রাম

৪৮/১৪. রাম
Glorious (গ্লোরিয়াস)/ ‘محمد’ (মুহাম্মদ)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা পালনকর্তা। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা সাঁই। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ফুল। এর অন্যান্য বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, লালন, স্বরূপ হরি এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ সুধা

অভিধা (Appellation)
রামঃ অব্য রামো, ঘৃণা নিন্দা ইত্যাদিবাচক শব্দ।
রামঃ রামঃ অব্য রামো, ঘৃণা নিন্দা ইত্যাদিবাচক শব্দ।
রাম (বাপৌচা)বিণ মহিমান্বিত, মনোহর, রমণীয়, সুন্দর, বৃহৎ, শ্রেষ্ঠ, সেরা, glorious, ‘محمد’ (মুহাম্মদ) (প্র) ১. রামায়ণে বর্ণিত রশরথপুত্র রামচন্দ্র ২. বিষ্ণুর অবতার বিশেষ (প্রাঅ) আরাধ্য, আরাধিত, পূজিত, উপাসনার যোগ্য (শ্ববি) এমন তরল-মানুষ; যে এখনও মূর্তাকার ধারণ করে নি। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ লালনপালনের দায়িত্ব পালনকারী সুমিষ্ট, সুপেয় ও শ্বেতবর্ণের জল (রূপ্রশ) ঈশ্বর, গুরু, গোঁসাই, নারায়ণ, নিধি, নিমাই, নিরঞ্জন, পতি, পালনকর্তা, প্রভু, বিষ্ণু, বুদ্ধ, সাঁই, স্বরূপ, স্বামী, guardian, adored, adorable, ‘إله’ (ইলা), রব (.ﺮﺐ) (পারদে) খোদা (ফা.ﺨﺪﺍ) (ইদে) মুহাম্মদ (.ﻤﺤﻤﺪ), রাসুল (.رَسُول) (ইপ) কাওসার (.ﻜﻭﺛﺮ), ফুরাত (.ﻔﺭﺍﺖ) (ইংপ) God, nectar, elixir (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . রামায়ণে বর্ণিত অযোধ্যার রাজা দশরথের জেষ্ঠপুত্রকে রামচন্দ্র বা রাম বলা হয় . জরায়ুতে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত জলকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে রাম বলা হয় (বাপৌছ) ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা (বাপৌচা) ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি (বাপৌউ) অমৃতসুধা, গ্রন্থ, চন্দ্র, জল, তীর্থবারি, পাখি, ফল ও ফুল (বাপৌরূ) সাঁই (বাপৌমূ) পালনকর্তা।

মাজিদ [ﻤﺠﻴﺪ] (আপৌছ)বি সম্মানিত, মহিমান্বিত, মর্যাদাবান, মর্যাদাপূর্ণ (শ্ববি) ঈশ্বর, রাম, সাঁই (বাপৌরূ) সাঁই  (বাপৌমূ) পালনকর্তা {}

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
অযোধ্যার সূর্যবংশীয় রাজা দশরথের অশ্বমেধ যজ্ঞলব্ধ জ্যেষ্ঠপুত্র। তিনরাণীর গর্ভে রাজা দশরথের চারপুত্রের জন্ম হয়। তারমধ্যে; কৌশল্যার গর্ভজাত রাম সর্বশ্রেষ্ঠ। তারপরে কৈকেয়ীর গর্ভজাত ভরত ও সুমিত্রার গর্ভজাত লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন যথাক্রমে দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ। রামের চৌদ্দবছর বয়সকালে বিশ্বামিত্র রাক্ষসদের হাত হতে যজ্ঞরক্ষা করার জন্য দশরথের অনুমতিক্রমে রাম ও লক্ষ্মণকে নিজের আশ্রমে নিয়ে যান। রামকে তাড়কা ও অন্যান্য রাক্ষসদের নিহত করে মহর্ষির যজ্ঞসম্পন্ন করাতে বলা ও অতিবলাবিদ্যা ও দিব্যাস্ত্র সব দান করেন। অতঃপর; বিশ্বামিত্র রাম ও লক্ষ্মণসহ মিথিলা অভিমুখে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তাঁরা গৌতম মুনির আশ্রমে উপস্থিত হলে গৌতমের শাপে সবার অদৃশ্য অহল্যাকে রাম শাপমুক্ত করেন। মিথিলায় জনকরাজার আতিথ্য গ্রহণ করে বিশ্বামিত্রের পরামর্শে জনকের হরধনু ভঙ্গ করে রাম জনকের শুক্রশুল্কা কন্যা সীতাকে বিবাহ করেন। লক্ষ্মণের সাথে সীতার কনিষ্ঠা ভগিনী উর্মিলার বিবাহ হয়।

জনকের ভ্রাতা কুশধ্বজের দুইকন্যার সাথে ভরত ও শত্রুঘ্নের বিবাহ হয়। শিবের হরধনু ভঙ্গ করার সময় বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জীবিত ছিলেন। তিনি শিবের শিষ্য ছিলেন। সেজন্য; হরধনু ভঙ্গ করাতে রামের প্রতি তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। দুইজনেই বিষ্ণুর অবতার হওয়া সত্ত্বেও পরশুরাম রামকে যুদ্ধে আহবান করেন। শেষে তিনি রামের হস্তে পরাজিত হন। কিছুদিন পরে রাজা দশরথ রামকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করতে ইচ্ছা করেন। এ সংবাদে দাসী মন্থরার প্ররোচনায় দশরথের দ্বিতীয়া স্ত্রী ভরতজননী কৈকেয়ী রাগান্বিত হয়ে পড়েন। আশৈশব রামকে স্নেহ করলেও মন্থরার প্ররোচনায় কৈকেয়ী দশরথের পূর্ব প্রতিজ্ঞার সুযোগে এক বরে ভরতের যৌবরাজ্য পদলাভ ও অন্য বরে রামের চৌদ্দবছর বনবাসের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে সীতা লক্ষ্মণ রামের অনুসরণ করেন।

পিতৃসত্য পালনার্থ রাম লক্ষ্মণ ও সীতাসহ দক্ষিণদিকে যাত্রা করে বন্ধু নিষাদরাজ গুহের সাহায্যে গঙ্গা অতিক্রম করেন। প্রয়াগের নিকট ভরদ্বাজ মুনির আতিথ্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর পরামর্শে দণ্ডকারণ্যের চিত্রকূট পর্বতে বাস করতে থাকেন। রামচন্দ্রের বনগমনের পর দশরথ পুত্রশোকে প্রাণত্যাগ করেন। ভরত রাজ্যলাভ ত্যাগ করে রামকে ফিরিয়ে আনবার জন্য চিত্রকূটে উপস্থিত হন। পিতৃসত্য পালনের জন্য বনবাস কাল পরিপূর্ণ করবার সংকল্প স্থির রাখেন। তাতে ভরত রামের পাদুকা তাঁর প্রতীক স্বরূপ সিংহাসনে স্থাপন করে রামের প্রতিনিধি রূপে নন্দীগ্রামে বাস করে রাজ্য শাসন করতে থাকেন। এর পর এক আশ্রম থেকে অন্য আশ্রমে বাস করে রাম নির্বাসনের দশবছর কাটিয়ে বিন্ধ্য পর্বতে অগস্ত্যমুনির আশ্রমে এসে উপস্থিত হন। অগস্ত্য মহা সমাদরে অতিথি সৎকার করে রামকে বৈষ্ণবধনু ব্রহ্মাস্ত্র ও অক্ষয় তূণীর দান করলেন। মহর্ষির উপদেশ অনুসারে রাম গোদাবরী তীরে পঞ্চবটি বনে উটোজ নির্মাণ করে বাস করতে লাগলেন। তখন এ বন রাক্ষসে পরিপূর্ণ ছিল। রাবণের বিধবা ভগিনী শূর্পণখা এ বনে বাস করতো। এ রাক্ষসী রামের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে প্রণয় নিবেদন করলে রাম কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত ও বিতাড়িত হয়ে সীতাকে গ্রাস করার চেষ্টা করে। রামের আদেশে লক্ষ্মণ এ রাক্ষসীর নাক ও কান কেটে দেন। তারপর; শূর্পণখার দুই ভ্রাতা খর ও দূষণ রামকে আক্রমণ করলে রাম তাদের দু’জনকে এবং সব সৈন্যকে বধ করে পঞ্চবটী বন রাক্ষসমুক্ত করেন। শূর্পণখা তখন তাঁর অন্যভ্রাতা রাবণের নিকট সব সংবাদ প্রদান করেন।

রাবণ সীতার রূপলাবণ্যের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে ও ভগিনীর অপমানের প্রতিশোধ নিবার জন্য তাড়কা রাক্ষসীর পুত্র মারীচের সাথে পঞ্চবটী বনে উপস্থিত হলেন। মায়াবী মারীচ স্বর্ণমৃগের রূপধারণ করে সীতার সম্মুখে ভ্রমণ করতে লাগল। সীতা তখন রামকে ঐ স্বর্ণহরিণ এনে দিতে অনুরোধ করল। রাম লক্ষ্মণকে কুটীরে রেখে সোনার হরিণটির অনুসরণ করে শর নিক্ষেপ করলেন। শরবিদ্ধ মারীচ রামের স্বর অনুসরণ করে ‘হা লক্ষ্মণ’, ‘হা সীতা’ বলতে বলতে প্রাণ ত্যাগ করল। এ করুণ উক্তি শুনে রামের বিপদ আসন্ন ভেবে সীতা লক্ষ্মণকে রামের অনুসন্ধান করতে প্রেরণ করেন। এ সুযোগে রাবণ গুপ্তস্থান হতে পরিব্রাজক বেশে উপস্থিত হয়ে বলপূর্বক সীতাকে নিজের রথে তুলে নিয়ে লঙ্কায় প্রস্থান করেন। রাম ও লক্ষ্মণ কুটীরে ফিরে এসে কুটীর সীতাশূন্য দেখে সীতা অন্বেষণে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে মস্তকহীন যোনিকে হত্যা করলে তার অশরীরী আত্মা বানর রাজা সুগ্রীবের সাহায্য গ্রহণ করতে বলে। সুগ্রীবকে তাঁর ভ্রাতা বালীর হাত হতে হৃতরাজ্য কিস্কিন্ধ্যা উদ্ধারে সাহায্য করতে রাম ও সুগ্রীবের মিত্রতা স্থাপিত হলো। এর ফলে সীতা উদ্ধারের জন্য সব বানরকুল ও হনুমানের সাহায্য পেলেন। লঙ্কায় উপস্থিত হলে রাবণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিভীষণ সীতাকে মুক্তি দিবার জন্য রাবণকে পুনঃপুন অনুরোধ করেন। যারফলে; রাবণ রাগান্বিত হয়ে বিভীষণকে অপমানিত করলে বিভীষণ রামের পক্ষগ্রহণ করেন। তাঁর পরামর্শ অনুসারে রাম ও লক্ষ্মণ রাবণকে সবংশে ধ্বংস করে সীতাকে উদ্ধার করেন। পরিশেষে রাম বিভীষণকে লঙ্কার রাজপদে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সীতার সম্বন্ধে রাম বললেন; চরিত্র রক্ষা, অপবাদ খণ্ডন ও তাঁর বিখ্যাত বংশের মানি দূর করার জন্য সীতাকে বর্জন করলেন। এ অশ্রুতপূর্ব কথা শুনে সীতা অগ্নিতে প্রবেশ করে প্রাণত্যাগ করবেন ঠিক করলেন এবং প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে প্রবেশ করলেন। প্রথমে অগ্নিতে স্বর্ণ প্রতীমা সীতা বিলীন হয়ে গেল। তারপর; অগ্নি সীতাকে রামের নিকট ফিরিয়ে দিয়ে সীতার সৎচরিত্র ও সতিত্বের প্রমাণ করে দিলেন। এরূপে চৌদ্দবছর অতিবাহিত হওয়ার পর রাম লক্ষ্মণ ও সীতা অযোধ্যায় ফিলে এলে ভরত রামের হস্তে রাজ্যভার প্রত্যার্পণ করলেন। তখন রাম রাজ্যশাসন ও প্রজাপালন করতে লাগলেন। এ সময় তিনি শুনতে পেলেন- সীতার দীর্ঘকাল রাবণের গৃহে একাকী বন্দিনী থাকায় প্রজারা তাঁর সতিত্ব সম্বন্ধে সন্দিহান হয়ে বিভিন্ন প্রকার কুৎসা রটনা করছে। রাম নিজে সীতাকে সতী জেনেও প্রজাদের মনতুষ্টির জন্য রাম লক্ষ্মণকে বললেন; সীতাকে বাল্মীকির তপোবনে পরিত্যাগ করে আসতে। নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও লক্ষ্মণ এ আদেশ পালন করলেন। তখন সীতা পূর্ণগর্ভা ছিলেন।

এরপর রাম অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হলেন। সীতা বাল্মীকির আশ্রমে পরিত্যক্তা হবার পর তাঁর দু’জন যমজপুত্রের জন্ম হয়। মহর্ষি তাঁদের নাম রাখেন কুশ ও লব। বাল্মীকি কুশ ও লবকে অত্যন্ত যত্নসহকারে শিক্ষা দিলেন। রামের অশ্বমেধ যজ্ঞে নিমন্ত্রিত হয়ে বাল্মীকি কুশ ও লবসহ যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলেন। কুশ ও লবের রামায়ণগান শুনে রাম অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং এদের আকার ও অবয়ব দেখে নিজের পুত্র বলে বুঝতে পারলেন। বাল্মীকির নিকট সীতার নিষ্কলংকের কথা শুনে রাম আবার সীতাকে রাজ্য সভায় আনতে বললেন। বাল্মীকি আবার সীতাকে অযোধ্যায় এনে বললেন; রাম তুমি লোকের অপবাদে ভীত, এখন আজ্ঞা কর, সীতা তোমার প্রত্যয় উৎপাদন করবেন। তখন সীতা অত্যন্ত ব্যথিতা হয়ে মাতা বসুধার কোলে স্থান পাবার জন্য প্রার্থনা করলেন। তৎক্ষণাৎ পৃথিবী দ্বিধাবিভক্ত হলো এবং সীতা তার মধ্যে প্রবেশ করলেন। সীতাকে হারিয়ে রাম বিষন্ন চিত্তে দিন কাটাতে লাগলেন।

এমন সময় একদিন কালপুরুষ তার কাছে এসে গোপনে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা আরম্ভ করলেন। এ গোপন কথাবার্তার সময়ে কেউ সেখানে উপস্থিত হলে রাম তাঁকে বর্জন করবেন এমন স্থির করা হয়েছিল। লক্ষ্মণ প্রহরী রূপে সেখানে উপস্থিত ছিল। ইতোমধ্যে দুর্বাসা মুনি সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে রামের সাক্ষাৎ প্রার্থী হলেন। লক্ষ্মণ সাক্ষাৎকারে বাধা দিলে তিনি লক্ষ্মণকে শাপ দিতে উদ্যত হলেন। এমন সময় লক্ষ্মণ বাধ্য হয়ে রামের নিকট উপস্থিত হলেন। রাম সত্যবাক্য পালনের জন্য লক্ষ্মণকে বর্জন করতে বাধ্য হলেন। বর্জিত হবার পর লক্ষ্মণ সরযূসলিলে আত্মবিসর্জন করেন। প্রিয় ভ্রাতাকে বর্জন করার পর রাম শোকে ম্রিয়মাণ হয়ে কুশকে কোশল ও লবকে উত্তর কোশলের রাজ্যভার দান করে সরযূতে প্রবেশ করে যোগরত অবস্থায় প্রাণত্যাগ করেন। রামায়ণ মহাকাব্যে রামের চরিত্র অন্যান্য চরিত্রের তুলনায় অধিক বিচিত্র ও জটিল ভাব ধারণ করেছে। রামচন্দ্র পুত্র রূপে, মিত্র রূপে, প্রভু রূপে, স্বামী রূপে, রাজা রূপে ও মহাশূর রূপে অতুলনীয় ও অনুপন আদর্শ তাঁর চরিত্রে ফুটে ওঠেছে। অধিকাংশ গবেষকের মতে; রামচরিত্র গভীর রহস্যে পরিপূর্ণ।

এসব সদগুণাবলীর জন্য তিনি পুরুষোত্তম মূর্তিতে যুগ-যুগান্তর সবার হৃদয়রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু এ চরিত্রটি কয়েকটি আপাতবৈষম্য ও জটিল রহস্যে পূর্ণ। তাঁর চরিত্রে যেসব বৈষম্য পরিদৃষ্ট হয়েছে, সে আপাত-বৈষম্যের সামঞ্জস্য ও রহস্যের মীমাংসা ব্যাতিরেখে এ অসাধারণ চরিত্রটি সম্যক উপলব্ধি করা সম্ভবপর নয়। শ্রেষ্ঠনীতি ও পরম সত্য তাঁর চরিত্রকে অপূর্ব শ্রীসম্পন্ন করে রেখেছে। কর্তব্যের কাছে তিনি নির্মল ছিলেন বলে সীতা বর্জনে আপন জীবনকে পূর্ণ রূপে নৈরাশ্যময় করেও তিনি নিজ নির্দিষ্ট কর্তব্য পালনে পরান্মুখ ছিলেন না। সীতাকে ত্রিলোকের মধ্যে বিশুদ্ধা ও সতীত্ব প্রভাসম্পন্না জেনেও লোকনিন্দা ভয়ে লোক সম্মুখে সীতার পরীক্ষা গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হন নি। এসব ঘটনার দ্বারা তাঁর চরিত্রের নীতিজ্ঞান, কর্তব্যবুদ্ধি, আদর্শস্থাপন ও সতেজ পৌরুষের দিকগুলো সমুজ্জল হয়ে ওঠেছে। শ্রীরাম-চন্দ্রের পূবোত্তর জীবনের বহুশত ঘটনার আলেখ্য-দর্শনে মনে হয় মর্ত্যলোকে তিনিই স্বর্গরাজ্য নির্মাণ করেছিলেন। যে স্বর্গরাজ্যের নাম ছিল রামরাজ্য। তাঁর আশ্চর্য চরিত্রের আদর্শ কেবল মহাবিস্ময়ের বিষয়ই নয়- অন্তরের পরম পূজনীয় সামগ্রীও বটে।

রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of glorious)
১.   “পাখি রাম রহিম বুলি বলে, করে সে অনন্তলীলে, বলো তারে কী চিনলে, বলো গো নিশ্চয়।” (পবিত্র লালন- ৩০১/২)
২.   “রাম রহিম বলছে সেজন, ক্ষিতি জল কী বাও হুতাশন, শুধালে তার অন্বেষণ, মূর্খ দেখে কেউ বলে না।” (পবিত্র লালন- ৩২৮/৩)
৩.   “রামের ভক্ত লক্ষ্মণ সর্বকালে, শক্তিশেল হানিল বক্ষঃস্থলে, তবু রামচন্দ্রের প্রতি- না ভুলল প্রীতি, লালন বলে করো বিবেচনা।” (পবিত্র লালন- ৭৩৩/৫)

রামের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of glorious)
১.   “আমি অযোধ্যায় রাম গোপীগণের শ্যাম, যেভাবে যে ডাকে সেভাবে পুরাই মনষ্কামনা, ভক্তের দ্বারে থাকি মুদাম, শম্ভুরসে ভোর করি।” (পবিত্র লালন- ৫৯৫/৩)
২.   “তুমি অযোধ্যায় রাম বৃন্দাবনে শ্যাম, সর্বমুখে শুনি তুমি গুণধাম, কোন নামে রও অধর হয়ে, কোন নামটি ভক্তের দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৯৮৪/৩)
৩.   “পাষাণী মানব হলো চরণধূলায়, হনুমান মালা পরায় রামের গলায়, লালন বলে চরণ বিক্রে, জনমের মতো ফিরে কেউ কী পাবে?।” (পবিত্র লালন- ৩৫৮/৪)
৪.   “ফুল ছিটাও মনে মনে, বনমালীর ভাব জানো না, চৌদ্দবছর বনে বনে রামের সনে, সীতা লক্ষ্মণ এ তিনজনা।” (পবিত্র লালন- ৪২৯/২)
৫.   “বনের পশু হনুমান, রাম বিনা তার নাই ধ্যান, মুদিলেও তার দুই নয়ন, অন্যরূপ না ফিরে চায়।” (পবিত্র লালন- ৫০/৩)
৬.   “বনের একটা পশু বৈ নয়, ভক্ত হনুমান তারে কয়, কৃষ্ণরূপ সে রামরূপ ধরায়, কেবলি ভক্তির বলে।” (পবিত্র লালন- ৯৬৩/৩)
৭.   “যাত্রা ভঙ্গ যার সনে, সে বানর হনুমানে, নিষ্ঠাবান রামচরণে, সাধুর খাতায় তার সুখ্যাতি।” (পবিত্র লালন- ৩১৮/৩)
৮.   “রাম নারায়ণ গৌরহরি, ঈশ্বর যদি গণ্য করি, তারাও জীবের বংশধারী, এ সংসারে হয় কেমনে।” (পবিত্র লালন- ৪৭৪/২)
৯.   “রাম রহিম গোউরশাহ বলে, জাতি হয় সে মুচির ছেলে, মা গঙ্গা তারে দেখা দিলে, চামড়ার কুঠরায়।” (পবিত্র লালন- ১০৪/২)
১০. “শুনেছি সে ত্রেতাযুগে, রাম অবতার ভক্তের লেগে, মহাতীর্থ স্থান যোগে, যুদ্ধে জয় করবে, তুমি গজাসুরকে চরণ দিয়ে, বন্ধু হয়েছে ভক্তিভাবে।” (পবিত্র লালন- ৩৫৮/২)
১১.  “সখ্য শান্ত দাস্য প্রেমে, বাৎসল্য আর মধুর প্রেমে, পঞ্চতত্ত্ব পঞ্চপ্রেমে, বচ্ছে শতধারা, ঘটা হয়ে মাতোয়ারা, পঞ্চানন খায় ধুতরা, মুখে বলে রাম হরিরাম, ঐ প্রেমের প্রেমিক যারা।” (পবিত্র লালন- ৬৫৮/২)
১২.  “সত্যযুগে ছিলেন হরি, দ্বাপরে রাম ধনুকধারী, ত্রেতায় কৃষ্ণ বংশীধারী, লালন কয় কলিতে হচ্ছে লীলা, নিত্যকথা কেউ কয় না।” (পবিত্র লালন- ২৪৮/৩)

শিশ্ন অর্থে রামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology glorious sense for penis)
১.   “রামদাস মুচি ভবের পরে, ভক্তিবল উদয় করে, স্বর্গে সদাই ঘণ্টা পড়ে, শুনি সাধুর ঠাঁই।” (পবিত্র লালন- ৭০৭৮/৩)
২.   “রামানন্দের দরশনে, পূর্ব ভাব উদয় মনে, যাব আমি কার সনে, সে যে পুরী।” (পবিত্র লালন- ৬৭৫/৩)

————————————————————————————–

১.   “তীর্থ গোদাবরির তীরে, রামানন্দ দেখলেন তারে, রসরাজ মহাভাবে মিশে, একরূপ সে হয়।” (পবিত্র লালন- ৪৮৪/২)
২.   “পুষ্করিণী সাড়ে তিনরতি, ঘাটলাতে জ্ঞানের বাতি, নয় শিরে নয় ধার খেলে, দই দুগ্ধ উদয় চন্দ্র রামানন্দ ভক্তবৃন্দ, পারের ঘাটে একদিন যদি মিলে।” (পবিত্র লালন- ১৫৯/২)
৩.   “রামদাস মুচির ভক্তিতে, গঙ্গা এলো চামকুঠিতে, এমন সাধন করে কত মহতে, কেবল লালন কূলে কূলে বায়।” (পবিত্র লালন- ৫০/৪)
৪.   “রামদাস মুচির মন সরলে, চামকোঠায় তার গঙ্গা মিলে, সিরাজ সাঁইজি লালনকে বলে, আর কী বলবো তোকে।” (পবিত্র লালন- ১০৮/৪)
৫.   “রামদাস সে মুচির ছেলে, গঙ্গা যাকে হরে নিলে, লালন কয় গভীর জলে, আপন চামকুঠরায়।” (পবিত্র লালন- ১০৯/৪)

আত্মা অর্থে রামপরিভাষাটির ব্যবহার (Using the terminology glorious sense for soul)
১.   “জীবাত্মা পরমাত্মা, ভূতাত্মা আত্মারাম, আত্মারামেশ্বর দিয়ে পঞ্চাত্মা, এ ধড় হয় তাদের আস্তানা।” (পবিত্র লালন- ৫৪৯/২)
২.   “সদাই বল আত্মারাম, মুখে লওরে কৃষ্ণনাম, যাতে মুক্তি পাই, সে নামে তো- হয় না রত, খাব খাব রব সদাই।” (পবিত্র লালন- ৮৬৩/২)

রামের সংজ্ঞা (Definition of glorious)
রামায়ণে বর্ণিত অযোধ্যার রাজা দশরথের জেষ্ঠপুত্রকে রাম বলে।

রামের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of glorious)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; জরায়ুতে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত শ্বেতবর্ণের জলকে পালনকর্তা বা রূপকার্থে রাম বলে।

রামের প্রকারভেদ (Variations of glorious)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে রাম দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান রাম ও ২. উপমিত রাম।

. উপমান রাম (Analogical glorious)
রামায়ণে বর্ণিত; অযোধ্যার রাজা দশরথের জেষ্ঠপুত্রকে উপমান রাম বলে।

. উপমিত রাম (Compared glorious)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে জরায়ুতে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত শ্বেতবর্ণের জলকে পালনকর্তা বা উপমিত রাম বলে।

রামের পরিচয় (Identity of glorious)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পালনকর্তা পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। পৌরাণিক চরিত্রগুলো কখনই বাস্তব নয়; বরং এসব বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা এর রূপক নামে ঈশ্বরায়িত, দেবতায়িত ও মানবায়িত পৌরাণিক চরিত্র বিশেষ। তাদৃশ আলোচ্য রাম পালনকর্তার একটি বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা বিশেষ। পালনকর্তা হলেন; দ্বিপস্থ জীবের জরায়ুতে ভ্রূণ লালনপালনে নিয়োজিত ঐশি দেবতা বিশেষ। একে বাংলায় সাঁই, ইংরেজিতে God এবং আরবিতে ‘ﺮﺐ’ (রব) বা ‘ﺮﺴﻮﻞ’ (রাসুল) বলা হয়। রামের সবকিছুই রূপক। যেমন; জন্মস্থান অযোধ্যা, পিতার নাম দশরথ মাতার নাম কৌশল্যা স্ত্রীর নাম সীতা ইত্যাদি।

দশরথপরিভাষারটির কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন (The mythophilosophy and introspection of the tenchariot terminology)
Tenchariot is a chariot of tencharioteer. অর্থ দশরথ হচ্ছে দশজন সারথি দ্বারা পরিচালিত যানবাহন বিশেষ।

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
ইনি সূর্যবংশীয় রাজা দিলীপের প্রোপুত্র। অর্থাৎ; দিলীপের পুত্র রঘু, রঘুর পুত্র অজ ও অজের পুত্র দশরথ। দশরথের পিতার নাম অজ এবং দাদার নাম দিলীপ। তিনি অযোধ্যার রাজা ও রাম, লক্ষ্মণ ও ভরতের পিতা। কৌশল্যা, কৈকেয়ী, ও সুমিত্রা নামে তাঁর তিনজন প্রধানা মহিয়সী ছিলেন। শান্তা নামে তাঁর একজন কন্যাও ছিল। বহু বছর তাঁর কোনো পুত্র সন্তান হয় নি।

দশরথ তাঁর এ কন্যাকে পরম মিত্র অঙ্গদেশের রাজা লোমপাদের নিকটে পোষ্যপুত্রিকা রূপে অর্পণ করেন। লোমপাদ শান্তাকে বিভাণ্ডক মুনির পুত্র ঋক্ষশৃঙ্গের সাথে বিয়ে দেন। যৌবনকালে দশরথ একবার মৃগয়াকালে গভীররাত্রে কলসে জলপূর্ণরত এক মুনি কুমারকে জলপানরত হস্তিভ্রমে শব্দভেদী বাণের সাহায্যে নিহত করেন। উক্ত মুনিকুমারের অন্ধপিতা দশরথকে অনুরূপ পুত্রশোকে মৃত্যুর অভিশাপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করেন।

অপুত্রক দশরথ পুত্র কামনায় পুত্রেষ্টিযজ্ঞ করেন ও সে যজ্ঞের প্রায়স কৌশল্যা ও কৈকেয়ীকে পুত্রলাভার্থে আহার করতে দেন। কৌশল্যা ও কৈকেয়ী এ পায়সের অংশ বিশেষ অন্য সপত্নী সুমিত্রাকেও আহার করতে দেন। এর ফলে কৌশল্যার গর্ভে রাম, কৈকেয়ীর গর্ভে ভরত এবং সুমিত্রার গর্ভে লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন নামে পুত্রগুলোর জন্ম হয়। সুমিত্রা উক্ত পায়সের দুইভাগ আহার করেছিল বলেই তাঁর গর্ভে লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্ন নামে দু’জন যমজ পুত্রের জন্ম হয়। উল্লেখ্য যে; কৌশল্যার গর্ভেই শান্তা নামে এক কন্যার জন্ম হয়।

একবার দেবাসুরের যুদ্ধে দেবতাগণের সাহায্য করতে গিয়ে দশরথ দু’বার ভীষণ রূপে আহত হন। কৈকেয়ীর সেবাযত্নে তিনি আরোগ্যলাভ করেন। কৈকেয়ীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে দশরথ তাঁকে দুটি বর প্রদাণের প্রতিশ্রুতি দেন। অবশেষে সব পুত্রের বিবাহ দেওয়ার পর দশরথ যখন রামকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করার আয়োজন করেন, তখন ক্রুরমতী দাসী মন্থরার প্ররোচনায় কৈকেয়ী দশরথের নিকট প্রতিশ্রুত এক বরে ভরতের রাজ্যলাভ ও অন্য বরে রামের চতুর্দশ বৎসর বনবাস প্রার্থনা করেন। অতঃপর; অনন্যোপায় হয়ে রাজা দশরথ তাঁকে এ বর প্রদান করেন। পিতৃসত্য পালনার্থ রাম সীতা ও লক্ষ্মণসহ বনবাস গমন করেন। অতঃপর; পুত্রশোকে কাতর হয়ে রাজা দশরথ প্রাণত্যাগ করেন। রামের প্রতিনিধি রূপে ভরত রামের পাদুকা সিংহাসনে স্থাপন করে রাজ্য পরিচালনা করতে থাকেন।

অন্যদিকে; বনবাসে অবস্থানকালে লঙ্কারাজ রাবণ কর্তৃক সীতা অপহৃত হন। রাম, লক্ষ্মণ ও হনুমানের সাহায্যে রাবণবধ ও সীতা উদ্ধার করে আপন রাজ্যে আগমন করেন। অতঃপর; সীতার অগ্নিপরক্ষাকালে রাজা দশরথ ইন্দ্রলোক হতে এসে রাম, সীতা ও লক্ষ্মণকে আশীর্বাদ করে যান। তখন তিনি বলেন যে; রামের বিরহে স্বর্গও তাঁর কাছে সুখকর হয় নি। রামের অনুরোধে দশরথ কৈকেয়ী ও ভরতকে ত্যাগ করার অভিশাপ প্রত্যাহার করেন। সীতাকে অগ্নিপরীক্ষার অপমানের জন্য কোনরূপ সান্তনা না দিয়েই তিনি আবার সুরলোকে গমন করেন। সব মিলিয়ে অযোধ্যার রাজা ‘দশরথ’ চরিত্রটি অনুপম, সুন্দর ও সাবলীল হয়ে ফুটে ওঠেছে ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যে।

আত্মদর্শন  (Theosophy)
সাধারণ মানুষ যে যানবাহনে চড়ে তাকে বলা গাড়ি। অন্যদিকে; দেবতাগণ যে বাহনে চড়েন তাকে বলা হয় রথ। অর্থাৎ; রথ হচ্ছে স্বর্গীয় দেবতাগণের চলাচলের বাহন। সারা বিশ্বের সব আত্মজ্ঞানী দার্শনিক মনীষীর মতে; ‘দশরথ’ হচ্ছে ‘দশ রথ’। অর্থাৎ; দশটি দৈবগাড়ি। শ্বরবিজ্ঞানে; মানবের ইন্দ্রিয়াদিকে রথ বলা হয়। আর মানবদেহে মোট ১০টি ইন্দ্রিয় বিদ্যামান। সেজন্য; শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল মানবদেহকে দশরথ বলা হয়।

একমাত্র মানবদেহ ভিন্ন অন্য কোথাও দেবতাগণের দশটি রথ একত্র আর পাওয়া সম্ভব নয়। শ্বরবিজ্ঞানের সর্বপ্রকার দেবী ও দেবতাগণের আবাস্থল মানবদেহ। এ সূত্র ধরে বলা যায়; আলোচ্য রামের পিতা হচ্ছে হচ্ছে মানবদেহ। আর দেহকে পিতা বা নানা বলার অনেক উপমা শ্বরবিজ্ঞানে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন; কবি জালাল বলেছেন;

“জলের মাঝে লাগছে আগুন শুকনায় দৌড়াদৌড়ি,

বাবার বিয়ের ঘটক হইয়া ছেলে যাচ্ছে নানার বাড়ি।”

এখানে; জলাশয় হচ্ছে বৈকুণ্ঠ (জরায়ু), শুকনা হচ্ছে বৈতরণী, বাবা হচ্ছে বিদ্যুৎ, ছেলে হচ্ছে শিশ্ন এবং নানার বাড়ি হচ্ছে দেহ। এখানে; নানার বাড়ি হচ্ছে দেহ আর রামের বাবার বাড়ি হচ্ছে দেহ। এতে কোনো সমস্যা নেই। এবার সন্দেহাতীত ভাবে ও শক্ত করেই বলা যায়; আলোচ্য দশরথ হচ্ছে ‘মানবদেহ’। এ মানবদেহ নিয়েই চিকিৎসা শাস্ত্র, মানবদেহ নিয়েই জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং মানবদেহ নিয়েই সারা বিশ্বের সব পুরাণ। আর পুরাণ হতেই সাম্প্রদায়িক মহা গ্রন্থাদির উদ্ভব। সাম্প্রদায়িক মহাগ্রন্থ (আজকের ধর্মগ্রন্থ) অর্থই শ্বরবিজ্ঞান। শ্বরবিজ্ঞানের ভেদ সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না বলেই একে মহাগ্রন্থ, ঐশিগ্রন্থ, স্বর্গীয় গ্রন্থ, কাঁইয়ের গ্রন্থ বা ঈশ্বর প্রদত্ত গ্রন্থ বলতে বাধ্য হয়।

সীতাপরিভাষারটির কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন (The mythophilosophy and introspection of the whitish terminology)

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
মিথিলার রাজা জনকের কন্যা। হল দ্বারা যজ্ঞভূমি কর্ষণ করার সময় রাজা জনক তাঁকে সীতায় অর্থাৎ; লাঙগলের রেখার মধ্যে প্রাপ্ত হন। ক্ষেত্রের হলমুখের সীতা (রেখা) হতে উৎপন্ন বলে তাঁর নাম হয় সীতা। এ মানসী কন্যাকে জনক নিজ কন্যার মতো লালনপালন করতে লাগলেন। মহর্ষি কুশধ্বজের কন্যা বেদবতী রাবণ কর্তৃক হৃতধর্মা হবার ভয়ে জলন্ত চিতায় প্রাণত্যাগ করার সময় রাবণকে বলেন; ত্রেতাযুগে আমিই তোমাকে বধ করার জন্য কোনো সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকর অযোনি সম্ভবা কন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করব। সে বেদবতীই ত্রেতায় সীতা রূপে অবতীর্ণ হন। দক্ষযজ্ঞের সময় মহাদেব ব্যবহৃত ধনু পূর্বপুরুষ দেবতাগণের নিকট হতে উত্তরাধিকার সূত্রে জনক পেয়েছিলেন। সীতা বিবাহযোগ্যা হলে রাজা জনক পণ করেন- যে এ হরধনু ভঙ্গ করবে তার হাতেই তিনি সীতাকে সমর্পণ করবেন।

পৃথিবীর সব রাজা ও রাজকুমারগণ এ হরধনু তুলতে অসমর্থ হলে রামচন্দ্র অবলীলাক্রমে এ ধনুতে জ্যা রোপণ করে এ ধনু ভঙ্গ করেন ও পরে সীতাকে বিবাহ করেন। রাম সীতার পাণি গ্রহণ করার পর রাজা দশরথ রামকে যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত করার সংকল্প করলে মন্থরা দাসীর প্ররোচিত রাণী কৈকেয়ীর প্রার্থনায় রামের বনবাস ও ভরতের রাজ্যলাভ হয়। রামের নিষেধ সত্ত্বেও সীতা রাম ও লক্ষ্মণের সাথে স্বেচ্ছায় বনগমন করেন। চিত্রকূট ত্যাগের সময় অত্রিপত্নী অনুসুয়া সীতাকে দিব্য বরমাল্য, অলঙ্কার ও অঙ্গরাগগুলো উপহার দেন। দণ্ডকারণ্যে বিরাধ রাক্ষস সীতাকে হরণ করে কিন্তু রাম ও লক্ষ্মণ তাঁকে হত্যা করে সীতাকে উদ্ধার করেন। পঞ্চবটীতে বাস করার সময় রাবণ ভগিনী শূর্পণখা রাম ও লক্ষ্মণের নিকট প্রেম নিবেদন করতে গিয়ে লাঞ্ছিতা হন। এ সংবাদে রাবণ ক্রুদ্ধ হয়ে সীতাকে হরণ করার জন্য অমাত্য (মন্ত্রী) মারীচকে স্বর্ণমৃগ রূপধারণ করিয়ে সীতাকে প্রলুব্ধ করেন। সীতার অনুরোধে রাম মায়ামৃগের অনুসরণ করলেন। মারীচ রামকে প্রলুব্ধ করে অনেক ব্যবধানে নিয়ে যায়। রাম শর নিক্ষেপ করলে মৃত্যুকালে মারীচ রামের কণ্ঠস্বর অনুকরণ করে ‘হা সীতা’, ‘হা লক্ষ্মণ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। রামের কোনো কঠিন বিপদ মনে করে সীতা লক্ষ্মণকে রামের সন্ধানে প্রেরণ করেন। লক্ষ্মণ সীতাকে রক্ষা করার জন্য রাম কর্তৃক আদিষ্ট হয়েছিলেন এবং রামের কোনো বিপদ হতে পারে না মনে করে কুটীরের বাইরে যেতে অস্বীকার করেন। তখন সীতা মতিভ্রমে লক্ষ্মণকে তীব্র তিরস্কার করে বললেন; তাঁকে কামনা করেন বলেই লক্ষ্মণ রামের বিপদে সাহায্য করতে অনিচ্ছুক। তখন বিব্রত হয়ে লক্ষ্মণ রামের অনুসন্ধানে বের হয়ে গেলে, পরিব্রাজক রূপে রাবণ সীতার নিকট উপস্থিত হন। সীতা অতিথি সৎকারের আয়োজন করেন। রাবণ তখন আত্ম পরিচয় দিযে সীতাকে তাঁর সঙ্গে লঙ্কায় যেতে বলেন। সীতা ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করলে, রাবণ তাঁকে সবলে হরণ করে মায়াময় রথে লঙ্কার পথে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে জটায়ু রাবণকে বাধা দিলে, তিনি রাবণ কর্তৃক ছিন্নপক্ষ হয়ে ভূতলে পতিত হন। পথিমধ্যে সীতা অলঙ্কারাদি খুলে ফেলে দেন।

কিস্কিন্ধ্যার নিকটে এক পর্বতশৃঙ্গে পাঁচটি বারণকে দেখে সীতা তার ওড়না ও আভরণগুলো সেখানে ফেলে দেন। রাবণ প্রথমে সীতাকে নিয়ে লঙ্কার অন্তঃপুরে রাখেন। সীতা তাঁর বশে না আসায় রাবণ তাঁকে অশোকবনে রাক্ষসী বেষ্টিত অবস্থায় বন্দিনী করে রাখেন এবং বলেন যে দ্বাদশ মাসের মধ্যে রাবণের বশ্যতা স্বীকার না করলে সীতাকে খণ্ডিত করে ভক্ষণ করা হবে। সীতার পরিত্যক্ষ অলঙ্কারাদির চিহ্ন ধরে জটায়ুর নির্দেশে রাম ও লক্ষ্মণ কিস্কিন্ধ্যায় উপস্থিত হয়ে সুগ্রীবের সাহায্যে সীতাকে অন্বেষণ করতে থাকেন। পরে হনুমান সাগর লঙ্ঘন করে লঙ্কা হতে সীতার সংবাদ ও অভিজ্ঞান স্বরূপ অঙ্গুরী নিয়ে আসেন।

অতঃপর; রাম বানর সেনার সাহায্যে সাগরে সেতু নির্মাণ করে লঙ্কায় উপস্থিত হন। রাবণ সীতাকে রামের মায়ামুণ্ড ও ধনুর্বাণ দেখিয়ে বশে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় অমাত্যদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য রাবণ সেস্থান ত্যাগ করতেই মায়ামুণ্ড ও ধনুর্বাণ অদৃশ্য হয় এবং বিভীষণ পত্নী সরমা প্রকৃত রহস্য জানিয়ে সীতাকে সান্তনা দেন। দীর্ঘ ছয়মাস যুদ্ধের পর রাবণ সবংশে নিহত হলে হনুমান সীতাকে আনতে যান ও সীতার পার্শ্বচরী রাক্ষসীদের বিনাশ করতে উদ্যত হন। সীতা হনুমানকে তা করতে নিষেধ করে বলেন; এ দাসীদের ক্ষমা করেন। সীতা রামের নিকট উপস্থিত হলে রাম সীতার চরিত্রে সন্দেহ প্রকাশ করে সীতাকে যথা ইচ্ছা যেতে বলেন। সীতা অভিমান করে রামকে তিরস্কার করে লক্ষ্মণকে চিতা প্রস্তুত করতে বলেন এবং অগ্নিতে প্রবেশকালে বলেন যে; “যদি আমি সতী হই এবং রামের প্রতি একনিষ্ঠ হই তবে স্বয়ং অগ্নিই আমাকে রক্ষা করবেন”। অগ্নিদেব স্বয়ং সীতাকে ক্রোড়ে নিয়ে ওঠেন এবং তাঁর সতিত্বের কথা বলে রামকে পুনরায় সীতাকে গ্রহণ করতে বললে রাম সীতাকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে আসেন ও ভরতের নিকট হতে রাজ্যভার গ্রহণ করেন। অতঃপর; সীতা অন্তঃসত্ত্বা হন। সীতার চরিত্রের বিশুদ্ধতা সম্বন্ধে রাম নিঃসন্দেহ হন। অন্যদিকে; ভদ্র নামক জনৈক হাস্যকারের সাহায্যে জানতে পারেন যে; প্রজাদের মনে সীতার চরিত্র সম্বন্ধে সন্দেহ রয়েছে। লোক অপবাদ খণ্ডন ও প্রজাদের সন্তুষ্টির জন্য রাম লক্ষ্মণকে দিয়ে সীতাকে তমসার তীরবর্তী বাল্মীকির আশ্রমে নির্বাসিত করেন।

এখানে; যথা সময়ে সীতার কুশ ও লব নামে যমজ সন্তান হয়। বাল্মীকি তাঁদের জাতকর্ম সম্পাদন করিয়ে শাস্ত্রশিক্ষা ও অস্ত্রশিক্ষা দেন। অতঃপর; তিনি নিজের নির্মিত রামায়ণ কণ্ঠস্থ করান। রাম অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করলে নিমন্ত্রিত বাল্মীকির সঙ্গে কুশ ও লব এ যজ্ঞে অংশগ্রহণ করে রামায়ণ গান করেন। তাদের গান শুনে রামের বিশ্বাস হয়ে যে; তারা সীতারই পুত্র। সীতাকে পুনরায় গ্রহণের জন্য রাম বাল্মীকির নিকট সংবাদ প্রেরণ করেন। সীতা যদি নিষ্পাপ হন, তবে; তিনি যেন বাল্মীকির আদেশ নিয়ে আত্মশুদ্ধি করেন এবং সকলের সম্মুখে শপথ করেন। বাল্মীকি সম্মত হয়ে জানান যে; সীতা প্রয়োজনীয় শপথ ও পরীক্ষা দিবেন। পরদিন সভামধ্যে বাল্মীকি সীতার নির্দোষিতার কথা প্রকাশ করেন। রাম বাল্মীকিকে বলেন, সীতার শুদ্ধ স্বভাবের কথা তিনি জানেন, কেবল লোক অপবাদ ভয়েই তিনি সীতাকে ত্যাগ করেছিলেন। সেজন্য; বাল্মীকি যেন রামকে ক্ষমা করেন। সীতার প্রতি যেন রামের প্রীতি জন্মায়। সীতা তখন সর্বসমক্ষে কৃতাঞ্জলি হয়ে নিচদিকে তাকিয়ে বললেন; “যদি আমি সতী হই এবং রাম ভিন্ন অন্য কারো চিন্তা না করে থাকি- মনে কর্মে বাক্যে শুধু রামকেই অর্চনা করে থাকি, তবে পৃথিবী দেবী যেন বিদীর্ণ হয়ে আমাকে আশ্রয় দেন। শপথকালে ভূতল থেকে নাগবাহিত এক চমৎকার রথে বসুমতি উত্থিত হয়ে সীতার উভয় বাহু ধারণ করে সিংহাসনে উপবেশনপূর্বক রসাতলে প্রবেশ করেন (পৌরাণিক অভিধান)

আত্মদর্শন  (Theosophy)
যিনি উদ্ভাবন করেন তাকেই জনক বলা হয়। বিশ্বের সব দ্বিপস্থ জীবের উদ্ভাবক হচ্ছে শিশ্ন। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; শিশ্নকে জনক বলা হয়। এ জনক রাজের কন্যাই হলেন সীতা। উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে; সর্বদা শুক্র বা বীর্যকে নারী চরিত্রে চরিত্রায়ন করা হয়। যেমন; লক্ষ্মী, দুর্গা, পার্বতী, কমলা, বেহুলা, হাজেরা, ফাতিমা, জুলেখা ও বিলকিস প্রভৃতি। মানুষের শুক্র শুভ্র বা সাদা বলেই এর এমন ছদ্মনামকরণ করা হয়েছে। বাংলা ‘শ্বেত’ (শুভ্র, সাদা) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ শ্বেতা। এ শ্বেতা হতেই ‘সীতা’ পরিভাষাটির উৎপত্তি হয়েছে। যথা; শ্বেত> শ্বেতা> সেতা> সীতা।

বড় দুঃখজনক বিষয় হলো; কেবল বাংভারতীয় উপমহাদেশেই নয় বরং সারা পৃথিবীর সর্বত্র একই অবস্থা। সেটি হচ্ছে সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা পুরাণে ব্যবহৃত এ ‘সীতা’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল দেবীবৎ কন্যাকেই বুঝেন ও বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু রূপকারগণ হলরেখা, লাঙ্গলরেখা, খাঁজ, হলকর্ষণে সৃষ্ট খাত, গভীর কুঁচন ইত্যাদি বলে যাচ্ছেন; সেদিকে তাদের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। এখানে; হল বা লাঙ্গল হচ্ছে শিশ্ন এবং হলকর্ষণ হচ্ছে মৈথুন। আর এর মাধ্যমে যা সৃষ্টি হয় তাই সীতা। এটা যে পুরুষের শুক্র তা পরিষ্কারভাবেই বুঝা যায়। তবুও; সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিকরা সত্য মেনে নিতে সম্মত নয়। এসব কারণে সাম্প্রদায়িকরা কখনই আত্মদর্শন বা আত্মতত্ত্ব জ্ঞানের সন্ধান পায় নি। আলোচনার শেষপ্রান্তে বলা যায়; আলোচিত ‘সীতা’ কখনই দেবীবৎ সীতা নয় বরং সীতা হলো পুরুষজাতির শুক্র। সীতার পিতা জনক হলো স্বয়ং বলাই বা শিশ্ন। লঙ্কা হলো নরদেহ

অগ্নিপিষ্টনপরিভাষারটির কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন (The mythophilosophy and introspection of the firetrample terminology)

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
দশ সারথির দ্বারা চালিত রথই দশরথ (Tenchariot is a chariot of ten charioteer)
রাক্ষসরাজ রাবণের ভয়ঙ্কর লঙ্কাপুরী হতে সীতা উদ্ধারের পর অযোধ্যায় ফিরে গেলে সীতার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আর এতে সীতা অভিমান করে এ চরম পরীক্ষা দিতে সম্মত হন। তিনি লক্ষ্মণকে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত চিতা প্রস্তুত করতে বলেন। চিতা প্রস্তুত হলে সীতা সহাস্যবদনে তাতে প্রবেশ করেন এবং সর্ব সম্মুখে আবার বেরিয়ে আসেন। সীতা যে সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সতী এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করারও অবকাশ নেই কারো।

আত্মদর্শন  (Theosophy)
শ্বরবিজ্ঞানে; বৈতরণীকে চিতা বলা হয়। এ নদীর তাপমাত্রা অধিক বলেই একে চিতা বলা হয়। অন্যদিকে; শুক্রকে সীতা বলা হয়। উল্লেখ্য যে; শ্বরবিজ্ঞানে; মৈথুনকে অগ্নিপিষ্টন বলা হয়। আরব্য কল্পিতসাহিত্যে ইব্রাহিমকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তিনি সে অগ্নিতে অক্ষত ও সুস্থভাবেই বেঁচে গিয়েছিলেন। বিখ্যাত এ পৌরাণিক কাহিনীটি পবিত্র কুরানেও স্থান পেয়েছে। সাধক যতক্ষণ ঊর্ধ্বরেতা না হয় ততক্ষণ মৈথুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এর অর্থ হচ্ছে শ্বরবিজ্ঞানে শুক্রপাতকে মৃত্যু বলা হয়। সাধক অটল না হলে স্বর্গীয় নদী বৈতরণীতে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়। কিন্তু সাধক যদি ঊর্ধ্বরেতা বা অটলত্ব অর্জন করে থাকেন তবে মৈথুন রূপ শত অগ্নিপিষ্টন করলেও তাঁর মৃত্যু হয় না। অর্থাৎ; শুক্রপাত হয় না। এই অটল বা ঊর্ধ্বরেতা হওয়াকে শ্বরবিজ্ঞানে অগ্নিপিষ্টন করা বলা হয়।

অন্যথায়; বাস্তব আগুন আগেই যেমন ছিল; এখন তেমনই আছে; ভবিষ্যতেও এমনই এমন থাকবে। শ্বরবিজ্ঞানে; এ বাস্তব আগুনের কথা বলা হয় নি। সীতা ও ইব্রাহিম এ বাস্তব আগুনে কখনই অবতরণ করেন নি। বরং তারা অবতরণ করেছিলেন কামনদীর অগ্নিতে। তবে; ইব্রাহিম ছিল শিশ্ন চরিত্রে কিন্তু সীতা ছিল শুক্র চরিত্রে। শিশ্ন প্রজ্জ্বলিত না অর্থ শুক্র প্রজ্জ্বলিত না হওয়া এবং শুক্র প্রজ্জ্বলিত না হওয়া অর্থই শিশ্ন প্রজ্জ্বলিত না হওয়া। পুরাণে এমন চরিত্র পরিবর্তন করাই কোনো ক্ষতি নেই। এমনকি; গরুকে রাজা এবং ইন্দ্রিয়কে রাজা বলাতেও কোনো সমস্যা নেই।

অযোধ্যাপরিভাষাটির কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন (The mythophilosophy and introspection of the securiferous terminology)

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
১.    রামায়ণে বর্ণিত দশরথ পুত্র রামচন্দ্রের জন্মস্থান রূপে প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন নগরী, বর্তমানের ভারতের উত্তর প্রদেশের নগর বিশেষ।
২.   সরযু নদীর তীরে অবস্থিত উত্তর কৌশল রাজ্যের রাজধানী এবং দিলীপ রঘু রামচন্দ্রগুলো সূর্যবংশীয় রাজাদের জন্মভূমি। প্রাচীন অযোধ্যা ৪৮ ক্রোশ দীর্ঘ ও ৮ ক্রোশ প্রস্থ ছিল (পৌরাণিক অভিধান)

আত্মদর্শন  (Theosophy)
অযোধ্যা অর্থ; যেখানে যুদ্ধ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ; যুদ্ধমুক্ত স্থান। এর ইংরেজি হলো Non-fighting place. কিন্তু এমন অনুবাদ করা কখনই সমীচীন নয়। এজন্য; নিরুপায় হয়ে এর ভাবার্থের অনুবাদটি গ্রহণ করতে হবে। আর সেটি হলো নিরাপদনগর বা নিরাপদ অঞ্চল। তবে; এখানে; ‘নিরাপদনগর’ গ্রহণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এর আরবি হলো, ‘ﺍﻻﻤﻴﻦ ﺑﻟﺪ’ (বালাদ আলয়ামিন)। অর্থ যুদ্ধমুক্ত নগর। এবার দেখা যায়; রামায়ণে বর্ণিত রামের জন্মস্থানও; যেমন নিরাপদ নগর (Securecity)/ (securiferous); তাদৃশ কুরানে বর্ণিত মুহাম্মদের জন্মস্থানও নিরাপদ নগর

এ ব্যাপারে পবিত্র কুরানেও আয়াত আছে। যেমন; “ডুমুর ও জলপাইয়ের শপথ।” “وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ” (ওয়াত্তিনি ওয়াঝঝাইতুন)। ((Waaltteeni waalzzaytooni). “By the fig, and the olive.” (১) “এবং নিদর্শনপাহাড়ের।” “وَطُورِ سِينِينَ” (ওয়া তুরি সিনিন)(Watoori seeneena). “By Mount Sinai.” (২) “এবং এ নিরাপদনগরের।” “وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ” (ওয়া হাযাল বালাদিল আমিন)(Wahagal baladil ameeni). “And by this securecity.” (৩) (কুরান, সুরা- তিন)

বালাদ [ﺑﻟﺪ] (আপৌছ)বি নগর, বৃহত্তম শিল্প-বাণিজ্যাঞ্চল, পর্বততুল্য সুউচ্চ অট্টালিকাপুরী, বিভিন্ন বৃত্তির লোকজন একত্রে বসবাসের অঞ্চল (শ্ববি) ঢাকা, নিধুয়া, বৈকুণ্ঠ, কাশী, মথুরা, স্বর্গ (বাপৌরূ) নিধুয়া (বাপৌমূ) জরায়ু Jস্ত্রী নগরী {}

বালাদুল আমিন [ﺍﻻﻤﻴﻦ ﺑﻟﺪ] (আপৌছ)বি নিরাপদনগরী, যেখানে সর্বপ্রকার যুদ্ধবিগ্রহ চির নিষিদ্ধ {.বালাদ. ﺑﻟﺪ+.আমিন. ﺍﻤﻴﻦ}

আমিন [ﺍﻤﻴﻦ] (আপৌছ)বিণ বিশ্বস্ত, রক্ষক, সংরক্ষক, ধারক, বাহক, আধার, সংরক্ষণকারী, তত্ত্বাবধায়ক (প্র) যার নিকট কোনো দ্রব্য গচ্ছিত রাখা হয়, যে অন্যের দ্রব্য গচ্ছিত রাখে, ভূমির পরিমাপকারী কর্মী (বাপৌরূ) নিধুয়া (বাপৌমূ) জরায়ু {}

এবার আলোকপাত করার বিষয় হলো; সেই নিরাপদনগরটি কী এবং কোথায়? এর উত্তর অত্যন্ত সহজ। কিন্তু তার আগে ভাবতে হবে; আমরা কোন সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করছি? অবশ্যই পুরাণ। আর শ্বরবিজ্ঞানের আলোচনা কখনই দেহতত্ত্বের বাইরে নয়। তাহলে প্রশ্নটির উত্তরও দেহকেন্দ্রিক হতে হবে। এবার দেহের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় জরায়ুর মতো নিরাপদ নগর আর দ্বিতীয়টি নেই। যেখানো ধুলো-বালি, মশা-মাছি, রোদ-বৃষ্টি ও ঝড়-ঝঞ্ছা কোনকিছুই প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু এখানে; সন্তানরূপ মানুষ অনায়াসে বসবাস করে থাকে। এটি;ই শ্বরবিজ্ঞানে বর্ণিত সেই নিরাপদনগর। এ নগরেই ভারতীয় কাল্পনিকদর্শন Indian mythophilosophy রামায়ণের মহান কিংবদন্তি শ্রীরামচন্দ্রের অভিষেক; তেমনই; আরবীয় কাল্পনিকদর্শন Arabian mythophilosophy কুরানের মহান কিংবদন্তি হযরত মুহাম্মদের (ﻤﺤﻤﺪ) অভিষেক। অর্থাৎ; যেমন; রাম অর্থও পালনকর্তা বা সাঁই; তাদৃশ মুহাম্মদ (ﻤﺤﻤﺪ) অর্থও পালনকর্তা বা সাঁই। আর এদের জন্মস্থানও একই। আর তা হচ্ছে জরায়ু। এবার বলা যায় যে; আলোচ্য নিরাপদনগরটি হচ্ছে জরায়ু বা গর্ভাশয়।

অযোধ্যাকে নিরাপদনগর বলার কারণ কী? (What cause to say at the securiferous secure city?)

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
এখানে; যুদ্ধ-বিগ্রহ চিরদিন নিষিদ্ধ। কারণ; এ পবিত্র স্থানে ভগবান শ্রীরাম-চন্দ্রের মহান অভিষেক হয়েছিল। এছাড়া; এখানে; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পতিব্রতা সতী সীতা, লক্ষ্মণ ও ভরতের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। আর এ ভরতের নামানুসারেই ভারতবর্ষের নাককরণ করা হয়েছে। সেজন্য; এ স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করা সবারই একান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য। তাই; এখানে; সর্বপ্রকার যুদ্ধ-সংগ্রাম চিরদিনের জন্য চির নিষিদ্ধ।

আত্মদর্শন  (Theosophy)
অযোধ্যাকে ‘নিরাপদনগর’ বা ‘যুদ্ধমুক্ত নগর’ বলার কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তর একটু জটিল হতে পারে। শ্বরবিজ্ঞানে; বিষয়টি হচ্ছে স্ত্রী জননপথকে ‘মা’ বলা হয়। যেমন; লালন সাঁইজি বলেছেন; “আর আমারে মারিস না মা।” এখানে; কান্নাকারী হচ্ছে স্বয়ং ‘শিশ্ন’ এবং শাস্তিদাত্রী হচ্ছে স্বয়ং ‘জননপথ’। শ্বরবিজ্ঞানে; জননপথকে বৈতরণী, গঙ্গোত্রী, গোদাবরী, সুরনদী, সুরধুনী, ফল্গু, বিরজা, পদ্মা ও যমুনা ইত্যাদি বলা হয়। জননপথে শিশ্ন স্থাপনের পর, তা কামড়ে ধরা, শুক্র হরণের জন্য পুনঃপুন উষ্ণজল নিক্ষেপ করা ও চুম্বকের মতো আকর্ষণ করা ইত্যাদি শ্বরবিজ্ঞানে মারার সাথে উপমা করা হয়েছে। বড়ই বিপদসংকুল এ বৈতরণী অতিক্রম করেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে হয়। তাই; শ্বরবিজ্ঞানে; একে স্বর্গীয় নদী বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় একে Styx (স্টাইক্স), Phlegethon, Acheron, Lethe & Cocytu এবং আরবি ভাষায় একে ‘ستإكس’ (সাতায়েক্স) বলা হয়।

আর হুংকার দিয়ে কেউই মায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে না। যারাই দম্ভ করে মায়ের কাছে গেছে তারা সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। বিপরীতক্রমে যারা বিনয় ও ভয়ভীতির সাথে মায়ের কাছে গেছে তারাই বিজয়ী হয়েছে। এখানে; মায়ের সাথে দম্ভ বা অহংকার করাকে যুদ্ধ বলা হয়েছে। প্রকৃত কথা হলো এটি; কাম যুদ্ধ। প্রত্যেক সাধককে সাধন মনে করে মৈথুন করতে হয়। তাই; এতে যথেষ্ট বিনয় ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। এখানে; কোনো দাম্ভিকতা বা অহংকার চলে না। শ্বরবিজ্ঞানে; এই কাম দম্ভ ও কাম-অহংকারকেই যুদ্ধ বলা হয়। তবে; বিনয়-ধৈর্যসহ সম্পাদিত মৈথুনকে সাধন বলা হয়। এ সূত্র হতেই একে দাম্ভিক্যমুক্ত বা যুদ্ধমুক্ত নগর বলা হয়েছে। অর্থাৎ; অযোধ্যা সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক, রাজনৈতিক ও আগ্রাসনমূলক যুদ্ধমুক্ত নয়। তা পূর্বেও ছিল না, এখনও নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। এখানে; যে কোনো কারণে যুদ্ধ হতেই পারে। এই তো ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের পরে সেখানে মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির কিংবা মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ করার ছুতা ধরে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায় ভারতের অযোধ্যা নগরী কখনই যুদ্ধমুক্ত বা নিরাপদ নয়। বরং প্রকৃত নিরাপদ নগর হচ্ছে দেহরাষ্ট্রের জরায়ু বা গর্ভাশয়। এ কারণে এখানে; কেবল বিনয়যুক্ত মৈথুন ব্যতীত দাম্ভিক্যযুক্ত মৈথুন চলে না।

হরধনুপরিভাষারটির কাল্পনিকদর্শন ও আত্মদর্শন (The mythophilosophy and introspection of the piratebow terminology)

কাল্পনিকদর্শন (Mythophilosophy)
মহাদেব দক্ষযজ্ঞ নষ্ট করবার সময় তাঁর ধনুর জ্যা কর্ষণ করে দেবগণকে বলেছিলেন, তিনি যজ্ঞভাগ চাচ্ছেন, কিন্তু দেবতাগণ তা দিতে চাচ্ছেন না; সেজন্য; তাঁর ধনুর দ্বারা দেবতাগণের শিরোচ্ছেদ করবেন। মহাদেবের এমন কথা শুনে দেবতাগণ রীতিমত ভীত হয়ে মহাদেবের স্তুতি করতে আরম্ভ করলেন। অবশেষে মহাদেব তাদের স্তুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁদের এই ধনু দিলেন। দেবতাগণ তা জনকের পূর্বপুরুষ দেবরাতের নিকট গচ্ছিত রাখলেন। তারপর; একদিন ক্ষেত্র কর্ষণ করতে করতে লাঙ্গলের রেখা হতে রাজা জনক একটি কন্যা সন্তান পেলেন। ক্ষেত্রকর্ষণ কালে হলরেখা থেকে পাওয়া বলে এর নাম রাখলেন সীতা। তাঁর এ অযোনিজা কন্যা সীতা বীর্যশুল্কা হবে। অর্থাৎ; বীরত্ব প্রকাশরূপ পণ দিয়ে এঁকে বিয়ে করতে হবে। জনক এমন স্থির করলেন। অর্থাৎ; যে এই হরধনু ভঙ্গ করতে সক্ষম হবে তার হাতে তিনি এই কন্যা দান করবেন। অনেক রাজা হরধনু ভঙ্গ করে সীতাকে বিয়ে করতে এলেন। শেষে অকৃতকার্য হয়ে পলায়ন করলেন। সর্বশেষে রাম এই হরধনু তুলে অনায়াসে তাতে জ্যা রোপণ করে আকর্ষণ করলেন। যুবক রামের দুর্দান্ত আকর্ষণে ধনু ভেঙ্গে গেল। এরপর রাজা জনকের কথামত রামের সাথে সীতার বিয়ে হলো।

আত্মদর্শন  (Theosophy)
সারা বিশ্বের আত্মজ্ঞানী মনীষীদের মতে; রাম হচ্ছে বিশ্বজগতের পালনকর্তা ‘বিষ্ণ’। আর এর অবস্থান একমাত্র ‘মানবদেহ’। রামের রাজ্যের নাম ‘অযোধ্যা’। আর অযোধ্যা হচ্ছে স্বয়ং ‘বৈতরণী’। শ্বরবিজ্ঞানে; কেবল স্ত্রী জননপথকে বৈতরণী বলা হয়। বৈতরণীর ঘাটকে ‘ভগ’ বলা হয়। ভগ দেখতে ধনুকের মতো বাঁকা বলেই পূর্বকালে একে ‘ধনু’ বলা হতো। এই ধনু পরিভাষাটির সাথে ‘হর’ পরিভাষা যুক্ত করে ‘হরধনু’ পরিভাষাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এবার এর অর্থ হয়েছে, হরের ব্যবহৃত ধনু। যেহেতু; পুরাণে কৃষ্ণ ও রাম উভয়কেই হর বা চোর বলা হয়। কৃষ্ণ ও রাম মানবদেহের মধ্যে চোরের মতো গুপ্তভাবে অবস্থান করে বলেই পুরাণে কৃষ্ণ ও রামকে চোর বা হর বলা হয়। যেহেতু; কৃষ্ণ ও রাম উভয়কেই হর বলা হয় সেহেতু একে ‘কৃষ্ণধনু’ বা ‘রামধনু’ও বলা যায়। যতসম্ভব জানা যায় এখান থেকেই ‘রামধনু’ পরিভাষাটির উদ্ভব হয়েছে।

এবার বলা যায় শ্বরবিজ্ঞানে ব্যবহৃত কৃষ্ণধনু, রামধনু ও হরধনু ইত্যাদি পরিভাষা দ্বারা কেবল ভগকেই বুঝায়। তবে; ‘কৃষ্ণধনু’ পরিভাষাটির ব্যবহার নেই। ‘রামধনু’ দ্বারা রংধনু (Rainbow) বুঝায়। আর ‘হরধনু’ দ্বারা কেবল ‘ভগ’ বুঝায়। অর্থাৎ; হরধনু পরিভাষাটির প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘ভগ’

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!