নদী

৬৬/১. নদী
River (রিভার)/ ‘ﻨﻬﺮ’ (নাহারা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বৈতরণী পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা যোনিপথ। এর রূপান্তরিত মূলক বৈতরণী। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা উঠান, দুয়ার পথ। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ডাঙ্গা, বিরজা সুড়ঙ্গ এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা খাল, নালা যমুনা

অভিধা (Appellation)
নদ (বাপৌরূ)বি নদী পরিভাষাটির পুংলিঙ্গ, যে ধারার সহিত অন্য কোনো ধারা এসে পতিত হয় না বরং যে ধারা হতে শাখাপ্রশাখা বা ধারা উপধারা উৎপন্ন হয়ে অন্য ধারার সাথে মিলিত হয় (শ্ববি) জননপথ, vagina, সাওয়া (.ﺴﻭﺀﺓ) (রূপ্রশ) বৈতরণী, ফল্গু, বিরজা, ব্রজ, সুরধুনী, গোষ্ঠ, গোকুল (বাপৌরূ) নদ/ নদী (বাপৌমূ) বৈতরণী  নদী।

নদী (বাপৌরূ)বিস্ত্রী তটিনী, তরঙ্গিনী, স্রোতস্বিনী, প্রবাহিনী, শৈবলিনী, সরিৎ, স্বাভাবিক জলস্রোত, river, ‘ﻨﻬﺮ’ (নাহারা) (প্র) পাহাড়, হ্রদ ও প্রস্রবণ প্রভৃতি হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদের মধ্য দিয়ে চারক্রোশের অধিক প্রবাহিত জলস্রোত (শ্ববি) জননপথ, vagina, সাওয়া (.ﺴﻭﺀﺓ) (রূপ্রশ) গণ্ডকী, গোদাবরী, পদ্মা, বিরজা, ফল্গু, ব্রহ্মপুত্র, মন্দাকিনী, যমুনা, সুরধুনী, সুরনদী, অযোধ্যা (ইংপ) canal (ইপ) দজলা (ﺪﺠﻠﺔ), বরজখ (.ﺒﺮﺯﺥ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বৈতরণী পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; পাহাড়, হ্রদ ও প্রস্রবণ প্রভৃতি হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদের মধ্য দিয়ে চার ক্রোশের অধিক প্রবাহিত জলস্রোতকে বাংলায় ‘নদী বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত দীর্ঘ যোনিনালীকে রূপকার্থে ‘নদী বলা হয় (বাপৌছ) খাল, নালা ও সুড়ঙ্গ (বাপৌচা) ডাঙ্গা, বিরজা ও যমুনা (বাপৌউ) উঠান, দুয়ার ও পথ (বাপৌরূ) নদী (বাপৌমূ) বৈতরণী।

নদীর ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of river)
১.   “অপরূপ সে নদীর পানি, জন্মে তাতে মুক্তামণি, বলবো কী তার গুণ বাখানি, স্পর্শে পরশ হয়।” (পবিত্র লালন- ৮৩৬/২)(মুখ; যেজন পদ্মহীন সরোবরে যায়, অটল অমূল্যনিধি সে অনায়াসে পায়।”)
২.   “অমৃত-সাগরের সুধা, পান করলে জীবের ক্ষুধা তৃষ্ণা, রয় না, লালন মরল জল পিপাসায়রে, কাছে থাকতে নদী মেঘনা।” (পবিত্র লালন- ২৫৭/৫)
৩.   “করি কেমনে শুদ্ধসহজ, প্রেমসাধন, প্রেমসাধতে ফেঁপে ওঠে, প্রেমনদীর তুফান।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/১)
৪.   “ধন সিন্ধুকে ভরা, ক্ষণে ক্ষণে দেয় পাহারা, সে শক্তি আকর্ষণে, নদীর জোয়ার ধরে- লেনাদেনা পরেপরে, লালন বলে কূল পাড়ি দে না।” (পবিত্র লালন- ৯২৭/৩)
৫.   “নদী কিংবা বিল বাওড় খাল, সর্বস্থলে এক সে জল, একা মোর সাঁই- আছে সর্ব ঠাঁই, মানুষ রূপে হয় রূপান্তার।” (পবিত্র লালন- ৯২৬/২)
৬.   “নদীর জল কূপজল হয়, বিল বাওড়ে পড়ে রয়, সাধ্য কী জল গঙ্গাতে যায়, গঙ্গা না এলে পরে, তেমনি, জীবের ভজন বৃথা, তোমার দয়া নাই যারে।” (পবিত্র লালন- ৮৬০/৩)
৭.   “প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে, কামনদীর এক ধাক্কা এসে, কেটে যায় বাঁধন ছাদন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/২)
৮.   “বুঝিনা দয়ালরে তোর মহিমা অপার, শূন্যেতে গড়িয়া নদী যাত্রী করো পারাপার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৬)
৯.   “শুষ্কনদীর শুষ্কসরোবর, তিলে তিলে হয় গো সাঁতার, লালন কয় কৃতিকর্মার, কী কারখানা।” (পবিত্র লালন- ১০৬/৪)

নদীর সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of river)
১.   “অমাবশ্যা পূর্ণিমালীলা, জোয়ার চেনে ভাসা ভেলা, দ্বিদলে অটলখেলা, বলন কয় প্রেমনদীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৪)
২.   “অমাবস্যার পর পূর্ণিমাতে, উদয় হয় সে নদীয়াতে, বলন কয় ভাব বুঝিতে, জীবের কী সাধ্য তাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৭)
৩.   “অরসিকের ভোলে ভুলে, ডুবিস না কূপনদীর জলে, কারণ বারির মধ্যস্থলে, ফুটেছে ফুল অচিনদলে, চাঁদ চকোর তাতে খেলে, প্রেমবাণে প্রকাশিয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৪/২)
৪.   “আগে মৃণালের কোণে, ভেবে দেখ নয়নে, ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা পড়ে সে ভাগে, কত নায়ের মাঝি হারায় পুঁজি, কলকলে নদীর ঘুরপাকে।” (পবিত্র লালন- ৭১৩/৩)
৫.   “আগে সখী পিছে সখী, শতশত সখী দেখি, সব সখীর কর্ণে দেখি সোনা, নদীর কূলে বাজায় বাঁশী, কপালে তিলক তুলসি, রাধিকার কুঞ্জবনেতে।” (পবিত্র লালন- ২৪৩/৩)
৬.   “আছে ভবনদীর পাড়ি, নিতাইচাঁদ কাণ্ডারী, কুলে বসে রোদন করি, চাঁদগৌর এসে গেল।” (পবিত্র লালন- ৬২৭/২)
৭.   “আবহায়াত নদীর কূলে, হলে পরে উর্ধ্বগমন, যেতে পারবি ও পাগল মন, মরার আগেই মরিলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২)
৮.   “আমার দেহনদীর বেগ থাকে না, আমি বাঁধব কয় মোহনা, কামজ্বালাতে জ্বলে মরি কই হলোরে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ১২৮/১)
৯.   “আমি কী দেখলাম গো নদীয়ায়, পুত্র মারে কন্যা বাঁচায়, পাহাড় কেটে ঘর গড়ে, তার ভিতরে লুকায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০)
১০. “উবুদগাছে ফুল ফুটেছে প্রেমনদীর ঘাটে, গাছের ডালপালা খালি, ভিতরেতে ফুল ফুটে।” (পবিত্র লালন- ১৯৫/১)
১১.  “উবুদ করা নদী দেখলাম ভাই, আসমানে তার তলি, কত জাহাজ মুল্লুক যাচ্ছে মারা, শুনে নদীর কলকলি।” (পবিত্র লালন- ১৯৪/১)
১২.  “একটি নদীর তিনটি ধারা, সে নদীর নাই কূল কিনারা, বেগে তুফান বয়- দেখে লাগে ভয়, ডিঙি বাঁচাবার উপায় কী করি।” (পবিত্র লালন- ১২৬/৩)
১৩. “এক নদীতে তিনধারা, নাই নদীর কূল কিনারা, বেগে তুফান বয়- দেখে লাগে ভয়, পার হও যদি সাজাও প্রেমতরীরে।” (পবিত্র লালন- ৫৪০/৩)
১৪. “একে নিরীক্ষ যার, হতে ভবনদী পার, সে তরী কভু টাল খাবে না, পাঁচপীরে চলন- চলে লালন, চুরাশি করে আনাগোনা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৩/৪)
১৫. “একে সে প্রেমনদীর জলে, থাই মিলে না নোঙর ফেলে, বেঁহুশ হয়ে নাইতে গেলে, কাম-কুম্ভীরে খায়।” (পবিত্র লালন- ৪২৮/৩)
১৬.  “এ দেহের মাঝে নদী আছে, সে নদীতে নৌকা চলছে, ছয় জনাতে গুণ টানে, কেবল হাল ধরে একজনা।” (পবিত্র লালন- ৫২৮/৩)
১৭. “এসো দয়াল আমায়, পার করো ভবের ঘাটে, দেখে ভবনদীর তুফান, ভয়ে মন কেঁপে ওঠে।” (পবিত্র লালন- ২৩৪/১)
১৮. “ও দিলমু’মিনা, চল যাই হায়াতনদীর  পাড়ে, শ্রীগুরু কাণ্ডারী যার রয়েছে হাল ধরে।” (পবিত্র লালন- ২৫০/১)
১৯.  “কখন হয় শুকনানদী, কখন হয় বর্ষাপাতি, কোনকখানে তার কুলের স্থিতি, সাধকে করে নির্ণয়, অভাগা লালন না বুঝে, ডুবে কিনারায়।” (পবিত্র লালন- ৫০৩/৪)
২০. “কতজন সে গল্প করে, মাছ ধরতে যায় প্রেমসাগরে, চেনে নদীর  তিনধারা, মরতে এলাম সে নদীতে, হলো না জাল ধরা।” (পবিত্র লালন- ৩৪৯/২)
২১.  “কত শত মহাশয়, এ নদীতে  মারা যায়, লালন বলে দেখব মন, তোর মাঝিগিরি।” (পবিত্র লালন- ২৫৪/৪)
২২. “করি কেমনে শুদ্ধসহজ, প্রেমসাধন, প্রেমসাধতে ফেঁপে ওঠে, প্রেমনদীর  তুফান।” (পবিত্র লালন- ২৩৪/১)
২৩. “করো সন্ধান আবহায়াত নদীর  (মন আমার), কোন নদীতে  রয় সে জল, কিভাবে তা হয় বাহির।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩২)
২৪. “কানাবকের মতো হয়ে, নদীর ধারে থাকতে হয়, নইলে চিলের মতো ছোঁ মেরে, আপন বাসায় লয়ে যায়।” (পবিত্র লালন- ৮৬১/৩)
২৫. “কামনদীর তরঙ্গ ভারী, কেমনে ধরিব পাড়ি গো, বেলা গেল সন্ধ্যা হলো, পড়ে রলাম কিনারায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৩)
২৬. “কারণনদীর  জলে একটা, যুগলমীন খেলছে নীরে, ঢেউয়ের ওপর ফুল ফুটেছে, তার ওপর চাঁদ ঝলক মাওে” (পবিত্র লালন- ২৭৬/১)
২৭. “কী করি ভেবে মরিরে মনমাঝি, ঠাহর দেখিনে, ব্রহ্মাদি খাচ্ছে খাবি, নদীর পাড়ে যাই কেমনে” (পবিত্র লালন- ৩০৪/১)
২৮. “কেনরে মনমাঝি ভবনদীতে মাছ ধরতে এলি, ওরে তোর মাছ ধরা ঠনঠনা, শুধু কাদাজল মাখালি” (পবিত্র লালন- ৩৩৭/১)
২৯. “কোথায় সে হায়াতনদী, জোয়ার বয় নিরবধি, সে ধারা ধরবি যদি, দেখবি অটলের খেলা।” (পবিত্র লালন- ৭১০/৩)
৩০. “গঙ্গা যমুনা আর সরস্বতী নদী, ওঠেছে ঢেউ পাতাল ভেদি, পার হয়ে যাও, অকূল সমুদ্দরি।” (পবিত্র লালন- ৭৭৪/২)
৩১. “গুরু আমার দয়ালনিধি, গুরু আমার বিষয়াদি, পারে যেতে ভবনদী, ভরসা তোমার চরণখানা।” (পবিত্র লালন- ৫২০/২)
৩২. “গুরু উপায় কী আমার, কেমনে হব মায়ানদী পার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)
৩৩. “গুরু চেনাই দুই চেনালে, ভয় চিন্তা না থাকিলে, শিষ্যের ভার কাঁন্ধে নিলে, কামনদীর পারাপারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৯)
৩৪. “চলে নদী তিন ধারাতে, নবুয়ত ও বিলায়াতে, আরেক ধারা গোপনেতে, সেই নদীর গভীরি।” (পবিত্র লালন- ৫০২/৩)
৩৫. “চাঁদ ধরবি নদীর মাঝে, জানগে পুছে সাধুর কাছে, বলন কয় জলে ভাসে, প্রাণনাথ দয়াল সাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৫)
৩৬. “চুল পেকে হলো হুড়ো, না পেল পথের মুড়ো, লালন বলে সন্ধি ধুড়ো, প্রেমনদীর জলে ঠাঁই” (পবিত্র লালন- ২৯২/৪)
৩৭. “জল সেচে নদী শুকায়, এমন সাধ্য কারবা হয়, কে পায় পরশখানা, লালন বলে ছন্দি পেলে, যায় সমুদ্দুর লঙ্ঘনা।” (পবিত্র লালন- ৭২২/৪)
৩৮. “জানতে পারলে নদীর ধারা, যোগ বুঝে মীন পড়ে ধরা, সিরাজ সাঁইজি বলে খাড়া, লালন ঘাটে খায় চুবানি।” (পবিত্র লালন- ৮২২/৪)
৩৯. “ঠিক না হলে বায়ুর মাপ, পথে যেতে ঘটে বিপদ, বলন কয় নদীপথ, সাধু ছাড়া নিস্তার নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৬)
৪০. “ডুবে দেখ রে মন, প্রেমনদীর জলে, (মীন রূপে সাঁই খেলে), প্রেমডুবুরী না হলে মীন, বাঁধবে না জালে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩/১)
৪১. “তিনশতষাট রসের নদী, ত্রিধারা বয় নিরবধি, ত্রিশসাল পরমনিধি, সকাল বিকাল চলেফেরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০০)
৪২. “তিনশত ষাট রসের নদী, বেগে ধায় ব্রহ্মাণ্ড ভেদি, তার মধ্যে স্বরূপ নিরবধি, ঝলক দিচ্ছে এ মানুষে।” (পবিত্র লালন- ৯৭৬/২)
৪৩. “তোরা দেখরে দিনের রাসুল, যার কাণ্ডারী এ ভবে, ভবনদীর ঘোর তুফানে তার নৌকা কী ডুবে।” (পবিত্র লালন- ৫০১/১)
৪৪. “ত্রিধারা বয়রে নদী ত্রিধারা বয়, কোন ধারাতে কী ধন প্রাপ্তি হয়।” (পবিত্র লালন- ৫০৩/১)
৪৫. “ত্রিধারা ভরা নদী, সকালেই যাইতাম যদি, নদীটি পাড়ি দিয়ে, এ জনম সফল হতো, কাঁইয়ের দেখা মিলিত, গুরু ত্রিবেণীর পাড়ে গিয়ে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৪)
৪৬. “দম কষে তুই বয়রে ক্ষ্যাপা, প্রেমনদীতে, ধরবি যদি তুই মীন মক্করা, কাম রেখে আয় তফাতে।” (পবিত্র লালন- ৫০৭/১)
৪৭. “নদীতে আজব ফুল ফুটেছে, সে ফুল যার ভাগ্যে আছে, ফুরায় না তার বাসনা, লালন বলে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর, ফুলের প্রহরী তিনজনা।” (পবিত্র লালন- ৫২৯/৪)
৪৮. “নদীতে মাঝে মাঝে আসে বান, মনে জাগে ভক্তি তুফান, হইও না রে অজ্ঞান, ভানু সে বসল পাটে” (পবিত্র লালন- ২৯৬/২)
৪৯. “নদীর গভীরে থাকে নির্জন, করতে হয় মীন অন্বেষণ, যোগ পেলে ভাটি নৌকা তখন, উজান ধায় আপনি।” (পবিত্র লালন- ৫৬৮/৩)
৫০. “নদীর ধারে অযু করলি, তাতে কী তুই শুদ্ধ হলি, লালন বলে নামাজ পড়ে মুসল্লি, নামাজের গুরু কে তারই।” (পবিত্র লালন- ৮৭৩/৩)
৫১. “নদীর স্রোত যদি তীরে ছুটে, কামনদীর পিছলঘাটে তরঙ্গ ওঠে, লালন বলে মোহর এঁটে, নিরীক্ষ রাখ রাগের তলায়।” (পবিত্র লালন- ১০১/৪)
৫২. “নীরনদীর গভীরে ডুবা কঠিন হয়, ডুবলে কত আজব ফল দেখা যায়, সে নীরভাণ্ড- পোরা ব্রহ্মাণ্ড, কাণ্ড বলতে নয়ন ঝরে।” (পবিত্র লালন- ৩৮১/৩)
৫৩. “পারে যাবি কী ধরে, ওরে অবুঝ মন, প্রেমনদীর তরঙ্গ ভারী, ভাবলি না কখন।” (পবিত্র লালন- ৬৩১/১)
৫৪. “পূর্ণিমার যোগাযোগ হলে, শুকনানদী উজান চলে, ত্রিবেণীর পিছলঘাটে, নিঃশব্দে বন্যা ছোটে, চাঁদ-চকোরে ভাটার চোটে, বাঁধ ভেঙ্গে যায় তৎক্ষণা।” (পবিত্র লালন- ৬৩৬/৩)
৫৫. “প্রেমনদীতে এলেরে বান, সর্বনাশা বয়রে পবন, কত ধনী হারায় পরান, ডাঙ্গাতে ডুবে ভরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৫)
৫৬. “প্রেমনদীতে প্রেমজল থাকে চিরকাল, প্রেমকোদাল এনে কাট প্রেমখাল।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/২)
৫৭. “প্রেমনদীতে ভেসে যায় প্রেমের মরী, লালন কয় মরার সাথে করো আড়ি, প্রেমের শকুন হয়ে- মরিটা ফেলাও খেয়ে, সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)
৫৮. “প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে, কামনদীর এক ধাক্কা এসে, কেটে যায় বাঁধন ছাদন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/২)
৫৯. “বিল ঝিল বা নদী খালে, পাহাড় ফেটে জল চুঁয়ালে, জলের জাত কী ভিন্ন মূলে, বলন কয় ভিন্ন না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৯)
৬০. “ভাবছি বসে নদীর কূলে, দয়াল পারে নাহি নিলে, কী হয় যেন মোর কপালে, সে আশায় কাঁন্দি হায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০২)
৬১.  “মেরুদণ্ড কতখণ্ড, ব্রহ্মাণ্ড হয় তার ওপর, সাতসমুদ্র চৌদ্দভুবন, নয় নদী বয় নিরন্তর, ইড়া পিঙ্গলা সুষুম্না, রঙ হয় তিন প্রকার, ওপরে ব্রহ্মনাড়িতে ব্রহ্মরন্ধ্রে রয় মূলাধার।” (পবিত্র লালন- ৫৪৮/২)
৬২. “যেতে পথে কামনদীতে, পাড়ি দিতে ত্রিবেণে, কত ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা, পড়ে নদীর ঘোর তুফানে” (পবিত্র লালন- ৩১৬/২)
৬৩. “যেজন ডুবুরী ভালো, মাছের ঝিম সে চিনল, তার শুভ হলো যাত্রা, সে নদীর মাছ ধরে, সে খ্যাতি পেল বিশ্বজোড়া।” (পবিত্র লালন- ৩৪৯/৪)
৬৪. “রক্তিম সাদা কালো ধারা এক নদীতে চলে, তার স্রোতের চিহ্ন রহে না নদীটি শুকালে, সেই নদী পারের ঘাটে, জীব কুলের হয় মরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৯)
৬৫. “রসিক যারা পার হয় তারা, তারাই নদীর ধারা চেনে, উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে, তারাই স্বরূপসাধন জানে” (পবিত্র লালন- ৩১৬/৩)
৬৬. “শোষায় শোষে না ছাড়ে বান, ঘোর তুফানে বায় তরী উজান, তার কাম-নদীতে চর পড়েছে, প্রেমনদীতে জল পোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৭/২)
৬৭. “সামনেতে অপারনদী, পার হয়ে যায় ছয়জন বাদী, কিরূপ লীলাময়, লালন বলে ভাব যে জানে, ডুব দিয়ে রত্ন ওঠায়।” (পবিত্র লালন- ৪১/৩)
৬৮. “সামান্যে কী চেনা যায় সে নদী, বিনা হাওয়ায় ঢেউ ওঠে নিরবধি, শুভযোগে জোয়ার আসে, ত্রিবেণী ভাসে বানে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৫/২)
৬৯. “সামাল সামাল সামাল তরী, ভবনদীর তুফান ভারী।” (পবিত্র লালন- ৯৫১/১)
৭০. “সে নদীতে স্নান করলে শুভযোগে, ভবভয় তোর দূরে যাবে, পাপের ছোঁয়া না লাগবে, লালন কয় এড়াবি শমনে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৫/৫)
৭১. “সে নদীর নালে খালে, আজব এক জাহাজ চলে, ত্রিবেণীতে বসে চালায় জাহাজখানা, দিবানিশি চালায় জাহাজ, কখনও সে ঘুমায় না।” (পবিত্র লালন- ৫২৯/৩)
৭২. “স্বরূপশক্তি প্রেমসিন্ধু, মীন অবতার দিনবন্ধু, সিরাজ সাঁইজি বলে, শোনরে লালন- মরলি এখন, গুরু-তত্ত্ব ভুলে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩/৪)
৭৩. “হায়াতনদীর মধ্যে স্থিতি, আজগুবি ফুল হয় উৎপত্তি, ফুলের মধ্যে ফলের জ্যোতি, হয় উজ্জ্বালা।” (পবিত্র লালন- ৯২৯/৩)

সাধারণ নদী অর্থে নদীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology river sense ordinary river)
“অভাগিনী ছটফট করে, বন্ধু হারা হইয়া (ময়না), চোখের জলে নদী বহে, কাঁন্দিয়া কাঁন্দিয়া (বলন তত্ত্বাবলী)

নদীর ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the river)
“বুঝিনা দয়ালরে তোর মহিমা অপার
শূন্যেতে গড়িয়া নদী যাত্রী করো পারাপার।
ভরানদী শূন্য করো- শূন্যনদী জলে ভরো
যা খুশি তা করো- কেহ নাই বাঁধা দিবার-
তিনপাড়েতে বার্নিস করা- মধু সুধা জল ত্রিধারা
মধু খায় মদনচোরা- মধুমতি নামটি তার।
দেখতে নদী মনমোহিনী- সাবধানে চালাও তরণী
কতজন খায় চুবানি- চমৎকার কাণ্ড কারবার-
তেরমাস জোয়ার ভাটায়- সাধুগণ পার হয়ে যায়
করে না মরণের ভয়- গুরুচাঁন যার কর্ণধার।
বলন কাঁইজি ভেবে বলে- প্লবতা নাই ঐ নদীর জলে
গুরু-রূপের দিব্যি দিলে- হয়ে যায় সে নদী পার
অথৈজলের ডুবুরী হলে- অমূল্য-ধন মাণিক মিলে
গুরুর করুণা হলে- অনায়াসে হয় নদী পার।”

(বলন তত্ত্বাবলী- ২১৬)

আবার শ্বরবিজ্ঞানের অনেক স্থানে বৈতরণীকে নদও বলা হয়েছে। যেমন;

সাধারণ নদ অর্থে নদীপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology river sense ordinary river)
১.   “চাঁদের নদে চাঁদ ভেসে যায়, কোনসাধনে ধরবি তারে, ধরতে গেলে দূরে পালায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৫)
২.   “তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে, তোরা কেউ যাস না ও পাগলের কাছে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৯/১)
৩.   “সাধন হলে একনিষ্ঠ, সারিবে আঠারোকুষ্ঠ, আপনা আপন হবে দৃষ্ট, প্রেমনদের মধুজলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২)
৪.   “সে কালাচাঁদ নদে এসেছে, সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই, ব্রজঙ্গনার কুল নাশে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/১)

———————————————————————————–

১.   “আছে মনের তিনটি বাঞ্ছা, নদেপুরে মিটাব ইচ্ছা, প্রেমঋণে গাঁথা, সে কারণে নদেভুবনে, জাগে হৃদয় লতা।” (পবিত্র লালন- ১৬৩/২)
২.   “একবার সে মথুরা ঘুরে, এসেছিল নদেপুরে, ব্রজবাসী কী পূজন, পুজলে, হারালে চায় পেলে নেয় না, ভবজীবের ভ্রান্তি যায় না, লালন কয় দৃষ্ট হয় না এ নরলীলে।” (পবিত্র লালন- ১৬৭/৩)
৩.   “এসো মায়ানদ ত্রিধারায়, প্রেমতরী ধীরে চালায়- গো, নিতাইশালের ত্রিমোহনায়, ভাঙ্গিও না বৈঠাখান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)
৪.   “কার ভাবে শ্যাম নদেয় এলো, তার ব্রজের ভাব কী অনুসারে ছিল।” (পবিত্র লালন- ২৮০/১)
৫.   “জল বিনা এক নদ কলকলে চলে, বিনা হাওয়ায় ঢেউ খেলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৫)
৬.   “জানলে প্রেম গোকুলে, নিত না শ্যাম কাঁথা গলে, নদেয় আসত না, অধীন লালন কয়, করো এ বিবেচনা।” (পবিত্র লালন- ৮৬৪/৫)
৭.   “ত্রিধারা বয় এক নদেতে মনরে দেখ যমুনা পাড়ে, রক্তিম ধারা ওপরে বহে আর সাদা কালো ভিতরে, কোমল কোঠায় কর প্রণাম- সঙ্গে লয়ে গুরু ধিয়ান, কতজন হয় মহান- পেয়ে সেথা স্বরূপ মনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৪)
৮.   “ধন্যরে ভারতী ভারী, দেখাল দিলো এসে নদেপুরী, ফুল বিছানা ত্যাজ্য করি, গলে নিলো ছিঁড়া কাঁথা।” (পবিত্র লালন- ৫৫৬/৩)
৯.   “নতুন দেশের নতুন রাজন, দেখ দেখ এসেছে এ নদে ভুবন।” (পবিত্র লালন- ৫৭১/১)
১০. “নদেবাসীর ভাগ্যে ছিল, গৌর হেরে মুক্তি পেল, অবোধ লালন ফেরে পড়ল, না পেয়ে সে চরণখানি।” (পবিত্র লালন- ৬৭১/৪)
১১.  “প্রেমনদেতে থাকিয়া রায়, ঘরে বসে আখেটি ধরে (ভোলামন মনরে), বলন কয় দোহাই সাঁই, রইল আমার মণিপুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
১২.  “প্রেমনদেতে সাঁতার দিতে, জাগল না তোর বাসনা, ময়লা জলে প্যাক মাখালি, দেহে কুষ্ঠ সারল না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৮)
১৩. “প্রেমনদে ভাসাই প্রেমতরী, কখন যেন ডুবিয়া মরি, আমি কেমনেতে দিব পাড়ি, অথৈ ত্রিকোণ পারাপার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)
১৪. “প্রেমের দায়ে গৌরপাগল, পাগল করল নদের সকল, রাখল না জাতির বোল, একাকার করল সেথা।” (পবিত্র লালন- ৮৯৫/৩)
১৫. “বলন কাঁইজি হইল চেতন সাঁইগতি দেখিয়া, ত্রিবেণীতে রইল বসি বায়ুর ঘরে ফাঁদ পাতিয়া, প্রেমসুধা নীর হইয়া- চলেফেরে প্রেমনদ দিয়া, হাজার বছরের তাপ লইয়া মেঘ রূপে হয় বরিষণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯)।১৬.  “বসুমতি মা কাতরে বিনয় করি গো রাঙ্গা চরণে, তোর দয়া বিনা স্বরূপনদ পাড়ি দিব কেমনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০০)
১৭. “বাইশ মাথার মধ্যমুনি, টাকু বেটা মণিখনি, উবুদনদে খাস চুবানি, উযান ভাটি চিনলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৬)
১৮. “বৃন্দাবনের মাখন ছানাই, পেট তো ভরে নাই, নৈদে এসে দই চিড়াতে ভুলেছে কানাই, যার বেণুর সুরে ধেনু ফিরে, যমুনার জল উজান ধায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬১/৩)
১৯.  “বেদ পুরাণে কয় সমাচার, কলিতে আর নাই অবতার, তবে এ কোন গিরিধর, এসেছে নদেপুরী।” (পবিত্র লালন- ৪২৪/৩)
২০. “ব্রজে ছিল কালো ধরণ, নদেয় হলো গৌরবরণ, লালন বলে রাগের করণ, দর্শনে রূপ ঝাঁপিনী।” (পবিত্র লালন- ৭৩৮/৪)
২১.  “ব্রজ ছেড়ে নদেয় এলো, তার পূর্বান্তরের খবর ছিল, নদে ছেড়ে কোথায় গেল, যে জানো বলো মোরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৬/২)
২২. “ভুলি নাই ভাই ওরে সুদাম, সকল কথা তোরে কইলাম, লালন বলে নদেয় এলাম, হই না যেন নৈরাশা।” (পবিত্র লালন- ২৭১/৪)
২৩. “যখন ব্রজবাসী ছিল, ব্রজের সব ভুলাল, সে নাগর নদেয় এলো, এবার কারে না ভুলাবে।” (পবিত্র লালন- ৯৬৪/২)
২৪. “যেতে পথে প্রেমনদেতে, পিতৃধন খায় কুরে কুরে (ভোলামন মনরে), না জানি হায় ষোল কলায়, ভরা দেহ উজাড় করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
২৫. “যে দুঃখ আছে মনে, ওরে ও ভাই সুদাম, সে দুঃখের দুঃখ না হলো সুখ, তাইতো; নদেয় এলাম।” (পবিত্র লালন- ৮৪৫/১)
২৬. “রূপনদে সদাই বয় ত্রিধারা, ও তার সপ্ততলে নিগমকারা, ডুবে ভরা- যেতে মিঠাধারা, তবু খুঁজে পায় না তীর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)
২৭. “রূপনদে স্বরূপ ধর আপন জীবকর্ম সার, রূপ স্বরূপ জোয়ার-ভাটায় ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)
২৮. “শুনে অঙ্গদের হুহুংকারী, কৃষ্ণ এলো নদেপুরী, বেদের অগোচর তারই, সে অকৈতব লীলে হয় নিশ্চয়।” (পবিত্র লালন- ৯৪৩/৩)
২৯. “শুনি নদে তিন পাগলে, জলে মিশে রয় সকলে, দেয় না ধরা ধরতে গেলে, একত্রে রয় তিনজনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৮)
৩০. “ষড়ৈশ্বর্য ত্যাজ্য করে, এলিরে ভাই নদেপুরে, কিভাবের ভাব তোর অন্তরে, সত্য করে বলরে তাই।” (পবিত্র লালন- ৫১৭/২)
৩১. “সংবাদ আসে এ ধরাতে, কলির জীবকে নদ তরাতে, রক্তিম ধ্বজা সাথে, বলন কাঁইজি জানায় ভেদখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৮)
৩২. “সাধু কী ও যাদুকরী, এসেছে এ নদেপুরী, খাটবে না হেথায় জারিজুরি, তাই ভেবে মরি’ (পবিত্র লালন- ৪২৪/২)
৩৩. “স্বরূপনদ ত্রিরূপ কারা, পাড়ি দিলে কর্ম সারা, বলন কয় মা দয়া ছাড়া, পাড়ি দিব কেমনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০০)
৩৪. “স্বরূপনদের ত্রিমোহনা, পাড়ি দিবার পথ চিনি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০১)

নদীর ওপর কয়েকটি পূর্ণ লালন (Some full Lalon on the river)
.                 আবহায়াতের নদী কোনকখানে,
যাও জিন্দা পিরের খান্দানে,
দেখিয়ে দিবে সন্ধানে।

সে নদীর পিছলঘাটা,
চাঁদ কটালে খেলছে ভাটা,
দিন দুনিয়ার পাড়া একটা,
মীন রয়েছে মাঝখানে।

মাওলার মহিমা এমনই,
সে নদীতে বয় অমৃতপানি,
তার একরতী পরশে অমনি,
অমর হয় সেজনে।

অমৃতরসের মর্ম যেজন পায়,
উপাসনা তারই বটে হয়,
সিরাজ সাঁইজির আদেশে হায়,
লালন ভনে।” (পবিত্র লালন- ১২০)

.                 আমার দেহনদীর বেগ থাকে না,
            আমি বাঁধব কয় মোহনা,
কামজ্বালাতে জ্বলে মরি
কই হলোরে উপাসনা।

নদীতে নামি নামি আশা করি,
মাঝখানে সাপের হাড়ি,
সাপেরই কারখানা,
ছয় কুমিরে যুক্তি করে,
নদীতে দিচ্ছে হানা।

কালীধার পূর্বের ঘাটে,
এক মৃণালে তিনফুল ফোটে,
যোগ ছাড়া চলে না,
তুলব বলে সে নদীর ফুল,
ছয়পাগলের গোল মিটে না।

অযোগে স্নান করতে যায়,
তারে কুম্ভীর সর্পে খায়,
যে ঘাটের ছন্দি জানে না,
সেথায় আছে কত ইন্দ্রিয় রিপু,
এখন তাদের চিনলাম না।

সে নদীর উজান বাঁকে,
অজগরের ছানা ফোটে,
কুম্ভীরের কারখানা,
ঘাটে পার হয়ে যায় রসিকসুজন,
লালনের ভাগ্যে হলো না।” (পবিত্র লালন- ১২৮)

.                 আমার সোনার নৌকা গেল তলিয়ে,
            তরী হয়েছে বান কানা,
কেমনে যাব ভব পারে,
পাড়ি বুঝি আর জমে না।

শুনতে পাই উজান বাঁকে,
কত জাহাজ মারা যায়,
সাঁঝের আঁধারেরে,
ভয়ে যায় না নদীর কূলেরে,
তুফান দেখে প্রাণ বাঁচে না।

সে যে নদীর নোনাপানি,
তিনটি ধারা প্রবল শুনি,
পাড়ি ধর ধারা চেনেরে,
কুধারাতে পড়ে নৌকা,
কুম্ভীপাকে যেন মরে না।

ভাবছি বসে নদীর কূলে,
কী যেন হয় মোর কপালে,
ভীষণ যন্ত্রণা পারেরে,
লালন বলে ওরে গোপাল,
গুরুর চরণখানা ছেড় না।” (পবিত্র লালন- ১৪১)

.                 উবুদ করা নদী দেখলাম ভাই,
            আসমানে তার তলি,
কত জাহাজ মুল্লুক যাচ্ছে মারা,
শুনে নদীর কলকলি।

জোয়ার এলে ওঠে সোনা,
অজোয়ারে ওঠে লোনা,
আচ্ছা মজার ভেলি,
সাধক যারা পার হয়ে যায়,
অসাধু ডুবে অতল তলি।

রসিক মাঝি দিচ্ছে পাড়ি,
অরসিক সব যাচ্ছে মরি,
ডুবছে নদীর অতলি,
লালন কয় থাক অনুরাগে সদাই,
হোসনে যেন খলখলি।” (পবিত্র লালন- ১৯৪)

.                 কেন শান্ত হও না রে আমার মন,
ত্রিবেণী নদীর করো অন্বেষণ।

নদীতে বিনা মেঘে বান বরিষণ হয়
বিনা বায়ে ধামাল ওঠে মৌজ হেসে যায়
নদীর হিল্লোলায়- মরি হায়,
না জানি গতি কেমন।

নদী ক্ষণে ক্ষণে হয়রে উৎপত্তি,
কালীগঙ্গা নদী প্রবল বেগবতী,
ওরে কেউ ভেলায়- পার হয়ে যায়,
শুকনা ডাঙ্গায় কারো মরণ।

নদীতে মাঝে মাঝে উঠলে তরঙ্গ
পড়লে কুটো হয়রে দু’টো ভঙ্গ,
বলে অধীন লালন- অবোধ মন,
কুলে গিয়ে লও গুরুর স্মরণ।” (পবিত্র লালন- ৩৩৫)

.                 গুরু বলে ধর পাড়ি মন,
            হুঁশে থেক নদীর উজান বাঁকে।

নদীর মাঝখানে বসি,
আছে এক মেয়ে রাক্ষসী,
তার সুসন্তান বেশি,
মালের জাহাজ পেলে পরে,
সে যে মাল লুটে নেয় চুমুকে।

নদীর তিনধারে তিনজন,
ব্রহ্মা বিষ্ণু ত্রিলোচন,
পাহারা দিচ্ছে সর্বক্ষণ,
নদীতে বান ডাকলে সুধা ওঠেরে,
তারা পান করে বসে সুখে।

লালন সাঁইজি তাই কয়,
নদীর বান্দাল রাখা দায়,
যেন কোন্সময় কী হয়,
প্রেমনদীতে ডুবিস না রে,
ডুব দিলে ডুব যায় ফাঁকে।” (পবিত্র লালন- ৪০১)

.                 না জেনে যেওনা নদীর কিনারে,
আছে সেথায় কালনাগিনী,
ছোবল দিলে যাবে মরে।

সে যে নদী জলে ভরা,
নাই তাতে কূল কিনারা,
মাণিক মুক্তা কাঞ্চন হীরা,
সে নদীর গভীরে।

সে নদীর চারধারে,
কাম-কুম্ভীর বসত করে,
গিলে খায় জিন্দা ধরে,
প্রাণে মেরে যায় সরে।

ভেবে বলে দরবেশ লালন,
চেতনগুরু করগা সাধন,
পাবি সেথা হীরা কাঞ্চন,
ডুবলে নদীর গভীরে।” (পবিত্র লালন- ৫৮৮)

.                 না জেনে সে নদীর ধারা,
না জেনে পাড়ি ধরা,
মাঝ দরিয়ায় ডুবল ভরা।

সে নদীর ত্রিধারা,
কোন ধারে কপাট মারা,
কোন ধারে তার সহজ-মানুষ,
সদাই করে চলাফেরা।

হরনাল করনাল মৃণালে,
শুকনায় সুধারায় চলে,
বিনা সাধনে এসে রণে,
পুঁজিপাট্টা হলা হারা।

অবোধ লালন বিনয় করে,
এ কথা আর বলবো কারে,
রূপদর্শন দর্পণের ঘরে,
হলাম পারা হারা।” (পবিত্র লালন- ৫৮৯)

.                 প্রেমনদীতে প্রেমেরবড়শি ফেলবি খবর্দার
নিয়ে গুরু-মন্ত্র ছাড়ো যন্ত্র,
ঠিক হয়ে বসো তরীর ‘পর।

পাকাও এক রাগের সুতা,
ভাবের টোপ গেঁথে দাও সেথা,
নিচে সাড়া পেলে উঠবে ভেসে,
ব্রহ্মা কালা একেশ্বর।

সদাই নদীর জল করছেরে কলকল
ছিপের বাড়ি খেলে হবি রসাতল,
কত রসিক জেলে জাল ফেলে,
প্রাণ নিয়ে দিচ্ছে সাঁতার।

দেখে নদীর কূল তুই হবিরে ব্যাকুল
টেপায় নিবে আদার কেটে হবি
বেয়াক্কুল, লালন বলে মন যেমন,
ভেদায় রুই করছে আহার।” (পবিত্র লালন- ৬৪৬)

১০.                ভাব নদীতে, আমি ডুব দিলাম না,
            অচিন-মানুষ চিনা হলো না।

নিত্যগঙ্গায় স্নান করি,
কূলে বসে ঐরূপ হেরি,
নদীর কূলে কূলে বেড়াই ঘুরি,
পাই না ঘাটের ঠিকানা।

জলের নিচে স্থলপদ্ম,
তার নিচে কত মধু,
কালোভ্রমর জানে মধুর মর্ম,
অন্য কেউ জানে না।

নতুনগাঙ্গে জোয়ার আসে,
কালকূটে কাম-কুম্ভীর ভাসে,
লালন বলে মানুষ গ্রাসে,
অসাবধানে নামিস না।” (পবিত্র লালন- ৭২০)

১১.                যেজন ডুবে আছে সে রূপসাগরে,
রূপের বাতি দিবারাতি,
জ্বলছে তার অন্তরে।

রূপরসের রসিক যারা,
রসে ডুবে আছে তারা,
হয়েছে জ্যান্ত মরা,
রাজবসন ছেড়ে।

রাজবসন ত্যাজ্য করে,
ডোর কোপনি পরিধান করে,
কাঠের মালা গলে পরে,
করঙ্গ নিয়েছে করে।

রূপনদীর তীর ঘাটে,
যে বসেছে মহড়া এঁটে,
সে নদীতে জোয়ার এলে,
রসিক জনা মাছ ধরে।

জোয়ার এলে ওঠে সোনা,
ধরে নেয় রসিক জনা,
কামনদীর ঘাটে লোনা,
লালন কয় সেথায় মানুষ মরে।” (পবিত্র লালন- ৮৩৪)

নাসিকাঅর্থে নদী পরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology river sense ordinary river)
“ধরবি যদি মানুষ-নিধি, ধরগে দ্বিপদী বায়ুনদী, গুরু রূপে নয়ন বাঁধি, রস-বিহারী কর নিজেকে” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৮)

যেসব ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অনুবাদক ও অভিধানবিদ নদী পরিভাষাটির দ্বারা কেবল স্রোতস্বিনী বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন; তারা বায়ুনদী দ্বারা কোন নদীকে বুঝেন? তাদের স্বীকার করতেই হবে যে; পুরাণ কখনই সৌর দর্শন বা ভূতত্ত্ব দর্শন নয় বরং আত্মদর্শন।

নদীর সংজ্ঞা (Definition of river)
ভূগোলে পাহাড়, হ্রদ ও প্রস্রবণ প্রভৃতি হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদের মধ্য দিয়ে চারক্রোশের অধিক প্রবাহিত জলস্রোতকে নদী বলে।

নদীর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of river)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বা নদী বলে।

নদীর প্রকারভেদ (Variations of river)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; নদী দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান নদী ও ২. উপমিত নদী।

. উপমান নদী (Analogical river)
সাধারণত; পাহাড়, হ্রদ ও প্রস্রবণ প্রভৃতি হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদের মধ্য দিয়ে চারক্রোশের অধিক প্রবাহিত জলস্রোতকে উপমান নদী বলা হয় বলে।

. উপমিত নদী (Compared river)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ভগ হতে ভৃগু পর্যন্ত জননপথকে রূপকার্থে নদী বলে।

নদীর পরিচয় (Identity of river)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বৈতরণী পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। পাহাড়, হ্রদ ও প্রস্রবণ প্রভৃতি হতে উৎপন্ন হয়ে বিভিন্ন জনপদের মধ্য দিয়ে চারক্রোশের অধিক প্রবাহিত জলস্রোতকে নদী বলা হয়। সর্ব সময় শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার উপমিত-সত্তাকে প্রকৃতির উপমান বিষয়বস্তুর সাথে তুলনা করে উপমা নির্মাণ করা হয়। সাধারণ পাঠক ও শ্রোতারা বিষয়টি প্রায় ভুল করে থাকে। তারা শ্বরবিজ্ঞানের উপমান-সত্তার উপমিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা আদৌ আছে কিনা তাও জানে না। আবার দুয়েকজনে জানলেও তা খোঁজে বের করতে পারে না। অনেকে আবার খোঁজে বের করতেও চান না। আবার অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী শ্বরবিজ্ঞানের উপমান-সত্তার উপমিত-সত্তা আছে বলে স্বীকার করতেই চান না। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষীগণ একবারও ভেবে দেখেছেন কী? পবিত্র সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের মূল মন্ত্রগুলোর সাথে যেসব অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও টীকা জুড়ে দেওয়া রয়েছে সেগুলো অপসারণ করলে এবং সঠিকভাবে পুনঃ অনুবাদ করলে পবিত্র সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির সম্পূর্ণ দর্শনটিই পরিবর্তন হয়ে যায়।

ভারতীয়, গ্রিক ও পারসিক পৌরাণিক নদ-নদীর সামঞ্জস্য সারণী  (Indian, Greek and Persian mythological river adjusting table)

ক্র বাংলা গ্রিক পারসিক
. অলকানন্দা Eridanus (এরিড্যানাস) اريدانس’ (এরিদানিস)
. ইরাবতী Irrawaddy (ইরাবতী) إيراوادي (ইরাওয়াদি)
. কালীগঙ্গা Hubur (হাবার) ‘حبر’ (হাবরা)
. কালিন্দী Pahruli (পারুলি) ‘بحرلي’ (বিহারলি)
. গঙ্গা Ganges (গাঞ্জেস) الغانج (আলগানাজ)
. গণ্ডকী Celadon (স্যালেডন) سيلادون (সিলাদুনা)
. গোদাবরী Godavari (গোদাভারি) جودافارى (জুদাফারা)
. গোমতী Gomti (গোমতি) جومتى (জুমাতা)
. চন্দ্রভাগা   Sambation (সাম্বেশন) ‘سمباتي’ (সামবিয়াতি)
১০. তমসা Pishon (পিশোন) ‘بيشن’ (বিশন)
১১. তিস্তা Triplex (ট্রিপ্লেক্স)/ Teesta تربلكس (তারাবাক্সি)
১২. ধনু Archer (আর্চার) ‘رام’ (রামা)
১৩. পদ্মা Tigris (টাইগ্রিস) دجلة (দিজলা)
১৪. ফল্গু Acheron (আকেরন) ‘عقرون’ (আকুরুন)
১৫. বিপাশা Beas (বিয়াস) بياس (বিয়াস)
১৬. বিরজা Arethusa (আর্থিজা) ﺒﺮﺯﺥ (বারযাখ)
১৭. বৈতরণী   Styx (স্টেক্স) ستإكس (সাতায়েক্স)
১৮. ব্রহ্মপুত্র Pactolus (প্যাক্টোলাস) براهمابوترا (বিরাহিমাবুতারা)
১৯. ভাগীরথী Ganges (গাঞ্জেস) الغانج (আলগানাজ)
২০. মধুমতী Madhumati (মধুমাটি) ‘مذمتي’ (মুজাম্মাতি)
২১. মন্দাকিনী Cocytus (কোসাইটাস) مانداكينى (মানাদাকিনা)
২২. মেঘনা Euphrates (ইউফ্রেটিস) فرات (ফোরাত)
২৩. যমুনা Lethe (লিদি) نسيان (নাসিয়ান)
২৪. শতদ্রু Sutlej (সটলেজ) سوتليج (সুতালিজ)
২৫. সরষু Iardanus (এয়াদানাস) ‘اردنص’ (এরাদানাস)
২৬. সরস্বতী Anahita (এনাহিসা) أناهيتا (এনাহিতান)
২৭. সুরধুনী Gihon (গিহোন) جيحون (জিহুনি)
২৮. সুরনদী Ifing (ইফিং) ‘افينج’ (ইফিনাজ)

–**–

২৯. উবুদনদী Prostrate (প্রস্ট্রেট) ‘متمدد’ (মাতামিদাদ)
৩০. ঊর্ধ্বনদী Upstairs (আপস্টেয়ারজ) ‘علوي’ (আউলউয়ি)
৩১. কামনদী Phlegethon (প্লেগেদোন) ‘فليغيدون’ (ফালগিদুনি)
৩২. প্রেমনদী Loch (লক) ‘بحيرة’ (বুহিরা)
৩৩. ভবনদী Lockage (লকেজ) ‘صمام’ (সিমাম)
৩৪. মায়ানদী Illusory (ইলুসরি) ‘موهم’ (মুহুম)
৩৫. রূপনদী Inflow (ইনফ্লৌ) ‘تدفق’ (তাদফুক)
৩৬. স্বরূপনদী Basin (বেইসন) ‘حوض’ (হাউদ)

এমন আলোচনা উপস্থাপন করার প্রকৃত কারণ হলো বিভিন্ন পুরাণ ও সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে মধ্যে বর্ণিত নদী যে সাধারণ স্রোতস্বিনী নন এবং আকাশ-পাতালও যে সাধারণ প্রকৃতির আকাশ পাতাল নয় তা পরিষ্কার করে বুঝানো। পুরাণ বলতে সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ, মরমী গীতিকাব্য, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণগুলো, হাদিস ও সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পৌরাণিক কাহিনী বুঝানো হয়েছে। আলোচ্য নদী হলো নারীদের জননপথ। নারীজাতির জননপথ দেখতে নদীর মতো। তাই; একে বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত যোনিনালির উপমিত পদ ধরে প্রকৃতির নদ/ নদীকে উপমান পদ ধরে পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণ করা হয়। পুরাণের আদ্যপ্রান্ত কেবল শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত উপমিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা ও প্রকৃতির উপমান পদের সুগভীর যোগসাজুয্য। এজন্য; ব্যাকরণের উপমিত ও উপমানপদগুলো ভালোভাবে না জানা ও না বুঝা পর্যন্ত পুরাণ কেউই সঠিকভাবে জানতে ও বুঝতে পারে না। বাঙালী গবেষক মহাধীমান বলন কাঁইজির যুগান্তকারী গবেষণামূলক পুস্তক-পুস্তিকাগুলো দ্বারা সর্বকালের চির বিস্ময় পৌরাণিক সাহিত্যাদি নতুন করে আত্মতাত্ত্বিক গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সে সূত্র ধরেই বলা যায়; বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রচলিত বিশ্ববিখ্যাত পৌরাণিক সাহিত্যাদির আত্মতত্ত্বমূলক উপমিত পদগুলো বের না করে ও গবেষণা না করে শুধু উপমান পদগুলো শত হাজারবার গবেষণা করেও মানবকল্যাণে তেমন কোনো কাজেই আসবে না। পক্ষান্তরে; শ্বরবিজ্ঞানের প্রতিটি উপমানপদের উপমিতপদ নির্ণয় করে যদি সেসবের সঠিক ব্যাখ্যাবিশ্লেষণ এ প্রজন্মের নিকট উপস্থাপন করা হয় তবেই বিশ্বের সব পুরাণ প্রকৃতপক্ষেই মানবকল্যাণে আসবে। এজন্য; অনুবাদক, লেখক ও গবেষকগণের উচিত শ্বরবিজ্ঞানের উপমান পদের চেয়ে উপমিতপদের গবেষণার প্রাধান্য দেওয়া।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!