বর্থ্য

৬৭/৩. বর্থ্য
Debacle (ডিবাকল)/ ‘ﺷﻴﻂﺎﻦ’ (শায়ত্বান)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ব্যর্থতা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা ব্যর্থতা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পরাজয়তা। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অধঃপতন এবং এর ছদ্মনাম পরিবাষা বৈকল্য

অভিধা (Appellation)
বর্থ্য (বাপৌচা)বিণ ব্যর্থতার কারণ, হীনতার কারণ, বিফলতা কারণ, নিষ্ফলতার মূল রহস্য, পরাজয়তার কারণ, ক্ষীণতার কারণ, অকৃতকার্যতার কারণ, debacle, ‘ﺷﻴﻂﺎﻦ’ (শায়ত্বান) (শ্ববি) ব্যর্থতা, পরাজয়তা, পতন, অধঃপতন, failure (রূপ্রশ) অপদার্থ, কাপুরুষ, নরাধম বিণ গাফিল (.ﻏﺎﻔﻞ), জইফ (.ﻀﻌﻴﻒ), জালিম (.ﻆﺎﻟﻢ) (ইংপ) Satan Apollyon, Belial, Beelzebub, diablo,  devil, deuce, fiend, Lucifer, Old Gooseberry, Old Nick, Old Scratch, serpent, torpor, faller (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ব্যর্থতা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সর্বপ্রকার পরাজয় সংঘটনকারী দেবতাকে বর্থ্য বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যর্থতার বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাকে বর্থ্য বলা হয় (বাপৌছ) বৈকল্য (বাপৌচা) বর্থ্য (বাপৌউ) অধঃপতন (বাপৌরূ) পরাজয়তা (বাপৌমূ) ব্যর্থতা।

Debacle [ডিবাকল] (GMP)n অধঃপতন, ধ্বংস, পতন, হুড়াহুড়ি, মহাদুর্যোগ, ছত্রভঙ্গ, বিপর্যয়, দুর্দশা, ভরাডুবি, সমুহ বিনাশ, সম্পূর্ণ পতন, সম্পূর্ণ পরাজয়, আকস্মিক পতন {}

শাইত্ব [ﺸﻴﻄ] ক্রি বিনষ্ট হয়ে যাওয়া, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া, তাড়াতাড়ি করা (ব্য্য) আরবি ‘ﺸﻴﻄ’ (শাইত্ব) হতে ‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শয়ত্বান) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে {}

শায়ত্বান [ﺸﻴﻄﺎﻦ] (আপৌচা)বি ব্যর্থতা, দুর্বলতা, পরাজয়তা, হীনতা, ক্ষীণতা, failure (অপব্য) পিচাশ, অবাধ্য, অধঃপতিত, পাপাত্মা, অত্যন্ত দুর্বৃত্ত (প্র). ইসলামী পুরাণ অনুসারে; কুরানে বর্ণিত পাপিষ্ঠ বিশেষ- যে কুরানে বর্ণিত আদিপিতা ও আদিমাতাকে স্থায়ী স্বর্গ হতে পদচ্যুত করেছিল. আত্মজ্ঞানীগণের মতে; ব্যর্থতায় পতিত হওয়ার কারণ বা কারণগুলো (শ্ববি) অপদার্থ, কাপুরুষ, নরাধম (ইদে) গাফিল (.ﻏﺎﻔﻞ), জইফ (.ﻀﻌﻴﻒ), জালিম (.ﻆﺎﻟﻢ) (ইংপ) debar, debacle (দেপ্র)  এটি; ব্যর্থতা পরিবারের আরবীয় পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) সাধারণত; সর্বপ্রকার অধঃপতনকেই রূপকার্থে বর্থ্য বা ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শায়ত্বান) বলা হয়শ্বরবিজ্ঞানে; মৈথুনের সময়ে শুক্রনিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ কারণকে ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শায়ত্বান) বলা হয় (বাপৌছ) বৈকল্য (বাপৌচা) বর্থ্য (বাপৌউ) অধঃপতন (বাপৌরূ) পরাজয়তা (বাপৌমূ) ব্যর্থতা {.শাইতুন. ﺸﻴﻄ>}

বর্থ্যের সংজ্ঞা (Definition of debacle)
সাধারণত; সর্বপ্রকার পরাজয় সংঘটনকারী দেবতাকে বর্থ্য বলে।

বর্থ্যের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of debacle)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ব্যর্থতার বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাকে বর্থ্য বলে।

বর্থ্যের প্রকারভেদ (Variations of debacle)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; বর্থ্য দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান বর্থ্য ও ২. উপমিত বর্থ্য।

. উপমান বর্থ্য (Analogical debacle)
সাধারণত; সর্বপ্রকার পরাজয় সংঘটনকারী দেবতাকে উপমান বর্থ্য বলে।

. উপমিত বর্থ্য (Compared debacle)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ব্যর্থতার চারিত্রিকরূপকে উপমিত বর্থ্য বলে।

বর্থ্যের পরিচয় (Identity of debacle)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর ব্যর্থতা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

সাধারণত; সর্বপ্রকার পরাজয়তাকেই ব্যর্থতা বলা হয়। ব্যর্থতার চারিত্রিকরূপকে শ্বরবিজ্ঞানে বর্থ্য বলা হয়। একদিকে; ব্যর্থতার চারিত্রিক রূপ ও অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা হওয়ার কারণে বর্থ্য স্বর্গীয় একজন দেবতা। তাই; বর্থ্যের আলোচনা করতে হলে তাঁর সম্মান-সম্ভ্রম অটুট রেখে আলোচনা করতে হবে।

বর্থ্য হলেন মানুষকে পরাজয় বা ব্যর্থতায় পতিতকারী একজন সুমহান দেবতা। এ দেবতা সর্বসময় মানুষের সাথে সাথেই অবস্থান করেন। মুসলমানদের শ্বরবিজ্ঞানে; বর্থ্যকে মানুষের চির শত্রু বল হয়। তাই; মুসলমানরা তাঁকে চরম ঘৃণার চোখে দেখে থাকে। তাঁকে চরমভাবে গালিগালাজ করে থাকে। ব্যর্থতার কাছ থেকে কোনো শিক্ষাগ্রহণ করার চেষ্টা করে না। অথচ ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে-  Failure is the pillar of success (ফেলিয়ার ইজ দা পিলার ওফ সাকসেস) অর্থ; ব্যর্থতা সফলতার খুঁটি। অর্থাৎ; যেখানে ব্যর্থতা ঘটেছে পরবর্তীকালে সেখান থেকেই শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত। ব্যর্থতাকে গবেষণা করা উচিত।

মুসলমান মনীষীদের মধ্যে অনেকেই বলে থাকে যে; বর্থ্য মানুষের চির শত্রু এবং চির সঙ্গী। তারা আরও বলে- বর্থ্য মানুষের প্রতিটি লোমের গোড়া দিয়েও প্রবেশ করতে ও বের হতে পারেন। বর্থ্য পলকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিভ্রমণ করতে পারেন। তারা আরও বলে থাকে- বর্থ্যই নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করিয়ে মানুষকে অপরাধী করে চরম অশান্তিতে পতিত করে থাকেন। বর্থ্য চির নরকবাসী। কারণ; সে সৃষ্টির পর হতে কেবল মানুষের পিছনে পিছনে লেগেই থাকে। যতদিন সৃষ্টি থাকবে ততদিন সেও বেঁচে থাকবে। সব মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যু হবে ইত্যাদি। কিন্তু বর্থ্য কী? কিভাবে সে মানুষের শত্রু হলো? মূলে ব্যাপারটি কী? এমন প্রশ্ন করলে মহা মনীষীগণ পর্যন্ত হাঁ করে থাকে।

সাধারণ; সাম্প্রদায়িকতা প্রবণ (ধর্মপ্রাণ) মনীষীগণ মনে করেন যে; সারাবিশ্বের বর্থ্য মাত্র একজন। এমন ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। পৃথিবীবে মানুষ যতজন বর্থ্য ততজন। কারণ; প্রতিটি মানুষের জন্মের সাথে সাথেই একজন করে বর্থ্যও সৃষ্টি হয়। এক মানুষের বর্থ্যের সাথে অন্য মানুষের বর্থ্যের কোনো মিল নেই। অর্থাৎ; সারাবিশ্বের বর্থ্য একটা হলেও যার যার বর্থ্য ভিন্ন ভিন্ন। যেমন; সারাবিশ্বের মন কেবল একটা হলেও প্রত্যেক মানুষের মন ভিন্ন ভিন্ন। আরও পরিষ্কার করে বলা যায় যে; সারাবিশ্বের সব মানুষের নয়ন মাত্র দুটি। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের নয়ন সম্পূর্ণই ভিন্ন ভিন্ন। কারো নয়ন অন্যের নয়নের সাথে মিলবে না। একেক জনের মনোনয়ন একেক প্রকার। কেউ লাল ভালোবাসে, কেউ সাদা ভালোবাসে আবার কেউ নীল ভালোবাসে। ঠিক তেমনই; সারা বিশ্বের বর্থ্য একজন হলেও প্রত্যেক মানুষের বর্থ্য ভিন্ন ভিন্ন।

অত্যন্ত মজার বিষয় হলো সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, অনুবাদক, অভিধানবিদ, ব্যৈখ্যিক ও টৈকিকরা বর্থ্যকে অতিকাল্পনিক, ভুতুড়ে ও অলৌকিক-অদৃশ্য এক প্রকার সৃষ্টি ভেবে তার অনুকূলে নির্মাণ করে সেরেছে তাদের যতসব গুদামপচা, বস্তাপচা, অখাদ্য-কুখাদ্য রূপ কল্প-কাহিনী। তাই; এখন কেউ বর্থ্যের সঠিক তত্ত্ব-তাত্ত্বিকতা ও যুক্তি-দর্শন উপস্থাপন করলেও সাম্প্রদায়িকরা তা কোনমতেই গ্রহণ করতে চায় না। সাম্প্রদায়িক দর্শনের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম রাজনৈতিক অঙ্গনের একদলের অনুসারীরা অন্যদলের নেতৃবৃন্দের আলোচনা পর্যন্ত শুনতে চায় না। যুক্তি-দর্শন গ্রহণ করা তো পরের কথা। তেমনই; সাম্প্রদায়িক অঙ্গনেও এক শাস্ত্রের অনুসারীরা অন্য শাস্ত্রের কল্প-কাহিনী শুনতে ও গ্রহণ করতে চায় না। বিবিধ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাগুলোর বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা বা বাস্তব সত্তা কেবল বিশ্বজনীন কল্প-কাহিনী বা কালজয়ী কল্প-কাহিনীই রয়ে গেছে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন হয় নি কোনো দিন।

আরও হাস্যকর বিষয় হলো মানবজীবনের এসব ব্যর্থতার হাত হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আত্মনির্মাণ, আত্মোন্নয়ন কিংবা আত্মোত্তরণ জ্ঞান অর্জন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে মুসলমানরা বর্থ্য বিতাড়নের জন্য আবিষ্কার করেছে একটি মন্ত্র। মুসলমানরা সবাই বড় শ্রদ্ধার সাথেই মন্ত্রটি পাঠ করে থাকে। সাম্প্রদায়িক মুসলমানদের বিশ্বাস মতে; মন্ত্রটি পাঠ করলেই বর্থ্য পাঠকারী হতে দূরে পালায়। মন্ত্রটি হলো; “ﺍَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﺎﻟﻟَّﻪِ ﻤِﻦَ ﺍﻟﺷَّﻴْﻂَﺎﻦِ ﺍﻟﺮَّﺟِﻴْﻡُ” উচ্চারণ; “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজিম।” অর্থ; “আমি কাঁইয়ের নিকট ব্যর্থতায় পতিত হওয়া হতে মুক্তি চাই।”

আউজ [ﻋﻮﺬ] (আপৌছ)বি আশ্রয়, শরণ, সহায়, আধার, আলম্বন, আলয়, গৃহ, বাসস্থান, অবলম্বন {}

উজু [ﺍﻋﻮﺬ] (আপৌছ)বি আমি আশ্রয় চাই, আমি শরণ প্রার্থনা করি {}

বি [ﺐ] অব্য আরবি উপসর্গ- যা সাহার্য্য, সান্নিধ্য, শপথ, কারণ, কাল ও দ্বারা ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ করে {.বি.ﺐ}

আল্লাহ [ﺍﻠﻠﻪ] (আপৌছ)বি বিধাতা, স্রষ্টা, সৃজক, ঈশ্বর, উপাস্য, ব্রহ্মা, স্বায়ম্ভু বিণ সর্বেসর্বা, সৃজক, সৃষ্টিকারী, সর্বময়, সর্বব্যাপী, বিশ্বব্যাপী, সর্বাত্মক, সর্বাধার {}

মিন [ﻤﻦ] অব্য হতে, থেকে, চেয়ে {}

শয়ত্ব [ﺸﻴﻄ] (আপৌছ)বিণ বিনষ্ট হয়ে যাওয়া, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া, তাড়াতাড়ি করা (ব্য্য) আরবি ‘ﺸﻴﻄ’ (শাইত্ব) পরিভাষা হতেই ‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শাইত্বান) পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে {}

রাজিম [ﺭﺠﻴﻢ] (আপৌছ)বি পাপিষ্ঠ, অভিশপ্ত, বিতাড়িত, নিক্ষিপ্ত, প্রস্তর বর্ষিত {. ‘رجم’ (রাজমা)>} রাজামা [رجم] (আপৌছ)বি নিক্ষেপ, নিক্ষেপণ, ছুঁড়া, throwing {}

আরবি ‘ﺸﻴﻄ’ (শয়ত্ব) অর্থ ব্যর্থতায় পতিত হওয়া। ‘ﺸﻴﻄ’ (শয়ত্ব) হতেই ‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শয়ত্বান) পরিভাষার উৎপত্তি হয়েছে। ‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শয়ত্বান) অর্থ ‘বর্থ্য’। মানুষকে ব্যর্থতায় পতিত করে যে সত্তা সে-ই বর্থ্য। বাংলা ভাষার বর্থ্যকেই আরবি ভাষায় ‘ﺸﻴﻄﺎﻦ’ (শয়ত্বান) বলা হয়। এবার বিচার্য বিষয় হলো বর্থ্য কী কল্পিত ভূত! যে কল্পিত একটি মন্ত্র পাঠ করলেই সে চলে যাবে? বরং বর্থ্য হলো জীবনের সব ভুল পদক্ষেপ গ্রহণের ইন্ধনশক্তি। হয়তো অজ্ঞতা নয়তো রাগ অথবা অহঙ্কার। অজ্ঞতা, রাগ ও অহঙ্কার বশতঃ ভুল পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যই মানবজীবনে ব্যর্থতার গ্লানি নেমে আসে। বর্থ্যের হাত হতে রক্ষা পাবার জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন সঠিকভাবে জ্ঞানার্জন করা ও সঠিকভাবে চিন্তাভাবনা করে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা। কথায় বলে ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।” অথচ মুসলমানদের গুদামপচা সংস্কৃতি হলো; কেবল একটি কল্পিত মন্ত্র পাঠ করে মানুষের চির সঙ্গী বর্থ্যদাকে বিতাড়িত করা। তাদের ধারণা হলো বর্থ্যদা নাকি চোখের পলকে সারাবিশ্ব পরিভ্রমণ করতে পারেন। তিনি নাকি মানুষের প্রতিটি লোমের গোড়া দিয়েও প্রবেশ করতে পারেন। এমনই চরম হাস্য ও উপহাসমূলক কত পৌরাণিক কাহিনী যে তাদের সংস্কৃতিতে রয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

মনীষীদের রূপক বর্ণনাগুলো শ্রবণ করে সাধারণ মতবাদ ভীরু মানুষ মনে করেন যে; সারাবিশ্বের বর্থ্য হয়তো একজন। প্রকৃত বিষয়টি হলো সব মানুষের জন্মের সাথে সাথেই একজন করে বর্থ্যও সৃষ্টি হয়। এক মানুষের বর্থ্যের সাথে অন্য মানুষের বর্থ্যের কোনো মিল নেই। অর্থাৎ; সারাবিশ্বের বর্থ্য দেবতা একজন হলেও যার যার বর্থ্য ভিন্ন ভিন্ন। যেমন; সারাবিশ্বের মন কেবল একটা হলেও প্রত্যেক মানুষের মন ভিন্ন ভিন্ন অথবা সারাবিশ্বের নয়ন মাত্র দুটি হলেও প্রত্যেক মানুষের নয়ন সম্পূর্ণই ভিন্ন ভিন্ন। বর্থ্য কী? বর্থ্য দেবতার অস্তিত্ব মানবদেহে কিভাবে রয়েছে? এমন চিন্তা ভাবনা একটিবার না করে সাম্প্রদায়িক মনীষীরা বর্থ্য নিয়ে যতসব পৌরাণিক কাহিনী নির্মাণ করে চলেছে তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে আর বর্থ্যের সন্ধান করে তার হাত হতে আত্মরক্ষার উপায় উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে না।

উপরোক্ত বর্ণনাগুলো পুরোটাই রূপক। যেমন; বর্থ্য কোনো ব্যক্তি নন; তেমনই; তিনি কোনো প্রাণীও নন। বরং এটি হচ্ছে; শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ব্যর্থতার ছদ্মনাম। আরবি ভাষায় এর আরবীয় পৌরাণিক রূপক পরিভাষা হলো; ‘ﺷﻴﻂﺎﻦ’ (শায়ত্বান) এবং ইংরেজি ভাষায় এর গ্রিক পৌরাণিক রূপক পরিভাষা হলো; debacle.

বর্থ্যের কবল হতে আত্মরক্ষার উপায় (The bulwark from debacle)
মুসলমানরা বর্থ্যের হাত হতে আত্মরক্ষার জন্য একটি মন্ত্র আবিষ্কার করেছে। মন্ত্রটি হলো; “ﺍﻋُﻮْﺫُ ﺑِﺎﻟﻟَّﻪِ ﻤِﻦَ ﺍﻟﺷَّﻴْﻂَﺎﻦِ ﺍﻟﺮَّﺟِﻴْﻡُ” “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রাজিম।” অর্থ; আমি কাঁইয়ের নিকট ব্যর্থতায় পতিত হওয়া হতে মুক্তি চাই।” কেবল মন্ত্র পাঠ করে বর্থ্যের হাত হতে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা বড় হাস্যকর বিষয় বৈ নয়। কারণ; কোনো কাজ করতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম, কেন ব্যর্থ হলাম, কিভাবে ব্যর্থ হলাম এবং ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলো কী কী এমন চিন্তাভাবনা না করে কেবল মন্ত্র পাঠ বর্থ্য তাড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত। ধরা যাক পরীক্ষায় অনুতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি। পরীক্ষায় অনুতীর্ণ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো রীতিমত পড়াশোনা না করা। এবার ধরুন পাঠ্যসূচীর পাঠ্য গ্রন্থাদি পড়াশোনা না করে, কেবল মন্ত্র পাঠ করলেই যদি ব্যর্থতার হাত হতে মুক্তিলাভ করা যেতো বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যেতো, তবে কোনো ছাত্র/ছাত্রীরই পড়াশোনা করার প্রয়োজন হতো না। কেবল বসে বসে মন্ত্রপাঠ করলেই চলতো কিন্তু বিষয়টি তা নয়। কারণ; কোনো ছাত্র/ছাত্রীকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে অবশ্যই রীতিমত পড়াশোনা করতে হবে। এবার বলা যায় বর্থ্যের হাত হতে আত্মরক্ষা করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে কোনো কাজ করার পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে চিন্তাভাবনা, অধ্যায়ন, অনুশীলন ও গবেষণা করতে হবে। কোনো কাজ করার পূর্বে যে ব্যক্তি যতোধিক চিন্তাভাবনা, অধ্যায়ন, অনুশীলন ও গবেষণা করবে সে প্রতিটি কাজে ততো অধিক উত্তম সফলতা পাবে। এজন্য; প্রবাদে বলা হয়েছে- “ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।” সংস্কৃত ভাষায় বলা হয়- “দৃষ্টিপূতং ন্যসেৎ পাদম্” অর্থ; “বিচার করে কাজ করো।” ইংরেজিতে বলা হয়- “Look before you leap” অর্থ; ভেবেচিন্তে কাজ করো।” বা “দেখেশুনে পা বাড়াও।” অন্যভাবে বলা হয়- “Think before you act” অর্থ; “কাজ করার আগে চিন্তা করো।”

বর্থ্য নির্মাণ পদ্ধতি (Debacle construction method)
যাত্রাপালা, নাটক, ছায়াছবি ও উপন্যাসগুলো নির্মাণের জন্য মিত্রপক্ষের বিরুদ্ধে একজন দুর্জন অবশ্যই নির্মাণ করতে হয়। বৈষয়িক সাহিত্যে যাকে খলনায়ক বা (Villain) বলা হয়। শ্বরবিজ্ঞানে; একেই বর্থ্য বলা হয়। উপন্যাস বা পুরাণ নির্মাণের জন্য বর্থ্য চরিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

উল্লেখ্য যে; বেদে বৃত্রকে, পুরাণে রাবণকে এবং কুরানে ‘ﺷﻴﻂﺎﻦ’ (শায়ত্বান)-কে খলনায়ক রূপে (Villain) উপস্থাপন করা হয়েছে। অদ্ভূত হবার বিষয় হলো এ তিনটি পরিভাষার অভিধা তিন প্রকার। বৃত্রের উপমিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা যোনি, রাবণের উপমিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শিশ্ন এবং ‘ﺷﻴﻂﺎﻦ’ (শায়ত্বান) এর উপমিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বর্থ্য। এ হতে এটিই প্রতীয়মান হয় যে; পুরাণ নির্মাণের সময়ে বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার যে কোনো একটির যে কোনো বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাকেই খলনায়ক রূপে উপস্থাপন করা যায়। যেহেতু; ইতোপূর্বে একেক রূপকার একেকটি প্রত্যঙ্গকে খলনায়ক রূপে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের সব শ্বরবিজ্ঞানে কেবল বর্থ্যকেই খলনায়ক বা প্রতিপক্ষ বা শত্রুপক্ষ করতে হবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ঔপন্যাসিক বা রূপকার ইচ্ছে করলে বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত যে কোনো বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তাবাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষাকেই প্রতিপক্ষ রূপে উপস্থাপন করতে পারেন। তবে; রিপু, রুদ্র, মন্দা, দশা, মন, বর্থ্য, শিশ্ন ও স্ত্রী জননাঙ্গ এসবের মধ্যে হতে শত্রুপক্ষ বা খলনায়ক নির্মাণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ; এদের চরিত্র সর্বক্ষেত্রেই মন্দ। সঠিকভাবে বর্থ্য চরিত্র নির্মাণ করতে ব্যর্থ হলে পুরাণটিই পঠন-পাঠনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে।

উপসংহার (Conclusion)
যবনিকায় উপনীত হয়ে বলা যায় সারা বিশ্বের শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত বর্থ্য মানবদেহের বাইরের কোনো সত্তা নয় বরং তিনি হলেন মানুষের ব্যর্থতার কারণ। যে কাজে যে কারণে মানুষ ব্যর্থ হয় সে কাজের জন্য তা-ই বর্থ্য।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!