নাস্তিক

০৪/০১. নাস্তিক
Atheist (এ্যাথিস্ট)/ ‘ملحد’ (মিলহিদ)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অবিশ্বাসী পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা অবিশ্বাসী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা যবন

অভিধা (Appellation)
নাস্তি (বাপৌছ)বি সত্তহীনতা, অনস্তিত্ব qক্রি নেই, নাই।
নাস্তিক (বাপৌরূ)বিণ অবিশ্বাসী, আচারবিরোধী atheist, ‘ملحد’ (মিলহিদ) বিপ আস্তিক (আল) সাম্প্রদায়িক সংস্কারের প্রতি অবিশ্বাসী ব্যক্তি (প্র) সৃষ্টিকর্তা (কাঁই) পালনকর্তা (সাঁই) ও পুনর্জন্মে অবিশ্বাসী, সাম্প্রদায়িক রূপকথা বিশ্বাস করে না এমন (শ্ববি) যবন, মতবাদ বিদ্বেষী, পাপিষ্ঠ, দাহরিয়া (ﺪﻫﺭﻴﺎ) (ইংপ) unfaithful (ইপৌচা) কাফির (.ﻜﺎﻔﺮ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অবিশ্বাসী পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও ভারতীয় বাঙালী পৌরাণিক দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; তথাকথিত সাম্প্রদায়িক শাস্ত্র নির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত নিরাকার সাম্প্রদায়িক উপাস্য কিংবা দেবতাবাদের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে ‘নাস্তিক বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সাম্প্রদায়িক পৌরাণিক কাহিনী ও অলীক কাহিনী অস্বীকারকারীকে রূপকার্থে ‘নাস্তিক বলা হয় (বাপৌছ) যবন (বাপৌরূ) নাস্তিক (বাপৌমূ) অবিশ্বাসী।

নাস্তিকের সংজ্ঞা (Definition of atheist)
সাধারণত; তথাকথিত শাস্ত্রনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত নিরাকার সাম্প্রদায়িক উপাস্য কিংবা দেবতাবাদের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে অবিশ্বাসী বা রূপকার্থে নাস্তিক বলে।

নাস্তিকের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of atheist)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; সাম্প্রদায়িক ও অলীক পৌরাণিক কাহিনী অগ্রাহ্যকারীকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলে।

নাস্তিকের প্রকারভেদ (Variations of atheist)
শ্বরবিজ্ঞানে; নাস্তিক দুই প্রকার। ১. উপমান নাস্তিক ও ২. উপমিত নাস্তিক।

. উপমান নাস্তিক (Analogical atheist)
সাধারণত; তথাকথিত সাম্প্রদায়িক শাস্ত্রনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত নিরাকার সাম্প্রদায়িক উপাস্য কিংবা দেবতাবাদের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে উপমান নাস্তিক বলে।

. উপমিত নাস্তিক (Compared atheist)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারীকে উপমিত নাস্তিক বলে।

নাস্তিকের পরিচয় (Identity of atheist)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অবিশ্বাসী পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। তথাকথিত শাস্ত্রনির্ভর ও অন্ধবিশ্বাসপ্রসূত সাম্প্রদায়িক নিরাকার উপাস্য কিংবা দেবতা মতবাদ অবিশ্বাসী এবং বস্তুবাদে বিশ্বাসীদেরকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলা হয়। সন্দেহ হতেই অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। অবিশ্বাসীকেই নাস্তিক বলা হয়। কাউকে অধিক বিশ্বাস করাও ভালো নয়। আবার কাউকে অধিক অবিশ্বাস করাও উচিত নয়। যাচাইবাছাই বা প্রমাণ সাপেক্ষে সবকিছুই বিশ্বাস করা উত্তম। তবে; যে কোনো বিচারকমণ্ডলীর দ্বারা কোনো বিষয় প্রমাণিত হলে; তা বিশ্বাস করায় কোনো অসুবিধা নেই। যদিও বিশ্বাস ও বাস্তবতার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। কোনো ব্যক্তির মনে অবিশ্বাসের পরিমাণ অধিক হলে তাকে মাঝে মাঝে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অবিশ্বাস হতেই ঘরের তালা আবিষ্কার হয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করে। সমাজে সবসময় প্রায় পাঁচ প্রকার পৌরাণিক কাহিনী শুনতে পাওয়া যায়। যেমন; ১. দার্শনিক কাহিনী ২. বৈজ্ঞানিক কাহিনী ৩. রাজনৈতিক কাহিনী ৪. সাম্প্রদায়িক কাহিনী ও ৫. পারম্পরিক কাহিনী। এদের মধ্যে কেবল সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পৌরাণিক কাহিনীর ক্ষেত্রে আলোচ্য অবিশ্বাসী বা নাস্তিক পরিভাষাটি প্রযোজ্য। এছাড়া; অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসী বা নাস্তিক পরিভাষাটি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা দেখতে পাওয়া যায় না। বর্তমানে সারাবিশ্বে অসংখ্য সাম্প্রদায়িক মতবাদ রয়েছে। তারমধ্যে; কেবল ইসলামী মতবাদেই অত্র পরিভাষাটির অধিক ব্যবহার ও অধিক আলোচনা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রদায়িক বিধিমালা অনুসারে সাম্প্রদায়িক বিষয়বস্তু অস্বীকারকারীরা বিপথগামী এবং এ অবিশ্বাসের ফলে অবশ্য অবশ্যই তারা নরকবাসী হবে।

জ্ঞানের আউল স্তরের মন্ত্রী ও নামী সবাই নাস্তিক। কারণ; তারা একে অন্যের সাম্প্রদায়িক মতবাদ ও উপাসনাকে সম্পূর্ণই অস্বীকার ও অবিশ্বাস করে। হিন্দুরা তাদের সাম্প্রদায়িক মতবাদ এবং উপাসনা অস্বীকারকারীদের যবন বলে থাকে। অন্যদিকে; মুসলমানরা তাদের সাম্প্রদায়িক মতবাদ ও উপাসনা অস্বীকারকারী বা অবিশ্বাসকারীকে ‘কাফির (ﻜﺎﻔﺭ)’ বা মোয়াহিদ কাফির (ﻤﻮﺤﺪ ﻛﺎﻔﺭ) বলে থাকে। এ সূত্র হতে মানুষ মাত্রই হয়তো যবন; নয়তো ‘কাফির (ﻜﺎﻔﺭ)’। কিন্তু বিষয়টি মূলতঃ তেমন নয়। যার যার সাম্প্রদায়িক মতবাদ অনুযায়ী মানুষ মাত্রই বিশ্বাসী। কারণ; প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদ বিশ্বাস করে। এজন্য; বলা যায়; স্বস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে সবাই বিশ্বাসী। অর্থাৎ; নাস্তিক বলে কেউ নেই।

যবন (বাপৌছ)বিণ অহিন্দু, বিধর্মী, বিদেশী, গ্রিক জাতি, আইওনিয়াবাসী গ্রিক (প্র) প্রচলিত হিন্দু সাম্প্রদায়িক মতবাদ মান্য করে না এমন ব্যক্তি Jস্ত্রী যবনী।
কাফির [ﻜﺎﻔﺭ] (আপৌছ)বিণ যবন, কৃতঘ্ন, অকৃতজ্ঞ, তৃণ, গুপ্ত, সমুদ্র, লৌহবস্ত্র, সত্য অস্বীকারকারী, অন্ধকার রাত্রি, বিশাল উপত্যকা, ঘনীভূত মেঘরাশি, খেজুরের কলির আবরণ, সমতল ভূমি {}
মোয়াহিদ [ﻤﻮﺤﺪ] (আপৌছ)বি একেশ্বরবাদী, কেবল স্রষ্টার একত্ববাদে বিশ্বাসী {}
মোয়াহিদ কাফির [ﻤﻮﺤﺪ ﻛﺎﻔﺭ] (আপৌছ)বি স্রষ্টার একত্ববাদে বিশ্বাসী যবন (প্র) মুসলমান মনীষীদের মতে; যে কেবল সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে কিন্তু অবতার বা অবতারবাদ কিংবা ঐশিবাদ বিশ্বাস করে না {.মোয়াহিদ.ﻤﻮﺤﺪ +.কাফির.ﻜﺎﻔﺭ}

এবার প্রশ্ন হতে পারে যে; যারা বিশ্বের কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদই বিশ্বাস করে না; তাদের কী বলা হয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়; সাধারণ দৃষ্টিতে মতবাদ বিমুখ ব্যক্তিকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলা হয়। এখানে; বলা যায়; কেবল সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা উপাসনা অস্বীকারকারী বা অবিশ্বাসকারীকে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক বলা উচিত নয়। কারণ; নাস্তিকরা কখনই সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা উপাসনাগুলোর পুরোটাই অস্বীকার করে না। তারা কেবল সাম্প্রদায়িক মতবাদের সে অংশটুকুই অস্বীকার করে; যেটুকু অত্যন্ত গোজামিল, অসংলগ্ন ও একেবারে রূপকথায় ভরপুর। কিন্তু নাস্তিকরা কখনই যার যার স্রষ্টাকে অস্বীকার করে না।

নাস্তিকদের ব্যাপারে এতটুকু বলা যায় যে; সৃষ্টিকর্তা রূপে কেউ জ্ঞানকে, কেউ শক্তিকে; আবার কেউবা প্রকৃতিকে স্বীকার করে। যেমন; কেউ বলে; জ্ঞানই সবকিছু সৃষ্টি করেছে ও করছে। এজন্য; সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন; তবে তিনিই হলেন জ্ঞান। আবার কেউ বলে; শক্তিই সবকিছু সৃষ্টি করেছে ও করছে। এজন্য; সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন; তবে তিনিই হলেন শক্তি। আবার কেউ বলে; প্রকৃতিই সবকিছু সৃষ্টি করেছে ও করছে। এজন্য; সৃষ্টিকর্তা বলে যদি কেউ থেকে থাকেন; তবে তিনিই হলেন প্রকৃতি। নাস্তিকরা যে যা-ই বলুক না কেন; সবাই কোনো না কোনো সৃষ্টিকর্তাকে অবশ্যই স্বীকার করছে। আবার আত্মজ্ঞানী মনীষীগণ বলেন যে; প্রকৃতি সৃষ্টিকারী স্রষ্টা ও জীব সৃষ্টিকারী স্রষ্টা এক নয়। অন্যদিকে; প্রকৃতির স্রষ্টা ও সাম্প্রদায়িক স্রষ্টা এক। কিন্তু আত্মজ্ঞানীদের ও পারম্পরিকদের স্রষ্টা এবং প্রকৃতির স্রষ্টা এক নয়। প্রকৃতির স্রষ্টাই বিজ্ঞান, দর্শন ও সাম্প্রদায়িক স্রষ্টা হতে পারে। কিন্তু পারম্পরিক ও মরমী স্রষ্টা সম্পূর্ণই ভিন্ন। এমন চির দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্যই বৈষয়িক স্রষ্টা ও পারম্পরিক স্রষ্টা রূপে ভিন্ন ভিন্ন স্রষ্টার ভিন্ন ভিন্ন অস্তিত্বের বর্ণনা করা হয়। বিজ্ঞান, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা ও সাম্প্রদায়িক মতবাদের নিরাকার স্রষ্টাকে বৈষয়িক স্রষ্টা বলা হয়। তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে বলা হয়; হয়তোবা তিনি হবেন জ্ঞান, শক্তি অথবা প্রকৃতি। অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞানের স্রষ্টাকে পারম্পরিক স্রষ্টা বলা হয় এবং তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বলা হয়; হয়তোবা তিনি হবেন কাঁই; নয়তোবা শুক্র

 একদল অন্যদলের স্রষ্টাকে কখনই বিশ্বাস করে না। অর্থাৎ; সাম্প্রদায়িকরা বিজ্ঞানীদের স্রষ্টাকে এবং বিজ্ঞানীরা সাম্প্রদায়িকদের স্রষ্টাকে কখনই বিশ্বাস করে না। তাহলে; বিজ্ঞানীদের নিকট সাম্প্রদায়িকরা নাস্তিক এবং সাম্প্রদায়িকদের নিকট বিজ্ঞানীরা নাস্তিক। তেমনিভাবে; হিন্দুদের নিকট মুসলমানরা নাস্তিক এবং মুসলমানদের নিকট হিন্দুরা নাস্তিক। আবার যার যার স্থানে অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক, জ্যোতিষী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা যার যার স্রষ্টাকে অবশ্যই বিশ্বাস করে। এজন্য; সবাই আস্তিক। যেহেতু; ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সবাই যার যার সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে ও মান্য করে। সেহেতু; পৃথিবীতে নাস্তিক বলে কেউ নেই। যারফলে; পৃথিবীতে নাস্তিক ও নাস্তিক্যবাদ বলে কিছুই নেই। মানুষ স্থূলদৃষ্টিতে একে অন্যকে নাস্তিক বলে অবুঝের মতো গালাগালি করে। সূক্ষ্মদৃষ্টিতে সারা বিশ্বের কোথাও নাস্তিক বা নাস্তিক্যবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।

আবার প্রশ্ন হতে পারে যে; একই সমাজে বাস করে, একদল অন্যদলকে বা একজন অন্যজনকে নাস্তিক বলে গালি দেয় কেন? উত্তরে বলা যায় যে; স্রষ্টা কী? নাস্তিক কাকে বলে? নাস্তিক্যবাদ কাকে বলে? কোন কোন সত্তাকে স্রষ্টা রূপে অস্বীকার করলে; মানুষকে নাস্তিক বলা হয় এসব বিষয়ে জ্ঞানের চরম দৈন্যতার কারণেই মানুষ একে অন্যকে নাস্তিক বলে গালি দেয়। আর নিজের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয়। যার মধ্যে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদ বিরাজমান। কেবল সে অন্যকে নাস্তিক বলে গালি দিতে পারে। যুক্তি রূপে বলা যায়; পাত্রে যা থাকে ঢাললে তাই পড়ে। যার ভিতরে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদ আছে; তারমধ্যে; থেকে তাই বের হয়। অন্যকে নাস্তিক বলে কটুক্তি করাই; তার নিজের নাস্তিকতা প্রমাণ করে। কার্যত যার যার মনের মতো করে তার তার স্রষ্টার হাত, পা, চোখ, মুখ, কান, নাক, মন, জ্ঞান, রাগ, বিবেক-বিচার ও আসন-বসন নির্মাণ করে; তা অন্যকে বিনা বিচারে গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে বলবে, কেউ মেনে না নিলেই তাকে নাস্তিক বলবে এটা কখনই হতে পারে না। একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেও দেখা যায়; কারো স্রষ্টার হাত, পা, বিবেক-বিচার ও আসন-বসন ইত্যাদি আছে। আবার কারো স্রষ্টার এসব নেই। কারো স্রষ্টা বিয়ে করেছে সন্তানও সৃষ্টি করেছে (হিন্দুদের ব্রহ্মা)। কারো স্রষ্টা বিয়ে করে নি কিন্তু ক্ষেত্রজ সন্তান সৃষ্টি করেছে (খ্রিস্টানদের ঈসা)। আবার কারো স্রষ্টা বিয়েও করেনি; সন্তানও সৃষ্টি করে নি (মুসলমানদের আল্লাহ)। কারো স্রষ্টা মারামারি করতে গিয়ে পাঁচটি মাথার মধ্যে একটি মাথা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে (হিন্দুদের ব্রহ্মা)। কারো স্রষ্টা নিজে মারামারি করে না বটে; তাদের অবতারদের দ্বারা মারামারি করায়। কারো স্রষ্টার মাথা একটা। আবার কারো স্রষ্টার মাথা একাধিক (ব্রহ্মা)। তাহলে; স্রষ্টা নির্মাণ একান্ত শৈল্পিক বিষয়। যার যার দলের রূপকার গুরু ও গোঁসাইরা ডাকার জন্য স্বস্ব স্রষ্টা নির্মাণ করে তাঁকে মনের মাধুরিতে রূপদান করেছে। সেটা হোক সাম্প্রদায়িক স্রষ্টা বা বিজ্ঞানীদের স্রষ্টা।

কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলার পূর্বে তা ভালোভাবে জানা ও বুঝা একান্ত প্রয়োজন। এবার পরিষ্কার কথা হলো; শ্বরবিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র দ্বারা বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও পৌরাণিক স্রষ্টা নির্মাণ করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের সুমহান মনীষীরা একান্তই যার যার স্রষ্টা নির্মাণ করে মনের রঙতুলিতে স্বস্ব স্রষ্টার অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, বিবেক-বিচার ও আসন-বসন ইত্যাদি নির্মাণ করেছে। এছাড়া; বিশ্বের কেউই স্রষ্টার এতবড় নিকট আত্মীয় নয় যে; সে স্রষ্টার বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে অথবা স্রষ্টাকে নিমন্ত্রণ করে নিজের বাড়িতে এনে স্রষ্টার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে বা চা-চক্রে মিলিত হয়ে স্রষ্টার আয়তন, অবস্থান, বিদ্যমানতা, মন, জ্ঞান, শক্তি, হাত, পা, বিবেক, বিচার, আসন, বসন ও তার পরিবারের সদস্য; এমনকি; স্রষ্টার আহার বিহারগুলো পর্যন্ত স্বচক্ষে দেখে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ; কোনো রূপকারই স্রষ্টার বাড়ির চা-চক্রের নিমন্ত্রিত অতিথি নয় এবং স্রষ্টাও কোনো রূপকারের বাড়ির চা-চক্রের নিমন্ত্রিত অতিথি নন। মূল বিষয় হলো; সুবিজ্ঞ রূপকাররা যার যার স্রষ্টার সব রূপক বর্ণনা যার যার মনের রঙতুলি দিয়ে মনের মাধুরিতে অনন্য রূপে অংকন করেছে। এজন্য; একদলের স্রষ্টার বর্ণনা অন্যদলের স্রষ্টার বর্ণনার সাথে মিলে না।

এজন্য; এক দলের স্রষ্টা অন্য দলের অবিশ্বাস হওয়াই স্বাভাবিক। এক দলের স্রষ্টার বর্ণনার চেয়ে অন্য দলের স্রষ্টার বর্ণনা ভিন্ন ভিন্ন বা ভালো ও মন্দ হওয়াই স্বাভাবিক। সর্বশেষে বলা যায় যে; আস্তিক ও নাস্তিক এমন অতি সাধারণ শব্দাবলী ব্যবহার করে আত্মতৃপ্তি বা কটুক্তি না করে; বরং সবারই আত্মসংযম করা উচিত। স্রষ্টা বিষয়ে একে অন্যকে গালি দেওয়া হতে বিরত থাকা উচিত। স্রষ্টা সমস্যাই সাম্প্রদায়িকদের প্রধান সমস্যা। স্রষ্টা সমস্যা সমাধান হলেই সাম্প্রদায়িকরা সাধু হয়ে যায়। যার স্রষ্টা সমস্যা সমাধান হয়নি; তার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক কোনো সমস্যাই সমাধান হয় নি। পক্ষান্তরে; যার স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা সমস্যা সমাধান হয়েছে; তার সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে।

ধর্ম মূলতঃ বস্তুবাদীদের পদার্থ বিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। পদার্থ বিজ্ঞানে পদার্থের বৈশিষ্ট্যকে ধর্ম বলা হয়। তাহলে; বিজ্ঞানীরা মানুষের নির্মিত সামাজিক মতবাদকে ধর্ম রূপে গ্রহণ করবে কেন? পদার্থ বিজ্ঞানের ধর্ম পরিভাষাকে সাম্প্রদায়িক বা পারম্পরিকরা তাদের স্বস্ব নির্মিত মতবাদ বুঝানোর জন্য গ্রহণ করছে কেন? এসব প্রশ্নের সমাধান করা এখনই প্রয়োজন। তা নাহলে; আগামীতে এটি; আরও ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করবে। এখন থেকেই বক্তা, আলোচক, লেখক, গবেষক, বৈখ্যিক, টৈকিক, অনুবাদক ও অভিধানবিদদের মতবাদকে মতবাদ এবং ধর্মকে ধর্মই বলতে হবে। কোনো ক্রমেই মতবাদকে ধর্ম এবং ধর্মকে মতবাদ বলা যাবে না।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!