মানবকর্ম (১৫)

৫৭/০. মানব কর্ম
Accomplishment (একামপ্লিশমেন্ট)/ ‘إنجاز’ (ইনজাঝ)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বর্তমান জন্ম বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা বিশেষ। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা বর্তমান জন্ম। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ইহকাল। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা ইহধাম এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ইহলোক। এটি; শ্বরবিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। এ পরিভাষাটি সঠিকভাবে বুঝতে না পারলে সঠিকভাবে মানবকর্ম করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

অভিধা (Appellation)
মানব কর্ম (বাপৌছ)বি মানুষের কর্ম, মানুষের কাজ, accomplishment, ‘إنجاز’ (ইনজাঝ) (শ্ববি) আধ্যাত্মিক সাধন, আধ্যাত্মিক কাজ  (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর বর্তমান জন্ম পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা বিশেষ (সংজ্ঞা) মানুষের সর্বপ্রকার কাজকেই মানবকর্ম বলা হয় শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল আত্মশুদ্ধি ও সাঁইদর্শনকেই মানবকর্ম বলা হয় {বাং.মানব+ বাং.কর্ম}

মানব কর্মের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of accomplishment)
১.   “আপনারে চিনতাম যদি, মিলত অটল চরণ নিধি, মানুষের করণ হতো সিদ্ধি, শুনি আগম পুরাণে।” (পবিত্র লালন- ১১৬/২)(মুখ; আপনারে আপনি চেনে নে, দিন-দুনিয়ার পর যার নাম অধর তারে চিনব কেমনে”)
২.   “মানবকরণি সেরেসুরে, মরার আগে যেজন মরে, যমে আর ছুঁয় না তারে, মুক্তি পায় ভবের পর।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “সবাই কী আর হবেরে মন, ধর্মপরায়ণ, যার যার কর্ম সে সে করে, তোমার বলা অকারণ।” (পবিত্র লালন- ৯১৫/১)
৪.   “হলে সাঁই কাঁই সন্ধান করা, মানবকর্মের হয়রে সারা, পরপারে যায় সাধু ঋষিরা, বলন কাঁইজি কয় ভুবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)

মানব কর্মের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of accomplishment)
১.   “আমার মনরে দিন থাকতে চেনে দেহের মানুষ ধর, আগে মনের মানুষ ধর, সার আপনকর্ম সার।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/১)
২.   “একলক্ষ চব্বিশ হাজার নবিদের কথা বলে, একজনকেই জিয়ান রেখে সবাই তো গেছে চলে, জিয়ান নবি চেনে ধর- আপনার জীবকর্ম সার, বলন কাঁইজি ভাবিয়া কয়- সে ঠিকানা হয় ত্রিবেণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫১)
৩.   “এ ভুবনে বিধি বড় বল ধরে, কর্মফাঁসে বেঁধে মারল মোরে, লালন ফকির সদাই দিচ্ছে গুরুর দোহাই, আর যেন আসি না এমন দেশে।” (পবিত্র লালন- ১৩৮/৪)
৪.   “কী বলে এ ভবে এলি, সে কর্ম কিবা করলি, মহামায়ায় ভুলে রইলি, গুরুকর্ম করলি না একদিন।” (পবিত্র লালন- ২৮৯/২)
৫.   “কী বলে এ ভবে এলি, কিবা কর্ম করে গেলি, মিছে মায়ায় ভুলে রইলি, সে কথা আর মনে হয় না।” (পবিত্র লালন- ৪০৮/২)
৬.   “গণে আনি দেয়া হয়ে যায় কুয়া, তেমনি, হলো আমার সব কর্ম ভুয়া, কারে বলবো কথা কে ঘুচাবে ব্যথা, আগুনে মন দগ্ধ হতেছে।” (পবিত্র লালন- ১৩৮/৩)
৭.   “জিন্দা নবির খবর করে, রসিক ত্রিবেণীতে অধর ধরে, আপনকর্ম আপনি সারে, লালনের ভাগ্যে তাও হলো না।” (পবিত্র লালন- ৫৭৪/৪)
৮.   “জীব মরলে যায় জীবান্তরে, জীবের মুক্তিগতি হয় ভক্তির দ্বারে, জীবের কর্মবন্ধন না হয় খণ্ডন, প্রতিবন্ধন কর্মের ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/১)
৯.   “তাইতো; বলি ওরে কানা, সর্বজীব হয় গুরুজনা, চৈতন্যগুরু করো সাধনা, তাতে কর্মদোষ যায়।” (পবিত্র লালন- ৬৩৭/৩)
১০. “দয়াল নবি চিনলি না, মানবকর্ম সারা হলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৮)
১১.  “দয়াল সাঁই বলে বলন, সহজ নয় সেই যে মরণ, না মরলে সব অকারণ, হয় না মানবকর্ম সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬২)
১২.  “ধনের আশে পাগলের মতন, মানবকর্মে হলি অধঃপতন, পিতৃধন হলো না যতন, ইতরে আচার না গেল।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৫)
১৩. “না মানে সে ধর্মাধর্ম, যার হয়েছে বিচার সাম্য, লালন কয় সাঁই মহামান্য, তবে মানবকরণ সারা।” (পবিত্র লালন- ১৮৫/৪)
১৪. “পঞ্চবাণ আর ষোল কলা, করলি কেন অবহেলা, বলন কয় ডুবলে বেলা, মানবকর্ম হবে না রে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪২)
১৫. “পশ্চিমে যখন সূর্য উদয় হয়, মানবকর্মের হয়রে সারা, জন্ম-মৃত্যু দূরে যায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)
১৬.  “পাপকর্ম যদি পূর্বে লেখা যায়, কর্মের লিখিত কাজ করলে, দোষগুণ তার কী হয়।” (পবিত্র লালন- ৬২২/১)
১৭. “পুণ্যমর্ম হিতকর্ম, চেতার নিগূঢ়মর্ম, যাতে হবে মন্দ তাই সঙ্গ, করেছ আজন্মকাল।” (পবিত্র লালন- ৭১৫/৩)
১৮. “পূর্ব রাগ অবধি যারে, আশ্রয় দিলে নীর আকারে, কর্ম দোষে সে দাসেরে, ত্যাজিলে কী পৌরুষ তোমার।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/৩)
১৯.  “প্রেমশক্তি চতুর্দলে, কুম্ভকে ওঠায় ঠেলে, প্রেমশক্তির বাহুবলে, উজান ধারায় বায় তারা, শতদল লঙ্ঘন করে, সহজে আগমন করে, লালনের এ ফলাফল, আসা যাওয়ার কর্মসারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/৪)
২০. “প্রেমসাগরের তুফান ভারী, ধাক্কা লাগে ব্রহ্মপুরী, কর্মযোগে ধর্মতরী, কারো কারো তাতে বেঁচে ওঠে।” (পবিত্র লালন- ১৫৮/২)
২১.  “বন্দী হয়ে মায়ার সংসারে, আপন-মানুষ চিনলাম না রে, কী হারিয়ে পেলাম কিরে, হলো না রে মানবকরণী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৫)
২২. “ভবে আসা হলো অসার মানবকর্ম হলো না আর, ছয়বাঘেই মৃগ তাড়াবে এক জীবনে কত আর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৯)
২৩. “মণিকোঠা থাকলে ধিয়ান, চামকুঠিতে আসে বান, দেখা দিবে দয়াল চাঁন, মানবকর্মের হবে সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮৯)
২৪. “শেষ নবি যেদিন এলো, মানবকর্মের সূচনা হলো, বলন কয় দিন ফুরাল, তবু হয় না নবি চেনা।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২৫. “রূপনদে স্বরূপ ধর আপন জীবকর্ম সার, রূপ স্বরূপ জোয়ার-ভাটায় ত্রিবেণীতে নিরীক্ষ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)
২৬. “যেতে সাধ হয়রে কাশী, কর্মফাঁসি বাধে গলায়, আমি আর কতদিন ঘুরব, এমন নাগরদোলায়।” (পবিত্র লালন- ৮৪৩/১)
২৭. “যে সাধন জোরে, কেটে যায় কর্মফাঁসি, যদি জানবি সে সাধনের কথা, হও গুরুর দাসী।” (পবিত্র লালন- ৮৫৪/১)
২৮. “শুকনা গঙ্গা ভরা বানে, মনের কথা লুকায় মনে, আপনকর্ম সারলি গোপনে, জিজ্ঞাসার ধার ধারলি না রে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪২)
২৯. “শ্রী রূপের আশ্রিত যারা, অনায়াসে প্রেম সাধল তারা, হলো না মোর কর্মসারা, কপালে এ ছিল।” (পবিত্র লালন- ৮৯৯/৩)
৩০. “সাধক বলন কয় মনরে, পাড়ি দিতে ক্ষীরসাগররে, পাকাগুরু অন্বেষণ করে, পূর্ণ কর মানবসাধনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২২৫)
৩১. “সে ঘাটের রাজা নিতাই, রাইরাধা রসবতী চুন্নী সেথাই, মরলে সে ঘাটে- সব যাবে লাটে, ঝকমারি কর্ম করো না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৩/৩)

মানব কর্মের ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the accomplishment)

মন সঠিক বস্তু পাবি না রে
            জোড়াতালির শাস্ত্রকর্ম করে।

সঠিক শাস্ত্র কেউ আনিলে
পদদলিত করে দেয় রসাতলে
কত শত শাস্ত্র ভূমণ্ডলে
সুজন বিনা হাতড়ে মরে।

প্রকৃতি ভজন প্রকৃতকর্ম
জানগে পুছে সঠিকমর্ম
প্রকৃতি মান্যই শাস্ত্রকর্ম
শাস্ত্রাশাস্ত্রের এ সংসারে।

সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে যা লেখা রয়
এ দেহের প্রকৃতি নির্ণয়
বলন কাঁইজি বিনয়ে কয়
জানগে গুরু ভজন করে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯)।

মানব কর্মের সংজ্ঞা (Definition of accomplishment)
সাধারণত; মানুষের সর্বপ্রকার কাজকেই মানবকর্ম বলে।

মানব কর্মের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of accomplishment)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কেবল আত্মশুদ্ধি ও সাঁই দর্শনকেই মানব কর্ম বলে।

মানব কর্মের প্রকারভেদ (Variations of accomplishment)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মানবকর্ম দুই প্রকার। যথা; ১. সাধারণ মানব কর্ম ও ২. আধ্যাত্মিক মানব কর্ম।

. সাধারণ মানব কর্ম (Accomplishment)
মানুষের সর্বপ্রকার কাজকেই সাধারণ মানব কর্ম বলে।

. আধ্যাত্মিক মানব কর্ম (Accomplishment)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; গুরুদীক্ষা গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধি ও সাঁইদর্শনকে আধ্যাত্মিক মানব কর্ম বলে।

ধর্মকর্ম (Worship)
১.   “কী ভাব নিমাই তোর অন্তরে, মা জননীরে চক্ষের দেখা, তাতে কী তোর ধর্মকর্ম যায়রে।” (পবিত্র লালন- ৩১১/১)
২.   “তীর্থকর্ম গয়া কাশী, বালাকুঞ্জ বারানসী, মথুরা বৃন্দাবনে, তীর্থে যদি গৌর পেত, ভজন সাধন করে মানব কী জন্যে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৮/৩)
৩.   “ত্যাজ্য করে মাতাপিতা, কী ধর্মকর্ম করবি কোথা, মায়ের কথায় চল- কোপনি খুলে ফেল, লালন কয় যেমন মায়ে কয়রে।” (পবিত্র লালন- ৩২৭/৪)
৪.   “দেহের আকাশ দেহের পাতাল, নিরূপণ করতে হইওনা বেতাল, ধর্মকর্ম ও ধার্মিকের আল, করতে হয় লঙ্ঘনা।” (পবিত্র লালন- ৭৭৯/৩)
৫.   “ধর্মকর্ম আপনার মন, কর্ম করে সব মু’মিনগণ, কর্ম করো বলছে লালন, নইলে পাবি না নিরঞ্জন।” (পবিত্র লালন- ৯১৫/৫)
৬.   “মুর্শিদের মহৎগুণ লেনা বুঝে, যার ক্বদম বিনা ধর্মকর্ম মিছে।” (পবিত্র লালন- ৮০১/১)
৭.   “শুদ্ধপ্রেম রসিকের কর্ম, মানে না বেদ-বিধির কর্ম, রসরাজ উপাস্যের মর্ম, রসিক বৈ আর কে জেনেছে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৮/২)

এখানে; ধর্মকর্ম বলতে সাম্প্রদায়িক কর্মকে বুঝানো হয়েছে। সাধারণত; সাম্প্রদায়িক সংস্কারগুলোকেই ধর্মকর্ম বলা হয়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিভাগ এটি। কারণ; সবকিছুর লিখিত বিধান থাকে। আর ঐসব বিধান পরিচালনা করে ঐ বিভাগের সবচেয়ে বড় বড় জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা। আর ঐ বিধানের বাইরে কোনো কথা বা মন্তব্য কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ সাম্প্রদায়িকদের ব্যাপারটা সম্পূর্ণই ভিন্ন। সাম্প্রদায়িকদের মধ্যে লিখিত বিধানের চেয়ে অলিখিত বিধানই অধিক। প্রতিটি কাজের খুঁত ধরাই এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন, বসা। একেক সম্প্রদায়ের নিকট গেলে একেক প্রকার ‘বসা’ এর নিয়ম দেখতে পাওয়া যায়। এসব কেবলই অতিরঞ্জন-অতিভঞ্জন। এসব খুঁত-ধরা মানব জীবনে কোনো প্রয়োজন নেই। উপাসনা একেক সম্প্রদায়ের একেক প্রকার। এসব উপাসনা মানব জীবনে কোনো প্রয়োজন নেই। খাদ্যাদি একেক সম্প্রদায়ের একেক প্রকার। খাদ্যের মধ্যে কেবল বিষক্রিয়তাযুক্ত বস্তু ব্যতীত কোনো বাছবিচার করার প্রয়োজন নেই। অতঃপর; পুরুষের শুক্রপাত, রজকিনীর রজ, প্রসবস্রাব, মূত্রত্যাগ ও মলত্যাগ এসব নিয়ে একেক সম্প্রদায়ের মধ্যে একেক প্রকার বিধান। মানব জীবনে এসব বিধানের কোনো প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “ধর্মকর্ম ও ধার্মিকের আল, করতে হয় লঙ্ঘনা।” (পবিত্র লালন- ৭৭৯/৩)। অন্যদিকে; মহাধীমান বলন কাঁইজি লিখেছেন; “প্রকৃতি মান্যই শাস্ত্রকর্ম, শাস্ত্রাশাস্ত্রের এ সংসারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯)

জীব মাত্রই যার যার শুচি সে সে করতে পারে। এটি; মানুষও অবশ্যই করতে পারবে। যেসব দেশে সাম্প্রদায়িক বিধান নেই বা মান্য করা হয় না; তারা আচার-ব্যবহার, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও অর্থ;সম্পদে সাম্প্রদায়িকদের চেয়ে কোনো অংশে নিচে পড়ে আছে? বরং সাম্প্রদায়িকরাই অসাম্প্রদায়িকদের চেয়ে পিছে রয়েছে। বর্তমানকালের সাম্প্রদায়িকরা ক্রমে ক্রমেই সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসীবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু অসাম্প্রদায়িকদের এমন হওয়ার সুযোগ নেই। মানুষের প্রকৃত উপাসনা কী? কেন মানুষ উপাসনা করবে? এমন প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণ করা সব মানুষের একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানকালে সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা উপাসনার প্রয়োজন ও যথার্থতা অন্বেষণ না করেই কেবল দেখাদেখি উপাসনা আরম্ভ করে থাকে। পশুকুলে জন্ম নিয়ে কোনো পশু যদি আত্মদর্শন জ্ঞান গ্রহণ করে পশুত্ব দূর করে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে। তবে; তার মানবকুলের সূচনা হয়। অর্থাৎ; পশু মনুষ্যত্ব অর্জন করলে সে মানবকুল পায়। মানবকুল পাওয়ার পর তার কী কী উপাসনা করা প্রয়োজন? এর ওপর বাংভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সাধক ও বাঙালী মহামানব মহাত্মা লালন সাঁইজি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক দার্শনিক মহাধীমান বলন কাঁইজির মহামূল্যবান বাণীগুলো আমরা ওপরে তুলে ধরেছি। আশা করি উক্ত বাণীগুলো পড়লে বিষয়টি সহজেই বুঝে আসবে।

মানব কর্ম (Accomplishment.একোমপ্লিশমেন্ট)/ ‘إنجاز’ (ইনজাঝ)

মানবকর্ম কী? এ বিষয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উদ্ধৃতিয়াংশ আমরা এখানে তুলে ধরছি। তা হলো;
১. “অটলসাধনা করাই উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)
২. “অমৃত-রসের মর্ম যেজন পায়, উপাসনা তারই বটে হয়।” (পবিত্র লালন- ১২০/৪)
৩. “আগে মনের মানুষ ধর, সার আপনকর্ম সার।” (পবিত্র লালন- ১৩৫/১)
৪. “আপনাকে আপনি চেনা, সে বটে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৬৭০/৪)
৫. “দেহ রক্ষা করাই উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)
৬. “প্রকৃতি ভজন প্রকৃতকর্ম, জানগে পুছে সঠিকমর্ম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯)
৭. “মৎস্য ধরাই উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১)
৮. “রসিক ত্রিবেণীতে অধর ধরে, আপনকর্ম আপনি সারে।” (পবিত্র লালন- ৫৭৪/৪)
৯. “রূপনদে স্বরূপ ধর আপন জীবকর্ম সার।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৪)
১০. “শক্তি উপাসনা করে যারা, মনের মানুষ চেনে তারা।” (পবিত্র লালন- ৬৮৬/৪)
১১. “শম্ভুরসের উপাসনা, না জানলে রসিক হয় না।” (পবিত্র লালন- ৭৯৪/২)
১২. “সাঁইদর্শন না পেলে, মানবের মুক্তি মিলে না।” (পবিত্র লালন- ২১৮/৩)
১৩. “সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)
১৪. “স্বরূপ রূপে রূপকে জানা, সেতো বটে উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৯০৭/২)। ও
১৫. “জীবের মুক্তিগতি হয় ভক্তির দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৫/১)।”

এখানে; মানবকর্মের যে চমৎকার বিষয় ফুটে ওঠেছে। এর অধিক কিছু লেখার প্রয়োজন নেই বলেই আমরা মনে করি।

মানব কর্মের সূচনা (Beginnings of accomplishment)
মানবদেহে সর্বশেষে যে স্বর্গীয় অবতার অবতরণ করে তখন থেকে মানবকর্মের সূচনা হয়। পুরুষদেহে সর্বশেষে আগমন করে শুক্র এবং নারীদেহে সর্বশেষে আগমন করে রজ। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; শুক্রকে পুরুষদেহের সর্বশেষ অবতার এবং রজকে নারীদেহের সর্বশেষ অবতার বলা হয়। আর এ দুটি অবতারকে আরবীয় পুরাণে শেষ নবি বলা হয়। এ শেষ অবতারদ্বয়ের আগমন ঘটলেই কেবল মানবকর্ম বা সাধনকর্মের সূচনা হয়। এ ব্যাপারে মহাধীমান বলন কাঁইজির একটি বাণী হলো; “শেষ নবি যেদিন এলো, মানবকর্মের সূচনা হলো।” (বলন তত্ত্বাবলী)

অন্যদিকে; বড় আশ্চর্য হবার বিষয় হলো সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ‘শেষ অবতার’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল কল্পিত ও অজানা এক অবতারকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। তারা মানব দেহের সর্বশেষ অবতার চেনে না ও বুঝে না বলেই তার উপাসনা করতে পারে না। সাম্প্রদায়িকরা সর্বদা অনুমান ও মনগড়া বিষয়-আশয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

মানব কর্মের সমাপ্তি (Finishing of accomplishment)
মানবকর্মের সমাপ্তি কখন কিভাবে হয়? এমন প্রশ্ন অনেকেরই। বিশ্ববিখ্যাত আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; আত্মশুদ্ধি করার পর সাঁইদর্শন করাই মানবের প্রকৃত মানবকর্ম। একজন পাকা সাধকগুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধি করতে হবে। অতঃপর; গুরুর পরামর্শ অনুযায়ী দ্বিপস্থ জীবের পালনকর্তা সাঁইয়ের দর্শনলাভ করতে হবে। সাঁইদর্শন করার পর আর মানবকর্ম অবশিষ্ট থাকে না। অর্থাৎ; সাঁইদর্শনের দ্বারা মানবকর্মের পরিসমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে; সাম্প্রদায়িকদের সাম্প্রদায়িক কর্মের সমাপ্তি কখনই নেই। কোনো মতবাদে প্রয়াণের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক কর্মগুলো করতে হবে। না করলে অর্থদণ্ড দিতে হবে। আবার কোনো মতবাদে শেষ বয়স পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক কর্মগুলো করতে হবে ইত্যাদি। কথা হলো পৃথিবীতে যত প্রকার সাধন আছে সব সাধনেরই আরম্ভ ও শেষ আছে। কেবল সাম্প্রদায়িক সাধনের আরম্ভ আছে কিন্তু শেষ নেই। মানবকর্ম ব্যাপারে কয়েকটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো; ১. “দলপদ্ম নিরূপণ হয় যার, উপাসনা নাই গো তার।” (পবিত্র লালন- ২৯৩/৩)। ২. “পশ্চিমে যখন সূর্য উদয় হয়, মানবকর্মের হয়রে সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৬)। ও ৩. “হলে সাঁই কাঁই সন্ধান করা, মানবকর্মের হয়রে সারা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৭)

উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে দেখা যায়; মানুষের পালনকর্তা সাঁইয়ের দর্শনলাভের পর মানবকর্ম সারা হয়ে যায়। আমরা এ মতবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই। সাম্প্রদায়িক মতবাদ সাম্প্রদায়িকদের বিষয়। আলোচ্য মানবকর্মের সাথে উপাসনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেজন্য; এখানে; উপাসনার সামান্য আলোচনা তুলে ধরা হলো।

উপাসনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of adoration)
১.   “অমৃতরসের মর্ম যেজন পায়, উপাসনা তারই বটে হয়, সিরাজ সাঁইজির আদেশে হায়, লালন ভনে।” (পবিত্র লালন- ১২০/৪)
২.   “আকাশপাতাল মিলে দেহরতী, উপাসনায় চাই সে মোতি, যদি চেতনগুরু পাই- তারে শুধাই, লালন বলে ঘুচাই মনের দিশে।” (পবিত্র লালন- ৩৬১/৪)
৩.   “আপনাকে আপনি চেনা, সে বটে উপাসনা, লালন কয় আলেক চেনা, যার হয় দিশে।” (পবিত্র লালন- ৬৭০/৪)
৪.   “কোথায় দয়াল কোথায় হরি, এক দিনও খোঁজ না করি, বলন কয় ভুরিভুরি, উপাসনায় দয়াল নাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)
৫.   “চামকুঠরী প্রেমযমুনা, মৎস্য ধরাই উপাসনা, মিঠাবারি প্রেমমালখানা, মৎস্য চলে কফিন পরা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১)
৬.   “দলপদ্ম নিরূপণ হয় যার, উপাসনা নাই গো তার, কোথায় কী মিলে, তীর্থব্রতের জন্য- যা করি গণ্য, দেহে তার সব মিলে।” (পবিত্র লালন- ২৯৩/৩)
৭.   “দেহ রক্ষা করাই উপাসনা, গ্রন্থে কয় অটলসাধনা, বলন কয় মনরে কানা, বারংবার তোরে জানাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮০)
৮.   “প্রেমনদীতে ভেসে যায় প্রেমের মরী, লালন কয় মরার সাথে করো আড়ি, প্রেমের শকুন হয়ে- মরিটা ফেলাও খেয়ে, সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)
৯.   “ব্যভিচার ভয় অধিক করে, গোপনে যায় বেশ্যার ঘরে, উপাসনার বড়াই করে, গোপন কথা মনে রয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৩৬)
১০. “মণিপুর ত্রিবেণীতে গিয়ে, শুধুই লীলায় মইজ না, দিন ধরিয়ে তিনের ঘরে, কর সঠিক উপাসনা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৮)
১১.  “শক্তি উপাসনা করে যারা, মনের মানুষ চেনে তারা, লালন ফকির পাগলপারা, শিমুল ফুলের রঙ দেখলে।” (পবিত্র লালন- ৬৮৬/৪)
১২.  “শম্ভুরসের উপাসনা, না জানলে রসিক হয় না, গজমোতি গোরোচনা, নানা শস্য যাতে ফলে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৪/২)
১৩. “সাঁই সুভ্ররসের উপাসনা কুঁড়ে মন তোর হলো না, কোথায় রইল স্রাবস্তি একবার ভেবে, দেখলি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৬)
১৪. “সে অটল-রূপের উপাসনা, কেউ জানে কেউ জানে না।” (পবিত্র লালন- ৯৫৬/১)
১৫. “স্বরূপ রূপে রূপকে জানা, সেতো বটে উপাসনা, গাঁজায় দম চড়িয়ে মনা, বমকালী আর বলো না রে।” (পবিত্র লালন- ৯০৭/২)

উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলো হতে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে; “অমৃতরসের মর্ম যেজন পায়, উপাসনা তারই বটে হয়”, “আপনাকে আপনি চেনা, সে বটে উপাসনা”, “মৎস্য ধরাই উপাসনা”, “দেহ রক্ষা করাই উপাসনা”, “অটলসাধনা করাই উপাসনা”, “সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা” ও “স্বরূপ রূপে রূপকে জানা, সেতো বটে উপাসনা।” আরও প্রতীয়মান হয় যে; “শক্তি উপাসনা করে যারা, মনের-মানুষ চেনে তারা”, “শম্ভুরসের উপাসনা, না জানলে রসিক হয় না।” সর্বশেষে উপাসনার পরিসমাপ্তি বিষয়ে প্রতীয়মান হয় যে; ৩.“দলপদ্ম নিরূপণ হয় যার, উপাসনা নাই গো তার।”

তবে সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকদের মধ্যে যেসব উপাসনা করা হচ্ছে সেগুলো কী? এমন প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে এগুলো কোনো মানবের উপাসনা নয়। বরং এসব হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সংস্কার। জন্মের পর হতে যেসব মানুষ মানবকুল পায় নি তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদান করার জন্যই এসব সংস্কার করা হয়েছে। যেমন; হিন্দুদের পূজা, মুসলমানদের তাপন ইত্যাদি। এছাড়াও; ধ্যান, যোগ, তপ-জপ ও সন্ন্যাস এসব মানবকর্মও নয় বা মানবের উপাসনা নয়। এসব এক প্রকার ব্যবসা। তাহলে মানবকর্ম কী? হ্যাঁ এটাই হলো সঠিক প্রশ্ন। মানবকর্ম হলো; . মানবিকতা এবং . আত্মশুদ্ধি, অটলত্ব, সাঁইদর্শন ও কাঁইদর্শন। মানবিকতা হচ্ছে সর্ব জীবে দয়া করা, সর্বপ্রকার অন্যায় হতে বিরত থাকা। পাকা-সাধকগুরুর নিকট দীক্ষা-গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধি করা। শুক্র নিয়ন্ত্রণ করে অটলত্ব অর্জন করা। অতঃপর; বিশ্বের পালনকর্তা সাঁইদর্শন করা এবং বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা কাঁইদর্শন করা।

মানবের মুক্তির উপায় (Human redemption)
মানবের মুক্তি কিভাবে ও কোনো সাধনে? এমন প্রশ্ন অনেকেরই। আর এমন প্রশ্নের অনুপম উত্তর মহাত্মা লালন সাঁইজি প্রদান করে গেছেন। তিনি বলেছেন; সাঁইদর্শন না পেলে, মানবের মুক্তি মিলে না, লালন সাঁইজি বলে দিন থাকতে, গুরু ধরে করো সাধনা।” (পবিত্র লালন- ২১৮/৩)। অর্থাৎ; মানবের কর্মই হলো সুস্বাস্থ্য, সুসংসার ও সুশিক্ষা অর্জন করা। এর পরও যদি মানুষের সময় থাকে তবে তারা পাকা সাধক-গুরুর নিকট দীক্ষাগ্রহণ করে সাঁইদর্শন সাধন করতে পারে। আর সাঁইদর্শন হয়ে গেলেই তাদের মানবকর্মের চির পরিসমাপ্তি হয়।

মানব কর্মের পরিচয় (Identity of accomplishment)
উপাসনা মানবকর্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বলেই উপাসনার ক্ষুদ্র আলোচনা মাবকর্মের মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে; উপাসনার আলোচনাকে কোনমতেই অপ্রাসঙ্গিক বলার অবকাশ নেই। এ শিরোনামের আলোচনায় ওপরে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেজন্য; এখানে; অধিক আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে; এতটুকু বলা যায় যে; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক কর্মাকর্মকে কখনই মানবকর্ম বলা যায় না। সেগুলো তাদের একান্ত ব্যাপার। প্রকৃত মানবকর্ম হচ্ছে আত্মশুদ্ধি ও সাঁইদর্শন। এছাড়াও; সংসার পরিচালনা, ব্যবসা-বৃত্তি, কৃষি-মৃগয়া এসব মানুষের স্বাভাবিক কর্ম। এসব দৈনন্দিন কর্ম। তাই; দৈনন্দিন কর্ম বা স্বাভাবিক কর্মকে মানবকর্ম বলা যায় না। আত্মশুদ্ধি ও সাঁইসাধন বিশেষ কর্ম বলেই এদেরকে মানবকর্ম বলা হয়।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!