ করতে পারে; তেমনই; যে কোনো সময় অর্থও অনর্থ হতে পারে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!