মধু

৯৬/৫. মধু
Honey (হানি)/      ‘عسل’ (আসালা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা সৃষ্টিকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা মধুচন্দ্রিমা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা কাঁই। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ঘি, নীর, পীযূষ ও শস্য। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অসিত, কালা, কালু, কৃষ্ণ ও ব্রহ্মা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভূ ও হর। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত দুগ্ধ’, ‘শুক্র’, ‘সুধামধু ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তারই উপমান ও ছদ্মনাম পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

অভিধা (Appellation)
মধু (বাপৌউ)বি মউ, মৌ, সুধা, সুরা, মদ, মকন্দর, মিষ্টদ্রব্য, ফুলের মিষ্ট রস, মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে, honey, ‘عسل’ (আসালা) বিণ মধুর মতো স্বাদযুক্ত (শ্ববি) সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা, creator, খালিক্ব (.ﺨﺎﻟﻖ), melanin, ‘ميلانين’ (মিলেনিন) (রূপ্রশ) অনন্ত, ঈশ্বর, বিধাতা, স্বায়ম্ভূ (বাদৈ) কালা, কৃষ্ণ, বিরিঞ্চি, ব্রহ্মা, শ্যাম (ইদে) আল্লাহ (.ﺍﻠﻠﻪ), ইসা (.ﻋﻴﺴﻰٰ), মসিহ (.ﻤﺴﻴﺢ), শাম (.ﺷﺄﻢ), শামস (.ﺸﻤﺲ), শিশ (.ﺸﻴﺶ) (ইংপ) Lord, maker, designer (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে তাকে মধু বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে মধু বলা হয় (বাপৌছ) আদি, সূর্য, স্রষ্টা, স্বায়ম্ভূ ও হর (বাপৌচা) অসিত, কালা, কালু, কৃষ্ণ ও  ব্রহ্মা (বাপৌউ) ঘি, নীর, পীযূষ, মধু ও শস্য (বাপৌরূ) কাঁই (বাপৌমূ) সৃষ্টিকর্তা।

মধু (বাপৌচা)বি বসন্তকাল, চৈত্রমাস, মাধুর্য, মাধুরতা (প্র) বাঙালী পৌরাণিক মহা- দৈত্য বিশেষ (মধুকৈটভ); বিষ্ণু যাকে বধ করেছিলেন (প্রাঅ) শিশ্ন, বাঁড়া, মেঢ়্র, হোল, penis, জকর (.ﺬﻜﺭ) (আঞ্চ) ধন, পোতা, সোনা (শ্ববি) কামদেব, নারদ, বলাই, বিম্বল, মদন, মন্মথ, মহাদেব, মাধব, রাবণ, শিব লাঠি, হাত, পা, গাছ, রশি (ইদে) আসা (.ﻋَﺼَﺎ), জাকারিয়া (.ﺯﻜﺭﻴﺎ), শিমার (.ﺸﻤﺭ), হাবিল (.ﺤﺎﺒﻞ), মারুত (.ﻤﺎﺭﻮﺕ) (ইংপ) finger (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বলাই পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে তাকে মধু বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শিশ্নকে রূপকার্থে মধু বলা হয় (বাপৌছ) কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, মরা ও শ্রীচরণ (বাপৌচা) অনস্থী, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য ও শুক্রাচার্য (বাপৌউ) আঁচল, আঙ্গুল,  খুঁটি, গাছ, চরণ, পদ, বৈঠা, রশি, লাঠি ও হাত (বাপৌরূ) বিম্বল (বাপৌমূ) বলাই।

মধুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of honey)
১.   “কুঞ্জবনে মধুর হাঁড়ি, পায়ের নিচে গড়াগড়ি, মধু খেয়ে উজাড় করি, শূন্যহাঁড়ি যায় ফেলে।” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)
২.   “কোমলকোঠা কারে বলি, কোন মুক্বাম তার কোথায় গলি, কোন সময় পড়ে ফুলি, মধু খায় অলিজনা।” (পবিত্র লালন- ১০৬/২)
৩.   “ভরানদী শূন্য করো- শূন্যনদী জলে ভরো, যা খুশি তা করো- কেহ নাই বাঁধা দিবার, তিনপাড়েতে বার্নিস করা- মধু সুধা জল ত্রিধারা, মধু খায় মদনচোরা- মধুমতি নামটি তার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৬)
৪.   “মধুর দিলদরিয়ায় যেজন ডুবেছে, সে সব খবরের জবর হয়েছে।” (পবিত্র লালন- ৭২৯/১)

মধুর কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of honey)
১.   “ও ভাণ্ডে আছে কত মধু ভরা, পরম্পরার খান্দানে মিশ গা তোরা।” (পবিত্র লালন- ২৫২/১)
২.   “করে কামসাগরে এ কামনা, দান করে মধু কুলবধূ, পেয়েছ কেলেসোনা।” (পবিত্র লালন- ২৬৭/১)
৩.   “কারণ বারির মধ্যে সে ফুল, ভেসে বেড়ায় একূল ওকূল, শ্বেতবরণ এক ভ্রমর ব্যাকুল, সে ফুলের মধুর আশে।” (পবিত্র লালন- ২০০/২)

৪.   “কোথায় তার বৃক্ষ কোথায় ডাল, তরঙ্গে ফুল ভাসছে চিরকাল, কখন এসে অলি- মধু খায় তুলি, লালন কয় চাইতে গেলে দেয় ধূল।” (পবিত্র লালন- ৬০৭/৪)
৫.   “কোন রাগে সে মানুষ, রয় মহারসের ধনী, পদ্মে মধু চন্দ্রে সুধা, জোগায় বসে রাত্রদিনি।” (পবিত্র লালন- ৩৬৭/১)
৬.   “জলের নিচে স্থলপদ্ম, তার নিচে কত মধু, কালোভ্রমর জানে মধুর মর্ম, অন্য কেউ জানে না।” (পবিত্র লালন- ৭২০/৩)
৭.   “পূর্ণ করে ষোল কলা, ভেদ করে সপ্ততলা, তার ওপরে বসে কালা মধু খায়, ষটচক্র পর- আদি-বিধান তার, সেজন মৃণাল ধরে উজান ধায়।” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/৩)
৮.   “ফলে যার অমৃতসুধা, ফুলে মধু প্রফুল্লতা, পান করলে হরে ক্ষুধা, দারিদ্রতা দূরে যায়।” (পবিত্র লালন- ৫৪৫/৩)
৯.   “ফুলে মধু প্রফুল্লতা, ফলে তার অমৃতসুধা, এমন ফুল দিন দুনিয়ায় পয়দা, জানলে দুর্গতি যায়।” (পবিত্র লালন- ২৬০/২)
১০. “ফুলের নামটি নীল লাল জবা, ও তার ফুলে মধু ফলে সুধা, সে ফুলে হয় সাধুসেবা, ও কৃষ্ণ রাধার অলি।” (পবিত্র লালন- ৪৫৪/২)
১১.  “ফুলের নাম নীল লাল জবা, ফুলে মধু ফলে সুধা, বড় কঠিন তার মর্ম বুঝা, সে ফুল তুলতে মদনাবেটা, সদাই ছাড়ে হাই।” (পবিত্র লালন- ৪৫৯/২)
১২. “বলবো কিসে বৃক্ষের কথা, ফুলে মধু ফলে সুধা, এমন বৃক্ষ মানে যেবা, তার বলিহারি জয়।” (পবিত্র লালন- ৮৯৭/৩)
১৩. “মহাশূন্যে কাঁই ব্রহ্মাকারা, বারমাসই বয় ত্রিধারা, মিঠা মধু খাইল যারা, হলো ব্রজধামে ব্রহ্মচারী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫০)
১৪. “মূল ছাড়া এক আজগুবি ফুল, ফুটেছে সে ভবনদীর কূল, চিরদিন এক রসিক বুলবুল, সে ফুলের মধু খায়।” (পবিত্র লালন- ১৭৯/৩)
১৫. “শুদ্ধ প্রেম সাধিলে সাধু, প্রেমকুঠিতে লাগে যাদু, তের মাস খায় সে মধু, ভাঙ্গিয়া সাঁই নিগমকারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৯)
১৬. “সকাল বিকাল জোয়ার ভাটা ত্রিধারাসাগরে, রক্তিম সাদা পাড়ি দিয়া যাইও কালা ধারে, অমৃতসুধা দুগ্ধ মধু যত পারো খাইতে যাদু, বলন কয় সাবধানে সাধু প্রাণ ভরিয়া খাও।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫২)
১৭.  “সকাল সাঁঝে জোয়ার ভাটা, ধারা সুধা মধু লবণকটা, সাধনে নাই কোন ঘটা, ত্রিধারা জল তল ওপরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৪)
১৮. “হাজারী ভ্রমর খাইরে মধু ফাল্গুনে বনে বনে, ফুলের মধু যায় শুকাইয়া সুজন বিহনে, বলন কয় ফুল শুকাইলে, ঝরিয়া যায় বাতাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)
১৯. “সাধন হলে একনিষ্ঠ, সারিবে আঠারোকুষ্ঠ, আপনা আপন হবে দৃষ্ট, প্রেমনদের মধুজলে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২)
২০. “সাধু যারা দেয় না ধরা, উজান ভাটি নির্ণয় করে (ভোলামন মনরে), দ্বি হাওয়ায়, নিরীক্ষে যায়, মধু খায় মধুপুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৯০)
২১. “সেই পঞ্চরস অমৃতসুধার বাণিজ্য মেলায়, দুগ্ধ রতী সুধা মধু কত যে ভেঁসে বেড়ায়, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, ত্রিবেণীর দরজা খুলে, পঞ্চরস নিও তুলে জনমভরি (ও ভোলা মন)।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪১)

শ্রুতিমাধুরতা অর্থে মধুপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology honey sense for melodious)
১.   “অকাজে দিন হলো নিগম, কখন নিবা সে মধুর নাম, বাজার ভাঙ্গলে, পেয়েছিলে মন- দুর্লভ জনম, লালন কয় এ জনম যায় বিফলে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৯/২)
২.   “আগে তো জানি না কোকিল বন্ধু নিঠুরিয়া, মধুর মধুর কথা কইয়া মন নিছে কাড়িয়া, ফাঁকি দিয়া পাষাণ বন্ধু, আমায় গেছে ছাড়ি।” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)
৩.   “আপনদেশের মধুরবাণী, গুরু আমায় শোনাও না, দেশবাসী কয় উল্টাকথা, সোজা করে শোনায় না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)
৪.   “একদিন চরণ থেমেছিল, তাইতো; মন্দাকিনী হলো, পাপহরা সুশীতল, সে মধুর চরণখানি।” (পবিত্র লালন- ৪৫০/২)
৫.   “করে শত জ্ঞান বিতরণ, নিজেরে কয় অবোধ লালন, পড়ে কর সে জ্ঞান অর্জন, সাঁই লালনের মধুরবাণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬১)
৬.   “কালো পাঁঠার মাংস ভালো, দুধ ভালো গাই হলে কালো, আবার দেখ কালো কোকিল, মধুর তানে কুহু কুহু ডাকতেছে।” (পবিত্র লালন- ২৯১/৩)।৭.   “চাঁদ মুখেতে মধুর হাসি, আমি ঐরূপ ভালোবাসি, লোকে করে দ্বেষাদ্বেষি, গৌর বলে যাই চলে।” (পবিত্র লালন- ৬৯৯/৪)
৮.   “প্রেমের মধু জানে সুজন, অনুরাগী করে ঊর্ধ্বদেশে গমন, লালন বলে অজ্ঞানীরা, নিগূঢ়তত্ত্ব জানে না।” (পবিত্র লালন- ৬৪৯/৪)
৯.   “বলো গুরুর নাম বলো, ঐ নামে সুধামাখা, গুরুর নাম বড় মধুরসে মাখা।” (পবিত্র লালন- ৬৮১/১)
১০. “শুনেছি তার মধুরবচন, ভঙ্গি বাঁকা দুটি নয়ন, মন নিছে হরে, লালন কয় বল সজনী, অভাগিনী আমি কী পাব তারে।” (পবিত্র লালন- ১৩৩/২)
১১.  “সখ্য শান্ত দাস্য প্রেমে, বাৎসল্য আর মধুর প্রেমে, পঞ্চতত্ত্ব পঞ্চপ্রেমে, বচ্ছে শতধারা, ঘটা হয়ে মাতোয়ারা, পঞ্চানন খায় ধুতরা, মুখে বলে রাম হরিরাম, ঐ প্রেমের প্রেমিক যারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/২)
১২. “সে প্রেমের ভাব বুঝা ভার, মধুর আলাপে রয় বরাবর, প্রেমে মগ্ন হলে- হৃদয় গলে, লালন বলে দূরে যায় অন্ধকার।” (পবিত্র লালন- ৯৬৭/৪)

আনন্দময় নিশি অর্থে মধুপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology honey sense for joyful night)
১.   “এমন মধুর নিশিতে বান্ধব কেন এলি না, জেগে থাকি তোর আশাতে, নিশি কাটে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)
২.   “জাগ জাগ ও প্রাণনাথ দেখ পূর্ণিমা নিশে, মধুরনিশি যায় বইয়া যায় ঘুমে আলসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)
৩.   “ভাবুক দেখে করে লীলা নিগমে গোপনে, দুইজনে হয় মাখামাখি পাইলে নিধুবনে, বলন কাঁইজি ভাবিয়া কয়, ঐ প্রেমে হয় মধুভাব।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫০)
৪.   “ভক্তিতে করলে গো বরণ- পেতে দাও রাঙাচরণ, থাকে না জন্ম-মরণ- মধুময় মিলন ভুবনে, এসমে আজম গোপনে- দাও প্রিয়জন প্রিয়জনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭১)
৫.   “মধুরনিশি হলো বুঝি বিরহের রজনী, বলনকে করলি বন্ধু উদাসী বিহারিণী, কার বুকে ঘুমাও না জানি, তোর ছলনা বুঝলাম না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)

জরায়ু অর্থে মধুপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology honey sense for uterus)
১.   “কালা মধুপুর বিজনে বসি, রোজ বাজায় বিষের বাঁশী, লীলার লোভে মাসে আসি, প্রেম জাগায় রাধার মনে।” (বলনতত্ত্ব, গীতিকার, বলন কাঁইজি)
২.   “গুরুচাঁদ হলে কাণ্ডারী, উজান বেয়ে যায় সে তরী, মরণের ভয় না করি, বাস করে সে মধুপুরে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২)
৩.   “ডাকতে ডাকতে রাগ ধরবে, হৃদকমল বিকশিত হবে, লালন বলে সে কমলে হবে, মধুরচাক।” (পবিত্র লালন- ৯৭৩/৪)
৪.   “বন্ধুর বাড়ি কল্যাণপুরে, বাস করে মধুপুরে, একদিন দেখলাম না রে, সদাই থাকি তার আশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৪)
৫.   “যুগলচাঁদ উদয় হয়, দ্বিদলপদ্মে রয়, মধুপুর কী মথুরায়, বলন শুধু খায় তলানী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৯)
৬.   “সাঁই মণিপুরে চলেফেরে, মধুপুরে বিহার করে, যারে খুশি তারে মারে, বাঁধা দিবার কেহ নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৭)

কাঁইজি অর্থে মধুপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology honey sense for lordship)
১.   “বেতালা বাউল বাতাসে, পাতালগামী হয় নিমিশে, কেমনে যাই বন্ধুর দেশে, কেমনে হবো মধুকর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩১)
২.   “শম্ভু-বিম্ব নাই যে ফুলে, সেথায় মধুকর কেমনে খেলে, পড় সহজ প্রেমস্কুলে, জ্ঞানের উদয় হলে যাবে ভুল।” (পবিত্র লালন- ২০৬/৩)

মধুর ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Balon on the honey)
কোন্ দিনেতে জোয়ার আসে
ঐ দিনের আশে থাকরে বসে।
গাঙ্গে আসে মধু জোয়ার,
দুই যোগে দুকূল ভাসে তার,
প্রাতঃ সন্ধ্যা করে বিহার,
মধু খা মধুকর সেজে।

ত্রিবেণীর কোন ঘাটে মধু,
সে ভেদ জানে নিষ্ঠাসাধু,
সাধুর নিকট জেনে যাদু,
মধু খারে হাজার মাসে।

শুকনাগাঙ্গে জোয়ারভাটা,
ত্রিমোহনা পিছলঘাটা,
বলন কয় মাথাকাটা,
যাস না মধু খেতে এসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৬)

মধুর সংজ্ঞা (Definition of honey)
সাধারণত; মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে তাকে মধু বলা হয়।

মধুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of honey)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে মধু বলে।

মধুর প্রকারভেদ (Variations of honey)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে মধু দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান মধু ও ২. উপমিত মধু।

. উপমান মধু (Analogical honey)
সাধারণত; মৌমাছি ফুল হতে যে মিষ্টরস আহরণ করে মৌচাকে সঞ্চয় করে রাখে তাকে উপমান মধু বলে।

. উপমিত মধু (Compared honey)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কালোবর্ণের অমৃত মানবজলকে উপমিত মধু বলে।

মধুর পরিচয় (Identity of honey)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সৃষ্টিকর্তা পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। মধুরসের বর্ণনা ও বিবরণ প্রায় সুধারসের মতই। তবে; কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন; মধুরস আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে। এটি; আহরণ করতে প্রায় ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়। এটি; দেখতে কালো ও স্বাদে মধুবৎ মিষ্ট হয়। নিচে সুধা ও মধুর ব্যবহারিক পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো।

সুধা ও মধুর পার্থক্য (Difference between nectar and honey)

সুধা (Nectar) মধু (Honey)
১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত ডাবের জলবৎ সাদা ও সামান্য মিষ্ট মানবজলকে সুধা বলে। ১. মানবদেহ হতে আহরণকৃত কালোবর্ণের ও মধুবৎ মিষ্ট মানবজলকে মধু বলে।
২. শ্বরবিজ্ঞানে; সুধাকে রূপকভাবে সাঁই বা পালনকর্তা বলা হয়। ২. শ্বরবিজ্ঞানে; মধুকে রূপকভাবে কাঁই বা সৃষ্টিকর্তা বলা হয়।
৩. সুধা আহরণ করতে হয় ঊষা প্রহরে। ৩. মধু আহরণ করতে হয় অর্যমা প্রহরে।
৪. সুধা আহরণ করতে সময় লাগে ১০০০ শ্বাস বা ৪২ মিনিট। ৪. মধু আহরণ করতে সময় লাগে ১৫০০ শ্বাস বা ৬৩ মিনিট।
৫. সুধার পরিমাণ হয় এক পোয়া হতে প্রায় এক সের পর্যন্ত। ৫. মধুর পরিমাণ হয় আধা পোয়া হতে এক পোয়া পর্যন্ত।
৬. সুধার বর্ণ কচি ডাবের জলবৎ সাদা। ৬. মধুর বর্ণ পাকাজামের রসবৎ কালো।
৭.  সুধা দর্শনের দ্বারা সাধক- সাঁইজি ও বৈষ্ণব উপাধিতে ভূষিত হন। ৭. মধু দর্শনের দ্বারা সাধক- কাঁইজি ও ব্র‏হ্মচারী উপাধিতে ভূষিত হন।
৮.   এটি; প্রায় রমণী হতেই আহরণ করা যায়। ৮. পদ্মিনিরমণী ব্যতীত পাওয়া যায় না।
৯. এর অবতরণকাল হিন্দুদের কোজাগর ও মুসলমানদের শবেবরাত (ﺸﺑﻰ ﺑﺭﺍﺀﺓ) নামে পরিচিত। ৯. এর অবতরণকাল হিন্দুদের ব্র‏হ্মনিশি ও মুসলমানদের শবেক্বদর (ﺸﺑﻰ ﻘﺪﺭ) নামে পরিচিত।
১০. এর জৈবিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত স্বল্প। ১০. এর জৈবিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত অধিক।

এ পার্থক্যগুলো না জেনে ও না বুঝে অনেক খুষ্কমুষ্কজ্ঞানী গুরু-গোঁসাই সুধা ও মধুকে প্রায় একই অর্থে ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও; আত্মদর্শনের চর্চা, অনুশীলন ও অধ্যয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়াই এ শিল্পে ইতোমধ্যেই অনেক ভাটা পড়েছে। কোটি কোটি সাধু মহতের মধ্যেও দুয়েকজন আত্মজ্ঞানী সাধক বের করা অত্যন্ত দুষ্কর। তারপরও; বাংভারতের সাম্প্রদায়িক মতবাদ প্রবণ বাঙালীরা এখনও অনেক গোঁসাই বা গুরুর নিকট দীক্ষা নিয়েই যাচ্ছেন। এ সুযোগে রীতিমত ব্যবসা করে যাচ্ছে অসৎ মতবাদ ব্যবসায়ীরা।

পরিশেষে আরও বলতে হয় যে সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত মধু পরিভাষাটি দ্বারা কেবল মৌমাছি কর্তৃক সঞ্চিত মধুকে বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। তারা কখন চিন্তাও করেন না যে; শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ‘মধু’ দ্বারা এক প্রকার মানবজলও বুঝায়। এমন ক্ষেত্রে শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ‘মধু’ হলো উপমান এবং মানবজল হলো উপমিত। সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষীদের গোঁড়ামি, মতবাদ অন্ধতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে তারা চিরদিনের জন্যই প্রকৃত মধু হতে বঞ্চিত। এ কারণেই তারা শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত মানবজলরূপ মধুর অভিধা, আহরণ, গুণাগুণ ও সংরক্ষণ কিছুই জানেন না। অন্যদিকে; মরমী সাধক ও মরমী গীতিকাররা কেবল মধুবৎ মানবজলকে মধু ধরেই গীতি, বাণী, গান, কবিতা ও পুরাণ নির্মাণ করেই চলেছেন। এসব কারণে বর্তমানে সাধারণ মানুষ দুভাগে বিভক্ত। একদল সাম্প্রদায়িক ও অন্যদল তাত্ত্বিক বা মুক্তমনা। সারা বিশ্বের শ্বরবিজ্ঞানীগণ শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত মধু পরিভাষাটির দ্বারা মধুবৎ মানবজলকে বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন কিন্তু সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা ঐ একই পরিভাষা দ্বারা মৌমাছির চাকের মধুকে বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। সমাধান রূপে বলা যায় সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে যে মধু পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে, হচ্ছে ও হবে, তা দ্বারা কেবল মধুবৎ মিষ্ট মানবজলকেই বুঝানো হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!