সাধক

১৫/০১. সাধক
Hermit (হার্মিট)/ ‘قديس’ (ক্বাদিস)

ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপাসক পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা। এর বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা উপাসক। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা চকোরচাতক। এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কপিঞ্জলতাপস এবং এর বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা তপস্বীমুনি

অভিধা (Appellation)
সাধক (বাপৌরূ)বিণ উপাসক, সম্পাদক, সাধনকর্তা, hermit ‘قديس’ (ক্বাদিস) (শ্ববি) উপাসনাকারী, adorer, ‘عابد’ (আবিদ) (রূপ্রশ) তপস্বী, বিবাগী, বৈরাগী, যোগী (বাদে) ঋভু (ইপৌচা) অলি (.ﻮﻟﻰ), দরবেশ (ফা.ﺪﺭﻭﻴﺶ) বিণ মুত্তাক্বি (.ﻤﺘﻗﻰ) (ইংপ) pious (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপাসক পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; যে কোনো কর্ম সাধনকারীকে বাংলায় ‘সাধক বলা হয় ২. বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সাঁই দর্শন ও কাঁই দর্শন সাধনাকারীকে রূপকার্থে ‘সাধক বলা হয় (বাপৌছ) তপস্বী ও মুনি (বাপৌচা) কপিঞ্জল ও তাপস (বাপৌউ) চকোর ও চাতক (বাপৌরূ) সাধক (বাপৌমূ) উপাসক Jবিণস্ত্রী সাধিকা।

সাধকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of hermit)
১.   “আদ্য-জ্ঞান যার সূক্ষ্ম-মোক্ষ, সাধক তার উপলক্ষ, অপরূপ তার বৃক্ষ, দেখলে জীবের পাপ থাকে না।” (পবিত্র লালন- ১০৬/৩)
(মুখ; আপন ঘরের খবর নেনা, অনায়াসে দেখতে পাবি, কোনখানে সাঁইর বারামখানা”)
২.   “কর্তা রূপের নাই অন্বেষণ, আত্মা রূপ কী হয় নিরূপণ, আত্মতত্ত্বে পায় সাধ্যধন, সহজ সাধকজনে।” (পবিত্র লালন- ১১৬/৩)
(মুখ; আপনারে আপনি চেনে নে, দিন-দুনিয়ার পর যার নাম অধর তারে চিনব কেমনে”)
৩.   “কানা নেংড়া সৈনিক নিয়ে সে যুদ্ধে জয়ী হয়, হাজার বছর যুদ্ধ করলে সে মেয়ে হয় পরাজয়, বলন কাঁইজি ভেবে বলে, হাজারী-সাধক মহান।” (বলন তত্ত্বাবলী-৪৫)
(মুখ; এক সুন্দরী বিশ্ব পরে বেশ্যা রূপে ঘুরেফিরে, বলো সে সুন্দরীর কী নাম, গুরুর চরণে প্রণাম”)
৪.   “কারুণ্য তারুণ্য আড়ি, যেজন দিতে পারে পাড়ি, সে বটে সাধক– এড়ায় ভবরোগ, বসতি হয় তার অমরনগরে।” (পবিত্র লালন- ৫৪০/২)
(মুখ;দেখবি যদি সে চাঁদেরে, যা যা কারণ সমুদ্রের পাড়ে”)
৫.   “চোর এলে অটলের ঘরে, সাধকজনা জানতে পারে, লালন বলে স্বরূপ মিলে, দিব্যজ্ঞানের উদয়েতে।” (পবিত্র লালন- ৮৭৮/৩)
(মুখ; লাগল ধুম প্রেমের থানাতে, মনচোরা পড়েছে ধরা রসিকের হাতে, ও সে ধরেছে চোরকে, হাওয়ায় ফাঁদ পেতে”)
৬.   “দেখাদেখি সাধলে যোগ, ঘটে বিপদ বাড়ে রোগ, যেজন হয় শুদ্ধসাধক, নবির ফরমানে চলে।” (পবিত্র লালন- ৭২৪/৩)
(মুখ; ভুলো না মন কারো ভোলে, রাসুলের দিন সত্য মানো, ডাক সদাই আল্লাহ বলে”)
৭.   “মহাজ্ঞান পেয়ে তিলিক, কত সাধক হয় শাস্ত্রযাজক, কেউ হয় শাস্ত্র প্রচারক, তাও তুই রলি ভুলে।” (বলন তত্ত্বাবলী-২৩৫)
(মুখ; মন গেলিনা সৃষ্টি মূলে, মহাজ্ঞান সাগরের কূলে”)
৮.   “মেঘে কত করে ফাঁকি, তবু চাতক মেঘের ভুখি, তেমনি, নিরীক্ষ রাখলে আঁখি, সাধক বলে।” (পবিত্র লালন- ৪৪২/২)
(মুখ; চাতক স্বভাব না হলে, অমৃতমেঘের সে বারি, কথায় কী মিলে”)
৯.   “শুক্র রূপে একত্র করে দেহ গড়ে গ্রন্থাকারে, পাঠ করবার নীতিমালা অটল সাধকরা করে, লালন বলন মনীষী আজ- বসাচ্ছে অলঙ্কার সাজ, রঙবাজারে বসে আজ- থুথু দিয়ে আয়াত গণি।”
(বলন তত্ত্বাবলী-১৩৪)(মুখ; দশবারেতে কুরান শোধন দেখিরে নিখুত গণি, ভেদ বুঝে কুরান পড়িলে হবিরে দিব্যজ্ঞানী”)
১০. “শোলা যেমন জলে ডুবে না, মরা তেমন আর মরে না, এসব কথা জানতে মনা, সাধকগুরুর চরণ ধর।” (বলন তত্ত্বাবলী)
(মুখ; কাঁইয়ের ধ্বজা ধররে সবাই, কাঁইয়ের ধ্বজা ধর, শ্বেতবরণ কোপনি পরে, মরার আগে মর”)
১১.  “হাজার দুয়ারী বাতাসের ঘর, দুই দুয়ার বন্ধ আছে তার, ঘরামির আবাস তারই ভিতর, জানে সাধক পারমী।” (বলন তত্ত্বাবলী)
(মুখ; ঘর বেঁধেছে বড় ঘরামী (মজার), জলের খুঁটি বায়ুর রশি, চামড়ায় দিয়ে ছাওনি”)
১২.  “সাধকের সাধনার জোরে, সে সাগর নেয় মন্থন করে, সাধলে পরে পাবি তারে, না সাধলে আনাড়ি।”
(পবিত্র লালন- ৫০২/৪)(মুখ; তাওহিদ-সাগর কঠিন পাড়ি, অথৈজলে মাণিক পাবি হলে ডুবুরী”)

সাধকের কয়েকটি সাধারণ উদ্ধৃতি (Some ordinary quotations of hermit)
১.   “অধোপথে ঊর্ধ্বপদ্ম, নিত্যলীলার এ সরহদ্দ, যে পদ্মে সাধকের বর্ত্ম, সে পদ্ম কেমন বরণ।” (পবিত্র লালন- ৪৬২/২)
২.   “অনুমানে সাধন হয় না, ভূতপূজায় সাঁই মিলে না, বলন কয় ভেদ না জানা, সাধক কী দয়াল পায়।” (বলন তত্ত্বাবলী-১৬৪)
৩.   “আপনা মুক্বাম জানিয়ে প্রধান, যে জানে সে মুক্বামের সন্ধান, করে মুক্বামের সাধন- সুসাধক রসিকসুজন, উজ্জ্বল হয়েছে তার এ ত্রিভুবন।” (পবিত্র লালন- ১১৩/২)
৪.   “আয়ু থাকতে আগে মরা, সাধকজনের এমনই ধারা, প্রেমোন্মাদে মাতোয়ারা, সে কী বিধির ভয় করে।” (পবিত্র লালন- ৭৬৫/২)
৫.   “একমরা নাই তার জীবন, পেটের মধ্যে জ্যান্ত একজন, সাধকেরা সাধে যখন, ডাকলে মরা কথা কয়।” (পবিত্র লালন- ৯২৩/৩)
৬.   “কখন হয় শুকনানদী, কখন হয় বর্ষাপাতি, কোনখানে তার কুলের স্থিতি, সাধকে করে নির্ণয়, অভাগা লালন না বুঝে, ডুবে কিনারায়।” (পবিত্র লালন- ৫০৩/৪)
৭.   “জোয়ার এলে ওঠে সোনা, অজোয়ারে ওঠে লোনা, আচ্ছা মজার ভেলি, সাধক যারা পার হয়ে যায়, অসাধু ডুবে অতল তলি।” (পবিত্র লালন- ১৯৪/২)
৮.   “জ্যান্ত মরা মরলে সাধক, খিরকা তাজ তহবন বেশ পরায়, যে শ্বাস ছাপাই করে তার, ক্ববর কোথায়।” (পবিত্র লালন- ৭৬৯/২)
৯.   “জ্যান্তে গুরু না পেলে হেথা, মরলে পায় কথার কথা, সাধকগুরু মিলে না যথাতথা, সদাই দেখ ভজে তারে।” (পবিত্র লালন- ৪১২/৩)
১০. “জ্বলন্ত অনলে যদি, ঘৃত ঢালে নিরবধি, সাধকের হয় কী গতি, যেমন দুগ্ধ ফেলে গঙ্গাবারি, লয়ে রাখে কলস ভরি, পড়ে প্রমাদে সুরা অপবিত্র করে।” (পবিত্র লালন- ৭৬/৩)
১১.  “নফসের জ্যোতি আসলে পরে, বিজলির চটক ঝরে, যে নফস সাধন না করে, তারে কী সাধক বলা যায়।” (পবিত্র লালন- ৭৯৫/৩)
১২.  “নাম ছেড়ে রূপ নিহারা, সর্বজয়ী সাধক তারা, সিরাজ সাঁইজি কয় লালন গোঁড়া, এলিগেলি কিসের লেগে।” (পবিত্র লালন- ৫২/৪)
১৩. “নির্বাণ মুক্তি ছেড়ে সেতো, লয় হয় পশুর মত, সাধন করে এমন প্রাপ্ত, কী সুখে সাধকে চায়।” (পবিত্র লালন- ৩৬৯/৩)
১৪. “নির্হেতু সাধক যারা, তাদের সাধন খাঁটি জবান খাড়া, বেদের ভোল কেটে তারা, চলছে পথে।” (পবিত্র লালন- ৬৩৩/২)
১৫. “পঞ্চবেনায় শরা জারি, মৌলভিদের দম্ভ ভারী, সাধকে কী সাধন করি, সে গুরুবৃত্তি পায়।” (পবিত্র লালন- ৮০৯/২)
১৬.  “পূর্ণিমার যোগে সে মীন ভাসে, কারুণ্য তারুণ্য এসে, স্রাবণ্যে যখন মিশে, সাধক মীন ধরতে পারে সে দিনে।” (পবিত্র লালন- ৬৪৫/৪)
১৭. “প্রেমনদীতে ভেসে যায় প্রেমের মরী, লালন কয় মরার সাথে করো আড়ি, প্রেমের শকুন হয়ে- মরিটা ফেলাও খেয়ে, সে মরী খাওয়া সাধকের উপাসনা।” (পবিত্র লালন- ৫৩৯/৩)
১৮. “বলন কয় এ ভূমণ্ডলে, জ্ঞানী মুনি সাধককুলে, সবাই তোমায় লইছে কোলে, মাথায় রাখছে তুলিয়া।” (বলন তত্ত্বাবলী-৭৮)
১৯.  “বিশ্বস্তর সে বিষ পান করে, ভারুই করে বিছা হজম, কাকে কী সইতে পারে, লালন বলে সাধক যারা, বিষ খেয়ে জীর্ণ করে।” (পবিত্র লালন- ৬৯৩/৪)
২০. “যেজন সাধকের মূল গোড়া, বেতালিম বেসুহৃদ সেতো, ফিরছে সদাই বেদ ছাড়া।” (পবিত্র লালন- ৮৪০/১)
২১.  “লীলানিত্য পাত্রস্থিত সে ফুলে, সাধকের মূলবস্তু এ ভূমণ্ডলে, বেদের অগোচর- সে ফুলের নাগর, সাধুরা ভেবে করছে ঊল।” (পবিত্র লালন- ৬০৭/৩)
২২. “সাধক যদি হয় বিহারী, সাঁই আলোক হয় সবারি, কেউ মরা মরে না- ধরা সে দেয় না, ধরতে গেলে পালায় অচিনদেশে।” (পবিত্র লালন- ৭৭২/৩)
২৩. “সাতাশ নক্ষত্র হয় গগন, স্বাতী নক্ষত্র যোগ কখন, না জেনে অধীন লালন, সাধক নাম ধরে বৃথায়।” (পবিত্র লালন- ৪৬৯/৪)
২৪. “সুধা আর শম্ভু-রসের মান, উভয় যেন সমানে সমান, সন্ধি জানে- সাধক সিয়ানে, বড় কঠিন সাধকের জন্যে।” (পবিত্র লালন- ২৪২/২)
২৫. “স্বরূপ বিনা রূপ দেখা, সেতো কেবল মিথ্যা ধোঁকা, সাধকের লেখাজোখা, স্বরূপ শক্তি সাধন দ্বারে।” (পবিত্র লালন- ৯৭৯/২)

সর্বজয়ী সাধক কে? (Who is semen defender hermit?)
যারা কামকে জয় করে নিষ্কামী হতে পারে তাদেরকে সর্বজয়ী সাধক বলা হয়। কারণ; মানুষ ইচ্ছে করলে সবকিছুকেই জয় করতে পারে। এখানে; অন্যান্য জয়গুলো সাধারণ। বিশেষ জয় হচ্ছে; কাম হতে নিষ্কামী হওয়া। যেমন; মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “নাম ছেড়ে রূপনিহারা, সর্বজয়ী সাধক তারা, সিরাজ সাঁইজি কয় লালন গোঁড়া, এলিগেলি কিসের লেগে।” (পবিত্র লালন- ৫২/৪)

সর্বজয়ী সাধকের সংজ্ঞা (Definition of semen defender hermit)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; কামকে জয় করে নিষ্কামিতা অর্জনকারী সাধককে সর্বজয়ী সাধক বলে।

নির্হেতু সাধক কে? (Who is unreason hermit?)
শ্বরবিজ্ঞানে; শুক্রপাতকে জন্মান্তরের কারণ বা হেতু বলা হয়। সেজন্য; যে সাধক মৈথুনে রতীকে ঊর্ধ্বগতি করে তাকে নির্হেতু সাধক বলা হয়। অর্থাৎ; শ্বরবিজ্ঞানে; রতী সংরক্ষণকারী সাধককে নির্হেতু সাধক বলা হয়। যেমন; মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “নির্হেতু সাধক যারা, তাদের সাধন খাঁটি জবান খাড়া, বেদের ভোল কেটে তারা, চলছে পথে।” (পবিত্র লালন- ৬৩৩/২)

নির্হেতু সাধকের সংজ্ঞা (Definition of unreason hermit)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; মৈথুনে রতীকে ঊর্ধ্বগতিকারী সাধককে নির্হেতু সাধক বলে।

সাধকগুরু কে? (Who is hermit-preceptor?)
পাকা আত্মতাত্ত্বিক গোঁসাই-গুরুর নিকট নিজে স্বয়ং গুরুদীক্ষা গ্রহণ করে যে আত্মজ্ঞান বা আত্মতত্ত্ব ভেদ আত্মস্থ করে তাকে সাধকগুরু বলা হয়। সাধকগুরু ব্যতীত গদিনশিন গুরু, ভারপ্রাপ্ত গুরু, অধিগুরু, প্রতিগুরু, ছেলে গুরু, নাতিগুরু, পুতিগুরু, ত্রোতিগুরু, জামাইগুরু, কাকাগুরু, মামাগুরু কেউ আত্মজ্ঞান বা আত্মতত্ত্ব ভেদ জানে না। তাই; ঐসব গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করা; আর অন্ধকারে সরিষা কুড়ানো সমান। কারণ; যেমন; অন্ধকারে সরিষা কুড়ানো সম্ভব নয়; তাদৃশ ঐসব গুরুর নিকট হতে আত্মজ্ঞান বা আত্মতত্ত্ব জানাও সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে; মহাত্মা লালন সাঁইজি বলেছেন; “জ্যান্তে গুরু না পেলে হেথা, মরলে পায় কথার কথা, সাধকগুরু মিলে না যথাতথা, সদাই দেখ ভজে তারে।” (পবিত্র লালন- ৪১২/৩)। অথচ বাংভারতে বর্তমানে ভুয়া গুরু ভিন্ন সাধকগুরুর সন্ধান পাওয়া একেবারেই কঠিন।

সাধকগুরুর সংজ্ঞা (Definition of hermit-preceptor)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; পাকা আত্মতাত্ত্বিক গোঁসাই-গুরুর নিকট হতে স্বয়ং আত্মজ্ঞান অর্জন করে তাঁর নিকট হতে গুরুপদলাভকারী সাধককে সাধকগুরু বলা হয়।

সাধকের সংজ্ঞা (Definition of hermit)
সাধারণত; যে কোনো কর্ম সাধনকারীকে সাধক বলে।

সাধকের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of hermit)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সাঁই দর্শন ও কাঁই দর্শন সাধনাকারীকে রূপকার্থে ‘সাধক’ সাধক বলে।

সাধকের প্রকারভেদ (Variations of hermit)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে সাধক দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান সাধক ও ২. উপমিত সাধক।

. উপমান সাধক (Analogical hermit)
সাধারণত; যে কোনো কর্ম সাধনকারীকে উপমান সাধক বলে।

. উপমিত সাধক (Compared hermit)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, সাঁই দর্শন ও কাঁই দর্শন সাধনাকারীকে রূপকার্থে উপমিত সাধক বলে।

শ্বরবিজ্ঞানে আবার সাধক পাঁচ প্রকার। যথা; ১. আউল ২. বাউল ৩. নাড়া ৪. সাঁইজি ও ৫. কাঁইজি।

. আউল (Indiscriminate)/ ‘عشوائية’ (আশুয়াইয়া)
আউল স্তরের ৪০টি সাধন প্রক্রিয়া সম্পাদনকারীকে আউল বলে।

. বাউল (Inhalers)/ ‘الاستنشاق’ (আলইস্তেনশাক্ব)
বাউল স্তরের ৫টি সাধন প্রক্রিয়া সম্পাদনকারীকে বাউল বলে।

. নাড়া (Mummer)/ ‘بكماء’ (বাকমা)
নাড়া স্তরের ১২টি সাধন প্রক্রিয়া সম্পাদনকারীকে নাড়া বলে।

. সাঁইজি (Godship)/ ‘إلهية’ (ইলহিয়া)
সাঁইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে দর্শনলাভকারীকে সাঁইজি বলে।

. কাঁইজি (Lordship)/ ‘مسترشيب’ (মুস্তারাশিব)
কাঁইয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে দর্শনলাভকারীকে কাঁইজি বলে।

সাধককে আবারো দু’ভাগে ভাগ করা হয়। ১. সংসারী সাধক ও ২. বিরাগী সাধক।

. সংসারী সাধক (Settled hermit)
লোককুলে থেকেও ভয় ও  দুশ্চিন্তামুক্ত সরল জীবনযাপনকারীকে সংসারী সাধক বলে।

. বিরাগী সাধক (Averse hermit)
সংসার, পুনর্জন্ম, বিত্ত, বৈভব ও বিলাসিতাসহ সর্বপ্রকার ভয় ও চিন্তামুক্ত স্বাধীন জীবনযাপনকারীকে বিরাগী সাধক বলে। যেমন; লালন ও বলন প্রমুখ।

সাধকের উপকার (Benefits of hermit)
১.    যুগে যুগে মহাসাধকগণ স্বর্গীয় ঐশিবাণী দ্বারা মানুষের কলুষিত চরিত্র সংশোধন করেন।
২.   কঠিন অধ্যাবসায় ও আত্মসংযমকারী মহান সাধকগণ যুগে যুগে ঈশ্বর প্রদত্ত মহামূল্যবান ঐশিবাণী প্রাপ্ত হন। অতঃপর; সত্যপথ ভোলা হিংস্র ও কলুষিত মানবজাতিকে সুশিক্ষা প্রদান করেন।
৩.   সৃষ্টির কল্যাণে মহাসাধকগণ নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
৪.   মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা পরিপূর্ণ উপলব্ধি করার জন্য; মহান সাধকগণ সাধারণ মানুষকে সহজ ও সুন্দর সাধন পদ্ধতি শিক্ষা দেন।
৫.   সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করার জন্য মহান সাধকগণ পথে-ঘাটে, আশ্রম ও আখড়ায় সাধারণ মানুষকে বিনা বেতনে শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

সাধকের পরিচয় (Identity of hermit)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর উপাসক পরিবারের একটি বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা বিশেষ। যে কোনো কর্ম সম্পাদককেই সাধক বলা হয়। স্থূলদৃষ্টিতে মানুষ সবাই সাধক। যেহেতু; সবাই কোনো না কোনো কর্ম সম্পাদনে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু শ্বরবিজ্ঞানীদের মতে; যারা ১.আউল ২.বাউল ৩.নাড়া ও ৪.সাঁইজি; এ চারটি স্তরের বিধিবদ্ধ সাধন সম্পাদন করেন কেবল তারাই সাধক। এ চারটি স্তরের জ্ঞানার্জন বা ভজন-সাধন সমাপ্ত করে সহজসরল জীবনযাপন করাই সাধকের একমাত্র লক্ষ্য। অলস ও কুঁড়েরা কখনও সাধক হতে পারে না। কোনো পাকা গুরুর সুসংস্পর্শে থেকে এ চারটি স্তরের জ্ঞান অর্জনকারী এবং তদানুযায়ী কর্ম সম্পাদনকারীই প্রকৃত সাধক।

সাধু (Saint)/ ‘قديس’ (ক্বাদিস)
সাধুর সংজ্ঞা (Definition of saint)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; শান্তশিষ্ট ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিকে সাধু বলে।

সাধুর আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of saint)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে, মহান চরিত্রের অধিকারী ও পুনর্জন্মের কলঙ্কহীন সাদাসিদে লোককে সাধু বলে।

সাধু পরিভাষার ব্যাখ্যা (Explanation of saint terminology)
সাদা হতেই সাধু পরিভাষাটির উৎপত্তি। চরিত্র ও মন উভয় সাদা হলে তাকেই কেবল সাধু বলা যায়। শুধু বসন সাদা করলেই তাকে সাধু বলা যায় না। চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূষণ হলো একেশ্বরতা। একেশ্বরতা অর্জন হলো সন্তান সদৃশ পুনর্জন্ম দ্বারা নিজকে খণ্ডবিখণ্ড না করা। অর্থাৎ; সন্তান সৃষ্টি না করা। রমণীকুলে গমনের উজ্জ্বল প্রমাণ হলো সন্তান। সাধারণ মানুষ সন্তানকে কুলভূষণ মনে করে। অন্যদিকে; সাধুদের জন্য তা নারী সঙ্গমের প্রমাণ বা কলঙ্ক। একমাত্র সন্তানই সাদা জীবনের কলঙ্ক। নিঃসন্তান সাধুই প্রকৃত সাধু। কারণ; সন্তান সৃষ্টি করলেই তাকে লালনপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। যারফলে; স্বাধীন ও সুখী জীবন জলাঞ্জলী দিয়ে তাকে পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হতে হয়। ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকে কাজ; নাতি, পুতি ও তাদের বৈবাহিক আত্মীয়-স্বজন। সন্তান, নাতি ও পুতি যে কোনো অপকর্ম ও দুষ্কৃতি করলেই তা ঘাড়ে এসে পড়ে। পক্ষান্তরে; তারা সুখ সাগরে হাবুডুবু খেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সে সুখের কিঞ্চিৎ ভাগীও হয় না পিতা-মাতা। পরিশেষে; জীবন সায়াহ্নে সবকিছুই ভুল প্রমাণিত হয়। মানুষের নিকট পুরো মানবজীবন একটি নিছক স্বপ্ন বলে মনে হয়। প্রতি জন্মেই একই অভিনয়ের মতো মনে হয়। এ সমস্ত কারণে সূক্ষ্মজ্ঞানী সাধুগণ পুনর্জন্মহীন বা সন্তানহীন সহজ-সরল ও সাদা জীবন গ্রহণ করেন। যেমন; বলন কাঁইজি বলেছেন;

সুখের ভাগ কেউ দেয় না দয়াল
            দুঃখের ভাগ দেয় সকলে
জানি না কোন দোষে দয়াল
আমায় দোষিলে।

ভাই বন্ধু আর স্ত্রী স্বজন
সবার শুধু দাও দাও ধ্বনন
চাওয়ার অঙ্ক হয় না পূরণ
গায়ের মাংস বেচিলে।

ভেঙ্গে গেল যৌবনের ডাল
সুখপাখিটা দিলো উড়াল
জনমদুঃখী নিঃস্ব কাঙাল
আমায় করে রাখিলে।

বিদ্যা-বুদ্ধি শূন্য এ ধড়
পরান-পাখি করে ধড়ফড়
ভাবিয়া কয় বলন ত্রিগড়
স্বস্তি পাবো মরিলে।”

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!