বিষ্ণু

৪৮/১১. বিষ্ণু
Venomno (ভেনমনো)/ ‘ليسالسم’ (লাইসাস্সাম)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পালনকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সাঁই। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ফুল। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ননি, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ হরি এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ সুধা

অভিধা (Appellation)
বিষ্ণু (রূপবি) শ্বরবিজ্ঞানের ‘বিষ-নয়’ এর সাধিত রূপ বিশেষ, venomno, ‘ليسالسم’ (লাইসাস্সাম), glorious, ‘مجيد’ (মাজিদ) (প্রাঅ) আরাধ্য, আরাধিত, পূজিত, উপাসনার যোগ্য (প্র) বাঙালী পুরাণ মতে; ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিপালক বা জগতের পালনকর্তা, ত্রিত্ববাদের ত্রয়ীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ; বিষ্ণু হলেন- ব্রহ্মাদি (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহাদেব) ত্রিমূর্তির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুদেও বিশ্বাস মতে; লোক রক্ষার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবতার রূপে আবির্ভূত হয়ে মধু-কৈটভ ও হিরণ্যগুলো লোকশত্রুকে বিনাশ করে থাকেন (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) ১.ঈশ্বর, গুরু, গোঁসাই, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, পতি, পালনকর্তা, প্রভু, বিষ্ণু, বুদ্ধ, সাঁই, স্বরূপ, স্বামী, guardian, adored, adorable, ‘إله’ (ইলা), ‘.ﺮﺐ (রব)’ (পারদে)ফা.ﺨﺪﺍ’ (খোদা) (ইদে).ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ), ‘.رَسُول’ (রাসুল) (ইপ).ﻜﻭﺛﺮ’ (কাওসার), ‘.ﻔﺭﺍﺖ’ (ফুরাত) (ইংপ) God, nectar, elixir (ব্য্য) সারাজগতের জীবকুল লালনপালন করেন বলে বিষ্ণুকে লালন বা সাঁই বলা হয় (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা’ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; হিন্দুদের ত্রিত্ববাদের ত্রয়ীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সত্তাকে বিষ্ণু বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; এক প্রকার পবিত্র মানবজলকে বিষ্ণু বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

পর্যালোচনা (Review)
হিন্দু বিষ্ণু পরিভাষাটি বাংভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক পরিচিত। পুরাণ শিল্পের অবদান হলো পুরাণ। শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; পুরাণে বর্ণিত সব বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা মানবদেহে অবস্থিত। তাহলে এ পরিভাষাটির বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা কী? পরিভাষার বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তাই হচ্ছে তার প্রকৃত অভিধা। এ উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক আলোচক, মনীষী, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা বিষ্ণু পরিভাষাটির বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা না জানা ও না বুঝার কারণে এর ইংরেজি অনুবাদ করেছেন- Bishnu (বিষ্ণু), Vishnu (ভিশনু), Vaishno (ভাইশনু) এবং এর আরবি অনুবাদ করেছেন- ‘فيشنو’ (ফিশানু)। এবার কথা হচ্ছে; এমন মনগড়া অনুবাদ যদি কয়েক হাজার বছর ধরেও চলতে থাকে তবে সাধারণ মানুষ কী এর প্রকৃত-অভিধা কখনও জানতে পারবে?

এর পরিভাষাটি বাংলা ‘বিষ-নয়’ হতে সৃষ্টি। অর্থাৎ; মানবদেহে মৌলিক-যৌগিক মিলে প্রায় ৫,০০০ প্রকার পদার্থ রয়েছে। তারমধ্যে; অসংখ্য বিষাক্ত রস রয়েছে। যেমন; মূত্র, পিত্তরস, পাচকরস ইত্যাদি। এছাড়াও; এমন কিছু রস রয়েছে- যেগুলো বিষাক্ত তো নয়ই বরং পরম উপকারী। যেমন; স্তনের দুগ্ধ, বীর্য ও মেরুজল ইত্যাদি। এ রসগুলোর মধ্যে বিষ নেই। শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত ‘বিষ-নয়’ পবিত্র রস এমন বুঝালে কেবল মেরুজলকে বুঝায়। এ ‘বিষ-নয়’ হতেই ‘বিষ্ণু’ পরিভাষাটির উদ্ভব। তাই; এর ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে Venomno এবং আরবি অনুবাদ হচ্ছে ‘ليس-السم’ (লাইসা আস্সাম)। এবার এর মর্মার্থ বা ভাবার্থ অসংখ্য হতে পারে তা ভিন্ন কথা। সর্বদা স্মরণ রাখা উচিত যে; সর্বদা পরিভাষার ভাবার্থ/ মর্মার্থ লেখতে থাকলে এক সময় এর মূল অর্থ হারিয়ে যায়। এ হতেই সমাজে বিব্রত-বিচ্ছ্রংখল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy) বা প্রপক (Extensive)
বাঙালী পুরাণ অনুসারে; জগতের পালনকর্তা নামক দেবতা, বিষ্ণু বা নারায়ণ হলেন- ব্রহ্মাদি (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহাদেব) ত্রিমূর্তির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বের প্রতিপালক। লোক রক্ষার জন্য বিষ্ণু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবতার রূপে আবির্ভূত হয়ে মধুকৈটভ ও হিরণ্যগুলো ইত্যাদি লোক শত্রুকে বিনাশ করেছেন। সারা জগতের জীবকুল লালনপালন করেন বলে বিষ্ণুকে লালন বা সাঁই বলা হয়।

তিনি ক্ষীরোদশায়ী। তাঁর শয্যা অনন্ত, স্ত্রী লক্ষ্মী, পুত্র কামদেব, ধাম বৈকুণ্ঠ, বাহন গরুড়। তাঁর শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্য, চক্র সুদর্শন, গদা কৌমদক্ষী, ধনু শার্ঙ্গ, অসি নন্দক ও মণি কৌস্তভ। তিনি দেবতাগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। ইন্দ্রিয়াদি দেবতাগণ বিপদের সময় তাঁর শরণাপন্ন হন। প্রজাপতি কশ্যপের ঔরসে ও অদিতির গর্ভে বিষ্ণু জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দুইজন স্ত্রী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। পৃথিবীর কল্যাণের জন্য, দেবতাগণের সাহায্য করবার জন্য ও দানবদলনের জন্য তিনি যুগে যুগে অবতার রূপে অবতরণ করেন। পুরাণে তাঁর ১০টি দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায়। যথা; ১. মৎস্য ২. কূর্ম ৩. বহাহ ৪. নৃসিংহ ৫. বামন ৬. পরশুরাম ৭. রাম ৮. বলরাম ৯. বুদ্ধ ও ১০. কল্কি। তিনযুগে তিনি অনেক দৈত্য দানবকে বধ করেছেন। যেমন; মধু, ধেনুক, পুতনা, যমলার্জুন, কালনেমি, হয়গ্রীব, শটক, অরিষ্ট, কৈটভ, কংস, কেশী, শাল্ব, বাণ, কালীয়, নরক, বলি ও শিশুপাল প্রভৃতি। তাঁর চারটি হস্ত। এক হস্তে পাঞ্চজন্য শঙ্খ, দ্বিতীয় হস্তে সুদর্শন চক্র, তৃতীয় হস্তে কৌমোদকী গদা এবং চতুর্থ হস্তে পদ্ম। তাঁর বঙ্গে কৌস্তভমণি বিলম্বিত এবং শ্রীবৎস নামে এক অদ্ভূত চিহ্ন অংকিত। তাঁর মণিবন্ধ্যে শ্যমন্তক মণি বর্তমান। বিষ্ণু ঋক্বেদের অনেক সুক্তে স্তুত হয়েছেন। কোনো কোনো স্থানে তিনি আদিত্যের সঙ্গে অভিন্ন রূপে বর্ণিত হয়েছেন। কোথাও বা তিনি সূর্যরশ্মির সঙ্গে ব্যাপ্ত বলে বর্ণিত হয়েছেন। তিনি সপ্তকিরণের সঙ্গে ভূ-প্রদক্ষিণ করেন। তিনি ইন্দ্রের সখা। তিনি ত্রিপদে জগৎ ব্যাপিয়া অবস্থান করেন।

আর্যদের তিনজন প্রধান দেবতার মধ্যে বিষ্ণু গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সদগুণের আধার। সৃষ্ট জগতের পালনভার তাঁর ওপর ন্যস্ত। তিনি পরমপুরুষ, অব্যয়, ঈশ্বর, অনাময়, বিশ্বব্যাপী ও প্রভু। প্রলয় সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় নারায়ণ রূপে মানুষ্য দেহধারী হয়ে তিনি শেষনাগের ওপর শায়িত আছেন। তাঁর নাভি উদ্ভূত পদ্ম হতে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়। জগৎ সৃষ্টিকালে মধু ও কৈটভ নামক দুইজন দানবকে হত্যা করে তাদের মেদ হতে তিনি মেদিনী সৃষ্টি করেন। মহাভারত ও পুরাণে বিষ্ণু প্রজাপতি ও শ্রেষ্ঠ দেবতা। প্রজাপতি রূপে তাঁর তিনটি অবস্থার উল্লেখ রয়েছে। প্রথমে সক্রিয় সৃষ্টিকর্তা রূপে ব্রহ্মা, যিনি নিদ্রিত বিষ্ণুর নাভিপদ্ম হতে উত্থিত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত বিষ্ণু স্বয়ং রক্ষক রূপে অবতার। যথা; শ্রীকৃষ্ণ, তৃতীয় শিব বা রুদ্র, বিষ্ণুর কপাল হতে উদ্ভূত ধ্বংসের দেবতা।

বিষ্ণুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of venomno)
১.   “ঊনকোটি দেবতা, সঙ্গে আছে গাঁথা, ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব নারায়ণ জয় জয় জয়, সে চাঁদ পাতালে- উদয় ভূমণ্ডলে, মহিন্দ্রযোগে সে চাঁদ দেখা যায়।” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/২)(মুখ; হীরা কাঞ্চন জহরত কোটিময়, সে চাঁদ সহস্র যোজন ফাঁকে রয়, কোটি চন্দ্রে জোৎস্নাময়”)
২.   “আমি কী সাধনে পাই গো তারে, ব্রহ্মা বিষ্ণু ধ্যানে পায় না যারে।” (পবিত্র লালন- ১৪৭/১)
৩.   “এ মানুষ খুঁজিলে মিলে, ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব নিতাই, এ মানুষে বিরাজ কওে, দয়াল গুরু সাঁই কাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৩)
৪.   “ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব তিনে, ভজে তোমায় নিশিদিনে, আমি জানি নাকো তোমা বিনে, যা করো তুমি এবার।” (পবিত্র লালন- ৪২/২)(মুখ; অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং সারাচরাচর, গুরু তুমি পতিতপাবন পরমঈশ্বর”)

বিষ্ণুর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of venomno)
১.   “আছে যাদের নদী ভরা, যাবি সেথা আয়রে ত্বরা, ডাকে দয়াল বিষ্ণু বরা, সাঁই বসে নিঠাঁইপুরে- গুরু নিরীক্ষ সঙ্গে নিয়ে, বসগে অষ্টাঙ্গ দিয়ে, নাও চালাও কলকলিয়ে, দয়াল নামটি সার করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩০)
২.   “কাঁই ব্রহ্মা বিষ্ণু সাঁই, নিরাকার কোথাও লেখা নাই, গোল বেঁধেছে কুলের ধোঁকায়, সেই ইঙ্গিত বুঝলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৮)
৩.   “কুরানে রাসুল- বিষ্ণু বেদে, তত্ত্ববাহী বাংলা ভবে, মূল পার্থক্য নাহি পাবে, কী হবে ছাই গর্ব করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৭)
৪.   “কৃষ্ণ ছিল গৌরবরণ, তার বুকে কালীর চরণ, সোনাবরণ লক্ষ্মী ঠাকুরাণী, বিষ্ণুর চরণ টিপতেছে।” (পবিত্র লালন- ২৯১/২)
৫.   “চামকুঠরী নিতাইপুরী, বিষ্ণু রাসুল সাঁই নাম ধরি, ত্রিলোচনী সাজে হরি, দেহধামে দেখতে পাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৩)
৬.   “চারযুগে সে রয় গোপনে, দেখা নাই কারো সনে, ব্রহ্মা বিষ্ণু না পায় ধ্যানে, মুনিগণ ঘুরে মরল, পরোয়ারে মেহের করে, আপনি দিদার দিলো।” (পবিত্র লালন- ৭৯৮/২)
৭.   “নদীতে আজব ফুল ফুটেছে, সে ফুল যার ভাগ্যে আছে, ফুরায় না তার বাসনা, লালন বলে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর, ফুলের প্রহরী তিনজনা।” (পবিত্র লালন- ৫২৯/৪)
৮.   “নদীর তিন ধারে তিনজন, ব্রহ্মা বিষ্ণু ত্রিলোচন, পাহারা দিচ্ছে সর্বক্ষণ, নদীতে বান ডাকলে সুধা ওঠেরে, তারা পান করে বসে সুখে।” (পবিত্র লালন- ৪০১/৩)
৯.   “নামে বিষ্ণু ব্রহ্মা সাঁই, একখানে রহে তিনজনাই, কাঁইজি বলন ভাবিয়া জানায়, মানবের ঊর্ধ্বে নয় তারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)
১০. “নিরানব্বই নাম সাধনা, পেলে বা কী ছাইখানা, বলন কয় ফল নমুনা, সাঁই বিষ্ণু ব্রহ্মা কাঁইজি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১১)
১১.  “নীরাকারে ভাসছেরে এক ফুল, বিধি বিষ্ণু হর আদিপুরন্দর, সে ফুলের ঊল হয় মাতৃফুল।” (পবিত্র লালন- ৬০৭/১)
১২.  “হিন্দুদের বিষ্ণু ব্রহ্মা, মুসলমানদের রাসুল আল্লাহ, মুখে পড়ে তওবাতুল্লাহ, বাঙালীদের সাঁই কাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮২)
১৩. “বিনোদবেণী সাজিয়ে মনে, কুলভুষণ নে খুলে নে, বিষ্ণু গমন- কৃষ্ণ দরশন, ভক্তি মিলবে চরণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৭)
১৪. “বৈষ্ণবীর গুণ বিষ্ণু জানে ভাই, আর জানে গুরু গোঁসাই, লালন কয় বৈষ্ণবী তাই, হেঁশেল ঘরের শাল ঘরামি।” (পবিত্র লালন- ৯১২/৪)
১৫.  “ব্রহ্মা বিষ্ণু আর নারায়ণে, মরল মাগীর বোঝা টেনে, না বুঝে আহাম্মক জনে, বাঁধায় ঠোকাঠকি।” (পবিত্র লালন- ২৮৩/২)
১৬.  “বলবো কী সে ফাঁদের কথা, কাক মারতে কামান পাতা, আরম্ভ করেছে, ব্রহ্মা বিষ্ণু– নর নারায়ণ, সে ফাঁদে ধরা পড়েছে।” (পবিত্র লালন- ৫৯/২)
১৭. “সপ্ততল পাতালে যে রূপভরা স্বরূপ কারা, ঐ অচেনপুরে বসত করে গুরু সাঁই বিষ্ণু বরা, উত্তরা বায় গেলে সেথায়, যায় সহজে সাঁই ধরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৫)

বিষ্ণুর ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ বলন (A full Bolon on the venomno)
দুর্গম সাঁই বিষ্ণু কারা
বিষ্ণুপুরী গমন সেতো
মুঠের মধ্যে ছায়া ধরা।

সাধুর চরণ করে ভজন
নিত্যকর্ম করে সারা
পাড়ি ধরে- অথৈ পারাপারে
তারা ধরে অধর ধরা।

হলেরে মন মদন শাসন
পারাপারে যায় না মারা
নিরবধি- বিষ্ণু দরদী
চলেফেরে কফিন পরা।

তিনকোশী মহারসী
দ্বিমোহনা খিড়কি আটা
বলন কয়- অটল যাত্রায়
ধরা পড়ে বিষ্ণু বরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৪)

রতী অর্থে বিষ্ণুপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology venomno sense for venus)
১.   “আগে যদি জানতে ইহা, তবে কেন করলে বিয়া, এখন সে বিষ্ণুপ্রিয়া, কেমনে রাখব ঘরে।” (পবিত্র লালন- ৩১১/৩)
২.   “ঘরে বধূ বিষ্ণুপ্রিয়ে, রেখে এলাম ঘুমিয়ে, নিতাই এসে জল ঢেলে, শান্ত করবে আপন মনে।” (পবিত্র লালন- ৮৫১/৩)

অটল অর্থে বিষ্ণুপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology venomno sense for steady)
“গুরু পদেতে নিষ্ঠা যারা, নিত্যকর্ম কর সারা, ভেদিয়ে সাঁই নিগমকারা, আগে হও বিষ্ণুধারী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫০)

জঠর অর্থে বিষ্ণুপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology venomno sense for uterus)
“ধনুকধারী ঐ বিষ্ণুপুরী, সাঁই কফিনে বংশীধারী, হলেরে মন সু কারবারী, অধর এসে দেয় ধরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)

বিষ্ণুর সংজ্ঞা (Definition of venomno)
সাধারণত; হিন্দুদের ত্রিত্ববাদের ত্রয়ীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সত্তাকে বিষ্ণু বলে।

বিষ্ণুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of venomno)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; এক প্রকার পবিত্র মানবজলকে বিষ্ণু বলে।

বিষ্ণুর প্রকারভেদ (Variations of venomno)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; বিষ্ণু দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান বিষ্ণু ও ২. উপমিত বিষ্ণু।

. উপমান বিষ্ণু (Analogical venomno)
সাধারণত; হিন্দুদের ত্রিত্ববাদের ত্রয়ীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সত্তাকে উপমান বিষ্ণু বলে।

. উপমিত বিষ্ণু (Compared venomno)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; এক প্রকার পবিত্র মানবজলকে উপমিত বিষ্ণু বলে।

বিষ্ণুর পরিচয় (Identity of venomno)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। মানবদেহে প্রাপ্ত রসগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই বিষ। তবে; কয়েকটি রস রয়েছে- যেগুলো বিষ নয়। এ ‘বিষ-নয়’ হতেই বাঙালী পুরাণে ব্যবহৃত ‘বিষ্ণু’ পরিভাষাটির উদ্ভব। অধুনাকালের অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, আলোচক, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদক আত্মতত্ত্ব জানে না। তাই; তারা শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করতে পারে না। বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা না জানার কারণেই তারা শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত রূপক, উপমান, চারিত্রিক, ছদ্মনাম ও ব্যাপক পরিভাষাগুলোর যতসব মনগড়া অর্থ বলে, লেখে ও প্রচার করে। এ হতেই সৃষ্টি হয় দলাদলী, স্ব-ভাগাভাগী, আগ্রাসন, আতঙ্কবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বধ, বলি, হত্যা, হনন ও নিধনযজ্ঞ। বাস্তবতাও তাই বলে। সারা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক সন্ত্রাসী কার্যক্রমই সন্ত্রাসীবৃত্তির শীর্ষে।

জঠর হতে তিনটি ধারা প্রবাহিত হয়। প্রথম ধারাটি রক্তিম এটি;কে ঋতুস্রাব বলে, যা প্রকৃতির নিয়নে প্রতি মাসেই যথা নিয়মে প্রবাহিত হয়। ইহা অসার এবং দুষিত রক্তধারা। দ্বিতীয় ধারাটিই সাঁই, বিষ্ণু, বুদ্ধ, ঈশ্বর, লালন- যা মানব সন্তান লালনপালনের জন্য জরায়ুতে যথা সময়ে অবতারিত হয়। সাধকগণ সাধনবলে ইহার সাথে প্রত্যক্ষ দর্শনলাভ করে সাঁইজি ও বৈষ্ণব উপাধিলাভ করেন। ইহা সুস্বাদু ও সুপেয় সুভ্রজল। আরবি অলি আব্দালগণ ফুরাত বলে, ফার্সি দরবেশগণ আবহায়াত বলে, সংস্কৃত সন্ন্যাসীগণ সোম বলে, বাঙালী সাধুগণ অমৃতসুধা বলে, পালি সাধুগণ শীল বলে, লালন সাঁইজি মীন বলে এবং বলন সাঁইজি শীল বলে এর নামকরণ করেছেন।

যখন রক্ত মস্তিষ্কে যায়, তখন হৃদপিণ্ডের প্রথম ও দ্বিতীয় ভেণ্ট্রীলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেখানে রক্ত থেকে  যে মেরুজল টেনে বের করা হয় তাকে মস্তিষ্ক মেরুজল বা সিরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড (Cerebro spinal fluid) বলে। একেই বলে প্রধান জীবন রস বা জীবনজল বা nectar বা ভাইটাল লাইফ জুস (vital life juice). সাধুগণ ও যোগিগণ ইহাকে অমৃতসুধা বলেন। এ রস মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয় এবং মেরুদণ্ডের মাধ্যমে প্রোটেষ্ট গ্রন্থি পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং নিউরন মোটরকে সক্রিয় রাখে। প্রতি ১০০ মিলিলিটার অমৃতসুধার মধ্যে থাকে-  প্রোটিন- ১৫-৪৫ মিলিগ্রাম, গ্লুকোজ- ৪০-৫০ মিলি, ক্লোরাইড- ৭২০-৭৫০ মিলি, কোষ- ০.৫ মিলিগ্রাম+ লসিকা ইত্যাদি। প্রতি ঘণ্টায় ১২৫ মিলিগ্রাম পীযূষ প্রস্তুত হয়। অর্থাৎ; প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৫ মিলিগ্রাম অমৃতসুধা সৃষ্টি হয়- যা হতে ২০০-২৫০ মিলিগ্রাম শর্করা প্রস্তুত হয়ে মানবদেহের জৈবিক প্রয়োজন মেটায়। এ অমৃতসুধা বা মস্তিষ্ক মেরুজল কখনই রক্তের সঙ্গে মেশে না। অটল সাধন দ্বারা মহাযোগের সাহায্যে সাধু সন্ন্যাসী মুনি ঋষি ও যোগিগণ এ অমির মানবদেহ হতে উত্তোলন করতে সক্ষম হন। ইহাকেই সাঁইদর্শন বা বাপ্তিস্ম বলে, আরব্য সাধুগণ দিদারে রাসুল বা নায়েবে রাসুল বলে। ইহা দেখতে অত্যন্ত স্বচ্ছ সাদা একেবারে কচি ডাবের জলের মতো। পান করতে সুস্বাদু ও সুপেয় মনে হয়। এ মেরুজল পান প্রক্রিয়াকে অমৃতসুধা পান ক্রিয়া। এ অমৃতসুধা পান করলে ক্ষুধা ও পিপাসা অনেকটা হ্রাস যায়। সাধুগণ এ জল পান করে অত্যন্ত অল্প খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে সুস্থভাবে সুদীর্ঘ দিব্য জীবন অতিবাহিত কওে থাকেন। এ রস পান করলে সাধারণত; পুরুষের চুল-দাড়ি বিলম্বে পাকে। নারীদের বাত রোগ হ্রাস পায় এবং তিরোধান পর্যন্ত অটল যৌবনলাভ করা যায়। এ রসকে ইংরেজি ভাষায় nectar বা elixir বলা হয়। আবার চরিত্র রূপে একে God বলা হয়। অন্যদিকে; একে আরবি ভাষায় ‘ﻜﻭﺛﺮ’ (কাওসার) ও ‘ﻔﺭﺍﺖ’ (ফুরাত) ইত্যাদি বলা হয়। আবার চরিত্র রূপে একে ‘إله’ (ইলা), ‘.ﺮﺐ (রব)’ (ইদে)ফা.ﺨﺪﺍ’ (খোদা), ‘.ﻤﺤﻤﺪ’ (মুহাম্মদ), ‘.رَسُول’ (রাসুল)।

অন্যদিকে; বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; ‘বিষ্ণু’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কল্পিত ও অজানা এক পৌরাণিক চরিত্রকেই বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। তাই; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা চিরদিনের জন্য আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা আত্মতত্ত্বের জ্ঞানে চির অন্ধ। হিন্দুদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য দল-উপদল। এরা সবই ছিন্নমূল। এদের কারো মূলের সন্ধান নেই। যারা মূলের ওপর থাকে তাদের মৌলবাদী বলা যায়। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা তো মূলের ওপর নেই। তাই; তাদের মৌলবাদী বলে গালি দেওয়াও পাপ। কারণ; তারা কখনই মৌলবাদী নয় বরং মূলহীন বা ছিন্নমূল।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!