রাধা

৮৭/১৩. রাধা
Vesper (ভেস্পার)/ ‘منوية’ (মিনাওয়্যিয়া)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা শুক্র। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা ধন। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন রুটি। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, সীতা সুন্দরী এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য, মহামায়া, মা স্বর্গীয় ফল

অভিধা (Appellation)
রাধা (বাপৌচা)বিস্ত্রী রাই, রাধিকা, শ্রীরাধা, শ্রীরাধিকা, বৃষভানুকন্যা, আয়ানপত্নী, কৃষ্ণপ্রিয়া, vesper, ‘منوية’ (মিনাওয়্যিয়া), humour (প্র) ১.শ্রীকৃষ্ণের প্রেমিকা গোপবালা। বৃষভানুর ঔরসে ও তাঁর স্ত্রী কলাবতীর গর্ভে শ্রীরাধার জন্ম হয় ২.বিশাখা নক্ষত্র (শ্ববি) শুক্র, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, semen, ‘.ﻤﻧﻰ’ (মনি), ‘.ﻧﻂﻔﺔ’ (নুত্বফা) (রূপ্রশ) গোবিন্দ, জল, বারি, পিতৃধন,  অহল্যা, কালী, দুর্গা, বৈষ্ণবী, সীতা (ইদে).ﺍﺪﻢ’ (আদম), ‘.عزى’ (উয্যা), ‘.ﺠﻦ’ (জিন), ‘ফা.ﭙﺮﻯ’ (পরি), ‘.الزكاة’ (যাকাত), ‘.ﻟﻮﻄ’ (লুত্ব), ‘ﻴﺯﻴﺪ’ (ইয়াজিদ) ‘.ﺯﻟﻴﺠﺎ’ (জুলেখা), ‘. ‘ﺯﻫﺭﺍﺓ’ (জোহরা), ‘.بلقيس’ (বিলকিস) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা). বাঙালী পৌরাণিক বৃষভানুকন্যাকে রাধা বলা হয়. শ্বরবিজ্ঞানে; শুক্রকে রূপকার্থে রাধা বলা হয় (বাপৌছ) আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য, মহামায়া, মা ও স্বর্গীয় ফল (বাপৌচা) দুর্গা, নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা ও সুন্দরী (বাপৌউ) অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন ও রুটি (বাপৌরূ) ধন (বাপৌমূ) শুক্র।

Humour [হিউমার] (GMP)n ১.রস, ধাতু, হাস্যরস, রসিকতা, রসবোধ, হাস্যকৌতুক, ‘فكاهة’ (ফুকাহা) ২.মানসিক অবস্থা, মনের গতি ক্রি তুষ্ট করা, মনোরঞ্জন করা, হাসিখুশি রাখা, প্রশ্রয় দেওয়া, মন জুগিয়ে চলা (প্র) মানুষের দৈহিক ও মানসিক গুণাবলীর নিয়ামক বলে কথিত (বায়ু, পিত্ত, কফ ও রক্ত) এ রস চতুষ্টয়ের যে কোনো একটি (শ্ববি) শুক্র, শুক্রাণু, বীর্য, বিন্দু, ধাতু, semen, ‘.ﻤﻧﻰ’ (মনি), ‘.ﻧﻂﻔﺔ’ (নুত্বফা) (বাপৌছ) আদিপিতা, আদিমানব, আদ্যাশক্তি, দৈত্য ও মা (বাপৌচা) নারাঙ্গী, বেহুলা, রতী, রাধা, সীতা ও সুন্দরী (বাপৌউ) অমির, আঙ্গুর, ধেনু, নির্যাস, পদ্ম, পিতৃধন, রুটি ও স্বর্গীয় ফল (বাপৌরূ) ধন (বাপৌমূ) শুক্র {}

প্রপক (Extensive)
১.শ্রীকৃষ্ণের প্রেমিকা গোপবালা। বৃষভানুর ঔরসে ও তাঁর স্ত্রী কলাবতীর গর্ভে শ্রীরাধার জন্ম হয়। ঈশ্বরজ্ঞানে তিনি কৃষ্ণকে দেহমন সমর্পণ করেন। শ্রীমদ্ভগবতে রাধার কোনো উল্লেখ নেই। কৃষ্ণ-প্রেমিকা এক সখীর উল্লেখ আছে মাত্র। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, দেবী ভাগবত ও পদ্মপুরাণে রাধার সম্বন্ধে এমন লিখিত আছে যে; গোলকধামে শ্রীকৃষ্ণের বামপার্শ্ব হতে রাধা উদ্ভুত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতে আরম্ভ করেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রাণের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। রাধা উদ্ভব হওয়া মাত্রই ষোল বছর বয়স্কা ও নবযৌবন প্রাপ্ত হন এবং রত্নখচিত সিংহাসনে শ্রীকৃষ্ণের বামপার্শ্বে আসীনা হন। এ সময় রাধার লোমকূপ হতে লক্ষ গোপিকা ও কৃষ্ণের লোমকূপ হতে সে পরিমাণ গোপ এবং গোগুলো উদ্ভব হয়। গোলোকে রাধার এরূপে জন্ম হয়। এ গোলোকের রাধা পরে বৃন্দাবনে এসেছিলেন। কিভাবে তিনি বৃন্দাবনে আসেন সে সম্বন্ধে ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে এমন লেখা রয়েছে- একবার শ্রীকৃষ্ণ গোলোকের বৃন্দাবনের রমাবনে রমণ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইচ্ছা প্রকাশ করা মাত্র তার দেহ হতে শ্রীরাধা উৎপন্ন হলেন। এ সময় শ্রীকৃষ্ণ দ্বিধা বিভক্ত হয়ে দক্ষিণাঙ্গে কৃষ্ণমূর্তি ও উত্তরাঙ্গে রাধার রূপধারণ করলেন। রাধা নিজের স্বামীকে কামাতুর দেখে তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। এজন্য; তাঁর নাম হলো রাধা। ‘রা’ অর্থ; লাভ করা, অর্থাৎ; মুক্তিলাভ করা ‘ধা’ অর্থ; ধাবমান হওয়া, অর্থাৎ; হরির পদে ধাবমান হওয়া। এ রাধা সুদামের শাপে বৃন্দাবনে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং মর্ত্যে জন্ম গ্রহণের পূর্বে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা গোলোকে অবস্থান করেছিলেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ একবার রাধিকাকে বঞ্ছনা করে বিরজা নামে এক গোপিনীর সঙ্গে মিলিত হন। চারজন দূতী এ সংবাদ রাধিকাকে জানালে তিনি সঙ্গীসহ কৃষ্ণের অনুসন্ধান করেন।

কৃষ্ণসখা সুদামা রাধার আগমন সংবাদ কৃষ্ণকে দিয়ে পলায়ন করেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ রাধার ভয়ে বিরজাকে ত্যাগ করে অন্তর্নিহিত হন। বিরজা ক্রোধে প্রাণত্যাগ করে নদী রূপে প্রবাহিত হলেন। রাধা সে স্থানে কাউকে না দেখে স্বস্থানে ফিরে আসেন। পরে কৃষ্ণের দেখা পেয়ে তাঁকে ভর্ৎসনা করেন। সুদামা কৃষ্ণের প্রতি রাধার এ আচরণ সহ্য করতে না পেরে রাধাকে তিরস্কার করেন। এতে রাধা ক্ষুব্ধ হয়ে সুদামাকে অসুর যোনিলাভ করার অভিশাপ দেন। সুদামাও ক্ষুব্ধ হয়ে রাধাকে অভিশাপ দেন যে; তুমি গোলোক হতে ভূতলে অবতীর্ণ হয়ে গোপগৃহে গোপকন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করবে এবং শতবর্ষ কৃষ্ণবিরহ সহ্য করবে। শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীর ভার ধারণের জন্য তোমার সঙ্গে মিলিত হবেন। রাধার অভিশাপে সুদামা অসুর যোনিপ্রাপ্ত হয়ে শঙ্খচূড় নামে খ্যাত হলেন এবং সুদামার শাপে রাধা বৃষভানু কন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করলেন। রাধাকৃষ্ণ লীলা বাংভারতীয় সাম্প্রদায়িক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জ্ঞান ব্যতিরেকে ‘ভক্তির’ সাহায্যে ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়া যায়- রাধা ও গোপীদের জীবনের এ মূলসূত্র। শ্রীকৃষ্ণের বাঁশী অনন্তের আহ্বানে প্রতীক। এখানে; এতটুকু জেনে রাখা প্রয়োজন যে; শ্রীকৃষ্ণ হলো ‘কাঁই’ এবং রাধা হলো ‘শুক্র’।

২.সারথি অধিরথের স্ত্রী এবং কর্ণের পালিকা মাতা। একদিন স্বামীসহ রাধা নদীতে স্নান করবার সময় একটি মঞ্জুষা জলে ভেসে আসছে দেখতে পান। রাধার অনুরোধে অধিরথ সেটি জল হতে তুলে নিয়ে এলে; তারমধ্যে; সদ্যপ্রসূত এক শিশু দেখতে পান। রাধা এ শিশুকে সযত্নে পালন করেন। এ শিশুটি পরে কর্ণ নামে বিখ্যাত হন। পালিকা মাতার নাম অনুসারে কর্ণের অন্য নাম রাধেয়।

৩.বৃষভানুর স্ত্রী কলাবতী বায়ু গর্ভধারণ করনে। কালে কলাবতী বায়ু প্রসব করলে অযোনি সম্ভূতা রাধার জন্ম হয়। বারো বছর পরে বৃষভানু আয়ান ঘোষের সঙ্গে রাধার বিবাহ দেন। রাধা তাঁর নিজের ছায়া স্থাপন করে অদৃশ্য হন। এ ছায়ার সঙ্গেই আয়ানের বিবাহ হয়। চৌদ্দবছর অতীত হলে শ্রীকৃষ্ণ কংসবধের জন্য বালক রূপে গোকুলে আসেন। আয়ান ঘোষ শ্রীকৃষ্ণ জননী যশোদার সহোদর এবং গোলোকে শ্রীকৃষ্ণের অংশস্বরূপ। এরপর রাধা ও কৃষ্ণের মিলন-বিরহ কথা ন্যূনাধিক সকলের কাছে পরিচিত।

রাধার ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of vesper)
১.   “ঐ গোরা কী শুধুই গোরা, আছে রাধা রূপে আসন করা।” (পবিত্র লালন- ২৩৭/১)
২.   “কার বাসরে নিশি কাটাও লীলাতে ডুবিয়া, গো শ্যাম রাধারে ভুলিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩.   “কৃষ্ণ কালিয়ারে শ্যাম কালিয়া, কী সুখে রয়েছে রাধা, দেখে যাও আসিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৪.   “সখী জলকে চল জলকে চল, জলকে চল গোকুলে, শ্যামের বাঁশী বাজে বাজেরে, রাধা রাধা বলে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৫.   “সে গোরা এসেছে নদীয়ায়, রাধা রাণীর ঋণের দায়।” (পবিত্র লালন- ৯৬১/১)

রাধার কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of vesper)
১.   “অগৌর চন্দন এখন, সব দিয়েছি রাধার কারণ, এ অঙ্গে সে অঙ্গের জীবন, আছে এখন চন্দ্র-মুখা।” (পবিত্র লালন- ৬৬৭/৩)
২.   “আমরা সব সখী মিলে, একটি বনফুল তুলে, বিনা সুতায় মালা গেঁথে, দিব শ্যামের গলে, লালন কয় রাধা সেজে, আমি বসব শ্যামের বামে।” (পবিত্র লালন- ২১২/৩)
৩.   “একদিন গিয়েছিলাম সে যমুনার ঘাটে, কত কথা মনে পড়ল গো পথে, আমি রাধে সারানিশি কেঁদে কাটাই, তবু তো দেখা দিলো না।” (পবিত্র লালন- ২৫১/২)
৪.   “একদিন রাধে মান দেখিয়ে, ছিলেন ধনী শ্যাম ত্যেজিয়ে, সে দায়ে শ্যাম যোগী হয়ে, মুড়ালেন মাথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪০/২)
৫.   “এক পিরিতে রাধার অঙ্গ, পরশিয়ে শ্যামাঙ্গ হয় গৌরাঙ্গ, করো লালন এমনই সঙ্গ, সিরাজ সাঁইজি কয় নিরবধি।” (পবিত্র লালন- ৬৩৪/৪)
৬.   “এখন কেন করো ছলনা, রাধে তোমার বসন দিব না, তোমার মধ্যে আছে শ্রীমোতি, কী গতিতে হয় মিলন।” (পবিত্র লালন- ৩২৫/২)
৭.   “এখন কেন কাঁদছ রাধে, বসে নির্জনে, রাধে সেকালে মান করেছিলি, সে কথা তোর নাই মনে।” (পবিত্র লালন-২১২/১)
৮.   “কালা কী মন্ত্রে মন ভুলাল, এখন আমার ঘরে থাকা দায় হলো, সখী কী করিরে, লালন বলে তাইতো; রাধা, যাবে না ঘরে ফিরে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৬/৪)
৯.   “কালা মধুপুর বিজনে বসি, রোজ বাজায় বিষের বাঁশী, লীলার লোভে মাসে আসি, প্রেম জাগায় রাধার মনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১০. “কার কাছে কই মনের বেদন, কেবা শুনে রাধার এ ক্রন্দন, তোর কাছে কই শোন বলন, তুই কসনে কারো সনে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
১১.  “কৃষ্ণ পদ্মের কথা কররে দিশে, রাধা কান্তি পদ্মের উদয় হয়, মাসে মাসে।” (পবিত্র লালন- ৩২৩/১)
১২.  “কৃষ্ণ রাধা ছাড়া নাই, ভারত পুরাণে তাই কয়, তবে শুনি কেন দুর্জয়, বিচ্ছেদ এ জগতে জানালে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৫/২)
১৩. “কোথায় রাধে কোথায় কৃষ্ণধন, কোথায়রে তার সব সখীগণ, আর কতদিন চললেরে মন, রাঙাচরণ পাই।” (পবিত্র লালন- ৭০৪/২)
১৪. “কোন প্রেমে বশ গোপীর দ্বারে, কোন প্রেমে শ্যাম রাধার পায় ধরে, বলো বুঝিয়ে তাই- গুরু গোঁসাই, লালন বিনয় করে কয়।” (পবিত্র লালন- ৯৬৫/৪)
১৫. “চাঁদ ধরেছে নিধুবনে, যে চাঁদের খবর জানে, শ্রীরাধার কাননে নয় লক্ষ ধেনু চরায়, ভাণ্ড ভেঙ্গে ননি- খায় গোপাল শুনি, লালন কয় দেখা যায়।” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/৪)
১৬.  “চার যুগেতে ঐ কেলেসোনা, শ্রীরাধার দাস হতে পারল না, যদি হতো দাস- যেত অভিলাষ, আসত না আর নদীয়ায়।” (পবিত্র লালন- ২৪৬/৩)
১৭. “তামাতে সোনা হল করলে, চেনে নেওয়াকে কঠিন বলে, এমনই রাধার অঙ্গে অঙ্গ পরশিলে, হয় কালো রূপ গৌর রূপের পারা।” (পবিত্র লালন- ২৩৭/২)
১৮. “তুমি আমার জন্মের গুরু, রাধা প্রেমের ফল কল্পতরু, জয় রাধা জয়গুরু, ঘরে ঘরে নাম মাতালে।” (পবিত্র লালন- ৮৮১/৩)
১৯.  “তুমি বৃন্দে নামটি ধরো, জলে অনল দিতে পারো, রাধারে ভুলতে তোর, এবার বুঝি কঠিন হয়।” (পবিত্র লালন- ২৪১/২)
২০. “তুমি রাধা তুমি কৃষ্ণ, মন্ত্রদাতা পরমইষ্ট, মন্ত্র দাও কানে, মন্ত্র দিতে সঁপে দিলে, সাধুগুরু বৈষ্ণব গোঁসাইর চরণে।” (পবিত্র লালন- ৩৬৮/২)
২১.  “তুমি রাধে কল্পতরু, প্রেমরসের মহাগুরু, তোমা সম অন্য কারো, না দেখি জগতে আর।” (পবিত্র লালন- ৬৬০/২)
২২. “তোমার আশাতে ভাই, আমরা গোপীগণ সবাই, মনের সুখে বাসর-ঘর সাজাই, ওহে রাখালরাজা, মজালে কুলবধূ রাধারে।” (পবিত্র লালন- ৯০২/২)
২৩. “ত্রিজগতের চিন্তা শ্রীহরি, রাধার চিন্তায় পড়লেন ব্রজহরি, বড় অসম্ভাব বচন- ভেবে কয় লালন, রাধার দাসখত্বে শ্যাম বিকালে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৪)
২৪. “নামটি আমার সহজ-মানুষ, সহজ দেশে বাস করি, বলি সদা রাধা রাধা, রাধার প্রেমে ঘুরিফিরি।” (পবিত্র লালন- ৫৯৫/১)
২৫. “নিগূঢ়খবর জানা গেল, কৃষ্ণ হতে রাধা হলো, তবে কেন লোক সকল, আগে রাধা পাছে কৃষ্ণ বলে।” (পবিত্র লালন- ৩৪৫/৪)
২৬. “প্রেমের রাজা মদনমোহন, নির্হেতু প্রেম সাধনে শ্যাম, ধরে রাধার যুগলচরণ, প্রেমের সহচরী গোপীগণ, প্রেম-দ্বারে বাঁধা রয়।” (পবিত্র লালন- ৬৫১/২)
২৭. “ফুলের নামটি নীল লাল জবা, ও তার ফুলে মধু ফলে সুধা, সে ফুলে হয় সাধুসেবা, ও কৃষ্ণ রাধার অলি।” (পবিত্র লালন- ৪৫৪/২)
২৮. “বলরে নিমাই বল আমারে, রাধা বলে অ-জাগরে, কাঁদলি কেন ঘুমের ঘোরে।” (পবিত্র লালন- ৬৭২/১)
২৯. “বান্ধিয়া এই মনটা কষি, হাজার বছর থাকিব বসি, কয়রে বলন রাধার কান্দন, শোনো গো বসিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩০. “বৈকুণ্ঠ গোলোকের ওপর, আছেরে রূপের বিহার, কৃষ্ণের কেউ নয়, রাধার পতি সেজনা।” (পবিত্র লালন- ৯৫৬/২)
৩১. “মনে চাই মনে চাই গো, রাধার ঘাটে নাও ভিড়াতে, এমন নাগরী যে দেখেছে, মন দিয়েছে ঐ রূপেতে।” (বলন তত্ত্বাবলী)
৩২. “মনের-মানুষ কোথায় লুকাল, আমার লাগে না ভালো, আমার দেহলতা শুকাল, লালন বলে রাধার কপাল পুড়ল।” (পবিত্র লালন- ১৪৪/৪)
৩৩. “মান করো না ওগো রাধে, তোমায় করি মানা, মান করলে ইহকালে, তোমার কাছে কেউ যাবে না।” (পবিত্র লালন- ৭৭৭/১)
৩৪. “মান ছেড়ে দাও ওগো রাধে, কৃষ্ণ কেঁদে কেঁদে কয়, কৃষ্ণ গেলে ইহকালে, তোমার কোন গতি নাই।” (পবিত্র লালন- ৭৭৮/১)
৩৫. “মান ভাঙ্গাতে সাধাসাধি কী, বিষ মুখীরে বুঝাও সখী, লালন বলে এ মান কিসের দেখি, থৈ মিলে না রাধার মান সাগরে।” (পবিত্র লালন- ৮৯৬/৩)
৩৬. “যদি মন দিত রাধারে, তবে শ্যাম কুব্জারে, স্পর্শ করতো না, এক মন কয় জায়গায় বেচে, তাও তো জানলাম না।” (পবিত্র লালন- ৮৬৪/৩)
৩৭. “যদি রাজ্যপদ ঐপদে কেউ দেয়, তবুও; কালার মন না পাওয়া যায়, রাধা ব’লে বাজে বাঁশী, এখন তারে কত কাঁদিয়েছে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/৩)
৩৮. “যে কৃষ্ণ রাধার অলি, তারে ভুলায় চন্দ্রাবলী, সে কথা আর কারে বলি, ঘৃণায় আমার জীবন যায়।” (পবিত্র লালন- ২৪১/৩)
৩৯. “যেমন দেখি চন্দ্রাবলী, তেমনি, দেখি রাধার অলি, থাক সে দু’জনা, শুনে রাধার বোল- লালনের বোল, আর চলে না।” (পবিত্র লালন- ৪৯৬/৫)
৪০. “রাধাতে যেভাব কৃষ্ণে, জানে না তা গোপীগণে, সেভাব না জেনে সে সঙ্গ কেমনে, পাবে কোনজন।” (পবিত্র লালন- ৭০/৩)
৪১. “রাধার কথা কী বলবো মা, তার গুণের নাই সীমা, মুনি ঋষি ধ্যানীজ্ঞানী, না পেল তার চরণ কমলে।” (পবিত্র লালন- ৮৮১/২)
৪২. “রাধার কথা কী বলবো মা, তার গুণের নাই সীমা, মুনি ঋষি ধ্যানী জ্ঞানী, না পেল তার চরণ কমলে।” (পবিত্র লালন- ৮৮১/২)
৪৩. “রাধার গুণ কত, নন্দলাল তা জানে না, কিঞ্চিৎ জানলে তো তার, লাম্পট্য ভাব থাকত না।” (পবিত্র লালন- ৮৬৪/১)
৪৪. “রাধার তুলনা পিরিত, সামান্য কেউ যদি করে, মরে বা না মরে পাপী, অবশ্য যায় ছারেখারে।” (পবিত্র লালন- ৮৬৫/১)
৪৫. “রাধার প্রেমে থেকে হরি, হয়েছিল ণ্ডধারী, এসে এ নদীয়াপুরী, বেহাল হয়ে মুড়ালেন মাথা।” (পবিত্র লালন- ৬৪১/২)
৪৬. “রাধার প্রেমের কাঙাল, বৃন্দাবন ত্যাগ করে নন্দলাল, মনের দুঃখে বলছে লালন, আমি রইলাম ঠেকা।” (পবিত্র লালন- ৬৬৭/৪)
৪৭. “রাধে লো তোরে করিরে মানা, কদমতলে আর যেও না, কদমতলে গেলে কিনা, তোমার বসন থাকবে না।” (পবিত্র লালন- ৪৫৩/২)
৪৮. “লালন কয় শ্রীরাধে বলে, দেহতরী দিলাম ছেড়ে, সোনার কমল সুরধুনীর ঘাটে, দেখ নাগরী যায় ভেসে কোন মানুষে।” (পবিত্র লালন- ২২৫/৩)
৪৯. “লীলা দেখে কম্পিত ব্রজধাম, রাধার মান ঘুচাতে যোগী হলেন শ্যাম, দুর্জয় মানের দায়- বাঁকা শ্যামরায়, নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪/৩)
৫০. “শাল পাগড়ি মাথায় দিয়ে, মথুরাতে রাজা হয়ে, তুমি আছ ভুলে কুব্জারে পেয়ে, শ্রীরাধার কথা মনে নাই।” (পবিত্র লালন- ৪৯৫/২)
৫১. “সকালবেলা চিকনকালা, এলে কী মনে করে, তুমি এলে হে নিশি-জাগা রাধার দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৯০২/১)
৫২. “সত্যযুগে সঙ্গে কৌশকী ছিল, ত্রেতায় সঙ্গিনী সীতা লক্ষ্মী হলো, দ্বাপরে সঙ্গিনী- রাধা রঙ্গিনী, কলির ভাবে তারা কোথায় রইল।” (পবিত্র লালন- ২৮০/৩)
৫৩. “সহস্রারের বাঁকা কারণ শ্যামরায় করলেন ধারণ, হলেন গৌরবরণ রাধার প্রেমসাধনে, আনন্দে সানন্দে মিশে যোগ করে যেজনা, লালন বলে সে অধর ধরতে পারে।” (পবিত্র লালন- ৪৩৪/৩)
৫৪. “সাধে কী মজেছে রাধে, সে কৃষ্ণের প্রেমফাঁদে, সে ভাব কী জানবি- বললে কী মানবি, লালন বলে শ্যামের গুণ রাই জানে।” (পবিত্র লালন- ৪৮৫/৪)
৫৫. “সুখের ভাগ কেউ ছাড়ে না, দুঃখের ভাগী কেউ হয় না, কাঁদি সে দিনের কান্না, বাঁধা রাধার ঋণে।” (পবিত্র লালন- ৮৫১/২)
৫৬. “সে কালা মোর চতুরালী, আবার ননিচোরা বনমালী, রসিক নাম ধরে, সে যে বাজায় মোহনবাঁশী, রাধার স্বরে গান করে।” (পবিত্র লালন- ১৩৩/৩)
৫৭. “সে ঘাটের রাজা নিতাই, রাইরাধা রসবতী চুন্নী সেথাই, মরলে সে ঘাটে- সব যাবে লাটে, ঝকমারি কর্ম করো না।” (পবিত্র লালন- ৬৫৩/৩)
৫৮. সে যে রাধার কী মহিমা, বেদে দিতে নারে সীমা, ধ্যানে যারে পায় না ব্রহ্মা, কিরূপ জানলি সে রাধারে। (পবিত্র লালন৬৭২/)
৫৯. “হরি নামের তরণী তার, রাধা নামের বাদাম যার, ভব-তুফান বলে ভয় কিরে তার, সে নায়ে উঠে।” (পবিত্র লালন- ৬২৯/২)

রাধার ওপর কয়েকটি পূর্ণ লালন (Some full Lalon on the vesper)
.                 ওগো ব্রজলীলে একি লীলে,
            কৃষ্ণ গোপিকারে জানালে।

যারে নিজশক্তিতে গঠল নারায়ণ
আবার গুরু বলে ভজলেন তার চরণ
একি ব্যবহার- শুনতে চমৎকার,
জীবের বুঝা ভার ভূমণ্ডলে।

লীলা দেখে কম্পিত ব্রজধাম,
রাধার মান ঘুচাতে যোগী হলেন শ্যাম
দুর্জয় মানের দায়- বাঁকা শ্যামরায়
নারীর পাদপদ্ম মাথায় নিলে।

ত্রিজগতের চিন্তা শ্রীহরি,
রাধার চিন্তায় পড়লেন ব্রজহরি,
বড় অসম্ভাব বচন- ভেবে কয় লালন
রাধার দাসখত্বে শ্যাম বিকালে।” (পবিত্র লালন- ২৪৪)

.                 বলরে নিমাই বল আমারে,
রাধা বলে অ-জাগরে,
কাঁদলি কেন ঘুমের ঘোরে।

সে যে রাধার কী মহিমা,
বেদে দিতে নারে সীমা,
ধ্যানে যারে পায় না ব্রহ্মা,
কিরূপ জানলি সে রাধারে

রাধে তোর কী হয় নিমাই,
সত্য করে বল গো আমায়,
এমন বালক সময়,
এ বোল কে শিখাল তোরে।

তুই শিশু ছেলে আমার,
মা হয়ে ভেদ পাই না তোর,
লালন বলে শচীকুমার,
জগৎ ফেলবে চমৎকারে।” (পবিত্র লালন- ৬৭২)

.                 যে অভাবে কাঙাল হলাম,
            ওরে সুদাম দাদা,
আমার বেণু ধড়া মোহনচূড়া,
সব নিয়েছে রাধা

খত্ব লেখলাম নিজ হস্তে,
ললিতা বিশাখার সাথে,
খত্বের সহি তাতে,
কিঞ্চিৎ ঋণ শোধ করলামরে,
খত্বে উসল না দেয় রাধা

শ্রী রাধার ঋণ শোধবার তরে,
এলাম ডোর কোপনি পরে,
রাধার ঋণের তরে,
কাঁদি সে দিন দিন বলে,
সেদিন না দেয় রাধা।

প্রেমের দায়ে মত্ত হয়ে,
নিজ শিরে বাঁধা লয়ে,
এলাম নিজ আলয়ে,
সিরাজ সাঁইজি কয় ওরে লালন,
বলো জয় জয় রাধা।” (পবিত্র লালন- ৮২৫)

.                 এখন কেন কাঁদছ রাধে
            বসে নির্জনে,
রাধে সেকালে মান করেছিলি,
সে কথা তোর নাই মনে।

রাধে কেন করো মান,
কুঞ্জে আসে না যে শ্যাম,
জলে আগুন দিতে পারি,
বিন্দে আমার নাম,
হাত ধরে মন সঁপেছিলি,
সে কথা কী নাই মনে।

আমরা সব সখী মিলে,
একটি বনফুল তুলে,
বিনা সুতায় মালা গেঁথে,
দিব শ্যামের গলে,
লালন কয় রাধা সেজে,
আমি বসব শ্যামের বামে।” (পবিত্র লালন-২১২)

.                 ছিঃ ছিঃ লজ্জায় প্রাণ বাঁচে না,
ভরা কলসের জল,
ঢেলে যেন পড়ে না।

রাধে লো তোরে করিরে মানা,
কদমতলে আর যেও না,
কদমতলে গেলে কিনা,
তোমার বসন থাকবে না।

রাধে লো তোরে করিরে মানা,
কৃষ্ণের সঙ্গে প্রেম করিস না,
কৃষ্ণের সঙ্গে করলে প্রেম,
সখীগণ কেউ ছুঁবে না।

রাধে লো তোরে করিরে মানা,
কালার সঙ্গে কথা বলো না,
লালন বলে সর্বাঙ্গ বেঁধে নিবে,
তোরে ছাড়বে না।” (পবিত্র লালন- ৪৫৩)

এছাড়াও; রাধে পরিভাষাটি দ্বারাও রাধাই বুঝায়। তাই; নিচে রাধে পরিভাষার উদাহরণ যুক্ত করা হলো।

১.    “একদিন গিয়েছিলাম সে যমুনার ঘাটে, কত কথা মনে পড়ল পথে, আমি রাধে সারা নিশি কেঁদে কাটাই, তবু দেখা দিলো না।” (পবিত্র লালন২৫১/)
২.   “একদিন রাধে মান দেখিয়ে, ছিলেন ধনী শ্যাম ত্যেজিয়ে, সে দায়ে শ্যাম যোগী হয়ে, মুড়ালেন মাথা।” (পবিত্র লালন৬৪০/)
৩.   “এখন কেন করো ছলনা, রাধে তোমার বসন দিব না, তোমার মধ্যে আছে শ্রীমোতি, কী গতিতে হয় মিলন।” (পবিত্র লালন৩২৫/)
৪.   “কোথায় রাধে কোথায় কৃষ্ণধন, কোথায়রে তার সব সখীগণ, আর কতদিন চললেরে মন, রাঙাচরণ পাই।” (পবিত্র লালন৭০৪/)
৫.   “তুমি রাধে কল্পতরু, প্রেম-রসের মহাগুরু, তোমা সম অন্য কারও, না দেখি জগতে আর।” (পবিত্র লালন৬৬০/)
৬.   “মান করো না ওগো রাধে, তোমায় করি মানা, মান করলে ইহকালে, তোমার কাছে কেউ যাবে না।” (পবিত্র লালন৭৭৭/)
৭.   “মান ছেড়ে দাও ওগো রাধে, কৃষ্ণ কেঁদে কেঁদে কয়, কৃষ্ণ গেলে ইহকালে, তোমার কোন্ গতি নাই।” (পবিত্র লালন৭৭৮/)
৮.   “রাধে তোর কী হয় নিমাই, সত্য করে বল গো আমায়, এমন বালক সময়, এ বোল কে শিখাল তোরে।” (পবিত্র লালন৬৭২/)
৯.   “রাধে লো তোরে করিরে মানা, কদমতলে আর যেও না, কদমতলে গেলে কিনা, তোমার বসন থাকবে না।” (পবিত্র লালন৪৫৩/)
১০. “রাধে লো তোরে করিরে মানা, কালার সঙ্গে কথা বলো না, লালন বলে সর্বাঙ্গ বেঁধে নিবে, তোরে ছাড়বে না।” (পবিত্র লালন৪৫৩/)
১১. “রাধে লো তোরে করিরে মানা, কৃষ্ণের সঙ্গে প্রেম করিস না, কৃষ্ণের সঙ্গে করলে প্রেম, সখীগণ কেউ ছুঁবে না।” (পবিত্র লালন৪৫৩/)
১২. “লালন কয় শ্রীরাধে বলে, দেহতরী দিলাম ছেড়ে, সোনার কমল সুরধুনীর ঘাটে, দেখ নাগরী যায় ভেসে কোন্ মানুষে।” (পবিত্র লালন২২৫/)।১৩. “সাধে কী মজেছে রাধে, সে কৃষ্ণের প্রেম-ফাঁদে, ভাব কী জানবি- বললে কী মানবি, লালন বলে শ্যামের গুণ রাই জানে।” (পবিত্র লালন৪৮৫/)

রাধের ওপর একটি পূর্ণ লালন (A full Lalon on the vesper)
ছিঃ ছিঃ লজ্জায় প্রাণ বাঁচে না,
ভরা কলসের জল,
ঢেলে যেন পড়ে না।

রাধে লো তোরে করিরে মানা,
কদমতলে আর যেও না,
কদমতলে গেলে কিনা,
তোমার বসন থাকবে না।

রাধে লো তোরে করিরে মানা,
কৃষ্ণের সঙ্গে প্রেম করিস না,
কৃষ্ণের সঙ্গে করলে প্রেম,
সখীগণ কেউ ছুঁবে না।

রাধে লো তোরে করিরে মানা,
কালার সঙ্গে কথা বলো না,
লালন বলে সর্বাঙ্গ বেঁধে নিবে,
তোরে ছাড়বে না।” (পবিত্র লালন৪৫৩)

রাধার সংজ্ঞা (Definition of vesper)
সাধারণত; বাঙালী পৌরাণিক বৃষভানুকন্যাকে রাধা বলে।

রাধার আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of vesper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শুক্রকে রূপকার্থে রাধা বলে।

রাধার প্রকারভেদ (Variations of vesper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; রাধা দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান রাধা ও ২. উপমিত রাধা।

. উপমান রাধা (Analogical vesper)
সাধারণত; বাঙালী পৌরাণিক বৃষভানুকন্যাকে উপমান রাধা বলে।

. উপমিত রাধা (Compared vesper)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শুক্রকে উপমিত রাধা বলে।

রাধার পরিচয় (Identity of vesper)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর শুক্র পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সাধারণত; বৃষভানুকন্যাকে রাধা বলা হয়। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানে; পুরুষজাতির শুক্রকে রাধা বলা হয়। বিষয়টি ভালোভাবে বুঝার জন্য উপরোক্ত প্রপকটির প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়ার অনুরোধ রইল।

অন্যদিকে; বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও সাম্প্রদায়িক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা শ্বরবিজ্ঞানে; ব্যবহৃত ‘রাধা’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল বৃষভানুকন্যাকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। এ কারণে সারা পৃথিবীর সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা কখনই তাদের স্বস্ব সাম্প্রদায়িক সাহিত্যের মূলশিক্ষা উদ্ঘাটন করতে পারে নি। যারফলে; সাম্প্রদায়িকরা সাম্প্রদায়িক গ্রন্থের মূলশিক্ষা হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা নিজেরা মৌলবাদী বলে দাবি করলেও সেটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে তারা সম্পূর্ণরূপে ছিন্নমূল। আলোচ্য রাধা কাল্পনিক তত্ত্বে (Mythology) বৃষভানু কন্যা কিন্তু আত্মদর্শনে (Theology) পুরুষজাতির শুক্র। যেসব গোঁসাই-গুরু, ঠাক-পুরোহিত, মোল্লা-মুন্সি, বক্তা-আলোচক, অনুবাদক-অভিধানবিদ শ্বরবিজ্ঞানের কাল্পনিকতত্ত্ব ও আত্মদর্শন এ দুটি দিক ভালোভাবে জানে না তারা তাদেরকে কোনমতেই দিশারী বলা যায় না। বরং তাদের খর্বজ্ঞানী বা সাম্প্রদায়িক অজ্ঞ বলা যায়। প্রত্যেকের উচিত স্বস্ব সাম্প্রদায়িক পুস্তক-পুস্তিকার কাল্পনিকতত্ত্ব ও আত্মদর্শন এ দুটি দিক ভালোভাবে জানা ও বুঝা।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!