পরম্পরা

৫১/১. পরম্পরা
Sequence (সিকুয়েন্স)/ ‘ﺴﻟﺴﻟﺔ’ (সিলসিলা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা প্রকৃতপথ। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা পারম্পরিক মতবাদ। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা কুলক্রম এবং এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কুলুজি

অভিধা (Appellation)
পরম্পরা (বাপৌরূ)বি আনুপূর্ব, যথাক্রম, ক্রমান্বয়, অনুক্রম, ধারা, Sequence, ‘ﺴﻟﺴﻟﺔ’ (সিলসিলা) (প্র) আদিকাল হতে গুরু-শিষ্যের মাধ্যমে চলে আসা আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিশেষ (শ্ববি) ১. পরম্পরায়, পরম্পরাগত ২. ভেদবিদ্যা, ভেদবিধান (আসং) সফ্ফ (.ﺼَﻑٌّ), কুরসিনামা (.ﻜﺭﺴﻰ ﻨﺎﻤﻪ), সিনাবসিনা (ফা.ﺴﻴﻨﻪ ﺒﻪ ﺴﻴﻨﻪ), ত্বরিক্বা (.طريقة), শাজরা (.ﺸﺠﺭﻩ) (ইসং) series, tradition (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর প্রকৃতপথ পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; পরস্পর সম্পৃক্ততা লব্দ বিষয়বস্তুকে বাংলায় পরম্পরা বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, গুরু-শিষ্যের ক্রম সম্পৃক্ততা লব্ধ জ্ঞানকে রূপকার্থে ‘পরম্পরা বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, দাদা গুরু, গুরু, শিষ্য ও প্রশিষ্য প্রমুখের ক্রম সম্পৃক্ততা লব্ধ জ্ঞানকে রূপকার্থে ‘পরম্পরা বলা হয় (বাপৌচা) কুলুজি (বাপৌউ) কুলক্রম (বাপৌরূ) পরম্পরা (বাপৌমূ) প্রকৃতপথ {বাং. পর + বাং. পর}

পরম্পরার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of sequence)
১.   “ও ভাণ্ডে আছে কত মধু ভরা, পরম্পরার খান্দানে মিশ গা তোরা।” (পবিত্র লালন- ২৫২/১)
২.   “পরম্পরার খান্দানে মিশলে, আয়নার পৃষ্ঠে লাগবে পারা, সেদিন জ্বলে উঠবে নূর তাজাল্লি, অধর-মানুষ যাবে গো ধরা।” (পবিত্র লালন- ২৫২/২)
৩.   “রাসুল রাসুল বলে সবাই, কেমন রাসুল থাকে কোথায়, পরম্পরায় রাসুল নাম হয়, আরবদেশে আরবিতে।” (পবিত্র লালন- ৯৯৫/২)
৪.   “লা মুক্বামে আছে বারি, পরম্পরায় জানতে পারি, জাহির নয় সে রয় গভীরি, জিহ্বাতে কে সে নাম করে।” (পবিত্র লালন- ৩৮৮/২)

পরম্পরার সংজ্ঞা (Definition of sequence)
সাধারণত; গুরু-শিষ্যের ক্রম সম্পৃক্ততা লব্ধ জ্ঞানকে পরম্পরা বলে।

পরম্পরার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of sequence)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; দাদাগুরু গুরু শিষ্য ও প্রশিষ্য প্রমুখের ক্রম সম্পৃক্ততা লব্ধ জ্ঞানকে পরম্পরা বলে।

পরম্পরার প্রকারভেদ (Variations of sequence)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে পরম্পরা দুই প্রকার। যথা; ১. শুক্র পরম্পরা ২. জ্ঞান পরম্পরা।

. শুক্র পরম্পরা (Semen sequence)
তালুই, দাদা, পিতা, পুত্র ও প্রপুত্র জন্মের এমন ক্রম সম্পৃক্ততাকে শুক্র পরম্পরা বলে।

. জ্ঞান পরম্পরা (Wisdom sequence)
দাদাগুরু, গুরু, শিষ্য ও প্রশিষ্য জ্ঞানের এমন ক্রম সম্পৃক্ততাকে জ্ঞান পরম্পরা বলে।

পরম্পরার উপকার (Benefits of sequence)
১.    শুক্র পরম্পরা দ্বারা জীবের বংশ বা গোত্র নির্ণয় করা যায়।
২.   জ্ঞানের পরম্পরা দ্বারা কোনো প্রবীণ মনীষীর দর্শন নির্ণয় করা যায়।

পরম্পরার পরিচয় (Identity of sequence)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর প্রকৃতপথ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। কেবল একান্তভাবে গুরু-শিষ্যের মাধ্যমে বিস্তারলাভকারী জ্ঞানকে পরম্পরা বলা হয়। স্থূলদৃষ্টিতে যদিও পরম্পরা দুই প্রকার কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; জ্ঞান পরম্পরাকেই প্রকৃত পরম্পরা বলে গণ্য করা হয়। অতি প্রাচীনকাল হতে জ্ঞানের এ পরম্পরা পদ্ধতি লক্ষ্য করা যায়। যখন কোনো মনীষী গুরুত্বপূর্ণ কোনো দর্শন প্রকাশ করেন, তখন উক্ত মনীষীর নিকট একদল শিষ্যত্ব গ্রহণ করে জ্ঞানার্জন করেন এবং তাদের নিকট পরবর্তীকালে আরেকদল শিষ্যত্ব গ্রহণ করে জ্ঞানার্জন করে থাকেন। এভাবে দর্শন প্রকাশকারী স্বয়ং মনীষী হতে ক্রমনিম্ন জ্ঞানার্জন সম্পৃক্ততাই হলো পরম্পরা। আত্মদর্শনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে; একদিকে যেমন; মনগড়া ব্যাখ্যায় এর কলেবর ভরে ওঠে। অন্যদিকে; তেমনই; সাম্প্রদায়িক অন্ধবিশ্বাস পারম্পরিকদের ঘাড়ের মোটাশিরাটি চেপে ধরে। পারম্পরিকদের নীতিমালাহীন বিদ্যাব্যবস্থা ও মনগড়া ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের কারণে সহজে কোনো জ্ঞানীগুণী ও সুবিজ্ঞজন এ বিদ্যাটি গ্রহণ করতে চান না। দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞানীগুণী ও সুবিজ্ঞজনের পদচারণা না থাকার কারণে এ আত্মদর্শন সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞদের নৈরাজ্যে পরিণত হয়। অজ্ঞদের রাজ্য ও রাজত্ব হওয়ার কারণে যার যার মন মতো করে পরম্পরা সৃষ্টি করার অবাধ সুযোগ থাকে। এ সুযোগ গ্রহণ করে অনেকেই অজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও নিজের মন মতো করে পরম্পরা নির্মাণ করে তা প্রচার করা আরম্ভ করেন। এভাবে বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় কয়েক লাখ মনগড়া পরম্পরা মতবাদ আবিষ্কার হয়েছে। বলতে গেলে মনগড়া পরম্পরা মতবাদে আজ সারাবিশ্ব ভরে গেছে। আগাছার মতো গড়ে ওঠা এসব অন্তঃসারশূন্য পরম্পরা মতবাদের সাধনগুলো আবার আরও হাস্যকর। কেউ সমাধিযাপন, কেউবা জলসাধন, কেউবা রজ সেবন ও কেউবা মূত্র সেবন আবিষ্কার করেছেন। পরম্পরার অধিক উত্তম আবিষ্কার হলো সমবেতভাবে বসে যার যার উপাস্যের নামজপনা। অজ্ঞ ও অশিক্ষিতদের নির্মিত এসব মনগড়া পরম্পরার সর্বপ্রকার অপসংস্কৃতি অপনোদন করতে শতাব্দীতে শতাব্দীতে বড় বড় মহামনীষীর আবির্ভাবও হয়। বিশ্ববিখ্যাত সুমহান একজন রূপকার এসে সব আগাছা ও পরগাছা পরিষ্কার করে আবার এ বিদ্যাকে সম্পূর্ণ কলুষমুক্ত করেন কিন্তু তাঁর তিরোধানের পর আবার এ বিভাগটি আগাছা ও পরগাছায় ভরে ওঠে। এভাবেই নানা উত্থান ও পতনের মধ্যে দিয়ে এ আত্মদর্শন কালাতিপাত করে আসছে। আলোচ্য বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার বাঙালী পৌরাণিক রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষার আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে।

পরম্পরা নিয়ে কোনো আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসে তাসাউফ (ﺗﺼﻮﻑ)। এটি; মুসলমান সাধক সম্প্রদায়ের আবিষ্কৃত মতবাদ নামে পরিচিত। নিচে তাসাউফের সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো।

তাসাউফের সংজ্ঞা (Definition of mysticism)
সাধারণত; গুরু ও শিষ্যের মাধ্যমে আশ্রমভিত্তিক পরৎপর রূপে প্রচারিত আত্মশুদ্ধিকারী দিব্যজ্ঞানকে তাসাউফ (পরম্পরা) বলে।

সফ্ফ [ﺼَﻑٌّ] (আপৌছ)বি পরম্পরা, পংক্তি, শ্রেণি, সারি, পাটি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলো, সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত বস্তু বা দ্রব্যাদি {}

তাসাউফ [ﺘﺻﻮﻑ] (আপৌছ)ক্রি পরম্পরা গ্রহণ করা, পরম্পরা ধারণ করা (প্রাঅ) আনুপূর্ব, যথাক্রম, অনুক্রম, ধারা (শ্ববি) পরম্পরা, সরস্বরা, সৈস্বরা, পরম্পরায়, পরম্পরাগত (রূপ্রশ) ভেদ-বিদ্যা, ভেদ-জ্ঞান, পরাজ্ঞান, পরাবিদ্যা, মরমীবাদ, তত্ত্বভেদ, আদিতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব, আধ্যাত্মিক পথ, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের স্তর, সাঁইতত্ত্ব ও কাঁইতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞান, মরমীগণের আচরিত দেহতাত্ত্বিক মতবাদ, রিপু রুদ্রগুলো হতে আত্মশুদ্ধি করার জ্ঞান, আদিকাল হতে যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান; গুরু ও শিষ্যের মাধ্যমে চলে আসছে (প্র) পূর্ণাঙ্গ ইসলামের- আক্বাইদ (عقائدة), ফিক্বাহ (ﻔﻗﻪ)  ও তাসাউফ (ﺘﺻﻮﻑ)- এ ধারার একটি {.সফ্ফুন. ﺼﻑ>}

অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা, অধরকে ধরা ও মানবের প্রকৃত উপাস্য সাঁইয়ের সাথে দর্শনলাভ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। শুধু নামজপনা বা অভিনিবেশ দ্বারা কখনই সাঁইরূপ প্রভুর দর্শনলাভ করা সম্ভব নয়। প্রভুরূপ সাঁইয়ের দর্শনলাভের জন্য আগে আত্মশুদ্ধি করতে হয়। আত্মশুদ্ধির পর পারম্পরিক অটল সাধন দ্বারা সাঁইদর্শন বা কাঁইদর্শনলাভ করতে হয়। আলোচ্য পরম্পরা পরিভাষাটির আরবি অনুবাদ তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ)। বাংলা পরম্পরা পরিভাষাটির চেয়ে আরবি তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির সাথে সর্ব শ্রেণির মানুষ অধিক পরিচিত। এজন্য; সর্বাগ্রে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির সাথে পরিচয়লাভ করা প্রয়োজন। শেষের দিকে আমরা পরম্পরা সম্পর্কে আলোচনা করার আশা রাখি।

তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির উৎপত্তি (The derivation of the mysticism terminology)
তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি আরবি সফ্ফ (ﺼﻑ) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। সফ্ফ (ﺼﻑ) পরিভাষাটির অর্থ; পরম্পরা, পংক্তি, শ্রেণি, সারি, পাটি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলো সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত বস্তু বা দ্রব্যাদি।

Philosophy বা দর্শনের সাথে তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) সম্পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে। ইংরেজি Philosoph পরিভাষাটি গ্রিক Philos & Sophia পরিভাষা দুটি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। Philos পরিভাষা অর্থ; অনুরাগ এবং Sophia পরিভাষা অর্থ; প্রজ্ঞা। যারফলে; Philosophy বলতে প্রজ্ঞানুরাগ বুঝায়। বাংলা দর্শন পরিভাষাটি সংস্কৃত শব্দ হতে উৎপত্তি হয়েছে। যার পারিভাষিক অর্থ হলো; কোনকিছুর সত্তা বা তত্ত্বদর্শন। কাজেই দেখা যাচ্ছে- আলোচনার বিষয়বস্তুর দিক থেকে Philosophy ও দর্শন পরিভাষাদ্বয়ের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) আলোচনার বিষয়বস্তুও একই। আমরা মনে করি তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি গ্রিক Sophia পরিভাষা থেকে এসেছে। সব মহাকাব্যেই তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) মূল বিষয়বস্তু রূপকার্থে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। পারস্যিক মনীষীগণ তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) বিষয়বস্তুকে তখন ত্বরিক্বত (طريقة), মারিফত (ﻤﻌﺮﻔﺔ) ও হাক্বিক্বত (ﺤﻗﻴﻗﺖ) ইত্যাদি পরিভাষা দ্বারা প্রকাশ করে থাকেন। ইসলামী পুরাণ অনুসারে; কুরানে বর্ণিত মুহাম্মদের প্রয়াণলাভের প্রায় দেড়শত বছর পর হতে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি ব্যবহার আরম্ভ হয় বলে অধিকাংশ গবেষকের ধারণা। কাজেই গ্রিক Sophia পরিভাষা থেকে তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) উৎপত্তি হওয়া অনেক যুক্তিযুক্ত এবং পারিভাষিক অর্থে Sophia ও তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) সামার্থবোধক (বিরুনী৫১, পৃ: ৪০)

উপরোক্ত মতবাদটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও মনগড়া। পরিভাষা সম্পর্কে জ্ঞানহীন অজ্ঞ ও মূর্খরাই এমন মত ব্যক্ত করতে পারেন। কারণ; গ্রিক সফিয়া (Sophia) পরিভাষাটি তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) শব্দে পরিণত হওয়ার কোনো নিয়ম গ্রিক ভাষায় আছে বলে জানা নেই। তবে; এতটুকু বলা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার পরিভাষাগুলোর পরিবর্তন হয় শব্দের শেষে। তবে; শব্দের পূর্বে সংখ্যাবাচক (Tri) কিংবা না বোধক ((Im, Un) ইত্যাদি বসে থাকে। যেমন; Triangle, Immortal, Unknown ইত্যাদি। Tri, Im এবং Un এসব পরিভাষা অন্যান্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন পরিভাষা সৃষ্টি করে এবং মূলশব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়। তবে; ইংরেজি ফি (Phi) পরিভাষাটি হতে শতশত ইংরেজি পরিভাষা উৎপত্তি হলেও শব্দের প্রথমের ফি (Phi)- এর কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভবনা নেই। “ফি (Phi)” অংশটি সব সময় অবিকল রেখেই পরিভাষাগুলো সৃষ্টি হতে থাকবে। নিচে উদাহরণ দেওয়া হলো।

Phial [ফিয়াল] n. শিশি, মুখ সরু ক্ষুদ্র পাত্র {}
Philander [ফিলেণ্ডার] v.t. প্রেমালাপ করা, প্রেমের অভিনয় করা  {}
Philanthropic [ফিলেনথ্রোপিক] a. বিশ্বপ্রেমিক, মানবপ্রেমিক, মানবহিতৈষী {}
Philanthropist [ফিলেনথ্রোপিস্ট] n. জগদ্বন্ধু, জগদীশ্বর, বিশ্বপ্রেমিক, মানবপ্রেমিক, মানবমিত্র {}
Philanthrophy [ফিলেনথ্রোপি] n. বিশ্বপ্রেম, বিশ্বপ্রীতি, জগৎময় ভালোবাসা {}
Philately [ফিলেটেলি] n. ডাকটিকিট সংগ্রহ {}
Philippic [ফিলিপিক] n. তীব্র নিন্দাসূচক বক্তব্য, যে কোনো কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য (প্র) ম্যাসিডনের রাজা ফিলিপের বিরুদ্ধে ডিমস্থেনিসের বক্তৃতগুলো {}
Philistine [ফিলিস্টাইন] n. সুশিক্ষাহীন লোক, অসভ্য লোক (প্র) দক্ষিণ প্যালেস্টাই নিবাসী ইহুদীদের প্রাচীন শত্রু {}
Philogyny [ফিলজিনি] n. স্ত্রী জাতির প্রতি গভীর অনুরাগ {}
Philogynous [ফিলজিনাস] a. স্ত্রী জাতির প্রতি অনুরাগীতা {}
Philogynist [ফিলজিনিস্ট] n. স্ত্রী জাতির প্রতি গভীর অনুরাগী {}
Philologist [ফিলোলজিস্ট] n. ভাষাতত্ত্ববিদ {}
Philology [ফিলোলজি] n. ভাষাতত্ত্ব {}
Philologic [ফিলোলজিক] a. ভাষাতত্ত্ববিদ {}
Philological [ফিলোলজিক্যাল] a. ভাষাতত্ত্ববিদ {}
Philologically [ফিলোলজিক্যালি] ad. ভাষাতত্ত্ব সম্বন্ধীয় {}
Philolomel [ফিলোলোমিল] n. বুলবুলজাতীয় পাখি {}
Philosopher [ফিলোসোফার] n. দার্শনিক, দর্শনশাস্ত্রবিদ {}
Philosophic [ফিলোসোফিক] a. দর্শন সম্বন্ধীয় {}
Philosophically [ফিলোসোফিক্যালি] ad. দার্শনিক ব্যাপার স্যাপার {}
Philosophize [ফিলোসোফিজ] v.t.t. দার্শনিকের ন্যায় আচরণ করা, বিচার করা, বস্তুর প্রকৃতি অনুসন্ধান করা {}
Philosophise [ফিলোসোফিজ] v.t.t. দার্শনিকের ন্যায় আচরণ করা, বিচার করা, বস্তুর প্রকৃতি অনুসন্ধান করা {}
Philosophy [ফিলোসোফি] n. দর্শন, দর্শনশাস্ত্র, দর্শন সাম্প্রদায়িক জ্ঞান {}
Philter [ফিল্টার] n. কামোদ্দীপনা বর্ধক ঔষধ, চন্দ্রচেতনা বৃদ্ধিকারী ঔষধ {}
Philtre [ফিল্টার)] n. কামোদ্দীপনা বর্ধক ঔষধ, চন্দ্রচেতনা বৃদ্ধিকারী ঔষধ {}ফি (Phi) শব্দাংশের কোনো পরিবর্তন পাওয়া যায় নি। এজন্য; বলা যায় এমন ভ্রান্ত মতবাদ শুধু পাঠককেই বিভ্রান্ত করে না, বিভ্রান্ত করে গোটা জাতিকে। এমন জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা হতে মারামারি ও হানাহানির সৃষ্টি হয়। এমন মনগড়া মতবাদ ব্যক্ত করা হতে আত্মরক্ষা করা সবারই একান্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে; আরবি সফ্ফ (ﺼﻑ) পরিভাষাটি হতে, তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি উৎপত্তি হওয়ার নির্দিষ্ট অধ্যায় (বাব.ﺒﺎﺐ) রয়েছে এবং যথেষ্ট প্রমাণো রয়েছে। উল্লেখ্য যে; ৪৭টি অধ্যায় (বাব.ﺒﺎﺐ) হতে আরবি পরিভাষাগুলোর উদ্ভব হয়। অধ্যায়গুলো হলো;

সুলাসি (ﺜﻼﺜﻰ) ৩৯ বাব (ﺒﺎﺐ) এবং রুবায়িবাব (ﺒﺎﺐ)।

১. ইনফিয়াল (ﺍِﻨْﻔِﻌَﺎﻝٌ)
২. ইফইউয়াল (ﺍِﻔْﻌِﻮَّﺍﻝٌ)
৩. ইফইনলাউ (ﺍِﻔْﻌِﻨْﻼَﺀٌ)
৪. ইফইনলাল (ﺍِﻔْﻌِﻨْﻼَﻝٌ)
৫. ইফইনলালা (ﺍِﻔْﻌِﻨْﻼَﻝٌ)
৬. ইফতিয়াল (ﺍِﻔْﺗِﻌَﺎﻝُ)
৭. ইফয়াল (ﺍِﻔْﻌَﺎﻝٌ)
৮. ইফয়িয়াল (ﺍِﻔْﻌِﻴْﻌَﺎﻝٌ)
৯. ইফয়িলাল (ﺍِﻔْﻌِﻴْﻼَﻝٌ)
১০. ইফয়িলাল (ﺍِﻔْﻌِﻼَﻝٌ)
১১. ইফয়িলালু (ﺍِﻔْﻌِﻴْﻼَﻝٌ)
১২. ইফ্ফাউল (ﺍِﻔَّﺎﻋُﻝٌ)
১৩. ইফ্ফাওউল (ﺍِﻔَّﻌُّﻝٌ)
১৪. ইস্তিফয়াল (ﺍِﺴْﺗِﻔْﻌَﺎﻝٌ)
১৫. কাদা ইয়াকাদু (ﻜَﺎﺪَ ﻴَﻜَﺎﺪُ)
১৬. কারুমা ইয়াকরুমু (ﻜَﺮُﻡَ ﻴَﻜَﺮُﻡُ)
১৭. ছামিয়া ইয়াসমায়ু (ﺴَﻤِﻊَ ﻴَﺴْﻤَﻊُ)
১৮. তাফয়িল (ﺗَﻔْﻌِﻴْﻝٌ)
১৯. তাফাইউল (ﺗَﻔَﻴْﻌُﻝٌ)
২০. তাফাউল (ﺗَﻔَﺎﻋُﻝٌ)
২১. তাফাউল (ﺗَﻔَﻌْﻮُﻝٌ)
২২. তাফাউল (ﺗَﻔَﻌُّﻝٌ)
২৩. তাফাওউল (ﺗَﻔَﻮْﻋُﻝٌ)
২৪. তাফা’নুল (ﺗَﻔَﻌْﻨُﻝٌ)
২৫. তাফালুত (ﺗَﻔَﻌْﻟُﺔٌ)
২৬. তাফালিন (ﺗَﻔَﻌْﻝٍ)
২৭. তাফা’লুল (ﺗَﻔَﻌْﻟُﻝٌ)
২৮. তাফালুল (ﺗَﻔَﻌْﻟُﻝٌ)
২৯. তামাফউল (ﺗَﻤَﻔْﻌُﻝٌ)
৩০. দরাবা ইয়ারিবু (ﺿَﺮَﺐَ ﻴَﺿْﺮِﺐُ)
৩১. নাসারা ইয়ানসুরু (ﻨَﺼَﺮَ ﻴَﻨْﺼُﺮُ)
৩২. ফাইইয়ালা (ﻔَﻌْﻴَﻟَﺔُ)
৩৩. ফাইয়ালা (ﻔَﻴْﻌَﻟَﺔٌ)
৩৪. ফাউয়ালা (ﻔَﻮْﻋَﻟَﺔٌ)
৩৫. ফা’ওয়ালা (ﻔَﻌْﻮَﻟَﺔٌ)
৩৬. ফাতাহা ইয়াতাহু (ﻔَﺗَﺢَ ﻴَﻔْﺗَﺢُ)
৩৭. ফাদিলা ইয়াফদুলু (ﻔَﺿِﻝَ ﻴَﻔْﺿُﻝُ)
৩৮. ফা’নালা (ﻔَﻌْﻨَﻟَﺔٌ)
৩৯. ফা’লাত (ﻔَﻌْﻼَﺓٌ)
৪০. ফা’লালা (ﻔَﻌْﻟَﻟَﺔٌ)
৪১. ফা’লালা (ﻔَﻌْﻟَﻟَﺔٌ)
৪২. মুফায়ালা (ﻤُﻔَﺎﻋَﻟَﺔٌ)
৪৩. হাছিবা ইয়াহছিবু (ﺤَﺴِﺐَ ﻴَﺤْﺴِﺐُ)

তাফাউল (ﺗَﻔَﻌُّﻝٌ) বাব (ﺒﺎﺐ)টি হতে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি উৎপন্ন হয়েছে। এ বাব (ﺒﺎﺐ)টি হতে উৎপন্ন কয়েকটি পরিভাষা নিচে দেওয়া হলো।

আজল (ﻋﺠﻝ) হতে তায়াজ্জুল (ﺗَﻌَﺠُّﻝُ) অর্থ; তাড়াতাড়ি করা।
ক্ববল (ﻘﺒﻝ) হতে তাকাব্বুল (ﺗﻘﺒﻝ) অর্থ; গ্রহণ করা।
ফাকহু (ﻔﻜﻪ) হতে তাফাক্কুহ (ﺗَﻔَﻜُّﻪُ) অর্থ; ফল খাওয়া।
বাসম (ﺒﺴﻢ) হতে তাবাচ্ছুম (ﺗَﺒَﺴُّﻢُ) অর্থ; মুচকি হাসি দেওয়া।
লাবস (ﻟﺒﺚ) হতে তালাব্বুস (ﺗَﻟَﺒُّﺚُ) অর্থ; দেরি করা, বিলম্ব করা।
সফ্ফ (ﺼﻑ) হতে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) অর্থ; পরম্পরা ধরা, পরম্পরা গ্রহণ করা।

এ বাব (ﺒﺎﺐ) হতে যত পরিভাষা উৎপত্তি হয়, শব্দের প্রথমে যবরবিশিষ্ট তা (ﺖَ) এবং শেষ বর্ণের পূর্ববর্ণে তাশদিদ যুক্ত পেশ বসে। এ বাবের (ﺒﺎﺐ) বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আজল (ﻋﺠﻝ) পরিভাষাটির পূর্বে তা-(ﺖَ) বসে তায়াজ্জুল (ﺗَﻌَﺠُّﻝُ) হয়েছে। তেমনই; ক্ববল (ﻘﺒﻝ) হতে তাকাব্বুল (ﺗﻘﺒﻝ), ফাকহু (ﻔﻜﻪ) হতে তাফাক্কুহ (ﺗَﻔَﻜُّﻪُ), বাসম (ﺒﺴﻢ) হতে তাবাচ্ছুম (ﺗَﺒَﺴُّﻢُ) ও লাবস (ﻟﺒﺚ) হতে তালাব্বুস (ﺗَﻟَﺒُّﺚُ) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। তেমনই; সফ্ফ (ﺼﻑ) হতে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। অতঃপর; আবার তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হতে গিয়ে অর্থ পরিবর্তন করেছে। যারফলে; বর্তমান তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির হলো;

তাসাউফ [ﺘﺻﻮﻑ] (আপৌছ)ক্রি পরম্পরা গ্রহণ করা, পরম্পরা ধারণ করা (প্রাঅ) আনুপূর্ব, যথাক্রম, অনুক্রম, ধারা (শ্ববি). পরম্পরা, সরস্বরা, সৈস্বরা, পরম্পরায়, পরম্পরাগত. ভেদবিদ্যা, ভেদজ্ঞান, পরাজ্ঞান, পরাবিদ্যা, মরমীবাদ, তত্ত্বভেদ, আদিতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব, আধ্যাত্মিক পথ (প্র). আধ্যাত্মিক জ্ঞানের স্তর. সাঁইতত্ত্ব ও কাঁইতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞান. মরমীগণের আচরিত দেহতাত্ত্বিক মতবাদ. রিপু রুদ্রগুলো হতে আত্মশুদ্ধি করার জ্ঞান. আদিকাল হতে যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান; গুরু ও শিষ্যের মাধ্যমে চলে আসছে {.সফ্ফুন. ﺼﻑ>}

সফ্ফ [ﺼَﻑٌّ] (আপৌছ)বি পরম্পরা, পংক্তি, শ্রেণি, সারি, পাটি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলো, সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত বস্তু বা দ্রব্যাদি {}

কিন্তু আরবি-ফারসি অভিধান ‘লুগাতে সায়িদির’ মধ্যে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির পারিভাষিক অর্থ করা হয়েছে- “পরম্পরা সাধনায় ব্রত হওয়া, বাউল সাধনায় আত্ম নিয়োগ করা, আত্মোৎকর্ষ সাধনে ব্রত হওয়া, নৈতিক চরিত্রের উন্নতি সাধনে নিয়োজিত হওয়া, কাঁইয়ের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়া, কাঁইয়ের সন্তুষ্টি কল্পে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া, কাঁইয়ে সমাহিত হয়ে যাওয়া, কাঁইয়ের ধ্যানে ব্রত থাকা, কাঁইয়ের রঙে রঞ্জিত হওয়া, কাঁই স্বভাবে স্বভাবান্বিত হওয়া, ঐশিগুণে গুণান্বিত হওয়া, কাঁইয়ের সত্তায় বিলোপ হয়ে যাওয়া, প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে রতো হওয়া, পাশব প্রবৃত্তির তাড়না থেকে পূত-পবিত্র থাকা, কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকা এবং এসব কঠোর সাধনায় সফলতা লাভের পর, সৃষ্টি জগতের প্রত্যেক বস্তুতে মহান স্রষ্টার জ্যোতির্ময় সত্তা অবলোকন করা এবং সর্বশেষে মহিমান্বিত কাঁইয়ের দর্শনলাভ করা।”

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো- লুগাতে সায়িদির মধ্যে তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির যে অর্থাদি গ্রহণ করা হয়েছে, তা পরিভাষাটির প্রকৃত অর্থ নয়। সবই ভাবার্থ। তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির প্রকৃত অর্থ; পরম্পরা গ্রহণ করা, পরম্পরা ধারণ করা ও পরম্পরা মান্য করা। এ পরিভাষাটি- এ অর্থ ভিন্ন অন্য কোনো অর্থ বহন করে না।

গাজ্জালী বলেছেন যে; “তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) দুটি গুণের নাম– একটি স্রষ্টার সাথে সদ্ব্যবহার অটুট রাখা এবং অন্যটি সৃষ্টির সাথে সদ্ব্যবহার অটুট রাখা। যিনি স্রষ্টা ও সৃষ্টির সাথে সম-ভাবে সদ্ব্যবহার অটুট রাখতে পেরেছেন তিনি প্রকৃত পারম্পরিক সাধক।”

আমরা বলবো গাজ্জালীর এ উক্তিটি কঠিন ভ্রমাত্মক। তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির অর্থের ব্যাপারে এমন উক্তি একেবারে মনগড়া। পরিভাষা মূল অর্থের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এমন উক্তি বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে মনে হয়। কারণ; এটা তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটির কোনো অর্থ বা ভাবার্থ কোনটিই হতে পারে না। একবার হযরত আবুবকর শিবলী মনসুর হাল্লাজকে জিজ্ঞেস করলেন; “তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) কী”? উত্তরে হাল্লাজ বললেন; “তুমি আমাকে এখন যে অবস্থায় দেখছ তা অতি নগণ্য দরজার তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ)।” শিবলি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন; “তাহলে উত্তম তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) কী?” উত্তরে হাল্লাজ বললেন; “উত্তম তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) বুঝা বা তাতে প্রবেশ করা তোমার সাধ্যাতীত। কারণ; মানুষের ইন্দ্রিয় লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দ্বারা তা উপলব্ধি করা কখনও সম্ভব নয়। এর অবস্থান দেশ, কাল ও কল্পনার অতীত।”

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো- এসব অজ্ঞ ও মূর্খ লোকের প্রলাপ ভিন্ন কিছু নয়। এমন কথা এক অজ্ঞ অন্য অজ্ঞের নিকট বলে সারতে পারে। কিন্তু একজন জ্ঞানীর নিকট বলে সারতে পারে না। এমন অজ্ঞ সাধকরা তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) নামটি ভিন্ন, এর বিষয়বস্তু সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, লাভ, ক্ষতি, উপকার, অপকার, প্রতিকার ও মহামারি সম্পর্কে বিন্দু মাত্রও জানেন না। যদি জানতেন তবে পরিভাষাটির সংজ্ঞায় এমন ভ্রমাত্মক ও মনগড়া ব্যাখা প্রদান করতেন না। আবার কেউ কেউ এমন মন্তব্য করেছেন যে; “অতীন্দ্রিয় জগতে যেখানে ধ্যান-ধারণা অচল। উচ্চতম তাসাউফে (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পৌঁছতে হলে তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) জনক রাসুলের (সাঃ) নির্দেশ অনুযায়ী জাগতিক লোভ-লালসা-ভালোবাসা পরিহার করে কাঁইয়ের দর্শন লাভে ব্রতী হতে হবে।”

উপরোক্ত বক্তব্যগুলো পড়ার পর মনে হয় যে; তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) পরিভাষাটি দ্বারা মহাকাশের এমন কোনো জ্যোতিষ্ক বুঝায়- যেখানে যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোনো মানুষই যেন সেখানে যেতে পারবেন না। আধ্যাত্মিক জ্ঞানান্ধ কিছু কিছু গবেষকের এমন বক্তব্যের জন্যই আত্মশুদ্ধি বিদ্যা বা তাসাউফ বিদ্যার (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) এমন করুণ দশা, করুণ পরিণতি। আত্মশুদ্ধিবিদ্যা আরও সহজলভ্য করে পাঠককুলের হাতে দেওয়া তো পরের কথা বরং তাদের আরও ভয় ভীতি দেখিয়ে হতদ্যোম করে ছাড়েন তারা। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে; “মূলত তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয়। প্রকৃত অর্থে আমরা দর্শন বলতে যা বুঝি তা-ই তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ)। শুধু ব্যবধান হলো দর্শনশাস্ত্র আদিকাল থেকেই চলে আসছে। তবে; প্রায় দুই হাজার পাঁচশত বছর পূর্ব থেকে সূত্রাবদ্ধ হতে আরম্ভ করে বিভিন্ন সূত্র বা মতবাদে ব্যাখ্যায়িত হয়ে এঁকে বেঁকে চলে আসছে। অন্যদিকে; তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) সূচনা হয়েছে মাত্র হাজার বছর আগে। কুরান অবতরণের সাথে সাথে মুসলিম দার্শনিকরা সূত্রবদ্ধ করে এর উন্নতি সাধন করতে আরম্ভ করেছে।” (আহকামুল ইনছান)

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো, তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) এমন কী বিষয় যে; তার সঠিক সংজ্ঞা প্রদান করা যাবে না। পরিভাষাটির ব্যাপারে যাদের চরম দৈন্যতা রয়েছে, কেবল তারাই এমন কথা বলতে পারেন। এমন মন্তব্যকারী গবেষকগণ তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এজন্য; এমন মন্তব্য করতে পারেন। বিষয়টি জানা থাকলে তাঁরা কখনই এমন কথা বলতে পারতেন না।

এখন প্রশ্ন ওঠে দর্শন কী? সাদাসিধে ভাষায় বলতে গেলে, দর্শন হচ্ছে বিচার-বিশ্লেষণী চিন্তা ও যুক্তিসম্মত অনুসন্ধানের মাধ্যমে কোনকিছুর অখণ্ডরূপ বা সমগ্রকে জানার একটা প্রচেষ্টা। দর্শনের কাজ হলো বিশ্বজগতের সামঞ্জস্যপূর্ণ সামগ্রিক স্বরূপ উদঘাটন ও মূল্যবোধ ধারণ করা। তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) কাজও তাই। দর্শনের অধিক্ষেত্র। যেমন; বিশ্বতত্ত্ব (Cosmology), তত্ত্ববিদ্যা (Ontology), লগজ (logos), অধিবিদ্যা (Ontology), জ্ঞান-বিদ্যা (Epistenology), মনোদর্শন (Philosophy of mind), মূল্যবিদ্যা (Axiology) ইত্যাদি তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) অধিক্ষেত্র। মোটকথা বিশ্বজগত, দেশ ও কাল, জড় ও প্রাণ, সৃষ্টি ও বিবর্তন, অদ্বৈতবাদ, বস্তুবাদ ও ভাববাদ, প্রয়োগবাদ, অস্তিত্ববাদ, যৌক্তিক প্রত্যক্ষণবাদ, মন ও আত্মা, দেহ ও মনের সম্পর্ক, ইচ্ছার স্বাধীনতা, আত্মার অমরত্ব, জ্ঞান-প্রজ্ঞাবাদ, আধ্যাত্মবাদ, পরকালতত্ত্ব, অদৃষ্টবাদ ইত্যাদি নিয়ে তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) অধিক্ষেত্র নির্মিত হয়েছে। তবে; অন্যান্য দার্শনিকগণ যেভাবে এলোপাথাড়ি আলোচনায় প্রবৃত্ত হন, তাসাউফপন্থীগণ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) তেমন পারেন না।” (আহকামুল ইনছান)

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো; উপরোক্ত আলোচনার মধ্যে দর্শনের সংজ্ঞা সঠিকভাবে পাওয়া গেলেও, তাসাউফের (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) যেসব অধিক্ষেত্র উপস্থাপন করা হয়েছে- তা একেবারে মনগড়া ও বিভ্রান্তিমূলক। কারণ; তাসাউফ (ﺗَﺼَﻮُّﻑُ) বা আত্মদর্শন একমাত্র আত্মশুদ্ধি বা আত্মশুদ্ধি ভিন্ন আহামরি কিছু নয়। এ ব্যাপারে আমরা পরে বিস্তারিত আলোচনা করব বলে আশা রাখি।

সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি (The derivation of the mystic terminology)
সুফি [صوفي] (আপৌছ)বিণ পারম্পরিক, পরম্পরা গ্রহণকারী, গুরু শিষ্যের মধ্যে দিয়ে অতিক্রান্ত আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ধারক ও বাহক (প্রাঅ) সাধু, সন্ন্যাসী, যোগী, বিবাগী, বিরাগী, ক্ষ্যাপা, মরমী, সাধক (প্র) মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত আধ্যাত্মিক সাধক {.সফ্ফুন.ﺼﻑ>}
সফ্ফ [ﺼَﻑٌّ] (আপৌছ)বি পরম্পরা, পংক্তি, শ্রেণি, সারি, পাটি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলো, সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত বস্তু বা দ্রব্যাদি {}

সুফির সংজ্ঞা (The definition of the mystic)
তাসাউফ বা পরম্পরাজ্ঞানের ধারক বাহক সাধু মহৎগণকে সফিু বা পারম্পরিক বলে।

আলি ইবনে উসমান আল-হুজভিরি (মৃতঃ ৪৬৭ হিঃ/১০৮৪ খ্রিঃ), ইবনে খালদ (মৃতঃ ৪৭০হিঃ/ ১২১৭ খ্রিঃ), ইমাম ইবনে তাইমিয়া (মৃতঃ ৭২৮ হিঃ/ ১৩২৭ খ্রিঃ), আবদুল কাদের জিলানী (মৃতঃ ৫৬১ হিঃ/ ১১৬৫ খ্রিঃ), তাদের বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে; আরবি ‘সাউফ (ﺼﻮﻑ)’ পরিভাষা থেকে সুফি (ﺼﻮﻔﻰ) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। অধিকাংশ লেখক এ মত সমর্থন করেছেন। রোনাল্ড, নিকলসন, হুইন ফিল্ড, ব্রাউন, আরবারী, স্মিথ, ম্যাকডোনাল্ড প্রমুখ পাশ্চাত্য দার্শনিকগণও এ মতের সমর্থক।

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো- উপরোক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে ভুল। কারণ; আরবি ‘সাউফুন. (ﺼﻮﻑ)’ পরিভাষা হতে সুফি (ﺼﻮﻔﻰ) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয় নি বরং আরবি ‘সফ্ফুন. (ﺼﻑ)’ পরিভাষা হতে সুফি (ﺼﻮﻔﻰ) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে।

সফ্ফ [ﺼَﻑٌّ] (আপৌছ)বি পরম্পরা, পংক্তি, শ্রেণি, সারি, পাটি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলো, সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত বস্তু বা দ্রব্যাদি {}

সুফ [ﺼﻭﻑ] (আপৌছ)বি লোম, সূতা, ছাগলের লোম {}

সূতা, লোম বা দড়ির সাথে সাধকগণের কোনো সংস্রব নেই। সাধকগণের সংস্রব রয়েছে পরম্পরার সাথে। পরম্পরা যিনি গ্রহণ করেন তিনিই পারম্পরিক বা সুফি (صوفي)। এজন্য; বলা আরবি সফ্ফ (ﺼﻑ) হতেই, সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে।

“সাউফ অর্থ লোম এবং সুফি (صوفي) অর্থ হলো পশমি বসনধারী। পারম্পরিকগণ মোটা লোমের কাপড় পরিধান করতেন বলেই, তাদের সুফি (ﺼﻮﻔﻰ) বলা হতো। প্রকৃতপক্ষে পশমি বসনের সাথে পারম্পরিক দর্শনের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে; একথা ঠিক যে; জাগতিক ঐশ্বর্য ও ধন-সম্পদের প্রতি পারম্পরিকরা অনাসক্ত। তাই; তাঁরা নিতান্ত দারিদ্রের মাঝে জীবন যাপন করেন। আসহাবে সুফ্ফারা (ﺍﺼﺤﺎﺐ ﺼﻮﻔﺎ) নিতান্ত দারিদ্রের মধ্যে দিনাতিপাত করতো। সে কারণে কখনও হয়তো তারা মোটা পশমি কাপড় পরেছে বলেই তাদের থেকে মুসলিম দর্শনের প্রাণ-প্রবাহ বেরিয়ে এসেছে একথা বিশ্বাস করা যায় না” (আহকামুল ইনছান)

আসহাবেসুফ্ফা [ﺍﺼﺤﺎﺐ ﺼﻮﻔﺎ] (আপৌছ)বি পারম্পরিকগণ, পরম্পরা গ্রহণকারীগণ, গুরুপাঠ গ্রহণকারীগণ (প্র) ইসলামী পুরাণ অনুসারে; সর্বশেষ ঐশিদূত মুহাম্মদের প্রতিষ্ঠিত আধ্যাত্মিক দল বিশেষ- যারা অত্যন্ত স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন এবং মন্দিরের আঙ্গিনায় অধিকাংশ সময় বসে থাকতেন। সালমান ফার্সি এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ {}

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো- উপরোক্ত আলোচনাটি সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর। কারণ; সূত্র বা লোম হতে কখনই পারম্পরিক পরিভাষাটির উৎপত্তি হয় নি বরং পরম্পরা হতে পারম্পরিক পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। তেমনই; ‘সাউফ (ﺼﻮﻑ)’ বা ‘সুফ (ﺼﻮﻑ)’ লোম- পরিভাষা হতে সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয় নি বরং সফ্ফ (ﺼﻑ) পরম্পরা- পরিভাষা হতে সুফি (صوفي) পারম্পরিক পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। আবার এ কথাও তো সত্য যে; বর্তমান সৌদি আরবের জলবায়ু যেমন উষ্ণ তৎকালীন জলবায়ুও তেমনই উষ্ণ ছিল। এখনও এখানে; চরম উষ্ণতা বিরাজিত। এটি একটি মরু অঞ্চল। এখানে; এখনও উষ্ণতার দাপটে পাতলা বসন পরেও টিকা যায় না, তবে মোটা বসন পরে কিভাবে তারা টিকে থাকতেন? এ হতেই বুঝা যায় এটি; চরম বিভ্রান্তিকর ও হাস্যকর একটি গালগল্প বৈ কিছু নয়। কোনো কোনো মনীষী লিখেছেন; আরবি ‘সাফা (ﺼﺎﻒ)’ পরিভাষা থেকে সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। সাফ (ﺼﺎﻒ) অর্থ হলো পবিত্রতালাভ করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা। যেহেতু; পারম্পরিকগণ মনের পরিশুদ্ধি লাভের সাধনায় ব্রত হয়ে পূত-পবিত্র জীবন যাপন করে থাকেন, সে কারণে তাদেরকে পারম্পরিক বলা হয়।

সফা [ﺼﺎﻒ] (আপৌছ)বি পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন, উজ্জ্বল, দৃশ্যমান, অকপট, ঠিকঠিক {}

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো- এটি; সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর একটি মতবাদ। কারণ; পরিষ্কার করা হতে পারম্পরিক পরিভাষাটির উৎপত্তি হয় নি বরং পরম্পরা হতে পারম্পরিক পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। তেমনই; আরবি সাফ (ﺼﺎﻒ) পরিষ্কার; পরিভাষাটি হতে সুফি (صوفي) পারম্পরিক; পরিভাষাটির উৎপত্তি হয় নি বরং আরবি  সফ্ফ (ﺼﻑ) পরম্পরা- পরিভাষাটি হতে সুফি (صوفي) পারম্পরিক- পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন আরবি ‘সফ (ﺼﻑ)’ পরিভাষা থেকে সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। ‘সফ (ﺼﻑ)’ পরিভাষাটির অর্থ হলো সারি, পরম্পরা। এ মতটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ; যেমন; পরম্পরা হতে পারম্পরিক; তেমনই; ‘সফ (ﺼﻑ)’ হতে সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি। অর্থাৎ; আরবি ‘সফ্ফ (ﺼﻑ)’ অর্থ; পরম্পরা এবং আরবি সুফি (صوفي) অর্থ; পারম্পরিক। আবার যারা পারম্পরিকগণের আত্মার পরিশুদ্ধির কথা বলে থাকেন- তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলবো, পারম্পরিকগণ আত্মার পরিশুদ্ধি করেন না বরং তারা মনের পরিশুদ্ধ করে থাকেন। আত্মা এক প্রকার প্রাকৃতিকশক্তি। এজন্য; আত্মার পরিশোধনের কিছুই নেই। আত্মা ব্যক্তির রাগ, অহংকার, হিংসা ও কুৎস্যা ইত্যাদি বহন করে না। এজন্য; আত্মার কোনো পরিশোধন নেই। এসব মন্দ স্বভাব বহন করে একমাত্র মন। এজন্য; ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি করার প্রয়োজন হয়। মনের দোষ আত্মার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অন্ধবিশ্বাস প্রবণতাই এমন লেখকগণের যুক্তি ও বিজ্ঞান ধ্বংসের মূল।

এদের মতে; পারম্পরিকগণ সভ্য বিশ্বের প্রথম সারির লোক রূপেই তাদেরকে পারম্পরিক বলা হয়। পারম্পরিকগণ মূলত দার্শনিক। দার্শনিকগণ প্রথম সারির লোক কিনা তা বিচার্য। তবে; সত্যের জন্য দার্শনিকগণের অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাদের অবদান ও আত্মত্যাগের জন্য তারা প্রথম সারির মানুষ এবং তারা মহামানব। সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি নিয়ে যুক্তি; তর্কের অবতারণা করে তেমন কোনো ফলোদয় হবে না। তবে; একথা বলা যায় যে সুফি (صوفي) পরিভাষাটি প্রাক-ইসলামীযুগেও আরবি ভাষায় প্রচলিত ছিল। আবু নসর আস সিরাজ তুসি (মৃতঃ ৩৭৮ হিঃ/ ৯৮৮ খ্রিঃ) তার কিতাবুল লুম্য়াত গ্রন্থে লিখেছেন যে; সুফি (صوفي) পারম্পরিক- পরিভাষাটি ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই প্রচলিত ছিল। ইসলামী বিধানের সাথে সাথে পরিভাষাটির প্রয়োগ বেড়ে যায়। সুফি (صوفي) পরিভাষাটির উৎপত্তি সংক্রান্ত বিতর্কে না জড়িয়ে পারম্পরিক বলতে কাকে বুঝায়, সে বিষয়ে অনেক মনীষী আলোকপাত করেছেন। বিশ্ববিখ্যাত তাপস জুন্নুন মিসরি বলেছেন; “জাগতিক লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে যিনি কাঁইয়ের আরাধনা- উপসনাকে জীবনে ব্রত করে নিয়েছেন তিনিই পারম্পরিক।” জুনায়েদ বাগদাদি বলেছেন; “যিনি তার জীবনকে কেবল কাঁইয়ের সন্তুষ্টি কল্পে উৎসর্গ করে দিয়েছেন তিনিই পারম্পরিক।” মহাত্মা মাত্বুলী বলেছেন; “যিনি তার অন্তঃকরণকে সৃষ্টির আবিলতা থেকে নিষ্কলুষ রেখেছেন এবং কেবল কাঁই প্রাপ্তির বাসনায় জনসমাজ থেকে আড়ালে সরে গিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করেছেন তিনিই পারম্পরিক।” প্রখ্যাত তাপস বশর হাফি (মৃতঃ ২২০ হিঃ/ ৮৬৪ খ্রিঃ) বলেছেন; “কাঁই নামজপনা দ্বারা যিনি মনকে পবিত্র রাখতে পেরেছেন তিনিই পারম্পরিক।” সহল বিন আব্দুল্লাহ্ তাস্তারী (মৃত-২৮৩ হিঃ/৮৯৬ খ্রিঃ) বলেছেন; “যিনি সর্বদা সৎচিন্তায় বিভোর, কাঁইয়ের প্রেমের উদ্বুদ্ধ হয়ে জাগতিক লোভ লালসা থেকে নিরাসক্ত হয়েছেন এবং স্বর্ণ ও মৃত্তিকা যার কাছে সমমূল্যের তিনিই পারম্পরিক।”

“এভাবে বিভিন্ন সাধকগণ বিভিন্নভাবে পারম্পরিকগণের পরিচয় দিয়েছেন। তবুও; সাধারণভাবে পারম্পরিক বলতে আমরা সংসার বিরাগী ব্যক্তিদের বুঝে থাকি। এটা একেবারে সঠিক নয়। যেমন; “কাঁই ও সাঁইয়ের প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, জাগতিক ঐশ্বর্য থেকে মুখ ফিরিয়ে মহিমান্বিত কাঁইয়ের আরাধনা- উপাসনা ও সাঁইয়ের আদর্শকে জীবনের একমাত্র অভীষ্ট রূপে যিনি গ্রহণ করেছেন তিনিই পারম্পরিক।” প্রকৃত পারম্পরিক একজন দার্শনিক। কারণ; তিনি দর্শনের মৌলিক বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা করেন, ধ্যান করেন এবং সমাজ ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে এসবের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। পারম্পরিকগণ ভাববাদী দার্শনিক। কিন্তু তাই বলে ভাববাদ বা মরমীবাদ থেকে পারম্পরিক দর্শনের আবির্ভাব ঘটে নি। পারম্পরিক দর্শন, ধাতুর যুগের আর্য ঋষিদের নিজস্ব সৃষ্টি। প্রচলিত ইসলামের পূর্বেও বহু দার্শনিক এসব মৌলিক বিষয়ের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।”

পর্যালোচনা (The discussion)
আমরা বলবো; উপরোক্ত আলোচনার মধ্যে প্রাপ্ত একটি সংজ্ঞাও যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ; আরবি সুফি (صوفي) পরিভাষাটির মূল অর্থের প্রতি লক্ষ্য করেই এ পরিভাষাটির সংজ্ঞা নির্মাণ করা উচিত। উপরোক্ত আলোচনায় উক্ত সব সংজ্ঞাই মনগড়া ও চরম বিভ্রান্তিকর। এজন্য; এসব সংজ্ঞাগুলোকে পারম্পরিকের সংজ্ঞা রূপে গ্রহণ করা যায় না। এমন সংজ্ঞাগুলো গ্রহণ করলে আত্মদর্শনের মূল ক্রমে ক্রমে হারিয়ে যেতে থাকবে। এমন মনগড়া ও অযৌক্তি সংজ্ঞা হতে বিরত থাকা সব পারম্পরিকের একান্ত দ্বায়িত্য ও কর্তব্য।

পরম্পরা জ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ  (The derivation and development of the sequential knowledge)
আদিকাল হতে একের পর এক গুরু ও শিষ্যের মাধ্যমেই এ জ্ঞানের বিস্তারলাভ হয়। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে; এ জ্ঞানকে পরম্পরা-জ্ঞান বা সংক্ষেপে ‘পরম্পরা’ বলে নামকরণ করা হয়। পরম্পরাজ্ঞানের ধারকবাহক গুরু গোঁসাইগণকে পারম্পরিক বলা হয়। কত বছর পূর্বে পরম্পরাজ্ঞানের উৎপত্তি হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। তবে; অনুমান করা যায় যে; মানবসভ্যতার- তৃতীয় যুগেই পরম্পরাজ্ঞানের উৎপত্তি হয়েছিল। ১.শূন্য ২.পদার্থ ৩.প্রস্তর ৪.ধাতু ৫.আদিম ৬.মধ্য ও ৭.আধুনিক- এ সপ্তম যুগের তৃতীয় যুগকে প্রস্তরযুগ বলা হয়। পাথর দ্বারা আগুন জ্বালানোসহ বন্য ও যাযাবর মানুষ জীবিকার সন্ধান পর্যন্ত পাথর দ্বারা করতো বলেই, এ যুগকে পাথরের যুগ বা প্রস্তরযুগ বল হয়। এ সময় হতেই যাযাবর মানুষ, ক্রমে ক্রমে দলবদ্ধ বা সঙ্গবদ্ধ জীবন যাপন আরম্ভ করে বলে ধারণা করা যায়। এ যুগে একজন যেভাবে আগুন জ্বালাতো তার দেখাদেখি অন্যেরাও ঠিক সেভাবে আগুন জ্বালানো কৌশল অনুসরণ করতো। এ যুগে একজন যেভাবে ইঁদুর মারা ও পাখি মারা বিতংস নির্মাণ করতো, তার দেখাদেখি অন্যেরাও ঠিক সেভাবে ইঁদুর মারা ও পাখি মারা পাশগুলো নির্মাণ করতো। মারণাস্ত্রের মধ্যে বর্শাকে অতি প্রচীন বলা যায়। পাথর ঘষে একপার্শ্ব সূক্ষ্ম, মসৃণ ও সুচালো করে তার সাথে গাছের ডাল বেঁধে এটি; নির্মাণ করা হতো। এ বর্শা দ্বারা হরিণ, শিয়াল, খরগোশ, সাপ, মাছ ও কচ্ছপ আখেটি করা হতো।

আগুন জ্বালানো, বিতংস ও বর্শা নির্মাণ, এসব কাজ তখন একজনের দেখাদেখি অন্যরা করতো বা গুরু পরম্পরায়র মাধ্যমে করতো, সন্দেহাতীতভাবে এমন কথা বলা যায়। যেহেতু; যে কোনো জ্ঞান, যে যার থেকে জ্ঞানার্জন করে তাকেই উক্ত জ্ঞানের গুরু বলা হয়। এ হতেই বলা যায়- “যাযাবর মানুষের সঙ্গবদ্ধ ও দলবদ্ধ জীবন যাপনের সূচনা যখন পরম্পরাজ্ঞানের উদ্ভবও তখন।” ঘর বাড়িহীন উন্মুক্ত আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষকে তখন সর্প ও হিংস্র জীবজন্তুর ভয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হতো। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে; তাকে সুস্থ করার মতো কোনো ঔষধ জানা ছিল না তাদের। এসব কারণেই অনেক মানুষ একাকী জীবন ত্যাগ করে দলবদ্ধ ও সঙ্গবদ্ধ জীবনে, আগমন আরম্ভ করে। যারফলে; সর্প ও হিংস্র জীবজন্তুর আক্রমণের হাত হতে আত্মরক্ষা করাও তাদের কিছুটা সহজ হতে থাকে।

দলবদ্ধ জীবন যাপনের জন্য মানুষকে সর্বদা দলপতি বা দলনেতার আদেশ ও নিষেধ মেনে চলতে হতো। দলনেতা তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা দ্বারা দল পরিচালনা করতেন। কোনো কোনো দলে একাধিক দলনেতাও থাকত। কারণ; একজন দলনেতা- দলের যুবক পুরুষদের নিয়ে খাবার অন্বেষণের জন্য বনে বা নদীতে আখেটি করতে গেলে আশ্রমের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের পরিচালনা করার জন্য আরেকজন দলনেতা অবশ্যই প্রয়োজন হতো। অন্যথায় এ সময় হিংস্র জীবজন্তু আক্রমণ করলে তাদের সর্বনাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত অধিক। আত্মরক্ষার মাধ্যম ও মারণাস্ত্র ব্যতীত, তখন দল পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। এ কঠিন কার্যাদি করার জন্যই দলনেতা বা দলপতিগণ আবিষ্কার করেন অন্ধবিশ্বাস অস্ত্র। তারা সর্বপ্রথমে ১. একজন সৃষ্টিকর্তা ২. একজন পালনকর্তা ৩. একজন সংহারকর্তা ৪. একজন করে আদিমানব-আদিমানবী ৫. স্বর্গ ও ৬. নরক; এ ছয়টি উপাদান নির্মাণ করেন। অতঃপর; দুষ্টদের প্রয়াণোত্তর নরকের শাস্তির ভয় ও শিষ্টদের স্বর্গের পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে দলপতিরা তাদের দল শাসন ও পরিচালনা করতে আরম্ভ করেন। এ অন্ধবিশ্বাস অস্ত্র প্রয়োগ করে দল শাসন ও পরিচালনার সুনাম দল হতে দলান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। দিনের পর দিন এর ব্যবহারও ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। এটি; ছিল তখন তাদের যুগান্তকারী আবিষ্কার।

এ ছয়টি সত্তাকে বীজ রূপে গ্রহণ করে পরবর্তীতে নির্মিত হয় পুরাণ। যেমন; বেদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ ও ত্রিপিটক ইত্যাদি গ্রন্থ। এ সময় এমন দুর্লভ সাহিত্যাদি নির্মাণ করার মধ্যে দিয়ে, পরম্পরা জ্ঞানগুলো চরম পরমরূপলাভ করে। প্রস্তরযুগের মহান মনীষীগণ যে পরম্পরাজ্ঞানের আবিষ্কার করেছিলেন, ধাতুর যুগে এসে সে জ্ঞান সারাবিশ্বে বিস্তারলাভ করে। বেদ, রামায়ণ ও মহাভারতের নির্মাণের সময়কেই আত্মদর্শনের সোনালী সময় বলা যায়। কারণ; এর পরপরই পরম্পরা জ্ঞানকে ছুরিকাঘাত করে শ্বরবিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে সাম্প্রদায়িক মতবাদ। সময়ের ব্যবধানে সাম্প্রদায়িক মতবাদ নামক এ অন্ধবিশ্বাস শিল্পটি আবারো বিশ্বব্যাপী খ্যাতিলাভ করে। তবে; অল্প দিনের মধ্যে এ অন্ধবিশ্বাস শিল্পটি মানুষ শাসন ও শোষণের কলকাঠিতে পরিণত হয়। রূপক স্বর্গের লোভ ও রূপক নরকের ভয় দেখিয়ে এক শ্রেণির স্বাথান্বেষী ও ধুরন্ধর গোষ্ঠী রাতারাতি অর্থের পাহাড় গড়ে তুলতে থাকে। অন্ধবিশ্বাসনির্ভর এ শিল্পটির রমরমা ব্যবসা দেখে গড়ে উঠতে থাকে একের পর এক সাম্প্রদায়িক মতবাদ। গবেষকগণ বলে থাকেন, অন্ধবিশ্বাসনির্ভর এমন সাম্প্রদায়িক মতবাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২৫০০টির অধিক। প্রায় এক হাজার (১,০০০) খ্রিস্ট পূর্বাব্দ হতে প্রায় দুই হাজার (২,০০০) খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে সাম্প্রদায়িকযুগ বলা যায়। এ সময়ের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক মতবাদগুলোর উৎপত্তি ও নিষ্পত্তি হয়।

আদি-আত্মদর্শন হতে পুরাণ সৃষ্টি এবং পুরাণ হতে অন্ধবিশ্বাসবাদ সাম্প্রদায়িক মতবাদের সৃষ্টি হয়। আত্মদর্শন হতে- পুরাণ ও অন্ধবিশ্বাসবাদ বা সাম্প্রদায়িক মতবাদের সৃষ্টি হলেও আত্মদর্শন একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। পুরাণ ও অন্ধবিশ্বাসবাদের চাপে কোনঠাসা হয়ে হাত-পাহীন কাকতাড়ুর মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আত্মদর্শন বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে গুরুবাদীবিদ্যা নামধারণ করেছে। ইতোমধ্যেই; মানুষ পুরাণ ও অন্ধবিশ্বাসবাদের মনগড়া শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে পুনরায় আত্মদর্শনের ও শ্বরবিজ্ঞানের দ্বারস্থ হতে আরম্ভ করেছে। এটাই সত্য যে; সবকিছুই একদিন না একদিন তার উৎসমূলে ফিরে যাবেই যাবে। কত পুরাণবিদ, কত দার্শনিক, কত জ্যোতিষী, কত বিজ্ঞানী ও কত সাম্প্রদায়িক অন্ধবিশ্বাসী মনীষী; এ আত্মদর্শনের ওপর তর্কছুরি ও যুক্তিছুরি চালিয়েছে যুগে যুগে, তবুও; আত্মদর্শন আদি হতে এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছে। অথচ কত দার্শনিক তত্ত্ব, কত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, কত জ্যোতিষী মতবাদ ও কত সাম্প্রদায়িক মতবাদ এযাবৎ সৃষ্টি হয়েছে আর ধ্বংস হয়েছে তার ইয়ত্তা কেবা করতে পেয়েছে। আত্মদর্শনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ব্যাপারে এর ওপরই সন্তুষ্ট থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।

পরম্পরার প্রকারভেদ (Variations of sequence)
পরম্পরা পাঁচ প্রকার। যথা; ১. প্রকৌশল পরম্পরা ২. চিকিৎসা পরম্পরা ৩. আধ্যাত্মিক পরম্পরা ৪. মনগড়া পরম্পরা ও ৫. অন্যান্য পরম্পরা।

. প্রকৌশল পরম্পরা (Engineering sequence)
বৃত্তি ও কৌশল বিষয়ক গুরু-শিষ্য পরম্পরা জ্ঞানকে প্রকৌশল পরম্পরা বলে। যেমন; গাড়ির চাকা নির্মাণ জ্ঞান, নৌকা নির্মাণ জ্ঞান, ঘর নির্মাণ জ্ঞান ইত্যাদি।

. চিকিৎসা পরম্পরা (Medical sequence)
চিকিৎসা ও রোগ নিরাময় বিষয়ক গুরু-শিষ্য পরম্পরা জ্ঞানকে চিকিৎসা পরম্পরা বলে। যেমন; সাপের বিষ নামানো বিদ্যা, ও কুকুরের বিষ নামানো বিদ্যা ইত্যাদি।

. আধ্যাত্মিক পরম্পরা (Theological sequence)
গুরু শিষ্যের মাধ্যমে আশ্রমভিত্তিক পরৎপর রূপে, প্রচারিত দিব্যজ্ঞানকে আধ্যাত্মিক পরম্পরা বলে। যেমন; শুক্র নিয়ন্ত্রণ কৌশল, কাজের শুভাশুভ নির্ণয় জ্ঞান ও নিশ্চিত পুত্র সন্তান/ কন্যা সন্তান উৎপাদন জ্ঞান ইত্যাদি।

. মনগড়া পরম্পরা (Imaginary sequence)
যেসব পারম্পরিক বিধান দ্বারা, ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো উপকার হয় না এবং তারমধ্যে; দেহতাত্ত্বিক সূত্রগুলোর কোনো ব্যবহার পাওয়া যায় না, তাকে মনগড়া পরম্পরা বলে। যেমন; সংসার ত্যাগ করে অরণ্য গিয়ে ব্র‏হ্ম-সাধন করা। বিবাহ না করে অর্থাৎ; সাধনসঙ্গিনী ব্যতীত বৈরাগ্য প্রথা অবলম্বন করা ও নিরামিষ ভোজী হওয়া ইত্যাদি।

. অন্যান্য পরম্পরা (Other sequence)
প্রকৌশল, চিকিৎসা, আধ্যাত্মিক ও মনগড়া পরম্পরা ব্যতীত সব পরম্পরাকে অন্যান্য পরম্পরা বলে। যেমন; জ্যোতির্বিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা ইত্যাদি।

সাম্প্রদায়িকরা পরম্পরা জ্ঞান আছে বলে বিশ্বাসও করেন না এবং এটা মান্যও করেন না। তাদের মতে; সাম্প্রদায়িক বিধানগুলো মেনে চলার মধ্যেই মানুষের মুক্তি। সাম্প্রদায়িক বিধানগুলো ত্যাগ করে যত সুন্দর ও যত অভিনব তন্ত্রগুলোই মান্য করা হোক না কেন তা কখনই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে না এবং তা গ্রহণযোগ্যই হতে পারে না। সাম্প্রদায়িক বিধানের ওপরে আর কোনো বিধান থাকতে পারে না।

অন্যদিকে; পারম্পরিকরা বলেন যে; সাম্প্রদায়িক মতবাদ একটি অন্ধবিশ্বাসনির্ভর শিল্প। এটি একটি আদিম যুগীয় সামাজিক শাসন ব্যবস্থা মাত্র। এজন্য; সাম্প্রদায়িক বিধিবিধান মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কোনো কল্যাণ বা মঙ্গলে আসে না। কারণ; সাম্প্রদায়িক মতবাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো সাধন ভজন নেই। সাম্প্রদায়িক মতবাদ পুরাটাই অন্ধবিশ্বাস নির্ভর শিল্প। সাম্প্রদায়িক মতবাদের পুরো বিধানটিই অন্ধবিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এজন্য; সাম্প্রদায়িক বিধানগুলো কোনো দিন বিজ্ঞান দর্শন যুক্তি ও প্রমাণের নিকটবর্তী হতে পারে না। সেজন্য; এ শিল্প দ্বারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কল্যাণ বা উপকার গ্রহণ করা কখনও সম্ভব নয়। সাধন দ্বারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিককল্যাণ ও উপকার পাওয়ার জন্য আত্মদর্শনের কোনো বিকল্প নেই।

পরম্পরার উপকারিতা (Benefits of sequence)
পরম্পরা বিধান মেনে চলার দ্বারা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক উপকারিতালাভ করা যায়। নিচে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো।

১.   পরম্পরা বিধান মেনে চলার দ্বারা দীর্ঘায়ুলাভ করা যায়।
২.   এর দ্বারা সহজেই শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৩.   এর দ্বারা নিশ্চিত পুত্র ও কন্যা সন্তান উৎপাদন করা যায়।
৪.   এর দ্বারা পুরাণ ও অন্ধবিশ্বাসবাদের রূপক সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহারকর্তা, আদিমানব, স্বর্গ ও নরক সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
৫.   এর দ্বারা অতি সহজে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য বৈজ্ঞানিক কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না বলে দাম্পত্য জীবনে অর্থ সাশ্রয় করা যায়।
৬.   এর দ্বারা অতি সহজেই আত্মশুদ্ধি করা যায়।
৭.   মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নে এর কোনো বিকল্প নেই।
৮.   সুখী ও ছোট পরিবার গঠনে এর কোনো জুড়ি নেই।
৯.   এটি; সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণ বৈষম্যের মূলোৎপাটন করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১০. সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে- ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনে এর অবদান অপরিসীম।

পরম্পরার অপকারিতা (Disservice of sequence)
১.   পরম্পরা মানুষকে সামাজিক বন্ধন ছিন্ন করে একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবনে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
২.   পারম্পরিকগণ পুনর্জন্ম গ্রহণ বা সন্তানগ্রহণ বন্ধ করে দেন। এজন্য; জনসংখ্যা ক্রমে ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে।

সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ (Communalism and sequentialism)
সাম্প্রদায়িক অনেক মনীষী এমন মনে করেন যে; “সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। অযথাই পারম্পরিকগণ সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নপথে পরিচালিত করার জন্য ব্যর্থ অপচেষ্ঠায় ব্যস্ত থাকেন।” সাম্প্রদায়িক মনীষীদের একান্তভাবে জানা উচিত যে; সাম্প্রদায়িক মতবাদ পুরোপুরিই অন্ধবিশ্বাসপ্রবণ ও শতভাগই মনগড়া কিন্তু গুরুবাদী পরম্পরা মতবাদ কিছুটা হলেও সনাতন। যেমন; আত্মশুদ্ধি করা, শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা, নিজ-নিজ অখণ্ডতা অক্ষুন্ন রাখা, অমৃতসুধা ও অমৃতমধু আহরণ করা ইত্যাদি পারম্পরিক মতবাদের আছে কিন্তু সাম্প্রদায়িক মতবাদে নেই। আরও উন্মুক্তভাবে বলা যায় সাম্প্রদায়িক মতবাদ সমষ্টিক কিন্তু পারম্পরিক মতবাদ ব্যষ্টিক। সাম্প্রদায়িক মতবাদ অনুযায়ী সমষ্টিগতভাবে উপাসনা করার মধ্যে পুণ্য অধিক কিন্তু পারম্পরিক মতবাদে একাকিভাবে উপাসনা করার মধ্যে লাভ সর্বাধিক। সাম্প্রদায়িক মনীষী ও বক্তাদের মতে; উপাসনার পুণ্যফল মরণোত্তর কিন্তু পারম্পরিক মনীষী ও বক্তাদের মতে; সাধনার পুণ্যফল বর্তমানে। এ ব্যাপারে বাঙালী মহামানব লালন সাঁইজি লিখেছেন;

“সহজ-মানুষ ভজে দেখ রে মন দিব্যজ্ঞানে,
পাবিরে অমূল্যনিধি পাবি বর্তমানে” (পবিত্র লালন- ৯২৮/১)

এছাড়াও; মরমীদের আরও একটি বাণী শুনতে পাওয়া যায়। যথা;

“নগদ যা পাও হাত পাতিয়া লও বাঁকির খাতা শূন্য থাক,
দূরের বাদ্যে লাভ কী আছে মাঝখানে তার বেজায় ফাঁক।”

এছাড়াও; বিশ্বের বিশিষ্ট দার্শনিকরাও প্রয়াণোত্তর কিছু নেই বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী ও বক্তাদের প্রয়াণোত্তর পুণ্যফল বাক্যের স্থলে মরণোত্তর পুণ্যফল ধরতে হবে। কারণ; মূল বিষয়টি হলো ব্যক্তির প্রয়াণোত্তর কোনকিছুই নেই কিন্তু ব্যক্তির মরণোত্তর সবকিছুই আছে। এখানে; মরণ বলতে কেবল শুক্রপাত ও সন্তান রূপে পুনর্জন্মকে বুঝানো হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক মনীষীদের এমন ভ্রান্তধারণা অপসারণ করার জন্য নিচে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের একটি পার্থক্যসারণী তুলে ধরা হলো।

সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের পার্থক্য (The difference between communalism and sequentialism doctrine)

সাম্প্রদায়িক মতবাদ পারম্পরিক মতবাদ
১.   যে কোনো নির্দিষ্ট শ্বরবিজ্ঞানের অনুকূলে নির্মিত রূপক সংস্কারের ওপর সুসংগঠিত জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপনের পরিপূর্ণ নীতিমালাকে সাম্প্রদায়িক মতবাদ বলে। ১.   গুরু-শিষ্যের মাধ্যমে আশ্রমভিত্তিক পরৎপর রূপে প্রচারিত আত্মদর্শন-জ্ঞানকে পারম্পরিক মতবাদ বলে।
২.   এর মূল অন্ধবিশ্বাস। ২. এর মূল আত্মতত্ত্ব।
৩. এটি; সামাজিক উন্নয়ন করে। ৩. এটি; ব্যক্তিত্বের উন্নয়ন করে।
৪.   এর দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র শাসন করা যায়। ৪.  এর দ্বারা আত্মশুদ্ধি বা মনোশু্দ্ধ করা যায়।
৫.   এটি; সমাজ ও রাষ্ট্র শাসনমূলক মতবাদ। ৫. এটি; আত্মশুদ্ধিসহ পরিবার শাসনমূলক মতবাদ।
৬.   এটি; জাতি বর্ণ ও গোত্রের বিভেদ বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করে। ৬. এটি; জাতি বর্ণ ও গোত্রের বিভেদ-বৈষম্যের মূলোৎপাটন করে।
৭. এটি; সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদ সৃষ্টি করে। ৭. এটি; সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদ নির্মূল করে।
৮. সারাবিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধন ভজনের পদ্ধতি ও উপাস্যগুলো ভিন্ন ভিন্ন। ৮. সারাবিশ্বের সব পারম্পরিকের সাধন ভজনের পদ্ধতি ও উপস্যগুলো এক ও অভিন্ন।
৯.   এমতে ব্যক্তির কর্মফল প্রয়াণ উত্তরকালে প্রদান করা হবে। ৯. এর বিধান মতে; ব্যক্তির কর্মফল বর্তমানে প্রদান করা হয়।
১০. সাম্প্রদায়িকদের মতে; শুধু নিজের সংস্কারটিই বড় কিন্তু অন্যান্য সংস্কারগুলো অগ্রহণযোগ্য ও মূল্যহীন। ১০. পারম্পরিকদের মতে; বিশ্বের ছোট-বড় সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ এবং সংস্কার সুমহান ও শ্রদ্ধাশীল।
১১. এটি; শতভাগই অবাস্তব অসঙ্গত ও মনগড়া এবং বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তি বিরোধী। ১১. এটি; চরম বাস্তবমুখী এবং বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিসম্মত।
১২. সাম্প্রদায়িকদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান ইত্যাদি বলা হয়। ১২. পারম্পরিকদের আউল, বাউল, নাড়া, সাঁইজি ও কাঁইজি বলা হয়।
১৩. এর আলোচনা ও সাধনার উপাদান ভিন্ন ভিন্ন (পূজা/ ভক্তি)। ১৩. এর আলোচনা ও সাধনার সব উপাদান মানবদেহে।

পরম্পরাবাদ ও সুফিবাদ (Sequentialism and mysticism)
সাধারণ আলোচনা ও সাধারণ বর্ণনা দ্বারা সাধারণ মানুষ মনে করেন পরম্পরাবাদ ও সুফিবাদ হয়তোবা এক ও অভিন্ন কিন্তু বাস্তবে পরম্পরাবাদ ও সুফিবাদের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। এ দুটি মতবাদ সম্পূর্ণ দুই মেরুতে অবস্থিত। যেমন; পৃথিবীর উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মধ্যে পার্থক্য; তেমনই, এ দুটি মতবাদের মধ্যে পার্থক্য। পরম্পরাবাদের আলোচ্য বিষয় হলো; মানবদেহ, শুক্র নিয়ন্ত্রণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, সুখী পরিবার গঠন, আত্মশুদ্ধি, পরিবারে সমাজে ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক মতবাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, পরম্পরার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, সাধন ভজনের কারণ এবং সাঁই ও কাঁই দর্শনলাভ ইত্যাদি। কিন্তু সুফিবাদের আলোচ্য বিষয় হলো; সাম্প্রদায়িক রূপক দেবতাগণের জীবনচরিত্র আলোচনা, সাম্প্রদায়িক বিধিবিধান মেনে চলা, সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির ভাবদর্শন আলোচনা, বিবাহ না করা, ঘর ছেড়ে জঙ্গলে গিয়ে সাধন করা, ছেঁড়া ও তালিযুক্ত বসন পরিধান করা ইত্যাদি।

পরম্পরাবাদ বাস্তবমুখী একটি জীবনবিধান কিন্তু সুফিবাদ সম্পূর্ণ ভাববাদী মতবাদ। সাম্প্রদায়িক জীবন বিধানের তবু একটি মানদণ্ড রয়েছে। সাম্প্রদায়িক জীবনবিধান সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। যদিও এটি; আদিম ও মধ্যযুগীয় জীবন ব্যবস্থা। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা সাম্প্রদায়িক জীবন ব্যবস্থাকে শক্ত করেই বলে থাকেন যে; এটি; সার্বজনীন ও সর্বকালীন। কিন্তু সুফিবাদের তেমন কোনো ভিত্তি নেই। এটি; একমাত্র জনবিভ্রান্তি ও গণবিভ্রান্তি ব্যতীত কিছুই নয়। সুফিবাদের নীতিমালার বিষয়বস্তু প্রত্যেক সাম্প্রদায়িক মতবাদের নীতিমালার বিষয়বস্তুর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে। সাম্প্রদায়িক নীতিমালা হতেই এর রূপরেখা বা নীতিমালা নির্মাণ করা হয়েছে। সুফিবাদের নীতিমালার মধ্যে সাম্প্রদায়িক নীতিমালা হতে ভিন্ন তেমন কিছুই নেই। এজন্য; যুগে যুগে এ মতবাদটি পুনঃপুন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ মতবাদের কোনো বাস্তবতা নেই। মাত্র কয়েকজন ভ্রান্ত গবেষক ও ভ্রান্ত লেখকের অতিরঞ্জিত আলোচনা ও বর্ণনার শস্য এ সুফিবাদ। ভ্রান্ত গবেষক ও ভ্রান্ত লেখকের গ্রন্থ গ্রন্থাদি ভিন্ন এ মতবাদের বাহ্যিক কোনো অস্তিত্ব নেই। তারাই অতীতকালের বিভিন্ন কিংবদন্তি অন্বেষণ করে বা আঁতিপাতি করে সন্ধান করে- সুফিবাদের জনক, সুফিবাদের প্রবক্তা ও বড় বড় সুফির নির্ঘণ্ট অবিষ্কার করেছেন। এজন্য; বলা যায় সুফিবাদের অস্তিত্ব বর্তমানে গ্রন্থের পাতায় পাতায় ভিন্ন অন্য কোথাও মিলে না।

অথচ পরম্পরাবাদ কোনো সাম্প্রদায়িক নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদের ছত্রছায়াতেই এ মতবাদ অবস্থিত নয়। পরম্পরা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মতবাদ। এ মতবাদটি সেই প্রস্তরযুগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতঃপর; অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পৃথিবীর সর্বস্থানে এখন পর্যন্ত টিকে আছে। আশা করা যায় অনন্তকাল এ মতবাদ টিকে থাকবে। এরই মধ্যে কত শত মতবাদ উৎপত্তি ও নিষ্পত্তি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নিচে পরম্পরাবাদ ও সুফিবাদের মধ্যের পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো।

পরম্পরাবাদ ও সুফিবাদের পার্থক্য (The difference between sequentialism and mysticism)

পরম্পরাবাদ (Traditionalism) সুফিবাদ (Mysticism)
১.    দেহতাত্ত্বিক মতবাদকে পরম্পরাবাদ বলে। ১.    কিছু পরম্পরা এবং কিছু সাম্প্রদায়িক এমন দোয়াশলা মতবাদকে সুফিবাদ বলে।
২.   এ বিধানে নর/নারীর যুগল সাধন ব্যতীত সিদ্ধিলাভ করা যায় না। ২.   এ বিধানে নারীসঙ্গ ত্যাগ না করলে সিদ্ধিলাভ করা যায় না।
৩.   এ বিধানে আড়ম্বর বা আভিজাত্য-ময় জীবন যাপন অতি উত্তম। ৩.   এ বিধানে নিঃস্ব ও দারিদ্রতাপূর্ণ জীবন যাপন অতি উত্তম।
৪.   এ বিধানে স্রষ্টার আবাস মানবদেহে এবং পারম্পরিকগণ দেহেই স্রষ্টার অস্তিত্বের সন্ধান পেয়ে থাকেন। ৪.   এ বিধানে স্রষ্টা আবাসহীন। এজন্য; সুফিগণ মরু প্রান্তর, নদীর ধার, বৃক্ষতলা বা অরণ্যে অরণ্যে সন্ধান করতে থাকেন।
৫.   পারম্পরিকগণ উন্নত মূল্যবান ও আভিজাত্যময় বসন প্রিয়। ৫.   সুফিগণ ছেঁড়া ও তালিযুক্ত বসন প্রিয়।
৬.   পারম্পরিকগণ পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে যথেষ্ট অবদান রাখে। ৬.   সুফিগণ পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে কোনো অবদান রাখে না।
৭.   পারম্পরিকগণ জাতি, বর্ণ ও গোত্রের অনেক অনেক ঊর্ধ্বে। যেমন; লালন। ৭.   সুফিগণ জাতি, বর্ণ ও গোত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যেমন; খাজা।
৮.   এ মতবাদ দেহতাত্ত্বিক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ৮.   এ মতবাদ ভাবদর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৯.   এর সাধনভজন বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমুখী। ৯.   এর সাধনভজন অবাস্তব, অলিক ও কল্যাণহীন।

 

৫১/০. পারম্পরিক মতবাদ
Sequentialism (সিকুইন্সিয়ালিজম)/ ‘التقليدية’ (আত্তাক্বলিদিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর প্রকৃতপথ বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা প্রকৃতপথ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পরম্পরা। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা কুলক্রম এবং এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কুলুজি। পরম্পরা পরিভাষার বিশেষণ রূপ পারম্পরিক

অভিধা (Appellation)
পারম্পরিক বিণ পরম্পরা জ্ঞানধারী, আত্মদর্শনে পারদর্শী (সংজ্ঞা) পরম্পরা জ্ঞানের ধারক বাহক সাধু মহৎগণকে পারম্পরিক বলে।

পারম্পরিকের সংজ্ঞা (Definition of traditionalist)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পরম্পরা জ্ঞানের ধারক বাহক সাধু মহৎকে পারম্পরিক বলে। যেমন; লালন সাঁইজি, বলন কাঁইজি, লোকনাথ ব্র‏হ্মচারী।

পরম্পরাবাদ (বাপৌছ)বি ভেদবিদ্যা, ভেদবিধান, দেহতাত্ত্বিক মতবাদ, আত্মদর্শন, Sequencism, Traditional doctrine, ‘مذهب التقليدي’ (মাযহাবুত তাক্বলিদ)।

পরম্পরাবাদের সংজ্ঞা (Definition of traditionalism)
সাধারণত; আত্মজ্ঞানী বা আধ্যাত্মিক পরম্পরা জ্ঞান সমগ্র মতবাদকে পরম্পরাবাদ বলে বা পারম্পরিকদের চিন্তাধারাকেই ‘পারম্পরিক মতবাদ’ বলা হয়।

পারম্পরিকগণের কাজ হলো; মনকে মার্জিত ও উন্নত করা এবং কাঁইয়ের দিকে মনকে দ্রুতগামী করার উপায় উদ্ভাবন করা। পারস্য হতে আগত ফার্সি সুফি ও অলি আব্দালদের চাপে প্রায় ৫০০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত, এ ১০০০ বছরের মধ্যে ভারতবর্ষে আত্মদর্শনের প্রচার ও প্রসার প্রায় স্থিমিত হয়ে পড়েছিল। লালন ও লোকনাথ প্রমুখ মহান মনীষীগণের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনার দ্বারা বর্তমানে ভারতবর্ষে আবারও পরম্পরা মতবাদের ব্যাপক প্রচলন আরম্ভ হয়েছে।

প্রতিটি সাম্প্রদায়িক মতবাদই একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। কোনো মতবাদেই সংসার ত্যাগের কোনো বিধান নাই। সাম্প্রদায়িক বসিধগণ সংসার করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর প্রতিনিধিরাও তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন। আত্মশুদ্ধি বিদ্যাই মরমী ভাবধারা বা পরম্পরাবাদ নামে পরিচিত এবং মরমীসাধকরা পারম্পরিক নামে আখ্যায়িত। পরম্পরাবাদ একটি রহস্যময় আধ্যাত্মিক আন্দোলন। এ মতবাদের লক্ষ্য হলো, কাঁইয়ের নিগূঢ় অনুভূতির অন্বেষণ ও মনের পবিত্রতা বিধান। পারম্পরিকগণ আত্মতত্ত্বের মূলবাণীকে পরম্পরাবাদের প্রাথমিক উপাদান রূপে গ্রহণ করেন। পারম্পরিকরা কাঁইয়ের ধ্যান ও প্রেমের মধ্যে এমন মগ্ন হয়ে পড়েন যে; পার্থিব বস্তুর প্রতি তাদের সব মোহ বিলুপ্ত হয়। কাঁইয়ের স্মরণ দ্বারা যিনি মনকে পবিত্র রাখেন, তাকেই বলা হয় পারম্পরিক

আদিমযুগের সাম্প্রদায়িকরা তাদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। যেমন; বসিধ ও তার অনুসারীরা, তাদের উত্তরাধিকারীরা ও তাঁহাদের পরবর্তীযুগের লোকেরা, পারম্পরিকদের পথকে মনে করতেন সত্য ও মুক্তির পথ। শাস্ত্রীয়-কর্মে কঠোর হওয়া, কাঁইয়ের জন্য সবকিছু বর্জন করা, পার্থিব চাকচিক্য ও অনাবশ্যক আড়ম্বর হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, মানবীয় আকাঙ্খার সাধারণ লক্ষ্যবস্তু আনন্দ, সম্পদ ও ক্ষমতা বর্জন করা, সমাজ ত্যাগ করে সম্পূর্ণরূপে কাঁইয়ের উপাসনায় আত্ম সমাহিত করা ও নিঃসঙ্গ জীবনযাপন প্রভৃতি ছিল প্রচলিত পরম্পরাবাদের মূলনীতি। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদি ও মনীষীগণের দেহতাত্ত্বিক অমূল্যবাণীগুলোই ছিল পরম্পরাবাদের প্রধান উৎস। পারম্পরিক মতবাদ এর বাইরের কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা প্রভাব হতে উৎপত্তিলাভ করে নি। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ ও বসিধগণের জীবনধারা পরম্পরাবাদের মূল উৎস। কুরানে বর্ণিত মুহাম্মদ নিজের জীবনের গভীর ধ্যান ও চিন্তায় উষ্ণপর্বত গুহায় পারম্পরিক মনোভাবের গভীর পরিচয় দিয়েছেন। পবিত্র কুরানের আধ্যাত্মিকতাপূর্ণ নিদর্শনাদি অবতীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যে পারম্পরিক মতবাদের মূলনীতি পবিত্র কুরানকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। কুরানে বর্ণিত পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তামুহম্মদ নিজেও পরম্পরা মতবাদের ভাব ব্যক্ত করেছেন এবং মাঝে মাঝে উষ্ণগুহায় ধ্যান মগ্ন অবস্থায় থাকতেন। তাঁর কিছু সংখ্যক অনুসারী তাঁর মতবাদ গ্রহণের পর হতেই পরম্পরা বিধান অনুযায়ী ধ্যান ও তন্ময়তা অনুশীলন করতে থাকেন। তাঁরা মসজিদের এক পার্শ্বে উপাসনা ও কাঁইয়ের ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন। এসব অনুসারীদের পারম্পরিক (আহলি সুফ্ফা. ﺍﻫﻝ ﺼﻮﻔﺎ) বলা হতো। মুসলমান পারম্পরিকদের অনেকেই এমন ধারণা করেন যে; এ পারম্পরিক সম্প্রদায় হতেই ‘পারম্পরিক’ পরিভাষাটির উৎপত্তি।

আহলি সুফ্ফা [ﺍﻫﻝ ﺼﻮﻔﺎ] (আপৌছ)বি সাধুসংঘ, সাধুদল, সাধুবর্গ, সাধুগণ, সাধক শ্রেণি, সাধকদল, পারম্পরিক সম্প্রদায় {.আহাল. ﺍﻫﻝ+ .সুফ্ফা. ﺼﻮﻔﺎ}

সুফ্ফা [ﺼﻮﻔﺎ] (আপৌছ)বি সাধু, সাধক, যোগী, বিবাগী, সন্ন্যাসী, ক্ষ্যাপা {}

এ পুণ্যবানরাই ছিলেন প্রকৃত অর্থে পারম্পরিক। মুসলমানদের মধ্যে প্রথম পারম্পরিক রূপে পরিচিতিলাভ করেন; বসরাবাসী প্রখ্যাত মনীষী হাসান বসরি (২২- ১১০ হিজরি) (৬৪০- ৭২৮ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বসরায় বসতি স্থাপন করেন।

সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাঁর যথেষ্ট পাণ্ডিত্য ছিল। ৭২৮ খ্রিস্টব্দে (১১০ হিজরি) তিনি প্রয়াণলাভ করেন। মুসলমানদের পারম্পরিক সংস্কার মতে; হিজরি তৃতীয় শতকে; বিশিষ্ট পারম্পরিক যুনযুন মিসরির (প্রয়াণ- ২৪৫ হিজরি/ ৮৬০ খ্রিস্টাব্দ) মাধ্যমে পরম্পরাবাদের বিবর্তনের দ্বিতীয় স্তর আরম্ভ হয়। তিনি সর্বপ্রথম পরম্পরাবাদকে মতবাদ রূপে রূপদান করেন। তিনি ছিলেন একজন পারম্পরিক ও দার্শনিক। তাঁর মতে- তন্ময়তা কাঁই সম্পর্কে জ্ঞানলাভের একমাত্র উপায়। তিনি বলেন; “সে ব্যক্তি কাঁইকে সম্যকভাবে জানেন, যিনি কাঁইয়ের মধ্যে সর্বাধিক সমাহিত।” এ সময় হতে দিব্যজ্ঞান সাধনার পদ্ধতি সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ রূপলাভ করে।

মুসলমানদের পারম্পরিক সংস্কার মতে; পারম্পরিকদের মধ্যে সর্বেশ্বরবাদের প্রবক্তা ছিলেন বায়েজিদ বোস্তামি (প্রয়ান- ২৭১ হিজরি/ ৮৭৮ খ্রিস্টাব্দ)। তিনিই সর্বপ্রথম ‘বিনাসন (ফানা. ﻔﻨﺎﺀ) মতবাদ উদ্ভাবন করেন- যার অর্থ ব্যক্তির মধ্যকার সব প্রবৃত্তির ধ্বংস সাধন করা। তাঁর মতে; “দিব্যজ্ঞানলাভ করতে হলে নিজকে অবশ্যই কাঁইয়ের মধ্যে সমাহিত করতে হবে।” মুসলমান পারম্পরিকদের মধ্যে সর্বেশ্বরবাদের অন্য প্রবক্তা ছিলেন মানসুর হাল্লাজ (প্রয়াণ ৩৯৮ হিঃ/ ৯২২ খ্রিস্টাব্দ)। তিনিই অভিনিবেশ অবস্থায় ঘোষণা করেন “আমি সত্য” (আনা আলহাক্ব. ﺍﻨﺎ ﺍﻠﺤﻖ)। এভাবে তিনি মানুষের মধ্যে কাঁইয়ের গুণাবলী আরোপ’ নীতিমালা প্রবর্তন করেন। পারম্পরিকগণের এমন দেহতাত্ত্বিক মতবাদ সাম্প্রদায়িক মনীষীরা সহ্য করতে পারে নি। ৯২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ফাঁসি দিয়ে প্রয়াণদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরম্পরাবাদের মধ্যে সর্বেশ্বরবাদ প্রাধান্যলাভ করলেও তা সার্বজনীন হয়ে উঠতে পারে নি।

সর্বেশ্বর (বাপৌছ)বি বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; শিব, মহাদেব বিণ স্রষ্টা, সার্বভৌম, সকলের স্রষ্টা (শ্ববি) শিশ্ন, বাঁড়া, মেঢ়্র, হোল, penis, জকর (.ﺬﻜﺭ) (আঞ্চ) সোনা, পোতা, ধন (রূপ্রশ) বলাই, কামদেব, কামেশ্বর, মদন, মাধব, নারদ, লাঠি, নাড়া, হাত, পা, গাছ, রশি (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বলাই পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) সাধারণত; যেখানে সবকিছুই ঈশ্বর তাকে সর্বেশ্বর বলা হয় শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে বলাই বা রূপকার্থে সর্বেশ্বর বলা হয় (ইদে) জাকারিয়া (.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (.ﺸﻤﺭ), হাবিল (.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইংপ) finger (বাপৌউ) বৈঠা, খুঁটি, লাঠি (বাপৌরূ) বিম্বল (বাপৌমূ) বলাই।

সর্বেশ্বরবাদ  (বাপৌছ)বি সবায় একেকজন ঈশ্বর (প্র) মুসলমানদের পারম্পরিক সংস্কার মতে; সবার মধ্যেই কাঁই ও সাঁই রূপ ঈশ্বর অবস্থান করেন এ মতবাদ (শ্ববি) শ্বরবিজ্ঞানে সারাবিশ্বকে একটিমাত্র প্রাণী কল্পনা করা হয়। সে সূত্র মতে; আমিই দাদা, আমিই পিতা, আমিই পুত্র এবং আমিই দৌহিত্র, আমিই গুরু আমিই শিষ্য এবং আমিই প্রশিষ্য, আমিই নর আমিই নারী, আমিই পাহাড় আমিই সাগর অর্থাৎ; আমিই আমি এই মতবাদ বা তিনিই তিনি এই মতবাদ (বাপ) আমিয়ামিবাদ।

গাজ্জালীর সময়ে অনেক পারম্পরিক আত্ম প্রকাশ করেন। এ সমস্ত পারম্পরিকদের মধ্যে আল-কুশাইরি, আব্দুল ক্বাদির জিলানি, শিহাব উদ্দিন সোহরাওয়ার্দি, ফরিদউদ্দিন আত্তার প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। বাংভারতীয় উপমহাদেশে পরম্পরাবাদের ইতিহাসে যাঁরা স্মরণীয় তাঁদের মধ্যে- খাজা মুঈনুদ্দিন চিস্তি, বখতিয়ার কাকি, ফরিদউদ্দিন শাকারগঞ্জি ও নিজামউদ্দিন। মুজাদ্দিদ আলফিসানি নামে খ্যাত শায়িখ আহমদ সিরহিন্দির নামও স্মরণীয়।

পরম লক্ষ্যে পৌঁছবার জন্য পারম্পরিকগণকে কতিপয় পথ অতিক্রম করতে হয়। পারম্পরিক পরিভ্রমণ পথের পন্থাগুলো হচ্ছে; ১. আউল ২. বাউল ৩. নাড়া ও ৪. সাঁইজি। পারম্পরিকরা বলেন; “নিজের মধ্যে দেখ, তোমার মধ্যেই কাঁই বিরাজমান।” যে নিজেকে জানে- সে কাঁইকেও জানে। হৃদয় দর্পণের মধ্যেই কাঁইয়ের মহিমা প্রতিফলিত হয়। পারম্পরিকরা মত পোষণ করেন যে; “আধ্যাত্মিক সাধনায় সাফল্যের জন্য সব নিচতা হতে মনকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। আকাশ ও ভূমির জ্যোতি কাঁইকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করতে হলে অন্তর্দৃষ্টিকে উন্নত করতে হয়। নিরলস ধ্যান কিংবা প্রত্যক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে কাঁইকে জানা যায়। মানসুর হাল্লাজ তাই ঘোষণা করেছিলেন- “আমি সত্য।” এ হতেই অনুমান করা যায়, কাঁইয়ের প্রেম তাকে কিরূপ পর্যায়ে উন্নীত করেছিল। তাঁর মতে- “কাঁই তাঁর জ্যোতি হতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন।”

প্রচলিত সাম্প্রদায়িক মতবাদের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য মানসুর হাল্লাজকে প্রয়াণদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। পরবর্তী পারম্পরিকরা মানসুর হাল্লাজের চিন্তাধারাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে সর্বপ্রথম যে মতবাদ গড়ে ওঠে, তাতে উল্লেখ করা হয় যে; তাঁর ধারণা সত্য কিন্তু তিনি নিয়মের বিরোধিতা করেছেন। মানুষ মাত্রই সত্য, এ সত্য কথা ঘোষণা করে তিনি কাঁইয়ের গোপনীয়তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, কারণ আধ্যাত্মিক সাধনায় সিদ্ধ মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষের ক্ষেত্রেই কেবল তা প্রযোজ্য।

পারম্পরিকগণ মনে করেন- জাতির আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে যত পার্থক্যই থাকুক না কেনো, সব সাম্প্রদায়িক মতবাদের উৎস্যমূল এক ও অভিন্ন। একমাত্র কাঁইই সব উপাসনার লক্ষ্য, যদিও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক মতবাদের উপাসনার পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার। কাঁই সর্বত্র ও সব মতবাদেই আছেন। তিনি কোনো বিশেষ দলের একচেটিয়া নন। উমর খৈয়াম, ফেরদৌসি, শেখসাদি, মাওলানা জামি, জালালুদ্দিন রুমি প্রমুখ পারম্পরিকগণ ছিলেন পরম্পরাবাদের অনুসারী। তাঁদের প্রচেষ্টায় পরম্পরাবাদ পরিপুষ্ট হয়েছিল। বিশেষ করে আরবীয় পুরাণ পরম্পরাবাদকে পরিপুষ্ট, পরিব্যাপ্ত ও সাবলীল করেছিল।

ভারতবর্ষে পূর্ব হতেই পারম্পরিক মতবাদ প্রতিষ্ঠিত ছিল। তবুও; পারম্পরিক মতবাদ ফার্সি ও আরবি পভিষায় আবার নতুন করে ভারতবর্ষে অনুপ্রবেশ করে এবং আধ্যাত্মিকতায় বিরাট বিপ্লব আনে। কুরানে বর্ণিত মুহম্মদের প্রয়াণের প্রায় দুইশত বছর পরে পারম্পরিক মতবাদ অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আরবীয় ও পারসিক প্রভৃতি মুসলমান সংস্কৃতির কেন্দ্র হতে এ মতবাদ ভারতে এবং পরে বঙ্গদেশে আসে। বাংলার প্রাথমিক যুগের পারম্পরিকরা সবাই ছিলেন বহিরাগত। অবশ্য পরে বঙ্গদেশেও অনেক পারম্পরিকের জন্ম হয়। “পরম্পরাবাদের মূল লক্ষ্যই হলো কাঁইয়ের নৈকট্য লাভ।” নিচে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান পারম্পরিকগণের কয়েকটি মূলনীতি তুলে ধরা হলো।

সূফিবাদের মূলনীতি (The principles of mysticism)
তওবা [ﺗﻮﺑﻪ] (আপৌছ)বি পশ্চাত্তাপ, সন্তাপ, অনুতাপ, খেদ, অনুশোচনা, পরিতাপ, অনুখেদ (ভাব) পুনরায় পাপকার্য না করার সংকল্প, সত্য পথে প্রত্যাবর্তন (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

পারিভাষিক অর্থ; পাপ বর্জন করে পাপপথে অগ্রসর না হওয়ার প্রতিজ্ঞাই হলো অনুশোচনা।

তাওয়াক্কুল [ﺗﻮﻜﻝ] (আপৌছ)বি সাহস, নির্ভরতা, ভরসা, আস্থা, দায়িত্ব বোধ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.ওয়াকিল. ﻭﻜﻴﻞ>}

পারিভাষিক অর্থ; সব অবস্থাতে কাঁইয়ের ওপর নির্ভর করাকে সাহস বলে।

ওয়াকিল [ﻭﻜﻴﻞ] (আপৌছ)বি প্রতিভূ, প্রতিনিধি, ব্যবহারজীবী, বিধান ব্যবসায়ী (প্র) ইসলামী পুরাণ অনুসারে; বিবাহে যে ব্যক্তি কনের সম্মতি নিয়ে বরকে জানায় {}

পরিবর্জন; পার্থিব সুখ ও বিলাসিতা ত্যাগ করে কাঁইয়ের প্রেমে আত্মোৎসর্গ করাই পরিবর্জন। প্রখ্যাত পারম্পরিক সাধক নিজামউদ্দিন বলেন; “অল্প আহার, স্বল্প কথন, স্বল্প মিলামিশা ও স্বল্প নিদ্রার মধ্যেই আছে মানুষের পূর্ণতা।”

সবর [ﺼﺑﺭ] (আপৌছ)বি ধৈর্য, সহ্য, অপেক্ষা, বিলম্বকরণ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

পারিভাষিক অর্থ; সর্বপ্রকার আপদ-বিপদে কাঁইয়ের ওপর বিশ্বাস রাখাই হলো ধৈর্য। পারম্পরিক সাধকরা জীবনের মূলনীতি রূপে ধৈর্যের অনুশীলন করে থাকেন। কাঁই ধৈর্যধারণকারীকে ভালোবাসেন।

তসলিম [ﺗﺴﻠﻴﻢ] (আপৌছ)বি সম্মান, সমর্পণ, নিবেদন, বিসর্জন, প্রণাম, নমঃ, নমঃস্কার, নমস্তুতি, অভিবাদন, সম্রাটের সম্মুখে অবনত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পদ্ধতি বিশেষ {}

পারিভাষিক অর্থ; আধ্যাত্মিক পথে প্রথমেই পারম্পরিক সাধকদের যে কাজ করা আবশ্যক, তা হলো আধ্যাত্মিক গুরুর নিকট আত্মসমর্পণ। ঠিক এমনই ভাবে তিনি কাঁইয়ের ইচ্ছার কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করাবেন।

ইখলাস [ﺍﺨﻼﺺ] (আপৌছ)বি নির্মলতা, স্বচ্ছতা, পবিত্রতা (প্র) ১. পবিত্র কুরানের ১১২তম অনুচ্ছেদ বিশেষ ২. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.খালিস. ﺨﺎﻟﺺ>}

খালিস [ﺨﺎﻟﺺ] বিণ বিশুদ্ধ, খাঁটি, নির্মল, নির্ভেজাল {}

পারিভাষিক অর্থ; একমাত্র পবিত্র অন্তঃকরণে কাঁইয়ের ধ্যানে নিমগ্ন থাকা।

জিকির [ﺬﻜﺮﺓ] (আপৌছ)বি স্মরণ, জপ, জপনা, রব, উচ্চধ্বনি, ধুয়া, প্রচার, জয়োল্লাস, জয়ধ্বনি, শোরগোল, হৈচৈ, প্রশংসা, কীর্তন, নামকীর্তন, নাম সংকীর্তন, উপাস্যের নামজপনা, একই বক্তব্যের পুনঃপুন উচ্চারণ, slogan (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

পারিভাষিক অর্থ; কাঁইয়ের নাম বা সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের কোনো বিশিষ্ট মন্ত্র পুনঃপুন আবৃত্তি করাকে নামজপনা বলে। মানবদেহের চক্রগুলো সক্রিয় করার জন্য পারম্পরিকগণ নামজপনার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন।

শুকর [ﺸﻜﺮ] (আপৌছ)বি প্রশংসা, সাধুবাদ, ধন্যবাদ, প্রশংসাবাদ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

পারিভাষিক অর্থ; সর্ব অবস্থায় কাঁইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা পারম্পরিক সাধনার গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি।

ইশক্বে খোদা [ﻋﺸﻖ ﺧﺪﺍ] (আপৌছ)বি সাঁই প্রেম, সাঁই ভালোবাসা {.ইশক্ব. ﻋﺷﻖ+ ফা.খোদা. ﺨﺪﺍ}

খোদা [ﺨﺪﺍ] (আপৌছ)বি প্রভু, স্বামী, পতি, রাজা, নেতা (প্র) ইসলামী পুরাণ অনুসারে; জগতের প্রতিপালক বা জগৎপতি (ব্য্য) জীবকুলের লালন-পালনকর্তা বলেই খোদাকে (ﺨﺪﺍ) জগতের স্বামী বা জগৎপতি বলা হয় (শ্ববি) সাঁই, বিষ্ণু, বুদ্ধ গুরু, গোঁসাই, ঈশ্বর (ইংপ) nectar, elixir (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা {ফা}

পারিভাষিক অর্থ; পরম্পরাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কাঁই বা সাঁই প্রেম। পারম্পরিকগণের মন সর্ব সময়ই কাঁইয়ের ধ্যানে মগ্ন থাকে। পার্থিব কোনো বিষয়ই তাদেরকে কাঁইয়ের চিন্তা বিমুখ রাখতে পারে না। এজন্য; পরম্পরাবাদ ‘প্রেমবাদ’ নামে পরিচিত।

ছামা [ﺴﻤﺎﻉ] (আপৌছ)বি শ্রবণ, গান, সঙ্গীত, গীতি (প্র) সাম্প্রদায়িক সঙ্গীত, সাম্প্রদায়িক গান {}

পারিভাষিক অর্থ; সঙ্গীতপ্রিয় কোনো কোনো পারম্পরিক মনে করেন যে; সঙ্গীতের সুর অন্তরে আধ্যাত্মিকভাব বা প্রেম জাগিয়ে তুলে। পারম্পরিকগণের লক্ষ্য কাঁইয়ের জ্ঞানার্জন করা। এ জ্ঞান ইন্দ্রিয়ানুভূতির মাধ্যমে পাওয়া যায় না। পরম-সত্তার সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে প্রেম ধ্যান ও পবিত্রতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে পরম্পরাবাদের আগমন (The arrivals of traditionalism in bangladesh)
বাংলাদেশে যে পরম্পরাতত্ত্ব প্রবেশলাভ করে, তারমধ্যে; দুই পরম্পরার চৌদ্দশাখা প্রসিদ্ধ। চৌদ্দশাখা বলতে চিস্তিয়া পরম্পরার ৫টি শাখা ও ক্বাদেরিয়া পরম্পরার ৯টি শাখাকে বুঝায়। কেউ কেউ মনে করেন ১৩৮৪ খ্রিস্টাব্দে, শিষ্য ও সঙ্গীসহ শাহ জালাল ইয়েমেনি শ্রীহট্টে আগমন করেছিলেন। এঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন উচুঁস্তরের পারম্পরিক। অন্য পারম্পরিক শাহ আলি বাগদাদী ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে আগমন করেন বলে জানা যায়। শরফদ্দিন চিস্তি হিন্দুস্থান হতে বাংলায় আগমন করেন। চট্টগ্রামে মাইজভাণ্ডার অঞ্চলে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে, সৈয়দ আহম্মদুল্লাহ এবং সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভাণ্ডারি আগমন করেন। আরও অনেক আউলিয়া আগমন করেছিলেন বাংলাদেশে। পারম্পরিকদের কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সঙ্গীত করতেন। আমির খসরুর গান প্রায় সমাবেশে খুবই জনপ্রিয় ছিল। পারম্পরিক সাধকগণের সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রের সুর, হৃদয়ে আলোড়নের সৃষ্টি করে এবং হৃদয়ে তন্ময়তা সৃষ্টি করে। সুর প্রেমের বীজ হৃদয়ে সহজেই বপন করে।

পারম্পরিকগণের প্রামাণ্যবাণী (The authoritativeness sayings of the sequentialism)
শাময়িলে তিরমিযি গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে যে; মুহাম্মদকে অধিকাংশ সময় বিষন্ন চিন্তান্বিত দেখা যেত। তিনি নিজেই বলেছেন; “আমি কাঁইকে তোমাদের সবার চেয়ে অধিক ভয় করি।” রুহুল মায়ানি গ্রন্থে আল্লামা আলুসি বলেছেন; “পার্থিব জীবনে ব্র‏হ্মচারিগণের ভয় ও চিন্তা থেকে নিরাপদ থাকা হলো এরূপে যে; পৃথিবীবাসী সাধারণত; যেসব ভয় ও চিন্তার সম্মুখীন হয়, পার্থিব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সুখ শান্তি, মান সম্ভ্রম ও ধন-সম্পদের সামান্য ক্ষতিতেই যে তারা দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে এবং সামান্য কষ্ট ও অস্থিরতার ভয়ে, তা থেকে বাঁচার চেষ্টায় রাতদিন ব্যস্ত থাকে। কাঁইজিগণের স্থান হচ্ছে এসবের অনেক ঊর্ধ্বে। তাদের দৃষ্টিতে পার্থিব ক্ষণস্থায়ী মান-সম্ভ্রম, সুখ-শান্তি তুচ্ছ। এখানকার দুঃখ-কষ্ট পরিশ্রম কোনো লক্ষণীয় বিষয়বস্তুই নয়, যা প্রতিরোধ করতে গিয়ে অস্থির হয়ে উঠতে হবে।

মুসলমান পরম্পরার (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ) বিষয়বস্তু  (The content of triadic traditionalism)
একটি সাম্প্রদায়িক মতবাদের পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন রূপরেখা হলো ৩টি। যথা; ১. অন্ধবিশ্বাস ২. বিশ্লেষণ ও ৩. পরম্পরা। অন্ধবিশ্বাসকে আরবিভাষায় আক্বাইদ (عقائدة), বিশ্লেষণকে ফিক্বাহ (ﻔﻗﻪ) ও পরম্পরাকে তাসাউফ (ﺘﺻﻮﻑ) বলা হয়। অষ্টম অধ্যায়ে পরম্পরার বিষয়বস্তু আলোচনা করব বলে আমরা আশা রাখি।

আক্বাইদ [عقائدة] (আপৌছ)বি. বিশ্বাস, আস্থা, প্রত্যয়, মতবাদ, ধর্মমত, ধর্মবিশ্বাস, দার্শনিক মতবাদ, বিশ্বাসের বিষয় বা ধারা, সত্য বলে মান্য করা, Beliefs, Dogmas, Doctrines . পূর্ণাঙ্গ ইসলামের- ১.আক্বাইদ (عقائدة) ২.ফিক্বাহ (ﻔﻗﻪ) ও ৩.তাসাউফ (ﺘﺻﻮﻑ)- এ ত্রিধারার একটি {.আক্বিদা.ﻋﻘﻴﺪﻩ> বব}

ফিক্বাহ [ﻔﻗﻪ] (আপৌছ)বি. বিধানশাস্ত্র, ব্যবহারশাস্ত্র, সাম্প্রদায়িক নীতিমালা, jurisprudence, doctrine . বিশ্লেষণ, উম্মুক্ত, উন্মোচন, মুক্ত, ছাড়া, এড়া (নাপ) বিশ্লেষক (ফক্বিহ.ﻔﻘﻴﻪ) (ভাব) সাম্প্রদায়িক জ্ঞান কোষ (প্র) ১. মুসলমানদের পারস্যে উদ্ভূত সাম্প্রদায়িক নীতিমালা ২. পূর্ণাঙ্গ ইসলামের; ১. আক্বাইদ (عقائدة) ২. ফিক্বাহ (ﻔﻗﻪ)  ও ৩. তাসাউফ (ﺘﺻﻮﻑ)- এ ত্রিধারার একটি {}

তাসাউফ [ﺘﺻﻮﻑ] (আপৌছ)ক্রি পরম্পরা গ্রহণ করা, পরম্পরা ধারণ করা (প্রাঅ) আনুপূর্ব, যথাক্রম, অনুক্রম, ধারা (শ্ববি). পরম্পরা, সরস্বরা, সৈস্বরা, পরম্পরায়, পরম্পরাগত. ভেদবিদ্যা, ভেদ জ্ঞান, পরাজ্ঞান, পরাবিদ্যা, মরমীবাদ, তত্ত্বভেদ, আদিতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব (প্র). মুসলমান তাসাউফবাদীদের মতে; পূর্ণাঙ্গ ইসলামের; আক্বাইদ (عقائدة), ফিক্বাহ (ﻔﻗﻪ) ও তাসাউফ (ﺘﺻﻮﻑ)- এ ত্রিধারার একটি. আধ্যাত্মিক পথ. আধ্যাত্মিক জ্ঞানের স্তর. সাঁইতত্ত্ব ও কাঁইতত্ত্ব বিষয়ক জ্ঞান. মরমীগণের আচারিত দেহতাত্ত্বিক মতবাদ. রিপু রুদ্রগুলো হতে আত্মশুদ্ধি করার জ্ঞান . আদিকাল হতে যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান; গুরু ও শিষ্যের মাধ্যমে চলে আসছে {.সফ্ফুন. ﺼﻑ>}

সফ্ফ [ﺼَﻑٌّ] (আপৌছ)বি পরম্পরা, পংক্তি, শ্রেণি, সারি, পাটি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিগুলো, সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত বস্তু বা দ্রব্যাদি {}

অন্ধবিশ্বাসের (عقائدة) শাখাকে কোনো মতবাদে তিন, কোনো মতবাদে সাত বা কোনো মতবাদে সাতাত্তর ইত্যাদি সংখ্যায় উপস্থাপন করা হয়। অতঃপর; বিশ্লেষণ বা ফিক্বাহকে (ﻔﻗﻪ) আবার দুইভাগে ভাগ করা হয়। যথা; ১.উপাসনা ও ২.সম্পর্ক। উপাসনাকে আরবি ভাষায় ইবাদৎ (عبادة) ও সম্পর্ককে মুয়ামিলাৎ (معاملات) বলা হয়।

ইবাদৎ [عبادة] (আপৌছ)বি উপাসনা, প্রার্থনা, পূজা, যজ্ঞ, আরাধনা, ভজনা (প্র) ইসলামী বিশ্লেষণবিদ্যার (ফিক্বাহ. ﻔﻗﻪ)- ১. উপাসনা (ইবাদৎ.عبادة) ও ২. সম্পর্ক (মুয়ামিলাৎ. معاملات)- এ দ্বিবিৎ প্রকারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (শ্ববি) সঙ্গম, গমন, মিলন, মৈথুন, সম্ভোগ (অশি)বি চুদ, চুদন, চুদা, sexual intercours (.ﻭﻄﻰ), জিমাউ (.ﺠﻤﺎﻉ), লাওয়াত্বাত (.ﻟﻮﺍﻄﺔ) (আঞ্চ) করা, লাগানো, গুয়ানো (রূপ্রশ) কাম, কেলি, নিত্যকর্ম, পাশাখেলা, বাইচালি, বপ্রকেলি, বপ্রক্রীড়া, journey (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সঙ্গম পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) নর ও নারীর কামাচারিতাকে সঙ্গম বা রূপকার্থে উপাসনা বলা হয় (ফাপ) বন্দেগি (ফা.ﺒﻧﺪﮔﻰ) (ইপ) সালাত (.ﺻﻠﻮﺓ) (ইংপ) rayer, rape, copulation (বাপৌউ) উপাসনা, পূজা, হোম (বাপৌরূ) পাশাখেলা (বাপৌমূ) কাম {}

মুয়ামিলাৎ [معاملات] (আপৌছ)বি ব্যবসায়, বাণিজ্য, ব্যাপার, ব্যবস্থা, সন্ধি, অভিযোগ, লেনদেন, transactions, transactional (প্র) ইসলামী বিশ্লেষণবিদ্যার (ফিক্বাহ. ﻔﻗﻪ)- ১. উপাসনা (ইবাদৎ. عبادة) ও ২. সম্পর্ক (মুয়ামিলাৎ. معاملات)- এ দ্বিবিৎ প্রকারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ {}

অতঃপর; আত্মশুদ্ধি বা তাসাউফকে (ﺘﺻﻮﻑ) আবার দুভাগে ভাগ করা হয়। যথা; ১. মন্দা (বিধ্বংশকারী স্বভাব) ও ২. ভালা (পরিত্রাণকারী গুণাবলী)। মন্দাকে আরবি ভাষায় মুহলিকাত (ﻤﻬﻟﻜﺔ) ও ভালাকে মুনজিয়াত (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ) বলা হয়।

মুহলিকাত [ﻤﻬﻟﻜﺔ] (আপৌছ)বিণ মারাত্মক, সাঙ্ঘাতিক, প্রাণঘাতী, ধ্বংসকারী, বিনষ্টকারী, বিনাশকারী, pernicious, dangerous, destructive, internecine, ruinous, annihilating, baneful, baleful, pestilent, deathly, mortal, deadly, murderous, fatal, lethal, withering (প্র) আত্মশুদ্ধি বিদ্যার (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ)- ১. ধ্বংসকারী (মুহলিকাৎ. ﻤﻬﻟﻜﺔ) ও ২. পরিত্রাণকারী (মুনজিয়াতৎ. ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ)- এ দ্বিবিৎ প্রকারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ {.হালাক. ﻫﻼﻚ>}

হালাক [ﻫﻼﻚ] (আপৌছ)বি সর্বনাশ, বিনাশ, বধ, হত্যা, বিধ্বস্ত বিণ পরিশ্রান্ত, প্রাণান্ত ক্রি ধ্বংস হওয়া, বিনাশ হওয়া, নিশ্চি‎হ্ন হওয়া {}

মুনজিয়াত [ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ] (আপৌছ)বি ণ মুক্তিদানকারী, পরিত্রাণকারী, নিষ্কৃতিদানকারী, Deliverance (প্র) আত্মশুদ্ধি বিদ্যার (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ)- ১. ধ্বংসকারী (মুহলিকাৎ. ﻤﻬﻟﻜﺔ) ও ২. পরিত্রাণকারী (মুনজিয়াত. ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ)- এ দ্বিবিধ প্রকারের এক প্রকার বিশেষ {.নাজাত. ﻧﺟﺎﺓ>}

নাজাত [ﻧﺟﺎﺓ] (আপৌছ)বি মুক্তি, নির্বাণ, প্রবজ্যা, অব্যাহতি, উঁচুভূমি, হিংসা, লোভ ক্রি ছাড়া পাওয়া, বন্ধনমুক্ত হওয়া {}

নিচে ১. ইবাদৎ (عبادة) ও ২. মুয়ামিলাৎ (معاملات) এবং ১. মুহলিকাৎ (ﻤﻬﻟﻜﺔ) ও ২. মুনজিয়াৎ (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ) এর উপাদানগুলো তুলে ধরা হলো।

অনেক মুসলমান গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ বলেন যে সাম্প্রদায়িক বিশ্বাস, সাম্প্রদায়িক বিধান বিশ্লেষণ ও আত্মশুদ্ধি; এ তিন প্রকার বিধি বিধান না জানলে, সে সম্যকজ্ঞানী হতে পারেন না। তারমধ্যে অন্তত; ১. সৃষ্টিকর্তা ২. পালনকর্তা ৩. সংহারকর্তা ৪. স্বর্গ ও ৫. নরক; এ ৫টি শাখার প্রতি অন্ধবিশ্বাস করা সবার জন্য আবশ্যক। এছাড়াও; সাম্প্রদায়িক বিধান বিশ্লেষণের; ১. উপাসনা ও ২. সম্পর্ক এবং আত্মশুদ্ধির ১. ধ্বংসকারী ও ২. পরিত্রাণকারী; এ ৪.টি বিষয়ের প্রত্যেকটির; আবার ১০টি করে প্রধান প্রধান সত্তা রয়েছে। অর্থাৎ; ৪টি বিষয়ের মোট ৪০টি সত্তা রয়েছে। মুসলমান গবেষকরা বলে থাকে; সম্যক বিশ্বাসের পরে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে অন্তত সাম্প্রদায়িক বিশ্লেষণ ও আত্মশুদ্ধির সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। বিশ্লেষণ ও আত্মশুদ্ধি এ ২টি শাখার সম্যক জ্ঞান অর্জন না করলে তাঁকে জ্ঞানী বলা যায় না। এ ব্যাপারে মহাত্মা মালিকের একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য। উক্তিটি হলো; “مَنْ تَفَقَّهَ ﻮَ ﻟَﻢْ ﻴَﺘَﺻَﻮَّﻒَ ﻔَﻘَﺪْ ﺘَﻔَﺴَّﻖَ ﻮَ ﻤَﻦْ ﺘَﺻَﻮَّﻒَ ﻮَ ﻟَﻢْ ﻴَﺘَﻔَﻘَّﻪَ ﻔَﻘَﺪْ ﺘَﺯَﻨْﺪَﻖَ ﻮَ ﻤَﻦْ ﺠَﻤَﻊَ ﺒَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ ﻔَﻘَﺪْ ﺘَﺤَﻘَّﻖ” উচ্চারণ; “মান তাফাক্কাহা ওয়া লাম ইয়াতাসাউয়াফা ফাক্বাদ তাফাছ্ছাক্বা, ওয়া মান তাসাউয়াফা ওয়া লাম ইয়াতাফাক্কাহা ফাক্বাদ তাঝান্দাক্বা। ওয়া মান জামা’য়া বাইনাহুমা ফাক্বাদ তাহাক্কাক্বা।” অর্থ; “যে ব্যক্তি বিশ্লেষণ জ্ঞান (শরিয়ত) অর্জন করল কিন্তু পরম্পরা-জ্ঞান (হাক্বিক্বত) অর্জন করল না, সে পাপ করল। যে ব্যক্তি পরম্পরা-জ্ঞান (হাক্বিক্বত) অর্জন করল কিন্তু বিশ্লেষণ জ্ঞান (শরিয়ত) অর্জন করল না, সে মতবাদ দ্রোহীতা করল এবং যিনি উভয়ই অর্জন করলেন, তিনি যথার্থ কাজ করলেন।” (ইমাম মালিক)

উপরোক্ত আলোচনা হতে এও জানা যায় যে; বিদ্যালয় হতে যারা শুধু বিশ্লেষণ জ্ঞান (ফিক্বাহ. ﻔﻗﻪ) অর্জন করেছেন তারাও সম্যকজ্ঞানী নন এবং যারা পরম্পরার মাধ্যমে শুধু পরম্পরা জ্ঞান (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ) অর্জন করেছেন, তারাও সম্যক জ্ঞানী নন। সম্যকজ্ঞানী হতে হলে একজন মানুষকে অবশ্যই বিশ্লেষণ জ্ঞান (ফিক্বাহ. ﻔﻗﻪ) ও পরম্পরা জ্ঞান (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ) উভয় প্রকার জ্ঞানই অর্জন করতে হবে। বিশ্লেষণ (ফিক্বাহ. ﻔﻗﻪ) ও পরম্পরা (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ) জ্ঞানের কী পরিমাণ অর্জন করলে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা হয়; এর কোনো সীমারেখা আছে কী না? এমন প্রশ্নের উত্তরে মনীষীগণ বলেন যে; বিশ্লেষণ (ফিক্বাহ. ﻔﻗﻪ) ও পরম্পরার (তাসাউফ. ﺘﺻﻮﻑ); ১. উপাসনা ২. সম্পর্ক ৩. ধ্বংসকারী ও ৪. পরিত্রাণকারী; এ ৪টি শাখার মূল ৪০টি সত্তা রয়েছে। এ ৪০টি সত্তার প্রত্যেকের; ১. সংজ্ঞা ২. প্রকার ৩. উপস্থিতি ও ৪. পরিত্রাণ এ চার প্রকার করে মোট ১৬০ প্রকার নিয়ম জানা প্রত্যেক ব্যক্তির একান্ত আবশ্যক। এ ১৬০ প্রকার জ্ঞান ও অন্ধবিশ্বাসের ন্যূনতম ৫টি শাখা অর্থাৎ; ১৬৫টি প্রকার জ্ঞানার্জন করলেই ব্যক্তির সম্যক জ্ঞান অর্জন করা হয়। এ মতটি বর্তমানে প্রায় সর্বজন স্বীকৃত। এ ব্যাপারে নিচে একটি মত উল্লেখ করা হলো।

“ﻔَﻟْﻌِﻟْﻡُ ﺑِﺤُﺪُﻮْﺪِ ﻫٰﺫِﻩِ ﺍﻟْﺎُﻤُﻮْﺮِ ﻮَ ﺤَﻘَﺎﺌِﻘِﻬَﺎ ﻮَ ﺍﺴْﺑَﺎﺑِﻬَﺎ ﻮَ ﻋَﻼَﻤَﺘِﻬَﺎ ﻮَ ﺜَﻤَﺮَﺘِﻬَﺎ ﻮَ ﻋِﻼَﺠِﻬَﺎ ﻮَ ﻫُﻮَ ﻋِﻟْﻡُ ﺍﻟْﺎَﺨِﺮَﺓِ ﻮَ ﻫُﻮَ ﻔَﺮْﺾٌ ﻋَﻴْﻦٌ ﻔِﻰْ ﻔَﺘَﻮَﺍﻯِ ﺍﻟْﻌُﻟَﻤَﺎﺀِ ﺍﻟْﺎَﺨِﺮَﺓِ-” উচ্চারণ; “ফাল ইলমু বিহুদুদি- হাজিহিল উমুরি ওয়া হাক্বায়িক্বিহা ওয়া আসবাবিহা ওয়া আ’লামাতিহা ওয়া সামারাতিহা ওয়া ইলাজিহা, হুয়া ইলমুল আখিরি, ওয়া হুয়া ফারদুন আইনুন, ফি ফাতাওয়ি উলামায়িল আখিরাতি।” অর্থ; “জ্ঞানের সম্যতা হলো; ১. সংজ্ঞা ২. কারণ ৩. চি‎হ্ন ও ৪. ফল। চিকিৎসা হলো জ্ঞানের শেষ এবং এটা আবশ্যক। এর প্রতি মনীষীগণের সমর্থন রয়েছে।” উপরোক্ত আলোচনা হতে দেখা যায়- জ্ঞানের প্রতিটি শাখার অর্থাৎ; মূল ৪০টি শাখার প্রত্যেকটি সত্তার অন্তত; ১. সংজ্ঞা ২. প্রকার (কারণ) ৩. লক্ষণ (চি‎‎হ্ন) ও ৪. চিকিৎসা (ফল)- এ চার প্রকার জ্ঞানার্জন করা সব নর-নারীর জন্য আবশ্যক। অর্থাৎ; জ্ঞানের চার শাখার মোট ১৬০টি এবং অন্ধবিশ্বাসের ৫টি, মোট ১৬৫টি নিয়ম জানাকেই ব্যক্তির সম্যক জ্ঞান অর্জন করা বলা হয়। যে ব্যক্তি এ সম্যক জ্ঞান অর্জন করেন নি তাকে সম্যকজ্ঞানীও বলা যায় না। হোক সে যত উচ্চ শিক্ষিত, হোক সে যত বড় কুলীন। এর মধ্যে বিশ্লেষণ জ্ঞান, সাম্প্রদায়িক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিখতে হয় এবং পরম্পরা জ্ঞান পারম্পরিক গুরুদেবের নিকট শিষ্যত্বপদ গ্রহণের দ্বারা অর্জন করতে হয়। সম্যক জ্ঞান অর্জনের পর আরও এক প্রকার জ্ঞানার্জন করা জ্ঞানীগণের জন্য আবশ্যক- তা হলো ভেদ-জ্ঞান বা ভেদ-বিদ্যা। জ্ঞান দুই প্রকার। যথা; ১. দীক্ষা ও ২. ভেদ। বিশ্লেষণ ও পরম্পরা-জ্ঞানকে দীক্ষা বলা হয় কিন্তু শিষ্য ব্যতীত অশিষ্যের নিকট অব্যক্ত গোপন জ্ঞানকে ভেদজ্ঞান বলা হয়। দীক্ষা পাঠশালা বা আশ্রমে অর্জন করা যায় কিন্তু ভেদ-জ্ঞান অর্জন করতে হলে অবশ্যই পরম্পরা-জ্ঞান গ্রহণ করতে হয়। শুক্র নিয়ন্ত্রণ, জন্মনিয়ন্ত্রন, চন্দ্রশ্বাস, সূর্যশ্বাস, নিশ্চিত করে পুত্র ও কন্যা সন্তান উৎপাদন, অতিত-ভবিষ্যৎ অবগত হওয়া, ভবিষ্যদ্বাণী করা, সাঁই ও কাঁই আগমন দিবস অবগত হওয়া ও স্বস্ব প্রয়াণ দিবস সম্পর্কে অবগত হওয়া  ইত্যাদি জ্ঞানকেই ভেদ-জ্ঞান বলা হয়।

সাধারণত; চুনোপুঁটি সাধকরা কেউই ভেদ-জ্ঞান অবগত নন। যে কোনো এক বা একাধিক পাকা আত্মজ্ঞানী কিংবা পাকা আত্মদর্শনবিদ গুরুর নিকট দীক্ষাগ্রহণ করে যারা দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গ দিয়ে আত্মদর্শন হৃদয়াঙ্গম করেছেন- অবশেষে উক্ত গুরুর নিকট হতে যথাযথ নিয়মে গুরুপদ গ্রহণ করেছেন কেবল তাঁরাই ভেদ-জ্ঞান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। এছাড়াও; স্বয়ংসিদ্ধিগুরু, জামাইগুরু, ভাগ্নেগুরু, ছেলেগুরু, নাতিগুরু, পুতিগুরু, গদিনশিনগুরু, ভারপ্রাপ্তগুরু, অস্থায়ীগুরু ও নাটেরগুরু কেউই কিঞ্চিৎ ভেদ-জ্ঞানও জানেন না। সাথে সাথে বলা যায় সাম্প্রদায়িক মনীষী ও বক্তা কিংবা গতানুগতিক পারম্পরিক গুরু গোঁসাইরা কেউই ভেদ-জ্ঞান জানেন না। ভেদ-জ্ঞান জানেন না বলেই মাধ্যমান নিয়োগ করে উপযুক্ত মাধ্যমী দিয়ে যার যার শিষ্যগুলো ও সম্পদগুলো বাড়ানোর কাজে তারা ব্যস্ত। যদি তারা কিঞ্চিৎও ভেদ-জ্ঞান জানতেন তবে তারা সর্বাগ্রে গণনা করতেন এতসব সম্পদ তার কী হবে? মাধ্যমান নিয়োগ করে দেশের বড় বড় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, মন্ত্রী, প্রতিভু ও অর্থবৃত্তশালীদের শিষ্য করেইবা কী হবে? গুপ্ত-জ্ঞান বা ভেদ-জ্ঞানহীন আনাড়ী গুরুরাই কেবল অর্থের লোভে নিজের সবকিছুকেই বিকিয়ে দেয়। নির্বোধ ঐসব গুরু নামের ভণ্ডরাই তাদের অপকর্ম প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে প্রকৃত আত্মদর্শন গ্রহণ কিংবা এর বিষয়বস্তুটুকু জানা ও বুঝা হতে অনেক অনেক দূরে নিক্ষেপ করেছেন। কারণ; সাধারণ মানুষ নামীদামী গুরুদের অপকর্ম, অর্থলোভ, নারীলোভ, পদলোভ, বিলাসিতা, আভিজাত্য ও নান্দনিকতা দেখে চরম ঘৃণাভরে চিরদিনের জন্য চির প্রত্যক্ষাণ করে থাকে। আবার বুদ্ধিমানদের মধ্যে অনেকে তাদের থেকে দূরে থাকতেও চেষ্টা করেন।

ইসলামী পারম্পরিক মনীষীদের ৪০ পৌরাণিক মূলক সত্তা’ (The 40 mythological radical entities of Islamic sequential scholars)

ক্র ইবাদৎ মুয়ামিলাৎ মুহলিকাৎ মুনজিয়াৎ
১. ইলিম (ﻋﻟﻢ) আকলু (ﺍﻜﻝ) কিবর (ﻜﺑﺮ) তওবা (ﺗﻮﺑﻪ)
২. আক্বাইদ (عقائدة) নিকাহ (ﻧﻛﺎﺡ) হাছাদ (ﺤﺴﺪ) সবর (ﺼﺑﺭ)
৩. ত্বহারাত (ﻄﻬﺭﺓ) কাছব (ﻜﺴﺐ) বোগজ (ﺑﻐﺽ) শুকর (ﺸﻜﺮ)
৪. সলাত (ﺻﻠﻮﺓ) হালাল-হারাম (ﺤﺮﺍﻡ/ﺤﻼﻞ) গজব (ﻏﻀﺐ) তাওয়াক্কুল (ﺗﻮﻜﻝ)
৫. যাকাত (ﺯﻜﺎﺓ) হুবুবিয়াত (ﺤﺑﻮﺑﻴﺔ) গিবত (ﻏﻴﺑﺖ) ইখলাস (ﺍﺨﻼﺺ)
৬. সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) জিমাউ (ﺠﻤﺎﻉ) হিরস (ﺤﺮﺺ) খওফ (ﺧﻭﻒ)
৭. হজ (ﺤﺞ) ছফর (ﺴﻔﺭ) কিজব (ﻜﺬﺐ) রিদা (ﺭﺿﺎﺀ)
৮. তিলাওয়াত (ﺘﻼﻮﺖ) হক্ব (ﺤﻖ) বোখল (ﺑﺨﻝ) মুহাব্বাত (ﻤﺤﺑﺖ)
৯. জিকির (ﺬﻜﺮﺓ) কুরবা (ﻘﺮﺐ) রিয়া (ﺭﻴﺎﺀ) মুরাকাবা (ﻤﺭﺍﻗﺑﺔ)
১০. তরতিব (ﺗﺭﺗﻴﺐ) মুর্শিদ (ﻤﺮﺷﺪ) গুরুর (ﻏﺮﻮﺮ) মুহাছাবা (ﻤﺤﺎﺴﺑﻪ)

ইসলামী সাম্প্রদায়িক মনীষীদের ব্যাখ্যাযোগ্য অংশ (Part of the explainable of Islamic communal scholars)

ক্র ইবাদৎ (عبادة) বাংলা মুয়ামিলাৎ (معاملات) বাংলা
১. ইলিম (ﻋﻟﻢ) জ্ঞান আকলু (ﺍﻜﻝ) খাওয়া
২. আক্বাইদ (عقائدة) বিশ্বাস ধারা নিকাহ (ﻧﻛﺎﺡ) বিবাহ
৩. ত্বহারাত (ﻄﻬﺭﺓ) পবিত্র কাছব (ﻜﺴﺐ) আয়
৪. সলাত (ﺻﻠﻮﺓ) তাপন হালাল-হারাম (ﺤﺮﺍﻡ) (ﺤﻼﻞ) বৈধাবৈধ
৫. যাকাত (ﺯﻜﺎﺓ) রস হুবুবিয়াত (ﺤﺑﻮﺑﻴﺔ) বন্ধুত্ব
৬. সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) বিরতি জিমাউ (ﺠﻤﺎﻉ) সঙ্গম
৭. হজ (ﺤﺞ) জিগীষা ছফর (ﺴﻔﺭ) ভ্রমণ
৮. তিলাওয়াত (ﺘﻼﻮﺖ) পাঠ হক্ব (ﺤﻖ) প্রাপ্য
৯. জিকির (ﺬﻜﺮﺓ) জপনা কুরবা (ﻘﺮﺐ) নৈকট্য
১০. তরতিব (ﺗﺭﺗﻴﺐ) ক্রমধারা মুর্শিদ (ﻤﺮﺷﺪ) গুরু

উপাসনা বিষয়ক পরিভাষা (Adorable terminology)

ক্র আরবি বাংলা ক্র আরবি বাংলা
১. ইলিম (ﻋﻟﻢ) জ্ঞান ৬. সিয়াম (ﺼﻴﺎﻢ) ছুটি
২. আক্বাইদ (عقائدة) বিশ্বাসের ধারা ৭. হজ (ﺤﺞ) চিকীর্ষা
৩. ত্বহারাত (ﻄﻬﺭﺓ) পবিত্রতা ৮. তিলাওয়াত (ﺘﻼﻮﺖ) পাঠ
৪. সলাত (ﺻﻠﻮﺓ) তাপন ৯. জিকির (ﺬﻜﺮﺓ) জপনা
৫. যাকাত (ﺯﻜﺎﺓ) রস ১০. তরতিব (ﺗﺭﺗﻴﺐ) ক্রমধারা

ইলিম [ﻋﻟﻢ] (আপৌছ)বি জ্ঞান, বিজ্ঞান, বোধ, বুদ্ধি, সংজ্ঞা, চেতনা, বিবেচনা, অবগতি, পাণ্ডিত্য, বিদ্যা, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, অনুভবশক্তি, বিদ্যাবত্তা, পরমতত্ত্ব, বুঝা বা বিচার করার ক্ষমতা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

আক্বাইদ [عقائدة] (আপৌছ)বি বিশ্বাসের ধারগুলো, আস্থার বিষয়বস্তুগুলো (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.আকিদা. ﻋﻘﻴﺪﻩ> বব}

ত্বহারাত [ﻄﻬﺭﺓ] (আপৌছ)বি সিদ্ধ, বিশুদ্ধ, পবিত্র, স্বর্গীয় সুরা, পবিত্রপানীয় (প্র) ১. ইসলামী পুরাণ অনুসারে; রজস্বলাদের এক রজ হতে অন্যরজ আগমনের মধ্যবর্তী সময় ২. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

সালাত [ﺻﻠﻮﺓ] (আপৌছ)বি তাপন, উত্তেজনা, তপ্ত, উত্তপ্ত, উষ্ণতা, উপ্ততা, তাপ, তাত, উষ্ম, উষ্ণ, গ্রীষ্ম (প্র) ১. ইসলামী পুরাণ অনুসারে; উঠে-বসে ও হেলেদুলে কৃত আবশ্যক উপাসনা বিশেষ ২. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ (শ্ববি) সঙ্গম, গমন, মিলন, মৈথুন, সম্ভোগ (অশি) চুদ, চুদন, চুদা, sexual intercours, ওয়াত্বিউ (.ﻭﻄﻰ), জিমাউ (.ﺠﻤﺎﻉ), লাওয়াত্বাত (.ﻟﻮﺍﻄﺔ) (আঞ্চ) করা, লাগানো, গুয়ানো (রূপ্রশ) কাম, কেলি, নিত্যকর্ম, পাশাখেলা, বাইচালি, বপ্রকেলি, বপ্রক্রীড়া (অশি) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সঙ্গম পরিবারের আরবীয় পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) নর ও নারীর কামাচারিতাকে সঙ্গম বা রূপকার্থে তাপন বলা হয় (ফাপ) বন্দেগি (ফা.ﺒﻧﺪﮔﻰ) (ইপ) ইবাদত (.عبادة) (ইংপ) prayer, rape, copulation (বাপৌউ) উপাসনা, পূজা, হোম (বাপৌরূ) পাশাখেলা (বাপৌমূ) কাম {}

যাকাত [ﺯﻜﺎﺓ] (আপৌছ)বি রস, কষ, নির্যাস, প্রবৃদ্ধি, আঠা (প্রাঅ) বস্তুর নির্যাস, বস্তুর উত্তমাংশ, বস্তুর সারাংশ, তরল রস, তরল আঠা, গাছের কষ (ব্য্য) সারাবিশ্বের সব পদার্থের মধ্যে নরদেহের শুক্র এবং নারীদেহের দুগ্ধ, সুধা ও মধু সর্বোত্তম উপাদেয় পানীয় বলে উক্ত রসগুলোকে বস্তুর উত্তম অংশ বা যাকাত (ﺯﻜﺎﺓ) বলা হয় (প্র). ইসলামী পুরাণ অনুসারে; উদ্বৃত্ত সম্পদের প্রদেয় অংশ. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ (বাপৌছ) পঞ্চরত্ন (বাপৌচা) পাঞ্চিতা (বাপৌউ) পাঁচভাই (বাপৌরূ) পাণ্ডব (বাপৌমূ) পঞ্চরস {}

সিয়াম [ﺼﻴﺎﻢ] (আপৌছ)বি বিরতি, নিষ্কৃতি, নিস্তার, অবসর, অবকাশ, অব্যাহতি, কর্মবিরতি, ছুটি, ছাড়, রহিত, কর্ম হতে অব্যাহতি গ্রহণ (বাসং) উপবাস, উপোস, উপোসন, অনাহার, অনশন (প্র) . বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; এক সন্ধ্যাকাল হতে অন্য সন্ধ্যাকালের পর, যে দেবতার নিমিত্ত উপোসব্রত পালন করা হয়, সে দেবতার পূজা শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত উপোসব্রত পালন . ইসলামী পুরাণ অনুসারে; প্রভাত হতে সন্ধ্যা বা উষা হতে অর্যমা পর্যন্ত উপোসব্রত পালন . মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ (শ্ববি) পুরো পবিত্রতার ২৭ দিন শুক্রপাতহীন গমনাগমন (পরি) রজস্বালা রমণীদের জোয়ার চলাকালীন তিনদিন বা সাড়ে তিন দিন সময় মৈথুন হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকা (ব্য্য) বাংভারতীয় সাধু ও সন্ন্যাসীগণের মতে; বসিধ দেবতার স্থায়ীত্বকাল মানবদেহে সাড়ে তিন দিন। যারফলে; বছরে তাঁর স্থায়ীত্বকাল (১২ × সাড়ে তিন) = ৪২ দিন। এ বিয়াল্লিশ (৪২) দিন মৈথুন বিরতি হতেই পানাহার বিরতিরূপ উপোসের সাম্প্রদায়িক সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু পারসিক দরবেশগণের (ﺪﺭﻭﻴﺶ) মতে; তাদের “বসিধের” স্থায়িত্বকাল মানবদেহে মাত্র তিনদিন। যারফলে; বছরে তার স্থায়ীত্বকাল (১২×৩) = ৩৬ দিন। এ ছত্রিশ (৩৬) দিন মৈথুন বিরতি হতেই পানাহার বিরতিরূপ উপোসের সাম্প্রদায়িক সংস্কার করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে; মুসলমান রূপকারগণ ত্রিশ (৩০)টি উপোস বা বিরতিকে একমাসে যুক্ত করে অবশিষ্ট ছয় (৬)টি বিরতিকে অন্য মাসে, পূরণের ব্যবস্থা করেছেন। প্রকৃতিগতভাবে বিরতি বা ছুটি ছত্রিশ (৩৬)টি বা বিয়াল্লিশ (৪২)টি যাই হোক না কেন এটি;ই হলো সামাজিক বিরতি বা উপোসের প্রকৃত আত্মদর্শন। উপোসব্রত পালনের নিয়মাবলী সাম্প্রদায়িক সংস্কার মাত্র। আবারও বলতে হয় বিশ্বের বিভিন্ন মতবাদ অবলম্বিগণ প্রতি মাসের উপোস ব্রতকে প্রতি মাসেই রেখে দিয়েছেন কিন্তু পারস্যের মুসলমান রূপকারগণ ত্রিশটি (৩০) বিরতিকে একমাসে এবং অবশিষ্ট ছয় (৬)টি বিরতিকে অন্য মাসে পালনের সাম্প্রদায়িক বিধান সংস্কার করেছেন (বাপ) উপোস (বাপৌমূ) শুক্রধারিতা {}

হজ [ﺤﺞ] (আপৌছ)বি চিকীর্ষা, যুযুৎসা, জিগীষা, জিঘাংসা, জিহীর্ষা, যুদ্ধাভিলাষ, হননচ্ছো (প্রাঅ) বিজয় করার ইচ্ছা, জয় করার ইচ্ছা, বধ করার ইচ্ছা, অপহরণ করার ইচ্ছা, পরাভূত করার ইচ্ছা (প্র). ইসলামী পুরাণ অনুসারে; আরবি চান্দ্রবর্ষের জিলহজ চাঁদের নবম দিনে, মক্কার অদূরবর্তী আরাফাত মাঠে অবস্থান ও পরে কাঁইয়ের পবিত্র ঘর পরিদর্শনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠান. শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; শুক্ররণে শুক্রনিয়ন্ত্রণ করে কানাইয়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার বা রাজত্ব বিস্তারকরণ (বাপ) জীহীর্ষা (বাপৌছ) তীর্থভ্রমণ (বাপৌচা) মুমুক্ষা (বাপৌউ) জিগীষা (বাপৌরূ) নিষ্কামিতা (বাপৌমূ) তীর্থযাত্রা {}

তিলাওয়াত [ﺘﻼﻮﺖ] (আপৌছ)বি পাঠ, পড়া, আবৃত্তি, গ্রন্থপাঠ, গাম্ভির্যসহকারে পাঠ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

জিকির [ﺬﻜﺮﺓ] (আপৌছ)বি স্মরণ, জপ, জপনা, রব, উচ্চধ্বনি, ধুয়া, প্রচার, জয়োল্লাস, জয়ধ্বনি, শোরগোল, হৈচৈ, প্রশংসা, কীর্তন, নামকীর্তন, নাম সংকীর্তন, উপাস্যের নামজপনা, একই বক্তব্যের পুনঃপুন উচ্চারণ, স্লোগান (slogan) (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

তরতিব [ﺗﺭﺗﻴﺐ] (আপৌছ)বি ক্রমধারা, পর্যায়, পরস্পর, শৃঙ্খলা, নিয়ম, ব্যবস্থা, পালা, ধারা, একটার পর একটা এই নিয়ম (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

সম্পর্ক বিষয়ক পরিভাষা (Relationship related terminology)

ক্র আরবি বাংলা ক্র আরবি বাংলা
১. আকলু (ﺍﻜﻝ) খাওয়া ৬. জিমাউ (ﺠﻤﺎﻉ) সঙ্গম
২. নিকাহ (ﻧﻛﺎﺡ) বিবাহ ৭. ছফর (ﺴﻔﺭ) ভ্রমণ
৩. কাছব (ﻜﺴﺐ) আয় ৮. হক্ব (ﺤﻖ) প্রাপ্য
৪. হালাল-হারাম (ﺤﺮﺍﻡ) (ﺤﻼﻞ) বৈধাবৈধ ৯. কুরবা (ﻘﺮﺐ) নৈকট্য
৫. হুবুবিয়াত (ﺤﺑﻮﺑﻴﺔ) বন্ধুত্ব ১০. মুর্শিদ (ﻤﺮﺷﺪ) গুরু

আকলু [ﺍﻜﻝ] ক্রি খাওয়া, ভোজন করা, আহার করা, ভক্ষণ করা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

নিকাহ [ﻧﻛﺎﺡ] (আপৌছ)বি বিয়ে, বিবাহ, পরিণয়, পাণিগ্রহণ, সঙ্গবদ্ধতা (প্র) ইসলামী পুরাণ অনুসারে; দাম্পত্যের স্বীকৃতি, নর-নারী একত্র বসবাসের সামাজিক স্বীকৃতি, যৌনতার সামাজিক স্বীকৃতি বিশেষ, যৌনাঙ্গ ব্যবহারের বৈধতা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

কাছব [ﻜﺴﺐ] (আপৌছ)বি আয়, অর্জন, সঞ্চয়, উপার্জন ক্রি অর্জন করা, আয় করা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

হালাল [ﺤﻼﻞ] (আপৌছ)বিণ বৈধ, সিদ্ধ, পবিত্র, নীতি সঙ্গত (প্র) . ইসলামী পুরাণ অনুসারে; বৈধ ও পবিত্র বিষয়বস্তু . মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

হারাম [ﺤﺮﺍﻡ] (আপৌছ)বি অবৈধ, নিষিদ্ধ, ক্ষতিকর, ধ্বংসকারক, নিষিদ্ধ কাজ বা নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু (প্র) ইসলামী পুরাণ অনুসারে; তাদের নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

হুবুবিয়াত [ﺤﺑﻮﺑﻴﺔ] (আপৌছ)বি বন্ধুত্ব, সখ্যতা, ঘনিষ্ঠতা, আত্মীয়তা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

জিমাউ [ﺠﻤﺎﻉ] (আপৌছ)বিণ সঙ্গম, সহবাস, মৈথুন, কামসংসর্গ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

ছফর [ﺴﻔﺭ] (আপৌছ)বি ভ্রমণ, পর্যটন, যাত্রা, গমন, দেশ পর্যটন (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ (শ্ববি) বিনোদন, তুষ্টিকরণ, relaxation, entertainment, তাসলিয়াত (.ﺗﺴﻟﻴﺔ), লাহউ (.ﻟﻬﻮ) (ইপ) উমরা (.ﻋﻤﺮﺓ), আসর (.ﻋﺻﺮ), নফল (.ﻨﻔﻝ), সালাতুল উশতা (.الصَّلَاةِ الْوُسْطَى) (ইপ) মুসাফির (.ﻤﺴﺎﻔﺭ) (সংজ্ঞা) সাঁইসাধন ও কাঁইসাধন ব্যতীত সাধারণ সঙ্গমকে বিনোদন বা রূপকার্থে ভ্রমণ বলা হয় (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কাম পরিবারের আরবীয় পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও  শ্বরবিজ্ঞানের একটি পরিভাষা বিশেষ (বাপৌউ) পর্যটন (বাপৌরূ) ভ্রমণ (বাপৌমূ) বিনোদন {}

হক্ব [ﺤﻖ] (আপৌছ)বি প্রাপ্য, ন্যায্য, উচিত, যোগ্য, যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত, ন্যায্য অধিকার, ন্যায্য স্বত্ব, ন্যায্য কথা ক্রি নিশ্চিত করা, নিরূপণ করা বিণ সত্য, প্রকৃত, যথার্থ, সঙ্গত (প্র) ১. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ ২. মুসলমান মনীষীদের মতে; অন্যের প্রাপ্য বিশেষ {}

কুরবা [ﻘﺮﺐ] (আপৌছ)বি নৈকট্য, আত্মীয়তা, প্রবেশাধিকার (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ।

মুর্শিদ [ﻤﺮﺷﺪ] (আপৌছ)বিণ গুরু, গোঁসাই, দিশারী, কাণ্ডারী, পথপ্রদর্শক, আধ্যাত্মিক গুরু, আধ্যাত্মিক দীক্ষক (প্র) ১. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক রূপক পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ ২. মুসলমান পারম্পরিকদের আধ্যাত্মিক শিক্ষক- যিনি শিষ্যদের আত্মতত্ত্ব, আত্মদর্শন ও দেহতত্ত্ব বিদ্যা শিক্ষা দিয়ে থাকেন (শ্ববি) বিচারক, মনীষী, উপদেষ্টা, দীক্ষক, দেশিক, মতবাদ জীবনের উপদেষ্টা (বাপৌরূ) গুরু (বাপৌমূ) জ্ঞান {}

পারম্পরিক পরিভাষা (The sequential terminology)

মুহলিকাৎ (ﻤﻬﻟﻜﺔ) মুনজিয়াৎ (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ)
ক্র আরবি বাংলা ক্র আরবি বাংলা
১. কিবর (ﻜﺑﺮ) অহংকার ১. তওবা (ﺗﻮﺑﻪ) প্রতীজ্ঞা
২. হাছাদ (ﺤﺴﺪ) হিংসা ২. সবর (ﺼﺑﺭ) ধৈর্য
৩. বোগজ (ﺑﻐﺽ) শত্রুতা ৩. শুকর (ﺸﻜﺮ) প্রশংসা
৪. গজব (ﻏﻀﺐ) রাগ ৪. তাওয়াক্কুল (ﺗﻮﻜﻝ) সাহস
৫. গিবত (ﻏﻴﺑﺖ) কুৎসা ৫. ইখলাস (ﺍﺨﻼﺺ) নিষ্ঠা
৬. হিরস (ﺤﺮﺺ) লোভ ৬. খওফ (ﺧﻭﻒ) ভয়
৭. কিজব (ﻜﺬﺐ) মিথ্যা ৭. রিদা (ﺭﺿﺎﺀ) তৃপ্তি
৮. বোখল (ﺑﺨﻝ) কৃপণতা ৮. মুহাব্বাত (ﻤﺤﺑﺖ) প্রেম
৯. রিয়া (ﺭﻴﺎﺀ) কলা ৯. মুরাকাবা (ﻤﺭﺍﻗﺑﺔ) অভিনিবেশ
১০. গুরুর (ﻏﺮﻮﺮ) ভুল ১০. মুহাছাবা (ﻤﺤﺎﺴﺑﻪ) গণনা

ধ্বংসকারী পরিভাষা (The destroyer terminology)

ক্র মুহলিকাৎ (ﻤﻬﻟﻜﺔ) বাংলা ক্র মুহলিকাৎ (ﻤﻬﻟﻜﺔ) বাংলা
১. কিবর (ﻜﺑﺮ) অহংকার ৬. হিরস (ﺤﺮﺺ) লোভ
২. হাছাদ (ﺤﺴﺪ) হিংসা ৭. কিজব (ﻜﺬﺐ) মিথ্যা
৩. বোগজ (ﺑﻐﺽ) শত্রুতা ৮. বোখল (ﺑﺨﻝ) কৃপণতা
৪. গজব (ﻏﻀﺐ) রাগ ৯. রিয়া (ﺭﻴﺎﺀ) কলা
৫. গিবত (ﻏﻴﺑﺖ) কুৎসা ১০. গুরুর (ﻏﺮﻮﺮ) ভুল

কিবর [ﻜﺑﺮ] (আপৌছ)বি অহংকর, আড়ম্বর, বৃহত্ত্ব, বড়ত্ব (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
হাছাদ [ﺤﺴﺪ] (আপৌছ)বি হিংসা দ্বেষ, বিদ্বেষ, উচ্চাশা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
বোগজ [ﺑﻐﺽ] (আপৌছ)বি শত্রুতা, ঘৃণা, ইর্ষা, বিদ্বেষ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
গজব [ﻏﻀﺐ] (আপৌছ)বি রাগ, ক্রোধ, ঘৃণা, ঘৃণাযুক্ত ক্রোধ, অত্যাচার, প্রচণ্ড ক্রোধ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
গিবত [ﻏﻴﺑﺖ] (আপৌছ)বি কুৎসা, নিন্দা, পরনিন্দা, অপবাদ, পরোক্ষে নিন্দা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
হিরস [ﺤﺮﺺ] (আপৌছ)বি লোভ, লালসা, কামনা, বাসনা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
কিজব [ﻜﺬﺐ] (আপৌছ)বি মিথ্যা, কপটা, ছলনা, অভিনয় (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
বোখল [ﺑﺨﻝ] (আপৌছ)বি কৃপণনতা, কঞ্জুসিতা, ব্যয়কুণ্ঠতা, কার্পণ্য, কুণ্ঠামি, কিপটেমি, ব্যয়কুণ্ঠেমি (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
রিয়া [ﺭﻴﺎﺀ] ক্রিবিণ ছলনা, কপটতা, চাতুরি, আত্মপ্রদর্শন, লোক দেখানো কার্যাদি (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
গুরুর [ﻏﺮﻮﺮ] (আপৌছ)বি ভুল, সন্দেহ, অভিমান, অহংকার (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

পরিত্রাণকারী পরিভাষা  (The salvation terminology)

ক্র মুনজিয়াৎ (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ) পরিত্রাণকারী ক্র মুনজিয়াৎ (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ) পরিত্রাণকারী
১. তওবা (ﺗﻮﺑﻪ) প্রতীজ্ঞা ৬. খওফ (ﺧﻭﻒ) ভয়
২. সবর (ﺼﺑﺭ) ধৈর্য ৭. রিদা (ﺭﺿﺎﺀ) তৃপ্তি
৩. শুকর (ﺸﻜﺮ) প্রশংসা ৮. মুহাব্বাত (ﻤﺤﺑﺖ) প্রেম
৪. তাওয়াক্কুল (ﺗﻮﻜﻝ) সাহস ৯. মুরাকাবা (ﻤﺭﺍﻗﺑﺔ) অভিনিবেশ
৫. ইখলাস (ﺍﺨﻼﺺ) নিষ্ঠা ১০. মুহাছাবা (ﻤﺤﺎﺴﺑﻪ) গণনা

তওবা [ﺗﻮﺑﻪ] (আপৌছ)বি পশ্চাত্তাপ, সন্তাপ, অনুতাপ, খেদ, অনুশোচনা, পরিতাপ, অনুখেদ (ভাব) পুনরায় পাপকার্য না করার সংকল্প, সত্য পথে প্রত্যাবর্তন (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}

সবর [ﺼﺑﺭ] (আপৌছ)বি ধৈর্য, সহ্য, অপেক্ষা, বিলম্বকরণ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
শুকর [ﺸﻜﺮ] (আপৌছ)বি প্রশংসা, সাধুবাদ, ধন্যবাদ, প্রশংসাবাদ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
তাওয়াক্কুল [ﺗﻮﻜﻝ] (আপৌছ)বি সাহস, নির্ভরতা, ভরসা, আস্থা, দায়িত্ব বোধ (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.ওয়াকিল. ﻭﻜﻴﻞ>}
ওয়াকিল [ﻭﻜﻴﻞ] (আপৌছ)বি প্রতিভূ, প্রতিনিধি, ব্যবহারজীবী, বিধান ব্যবসায়ী (প্র) ইসলামী পুরাণ অনুসারে; বিবাহে যে ব্যক্তি, কনের সম্মতি নিয়ে বরকে জানায় {}
ইখলাস [ﺍﺨﻼﺺ] (আপৌছ)বি নির্মলতা, স্বচ্ছতা, পবিত্রতা (প্র) ১. পবিত্র কুরানের ১১২তম অনুচ্ছেদ বিশেষ ২. মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.খালিস. ﺨﺎﻟﺺ>}
খালিস [ﺨﺎﻟﺺ] (আপৌছ)বিণ বিশুদ্ধ, খাঁটি, নির্মল, নির্ভেজাল {}
খওফ [ﺧﻭﻒ] (আপৌছ)বি ভয়, ভীতি, বিভীষিকা, শঙ্কা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
রিদা [ﺭﺿﺎﺀ] (আপৌছ)বি সম্মতি, সন্তুষ্টি, একে অপরের প্রতি সন্তুষ্টি (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {}
মুহাব্বাত [ﻤﺤﺑﺖ] (আপৌছ)বি প্রেম, স্নেহ, প্রীতি, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.হুব্বুন. ﺤﺐ>}
হুব্ব [ﺤﺐ] (আপৌছ)বি প্রেম, প্রণয়, ভালোবাসা {}
মুরাক্বাবা [ﻤﺭﺍﻗﺑﺔ] (আপৌছ)বি অভিনিবেশ, নিরীক্ষণ ক্রি দেখাশোনা করা, অপেক্ষা করা, অবস্থান করা, ঘাড় নোয়ানো (প্রাঅ) ধ্যান, চিন্তা, গবেষণা, অনুসন্ধান, অন্বেষণ, গভীরচিন্তা, স্বর্গীয় ধ্যান, ঈশ্বরচিন্তা, অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.রাক্বিব. ﺮﻘﻴﺏ>}
রাক্বিব [ﺮﻘﻴﺏ] (আপৌছ)বি অপেক্ষমান, রক্ষী, প্রহরী, পরিদর্শক, নিরীক্ষক, শত্রু, প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিযোগী, অভিভাবক {}
মুহাছাবা [ﻤﺤﺎﺴﺑﻪ] (আপৌছ)বি গণনা, নিরূপণ, নির্ধারণ, ধার্য (প্র) মুসলমান পারম্পরিকদের ৪০ আরবীয় পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষার একটি সত্তা বিশেষ {.হিছাব. ﺤﺴﺎﺏ>}
হিছাব [ﺤﺴﺎﺏ] (আপৌছ)বি গণনা, নিরূপণ, নির্ধারণ, মূল্য, দায়িত্ববোধ, গণনার কৌশল, আয়ব্যয় নির্ধারণ, বিচার বিবেচনা, আয়ব্যয়ের গাণিতিক বিবরণ {}

সাম্প্রদায়িক মুসলমান মনীষীদের গুরুবাদী পারম্পরিকদের মতে; এসব হলো পরিত্রাণলাভকারী সত্তা। কিন্তু এসব হলো; মানব মনের ভালোগুণ বা সংক্ষেপে ‘ভালা’।

বাংভারতীয় গুরুবাদী পরম্পরার বাংলা সত্তাগুলো হলো রিপু, রুদ্র, দশা, মন্দা ও ভালা। এর মধ্যে রিপুর অধীনে ৬টি, রুদ্রের অধীনে ১১টি, দর্শার অধীনে ১০টি, মন্দার অধীনে ১০টি এবং ভালার অধীনে ১০টিসহ মোট ৪৭টি সত্তা রয়েছে। এসবের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, উপস্থিতি এবং সংশোধনের উপায় অর্থাৎ; definition, variations, preasentity  এবং prescription এ চার ধারা যে জানে না সে যতবড় সাম্প্রদায়িক মনীষী কিংবা পারম্পরিক গুরুই হোক না কেন সে সম্যকজ্ঞানের অধিকারী নয়। তার লোভ ও অহংকার বিতাড়িত হয় নি। যারফলে; তার আত্মশুদ্ধিও হয় নি। তাই; তার নিকট দীক্ষা গ্রহণকারী শিষ্যদেরও আত্মশুদ্ধি হবে না।

বাঙালী পারম্পরিক পরিভাষা (Bengali sequential terminology)

মন্দা (Recession)/ مدمر ভালা

Goodish/

ক্র রিপু রুদ্র দশা মন্দা
১. কাম অজ্ঞতা উদ্বেগ অহংকার প্রতীজ্ঞা
২. ক্রোধ অন্ধত্ব জাগরণ হিংসা ধৈর্য
৩. লোভ অন্যায় কুড়েমি শত্রুতা প্রশংসা
৪. মোহ উগ্রতা মলিনতা রাগ সাহস
৫. মদ তাণ্ডব প্রলাপ কুৎসা নিষ্ঠা
৬. মাৎসর্য হতাশা ব্যাধি লিপ্সা ভয়
৭.   ব্যর্থতা উম্মাদ মিথ্যা তৃপ্তি
৮.   ঘৃণা অশান্তি কৃপণতা প্রেম
৯.   বৈরাগ্য ভুল কলা অভিনিবেশ
১০.   অসন্তোস জরা আমিত্ব গণনা
১১.   হত্যা      

مدمر [মুদাম্মির] (আপৌছ)বি মহাধ্বংসকারী, ধ্বংসকারী, বিধ্বংসী, ভয়াবহ, ধ্বংসাত্মক, মারাত্মক, বিপর্যয়কারী, devastating, destructive, slaughterous, baleful, deleterious {}

বাংলা ভাষার পারম্পরিক সত্তাদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের তাসাউফ (ﺘﺻﻮﻑ) সত্তাগুলোর মধ্যে অবিকল সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে তুলে ধরা ধরা হলো।

মন্দা ও মুহলিকাতের সামঞ্জস্য (Adjusting the baddish and the pernicious)

ক্র মন্দা মুহলিকাৎ (ﻤﺤﻟﻜﺔ) ক্র মন্দা মুহলিকাৎ (ﻤﺤﻟﻜﺔ)
১. অহংকার কিবর (ﻜﺑﺮ) ৬. লিপ্সা হিরস (ﺤﺮﺺ)
২. হিংসা হাছাদ (ﺤﺴﺪ) ৭. মিথ্যা কিজব (ﻜﺬﺐ)
৩. শত্রুতা বোগজ (ﺑﻐﺽ) ৮. কৃপণতা বোখল (ﺑﺨﻝ)
৪. রাগ গজব (ﻏﻀﺐ) ৯. কলা রিয়া (ﺭﻴﺎﺀ)
৫. কুৎসা গিবত (ﻏﻴﺑﺖ) ১০. আমিত্ব গুরুর (ﻏﺮﻮﺮ)

ভালা ও মুনজিয়াতের সামঞ্জস্য (Adjusting the Goodish and the deliverance)

ক্র ভালা মুনজিয়াৎ (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ) ক্র ভালা মুনজিয়াৎ (ﻤﻨﺠﻴﺎﺓ)
১. প্রতীজ্ঞা তওবা (ﺗﻮﺑﻪ) ৬. ভয় খওফ (ﺧﻭﻒ)
২. ধৈর্য সবর (ﺼﺑﺭ) ৭. তৃপ্তি রিদা (ﺭﺿﺎﺀ)
৩. প্রশংসা শুকর (ﺸﻜﺮ) ৮. প্রেম মুহাব্বাত (ﻤﺤﺑﺖ)
৪. সাহস তাওয়াক্কুল (ﺗﻮﻜﻝ) ৯. অভিনিবেশ মুরাকাবা (ﻤﺭﺍﻗﺑﺔ)
৫. নিষ্ঠা ইখলাস (ﺍﺨﻼﺺ) ১০. গণনা মুহাছাবা (ﻤﺤﺎﺴﺑﻪ)

এছাড়াও; রিপু রুদ্র ও দশা- আরবীয় পারম্পরিকরা অন্যান্য শিরোনামে বর্ণনা করেছেন। আমরা রিপু রুদ্র মন্দা দশা ও ভালা- সত্তাগুলো আত্মশুদ্ধি অধ্যায়ে বর্ণনা করার আশা রাখি।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!