পূর্ব

৪৭/১. পূর্ব
East (ইস্ট)/ ‘شرق’ (শারিক্বা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পাছধড় পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পাছধড়। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা মর্ত্য। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা নাবাল এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা পৈথান

অভিধা (Appellation)
পূর্ব (বাপৌরূ)বি পূর্বদিক, প্রাচীনকাল, অতীতকাল, সম্মুখ, পূর্ববর্তী, পূর্বদিকস্থ, east, ‘شرق’ (শারিক্বা) বিণ প্রথম, অগ্র, জ্যেষ্ঠ, গত, অতীত, প্রাচীন (আল) পিতা, পূর্বপুরুষ, পূর্বার্ধ (শ্ববি) পাছধড়, নাম্ব, নিম্নাঙ্গ, নাভির নিম্নাংশ, back body, end body, মুয়াখখারুল বদন (.ﻤﺆﺧﺭ ﺍﻠﺒﺪﻦ) (রূপ্রশ) নিম্নলোক, সর্পলোক, নাগলোক, hell, hades (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পাছধড় পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; উদয়াচলকে বাংলায় ‘পূর্ব বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, নাভি হতে পদতল পর্যন্ত অঙ্গকে রূপকার্থে ‘পূর্ব বলা হয় (বাপৌছ) পৈথান (বাপৌচা) নাবাল (বাপৌউ) মর্ত্য (বাপৌরূ) পূর্ব (বাপৌমূ) পাছধড়।

পূর্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of east)
১.   “নদীর কালীধার পূর্বঘাটে, এক মৃণালে তিনফুল ফোটে, যোগ ছাড়া চলে না, তুলব বলে সে নদীর ফুল, ছয়পাগলের গোল মিটে না।” (পবিত্র লালন- ১২৮/৩)(মুখ; আমার দেহনদীর বেগ থাকে না, আমি বাঁধব কয় মোহনা, কামজ্বালাতে জ্বলে মরি কই হলোরে উপাসনা”)
২.   “পূর্বদিকে রত্নবেদী, ডালিম্বের পুষ্পজ্যোতি, তাতে খেলছে রূপাকৃতি, বিজলি চমকের ন্যায়।” (পবিত্র লালন- ৪৮৭/২)(মুখ; তারে দিব্যজ্ঞানে দেখ রে মনরায়, ঝরার খালে বাঁধ বাঁধলে, রূপের মানুষ ঝলক দেয়”)

পূর্বের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of east)
১.   “কৌশলী বিন্দুতরু তেলে, অবিরত প্রদীপ জ্বলে, পূর্ব পশ্চিম মধ্য মূলে, আলোতে উজ্বালাময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৫)
২.   “পূর্বদিকে রত্নবেদী, তার ওপরে খেলছে জ্যোতি, তারে যে দেখেছে ভাগ্যবতী, সেজন সচেতন সব খবরে।” (পবিত্র লালন- ৯৫/২)
৩.   “প্রদীপ যেন তারকা দেখায়, একতরু তেলে জ্বলে সদাই, পূর্বে কিংবা পশ্চিমেও নয়, আলো রয় বিজলিময়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৬)
৪.   “অসি বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ” “ قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ” (ক্বালা রাব্বা আলমাশরিক্বি ওয়ালমাগরিবি ওয়া মা বাইনাহুমা, ইন কুনতম তা’লামুন) (কুরান, শুয়ারা- ২৮)
৫.   “আমি পূর্বগুলো ও পশ্চিমগুলোর পালনকর্তার শপথ করছি। নিশ্চয় তিনি সক্ষম” “فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ” (ফালা উক্বসিমু বিরাব্বি আলমাশারিক্বি ওয়ালমাগারিবি, ইন্না লাক্বাদিরুন) (কুরান, মায়ারিজ- ৪০)
৬.   “এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন- পূর্ব ও পশ্চিম কাঁইয়েরই। তিনি যাকে ইচছা সরল পথে চালান” “ سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنْ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمْ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ” (সাইয়াকুলু আসসুফাহাউ মিন আন্নাসি মা ওয়ালাহুম আন ক্বিবলাতিহিম আল্লাতি কানু আলাইহা, কুল লিল্লাহি আলমাশরিকু ওয়ালমাগরিবু, ইয়াহদি মান ইয়াশাউ ইলা সিরাত্বি মুসতাক্বিম) (কুরান, বাক্বারা- ১৪২)
৭.   “কাঁই নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র ডুমুর বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, -যা পূর্বে নয় এবং পশ্চিমেও নয়” “ اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونِةٍ لَا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُورٌ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ” (আল্লাহ নূরু আসসামাওয়াতি ওয়াল আরদি, মাসালু নূরীহি কামিশকাতি, ফিহা মিসবাহু, আলমিসবাহু ফি ঝুজাজাতি, আঝঝুজাজাতু কায়ান্নাহা কাওকাবু, দুররিউ ইউক্বাদু মিন শাজারাতিম মুবারাকাতি ঝাইতুনাতি। লা শারক্বিইয়াতি ওয়ালা গারবিইয়া। ইয়াকাদু ঝাইতুহা ইউদিউ ওয়ালাও লাম তামসাসহু নারু, নূরুন আলা নূর। ইয়াহদি আল্লাহু লিনুরিহি মান ইয়াশাউ ওয়া ইয়াদরিবু আল্লাহু আলয়ামসালা লিন্নাস। ওয়াল্লাহু বিকুল্লি শাইয়ি আলিমা) (কুরান, নূর- ৩৫)
৮.   “তিনি দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের অধিপতি” “ رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ” (রাব্বু আলমাশরিক্বাইনি ওয়ারাব্বু আলমাগরিবাইন) (কুরান, রহমান- ১৭)
৯.   “তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকেই গ্রহণ করুন কর্ম। এজন্য; করূপে” “ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا” (রাব্বু আলমাশরিক্বি ওয়ালমাগরিবি, লা ইলাহা ইল্লাহ হুয়া ফাত্তাখিজহু ওয়াকিলা) (কুরান, মুঝাম্মেল- ৯)।১০. “পূর্ব ও পশ্চিম কাঁইয়েরই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই কাঁই বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ” “ وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ” (ওয়া লিল্লাহি আলমাশরিকু ওয়ালমাগরিবু ফায়াইনামা তাওয়াল্লা ফাসুম্মা ওয়াজহু আল্লাহি, ইন্না আল্লাহা ওয়াসিউন আলিম) (কুরান, বাক্বারা- ১১৫)

আগে অর্থে পূর্বপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology east sense for before)
১.   “কী আইন আনলেন নবি সকলের শেষে, রেজামন্দি সালাত যাকাত, পূর্বেও তো জাহির আছে।” (পবিত্র লালন- ২৯৯/১)(মুখ; কী আইন আনলেন নবি সকলের শেষে, রেজামন্দি সালাত যাকাত, পূর্বেও তো জাহির আছে”)
২.   “রামানন্দের দরশনে, পূর্ব ভাব উদয় মনে, যাব আমি কারবা সনে, সে যে পুরী।” (পবিত্র লালন- ৬৭৫/৩)(মুখ; বলরে স্বরূপ কোথায় আমার সাধের প্যারী, যার জন্য হয়েছি আমি দণ্ডধারী”)

———————————————————————————-

১.   “কাঁধে চড়ায় কাঁধে চড়ি, যে ভাব ধরায় সে ভাব ধরি, এসব বাসনা বুঝি তারই, ছিল গো পূর্বে।” (পবিত্র লালন- ২৫৫/৩)
২.   “কেউ চটে কেউ বসে রয়, দেখে মনে ধোঁকা হয়, বুঝি পূর্বান্তরের ফেরে পড়ে, গড়ে সে যে তলা ফাঁসা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৮/৩)
৩.   “চার কারের ওপরে দেখ, রাগপাত্রে সে ছিল কে গো, পূর্বাপর খবর রেখ, জানবি লালন নবির ভেদ মনে।” (পবিত্র লালন- ৭৩৬/৪)
৪.   “নিরন্তর সাঁই খেলছে রসে, চিনিতে বালিতে রয়েছে মিশে, যে না পাই দিশে- কেউটে এসে, বেওড়া করে সাধন পূর্বাপর।” (পবিত্র লালন- ২৩০২/৩)
৫.   “পাপকর্ম যদি পূর্বে লেখা যায়, কর্মের লিখিত কাজ করলে, দোষগুণ তার কী হয়।” (পবিত্র লালন- ৬২২/১)
৬.   “পূর্ব রাগ অবধি যারে, আশ্রয় দিলে নীর আকারে, কর্ম দোষে সে দাসেরে, ত্যাজিলে কী পৌরুষ তোমার।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/৩)
৭.   “পূর্বের কথা ছেড়ে দাও ভাই, সে লেখা তো থাকে না, সাধন দ্বারাই।” (পবিত্র লালন- ৬৩৭/১)
৮.   “ব্রজ ছেড়ে নদেয় এলো, তার পূর্বান্তরের খবর ছিল, নদে ছেড়ে কোথায় গেল, যে জানো বলো মোরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৬/২)
৯.   “ভবে আসা যাওয়া মিথ্যে হলো, অসার ভাবতে ভাবতে জনম গেল, পূর্বে যে সুকৃতি ছিল পেলাম সে ফল, না জানি আর কী হয়রে শেষে।” (পবিত্র লালন ১৩৮/)
১০. “মহতে কয় পূর্বে থাকলে সুকৃতি, দেখেশুনে গুরুপদে রয় নিষ্ঠারতী, সে পুণ্য মোর থাকত যদি, তবে কী হতাম এমন মরা।” (পবিত্র লালন- ৬১/৩)
১১.  “লালন বলে সতের সঙ্গ, ধরলে পাবি পূর্বসঙ্গ, ধরিস যদি সাধুর রঙ্গ, পাবিরে প্রিয় গোবিন্দ।” (পবিত্র লালন- ৭১১/৫)
১২.  “শুনতে পাই সাধু সংস্কার, পূর্বে থাকলে পরে হয় তার, পূর্বে নাই হলো না এবার, কী হয় তার আশায়।” (পবিত্র লালন- ৬২২/২)।১৩. “সৃষ্টিকর্তা বলছ যারে, সে অংশিহীন হয় কেমন করে, ভেবে দেখ পূর্বাপরে, সৃষ্টি করলেই তার অংশী আছে।” (পবিত্র লালন- ৯১৪/২)

পূর্বপুরুষ অর্থে পূর্বপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology east sense for ancestor)
১.   “পাহাড় টিলা বাতাসে উড়ে- একত্রিত হবে গড়ে, আত্মাসম যাবে ধড়ে- দেখবে নিজে বলবান- পূর্বে যেথায় পড়ছে ধরা- সেদিকে ছুটবে তারা, সবাই রবে পাগলপারা, যাদের যে কাণ্ডজ্ঞান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৬)
২.   “ফাল্গুন মাসের তিনতারিখ শনিবার যেদিন, ধাতব-পাখি হানবে আঘাত করিবে জনহীন, পাতালভেদী কত মানুষ- কর্মদায় রবে বেহুঁশ, কাঁধে লয়ে আপনার দোষ পূর্বেতে করবে ধিয়ান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৭)

পূর্বের সংজ্ঞা (Definition of east)
সাধারণত; উদয়াচলকে পূর্ব বলে।

পূর্বের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of east)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানুষের নাভি হতে পদতল পর্যন্ত অঙ্গকে পাছধড় বা পূর্ব বলে।

পূর্বের প্রকারভেদ (Variations of east)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে পূর্ব দুই প্রকার। যথা; ১. নরপূর্ব ও ২. নারীপূর্ব।

. নরপূর্ব (Male-east)
নরগণের নাভির নিম্নাংশকে নরপূর্ব বলে।

. নারীপূর্ব (Female-east)
নারীগণের নাভির নিম্নাংশকে নারীপূর্ব বলে।
প্রমাণ; “رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ” উচ্চারণ; “রাব্বুল মাশরিকাইনি ওয়াল মাগরিবাইন” অর্থ; “দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিমের পালনকর্তা” (কুরান, রহমান- ১৭)

পূর্বের পরিচয় (Identity of East)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পাছধড় পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। সাধারণত; উদয়াচলকে পূর্ব বলা হয়। অনেক পুরাণে; দুই প্রকার পূর্বের বিবরণ দেখতে পাওয়া যায়। যথা; ১.নরপূর্ব ও ২.নারীপূর্ব। নারীপূর্বে কিছুই পাওয়া যায় না কিন্তু নরপূর্বে শুক্র পাওয়া যায়। এজন্য; পুরাণে ভিন্ন ভিন্ন পূর্ব কল্পনা করা হয়। মানুষের স্থূল আকারভেদেই কেবল এমন করা হয়। প্রকৃত কথা হলো; মানুষের কোনো লিঙ্গান্তর নেই। কারণ; মানুষের নর বা নারীপ্রকৃতির কোনো স্বতন্ত্র্য অস্তিত্ব নেই। যেহেতু; নর ও নারী উভয় মিলেই একজন মানুষ হতে হয়।

এ হতেই মুসলমানরা দেহের পশ্চিমপার্শ্বকে তীর্থদিক নির্ধারণ করেন। অতঃপর; তারা তীর্থের দিকে মুখ করে সর্বপ্রকার শাস্ত্রীয়-কর্ম সম্পাদন করার সাম্প্রদায়িক সংস্কার প্রবর্তণ করেন। এ সূত্রটি বিশ্বের প্রায় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক সংস্কারের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়। সবাই যার যার তীর্থের দিকে মুখ করেই শাস্ত্রীয়-কর্ম করে থাকেন। কেউ নিজ-নিজ তীর্থের দিকে মুখ করে বা পিছন করে বর্চ্যও পর্যন্ত ত্যাগ করে না কিংবা পা লম্বা করা বা বর্চ্যালয় নির্মাণও করেন না। যারা সৌরজগৎ বা চান্দ্রজগৎ দ্বারা চারদিক নির্মাণ করে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকাগুলো বুঝতে চায় তারা কোনো দিন প্রকৃত বাস্তবতার সন্ধানলাভ করতে পারবে না। কারণ; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা কখনই সৌর বা চান্দ্র দ্বারা নির্মিত দিকগুলোর ওপর নির্ভর করে নির্মাণ করা হয় না বরং সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা নির্মাণ করা হয় দৈহিক দিকগুলোর নির্ভর করে। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকার পাঠক পাঠিকাদের এমন আন্তর্জাতিক ভুল হতে বের হয়ে আসা উচিত। তা না হলে নির্বোধ সাম্প্রদায়িক মনীষীদের চারদিক সম্পর্কিত মনগড়া ব্যাখ্যার খপ্পরে পড়ে কেবল কালক্ষেপণই হবে কিন্তু সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকার মর্মোদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে কখনও।

শ্বরবিজ্ঞানে; দুই পশ্চিমের মতো দুই পূর্বের আলোচনাও বিদ্যমান রয়েছে। অনেক সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী আরবীয় পুরাণে বর্ণিত দুই পূর্ব ও দুই পশ্চিম বলতে সৌরজগতের গ্রীষ্মকালীন পূর্ব ও শীতকালীন পূর্ব বলে ব্যাখ্যা করে থাকে। তেমনই; গ্রীষ্মকালীন পশ্চিম ও শীতকালীন পশ্চিম বলে ব্যাখ্যা করে থাকে। চরম হাস্যকর এসব পূর্ব-পশ্চিম জীবনের কোনো কাজেইবা ব্যবহার করা যায়? এমন ঠুনকো ব্যাখ্যগুলো দ্বারা পবিত্র মহা গ্রন্থাদি ও পবিত্র সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদি হতে কী উপকারইবা সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা পেতে পারে? আবার পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে শীত-গ্রীষ্মের কোনো তারতম্যই নেই সেখানেইবা তারা কী ব্যাখ্যা দিবেন? যেমন; উত্তরমেরু ও দক্ষিণমেরু। এসব অঞ্চলে কোথায় পাবেন তাদের গ্রীষ্মকালীন পূর্ব ও শীতকালীন পূর্ব? যেমন; জীবনবিধানের ব্যাখ্যা সৌরবিধান দ্বারা প্রদান করা যায় না; তেমনই; সৌরবিধানের ব্যাখ্যাও জীবনবিধান দ্বারা প্রদান করা যায় না। বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক গ্রন্থই জীবনবিধান। এজন্য; সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের ব্যাখ্যা সৌরজগৎমুখী না করে কেবল জীবনমুখী করে করাই সব ব্যৈখ্যিক ও টৈকিকদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমরা মনে করি। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থরূপ জীবন-বিধানগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আত্মতত্ত্বমুখী না করে সৌরমুখী করে করা হতেই তো আজ সারাবিশ্ব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের আখড়াবাড়িতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও; পবিত্র কুরানের অন্যত্র অসংখ্য পূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিমেরও ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যেমন; “ فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ إِنَّا لَقَادِرُونَ” উচ্চারণ; “ফা লা উক্বসিমু বিরাব্বিল মাশারিক্বিউ ওয়াল মাগারিবি ইন্না লাক্বাদিরুন” অর্থ; “আমি পূর্বগুলো ও পশ্চিমগুলোর পালনকর্তার শপথ করছি। নিশ্চয় তিনি সক্ষম” (কুরান, মায়ারিজ- ৪০)। এমন ক্ষেত্রে ঐসব নির্বোধ ব্যৈখ্যিকগণ আর কিবা ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারেন?

অত্যন্ত হাস্যকর ব্যাপার এ যে জনৈক ব্যৈখ্যিক অসংখ্য পূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিম বিষয়টির ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে লিখেছেন; “যে কোনো মাপনি দিয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠের পূর্বদিককে পরিমাপ করলে যত একক হয় (ইঞ্চি, ধাপ, হাত, গজ, মিটার ও মাইল ইত্যাদি) তার প্রতি একককেই ততো পূর্ব বলা হয় এবং পশ্চিমদিককে পরিমাপ করলে যত একক হয় তার প্রতি একককেই ততো পশ্চিম বলা হয়। অর্থাৎ; যে কোনো পরিমাপের পূর্বদিকের এককগুলোকেই অসংখ্যপূর্ব এবং পশ্চিমদিকের এককগুলোকেই অসংখ্য পশ্চিম বলা হয়।” এবার বলুন বিশ্ববিখ্যাত সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রগুলোর এমন হাস্যকর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণগুলো দ্বারা বিশ্ববাসী কিবা উপকার গ্রহণ করতে পারবেন?

এর প্রকৃত ব্যাপারটি আমরা পূর্বেই বর্ণনা করেছি। অর্থাৎ; আমরা পূর্বেই দুইপূর্ব ও দুই পশ্চিমের বর্ণনা করেছি। এবার অসংখ্যপূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিমের ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করব। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে; শ্বরবিজ্ঞানে; মানবদেহের নাভির নিচের অংশকে পূর্ব এবং ওপরের অংশকে পশ্চিম বলা হয়। তেমনই; বিশ্বের সব দ্বিপস্থ জীবের নাভির নিম্নাংকে পূর্ব এবং ঊর্ধ্বাংশকে পশ্চিম বলা হয়। অর্থাৎ; বিশ্বের সব দ্বিপস্থ প্রাণীর নাভির নিম্নাংশই একেকটি পূর্ব এবং ঊর্ধ্বাংশই একেকটি পশ্চিম। প্রাণীদের দেহের এসব পূর্ব ও পূশ্চিম কখনই এক নয়। নরপূর্বে অবস্থিত শিশ্নগুলো একেক জীবের একেক প্রকার। যেমন; কোনো জীবের ‘নগ্নশিশ্নী’ (Naked penial)। আবার কোনো জীবের ‘আবৃতশিশ্নী’ (Covered penial)। তেমনই; কোনো জীবের ‘নগ্নযোনি’ (Naked vaginal)। আবার কোনো জীবের ‘আবৃতযোনি’ (Covered vaginal)। এ সূত্র হতেই পবিত্র সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির মধ্যে অসংখ্যপূর্ব ও অসংখ্য পশ্চিমের কথা আলোচনা করা হয়েছে। অথচ আত্মতত্ত্ব না জেনে ও না বুঝে জীবনবিধানের আলোচনগুলোকে সৌরবিধান বা ভূতত্ত্ববিদ্যা বা ভূগোলবিদ্যা দ্বারা ব্যাখ্যা করতে গিয়েই নির্বোধ ব্যৈখ্যিকগণ সবকিছুই লেজে গোবরে করে ছেড়েছেন।

নগ্নশিশ্নী (Naked penial)
যে প্রাণীর শিশ্ন দেহের চামড়া বা পালকের বাইরে সংযুক্ত থাকে তাকে নগ্নশিশ্নী বলে। যেমন; মানুষ।

আবৃতশিশ্নী (Covered penial)
যে প্রাণীর শিশ্ন দেহের চামড়া বা পালকের ভিতরে সংযুক্ত তাকে আবৃতশিশ্নী বলে। যেমন; কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!