মানুষগুরু

২৯/৪. মানুষগুরু
Inductor (ইন্ডাক্টর)/ ‘مغو’ (মোগু)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জ্ঞান পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা জ্ঞান। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা জ্ঞানেন্দ্রিয়। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা গুরু। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা আলো এবং এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা সম্বিত

অভিধা (Appellation)
মানুষ (বাপৌমূ)বি মানব, লোক, জন, man, ‘رجل’ (রাজুলা) (.ﺒﺸﺭ), মারয়ু (.ﻤﺭﺀ) বিণ মানবীয়, বয়ঃপ্রাপ্ত, মানুষ্য সম্পর্কীয়, মানবীয় গুণসম্পন্ন, লালন পালন দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত (শ্ববি) গোরু, গাছ, পাহাড়, হাতি (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর মানুষ পরিবার প্রধান বিশেষ (সংজ্ঞা) ১. সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ জীবকে বাংলায় ‘মানুষ বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সুপেয় মানব জলকে রূপকার্থে ‘মানুষ বলা হয় (বাপৌছ) উবুদ-গাছ ও কল্পতরু (বাপৌচা) শর্মা (বাপৌউ) চতুষ্পদ ও চাঁদ (বাপৌরূ) গাছ (বাপৌমূ) মানুষ Jস্ত্রী মানুষী।

মানুষগুরু (বাপৌছ)বি দীক্ষাগুরু, মানুষরূপী গুরু, মানুষরূপী গোঁসাই, inductor ‘مغو’ (মোগু), Adviser, ‘مستشار’ (মুস্তাশার) (প্র) শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত ১. মানুষগুরু ২. জগৎগুরু ৩. কামগুরু ও ৪. পরমগুরু; এ চার প্রকার গুরুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (শ্ববি) জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, knowledge, আক্বল (.ﻋﻘﻝ), ইলিম (.ﻋﻟﻢ) (রূপ্রশ) বিচারক, উপদেষ্টা, দীক্ষক, দেশিক, দিশারী (ইদে) মুর্শিদ (.ﻤﺭﺷﺪ), পির (ফা.ﭙﻴﺭ) (ইংপ) master, teacher (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জ্ঞান পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; সকল প্রকার শিক্ষককে মানুষগুরু বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, কেবল আত্মদর্শন জ্ঞান প্রচার করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত (গুরুপদ প্রাপ্ত) ব্যক্তিকে রূপকার্থে মানুষগুরু বলা হয় (বাপৌছ) মানুষগুরু (বাপৌচা) সম্বিত (বাপৌউ) আলো (বাপৌরূ) গুরু (বাপৌমূ) জ্ঞান {বাং. মানুষ+ বাং. গুরু}

মানুষগুরুর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of inductor)
১.    “গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়, জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষগুরু ভজতে হয়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)
২.  “গুরু যার থাকে সদয়, শমন বলে কিসের ভয়, লালন বলে মন তুই আমায়, করলি দোষী।” (পবিত্র লালন- ১৪৩/৪)
৩.  “হক্বের ওপর থাকবে যখন, লাহুত মুক্বাম চিনবে তখন, এ সত্য জেনে ও মন, মানুষগুরু ধরলে না।” (পবিত্র লালন- ৭৪২/৩)

মানুষ গুরুর ওপর একটি পূর্ণ-বলন (A full Bolon on the inductor)
গুরু চেনা সহজ নয়রে গুরু চেনা সহজ নয়
            জগৎগুরু চিনতে গেলে মানুষ গুরু ভজতে হয়।

মানুষ গুরুর প্রেমপণ্যারে- জগৎগুরু চলেফেরে
ধরতে গেলে যায়রে দূরে- পরমগুরু কাছে রয়;

মানুষ গুরু হইলে সদয়- জগৎগুরু দেয় পরিচয়
জানতে হয় তা নিরালায়- ভক্তিভজন রেখে ভয়।

মানুষ গুরু হয় আকারে- জগৎগুরু রয় নিরাকারে
জ্ঞান দ্বারা ধরো তারে- নিকটে সে দূরে নয়
দমে যায় দমেতে আসে- দিনরজনী ডানে বাঁয় সে
ফাঁদ পাঁতিয়া ধর কষে- ভক্তি দিয়ে উত্তরা বায়।

জগৎগুরু অপারলীলা- দেখবি তার রূপ রঙ্গিলাকরিসনে আর অবহেলা- সময় তোর অধিক নাই;

উত্তরা বায় ধরলে পাড়ি- মানুষ গুরু হয় কাণ্ডারী
বলন কয় ভয় কী তারই- কালসমন দূরে পালায়।”   (বলন তত্ত্বাবলী- ৯৬)

মানুষগুরুর সংজ্ঞা (Definition of inductor)
সাধারণত; সকল প্রকার শিক্ষককে মানুষগুরু বলে। যেমন; শিক্ষক ও অধ্যাপক।

মানুষগুরুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of inductor)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, কেবল আত্মদর্শন জ্ঞান প্রচার করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত (গুরুপদ প্রাপ্ত) ব্যক্তিকে রূপকার্থে মানুষগুরু বলে। যেমন; কাঁইজি ও সাঁইজি।

মানুষগুরুর প্রকারভেদ (Variations of inductor)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মানুষগুরু দুই প্রকার। যথা; ১. আধ্যাত্মিক মানুষগুরু ও ২. জাগতিক মানুষগুরু।

. আধ্যাত্মিক মানুষগুরু (Spiritual inductor)
আত্মদর্শন শিক্ষাদানকারীকে আধ্যাত্মিক মানুষগুরু বলে। যেমন; কাঁইজি ও সাঁইজি।

. জাগতিক মানুষগুরু (Mundane inductor)
বৈষয়িক বিদ্যা শিক্ষাদানকারী মনীষীকে জাগতিক মানুষগুরু বলে। যেমন; শিক্ষক।

আবার বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মানুষগুরু দুই প্রকার। ১. উপমান মানুষগুরু ও ২. উপমিত মানুষগুরু।

. উপমান মানুষগুরু (Analogical inductor)
সাধারণত; সকল প্রকার শিক্ষককে উপমান মানুষগুরু বলে। যেমন; শিক্ষক ও অধ্যাপক।

. উপমিত মানুষগুরু (Compared inductor)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, কেবল আত্মদর্শন জ্ঞান প্রচার করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত (গুরুপদ প্রাপ্ত) ব্যক্তিকে রূপকার্থে উপমিত মানুষগুরু বলে। যেমন; কাঁইজি ও সাঁইজি।

মানুষগুরুর পরিচয় (Identity of inductor)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর জ্ঞান পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। সাধারণত; সর্বপ্রকার জ্ঞানীকেই মানুষগুরু বলা হয় কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; পিতা-মাতা, শ্বশুর-শাশুড়ী, চাচা, মামাসহ সর্বপ্রকার বয়জ্যেষ্ঠ লোককেই মানুষগুরু বলা হয়। সর্বপ্রকার শিক্ষাগুরু ও দীক্ষাগুরুকেও মানুষগুরু বলা হয়। অর্থাৎ; যে মহান মনীষী মানুষকে নৈতিক শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করেন তাকে মানুষগুরু বলা হয়। শুধু আকার ও আকৃতিধারী জ্ঞানীকে মানুষগুরু বলা হয় না। মানুষগুরু-রূপ ব্যক্তির মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে প্রকৃতপক্ষে সে জ্ঞানকেই গুরু বলা হয়। কারণ; জ্ঞান হলো নিত্য, অক্ষয়, অমর ও অনন্ত কিন্তু আকারধারী মানুষ অনিত্য ও ধ্বংসশীল। অর্থাৎ; আকারধারী মানুষকে মানুষগুরু বলে সম্বোধন করলেও প্রকৃতপক্ষে মানুষগুরু হলো মানুষের জ্ঞান। গুরুদেবের জ্ঞানকে মানুষগুরু বলা হয়। অর্থাৎ; মানুষগুরু হলো মানুষগুরু-রূপ ব্যক্তির জ্ঞান

পিতা-মাতা, বড়ভাই, বড়বোন, শ্বশুর-শাশুড়ী, দাদা-দাদী, মামা-মামী ও সর্বশ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সবাই প্রত্যেক মানুষের জন্য মানুষগুরু। যার নিকট হতে কোনো জ্ঞানার্জন করা হয় তিনিই গুরু। আবার আধ্যাত্মিক দীক্ষকগণও মানুষগুরু। গুরুর কোনো জাত নেই এবং গুরুর কোনো সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ নেই। মানুষগুরু যে কোনো সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ বা যে কোনো গোত্রের হতে পারেন। যে কোনো মতবাদের বা যে কোনো গোত্রের লোক তাঁর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। গুরু ভক্তের উদ্ধারকারী বা ত্রাতা। মানুষগুরু প্রকৃতগুরু নয়। প্রকৃতগুরু হলেন সাঁই। এজন্য; প্রকৃতগুরুর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত একের পর এক মানুষগুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করে যাওয়াই সব বুদ্ধিমানের কাজ। প্রকৃতগুরুর সন্ধানলাভ করার জন্য একাধিক গুরুর নিকট হতে জ্ঞানার্জন করা সর্বকালেই সিদ্ধ। প্রকৃতগুরুর সন্ধান পেয়ে গেলে মানুষগুরু আর পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।

রক্তমাংসে নির্মিত মানুষকে গোঁসাই বা গুরু ভাবা, গোঁসাই বা গুরুর ছবি ধ্যান করা, গোঁসাই বা গুরুর মুখমণ্ডলের ধ্যান করা সর্বকালে সর্ব ঘরানাতেই নিষিদ্ধ ছিল, এখনও নিষিদ্ধ আছে এবং ভবিষ্যতেও নিষিদ্ধ থাকবে। যে সব গোঁসাই বা গুরু এমন করে তারা একান্ত গুরু-তত্ত্ব না জেনে ও না বুঝেই করে। আবার যে সব গোঁসাই বা গুরু এমনভাবে তারাও একান্ত গুরু-তত্ত্ব না জেনে ও না বুঝেই ভাবে। এমন গোঁসাই গুরুর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সঙ্গে সঙ্গেই আত্মজ্ঞানী সাধকগোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে; অত্যন্ত মজার বিষয় হলো এদেশের মানুষ কেবল দীক্ষাগুরুকেই মানুষগুরু রূপে মূল্যায়ন করে থাকেন। উপরোক্ত শ্রদ্ধাবান ও মান্যবর ব্যক্তিদেরকেও সাধারণ মানুষ বলেই মনে করে থাকেন। আবার অনেকে একাধিক মানুষগুরু গ্রহণ করাকে অবৈধ বলে মনে করে থাকেন অথচ কবি কামিনী রায় লিখেছেন;
“জগৎজুড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানানভাবে নতুন বিষয় শিখি দিবারাত্র।”

এছাড়াও; জনৈক মরমীকবি বলেছেন;
“গুরু ধরি শতশত শিখি কত মন্ত্র-তন্ত্র
যার কাছে আলো পাবো তার নামের দোহাই দিব।”

পরিশেষে বলা যায় বয়জ্যেষ্ঠরা সবাই মানুষগুরু। এছাড়াও; প্রথমিক, নিম্নমাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও মানুষগুরু। জ্ঞানার্জনের জন্য একাধিক মানুষগুরু গ্রহণ করা সর্বকালে সর্বস্থলেই বৈধ ছিল এবং এখনও তা বৈধই রয়েছে। তবুও; বাংভারতের মূর্খ গুরু গোঁসাইরা “একাধিক গুরু গ্রহণ করা যায় না, এক রাতা দু’বার বলি দেওয়া যায় না, এক মাথা দু’বার বিক্রি করা যায় না।”- এসব কথা বলে সাধারণ মানুষকে মহাবিভ্রান্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শাস্ত্রান্ধতা থেকে বের করে পরম্পরা-অন্ধতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অর্থাৎ; এক অন্ধকার হতে বের করে আরেক অন্ধকারে নিক্ষেপ করছে। এমন কূট চক্রান্ত চলতে থাকরে সাধারণ মানুষ কখনই সঠিক পথের সন্ধানলাভ করতে পারবে না।

একাধিক গোঁসাই-গুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গ (Context to taking pupilage the multiple guru-preceptor)
প্রত্যেক মানুষকে ন্যূনতমপক্ষে চারজন আধ্যাত্মিক দীক্ষাগুরু গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। পূর্বকালে একজন গুরু গ্রহণের নির্দেশ থাকলেও বর্তমানে সেটি আর গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ; বর্তমানে অনেক স্বয়ংসিদ্ধি গুরু গোঁসাই প্রতিনিয়ত আবির্ভূত হচ্ছেন। যে যেমনে পারে গুরুপদ সংগ্রহ করছে। এজন্য; পূর্বকালে একজন গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করলেই যথেষ্ট হতো কিন্তু বর্তমানে চার চারজন গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করা ব্যতীত কেউই সম্যক আত্মতত্ত্বজ্ঞানের অধিকারী হতে পারবেন না। কিছু কিছু ভণ্ডগুরু- যারা সামান্যতম দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানও রাখেন না কেবল তারাই শিষ্যদের বলে থাকেন যে; “যেমন; এক রাতা দু’বার বলি করা যায় না তাদৃশ একজন শিষ্যও দুই গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করতে পারে না।” তারা আরও বলেন যে; “এক ব্যক্তি একাধিক গোঁসাই বা গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করলে নিরীক্ষ গ্রহণ করবে কার?” তারা একটিবারও ভেবে দেখেন না যে; একজন ছাত্র প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণি সমাপ্ত করার জন্য কতজন শিক্ষকের নিকট হতে বিদ্যাশিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। তাতে তাদের নিরীক্ষ গ্রহণের কোনো ক্ষতি হয় না। কেবল গুরুর নিকট এলেই যত নিরীক্ষ গ্রহণ ও রাতা বলি করার ফোতোয়া। এসব অজ্ঞরা তো গুরু-তত্ত্বই জানেন না।

যেমন; এক বিপণিতে সর্বশ্রেণির পণ্য পাওয়া যায় না; তেমনই; এক গুরুর নিকটও সর্বপ্রকার জ্ঞান পাওয়া যায় না। উপমাস্বরূপ বলা যায়; একজন গুরুর নিকট কেবল সাম্প্রদায়িক মতবাদের জ্ঞান থাকে। অন্য গুরুর নিকট কেবল পরম্পরার জ্ঞান থাকে। আরেক গুরুর নিকট কেবল আত্মজ্ঞান থাকে। আরেক গুরুর নিকট কেবল দার্শনিক জ্ঞান থাকে। আরেক গুরুর নিকট কেবল বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকে। আবার আরেক গুরুর নিকট ভাষা জ্ঞান বিদ্যমান থাকে। একাধিক জ্ঞানে জ্ঞানী গুরুর সংখ্যা একেবারেই বিরল। এজন্য; একাধিক গুরু গ্রহণ করে ক্রমে ক্রমে একাধিক জ্ঞানার্জন করে যাওয়াই বুদ্ধিমান লোকের কাজ। যেমন; বলা হয়;

“গুরু ধরব শতশত
শিখব শত মন্ত্রতন্ত্র
যার কাছে জ্ঞানের আলো পাবো
তাঁর নামের দোহায় দিব।”

আবার বলা হয়;
“গুরু ধরব শতশত মন্ত্র শিখব যত যার
মনের কালি দূর করবে যে দোহাই দিব তার।”

মহাত্মা লালন সাঁইজি স্বয়ং বলেছেন;
“তাইতো; বলি ওরে কানা,
সর্বজীব হয় গুরুজনা,
চৈতন্য-গুরু করো সাধনা,
তাতে কর্মদোষ যায়।” (পবিত্র লালন- ৬৩৭/৩)

আধ্যাত্মিক জ্ঞানহীন অজ্ঞ ও ধান্ধাবাজ গুরু-গোঁসাইরা বলে থাকেন যে; “একাধিক গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করা যায় না।” এটি; সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অমূলক ও অবিশ্বাস্য কথা। এমন কথা কখনই বিশ্বাস করা যায় না। এ প্রসঙ্গে কবি কামিনী রায় লিখেছেন;
“জগৎজুড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানানভাবে নানান জিনিস শিখি দিবারাত্র।”

অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় জর্জরিত হওয়া ও নোংরা রাজনীতির দুর্বলতার সুযোগে যতসব বিভ্রান্ত মতবাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে স্বর্গনীড় সোনার বাংলাদেশ। এদেশের যত্রতত্র আগাছার মতো গিসগিস করে গজিয়ে ওঠেছে যতসব ভণ্ডপির, গল্পসার বক্তা, কণ্ঠসার বাউল, হাতুড়ে চিকিৎসক, নোংরা রাজনীতিজীবী, অন্ধ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ ব্যবসায়ী, জ্ঞানহীন গণক, আনাড়ী বৈদ্য, অনভিজ্ঞ সাপুড়ে, অজ্ঞ জিনবাজ ও ভুতরাজ কবিরাজ। এরা মানুষের কাছ থেকে কেবল টাকাই হাতিয়ে নেওয়া জানে, মানুষকে কেবল বিপদের মুখেই ঠেলে দিতে পারে কিন্তু দিতে পারে না বাস্তব কিছু।

বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে শিক্ষা নিতে হবে। কারণ; বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০টি রাষ্ট্র থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর কোনো দেশেই এত পির, এত আখড়া, এত উরশ, এত বাউলগান, এত পালগান, এত মাজার, এত মসজিদ, এত ইজতেমা, এত ওয়াজ ও এত উগ্রবাদী দল নেই। পৃথিবীর বড় বড় দেশে মাত্র কয়েকটি সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের লোক বাস করে। কিন্তু; ক্ষুদ্র বাংলাদেশেই প্রায় ৫০টির অধিক সাম্প্রদায়িক মতবাদের লোক বাস করে। বর্তমানে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের ধুরন্ধর সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদ-জীবিদের বিনা পুঁজির লাভজনক রমরমা এসব ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তাদের অভয় বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের এখন সজাগ হতে হবে। সত্যপথ, দর্শন ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে আবার একাত্তরের মতো গর্জে উঠতে হবে।

বিভিন্ন কারণে একাধিক গুরুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করা যায়। যেসব কারণে একাধিক গুরুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করা যায় তা হলো;

১.    গোঁসাই বা গুরু যদি প্রয়াণলাভ করেন। তখন অন্য গোঁসাই বা গুরুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করা সর্বক্ষেত্রে ও সর্ব ঘরানাতেই বৈধ বা সিদ্ধ রয়েছে।
২.  গোঁসাই বা গুরু যদি জীবনের তরে দেশান্তরী হন। যেমন; অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তবে; অন্য গোঁসাই বা গুরুর নিকট শিষ্যত্বপদ গ্রহণ করতে কোনো দোষ নেই।
৩.  যদি কোনো কারণে একই দেশে, এক অঞ্চল হতে অন্য কোনো অঞ্চলে গুরু বা শিষ্যের যে কোনো একজনের হঠাৎ স্থানান্তরের কারণে- তাদের মধ্যে ব্যবধান এত অধিক হয় যে গোঁসাই বা গুরুর সাথে সাক্ষাত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন ক্ষেত্রে গোঁসাই বা গুরুর নিকট হতে অনুমতি সাপেক্ষ অন্য গোঁসাই বা গুরুর নিকট পুনঃ শিষ্যত্ব গ্রহণ করা যায়। এমন ক্ষেত্রে গোঁসাই বা গুরু যদি অনুমতি না-ও দেয়, তবুও; অন্যগুরু গ্রহণ করতে কোনো দোষ নেই।
৪.  যদি কোনো কারণে গুরু ও শিষ্যের মধ্যকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এরং কোনো ক্রমেই গুরুর সহচার্য লাভের সম্ভবনা না থাকে তবে অন্যত্র শিষ্যত্ব গ্রহণ করা যায়।
৫.  চুরি, দস্যুতা ও নরহত্যা ইত্যাদির মতো বড় বড় দোষ কোনো গোঁসাই বা গুরুর মধ্যে পাওয়া গেলে এমন গুরু পরিত্যাগ করে অন্য কোনো গুরুদেবের নিকট শিষ্যত্বপদ গ্রহণ করতে কোনো দোষ নেই।
৬.  উচ্চ আত্মদর্শন শিক্ষালাভের জন্য গোঁসাই বা গুরুর অনুমতি সাপেক্ষ অসংখ্য গোঁসাই বা গুরুর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করা যায়। এমন ক্ষেত্রে গোঁসাই বা গুরুর অনুমতি না পেলেও উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য গোঁসাই বা গুরুর নিকট শিষ্যত্বপদ গ্রহণ করা যায়।
৭.  গোঁসাই বা গুরু যদি আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব বা দিব্যজ্ঞান না জানেন ও না বুঝেন তবে অন্য গোঁসাই বা গুরুর নিকট দীক্ষাগ্রহণ করা সর্বকালে সর্বস্থলেই সিদ্ধ।

বর্তমান প্রেক্ষাপট (Current situation)
১.    গোঁসাই বা গুরুর শিষ্যবর্গ যদি এত অধিক হয় যে; লোকের ভিড়ে তিনি নিজ নিজ শিষ্য চিনতে অসমর্থ। তবে; আত্মতত্ত্ব/ আত্মদর্শন/ দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান ও শ্বরবিজ্ঞানের জ্ঞানার্জনের জন্য এমন গোঁসাই বা গুরু পরিত্যাগ করে সঙ্গে সঙ্গেই অন্য সাধকগোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।
২.   গোঁসাই বা গুরুর আশ্রমে আত্মতত্ত্ব/ আত্মদর্শন/ দেহতত্ত্ব, পরম্পরাতত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান ও শ্বরবিজ্ঞান শিক্ষাদীক্ষার পরিবর্তে যদি কেবল মিলাদ, সামা, কাওয়ালি, গজল, জিকির, গান, নৃত্য, সাম্প্রদায়িক উপাসনা (পূজা/ ধ্যান/ প্রাণায়াম ও নামাজ) চলতে থাকে- তবে এমন গোঁসাই বা গুরু পরিত্যাগ করে আত্মতত্ত্ব জ্ঞানী সাধকগোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।
৩.   যে সব গোঁসাই বা গুরু শিষ্যদের আত্মতত্ত্ব/ আত্মদর্শন/ দেহতত্ত্ব, পরম্পরা-তত্ত্ব, দিব্যজ্ঞান ও শ্বরবিজ্ঞান শিক্ষার ব্যবস্থা না করে কেবল শিষ্য বাড়ানোর প্রতিযোগীতার লিপ্ত থাকে এবং শিষ্য বাড়ানোর জন্য অডিও/ ভিডিও প্রচার করে থাকে- সে সব গোঁসাই বা গুরু পরিত্যাগ করে সাধক-গোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।
৪.   সর্বপরি গোঁসাই বা গুরু গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো, নিজকে চেনা, সনাতনী পদ্ধতিতে শুক্রনিয়ন্ত্রণ করা, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদগুলোর প্রকৃত আত্মদর্শন জানা ও আত্মশুদ্ধি করা। গ্রহণকৃত গোঁসাই বা গুরুর নিকট এসব উদ্দেশ্য অর্জন না হলে উক্ত গোঁসাই বা গুরু পরিত্যাগ করে সঙ্গে সঙ্গে সাধক গোঁসাই বা সাধকগুরুর নিকট পুনঃদীক্ষা গ্রহণ করা সবার একান্ত প্রয়োজন।

গুরু হওয়ার যোগ্যতা (The minimum qualifications of preceptor)
গুরুপদ গ্রহণ বা গুরু হওয়ার জন্য, একজন সাধককে অবশ্যই প্রথমে আত্মশুদ্ধি করতে হবে। আত্মশুদ্ধি করার মূল অস্ত্রই হলো জ্ঞান। জ্ঞান ভিন্ন নিজের আত্মশুদ্ধি করা যায় না। গুরু নিজের আত্মশুদ্ধি করতে না পারলে, শিষ্যের আত্মশুদ্ধি করবেন কিভাবে?

১.   গুরুপদ গ্রহণ করতে হলে, তাঁকে অবশ্যই নিজ মাতৃভাষা, ইংরেজি ও আরবি এ তিনটির যে কোনো একটি শিক্ষাক্রমের সর্বশেষ পদবি অর্জন করতে হবে। যেমন; বাঙালীদের জন্য বাংলায় স্নাতকোত্তর, ইংরেজ ও আরবিদের জন্য তাদের স্বস্ব মাতৃভাষায় তার সমমানের পদবি।
২.   ঘারনিক গুরুদেবের নিকট হতে, আত্মতত্ত্ব বা পরাজ্ঞানার্জন করতে হবে। এতে অন্তত একযুগের সাধন ও পাকা ঘারনিক গুরুদেবের সহচার্য একান্ত প্রয়োজন। গুরুদেবের পাশেপাশে বা গুরুদেবের সাথে সাথে থেকে গুরুবৃত্তির বাস্তব-জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তা না হলে নিজে গুরুবৃত্তি করতে গিয়ে পদে পদে বিপদের সমম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনাই অধিক।
৩.   প্রচলিত ঘারনিক ও সাম্প্রদায়িক জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
৪.   প্রচলিত বিজ্ঞান ও দর্শন জ্ঞান অবশ্যই অর্জন করতে হবে।
৫.   গুরুপদ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সর্বপ্রকার ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় বৃত্তি পরিহার করতে হবে। কারণ; কোনো বৃত্তিতে নিয়োজিত থেকে, কখনও স্বাধীনভাবে গুরুবৃত্তি করা যায় না। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য প্রয়োজন বোধে নিজে স্বাধীন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে।
৬.   গুরুবৃত্তি করার আকাঙ্ক থাকলে, বিবাহের পূর্ব হতেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান গ্রহণ করা যাবে না। সন্তান গ্রহণের পরে শিষ্যত্ব গ্রহণকারীদের প্রসঙ্গ ভিন্ন। গুরু গোঁসাইগণেরও উচিত সন্তান গ্রহণকারীদের গুরুপদ না দেওয়া। এক সন্তানের জনক গুরুপদ পাবার জন্য বিবেচনাধীন। অন্যদিকে; একাধিক সন্তানের জনকগণ কোনো ক্রমেই গুরুপদ গ্রহণ করতে পারবেন না। এজন্য; কোনো গুরু গোঁসাই একাধিক সন্তানের পিতাকে গুরুপদ দান করতে পারবেন না। যদিও কোনো গুরু গোঁসাই এমন কাজ করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। বিশ্বের সর্বজান্তা হলেও একাধিক সন্তানের পিতা গুরু হতে পারবেন না।
৭.   গুরু বা গোঁসাইপদ গ্রহণের জন্য সর্ব সাম্প্রদায়িক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যেন সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক মতবাদের লোকজনদের সাম্প্রদায়িক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান দান করা সম্ভব হয়।
৮.   সাম্প্রদায়িক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈজ্ঞানিক রীতিনীতির বিরোধী কোনো পথ বা মত কোনো গুরু গোঁসাই ব্যক্ত করতে পারবেন না।
৯.   কৃচ্ছ্বতা সাধন বা অলৌকিক চমৎকারগুলো দেখিয়ে কোনো গুরু মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। যদি এমন করেন তবে তিনি অবাঞ্ছিত বলে প্রমাণিত হবেন।

গুরুর-দ্বায়িত্ব প্রদানের নিয়মাবলী (The providing rules of preceptor-responsibilities)
গুরুপদ (বাপৌছ)বি গুরুবৃত্তি, গুরুবৃত্তি করার দায়িত্ব, শিষ্যদের দীক্ষা ও ভেদ প্রদানের দায়িত্ব {বাং.গুরু+ বাং.পদ}

গুরুপদ প্রদান করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কোনো শিষ্যের মধ্যে, গুরু হওয়ার যোগ্যতা বিকশিত হলে কেবল তাঁকেই গুরুপদ প্রদান করা যায়। সব শিষ্যকেই গুরুপদ দেওয়া যায় না। যে শিষ্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও ঘারনিকশিক্ষা সমাপন করতে সক্ষম হয়েছে, সাথে সাথে ধীশক্তি, বিনয়, ভক্তি, প্রেম ও বিশ্বাসের পূর্ণতা অর্জন করেছে কেবল তাঁকেই গুরুপদ প্রদান করা যায়। আত্মজ্ঞানীগণের বর্ণনা অনুসারে; গুরুপদ প্রদানের কয়েক প্রকার নিয়ম লক্ষ্য করা যায়। গুরুপদ প্রদানের কয়েকটি নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো।

. প্রথম নিয়ম (The first rule)
শিষ্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপণান্তে- ঘারনিকশিক্ষাও সমাপণ করবেন। অতঃপর; স্ব-শুক্র নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ আরম্ভ করবেন। শুক্র নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হওয়ার পর, সাঁই সাধন আরম্ভ করবেন। অতঃপর; কামসাধন দ্বারা সাঁই আহরণ করে, তা গুরুদেবকে জানাবেন। গুরুদেব সাঁই নামক উক্ত মানবজল নিয়ে, আশ্রমে উপস্থিত হওয়ার সময় নির্ধারণ করবেন। অতঃপর; তিনি গুরুদেবের আমন্ত্রণ অনুযায়ী উক্ত মানবজল নিয়ে, গুরুদেবের আশ্রমে উপস্থিত হবেন। অন্তত তিন হতে চারবার এমন মানবজল আহরণের পর, উক্ত ব্যক্তি গুরুপদ গ্রহণের প্রার্থিও হতে পারবেন। নিজে প্রত্যক্ষভাবে সাঁই আহরণকারী, এমন মহান সাধক যদি গুরুপদ প্রার্থী হন।

তবে গুরুদেব একটি বিশেষ গোপন সভার আয়োজন করবেন। তিনি বিশেষ বিশেষ ও প্রবীণ প্রবীণ শিষ্যগণকে উক্ত গোপন সভায় উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রণ করবেন এবং গুরুপদ প্রার্থির জন্য- শ্বেতবর্ণের ধুতি, ওড়না, উষ্ণীষ ও কোপনি নির্মাণ করাবেন। অতঃপর; বিশিষ্ট জনদের উপস্থিতিতে গুরুদেব কঠিন-মানুষ হয়ে তরল-মানুষ আখেটি করার দুঃসাধ্য সাধনটির আলোচনা করবেন। মানুষ সাধনবলে এ দুর্লভ সাধনটিও যে করতে পারেন তা তিনি সবিস্তারে আলোচনা করবেন। অতঃপর; তিনি সর্ব সম্মুখে আহরণকৃত উক্ত সাঁই বা মানবজল বের করে সবাইকে দেখাবেন। সবাইকে বুঝিয়ে দিবেন যে ইনিই হলেন পালনকর্তা, ইনিই হলেন উপাস্য লালন, ইনিই হলেন মানবের প্রকৃত উপাস্য, এটি;ই হলো মানুষের দেহ হতে আহারিত তরল-মানুষ। এনিই হলেন- সাধকের মনের-মানুষ প্রেমের-মানুষ অচিন-মানুষ ও ভাবের-মানুষ। সাধনবলে এ সাধক এ সাঁইয়ের সন্ধানলাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। এজন্য; তিনি আজ হতে সাঁইজি।

গুরুদেব নিজ হাতে উক্ত মানবজল উপস্থিত সবাইকে অল্পঅল্প করে পান করাবেন। এ মানবজল পানই অনুষ্ঠানের প্রসাদ রূপে গণ্য হবে। এ মানবজল ব্যতীত অদ্য সভায় আর কোনো প্রসাদ প্রদান করা যাবে না। এটি;ই হলো সর্বোত্তম অনুষ্ঠান এবং এটি;ই হলো সর্বোত্তম প্রসাদ। স্বর্গীয় এ প্রসাদ পানের পর মর্ত্যীয় অন্য কোনো প্রসাদের প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট থাকে না। এ সময় উপস্থিত বিশিষ্ট শিষ্যগণ গুরুদেবকে ভক্তি প্রদান করবেন। অতঃপর; সবাই একত্রে “আলেক সাঁই” বলে ধুপ ধুনাসহ জোকার দিতে দিতে- ধুতি, ওড়না, উষ্ণীষ ও কোপনি পাপনি পরিয়ে দিবেন। অতঃপর; মানবজল আহরণকারী সাধক গুরুদেবকে, চতুর্ভক্তি প্রদান করার পর সর্বশেষে সাষ্টাঙ্গ ভক্তি প্রদান করবেন। গুরুদেব উপস্থিত সবাইকে নিয়ে সাঁইভক্তি (হাতের চিৎপার্শ্ব দ্বারা) প্রদান করবেন। এ ভক্তি দ্বারা প্রমাণ করা হয় যে আজ হতে গুরু ও শিষ্য কর্মগুণে একস্তর প্রাপ্ত হয়েছেন। অর্থাৎ; গুরু ও শিষ্য আজ হতে উভয়ই গুরু। এ বৈঠকেই গুরুদেব ঘোষণা করে দিবেন যে আজ হতে অমুক আমার প্রতিনিধি। আমার অবর্তমানে আপনারা তাঁকে গুরু রূপে মান্য করবেন। এখন হতে আপনারা তাঁর নিকট হতে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

. দ্বিতীয় নিয়ম (The second rule)
শিষ্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপণান্তে- ঘারনিকশিক্ষাও সমাপণ করবেন। অতঃপর; স্ব-শুক্র নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ আরম্ভ করবেন। শুক্র নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হওয়ার পর সাঁই সাধন আরম্ভ করবেন। অতঃপর; কামসাধন দ্বারা সাঁই আহরণ করে তা গুরুদেবকে জানাবেন। গুরুদেব মানবজল নিয়ে আশ্রমে উপস্থিত হওয়ার সময় নির্ধারণ করবেন। গুরুদেবের আমন্ত্রণ অনুযায়ী উক্ত মানবজল নিয়ে তিনি গুরুদেবের আশ্রমে উপস্থিত হবেন। যদি তিনি এমন সাধন করতে ব্যর্থ হন তবে তিনি কুম্ভক সাধনের মাধ্যমে কোপনি গ্রহণ বা গুরুপদ গ্রহণ করবেন।

চারজানু আসনে বসে প্রতিদিন কুম্ভক সাধন করবেন। অর্থাৎ; নাসিকার বাইয়ে শ্বাসের বারো আঙ্গুলি গতি হ্রাস করতে আরম্ভ করবেন। সর্বশেষে শ্বাসের গতি নাসিকার ডগা পর্যন্ত এসে সীমাবদ্ধ হলে নাসিকায় হাত দিয়েও যখন তার শ্বাস প্রশ্বাসের গতি অনুভব করা যাবে না তখন তিনি গুরুদেবকে জানাবেন। গুরুদেব বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। অতঃপর; উক্ত অনুষ্ঠানে গুরুদেব তাঁকে প্রয়াত বলে ঘোষণা করবেন। উক্ত অনুষ্ঠানে গুরুদেব তাঁকে শববৎ স্নান করানো ও স্নান শেষে শববসন পরিধান করানোর আদেশ করবেন। অতঃপর; শব স্নানগুলো শেষে তাঁকে শববহন কাষ্ঠাসনে করে চারজনে কাঁধে নিয়ে চৌদ্দক্রোশ অর্থাৎ; চৌদ্দধাপ গমন করবেন। অতঃপর; কাঁধ হতে কাষ্ঠাসন নামিয়ে বিশ্রাম করবেন। এভাবে তিন বিশ্রাম পরে তাঁকে কাষ্ঠাসন হতে নামিয়ে শববসন মুক্ত করবেন। অতঃপর; নতুন নির্মাণকৃত শ্বেতবর্ণের কাপড়ের পাপনি, ওড়না, কোপনি ও উষ্ণীষ পরিয়ে, ভক্তি ভজন সমাপন করবেন। অতঃপর; সাতস্তর কাপড় দ্বারা চক্ষু বন্ধন করে চৌদ্দবাড়ি ভিক্ষা করে এনে, তা রান্না করে ভিক্ষান্ন প্রসাদ ভোজন করাবেন। লালন ঘরানার মনীষীগণের মতে- এ দিবস হতে কোপনি গ্রহণকারী আর সংসার জীবন যাপন করতে পারবেন না। এজন্য; তিনি প্রকৃত সাধু রূপে গণ্য হবেন। একই বৈঠকে গুরুদেব ঘোষণা করে দিবেন যে; আজ হতে অমুক আমার প্রতিনিধি। আমার অবর্তমানে আপনারা এঁকে গুরু রূপে মান্য করবেন। এখন হতে আপনারা তাঁর নিকট হতে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

. তৃতীয় নিয়ম (The third rule)
প্রাতিষ্ঠানিক বা আশ্রমভিত্তিক কোনো জ্ঞান-বিদ্যা অর্জন না করেও কেবল গুরু প্রদত্ত গোপন নামটি জপনা করতে করতে যদি হঠাৎ কোনো শিষ্যের স্তনের মাংসপিণ্ডটি নড়াচড়া আরম্ভ করে, একে তারা হৃদোন্মোচন বলে থাকেন। অজ্ঞ সাধকরা হৃদোন্মোচন হওয়াকে গুরুপদ প্রাপ্তির উপযুক্ত হওয়া বলে মনে করেন। এজন্য; কোনো শিষ্যের হৃদোন্মোচন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা তাকে গুরুপদ দান করেন। এ নিয়মটি একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ; যে কোনো লোক ইচ্ছা করলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যার যার স্তনের মাংসপিণ্ডটি নাচাতে পারেন। এজন্য; নামজপনা করার কোনো প্রয়োজন হয় না। এজন্য; স্তনের মাংসপিণ্ডটি নাচানোকে গুরুপদের মত এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রাপ্তির মাপকাঠি নিরূপণ করা একেবারেই অযৌক্তিক। এজন্য; বলা যায় এ পদ্ধটি মনগড়া ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

উপরোক্ত দুটি পদ্ধতি ভিন্ন গুরুপদ প্রদানের কোনো নিয়ম পরাম্পরাবিদ্যায় নেই। তবে; অজ্ঞ সাধকরা কেউ কেউ তৃতীয় নিয়মের দ্বারাও গুরুপদ প্রদাণ করে থাকেন। তৃতীয় নিয়মে গুরুপদ প্রদান করা আত্মদর্শনে গ্রহণযোগ্যতা নেই। এছাড়াও; যারা পত্র দ্বারা মৌখিকভাবে বা আলাপীর মাধ্যমে গুরুপদ দান করে থাকেন সেগুলোকে ঘারনিক বিদ্যার গুরুপদ প্রদান বলা যায় না। সেগুলো একান্ত মনগড়া ও ঠুনকোভাবে নির্মিত পদ্ধতি। পত্র দ্বারা মৌখিকভাবে ও আলাপীর মাধ্যমে গুরুপদের মতো দুর্লভপদ প্রদান করা, বিশ্বের কোনো শ্বরবিজ্ঞানীই সমর্থন করেন না। এজন্য; এগুলোকে ঘারনিক পদ্ধতিও বলা যায় না। আর এভাবে গুরুপদ প্রাপ্তদেরকে গুরুদেব বলা যাবে না। বরং তাদের মূর্খ বলাই যুক্তিযুক্ত হবে। কারণ; গুরুপদ এত সহজ নয় যে। মাত্র ২০০০/= টাকার বিনিময়ে, গুরুদেবের মেয়েকে বিবাহ করার বিনিময়ে বা গুরুদেবের সাথে দু বছর ভ্রমণ করে পাওয়া পদ কখনই গুরুপদ হতে পারে না। প্রকৃত আত্মজ্ঞানী মনীষীগণের মতে; গুরুপদ উপরোক্ত দুটি বিধিমালার মাধ্যমে দেওয়া হয়। কিন্তু সমাজে প্রচলিত পির, ফকির, শায়িক্ব ও মাশায়িক্বরা পত্র দ্বারা, মৌখিকভাবে, আলাপীর মাধ্যমে কিংবা যেন তেনভাবে গুরুপদ দিয়ে থাকেন। ঘারনিক গুরুপদ ও পির ফকিরের গুরুপদ প্রদান ও মান্যতার বিচারের দায়িত্ব সুবিজ্ঞ পাঠককুলের ওপর ছেড়ে দিলাম।

গুরু-গোঁসাইয়ের কার্যক্রম (The activities of guru-preceptor)
শিষ্যদের আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার সময়, সব গুরু গোঁসাইদের নিচে বর্ণিত বিষয়াদি মেনে চলা একান্ত আবশ্যক। তা না হলে শিষ্যগণ পূর্ণজ্ঞানী হয়ে গড়ে উঠতে পারবেন না।

১.   অপ্রচলিত ও বিদেশী পরিভাষাগুলোর অর্থ বুঝা ও হৃদয়ঙ্গম করা শিষ্যদের পক্ষে অসম্ভব। এজন্য; অপ্রলিত ও বিদেশী পরিভাষাগুলোর আভিধানিক, পারিভাষিক ও ব্যবহারিক অর্থ শিষ্যদের অবশ্যই বুঝিয়ে দিতে হবে।
২.   বাংলা পরিভাষাগুলো বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, আরবি পরিভাষাগুলো আরবি নাহু ছরফ অুনুযায়ী এবং ইংরেজি পরিভাষাগুলো ইংরেজি গ্রামার অনুযায়ী অবশ্যই বুঝিয়ে দিতে হবে।
৩.   গ্রন্থে উল্লিখিত পরিভাষা বিষয়ে ও সংখ্যার সূত্রগুলো পৃথক পৃথকভাবে উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিতে হবে।
৪.   মূল গ্রন্থের কঠিন কঠিন বাক্যগুলোর জন্য, সহজসহজ বাক্য গঠন করে, বুঝিয়ে দিতে হবে।
৫.   কোনো বিষয়ের প্রকারগুলো বুঝানোর সময়, তার সব প্রকার উল্লেখ করে, তার কারণসহ বুঝিয়ে দিতে হবে।
৬.   একটি বিষয় বুঝানোর সময় যথা সম্ভব সর্ব মতবাদ ও সর্ব ঘরানার প্রাথমিক ধারণা অবশ্যই শিষ্যদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও ঘারনিক মতবাদের তুলনামূলক আলোচনা করতে হবে।
৭.   পুরাণ ও আত্মতত্ত্ব ভালোভাবে জানে না; এমন কোনো গোঁসাই বা গুরুর কখনও সাম্প্রদায়িক ও ঘারনিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়া উচিত নয়।
৮.   জন সাধারণের বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান পরিধির সীমা বহির্ভূত, উচ্চস্তরের কোনো বর্ণনা সাধারণ জনসভায় করা যাবে না। জনৈক মনীষী বলেছেন; “তোমরা লোকজনের জ্ঞানের পরিধি বুঝে কথা বলো, যেন তারা সহজে বুঝতে পারে।”
৯.   গুরু গোঁসাইগণ তাদের বক্তৃতার দ্বারা কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদ, দল, ঘরানা ও ব্যক্তি বিশেষের নাম উল্লেখ করে, বিরোধিতা করতে পারবেন না। তবে; বিশৃংখলার সম্মুখীন হতে হবে।
১০. বক্তৃতার সময় গুরু গোঁসাইগণের হাঁসিঠাট্টা করা উচিত নয়। কারণ; তাতে শ্রতাদের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়।
১১.  বক্তৃতার সময়ে গুরু গোঁসাইদের মনগড়া কথা বলা উচিত নয়। কারণ; তাতে অনেক ভুল কথা ও ভুল সিদ্ধান্ত সৃষ্টি হতে পারে। প্রমাণহীন মনগড়া কাহিনী দ্বারা শ্রোতাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
১২.  বক্তৃতার মধ্যে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি, দুবার বা তিনবার পর্যন্ত পুনঃপুন বর্ণনা করে, শ্রোতাদের হৃদয়ঙ্গম করাতে প্রচেষ্টা করতে হবে।

গুরুপদ রহিত হওয়ার কারণাদি (Reasons to repealed preceptor-responsibilities)
সাঁইসাধন ও কুম্ভসাধনে কৃতকার্য হওয়ার পরই কেবল গুরুপদ গ্রহণ করতে হয়। গুরুপদ গ্রহণ করে, যদি এ পদের মর্যাদা রক্ষা করা না হয়, তবে অবশ্যই গুরুপদ রহিত হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে; যে; গুরুপদ ধ্বংসকারী উপসর্গ অনেক। তবে; তারমধ্যে; অর্থ ও নারী এ দুটিই গুরুপদ ধ্বংসকারী প্রধান উপসর্গ। গুরুপদ রহিত হওয়ার কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

১.   গুরুপদ গ্রহণ করার পর- যদি কোনো গুরু শিষ্যদের সম্মুখে প্রদত্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তবে অবশ্যই তার গুরুপদ রহিত হয়ে যায়।
২.   গুরুপদ গ্রহণ করার পর- যদি কোনো গুরু কোনো অর্থ আত্মসাৎ করে এবং তা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিচারালয়ে প্রমাণিত হয়, তবে তার গুরুপদ রহিত হয়ে যাবে। এ অবস্থায় কোনো শিষ্য এমন ব্যক্তিকে গুরু বলে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
৩.   গুরুপদ গ্রহণ করার পর- যদি কোনো গুরু নারীঘটিত কোনো অপকর্মে লিপ্ত হয় এবং তা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিচারালয়ে প্রমাণিত হয়, তবে তার গুরুপদ চিরতরে রহিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় কোনো শিষ্য এমন ব্যক্তিকে গুরু রূপে গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
৪.   গুরুপদ গ্রহণ করার পর- গুরুপদ প্রাপ্তব্যক্তি- যদি চৌর্য দস্যুতা অপহরণ মিথ্যা ও যে কোনো হত্যা যজ্ঞের সাথে জড়িত হয়, তবে তার গুরুপদ চিরতরে রহিত হয়ে যাবে।
৫.   গুরুপদ গ্রহণ করার পর- গুরুপদ প্রাপ্তব্যক্তি- যদি কোনো মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, তবে তার গুরুপদ চিরতরে রহিত হয়ে যাবে।
৬.   গুরুপদ গ্রহণ করার পর- গুরুপদ প্রাপ্তব্যক্তি- যদি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত হয়, তবে তার গুরুপদ চিরতরে রহিত হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!