ব্রজ৩

৩৩/১১. ব্রজ
Flesh (ফ্ল্যাস)/ ‘جسد’ (জাসাদা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা দেহ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পৃথিবী। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ হাতি। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন ভুবন এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র স্বর্গালয়। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত কানাই’, ‘জরায়ু’, ‘দেহ’, ‘বৈতরণীভগ ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার ব্যাপক পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
ব্রজ (বাপৌচা)বি দেহ, কায়া, খাঁচা, গতর, গা, গাত্র, ঠাট, ধড়, পিঞ্জর, শরীর, flesh, ‘جسد’ (জাসাদা), body, shap, জিসম (.ﺠﺴﻢ), বদন (.ﺒﺪﻦ) (প্রাঅ) কংকাল, কলেবর, কাঠামো (শ্ববি) ১. উষ্ট্র, ঘোড়া, তপোবন, দশরথ, নদীয়া, নবদ্বীপ, পাহাড়, ব্রহ্মাণ্ড, মেঘ, সংসার, হাতি ২. কল্পতরু, কল্পদ্রুম, কল্পবৃক্ষ, কল্পলতা (প্র) মথুরা ও তার চারদিক। এ স্থানটি শ্রীকৃষ্ণে লীলাভূমি ও মহাতীর্থস্থান রূপে পূজিত হয়। এ ব্রহ্মভূমিতে বারোটি বন, উপবন, প্রতিবন ও অধিবন রয়েছে (ইংপ) world, universe (ফাপ) গোর (ফা.ﮔﻮﺭ), জাহান (ফা.ﺠﻬﺎﻦ) (ইপ) আলম (.ﻋﺎﻠﻡ), ক্ববর (.ﻘﺑﺮ), ফিল (.ﻔﻴﻞ), মিসর (.ﻤﺻﺮ), মুলুক (.ﻤﻟﻚ), শাজারা (.ﺸﺠﺮﺓ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . ভারতীয় শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা ভূমি রূপে বর্ণিত মথুরার নিকটবর্তী একটি গ্রামকে ব্রজ বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মানুষের স্থূল দেহকে রূপকার্থে ব্রজ বলা হয় (বাপৌছ) দেবালয়, বিশ্ব, মন্দির, রথ, শাস্ত্র ও স্বর্গালয় (বাপৌচা) কানন, পাহাড়, বপু, বিপিন, ব্রজ ও ভুবন (বাপৌউ) অশ্ব, গাড়ি, জাহাজ, তরী, বৃক্ষ ও হাতি (বাপৌরূ) পৃথিবী (বাপৌমূ) দেহ।

ব্রজের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি  (Some highly important quotations of flesh)
১.   “বান্ধব নাইরে শ্যাম বিনা, বলন কাঁন্দে ব্রজধামে, দিবস জাগিয়ারে।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; কোথায় রইলারে শ্যাম কালিয়া, পাগল বানাইয়া আমায়, উদাসী করিয়ারে, শ্যাম কালিয়া।”)
২.   “ব্রজের কালার সনে (নিষ্ঠুর কালার সনে), সন্ধ্যাবেলা দেখা হলো মাধবী বনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “ভক্ত কবির জাতে জোলা, শুদ্ধভক্তি মাতোয়ালা, নাম ধরেছে ব্রজের কালা, শুনি সর্বত্র তাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৭/১)(মুখ; ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছেন সাঁই, হিন্দু কী যবন বলে, জাতির বিচার নাই।”)
৪.   “শ্যাম আসিলে নিধুবনে, আয়ান তারে শত্রু জানে, শ্যাম বিনা এ ব্রজধামে, গমনে কী ছাই মিলে।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; সখী জলকে চল জলকে চল, জলকে চল গোকুলে, শ্যামের বাঁশী বাজে বাজেরে, রাধা রাধা বলে।”)

কানাই অর্থে ব্রজপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology flesh sense for leaky)
১.   “কাজ নাই আমার দেখে দশা, ব্রজের যত ভালোবাসা, কেবল সার হলো যাওয়া আসা।” (পবিত্র লালন- ২৭১/১)।২.   “কানাই একবার এ ব্রজের দশা দেখে যারে, তোর মা যশোদা, কিরূপ হালে আছেরে।” (পবিত্র লালন- ২৭২/১)।৩.   “কানাই কার ভাবে তোর, এ ভাব দেখিরে, ব্রজের সে ভাব তো দেখি না রে।” (পবিত্র লালন- ২৭৩/১)।৪.   “গোপীর অনুগত যারা, ব্রজের সে প্রেম জানে তারা, তাদের কামের ঘরে হুড়কা মারা, মরাই মরে ধরায় ধরে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৫/৩)।৫.   “পরণে ছিল পীতধড়া, মাথায় ছিল মহোন-চূড়া, করে বাঁশীরে, দেখি তোমার- করোয়া কোপনি সার, ব্রজের কোথায় রাখলিরে।” (পবিত্র লালন- ২৭৩/২)।৬.   “বাড়াবাড়ি হলে কর্মে, ব্রজঘাটে ধরে যমে, লালন কয় পাষাণগণে, শুনে বৃন্দের ভর্ত্সনা।” (পবিত্র লালন- ৩০৬/৪)।৭.   “ব্রজের সে প্রেমের মর্ম, সবাই কী জানে, শ্যামাঙ্গ গৌরাঙ্গ হলো যে প্রেম সাধনে।” (পবিত্র লালন- ৭০৫/১)

জরায়ু অর্থে ব্রজপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology flesh sense for uterus)
১.   “আর আমায় বলিস না রে সুদাম ব্রজের কথা, যার কারণে পেয়েছিরে ভাই মনে ব্যথা।” (পবিত্র লালন- ১৬৩/১)
২.   “ওগো ব্রজলীলে একি লীলে, কৃষ্ণ গোপীকারে জানালে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/১)
৩.   “কার ভাবে শচীমাতা, মলিন বদন ঔদাস্যতা, লালন বলে ব্রজের কথা, পড়েছে মনের দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৫৬২/৪)
৪.   “কার ভাবে শ্যাম নদেয় এলো, তার ব্রজের ভাব কী অনুসারে ছিল।” (পবিত্র লালন- ২৮০/১)
৫.   “কার্য দ্বারা জ্ঞান হয় যে; অটলচাঁদ নেমেছে ব্রজে, নইলে সে বিষম বিষে, কালীদহে বাঁচতো না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৯/২)
৬.   “কোথায় আমার দয়াল দরদী, ব্রজহরি গোরা গোঁসাই, কোন সাধনে পাব তারে, বিনয় করে জানতে চাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৩)
৭.   “গোপীর অনুগত যারা, ব্রজের সে ভাব জানে তারা, অসাধ্য প্রেম অধর ধরা, গোপীর মনে।” (পবিত্র লালন- ৯৭০/৩)
৮.   “গোপীর অনুগত যারা, ব্রজের সে প্রেম জানে তারা, তাদের কামের ঘরে হুড়কা মারা, মরাই মরে ধরায় ধরে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৫/৩)
৯.   “গোলকের ভাব ত্যাজিয়ে সেসব, প্রভু ব্রজপুরে লয়েছিল যে ভাব, এখন নাই সে ভাব- দেখি নতুন ভাব, এ ভাব বুঝতে কঠিন হলো।” (পবিত্র লালন- ২৮০/২)
১০. “তোমা ছাড়া বলো কেন রাই, সে কারণ্য ব্রজে ভেঁসেছে একাই।” (পবিত্র লালন- ৪৯৭/১)
১১. “ত্রিজগতের চিন্তা শ্রীহরি, রাধার চিন্তায় পড়লেন ব্রজহরি, বড় অসম্ভাব বচন- ভেবে কয় লালন, রাধার দাসখত্বে শ্যাম বিকালে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৪)
১২. “ধন্য ভাব গোপীভাব, আহা মরিমরি, যাতে বাঁধা ব্রজের শ্রীহরি।” (পবিত্র লালন- ৫৫৮/১)
১৩. “প্রভুর যে মত ঐ মত সার, আর যত সব যায় ছারখার, তাইতো; ঘুরি কিবা করি, ব্রজের পথে না পাই দিশে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/২)
১৪. “ব্রজ ছেড়ে নদেয় এলো, তার পূর্বান্তরের খবর ছিল, নদে ছেড়ে কোথায় গেল, যে জানো বলো মোরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৬/২)
১৫. “ব্রজপুরে কোন পথে যায়, বলরে স্বরূপ বলরে ভাই, আমার সঙ্গের সাথী আর কেউ নাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৪/১)
১৬. “ব্রজের নিগূঢ়-তত্ত্ব গোঁসাই, রূপের সব জানালেন তাই, লালন বলে সাধ্য নাই, পারে রসিক মহাশয়।” (পবিত্র লালন- ৭৫০/৪)
১৭. “মহাশূন্যে বিষ্ণু ব্রহ্মাকারা, বারমাসে বয় ত্রিধারা, মিঠা মধু খাইল যারা, তারা ব্রজধামে ব্রহ্মচারী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫০)
১৮. “যাবরে স্বরূপ কোন পথে স্বরূপ আয়রে আয়, এসে আমায় ব্রজের পথ বলে দে।” (পবিত্র লালন- ৮১৭/১)
১৯. “লীলা দেখে কম্পিত ব্রজধাম, রাধার মান ঘুচাতে যোগী হলেন শ্যাম, দুর্জয় মানের দায়- বাঁকা শ্যামরায়, নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৩)
২০. “শ্যামাঙ্গে গৌরাঙ্গ মাখা, নয়ন দুটি বাঁকা, মনে যেন দিচ্ছে দেখা, ব্রজের হরি।” (পবিত্র লালন- ২৩৮/২)
২১. “সে ছেড়ে লোকের আলাপন, একা প্রাণী কোন পথে ভ্রমণ, বনের পশুকে শুধাই- ডেকে ব্রজে যাই, আজ কোন পথে।” (পবিত্র লালন- ৫৬১/৩)

দেহ অর্থে ব্রজপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology flesh sense for body)
১.    “অনেকে কয় অনেক মতে, ঐক্য হয় না মনের সাথে, ও সে ব্রজতত্ত্ব পরমার্থ, ফিরি তাই জানার আশে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৬/৩)
২.   “একবার সে মথুরা ঘুরে, এসেছিল নদেপুরে, ব্রজবাসী কী পূজন, পুজলে, হারালে চায় পেলে নেয় না, ভবজীবের ভ্রান্তি যায় না, লালন কয় দৃষ্ট হয় না এ নরলীলে।” (পবিত্র লালন- ১৬৭/৩)
৩.   “ও না ব্রজে ছিল জলদ কালো, না জানি কী সাধনে গৌর হলো, ফকির লালন বলে চিহৃ কেবল, দুই-নয়নে বাঁকা আছে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/৪)
৪.   “করে কঠোর ব্রত ক্ষীরোদকূলে, কূল ভাসিয়ে দিয়েছ অকূলে, সে কূলে কাঁটা- করলে যে কুলটা, গোপীকুলের যত ব্রজঙ্গনা।” (পবিত্র লালন- ২৬৭/২)
৫.   “কোন প্রেমে সে ব্রজপুরী, বিভোর কিশোর-কিশোরী, কে পাবে গন্ধ তারই, কিঞ্চিৎ ব্যক্ত গোপীর দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৫/২)
৬.   “গোলকের অটলহরি, ব্রজপুরে হয় বংশীধারী, নদীয়া ধামেতে অবতারী, দয়াল বামন রূপে প্রকাশে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৬/২)
৭.   “গৌর-প্রেমের এমনই ধরণ, ব্রজ গোপীর অকৈতব করণ, লালন কয় অবোধ মন, বেড়ায় ঘুরে কুপথে।” (পবিত্র লালন- ৬৪/৫)
৮.   “দাসের প্রতি নিদয় হয়ো না, দাও হে কিঞ্চিৎ প্রেম উপাসনা, ব্রজের জলদ কালো- গৌরাঙ্গ হলো, কোন প্রেম সেধে বাঁকা শ্যামরায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬৫/২)
৯.   “বৃন্দাবনের নাড়ানাড়ী, বেড়ায় ব্রজের বাড়িবাড়ি, যোগাড় করে সেবার কাঁড়ি, শাক চচ্চড়ি ওল ভাতে।” (পবিত্র লালন- ৬৪/৩)
১০. “ব্রজে ছিল কালো ধরণ, নদেয় হলো গৌরবরণ, লালন বলে রাগের করণ, দর্শনে রূপ ঝাঁপিনী।” (পবিত্র লালন- ৭৩৮/৪)
১১. “ব্রজে ছিল জলদ কালো, প্রেম সেধে গৌরাঙ্গ হলো, সে প্রেম কী সামান্য বলো, যে প্রেমের রসিক দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ৬৪৩/৩)
১২. “ব্রজপুরে নন্দের ঘরে, ছিলামরে ভাই কারাগারে, তাইতো; আমি এলাম ছেড়ে, নদীয়ায় এসে পাই দেখা।” (পবিত্র লালন- ৬৬৭/২)
১৩. “ব্রজের ঐ জলদ কালো, যে পরশে গৌর হলো, লালন বলে মনরে চলো, জানতে সে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৮৪৮/৩)
১৪. “সে কালাচাঁদ নদে এসেছে, সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই, ব্রজঙ্গনার কুল নাশে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/১)।১৫. “সে প্রেমের করণ করা, কামের ঘরে নিষ্কামী যারা, নির্হেতু প্রেমে অধর ধরা, ব্রজগোপীর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৯৬৬/২)

নারীদেহ অর্থে ব্রজপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology flesh sense for cake)
১.    “তুমি যাবে কী না যাবে হরি, জানতে এসেছি তাই, ব্রজ হতে তোমায় নিতে, পাঠিয়েছে রাই।” (পবিত্র লালন- ৪৯৫/১)
২.   “বৃন্দাবনের কানাই বলাই, ব্রজধামে গৌর নিতাই, ধরতে গেলে দেয় না ধরা কৃষ্ণ হরি দয়াময়, ব্রহ্মাণ্ড যার ভাণ্ডে রয়, সেকি ভুলে দই চিড়ায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬১/২)
৩.   “ব্রজবাসী এমনই নির্দয়, এসে ভাই এ নদীয়ায়, কী সুখ পেলিরে, লালন বলে আর- এ রাজরাজ্য কার, সব দেখি মিছেরে।” (পবিত্র লালন- ২৭৩/৪)
৪.   “যখন ব্রজবাসী ছিল, ব্রজের সব ভুলাল, সে নাগর নদেয় এলো, এবার কারে না ভুলাবে।” (পবিত্র লালন- ৯৬৪/২)

ব্রজের ওপর ২টি পূর্ণাঙ্গ লালন (Two full Lalon on the flesh)
.                 ওগো ব্রজলীলে একি লীলে,
            কৃষ্ণ গোপীকারে জানালে।

যারে নিজশক্তিতে গঠল নারায়ণ
আবার গুরু বলে ভজলেন তার চরণ
একি ব্যবহার- শুনতে চমৎকার,
জীবের বুঝা ভার ভূমণ্ডলে।

লীলা দেখে কম্পিত ব্রজধাম,
রাধার মান ঘুচাতে যোগী হলেন শ্যাম
দুর্জয় মানের দায়- বাঁকা শ্যামরায়
নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।

ত্রিজগতের চিন্তা শ্রীহরি,
রাধার চিন্তায় পড়লেন ব্রজহরি,
বড় অসম্ভাব বচন- ভেবে কয় লালন
রাধার দাসখত্বে শ্যাম বিকালে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪)

.                 কানাই কার ভাবে তোর,
এ ভাব দেখিরে,
ব্রজের সে ভাব তো দেখি না রে।

পরণে ছিল পীতধড়া,
মাথায় ছিল মহোনচূড়া, করে বাঁশীরে
দেখি তোমার- করোয়া কোপনি সার
ব্রজের কোথায় রাখলিরে।

দাসদাসী ত্যেজিয়া কানাই,
একা ফিরছেরে ভাই,
কাঙাল বেশ ধরে,
ভিখারী হলি- কন্থা সার করলি,
কিসের অভাবেরে।

ব্রজবাসী এমনই নির্দয়,
এসে ভাই এ নদীয়ায়,
কী সুখ পেলিরে,
লালন বলে আর- এ রাজরাজ্য কার
সব দেখি মিছেরে।” (পবিত্র লালন- ২৭৩)

ব্রজের সংজ্ঞা (Definition of flesh)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা ভূমি রূপে বর্ণিত মথুরার নিকটবর্তী একটি গ্রামকে ব্রজ বলে।

ব্রজের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of flesh)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা রূপকার্থে ব্রজ বলে।

ব্রজের প্রকারভেদ (Variations of flesh)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে ব্রজ দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান ব্রজ ও ২. উপমিত ব্রজ।

. উপমান ব্রজ (Analogical flesh)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শ্রীকৃষ্ণের বাল্যভূমি রূপে বর্ণিত মথুরার পার্শ্ববর্তী গ্রামকে উপমান ব্রজ বলে।

. উপমিত ব্রজ (Compared flesh)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জীবের স্থূল আকারকে দেহ বা উপমিত ব্রজ বলে।

(প্র) মথুরা ও তার চারদিক। এ স্থানটি শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি ও মহাতীর্থ স্থান রূপে বিশ্ববিখ্যাত। এ পবিত্র ভূমিতে ১২টি বন, উপবন, প্রতিবন ও অধিবন রয়েছে (পৌরাণিক অভিধান)

ব্রজের পরিচয় (Identity of flesh)
এটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’ এর ‘দেহ’ পরিবারের একটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত; পৌরাণিকসাহিত্যে ব্রজ বলতে মথুরার নিকটবর্তী একটি গ্রাম বুঝালেও শ্বরবিজ্ঞানে ব্রজ বলতে ‘দেহ’, ‘কানাই’ ও ‘জরায়ু’কে বুঝায়। তবে; এখানে; ব্রজ বলতে কেবল দেহকেই বুঝানো হয়েছে। পুরাণ সম্পর্কে না জানা ও না বুঝার কারণেই বাংভারতের লেখক, গবেষক, ব্যৈখ্যিক ও টৈকিকরা এ পরিভাষাটি সম্পর্কে একেকজন একেক কথা বলে থাকেন। পুরাণটি কেবলই উপমিত প্রধান। এ সাহিত্যে ব্যবহার করা হয় উপমানপদ কিন্তু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে হয় উপমিতপদের। এ বিষয়টি যেসব ব্যৈখ্যিক ও টৈকিকরা জানেন না তাদের দ্বারা কৃত সব ব্যাখ্যা ও টীকা মহাধ্বংসকারী ও মহাবিভ্রান্তিকর। ঐসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ পড়েই এ প্রজন্মের অনেক কিশোর-কিশোরী সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সারণীভুক্ত হয়। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির অপব্যাখ্যা মতবাদ ভীরুদের তো উজ্জীবিত করবেই। কেউ সংগ্রামী ব্যাখ্যা করে; আর কেউ নিমন্ত্রণী ব্যাখ্যা করে; কিন্তু আত্মদর্শনমূলক ব্যাখ্যা কেউ করে না।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!