প্রেম

৬৯/১. প্রেম
Amour (এ্যামোর)/ ‘غرامية’ (গারামিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ভালোবাসা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা ভালোবাসা। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা মোহ। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা মায়া এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা মরীচিকা

অভিধা (Appellation)

প্রেম (বাপৌরূ)বি ভালোবাসা, প্রণয়, প্রীতি, স্নেহ, মমতা, amour, ‘غرامية’ (গারামিয়া), love, affection (শ্ববি) সুখ, বিশ্বাস, শান্তি, আস্থা, নির্ভর, মান্যতা (ইংপ) devotion (ইপ) ইশক্ব (.ﻋﺷﻖ), পিয়ার (হি.ﭙﻴﺎﺮ), মুহাব্বাত (.ﻤﺤﺒﺔ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ভালোবাসা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; পরস্পর প্রণয় বা ভালোবাসাকে বাংলায় ‘প্রেম বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সাঁই ও কাঁই দর্শন আকাঙ্ক্ষাকে রূপকার্থে ‘প্রেম বলা হয় (বাপৌছ) মরীচিকা (বাপৌচা) মায়া (বাপৌউ) মোহ (বাপৌরূ) প্রেম (বাপৌমূ) ভালোবাসা।

প্রেমের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of amour)
১.   “করি মানা কাম ছাড়ে না মদনে, প্রেমরসিক হব কেমনে।” (পবিত্র লালন- ২৬৬/১)
২.   “কালা মধুপুর বিজনে বসি, রোজ বাজায় বিষের বাঁশী, লীলার লোভে মাসে আসি, প্রেম জাগায় রাধার মনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “গুরু-শিষ্যে প্রেম করা, মুঠের মধ্যে ছায়া ধরা, সিরাজ সাঁইজি কয় লালন তেড়া, এমন প্রেম করা চাই।” (পবিত্র লালন- ৮৩৯/৪)
৪.   “গুরু শিষ্যের প্রেমের ধারা, উযান বেয়ে যাচ্ছে তারা (গো), বলন কয় দেখ রে তোরা, প্রেম মানে না কুলজাতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৩)
৫ .  “জানলে প্রেম-গোকুলে, নিত না শ্যাম কাঁথা গলে, নদেয় আসত না, অধীন লালন কয়, করো এ বিবেচনা।” (পবিত্র লালন৮৬৪/)
৬.   “ফড়িয়ার মহাজন যেজন, বাটখারাতে করে ওজন, গদিয়ান মহাজন যেজন, বসে কিনে প্রেমরতন।” (পবিত্র লালন- ৯০৫/২)
৭.   “বলবো কী সে প্রেমের কথা, কাম হলো প্রেমের লতা, কাম ছাড়া প্রেম যথাতথা, নাইরে আগমন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৩)
৮.   “ভাব জানি না, প্রেম জানি না, দাসীরে চরণ ছাড়া করো না, ভাব দিয়ে ভাব নিলে মনা, সে-ই সে রাঙাচরণ পায়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬/২)

প্রেমের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of amour)
১.   “অনেকে তো প্রেম করে, এমন দশা ঘটে কাররে, গঞ্জনা দেয় ঘরে পরে, শ্যামের পদে দিয়ে আঁখি।” (পবিত্র লালন- ২১৪/২)
২.   “ইউসুফ জুলেখার ডোরে, প্রেম করে ভাবসাগরে (গো), বারো চৌদ্দবছর পরে, তারা পেল প্রেমমতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৩)
৩.   “একবার এসে এ নদীয়ায়, মানুষ রূপে হয়ে উদয়, প্রেম বিলালে যথাতথায়, গেলেন প্রভু নিজপুরে।” (পবিত্র লালন- ১৬৯/২)
৪.   “ও গৌরের প্রেম রাখতে সামান্যে কী পারবি তোরা, কুলশীল ইস্তিফা দিয়ে, হতে হয় জ্যান্ত মরা।” (পবিত্র লালন- ২৪৭/১)
৫.   “ও প্রেম আর আমার, ভালো লাগে না, প্রেমের দায়ে জেল খাটলাম, তবু ঋণ শোধ হলো না।” (পবিত্র লালন- ২৫১/১)
৬.   “ওরে রসিক যারা, প্রেম জোয়ারে রসের তরী বায়, জোয়ার ভাটা জেনেশুনে, সাবধানে তরী চালায়।” (পবিত্র লালন- ২৫৯/১)
৭.   “কোন রসে প্রেম সেধে হরি, গৌরবর্ণ হলো সে, না জেনে সে প্রেমের অর্থ, প্রেম যাজন হয় কিসে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/১)
৮.   “চাতকরূপ পাখি যেমন, করে সে প্রেম নিরূপণ, আছি তেমন প্রায়; কারেবা শুধাই, সে চাঁদের উদ্দেশ কে কয়।” (পবিত্র লালন- ১৬৮/২)
৯.   “ঝিরিঝিরি দখিনে সমীরণ, উথলিয়া ওঠে প্রেম শিহরণ, তোমার আশায় দিবস কাটাই, বাতায়ণ খুলিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১০. “তিনরসে প্রেম সাধলে হরি, শ্যামাঙ্গে গৌরাঙ্গ তারই, লালন বলে বিনয় করি, সে রসে প্রেমরসিক খেলে।” (পবিত্র লালন- ৪৭০/৪)
১১.  “পঞ্চবাণের ছিলে কেটে, প্রেম যাচো স্বরূপের হাটে, লালন বলেরে মন, বৈদিক বাণে করিস না রণ, বাণ হারিয়ে পড়বি তখন, রণখেলায় হুমড়ি খেয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৪/৪)
১২.  “পরলাম কলংকের হার, তবু তো ও কালার, মন পেলাম না, ঘৃণায় মরে যাই- কী করি উপায়, এমন প্রেম আর করব না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৬/২)
১৩. “প্রেম করা কী কথার কথা, প্রেমে মজে হরির গলে, ঝুলে চিন্তাকাঁথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪০/১)
১৪. “প্রেম করে বাড়ল দ্বিগুন জ্বালা, ছল করে মন হরে নিলো কালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪২/১)
১৫. “প্রেম জানো না, প্রেমের হাটে বুলবুলা, কথায় দেখি ব্রহ্ম আলাপ, মনে গলত্ব ষোল কলা।” (পবিত্র লালন- ৬৪৪/১)।১৬.  “ভাব জানি না প্রেম জানি না, জানি না ভজন সাধনা, কী ধন থুয়ে কী ধন দেব, দয়ালরে তোর গুরুদক্ষিণা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৪)
১৭. “ভাব জানি না, প্রেম জানি না, দাসীরে চরণ ছাড়া করো না, ভাব দিয়ে ভাব নিলে মনা, সে-ই সে রাঙাচরণ পায়।” (পবিত্র লালন- ১৫৬/২)
১৮. “মা কাঁন্দে দূর বিজনে, গোপন প্রেম বাপের সনে, ভূল হলো মূলসাধনে, গেল না তোর বাপের ভ্রম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৮)
১৯.  “রাধে লো তোরে করিরে মানা, কৃষ্ণের সঙ্গে প্রেম করিস না, কৃষ্ণের সঙ্গে করলে প্রেম, সখীগণ কেউ ছুঁবে না।” (পবিত্র লালন- ৪৫৩/৩)
২০. “শুদ্ধ প্রেম সাধিলে সাধু, প্রেম-কুঠিতে লাগে যাদু, তের মাস খায় সে মধু, ভাঙ্গিয়া সাঁই নিগমকারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)

প্রেমের ওপর ৩টি পূর্ণ লালন (Three full Lalon on the amour)

.                 করি কেমনে শুদ্ধসহজ,
প্রেম সাধন,
প্রেম সাধতে ফেঁপে ওঠে,
প্রেমনদীর তুফান।

প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে,
ত্রিবেণীর ঘাট বাঁধলাম কষে,
কামনদীর এক ধাক্কা এসে,
কেটে যায় বাঁধন ছাদন।

বলবো কী সে প্রেমের কথা,
কাম হলো প্রেমের লতা,
কাম ছাড়া প্রেম যথাতথা,
নাইরে আগমন।

পরমগুরু প্রেমপিরিতি,
কামগুরু হয় নিজপতি,
কাম ছাড়া প্রেম পায় কী গতি,
তাই ভাবে লালন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫)

.                 ডুবে দেখ রে মন,
প্রেমনদীর জলে,
(মীন রূপে সাঁই খেলে),
প্রেমডুবুরী না হলে মীন,
বাঁধবে না জালে।

জেলে জুতেল বড়শেল আদি,
ভ্রমিয়ে চারযুগ অবধি,
কেউ না পেলে,
খাড় করে মীন- রয় চিরদিন,
প্রেমসন্ধি স্থলে।

ত্রিবেণীর ত্রিসন্ধি,
খুলতে পারে সে ফন্দি,

প্রেমডুবুরী হলে,
তবে সে মীন- আপনাপনি,
আসবে হাতে চলে।

স্বরূপ-শক্তি প্রেমসিন্ধু,
মীন অবতার দিনবন্ধু,
সিরাজ সাঁইজি বলে,
শোনরে লালন- মরলি এখন,
গুরু-তত্ত্ব ভুলে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩)

.                 প্রেম জানো না,
প্রেমের হাটে বুলবুলা,
তার কথায় দেখি ব্রহ্ম আলাপ,
মনে গলত্ব ষোল কলা।

বেশ করে সে বৈমগিরি,
রস নাই তার গুমান ভারি,
হরিনামের ঢুঢু তারই,
তিনগাছি জপমালা।

খাঁদা-বোচার ভুত চালানি,
সেটা বটে গণ্য জানি,
সাধুর হাটের ঘুসঘুসানি,
প্রেমাগুনে পাও জ্বালা।

মন মেতেছে মদনরসে,
সদাই থাকে সে আবেশে,
লালন বলে মিছেমিছে,
লবলবানি প্রেম উতালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪৪)

প্রেমের সংজ্ঞা (Definition of amour)
সাধারণত; পরস্পর প্রণয় বা ভালোবাসাকে প্রেম বলে।

প্রেমের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of amour)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সাঁই ও কাঁই দর্শন আকাঙ্ক্ষাকে প্রেম বলে।

প্রেমের প্রকারভেদ (Variations of amour)
সাধারণত; প্রেম দুই প্রকার। যথা; ১. ঐশ্বরিক প্রেম ও ২. জাগতিক প্রেম।

ঐশ্বরিক প্রেম (Divine amour)
কাঁই, সাঁই ও দেবতা ইত্যাদির প্রতি ভালোবাসাকে ঐশ্বরিক প্রেম বলে।

জাগতিক প্রেম (Mundane amour)
জাগতিক বিষয়রাশির প্রতি ভালোবাসাকে জাগতিক প্রেম বলে।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জাগতিক প্রেম পাঁচ প্রকার। যথা; ১. সখ্য প্রেম ২. শান্ত প্রেম ৩. দাস্য প্রেম ৪. বাৎসল্য প্রেম ও ৫. মধুর প্রেম।

. সখ্য প্রেম (Friendship amour)/ (Friendship. ফ্রেন্ডশিপ)/ ‘صداقة’ (সদাক্বা)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ভালোবাসাকে সখ্য প্রেম বলে।

. শান্ত প্রেম (Demure amour)/ (Modesty. মডেস্টি)/ ‘تواضعة’ (তাওদোয়া‘)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; বড়দের সঙ্গে ছোটদের ভালোবাসামূলক আচরণকে শান্তপ্রে ম বলে।

. বাৎসল্য প্রেম (Sonship amour)/ (Sonship. সনশিপ)/ ‘بنوة’ (বুনুয়া)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পিতা পুত্র বা মা ও ছেলের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ভালোবাসাকে বাৎসল্য প্রেম বলে।

. দাস্য প্রেম (Servant amour)/ (Slavery. স্লেইভারি)/ ‘عبودية’ (আবুদিয়্যা)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; গুরু ও শিষ্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ভালোবাসা বা সুসম্পর্ককে দাস্য প্রেম বলে।

. মধুর প্রেম (Nectareous amour)/ (Nectary. নেক্টারি)/ ‘تحببية’ (তাহবাবিয়্যা)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ভালোবাসাকে মধুর প্রেম বলে।

প্রেমের উপকার (Benefits of amour)
১.    প্রেম দ্বারা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২.   প্রেমদেব আছে বলেই বিশ্ব টিকে আছে।
৩.   সঠিক প্রেমের দ্বারা সংসার, সমাজ, স্বদেশ ও বিদেশ এমনকি; সারাবিশ্বেই শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।

প্রেমগাছের ফল একটি নয় বরং দুটি (Not a but two of lovetree’s fruit)

. বেদ (Significance)
“ইন্দ্র বলেছেন, যে আমার মাতা মৃত হবেন; তথাপি পুরাতন পথ অনুগমন করব না, শীঘ্র বহির্গত হব। ইন্দ্র অভিষবকারী ত্বষ্টার গৃহে বলপূর্বক সোমাভিষব দুটি ফল অভিষুত সোম পান করেছিলেন। সে সোম শত ধনের দ্বারা ক্রীত (২)।” (ঋকবেদ, চতুর্থমণ্ডল, সুক্ত ১৮/৩)

. ত্রিপিটক (Triplet)
“এই ভাবিয়া সেই ব্রাহ্মণ ভোজনশালা অবলোকন করিবার সময় দুটি দ্রব্য দেখিতে পাইলেন না, যবাগূ এবং মধুগোলক (লাড়ু)।” (ত্রিপিটক, ১ম খণ্ড, বিনয়-পিটক, যবাগু ও লাড়ুর বিধান)

. কুরান (ﻘﺭﺍﻦ) (Triad)
১.    “উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবণ।” (কুরান, সুরা রহমান- ৫০)
২.   “তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ।” (কুরান, সুরা রহমান- ৬৬)
৩.   “নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না। আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন।” (কুরান, সুরা নিসা- ৪০)
৪.   “যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে এবং নিজের মনকে সুদৃঢ় করার জন্যে তাদের উদাহরণ টিলায় অবস্থিত বাগানের মত, যাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। অতঃপর; দ্বিগুণ ফসল দান করে।” (কুরান, বাকারা- ২৬৫)

. লালন (Lalon)
১.   “ব্রহ্ম ঈশ্বর দুই তো, লেখা যায় সাধ্য মতো, উঁচুনিচু কী তারও তো, করতে হয় সেও দিশে।” (পবিত্র লালন- ৮০৪/২)
২.   “যে জানে সে দুই নূরীকে, সিদ্ধি করে যোগে জেগে, লালন ফকির পড়ল ফাঁকে, মনের দ্বিধায়।” (পবিত্র লালন- ৬০৬/৪)

. বলন (Bolon)
১.   “আকাশে যে মই লাগিলে উড়ে পাতালে যায় বাতাসে, সাদা কালো দুটি চন্দ্র তার হাতে আসে অনাসে, পায় না চাঁদ অস্ত গেলে, পাহাড় সাগর খগোলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৮)
২.   “কত সাধু চাঁদের আশে, যুগ যুগান্তর ঘুরিতেছে, একগাছে দুই চাঁদ ধরে, কত ভ্রমর পাগল করে, চাঁদ পেড়ে চাঁদের মালা, পরবি কে আয় গলায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩২)
৩.   “দয়াল কত করুণাময়, দুইছানা এক হরিণে রয়, বলন কহে সর্বদায়, কোন দিন কার ভাগ্যে হয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫৮)
৪.   “দশজনে বাঁধ বাঁন্ধিলে- ছয়জনে কাটিয়া ফেলে, দুইজন ঘরে মহাজন-, পঞ্চরস সদা ভুলে রই- পঞ্চবাণ ছিলে কাটিলে কই, পঞ্চভূত করছনি বশীকরণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৯)
৫.   “দশডালেতে চৌদ্দশাখা, মগডালে পাখির বাসা, মাসে ফুটে দুটি ছা, কথা কয় হাজার মাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৮)
৬.   “প্রেমসন্ধি সরোবরে, সাদা কালো দুই ফল ধরে, গুরু যদি আহার করে, শিষ্যও বিহার করতে পারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৯)
৭.   “মায়াকানন কুসুমবাগে, সাদা কালো দুই শশী জাগে, বাছাধন কেষ্ট মাঙ্গে, তোর দুয়ার দে খুলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০১)
৮.   “শুকনা গাঙ্গে জোয়ার আসে, সাদা কালো দুই চাঁদ ভাসে, পাব বলে কূলেই বসে, মরি মুখে লাল পড়ি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৬)

উপরোক্ত উদ্ধৃতির মধ্যে (দুই ছা, দুই ছানা, দুই চন্দ্র, দুই চাঁদ, দুই দ্রব্য, দুই নূরী, দুই প্রস্রবণ, দুই ফল, দুই মহাজন, দুই শশী, দ্বিগুণ, দ্বিগুণ ফসল ও ব্রহ্ম ঈশ্বর দুই) এসব বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পাওয়া যায়। উপরোক্ত বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাগুলো দ্বারা কেবলই দুইফল বুঝায়। দুল ফলগুলো হলো;

১.    হিন্দুদের বৈষ্ণব মনীষীদের মতে; ১. ব্রহ্মা ও ২. বিষ্ণু/ ১. কৃষ্ণ ও ২. রাম।
২.   বৌদ্ধদের সহজিয়া মনীষীদের মতে; ১. ব্রহ্মা ও ২. বিষ্ণু/ ১. যবাগূ ও ২. মধু।
৩.   খ্রিস্টানদের ক্যাথলিক মনীষীদের মতে; . Lord ও. God.
৪.   মুসলমানদের বাউল মনীষীদের মতে; ১. (ﺍﻟﻠﻪ) আল্লাহ ও ২. (ﺮﺴﻮﻞ) রাসুল।
৫.   লালনপন্থী মনীষীদের মতে; ১. কালশশী ও ২. সাদাশশী।
৬.   আত্মতাত্ত্বিক মনীষীদের মতে; ১. কাঁই ও সাঁই।

উল্লেখ্য যে; পুরাণে প্রেমগাছ বলতে কেবল মানবদেহকে বুঝায়। আর প্রেমগাছের ফল বলতে মানবজলকে বুঝায়। মানবজল হলো অমির বা পীযূষ। এবার শক্ত করেই বলা যায় বিশ্বের অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক জনক, যাজক ও রূপকার মনীষীর মতে; প্রেমগাছের ফল দু‘টি। অন্যদিকে; কেবল মানিকগঞ্জের কালুশাহর এ বাণীটির দ্বারা শ্বরবিজ্ঞানের বিশ্ববিখ্যাত দুই ফলকে একফল বলা কতটুকু সমীচীন?

আরও উল্লেখ্য যে; এদেশের অধিকাংশ পারম্পরিক মনীষী প্রেমগাছ বলতে দেহকে বুঝালেও, প্রেমগাছের দুইফল বলতে রমণীদের স্ফীতগ্রন্থিকে বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। এটি; নিশ্চিত একটি লজ্জাস্কর বিষয়। এ লজ্জাস্কর বিষয়টি হতে বেরিয়ে আসা কিংবা বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই হয়তো দুই ফলকে একফল বলে পাঠক-শ্রোতার দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যদিকে; সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এ গানটির বিকৃতির মাধ্যমে।

কথা হলো, প্রেমগাছের দুইফলরূপ Mythology এর ভুল ব্যাখ্যা হতে সৃষ্টি হয়েছে লজ্জাস্করতা। এই লজ্জাস্করতা দূর করার জন্য দুইফল কেটে একফল করা হলো। আন্তদর্শনে এর কোনো বাস্তবতা নেই। অর্থাৎ; মনগড়া ও অপব্যাখ্যার দ্বারা লজ্জাস্কর এক ভুলের সৃষ্টি করা হলো। উক্ত লজ্জাস্করতা দূর করার জন্য আরেক ভুলের জন্ম দেওয়া হলো। অর্থাৎ; ভুল দ্বারা ভুলের সৃষ্টি করা হলো।

তবে এবার প্রশ্ন হতে পারে শ্বরবিজ্ঞানে প্রেমগাছের দুইফল Mythology এর Theology বলতে মরমী মনীষীগণ কাঁই ও সাঁইকে বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন প্রেমগাছের একফল বলা হলো তখন এর Mythological ব্যাখ্যাইবা কী হবে এবং Theological ব্যাখ্যাইবা কী হবে?

প্রেমগাছের একফল কী? এর উত্তরে- কেউ বলবেন প্রেম, কেউ বলবেন বিশ্বাস, কেউ বলবেন ভক্তি, কেউ বলবেন গুরুর-জ্ঞান, কেউ বলবেন নারী, কেউ বলবেন স্ত্রী এই তো। এবার বলুন- “ঐ ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্যে খাইলে অমর হয় সে সংসারে।”- এর অর্থ কী হবে? যদি প্রেমগাছের ফল এগুলোই হয়, তবে এগুলো খায় কিভাবে এবং অমর হয় কিভাবে?

আত্মদর্শন (Theology)
সমাধান হলো প্রেমগাছ এর ফল একটি নয় বরং দুটি। আর তা হলো কাঁই ও সাঁই। এখানে; পীযূষের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা হলো কাঁই এবং সুধার বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা হলো সাঁই। এটি; প্রকৃত মানবরস নাকি বর্জ্যজল? আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; পরীক্ষার জন্য এ রসদ্বয় আগে গুরুর নিকট প্রেরণ করতে হয়। দয়াময় গুরুদেব এ রসদ্বয় স্বয়ং পরীক্ষা করে সঠিক বললে অবশ্যই তা পবিত্র। আর এটা না মূত্র আর না রজরক্ত। এ রসদ্বয় নিয়মিত পান করতে থাকলে তার আর সন্তানরূপ পুনর্জন্ম হয় না। এখানে; রসদ্বয় গুরুর নিকট পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করাকে বলা হয়েছে- গুরুকে দেওয়া। এবং সন্তান গ্রহণ না করাকে বলা হয়েছে অমর হওয়া। এছাড়াও; শ্বরবিজ্ঞানে অটল বা ঊর্ধ্বরেতা হওয়াকেও অমর হওয়া বলা হয়। এমন অবস্থা হতেই বলা হয়েছে- “ঐ ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্যে খাইলে অমর হয় সে সংসারে।” মাণিকগঞ্জের কালুশাহর এ বাণীটি অনেকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দুইফলের স্থলে একফল করে সব লেজে গোবরে করেছে ফেলেছে। নিচে বাণীটি তুলে ধরা হলো।

নিরীক্ষ বান্ধরে দুই নয়নে ভুইলনা মন তাহারে
ঐ নাম ভুল করিলে যাবিরে মারা
পড়বিরে বিষম ফেরে।।

আগে আপনকে চেন
পরে গুরুকে মানো
দেহ পাশ করে আনো
ওরে সই মহলের নকল গুরু
দেবেন তোমায় দয়া করে।।

প্রেমের গাছে দুটি ফল
রসে করে টলমল
কত ভ্রমর হয় পাগল
সে ফল গুরুকে দিয়ে শিষ্য খাইলে
অমর হয় সে সংসারে।।

প্রেমের হাটে গেলা না
প্রেমের সদাই কিনলা না
প্রেমের-মানুষ চিনলা না
ওরে সেই মানুষের লাইগারে
মানুষ জঙ্গলে বসত করে।।

ফকির কালুশাহ তাই কয়
মনরে বলি যে তোমায়
এই প্রেম সামান্যেতে নয়
এই প্রেমের লাইগারে মানুষ
ঘুরে জনমভরে।।”

অতএব; প্রেমের গাছে ফল একটি নয় বরং দুটি।

প্রেম দ্বারা নির্মিত কিছু বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা’ (Some metaphors terminology created by amour)
গৌর-প্রেম, গৌর প্রেমের হাট, নির্মল প্রেম, নির্হেতু প্রেম, প্রেম উজ্জ্বল, প্রেম উতালা, প্রেম-উপাসনা, প্রেম-ঋণ, প্রেম-করণি, প্রেম-কাহিনী, প্রেম-কুঠি, প্রেম-কোদাল, প্রেম-খাল, প্রেম-গঞ্জ, প্রেম-গোকুল, প্রেম-চওড়া, প্রেম-ছোড়ান, প্রেম-জল, প্রেম-জাগা, প্রেম-জাল, প্রেম-জোয়ার, প্রেম-জ্বালা, প্রেম-জ্যোতি, প্রেম-ঝাঁপই, প্রেম-টাকশাল, প্রেম-ডুবুরী, প্রেম-ডুরি, প্রেম-তত্ত্ব, প্রেম-তরঙ্গ, প্রেম-তরণী, প্রেম-তরী, প্রেম-তলা, প্রেম-দাতা, প্রেম-দানী, প্রেম-দাস, প্রেম-ধন, প্রেম-নগর, প্রেম-নদ, প্রেম-নদী, প্রেম-নয়ন, প্রেম-নহর, প্রেম নিরূপণ, প্রেম-নৌকা, প্রেম-পঞ্চরস, প্রেম-পদ্ম, প্রেম-পণ্যার, প্রেম-পরশ, প্রেম-পরশরতন, প্রেম-পাগল, প্রেম-পাথার, প্রেম-প্রকৃতি, প্রেম-ফাঁদ, প্রেম-ফাঁস, প্রেম-ফাঁসি, প্রেম-ফান্দ, প্রেম-বড়শি, প্রেম-বাজার, প্রেম-বাণ,  প্রেম-বাদাম, প্রেম-বিকান, প্রেম-বিলান, প্রেম-ভক্তি, প্রেম-ভয়, প্রেম-মণ্ডল, প্রেম-মতি, প্রেমময়, প্রেমময়ী, প্রেম-যমুনা, প্রেম-যাচা, প্রেম-যাজন, প্রেম-যুগল, প্রেম-রতন, প্রেম-রতী, প্রেম-রত্ন-ধন, প্রেম-রস, প্রেম-রস-রতী, প্রেম-রশ্মি, প্রেম-রসিক, প্রেম-রসের রসিক,  প্রেম-রাগ, প্রেম-লালস, প্রেম-লীলা, প্রেম-শক্তি, প্রেম-শিকল, প্রেম-শিহরণ, প্রেম-শূন্য চিত্ত, প্রেম-শৃঙ্গার, প্রেম-শেল, প্রেম-সন্ধি, প্রেম-সন্ধি সরোবর, প্রেম-সরোবর, প্রেম-সাগর, প্রেম-সাধা, প্রেম-সাধন, প্রেম-সাধনালয়, প্রেম-সিন্ধু, প্রেম-সুধা, প্রেম-স্কুল, প্রেম-হিল্লোল, প্রেমাকুল, প্রেমাগুন, প্রেমাঘাত, প্রেমাচারী, প্রেমাঠা, প্রেমানন্দ, প্রেমানল, প্রেমাবরণ, প্রেমালাপন, প্রেমালিঙ্গন, প্রেমাস্ত্র, প্রেমে মজা, প্রেমে মরা, প্রেমের উদ্দীপন, প্রেমের অঙ্কুর, প্রেমের করণ, প্রেমের করণী, প্রেমের কলি, প্রেমের কারখানা, প্রেমের ক্ষমতা, প্রেমের খাতা, প্রেমের গীত, প্রেমের ঘাট, প্রেমের চাষ, প্রেমের থানা, প্রেমের দায়, প্রেমের ধারা, প্রেমের পাশা, প্রেমের প্রেমী, প্রেমের বাণী, প্রেমের বাদাম, প্রেমের বিষ, প্রেমের ভাব, প্রেমের ভাব-রাগ, প্রেমের মরী, প্রেমের মর্ম, প্রেমের মশাল, প্রেমের মহাজন, প্রেমের মাছ, প্রেমের মাণিক-রতন, প্রেমের-মানুষ, প্রেমের মালখানা, প্রেমের মালা, প্রেমের মূল্য, প্রেমের রশি, প্রেমের রসিক, প্রেমের রাজা, প্রেমের রাজ্য, প্রেমের লতা, প্রেমের শকুন, প্রেমের শিরমণি, প্রেমের সন্ধি, প্রেমের সহচরী, প্রেমের সুতা, প্রেমের সোহাগিনী, প্রেমের হাট, প্রেমোন্মাদ, শুদ্ধ-প্রেম, শুদ্ধ প্রেম-রসিক, শুদ্ধ প্রেম-রাগ, শুদ্ধ প্রেমের প্রেমী, শুদ্ধ প্রেমের রসিক ও সহজ-প্রেম।

১.   “অটল-মানুষ প্রেমেরমানুষ, রসের-মানুষ সোনার-মানুষ, ভাবের-মানুষ সরল-মানুষ, মূল-মানুষটি কোন জনা।” (পবিত্র লালন- ২৪৫/৩)
২.   “অতৃপ্ত নয়নের আশা, লজ্জা ভয় রমণীর ভূষা, যে প্রেমের বিষে লাগল নিশা, কাকে বলি বুঝিয়ে।” (পবিত্র লালন- ৯৭২/৩)
৩.   “অদৃষ্ট সাধন করা, যেমন আন্ধার ঘরে সর্প ধরা, লালন বলে ভাবুক যারা, প্রেম জ্যোতিতে চরণ পাবে।” (পবিত্র লালন- ৭১৯/৪)
৪.   “অধঃপাতী প্রেমতরণী, তিনদিনেতে পাতালগামী, কাঁন্দি বসে দিনরজনী, এখন চোখেতে দেখি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০০)
৫.   “অনুরাগে মন করে একান্ত, করো মনিহারা ফণীর মতো, দেখলে তার মুখ- হৃদয়ে বাড়ে সুখ, পরশিলে অঙ্গ প্রেম উজ্জ্বলে।” (পবিত্র লালন- ৮৬২/৩)
৬.   “অনুরাগের চাষা হয়ে প্রেমের করো চাষ, তাতে শুকাবে ঘাস, জমিনেতে নীর ঝরবে কৃষি হবে, ফলবে যত সোনা।” (পবিত্র লালন- ৪৪৪/২)
৭.   “অন্তরে নিদারুণ ব্যথা কেহ নাহি জানে, দয়ালের বিচ্ছেদের ব্যথায়রে, বলন পুড়িছে আগুনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)
৮.   “অমাবশ্যা পূর্ণিমালীলা, জোয়ার চেনে ভাসা ভেলা, দ্বিদলে অটলখেলা, বলন কয় প্রেমনদীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৪)
৯.   “অরসিকের ভোলে ভুলে, ডুবিস না কূপনদীর জলে, কারণ বারির মধ্যস্থলে, ফুটেছে ফুল অচিনদলে, চাঁদ চকোর তাতে খেলে, প্রেমবাণে প্রকাশিয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৪/২)
১০. “অস্ত্রাঘাতের ব্যথা ঘা শুকালে যায়, প্রেমাঘাত করে জীবন সংশয়, জীবন যায় না দেখে, সে দিবানিশি মারে জ্বালাতন করি।” (পবিত্র লালন- ৬৫৪/৩)
১১.  “আকাশে আখেটি করতে পাশ পাতে পাতালে, বাতাসে কৌশল করিয়া বসিয়া রহে জলে, প্রেমের রশি লাগায়- বাঁন্ধিয়া রাখে কারায়, যদি ধরা পড়ে হায়, মুক্তি পাবার সাধ্য নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬০)
১২.  “আগে উদয় কামরতী, রস আগমন তারই সাথী, সে রসে হয়ে স্থিতি, খেলছে মানুষ প্রেমদাতা।” (পবিত্র লালন- ৮৮৮/২)
১৩. “আগে দুঃখ পাছে সুখ হয়, সহে বয়ে কেউ যদি রয়, লালন বলে প্রেমপরশ পায়, সামান্য মনে কী ঘটে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/৪)
১৪. “আছে মনের তিনটি বাঞ্ছা, নদেপুরে মিটাব ইচ্ছা, প্রেমঋণে গাঁথা, সে কারণে নদেভুবনে, জাগে হৃদয় লতা।” (পবিত্র লালন- ১৬৩/২)
১৫. “আপনি ফকির আপনি ফিকির, সে লীলার ছলে, আপনার আপনি- ভুলে রাব্বানি, আপনি ভাসে আপন প্রেমজলে।” (পবিত্র লালন- ৬১৪/২)
১৬.  “আপনি সাঁই ফকির, আপনি হয় ফিকির, ও সে নিলে ছলে, আপনারে আপনি- ভুলে রাব্বানি, আপনি ভাসে আপন প্রেমজলে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৭/৩)
১৭. “আব খাকে পিঞ্জিরা বর্ত্ম, আতশে হলো পোক্ত, পবন আড়া সে ঘরে, আছে শুকপাখি সেথায়, প্রেমশিকল পায়, আজব খেলা খেলছে গুরু গোঁসাই মেরে।” (পবিত্র লালন- ১২১/২)
১৮. “আবিম্ব উথলিয়ে নীর, পুরুষ-প্রকৃতি হয় কে কার, দোহার প্রেমশৃঙ্গার, প্রেমশৃঙ্গারে উভয় উভয়ের, শেষে লেনাদেনা হয়।” (পবিত্র লালন- ৬৫১/৩)
১৯.  “আমায় ভিক্ষা ঝোলা দে সাজিয়ে, ওলো প্রাণসজনী, আমি জাত বেচিব মেঙ্গে খাবো, প্রেমযমুনার পানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯)
২০. “আমার অন্তরায় আমার কলিজায়, প্রেমশেল বিন্ধিলো বুকে, মরি হায় হায়।” (মরমী কবি দূরবীন শাহ্)
২১.  “আমার এ কাঞ্চা বয়সে, ঝুলেছি মরণ প্রেমফাঁসে, কী করিলাম ভালবেসে, সর্বনাশা প্রেমের আশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩)
২২. “আমি বৃন্দে নামটি ধরি, তুমি যাবে কিনা যাবে হরি, তোমার হাতে দিয়ে প্রেমডুরি, বেঁধে নিব হায়।” (পবিত্র লালন- ৪৯৫/৩)
২৩. “আয় কে যাবি গৌর প্রেমের হাটে, তোরা আয় না মন করে খাঁটি, ধাক্কায় যেন যাস না চোটে ফেটে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/১)
২৪. “আয়ু থাকতে আগে মরা, সাধকজনের এমনই ধারা, প্রেমোন্মাদে মাতোয়ারা, সে কী বিধির ভয় করে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৫/২)
২৫. “আর তো কালার সে ভাব নাইকো সই, সে শাসন না করে মদন, প্রেমপাথারে খেলছে সদাই প্রেমঝাঁপই।” (পবিত্র লালন- ১৭৩/১)
২৬. “আরেক প্রেমে মজে ভোলা, শ্মশানে মশানে খেলা, গলে শক্তিহাড়ের মালা, পাগল অবস্থা।” (পবিত্র লালন- ৬৪০/৩)
২৭. “আশিক্বের ভেদ মা’শুক্ব জানে, জানে না অন্য জনে, সদাই থাকে রূপবদনে, রূপের মালা হৃদয়ে গেঁথে, ভাসে প্রেমসাগরে।” (পবিত্র লালন- ৭১৪/৩)
২৮. “ইউসুফ জুলেখার ডোরে, প্রেম করে ভাবসাগরে (গো), বারো চৌদ্দবছর পরে, তারা পেল প্রেমমতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৩)
২৯. “উজান ভাটি তিনটিনালে, দম দমাদম বেদম কলে একশব্দ হয়, গুরুর গুরু পবনগুরু প্রেমানন্দে, সাঁতার খেলায়।” (পবিত্র লালন- ৪১/২)
৩০. “উবুদগাছে ফুল ফুটেছে প্রেমনদীর ঘাটে, গাছের ডালপালা খালি, ভিতরেতে ফুল ফুটে।” (পবিত্র লালন- ১৯৫/১)
৩১. “এক নদীতে তিন ধারা, নাই নদীর কূল কিনারা, বেগে তুফান বয়- দেখে লাগে ভয়, পার হও যদি সাজাও প্রেমতরীরে।” (পবিত্র লালন- ৫৪০/৩)
৩২. “একবার এসে এ নদীয়ায়, মানুষ রূপে হয়ে উদয়, প্রেম-বিলালে যথাতথায়, গেলেন প্রভু নিজপুরে।” (পবিত্র লালন- ১৬৯/২)
৩৩. “এক সাপের দুটি ফণী, দোমুখে কামড়ালে তিনি, প্রেমবাণে বিক্রমি, তার সনে দাও রণ।” (পবিত্র লালন- ৮৮৭/৩)
৩৪. “একে তো মোর জীর্ণতরী, পাপে বোঝাই হয়েছে ভারী, কোন্ দিন যেন তরী ডুবে যায়, লালন বলে গুরু এসে হও কাণ্ডারী, এ প্রেমনৌকায়।” (পবিত্র লালন- ৪০০/৩)
৩৫. “একে সে প্রেমনদীর জলে, থাই মিলে না নোঙর ফেলে, বেঁহুশ হয়ে নাইতে গেলে, কাম-কুম্ভীরে খায়।” (পবিত্র লালন- ৪২৮/৩)
৩৬. “এ দেহে সাড়ে তিন লক্ষ বছর চলে এক শাসন, সে বিধান লঙ্ঘন করা রয়েছে কঠিন বারণ, ভাঙ্গিও না বিধির বিধান- ভাঙ্গিলে হয় পশু সমান, আত্মতত্ত্ব সাধন বিনা- ডুবে যায় প্রেমতরণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫১)।৩৭. “এ ভবেতে প্রেমতরী, পাঠিয়ে দিলেন পাপীর লাগি, মানুষ চাপিয়ে তাতে- অনায়াসেতে, স্বর্গেতে পায় অধিকার।” (পবিত্র লালন- ৯৬৭/২)
৩৮. “এস গো দয়াল বন্ধু শ্যাম কালাচাঁন, মনের বনে ফুল ফুটেছে, প্রেমযমুনায় ভরা বান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)
৩৯. “এস মায়ানদ ত্রিধারায়, প্রেমতরী ধীরে চালায়- গো, নিতাইশালের ত্রিমোহনায়, ভাঙ্গিও না বৈঠাখান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)
৪০. “ও প্রেম আর আমার, ভালো লাগে না, প্রেমের দায়ে জেল খাটলাম, তবু ঋণ শোধ হলো না।” (পবিত্র লালন- ২৫১/১)
৪১. “ওগো জ্যান্ত মরা প্রেমসাধন, কী পারবি তোরা জেনেশুনে, যে প্রেমে কিশোর কিশোরী, মজেছে দু’জনে।” (পবিত্র লালন- ২৪২/১)
৪২. “ওরে রসিক যারা, প্রেম জোয়ারে রসের তরী বায়, জোয়ার ভাটা জেনেশুনে, সাবধানে তরী চালায়।” (পবিত্র লালন- ২৫৯/১)
৪৩. “কত করে বলিরে মন, কর আগে মায়ের যতন, পাবিরে পিতার দরশন, প্রেমতরণী ডিঙ্গি নায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)
৪৪. “কতজন সে গল্প করে, মাছ ধরতে যায় প্রেমসাগরে, চেনে নদীর তিনধারা, মরতে এলাম সে নদীতে, হলো না জাল ধরা।” (পবিত্র লালন- ৩৪৯/৩)
৪৫. “করণকারা মুক্তাধারা, শূন্য প্রেমসাগরে ভাসে, বলন বলে- অন্তিমকালে, গুরু বিনা পাবি না দিশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪০)
৪৬. “করি কেমনে শুদ্ধসহজ, প্রেমসাধন, প্রেমসাধতে ফেঁপে ওঠে, প্রেমনদীর তুফান।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/১)
৪৭. “করি মানা কাম ছাড়ে না মদনে, প্রেমরসিক হব কেমনে।”
৪৮. “কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসর্য, এ কয়জন দেহের অবাধ্য, প্রেমাগুনে করো দগ্ধ, জব্ত্ব করো শক্তহাতে।” (পবিত্র লালন- ৫০৭/৩)
৪৯. “কামের ঘরে কপাট মারো, ভাবের একতালা গড়ো, এঁটে দাও প্রেম ছোড়ানে, সে টললে জীব- না টললে শিব, জানে যে শুদ্ধ রসিক জনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৭/২)
৫০. “কালার রূপে নয়ন দিয়ে, প্রেমানলে মরলাম জ্বলে, ওরে বিধি একি হলো, আমার কাঁদতে কাঁদতে জনম গেল।” (পবিত্র লালন- ১৪৪/২)
৫১. “কী অপরূপ রূপের কিরণ, কালা হয় জীবের জীবন, ঐ পিরিতে দিয়া নয়ন, প্রেমানলে পুইড়া মরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭২)
৫২. “কী খাবো কী পরব বলে, মহাব্যস্ত লোক সকলে, আমি এসে প্রেমমণ্ডলে, তেমন ভাবনা ভাবি না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৭/৩)
৫৩. “কেউ কারো সঙ্গে না যাবে, সঙ্গের সাথী পাই কিভাবে, রইলাম নদীয়ার ভাবে, খেলতে এসে প্রেমেরপাশা।” (পবিত্র লালন- ২৭১/৩)
৫৪. “কে ভাসায় ফুল প্রেমের ঘাটে, অপার মহিমা সে ফুলের বটে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৮/১)
৫৫. “কোথায় লা মুক্বাম খুঁজে দেখ মন, কোথায় সাঁই প্রেমযুগলে, লালন কয়- যাবি মন কোথায়, আপনার আপনি ভুলে।” (পবিত্র লালন- ১১৯/৪)
৫৬. “কোন প্রেমের প্রেমিকা ফাত্বিমা, সাঁইকে করেন পতি ভজনা, কোন প্রেমের দায়- ফাত্বিমাকে সাঁই, মা বোল বলেছে।” (পবিত্র লালন- ৬০০/৩)
৫৭. “কোন রসে প্রেম সেধে হরি, গৌরবর্ণ হলো সে, না জেনে সে প্রেমের অর্থ, প্রেম যাজন হয় কিসে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/১)
৫৮. “খাঁটি বস্তু হলো মাটি, তারে প্রেম কোদালে কাটি, জল ঢেলে করে পরিপাটি, পারায়ে করে নরম।” (পবিত্র লালন- ৮৭১/২)
৫৯. “খাঁদা-বোচার ভুত চালানি, সেটা বটে গণ্য জানি, সাধুর হাটের ঘুসঘুসানি, প্রেমাগুনে পাও জ্বালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪৪/৩)
৬০. “গভীর প্রেমরাগ দেখে, হরি দিলো দাসখত্ব লিখে, ষড়ৈশ্বর্য ফেলে রেখে, কাঙাল হয়ে ফিরে নদীয়ায়।” (পবিত্র লালন- ৬৪৩/২)।
৬১.  “গুরু বলো নৌকা খোল, সাধের জোয়ার যায়, মন-পবনের ঢেউ ওঠেছে, প্রেমের বাদাম দাও নৌকায়।” (পবিত্র লালন- ৪০০/১)
৬২. “গুরুরূপ ধিয়ায় যেজন, অন্তরে রূপ হয় বরিষণ, যে করে প্রেমালিঙ্গন, গুরুভক্তি হয় বিধানে।” (পবিত্র লালন- ৪১১/২)
৬৩. “গুরু শিষ্যের প্রেমের ধারা, উযান বেয়ে যাচ্ছে তারা (গো), বলন কয় দেখ রে তোরা, প্রেম মানে না কুলজাতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৩)
৬৪. “গোঁসাই অনুসন্ধি যারা, ভাবের সে প্রেম জানে তারা, লালন ফকির পাগলপারা, সে প্রেমলালসে।” (পবিত্র লালন- ৮৪৯/৪)
৬৫. “গোপীর যেমন প্রেমাচারী, যাতে বাঁধা রয় বংশীধারী, লালন বলে সে প্রেমেরই, চমৎকার এ জগৎময়।” (পবিত্র লালন- ৯৬০/৪)
৬৬. “গৌর-প্রেমের এমনই লেঠা, আসতে ভাটা যেতে ভাটা, না বুঝে মুড়ালাম মাথা, অধীন লালন কয়।” (পবিত্র লালন- ৪২৮/৪)
৬৭. “গৌরসিংহের হুংকার বারে বার, নদীয়াবাসী কাঁপে থরথর, প্রেমতত্ত্ব রাগতত্ত্ব জানাল সব অর্থ, লালন কয় ঘটল না কপালে।” (পবিত্র লালন- ৪২৬/৪)
৬৮. “চণ্ডীদাস ও রজকিনী, তারা প্রেমের শিরমণি (গো), বেয়ে প্রেম-বড়শিখানি, তারা শেষে হলো দম্পতি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৩)
৬৯. “চতুরালি থাকতে বল, প্রেমযাজনে বাঁধবে কল, হারিয়ে শেষে দুটি ফল, কান্নাকাটি লাগবে পথেঘাটে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/৩)
৭০. “চন্দ্রকান্তি সূর্যকান্তি, ধরে আছে আলেক পান্তি, যুগলগতি হলে একান্তি, পাবি মন প্রেম উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৭৪৮/৩)
৭১. “চাঁদ বলে চাঁদ কাঁদে, কী কারণে, আমার গৌর-চাঁদ ত্রিজগতের চাঁদ, চাঁদে চাঁদ ঘিরা প্রেমাবরণে।” (পবিত্র লালন- ৪৩৮/১)
৭২. “চামকুঠরী প্রেমযমুনা, মৎস্য ধরাই উপাসনা, মিঠাবারি প্রেমমালখানা, মৎস্য চলে কফিন পরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ০১)
৭৩. “চাতকরূপ পাখি যেমন, করে সে প্রেম নিরূপণ, আছি তেমন প্রায়; কারেবা শুধাই, সে চাঁদের উদ্দেশ কে কয়।” (পবিত্র লালন- ১৬৬/২)
৭৪. “চুল পেকে হলো হুড়ো, না পেল পথের মুড়ো, লালন বলে সন্ধি ধুড়ো, প্রেমনদীর জলে ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ২৯২/৪)
৭৫. “চৌদ্দতলা বাড়ি বানায়- দশতলায় থাক পাহারায়, তালা ঝুলায় রেখে ছয়তলায়, তেতলে দেখবি তলায়- নিত্যনিত্য নিলামে যায়, প্রেমের মাণিক-রতন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৮)
৭৬. “ছিলাম কুলের কুলবালা, প্রেমফান্দে বাঁধল গলা, টানলে আর যায় না খোলা, বললে কী হবে।” (পবিত্র লালন- ৬৮/২)
৭৭. “ছুটে গিয়ে প্রেমফাঁসি পরে, জানশিকারী শিকার ধরে, লালন কয় বিনয় করে, ঘটল না মোর হৃদয় মাঝে।” (পবিত্র লালন- ৮৪১/৪)
৭৮. “জগৎ আলো করেছে সাঁই, ফুটিয়ে প্রেমের কলি, কী শোভা করেছে সাঁই, তার কাননে এক মালি।” (পবিত্র লালন- ৪৫৪/১)
৭৯. “জানলে প্রেম গোকুলে, নিত না শ্যাম কাঁথা গলে, নদেয় আসত না, অধীন লালন কয়, করো এ বিবেচনা।” (পবিত্র লালন- ৮৬৪/৫)
৮০. “জানি মন প্রেমের প্রেমী কাজে গেলে, পুরুষস্বভাব থাকতে কী, প্রেমরসিক বলে।” (পবিত্র লালন- ৪৭০/১)
৮১. “জেলে জুতেল বড়শেল আদি, ভ্রমিয়ে চারযুগ অবধি, কেউ না পেলে, খাড় করে মীন- রয় চিরদিন, প্রেমসন্ধি-স্থলে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩/২)
৮২. “জ্যান্ত মরা প্রেমসাধন কী পারবি তোরা, যে প্রেমে কিশোর-কিশোরী, হয়েছে পাগলপারা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৭/১)
৮৩. “ঝিরিঝিরি দখিনে সমীরণ, উথলিয়া ওঠে প্রেম-শিহরণ, তোমার আশায় দিবস কাটাই, বাতায়ণ খুলিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৮৪. “ডুব না জেনে ডুব দিতে গিয়ে, কতজনা প্রাণ হারায়, প্রেম-যমুনায় নাইতে গিয়ে, ডুবে মরিল ডাঙ্গায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৬)
৮৫. “ডুবে দেখ রে মন, প্রেমনদীর জলে, (মীন রূপে সাঁই খেলে), প্রেমডুবুরী না হলে মীন, বাঁধবে না জালে।”
৮৬. “তিনরসে প্রেম সাধলে হরি, শ্যামাঙ্গে গৌরাঙ্গ তারই, লালন বলে বিনয় করি, সে রসে প্রেমরসিক খেলে।” (পবিত্র লালন- ৪৭০/৪)
৮৭. “তুমি রাধে কল্পতরু, প্রেমরসের মহাগুরু, তোমায় সম অন্য কারো, না দেখি জগতে আর।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/২)
৮৮. “তোমার সঙ্গে প্রেম করে হলো জ্বালা, সে প্রেমের জন্যে গাঁথলাম বিনা সুতার মালা, প্রেম বিলায় কী ছালা ছালা, সেটা মনে থাকে না।” (পবিত্র লালন- ২৫১/৩)
৮৯. “ত্রিতাপ জ্বালায় পরাণ পুড়ে গুরু উপায় বল না, প্রেমজ্বালায় অঙ্গ জ্বলে মদনজ্বালা সহে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৩)
৯০. “ত্রিধারায় যোগানন্দ, কার সঙ্গে কী সম্বন্ধ, শুনলে ঘুচে মনের ধন্ধ, প্রেমানন্দ বাড়ে সদাই, শক্তিতত্ত্ব পরমতত্ত্ব সত্য সত্য যাহার হৃদয়।” (পবিত্র লালন- ৫০৩/২)
৯১.  “ত্রিবেণীর ত্রিসন্ধি, খুলতে পারে সে ফন্দি, প্রেমডুবুরী হলে, তবে সে মীন- আপনাপনি, আসবে হাতে চলে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩/৩)
৯২. “দম কষে তুই বয়রে ক্ষ্যাপা, প্রেমনদীতে, ধরবি যদি তুই মীন মক্করা, কাম রেখে আয় তফাতে।” (পবিত্র লালন- ৫০৭/১)
৯৩. “দাসের প্রতি নিদয় হয়ো না, দাও হে কিঞ্চিৎ প্রেম উপাসনা, ব্রজের জলদ কালো- গৌরাঙ্গ হলো, কোন প্রেম সেধে বাঁকা শ্যামরায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬৫/২)
৯৪. “দেখবি যদি প্রেমের কারখানা, গোলকধামে আছে প্রেমের মালখানা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/১)
৯৫. “দেখ সহজ-সুরসিক-জনা, শোষায় শোষে বাণ ছাড়ে না, সে প্রেমসন্ধি যায় না জানা, মরে না ডুবলে।” (পবিত্র লালন- ৪৭০/৩)
৯৬. “ধ্যানী জ্ঞানী মানিজনা, প্রেমের খাতায় সহি পড়ে না, প্রেম পিরিতির উপাসনা, বেদে পাই।” (পবিত্র লালন- ৮৯১/৩)
৯৭. “নতুন আইন এলো নদীয়াতে, প্রেমের ঘাটে উচিত কর দিতে, না জেনে খবর- করলে জোর, কঠিন সাজায় বাঁচবে না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৩/২)
৯৮. “নদীয়ানগরে নিরঞ্জন, সবারে বিলালে প্রেমধন, আমি নরাধম- না জানি মরম, চাইলে না হে গৌর, আমার পানেতে।” (পবিত্র লালন- ৪৬৮/২)
৯৯. “না জানো সেবাসাধনা, না জানো প্রেম উপাসনা, সদাই দেখি ইতরপনা, প্রভু রাজি হয় কিসি।” (পবিত্র লালন- ৯৮২/২)
১০০.  “নায়ক নায়িকা হতে, সম্ভোগ নাই ত্যাগ বিনাতে, প্রেমশৃঙ্গারে রয় মেতে, আত্মশুদ্ধি থাকে না।” (পবিত্র লালন- ৮৮৯/৩)
১০১.   “নিগূঢ় প্রেমরস-রতীর কথা, জেনে মুড়াও মনের মাথা, কেন লালন ঘুরিস বৃথা, শুদ্ধ সহজ পথ ভুলে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৪/৪)
১০২.   “নিত্যলীলা নবদ্বীপী গোলকধামে, প্রেমলীলা গোপীর সনে, যাব সেথায় কোন সাধনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)
১০৩.  “নিধুবনে খেলব পাশা বুকে বুক মিশাইয়া, প্রেমাগুন নিবারণ করব আলিঙ্গন করিয়া, তোমার চরণ করব ভজন, মাথার কেশে মুছিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১০৪.  “নির্মলপ্রেম করে সাধন, শম্ভু-রসে স্থিতিতে করো গমন, সামান্য নয় রতী নিরূপণ, সিরাজ সাঁইজি কয়রে লালন, শ্যামাঙ্গ গৌরাঙ্গ হয়।” (পবিত্র লালন- ৬৫১/৪)
১০৫.  “নীরাকারে মর্ত্যে আসে যায়- রূপ ধরে আকারে লুকায়, কৃত্রিমগুরু আকার গায়- ত্রিমণ্ডলে তার খেলা, দেশ বেড়িয়ে রূপ ভাড়িয়ে- ধরা দেয় আকারে গিয়ে, প্রেমরশ্মি গলে দিয়ে- নিঠাঁইপুর মিলায় মেলা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১১)
১০৬.   “পঞ্চনূরী পঞ্চ অঙ্গে, দাঁড়িয়ে ছিল প্রেমতরঙ্গে, আলিফ মীম ছিল কোন অঙ্গে, যখন খিরকা তহবন ছিল না।” (পবিত্র লালন- ৯৩৭/৩)
১০৭.  “পঞ্চবাণের ছিলে কেটে, প্রেম যাচো স্বরূপের হাটে, লালন বলেরে মন, বৈদিক বাণে করিস না রণ, বাণ হারিয়ে পড়বি তখন, রণখেলায় হুমড়ি খেয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫৬৪/৪)
১০৮.  “পঞ্চবাণের হেতু জানিলে, প্রেমাস্ত্রে ছিলে কাটিলে, ষোল কলার ভেদ জেনে নিলে, দেখ বিধাতা পড়ে বিপাকে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৪)
১০৯.   “পড়ে ভুত আর হোস না দিনকানা, একবার দেখ রে প্রেমনয়ন খুলে।” (পবিত্র লালন- ৬১৪/১)
১১০.   “পরপারের করিলে আশ, সাধু সঙ্গ কর নিবাস, বলন কয় হাজার মাস, বসে থাক প্রেমতলায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৭)
১১১.   “পাগল ভেবে পাগল হলাম, সে পাগল কই সরল হলাম, আপন পর তো ভুলি নাই, লালন বলে- আপনারে আপনি ভুলে, ঘটে প্রেমপাগলের এমনই বাই।” (পবিত্র লালন- ৬২১/৪)
১১২.   “পাছের নৌকার মাঝি ভালো, তারা বেয়ে আগে গেল, তারা ফিরে ফিরে চায়, আবার মনমাঝি সে ডেকে বলে, নাও লাগাইও প্রেমতলায়।” (পবিত্র লালন- ৪০০/১)
১১৩.   “পারে যাবি কী ধরে, ওরে অবুঝ মন, প্রেমনদীর তরঙ্গ ভারী, ভাবলি না কখন।” (পবিত্র লালন- ৬৩১/১)
১১৪.   “পুরুষ কোন্ দিন সহজঘটে, তাই জানলে সন্দেহ যায় মিটে, তবে তা জানি- প্রেমের করণী, সহজে সহজে লেনাদেনা হয়।” (পবিত্র লালন- ৯৬৫/৩)
১১৫.   “পুরুষ-প্রকৃতি স্মরণ, থাকতে কী হয় প্রেমের করণ, সিংহের দায় দিয়ে লালন, শৃগালের কাজ করে ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৫/১)
১১৬.   “পেতে প্রেম-পরশরতন, হেন ধন করো হে যতন।” (পবিত্র লালন- ৬৩৯/১)
১১৭.   “প্রাতঃ সন্ধ্যায় করো পূজা, দুর কর পাপের বোঝা, হতে চাও রাজার রাজা, প্রেম-পঞ্চরস ধরো কষে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৮)
১১৮.   “প্রেম করা কী কথার কথা, প্রেমে মজে হরির গলে, ঝুলে চিন্তাকাঁথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪০/১)
১১৯.   “প্রেমগঞ্জের রসিক যারা কামগঞ্জে ভুল, কাম থাকতে পাই না সে প্রেমতরঙ্গের কুল, এপারে বসে দেখি ঐপারে মূল, মানুষ মারি মানুষ ধরি মানুষ খবরদার।” (পবিত্র লালন- ৪৮/২)
১২০.   “প্রেমডুবুরী বিনা প্রেমের গতি কে জানে, কেউ জেনেছে প্রেমের গতি, কুটিল অতি ডুবে গহিনে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৫/১)
১২১.   “প্রেমডুবুরী হলে পরে, যেতে পারে সরোবরে, লালন সাঁইজি বলে হায়রে, ধরগে মীন হাওয়া ধরে।” (পবিত্র লালন- ৯৫২/৪)
১২২.   “প্রেমদানিতে রয় লুকাইয়া হইয়া রতীধর, কামেতে দণ্ড দিয়া প্রকাশ হয় ধরার পর, জীব তরাতে সেতুর ’পর- নিজ কর্মে রয় বরাবর, রহে বাতাসের ’পর শাস্ত্রে কয় জীবের জীবন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯)
১২৩.  “প্রেমনগরে ভাবের তালা, গুরু বিনা যায় না খোলা, বলন কয় অটল খেলা, খেলিলে সাঁই পড়ে ধরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৯)
১২৪.   “প্রেমনগরের মতিঝিলে, পালনকর্তার দেখা মিলে, দয়াল বন্ধু দেখা দিলে, এ জীবনে মুক্তি পাবি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬১)
১২৫.   “প্রেমনদীতে এলেরে বান, সর্বনাশা বয়রে পবন, কত ধনী হারায় পরান, ডাঙ্গাতে ডুবে ভরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৫)
১২৬.   “প্রেমনদীতে প্রেমজল থাকে চিরকাল, প্রেমকোদাল এনে কাট প্রেমখাল, প্রেমচওড়া পাতো পথে- প্রেমের মাছ বাঁধবে তাতে, কই জিওল খয়রা পুঁটি বাঁধবে না।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/২)
১২৭.   “প্রেমনদীতে প্রেমের-বড়শি ফেলবি খবর্দার, নিয়ে গুরু-মন্ত্র ছাড়ো যন্ত্র, ঠিক হয়ে বসো তরীর ‘পর।” (পবিত্র লালন- ৬৪৬/১)
১২৮.  “প্রেমনদীতে ভেসে যায় প্রেমের মরী, লালন কয় মরার সাথে করো আড়ি, প্রেমের শকুন হয়ে- মরিটা ফেলাও খেয়ে, সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)
১২৯.   “প্রেমনদেতে থাকিয়া রায়, ঘরে বসে আখেটি ধরে, বলন কয়, দোহাই সাঁই, রইল আমার মণিপুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
১৩০.  “প্রেমনদে ভাসাই প্রেমতরী, কখন যেন ডুবিয়া মরি, আমি কেমনেতে দিব পাড়ি, অথৈ ত্রিকোণ পারাপার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)
১৩১.   “প্রেমনদেতে সাঁতার দিতে, জাগল না তোর বাসনা, ময়লা জলে প্যাক মাখালি, দেহের কুষ্ঠ সারল না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৮)
১৩২.  “প্রেমনহরে ভেসেছে যারা, বেদ-বিধি শাস্ত্র অগণ্য, মানে না আইন ধারা।” (পবিত্র লালন- ৬৪৭/১)
১৩৩.  “প্রেমপণ্যারের মতিঝিলে কে কে যাবি আয়রে আয়, প্রেমেরহাট মতিঝিলে মনের-মানুষ আসে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৮)
১৩৪.  “প্রেমপাথারে যে সাঁতারু, সাঁতার খেলে, তার মরণের ভয় কী আছে, নিষ্ঠাপ্রেম করে সে যে; একমনে আছে বসে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৮/১)
১৩৫.  “প্রেম প্রকৃতি স্বরূপসতী, কামগুরু হয় নিজপতি, ও মন অনুরাগী না হলে, ভজন সাধন হয় না।” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/২)
১৩৬.  “প্রেমবাজারে কে যাবি, তোরা আয় গো আয়, প্রেমগুরু কল্পতরু, প্রেমরসে মেতে রয়।” (পবিত্র লালন- ৬৫১/১)
১৩৭.  “প্রেমময়ী কমলিনী রাই, কমলাকান্তের কামরূপ সদাই, কামী প্রেমী দু’জনে হয়, প্রণয় কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৭০৫/৩)
১৩৮.  “প্রেমযমুনা চৌদ্দভুবন, তিনঘাটে রয় তিনজন, মাঝখানে স্বরূপ কিরণ, ভাসছে সে নীরাকারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০০)
১৩৯.  “প্রেমযমুনার মিষ্টিজল, স্বরূপ কী চিনলি না, দেখ দেখ প্রেমযমুনায়, চলছে সেথা ত্রিঝরণা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৮)
১৪০.  “প্রেমযমুনার মিষ্টিপানি, সাধু গোঁসাই খায়রে শুনি, অধীন বলনকে দাও আনি, গুরু তোমায় ভজিবার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)
১৪১.   “প্রেমরত্নধন পাওয়ার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে, কামনদীর এক ধাক্কা এসে, কেটে যায় বাঁধন ছাদন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/২)
১৪২.   “প্রেমরসে বিদ্যা বিনোদন, বলে অধীন কাঙ্গাল বলন, নইলে মন সব অকারণ, গণে দেখ এ দেহেতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৯)
১৪৩.  “প্রেমরসের খবর নাইরে, কেবল বাউল নাম ধরি, বেদ বেদান্তে নাই যার উল, কেবল জপনাসার জগৎ ভরি।” (পবিত্র লালন- ৬৫২/১)
১৪৪.  “প্রেমরসের ঘাট ভাঁড়িয়ে, তরী বায়ো না, আইন জানো না, বললে কথা মানো না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৩/১)
১৪৫.  “প্রেমশক্তি চতুর্দলে, কুম্ভকে ওঠায় ঠেলে, প্রেমশক্তির বাহুবলে, উজান ধারায় বায় তারা, শতদল লঙ্ঘন করে, সহজে আগমন করে, লালনের এ ফলাফল, আসা যাওয়ার কর্মসারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/৪)।১৪৬.   “প্রেমসন্ধি সরোবরে, সাদা কালো দুই ফল ধরে, গুরু যদি আহার করে, শিষ্য বিহার করতে পারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৯)
১৪৭.  “প্রেমসাগরের তুফান ভারী, ধাক্কা লাগে ব্রহ্মপুরী, কর্মযোগে শাস্ত্রতরী, কারো কারো তাতে বেঁচে ওঠে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/২)
১৪৮.  “প্রেমসাগরের ত্রিমোহনা, সরল সুধা গরল চোনা, সরল ধারা ভুল কর না, নইলে ক্ষ্যাপা যাবি মরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৯)
১৪৯.   “প্রেমসাধন জিয়ন্ত মরা, সাঁইপূজা হয় কফিন পরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)
১৫০.  “প্রেমিক একজন চণ্ডীদাসে, প্রেম বিকাল রজকিনীর আশে, মরার পরে জীবন আসে, জীবন দান পায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬৮/৩)
১৫১.   “প্রেমের ঘাটে বসি, ভাসায় মনোতুলসি, লালন কয় দাসী, লিখে খাতায়।” (পবিত্র লালন- ৮০৭/৪)
১৫২.   “প্রেমের দায়ে গৌরপাগল, পাগল করল নদের সকল, রাখল না জাতির বোল, একাকার করল সেথা।” (পবিত্র লালন- ৮৯৫/৩)
১৫৩.  “প্রেমের দায়ে মত্ত হয়ে, নিজ শিরে বাঁধা লয়ে, এলাম নিজ আলয়ে, সিরাজ সাঁইজি কয় ওরে লালন, বলো জয় জয় রাধা।” (পবিত্র লালন- ৮২৫/৪)
১৫৪.  “প্রেমের ভাব জেনেছে যারা, গুরু-রূপে নয়ন দিয়ে, হয়েছে আত্মহারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/১)
১৫৫.  “প্রেমের ভাবরাগ বাঁধা যার মনে, অরসিকে জানে না প্রেম, রসিকে জানে।” (পবিত্র লালন- ৬৫৬/১)
১৫৬.   “প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতুপ্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগল-চরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, প্রেম-দ্বারে বাঁধা রয়।” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)
১৫৭.  “প্রেমের রাজ্যে কত যে সুখ, তা বলা যায় না, যে এসেছে সে মজেছে, এলে ফিরে যেতে চায় না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৭/১)
১৫৮.  “প্রেমের সন্ধি আছে তিন, ষড়রসিক বিনা জানা হয় কঠিন।” (পবিত্র লালন- ৬৫৯/১)
১৫৯.   “প্রেমের হাট মতিঝিলে, ব্যাংক বীমা এনজিও খুলে, দয়াল দেখায় অপার লীলে, বসে সে পার ঘাটায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৮)
১৬০.   “ফড়িয়ার মহাজন যেজন, বাটখারাতে করে ওজন, গদিয়ান মহাজন যেজন, বসে কিনে প্রেমরতন।” (পবিত্র লালন- ৯০৫/২)
১৬১.   “ফাঁদ পাতিয়া মানুষ ধরে প্রেমযমুনার ত্রিপুরে, মানুষ ধরে ভোর-দুপুরে জেলখানায় রাখে ভরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
১৬২.   “বংশীওয়ালা বিনোদকালা আমার গলার মালা, তারে না দেখলে আমার বুকে বাড়ে জ্বালা, প্রেমানলে হৃদ-কমলে, জ্বালা ধিকিধিকি জ্বলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৫)
১৬৩.  “বন্ধু বিনা মন মানে না, একা ঘরে ঘুম আসে না, চক্ষুজলে বক্ষ যায় ভেঁসে, দিয়ে গেল প্রেমজ্বালাতন, নিয়ে গেল অবলার মন, সে যে রইল কোন দেশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩)
১৬৪.   “বলন কয় যার শ্যামজ্বালা, সে কী গণে জপমালা, দিবানিশি রয় উতালা, প্রেমের মালা লয় গলে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১৬৫.   “বলন কাঁইজি হইল চেতন সাঁই-গতি দেখিয়া, ধরতে তারে বায়ুঘরে সদাই রয় ফাঁদ পাতিয়া, প্রেমসুধা নীর হইয়া- চলেফেরে প্রেমনদ দিয়া, হাজার বছরের তাপ লইয়া মেঘ রূপে হয় বরিষণ।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯)
১৬৬.   “বলবো কী সে প্রেমের কথা, কাম হলো প্রেমের লতা, কাম ছাড়া প্রেম যথাতথা, নাইরে আগমন।” (পবিত্র লালন- ২৬৫/৩)
১৬৭.  “বলবো কী সে প্রেমের বাণী, কাম থেকে হয় নিষ্কামী, শুদ্ধ সহজ রস- করে বিশ্বাস, দোহার মন করে দোহার ভাবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৯/৩)
১৬৮.  “বান এলে প্রেমযমুনায়, ধ্যান রাখলে মণিকোঠায়, অধীন বলন বলে তাই, পাবি সে জল কৌশলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৬)
১৬৯.   “ব্রজে ছিল জলদ কালো, প্রেম সেধে গৌরাঙ্গ হলো, সে প্রেম কী সামান্য বলো, যে প্রেমের রসিক দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ৬৪৩/৩)
১৭০.  “ব্রজের সে প্রেমের মর্ম, সবাই কী জানে, শ্যামাঙ্গ গৌরাঙ্গ হলো যে প্রেমসাধনে(পবিত্র লালন- ৭০৫/১)
১৭১.   “ভক্তিপাত্র আগে করো গো নির্ণয়, মুক্তিদাতা এসে যথা বারাম দেয়, নইলে হয় না- প্রেমউপাসনা, মিছে ছল বাড়িয়ে হয় মরণ।” (পবিত্র লালন- ৪৩৭/৩)
১৭২.   “ভজে শুদ্ধ ঈশ্বরের চরণা, তাই সে বেদ মানে না, লালন কয় প্রেম-উপাসনা, করো দেখি কী দোষ তাতে।” (পবিত্র লালন- ২২০/৪)
১৭৩.  “ভবভাবী ভবের ঘোরে, ঘোর সাগরে অন্ধকারে, চারদিকে মায়ার প্রাচীরে, প্রেমরতন সাঁই সবি।” (পবিত্র লালন- ৯৩০/২)
১৭৪.  “ভাবশূন্য হৃদয় মাঝার, মুখে পড়ে কালাম আল্লাহর, তাতে কী মন হবি তারণ এ ভবে, অঙ্গে ধারণ করো বেহাল, হৃদয়ে জ্বালো প্রেমের মশাল, দুই নয়ন হবে উজ্জ্বল, গুরুবস্তু দেখতে পাবে।” (পবিত্র লালন- ৫৩১/২)
১৭৫.  “ভাবের ছিপ প্রেমের সুতা, অনুরাগের আদার গাঁথা, যদি সে মীনে গিলে, লালন কয় পারের বেলা, যমেরে দেখিয়ে কলা, গুরু বলে পারের নৌকা খুলে।” (পবিত্র লালন- ১৫৯/৪)
১৭৬.  “ভালমন্দ যত করি, তথা প্রেমদাস তোমারি, লালন বলে মরিমরি, হরির এ কী ঋণ স্বীকার।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/৪)
১৭৭.  “ভুল করেছি ছোট বেলায় পিরিতি করিয়া, আগে না জানিয়া সইরে দেহ-মন সপিয়া, বলন জ্বলে প্রেমানলে, সে আসবে কী ফিরিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪)
১৭৮.  “মণিকোঠায় প্রেমদানী, যথায় মহারসের খনি, গুরু নাম নোঙ্গরখানি, ছিঁড়ে যায়রে বারে বার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯১)
১৭৯.  “মণিপুরী প্রেমতরী, কোন্ দিন হবে ক্ষীরধর, প্রেমযমুনার ত্রিমোহনায়, শ্যামবন্ধুর ঘর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)
১৮০.  “মণি-হারা ফণীর মতন, প্রেমরসিকের দুটি নয়ন, কী দেখে কী করে সেজন, কে কার অন্ত পায়।” (পবিত্র লালন- ৮৯০/২)
১৮১.   “মদন জ্বালায় ছিন্ন ভিন্ন, প্রেম বলে জগৎ জানানো, অহক্বদারে রসিক মান্য, ঘুসকি জারি প্রেমটাকশালে।” (পবিত্র লালন- ৪৭০/২)
১৮২.  “মন আর তুমি মানুষ দু’জন, এ দু’জনাতেই প্রেমালাপন, কখন সুধার বরিষণ, কখন গরল পিয়ে যন্ত্রণা।” (পবিত্র লালন- ৪২২/২)
১৮৩.  “মন তোর ত্রিবেণী ডিঙ্গিখানা, ভরা গাঙ্গে কেন বাইলি না, শুকায় গেলে প্রেমযমুনা, কী পাবিরে বাইলে তরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৯)
১৮৪.  “মন মেতেছে মদন-রসে, সদাই থাকে সে আবেশে, লালন বলে মিছেমিছে, লবলবানি প্রেমউতালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪৪/৪)
১৮৫.  “মনে করো ও কমলিনী, তুমি তো প্রেমের সোহাগিনী, তাইতো; লালন ভনে প্রেমকাহিনী, রাই প্রেমে মগ্ন দিবানিশি।” (পবিত্র লালন- ৭২৫/৪)
১৮৬.  “মনের-মানুষ হারাইয়া গেলে পুড়ে প্রেমাগুনে, অন্তরে নিদারুণ ব্যথা কেহ নাহি জানে, দয়ালের বিচ্ছেদের ব্যথায়রে, বলন পুড়িছে আগুনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)
১৮৭.  “মনোহর প্রেমসরোবর, ত্রিধারা বয় শূন্যের পর, আমি পাড়ি দিব ক্ষীরধর, কোন সাধনে বল না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৬)
১৮৮.  “মরা তো অনেকে মরে, ডুবা কঠিন হয় গভীরে, মাটিহীন প্রেমসরোবরে, ডুবতে হয় স্বরপ রূপাশ্রয়।” (পবিত্র লালন- ৭৭১/২)
১৮৯.  “মরে যেবা ডুবতে পারে, প্রেমভয় নাই তার অন্তরে, সিরাজ সাঁইজি কয় লালন তোরে, তাই জানাই।” (পবিত্র লালন- ৯৬৮/৪)
১৯০.   “মলয়াপর্বতের ওপর, যত বৃক্ষ সকলি সার, কেবল যায় জানা- বাঁশে সার হয় না, লালন তেমনি প্রেমশূন্য চিত্তে।” (পবিত্র লালন- ৪৬৮/৪)
১৯১.   “মহাভাবের হয় ভাবিনী, প্রেমশৃঙ্গারে সে-ই ধনী, লালন সাঁইজির এমন বাণী, পশুর স্বভাব গেল না।” (পবিত্র লালন- ৮৮৯/৪)
১৯২.   “মহারস মুদিত কমলে, প্রেমশৃঙ্গারে লও খুলে, আপ্ত সামাল সে রণকালে, কয় ফকির লালন।” (পবিত্র লালন- ৮৮৭/৪)
১৯৩.“মানুষগুরুর প্রেমপণ্যারে– জগৎগুরু চলেফেরে, ধরতে গেলে যায়রে দূরে- পরমগুরু কাছে রয়, মানুষগুরু হইলে সদয়- জগৎগুরু দেয় পরিচয়, জানতে হয় তা নিরালায়- ভক্তিভজন রেখে ভয়।”(বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)
১৯৪.   “মারে মৎস্য না ছোঁয় পানি, হাওয়া ধরে বয় তরণী, এমনই যেন প্রেমকরণি, রসিকের কাছে।” (পবিত্র লালন- ৮৪৯/৩)
১৯৫.   “মায়ার গিরা কাট, ত্বরায় প্রেমতরীতে উঠ, কারণ সমুদ্দুর- পার হয় চতুর, লালন কয় যাও পারে গুরুর বাক্ ধরে।” (পবিত্র লালন- ৫৪০/৪)
১৯৬.   “মূলাধারের মূল সে নূর, নূরের ভেদ অকূল সমুদ্দুর, যার হয়েছে প্রেমের অঙ্কুর, ঐ নূর ঝলক দিচ্ছে তারই।” (পবিত্র লালন- ৪৩/৩)
১৯৭.  “মেয়ে হয়ে মেয়ের দেশে, ভক্তি সাধন করো বসে, আদি-চন্দ্র রাখ কষে, কখনও তারে ছেড় না, ডুব দিলে প্রেমানন্দে, সুধা পাবে দণ্ডে দণ্ডে, লালন কয় পাপ খণ্ডে, আমার মুক্তি হলো না।” (পবিত্র লালন- ৬৯/৪)।১৯৮.  “যার দেহে নাই প্রেমের অঙ্কুর, সাধন ভজন সব হয় দূর, যার হিংসায় ভরা দিলসমুদ্দুর, সে শুদ্ধ হয় কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৩/২)
১৯৯.   “যে করেছে ভাবের পিরিতি, মানে না কোন কুলজাতি, কুলকলংক্য সব ফেলি, প্রেমের মালা লয় গলায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬৮)
২০০.  “যে গঠেছে এ প্রেমতরী, সে হয়েছে চড়ন্দারী, কুলের ঘোরে চিনতে নারি, মিছে গোলবাধাই।” (পবিত্র লালন- ১১২/২)
২০১.   “যেজন উন্মত্ত হয়েছে, গুরুর প্রেমডুরিতে, উজান বয়ে যায়রে সেজন, যমে তারে না পারে ছুঁতে।” (পবিত্র লালন- ৮৩১/১)
২০২. “যেজন মদনশালে মদনরাজা করিল শাসন, সেজন প্রেমপণ্যার নিতাইশালে হলো মহাজন, গুরু কৃপায় হলে চতুর, মতিঝিলে হয় না ফতুর, রক্ষা হয় মানবধাতুর বাহাদুরী (ও ভোলা মন)।”(বলন তত্ত্বাবলী- ৪১)
২০৩.  “যেতে পথে প্রেমনদেতে, পিতৃধন খায় কুরে কুরে, না জানি হায়, ষোল কলায়, ভরা দেহ উজাড় করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
২০৪.  “যে প্রেমে রাই হরে কৃষ্ণের মন, অকৈতব সে প্রেমের করণ, যোগ্যতা অনুসার- মর্ম জানে তার, অযোগ্য পাত্রে কী তা সম্ভবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৯/২)
২০৫.  “রজনী শেষে হয়ে উদয়, তরাতে আসে দয়াময়, সে শুদ্ধ প্রেম সাধনালয়, কানা চেনে চিনলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৬)
২০৬.  “রূপ সনাতন উযির হলো, প্রেমে মজে ফকির হলো, লালন বলে এমনই হলো, প্রেমের ক্ষমতা।” (পবিত্র লালন- ৬৪০/৪)
২০৭.  “লা-ইলাহা নফি, ইল্লাল্লাহ ইজবাত, দেখবি প্রেম জাগলে, লালন ফকির কয়- যাবি মন কোথায়, আপনারে আজ আপনি ভুলে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৭/৪)
২০৮.  “লাগল ধুম প্রেমের থানাতে, মনচোরা পড়েছে ধরা রসিকের হাতে, ও সে ধরেছে চোরকে, হাওয়ায় ফাঁদ পেতে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৮/১)
২০৯.  “লালন ফকির ভেবে বলে, প্রেমভক্তির নিগূঢ়কথা, যার হৃদয়ে বস্তু নাই, সে খুঁজলে পাবে কোথারে।” (পবিত্র লালন- ২১৯/৪)
২১০.   “লালন সাঁইজি তাই কয়, নদীর বান্দাল রাখা দায়, যেন কোন সময় কী হয়, প্রেমনদীতে ডুবিস না রে, ডুব দিলে ডুব যায় ফাঁকে।” (পবিত্র লালন- ৪০১/৪)
২১১.   “সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের দুটি মানে, এক প্রকাশ্য এক গোপনে, প্রেমলীলা রয় নিগমে, গয়া কাশী বৃন্দাবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৪)
২১২.   “শুদ্ধ প্রেমতরীখানা, এক মনের বেশি ধরে না, গুরু শিষ্য একজনা, লালন একমন ওজন তার।” (পবিত্র লালন- ৪০৫/৩)
২১৩.  “শুদ্ধপ্রেম না দিয়ে ভজে, কে তারে পায়, না মানে আচার না মানে বিচার, প্রেমরসের রসিক সে দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ৮৮৫/১)
২১৪.   “শুদ্ধপ্রেম রসিক হলে, রসরতী উজান চলে, ভিয়ানে সদ্য ফলে, অমৃতমিছরি ওলা, লালন বলে আমার কেবল, প্রেমজল তোলা ফেলা।” (পবিত্র লালন- ৩৬৫/৫)
২১৫.   “শুদ্ধপ্রেম রসিকের কর্ম, মানে না বেদ-বিধির কর্ম, রসরাজ উপাস্যের মর্ম, রসিক বৈ আর কে জেনেছে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৮/২)
২১৬.   “শুদ্ধ প্রেমরাগে সদাই, থাকরে আমার মন, স্রোতে গা না ভাসিয়ে, বেয়ে যাও উজান।” (পবিত্র লালন- ৮৮৭/১)
২১৭.   “শুদ্ধপ্রেম সাধল যারা, কামরতীকে রাখল কোথা, বলো রসিক রসের মুয়াফিক্ব, ঘুচাও আমার মনের ব্যথা।” (পবিত্র লালন- ৮৮৮/১)
২১৮.  “শুদ্ধ-প্রেম সাধিলে সাধু, প্রেমকুঠিতে লাগে যাদু, তের মাস খায় সে মধু, ভাঙ্গিয়া সাঁই নিগমকারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)
২১৯.   “শুদ্ধ প্রেমের উদ্দীপন তার কী হয়, থাকতে স্বসুখ বাসনা, আত্মসুখী ব্যভিচারী, সহজপ্রেম তার ঘটে না।” (পবিত্র লালন- ৮৮৯/১)
২২০.  “শুদ্ধ প্রেমের প্রেমী যেজন হয়, মুখে কো’ক বা না কো’ক, নয়ন দেখলে চেনা যায়।” (পবিত্র লালন- ৮৯০/১)
২২১.   “শুদ্ধপ্রেমের রসিক মোর সাঁই, শুধু পড়েশুনে বলো কেবা তারে পাই।” (পবিত্র লালন- ৮৯১/১)
২২২.  “শুদ্ধ-ভক্তি শুদ্ধপ্রেমেতে উপার্জন, যে প্রেমেতে বন্ধি আছে, সহজ-মানুষ রতন।” (পবিত্র লালন- ৮৯২/১)
২২৩.  “শুদ্ধ মাস্তুল ঠিক করে, প্রেমবাদাম দাও খেটে, মদনগঞ্জ বাঁয়ে রেখে, চালাও তরী উজান ধার।” (পবিত্র লালন- ৪০৫/২)
২২৪.  “শুনেছি ত্রিবেণীর ঘাটে, আজগুবি এক ফুল ফুটে, সে ফুল থাকে মায়ের পেটে, রসিক ধরে ফুল প্রেমডুরিতে।” (পবিত্র লালন- ৮৩১/৩)
২২৫.  “শম্ভু-বিম্ব নাই যে ফুলে, সেথায় মধুকর কেমনে খেলে, পড় সহজ প্রেমস্কুলে, জ্ঞানের উদয় হলে যাবে ভুল।” (পবিত্র লালন- ২০৬/৩)
২২৬.  “শূন্য জ্যোতিকা হতে সৃষ্টি বাতাসের গতি, বায়ু জ্যোতি ঢেউ খেলিয়া হলো প্রেমরতী, সাঁই দিবারাতি ডিম্বগতি- নামে অপরূপ মতি, শূন্যের ওপর থাকে, ঘর বান্ধিয়া বৃন্দাবন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯)
২২৭.  “শোষায় শোষে না ছাড়ে বান, ঘোর তুফানে বায় তরী উজান, তার কামনদীতে চর পড়েছে, প্রেমনদীতে জল পোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৭৭/২)
২২৮.  “শ্রী রূপের আশ্রিত যারা, অনায়াসে প্রেমসাধল তারা, হলো না মোর কর্মসারা, কপালে এ ছিল।” (পবিত্র লালন- ৮৯৯/৩)
২২৯.  “সখীরে আমার জন্য কালা, প্রেমের হাট বসাল কদমতলা, কদমতলায় করেছি কত লীলা, তাইতো; জীবন বরি হলো কালা।” (পবিত্র লালন- ৬৪২/৩)
২৩০.  “সজল উদয় যে দেশেতে, অনন্তফল ফলে যাতে, প্রেমজাল পাতলে তাতে, অধর ধরা যায়।” (পবিত্র লালন- ২৫৮/৩)
২৩১.  “সপ্তকর্ম ঘাটা প্রেমতরণী, মূলবস্তু পঞ্চরস পঞ্চবাণই, বলন কয় দয়াল গুণি, দেখাও সে স্বরূপেরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০০)
২৩২.  “সহজবস্তু সহজ হয়ে, পাকাগুরুর শিক্ষা লয়ে, সেধেছে যে জনা, তার কামসাগরে চর পড়েছে, প্রেমসাগরে জল আঁটে না।” (পবিত্র লালন- ৮৫৮/২)
২৩৩.  “সহস্রারের বাঁকা কারণ শ্যামরায় করলেন ধারণ, হলেন গৌরবরণ রাধার প্রেমসাধনে, আনন্দে সানন্দে মিশে যোগ করে যেজনা, লালন বলে সে অধর ধরতে পারে।” (পবিত্র লালন- ৪৩৪/৩)
২৩৪.  “সাঁতার শিখলি না, প্রেমযমুনার ডুবুরী হলি না, বিল বাওড়ে ফাও ডুবালি, ঐ অথৈজলে নামলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৮)
২৩৫.  “সাধন হলে একনিষ্ঠ, সারিবে আঠারোকুষ্ঠ, আপনা আপন হবে দৃষ্ট, প্রেমনদের মধুজলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২)
২৩৬.  “সাধুজনার প্রেমহিল্লোলে, কত মাণিক মুক্তা মিলে, সাধুবাবার কৃপা বলে, প্রেমময়ে দেয় প্রেমাঙ্গ।” (পবিত্র লালন- ৭১১/৩)
২৩৭.  “সাধুর গুণ যায় না বলা, শুদ্ধচিত্ত অন্তর খোলা, সাধু দর্শনে যায় মনের ময়লা, পরশে প্রেমতরঙ্গ।” (পবিত্র লালন- ৭১১/২)
২৩৮. “সাধে কী মজেছে রাধে, সে কৃষ্ণের প্রেমফাঁদে, সে ভাব কী জানবি- বললে কী মানবি, লালন বলে শ্যামের গুণ রাই জানে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৫/৪)
২৩৯.“সামান্য এক মশা মারিতে পাতিয়া কামান রাখে, ষোল প্রহরী রয় পাহারায় ত্রিকারার বাঁকে বাঁকে, বাঁন্ধিয়া প্রেমাঠাতে– আখেটি ধরে চামকুঠিতে, নিয়ে যায় যে দেশেতে, সে বিনা কেউ নাই।”(বলন তত্ত্বাবলী- ১৬০)
২৪০.  “সামান্য রসে তার মর্ম পাবে কে, কেবল প্রেমরসের রসিক যে; প্রেম কেমন- কর নিরূপণ, প্রেমের সন্ধি জেনে থাকো চেতন।” (পবিত্র লালন- ৪৩৭/২)
২৪১.   “সামান্যে কী এ জগতে, পারে কী সে প্রেম যাজতে, প্রেমিক নাম ফাটায় সে যে; দু’কূল হারায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬০/২)
২৪২.  “সামান্যে কী সে প্রেমপরশ পাবে, গুরু পরশিলে আপনি প্রেম উদয় হবে।” (পবিত্র লালন- ৯৪৯/১)
২৪৩.  “সিরাজ সাঁইজির প্রেমধন, করবি যদি বিতরণ, ধর লালন তাঁর চরণ, সঁপে প্রাণ মন।” (পবিত্র লালন- ৬৩৯/৫)
২৪৪.  “সুজনায় সুজনাতে সহজে হয় সাধতে, যাবি নিত্যধামেতে প্রেমপদ্মের বাসনাতে, প্রেমের গতি বিপরীতে সবাই জানে না, কৃষ্ণপ্রেমের বেচাকিনা অন্য বেচাকিনা নাইরে।” (পবিত্র লালন- ৪৩৪/২)
২৪৫.  “সু ধারায় বাও প্রেমতরী, চুবানি যেন দেয় না অরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৯)
২৪৬.  “সূক্ষ্ম প্রেমরসিক যারা, চেনে নিগূঢ় সে ত্রিধারা, অচিন-মানুষ চেনে তারা, দুই রূপে একরূপ ধরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ০২)
২৪৭.  “সে অন্ন পাক হয় না, ঠাণ্ডা জল উষ্ণ হয় না, বলন কয় প্রেম-উপাসনা, হলো না জীবন ভরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৭)
২৪৮.  “সে প্রেমের করণ করা, কামের ঘরে নিষ্কামী যারা, নির্হেতুপ্রেমে অধর ধরা, ব্রজগোপীর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৯৬৬/২)
২৪৯.  “স্বরূপ রূপদর্পণে, সে রূপ দেখেছে যেজন, তার রাগের তালা আছে খোলা, সেতো প্রেমের মহাজন।” (পবিত্র লালন- ৯৭৮/১)
২৫০.  “স্বরূপ-শক্তি প্রেমসিন্ধু, মীন অবতার দিনবন্ধু, সিরাজ সাঁইজি বলে, শোনরে লালন- মরলি এখন, গুরু-তত্ত্ব ভুলে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৩/৪)
২৫১.   “হলে বাণে বাণক্ষেপণা, বিষের উপার্জনা, অধঃপথে গতি টলে পড়ে যারা, পঞ্চবাণের ছিলে- প্রেমাস্ত্রে কাটলে, তবে হয় মানুষের করণ সারা।” (পবিত্র লালন- ৭৮৮/৩)

প্রেমের পরিচয় (Identity of amour)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ভালোবাসা পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। পরস্পর মমতাকে ভালোবাসা বা প্রেম বলা হয় কিংবা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসাই প্রেম। শ্বরবিজ্ঞানে; জাগতিক প্রেমের চেয়ে ঐশ্বরিক প্রেমের আলোচনা অধিক করা হয়। সাঁই ও কাঁই প্রেম হলো সাঁই ও কাঁইয়ের সাথে দর্শনলাভ করার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা। একমাত্র সাঁই ও কাঁইয়ের প্রেম বুকে নিয়ে সংসার, স্বজন, সম্পদ ও জনবল ক্রমান্বয়ে সবকিছু ত্যাগ করা খাঁটি প্রেমিকের লক্ষণ। যারা সংসার ও সম্পদের প্রেমে পড়ে সাঁইপ্রেম ও কাঁইপ্রেম ভুলে রয়েছে তারা সারা জীবনেও সাঁইদর্শন ও কাঁইদর্শন পাবেন না। কিন্তু সাঁই ও কাঁই প্রেমিকগণ সর্বসময় সাঁই ও কাঁইকে পার্শ্বেই দেখতে পাবেন। সংসার, স্বজন ও সম্পদের প্রেমের চেয়ে সাঁই ও কাঁই প্রেম অনেক ঊর্ধ্বে। যেহেতু; প্রেম একটি ব্যাপক পরিভাষা। তাই; প্রেমের পরিধি কেবল স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বন্ধু ও বান্ধবী-বান্ধবীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রেমের পরিধি হলো বিশ্বব্যাপী। যেমন; মানুষকে তার পোষা প্রাণী হতে ব্যবহৃত দ্রব্যাদির সাথে ও ব্যবহৃত বসন কিংবা বাসনের সাথেও প্রেম করতে দেখা যায়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল গুরু ও গোঁসাই বা বিশিষ্টজ্ঞানী, গুণী ও মনীষীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধকে প্রেম বলা হয়।

একজন প্রেমিকের কাজ হলো প্রেমের মাধ্যমে প্রেমাষ্পদকে কিছু দেওয়া এবং তার নিকট হতে কিছু অর্জন করা। প্রেমের বিনিময়ে যে প্রেমিক কেবল দিতেই চায় কিন্তু কিছুই নিতে চায় না বা প্রেমাষ্পদের নিকট হতে কিছুই অর্জন করতে চায় না তাকে আদর্শ প্রেমিক বলা যায় না বরং তাকে দাতা বলা যায়। অন্যদিকে; প্রেমের বিনিময়ে যে কেবল নিতেই চায় কিন্তু কিছুই দিতে চায় না তাকেও আদর্শ প্রেমিক বলা যায না বরং তাকে ভিক্ষুক বলা যায়। আদর্শ প্রেমিক কেবল তাকেই বলা যায়, যে প্রেমের বিনিময়ে প্রেমাষ্পদকে কিছু দিতে চায় এবং তার নিকট হতে কিছু অর্জন করতে চায়। আবার যে প্রেমে কিছুই দেওয়া নেওয়া নেই তাকে নিরস প্রেম বলা হয়। নিরস প্রেমাবদ্ধ প্রেমিক প্রেমিকা অধিক সময় প্রেমাবিষ্ট থাকতে পারে না। নিরস প্রেম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ প্রেমে পর্যবশিত হয়। যারফলে; তা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই মানুষের চিত্ত থেকে, এমনকি; পৃথিবীর বুক থেকেও চিরদিনের জন্য বিলীন হয়ে যায়।

বর্তমানে একদল মানুষ নেংটা বাবার প্রেমিক বলে নিজেদের প্রকাশ করে থাকেন, একদল মানুষ লোকনাথ বাবার প্রেমিক বলে নিজেদের প্রকাশ করে থাকেন, একদল লোক লালন সাঁইজির প্রেমিক বলে নিজেদের প্রকাশ করে থাকেন, একদল লোক জলাধিপতি বরুণ দেবের (খিজির) প্রেমিক বলে নিজেদের প্রকাশ করে থাকেন, একদল লোক মহাদেবের প্রেমিক বলে নিজেদের প্রকাশ করে থাকেন। এরাই হলেন প্রকৃত ব্যর্থপ্রেমিক। কারণ; তারা আজীবন একাকা তাঁদের ভালোবেসেই যাবেন কিন্তু বিনিময়ে তারা তাঁদের নিকট হতে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। পরিশেষে বলা যায় এমন ভ্রান্ত ও নিরস প্রেম পরিত্যাগ করে, কাউকে যদি ভালোবসতেই সাধ হয় তবে জীবিত কোনো জ্ঞানীগুণী মনীষীকে ভালোবাসা উচিত। কারণ; যেসব মনীষী এখনও জীবিত আছেন তাঁর নিকট হতে অনেক কিছু পাওয়ার, অনেক বিষয় জানার ও অনেক বিষয় বুঝার রয়েছে। পক্ষান্তরে; যেসব মহান মনীষীগণ দেহত্যাগ করে লোকান্তরে গমন করেছেন তাদের নিকট হতে শিক্ষা করা বা অর্জন করার মতো কোনকিছুই নেই। তবে; যদি তাদের লিখিত কোনো পুস্তক-পুস্তিকা থেকে থাকে এবং যদি তাদের কোনো স্থাপত্য নিদর্শন থেকে থাকে তা ভিন্ন কথা। অনেকে বলে থাকেন যে; তারা প্রয়াত মনীষীদের ভালোবেসে অনেক কিছুই অর্জন করেছেন। বিষয়টি একেবারেই সত্য নয় কারণ মানুষ যা ভাবেন স্বপ্নে বা বাস্তবে তা-ই দেখতে পেয়ে থাকেন। তারা যা যা অর্জন করেছেন তা প্রয়াতরা দেন নি বরং তারা তা নিজেই অর্জন করেছেন। যেমন; মহাত্মা লালন সাঁইজি লিখেছেন; “যার যেমন মনের ঘটনা, তেমনি, ফল পায় সেজনা” (পবিত্র লালন- ৯০১/৪)

মহামানবগণের প্রয়াণোত্তরকালে যারা প্রয়াতদের প্রেমিক হতে চান কিংবা প্রয়াতদের ভালোবাসেন। তাদের ব্যাপারে আমরা বলতে চাই কথায় বলে- “মাছ খেলে মাগুর এবং নাং ধরলে ঠাকুর।” অর্থ; মাছশ্রেষ্ঠ হলো মাগুর এবং সমাজশ্রেষ্ঠ হলেন ঠাকুর। তাই; ঠাকুরের সঙ্গে যা-ই হোক তার বিচার আচার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ; খাবও বড়টা এবং সঙ্গও করব বড়টার সাথে। উল্লেখ্য যে; মুসলমানদের পিরদের মধ্যে সবার বড় হলেন বড়পির। তাহলে তাঁকে ভালোবাসাই ভালো। তার ওপর হলেন বিশ্বনবি। এজন্য; তাঁকে ভালোবাসাই উত্তম। তার ওপর হলেন স্বয়ং আল্লাহ। এজন্য; আল্লাহকে ভালোবাসায় সর্বোত্তম। যেহেতু; আল্লাহকেও দেখা যায় না এবং প্রয়াতদেরকেও দেখা যায় না। সর্বশেষে পরামর্শ হলো; প্রয়াতদের ভালোবাসার চেয়ে যার যার সাম্প্রদায়িক সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসাই উত্তম।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!