নরক

০৬/০১. নরক
Gehenna (গেহেনা)/ ‘جهنم’ (জাহান্নাম)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অশান্তি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা অশান্তি। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা নরকযন্ত্রণা। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অবীচি এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা নিরয়

সংস্কৃত, বাংলা, গ্রিক ও আরবীয় নরক পরিভাষার সুসামঞ্জস্য (Adjustment of Sanskrit, Bengali, Greek and Arabian Gehenna terminology)

ক্র সংস্কৃত বাংলা গ্রিক আরবীয় মূলক
নরক নিরয় Gehenna (গেহেনা) ‘جهنم’ (জাহান্নাম) অশান্তি

অভিধা (Appellation)
নরক (বাপৌরূ)ক্রি নিচে নামা, অধঃপতিত হওয়া বি দুঃখকষ্ট, হীনাবস্থা, দুর্দশার স্থান, Gehenna, ‘جهنم’ (জাহান্নাম) (বিপ) স্বর্গ (আল) . দুঃখ, কষ্ট, অভাব, ব্যাধি . নিকৃষ্ট জীবন, দুঃখকষ্টময় জীবন (ব্য্য) ভিন্ন কোনো স্থানের নাম নরক নয়; সেখানে বিষধর সাপ, ক্ষুধার্ত বাঘ প্রয়াতদের কামড় দিতেও আসে না। মানবজীবনের দুঃখী ও দুঃখময় পরিস্থিতিই নরক। বিখ্যাত বৈদিক কোষ এর ৭৬৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে; “নরক; (ক) ন্যরকম; নীচৈঃ গমনম। অর্থাৎ; নীচে বা অধঃপতিত হওয়া (খ) নীচৈঃ অস্মিন অর্য়তে। অর্থাৎ; নীচ বা দুষ্টদের সহবাস বা অনুকরণে মানুষ নরকে যায় বা অধঃপতিত হয়।” অর্থাৎ; দেখা যাচ্ছে যে; নরক কোনো ভিন্ন স্থানের নাম নয়। বরং; দুষ্টলোকের সাথে থাকার জন্য অধঃপতিত হওয়াই নরক। অথবা যে কোনো দুর্দশাপ্রাপ্ত হওয়াই নরক। অর্থাৎ; স্বর্গ-নরক নামক কল্পিত স্থানের কথা কেবল সাম্প্রদায়িকদের মুখে শোনা যায়। বাস্তবে এর ব্যুৎপত্তিগত ভিত্তি নেই (তথ্যসূত্রঃ বিলাসময় ওয়েবসাইট) (পরি) . সুশিক্ষা ও দিব্যজ্ঞান অর্জন না করে জন্মের পর জন্ম পশুকুলে অবস্থান করা . মৈথুনে বীর্যপাত দ্বারা মৃত্যু ঘটানোর পর; স্ত্রীর গর্ভে গিয়ে চামড়া পরিবর্তন করে পুনরায় সন্তান রূপে পুনরুত্থিত হয়ে পূর্বজন্মের প্রায়শ্চিত্ত নামক সংসার যাতনা ভোগ করা . শুক্রপাত রূপ মৃত্যু ঘটিয়ে মাত্র ৩০০ দিন গর্ভাবস্থানের দ্বারা ধড় পরিবর্তন করে সন্তান রূপে পুনর্জন্ম গ্রহণের পর; পূর্ব জন্মের প্রায়শ্চিত্ত রূপ সংসার যাতনা (প্র) . শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত রূপকথার একটি নরক বিশেষ . শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত মানবদেহের নাভির নিচের অংশ বিশেষ . শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ১. পশুকুল ২. মানবকুল ৩. দেবতাকুল ও ৪. ঈশ্বরকুল; এ চার কুলের প্রথম কুল বিশেষ . বাঙালী পুরাণ মতে; পাপীদের আবাসভূমি বিশেষ . বাঙালী পুরাণ মতে; জনৈক দৈত্য, একজন দুর্দান্ত অসুর ও দৈত্য; যিনি পৃথিবীর পুত্র . ভারতীয় ভাগবতে রূপকভাবে বর্ণিত; অন্ধকূপ, অন্ধতামিস্রা, অবাতনিরোধন, অবীচি, অয়হপান, অসিপত্রবন, কালসূত্র, কুম্ভীপাকম, কৃমিভোজা, ক্ষারকর্দমা, তপ্তশূর্মী, তামিস্রা, দন্দশূকা, পর্যাবর্তনা, পূয়োধ, প্রাণবধ, বজ্রকণ্টকশাল্মালী, বিসাশনা, বৈতরণী, মহারৌরব, রক্ষভোজনা, রৌরব, লালাভক্ষম, শূকরমুখা, শূলপ্রোথাম, সংদংশন, সারমেয়াদানা ও সূচীমুখা; এ ২৮টি অশেষ যন্ত্রণার স্থান বিশেষ . বাঙালী পুরাণ মতে; অবীচি, কল্মষ, পাতাল, পুত, ভূলোক, মর্ত্য ও রৌরব এ সপ্তনরক বিশেষ . আধুনিক বাঙালী পুরাণ মতে; বৈচাল, কৈকাজ ও গোমড়া; এ তিনটি নরক বিশেষ . গ্রিক পুরাণ মতে; (Greek mythology) Abysm, Abyss, Hades, Heck, Inferno, Gehenna, Tartarus এ সপ্তনরক বিশেষ ১০. ইসলামী পুরাণ অনুসারে; মৃত্যুর পর মানুষকে পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হয় এমন নিকৃষ্ট স্থান বিশেষ ১১. পারসিক পুরাণ মতে; ‘ﺟﺤﻴﻢ’ (জাহীম), ‘ﺤﻄﻤﺔ’ (হুত্বামা), ‘ﺴﻌﻴﺮ’ (সা’ঈর), ‘ﺴﻗﺮ’ (সাক্বার), ‘ﻟﻇﻰٰ’ (লাযা), ‘ﻮﻴﻞ’ (ওয়াইল) ও ‘ﻫﺎﻮﻴﺔ’ (হাবিয়া) এ সপ্ত নরক বিশেষ (শ্ববি) অশান্তি, কলহ, বিবাদ, পরাধীনতা, সংসার, পশুকুল (রূপ্রশ) নিরয়, মর্ত্যধাম, মর্ত্যভূমি, মর্ত্যলোক, নরককুণ্ড, নরকলোক, নিম্নলোক, সর্পলোক, নাগলোক (ইংপ) Abaddon, Erebus, Limbo, Pandemonium (ইপ) দোজখ (ফা.ﺪﻮﺰﺥ), সিজ্জিন (.ﺴﺠﻴﻦ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অশান্তি পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও ভারতীয় বাঙালী পৌরাণিক দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; সাম্প্রদায়িক পুরাণ মতে; প্রয়াণোত্তর পাপীদের অবস্থানের যন্ত্রণাদায়ক স্থানকে বাংলায় ‘নরক বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, অসস্তি, দুঃখ ও বেদনাপূর্ণ স্থানকে রূপকার্থে ‘নরক বলা হয় (বাপৌছ) নিরয় (বাপৌচা) অবীচি (বাপৌউ) নরকযন্ত্রণা (বাপৌরূ) নরক (বাপৌমূ) অশান্তি।

মহানরক (বাপৌছ)বি সংসার, অতিশয় ক্লেশদায়ক নরক, Limbo, ‘نسيان’ (নাসিয়ানি)।
নারকী (বাপৌছ)বিণ পাপী, পাপিষ্ঠ, মহাপাতকী, নরকের প্রাণী, infernal, sinning, hellish, tartarean, ‘جهنمي’ (জাহান্নামি), ‘جهنمية’ (জাহান্নামিয়া) Jস্ত্রী নারকিনী।
নারকীয় বিণ পৈশাচিক, আসুরিক, অতিমন্দ, infernal, ‘كالغول’ (কালগুল)।

প্রপক (Extensive)
বাঙালী পুরাণ অনুসারে; নরক একজন দুর্দান্ত অসুর। তিনি পৃথিবীর পুত্র। মহাভারত ও বিষ্ণুপুরাণ মতে; এ অসুর অদিতির কর্ণকুণ্ডল চুরি করে প্রাগজ্যোতিষপুরের দুর্ভেদ্য ও দুষ্প্রবেশ্য দুর্গে রেখে দেন। অতঃপর; দেবতাগণের অনুরোধে কৃষ্ণ সেখানে গিয়ে অসুরদের হত্যা করে ঐ কর্ণকুণ্ডল উদ্ধার করেন। হরিবংশে দেখা যায়; প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা নরক দেবতাগণের পরম শত্রু ছিলেন। তিনি একবার হাতী রূপ-ধারণ করে; বিশ্বকর্মার কন্যাকে অপহরণ করেন এবং তার সতিত্ব নষ্ট করেন। অতঃপর; তিনি গন্ধর্ব মানুষ ও দেবতাগণের কন্যাদের এবং অসংখ্য অপ্সরাদের ধরে এনে সুরৌম্য অট্টালিকার মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন। এরূপে ধৃতা নারীদের সংখ্যা ছিল ১৬,০০০। তিনি এদের সমস্ত অলঙ্কার বস্ত্র ও অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্য অপহরণ করেন। কথিত আছে; এ অসুর আর জন্মগ্রহণ করে নাই। মৃত্যুর পর মানুষ যে স্থানে গিয়ে পাপভোগ করে; তাই নরক। অন্যায়ই নরকের একমাত্র কারণ। ভাগবত মতে; ভূমণ্ডলের দক্ষিণদিকে ভূমির নিচে ও জলের ওপরে; যম মৃত লোকদের এনে তাদের কর্মানুসারে দোষগুণের বিচার করেন। নরকগুলো এ স্থানে অবস্থিত। যতদিন পাপমোচন না হয়; ততদিন পাপীরা পাপের তারতম্য অনুসারে নরকের মধ্যে পতিত হয়ে ক্লেশ ভোগ করতে থাকে। নরক ২৮টি। যথা; অন্ধকূপ, অন্ধতামিস্র, অবটনিরোধন, অবীচি, অয়ঃপান, অসিপত্রবণ, কালসূত্র, কুম্ভীপাক, কৃমিভোজ, ক্ষারকর্দম, তপ্তশূর্মী, তামিস্র, দন্দশূক, পর্যাবর্তন, পূয়োধ, প্রাণবোধ, বজ্রকণ্টকশাল্মালী, বিশসন, বৈতরণী, মহারৌরব, রক্ষগণভোজন, রৌরব, লালাভক্ষ, শূকরমুখ, শূলপ্রোত, সংদংশ, সারমেয়াদন ও সূচীমুখ (ভাগবত)। ইসলামী পুরাণ মতে; মৃত্যুর পর যেখানে মানুষকে পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হয়। ইসলামী পুরাণ মতে; সপ্ত নরক হলো; ‘ﺟﺤﻴﻢ’ (জাহীম), ‘ﺤﻄﻤﺔ’ (হুত্বামা), ‘ﺴﻌﻴﺮ’ (সা’ঈর), ‘ﺴﻗﺮ’ (সাক্বার), ‘ﻟﻇﻰٰ’ (লাযা), ‘ﻮﻴﻞ’ (ওয়াইল) ও ‘ﻫﺎﻮﻴﺔ’ (হাবিয়া)।

সংস্কৃত, বাংলা, গ্রিক ও আরবীয় নরক পরিভাষার সুসামঞ্জস্য (Adjustment of Sanskrit, Bengali, Greek and Arabian Gehenna terminology)

ক্র সংস্কৃত বাংলা গ্রিক আরবীয় মূলক
নরক নিরয় Gehenna (গেহেনা) جهنم (জাহান্নাম) অশান্তি
১. অবীচি বৈচাল Tartarus (ট্যার্ট্যারাস) ‘ﻮﻴﻝ’ (ওয়াইল) অশান্তি
২. কল্মষ কৈকাজ Heck (হেক) ‘ﺴﻗﺮ’ (সাক্বার) অন্যায়
৩. পাতাল   Hades (হেডেস) ‘هاوية’ (হাবিয়া) জরায়ু
৪. পুত   Abysm (অ্যাবিজম) ‘ﻟﻇﻰٰ’ (লাযা) বলাই
৫. ভূলোক   Erebus (ইরেবাস) ‘ﺤﻄﻤﺔ’ (হুত্বামা) পাছধড়
৬. মর্ত্য   Abyss (এবিজ) ‘ﺟﺤﻴﻢ’ (জাহীম) বৈতরণী
৭. রৌরব   Inferno (ইনফার্নো) ‘ﺴﻌﻴﺮ’ (সা’ঈর) নারীদেহ
৮. গোমড়া Limbo (লিমবৌ) ‘ﺴﺠﻴﻦ’ (সিজ্জিন) দেহ

নরকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of Gehenna)
১.   “বাহ্যতা অর্জন করলি, নরকবাস বুঝিয়া নিলি, আদ্য-জ্ঞান বিনা স্বর্গ হারালি, সুখে দুঃখে মিলেনা তাল” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৭)
২.   “যে পঞ্চে পঞ্চভূত হয়, মরলে তা যদি তাতে মিশায়, ঈশ্বর অংশ ঈশ্বরে যায়, স্বর্গ নরক কার মিলে” (পবিত্র লালন- ৭৬৬/৩)

নরকের সংজ্ঞা (Definition of Gehenna)
সাধারণত; সাম্প্রদায়িকদের মতে; প্রয়াণোত্তরকালে পাপীদের অবস্থানের যন্ত্রণাদায়ক স্থানকে নরক বলে।

নরকের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of Gehenna)
১.    বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; অসস্তি, দুঃখ ও বেদনাপূর্ণ স্থানকে নরক বলে।
২.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শুক্রপাত সদৃশ মৃত্যু ঘটিয়ে ৩০০ দিন গর্ভাবস্থানের দ্বারা ধড় পরিবর্তন করে পুনর্জন্ম গ্রহণের পর পূর্বজন্মের প্রায়শ্চিত্ত সদৃশ সংসার যাতনাকে নরক বলে।

নরকের প্রকারভেদ (Variations of Gehenna)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; নরক সাত প্রকার। যথা; চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিভ, ত্বক, মন ও উদর।

চক্ষু (Eye)
চোখের দ্বারা অশান্তিমূলক কার্য সংঘটিত হওয়াকে চক্ষু নরক বলে।

কর্ণ (Ear)
কর্ণের দ্বারা অশান্তিমূলক কার্য সংঘটিত হওয়াকে কর্ণ নরক বলে।

নাসিকা (Nose)
নাসিকার ডান ও বাম শ্বাসের সূক্ষ্ম কারণ না জানার কারণে অশান্তিমূলক কার্য সংঘটিত হওয়াকে নাসিকা নরক বলে।

জিভ (Tongue)
অশ্লীল কথা বলা বা কিছু খাওয়ার কারণে অশান্তি হওয়াকে জিভ নরক বলে।

ত্বক (Skin)
ত্বকের বিলাসিতার কারণে অশান্তিমূলক কার্য সংঘটিত হওয়াকে ত্বক নরক বলে।

মন (Nous)
মনের অসদ্ভাবের কারণে অশান্তিমূলক কার্য সংঘটিত হওয়াকে মন নরক বলে।

উদর (Belly)
উদরপূর্তি বা খাদ্যাভাবের কারণে অশান্তিমূলক কার্য সংঘটিত হওয়াকে উদর নরক বলে।

নরকের প্রকারভেদ (Variations of Gehenna)
আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, নরক দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান নরক ও ২. উপমিত নরক।

. উপমান নরক (Analogical Gehenna)
সাধারণত; মানসিক যন্ত্রণা বা মানসিক অস্থিরতাকে উপমান অশান্তি বলে।

. উপমিত নরক (Compared Gehenna)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মহামায়ায় আবদ্ধ সংসার যাতনাকেই উপমিত অশান্তি বলে।

নরকের পরিচয় (Identity of Gehenna)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অশান্তি পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। অসস্তি, দুঃখ ও বেদনাপূর্ণ স্থানকে নরক বলা হয়। প্রতিটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষারই দুটি দিক রয়েছে। যথা; ১. কাল্পনিক-দর্শন Mythology ও ২. আত্মদর্শন  Theosophy বা Theology. নিচে আমরা পৃথক পৃথকভাবে এদের বর্ণনা তুলে ধরেছি।

নরকের কাল্পনিক দর্শন (Mythology of Gehenna)
সারাবিশ্বে একেক সাম্প্রদায়িক দলের একেক প্রকার নরক পাওয়া যায়। সাম্প্রদায়িক দলভেদে নরক-সংখ্যা ও সেগুলোর বর্ণনাও ভিন্ন ভিন্ন। মহাভয়ঙ্কর এসব নরকের একেকটির বর্ণনা কয়েক শত পৃষ্ঠা পর্যন্তও রয়েছে। যেমন; বাঙালী পুরাণ মতে; প্রয়াণোত্তরকালে পাপীদের অসহ্য যন্ত্রণাময় নরক-সংখ্যা ২৮টি। অনেক গোত্র ২৭টিও বলে থাকে। সেগুলো হলো; অন্ধকূপ, অন্ধতামিস্র, অবটনিরোধন, অবীচি, অয়ঃপান, অসিপত্রবণ, কালসূত্র, কুম্ভীপাক, কৃমিভোজ, ক্ষারকর্দম, তপ্তশূর্মী, তামিস্র, দন্দশূক, পর্যাবর্তন, পূয়োধ, প্রাণবোধ, বজ্রকণ্টকশাল্মালী, বিশসন, বৈতরণী, মহারৌরব, রক্ষগণভোজন, রৌরব, লালাভক্ষ, শূকরমুখ, শূলপ্রোত, সংদংশ, সারমেয়াদন ও সূচীমুখ। অন্যদিকে; ইসলামী পৌরাণিক মনীষীদের রূপক বর্ণনা অনুসারে; পাপীদের প্রয়াণোত্তর যন্ত্রণা ভোগের স্থান ৭টি। যথা; ‘ﺟﺤﻴﻢ’ (জাহীম), ‘ﺤﻄﻤﺔ’ (হুত্বামা), ‘ﺴﻌﻴﺮ’ (সা’ঈর), ‘ﺴﻗﺮ’ (সাক্বার), ‘ﻟﻇﻰٰ’ (লাযা), ‘ﻮﻴﻞ’ (ওয়াইল) ও ‘ﻫﺎﻮﻴﺔ’ (হাবিয়া)। এছাড়া; অনেক সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায় আছে; তাদের প্রয়াণোত্তর কোনো নরক নেই। যেমন; বৌদ্ধ-সহজিয়া ও মুসলমান বাউল ইত্যাদি।

নরকের আত্মদর্শন (Theology of Gehenna)
মৃত্যুর (শুক্রপাতরূপ) পর মানুষ যে স্থানে গিয়ে পাপভোগ করে তাই নরক। অন্যায়ই নরকের একমাত্র কারণ। মৃত্যুর পর মানুষ পুনর্জন্ম গ্রহণ করে। এখানে; বর্ণিত মৃত্যু পরিভাষাটির অর্থ প্রয়াণ, তিরোধান, দেহত্যাগ, দেহরাখা ও লোকান্তর ইত্যাদি নয়। কারণ; প্রয়াণ, তিরোধান, দেহত্যাগ, দেহরাখা ও লোকান্তর এগুলো মৃত্যু পরিভাষার আভিধানিক অর্থ। আভিধানিক অর্থ দ্বারা পুরাণ বিচার করা যায় না। মৃত্যু পরিভাষাটি দ্বারা যদিও অভিধানে দেহত্যাগ, দেহরাখা, প্রাণত্যাগ ও লোকান্তর ইত্যাদি বুঝায়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে qবি টল, ধ্বংস, মরণ, পড়ন, ঝরণ, শুক্রপাত, শুক্রস্খলন qক্রি বীর্যপাত করা, শুক্রপাত করা, সঙ্গমের সময়ে জননপথে শুক্রপাত করা বুঝায়। যারফলে; শুক্রপাত সদৃশ মৃত্যুর দ্বারা মানুষ দেহান্তরিত হয়ে তিনশত নয় (৩০৯) দিবস অন্তর্বাস অবস্থান বা গর্ভকাল কাটিয়ে সন্তান রূপে আগমন করে। পিতা যেমন কর্ম ও আচরণ করেছিল; সেও তেমন কর্ম ও আচরণে জড়িত হয়ে পড়ে। কথায় বলে; বাপকা বেটা সিপাইকা ঘোড়া, কুচ নেহি থোড়া থোড়া। অর্থ ‘পিতার মতো পুত্র এবং অশ্বারোহীর মতো অশ্ব, যদিওবা একরূপ না হয়; তবে কিছু না কিছু মিল থাকবেই’। এটাই পূর্বজীবনের পাপের প্রায়শ্চিত্তের সত্যিকার স্থান। আত্মদর্শনে নরক, নিরয়, বেদনাদায়ক স্থান, দুঃখময় স্থান বলতে বাস্তব পুনর্জন্মই বুঝায়।

বর্তমানে সাম্প্রদায়িক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত নরক যে কেবলই Bogus boh; এতে কোনো সন্দেহ নেই। সাম্প্রদায়িক মনীষীরা সর্বপ্রকার অশান্তির প্রকার-প্রকরণ দ্বারাই রূপকভাবে এমনই সব ভয়ঙ্কর-ভয়ঙ্কর উপমা নির্মাণ করেছে। অথচ; তা পাঠ করলে বা শুনলে চরম বাস্তব বলে মনে হয়। এজন্য; বাধ্য হয়েই ঐসব বিশ্বাসও করতে হয়। অশান্তির আধিক্য যতোধিক; রূপকথার বর্ণনার মর্মস্পর্শীতাও ততো মর্মভেদী। সুদীর্ঘকাল হতে কল্পিত নরকের ভয় ও কল্পিত স্বর্গের লোভ দেখিয়েই সাম্প্রদায়িক মনীষীরা দুর্বলচিত্তের মানুষকে শাসন ও শোষণ করে আসছে। কিন্তু আজ নরকের নাম নির্মাণ, নরক নির্মাণ ও নরকের শাস্তিগুলো নির্মাণ সূত্রাবলীও আবিষ্কার হয়েছে। যারফলে; নরক ব্যবসায়ীদের নরকবাজির যাবতীয় খপ্পর হতে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। প্রকৃত ব্যাপার হলো; মানুষ যে পরিমাণ অপরাধ করে সে পরিমাণ শাস্তিই সে ভোগ করে। সাধারণ মানুষ প্রকাশ্য শাস্তি ভোগ করে। কিন্তু সম্পদশালী ও ক্ষমতাশালীরা মনে-মনে শাস্তি ভোগ করে। বড়লোকদের শাস্তি সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে চোখে দেখতে পায় না; তাই বলে তাদের যে শাস্তি হয় না এমন চিন্তা করা ঠিক না। এমন ক্ষেত্রে অনেকেই আক্ষেপ করে বলে যে; “বড়লোকদের অপরাধের বিচার হয় না।” কারণ; স্বয়ং ভগবানকেও তারা টাকা দ্বারা কিনতে পারে।” আবার কেউ কেউ বলে যে; “তারা এখন টাকা ও ক্ষমতার দ্বারা শাস্তি হতে আত্মরক্ষা করতে পারবে। তবে; পরকালে অবশ্যই তাদের চরম শাস্তিভোগ করতে হবে। এ ব্যাপারে অত্র গ্রন্থের ২য় খণ্ডের কৃতকর্মের শাস্তি প্রয়োগ করলে; শুধু মনই অনুভব করে; নাকি দেহ, আত্মা ও জ্ঞানও অনুভব করে? শিরোনামে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে।

নরক নির্মাণ পদ্ধতি (Gehenna construction method)
নরক একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর মূল অশান্তি। এটি; অশান্তি মূলক হতে বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা রূপে উৎপন্ন হয়ে; বর্তমানে হিন্দু ও মুসলমান সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের মধ্যে বিশাল আয়তন অধিকার করেছে। ভুয়া নরকের ভয় দেখিয়ে আজ সারা সাম্প্রদায়িক বিশ্বে চলছে চরম নৈরাজ্য। নরক নির্মাণ করতে হলে সর্বপ্রথমে অপরাধীদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শাস্তি প্রদানের পদ্ধতিগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হবে। তারপর; নরকের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর; নরকগুলোর শাস্তিগুলোর রূপক বর্ণনা করতে হবে। তবে; এগুলো করতে হবে সবই দেহতাত্ত্বিক। সেজন্য; গভীরভাবে লক্ষ্য করতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তি সৃষ্টির মূল কারণগুলোর প্রতি। দেখা যায়; বাচালতা, অপকর্ম ও মুখ বন্ধ রাখা হতে বিশ্বের যাবতীয় অশান্তি সৃষ্টি হয়। এজন্য; এখানে; এসবকেই নরক নির্মাণের মূলকারণ ধরে নেওয়াই যথার্থ হবে। এবার নতুন করে নরক নির্মাণ করতে হবে। অতঃপর; সৃষ্ট নরকগুলোর শাস্তির নতুন নতুন বর্ণনা করতে হবে। যা ইতোপূর্বে বিশ্বের কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদেই করা হয় নি। বাচালতা হতে বৈচাল, কুকাজ (অপকর্ম) হতে কৈকাজ ও মুখ বন্ধ রাখা হতে গোমড়া এ ৩টি নতুন নরক নির্মাণ করা হলো। এবার আয়তন, অবস্থান ও শাস্তির ধরণ-ধারণ সুচারু রূপে বর্ণনা করতে হবে। এটি; নতুন সাম্প্রদায়িক মতবাদে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণই উপযুক্ত হবে।

নরক নির্মাণ পদ্ধতির কাল্পনিক দর্শন (Mythology of Gehenna construction method)

সাম্প্রদায়িক মতবাদে ব্যবহারের জন্য নরকত্রয়ের অভিনব বিবরণ প্রদান করা প্রয়োজন। যারা প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলে; কুটনামি করে ও সর্বদা অধিক কথা বলে মৃত্যুর পর তাদেরকে বৈচাল নরকে নিক্ষিপ্ত করা হয়। এ নরকটি বিধাতার এক অনন্য সৃষ্টি। তাই; এর শাস্তিও ভিন্নতর। এখানকার শাস্তি হলো একদল দেবতা নরকবাসীদের দাঁতগুলো লোহার হাতুড়ি দ্বারা ভেঙ্গে ফেলে। অত্যন্ত কষ্ট ও যন্ত্রণা দিয়ে একবার দাঁতগুলো ভাঙার কিছুক্ষণ পরে; আবার দাঁতগুলো আগের মতো হয়ে যায়। আবার দাঁতভাঙ্গা আরম্ভ করা হয়। এভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত এ শাস্তি চলতেই থাকবে। অন্যদিকে; অধিক অধিক অপকর্ম ও অকাম-কুকাম যারা করে; মৃত্যুর পর তাদেরকে কৈকাজ নামক নরকে নিক্ষেপ করা হবে। এ নরকের শাস্তি হলো একদল দেবতা পাপীদের একটি ধারালো অস্ত্র দ্বারা জীবন্তভাবেই পা হতে মাথা পর্যন্ত কেটে টুকরা টুকরা করে। কিছুক্ষণ পর তারা আগের রূপলাভ করে। দেবতাগণ আবার কাটা আরম্ভ করেন। এভাবে অনন্তকাল এ শাস্তি চলতেই থাকবে। অন্যদিকে; গোমড়া নরকের শাস্তি হলো; একদল দেবতা সত্য গোপন করে মুখ বন্ধ রাখা বা অযথায়ই অন্যান্যদের সাথে কথা না বলা পাপীদের মুখ তীক্ষ্ণ অস্ত্র দ্বারা সর্বদা চিরতে থাকে। অনেক কষ্টে মুখ ফাড়া হয়ে গেলে তা আবার পূর্বের অবস্থাপ্রাপ্ত হয়। আবার ফাড়া হয়। এভাবে অনন্তকাল পর্যন্ত এ শাস্তি চলতেই থাকবে।

নরক নির্মাণ পদ্ধতির আত্মদর্শন (Theology of Gehenna construction method)
এভাবেই পূর্বকালে সাম্প্রদায়িকদের নরক ও তার শাস্তির বিবরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও নরক ও শাস্তির বর্ণনা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামীতেও হতেই থাকবে। কিন্তু হাস্যকর বিষয় যে; সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদক এসব নরককে বাস্তব নরক বলে বুঝে ও অনুসারীদের বুঝিয়ে থাকে। তারা পুরাণে বর্ণিত নরক পরিভাষাটির দ্বারা পাপীদের প্রয়াণোত্তরকালে অবস্থানের জন্য বিধাতা কর্তৃক নির্মিত কল্পিত ও অজানা যন্ত্রণাময় এক স্থানকেই কেবল বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। আর সাধারণ মানুষও তাদের কল্পিত এসব বর্ণনা শুনে আতঙ্কিত ও ভীত হয়। সাম্প্রদায়িকদের ধারণা নরকের বর্ণনা যতোধিক আলোচনা ও প্রচার-প্রসার করা যাবে; মানুষ ততো সৎপথে ফিরে আসবে। তবে; প্রশ্ন হলো; সাম্প্রদায়িকরা স্বস্ব কল্পিত নরকের বর্ণনা প্রচার-প্রসার করেই আসছে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ এবং সন্ত্রাসবৃত্তি কী হ্রাস পাচ্ছে? নাকি বৃদ্ধি পাচ্ছে? এর উত্তরে সবাই বলবেন; বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে; সাম্প্রদায়িক বর্ণনা রাবারের ফিতার অনুরূপ। যেমন, রাবারের ফিতা টেনে ইচ্ছেমতো বৃদ্ধিও করা যায়; আবার ছোটও করা যায়। সাম্প্রদায়িক বর্ণনাগুলোও তাই। প্রয়াণোত্তর কালে কেউ ফিরে আসেনি, কেউ ফিরে আসছে না, এমনকি; কেউ ফিরে আসবেও না। তাই; এসব বর্ণনা সাম্প্রদায়িক বক্তারা; তাদের হাতের সময় (বক্তৃতার টেন্ডার) অনুযায়ী ইচ্ছেমতো লম্বা করতে থাকে। সময় স্বল্প হলে অল্পেই শেষ করে দেয়। সময় থাকলে দীর্ঘক্ষণ চালিয়ে যায়। সাম্প্রদায়িকদের কল্পিত নরকের পৌরাণিক কাহিনী দিন-দিন যত লম্বা হচ্ছে দিকেদিকে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীবৃত্তি ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ; যে নরকের কোনো অস্তিত্ব নেই; তার ভয় কেবা করে। এসব দাদা নাতির সে-ই ছোটকি (Shortish) “নদীর ঐপারের গল্প ঐপারই রেখে এসেছি।” কল্পনাটি ছিল; ‘একবার দাদা-নাতি নদীর ঐপারে সাম্প্রদায়িক কাহিনী শুনতে গেল। অধিক রাতে ফিরে আসার সময় দেখলো ঘাটে নৌকা নেই। অগত্যা উভয়ে সাঁতরিয়ে এপারে এলো। নাতি বললো; “ও দাদু, তোমার ধড়ি দেখি শুকনা! তবে; কী তুমি ধড়ি হাতে নিয়ে সাঁতার কেটেছো? বক্তা না বললো; ‘হাঁটুর ওপরে ধড়ি তোলা বড়পাপ!’ দাদা; “আরে বোকা পাঁঠা, ঐপারের গল্প ঐপারই রেখে এসেছি।” তেমনই; সাম্প্রদায়িক কাহিনী শাস্ত্রেই থাকে; মুখের কাহিনী মুখেই থাকে; মানুষ যে যা করার; তা করেই থাকে। কথায় বলে; চোরা না মানে ধর্মছড়া।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!