মরা২

৮৯/৩. মরা
Die (ডাই)/ ‘تموت’ (তামুতু)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্রপাত পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শুক্রপাত। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা মৃত্যু। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অপমৃত্যু এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আত্মহত্যা। এ পরিভাষাটি শ্বরবিজ্ঞানের বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত শুক্রধর’, ‘শুক্রপাত’, ‘শুক্রপাতকারী’, ‘কানাই’, ‘বলাই’, ‘অজ্ঞতাপ্রয়াণ ইত্যাদি বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তারই রূপক, উপমান ও ছদ্মনাম পরিভাষা রূপে ব্যবহৃত হয়। এজন্য; বর্ণনার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর সঠিক দেহতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি উদ্ঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন।

মরা পরিভাষাযুক্ত মূলক সত্তাগুলোর সংক্ষিপ্ত সারণী (Short table of the die terminology radical entities)

মূলক রূপক উপমান চারিত্রিক ছদ্মনাম
শুক্রধর অটল ঊর্ধ্বরেতা, ডুবুরী ও স্বাধীন ঋভু, ডুবুরী ও সম্রাট নির্বাণ, মরা ও স্তম্ভন
শুক্রপাত মৃত্যু অপমৃত্যু ও আত্মহত্যা মরা
শুক্রপাতকারী কাপুরুষ টল মরা
কানাই রজকিনী অন্ধকূপ, করঙ্গ, গোকুল, চিতা, চুলা, পাখি ও প্রস্তর        অনন্ত, কবন্ধ, ধন্বন্তরী, বরুণ, বৃত্র, মাধাই ও হিবাচী কলাপী, কালনাগিনী, দস্যু, দানব, ব্রজপুর, মরা ও রাক্ষস
বলাই বিম্বল আঁচল, খুঁটি, গাছ, চরণ, বৈঠা, লাঠি ও হাত অনস্থী, আঙ্গুল, কর্ণ, জগাই, জনক, দৈত্য ও শুক্রাচার্য কামগুরু, কিরীটী, বণিক, বাবা, বামন, মরা ও শ্রীচরণ
প্রয়াণ তিরোধান লোকান্তর মরা

মরা পরিভাষাগুলোর সংক্ষিপ্ত সারণী (Short table of die terminologies)

বাংলা ইংরেজি আরবি মূলক
মরা Immune (ইমিউন) ‘منيع’ (মানিয়া) শুক্রধর
মরা Die (ডাই) ‘تموت’ (তুমাওতু) শুক্রপাত
মরা Slain (স্লেইন) ‘قتيل’ (ক্বাতিল) শুক্রপাতকারী
মরা Dead (ডেড) ‘الميت’ আলমাইয়্যিত) কানাই
মরা Died (ডাইড) ‘توفي’ (তুফিয়া) বলাই
মরা Death (ডেথ) ‘موت’ (মাওয়াতা) প্রয়াণ

অভিধা (Appellation)
মরা (বাপৌচা)ক্রি দেহত্যাগ করা, বিনষ্ট হওয়া, মানসিক কষ্ট পাওয়া, মজে যাওয়া, হ্রাস পাওয়া, নির্জীব হওয়া, লুপ্ত হওয়া, প্রেমে আত্মবিস্মৃত হওয়া, নষ্ট হওয়া, die, ‘تموت’ (তামুতু) (ব্য্য) শ্বরবিজ্ঞানে; ১৮ প্রকার মরার সন্ধান পাওয়া যায় (শ্ববি) শুক্রপাত, বীর্যপাত, semenpass, spermpass, ইনজাল (.ﺍﻧﺯﺍﻞ), ইমাউ (.ﺍﻤﺎﺀ) (রূপ্রশ) খণ্ডপ্রলয়, মরণ (ইংপ) suicide, crucifixion (ইপ) ওফাত (.ﻮﻔﺎﺓ), ক্বতল (.ﻘﺘﻝ), জবহ (.ﺬﺒﺢ), ত্বালাক্ব (.ﻄﻼﻖ), মওত (.ﻤﻭﺕ), যিনা (.ﺯﻧﻰٰ), ফোত (.ﻔﻮﺖ) ক্রি ক্বিয়ামত (.ﻘﻴﺎﻤﺔ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্রপাত পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা). সাধারণত; সর্বপ্রকার পতনকে মরা বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; শুক্রপাত করাকে রূপকার্থে মরা বলা হয় (বাপৌছ) আত্মহত্যা (বাপৌচা) মরা (বাপৌউ) অপমৃত্যু (বাপৌরূ) মৃত্যু (বাপৌমূ) শুক্রপাত।

মরার ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of die)
১.   “আপনস্বামী রেখে ঘরে- পরপুরুষের সঙ্গ করে, বাহুঠুকে করে পোদ্দারি- বলন কয় মরার ভয়ে- সাধুরা যায় মেয়ে হয়ে, আকাশে বায় সোনারতরী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩০)(মুখ; তিনশত ষাটটি বিয়ের পরও, কন্যা থাকে বাপের বাড়ি, সত্য করে কও গোঁসাই গো, কেমন সেই সুন্দরী”)
২.   “ঘরে ঘরে পতিতালয়, যার পতিতা তার সঙ্গে রয়, কেউ করে না মরণের ভয়, তারে নিয়ে ঢোলাঢোলী।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “বাপ্পুতে একঘাটে মরে, কপালটারে দোষী করে, বলন কয় বিনয় করে, দেখ ভুলের নথি খুলি।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৪.   “ভজ মানুষের চরণ দুটি, নিত্যবস্তু পাবি খাঁটি, মরলে সব হয় মাটি, ত্বরায় এ ভেদ লও জেনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/২)
৫.   “মায়ের পরে যে বড়াই করে, যেমন আগুনে পতঙ্গ মরে, দোষ কী আগুনে করে- বলন কয় যে অধিক নড়েচড়ে, নিজের মরা নিজেই মরে, শেষে সংসারে কুড়ায় দুর্ণাম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৫১)(মুখ; মা করে লালনপালন মা মারে সন্তানের প্রাণ, প্রণাম জননীর চরণে প্রণাম”)
৬.   “লালন সাঁইজি ভেবে বলে, মাকে ছুঁলে মরে ছেলে, এ তিন কথার অর্থ নইলে, তার হয় না ফকিরি।” (পবিত্র লালন- ৪৪০/৪)(মুখ; চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করব কী, ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তাকে তোমরা বলো কী”)

মরার কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of die)
১.   “আঁধার ঘরেতে সর্প ধরা, ভূতের মত খেটে মরা, ছোবলের ভয় থাকে ভরা, শেষে মরে কাল দংশনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪)
২.   “পরধনে পোদ্দারি কর, নিজের মরা নিজে মর, আপনভূমি পতীত কর, লাঙ্গলে যাও অন্য মাঠে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৫)
৩.   “মরে যদি ভেসে ওঠে, সে মরা বেড়ায় ঘাটে ঘাটে, কেউ কেউ ডুবে শ্রীপাটে, বিধির অধিকার ত্যাগেরে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৫/৩)
৪.   “ভূতের বাড়ি নিমন্ত্রণে গুরু মরাগরু খেয়েছে, তার উল্টাপাল্টা কথায় বুঝি ভুতে পেয়েছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৬)
৫.   “সাদা চাঁদ আলো যোগায়, কালো চাঁদ আঁধার ঘুচায়, ভয় রহে না ঝরে মরায়, যুগল চাঁদ প্রতি মাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮১)

মরার ওপর ১টি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the die)
ভুলে খেলি ভুলের গুলি
ভুলে মরণ ভুলে জনম
ভুলে রলি পেট ফুলি।

মরার সঙ্গে ব্যভিচার দায়
ধরা পড়ে করো হায়ঃ হায়ঃ
যার মরা তারই গলায়
কেউ দেয় না রশি খুলি।

ঘরে ঘরে পতিতালয়
যার পতিতা তার সঙ্গে রয়
কেউ করে না মরণের ভয়
তারে নিয়ে ঢোলাঢোলী।

বাপ্পুতে একঘাটে মরে
কপালটারে দোষী করে
বলন কয় বিনয় করে
দেখ ভুলের নথি খুলি।” (বলন তত্ত্বাবলী)

শুক্রধর অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology ‘die’ sense for semen defender)
১.   “জিন্দামরার বসন পরা, আপন শ্রাদ্ধ আপনি সারা, অপরিপু ধ্বংস করা, এত অসম্ভব করণি।” (পবিত্র লালন- ৩৩১/২)(মুখ; কে তোমারে এ বেশভূষণ, পরাল বলো শুনি, জিন্দাদেহে মুর্দার বসন, খিরকা তাজ আর ডোর কোপনি”)
২.   “ত্রিমণিধর কালনাগিনী, সদাই থাকে ফণী ধরা, বলন কয় মৎস্য মিলে, সাধুর কাছে জানলে মরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৮)(মুখ; মরে দেখরে কঠিন মরা, সর্প উদরে মৎস্য ধরা”)
৩.   “মজবি যদি কালার পিরিতি, আগে জানগে তার কেমন রীতি, উত্তমপ্রেম করা নয় প্রাণে মরা, অনুমানে বুঝিয়েছে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/২)(মুখ; সে কালাচাঁদ নদে এসেছে, সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই, ব্রজঙ্গনার কুল নাশে”)
৪.   “মরণের আগে যে মরে, শমনে ছোঁবে না তারে, শুনেছি সাধুর দ্বারে, তাই বুঝি করেছ ধনী।” (পবিত্র লালন- ৩৩১/৩)(মুখ; কে তোমারে এ বেশভূষণ, পরাল বলো শুনি, জিন্দাদেহে মুর্দার বসন, খিরকা তাজ আর ডোর কোপনি”)
৫.   “সেজেছ সাজ ভালোই তরো, মরে যদি বাঁচতে পারো, লালন বলে যদি ফিরো, দু’কূল হয় অপমানি।” (পবিত্র লালন- ৩৩১/৪)(মুখ; কে তোমারে এ বেশভূষণ, পরাল বলো শুনি, জিন্দাদেহে মুর্দার বসন, খিরকা তাজ আর ডোর কোপনি”)

শুক্রপাতকারী অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology ‘die’ sense for ejaculatory)
১.   “জগৎ বড় হাস্যময়, মরা করে মরণের ভয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১২)
২.   “মরা পেলে আহার কর জীয়ন্তের কাছে আস না, তাইতো; আমি জন্ম অন্ধ দুঃখ-দশা ঘুচল না, তোমার শ্রীচরণ বিনা, মানবজনম হয় মিছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭১)
৩.   “সে গাছে বসে মরা, সাঁই দরদী বলছে তারা, ফকির লালন বলে গোরা, তার সুধা খেলে মরা বাঁচে।” (পবিত্র লালন- ৪৯১/৪)
৪.   “সে পথেতে তিনটি মরা, জ্যান্ত-মানুষ খাচ্ছে তারা, লালন বলে মরার মরা, খেলছে খেলা তার সাথে।” (পবিত্র লালন- ২৩৩/৪)

কানাই অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology ‘die’ sense for leaky)
১.   “মন যারে যা স্বরূপদেশে, সেথা তাজা খায় মরা লাশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪০)
২.   “লালন ফকির ভাবে বসে, মরার ঘাটে মরা ভাসে, মরায় কত জিন্দা নাশে, মরায় মরা খায়।” (পবিত্র লালন- ৬৮৪/৪)(মুখ; বাঁজা নারীর ছেলে মরল, একি হলো দায়, মরা ছেলের কান্না দেখে, মোল্লাজি ডরায়”)

—————————————————————————————

১.   “এক মরা ছয়গোরু খায়, এক মরা খিড়কি আটায়, তাজা খায়রে আরেক মরায়, মরিলে ডুবে না ভরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬২)
২.   “একমরা নাই তার জীবন, পেটের মধ্যে জ্যান্ত একজন, সাধকেরা সাধে যখন, ডাকলে মরা কথা কয়।” (পবিত্র লালন- ৯২৩/৩)
৩.   “প্রেমনদীতে ভেসে যায় প্রেমের মরী, লালন কয় মরার সাথে করো আড়ি, প্রেমের শকুন হয়ে- মরিটা ফেলাও খেয়ে, সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)
৪.   “মরাগৌর স্বয়ং কারে, কী শিক্ষায় বলি, গৌর বলে হরি বলতে, শুনতে পাই সকলি।” (পবিত্র লালন- ৭৬৮/১)
৫.   “রুকু সিজদা তুলে দেখ, সামনে মরার বাড়ি, কেমন করে সারবিরে নামাজ পড়ি।” (পবিত্র লালন- ৮৭৩/১)

বলাই অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার  (Using the terminology ‘die’ sense for extender)
১.   “এক মরা ছয়গোরু খায়, এক মরা খিড়কি আটায়, তাজা খায়রে আরেক মরায়, মরিলে ডুবে না ভরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬২)
২.   “বাঁজা নারীর ছেলে মরল, একি হলো দায়, মরা ছেলের কান্না দেখে, মোল্লাজি ডরায়।” (পবিত্র লালন- ৬৮৪/১)
৩.   “লালন সাঁইজি ভেবে বলে, মাকে ছুঁলে মরে ছেলে, এ তিন কথার অর্থ নইলে, তার হয় না ফকিরি।” (পবিত্র লালন- ৪৪০/৪)(মুখ; চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করব কী, ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তাকে তোমরা বলো কী”)

প্রয়াণ অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology ‘die’ sense for decease)
১.   “মরলে পাব বেহেস্তখানা, তা শুনতে মন মানে না, বাকির লোভে নগদ পাওনা, কে ছাড়ে এ ভুবনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/৩)
২.   “মরলে ঈশ্বরপ্রাপ্ত হয় কেন বলে, সে কথার পাই না বিচার, কারো কাছে শুধালে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৬/১)
৩.   “মরলে ঈশ্বপ্রাপ্তি হয়, সেতো কথার কথা, জীবন থাকতে তারে পাওয়া যায় না, কে বলে এমন কথা।” (পবিত্র লালন- ৭৬৭/১)
৪.   “মরলে যদি হয় ঈশ্বরপ্রাপ্ত, সাধু অসাধু সমস্ত, তবে কেন জপ তপ এত, করেরে জলেস্থলে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৬/২)
৫.   “যে পঞ্চে পঞ্চভূত হয়, মরলে তা যদি তাতে মিশায়, ঈশ্বর অংশ ঈশ্বরে যায়, স্বর্গ নরক কার মিলে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৬/৩)

অজ্ঞতা অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology ‘die’ sense for ignorance)
১.   “জোয়ারে আইসা বান্ধব জোয়ারে যায় ভাসিয়া, মনের-মানুষ ফেলিয়া রইলে মরার ঘুমে ঘুমাইয়া, ভাঙ্গাঘরে চন্দ্র উদয়, দিবসে প্রতি মাসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)
২.   “হলো না ভজন-সাধনা, মরাগাছে ফুল ফুটল না, বলন কয় হয়রে জানা, জানলে পরে নাকের দম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৮)

সন্তান অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology ‘die’ sense for progeny)
১.   “এক জীবনে কয়বার মরে, দেখে না গণনা করে, তবুও; সে মরার ডরে, ঘুরে কত আস্তানায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১২)
২.   “ভূতের বাড়ি নিমন্ত্রণে গুরু মরাগরু খেয়েছে, তার উল্টাপাল্টা কথায় বুঝি ভুতে পেয়েছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৬)
৩.   “মরার সঙ্গে ব্যভিচার দায়, ধরা পড়ে করো হায়ঃ হায়ঃ, যার মরা তারই গলায়, কেউ দেয় না রশি খুলি।” (বলন তত্ত্বাবলী)

সাধারণ প্রত্যয় অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology ‘die’ sense for ordinary suffix)
১.   “চক্ষু আছে না দেখে, আবার তিনমরা একত্রে থাকে, মুখ দিয়ে সে পরের মুখে, মর্মের কথা কয়।” (পবিত্র লালন- ৯২৩/২)
২.   “বুঝ না মন তীর্থ করা, এত মিছামিছি হেঁটে মরা, পেড়োর কাজ পিঁড়েই সারা, নিষ্ঠা- না হয় মন যদ্যপি।” (পবিত্র লালন- ৪৩৩/৩)

জড়িত অর্থে মরাপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology ‘die’ sense for ordinary Involved)
১.   “চণ্ডীদাস রজকিনী, তারাই প্রেমে ধন্য শুনি, এমন প্রেম করে কোনজনা, এক মরণে দু’জন মরে, এমন মরা মরে কয়জনা।” (পবিত্র লালন- ৮৫৮/৩)
২.   “প্রেম পিরিতির এমনই ধারা, এক প্রেমে দু’জন মরা, ধর্মাধর্ম চায় না তারা, লালন বলে প্রেমের রীতি তাই।” (পবিত্র লালন- ৬৪৩/৪)

মরার সংজ্ঞা (Definition of die) সাধারণত; সর্বপ্রকার পতনকে মরা বলে।

মরার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of die)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শুক্রপাত করাকে মরা বলে।

মরার প্রকারভেদ (Variations of die)
শ্বরবিজ্ঞানে; বিভিন্ন অর্থে মৃত্যু/ মরা পরিভাষাটির ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। যথা; ১. প্রয়াণ ২. ঘুম ৩. অজ্ঞতা ৪. দীক্ষাগ্রহণ ৫. পাণিগ্রহণ ৬. অখণ্ডতা ৭. শুক্রধর (অটল) ৮. শুক্রপাত ৯. সন্তান ১০. সন্তানগ্রহণ ১১. যোনি ১২. শিশ্ন ১৩. বৈরাগ্য ১৪. সংযম ১৫. শব ১৬. পরিত্যক্ত ১৭. শুকানো ও ১৮. বিপদগ্রস্থ। ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত ‘মরা’ পরিভাষাটির কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেখানো হলো।

. প্রয়াণ (দেহত্যাগ) (Death)
মরলে পাব বেহেস্তখানা, তা শুনতে মন মানে না, বাকির লোভে নগদ পাওনা, কে ছাড়ে এ ভুবনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/৩)

. ঘুম (Sleep)
“শুয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মরে সারা (বলন)।”

. অজ্ঞতা (Ignorance)
“তেমাথা রাস্তায় বসে কাপুরুষ পাইলে ধরে, জলের চুলায় মরামাথা বাতাসে রান্না করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৬)

. দীক্ষাগ্রহণ (Initiation)
১.    “মরার আগে মরা।”
২.   “মরার আগে মরতে পারে, বাঘ টাগে কী করতে পারে, সে মরা কী আবার মরে, মরলে সে অমর হয়।” (পবিত্র লালন- ১১০/৩)

. পাণিগ্রহণ (Marriage)
“গত এক ফাল্গুন মরেছে (বিবাহ করেছে) (বলন)।”

. অখণ্ডতা (Integrity)
“মরেছিল সাঁইজি লালন, পাই না তাঁর পুনর্জনম, এমন মরা মরে কয়জন, স্বেচ্ছা ঝুলে ফাঁসিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)

. শুক্রধর (অটল) (Spermatic/ Semen defender)
মরতে পারলে ধরতে পারা যায়, মুখের কথা না।” (পবিত্র লালন- ৩৯০/৩)

. শুক্রপাত (Ejaculation)
“ভজো মানুষের চরণ দুটি, নিত্যবস্তু হবে খাঁটি, মরলে হবে সব মাটি, ত্বরায় এভেদ লও জেনে।” (পবিত্র লালন- ৯২৮/২)

. সন্তান (Progeny)
মরাকে আর মারবি কত, বেন্ধে যমরশিতে, যমের কী আর সাধ্য আছে আবার তারে মারিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)।”

১০. সন্তানগ্রহণ (Annexation/ Taking offspring)
“এক জীবনে কয়বার মরে, দেখে না গণনা করে (বলন)।”

১১. যোনি (Acephalous/ Comet)
মরায় মরা গিলা (বলন)।”

১২. শিশ্ন (Penis)
“বাঁজা নারীর ছেলে মরল, একি হলো দায়, মরা ছেলের কান্না দেখে, মোল্লাজি ডরায়।” (পবিত্র লালন- ৬৮৪/১)

১৩. বৈরাগ্য (Dispassion)
মরার আগে কেউ স্বাধীন হয় না (বলন)।”

১৪. সংযম (Restraint)
“মরণের আগেতে মরা, আপন মন বলিদান করা, প্রাণ অপেক্ষা যে পিয়ারা, তারে কী বুঝায় শরায়।” (পবিত্র লালন- ২৮৭/৩)

১৫. শব (Corpse)
মরা ছাগল পথের পাশে পড়ে আছে (বলন)।”

১৬. পরিত্যক্ত (Rejected)
“তিনজন মরেছে বা (Out) হয়েছে (বলন)।”

১৭. শুকানো (Arid)
মরা গাছ।”

১৮. বিপদগ্রস্থ (Imperil)
মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।”

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মরা দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান মরা ও ২. উপমিত মরা।

. উপমান মরা (Analogical die)
সাধারণত; সর্বপ্রকার পতনকে উপমান মরা বলে।

. উপমিত মরা (Compared die)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শুক্রপাত করাকে উপমিত মরা বলে।

মরার পরিচয় (Identity of die)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্রপাত পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। শ্বরবিজ্ঞানে; অনেক প্রকার মরার সন্ধান পাওয়া যায়। তবে; এখানে; মরা বলতে কেবল শুক্রপাত করাকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন; প্রয়াণলাভ করলে মড়কের মধ্যে জৈবিক বৈশিষ্ট্য থাকে না; তেমনই; শুক্রপাত করার পর শিশ্নেরও সাময়িক জৈবিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায় না। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে; শুক্রপাতকে মরার সাথে তুলনা করা হয়। অথচ মজার বিষয় হলো বিশ্বের প্রায় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী-বক্তারা মরা বা মরা পরিভাষাটির দ্বারা সর্বদা প্রয়াণ, তিরোধান বা লোকান্তর অর্থ গ্রহণ করে থাকেন। এজন্য; বিশ্ববিখ্যাত সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকার মূলশিক্ষা চরমভাবে ব্যহত ও বিঘ্নিত হয়েছে এবং হচ্ছে। সেজন্য; এখন ইচ্ছা করলেও কোনো গবেষক সহজে এতগুলো পরিভাষার মহাবিভ্রান্তিকর অভিধা সংশোধন করে শ্বরবিজ্ঞানের প্রকৃতশিক্ষা সমাজে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। মূল অভিধা হারানো এসব বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনেক সময় ও অনেক সাহসের প্রয়োজন। মরা ও প্রয়াণের মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে তা সাম্প্রদায়িক মনীষী, পাঠক ও শ্রোতারা আজও অনুধাবন করতে সক্ষম হয়ে ওঠেন নি।

সাধারণ দৃষ্টিতে মরা ও তিরোধান একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে; মরা ও তিরোধানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। নিচে মরা ও প্রয়াণের মধ্যের পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো।

মরা ও প্রয়াণের পার্থক্য (The difference between die and death)

মরা প্রয়াণ
১. শ্বরবিজ্ঞানে; অজ্ঞতা, ঘুম ও শুক্রপাতকে মরা বলে। ১. জীবদেহের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব›দ্ধ হওয়াকে জীবের প্রয়াণ বলে।
২. অসংখ্যবার জীবের মৃত্যু সংঘটিত হয়। ২. প্রত্যেকটি জীবের প্রয়াণ মাত্র একবার হয়।
৩. মরার পর পুনঃপুন জীবের পুনরুত্থান হতে থাকে। ৩. প্রয়াণের পর আর জীবের পুনরুত্থান হয় না।
৪. সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে মরা নিয়ে অনেক পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। ৪. সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে প্রয়াণ নিয়ে তেমন আলোচনা নেই।
৫.  নর ব্যতীত নারীদের এ মরা নেই। ৫. নর-নারী উভয়েরই অবশ্যই প্রয়াণ রয়েছে।
৬. এটি; ১৮ প্রকার (মরা দেখুন)। ৬. এর কোনো প্রকারভেদ নেই।

স্মরণিকা (Memoriam)
মরার অভিধা শুক্রপাত নিলে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে বর্ণিত মরণোত্তর সর্বপ্রকার শাস্তি ও অশান্তি বুঝে পাওয়া অত্যন্ত সহজ হয়। কিন্তু মরা অর্থ প্রায়াণ গ্রহণ করলে কিছুই পাওয়া যায় না। উল্টো বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যাকে নির্মমভাবে পদদলিত করা হয়। পক্ষান্তরে; মাত্র একটি মরা অর্থ প্রয়াণ। উল্লেখ্য যে; সাধারণত; প্রয়াণ অভিধাধারী মরা শ্বরবিজ্ঞানে কখনই ব্যবহৃত হয় না। সেজন্য; বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের প্রায় মরার প্রকৃতমূলক হবে শুক্রপাত। মুসলমানদের শ্বরবিজ্ঞানের বিষয়টিও প্রায় একই। অর্থাৎ; আরবীয় শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত ‘ﻤﻴﺖ’ (মায়্যিত), ইনজাল (.ﺍﻧﺯﺍﻞ), ইমাউ (.ﺍﻤﺎﺀ) ওফাত (.ﻮﻔﺎﺓ), ক্বতল (.ﻘﺘﻝ), জবহ (.ﺬﺒﺢ), ত্বালাক্ব (.ﻄﻼﻖ), মওত (.ﻤﻭﺕ), যিনা (.ﺯﻧﻰٰ), ফোত (.ﻔﻮﺖ) ও ক্বিয়ামত (.ﻘﻴﺎﻤﺔ) এসব পরিভাষার উপমিত অভিধা হচ্ছে কেবলই শুক্রপাত। তাদৃশ ইংরেজি শ্বরবিজ্ঞানে; dead, semenpass, spermpass, suicide ও crucifixion  ইত্যাদি পরিভাষার উপমিত অভিধা হচ্ছে শুক্রপাত।

বাংভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকরা যেসব সংস্কৃত আরবি ফার্সি হিন্দি ও উর্দু পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে তার অধিকাংশই ভুল। এ উপমহাদেশে আজ পর্যন্ত বাংলা ভাষায় কোনো অনন্য পুরাণ নির্মিত হয় নি। ‘মেঘনাথ বধ’, ‘মহাশ্মশান’, ‘বিষাদসিন্ধু’ ও ‘লালন’ এসব অনন্য গ্রন্থ নয়। কারণ; ‘মেঘনাথ বধ’ রামায়ণের সীতা উদ্ধার পর্বের ওপর নির্মিত। ‘মহাশ্মশান’ ও ‘বিষাদসিন্ধু’ কারবালা উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ‘লালন’ হিন্দুদের বৈষ্ণব, মুসলমানদের বাউল ও বৌদ্ধদের সহজিয়া মতবাদের ওপর নির্মিত। এজন্য; এসব অনন্য গ্রন্থ নয়। আজ পর্যন্ত বাংলা ভাষায় অনন্য পুরাণ নির্মিত হয় নি বলেই বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষার দিক দিয়ে বাংলা ভাষা আজও সমৃদ্ধ হয় নি। তাই; বাংলা ভাষায় তেমন কোনো বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা নেই। বঙ্গদেশে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে যেসব বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ব্যবহার করা হয় তা সবই বিদেশী। যেমন; লক্ষ্মী, দুর্গা, ফাতিমা ও হাজিরা ইত্যাদি।

অন্ন বস্ত্র শিক্ষা চিকিৎসা ও বাসস্থান এমন মৌলিক চাহিদার মতোই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক মতবাদ। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ একটি না একটি সাম্প্রদায়িক মতবাদ পছন্দ করে। বাঙালীরাও এ সূত্রের বাইরে নয়। তাই; শ্বরবিজ্ঞানের অপার চাহিদার প্রতি লক্ষ্য করে যুগে যুগে অনুবাদক মনীষীগণ অন্যান্য ভাষা হতে কিছু কিছু পুরাণ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। যেমন; বেদ, রামায়ণ, মহাভারত, গীতা ও পুরাণ প্রথমে সস্কৃত ভাষায় নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে এসব বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। তাদৃশ ত্রিপিটক এর অধীন গ্রন্থ বিনয়, সূত্ত ও অভিধম্ম প্রথমে পালি ভাষায় নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে এসব বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। তাদৃশ তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, হাদিস, ফেকা ও তাফসির প্রথমে আরবি, ফার্সি, হিব্রু ও সুরিয়ানি ভাষায় নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে এসব বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। এসব পুস্তক-পুস্তিকার ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদক কেউই আত্মতাত্ত্কি ছিলেন না। সেজন্য; তাদের ব্যাখ্যা, টীকা, অভিধান ও অনুবাদ একটিও দেহতাত্ত্বিক বা আত্মদর্শনমূলক নয়। তাই; এসব ব্যাখ্যা, টীকা, অভিধান ও অনুবাদ পড়ে ঐসব মহা গ্রন্থাদির প্রকৃতশিক্ষা উদ্ঘাটন করাও সম্ভব নয়। কারণ; কথায় বলে “কামারের কাজ কুমার দ্বারা হয় না।”

অন্যদিকে; নিজ নিজ ভাষার ক্ষেত্রেও সাম্প্রদায়িক ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা ঐ একি কাজ করেছেন। যেমন; কাণ্ড হচ্ছে লালন, বলন ও জালালের ব্যাপারে। লালন, বলন ও জালাল বাংলা ভাষায় নির্মিত। তবুও; উচ্চ মার্গের এসব ঐশিবাণীর ব্যাখ্যা, টীকা, অভিধান ও অনুবাদ প্রায় নব্বই শতাংশই ভুল। কারণ; সাম্প্রদায়িক ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা কেউই আত্মদর্শন জানে না। আত্ম অহমিকা ও আত্মঅহংকারী, পশুত্বের দাসত্বকারী এসব মনীষী আত্মদর্শন ও পরম্পরাদর্শন জানতে ও বুঝতে তো চায়ই না। এমনকি; অনেকে আত্মদর্শন পছন্দই করে না। কিন্তু ঐ নির্লজ্জরাই আবার আত্মদর্শনমূলক বিশ্ববিখ্যাত মহা গ্রন্থাদির ব্যাখ্যা, টীকা, অভিধান ও অনুবাদ নির্মাণ করতে ব্যস্ত।

পরিশেষে এতটুকুই বলতে চাই যে; সারাবিশ্বে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীবৃত্তির জন্য একমাত্র ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরাই দায়ী। আমরা এমনও দেখেছি যে; যারা কোনো দিন মাদ্রাসায়ও যায়নি, আবার আধ্যাত্মিক সাধকগুরুর নিকট গিয়ে আত্মতত্ত্ব ভেদ শিক্ষাও করে নি। এমনকি; আরবি ভাষা পড়েও নি ও বুঝেও নি তারাও কুরানের মতো বিশ্ববিখ্যাত মহাকাব্যের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করছে। তাদের গ্রন্থই আবার অধিক জনপ্রিয়। লালন, বলন ও জালালের ক্ষেত্রে ঐ একি অবস্থা। এসব অনুবাদ, ব্যাখ্যা, টীকা ও অভিধানও অদূরভবিষ্যতে হয়ে উঠবে সাম্প্রদায়িক ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ ও সন্ত্রাসীবৃত্তি সৃষ্টির সুলভ সংবিধান। যেমন; বর্তমানকালের সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ, আতঙ্কবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীবৃত্তির দলীয় সংবিধান হচ্ছে উপনিষদ, হাদিস ও তাফসিরগুলো।

انتقال [ইন্তিকাল] (আপৌমূ)বি সঞ্চার, সঞ্চালন, সংক্রামণ, স্থানান্তর, হস্তান্তর {}

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!