পশ্চিম

০৭/০১. পশ্চিম
West (উয়েস্ট)/ ‘غرب’ (গারিবা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর আগধড় পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা আগধড়। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা গগন। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা প্রতীচী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা অস্তাচল

অভিধা (Appellation)
পশ্চিম (বাপৌরূ)বি অস্তাচল, প্রতীচী, west, ‘غرب’ (গারিবা) (আল) চরম, শেষ, অনন্তর (প্র) শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; নাভি হতে মস্তক পর্যন্ত দেহভাগ (শ্ববি) আগধড়, ঊর্ধ্বাঙ্গ, নাভির ঊর্ধ্বাংশ, first body, আওয়ালুল বদন (.ﺍﻮﻞ ﺍﻟﺒﺪﻦ) (রূপ্রশ) অম্বর, ব্যোম (ইংপ) sky, heaven (ইপ) সামায়া (.ﺴﻤﺎﺀ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর আগধড় পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) . সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার দিককে বাংলায় ‘পশ্চিম বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, নাভি হতে ঊর্ধ্বাঙ্গকে রূপকার্থে ‘পশ্চিম বলা হয় (বাপৌছ) অস্তপাট ও অস্তাচল (বাপৌচা) গগন ও প্রতীচী (বাপৌউ) দ্যুলোক (বাপৌরূ) পশ্চিম (বাপৌমূ) আগধড়।

পশ্চিমের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of west)
১.   “আমি পূর্বগুলো ও পশ্চিমগুলোর পালনকর্তার শপথ করছি। নিশ্চয় তিনি সক্ষম।” “فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ” উচ্চারণ; “ফা লা উক্বসিমু বিরাব্বিল মাশারিক্বিউ ওয়াল মাগারিবি ইন্না লাক্বাদিরুন।” (কুরান, মায়ারিজ- ৪০)
২.   “তিন তিনটি চন্দ্র উদয় আকাশ ভূমি পাতালে, পশ্চিমে সূর্য উদয় হয়গো ভরা সন্ধ্যাকালে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৮)
৩.   “দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের পালনকর্তা।” “رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ” উচ্চারণ; “রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়াল মাগরিবাইন।” (কুরান, রহমান- ১৭)
৪.   “পশ্চিমে যখন সূর্য উদয় হয়, মানবকর্মের হয়রে সারা, জন্ম-মৃত্যু দূরে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)
৫.   “ভূতের বাড়ির পশ্চিমে অন্ধকার যে কুঠরি, ঐ বন্দিশালে বন্দী রাখে মরামানুষ ধরি ধরি, করে মরা গরু ভজনা- বিচারপালা হয় সূচনা, বলন কয় সে ভেদখানা, জানাও গো আমার কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৬)(মুখ; ভূতের বাড়ি নিমন্ত্রণে গুরু মরাগরু খেয়েছে, তার উল্টাপাল্টা কথায় বুঝি ভুতে পেয়েছে”)

পশ্চিমের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of west)
১.   “অবশেষে যখন সে আমার কাছে আসবে, তখন সে শয়তানকে (বর্থ্য) বলবে; হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত। কত হীন সঙ্গী সে।” (কুরান, জুখরুফ- ৩৮)
২.   “যখন আমরা মুসাকে (অসি) নির্দেশ দিয়েছিলাম, তখন আপনি পশ্চিম প্রান্তে ছিলেন না। এবং আপনি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না। (কুরান, কাসাস- ৪৪)
৩.   “মুসা (অসি) বললেন; তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।” (কুরান, শুয়ারা- ২৮)
৪.   “আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তাদেরকেও; আমরা এ ভুখণ্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের উত্তরাধিকার দান করেছি। আমরা মানব সন্তানদের জন্য তাতে কল্যাণ সন্নিহিত রেখেছি, তাদের ধৈর্য্যধারণের কারণে এবং তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।” (কুরান, আরাফ- ১৩৭)
৫.   “এখন নির্বোধেরা বলবে; কিসে মুসলমানদের (ভদ্র) ফিরিয়ে দিলো তাদের ঐ তীর্থ থেকে। যার ওপর তারা ছিল? আপনি বলুন পূর্ব ও পশ্চিম কাঁইয়ের। তিনি যাকে ইচ্ছা সরলপথে পরিচালিত করেন। (কুরান, বাক্বারা- ১৪২)
৬.   “কাঁই নভো ও ভূমণ্ডলের জ্যোতি। তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি প্রদীপদানি। যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত। কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তেল প্রজ্বলিত হয়। যা পূর্বমুখী নয় ও পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও; তার তেল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির ওপর জ্যোতি। কাঁই যাকে ইচ্ছে তাঁর জ্যোতির দিকে পথ দেখান। কাঁই মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং কাঁই সব বিষয়ে জ্ঞাত।” (কুরান, নূর- ৩৫)
৭.   “কৌশলী বিন্দুতরু তেলে, অবিরত প্রদীপ জ্বলে, পূর্ব পশ্চিমের মধ্য মূলে, আলোতে উজ্বালাময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৫)
৮.   “তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। অতএব; তাঁকেই গ্রহণ করুন কর্মবিধায়ক রূপে।” (কুরান, মুঝাম্মিল- ৯)
৯.   “পঞ্চবাণে তাপন নিরূপণ করিবার ভেদ বিচার, ষোলকলার জানলে বিধি থাকবে না কভু বিমার, পশ্চিমে হলে সূর্য উদয়- জন্মমরণ দূরে পালায়, বলন কয় নাই ভয়- ধরা পড়ে শ্যামকালা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪০)।১০. “পূর্ব ও পশ্চিম কাঁইয়েরই। অতএব; তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও; সেদিকেই কাঁই বিরাজমান। নিশ্চয় কাঁই সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।” (কুরান, বাক্বারা- ১১৫)
১১.  “ইব্রাহিম (বেধনিক. Needler) বললেন; নিশ্চয়ই; তিনি সুর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে। এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো। তখন; সে হতভম্ব হয়ে গেল। আর কাঁই সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে সরলপথ প্রদর্শন করেন না।” (কুরান, বাক্বারা- ২৫৮)
১২.  “প্রদীপ যেন তারকা দেখায়, এক তরু তেলে জ্বলে সদাই, পূর্বে কিংবা পশ্চিমেও নয়, আলো রয় বিজলিময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৬)
১৩. “বলন কাঁইজি বিনয় করে কয়, ঘিরে এলো তেষট্টিবাই, ওরে পশ্চিমে সূর্য উদয়, হলো না জীবনে মোর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৮)

পশ্চিমের সংজ্ঞা (Definition of west)
সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার দিককে পশ্চিম বলে।

পশ্চিমের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of west)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; নাভি হতে ঊর্ধ্বাঙ্গকে পশ্চিম বলে।

পশ্চিমের প্রকারভেদ (Variations of west)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পশ্চিম দুই প্রকার। যথা; ১. পুরুষ পশ্চিম ও ২. নারী পশ্চিম।

. পুরুষ পশ্চিম (Male west)
শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষের নাভির ঊর্ধ্বাংশকে পুরুষ পশ্চিম বলে।

. নারী পশ্চিম (Female west)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; নারীর নাভির ঊর্ধ্বাংশকে নারী পশ্চিম বলে।

প্রমাণ (Evidence)
“رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ” উচ্চারণঃ “রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়াল মাগরিবাইন” অর্থঃ “দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের পালনকর্তা।” (কুরান, রহমান- ১৭)

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পশ্চিম দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান পশ্চিম ও ২. উপমিত পশ্চিম।

. উপমান পশ্চিম (Analogical west)
সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার দিককে উপমান পশ্চিম বলে।

. উপমিত পশ্চিম (Compared west)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানবদেহের নাভি হতে ঊর্ধ্বাঙ্গকে উপমিত পশ্চিম বলে।

পৌরাণিক পূর্বপশ্চিম নির্মাণ সূত্র 46. (Mythological East-West construction formula)
সারা বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ, মরমী বাণী ও গুরুবাদী পুস্তক-পুস্তিকায় মানবদেহের নাভির নিচের অংশকে পূর্ব ধরা হয় ও উপরের অংশকে পশ্চিম ধরা হয়। আর এগুলোকে পৌরাণিক পূর্বপশ্চিম বলা হয়। এর সূত্রের অধীনে বেশকিছু প্রেক্ষিত রয়েছে।

দেহ পঞ্জিকার পূর্বপশ্চিম (The East-West of the body almanac)

পৌরাণিক পূর্বপশ্চিম (Mythological East-West)

পূর্ব  (East) পশ্চিম  (West)
১.    কৈশোরকালকে পূর্ব ধরতে হলে, বার্ধক্যকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
২.    নরককে পূর্ব ধরতে হলে, স্বর্গকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
৩.   নাভির নিচের অংশকে পূর্ব ধরতে হলে, নাভির উপরের অংশকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
৪.    পাপকে পূর্ব ধরতে হলে, পুণ্যকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
৫.    পিতাকে পূর্ব ধরতে হলে, মাতাকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
৬.    মনকে পূর্ব ধরতে হলে, জ্ঞানকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
৭.   যোনিনালিকে পূর্ব ধরতে হলে, জরায়ুকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।
৮.   শিষ্যকে পূর্ব ধরতে হলে, গুরুকে অবশ্যই পশ্চিম ধরতে হবে।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো; বর্তমানের অধিকাংশ বৈখ্যিক, টৈকিক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, অনুবাদক ও অভিধানবিদ সাম্প্রদায়িক এবং পারম্পরিক শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ কিংবা মরমী বাণীর মধ্যে ব্যবহৃত পূর্ব ও পশ্চিমের সাধারণ আভিধানিক অর্থ প্রচার করছে ও করাচ্ছে। তারা একবারও ভেবে দেখে না যে; প্রাকৃতিক পূর্ব-পশ্চিম দ্বারা কখনই শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ ও মরমী বাণী নির্মাণ করা হয় না। তাই; প্রাকৃতিক পূর্ব-পশ্চিম দ্বারা শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ ও মরমী বাণীর ব্যাখ্যা করা যাবে না। যদি কেউ করে তবে পুরোটাই ভুল হবে। আর মহাগ্রন্থের মূলশিক্ষা হতে মানুষ বঞ্চিত হবে। আর সম্প্রদায়ের মধ্যে দল-উপদলের সৃষ্টি হতে থাকবে। যারফলে; এক সময় একই সম্প্রদায়ের উপদল-উপশাখার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম-সংঘর্ষ হবে। আর মানুষ সাম্প্রদায়িক মতবাদতে চরমভাবে ঘৃণা করতে থাকবে।

এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ ও মরমী বাণীর মধ্যে ব্যবহৃত পূর্ব-পশ্চিম কখনই সৌরজগতের দিক নয়। বরং পূর্বগুলো হলো; কৈশোরকাল, নাভির নিচের অংশ, পিতা ও যোনি নালি ইত্যাদি। অন্যদিকে; পশ্চিমগুলো হলো; বার্ধক্য, নাভির উপরের অংশ, মাতা ও জরায়ু ইত্যাদি।

পশ্চিমের পরিচয় (Identity of west)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর আগধড় পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার দিককে পশ্চিম বলা হয়। অনেক পুরাণে দুই প্রকার পশ্চিমের বিবরণ দেখা যায়। যথা; ১.পুরুষ পশ্চিম ও ২.নারী পশ্চিম। পুরুষ পশ্চিমে শুক্র পাওয়া যায়। অন্যদিকে; নারী পশ্চিমে দুগ্ধ, সুধা ও মধু পাওয়া যায়। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন পশ্চিম কল্পনা করা হয়। মানুষের স্থূল আকারভেদেই কেবল এমন করা হয়। প্রকৃত কথা হলো; মানুষের কোনো লিঙ্গান্তর নেই। এছাড়া; মানুষের পুরুষ বা নারী প্রকৃতির কোনো স্বাতন্ত্র্যতাও নেই। কারণ; একজন পুরুষ ও একজন নারী মিলেই পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়। মুসলমানরা মানুষের দেহের পশ্চিম পার্শ্বকে তীর্থদিক নির্ধারণ করেছে। অতঃপর; তারা সর্বপ্রকার শাস্ত্রকর্ম তীর্থের দিকে মুখ করে সম্পাদন করার সাম্প্রদায়িক সংস্কার প্রবর্তণ করেছে। এটি; বিশ্বের প্রায় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক সংস্কারের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়। সবাই যার যার তীর্থের দিকে মুখ করেই শাস্ত্রকর্ম করে। কেউ নিজ-নিজ তীর্থের দিকে মুখ করে বা পিছন করে বর্চ্য ত্যাগ পর্যন্ত করে না। কিংবা পা লম্বা করে বসে না। বর্চ্যালয় নির্মাণও করে না। যারা দেহজগতের চারদিক ব্যতীত সৌরজগতের চারদিক দ্বারা সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা বুঝতে চায়; তারা কোনো দিন প্রকৃত বাস্তবতার সন্ধানলাভ করতে পারবে না। কারণ; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা কখনই সৌরজগতের চারদিক ধরে নির্মাণ করা হয় নি। এবং এখনও হয় না। বরং; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা নির্মাণ করা হয় দৈহিক চারদিকের ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকার পাঠক-পাঠিকাদের সৌরজগতের চারদিক ধরার মতো আন্তর্জাতিক ভুল হতে বের হয়ে আসা উচিত। অন্যথায়; নির্বোধ সাম্প্রদায়িক মনীষীদের চারদিক সম্পর্কিত মনগড়া ব্যাখ্যার খপ্পরে পড়ে কেবল কালক্ষেপণই হবে। কিন্তু কখনও সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকার মর্মোদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে না।

শ্বরবিজ্ঞানে; দুই পশ্চিমের মতো দুই পূর্বের আলোচনাও বিদ্যমান রয়েছে। অনেক সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী পূর্ব বলতে সৌরজগতের গ্রীষ্মকালীন পূর্ব ও শীতকালীন পূর্ব বলে ব্যাখ্যা করে। তেমনই; পশ্চিম বলতে গ্রীষ্মকালীন পশ্চিম ও শীতকালীন পশ্চিম বলে ব্যাখ্যা করে। চরম হাস্যকর এসব পূর্ব-পশ্চিম জীবনের কোন কাজেইবা ব্যবহার করা যায়? সাম্প্রদায়িকরা এমন ঠুনকো ব্যাখ্যা দ্বারা সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মহাগ্রন্থগুলো হতে কী উপকারইবা পেতে পারে? আবার পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে শীত-গ্রীষ্মের কোনো তারতম্য নেই। সেখানেইবা তারা কী ব্যাখ্যা দিবে? যেমন; উত্তরমেরু ও দক্ষিণমেরু। এসব অঞ্চলে কোথায় পাবে তাদের গ্রীষ্মকালীন পূর্ব ও শীতকালীন পূর্ব? যেমন; জীবন-বিধানের ব্যাখ্যা সৌর-বিধান দ্বারা প্রদান করা যায় না; তেমনই; সৌর-বিধানের ব্যাখ্যাও জীবন-বিধান দ্বারা প্রদান করা যায় না। বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক গ্রন্থই জীবন-বিধান। এজন্য; সব বৈখ্যিক ও টৈকিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য সারা বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের ব্যাখ্যা সৌরজগৎমুখী না করে জীবনমুখী করা।

এছাড়া; কুরানের অন্যত্র অসংখ্য পূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিমেরও ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যেমন; “فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ” উচ্চারণঃ “ফা লা উক্বসিমু বিরাব্বিল মাশারিক্বিউ ওয়াল মাগারিবি ইন্না লাক্বাদিরুন।” অর্থঃ “আমি পূর্বগুলো ও পশ্চিমগুলোর পালনকর্তার শপথ করছি। নিশ্চয় তিনি সক্ষম।” (কুরান, মায়ারিজ- ৪০)। এমন ক্ষেত্রে ঐসব নির্বোধ বৈখ্যিকরা আর কিবা ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে? অত্যন্ত হাস্যকর ব্যাপার এই যে; জনৈক বৈখ্যিক অসংখ্য পূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিম বিষয়টির ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে লিখেছে; “যে কোনো মাপনি দিয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠের পূর্বদিককে পরিমাপ করলে যত একক হয়; তার প্রতি একককেই ততো পূর্ব বলা হয়। একইভাবে পশ্চিমদিককে পরিমাপ করলে যত একক হয়; তার প্রতি একককেই ততো পশ্চিম বলা হয়। অর্থাৎ; যে কোনো পরিমাপের পূর্বদিকের এককগুলোকেই অসংখ্যপূর্ব এবং পশ্চিমদিকের এককগুলোকেই অসংখ্য-পশ্চিম বলা হয়।” এবার বলুন বিশ্ববিখ্যাত সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রগুলোর এমন হাস্যকর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দ্বারা বিশ্ববাসী কিবা উপকার গ্রহণ করতে পারবে?

প্রকৃত ব্যাপারটি পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ; পূর্বেই দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের বর্ণনা করা হয়েছে। এবার অসংখ্য পূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিমের ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করব। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে; শ্বরবিজ্ঞানে মানুষের নাভির নিম্নাংশকে পূর্ব এবং ঊর্ধ্বাংশকে পশ্চিম বলা হয়। তেমনই; বিশ্বের সব দ্বিপস্থ জীবের নাভির নিম্নাংশকে পূর্ব এবং ঊর্ধ্বাংশকে পশ্চিম বলা হয়। অর্থাৎ; বিশ্বের সব দ্বিপস্থ প্রাণীর নাভির নিম্নাংশই একেকটি পূর্ব এবং ঊর্ধ্বাংশই একেকটি পশ্চিম। প্রাণীদের দেহের এসব পূর্ব ও পশ্চিম কখনই এক নয়। পুরুষ পূর্বে অবস্থিত শিশ্নগুলো একেক জীবের একেক প্রকার। যেমন; কোনো জীবের নগ্নশিশ্ন naked penis. আবার কোনো জীবের আবৃতশিশ্ন covered penis. তেমনই; কোনো জীবের নগ্নযোনি naked vagina. আবার কোনো জীবের আবৃতযোনি covered vagina. এ সূত্র হতেই সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির মধ্যে অসংখ্য পূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিমের কথা আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু আত্মতত্ত্ব না জেনে ও না বুঝে জীবনবিধানের আলোচনাগুলোকে সৌরবিধান বা ভূতত্ত্ববিদ্যা বা ভূগোলবিদ্যা দ্বারা ব্যাখ্যা করতে গিয়েই নির্বোধ বৈখ্যিকরা সবকিছুই লেজে গোবরে করে ফেলেছে।

নগ্নশিশ্নী (Naked penial/ ‘عراة القضيب’ (আরাত আলক্বাদিব)
যে প্রাণীর শিশ্ন দেহের চামড়া বা পালকের বাইরে সংযুক্ত তাকে নগ্নশিশ্নী বলে। যেমন; মানুষ।

আবৃতশিশ্নী (Covered penial/ ‘مغطاة القضيب’ (মুগাত্বয়াত আলক্বাদিব)
যে প্রাণীর শিশ্ন দেহের চামড়া বা পালকের ভিতরে সংযুক্ত তাকে আবৃতশিশ্নী বলে। যেমন; কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি।

নগ্নযোনি (Naked vaginal/ ‘عراة المهبل’ (আরাত আলমিহবাল)
যে প্রাণীর যোনি দেহের চামড়া বা পালকের বাইরে সংযুক্ত তাকে নগ্নযোনি বলে। যেমন; কুকুর।

আবৃতযোনি (Covered vaginal / ‘مغطاة المهبل’ (মুগাত্বয়াত আলমিহবাল)
যে প্রাণীর যোনি দেহের চামড়া বা পালকের ভিতরে সংযুক্ত তাকে আবৃতযোনি বলে। যেমন; হাঁস ও মুরগি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!