রাত

৮২/২. রাত
Night (নাইট)/ ‘ﻠﻴﻝ’ (লাইল)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজকাল পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা রজকাল। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা অমাবস্যা। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা অমাবতীসিনানী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা কৃষ্ণপক্ষশনিবার

অভিধা (Appellation)
রাত (বাপৌউ)বি রাত্রি, রজনী, নিশি, নিশা, যামিনী, শর্বরী, night, ‘ﻠﻴﻝ’ (লাইল) (শ্ববি) রজকাল, ঋতুকাল, the period of menstrual discharge, মুদ্দাতুল হায়েজ (.ﻤﺪﺓ ﺍﻟﺤﻴﺾ) (রূপ্রশ) অপবিত্রতা, শনিবার, সিনানী, messenger period (ইপ) আইয়ামিবিজ (.ﺍﻴﺎﻡ ﺒﻌﺾ), নবুয়াত (.ﻧﺒﻮﺖ), শব (ফা.ﺸﺐ) (ইংপ) night, dust period (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজকাল পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা). সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে পুনঃ দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত সময়কে রাত বলা হয় . রজস্বলাদের রজকালকে রূপকার্থে রাত বলা হয় (বাপৌছ) কৃষ্ণপক্ষ ও শনিবার (বাপৌচা) অমাবতী ও সিনানী (বাপৌউ) রাত (বাপৌরূ) অমাবস্যা (বাপৌমূ) রজকাল।

রাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of night)
১.   “নিশিতে সূর্য উদয় কোন দেশে, দিনে চাঁদের আলো আসে (গো), চাঁদ-সুরুজ এক অক্ষে ভাসে, তাকালে কেউ দেখে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫)
২.   “বলন কয় যার শ্যামজ্বালা, সে কী গণে জপমালা, দিবানিশি রয় উতালা, প্রেমেরমালা লয় গলে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “রাত পোহালে পাখি বলে, দেরে খাই দেরে খাই, তখন গুরুকার্য মাথায় থুয়ে, কী করি কোথায় যাই।” (পবিত্র লালন- ৮৬৩/১)
৪.   “লালন বলে মরলাম জ্বলে, মরলাম জ্বলে নিশিদিনে, মণি-হারা ফণীর মতো, হারা হলাম পিতৃধনে।” (পবিত্র লালন- ৩১৬/৫)
৫.   “সাদা ও কালো দুটি শশী, আলো জ্বালায় দিবানিশি, চাঁদ কুড়াতে সাধু সন্ন্যাসী,  বসে রয় তেমাথায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৫)

রাতের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of night)
১.   “আমার মন বিবাগী ঘোড়া, দিবারাতে পারি না বাগ ফিরাতে, গুরু আমার বুটের দানা, খায় না ঘোড়া কোনমতে।” (পবিত্র লালন- ১৩১/১)
২.   “আলেক শহরে আজব কুদরতি, রাতে উদয় ভানু দিবসে চাঁদি, আলোর খবর যে জানে- দেখতে পায় নয়নে, লালন বলে চাঁদ দেখেছে তারা।” (পবিত্র লালন- ৪৩৫/৪)
৩.   “আল্লাহর হাতে কুরানখানি, নিচে আগুন ওপরে পানি, তারই মধ্যে ক্বাদিরগনি, ঐ নাম জপে দিবারাতে।” (পবিত্র লালন- ৮৩১/২)
৪.   “কলকাঠি যার পরের হাতে, তার ক্ষমতা কী জগতে, লেনাদেনা দিবারাতে, পরে পরে ভাই।” (পবিত্র লালন- ৮২৯/৩)
৫.   “কোথায় সূর্য রাতে উদয়, দিনেতে চাঁদ দেখা যায়, গুরু কৃপায় কেউবা দেখে, অন্যেরা মরে সাম্প্রদায়িকতার ধোঁকায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮২)
৬.   “চল্লিশজন উপপতি রাখে- পুরুষ মারে দিবারাতে, আত্মা হরে ভুরিভুরি- হাজার মাস করলে তাপন- তারে ভজে পতিভজন, থাকে না তার বাহাদুরি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩০)
৭.   “চাঁদ সুরুজ একই দিনে, চলে প্রভাত অপরাহেৃ, রাতে কোথায় রয় দু’জনে, শূন্যে ওঠে যায় কোথায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮২)
৮.   “চাও স্বাধীন ফকিরি নিতে, ঠিক হয়ে কবে ডুবলি তাতে, দেখি কেবল দিবারাতে, পেটপূজার টোল ভারী।” (পবিত্র লালন- ৯২৪/৩)
৯.   “দিবারাতে থেক সবে হুঁশিয়ারি, রাসুল বলেছেন এ দুনিয়া মিছে ঝকমারি।” (পবিত্র লালন- ৫২৩/১)
১০. “পানিকাউড় দয়ালপাখি, রাতদিন তারে জলে দেখি, হাবুডুবু করে মরল, তবুও; কাদা গায়ে মাখল না, আমার চিন্তাজ্বর তো গেল না গুরু উপায় বলো না।” (পবিত্র লালন- ৬২০/১)
১১.  “পাশাখেলতাম নিরজনে বান্ধব তোর সনে, আজ সুধাজলে মাখামাখি করতাম দু’জনে, রাত কাটে না প্রহর গণে, বিরহ ব্যথা সহে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)
১২.  “হিন্দুরা কয় কাশীধামে, মুসলমানরা কয় মদিনে, চাঁদের উদয় হচ্ছে দিনে, রাতে সে চাঁদ গুপ্ত রয়।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১৩. “পেতে সে ধনের সন্ধান, সাধুগণ রয় ত্রস্তবান, উপাসনা করে ঐ রাতে– পেলে সে সাঁইয়ের দরশন, থাকে না জীবের মরণ, চমৎকার দেহতরীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)
১৪. “বসত করি দিবারাতে, ষোল জন বোম্বেটের সাথে, যেতে দেয় না সরলপথে, সর্বকাজে করে দাগাদারি।” (পবিত্র লালন- ৫২১/২)
১৫. “মুর্শিদ বিনা কী ধন আর, আছেরে মন এ জগতে, যে নাম স্মরণে তাপিত অঙ্গ শীতল করে, ভববন্ধন জ্বালা যায়রে দূরে, জপ ঐ নাম দিবারাতে।” (পবিত্র লালন- ৭৯৯/১)
১৬.  “রাত কাটে না প্রহর গণে, বিরহ ব্যথা সহে না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)। ১৭. “রাতকানারে চরাতে যাই, দিনকানাই লয়ে, জ্ঞান-কানার সঙ্গ ধরে, পড়লাম বিষম ফেরে।” (পবিত্র লালন- ৮২০/২)

নিশির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of nightlife)
১.   “বৃন্দাবনে তারার সনে নিশি জাগিয়া, চন্দ্র-তারার মালা গেঁথে রাখছি তুলিয়া, রাঙাচরণ ভজব বলন, বুকেতে শোয়াইয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২.   “রোজ নিশিতে মথুরাতে দুয়ার খুলিয়া, আসবে বলে শ্যামকালা থাকি বসিয়া, তোমার দর্শন পাবার আশে, চিত্ত যায় উড়িয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)

নিশির কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of nightlife)
১.   “অমূল্য ধন মাণিক রতন, ঐ নিশিতে হয় বিতরণ, কলির জীবকে তরাতে- আপন ঘরে হয় বিতরণ, পেলে ধন হয় মহাজন, নিতাইশালের ত্রিবেণীতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)
২.   “অস্ত্রাঘাতের ব্যথা ঘা শুকালে যায়, প্রেমাঘাত করে জীবন সংশয়, জীবন যায় না দেখে, সে দিবানিশি মারে জ্বালাতন করি।” (পবিত্র লালন- ৬৫৪/৩)
৩.   “আমি ধরিয়া ঐ ভাব রশি, ভব সিন্ধু কূলে বসি, ডাকি তোমায় দিবানিশি, পার করিবে সেই আশায়।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৬)
৪.   “উঠরে ভাই নন্দের কানু, বাথানেতে বাঁধা ধেনু, গগনে ওঠেছে ভানু, আর তো নিশি নাই, কেন মায়ের কোলে ঘুমিয়ে রইলি, এখনও কী ঘুম ভাঙ্গে নাই।” (পবিত্র লালন- ২৫৬/২)
৫.   “ঊর্ধ্বদিকে দিবা হলে, অধঃদিকে নিশি বলে, আকাশ তো দেখে সকলে, খোদা দেখে কয়জনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৩/৩)
৬.   “একদিন গিয়েছিলাম সে যমুনার ঘাটে, কত কথা মনে পড়ল গো পথে, আমি রাধে সারানিশি কেঁদে কাটাই, তবু তো দেখা দিলো না।” (পবিত্র লালন- ২৫১/২)
৭.   “এক নিরীক্ষ দেখ ধনী, সূর্যগত কমলিনী, দিনে বিকশিত তেমনি, নিশিতে মুদিত রহে, তেমনি, যেন- ভক্তের লক্ষণ, এক রূপে বাঁধে হিয়ে।” (পবিত্র লালন- ৫০৬/৩)
৮.   “ও সে দেবপুরী কুলবালা, গলায় পতির মুণ্ডমালা, শতধামে রঙ্গলীলা, বলন কয় নিশিদিনে (গুরু গো)।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১১৪)
৯.   “কত শত মুনি ঋষি, যেই জ্ঞান শিখে দিবানিশি, হয়ে গহীন অরণ্যবাসী, ত্যাগী যোগী এ সংসারে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১২৩)
১০. “কানা চোরা চুরি করে, ঘর থুয়ে সিঁধ দেয় পাগারে, সারানিশি খেটে মরে, কানার ভাগ্যে ধন মিলে না।” (পবিত্র লালন- ৮৩৭/৩)
১১.  “ক্বায়িমি দিন হয় কিসে, দিবানিশি ভাবছি বসে, দায়িমী নামাজের দিশে, লালন ফকির জানায়।” (পবিত্র লালন- ৮০৯/৪)
১২.  “কার বাসরে নিশি কাটাও লীলাতে ডুবিয়া, গো শ্যাম রাধারে ভুলিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১৪. “কালাচাঁদকে হারিয়ে হলাম যোগিনী, দিবানিশি না জুড়ায় পরানি, লালন কয় কালার চরণ পেলাম না, এখন কেঁদে হবে কী।” (পবিত্র লালন- ৩৪২/৪)
১৫. “কে বুঝে শ্যাম তোমার লীলে, বলো গতনিশি কার কুঞ্জে ছিলে, বদনবিধ শুকিয়ে গেছে, কে তোমায় দিয়েছে দফা সেরে।” (পবিত্র লালন- ৯০২/৩)
১৬.  “গঙ্গা মা ঐ ডাকে শুনি, সঙ্গে তাহার নারদমুনি, পরশিব চরণখানি, গঙ্গা স্নানের নিশিতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৪৬)
১৭. “জাগ জাগ ও প্রাণনাথ দেখ পূর্ণিমা নিশে, মধুরনিশি যায় বইয়া যায় ঘুমে আলসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫১)
১৮. “তীর্থে দয়াল সাঁই দেখিতে, গঙ্গাস্নানে যাও নিশিতে, বারো মাল্লা লয়ে সাথে, পঞ্চবাণ অষ্টাঙ্গে বসে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭৮)।১৭৮
১৯.  “ত্রিধারা আটকুঠরী, দিবানিশি নয় প্রহর-ই, ষোল কলা আঠারপুরী, চব্বিশ-চন্দ্র সাতাশই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫৬)
২০. “দিনে কর পান ভোজন, নিশিতে কর উপবাসন, বুঝে কর উপোসসাধন, যাতে ধন্য হয় জীবন।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৭৯)
২১.  “দিবানিশি থাকো মন ঐ ধ্যানে, যার প্রতি হয় গুরুর দয়া, বিবাদ নাই তার কোনখানে।” (পবিত্র লালন- ৫২২/১)
২২. “দিবানিশি নয় প্রহরে, এক রূপে চাররূপ ধরে, বর্তমানে দেখলি না রে, ঘুরে মরলি বেদের ধোঁকায়।” (পবিত্র লালন- ১০০/৩)
২৩. “নিশি ছেড়ে দিবসে আসে, সখী নিধুয়া পাথারে বসে, দক্ষিণা বাতাস বুঝে সে, ফুঁক মেরে বাঁশী টানে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২৪. “নিশিদিনে চোরের হানা, কী ধন লুটে টের পায় না, বলন কয় সাঁই এলো না, মহাকাল শমন এলো।” (বলন তত্ত্বাবলী)
২৫. “পোহায়ে গেছে নিশি, শ্যাম তুমি হয়েছ দোষী, বাজাইও না বিষের বাঁশী, লালন কয় কিশোরী আছে মান করে।” (পবিত্র লালন- ৯০২/৪)
২৬. “বনে আছে অসুরের ভয়, কখন যেন কী দশা হয়, দিবানিশি তাইতো; সদাই, সন্দেহ মিটে না।” (পবিত্র লালন- ৪২০/৪)
২৭. “বান্ধব দিবানিশি করতো আদর রাখিয়া বুকে, অদিন-সুদিন বারোমাসই কাটত মহাসুখে, আমারে একেলা রাইখা, রইল কার বুকে ঘুমাইয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৪)
২৮. “বিদায় করো গো, তার মুখ দেখে আর কাজ নাই, গতকাল নিশি, রাখালরাজ ছিল কোথায়।” (পবিত্র লালন- ৬৯১/১)
২৯. “ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব তিনে, ভজে তোমায় নিশিদিনে, আমি জানি নাকো তোমা বিনে, যা করো তুমি এবার।” (পবিত্র লালন- ৪২/২)
৩০. “ভিক্ষা মেঙ্গে খাই চিরকাল ভবে নগরে-বন্দরে, আমি দিবানিশি ঘুরিফিরি কত দেশ দেশান্তরে, মারে দেশবাসী অহর্নিশি, কোথাও ছায়া নাহি পাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৭৯)
৩১. “মনে করো ও কমলিনী, তুমি তো প্রেমের সোহাগিনী, তাইতো; লালন ভনে প্রেমকাহিনী, রাই প্রেমে মগ্ন দিবানিশি।” (পবিত্র লালন- ৭২৫/৪)
৩২. “মায়ামদ খেয়ে মনা, দিবানিশি ঝোঁক ছোটে না, পাছবাড়ির ঊল হলো না, কে কী করে।” (পবিত্র লালন- ৭৩০/২)
৩৩. “মাল্লা প্রধান বারজনে, হল্লা করে নিশিদিনে, ছয়জনের যুক্তি নিয়ে- বড়পাঁজি মনাই মাঝি, নায়ে চালায় ভেলকিবাজি, তারে বুঝায় কী দিয়ে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২৯৪)
৩৪. “যারে ভাবলে পাপীর পাপ হরে, দিবানিশি ডাক মন তারে।” (পবিত্র লালন- ৪২/২)
৩৫. “যার ভাগ্য সে নিজে লেখে, নিজ কলমে নিজ খাতাতে, নিশি বরাতে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৭০)
৩৬. “শুভ নিশিতে গুরুর সাথে যার হইয়াছে মিলন, সপ্ততল পাতালে পায় সে রূপ অমূল্য-রতন, গুরুর বাড়ি শিষ্যের বাড়ি, এক ঘরে রয় দুইধনী।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৯২)
৩৭. “সকালবেলা চিকনকালা, এলে কী মনে করে, তুমি এলে হে নিশি-জাগা রাধার দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৯০২/১)
৩৮. “সারানিশি দেখ মনরায়, নানান পক্ষী এক বৃক্ষে রয়, যাবার বেলায় কে কারে কয়, দেহ-মন তেমনি সে যে।” (পবিত্র লালন- ৭৪৩/৩)
৩৯. “সারানিশি যোগ ধরিয়া একা ঘরে থাকি বসিয়া, পানিতে উদয় প্রাণনাথ দাসের বাতাসে মিশিয়া, গুরু বিনা দেয় না দেখা, ঐ নিশি হইলে প্রভাত।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৫০)
৪০. “সুরসিকে মৃণাল যোগে- নিশিতে যায় কুসুমবাগে, সেই গহীন বৃন্দাবন- সে কাননের তিনটি ধারা- ষোল জনে দেয় পাহারা, নয় প্রহরই নিশি-দিনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩০২)
৪১. “সে নদীর নালে খালে, আজব এক জাহাজ চলে, ত্রিবেণীতে বসে চালায় জাহাজখানা, দিবানিশি চালায় জাহাজ, কখনও সে ঘুমায় না।” (পবিত্র লালন- ৫২৯/৩)
৪২. “স্বর্গ হতে আত্মা ইন্দ্রিয় নামে নিধুবনে, মহান যোগ সমান হাজার মাস গণে, অতিবাহন হইলে নিশি– থাকে না রে কালশশী, আবার স্বর্গে যায়রে মিশি রহে না তার নিশানি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৬৪)
৪৩. “হাড্ডি ভাঙ্গিয়া গেলে, আবার জোড়া লয় শুকালে, মন ভাঙ্গিলে জোড়া লয় না- সুখে দুঃখে বারোমাসই, চেয়ে থাকি দিবানিশি, বন্ধু ফিরে এলো না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫০)
৪৪. “হৃদকমলে খেলছে আসি, জোয়ার ভাটা দিবানিশি, অমাবস্যার পর উদয় শশী, দেখ তার কারসাজি, সুধা বর্ষে রাশিরাশি, কে জানে সে রূপলীলে।” (পবিত্র লালন- ৬৮৭/৩)

সাধারণ রাত অর্থে রাতপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology night sense ordinary night)
১.   “নিদ্রাবেশে নিশি গেল, বৃথা কাজে দিন ফুরাল, চেয়ে দেখলি না, একবার গেলে আর হয় না, পড়ে কুক্ষণে।” (পবিত্র লালন- ৩৩৪/২)
২.   “পৃথিবী গোলাকার জানি, দিবানিশি ঘুরে আপনি, তাইতো; হয় দিনরজনী, জ্ঞানীগুণী তা মানে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৩/২)
৩.   “মাসেমাসে ভাড়া বাড়ায়, ওয়াসা বিদ্যুৎ গ্যাসের ছুতায়, পথে গাড়ির কালো ধোঁয়া, রাতে জ্বালায় মশা।” (বলন তত্ত্বাবলী)

রাতের ওপর একটি পূর্ণ বলন (A full Bolon on the night)
এমন মধুরনিশিতে বান্ধব কেন এলি না
জেগে থাকি তোর আশাতে একা নিশি কাটে না।

একবার উঠি একবার বসি বিষের বিছানায়
সারানিশি জেগে কাটে দারুন ব্যথায়
নয়ন-জলে বুক ভেঁসে যায়
পোড়াবক্ষ জুড়ায় না।

পাশাখেলতাম নিরজনে বান্ধব তোরই সনে
আজ সুধাজলে মাখামাখি করিতাম দু’জনে
রাত কাটে না প্রহর গণে
বিরহ ব্যথা সহে না।

আমার মধুরনিশি হলো বুঝি বিরহের রজনী
কার বুকে ঘুমাসরে বান্ধব তাও নাহি জানি
তুই বলনকে করলি উদাসী
তোর ছলনা বুঝি না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৩)

রাতের সংজ্ঞা (Definition of night)
সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে পুনঃ দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত সময়কে রাত বলে।

রাতের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of night)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; রজস্বলাদের রজকালকে রূপকার্থে রাত বলে।

রাতের প্রকারভেদ (Variations of night)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে রাত দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান রাত ও ২. উপমিত রাত।

. উপমান রাত (Analogical night)
সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর পুনঃ দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত সময়কে উপমান রাত বলে।

. উপমিত রাত (Compared night)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে রজস্বলাদের রজকালকে উপমিত রাত বলে।

রাতের পরিচয় (Identity of night)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর রজকাল পরিবারের অধীন একটি বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না।

সাধারণত; সূর্য অদৃশ্য হওয়ার পর হতে পুনঃ দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত সময়কে রাত বলা হয় কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; রজস্বলাদের রজকালকে রাত বলা হয়। উল্লেখ্য যে; সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে ব্যবহৃত রাত পরিভাষাটির দ্বারা কেবল রজকালকেই বুঝানো হয়। কারণ; মরমী, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণ কেবলই আত্মতত্ত্বনির্ভর ও আত্মদর্শনপ্রসূত। আত্মতত্ত্বনির্ভর বা আত্মদর্শন কেন্দ্রিক মরমী, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণকে খুষ্কমুষ্ক সাম্প্রদায়িক মনীষী ও বক্তারা সৌরজগৎ ও প্রকৃতি কেন্দ্রিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়েই সব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণগুলোকে একেবারেই লেজে গোবরে করে ছেড়েছেন। এখনও সাম্প্রদায়িক মনীষী ও বক্তাদের জানা উচিত যে; মরমী, সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুরাণে ব্যবহৃত রাত পরিভাষাটির দ্বারা কখনই সৌররাত, চান্দ্ররাত কিংবা ১২ ঘণ্টার রাত বা পঞ্জিকার রাত বুঝানো হয় না বরং রাত বলতে রজস্বলাদের রজকাল বা দেহপঞ্জিকার ৯ প্রহরের সর্বশেষ ৩ প্রহর বা স্রাবণ্য প্রহরকেই বুঝানো হয়। এবার আমরা বিষয়টি পাঠককুলের বিচারের অধীনে ছেড়ে দিতে চাই। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদিকে সর্বস্থলেই জীবনবিধান বলা হয়। সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদি যদি মানুষের জীবনবিধানই হয় তবে উক্ত গ্রন্থাদির মধ্যে কেবল জীবনের কথাই লেখা রয়েছে। যেহেতু; এখানে; রাত পরিভাষার আলোচনা চলছে। এজন্য; আমরা রাত বিষয়ের ওপরই থাকতে চাচ্ছি। বাংভারতের ব্যৈখ্যিক ও টৈকিকদের উচিত সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির মধ্যে রাত ও দিন ব্যাপারে কী কী আলোচনা রয়েছে? মানবের জন্য দৈহিকভাবে রাত কোনটি ও দিন কোনটি? রাতে করণীয় কী এবং দিনে করণীয় কী? ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে; রাত-দিন দ্বারা পবিত্র সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদি নির্মাণ করা হয়েছে, সে রাত-দিন সম্পূর্ণই পরিত্যাগ করে কোনো ব্যৈখ্যিক সৌররাত আবার কোনো ব্যৈখ্যিক চান্দ্ররাত দ্বারা দৈহিকরাতের ব্যাখ্যা করেছেন। আবার দিনের বেলায়ও তাই। কোনো ব্যৈখ্যিক সৌরদিন আবার কোনো ব্যৈখ্যিক চান্দ্রদিন দ্বারাই দৈহিকদিনের ব্যাখ্যা করেছেন। এখন বলা যায় ইতোপূর্বে সাম্প্রদায়িক গ্রন্থাদির কৃত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণগুলো পরিত্যাগ করা কত আবশ্যক! সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের মূল অংশটুকু ছাড়া মনগড়া সব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা সবার জন্যই একান্ত প্রয়োজন।

চান্দ্রবর্ষে রাত আগে আসার কারণ (Because the lunar year came before the night)
আরব্য অলি-আব্দালরা একটি রমণীদেহকে কেন্দ্র করেই তাদের চান্দ্রপঞ্জিকা নির্মাণ করেছেন। কারণ; সূর্যের চেয়ে চন্দ্রের সাথে রমণীদেহের মিল অনেক অধিক। উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে; রজকালকে রাত এবং পবিত্রতার ২৭দিনকে দিন বলা হয়। একটি সুস্থদেহী অরজা কিশোরীর দেহে রজকালরূপ রাত আগে উদিত হয় এবং পবিত্রতা পরে উদিত হয়। এজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে রাতকে আগে আগমনকারী বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য; সারাবিশ্বে প্রায় রাতদিনের তিনপ্রকার নির্ধারণ লক্ষ্য করা যায়। যথা; ১.বাংলা, ২.ইংরেজি ও ৩.আরবি। ১.বাংলা দিন গণনা করা হয় সকাল ছটা হতে পরবর্তী সকাল ছটা পর্যন্ত। ২.ইংরেজি দিন গণনা করা হয় রাত্র ১২টা হতে পরবর্তী রাত্র ১২টা পর্যন্ত ও ৩.আরবি দিন গণনা করা হয় সন্ধ্যা ৬টা হতে পরবর্তী সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। নারীদেহে রাত আগে ও দিন পরে আগমন করে বলেই চান্দ্রবর্ষের রাত আগে ও দিন আসা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!