মূর্তিপূজা

৯৪/১. মূর্তিপূজা
Idolatry (আইডোল্যাট্রি)/ ‘الوثنية’ (আলওয়াছানিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সন্তানপালন পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক প্রকৃত মূলক সত্তা সন্তানপালন। এর বাঙালী পৌরাণিক সহযোগী মূলক সত্তা সন্তানগ্রহণ। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা পুত্তলিপূজা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা সাকারপূজা

অভিধা (Appellation)
মূর্তিপূজা (বাপৌরূ)বি প্রতিমাপূজা, পুত্তলিপূজা, সাকার উপাসনা, idolatry, ‘الوثنية’ (আলওয়াছানিয়া) (শ্ববি) সন্তানপালন, বংশধর প্রতিপালন, নিজের খণ্ডাংশ প্রতিপালন, nurse a child, তারবিয়াতুল আওলাদ (.ﺗﺭﺒﻴﺔ ﺍﻻﻮﻻﺪ) (ব্য্য) নিরঞ্জন না ভজে বীর্যপাতরূপ মরণ দ্বারা নিজেই জরায়ুতে প্রবেশ করে সন্তানরূপ নিজমূর্তি প্রস্তুত করে তার সেবাযত্নরূপ পূজায় রত হওয়া (রূপ্রশ) সাকরণ, প্রতিমাপূজা, সাকার উপাসনা (ইংপ) breeding, rearing (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সন্তানপালন পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা (সংজ্ঞা) ১. সাধারণত; যে কোনো মূর্তির আরাধনাকে বাংলায় ‘মূর্তিপূজা বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, ঔরসজাত সন্তান লালনপালন করাকে রূপকার্থে ‘মূর্তিপূজা বলা হয় (বাপৌছ) সাকার পূজা (বাপৌউ) পুত্তলি পূজা (বাপৌরূ) মূর্তিপূজা (বাপৌমূ) সন্তানপালন {বাং. মূর্তি + বাং. পূজা}

মূর্তিপূজার সংজ্ঞা (Definition of idolatry)
সাধারণত; যে কোনো মূর্তির আরাধনা করাকে মূর্তিপূজা বলে।

মূর্তিপূজার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of idolatry)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; সন্তান লালনপালন করাকে মূর্তিপূজা বলে।

মূর্তিপূজার প্রকারভেদ (Variations of idolatry)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে মূর্তিপূজা দুই প্রকার। যথা; ১. জড়-মূর্তিপূজা ও ২. জীবন্ত-মূর্তিপূজা।

. জড়-মূর্তিপূজা (Inert idolatry)
সাধারণত; যে কোনো জড় পদার্থ দ্বারা প্রস্তুত মূর্তির পূজা করাকে জড়-মূর্তিপূজা বলে। যেমন; দুর্গাপূজা, কালীপূজা।

. জীবন্ত-মূর্তিপূজা (Alive idolatry)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; যে কোনো জীব লালনপালন করাকে জীবন্ত মূর্তিপূজা বলে। যেমন; সন্তানপালন।

আবার, বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মূর্তিপূজা দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান মূর্তিপূজা ও ২. উপমিত মূর্তিপূজা।

. উপমান মূর্তিপূজা (Analogical idolatry)
সাধারণত; যে কোনো মূর্তির আরাধনা করাকে উপমান মূর্তিপূজা বলে।

. উপমিত মূর্তিপূজা (Compared idolatry)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; ঔরসজাত সন্তান লালনপালন করাকে উপমিত মূর্তিপূজা বলে।

মূর্তিপূজার পরিচয় (Identity of idolatry)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর সন্তানপালন পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। যে কোনো মূর্তির আরাধনা করাকে মূর্তিপূজা বলা হয়। যে কোনো শক্তি আকার ধারণ করে মূর্তমান হওয়ার পর তাতে কল্যাণ ও মঙ্গল আছে ভেবে তার ভজন ও পুজন করাই মূর্তিপূজা। শক্তি মূর্তমান হওয়ার পূর্বে অনেক কাজ সহজেই করতে পারে। যেমন;  বাতাস সাগরে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে পারে। আবার স্থলে বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙ্গে সব একাকার করতে পারে কিন্তু বাতাস ধরে তরল বা কঠিন করে মূর্তমান করলে সে আর কোনো কাজ করতে পারে না। আবার তাকে কঠিন হতে তরল এবং বাতাসের তরল অবস্থা হতে বায়বীয় রূপে বিমূর্ত করে ছেড়ে দিলে সে আবার বায়ুমণ্ডলের বিশাল বায়ুস্তরের সঙ্গে মিশে গিয়ে আবার বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতে থাকে। এ হতে বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে মূর্তি বা মূর্তিপূজা ত্যাগ করে বিমূর্ত-সত্তার পূজা, অর্থাৎ; কেবল বায়বীয় ও তরল পদার্থের পূজা করতে বলা হয়েছে। যেমন;  শুক্র বের না করে দেহের মধ্যে রেখেই তাকে শক্তি রূপে পূজা করতে বলা হয়েছে। তবে; সুধা ও মধুর ক্ষেত্রে বিমূর্তকে মূর্ত করে বা নিরাকারকে সাকার রূপে নির্মাণ করে তার ভজন ও পূজন করার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উপকারী বস্তু সুধা ও মধু ব্যতীত সব মূর্তির চেয়ে বিমূর্তের শক্তি অনেক অধিক। তাই; শুক্র ও সুধাকে সর্ব সাম্প্রদায়িক গ্রন্থে শক্তি রূপেই রাখতে বলা হয়েছে। এ দুটি শক্তিকে বিমূর্ত হতে মূর্ত করে একটির সাথে অন্যটির মিশ্রণ করে সন্তান সৃষ্টি করে তার লালনপালনরূপ মূর্তিপূজা করা হতে শুক্রকে দেহে শক্তি রূপে এবং সুধাকে মূর্ত রূপে পূজা করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে; সন্তানকে মূর্তি এবং সন্তান লালনপালন করাকে মূর্তিপূজা বলা হয়। সন্তানরূপ মূর্তিপূজার চেয়ে দেহের শুক্রশক্তি ও সুধারসের পূজা করা অধিক উত্তম। সন্তান লালনপালনরূপ মূর্তিপূজা করার দ্বারা মানুষ দৈহিক ও মানসিক কোনো উপকার পায় না কিন্তু শুক্রশক্তির পূজা করায় আয়ু বাড়তে থাকে, এমনকি; যৌবনও অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়। আবার জ্ঞানও ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকে। আবার সুধারসের পূজার দ্বারা চুল ও দাড়ি সহজে পাকে না, এমনকি; কোনো কোনো ক্ষেত্রে আজীবনই চুল ও দাড়ি পাকে না। আবার আত্মজ্ঞান ঘরানার অনেক মনীষীই বলে থাকেন; “সুধারস সেবনে অধিক আধ্যাত্মিক জ্ঞানের উদয় হয়।”

একদিকে যেমন; সন্তান সৃষ্টি করে তার প্রতিপালন করতে গেলে শুক্র শক্তির পূজা কোনমতেই সম্ভব হয় না; অন্যদিকে; তেমনই; সুধারসের পূজাও করা যায় না। ঠিক বিপরীতক্রমে শুক্রশক্তি ও সুধারসের পূজা করতে গেলে কখনই সন্তান সৃষ্টি করার সময় পাওয়া যায় না। আবার একই সঙ্গে সন্তানপূজা এবং শুক্র ও সুধার পূজাও করা যায় না। এজন্য; বিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক গ্রন্থ বা মহা গ্রন্থাদিতে এ দুয়ের যে কোনো একটি পরিত্যাগ করে অন্যটির পূজা করতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে সন্তান সৃষ্টি করে তার লালনপালনরূপ মূর্তিপূজা করার চেয়ে শুক্রশক্তি ও সুধারসের পূর্জা বা উপাসনা করা অধিক উত্তম। গর্ভজাত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে পুনরায় গর্ভ পরিষ্কার হতে গড়ে কোনো রমণীর বারো (১২) মাস আবার কোনো রমণীর এর চেয়েও অধিক সময় লেগে থাকে। যারফলে; প্রতি মাসে বসিধ, সাঁই ও কাঁই- এ তিনজন দেবতার অবতরণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিমাসে তিনজন হলে বছরে (১২ × ৩) ছত্রিশজন (৩৬) দেবতা হয়। তাই; বলা হয় এক সন্তানই ছত্রিশজন (৩৬) দেবতার হত্যাকারী। কারণ; গর্ভ পরিষ্কার থাকলে প্রতিমাসে বসিধ, সাঁই ও কাঁই তিনজন দেবতা অবতরণ করেন কিন্তু গর্ভে সন্তান থাকলে তারা কেউ আর অবতরণ করেন না।

একই সঙ্গে শুক্রশক্তি ও সুধারস এবং সন্তানের উপাসনা করতে না পারার কারণ হলো; সন্তান সৃষ্টির জন্য শুক্রক্ষরণ করতে হয়। যারফলে; শুক্রশক্তির ঘাটতি হয়। আবার গর্ভে সন্তান সৃষ্টি হওয়ার পর সুধারস আর আহরণ করা যায় না। তারপর; সন্তান লালনপালন করার জন্য অর্থ উপার্জন ও পার্থিব বিভিন্ন কাজকর্ম অবশ্যই করতে হয়। এসব কারণে শুক্রশক্তির ও সুধারসের পূজা করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে; শুক্রক্ষরণ বন্ধ করে সন্তান সৃষ্টি করা বন্ধ করলে; দেহ সর্বদা সুঠাম থাকে অন্যদিকে; প্রতি মাসেই সুধারস আহরণ করা অত্যন্ত সহজ হয়। এ কারণে; একই সঙ্গে যুগপৎভাবে আকার ও নিরাকার বা মূর্ত ও বিমূর্ত পূজা করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। এজন্য; সর্বপ্রকার শ্বরবিজ্ঞানে; আকার ছেড়ে নিরাকার বা মূর্ত ছেড়ে বিমূর্ত পূজা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মূর্তিপূজার দার্শনিক ব্যাখ্যা (The philosophical explantion of idolatry)
মূর্তিপূজার দার্শনিক ব্যাখ্যাকে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।

প্রথমত (Firstly)
শ্বরবিজ্ঞানে; সন্তান লালনপালনকে মূর্তিপূজা বলা হয়। অন্যদিকে; এটি; কোনো ক্রমেই অন্যায় নয়। কারণ; প্রজাতি টিকিয়ে রাখার জন্য সৃষ্টিকুলের সব জীবেরই যার যার সন্তান সৃষ্টি করা এবং তা লালনপালন করা একান্ত প্রয়োজন। সন্তান সৃষ্টি করা ও তা প্রতিপালন করাই জীবকুলের চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে একাধিক সন্তান গ্রহণ করা ও তা লালনপালন করা মূর্তিপূজারই সমপর্যায় নয় কী?

দ্বিতীয়ত (Secondly)
হিন্দুরা যেসব প্রতিমা নির্মাণ করে প্রতিমাপূজা করে থাকেন তা কোনমতেই শুধু-শুধু মূর্তিপূজা নয়। সাম্প্রদায়িক হিন্দু মনীষীগণ যেসব প্রতিমাপূজা করে থাকেন; তারমধ্যে; রয়েছে আত্মদর্শনের বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার। ইংরেজিতে বলা হয়- “Great minds discuss idea, average minds discuss event and poor minds discuss people.” অর্থ; “জ্ঞানীদের আলোচনা দর্শন, সাধারণ লোকের আলোচনা ঘটনাবলী এবং সংকীর্ণদের ব্যস্ততা পরচর্চায়।” উদাহরণত; দুর্গাপূজার কথা। দুর্গতিনাশিনী ও বিপদনাশিনী মা দুর্গার বাহন মহিষ, তিনি বধ করেন মহিষাসুর। তাঁর হস্ত ১০টি। তিনি পরমাসুন্দরী তাই তাঁকে পরমা প্রকৃতিও বলা হয়। তিনি হলেন বিশ্বের আদিকারণ। বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; তিনি হলেন শিবপত্নী।

প্রপক (Extensive)
পরমাপ্রকৃতি, বিশ্বের আদিকারণ ও শিবপত্নী। মহিষাসুর দেবতাগণকে স্বর্গ হতে বিতাড়িত করে স্বর্গরাজ্যলাভ করেন। অবশেষে দেবতাগণ বিপন্ন হয়ে স্বয়ং ব্র‏হ্মার শরণাপন্ন হন। ব্রহ্মা, শিব ও দেবতাগণের সঙ্গে নিয়ে বিষ্ণুর কাছে গিয়ে তাদের দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন এবং তাদের বিপদ হতে রক্ষা করতে অনুরোধ করেন। কারণ; ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর পুরুষের অবাধ্য হয়েছে। বিষ্ণু তখন বলেন যে; এ অসুরকে বধ করতে হলে নিজ-নিজ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়ে, স্বস্ব শক্তির কাছে এমন প্রার্থনা করতে হবে যে; এ সমবেতভাবে উৎপন্ন শক্তি হতে যেন এক নারীমূর্তি আবির্ভূতা হন। এ নারীই অসুরকে বিনাশ করবেন। এমন উক্তি শুনে ব্রহ্মা, শিব, বিষ্ণু, ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতা দেহ হতে শক্তি নির্গত হয় এবং এ সমবেত শক্তিরাশি হতে এক নারীমূর্তি আবির্ভূতা হন। সব দেবতা তাদের নিজ-নিজ অস্ত্রাদি তাঁকে দান করেন। এ দেবী মহিষাসুরকে তিনবার বধ করেন। প্রথমবার অষ্টাদশভুজা উগ্রচণ্ডা রূপে, দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার দশভুজা দুর্গা রূপে। রাত্রে ভদ্রকালীর মূর্তি স্বপ্নে দেখে মহিষাসুর এ মূর্তির আরাধনা করেছিলেন। দেবী মহিষাসুরের কাছে এলে মহিষাসুর বলেন, “আপনার হাতে মৃত্যুর জন্য কোনো দুঃখ নেই কিন্তু আপনার সঙ্গে আমিও যাতে সবার দ্বারা পূজিত হই, তারই ব্যবস্থা করুণ।” দেবী তখন বললেন, “উগ্রচণ্ডা, ভদ্রকালী ও দুর্গা- এ তিন মূর্তিতে তুমি সব সময় আমার পদলগ্ন হয়ে দেবতা, মানুষ ও রাক্ষসদের পূজা হবে।” (দেবী ভাগবত, মার্কণ্ডেয় চণ্ডী ও কালিকা পুরাণ)

সত্যযুগে সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য দুর্গামূর্তি প্রস্তুত করে তিনবছর পূজার্চনা করেছিলেন। ত্রেতাযুগে রাবণ চৈত্রমাসে বসন্তকালে দুর্গাদেবীর পূজা করতেন। সেজন্য; এ পূজা বাসন্তীপূজা নামে বিখ্যাত। রামচন্ত্র অকালে বোধন করে রাবণ বধের জন্য এ পূজা করেছিলেন। উপরোক্ত বিবরণাদি ও দেবীমূর্তির নির্মাণ কৌশলগুলো হতে জানা যায় যে; অধিক কৌশল অর্জন ও ব্যবহার অধিক উপকারী। একটি প্রযুক্তি দ্বারা একটি কাজ করা যায় কিন্তু ১০টি প্রযুক্তি দ্বারা ১০টি কাজ করা যায়। এজন্য; মা দুর্গার ১০টি হাত ও অস্ত্রাদি দ্বারা কেবলই অধিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত বুঝায়। অর্থাৎ; মা দুর্গার ১০টি হাত মানবের ১০টি ইন্দ্রিয়রূপ প্রযুক্তির প্রকাশ্য প্রতীক।

এছাড়াও; মা দুর্গার অত্র প্রতিমা হতে মানুষের সব ইন্দ্রিয়ের যথাযথ ব্যবাহর করার প্রকাশ্য ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাধারণত; মানুষের ইন্দ্রিয় ১০টি। কিন্তু মানুষ অনেক ইন্দ্রিয়ের সঠিক ব্যবহার জানে না। যারা নিজের ইন্দ্রিয়াদির সঠিক ব্যবহার জানে না তারাই পায়জামা গরম করা কথা বলতে অধিক অভ্যস্ত। যেমন;  নাসিকার কাজ ৫টি। যথা; ১.প্রাণবায়ু (অম্লজান) গ্রহণ করাদেহের কার্বণ (কয়লা) ত্যাগ করা ৩.পুত্র-কন্যা উৎপাদন ইঙ্গিত প্রদান করা ৪.শুক্রনিয়ন্ত্রণ কাজে সাহায্য করা ও ৫.অমৃত মানবজল আহরণ কাজে সাহায্য করা। মানুষ নাসিকা ব্যবহার করে বটে কিন্তু এর সঠিক ব্যবহার জানে না। তাই; বলা যায় পূজার জন্য নির্মিত এসব প্রতিমা মানুষের ইন্দ্রিয়াদির সঠিক ব্যবহার করার বলিষ্ঠ ইঙ্গিত বহন করে।

মূর্তিপূজার আত্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা (The theological explantion of idolatry)
সাধারণ মানুষের জন্য একটি সন্তানরূপ মূর্তিপূজা করা বৈধ। অন্যদিকে; মহা-মানবগণের জন্য এটি একটি বড় পাপ এবং এটি; একেবারেই শোভনীয় নয়। কারণ; সন্তান সাধনপথের চরম অন্তরায়। এখানে; দুর্গা শুক্র, ১০টি হাত মানুষের ১০টি ইন্দ্রিয়। বাহন মহিষ মানবদেহ, মহিষাসুর ও স্বামী শিব স্বয়ং শিশ্ন। তবে; মহিষাসুর কোথাও কোথাও চন্দ্রচেতনা রূপেও (যৌনোত্তেজনা) ব্যবহৃত হয়।

মূর্তিপূজার আত্মতাত্ত্বিক দর্শন (The theological philosophy of idolatry)
সাধককে ১০টি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে মৈথুনে চন্দ্রচেতনা বা কামবাসনারূপ অসুর বা মহিষাসুরকে বধ করেই শুক্ররক্ষা করতে হয়। অর্থাৎ; কাম হতে ক্রমে ক্রমে নিষ্কামী হতে হলে অবশ্যই কামবাসনারূপ মহিষাসুরকে বধ করতেই হবে। পরিশেষে বলা যায় দুর্গার প্রতিমা নির্মাণ করা ও পূজা করার দ্বারা কেবলই প্রত্যেক পুরুষকে শুক্র নিয়ন্ত্রণ করা বা কাম হতে নিষ্কামী হওয়ার শিক্ষাই দেওয়া হয়নি- সাথে সাথে মানুষের ইন্দ্রিয়াদির সঠিক ব্যবহারের ইঙ্গিতও প্রদান করা হয়েছে। তাই; একে শুধু শুধু মূর্তিপূজা বলা কখনই কারো উচিত নয়। অনুরূপভাবে দুর্গাপূজা, কালীপূজা, লক্ষ্মীপূজা ও সরস্বতীপূজাসহ কোনো পূজাকেই তাচ্ছিল্য বা অবজ্ঞা করা যাবে না। কারণ; ঐসব পূজার মূর্তিগুলো বা প্রতিমাগুলো নির্মাণের মধ্যে মানবজীবন পরিচালনা করার অসংখ্য পাথেয় লুকায়িত রয়েছে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!