প্রাণায়াম (১১)

৯২/০. প্রাণায়াম
Aeration (এয়ারেশন)/ ‘تهوية’ (তাহুয়্যিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পরিবারের শ্বাস বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা শ্বাস। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বাতাস। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা কুকুর, প্রহরী সুর। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অনিল, পবন সমীর এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা জগৎগুরু ফুৎকার

অভিধা (Appellation)
প্রাণায়াম (বাপৌছ)বি যোগসাধনের অঙ্গ, শ্বাসগ্রহণ, শ্বাসধারণ ও শ্বাসত্যাগের যৌগিক অনুশীলন, পূরক, কুম্ভক ও রেচকের অনুশীলন, aeration, ‘تهوية’ (তাহুয়্যিয়া), breathing, ‘التنفس’ (আত্তানাফুস)।

প্রাণায়ামের সংজ্ঞা (Definition of aeration)
সাধারণত; শ্বাসের একটি বিশেষ যোগকে প্রাণায়াম বলে।

প্রাণায়ামের উপকার (Benefits of aeration)
দেহের প্রাণশক্তি বৃদ্ধি করে এবং জরা, ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর হাত থেকে দেহকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য প্রাণায়াম করা হয়।

১.    নিয়মিত প্রাণায়াম করে দীর্ঘায়ুলাভ করা যায়।
২.   এর দ্বারা অধিক অম্লজান গ্রহণ করা যায়।
৩.   এর ফলে প্রায় কুড়ি প্রকার কফ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
৪.   এটি; স্নায়ুকে অত্যন্ত কার্যকরী ও সবল করে থাকে।
৫.   ফুসফুসের ব্যায়ামের ক্ষেত্রে এটি; অত্যন্ত ফলপ্রসু।

প্রাণায়ামের পরিচয় (Identity of aeration)
প্রাণায়াম এ উপমহাদেশের যোগীদের একটি ঐতিহ্যবাহী সাধন। আদিমযুগেই সাধনটির উদ্ভব এ উপমহাদেশে হয়েছিল। তবে; প্রাথমিক দিকে এ সাধনের উদ্দেশ্য ছিল শরীরকে সুস্থ রাখা। কিন্তু এখন এটি; দেখাদেখি বা লোকদেখানো সাধন বলা যায়। এ সাধনটির উদ্ভবের কারণ রূপে বলা যায়; মানবদেহ অনেকগুলো অনালগ্রন্থি বা চক্র রয়েছে। কারো কারো মতে চক্রের সংখ্যা ৬টি। যথা; ১. মূলাধার ২. স্বাধিষ্ঠান ৩. মণিপুর ৪. অনাহত ৫. বিশুদ্ধ ও ৬. আজ্ঞা। তবে; অধিকাংশ আত্মতাত্ত্বিক বিজ্ঞানীর মতে; চক্রের সংখ্যা ১০টি। যথা; ১. ব্রহ্ম ২. জ্যোতি ৩. বাগ্মী ৪. বক্ষ ৫. কিশো ৬. নাভি ৭. মূলাধার ৮. ফাঁফরা ৯. হৃদ ও ১০. সৃষ্টি। আরবি ভাষায় এদেরকে ‘ﻟَﻄِﻴْﻔَﻪ’ (লতিফা) বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় এ চক্রগুলোকে ‘Ductless gland’ বা ‘Pipeless gland’ বলা হয়। যেমন; মানবদেহে ইন্দ্রিয় (Organs) ১০টি; তেমনই; চক্রও ১০টি। ইন্দ্রিয় ও চক্রের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সেজন্য;  ইন্দ্রিয় ও চক্রকে কখনই এক ভাবা ঠিক নয়।

ভারতবর্ষের প্রাকৃতিক চিকিৎসকগণের মধ্যেও মানবের উপাস্য সাঁইয়ের সন্ধান লাভের একটি মতবাদের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। নিচে সে বিবরণও তুলে ধরা হলো। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুনিপুণ শিল্প, জগৎ কারুণিক স্রষ্টা মানবদেহ সৃষ্টি করে মানবদেহের মধ্যেই রেখেছেন যথাযথভাবে দেহ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার প্রাকৃতিক ব্যবস্থার কলকাঠি। কলকাঠিগুলোকে চক্র বা অনালগ্রন্থি বলা হয়। আজ হতে প্রায় ছয় হাজার (৬,০০০) বছর পূর্বে বর্তমান সমাজে প্রচলিত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের উৎপত্তি বলে অধিকাংশ মনীষীগণ ধারণা করে থাকেন। আয়ুর্বেদশাস্ত্রই ছিল আদিম মানুষদের একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। এ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেরও অনেক পূর্বে, কোনো বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যতীত, মানবদেহ নিয়ন্ত্রণের এ অভিনব প্রাকৃতিক পদ্ধতি, একমাত্র ভারতবর্ষীয় সাধু সন্ন্যাসী ও মুনি ঋষিগণ আবিষ্কার করেন। আত্মতত্ত্বের চক্রগুলোর আধারগুলো দেহের নিয়ন্ত্রক বা দিশারী। এজন্য; দেহের মধ্যে কোনো সমস্যা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকলে, উক্ত চক্রগুলোতে যথেষ্ট ব্যথা অনুভব হয়। সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন যাপনের জন্য, আলোচ্য চক্রগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব চক্রগুলোর ছোড়ান মানুষের হাত ও পায়ের পাতায় রয়েছে। উল্লেখ্য যে; সাধুবিজ্ঞানে বর্ণিত চক্রগুলোর ছোড়ানগুলো, মানুষের হাত ও পায়ের পাতায় সন্নিবেশিত রয়েছে। এজন্য; প্রতিদিন নিয়মিত হাত ও পা ভালোভাবে চাপলে উক্ত ছোড়ানগুলোতে চাপ পড়ে। যারফলে; চক্রগুলোও সক্রিয় থাকে। সম্ভবত পূর্বকালের সাধু সন্ন্যাসী ও মুনি ঋষিগণ এ কারণেই অধীনস্থদের দ্বারা তাদের হাত ও পায়ের পাতা চাপিয়ে নিতেন। সাধু সন্ন্যাসীগণের হাত পা চাপানো পূর্বকালের গৌরবময় ঐতিহ্য।

সূক্ষ্ম চক্রগুলো মানবদেহের অভ্যন্তরীণ রসগুলো উৎপাদন করে। সে রসগুলো রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে, দেহকে সুগঠিত করে এবং দেহকে সুস্থ রাখে। যোগী ও সাধুগণ আরও বলেন যে; এ চক্রগুলো মানুষের মন ও চরিত্র গঠনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্দিষ্ট নিয়মে এসব চক্রগুলোর যোগ বা প্রাণায়াম করলে, দেহের নিম্ন বিদ্যুৎকে উচ্চশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। প্রাণায়ামের মাধ্যমে আলোচ্য চক্রগুলোর কার্যকারিতা সক্রিয় রাখলে, বা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করতে থাকলে, মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা পশুত্বভাব বিদূরিত হয়ে, মনুসত্বভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এ চক্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো; পরিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার দ্বারা, মানবদেহের মূলতন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমগুলো সচল রাখা এ চক্রগুলোর প্রধান কাজ। বিভিন্ন পরিবেশে বসবাসের জন্য, দেহের বিভিন্ন তন্ত্রকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলাও এ চক্রগুলোর কাজ। সাধুগণ আরও বলে থাকেন- “এ চক্রগুলো শুধু মানবের দৈহিক গঠনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না, মানুষের মনের গঠন ও চরিত্র গঠনেও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে থাকে।”

বাস্তবে প্রাণায়াম করে, দেখা গেছে যে; মানবদেহের আন্তঃস্রাবী এ অনালগ্রন্থি বা চক্রগুলোর সাথে মানসিক উন্নয়ন ও চারিত্রিক উন্নতি পুরোপুরীই সঙ্গতিশীল। যোগ বা সাধন দ্বারা আলোচ্য চক্রগুলোর উন্নয়ন করলে, লোককুলে সাধকের মর্যাদাও অধিক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। মানবদেহের এসব চক্রগুলোর সঠিক সাধন দ্বারা মানসিক পরিবর্তন ও প্রভূত মানবকল্যাণ সাধন করা যায়। আলোচ্য চক্রগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে, মানুষের স্বভাব চরিত্রেরও সঠিক উন্নয়ন হয় না। অর্থাৎ; মানব মনের পশুত্বভাব অপসারিত হয়ে মনুসত্বভাব প্রতিষ্ঠিত হয় না। যেমন; নাভিচক্র সঠিকভাবে কাজ না করলে যকৃৎ (Liver) ক্রিয়া ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্তরা দুর্বল, ভীরু ও খিটখিটে স্বভাবের হয়। আবার মূলাধার চক্রটি অধিক সক্রিয় বা শক্তিশালী হলে, সে ব্যক্তি কামুক, লম্পট ও স্বার্থপর হয়। বক্ষচক্র স্বাভাবিক না থাকলে, সে লোক কুটিল ও স্বার্থপর হয়ে ওঠে। দেহে জ্যোতিচক্র সঠিকভাবে কাজ না করলে, সে ব্যক্তি নির্দয় ও অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে এবং এর ফলে সে চোর বা দস্যু হয়ে ওঠে। এমনকি; সে ঘাতকও হয়ে উঠতে পারে।

আজ হতে প্রায় ছয় হাজার (৬,০০০) বছর পূর্বেই সাধুগণ এ চক্রগুলো, যোগ বলে সক্রিয় রাখার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করতেন। মূলত তখন হতেই আত্মদর্শন পদ্ধতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে আয়ুর্বেদ। পরবর্তীকালে এ শাস্ত্র বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে- যা আজ মানুষের নিকট অ্যাকিউপ্রেসার, বোনাজি, কবিরাজি ও হেকিমী চিকিৎসা পদ্ধতি বলে পরিচিত। সাধু সন্ন্যাসীগণ সর্বপ্রথম মানবদেহে সাতটি চক্রের আবিষ্কার করেন। পরবর্তীকালে আরও তিনটি চক্রের আবিষ্কার হওয়ায়, চক্রের সংখ্যা হয় মোট দশ (১০)টি। প্রত্যেক চক্রই পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত নির্ভরশীল ও পরস্পরের সহায়ক। এজন্য; একটি চক্রকে সক্রিয় করলে, অন্যান্য চক্রগুলোকেও সক্রিয় করা প্রয়োজন। শরীরের মধ্যে কোথাও কোনো অসুবিধা বা রোগ ব্যাধি দেখা দিলে, এসব চক্রগুলোতে সর্বপ্রথম ব্যথা অনুভব হতে দেখা যায়। এজন্য; প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে, এ চক্রগুলোকে মানবদেহের Barometer বলা হয়। দীর্ঘস্থায়ী ও পুরনো একটি রোগের জন্য একাধিক চক্রে ব্যথা অনুভব হতে পারে। নিচে আলোচ্য চক্রগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো।

দেহ দ্বারা দেহ নিয়ন্ত্রণের এ গুরুত্বপূর্ণ কলকাঠি-গুলোকে আন্তঃস্রাবী অনালগন্থি বা অনালচক্র নামে তারা অভিহিত করেন। আন্তঃচক্রগুলো হলো; ১. সহস্রার ২. আজ্ঞা ৩. বিশুদ্ধ ৪. অনাহত ৫. মনিপুর ৬. স্বাধীষ্ঠান ও ৭. মূলাধার। পরবর্তীতে আরও তিনটি চক্র সাধুগণের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়। যথা; ১. সৃষ্টি (জঠর) ২. ফাঁফরা (নাসিকা) ও ৩. হৃদ। যারফলে; চক্রের সংখ্যা মোট দশটিতে উপনীত হয়। নিচে তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো।

ক্র বাংলা সংস্কৃত ফার্সি ইংরেজি
১. ব্রহ্ম সহস্রার আখফা.ﺍﺨﻔﺎ পাইনাল (Pineal)
২. জ্যোতি আজ্ঞা খফি.ﺨﻔﻰ পিটুইটারি (Pituitary)
৩. বাগ্মী বিশুদ্ধ সির.ﺴﺮ থাইরয়েড (Thyroid)
৪. বক্ষ অনাহত আব.ﺁﺐ থাইমাস (Thymus)
৫. কিশো   খাক.ﺨﺎﻚ এড্রিনাল (Adrenal)
৬. নাভি মণিপুর নফস.ﻨﻔﺲ ফোকাস (Focus)
৭. মূলাধার মূলাধার আতস.ﺍﺗﺶ সেক্স (Sex)
৮. ফাঁফরা   বাদ.ﺑﺎﺩ লাঙ্গ (Lung)
৯. হৃদ   রুহ.ﺮﻮﺡ হার্ট (Heart)
১০. সৃষ্টি স্বাধীষ্ঠান ক্বলব.ﻘﻟﺐ ওম্ব (Womb)

এ গ্রন্থিগুলো তাপ, চাপ, পরিবেশ পরিবর্তন, আঘাতজনিত কারণ, শারীরিক দুর্বলতা, অনাহার-অতিহার, অধিক শুক্রক্ষয়, অধিক রক্তক্ষয়, বয়স, রোগ-ব্যাধি ও হতাশা ইত্যাদি কারণে নড়চড় হয়। যখনই কোনো একটি চক্র নড়চড় হয় তখনি দেহের মধ্যে অসুবিধা অনুভব হতে থাকে। বাহ্যিক লক্ষণ রূপে কখনও দেখা দেয় জ্বর, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, মাথা ধরা, মিথ্যা বলার অভ্যাস, চুরি করার অভ্যাস, রাত্রে ঘুম না হওয়া, শরীর মোটা হওয়া, ক্ষুধামন্দা, লেখাপড়া না করা, অধিক রাগ, বাড়ি হতে পালিয়ে যাওয়া ও আত্মহত্যা করতে উদ্যত হওয়া ইত্যাদি। আদিমযুগে নড়চড়ে চক্র বা ক্ষতিগ্রস্ত চক্র কার্যকর করে তোলার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সনাতনী পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। যেমন;  নাভিচক্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাড় লাগনো হতো। কালক্রমে এসব সনাতনী চিকিৎসাগুলোকে প্রাণায়ামবাদীরা বর্তমানে নিয়ে গেছে পূরক-কুম্ভক-রেচক এর মধ্যে, লত্বিফাজীবীরা নিয়ে গেছে জিকিরের মধ্যে, সাম্প্রদায়িকরা নিয়ে গেছে বৈধ-অবৈধের মধ্যে, কবিরাজ ও ফকিররা নিয়ে গেছে কেবল ঝাড়-ফুকের মধ্যে। এগুলো সব ভুয়া ব্যবসা। এসব ব্যবসার ফলাফল হচ্ছে শূন্য। তবে; Acupressure চিকিৎসার দ্বারা এখনও ক্ষতিগ্রস্ত চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এতে সন্দেহ নেই।

পূরক-কুম্ভক-রেচক
পূরক; Fulfillment/ ‘الوفاء’ (আলওয়াফা)
পূরক; বাতাস দ্বারা ফুসফুস পূরণ করণ।
কুম্ভক; Pitcher/ ‘الإبريق’ (আলইবরিক্ব)
অন্তর কুম্ভক; বাতাস দ্বারা ফুসফুস পূরণ হওয়ার পর, কিছুকাল তা ধারণ করা।
বাহ্য কুম্ভক; ফুসফুস বায়ুশূন্য করার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা।
রেচক; Cathartic/ ‘مسهل’ (মুসহিল)
রেচক; ফুসফুস থেকে সম্পূর্ণ বাতাস খালিকরণ।

পূরক-কুম্ভক-রেচক মূলত প্রাণায়াম। যোগ-শাস্ত্র মতে; বায়ু গ্রহণকে ‘পূরক’ ধারণকে ‘কুম্ভক’ এবং ত্যাগকে ‘রেচক’ বলা হয়। এই তিন প্রকার কাজকে একসঙ্গে বলা যেতে পারে প্রাণায়াম। অন্যদিকে; প্রাণ ও অপান-বায়ুর পরস্পর সংযোগকেও প্রাণায়াম বলা হয়।

এটি; পতঞ্জলি কর্তৃক প্রণীত যোগশাস্ত্রে বর্ণিত আটটি অঙ্গের মধ্যে চতুর্থ অঙ্গ।

প্রাণায়াম মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ। প্রাণের আয়াম, অর্থাৎ; প্রাণের দীর্ঘতাই প্রাণায়াম। এখানে; প্রাণ পরিভাষাটিকে বায়ু পরিভাষার সমার্থ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সঠিক নিয়মে এই শ্বাস গ্রহণ, ধারণ এবং বর্জন বা ত্যাগকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাণায়াম করা হয়। যোগশাস্ত্রে নাকের সাহায্যে ফুসফুসে বাতাস পুরণ করে সংরক্ষণ এবং ফুসফুস থেকে বাতাস বের করে দেওয়ার বিশেষ নিয়মবদ্ধ প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রাণায়াম করা হয়।  শরীরের ভিতরে বায়ুর প্রবেশ ও নিষ্ক্রমণের প্রক্রিয়ার দ্বারা, বায়ুর বিস্তার ও তার সংযম করার প্রক্রিয়াই হলো প্রাণায়াম। এই সংযমের প্রক্রিয়া ৪টি ধাপে সম্পন্ন হয়। এই ৪টি ধাপ হলো; পূরক, অন্তরকুম্ভক, রেচক ও বাহ্যকুম্ভক। প্রাণায়ামে পর্যাক্রমে এই চারটি ধাপ সম্পন্ন করা হয়। আবার প্রাণ ও অপান-বায়ুর পরস্পর সংযোগকেও প্রাণায়াম বলা হয়। সাধারণত; প্রাণায়াম প্রক্রিয়ায় শ্বাস গ্রহণ করতে যে সময় নেয়া হয়, শ্বাস ত্যাগ করতে প্রায় তার দ্বিগুণ সময় নিতে হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন যোগীর বিভিন্ন মতামত রয়েছে। অনেকে বলেন পূরক, কুম্ভক ও রেচকের অনুপাত ২: ১: ২ হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কুম্ভকের সময়কালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। তা হতে হবে আয়াসহীন ও সুখকর। তবে; শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। অর্থাৎ; পূরক, কুম্ভক, রেচক যত সময় নিয়েই করা যাক না কেন, আয়াসহীন হওয়া চাই। শরীরের ক্ষতি তখনই হয়, যখন জোর করে ফুসফুসের শক্তির বিচার না করে শ্বাস-ব্যায়াম করা হয়। তাই; প্রাণায়াম অভ্যাসের সময়কাল আপেক্ষিক এবং ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। প্রাণায়াম ততক্ষণ করা যেতে পারে যতক্ষণ ফুসফুস ক্লান্ত না হয়। যে প্রক্রিয়া দেহের প্রাণশক্তি বৃদ্ধি করে এবং জরা, ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে, তাই প্রাণায়াম (Pranayama)। প্রাণায়ামের কাজ হলো বায়ুকে অর্থাৎ; নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রিত করে দেহের প্রাণশক্তিকে বৃদ্ধি করা। যোগ-শাস্ত্র অনুযায়ী বায়ুই দেহের প্রাণশক্তি এবং তা রস-রক্তকে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পরিচালিত করে। বায়ু প্রধানতঃ ‘প্রাণ’, ‘উদ্বান’, ‘সমান’, ‘অপান’ ও ‘ব্যাণ’- এই পাঁচ ভাগে ভাগ হয়ে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়তো কাজ করে যাচ্ছে। গলদেশে ‘উদ্বান’ হৃদয়ে ‘প্রাণ’ নাভিদেশে ‘সমান’ গুহ্যদেশে ‘অপান’ এবং দেহের সর্বত্র ‘ব্যাণ’ কাযরত।

উপরোক্ত পাঁচ প্রকার বায়ুর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রাণ বায়ুর। শ্বাসগ্রহণ ও ত্যাগ, হৃদযন্ত্র পরিচালনা করা, খাদ্যবস্তুকে পাকস্থলীতে পাঠানো, ধমনী-শিরা-উপশিরা দিয়ে রক্তরস আনা-নেয়া করা, ধমনী, শিরা, উপশিরা, স্নায়ুজালকে কাজে প্রবৃত্ত ও সাহায্য করা প্রভৃতি অতি প্রয়োজনীয় কাজগুলো নিয়ত এই প্রাণবায়ু করে যাচ্ছে। কাজেই দেহে প্রাণবায়ুর ভূমিকা প্রধান।

উদ্বান বায়ুর কাজ হচ্ছে শব্দ করা। এই বায়ুর সূক্ষ্মাংশ বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তিকে পুষ্ট করে। ‘উদ্বান’ বায়ুর সাহায্যে আমরা হাসি, কাঁদি, গান করি, শব্দ করি ইত্যাদি। সমান বায়ু জঠরাগ্নিকে উদ্দীপ্ত করে, পাকস্থলী থেকে জরাজীর্ণ খাদ্যবস্তুকে গ্রহণী নাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তারপর; সার ও অসার অংশে ভাগ করে অসার অংশকে মলনাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। অপান বায়ুর কাজ হচ্ছে প্রাণবায়ুকে সাহায্য করা এবং মেয়েদের রজঃনিঃসরণ, সন্তানধারণ ও সন্তান প্রসবে সাহায্য করা ইত্যাদি। আর ব্যাণ বায়ুর কাজ হচ্ছে প্রাণবায়ুকে রক্ত পরিচালনায় সাহায্য করা, পেশি সঙ্কোচন ও প্রসারণে সাহায্য করা এবং দেহ থেকে ঘাম বের করে দেয়া। যোগ-শাস্ত্রে বলা হয় এই পাঁচটি বায়ুর একটি কূপিত হলে দেহে রোগাক্রমণ ঘটে। আসে মৃত্যুর হাতছানি।

বায়ুর প্রধান উপাদান চারটি। অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন। ফসফরাস, সালফার প্রভৃতি আরও কয়েকটি উপাদান আছে। সেগুলোও মূলত বায়ুরই পরিণতি। শ্বাসের সঙ্গে আমরা যে পরিমাণ বায়ু দেহে গ্রহণ করি, তা ঠিকমত কাজে লাগাতে বা দেহ উপাদানে পরিণত করতে পারলে মানুষের খাদ্য-সমস্যা অনেকটাই মিটে যেতো। অনেক যোগী দিনের পর দিন কোনো খাবার না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন। অথচ আমরা সাধারণ মানুষ একদিন না খেলেই মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়ে। দেহ-বিজ্ঞানীদের মতে; মানুষের দেহের শতকরা ৬২% ভাগ অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। শ্বাসের সঙ্গে আমরা যে বায়ু গ্রহণ করি তার মধ্যে শতকরা ২১% ভাগ অক্সিজেন থাকে। তার মাত্র ৪% ভাগ আমরা দেহের কাজে লাগাতে পারি। বাকি প্রায় ১৭% ভাগ আবার নিঃশ্বাসের সাথে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এই অভাব মানুষকে খাদ্যবস্তু দ্বারা পূরণ করতে হয়।

আমরা যদি এমন কিছু প্রক্রিয়া অভ্যাস করতে পারি, যার দ্বারা প্রচুর পরিমাণে বায়ু শরীরের ভেতরে নিতে পারি এবং তা দেহোপযোগী উপাদানে পরিণত করতে পারি, তবে দেহের খাদ্য বা পুষ্টি-সমস্যা অনেকটা মিটে যেতো। আবার যদি গভীরভাবে রেচক করতে পারি অর্থাৎ; নিঃশ্বাস ছাড়তে পারি, তবে দেহের অপ্রয়োজনীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের হয়ে যেতে পারে এবং দেহও বিষমুক্ত হয়। কেবল প্রাণায়াম দ্বারাই এই কাজগুলো যথাযথ করা যেতে পারে। তাই; প্রাণায়ামকে উত্তম শ্বাস-ব্যায়াম বলা হয়। এতে ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং প্রাণায়াম অভ্যাস দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবনলাভের একটি উৎকৃষ্ট উপায়।

মানুষের শরীরটা একটা কারখানা। মানবদেহে যেসব যন্ত্র আছে; যেমন; হৃদযন্ত্র, স্নায়ু, গ্রন্থি, ধমনী, শিরা, উপশিরা প্রভৃতি, সেগুলো সঠিকভাবে কাজ করলেই কেবল সুস্বাস্থ্য লাভ সম্ভব। স্বাস্থ্য রক্ষায় স্নায়ুজালের বিরাট ভূমিকা। শ্বাস-প্রশ্বাস, পরিপাক, রক্ত-রস সঞ্চালন প্রভৃতি কাজ স্নায়ুজালের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আবার নালিহীন গ্রন্থিগুলোর ভূমিকাও দেহে কোনো অংশে স্বল্প নয়। এসব গ্রন্থিনিঃসৃত রস দেহকে রোগাক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। দেহযন্ত্রগুলোকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখে এবং শক্তি যোগায়। এ গ্রন্থিগুলো যদি প্রয়োজন মতো রস নিঃসরণ না করে তবে অন্যান্য দেহযন্ত্রের মতো স্নায়ুতন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তা একদিন অকেজো হয়ে যায়। তাই; নালিহীন গ্রন্থির সক্রিয়তার ওপর স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা নির্ভর করে।

অন্যদিকে; অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ বায়ু ও রক্ত সংবহন ছাড়া নালিহীন গ্রন্থি ও স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ ও সক্রিয় থাকতে পারে না। শ্বাসযন্ত্র যদি ঠিকমতো কাজ না করে, আবশ্যকীয় অক্সিজেন ফুসফুসে যেতে পারে না এবং দেহের কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া প্রভৃতি বিষও বের হয়ে যেতে পারে না। শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকযন্ত্র কর্মক্ষম না থাকলে দেহে এসব বিষ সঞ্চিত হতে আরম্ভ করে। যারফলে; এক এক করে দেহযন্ত্রগুলো বিকল হয়ে আসতে থাকে। রক্তবাহী শিরা-উপশিরা এ বিষ ফুসফুসে টেনে আনে এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা বের হয়ে যায়। তেমনই, মূত্রাশয় ও মলনাড়ি দেহের বিষ ও অসার পদার্থ বের করে দেয়। মূত্রাশয় ও মলনাড়ি তলপেটে এবং ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড মানুষের বুকে অবস্থিত। এর মাঝে রয়েছে শক্ত পেশির দেয়াল ‘ডায়াফ্রাম’। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে এই ডায়াফ্রামের যে উত্থান-পতন হয় এবং তলপেটের পেশিসমূহের যে সঙ্কোচন ও প্রসারণ হয়, তা দ্বারা প্লীহা, যকৃৎ, মূত্রাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র প্রভৃতিতে মৃদু কম্পন ও ঘর্ষণ লাগে। এতে করে এসব যন্ত্রগুলোর ভালো ব্যায়াম হয়। অতএব; দেখা যাচ্ছে যে প্রাণায়াম শ্বাসযন্ত্র থেকে আরম্ভ করে দেহের প্রধান প্রধান যন্ত্রগুলো সবল ও সক্রিয় রাখে। এছাড়াও; মানুষের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে এত অনিয়ম যে ফুসফুস ঠিকমতো সবখানি ওঠানামা করে না। সাধারণভাবে আমরা যখন শ্বাস নেই ও ছাড়ি তখন ফুসফুস অক্সিজেন গ্রহণের দ্বারা ২/৩ অংশ প্রসারিত হয়। যারফলে; ফুসফুসের ঠিক প্রয়োজন মতো ব্যায়াম হয় না। এতে ফুসফুস আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। শ্বাসগ্রহণের সময় রোগ-জীবাণু ঐ দুর্বল ফুসফুসে গিয়ে বাসা বাঁধার সুযোগ পায়। যারফলে; দেহে নানা দূরারোগ্য রোগ দেখা দেয়। প্রণায়াম অভ্যাসের দ্বারা ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের খুব ভালো ব্যায়াম হয় এবং আমরা ফুসফুসকে সম্পূর্ণভাবে প্রসারিত করতে পারি। যারফলে; শ্বাসযন্ত্র সবল ও সুস্থ থাকে আর তাদের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

একজন সুস্থ মানুষের সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি মিনিটে ১৭/১৮ বার। প্রাণায়াম অভ্যাসের মাধ্যমে এ সাধারণ গতিবিধিকে ইচ্ছামতো কমিয়ে আনতে পারা যায়। এতে ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম পায়। এবং মানুষ চঞ্চল মনকে শান্ত করে নিজের কাছে বশীভূত করতে পারে। প্রাণায়াম অভ্যাস করতে যে চারটি বস্তুর আয়ত্ত একান্ত প্রয়োজন তা হলো; (১) উপযুক্ত স্থান (২) বিহিতকাল (৩) পরিমিত আহার এবং (৪) নাড়িশুদ্ধি। এ নাড়িশুদ্ধি বা নাড়ি শোধন প্রাণায়াম কোনো প্রাণায়ামের অন্তর্ভুক্ত না হলেও যে কোনো প্রাণায়াম অভ্যাসের আগে তা অভ্যাস করা বিশেষ প্রয়োজন। নাড়ি শোধন প্রাণায়াম বা অনুলোম বিলোম প্রাণায়াম অভ্যাসের ফলে প্রাণায়াম অভ্যাসকারী খুব সহজেই যে কোনো প্রাণায়াম অভ্যাসের পদ্ধতি সহজেই আয়ত্ত করতে পারবে।

প্রাণায়াম অভ্যাসকারীদের যতদূর সম্ভব কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা উচিত (Those who practice breath control should abide by the some restrictions as far as possible)

১.   সকালে বা সন্ধ্যায় নির্মল বায়ুতে প্রাণায়াম অভ্যাস করা বাঞ্ছনীয়। যেখানে বিশুদ্ধ বায়ু পাওয়া সম্ভব নয় সেখানে সকালে সুর্যোদয়ের পূর্বে প্রাণায়াম অভ্যাস করা উত্তম।
২.   প্রাতঃক্রিয়গুলোর পূর্বে স্নানের পরে অথবা কোনো শ্রমসাধ্য কাজের বা ব্যায়ামের ঠিক পরে প্রাণায়াম অভ্যাস করা উচিত নয়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তবেই তা করা যেতে পারে।
৩.   ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় প্রাণায়াম করা উচিত নয়। এমন ক্ষেত্রে কফ্-প্রবণ ব্যক্তির রোগ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত প্রাণায়াম করা নিষেধ। তবে; রোদ উঠলে করা যেতে পারে।
৪.   ভরপেটে আসন, মুদ্রা, প্রাণায়াম কোনটাই করা উচিত নয়।
৫.   যেমন; শীর্ষাসনের পরে আর কোনো আসন করা ঠিক নয়, তেমনই; প্রাণায়ামের পর তখনকার মতো আর কোনো ব্যায়াম করা উচিত নয়।
৬.   প্রাণায়াম আট-নয় বছর বয়স থেকে আজীবন করা যেতে পারে। তবে; অধিক বয়সে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।
৭.   তাড়াহুড়া করে, চিন্তাযুক্ত মন নিয়ে প্রাণায়াম, আসন, মুদ্রা কোনটাই করা ঠিক নয়। মন শান্ত, ধীর ও চিন্তাশূন্য রাখার চেষ্টা করতে হবে। আসন ও মুদ্রার মতো প্রাণায়াম অভ্যাসের সময়ও একাগ্রতা থাকা আবশ্যক।

প্রাণায়ামের প্রকারভেদ (Variations of aeration)
অনেক প্রকার প্রাণায়াম আছে। তারমধ্যে; উল্লেখযোগ্য হলো; উজ্জায়ী, কপালভাতি, দীর্ঘ, নাড়ি-শোধন, ভস্ত্রিকা, ভ্রমণ, ভ্রামরী, শীতলী, সহজ ও সূর্যভেদ।

আবার প্রাণায়াম চার প্রকার- (১) সহজ প্রাণায়াম (২) লঘু প্রাণায়াম (৩) বৈদিক প্রাণায়াম ও (৪) রাজযোগ প্রাণায়াম।

. সহজ প্রাণায়াম (Easy aeration)
এটি; গৃহীদের জন্য

. লঘু প্রাণায়াম (Light aeration)
এটি; গৃহীদের জন্য

. বৈদিক প্রাণায়াম (Vedic aeration)
এ যোগে অভিজ্ঞ এমন গৃহীদের জন্য।

. রাজযোগ পাণায়াম (Royal aeration)
এটি; অভিজ্ঞ যোগী ও সাধকদের জন্য।

কোনো গৃহীর পক্ষে এ চার ধরনের প্রাণায়াম আয়ত্ত করা সহজসাধ্য নয়। সদগুরু বা প্রাণায়াম সিদ্ধ যোগীর সাহায্য ব্যতীত কেবল বই পড়ে কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে বৈদিক ও রাজযোগ প্রাণায়াম অভ্যাস করা উচিত নয়। এতে বিপদের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। রাজযোগ প্রাণায়াম সাধারণত; গৃহীদের পক্ষে নিষিদ্ধ। কেবল যোগী ও সাধকই এ প্রাণায়াম অভ্যাসের অধিকারী। প্রথমোক্ত দু’ধরনের, অর্থাৎ; সহজ ও লঘু প্রাণায়ামই কেবল গৃহীরা দিনে দু’বার সকাল ও সন্ধ্যায় অভ্যাস করতে পারে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!