পাখি২


১৬/০৭. পাখি
Phoenix (ফিনিক্স)/ ‘عنقاء’ (আনক্বা) 

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কানাই পরিবারের অধীন গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা যোনি। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা কানাই। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা রজকিনী। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অন্ধকূপ, করঙ্গ, গোকুল, চিতা, চুলা ও  প্রস্তর। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অনন্ত, কবন্ধ, ধন্বন্তরী, বরুণ, বৃত্র, মাধাইহিবাচী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কলাপী, কালনাগিনী, দস্যু, দানব, ব্রজপুর, মরারাক্ষস। এ পরিভাষাটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপাসক’, কানাই’, পালনকর্তা’, বিদ্যুৎ’, ভৃগু’, মন’, শান্তিশ্বাস বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়।

ক্রমি বাংলা ইংরেজি আরবি ব্যবহার মূলক
  চকোর Partridge (পার্ট্রিজ) ‘الحجل’ (আলহাজালা) উপমান উপাসক
  চাতক Jacobinus (জ্যাকৌবিনাস) ‘عندليب’ (আন্দালীব) উপমান উপাসক
পাখি   Strix (স্টেক্স) ‘بومة’ (বুমা) উপমান বিদ্যুৎ
পাখি   Phoenix (ফিনিক্স) ‘عنقاء’ (আনক্বা) উপমান কানাই
পাখি   Hoopoe (হুপী) ‘ﻫﺪﻫﺪ’ (হুদহুদ) উপমান ভৃগু
পাখি   Pigeon (পিজিন) ‘حمامة’ (হামামা) ছদ্মনাম শান্তি
পাখি   Dragon (ড্র্যাগন) ‘تنين’ (তানিনা) ছদ্মনাম মন
পাখি   Pegasus (পেগাসাস) ‘بيغاسوس’ (বিয়াগাসুস) উপমান পালনকর্তা
পাখি   Siren (সাইরেন) ‘صفارة’ (সাফারা) ছদ্মনাম শ্বাস
পাখি   Griffin (গ্রিফিন) ‘أَبَابِيل’ (আবাবিল) ছদ্মনাম বৈতরণী

অভিধা (Appellation)
পাখি (বাপৌউ)বি পক্ষী, বিহগ, বিহঙ্গম, phoenix, ‘عنقاء’ (আনক্বা) গ্রিক-পৌরাণিক পাখি বিশেষ গ্রিক পুরাণ মতে; এক প্রকার পাখি; যে মরুভূমিতে হাজার বছর বেঁচে থাকার পর চিতাগ্নিতে নিজেকে ধ্বংস করে। অতঃপর; চিতাভস্ম হতে পুনরায় বেঁচে ওঠে (শ্ববি) যোনি, vagina, ফারজ (.ﻔﺮﺝ) (রূপ্রশ) কানাই, অযোধ্যা, গণ্ডগ্রাম, গোষ্ঠ, নাগিনী, নৌকা, ব্রজ, স্রাবস্তী (ইংপ) griffin, gryphon (ইদে) দাজ্জাল (.ﺪﺟﺎﻞ), হামান (.ﻫﺎﻤﺎﻦ), হারুত (.ﻫﺎﺭﻮﺓ), হেরা (ﺤﺭﺍ), হাজরে আসুদ (حجر أسود) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কানাই পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; আকাশে উড্ডয়নশীল কোনকিছুকে পাখি বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, যোনিকে রূপকার্থে পাখি বলা হয় (বাপৌছ) কলাপী, কালনাগিনী, দস্যু, দানব, ব্রজপুর, মরা ও রাক্ষস (বাপৌচা) অনন্ত, কবন্ধ, ধন্বন্তরী, বরুণ, বৃত্র, মাধাই ও হিবাচী (বাপৌউ) অন্ধকূপ, করঙ্গ, গোকুল, চিতা, চুলা, পাখি ও  প্রস্তর (বাপৌরূ) রজকিনী (বাপৌমূ) কানাই।

পাখি (বাপৌমূ)বি খড়খড়ির কাষ্ঠদণ্ড, চরকার খুরায় সংলগ্ন কাষ্ঠদণ্ডাবলী, মইয়ের খিল বা ধাপ।

পাখি বি ২৬/৩৩/৩৫ শতাংশ পরিমাণ ভূমি।

Phoenix [ফিনিক্স] (GMP)n গ্রিক পৌরাণিক পাখি বিশেষ, ‘عنقاء’ (আনক্বা), ‘أَبَابِيل’ (আবাবিল) (প্রাঅ) পুনর্জন্মী প্রাণী (প্র) মরুভূমিতে হাজার বছর বাঁচার পর; চিতাগ্নিতে নিজেকে ধ্বংস করে। অতঃপর; চিতাভস্ম হতে পুনরায় বেঁচে ওঠে এমন পাখি {}

Griffin/ Gryphon [গ্রিফিন/ গ্রিফান] (GMP)n (গ্রিক পুরাণ) কাল্পনিক পাখি, এর মাথা ও ডানা ঈগল পাখির মতো এবং দেহ সিংহের মতো {}

عنقاء [আনক্বা] (আপৌছ)বি রূপকথার পাখি বিশেষ, phoenix, ‘أَبَابِيل’ (আবাবিল), ‘طائر خرافي’ (ত্বয়ির খুরাফি) {}

أَبَابِيل [আবাবিল] (আপৌছ)বি কবিকল্পিত পাখি, রূপকথার পাখি, phoenix, ‘عنقاء’ (আনক্বা) (প্র) আরবীয় পৌরাণিক মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে; যবনরা প্রভুর ঘর অধিকার করতে গেলে স্বর্গ হতে দলে দলে এ পাখি এসে তাদের হত্যা করেছিল {}

পাখির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ লালন (A full Lalon about the phoenix)

রাত পোহালে পাখি বলে, দেরে খায় দেরে খায়,
এখন গুরুকার্য মাথায় থুয়ে, কী করি কোথায় যাই।

সদাই বল আত্মারাম,
মুখে লওরে কৃষ্ণনাম,
যাতে মুক্তি পাই,
সে নামে তো- হয় না রত,
খাবো খাবো রব সদাই।

এমন পাখি কেবা পোষে,
খেতে চায় সাগর চুষে,
কিরূপে জোগাই,
বুদ্ধি গেল- সাধ্যি গেল,
কী দিয়ে পেট ভরাই।

আমি লালন লালপড়া,
পাখি সেও নাছোড় ধড়া,
দের সবুরি নাই,
তাইতো; বলি- পেট ভরলে,
কী হয় আর গুরু গোঁসাই।” (পবিত্র লালন- ৮৬৩)

কানাই অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Leaky)
১.   “রাত পোহালে পাখি বলে, দেরে খায় দেরে খায়, তখন গুরুকার্য মাথায় থুয়ে, কী করি কোথায় যাই।” (পবিত্র লালন- ৮৬৩/১)
২.   “ফাল্গুন মাসের তিন তারিখ শনিবার যেদিন, ধাতবপাখি হানবে আঘাত করিবে জনহীন, পাতালভেদী কত মানুষ- কর্মদায় রবে বেহুঁশ, কাঁধে লয়ে আপনার দোষ পূর্বেতে করবে ধিয়ান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৭)

পাখি অর্থে পাখিপরিভাষার ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Bird)
১.   “ব্যাধ নলেতে পাখি ধরেরে, তেমনি, মতো ধরতে হয়রে, তেমনি, অনুরাগের আঠা, লাগাও গুরুর রাঙাপায়।” (পবিত্র লালন- ৮৬১/২)
২.   “ব্যাধে যখন পাখি ধরতে যায়, তখন ঊর্ধ্বমুখে রয়, থাকে এক নিরীক্ষে পাখির দিকে, ফিরে তাকায় না, তুমি আঁখি রেখ পাখির দিকে, নয়নে পলক দিও না।” (পবিত্র লালন- ৩৯০/২)

বিদ্যুৎ অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Electricity)
১.   “কখন উড়াল দেয় পাখি, মুদে যায় ডাগর আঁখি, সোনার খাঁচা ভেঙ্গেচুরে, এ মহামায়ার জাল কাটি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৯)
২.   “কপালের ফের নইলে কী আর, পাখিটির এমন ব্যবহার, খাঁচা খুলে পাখি আমার, কোন বনে পালায়।” (পবিত্র লালন- ৩৭৫/৩)
৩.   “কী এক অচিনপাখি, পুষলাম খাঁচায়, না হলো জনম জনম, তার পরিচয়।” (পবিত্র লালন- ৩০১/১)
৪.   “চিরদিন পোষলাম এক অচিনপাখি, ভেদ পরিচয় দেয় না আমায় ঐ খেদে ঝরে আঁখি।” (পবিত্র লালন- ৪৪৯/১)
৫.   “থাক সে ভবের ভাই বেরাদর, প্রাণপাখি ও নয় আপনার, পরের মজায় মজে এবার, প্রাপ্তধন হারায় পাছে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৩/২)
৬.   “দুঃখে দুঃখে গেল জীবন, শ্যাম বিনা কেউ নাইরে আপন, লালন বলে মনরে কখন, উড়ে যায় খাঁচার পাখি।” (পবিত্র লালন- ৫৮২/৪)।৫.   “বিদ্যা-বুদ্ধি শূন্য এ ধড়, পরানপাখি করে ধড়ফড়, ভাবিয়া কয় বলন ত্রিগড়, স্বস্তি পাবো মরিলে।” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)
৭.   “মায়াডুরি বান্ধিস না, খাঁচায় পাখি রবে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৭)
৮.   “মিছে কড়ির বাহাদুরী, যত করবি ছল চাতুরি, একদিন এ বিশ্ব ছাড়ি, পরানপাখি যায় উড়ি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৭)
৯.   “শুদ্ধ মনে সকলই হয়, তাও তো জুটল না হেথায়, লালন বলে করবি হায় হায়, ছেড়ে গেলে প্রাণপাখি।” (পবিত্র লালন- ৬৩/৪)
১০. “সবে বলে প্রাণপাখি, শুনে চুপে চুপে থাকি, জল কী হুতাসন- ক্ষিতি কী পবন, আমি ধরতে গেলে পাই না তারে।” (পবিত্র লালন- ১২৩/৩)

.                 চিরদিন পোষলাম এক অচিনপাখি
ভেদ পরিচয় দেয় না আমায়
ঐ খেদে ঝরে আঁখি।

পাখি বুলি বলে শুনতে পাই,
রূপ কেমন দেখি না ভাই,
আমি উপায় কী করি,
চিনাল পেলে চেনে নিতাম,
যেতো মনের ধুকধুকি।

আমি পুষে পাখি চিনলাম না,
এ লজ্জা তো যাবে না,
আমি বিষম ঘোর দেখি,
কোন দিন পাখি যাবে উড়ে,
ধূলো দিয়ে দুই চোখী।

নয় দুয়ার এ খাঁচাতে,
যায় আসে পাখি কোন পথে,
চোখে দিয়ে ভেল্কি,
সিরাজ সাঁইজি কয়, বয় লালন বয়;
ফাঁদ পেতে ঐ সম্মুখী।” (পবিত্র লালন- ৪৪৯)

.                 পাখি কখন যেন উড়ে যায়,
            বদ হাওয়া লেগে খাঁচায়।

খাঁচার আড়া পড়ল ধ্বসে,
পাখি আর দাঁড়াবে কিসে,
এখন আমি ভাবছি বসে,
সদা চমকজ্বরা বইছে গায়।

কারবা খাঁচায় কেবা পাখি,
কার জন্যে কার ঝরে আঁখি,
(পাখি) আমারি আঙ্গিনায় থাকি,
আমারে মজাতে চায়।

শুকপাখি যাবে উড়ে,
খালি খাঁচা রবে পড়ে,
সঙ্গের সাথী কেউ না রবে,
লালন ফকির কেঁদে কয়।” (পবিত্র লালন- ৬১৯)

উপাসক অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Admirer)
১.   “চাতক পাখির এমনই ধারা, তৃষ্ণায় জীবন যায় মারা, অন্য বারি খায় না তারা, মেঘের জল না হলে।” (পবিত্র লালন- ৪৪২/৩)
২.   “চাতক পাখির এমনই ধারা, অন্য বারি খায় না তারা, প্রাণ থাকতে জ্যান্ত মরা, ঐরূপ ডালে বসে ডাক।” (পবিত্র লালন- ৯৭৩/৩)
৩.   “চাতক রূপ পাখি যেমন, করে সে প্রেম নিরূপণ, আছি তেমন প্রায়; কারে বা শুধাই, সে চাঁদের উদ্দেশ কে কয়।” (পবিত্র লালন- ১৬৮/২)

পালনর্কতা অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Guardian)

১.   “আঁখির কোনায় পাখির বাসা, দেখতে নারি সে তামাসা, এ বড় আদলা দশা, কে আর ঘুচায়।” (পবিত্র লালন- ৩০১/৩
২.   “আব খাকে পিঞ্জিরা বর্ত্ম, আতশে হলো পোক্ত, পবন আড়া সে ঘরে, আছে শুকপাখি সেথায়, প্রেমশিকল পায়, আজব খেলা খেলছে গুরু-গোঁসাই মেরে।” (পবিত্র লালন- ১২১/২)
৩.   “কত করি পাখির যতন, হলো না সে মনের মতন, উড়াল দিয়ে যাবে যখন, কী হবে কান্নাকাটি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৯)
৪.   “করে আজব কারিগরি, বসে আছে ভান মিস্ত্রী, সে পিঞ্জিরার বাইরে, পাখির যাওয়া আসার দ্বার, আছে শূন্যের ’পর, লালন বলে কেউ কেউ জানতে পারে।” (পবিত্র লালন- ১২১/৪)
৫.   “দশডালেতে চৌদ্দ শাখা, মগডালে পাখির বাসা, মাসেতে ফুটে দুটি ছা, কথা কয় হাজার মাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৮)
৬.   “দুই পায়ে চলে পাখি, জগতে নাই তাকিয়ে দেখি, সে পাখির ফাঁকিফুকি, বুঝবি কিসে তোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৫৭/৪)
৭.   “পাখি রাম রহিম বুলি বলে, করে সে অনন্তলীলে, বলো তারে কী চিনলে, বলো গো নিশ্চয়।” (পবিত্র লালন- ৩০১/২)
৮.   “পানিকাউড় দয়ালপাখি, রাতদিন তারে জলে দেখি, হাবুডুবু করে মরল, তবুও; কাদা গায়ে মাখল না, আমার চিন্তাজ্বর তো গেল না, গুরু উপায় বলো না।” (পবিত্র লালন- ৬২০/১)
৯.   “যখন মন ভবে এলি, জমা খরচ সব নিয়ে এলি, এবার লাভে মূলে সব খুয়ালি, কই রইল পিঞ্জিরার পাখি।” (পবিত্র লালন- ৬৬৩/২)

দেখ রে এবার আপনার, ঘর ঠাওরিয়ে,
আঁখির কোনায় পাখির বাসা,
যায় আসে হাতের কাছ দিয়ে।

সবেতে পাখি একটা,
সহস্র কুঠরি-কোঠা,
আছে আড়া পাতিয়ে,
নিগমে তার- মূল একটি ঘর,
সেথা রয় অচিন হয়ে।

ঘরের আয়না আঁটা চৌপাশে,
মাঝখানে পাখি বসে,
আনন্দিত হয়ে,
দেখ রে ভাই- ধরার জো নাই,
সামান্য হাত বাড়িয়ে।

কেউ দেখতে যদি সাধ করো,
সন্ধানী চেনে ধর,
দিবে দেখিয়ে,
সিরাজ সাঁইজি কয়- লালন তোমায়
বুঝাতে দিন যায় বয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫৩৫)

মন অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Nous)
১.   “মনপাখি তুই আর কতকাল থাকবি খাঁচাতে।” (জনৈক গীতিকার)
২.   “সাঁই নাম বলরে আমার মনপাখি, ভবে কেউ কারো নয় দুঃখের দুঃখী।” (পবিত্র লালন- ৯৩৪/১)

শান্তি অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Peace)
১.   “আবে খাকে গঠল পিঞ্জিরে, শুকপাখি আমার কিসে গঠেছেরে, পাখি পুষলাম চিরকাল, নীল কিংবা লাল, একদিন না দেখলাম সে রূপ সামনে ধরে।” (পবিত্র লালন- ১২১/১)
২.   “আমার সোনার ময়না পাখি কোন দেশেতে গেলা উইড়া রে, দিয়া মোরে ফাঁকি রে আমার সোনার ময়না পাখি।”
৩.   “বন্ধ ছন্দ করিরে এঁটে, ফস করে যায় সকলি কেটে, অমনি সে গর্জিয়ে ওঠে, শুকপাখিরে হানা দেয়।” (পবিত্র লালন- ১১০/২)
৪.   “ভেঙ্গে গেল যৌবনের ডাল, সুখপাখিটা দিলো উড়াল, জনমদুঃখী নিঃস্ব কাঙাল, আমায় করে রাখিলে।” (বলন তত্ত্বাবলী, গীতিকার, বলন কাঁইজি)
৫.   “যেদিন বাতি নিভে যাবে, ভাবেরশহর আঁধার হবে, শুকপাখি সে পালাবে, ছেড়ে সুখ আলয়।” (পবিত্র লালন- ৭২১/৩)

আমার সোনার ময়না পাখি,
কোন দেশেতে গেলা উইড়া রে
দিয়া মোরে ফাঁকি রে ।

সোনা বরণ পাখিরে আমার
কাজল বরণ আঁখি
দিবানিশি মন চায়রে
বাইন্ধা তরে রাখি রে।।

দেহ দিছি প্রাণরে দিছি
আর নাই কিছু বাকি
শত ফুলের বাসন দিয়ারে
অঙে দিছি মাখি রে।।

যাইবা যদি নিঠুর পাখি
ভাসাইয়া মোর আঁখি
এ জীবন যাবার কালে রে
একবার যেন দেখি রে।”
(গীতিকার; মোহাম্মদ ওসমান খান)

শ্বাস অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Breath)
“খাঁচার ভিতর অচিনপাখি, কেমনে আসে যায়, তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ি, দিতাম তার পায়।” (পবিত্র লালন- ৩৭৫/১)

বৈতরণী অর্থে পাখিপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology bird sense for the Styx)
১.   “লোকে বলে কলের পাখি, সদাই তারে পাতালে দেখি, এমনই সে উল্টোমুখী, কামড়ালে কেউ বাঁচে না।।” (বলন তত্ত্বাবলী (২য় খণ্ড))
২.   “সেই পাখির নাম বৈতরণী, রাখো তারে নিজের অধীনি, বলন ভাবে সেই ভাবনী, গুরু ছাড়া বাঁচি না।।” (বলন তত্ত্বাবলী (২য় খণ্ড))

পাখির সংজ্ঞা (Definition of phoenix)
সাধারণত; আকাশে উড্ডয়নশীল কোনকিছুকে পাখি বলা হয়।

পাখির আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of phoenix)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; যোনিকে কানাই বা রূপকার্থে পাখি বলে।

পাখির প্রকারভেদ (Variations of phoenix)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পাখি দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান পাখি ও ২. উপমিত পাখি।

. উপমান পাখি (Analogical phoenix)
সাধারণত; আকাশে উড্ডয়নশীল কোনকিছুকে উপমান পাখি বলা হয়।

. উপমিত পাখি (Compared phoenix)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; যোনিকে কানাই বা উপমিত পাখি বলে।

পাখির পরিচয় (Identity of phoenix)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর কানাই পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর সর্বাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত; আকাশে উড্ডয়নশীল কোনকিছুকে পাখি বলা হয়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল যোনিকে পাখি বলা হয়। যেমন; পাখি ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে ফলের শাস বের করে খায়। তেমনই; যোনি শিশ্নকে ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে শুক্র বের করে। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে যোনিকে পাখি বলা হয়। যোনি এমন একটি স্বর্গীয় পাখি; যে সারাবিশ্বের সব প্রাণীকেই ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে; বড় হাস্যকর বিষয় হলো; সারাবিশ্বের অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক মনীষী পুরাণে ব্যবহৃত পাখি পরিভাষাটির দ্বারা কেবল আকাশে উড্ডয়নশীল সাধারণ বিহঙ্গকেই বুঝে এবং বুঝিয়ে থাকে।

আরও দুঃখের বিষয় হলো; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পৌরাণিক সাহিত্যাদির অনুবাদক, বৈখ্যিক, টৈকিকরা পুরাণে ব্যবহৃত; রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাগুলোকে সাধারণ আভিধানিক শব্দ দ্বারা অনুবাদ করে সর্ব শ্রেণির পাঠক-শ্রোতাকে অনন্তকালের জন্য বিপথগামী বা পথভ্রষ্ট করেছে। নিয়ম ছিল আভিধানিক শব্দের অনুবাদ আভিধানিক শব্দ করতে হবে এবং পারিভাষিক শব্দের অনুবাদ পারিভাষিক শব্দ দ্বারা করতে হবে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মতবাদের প্রভাবপিষ্ট অনুবাদক, বৈখ্যিক ও টৈকিকরা আভিধানিক ও পারিভাষিক উভয় শব্দের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও টীকা কেবল আভিধানিক শব্দ দ্বারাই করেছে। এখনও করেই যাচ্ছে। এ কারণেই সাধারণ মানুষ আগে কোনো দিনই আত্মদর্শন জ্ঞান পায়নি, এখনও পাচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও পাবে না। হ্যাঁ যদি এখনও অনুবাদক, বৈখ্যিক ও টৈকিকরা সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও মরমী পুস্তক-পুস্তিকায় ব্যবহৃত আভিধানিক শব্দকে আভিধানিক শব্দ দ্বারা; বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তাকে বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা দ্বারা; বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাকে বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা দ্বারা; বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষাকে বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা দ্বারা; বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাকে বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা দ্বারা এবং বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষাকে বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা দ্বারা; অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করা আরম্ভ করে; তবেই সাধারণ পাঠক-শ্রোতা সুপথ পেতে আরম্ভ করবে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!