ভক্তি

৬৩/১. ভক্তি
Devotion (ডিভোশন)/ ‘ﺴﺠﺪﺓ’ (সিজদা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বিনয় পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বিনয়। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ভদ্রতা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা মিনতি

অভিধা (Appellation)
ভক্তি (বাপৌরূ)বি প্রণাম, প্রণতি, নম, নমস্কার, নমস্তুতি, আরাধ্যের প্রতি অনুরাগ, মান্যবর ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, devotion, ‘ﺴﺠﺪﺓ’ (সিজদা), ত্বয়াত (.ﻂﺎﻋﺔ) (আল) অনুরাগ, প্রেম, ভালোবাসা (প্রাঅ) শ্রদ্ধা, সম্মান, অভিবাদন (শ্ববি) শ্রদ্ধাবান বিষয়বস্তুর প্রতি শ্রদ্ধা করা; একনিষ্ঠ চিত্তে শুক্রপাতহীনভাবে মৈথুনের দ্বারা সাঁই ও কাঁইয়ের দর্শন লাভ করা (ভাসং) প্রণাম (আসং) সিজদা (.ﺴﺠﺪﻩ) (ইসং) worship (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বিনয় পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ও হিন্দু পারম্পরিকদের একটি সংস্কার বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; কোনকিছু মান্য করাকে বাংলায় ভক্তি বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, প্রণামসহ শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে রূপকার্থে ভক্তি বলা হয় (বাপৌচা) মিনতি (বাপৌরূ) ভক্তি (বাপৌমূ) বিনয়।

ভক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of devotion)
১.   “গুরু রূপে ভক্তি দিয়ে, বসেছে যে যোগ সাধনে, অটল অমূল্যনিধি দেখতে পায় সে নয়নে।” (পবিত্র লালন- ৪১১/১)
২.   “জগৎ ভক্তিতে ভুলালে সাঁই, ভক্তিপদ দাও হে আমায়, যাতে চরণ পাই।” (পবিত্র লালন- ৪৫৫/১)
৩.   “ত্বরিক্ব দিচ্ছে নবি জাহির বাতিনে, যথাযোগ্য লায়েক্ব চেনে, রোজা আর নামাজ- ব্যক্ত এ কাজ, গুপ্তপথ মিলে ভক্তির সন্ধানে।” (পবিত্র লালন- ১৬০/২)(মুখ; আয় গো যাই নবির দীনে, দিনের ডঙ্কা বাজে সদাই মক্কা মদিনে”)
৪.   “বিরজা ফল্গু গয়াধামে, ভক্তি দাও মার চরণ-কোণে, নিরীক্ষ রেখে নয়নে- বৃন্দাবন আর কৈলাশটিলে, মাকে রাখো আদ্যামূলে, মা জননী সাতরাজার সমান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)
৫.   “ভক্ত কবির জাতে জোলা, শুদ্ধভক্তি মাতোয়ালা, নাম ধরেছে ব্রজের কালা, শুনি সর্বত্র তাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৭/২)(মুখ; ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছেন সাঁই, হিন্দু কী যবন বলে, জাতির বিচার নাই।)
৬.   “ভক্তি-জমাদারের হাতে, দু’দিন চোর জিম্মি থাকে, তিনদিনের দিন দেয় সে চালান, আষ্টেপিষ্টে বেঁধে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৮/২)(মুখ; লাগল ধুম প্রেমের থানাতে, মনচোরা পড়েছে ধরা রসিকের হাতে, ও সে ধরেছে চোরকে, হাওয়ায় ফাঁদ পেতে”)
৭.   “ভক্তি না হলে, মাওলার দিদার কী মিলে, মানুষ রূপে দিন দয়াময়, তারে চিনরে সকলে।” (পবিত্র লালন- ৭০৬/১)
৮.   “ভক্তিপদ বঞ্চিত করে, শক্তিপদ দিছো মোরে, যাতে জীব ব্রহ্মাণ্ডে ঘুরে, কাণ্ড তোমার দেখি তাই।” (পবিত্র লালন- ৪৫৫/৩)
৯.   “মেয়ে হয়ে মেয়ের দেশে, ভক্তি সাধন করো বসে, আদি-চন্দ্র রাখ কষে, কখনও তারে ছেড় না, ডুব দিলে প্রেমানন্দে, সুধা পাবে দণ্ডে দণ্ডে, লালন কয় পাপ খণ্ডে, আমার মুক্তি হলো না।” (পবিত্র লালন- ৬৯/৪)।১০. “রামদাস মুচি ভবের পরে, ভক্তির বল উদয় করে, স্বর্গে সদাই ঘণ্টা পড়ে, শুনিসাধুর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৭০৭/৩)(মুখ; ভক্তের দ্বারে বাঁধা আছেন সাঁই, হিন্দু কী যবন বলে, জাতির বিচার নাই।)
১১.  “শুদ্ধভক্তি শুদ্ধ প্রেমেতে হয়রে সাধন, যে প্রেমেতে বন্দী আছে, সহজ-মানুষ রতন।” (পবিত্র লালন- ৮৯২/১)

ভক্তির সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of devotion)
১.   “অনুভবে ভেবে কত করি সার, শ্যামচাঁদের উত্তমচাঁদ আছে কী আর, চাঁদে চাঁদ হরণ- সে বা কেমন, ভক্তিবিহীন লালন বসে ভাবে তাই।” (পবিত্র লালন- ২৭৮/৪)।
২.   “অনুরাগের মাস্তুলেতে, ভাবের বাদাম লাগাও তাতে, লালন কয় জ্ঞান-কুপিতে, বাঁধো ভক্তিডুরি।” (পবিত্র লালন- ৭৭৪/৪)।
৩.   “আমি রায় ক্ষীরোদ রসে, ভক্তির পরীক্ষা দিলে, পায় অনায়াসে, লালন অপদার্থ সে, চরণ ভিক্ষা করে এসে।” (পবিত্র লালন- ৫৯৫/৫)।
৪.   “কৃষ্ণের আনন্দপুরে, লোভি-কামী যেতে নারে, শুদ্ধভক্তি ভক্তের দ্বারে, সে চরণকমল নিকটে যায়।” (পবিত্র লালন- ৭৫০/২)।
৫.   “গুরুকৃপা যার হলো, ফুলের মূল সে চিনল, লালন মহাফেরে পড়ল, ভবের ভক্তিঘটে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৮/৪)।
৬.   “গুরুপদে ভক্তিহীন, হয়ে রইলাম চিরদিন, লালন বলে কী করতে, এলাম ভবে।” (পবিত্র লালন- ২২৯/৪)।
৭.   “গুরুভক্তির তুল্য দিব কী, যে ভক্তিতে সাঁই থাকে রাজি, লালন বলে গুরু রূপে, স্বরূপ-মানুষ ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৪১২/৪)
৮.   “গুরুর চরণ অমূল্য-ধন, বাঁধ ভক্তিরসে, মানবজীবন সফল হয়, গুরুর উপদেশে।” (পবিত্র লালন- ৪০৭/১)
৯.   “গুরুরূপ ধিয়ায় যেজন, অন্তরে রূপ হয় বরিষণ, যে করে প্রেমালিঙ্গন, গুরুভক্তি হয় বিধানে।” (পবিত্র লালন- ৪১১/২)
১০. “জীব মরলে যায় জীবান্তরে, জীবের মুক্তিগতি হয় ভক্তির দ্বারে, জীবের কর্মবন্ধন না হয় খণ্ডন, প্রতিবন্ধন কর্মের ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/১)
১১.  “দয়াল আমি অতি মূর্খমতি, না জানি কোন ভক্তিস্তুতি, লালন বলে করি মিনতি, তুমি বিনা কেউ নাই আমার।” (পবিত্র লালন- ৫১০/৪)
১২.  “দাসের দাস দাসের যোগ্য নয়, কী ভাগ্যেতে এলাম সাধসভায়, ফকির লালন কয়- ভক্তিশূন্য কায়, বুঝি পড়ি কদাচারে।” (পবিত্র লালন- ১৭০/৪)
১৩. “নিজগুণে যা করেন সাঁই, তা বিনা আর ভরসা নাই, যা কিছু মোর- মনের ভক্তি জোর, যেমন মনে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৬/২)
১৪. “পাকাগুরুর সঙ্গ লইয়া, থাকো তার নিরীক্ষে বইয়া, ভক্তি দাও নত হইয়া, গুরুর ঐ রাঙাচরণে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫২)
১৫. “বনের একটা পশু বৈ নয়, ভক্ত হনুমান তারে কয়, কৃষ্ণরূপ সে রামরূপ ধরায়, কেবলি ভক্তির বলে।” (পবিত্র লালন- ৯৬৩/৩)
১৬.  “বাঞ্ছা থাকলে সিদ্ধি মুক্তি, তারে বলে হেতুভক্তি, নির্হেতু ভক্তের রতী, সবেমাত্র দিননাথের পায়।” (পবিত্র লালন- ৭৫০/৩)
১৭. “বৈষ্ণবের ভজন ভালো, তাদের ভক্তি বলও ছিল, ব্রহ্মজ্ঞানী যারা- সদাই বলে তারা, শাক্ত বৈষ্ণবের নাই স্বয়ং পরিচয়।” (পবিত্র লালন- ২৯৪/৩)
১৮. “ভক্তি দিতে নিগূঢ়ঘরে, দুষ্টরা কী যেতে পারে, ঘুরে ফিরে রাস্তায় মরে, সাঁইয়ের দরশন নাহি পায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৪)
১৯.  “ভক্তিতে করলে গো বরণ- পেতে দাও রাঙাচরণ, থাকে না জন্ম-মরণ- মধুময় মিলন ভুবনে, এসমে আজম গোপনে- দাও প্রিয়জন প্রিয়জনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)
২০. “ভক্তি নইলে কী মন, গুরুর চরণ হয় শরণ, ভেবে কয় অধীন লালন, কেমনে শোধব গুরুঋণ।” (পবিত্র লালন- ৪৯৪/৪)
২১.  “ভক্তিপাত্র আগে করো গো নির্ণয়, মুক্তিদাতা এসে যথা বারাম দেয়, নইলে হয় না- প্রেম উপাসনা, মিছে ছল বাড়িয়ে হয় মরণ।” (পবিত্র লালন- ৪৩৭/৩)
২২. “ভাগ্যবান যেজন ছিল, সে তরীতে পার হলো, লালন ঘোর তুফানে পড়ল, ভক্তিঘটে।” (পবিত্র লালন- ৬২৯/৪)
২৩. “মনরে সামান্যে কী তারে পায়, শুদ্ধপ্রেম ভক্তির বশে দয়াময়।” (পবিত্র লালন- ৭৫০/১)
২৪. “মানুষগুরু হয় আকারে- জগৎগুরু রয় নিরাকারে, জ্ঞান দ্বারা ধরো তারে- নিকটে সে দূরে নয়, দমে যায় দমেতে আসে- দিনরজনী ডানে বাঁয় সে, ফাঁদ পাঁতিয়া ধর কষে- ভক্তি দিয়ে উত্তরা বায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)
২৫. “মানুষগুরুর প্রেমপণ্যারে- জগৎগুরু চলেফেরে, ধরতে গেলে যায়রে দূরে- পরমগুরু কাছে রয়- মানুষগুরু হইলে সদয়- জগৎগুরু দেয় পরিচয়, জানতে হয় তা নিরালায়- ভক্তিভজন রেখে ভয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)
২৬. “মুক্তিদাতা আছে অজান, ভক্তিপায়ে সিঁড়ি দেখ বর্তমান, মুখে দিন বলো- সিঁড়ি ধরে চলো, সিঁড়ি ছাড়লে ফাঁকে পড়বি লালন।” (পবিত্র লালন- ৪৩৭/৪)
২৭. “মেঘপানে চাতকের ধ্যান, অন্য জল করে না পান, লালন কয় জগতে প্রমাণ, ভক্তির শ্রেষ্ঠ ভক্তি।” (পবিত্র লালন- ৩১৮/৪)
২৮. “যে জানে চন্দ্র-ভেদের কথা, বলবো কী তার ভক্তির ক্ষমতা, অন্বেষণ করো চাঁদের বারতা, যে চাঁদ কেউ না পায় গণে।” (পবিত্র লালন- ৪৪৩/২)
২৯. “রামদাস মুচির ভক্তিতে, গঙ্গা এলো চামকুঠিতে, এমন সাধন করে কত মহতে, কেবল লালন কূলে কূলে বায়।” (পবিত্র লালন- ৫০/৪)
৩০. “লালন ফকির ভেবে বলে, প্রেমভক্তির নিগূঢ়কথা, যার হৃদয়ে বস্তু নাই, সে খুঁজলে পাবে কোথারে।” (পবিত্র লালন- ২১৯/৪)
৩১. “লাল নিশানে ভক্তি দিয়া, সাত আকাশের দ্বার খুলিয়া, দুই দেবতা আসবে নিয়া, পাইলে রেখ যতনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১)
৩২. “লোহাখসা ঘাই ছিঁড়া জালে, কেমনে ধরবি মাছ আনাড়ি বাইলে, ভক্তির জোরে জাল না দিলে, টান দিলে জাল ওঠে খালি।” (পবিত্র লালন- ৩৩৭/২)
৩৩. “শক্তিপদ ত্যাজিয়ে সদাই, ভক্তিপদে রেখ হৃদয়, শুদ্ধপ্রেম হয় উদয়, সাঁই রাজি যাতে।” (পবিত্র লালন- ৬৬৩/৩)
৩৪. “শক্তিপদ ন্যস্ত কর, ভক্তিপদ শিরে ধর, শক্তিসার তন্ত্র পড়, ঘোর যায় ঘুচে।” (পবিত্র লালন- ৭০৯/৪)
৩৫. “শক্তিপদে ভক্তিহারা, কপটভাবের ভাবুক তারা, মন আমার তেমনি ধারা, যাকে স্মরি রাত্রদিনে।” (পবিত্র লালন- ৩০৪/৪)
৩৬. “শাক্ত শৈব্য বৈরাগ্য ভাব, তাতে যদি হয় চরণলাভ, তবে দয়াময়- কেন সর্বদায়, ভক্তি দায়ে দোষীবে তাই।” (পবিত্র লালন- ১৪৯/২)
৩৭. “শুনেছি সে ত্রেতাযুগে, রাম অবতার ভক্তের লেগে, মহাতীর্থ স্থান যোগে, যুদ্ধে জয় করবে, তুমি গজাসুরকে চরণ দিয়ে, বন্ধু হয়েছে ভক্তিভাবে।” (পবিত্র লালন- ৩৫৮/২)
৩৮. “সাধুর বাজার কী আনন্দময়, অমাবস্যার পর চন্দ্র উদয়, ভক্তি নয়ন যার- চাঁদ দৃষ্ট হয় তাঁর, ভববন্ধন জ্বালা যায় গো দূরে।” (পবিত্র লালন- ১৭০/২)
৩৯. “সামান্য বিচার করো, ভক্তি বিশ্বাস নিয়ে ধরো, অমূল্য-ধন পেতে পারো, তাতে অনায়াসে।” (পবিত্র লালন- ৩২৩/৩)
৪০. “সুধার কথা লোকে বলছে, গুরুর কাছে খবর আছে, জানগা উদ্দিশে, সুধানিধি দেখতে পাবি, ভক্তি দিলে ঐ চরণে।” (পবিত্র লালন- ৪০৪/২)

ভক্তির সংজ্ঞা (Definition of devotion)
১.    বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কোনকিছু মান্য করাকে ভক্তি বলে।
২.   বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সর্বপ্রকার বিনয়কেই ভক্তি বলা হয়।

ভক্তির আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of devotion)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; প্রণামসহ শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে ভক্তি বলে।

ভক্তির প্রকারভেদ (Variations of devotion)
ভক্তি পাঁচ প্রকার। যথা; ১. প্রণতি ২. অভিবাদন ৩. নমস্কার ৪. প্রণাম ও ৫. সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।

. প্রণতি (Inclination)
গুরুজনের সম্মানার্থ শুধু ডান হাত আপন কপাল পর্যন্ত উত্তোলন করে মুখে ‘নমস্কার’, ‘জয়গুরু’ কিংবা ‘গুরুভরসা’ ইত্যাদি শব্দ মুখে উচ্চারণ করে যে অভিবাদন করা হয় তাকে প্রণতি বলে।

. অভিবাদন (Obeisance. ওবেসেন্স)
আপন দুই হস্ত জোড় করে কপাল পর্যন্ত উত্তোলন করে ‘প্রণাম’, ‘নমস্কার’ ‘জয়গুরু’ কিংবা ‘গুরুভরসা’ ইত্যাদি শব্দ মুখে উচ্চারণ করে যে সম্ভাসন করা হয় তাকে অভিবাদন বলে।

. নমস্কার (Bonsoir. বোনসোয়ার)/ (Bonjour. বোনজোয়ার)
গুরুজনের হাত জোড় করে ধরে প্রথমে আপন কপালে স্পর্শ, তারপর; নাসিকায় স্পর্শ, তারপর; করচুম্বন করে সর্বশেষে আপন বক্ষস্পর্শ করানোর দ্বারা যে অভিবাদন করা হয় তাকে নমস্কার বলে।

. প্রণাম (Worship)
হস্ত ও মস্তক দ্বারা গুরুজনের চরণ স্পর্শ করে যে অভিবাদন করা হয় তাকে প্রণাম বলে।

. সাষ্টাঙ্গপ্রণাম (Prostration. প্রসট্রেশন)/ (Kowtow. কাউটাউ)/ (Kotow. কোটাও)
মস্তক, চক্ষু, হাত, বক্ষঃস্থল, জানু ও পা মাটিতে পরিপূর্ণ বিস্তৃত করে ‘প্রণাম’, ‘নমস্কার’, ‘জয়গুরু’ কিংবা ‘গুরুভরসা’ ইত্যাদি বাক্য উচ্চারণসহ একনিষ্টচিত্তে যে অভিবাদন করা হয় তাকে সাষ্টাঙ্গপ্রণাম বলে।

ভক্তির উপকার (Benefits of devotion)
ভক্তি দ্বারা গুরুজনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বর্হিঃপ্রকাশ ঘটে।

ভক্তির পরিচয় (Identity of devotion)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বিনয় পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। কোনকিছু মান্য করাকে ভক্তি বলা হয় অথবা সর্বপ্রকার বিনয়কেই ভক্তি বলা হয়। এছাড়াও; কারো প্রশংসা, গুণগান, গুণকীর্তন ও গুণালাপসহ সব ব্যবহারিক অভিবাদনগুলোকে একত্রে ভক্তি বুঝায়। ব্যবহারিক পঞ্চভক্তি সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোনো বিজ্ঞজনের নিকট হতে বাস্তবশিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।

কোনকিছুকে যথাযথা মান্য করাইকেই ভক্তি বলা হয়। তবে; ভিন্ন ভিন্ন বিষয়াদিকে মান্য করার ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। যে যে বিষয়বস্তু যে যে নিয়মে মান্য করা প্রয়োজন সে সে বিষয়বস্তু সে সে নিয়মে মান্য করাকেই ভক্তি বলা হয়। যেমন; যন্ত্রশিল্পিরা গীতবাদ্যগুলো আরম্ভ করার পূর্বে স্বস্ব যন্ত্রে ডান হাত স্পর্শ করে উক্ত হাতের আঙুল আবার কপালে স্পর্শ করে উক্ত যন্ত্রকে ভক্তি প্রদর্শন করে। এটাকেই যন্ত্রভক্তি বলা হয়। স্নানাগারে প্রবেশ করে বা জলাশয়ে অবতরণ করে কেউ কেউ প্রথমে দুই হাতের তর্জনি আঙুলি জলে ডুবিয়ে, উক্ত ভিজা আঙুলির মাথা কর্ণকুহরে প্রবেশ করিয়ে কর্ণে জল দিয়ে নেন। তারপর; হাতের তালুতে সামান্য জল নিয়ে তা মাথার তালুতে দিয়ে নেন। তারপর; তারা স্নান করে থাকেন এটিও তাদের জলভক্তি। আবার একজন বিপণিক তার বিপণি উন্মোচন করেই আগে পুরো বিপণিতে জল ছিটিয়ে নেন। তারপর; বেচাকেনা আরম্ভ করেন। এটি; তাদের বিপণিভক্তি। এমন অসংখ্য প্রকার ভক্তি রয়েছে। তবে; শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল সাঁইভক্তি ও কাঁইভক্তির প্রাধান্যতাই অধিক লক্ষ্য করা যায়।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!