নিরীক্ষ

৭২/১. নিরীক্ষ
Observation (অব্জারভেশন)/ ‘رصد’ (রাসাদা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর মনোযোগ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা মনোযোগ। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা নিহার। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বীক্ষণ এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ধনুর্বিদ্যা

অভিধা (Appellation)
নিরীক্ষ (বাপৌরূ)বি অনুরাগ, অভিনিবেশ, অবলোকন, আস্থা, আবৃতি, একনিষ্ঠতা, একাগ্রতা, চিন্তা, দর্শন, ধ্যান, নিষ্ঠা, বিশ্বাস, ভক্তি, মনোনিবেশ, মনোযোগ, স্মরণ, মনোযোগের সাথে পরীক্ষা, অভিনিবেশের সঙ্গে দর্শন, নিষ্ঠা সহকারে অবলোকন, observation, ‘رصد’ (রাসাদা) (শ্ববি) নিহার, গুরুপাঠ, গুরুমন্ত্র, গুরুবাক্য, গুরুবাণী, কামকৌশল, বায়ুকৌশল, রতীনিয়ন্ত্রণ কৌশল, রমণের সময় নাকের বায়ুগতি সঠিককরণ, মনেমনে গুরুর ধ্যানকরণ (ইপ) ইসমেআজম (.ﺍﺴﻢ ﺍﻋﻇﻢ), জিকির (.ﺬﻜﺮﺓ), লিহাজ (.ﻟﺤﺎﻈ) (ইংপ) targets (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর মনোযোগ পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; কোনকিছুর প্রতি একনিবিষ্ট হওয়াকে বাংলায় রূপকার্থে ‘নিরীক্ষ বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মৈথুনের সময়ে যথাযথভাবে অষ্টাঙ্গ ব্যবহার করে শুক্রপাত বন্ধ রাখার কাম কৌশলকে রূপকার্থে ‘নিরীক্ষ বলা হয় (বাপৌছ) ধনুর্বিদ্যা (বাপৌচা) বীক্ষণ (বাপৌউ) নিহার (বাপৌরূ) নিরীক্ষ (বাপৌমূ) মনোযোগ।

নিরীক্ষের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of observation)
১.   “দেখবি গিয়ে সাগরপাড়ে, ত্রিধারা বয় এক সাগরে, যেতে হবে মিঠা ধারে, নিরীক্ষ ধরে ত্রিবেণীর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩২)
২.   “নিরীক্ষ বান্দরে দুই নয়নে ভুইলো মন তাহারে নিরীক্ষ ভুল করিলে যাবিরে মারা পড়বিরে ভীষণ ফেরে।” (কালু শাহ ফকির)

নিরীক্ষের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of observation)
১.   “অগনিত উপ তত্ত্ববাহক বিদায় এ ধরাতে, জিন্দা বাহক আছে কলির জীবকে তরাইতে, পাইতে তত্ত্ববাহকের দেখা- গুরুকে কর সখা, স্বরূপসাধনপুরে নিরীক্ষ ধর ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৩)
২.   “আইন মুয়াফিক্ব নিরীক্ষ দিতে মন ভাব কী, কালশমন এলে করবে কী।” (পবিত্র লালন- ৬৩/১)
৩.   “আইন মুয়াফিক্ব নিরীক্ষ দিতে মন, কেন এত আড়িগড়ি এখন, পত্তন যে সময়- লেখা হয় জমায়, নিহার করে দেখ নাই ভেবে।” (পবিত্র লালন- ২৩২/৩)
৪.   “আইন মুয়াফিক্ব নিরীক্ষ দে না, তাতে কেন ইতরপনা, যাবেরে মন যাবে জানা, জানা যাবে আখিরে।” (পবিত্র লালন- ৬৮৫/৩)
৫.   “আকাশে বরিষণ হলে, সুষুম্না ইড়া পিঙ্গলে, বলন কয় নিরীক্ষ বলে, যায়রে সুধার ভেদ জানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮)
৬.   “আয়রে নয়নে নিরীক্ষ বান্ধিয়া অষ্টাঙ্গে বসে, আয়রে পঞ্চবাণ ষোল কলার জানিয়া দিশে, তিন দিনের মর্ম জেনে, অনাসে পার হইয়া যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩১২)
৭.   “ইরফানির আদেখা ত্বরিক্ব, দায়িমী বজরক্বে নিরীক্ষ, সিরাজ সাঁইজির চরণ, ভেবে কয় ফকির লালন, দায়িমী নামাজী যেজন, শমন তারও আজ্ঞাকারী।” (পবিত্র লালন- ৬১৩/৪)
৮.   “এক নিরীক্ষ দেখ ধনী, সূর্যগত কমলিনী, দিনে বিকশিত তেমনি, নিশিতে মুদিত রহে, তেমনি, যেন- ভক্তের লক্ষণ, এক রূপে বাঁধে হিয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫০৬/৩)
৯.   “একে নিরীক্ষ যার, হতে ভবনদী পার, সে তরী কভু টাল খাবে না, পাঁচপীরে চলন- চলে লালন, চুরাশি করে আনাগোনা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৩/৪)
১০. “এবার গুরুর রূপে নয়ন দিয়ে, নিরীক্ষ পানে থাক গে চেয়ে, মানুষ জনম সফল করতে, পড়ে থাক চরণ তলে।” (পবিত্র লালন- ৮১/৩)
১১.  “কয় হরফ মিলে বজরক্ব, কী কী মান বলি তারই, না জেনে তার নিরীক্ষ নিহার, পড়েশুনে কী করি।” (পবিত্র লালন- ৩৭১/২)
১২.  “করে ভাড়া করা উপাসনা, তাতে তো দয়াল মিলে না, নিজেই নিজের করো প্রার্থনা, ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৭)
১৩. “কেউবা বলে বায়ুকলে, ডানে বামে সাঁই চলে, সুষুম্না নিরীক্ষ হলে, মিলবে সাঁইয়ের দরশনী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮০)
১৪. “কোন পথে সাঁই ঘুরেফেরে, কাঁই আসে কয়দিন পরে, কোন গলিতে নিরীক্ষ ধরে, বসে থাকি ত্রিবেণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)
১৫. “গুরু নিরীক্ষ সঙ্গে নিয়ে, বসগে অষ্টাঙ্গ দিয়ে, নাও চালাও কলকলিয়ে, দয়াল নামটি সার করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩০)
১৬.  “গুরু নিরীক্ষ রাখরে সদাই অবুঝ মন, গুরু নিরীক্ষেই খুঁজে পাবি আপনার আপনজন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬১)
১৭. “গুরু যার কাণ্ডারী ভবে, সে অনায়াসে হয় পার, এক নিরীক্ষে থাকলে পরে, তুফান বলে ভয় কী তার।” (পবিত্র লালন- ৪০৫/১)
১৮. “জ্ঞানের পারায় ভাব লাগিয়ে, ত্রিবেণী পাড়ে বসগে গিয়ে, নয়নে নিরীক্ষ বান্ধিয়ে, ঝরার খালে রাখ পাহারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৯)
১৯.  “দক্ষিণের কালশশী উদয় হয় উত্তরে গিয়া, বসে থাকে পারঘাটেতে শক্তিরূপ ধরিয়া, পারমিদের মহান মহিমা- অলৌকিকশক্তির নিশানা, পাইতে সে শক্তিখানা- নিরীক্ষ ধররে ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৪)
২০. “দেখতে পেলে নূর তাজাল্লি, জেগে ওঠে ইশক্বে বারি, সামনে আসে মাওলার ছবি, নিরীক্ষ রাখলে মুর্শিদ ক্বদমে।” (পবিত্র লালন- ৬১১/৩)
২১.  “দেখ রে মন ব্রহ্মাণ্ডের পরে, সদাই সাঁই বিরাজ করে, অখণ্ডরূপ নিহার করে, বসে থাক সে নিরীক্ষ ধরে।” (পবিত্র লালন- ৬২৫/২)
২২. “দেখা শোনা ভাব আকর্ষণ- বন্ধ ইঙ্গিত সঙ্কেত কথন, মনে মন মিশিবে যেখানে, অসীম চুম্বকে সেথায়- পার করে দক্ষিণে বায়, থাকলে নিরীক্ষ নয়নে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৭)
২৩. “ধানভানা শিখলেরে মন, ঢেঁকিপাড়ে হয় না মরণ, বিনয়ে কয় কাঁইজি বলন, গুরু নিরীক্ষ রাখ সদাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৫)
২৪. “নদীর স্রোত যদি তীরে ছুটে, কামনদীর পিছলঘাটে তরঙ্গ ওঠে, লালন বলে মোহর এঁটে, নিরীক্ষ রাখ রাগের তলায়।” (পবিত্র লালন- ১০১/৪)
২৫. “না হলে শ্রী রূপের অনুগত, না জানলে রসরতীর তত্ত্ব, লালন কয় আইন মতো, নিরীক্ষ কিসে হয়।” (পবিত্র লালন- ৭০০/৪)
২৬. “নিরীক্ষ বিনা সাধন হয় না, জলেতে চাঁদ মিলে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৯)
২৭. “নিরীক্ষ রেখ ঈশান কোণে, চালাও তরী সযতনে, খালি খালি মরবি প্রাণে, জানা যাবে মাঝিগিরি।” (পবিত্র লালন- ৯৫১/২)
২৮. “পঞ্চান্নধারা জ্ঞানের পারা সজাগ রেখে সুগমে, ওরে ভবসিন্ধু পাড়ি দিও নিরীক্ষ রেখে নয়নে, সৌদামিনী দিনরজনী, বাস করে মেঘের আড়লে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৫)
২৯. “পড়গে নামাজ ভেদ বুঝে, বজরক্ব নিরীক্ষ না হলে ঠিক, নামাজ তার মিছে।” (পবিত্র লালন- ৬১০/১)
৩০. “পাকাগুরুর সঙ্গ লইয়া, থাক তার নিরীক্ষে বইয়া, ভক্তি দাও নত হইয়া, গুরুর ঐ রাঙ্গা চরণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫২)
৩১. “বকের ধরণ করণ তার হয়, দিক ছাড়া তার নিরীক্ষ সদাই, পলকভরে নিরীক্ষ ধরে, যায় সে ভবপারে।” (পবিত্র লালন- ৪১২/২)
৩২. “বিনা বায়ে খেলিছে ঢেউ, নামিলে আর বাঁচে না কেউ, বসিয়া রহে বলন সেও, কালোশশী নিরীক্ষ ধরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৬)
৩৩. “বিরজা ফল্গু গয়াধামে, ভক্তি দাও মার চরণকোনে, নিরীক্ষ রেখে নয়নে-, বৃন্দাবন আর কৈলাশটিলে, মাকে রাখো আদ্যামূলে, মা জননী সাতরাজার সমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)
৩৪. “বুঝালে বুঝে না মনরায়, আইন মুয়াফিক্ব নিরীক্ষ দিতে, কিসের ভয়।” (পবিত্র লালন- ৭০০/১)
৩৫. “ব্যাধে যখন পাখি ধরতে যায়, তখন ঊর্ধ্বমুখে রয়, থাকে এক নিরীক্ষে পাখির দিকে, ফিরে থাকায় না, তুমি আঁখি রেখ পাখির দিকে, নয়নে পলক দিও না।” (পবিত্র লালন- ৩৯০/২)
৩৬. “মেঘে কত করে ফাঁকি, তবু চাতক মেঘের ভুখি, তেমনি, নিরীক্ষ রাখলে আঁখি, সাধক বলে।” (পবিত্র লালন- ৪৪২/২)
৩৭. “যার হয়েছে নুক্তা নিরূপণ, দিয়ে প্রেমে দুই নয়ন, ঘড়ি ঘড়ি হচ্ছে নামাজ, ঠিক আছে মনা, নুক্তা নিরীক্ষ– হলে পরে ঠিক, তার ওয়াক্ত নফল লাগবে না।” (পবিত্র লালন- ৭১৭/৩)
৩৮. “যার হয়েছে নিরীক্ষ নিরূপণ, সাঁই দরশন সে পেয়েছে, অন্য কথায় ভোলে না সে, একনাম ধরে বসে আছে।” (পবিত্র লালন- ৮২১/১)
৩৯. “যেজন হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতেছে, ঘুচেছে তার মনের আঁধার, দিক ছাড়া নিরীক্ষ বেঁধেছে।” (পবিত্র লালন- ৭৪১/১)
৪০. “রূপনদে স্বরূপ ধর আপন জীবকর্ম সার, রূপ স্বরূপ জোয়ার-ভাটায় ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)
৪১. “লক্ষ্যহীন আখেটি করা, আঁন্ধার ঘরে সর্প ধরা, বলন কয় গুরু ছাড়া, নিরীক্ষ বলে কিছু পাই না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৯)
৪২. “লালন সাঁইজি বলেরে মন, আগে নুক্তা করো নিরূপণ, হলে নুক্তা নিরীক্ষ সঠিক মন, থাকে না কোট কাচারি।” (পবিত্র লালন- ১৭৬/৪)
৪৩. “সকাল সন্ধ্যা নিরবধি, চলেফেরে সাঁই দরদী, দুই মৃণালে কর সন্ধি, নিরীক্ষ ধর বায়ু ঘরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১)
৪৪. “সাদা কালো দুই রং ধরে, আটপ্রহরে সে চলেফেরে, বলন কয় নিরীক্ষ ধরে, থাকরে বসে নিজপুরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫০)
৪৫. “সাধু যারা দেয় না ধরা, উজান ভাটি নির্ণয় করে (ভোলামন মনরে), দ্বি হাওয়ায়, নিরীক্ষে যায়, মধু খায় মধুপুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
৪৬. “হায় হায় পূর্ণিমা রজনী এলে, সাত আকাশের দুয়ার খোলে, সত্তর হাজার পর্দা খোলে, দেখা দিবে দয়াল সাঁই, পঞ্চাশ হাজার বছর, নিরীক্ষ ধরে থাকা চাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭)

নিরীক্ষের সংজ্ঞা (Definition of observation)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কোনকিছুর প্রতি একনিবিষ্টতা গ্রহণ করাকে নিরীক্ষ বলে।

নিরীক্ষের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of observation)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মৈথুনের সময়ে যথাযথভাবে অষ্টাঙ্গ ব্যবহার করে শুক্রপাত বন্ধ রাখার কাম কৌশলকে নিরীক্ষ বলে।

নিরীক্ষের প্রকারভেদ (Variations of observation)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; নিরীক্ষ দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান রিরীক্ষ ও ২. উপমিত নিরীক্ষ।

. উপমান রিরীক্ষ (Analogical observation)
সাধারণত; কোনকিছুর প্রতি একনিবিষ্ট হওয়াকে রূপকার্থে নিরীক্ষ বলে।

. উপমিত নিরীক্ষ (Compared observation)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মৈথুনের সময়ে যথাযথভাবে অষ্টাঙ্গ ব্যবহার করে শুক্রপাত বন্ধ রাখার কাম কৌশলকে উপমিত নিরীক্ষ বলে।

প্রেমগাছের ফল একটি নয় বরং দুটি (Not a but two of lovetree’s fruit)
. বেদ (Significance)
“ইন্দ্র বলেছেন, যে আমার মাতা মৃত হবেন; তথাপি পুরাতন পথ অনুগমন করব না, শীঘ্র বহির্গত হব। ইন্দ্র অভিষবকারী ত্বষ্টার গৃহে বলপূর্বক সোমাভিষব দুটি ফল অভিষুত সোম পান করেছিলেন। সে সোম শত ধনের দ্বারা ক্রীত (২)।” (ঋকবেদ, চতুর্থমণ্ডল, সুক্ত ১৮/৩)

. ত্রিপিটক (Triplet)
“এই ভাবিয়া সেই ব্রাহ্মণ ভোজনশালা অবলোকন করিবার সময় দুটি দ্রব্য দেখিতে পাইলেন না, যবাগূ এবং মধুগোলক (লাড়ু)।” (ত্রিপিটক, ১ম খণ্ড, বিনয়-পিটক, যবাগু ও লাড়ুর বিধান)

. কুরান (ﻘﺭﺍﻦ) (Triad)
১.    “উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবণ।” (কুরান, সুরা রহমান- ৫০)
২.   “তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ।” (কুরান, সুরা রহমান- ৬৬)
৩.   “নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন।” (কুরান, সুরা নিসা- ৪০)
৪.   “যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে এবং নিজের মনকে সুদৃঢ় করার জন্যে তাদের উদাহরণ টিলায় অবস্থিত বাগানের মত, যাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। অতঃপর; দ্বিগুণ ফসল দান করে।” (কুরান, বাকারা- ২৬৫)

. লালন (Lalon)
১.   “ব্রহ্ম ঈশ্বর দুই তো, লেখা যায় সাধ্য মতো, উঁচুনিচু কী তারও তো, করতে হয় সেও দিশে।” (পবিত্র লালন- ৮০৪/২)।২.   “যে জানে সে দুই নূরীকে, সিদ্ধি করে যোগে জেগে, লালন ফকির পড়ল ফাঁকে, মনের দ্বিধায়।” (পবিত্র লালন- ৬০৬/৪)

. বলন (Bolon)
১.   “আকাশে যে মই লাগিলে উড়ে পাতালে যায় বাতাসে, সাদা কালো দুটি চন্দ্র তার হাতে আসে অনাসে, পায় না চাঁদ অস্ত গেলে, পাহাড় সাগর খগোলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৮)
২.   “কত সাধু চাঁদের আশে, যুগ যুগান্তর ঘুরিতেছে, একগাছে দুই চাঁদ ধরে, কত ভ্রমর পাগল করে, চাঁদ পেড়ে চাঁদের মালা, পরবি কে আয় গলায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩২)
৩.   “দয়াল কত করুণাময়, দুইছানা এক হরিণে রয়, বলন কহে সর্বদায়, কোন দিন কার ভাগ্যে হয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৮)
৪.   “দশজনে বাঁধ বাঁন্ধিলে- ছয়জনে কাটিয়া ফেলে, দুইজন ঘরে মহাজন-, পঞ্চরস সদা ভুলে রই- পঞ্চবাণ ছিলে কাটিলে কই, পঞ্চভূত করছনি বশীকরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৯)
৫.   “দশডালেতে চৌদ্দশাখা, মগডালে পাখির বাসা, মাসে ফুটে দুটি ছা, কথা কয় হাজার মাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৮)
৬.   “প্রেমসন্ধি সরোবরে, সাদা কালো দুই ফল ধরে, গুরু যদি আহার করে, শিষ্যও বিহার করতে পারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৯)
৭.   “মায়াকানন কুসুমবাগে, সাদা কালো দুই শশী জাগে, বাছাধন কেষ্ট মাঙ্গে, তোর দুয়ার দে খুলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০১)
৮.   “শুকনা গাঙ্গে জোয়ার আসে, সাদা কালো দুই চাঁদ ভাসে, পাব বলে কূলেই বসে, মরি মুখে লাল পড়ি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৬)

উপরোক্ত উদ্ধৃতির মধ্যে (দুই ছা, দুই ছানা, দুই চন্দ্র, দুই চাঁদ, দুই দ্রব্য, দুই নূরী, দুই প্রস্রবণ, দুই ফল, দুই মহাজন, দুই শশী, দ্বিগুণ, দ্বিগুণ ফসল ও ব্রহ্ম ঈশ্বর দুই) এসব বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পাওয়া যায়। উপরোক্ত বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাগুলো দ্বারা কেবলই দুইফলকে বুঝায়। দুলফলগুলো হলো;

১.    হিন্দুদের বৈষ্ণব মনীষীদের মতে- ১.ব্রহ্মা ও ২.বিষ্ণু/ ১.কৃষ্ণ ও ২.রাম।
২.   বৌদ্ধ সহজিয়া মনীষীদের মতে- ১.ব্রহ্মা ও ২.বিষ্ণু/ ১.যবাগূ ও ২.মধু।
৩.   খ্রিস্টান ক্যাথলিক মনীষীদের মতে- ১. Lord ও ২. God৪.   মুসলমান বাউল মনীষীদের মতে- ১.(ﺍﻟﻠﻪ) আল্লাহ ও ২.(ﺮﺴﻮﻞ) রাসুল।
৫.   লালনপন্থী মনীষীদের মতে- ১.কালশশী ও ২.সাদাশশী।
৬.   শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে- ১.কাঁই ও সাঁই।

উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে; ‘প্রেমগাছ’ বলতে কেবল মানবদেহকে বুঝায়। আর  ‘প্রেমগাছ’ এর ফল বলতে ‘মানবজল’কে বুঝায়। ‘মানবজল’ হলো অমিরপীযূষ। এবার শক্ত করেই বলা যায় বিশ্বের অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক জনক, যাজক ও রূপকার মনীষীর মতে; প্রেমগাছের ফল দুটি। অন্যদিকে; কেবল মাণিকগঞ্জের কালুশাহর এই বাণীটির দ্বারা শ্বরবিজ্ঞানের বিশ্ববিখ্যাত দুইফলকে একফল বলা কতটুকু সমীচীন? আরও উল্লেখ্য যে; এদেশের অধিকাংশ পারম্পরিক মনীষী ‘প্রেমগাছ’ বলতে দেহকে বুঝালেও, ‘প্রেমগাছ’ এর ‘দুইফল’ বলতে রমণীদের স্ফীতাঙ্গকে (স্তন) বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। এটি; নিশ্চিত একটি লজ্জাস্কর বিষয়। এ লজ্জাস্কর বিষয়টি হতে বেরিয়ে আসা কিংবা বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই হয়তো দুইফলকে একফল বলে পাঠক-শ্রোতার দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যদিকে; সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এ গানটির মাধ্যমে। কথা হলো প্রেমগাছের দুইফলরূপ কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology) এর ভুল ব্যাখ্যা হতে সৃষ্টি হয়েছে লজ্জাস্করতা। এ লজ্জাস্করতা দূর করার জন্য দুইফল কেটে একফল করা হলো। আত্মদর্শনে এর কোনো বাস্তবতা নেই। অর্থাৎ; মনগড়া ও অপব্যাখ্যার দ্বারা লজ্জাস্কর এক ভুলের সৃষ্টি করা হলো। উক্ত লজ্জাস্করতা দূর করার জন্য আরেক ভুলের জন্ম দেওয়া হলো। অর্থাৎ; ভুল দ্বারা ভুলের সৃষ্টি করা হলো। এবার প্রশ্ন হতে পারে শ্বরবিজ্ঞানে প্রেমগাছের দুইফল কাল্পনিকতত্ত্ব (Mythology) এর আত্মতত্ত্ব (Theology) বলতে মরমী মনীষীগণ ‘কাঁই’ ও ‘সাঁই’কে বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন প্রেমগাছের একফল বলা হলো তখন এর Mythological ব্যাখ্যাইবা কী হবে এবং Theological ব্যাখ্যাইবা কী হবে? প্রেমগাছের একফল কী? এর উত্তরে- কেউ বলবেন ‘প্রেম’, কেউ বলবেন ‘বিশ্বাস’, কেউ বলবেন ‘ভক্তি’, কেউ বলবেন ‘গুরুর-জ্ঞান’, কেউ বলবেন ‘নারী’, কেউ বলবেন ‘স্ত্রী’ এই তো। এবার বলুন- “ঐ ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্যে খাইলে অমর হয় সে সংসারে।”- এর অর্থ কী হবে? যদি প্রেমগাছের ফল এগুলোই হয়, তবে এগুলো খায় কিভাবে এবং অমর হয় কিভাবে?

আত্মদর্শন (Theology)
সমাধান হলো প্রেমগাছ এর ফল একটি নয় বরং দুটি। আর তা হলো ‘কাঁই’ ও ‘সাঁই’। এখানে; পীযূষ এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা হলো ‘কাঁই’ এবং সুধার বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা হলো ‘সাঁই’। এবার প্রশ্ন হলো রসদ্বয় পবিত্র মানবজল নাকি বর্জ্যজল? আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; পরীক্ষার জন্য এ রসদ্বয় আগে গুরুর নিকট প্রেরণ করতে হয়। দয়াময় গুরু এ রসদ্বয় স্বয়ং পরীক্ষা করে যদি সঠিক বলেন তবে অবশ্যই তা পবিত্র। এখন রসদ্বয় নিয়মিত পান করতে থাকলে তার আর সন্তানরূপ পুনর্জন্ম হয় না। এখানে; রসদ্বয় গুরুর নিকট পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করাকে বলা হয়েছে; ‘গুরুকে দেওয়া’। এবং সন্তান গ্রহণ না করাকে বলা হয়েছে ‘অমর হওয়া’। এছাড়াও; শ্বরবিজ্ঞানে; ‘অটল’ বা ‘ঊর্ধ্বরেতা’ হওয়াকেও ‘অমর হওয়া’ বলা হয়। এমন অবস্থা হতেই বলা হয়েছে- “ঐ ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্যে খাইলে অমর হয় সে সংসারে।”

এবার আমরা শক্ত করে বলতে পারি প্রেমগাছ এর ফল একটি নয় বরং দুটি। কারণ; এটি; কেবল মুখের কথা নয় বরং ওপরে অনেক মহাগ্রন্থ হতে দুইফলের সমর্থনে অনেক উদ্ধৃতিও তুলে ধরা হয়েছে। কেবল দুয়েকজন গীতিকারের ভুল ব্যাখ্যা বা ভুল সিদ্ধান্তের দ্বারা এতবড় একটি সত্য ও বাস্তব বিষয়কে কোনমতেই জলাঞ্জলি দেওয়া যায় না। পদদলিত করা যায় না আত্মদর্শনের বা শ্বরবিজ্ঞানের চিরন্তন সূত্রগুলোকে। বিশ্বের সর্ব ঘরানার আত্মজ্ঞানীগণের অভিমত হলো প্রেমগাছের ফল দুটি। এটি; কোনো ক্রমেই একটি বলে মেনে নেওয়া যায় না।

কালুশাহ ফকিরের গানটি হচ্ছে

নিরীক্ষ বান্ধরে দুই নয়নে ভুইলনা মন তাহারে
ঐ নাম ভুল করিলে যাবিরে মারা
পড়বিরে বিষম ফেরে।।

আগে আপনকে চেন, পরে গুরুকে মান
দেহ পাশ করে আন, ওরে সেই মহলের নকল গুরু
দেবেন তোমায় দয়া করে।।

প্রেমের গাছে দুটি ফল, (একটি ফল ছিল) রসে করে টলমল
কত ভ্রমর হয় পাগল, সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্য খাইলে
অমর হয় সে সংসারে।।

প্রেমের হাটে গেলা না, প্রেমের সদাই কিনলানা
প্রেমের মানুষ চিনলানা, ওরে সেই মানুষের লাইগারে মানুষ
জঙ্গলে বসত করে।।

ফকির কালুশাহ তাই কয়, মনরে বলি যে তোমায়
এই প্রেম সামান্যেতে নয়, এই প্রেমের লাইগারে মানুষ
ঘুরে জনমভরে।।” (কালুশাহ ফকির)

নিরীক্ষের পরিচয় (Identity of observation)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর মনোযোগ পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। কোনকিছুর প্রতি একনিবিষ্টতা গ্রহণ করাকে নিরীক্ষ বলা হয়। গভীর একাগ্রতা বা গভীর মনোযোগ ব্যতীত কোনো কাজই সম্পাদন করা যায় না। যে কোনো কাজে নিযুক্ত হয়ে সে কাজের প্রতি একান্ত মনোযোগী না হলে সে কাজের ফলাফল ভালো হয় না। তারপর; শ্বরবিজ্ঞানে নিরীক্ষ পরিভাষাটি কেবল রতীনিয়ন্ত্রণ বা ঊর্ধ্বগমন ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যবহার হতে দেখা যায় না। কাম-সাধনে শুক্র বা রতীনিয়ন্ত্রণ একেতো অত্যন্ত কঠিন কাজ, তদুপরি যদি অন্য-মনোস্কতা থাকে তাহলে  শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা কোনমতেই সম্ভব নয়। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে নিরীক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন; কবি কালুশাহ লিখেছেন; “নিরীক্ষ বান্ধরে দুই নয়নে, ভুইল না মন তাহারে, নিরীক্ষ ভুল করিলে যাবিরে মারা, পড়বিরে বিষম ফেরে।”

বর্তমানে অনেক ভূঁইফোঁড় গুরু-গোঁসাই ও অনেক স্বয়ংসিদ্ধ পির-মাশায়েখ বের হয়েছে। তাদের নিকট অনেক লোক বাদুড়ের মতো দলেদলে গুরুদীক্ষাও নিচ্ছেন। এসব গুরু-গোঁসাই ও পির-মাশায়েখরা নিরীক্ষ বলতে কেবল গুরুদেবের মুখমণ্ডলের ছবি ধ্যান করা বলে ব্যাখ্যা করে থাকে। আর এজন্য; তারা তাদের একটি বড় ছবি শিষ্যদের ঘরে ঘরে প্রেরণ করে থাকে। গণ্ডমূর্খ গুরু-গোঁসাইরা ছবি দেওয়ার সময় শিষ্যদের বলে যে; “তোমরা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় আমার এ ছবিটি ধ্যান করবে। এটাই তোমাদের জন্য একমাত্র নিরীক্ষ। এ নিরীক্ষ সর্বদা সাথে রাখলে তোমাদের কোনো বিপদাপদ হবে না। তাছাড়া নিয়মিত এ ছবিটি ধ্যান করলে মৃত্যুর সময় এ ছবিটি সামনে পাবে। তারপর; কঠিন বিচারের দিনে আমিই তোমাদের পার করব ইত্যাদি।” তাদের এসব মনগড়া ব্যাখ্যা, সারাবিশ্বের বৃহত্তম পারম্পরিক জনগোষ্ঠীর পরম্পরা-জ্ঞান পিপাসুদের জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাগুলোর মনগড়া এসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হতেই বর্তমান বিশ্বে এত উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হচ্ছে।

‘নিরীক্ষ’ ব্যাপক অর্থ বহনকারী একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। কামের ৮টি অঙ্গ, ৫টি বাণ এবং কামকৌশল সমন্বিত রূপকেই একত্রে নিরীক্ষ বলা হয়। এককথায় মৈথুনে শুক্র নিয়ন্ত্রণের সনাতনী পদ্ধতিকেই নিরীক্ষ বলা হয়। নিরীক্ষের প্রকৃত স্বরূপ হলো; ১. অষ্টাঙ্গ ২. পঞ্চবাণ ও ৩. কামকৌশল। এ তিনটি একাসনে এক সঙ্গে প্রয়োগ করলেই প্রকৃত নিরীক্ষ অর্জিত হয়।

. অষ্টাঙ্গ (Eight limbs)
১. হাত ২. পা ৩. নয়ন ৪. নাসিকা ৫. মন ৬. জ্ঞান ৭. শিশ্ন ও ৮. যোনি।

. পঞ্চবাণ (Pentadart)
১. মোহন ২. মাদন ৩. তাপন ৪. শোষণ ও ৫. স্তম্ভন।

. কাম-কৌশল (Copulation strategy)
প্রকৃত নিরীক্ষ অর্জন করতে হলে সাধককে প্রথমে একজন পাকা আত্মজ্ঞানী গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করতে হয়। তারপর; গুরুদেবের নিকট হতে শুক্র নিয়ন্ত্রণের জ্ঞান ও কৌশল আয়ত্ত করতে হয়। তারপর; মৈথুনে ঊর্ধ্বরেতা হওয়ার জন্য মন স্থির করতে হয়। তারপর; পঞ্চবাণ ও অষ্টাঙ্গের সাহায্যে নিয়মিত শুক্র নিয়ন্ত্রণ প্রশিক্ষণ আরম্ভ করতে হয়। এরূপে সাধন করতে থাকলে প্রায় ৬ মাসের মধ্যে সনাতনী পদ্ধতিতেই শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; শুক্র নিয়ন্ত্রণের পুরো প্রক্রিয়াকেই নিরীক্ষ বলা হয়। কিন্তু ভাবতেও অবাক লাগে যে; এদেশের পারম্পরিক গুরু-গোঁসাইরা নিরীক্ষকে বর্তমানে কত ঠুনকো অর্থে ব্যবহার করছেন? নিরীক্ষ ঠিক করার জন্য- কোনো পির শিষ্যদের দিয়েছেন- গুরুর মুখমণ্ডল ধ্যান করার জন্য, কোনো গুরু শিষ্যদের দিয়েছেন- গুরুর ছবি নিজঘরে প্রত্যাহ ধ্যান করার জন্য, কোনো গোঁসাই শিষ্যদের দিয়েছেন- সর্বদা গুরুর মুখমণ্ডল স্মরণ রাখার জন্য, আবার কোনো নামধারী সাধু শিষ্যদের দিয়েছেন- ঘরে আসন করে গুরুর ছবি প্রত্যহ সন্ধ্যায় ধ্যান করার জন্য। কোথায় নিরীক্ষের তাৎপর্য ও গুরুত্ব! আর ব্যবহার হচ্ছে কিভাবে? বিষয়টি পাঠককুলের বিচারের ওপর ছেড়ে দিলাম।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!