পাপ

০৩/০১. পাপ
Sin (সিন)/ ‘خطيئة’ (খাত্বিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অন্যায় পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা অন্যায়। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা দুর্নীতি। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা দুর্নয়ী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কল্মষ

অভিধা (Appellation)
পাপ (বাপৌরূ)বি অন্যায়, অশুভ, অমঙ্গল, কলুষ, দুষ্কৃতি, ক্ষতি, নষ্ট, ক্ষয়, জঞ্জাল, কষ্ট, ক্লেশ, দুঃখ, sin, ‘خطيئة’ (খাত্বিয়া) (রূপ্রশ) কল্মষ, দুর্নীতি (প্র) পাপের গ্রিক প্রতিশব্দ আমারটিয়া (αμαρτία); যার অর্থ; ব্যর্থতা, ত্রুটি হওয়া, বর্শা নিক্ষেপে ভুল হওয়া (শ্ববি) অবিচার বিণ অবৈধ, নিষিদ্ধ, কলহ, বিবাদ, crime, injustice, improper, ‘ﺍﺛﻡ’ (ইসম), ‘ﺨﻄﺎﻴﺎ’ (খত্বা), হারাম (.ﺤﺮﺍﻡ) (আঞ্চ) মন্দ, খেতি (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অন্যায় পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) . সাধারণত; সর্বপ্রকার অনিয়মকে রূপকার্থে বাংলায় ‘পাপ বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, জননপথে শুক্রপাত করা ও সন্তান রূপে পুনর্জন্মগ্রহণ করাকে রূপকার্থে ‘পাপ বলা হয় (বাপৌছ) কল্মষ (বাপৌচা) দুর্নয়ী (বাপৌউ) দুর্নীতি (বাপৌরূ) পাপ (বাপৌমূ) অন্যায়।

পাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of sin)
১.   “আদ্য-জ্ঞান যার সূক্ষ্ম-মোক্ষ, সাধক তার উপলক্ষ, অপরূপ তার বৃক্ষ, দেখলে জীবের পাপ থাকে না।” (পবিত্র লালন- ১০৬/৩)(মুখ; আপন ঘরের খবর নেনা, অনায়াসে দেখতে পাবি, কোনখানে সাঁইর বারামখানা”)
২.   “আল্লাহ আদম না হলে, পাপ হতো সিজদা দিলে, শিরিক পাপ যারে বলে, এ দিন-দুনিয়ায়।” (পবিত্র লালন- ১১১/২)(মুখ; আপন সুরাতে আদম গঠলেন দয়াময়, নইলে কী ফেরেস্তাকে সিজদা দিতে কয়”)
৩.   “একে তো মোর জীর্ণতরী, পাপে বোঝাই হয়েছে ভারী, কোন দিন যেন তরী ডুবে যায়, লালন বলে গুরু এসে হও কাণ্ডারী, এ প্রেমনৌকায়।” (পবিত্র লালন- ৪০০/৩)(মুখ; গুরু বলো নৌকা খোল, সাধের জোয়ার যায়, মন-পবনের ঢেউ ওঠেছে, প্রেমের বাদাম দাও নৌকায়”)
৪.   “কোথায়রে পাপ-পুণ্যের গুদাম? সাম্প্রদায়িকদের কাল্পনিক অনুমান, মানুষের বাইরে নাইরে কিছু, কেবল প্রতীকী ও উপমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮১)
৫.   “গোপনেতে পাপ করিলে, সে বিচার হয় তিলেতিলে, বেশ বসনে সুখ দেখিলে, ওরে সুখ থাকে না মনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮২)(মুখ; পাপের বিচার ইহজীবনে, হচ্ছে গোপনে মনে, সাম্প্রদায়িকদের যত অনুমান, ফেলে দেও ডাস্টবিনে”)
৬.   “গোপী বিনা জানে কেবা, শুদ্ধরস অমৃতসেবা, গোপীর পাপ-পুণ্য-জ্ঞান থাকে না, কৃষ্ণদর্শনে।” (পবিত্র লালন- ৮৭০/২)(মুখ; সে ভাব সবাই কী জানে, যেভাবে শ্যাম আছে বাঁধা, গোপীর সনে”)
৭.   “জগৎজুড়ে জাতির বড়াই, মূলে খুঁজে জাত নাহি পাই, পাপ-পুণ্য নিতাম কুড়ায়, আপনার চক্ষে দেখিলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৬)(মুখ; যাব কোন জাতি কুলে যাই আসি এক জন্মনালে, মা কহে না জাত পরিচয় মাকে শুধালে”)
৮.   “নিজাম নামে পাপী সেতো, পাপেতে ডুবে রইত, তার মনে সুমতি দিলে, কুমতি তার গেল চলে, আউলিয়া খাতায় নাম লেখলে, জানা গেল এ রক্বমি।” (পবিত্র লালন- ১৯১/৩)(মুখ; ইলাহি আলামিন আল্লাহ, বাদশাহ আলমপানা তুমি, ডুবিয়ে ভাসাতে পারো, ভাসিয়ে কিনার দাও কারো, রাখ মারো হাত তোমার, তাইতো; তোমায় ডাকি আমি”)
৯.   “পাপ-পুণ্যের কথা আমি কারেবা শুধাই, এ দেশে যা পাপ গণ্য অন্য দেশে পুণ্য তাই।” (পবিত্র লালন- ৬২৩/১)
১০. “পাপ হতে চায় বাঁচিবার, দূর করে অন্যায় অত্যাচার, মূলে কোনটি পাপের কারবার, কিভাবে পায় পরিত্রাণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮১)(মুখ; কোথায়রে পাপ-পুণ্যের গুদাম? সাম্প্রদায়িকদের কাল্পনিক অনুমান, মানুষের বাইরে নাইরে কিছু, কেবল প্রতীকী ও উপমান”)
১১.  “পাপের বিচার নিয়ে, পড়ছে সবে গোলকধাঁধায়, পাপ করে মন ব্যাপারী, আত্মার ওপর বিচার লয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৩)
১২.  “প্রাতঃ সন্ধ্যায় করো পূজা, দুর কর পাপের বোঝা, হতে চাও রাজার রাজা, প্রেম-পঞ্চরস ধরো কষে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৮)(মুখ; পাগল মন ঊর্ধ্বরতী শিখ, নিষ্ঠা সাধুর কাছে, ভাঙ্গিয়া সেই ননির হাঁড়ি, মনের মত খাও বসে”)
১৩. “বলবো কী সে পাপের দুষ্কর, চক্ষু হয় ঘোর অন্ধকার, কেউ দেখে না কারো ব্যাপার, কে যায় কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৬৩৫/৩)(মুখ; পুলসিরাতের কথা কিছু, ভাবিও মনে, পার হতে হয় হীরের সাঁকো, ঘোর নিদানে”)
১৪. “সময়ে হয় সকলি সখা, অসময়ে কেউ দেয় না দেখা, যার পাপে সে ভোগে একা, চার যুগেরে।” (পবিত্র লালন- ৪৯৩/৩)(মুখ; তুমি কার আজ কেবা তোমার, এ সংসারে, মিছে মায়ায় মজিয়ে মন, কী করোরে”)।১৫. “সাধু না লইবে যারে, কে আর লইবে তারে, দয়াল জানাও মহিমা- করো পাপ ক্ষমা, এ পাপীর হও সদয়।” (পবিত্র লালন- ১৮৩/৩)(মুখ; আশাসিন্ধু তীরে বসে আছি সদাই, কবে সাধুর চরণধূলি, মোর লাগবে গায়”)

পাপের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of sin)
১.   “অধীন লালনের নিবেদন, ধরি সিরাজ সাঁইজির চরণ, শমন এড়াবে শান্তি পাবে, পাপপথে করবে না গমন।” (পবিত্র লালন- ৪৭২/৫)
২.   “অন্য ধনের নয়রে দুঃখী, মনে বলে হৃদয়ে রাখি, শ্রীচরণখানা, লালন বলে মোর- পাপে চক্ষু ঘোর, তাইতো; আশাপূর্ণ হলো না।” (পবিত্র লালন- ২৮৪/৪)
৩.   “আপন পাপ স্বীকার করি, সিরাজ সাঁইজির চরণ ধরি, লালন বলে পুণ্য পাবে স্বর্গে যাবে, এর বেশি কী ভাবো।” (পবিত্র লালন- ৭১৫/৪)
৪.   “আমায় চরণ ছাড়া করো না, হে দয়াল হরি, পাপ করি পামরা বটে, দোষ দিই তোমারি।” (পবিত্র লালন- ১২২/১)
৫.   “উড়ন্তপাথর মহীমা, পাপ থাকে না দিলে চুমা, যে পাথরের পরশ পেলে, জন্ম-মরণ রহে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪০)
৬.   “একজনে দুই কায়া ধরে, কেউ পুণ্য কেউ পাপ করে, কী হয় তার রোজহাশরে, হিসাবের সময়।” (পবিত্র লালন- ৮৯৪/৩)
৭.   “একদিন চরণ থেমেছিল, তাইতো; মন্দাকিনী হলো, পাপহরা সুশীতল, সে মধুর চরণখানি।” (পবিত্র লালন- ৪৫০/২)
৮.   “কংসের পাপের কারণ, কালীদহে মরিল নীলরতন, লালন বলে পুত্রের কারণ, বাঁচবে না যশোদা মায়।” (পবিত্র লালন- ৭৭৬/৪)
৯.   “কী করতে কিবা করি, পাপে বোঝাই হলো তরী, লালন কয় তরঙ্গ ভারী, সামনে।” (পবিত্র লালন- ৭৫৭/৪)
১০. “কেউ স্বর্গধামে বাসে, পাপ হলে ফিরে আসে, লালন বলে উর্বশী সে, নর্তকী তার প্রমাণ পাই।” (পবিত্র লালন- ২৮৫/৪)
১১.  “খোদা বিনা কেউ নাই এ সংসারে, এ মহাপাপের দায় কে উদ্ধার করে।” (পবিত্র লালন- ৩৮৪/১)
১২.  “গোপালের মনে যে ভাব, বলতে আকুল হই সেসব, লালন বলে পাপ-পুণ্য সব, ভুলে যায় গোপাল সেবে।” (পবিত্র লালন- ২৫৫/৪)
১৩. “ঘুমে ভ্রমে ভুলে শতবার, জনম-পাপ করব কত আর, খুঁজি তোমায় ভব মাঝার, আমারে দাও দরশনী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬০)
১৪. “ঠুনকো জ্ঞানে বড়াই করে, ভাষাতে ভেদাভেদ করে, মূলে শাস্ত্র ভিন্ন নয়রে, ভিন্ন করে লোভ পাপে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৯)
১৫. “তিপ্পান্ন হাজার সে গাছের নাম, সে নামটি হয় মারিফতি মুক্বাম, ডাকলে নাম ধরে- জীবের পাপ হরে, সাধ্য কী জীবে এত পাপ করে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৪/৩)
১৬.  “দমের ঘরে নয়ন দিয়ে, সদাই থাকো হুঁশিয়ারে, তোমার থাকবে না পাপ, আসান পাবি হুজুরে।” (পবিত্র লালন- ৯২৫/৩)
১৭. “পাপকর্ম যদি পূর্বে লেখা যায়, কর্মের লিখিত কাজ করলে, দোষগুণ তার কী হয়।” (পবিত্র লালন- ৬২২/১)
১৮. “পাপক্ষয় গঙ্গাস্নানে, খ্রিস্টানেরা কয় জর্ডানে, এ কথা নেয় না মনে, আন্দাজি যায় তীর্থে ঠেলে।” (পবিত্র লালন- ৬৮৯/৩)
১৯.  “পাপ-পুণ্য মেনে আজি, এখন বসে খেদাই মাছি, লালন বলে মরে বাঁচি, কোন কাজেতে।” (পবিত্র লালন- ৯৪২/৪)
২০. “পাপ-পুণ্যের হয় সূক্ষ্ম-বিচার, সকল ঐশিশাস্ত্রে তাই প্রচার, পড়ে দেখ শাস্ত্রসমাচার, ভিন্নতা পাবি না তাতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৯)
২১.  “পাপ-পুণ্য যতই করি, ভরসা কেবল তোমারি, তুমি যদি হও কাণ্ডারী, ভবভয় তার যায় ছুটে।” (পবিত্র লালন- ২৩৪/২)
২২. “পাপের বিচার দেহধামে, নিরবে নিরবে দেখ গণে, বলন কয় দিব্যজ্ঞানে, দেহত্যাগের পর কিছু নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৩)
২৩. “পুনর্জনম হয় জীবদ্দশায়, তরণী হয় পাপে বোঝাই, করে তার প্রকৃতি নির্ণয়, হও স্বরূপ-পাবন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১০)
২৪. “প্রেম পাপ কী পুণ্য হয়রে, চিত্রগুপ্ত লেখতে না রে, সিরাজ সাঁইজি কয় লালনরে, তাই জানাই।” (পবিত্র লালন- ৮৯১/৪)
২৫. “বাদশাহর আজ্ঞায় দিলে ফাঁসি, ফাঁসিদাতা তো হয় না দোষী, জীবেরে পাপ করিয়ে সাঁই কী, তারে নরকে দেয়।” (পবিত্র লালন- ৬২২/৩)
২৬. “মিঠার জন্য এঁটো দিই মা, পাপ-পুণ্য-জ্ঞান থাকে না, গোপাল খেলে হই সান্ত্বনা, পাপ-পুণ্য কে ভাবে।” (পবিত্র লালন- ২৫৫/২)
২৭. “মেয়ে হয়ে মেয়ের দেশে, ভক্তি সাধন করো বসে, আদি-চন্দ্র রাখ কষে, কখনও তারে ছেড় না, ডুব দিলে প্রেমানন্দে, সুধা পাবে দণ্ডে দণ্ডে, লালন কয় পাপ খণ্ডে, আমার মুক্তি হলো না।” (পবিত্র লালন- ৬৯/৪)।২৮. “যথাকার পাপ তথায় ভোগী, শিশু তবে হয় কেন রোগী, লালন বলে বুঝ দেখি, কখন মাফ হয় শিশুর গুনাখাত্বা।” (পবিত্র লালন- ২৮১/৪)
২৯. “যারে ভাবলে পাপীর পাপ হরে, দিবানিশি ডাক মন তারে” (পবিত্র লালন- ৮২৪/১)
৩০. “যেইবা যত পাপ করেছে, কার বিচার কে দেখেছে, যতসব শাস্ত্রে আছে, অনুমানের রচনায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৩)
৩১. “রূপে নয়ন করে খাঁটি, ভুলে যায় সে নাম মন্ত্রটি, চিত্রগুপ্ত তার পাপ-পুণ্য, কিরূপে লিখে খাতায়।” (পবিত্র লালন- ৮৯০/৩)
৩২. “লোভে পাপ পাপে মরণ, তা কী জানো না রে মন, লালন বলে যা যা এখন, মর গে ঘোর বিমারে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৫/৪)
৩৩. “সাতবার খেয়ে একবার স্নান, নাই পূজা নাই পাপ-পুণ্য-জ্ঞান, অসাধ্যরে সাধ্য-বিধান, শিখাচ্ছে সব ঘাটে পথে।” (পবিত্র লালন- ২২০/২)
৩৪. “সিরাজ সাঁইজি দরবেশ বলে, শোনরে লালন বলি খুলে, শিরক্ব পাপ হয় দলিলে, নিরাকারে সিজদা দিলে।” (পবিত্র লালন- ৬১১/৫)
৩৫. “সে নদীতে স্নান করলে শুভযোগে, ভবভয় তোর দূরে যাবে, পাপের ছোঁয়া না লাগবে, লালন কয় এড়াবি শমনে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৫/৫)
৩৬. “পাপের প্রতিদান মৃত্যু; কিন্তু আমাদের প্রভু যীশু খ্রিস্টো হলেন ঈশ্বরের দান অনন্ত জীবন।” (“For the wages of sin is death, but the gift of God is eternal life in Christ Jesus our Lord.”) (Bible; Romans 6:23)

পাপের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ বলন (A full Bolon on the sin)

কোথায়রে পাপ-পুণ্যের গুদাম?
            সাম্প্রদায়িকদের কাল্পনিক অনুমান,
মানুষের বাইরে নাইরে কিছু,
কেবল প্রতীকী ও উপমান।

করে সবে জাতির বড়াই,
জনমভরে পুণ্য কুড়ায়,
প্রকৃত সত্যপুণ্য কোথায়,
সবার একই অনুমান।

পাপ হতে চায় বাঁচিবার,
দূর করে অন্যায় অত্যাচার,
মূলে কোনটি পাপের কারবার,
কিভাবে পায় পরিত্রাণ।

ত্রিধারা জলের কারবার,
পুণ্য হয় অটলবিহার,
অধঃপতন পাপ সমাচার,
সাধের দেহ হয় শ্মশান।

পাপ-পুণ্য করতে বিচার,
এসে সাধুর সাতপণ্যার,
বলন কাঁইজি নামটি আমার,
ষাটদেশ ঘুরে পেলাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮১)

পাপের ওপর কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ লালন (Some full Lalon on the sin)

.                  খোদা বিনা কেউ নাই এ সংসারে,
            এ মহাপাপের দায় কে উদ্ধার করে।

এ জগৎমাঝে যতজন আছে,
সবে পাপী হয় নিজ-নিজ পাপে,

পাপের বোঝা মাথায় করে,
যাবে আপনাপন গোরে।

পাপের ভার কেউ নেয় না কখন,
করোরে মন করো অন্বেষণ,
লালন বলে যে সে পাপের ভার,
তুলে নেয় শিরোপরে।” (পবিত্র লালন- ৩৮৪)

.                  পাপ-পুণ্যের কথা আমি কারেবা শুধাই
এ দেশে যা পাপ গণ্য,
অন্য দেশে পুণ্য তাই।

দিব্য-আইন অনুসারে,
একনারী বহু পতি ধরে,
এ দেশেতে হলে পরে,
ব্যভিচারে দণ্ড দেয়।

শূকর গরু দুটি পশু,
খেতে বলেছেন যিশু,
হিন্দু মুসলমান পেয়ে কিছু,
তারা পিছুতে হটায়।

দেশ সমস্যা অনুসারে,
ভিন্ন বিধান হতে পারে,
লালন বলে সূক্ষ্মজ্ঞান বিচারে,
পাপ-পুণ্য নাই বালাই।” (পবিত্র লালন- ৬২৩)

পাপের সংজ্ঞা (Definition of sin)
সাধারণত; সর্বপ্রকার অনিয়মকে রূপকার্থে পাপ বলে।

পাপের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of sin)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জননপথে শুক্রপাত করা ও সন্তান রূপে পুনর্জন্মগ্রহণ করাকে রূপকার্থে পাপ বলে।

পাপের প্রকারভেদ (Variations of sin)
শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুসারে পাপ দুই প্রকার। যথা; ১. বড়পাপ ও ২. ছোটপাপ।

.   বড়পাপ (Great sin)
সাধারণত; সাম্প্রদায়িকরা হত্যা, চুরি, মিথ্যা ও আত্মসাৎকে বড়পাপ বলে।

.  ছোটপাপ  ‍(Small sin)
কুটনামি, রাগ, লোভ ও কৃপণতাকে ছোটপাপ বলে।
কয়েকটি পাপকার্য নিচে উল্লেখ করা হলো;

১.   অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।
২.   চৌর্যবৃত্তি বা দস্যুবৃত্তি করা।
৩.   মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।
৪.   মিথ্যা শপথ করা।
৫.   আত্মসাৎ করা।
৬.   গণকের কথা বিশ্বাস করা।
৭.   অপরিচিত লোকের হাতের পান, চা, ধুমপান, মুড়ি, চিড়া, খিচুড়ি ইত্যাদি খাওয়া বর্তমানে সবচেয়ে বড় পাপ বলে গণ্য। কারণ; বর্তমানকালে না চেনে ও না জেনে, অন্যের নিকট হতে এসব খাওয়ার জন্য অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।
৮.   মহামানবগণকে গালি দেওয়া।
৯.   সাম্প্রদায়িক পুস্তক-পুস্তিকা ও দেবতাকে গালি দেওয়া।
১০. ব্যভিচার করা।
১১.  মাদকদ্রব্য সেবন করা।
১২.  পুংমৈথুন বা পুরুষমৈথুন করা।
১৩. অপহরণ করা।
১৪. সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা।
১৫. অনাথের সম্পদ ভক্ষণ করা।
১৬.  কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
১৭. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ও তাঁদের সেবাযত্ন না করা।
১৮. আত্মীয়তার অধিকার রক্ষা না করা।
১৯.  সাঁইয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করা।
২০. বৃত্তিরত অবস্থায় উক্তপদের কর্মের বিনিময়ে উৎকোচ (ঘুষ) গ্রহণ করা ।
২১.  দূতিয়ালি করা বা কুটনামি করা।
২২. অন্যের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ কোনো রমণীকে গোপনে বিবাহ করা।
২৩. সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামি করা।
২৪. সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা সংস্কৃতি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা।
২৫. গুরুর মর্যাদা বা গুরুর বড় আশ্রমের বড়াই করা।
২৬. তুকতাক বা তন্ত্রমন্ত্র করা।
২৭. সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে বর্ণিত রূপকথাগুলোকে বাস্তব ঘটনাবলী মনে করা।
২৮. সাম্প্রদায়িক মতবাদকে ঐশি-বিধান মনে করা।
২৯. পুরাণকে ইতিহাস মনে করা।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, পাপ দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান পাপ ও ২. উপমিত পাপ।

. উপমান পাপ (Analogical sin)
সাধারণত; সর্বপ্রকার অনিয়মকে উপমান পাপ বলে।

. উপমিত পাপ (Compared sin)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জননপথে শুক্রপাত ও সন্তান রূপে জন্মগ্রহণকে উপমিত পাপ বলে।

পাপের বিচার কোথায় কিভাবে হচ্ছে? (Where and how is being judging of the sin?)

.                  পাপের বিচার ইহজীবনে
            হচ্ছে গোপনে মনে।
সাম্প্রদায়িকদের যত অনুমান,
ফেলে দেও ডাস্টবিনে।

প্রকাশ্যের পাপের কাম
দিবালোকে হয় সমাধান,
মনেতে থাকেরে ধিয়ান,
কথা ভুলে না জীবনে।

গোপনেতে পাপ করিলে
সে বিচার হয় তিলেতিলে,
বেশ বসনে সুখ দেখিলে,
ওরে সুখ থাকে না মনে।

পচালে এ বিচার নিলে,
কিভাবে মন রয় পচালে,
মাটির দেহ পচে গেলে,
বিচার হয় কোনখানে।

দেহধামে মনের বিচার,
সাধুশাস্ত্রে তাই প্রচার,
বলন কয় মূল ব্যাপার,
দেখরে চেয়ে দিব্যজ্ঞানে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮২)

.                  মেটে পচাল বিচারালয় যতসব পাগলে কয়,
            এ দেহ ভষ্ম হলে তার বিচার কোনখানে হয়।

যেইবা যত পাপ করেছে,
কার বিচার কে দেখেছে,
যতসব শাস্ত্রে আছে,
অনুমানের রচনায়।

জিয়ান দণ্ড পচালে নিলে,
ভয় রহে না ইহকালে,
পচাল গেলে পচে গলে,
তার পরে কই শাস্তি রয়।

পাপের বিচার দেহধামে,
নিরবে নিরবে দেখ গণে,
বলন কয় দিব্যজ্ঞানে,
দেহত্যাগের পর কিছু নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৩)

কার বিচার দেহ, আত্মা, জ্ঞান নাকি মনের? (Whose judging; body, soul, wisdom or nous?)

পাপের বিচার নিয়ে,
            পড়ছে সবে গোলকধাঁধায়,
পাপ করে মন ব্যাপারী,
আত্মার ওপর বিচার লয়।

মুসলমানদের দর্শনবিধি,
            আত্মা স্রষ্টার প্রতিনিধি,
আত্মা হয় পাপী যদি,
সৃষ্টিকর্তাই পাপী হয়।

আত্মা শুধু থাকে ধড়ে,
            যত পাপ সব মনে করে,
দিব্যজ্ঞানের সূক্ষ্মবিচারে,
মন দাদা আসামী হয়।

দশদশা রিপু ছয়জন,
            মনের মাঝে থাকে গোপন,
মনই জ্বালায় পুড়ায় ভুবন,
আত্মজ্ঞানী বলন কয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮২)

পাপতরণী কী? (What is sinboat?)
১.   “আর কিরে এ পাপীর ভাগ্যে, দয়ালচাঁদের দয়া হবে, কতদিন এ হালে যাবে, বেয়ে এ পাপতরণী।” (পবিত্র লালন- ২১৬/৩)(মুক্তঃ- এ দেশেতে এ সুখ হলো, আবার কোথায় যাই না জানি”)
২.   “দয়াল আমার এ পাপতরণী, আর কতকাল বাইব আমি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)
৩.   “দয়াল আমার এ পাপতরণী, আর কতকাল বাইব আমি, বলন কয় দয়াল তুমি, অকূলে ফেলে রেখ না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০১)

পাপের পরিচয় (Identity of sin)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর অন্যায় পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ। সাধারণত; যে কোনো অনিয়মকে পাপ বলা হয়। অথবা সর্বপ্রকার অন্যায়কেই পাপ বলা হয়। মজার বিষয় হলো; বাংভারতের সাম্প্রদায়িক হিন্দু ও মুসলমানরা কেবল সাম্প্রদায়িক ক্ষেত্রের অনিয়মগুলোকেই পাপ রূপে প্রচার করে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের অনিয়মগুলোকে পাপ বলা হতে বিরত থাকে। এজন্য; সম্প্রদায়িকতা প্রধান (communalism main) অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বাংভারতের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দিনের পর দিন অন্যায় ও অনিয়ম বেড়েই চলেছে। সাম্প্রদায়িক মনীষীদের উচিত সাম্প্রদায়িক ক্ষেত্রের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের অন্যায় ও অনিয়মকেও পাপ নামে ব্যাপক প্রচার-প্রসার আরম্ভ করা। অন্যথায়; সাম্প্রদায়িক মতবাদ প্রধান অঞ্চলে বাস করেও অন্যায় ও অনিয়মের হাত হতে কারো রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। যেমন; সাম্প্রদায়িক হয়ে সাম্প্রদায়িক উপাসনা না করা অন্যায়; কর্মক্ষেত্রে ও বাণিজ্যক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা তার চেয়েও অধিক অন্যায়। এসব অন্যায়কেও সাম্প্রদায়িক এবং পারম্পরিক পুরাণে পাপ বলে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!