পুরাণের পিছন দর্শন

পুরাণের পিছন দর্শন

(Behind the mythology)

ভূমিকা (Introduction)

মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে নরত্বারোপ করে পৌরাণিক চরিত্র নির্মাণ করা হয়। তাই; পৌরাণিক কাহিনী বাস্তব নয় কিন্তু উপমিত বাস্তব। প্রধানত ১০টি স্তর আড়াল করে শ্বরবিজ্ঞান ও পৌরাণিক সাহিত্য নির্মাণ করা হয়।

১.   রূপক পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়।

২.   উপমান পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়।

৩.   চারিত্রিক পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়।

৪.   ছদ্মনাম পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়।

৫.   যার আলোচনা তার মাধ্যমেই করা হয় ভিন্ন ভিন্ন নামে।

৬.   বর্তমান বাস্তব ঘটনাকে অতীত ও ভবিষ্যতে স্থাপন করা হয়।

৭.   জন্মস্থান, জন্মবৃত্তান্ত, কুলুজি, সামাজিক মর্যাদা কিংবা রাজবংশ তাৎক্ষণিকভাবে সৃষ্টি করে অভিনব নামের আলোচনা করা হয়।

৮.   একই আলোচনায় একই সত্তার একাধিক নাম ব্যবহার করা হয়।

৯.   পুরো আলোচনাটি গল্পের মাধ্যমে করা হয়।

১০.       বর্তমানকালেই অতীতকালের আলোচনা করা হয়।

. রূপক পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়

(The analogical terminology is discussed using the metaphoric terminology)

আমরা জানি যে; পুরুষাঙ্গের আভিধানিক অর্থ; শিশ্ন ও নুনু। তবে; প্রাপ্তবয়স্কদের পুরুষাঙ্গকে বলা হয় শিশ্ন। অন্যদিকে; অপ্রাপ্তবয়স্কদের পুরুষাঙ্গকে বলা হয় নুনু

মূলক; বলাই।

রূপান্তরিত মূলক; শিশ্ন।

আভিধানিক প্রতিশব্দ; চ্যাঁট, নুনু, বণ্ড, বাঁড়া, মেঢ়্র, শিশ্ন ও হুল, Penis, ‘ﺬﻜﺭ’।

আঞ্চলিক প্রতিশব্দ; চ্যাং, চণ্ডী, ধন, পোতা, বণ্ড ও সোনা, heru, dickhead, dick.

রূপক পরিভাষা; বৈঠা।

শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে শিশ্নের আলোচনা করার জন্য কখনই আভিধানিক ও আঞ্চলিক পরিভাষা ব্যবহার করা হয় না। পক্ষান্তরে; ব্যবহার করা হয় উপরোক্ত রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষা। সাধারণ মানুষ ও পাঠক-শ্রোতারা উপরোক্ত রূপক পরিভাষার অভিধা জানেও না ও বুঝেও না। এজন্য; পৌরাণিক সাহিত্য যে কেবল শিশ্ন ও যোনির আলোচনা; তা তারা কোনদিন জানতে ও বুঝতে পারে না।

২. উপমান পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করার ব্যাখ্যা

(The compared terminology is discussed using the analogical terminology)

আমরা জানি যে; শিশ্নের উপমান পরিভাষা; আঁচল — হুড়কো। এখানে; বৈঠা রূপক পরিভাষা এবং শিশ্ন উপমিত পরিভাষা। এবার বৈঠার মতো রূপক পরিভাষা দ্বারা শিশ্নের আলোচনা করার অর্থ হলো; কামকেলিতে শিশ্নের কী অবস্থা হয়; তা-ই বৈঠার দ্বারা বর্ণনা করা। বর্ণনাটি হলো; “একবার বৈঠা কেঁদে কেঁদে মাঝিকে বলতে আরম্ভ করল; “গুরু গতরাতে এক দৈত্য আমাকে বলপূর্বক অপহরণ করে একযুগের পরিত্যক্ত একটি অন্ধকূপে নিক্ষেপ করলেন। এটি পূর্বযুগে জ্বলন্ত অগ্নিকূপ ছিল। কূপটি একেত পচাজল দ্বারা পরিপূর্ণ, তারপর; পুনঃপুন আমার মাথার ওপর উষ্ণজল ঢালতে লাগলেন। তাতে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হলো। দৈত্যের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে দ্রুত হত্যা করা। অতঃপর; আমি সহ্য করতে না পেরে ঘন ঘন বমন করতে বাধ্য হই। তারপর; তিনি আমাকে মৃত ভেবে চলে যান। তখন; আমি কোনমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসি।”

কামকেলি শেষ করার পর; শিশ্নের অবস্থা কিরূপ হয়; উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা তা অনুপম রূপক ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উপরোক্ত আলোচনায় জ্ঞানকে ‍রূপকার্থে গুরু বলা হয়েছে। আর শিশ্নকে রূপকার্থে বলা হয়েছে বৈঠা। যোনিকে রূপকার্থে দৈত্য বলা হয়েছে। এখানে যোনিকে দৈত্য বলার কারণ হলো; কাল্পনিক দৈত্য যেমন ছোট, মাঝারি ও বড় সবকিছুই গিলে খেতে পারে। তেমনই; যোনি ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরণের শিশ্ন গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও যোনিকে অন্ধকূপজ্বলন্ত অগ্নিকূপও বলা হয়েছে। এখানে অপ্রাপ্ত বয়স্কা কিশোরীদের যোনিকে এক যুগের পরিত্যক্ত অন্ধকূপ বলা হয়েছে। যেহেতু; কিশোরীদের যোনি প্রায় বারো বছর পর্যন্ত কামকেলিতে ব্যবহার অনুপযোগী থাকে। তাই; সারাবিশ্বের পৌরাণিক সাহিত্যে তাকে বারো বছর বা একযুগের পরিত্যক্ত অন্ধকূপ বলা হয়। কামরসকে রূপকার্থে বলা হয়েছে পচাজলউষ্ণজল। এছাড়াও পৌরাণিক সাহিত্যের কোথাও কোথাও কামরসকে পারথও বলা হয়েছে। আর শুক্রপাতকে রূপকার্থে বলা হয়েছে হত্যা, বমন করা। এখানে পরিষ্কারভাবেই দেখা যায় যে; উপমান পদ ব্যবহার করে পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণ করা হয়েছে বটে। তবে; উপমিত পদ শিশ্ন ও যোনির আলোচনা করা হয়েছে।

. চারিত্রিক পরিভাষা বা নামপদ ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়

(The compared terminology is discussed; using the characteristic terminology or noun)

আমরা জানি যে; শিশ্নের চারিত্রিক পরিভাষা; কর্ণ, জগাই, জনক, মরা, মিন্সা, শুক্রাচার্য। শ্বরবিজ্ঞানে এসব চারিত্রিক পরিভাষা ব্যবহার করে শিশ্নের শুক্র নিয়ন্ত্রণ ও যত্ন নেওয়াসহ সর্বপ্রকার আলোচনা করা হয়। অর্থাৎ; সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে শিশ্নেরই আলোচনা করা হয়; শিশ্নের চারিত্রিক নাম ব্যবহার করে। সাধারণ মানুষ ও পাঠক-শ্রোতারা শিশ্নের চারিত্রিক পরিভাষা জানে না ও বুঝে না। এজন্য; পৌরাণিক সাহিত্য পাঠ-শ্রবণ করে শিশ্নের যত্ন নেওয়া ও শুক্র নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করতে পারে না।

. ছদ্মনাম পরিভাষা ব্যবহার করে উপমিত পদের আলোচনা করা হয়

(The compared terminology is discussed using the pseudonym terminology)

আমরা জানি যে; শিশ্নের ছদ্মনাম পরিভাষা হলো; কামগুরু, কিরীটী ও শ্রীচরণ। এসব পরিভাষা ব্যবহার করে শ্বরবিজ্ঞানে শিশ্নের যত্ন নেওয়া ও শুক্র নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপক আলোচনা করা হয়। অর্থাৎ; সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণে শিশ্নেরই আলোচনা করা হয়; শিশ্নের ছদ্মনাম ব্যবহার করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও পাঠক-শ্রোতারা শিশ্নের ছদ্মনাম পরিভাষা জানে না ও বুঝে না। এজন্য; সাম্প্রদায়িক মহাকাব্যে শিশ্নের ব্যাপক আলোচনা করা হলেও তা জানতে ও বুঝতে পারে না।

. যার আলোচনা তার মাধ্যমেই করা হয় ভিন্ন ভিন্ন নামে

(Who’s discussed by him in different names)

ধরি শিশ্নের উপমান পরিভাষা; আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, পদ, বৈঠা, রশি, লাঠি ও হাত। চারিত্রিক পরিভাষা; বিম্বল, কর্ণ, জগাই, জনক, মরা, মিন্সা ও শুক্রাচার্য। ছদ্মনাম পরিভাষা; কামগুরু, কিরীটী ও শ্রীচরণ। উপরোক্ত পরিভাষা দ্বারা শ্বরবিজ্ঞানে কেবল শিশ্নের আলোচনাই করা হয় কিন্তু সাধারণ মানুষ ও পাঠক-শ্রোতারা এসব পরিভাষা না জানার কারণে মহাকাব্যের শিশ্ন সম্পর্কিত আলোচনার কিছুই অনুধাবন করতে পারে না। এককথায়; উক্ত পরিভাষা দ্বারা কেবল শিশ্নকেই বুঝায়। এবার বাংলা ‘শিশ্ন পরিভাষা দ্বারা শিশ্নেরই আলোচনা তুলে ধরা হলো; “একদেশে ভীষণ অত্যাচারী এক দৈত্য বাস করতো। তার উপদ্রবে ঐ অঞ্চলে কোনো পুরুষ ঘুমাতে পারতো না। প্রতিরাতেই দৈত্য একজন করে পুরুষ হত্যা করতো। একদা বিম্বল দৈত্যকে হত্যা করে ঐ অঞ্চলের পুরুষদের মুক্তি দেওয়ার মানসে একটি লাটি হাতে যাত্রা করলেন। তিনি অত্যন্ত নিকটে গিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখলেন যে; তার মাথা, হাত, পা, চক্ষু ও কর্ণ কিছুই নেই। কেবল আছে একটি মুখ। তার শরীরে লাঠি দিয়ে আঘাত করার কোনো ব্যাবস্থা নেই। অবশেষে; তার মুখের মধ্যে লাঠি ঢুকিয়ে দিয়েই তাকে হত্যা করার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু ঘটনা ঘটল সম্পূর্ণই উল্টো। লাটিটি যতই প্রবেশ করানো হয়; সে হাসতে হাসতে তা গিলতে থাকে। এক পর্যায়ে লাঠিটি গিলে নেওয়ার পর; সে বিম্বলকেই ধরে ফেলল। অতঃপর; তার মাথার দিক হতে গিলতে গিলতে সম্পূর্ণই গিলে নিল। অবশেষে; কোনো উপায়ান্তর না দেখে পেটের মধ্যে প্রবেশ করে বিম্বল তার নাড়িভুঁড়ি কাটতে আরম্ভ করলেন। অতঃপর; একটানা ৩০৯ দিন ধরে নাড়ি কাটার পর; দৈত্যকে নিহত করে তিনি তাঁর লাঠিটিসহ বের হয়ে এলেন। তারপর; ঐ অঞ্চল দৈত্য কর্তৃক নরহত্যার ভীতিমুক্ত হলো। জনগণও নিশ্চিন্তে সুখে শান্তিতে বসবাস আরম্ভ করলেন।”

উপরোক্ত পৌরাণিক কাহিনীতে শিশ্নের গল্পই করা হয়েছে; শিশ্নের রূপক ও উপমান পদ ব্যবহার করে। যেমন; এখানে; বিম্বল শিশ্নের চারিত্রিক রূপ ও লাঠি শিশ্নের উপমান রূপ। তাই; বলা হয়; পৌরাণিক সাহিত্যে যার আলোচনা তার মাধ্যমেই করা হয়; ভিন্ন ভিন্ন নামে।

. বর্তমান বাস্তব ঘটনাকে অতীত ও ভবিষ্যতে স্থাপন করা হয়

(The present real event is set in the past and the future)

ধরি তিন দিন বয়সের একজন শিশু। একে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকালে স্থাপন করে সাধারণ সম্প্রদায় ভীরু মানুষের মনে চরম ভীতির সঞ্চার করতে হবে। যেমন; বলা হলো; “পাপীরা মারা যাওয়ার পর আবার তাদের পুনরুত্থান করা হবে। প্রতীতিরা তাদেরকে মারবেন, নির্যাতন করবেন। তবুও; তারা কিছুই করতে পারবে না। তাদের মুখ থাকবে কিছুই বলতে পারবে না, চোখ থাকবে কিছুই দেখতে পাবে না, কর্ণ থাকবে কিছুই শুনতে পাবে না, হাত থাকবে কিছুই ধরতে পারবে না, পা থাকবে কিন্তু হাঁটতে পারবে না। এছাড়াও; তাদের মুখ থাকবে কিন্তু কিছুই খেতেও পারবে না। তবে; পান করতে পারবে। তখন; স্ব স্ব কৃতকর্মের জন্য তাদের চরমভাবে নিষ্পেষণ ও নির্যাতন করা হবে। এভাবে তাদের শাস্তির পর শাস্তি চলতেই থাকবে। সেখানে তারা কেউই আর মৃত্যুবরণ করবে না। তাই; পাপীদের পাপ হতে বিরত থাকা একান্ত প্রয়োজন।”

উপরোক্ত পৌরাণিক কাহিনীতে একজন শিশুকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে স্থাপন করে আলোচনা করা হয়েছে। বাস্তবেই দেখা যায় শিশুদের মুখ আছে কিন্তু কথা বলতে পারে না; চোখ আছে কিন্তু কাউকে চিনে না; কান আছে কিন্তু কিছুই শোনে না; হাত আছে কিন্তু কিছুই ধরতে পারে না; পা আছে কিন্তু হাঁটতে পারে না। এই বাস্তবতাকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে স্থাপন করে সাম্প্রদায়িক ঠাক-পুরুৎ ও মোল্লা-মুন্সিরা সাধারণ মানুষকে পরকালের ভয় দেখিয়ে শাসন-শোষণ-নির্যাতন করছে। তাইতো বলা যায়; সারাবিশ্বেই শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণ রচনার সময়ে বর্তমানের বাস্তব ঘটনাকে দূরবর্তী অতীত ও ভবিষ্যতে স্থাপন করা হয়।

৭ জন্মস্থান, জন্মবৃত্তান্ত, কুলুজি, সামাজিক মর্যাদা কিংবা রাজবংশ তাৎক্ষণিকভাবে সৃষ্টি করে অভিনব নামের আলোচনা করা হয়

(The birthplace, birthdate, genealogy, social status or dynasty were created instantly and the novel name was discussed)

ধরি শিশ্নের একটি অভিনব নাম সৃষ্টি করে তার কুলুজি, জন্মস্থান, জন্মবৃত্তান্ত, সামাজিক মর্যাদা কিংবা রাজবংশ নির্মাণ করতে হবে। শিশ্ন আঙুলের মতো বলেই বৌদ্ধশাস্ত্রে একে বলা হয় আঙুলিমাল। এ সূত্র ধরে বাংলাদেশী আঙুল হতে পরিভাষা সংক্ষেপ করে বাঙুল নির্মাণ করা হলো {(বাংলাদেশ হতে বাং + আঙুল)}। এবার শিশ্নের অভিনব একটি নাম রাখা হলো বাঙুল। যেমন; আবরণ হতে বৈদিক দেবতা ‘বরুণ এবং আবৃত হতে করা হয়েছে ‘বৃত্র। এবার বাঙুলের কুলুজি নির্মাণ করতে হবে। আমরা বলাই পরিবার হতেই বাঙুলের পিতৃ কুলুজি করব। ধরি বাঙুলের পিতা ছিলেন বলাই, তার পিতা ছিলেন বিম্বল, তার পিতা ছিলেন উপসুন্দ, তার পিতা ছিলেন গণেশ, তার পিতা ছিলেন বলরাম, তার পিতা ছিলেন মধু, তার পিতা ছিলেন মদন, তার পিতা ছিলেন রতীপতি, তার পিতা ছিলেন শম্ভু, তার পিতা ছিলেন রাবণ, তার পিতা ছিলেন সুদাম, তার পিতা ছিলেন হেরস্ব। ব্যাস বাঙুলের কুলুজি হয়ে গেল।

এবার বাঙুলের জন্মস্থান, জন্মবৃত্তান্ত, সামাজিক মর্যাদা কিংবা রাজবংশ নির্মাণ করতে হবে। বাঙুল ছিলেন মৈণাল নগরের বাঙুল রাজবংশের প্রথম সম্রাট। অনুমান করা যায় যে; তিনি ৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর; তিনি ১৩৬ বছর আয়ুলাভ করেছিলেন। তার সময় প্রজাদের সুখ-শান্তির সীমা ছিল না। তাদের ছিল পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গোরু আর চৌদিকে ছিল বিভিন্ন ফল-মূলের গাছ। ঐতিহাসিকগণের মতে মৈনাল বংশের পূর্বপুরুষরা ৬৬৬৬ বছর পূর্বে যমুনা নদীর উত্তর পাড়ে সুখী সমৃদ্ধিশালী ঐ নগরটি গড়ে তুলেছিলেন। নদীপথে যেতে থাকলে কিশোরগঞ্জের চৌদ্দশো পার হলেই রূপগঞ্জের নিকট মৈণাল নগরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যেতো। দীর্ঘদিন হতে সংস্কারের অভাবে এ রাজবাড়ির নামটি ছাড়া আর কোনকিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন নগরটির ব্যাপারে কেউ কিছুই বলতে পারে না। ঐতিহাসিকগণ মনে করেন বাঙুল রাজবংশের স্থাপিত মৈণাল নগরের ধ্বংসাবশেষ গত ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল।

জন্মস্থান ও সামাজিক মর্যাদা নির্মাণ করা শেষ হলো।

এখানে; মৃণাল অর্থ পদ্মের ডাঁটা। মৃণাল হতেই মৈণাল করা হয়েছে। যেভাবে বিকালকে করা হয় বৈকাল। অর্থাৎ; শিশ্নের ছদ্মনাম করণ করা হয়েছে মৈণাল। অতঃপর; পৌরাণিক শূন্যক সংখ্যা সূত্র দ্বারা মানুষের ৩২টি দাঁত হতে একটি শূন্য (০) বৃদ্ধি করে ৩২০ করা হয়েছে। তারপর; পৌরাণিক স্থাপক সংখ্যা সূত্রের মাধ্যমে এক নিরীক্ষের ১ ও ছত্রিশ রবির ৩৬ পাশাপাশি সরলভাবে স্থাপন করে ১৩৬ রূপক সংখ্যাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পৌরাণিক স্থাপক সংখ্যা সূত্র দ্বারা ছয় প্রহরের ৬, ছয় পায়ের ৬, ছয় রিপুর ৬ ও ছয় চক্রের ৬ কে একত্রে পাশাপাশি সরলভাবে স্থাপন করে ৬৬৬৬ করা হয়েছে। এছাড়াও; চৌদ্দ ভুবন হতে ১৪ পাশে শূন্য স্থাপন করে ১৪০০ পৌরাণিক সংখ্যা সৃষ্টি করা হয়েছে।

. একই আলোচনায় একই সত্তার একাধিক নাম ব্যবহার করা হয়

(In the same discussion many names of the same entity are used)

ধরি এখানে; শিশ্নের গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা করা প্রয়োজন। আমরা জানি যে; শিশ্নের চারিত্রিক পরিভাষা; কর্ণ, জগাই, জনক, মরা, মিন্সা, শুক্রাচার্য, কামগুরু, কিরীটী ও শ্রীচরণ ইত্যাদি। এবার এমন একটি শিক্ষামূলক ঘটনা নির্মাণ করতে হবে; যার মধ্যে শিশ্নের অনেকগুলো রূপক পরিভাষার ব্যবহার থাকে।

“একদা ‘বিম্বল’ বললেন; ‘বলাইদা’, ‘রাবণ’ সতী সীতার আরাধনা করে অমরত্বলাভ করার বাসনা পোষণ করেছিলেন। আমরাও যদি এরূপ একজন সতীসাধ্বী রমণীর পূজা করি; তবে; অমরত্বলাভ করতে পারব কী না? বলাই বললেন; দেখুন দাদা এ বিষয়টি মহাগুরু ‘শুক্রাচার্য’ ভালো জানেন। এজন্য; আপনি বরং তার নিকট গিয়ে বলেন। উনিই আপনাকে সর্বোত্তম উপদেশ প্রদান করতে পারবেন। আপনি তার নিকট গিয়ে সরাসরি বলতে পারেন। কোনো সমস্যা নেই।”

এখানে; বিম্বল, বলাই, রাবণ ও শুক্রাচার্য সব রূপক পরিভাষার দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তিই হলো শিশ্ন। অর্থাৎ; এগুলো শিশ্নেরই রূপক নাম। দেখা যায়; শ্বরবিজ্ঞান ও পৌরাণিক সাহিত্যে একই আলোচনায় একই সত্তার একাধিক নাম ব্যবহার করা হয়।

. পুরো আলোচনাটি গল্পের মাধ্যমে করা হয়

(The whole discussion was done through the story)

আত্মদর্শনের সব ছোট ছোট গল্পকেই পৌরাণিক কাহিনী বা পুরাণ বলা হয়। এ সাহিত্যের নিয়ম হলো; কেউ কোনো প্রশ্ন করলে সরাসরি তার উত্তর না দিয়ে; কোনো না কোনো গল্পের মাধ্যমে তার উত্তর দেওয়া। যেমন; “একজন প্রশ্ন করলেন; কাঁইজি শুক্র নিয়ন্ত্রণ করব কিভাবে? তিনি বললেন; সর্বপ্রথমে তুমি অগ্নির অন্বেষণ করো। তারপর; তার পঞ্চসখী, তারপর; চন্দ্রশ্বাস, তারপর; অষ্টমার্গাঙ্গ আসন, তারপর; বৈয়াম্বু ধারণ করবে তবেই তুমি সার্থক।”

এই যে গল্পের মাধ্যমে উত্তর দেওয়া হলো। এটিই পুরাণ বা পৌরাণিক সাহিত্য। এ সাহিত্যের উদ্দেশ্যই হলো গল্পের মাধ্যমে কাম প্রশিক্ষণ দেওয়া।

১০. বর্তমানকালেই অতীতকালের আলোচনা করা হয়

(The past is discussed in the present time)

এটি সর্বজন স্বীকৃত বিষয় যে; মানুষ ইচ্ছে করলে বর্তমানকালেই সুদূর অতীত ও দূরবর্তী ভবিষ্যৎ গবেষণা করতে পারে। পুরাণ এমনই একটি সাহিত্য। মানুষের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলীকে অতীতকালে বর্ণনা করে নির্মাণ করা পুরাণ এবং ভবিষ্যৎকালে বর্ণনা করে নির্মাণ করা হয় সাম্প্রদায়িক মতবাদ। অর্থাৎ; সাম্প্রদায়িক মতবাদ ও পৌরাণিক কাহিনীর উপমান বিষয়বস্তু ভিন্ন কিন্তু উপমিত বিষয়বস্তু অভিন্ন।

১.   পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ অতীতে যেতে হবে।

২.   এটা নির্মাণের উপাদান রূপে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না।

৩.   এটা নির্মাণের জন্য দেহের বাইরে কোনো স্থানের নাম ব্যবহার করা যাবে না।

এছাড়াও; পুরাণ নির্মাণের সময় সমসাময়িক বিজ্ঞানের সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই অবৈজ্ঞানিক যুগের আলোচনা করা হয়। যাতে পাঠক-শ্রোতা অবাক হয় যে; সেই আদিমযুগে এটা নির্মাণ অবশ্যই দুঃসাধ্য কাজ ছিল। সারাবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কাছাকাছি সময়ে এতগুলো পুরাণ নির্মিত হওয়া নিশ্চয় কাকতালীয় ছিল না।

তথ্যসূত্র (References)

১.  আত্মতত্ত্ব ভেদ [সংস্কার ও আবিষ্কার] (৩য় খণ্ড); লেখক; বলন কাঁইজি।

 

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!