যম

২৪/০৪. যম
Reaper (রিপার)/ ‘حصادة’ (হাসাদা)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর চন্দ্রচেতনা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক অশালীন মূলক সত্তা যৌনোত্তেজনা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপান্তরিত মূলক সত্তা চন্দ্রচেতনা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা আগুন। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা জ্বর ও ঝড়। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা শিখা এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা নরান্তক ও রৌরব

অভিধা (Appellation)
যম (বাপৌছ)বি সংযমন, অহিংসা, সত্যকথন, ব্রহ্মচার্য, একাগ্রচিত্তে ঈশ্বরের চিন্তা।
যম (বাপৌচা)বি মৃত্যু, মরণ, দণ্ডধর, কৃতান্ত, ধর্মরাজ, বিনাশক, Archangel, Reaper, ‘حصادة’ (হাসাদা), demolisher, death angel (প্র) মহিষবাহন, মৃত্যুর দেবতা, সব জীবের প্রাণ হরণকারী (শ্ববি) চন্দ্রচেতনা, কামোত্তেজনা, কামোদ্দীপনা, sexuality, ‘جنسانية’ (জেনাসানিয়া) (রূপ্রশ) আগুন, ইরম্মদ, প্রেমাগুন, হোমানল (ইপ) ‘حصادة’ (হাসাদা), নার (.ﻧﺎﺮ), নারইজাহান্নাম (.ﻧﺎﺮ ﺠﻬﻧﻢ), ফাওরাত আশশাবাব (.ﻔﻮﺮﺓ ﺍﻟﺸﺑﺎﺐ) (ইংপ) salacity, symphomania (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর চন্দ্রচেতনা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; বাঙালী পুরাণে মৃত্যুদূতকে যম বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মানুষের যৌনোত্তেজনাকে রূপকার্থে যম বলা হয় (বাপৌছ) নরান্তক ও রৌরব (বাপৌচা) যম ও শিখা (বাপৌউ) জ্বর ও ঝড় (বাপৌরূ) আগুন (বাপৌমূ) চন্দ্রচেতনা।

Reaper [রিপার] (ms) (GMP)n যম, মৃত্যুদূত, মৃত্যুর দেবদূত, annihilator, a total destroyer, ‘حصادة’ (হাসাদা), ‘المدمر’ (আলমুদাম্মির) {}
Reaper  (GMP)n A person or a machine that cuts and collects crops on a farm. a personification of death as a cloaked skeleton wielding a large scythe (Concise Oxford English Dictionary).

যমের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of Reaper)
১.   “পড়শি যদি আমায় ছুঁতো, যমযাতনা সকল যেত দূরে, সে আর লালন একখানে রয়, তবু সহস্র যোজন ফাঁকরে।” (পবিত্র লালন- ১২৯/৪)(মুখ; আমার বাড়ির কাছে”)
২    “ব্রাহ্মণ চণ্ডাল চামার মুচি, এক জলে সবার শুচি, দেখেশুনে হয় না রুচি, যমে তো কাউরে ছাড়বে না।” (পবিত্র লালন- ৪৬০/৩)
৩.   “মরাকে আর মারবি কত, বেন্ধে যমরশিতে, যমের কী আর সাধ্য আছে, আবার তারে মারিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৪.   “মানবকরণি সেরেসুরে, মরার আগে যেজন মরে, যমে আর ছুঁয় না তারে, মুক্তি পায় ভবের পর।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; কাঁইয়ের ধ্বজা ধররে সবাই”)
৫.   “সে যমেরে দেখিয়ে কলা, থাক বসে থাক সাধনতলা, সকাল বিকাল দুইবেলা, মাছ তুলে আন বড়শিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)(মুখ; পারিস যদি জিন্দামরা”)
৬.   “হক্ব নাম বলো রসনা, যে নাম স্মরণেরে মন, যাবে যমযাতনা।” (পবিত্র লালন- ৯৮১/১)

যমের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of Reaper)
১.   “অনুমানের ঘোড়ায় চড়ে, মথুরা মদিনায় ঘুরে, বিমানযোগে আকাশে উড়ে, চেনে না যমদুয়ার।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২.   “উজান ভেটেন দুটি পথ, ভক্তিমুক্তির কারণ সেতো, তাতে যায় না জ্বরামৃত যমের ঘর সে।” (পবিত্র লালন- ৫৭/৩)
৩.   “কখন আসবে যমেরচেলা, ভেঙ্গে যাবে ভবের খেলা, সেদিন হিসাব দিতে জ্বালা ঘটবে শেষে।” (পবিত্র লালন- ৫৭/২)
৪.   “কামের ঘরে কপাট মেরে, উজান দিকে চালাও রস, দমের ঘর বন্ধ রেখে, যমরাজারে করো বশ।” (পবিত্র লালন- ২৭৫/১)
৫.   “গুরু ধরো ত্রিতত্ত্ব সার, মায়াময় সংসার মিছে, আদিকরণ- জন্ম-মরণ, ঘুরে যম পিছেপিছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪০)
৬.   “চল্লিশতলা ভিত্তি ভবন, সাতাশতলা ঘরটি নিগম, তিনতলায় অমূল্য-ধন, চব্বিশজনে বায়ু ভরে, তিনজনে যোগাযোগ করে, দুই ফাঁকে নাকে ঘুরছে যম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৯)
৭.   “দ্বিপদিকাল চলে গেল, চতুষ্পদ যমকল, ষষ্ঠপদ ত্রিবেণীতে পলো, সাঁইদর্শন হলো না আর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৮)
৮.   “নিজের ধন নিজে চেনে না, সাধন হীনে কভু পায় না, মিছে করে যমগমনা, ওরে পড়িয়া রিপুর ধোঁকায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৬)
৯.   “পাপী অধম যার হিলা, তরে যাবে পারের বেলা, লালন বলে মন- কী করিস এখন, ভবে চিনলাম না রে যম।” (পবিত্র লালন- ৬৩১/৪)
১০. “বাড়াবাড়ি হলে কর্মে, ব্রজঘাটে ধরে যমে, লালন কয় পাষাণগণে, শুনে বৃন্দের ভর্ত্সনা।” (পবিত্র লালন- ৩০৬/৪)
১১.  “বাপে ঘরে যম আনিয়া, তার সাথে দিলোরে বিয়া, ঘর করলি যমেরে নিয়া, মাপকাঠিতে রইলি কম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৮)
১২.  “বারোজনা মাল্লাপ্রধান যখন সকলি ছাড়িবে, চৌদ্দতলা মাটির বাড়ি ধ্বসিয়া পড়িবে, নয় দরজা আটকুঠরী, বন্ধ যে করিবে যম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৬)
১৩. “ভাবের ছিপ প্রেমের সুতা, অনুরাগের আদার গাঁথা, যদি সে মীনে গিলে, লালন কয় পারের বেলা, যমেরে দেখিয়ে কলা, গুরু বলে পারের নৌকা খুলে।” (পবিত্র লালন- ১৫৯/৪)
১৪. “মদনযম হলে শাসন, গোলকধামে হয় বরিষণ, বলন কয় সাঁইদর্শন, হয়রে একদিন জীবনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৮৪)
১৫. “মূল শাখা ডাল আকাশে গাছের ফল ধরে পাতালে, গুরু কৃপায় কার ভাগ্যে তারই তাজা ফলটি মিলে, উল্টোবৃক্ষে ফল পাকিলে- গুরু খাইয়া শিষ্যে দিলে, ভবে মরার আগে মরিলে- যমদুত ভয়ে পালায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪৬)
১৬.  “যারে তারে ঈশ্বর বলা, বুদ্ধি নাই তার অর্ধতোলা, ঈশ্বরের হয় যমজ্বালা, ভেবেছ কী একবার মনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৪/৩)
১৭. “যেজন উন্মত্ত হয়েছে, গুরুর প্রেমডুরিতে, উজান বয়ে যায়রে সেজন, যমে তারে না পারে ছুঁতে।” (পবিত্র লালন- ৮৩১/১)
১৮. “রাসুল-মানুষের সঙ্গ নিলে, যমযাতনা যেত দূরে, লালন বলে রাসুলেরে, না চেনে পড়েছি ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৭/৪)
১৯.  “সদরে নজর হয়েছে যার, জন্ম-মৃত্যু ভয় কী আছে তার, সে না সাধন জোরে শমন আর, যম মেরে বসে আছে।” (পবিত্র লালন- ৯০৬/২)
২০. “সারূপ্য সামীপ্য সালোক্য সাযুজ্য মুক্তি, আদি বলছে যারা এসব মুক্তি, যদি পাই মুক্তি- কী যোগ যুক্তি, ভারা হয়ে রয় যমের প্রজা।” (পবিত্র লালন- ৪৪৬/২)
২১.  “সুকর্ম সারলি না রে মন, বিফলেতে গেল জনম, সাজ সজ্জায় বানলি টাট্টি, মারলি না বাপের যম।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৮)
২২. “হলো না রে সাধের ধানভানা, যমদুয়ারে আছাড় খেয়ে, হীন করলি দেহখানা।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০৮)।২৩. “হায়াত মউত পাতে লেখা, গাছ আছে চামে ঢাকা, গাছের গোড়া জলের ভিতর কিনা, যমদূত বসে ডালে- দৃষ্টি করলে, পাতা থাকে না।” (পবিত্র লালন- ৫১৩/৩)

যমের সংজ্ঞা (Definition of Reaper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মৃত্যুদূতকে যম বলে।

যমের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of Reaper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; দ্বিপস্থ জীবের কামবাসনাকে চন্দ্রচেতনা বা রূপকার্থে যম বলে।

যমের প্রকারভেদ (Variations of Reaper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; যম দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান যম ও ২. উপমিত যম।

. উপমান যম (Analogical Reaper)
সাধারণত সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষীদের রূপক বর্ণনা মতে; মৃত্যুদূতকে উপমান যম বলে।

. উপমিত যম (Compared Reaper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; দ্বিপস্থ জীবের কামবাসনাকে চন্দ্রচেতনা বা উপমিত যম বলে।

যমের পরিচয় (Identity of Reaper)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর চন্দ্রচেতনা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার কারণে; সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। জীবকুলের চন্দ্রচেতনা উদয় হওয়ার পর কামের যে প্রবল বাসনা অনুভব হয়। শ্বরবিজ্ঞানে প্রবল কামবাসনাই যম নামে পরিচিত। কামোত্তেজনা বা যম জীবকুলের সহজাত প্রবৃত্তি। শৈশব ও কৈশোরকাল পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই কামোত্তেজনা বা যমদেবতা নর ও নারী উভয় দেহেই আবির্ভূত হন। অতঃপর; প্রয়াণমুহূর্ত পর্যন্ত নর ও নারী উভয়েরই সঙ্গে সঙ্গে এ দেবতা বসবাস করেন। যথাসম্ভব পাকাগুরুর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মসংযম করলে; কামোত্তেজনা বা যমযাতনা হতে মুক্তিলাভ করা যায়। বাঙালী পুরাণে বর্ণিত যম দেবতাকে আরবীয় পুরাণে আযরাইল (.ﻋﺫﺭﺍﺌﻴﻞ), ইযরাইল (.ﻋﺯﺮﺍﺌﻴﻝ) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

প্রপক (Extensive)
১.    মহিষবাহন, মৃত্যুর দেবতা, সব জীবের প্রাণ হরণকারী দেবতা।
২.   “যম বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; দক্ষিণ দিক্পাল। সূর্যের ঔরসে ও সূর্যের স্ত্রী সংজ্ঞার গর্ভে যমের জন্ম। যম বৈবস্বত মনুর ভ্রাতা বা সহোদর।

স্বামীর শক্তি সহ্য করতে না পেরে ছায়াকে স্বামীর নিকটে রেখে সংজ্ঞা পলায়ন করেন। কিন্তু ছায়া সংজ্ঞার সন্তানদের যথোচিত আদর-যত্ন করতেন না বলে যম রাগান্বিত হয়ে বিমাতা বা সৎ মা ছায়াকে পদাঘাত করেন। বিমাতা ছায়া যমকে অভিশম্পাত করেন। যারফলে; যমের পদদ্বয় ক্ষত ও কীট-দষ্ট হয়। যম পিতা সূর্যকে সমস্ত বৃত্তান্ত জানালে সূর্য তার ক্ষতস্থানের পুঁজ ও কীট ভক্ষণের জন্য যমকে একটি কুকুর দান করেন। এ কুকুর ক্ষত হতে নির্গত পুঁজ ও কীট ভক্ষণ করাতে যম সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি তাঁর দুর্বল পায়ের জন্য মহিষ বাহনে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন। একবার ঋষি মাণ্ডব্য এক পতঙ্গের দেহে তৃণবিদ্ধ করেছিলেন বলে তিনি যমের আদেশে শূলবিদ্ধ হন এবং অণীর্মাণ্ডব্য নামে খ্যাত হন। অণীর্মাণ্ডব্যও ক্রুদ্ধ হয়ে যমকে মর্ত্যে জন্মগ্রহণের অভিশাপ প্রদান করেন। যারফলে; যম মর্ত্যে বিদুর রূপে জন্মগ্রহণ করেন। একবার যম পতিব্রতা সাবিত্রীর ব্যবহারে ও স্তবে তুষ্ট হয়ে তাঁর মৃত পতি সত্যবানকে পুনর্জীবিত করেন এবং সাবিত্রীর অন্ধ ও রাজ্যভ্রষ্ট শ্বশুরকে চক্ষু ও রাজ্য ফিরিয়ে দেন। অতঃপর; দক্ষ প্রজাপতির ত্রয়োদশটি কন্যাকে যম বিবাহ করেন। যমের ঔরসে এঁদের গর্ভে ত্রয়োদশটি পুত্র জন্মগ্রহণ করে। ১.শ্রদ্ধার গর্ভে সত্য ২.মৈত্রীর গর্ভে প্রসাদ ৩.দয়ার গর্ভে অভয় ৪.শান্তির গর্ভে গর্ব ৫.ক্রিয়ার গর্ভে যোগ ৬.উন্নতির গর্ভে দর্প ৭.বুদ্ধির গর্ভে অর্থ ৮.মেধার গর্ভে স্মৃতি ৯.তিতিক্ষার গর্ভে মঙ্গল ১০.লজ্জার গর্ভে বিনয় ১১.মূর্তির গর্ভে নর-নারায়ণ ১২.কুন্তীর গর্ভে যুধিষ্ঠির জন্ম হয়। ১৩.অন্য পুত্র হচ্ছে ধর্ম। যম স্বর্গের দেবতা হলেও নরকের অধীশ্বর। একজন্ম হতে পুনর্জন্মের দুষ্কৃতি বা অন্যায়ের পরিমাণ অনুসারে মানুষ সংসার রূপ নরকে প্রায়শ্চিত্ত করবার জন্য আসে। যমের পুরীর নাম সংযমনী। এঁর সম্মুখে বিরাজ করেন পাশমুগুরধারী ত্রিলোকসংহারক মৃত্যু, পার্শ্বে জলদগ্নিতুল্য মূর্তিমান কালদণ্ড, তাই তিনি দণ্ডধর নামে বিখ্যাত।

দেবগণের মধ্যে যম সর্বাপেক্ষা পুণ্যবান বলে এঁর অন্য নাম ধর্ম বা ধর্মরাজ। শান্তি ও নিবৃত্তি এনে দেন তাই তিনি শমন, অন্ত আনেন বলে তিনি কৃতান্ত বা অন্তক। পিতৃপুরুষের ওপর এঁর প্রাধান্য বলে ইনি পিতৃপতি। তিনি জীবের পাপ ও পুণ্যের বিচারকর্তা। পাপ-পুণ্য নিরূপণের কার্যে সাহায্য করার জন্য চিত্রগুপ্ত তাঁর মন্ত্রী। মানুষ মৃত্যুর পর নরকে গমন করলে সেখানে মন্ত্রী চিত্রগুপ্ত তাঁর গ্রন্থ হস্তে প্রত্যেকের পাপ-পুণ্যের বিবরণ বর্ণনা করেন। যমের দেহের বর্ণ সবুজ, তিনি রক্তবর্ণ পরিচ্ছদে ভূষিত। যমের দুইজন অনুচর, মহাচন্দ ও কালপুরুষ। যমের দূতগণ যমদূত নামে বিখ্যাত। এঁরা মৃত মানুষকে যমালয়ে নিয়ে আসে। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ৩টি সুক্ত যমের উদ্দেশ্যে নির্মিত এবং একটি সুক্তে যম ও তার ভগিনী যমীর কথোপকথন রয়েছে। যমের নাম প্রায় ৫০ বার ঋগ্বেদে উল্লেখিত হয়েছে। যম পুণ্যাত্মা প্রয়াতদের ও নেতৃগণের প্রধান। তিনি প্রথম মৃত হন। তিনি দেবতাগণের সঙ্গে একত্রে বৃক্ষের ওপর বাস করেন। যম দেবসহচর হলেও কোথাও তাকে দেবতা বলা হয় নি বরং যম হলেন রাজা। যম স্বর্গীয় পিতৃগণের সহচর। ঋগ্বেদে বিবস্বান ও সরণ্যুর সন্তান যম-যমী যমজ ভ্রাতা ও ভগিনী। যম যমীর সহবাস আকাঙ্ক্ষা করেন কিন্তু যমী তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঋগ্বেদে যমকে এভাবে বলা হয়েছে যে; দেবতা সকল ভূত জাতির পরিচিত কিন্তু পুণ্যবান বা পাপী সবার গন্তব্য পথের পরম সহায়। যে বিবস্বানের পুত্র, যে পক্ষপাতহীন হৃদয়ে কার্যফল অনুসারে জীবদের এক লোক হতে অন্য লোকে যাবার উপযুক্ত শরীর দান করেন। সে যম জীবমাত্রের রাজা বলে পরিচিত।

ঋগ্বেদের অনেক স্থলে যমকে বরুণ ও অগ্নির সঙ্গে একত্র বর্ণিত হতে দেখা যায়। কোনো স্থলে অগ্নি ও যম অভিন্নভাবে উল্লিখিত হয়েছেন। অর্থববেদে উল্লিখিত আছে, যমই মৃতদের আশ্রয় দেন ও ভবিষ্যদ্বাসের স্থান নির্দেশ করেন। যমের আত্মাই সর্বপ্রথম স্বর্গে গমন করে। বরুণের পাশের ন্যায় যমের পড়বিশ (পদবন্ধন) থাকে। যমের দূত পক্ষী, উলূক, কপোত এবং সারমেয়। যমের দূত সারমেয়দের চারটি চক্ষু, বিচিত্রবর্ণ ও বৃহৎ নাসিকা। তারা শীঘ্র তৃপ্ত হয় না। তারা যমের প্রহরী, পথরক্ষী। তারা সব ব্যক্তির পশ্চাৎপশ্চাৎ চলাফেরা করে। এরা যমের পথও রক্ষা করে। এদের সম্মুখে প্রেতাত্মারা দ্রুতবেগে চলতে থাকে। মনীষীগণের মতানুসারে এ দুই কুকুর সূর্য ও চন্দ্রের রূপক মাত্র।

‘মহাভারত’ এ দেখা যায় উদ্দালক মুনির অভিশাপে তাঁর পুত্র নচিকেতা যমালয়ে গমন করেন। সেখানে তিনি যমের সাথে সাক্ষাৎ করে গোমাহাত্ম্য ও গোদান মাহাত্ম্য শ্রবণ করে পিতার নিকট ফিরে আসেন। ‘কঠোপনিষদ’ এ উল্লিখিত রয়েছে- বাজশ্রবা রাজার পুত্র নচিকেতা। রাজা এক বিশাল যজ্ঞ করে তাঁর সমস্ত ধন দান করে দেন। তখন তাঁর পুত্র নচিকেতা পিতাকে জিজ্ঞাসা করেন, পিতা আমাকে কাকে দান করলেন? পুনঃপুন নচিকেতা এমন বাক্য উচ্চারণ করতে লাগলেন। এতে পিতা রাগান্বিত হয়ে পুত্রকে বললেন যে; তোমাকে যমের হস্তে দান করা হয়েছে। তখন নচিকেতা যমালয়ে গিয়ে তিনরাত্রি যমের জন্য অধীর অপেক্ষা করলেন। এতে যম সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বর দিলেন যে; তাঁর ইচ্ছা মতো তিনি আবার পিতার নিকট ফিরে গিয়ে মিলিত হবেন কিন্তু এ বরে নচিকেতা সন্তুষ্ট না হয়ে আত্মা সম্পর্কে প্রকৃততত্ত্ব যমের নিকট হতে জানতে চাইলেন। যম ধৈর্য্যসহকারে নচিকেতাকে আত্মতত্ত্ব শিক্ষা দিলেন।

‘মার্কণ্ডেয়’ পুরাণে লিখিত আছে; বিশ্বকর্মার সংজ্ঞা নামে এক কন্যা ছিল। সূর্যের সঙ্গে এঁর বিবাহ হয়। সংজ্ঞা সূর্যকে দেখে চোখ নির্মীলিত করেছিলেন, এতে সূর্য ক্রুদ্ধ হয়ে সংজ্ঞাকে অভিশাপ দেন। তাঁকে দেখে চোখ বন্ধ করেছেন বলে তাঁর গর্ভে যে পুত্র হবে সে পুত্র প্রজা-সংযম যম হবে। অর্থাৎ; প্রজাদের সংযম করবে। সংজ্ঞা সূর্যের এ অভিশাপে স্বামীর প্রতি আবার চঞ্চল দৃষ্টিপাত করেছিলেন। এতে সূর্য আবার বলেছিলেন- আমার প্রতি চঞ্চল দৃষ্টিপাত করাতে তোমার যে কন্যা হবে, সে চঞ্চলা নদী রূপে পরিণত হবে। কালক্রমে সংজ্ঞার গর্ভে এক পুত্র ও এক কন্যা জন্মগ্রহণ করে। পুত্রের নাম প্রজা-সংযম যম এবং কন্যার নাম যমুনা রাখেন। এ সূর্যকন্যা পরে যমুনা নদী হয়। যমলোক মানুষ্যলোক হতে ছিয়াশি হাজার (৮৬,০০০) যোজন ব্যবধানে অবস্থিত। যমরাজার পুরী চার হাজার (৪,০০০) যোজন দীর্ঘ এবং দুই হাজার (২,০০০) যোজন বিস্তৃত। সুউচ্চ স্বর্ণময় প্রাচীর দ্বারা এ সুরক্ষিত পুরী বেষ্টিত (গরুড়পুরাণ)। যম পুণ্যবান লোকদের দেখলে নারায়ণ রূপে দেখা দেন এবং পাপীদের দেখলে তিনি ভীষণ রূপ-ধারণ করেন।” (পদ্মপুরাণ)

যমের উপকার (Benefits of Reaper)
১.    যমের কারণে নর-নারীর দাম্পত্যজীবন স্থায়ী হয়।
২.   যমের দ্বারা জীবের বংশগতির ধারা রক্ষা হয়।
৩.   যমদেবতা না থাকলে জীবকুলের বংশবৃদ্ধি হতো না।
৪.   যমদেবতার কারণেই জীবকুল দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হয়।
৫.   যমদেবতার কারণেই জীবকুল বংশবৃদ্ধি করে এবং সন্তান পালনের বোঝা আপনাপন ঘাড়ে বহন করে।

যমের অপকার (Disservice of Reaper)
১.    অধিক যমযাতনা মানুষকে মনুষত্ব হতে পশুত্বে অবনমিত করে।
২.   যম জীবকুলকে শুক্রপাত সদৃশ মৃত্যু দ্বারা অচেতন করে আবার জন্ম সদৃশ পুনরুত্থান করে।
৩.   যমদেবতা শুক্রপাত সদৃশ মৃত্যু দ্বারা দ্বিপস্থ সব জীবের প্রয়াণসাধন করেন।

প্রামাণ্য গ্রন্থ (Authoritative books)
১.     ব্যবহারিক বাংলা অভিধান; বাংলা একাডেমী; ৭ম পুনর্মুদ্রণ; জ্যৈষ্ঠ ১৪১২/ জুন ২০০৫।
২.     পৌরাণিক অভিধান; নবম প্রকাশ; পৌষ ১৪১২; দাস অফসেট প্রসেসর; ২৫ গুলু ওস্তাগার লেন; কলকাতা-৭০০ ০৩৬।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!