স্বর্গদূত

৩৫/৪. স্বর্গদূত
Angel/ ‘ملاك’ (মালাকা)

এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহাংশ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা। এর পৌরাণিক মূলক সত্তা দেহাংশ। এর বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা দেবতা। এর বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা সুর এবং এর বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা কিন্নর

স্বর্গদূত (ভাপৌছ)বিণ দেবদূত, প্রকাশক, বাহক, অবতরণকারী, ঐশি অবতার, embodiment, heavenly incarnation, ‘تجسيد’ (তাজসিদ), ‘التجسد السماوية’ (আত্তাজাসসুদ আসসামাবিয়া) (প্র) . বাঙালী পুরাণ মতে; স্বর্গীয় দেবতাগণ সময়ে সময়ে মনুষ্য মূর্তিপরিগ্রহ করে পৃথিবীতে আগমন করেন বা আবির্ভূত হন। যুগে যুগে অবতরণকৃত বিষ্ণুর দশ অবতার হলো; মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রামচন্দ্র, কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও কল্কি . ইসলামী পুরাণ মতে; অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিষ্পাপ দেহহীন স্বর্গীয় দূত বিশেষ . আত্মতাত্ত্বিক বর্ণনা মতে; পুরুষ দেহের দাঁত, দাড়ি, গোঁফ ও শুক্র এবং নারী দেহের দাঁত, স্তন, দুগ্ধ, রজ, সুধা ও মধু ইত্যাদি (শ্ববি) কিন্নর, গন্ধর্ব, দেবতা, সুর, divener, ‘ﺴﻤﺎﻮﻯ’ (সামাবিয়্যু) (গ্রিদে) angel, idol, divinity (ইদে) মালাকি (.ملاك) (পারদে) ফেরেস্তা (ফা.ﻔﺮﺸﺗﻪ) (দেপ্র) এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহাংশ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা ও শ্বরবিজ্ঞানের একটি দেবতা বিশেষ (সংজ্ঞা) . সাধারণত; বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে বর্ণিত স্বর্গধাম হতে অবতরণকারীকে রূপকার্থে স্বর্গদূত বলা হয় . বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে; বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক নামে দেবতায়ন করে সৃষ্ট পৌরাণিক চরিত্রকে রূপকার্থে স্বর্গদূত বলা হয় (ভাপৌছ) স্বর্গদূত (ভাপৌচা) কিন্নর (ভাপৌউ) সুর (ভাপৌরূ) দেবতা (ভাপৌমূ) দেহাংশ {বাং. স্বর্গ+ বাং. দূত}

স্বর্গদূতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি (Some highly important quotations of angel)
১.   “অবতার মূলে সংবাদদাতা, আকারেতে পালনকর্তা, জানগে তার মূল বারতা, ত্রিভঙ্গে পড়ে মরিস না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৩৮)
২.   “স্বর্গ হতে অবতরণ কেউ কয়, কেউ বলে নবীর জন্ম হয়, নবি দেহের শেষ অবতার হয়, কেউ জানে কেউ জানে না।” (পবিত্র লালন- ৭৭৪/২)

স্বর্গদূতের সংজ্ঞা (Definition of angel)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে বর্ণিত; স্বর্গধাম হতে অবতরণকারীকে স্বর্গদূত বলে। যেমন; পরশুরাম, রামচন্দ্র, কৃষ্ণ ও বুদ্ধ।

স্বর্গদূতের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theosophical definition of angel)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক নামে দেবতায়ন করে সৃষ্ট পৌরাণিক চরিত্রকে রূপকার্থে স্বর্গদূত বলে। যথা; শিশ্ন হতে মহাদেব।

স্বর্গদূতের প্রকারভেদ (Variations of angel)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; স্বর্গদূত দুই প্রকার। যথা; ১. পৌরাণিক স্বর্গদূত ও ২. দৈহিক স্বর্গদূত।

. পৌরাণিক স্বর্গদূত (Mythological angel)
“মানবদেহে অবতীর্ণ বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদি এর রূপক নামে” দেবতায়ন করে সৃষ্ট পৌরাণিক চরিত্রকে রূপাকার্থে বাংলায় স্বর্গদূত বলে। যথা; রজস্রাব হতে আদিমাতা ইত্যাদি।

সাধারণত; প্রকৃতির যে কোনো বিষয়বস্তুতে সাময়িক নরত্বারোপ করে কল্পিত চরিত্র নির্মাণ করা যায়। এটি যে কোনো কবি বা সাহিত্যিক করতে পারে। সাধারণ সাহিত্যিকরা এসব কাজ করে থাকে। অর্থাৎ; প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করে নির্মিত চরিত্রকে সাধারণ কাল্পনিক চরিত্র বলা হয়। এগুলোকে পৌরাণিক দেবতা বল যায় না। এই পদ্ধতিকে নরত্বারোপ বলা হয়। তবে; এটি পৌরাণিক নরত্বারোপ নয়। এমনকি; এগুলো পৌরাণিক চরিত্রও নয়। এসব হলো; জ্ঞানান্ধ সাম্প্রদায়িক মনীষীদের স্বর্গদূত।

নরত্বারোপ (ভাপৌছ)বি নররূপারোপ, ব্যক্তিরূপদান, stereology, personification, anthropomorphism, representationism, ‘التجسيم’ (আত্তাজসিম), ‘الادميه’ (আলয়াদামি), ‘تجسيد’ (তাজসিদ) (প্র) বস্তু, জীবজন্তু এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মানবীয় চরিত্র আরোপ বা নরত্বারোপ {}

এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; পৌরাণিক দেবতা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই দৈহিক বিষয়বস্তুর ওপর চরিত্রায়ন করতে হবে। অর্থাৎ; মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করতে হবে। কেবল প্রকৃত আত্মতাত্ত্বিক রূপকারগণ এসব কাজ করে থাকেন। উভয় পদ্ধতিকেই নরত্বারোপ বলা হয়। তাই; বলা যায়; নরত্বারোপ করে নির্মিত সব চরিত্রই অবতার বা দেবতা নয়। অর্থাৎ; কেবল শ্বরবিজ্ঞানের পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণীতে বর্ণিত পৌরাণিক মূলক সত্তার প্রতি নরত্বারোপ করে নির্মিত চরিত্রকেই পৌরাণিক চরিত্র বলা হয়। আর এসবই হলো; বাস্তব স্বর্গদূত।

. দৈহিক স্বর্গদূত (Physical angel)
শ্বরবিজ্ঞানে; মানবসন্তান জন্মের পর; তার দেহে আগত; দাঁত, গোঁফ, দাড়ি, শুক্র, স্তন, ঋতুস্রাব, সুধা ও মধুকে দৈহিক স্বর্গদূত বলে।

এসব দৈহিক বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করেই পৌরাণিক চরিত্র নির্মাণ করা  হয়। দুঃখজনক বিষয় হলো; সাম্প্রদায়িক ঠাক-পুরুৎ ও মোল্লা-মুন্সিরা পৌরাণিক চরিত্রকে ঐতিহাসিক চরিত্র অথবা বাস্তব রাজনৈতিক চরিত্র মনে করে। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো; বর্তমানকালে; অধিকাংশ অধ্যাপক, অনুবাদক, অভিধানবিদ, আলোচক, ঐতিহাসিক, কলামিস্ট, গবেষক, বক্তা, বাউল, ব্যবসায়ী, লেখক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, পালাকার ও সাংবাদিক পৌরাণিক চরিত্রকে ঐতিহাসিক চরিত্র মনে করে। তারা আরো বলে যে; তাদের কুরান আল্লাহ প্রদত্ত ও হাদিস নবীর বাণী; তাই; এসব সত্য। কিন্তু, অন্যান্য সম্প্রদায়ের পুস্তক-পুস্তিকা মানুষের লেখা। তাই; সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

মুসলমানরা বলে যে; তাদের আল্লাহ, মুহাম্মদ, নবী ও জিব্রাইল; এসব বাস্তব ঐতিহাসিক চরিত্র কিন্তু হিন্দুদের রাম-রাবণ ও রাধা-কৃষ্ণ; এসব কাল্পনিক চরিত্র। অন্যদিকে; হিন্দুরা বলে; তাদের রাম-রাবণ ও রাধা-কৃষ্ণ; এবস বাস্তব ঐতিহাসিক চরিত্র কিন্তু মুসলমানদের আল্লাহ, মুহাম্মদ, নবী ও জিব্রাইল; এসব পৌরাণিক চরিত্র। তারা আরো বলে যে; তাদের বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ও গীতা; এসব ঈশ্বর প্রদত্ত্ব। কিন্তু, অন্যান্য সম্প্রদায়ের পুস্তক-পুস্তিকা মানুষের লেখা। তাই; সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বের প্রায় সাম্প্রদায়িক মতবাদের অনুসারীরা নিজেদের মতবাদ ও দেবতা সঠিক; কিন্তু অন্যের মতবাদ ও দেবতাকে মিথ্যা বলে; অথবা এরূপ একই ধারণা পোষণ করে।

মানব অবতারের ১টি উদ্ধৃতি (A highly important quotation of man angel)
“নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে; সাকার আকার হলো সে, যে দিব্যজ্ঞানী হয়- সে জানতে পায়, কলিযুগে হয় মানব অবতার।” (পবিত্র লালন৯২৬/)

বিশ্বের সর্বপ্রকার দ্বিপস্থ জীব মাতৃগর্ভ হতে অবতরণ করে। এজন্য; এদেরকে; আভিধানিক অর্থে অবতার বলা হয়। এ সূত্র ধরেই; আত্মতাত্ত্বিক দার্শনিকরা মানুষকে মানব অবতার বলে থাকেন। অর্থাৎ; তাদের মতে; সব মানুষই স্বর্গদূত। তাই কখনই; এমন ভাবা উচিত নয় যে; “কেবল মহাসাধকরাই প্রকৃত স্বর্গদূত। যেহেতু; সাধারণ মানুষ তাদের সমকক্ষ বা সমপর্যায়ের নয়। তাই কখনই; তারা অবতার হতে পারে না।” প্রকৃত বিষয় হলো; সব মানুষ স্বর্গদূত। আর সব যোনিজাত প্রাণীই স্বর্গদূত। যেমন; সাধকরাও আভিধানিক স্বর্গদূত; তদ্রূপ; সাধারণ মানুষও স্বর্গদূত। অর্থাৎ; স্বর্গদূত হলো দেবতা এবং মানব অবতার হলো মানুষ।

ইংরেজি ভাষাভাষী পশ্চিমা গবেষকদের মতে; আবার; সাম্প্রদায়িক মতবাদ দুই প্রকার। যথা; ১. ঐশিবাদ (Semitism) ও ২. অবতারবাদ (Non-semitism).

Semite [সেমিট] (GMP)n আরব্য জাতি বিশেষ (প্র) ইহুদী, নাসারা ও মুসলমান ইত্যাদি জাতি বিশেষ {}
Semitic [সেমিটিক] (GMP)adj আরব্য জাতি সম্বন্ধীয় (প্র) আরবীয় উপদ্বীপের কোনো বিষয় সম্পর্কীয় {}
Semitism [সেমিটিজম] (GMP)n আরব্য মতবাদ (প্র) আরবীয় ঐশিবাদ, semitic mythology {}
Non-Semite [নন-সেমিট] (GMP)n অনারব জাতি বিশেষ (প্র) হিন্দু, বৌদ্ধ, লালন ও বলন ইত্যাদি জাতি বিশেষ {}
Non-Semitic [নন-সেমিটিক] (GMP)adj অনারব জাতি সম্বন্ধীয় (প্র) ভারতবর্ষ সম্বন্ধীয় {}
Non-Semitism [নন-সেমিটিজম] (GMP)n অনারবীয় মতবাদ (প্র) ভারতীয় অবতারবাদ, Indians mythology {}

১. Semitism (সেমিটিজম)
সাধারণত; গ্রিক ও আরবীয় ঐশিবাদকেই Semitism বলা হয়। অর্থাৎ; গ্রিক ও আরবীয় পুরাণ নির্ভর সাম্প্রদায়িক মতবাদকেই Semitism বলা হয়। আমাদের জানা মতে; সর্বপ্রথম; এশিয়া মাইনরের মহাকবি হোমার (৪৮৬-৪২৫ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ) ইলিয়াডওডিসি নামক দুটি মহাকাব্য নির্মাণ করেন। তারপর; ইটালির মহাকবি ভার্জিল (৭০-১৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ঈনিড নির্মাণ করেন। ইটালির ঈনিডকে ভারতের পুরাণের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ভারতীয় পুরাণ ১৮ খণ্ডে সমাপ্ত। অন্যদিকে; ইটালীয় পুরাণ (ঈনিড) ১২ খণ্ডে সমাপ্ত। ইলিয়াড, ওডিসি, ঈনিড ও সমপর্যায়ের অন্যান্য কাব্য হতে সংকলিত হয়েছে বাইবেল। এছাড়াও; সারা মধ্যপ্রাচ্যে নির্মিত পুরাণগুলোতে মেসোপটেমীয় মহাকাব্য গিলগামেশের প্রভাব রয়েছে। আর গিলগামেশের স্বর্গারোহণ কাহিনী ও রামায়ণে বর্ণিত রাবণের স্বর্গারোহণ কাহিনী প্রায় অনুরূপ। পরবর্তীকালে; বাইবেল হতে তৌরাত, যাবুর, ইঞ্জিল, কুরান, হাদিস ও তাফসির ইত্যাদি পুস্তক-পুস্তিকার উদ্ভব হয়েছে। এসব গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র আদম। আর আদম উঠে এসেছে উগারিটদের (ফিনিশীয়) পৌরাণিক কাহিনী হতে। আর উগারিট পৌরাণিক কাহিনীর মধ্যে বিখ্যাত ছিল উক্ত দুটি গ্রন্থ। নিচে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো।

“আরবীয় সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পণ্ডিতগণের নিরলস প্রয়াসের দ্বারা মানুষের ধারাবাহিক ঐতিহাসিক যেসব চিহ্ন পাওয়া যায়; তা ছয় হাজার হতে আট হাজার (৬,০০০ হতে ৮,০০০) বছরের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মাটির নিচ হতে ও পাহাড়ের গুহা হতে আরও অনেক পুরোনো বিস্ময়কর কীর্তি বের করছেন। যেমন; পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীরের একটি অবলুপ্ত নগর ‘উগারিট (Ugarit)’। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে; এ নগরটির ইতিহাস মিসরের ইতিহাস হতেও অধিক প্রাচীন। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে উগারিট নগর খনন কাজে নিযুক্ত থাকাকালে প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. ক্লড. স্কেফার (Dr. Claude Schaeffer) মাটির নির্মিত কিছু শ্লেট আবিষ্কার করেন। এসবের খোদিত লেখনি হতে বর্ণমালার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি আবিষ্কার করেন; উগারিটদের লেখার কাজে ব্যবহৃত ২৮টি বর্ণমালা। যার অনেক পরে মিসরে চিত্রাক্ষর দ্বারা ও ব্যাবিলনে সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা লেখন পদ্ধতির প্রচলন হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্রানুসারে; বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিকগণ প্রমাণ করেন যে; উক্ত ২৮টি বর্ণমালা দ্বারা উগারিটদের লেখন পদ্ধতি খ্রিস্ট জন্মের প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত; অর্থাৎ; আজ হতে প্রায় পঁয়ত্রিশ শত (৩৫০০) বছর পূর্ব পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

গত ১৯৩০-৩২ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিকগণ উক্ত উগারিট নগর হতে যেসব প্রমাণ উদ্ধার করেছেন; তাতে তাঁরা অনুমান করেন যে; উগারিট বা রাসসামারা (Ras Shamara) প্রত্নতত্ত্বের বিশিষ্ট সম্পদপূর্ণ স্থান। এখানে; আবিষ্কার হয়েছে সে সময়ের গ্রন্থাগার। সে সময়ে উগারিট নগরে যে ৮টি ভাষা প্রচলিত ছিল; তাও আবিষ্কার হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিগণ গ্রন্থাগারে যেসব লিপি আবিষ্কার করেছেন; তাতে সেই ৮টি ভাষা শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থাদির নিদর্শনও পেয়েছেন। তাঁরা উগারিট নগরে মৃত্তিকালিপিতে নির্মিত যেসব গ্রন্থাদি আবিষ্কার করেছেন; তার কোনো কোনো গ্রন্থের এক একটি পরিচ্ছেদে এক হাজারেরও অধিক পরিভাষা রয়েছে। এমনকি; তিন হাজারের (৩,০০০) অধিক শ্লোকেও কোনো কোনো গ্রন্থ শেষ হয়েছে। এসব গ্রন্থ হতে জানা যায়; তখনও; পঞ্চাশটি (৫০) দেবতা ও পঁচিশটি ২৫ দেবী সেখানে বাস করতেন। এরমধ্যে; প্রসিদ্ধ দেব-দেবীগণ ছিলেন ট্যাফন, এল, আশেরাৎ, ব্যাল, মট, এলিন ও লিৎন। প্রত্নতাত্ত্বিকগণ রাসসামারা নগরে কয়েকটি কাব্যগ্রন্থও পেয়েছেন। একটি কাব্যে; মট ও এলিনের যুদ্ধের সুনিপুণ কাহিনী বর্ণিত রয়েছে।

“মট ফলপ্রসবিনী প্রকৃতি দেবী, এলিন বায়ু ও বৃষ্টির অধিপতি। মট এলিনকে নিহত করল। তখন; মানুষজাতি দেবতাগণের নিকট অভিযোগ করল। বসুন্ধরা ক্রমে ক্রমে শুষ্ক হতে লাগল; হিংস্র জন্তুরা পর্যন্ত ক্ষুধার্ত হয়ে নগরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে লাগল। বৃষ্টি দেবতার ভগিনী মটকে এ বিষয়ে আবশ্যক তথ্য দিতে বললেন। কিন্তু মট মিথ্যা কথা বললেন এবং মরুভূমিকে শস্য-শ্যামলা করার আশ্বাস দিলেন। কিন্তু তিনি তা করতে পারলেন না। তখন; এস্তারেত অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে মটকে মেরে ফেলেন। তাঁর দেহ ভষ্মীভূত করার পর কিংবা কিয়দংশ ভক্ষণ করার পর; অবশিষ্ট অংশ ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দিলেন। এরপর মট শস্যে রূপান্তরিত হন। এস্তারেত প্রতিহিংসা গ্রহণ করার পর; এলিন পুনরায় বেঁচে উঠলেন এবং প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করলেন (দ্বন্দ্বে ও দ্বৈরথে)

অন্যান্য দেবতাগণ এ গল্পে যথাযোগ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ব্যাল সপ্ত মাথা যুক্ত সাপের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হলেন। মানবজাতি তাকে অত্যন্ত ভয় করতো। তাঁর নাম ছিল লিৎন। ইঞ্জিলেও ঐ নাম রয়েছে। তবে; পরিভাষাটির গঠন ভিন্নরূপ। সিরীয় শৈলের গুপ্তরহস্য প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে; ডানিয়েল, নোয়া এবং জব এ সময় অত্যন্ত মতবাদ প্রবণ ছিলেন। ডানিয়েলের নাম উগারিটে প্রাপ্ত লেখ্যমালায় উল্লেখ রয়েছে। ডানিয়েল উৎপীড়িত ও দুর্বলের রক্ষক ছিলেন। বিশেষ করে; তিনি বিধবা ও পিতৃমাতৃহীনদের যত্ন করতেন। এজন্য; মানবিকতার নিদর্শন রূপে; তাঁকে দয়ার প্রকাশ বলা হতো। অর্থাৎ; এসব পৌরাণিক কাহিনী বাইবেলে সংকলিত হওয়ার অনেক পূর্বে উগারিটদের লেখ্যমালায় পাওয়া যায়। তখনও; খ্রিস্টানী সাম্প্রদায়িক মতবাদের কাঠামো (মূলতত্ত্ব) নির্মিত হয় নি। এমনকি; মূল আলোচ্য বিষয় ‘আদম ও হাওয়া’ এর কাহিনীও উগারিটদের প্রাচীন উপন্যাসের মধ্যে পাওয়া যায়। উগারিটদের গল্পে বর্ণিত আদম একটি জাতির আদিপুরুষ। সে জাতিটির নাম ফ্যেনান সেমিটিস।

উগারিটদের লেখ্যমালায় আদমের প্রমাণ (The evidence of Adam in the manuscript of Ugaritas)
ইভ আদমকে প্রলুব্ধ করেছিল। সেখানে তাঁকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির বলে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু ইঞ্জিলে তা অন্যভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। উগারিটের গ্রন্থকার; সব দেবীর মধ্যে ইভকে অত্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ রূপে বর্ণনা করেছেন। ইভকে বিদেশীয়া রমণী রূপে দেখানো হয়েছে। ইভের জন্যই উগারিট নগর ভস্মীভূত হয়েছিল ইত্যাদি। এ সমুদয় প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণ্য নিদর্শন হতে বলা যায় যে; ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদের আদিপুরুষরা হাজার হাজার বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষের পরম্পরায় গেঁথে রেখেছিলেন বা ধরে রেখেছিলেন টোটেম ও ট্যাবু। উগারিট সভ্যতার কোনো এক কালজয়ী ও ক্ষণজন্মা কাব্যশিল্পী সেগুলোই মৃত্তিকা লিপিতে ধরে রেখেছিলেন। সে কাহিনীটি ছিল নিম্নরূপ।

“ফ্যেনান সেমিটিক জাতির আদিপিতা আদম সু-সভ্য একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। সেই রাষ্ট্রের নাম ছিল উগারিট। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শৌর্যে-বীর্যে, ক্ষমতায় ও নৈতিকতায় তা ছিল পার্শ্ববর্তী অন্যান্য সব রাষ্ট্র ও সভ্যতার অতি উচ্চে। সমস্তই ছিল আদমের উপনিবেশ হওয়ার যোগ্য। যারফলে; চাতুরতা ও ষড়যন্ত্রের বাণে বিদ্ধ করা ছাড়া অপ্রতিরোধ্য ফ্যেনান জাতিকে পরাভূত করা যাবে না। এটাই ছিল শত্রুদের ঐক্যমত। তারা জানত, আদমের মৃত্যু কবজ রয়েছে স্বীয় সৃষ্ট নৈতিকতায়। তাই; তারা ক্রমে ক্রমে সেভাবে ঢুকল আদম সভ্যতায়। তারা অসম্ভব প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দরীরমণী ইভকে অনুপ্রবেশ করাল উগারিট নগরে।

তাকে মন্ত্র দেয়া হলো যে; আপন জাতির মর্যাদা উত্থানের প্রয়োজনে; তোমার জীবনের বিনিময়ে হলেও; তুমি শুধুই প্রেমের অভিনয় করবে; আর আদমের নৈতিক অধঃপতন ঘটাবে। কিন্তু সাবধান! কখনই; পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হবে না। অবশেষে; ইভ সফল হলেন এবং আদম বিচারের সম্মুখীন হলেন। উগারিট নগরে আদম নিজের সৃষ্ট বিধানে নিজেই অবাঞ্ছিত হলেন। শেষ পর্যন্ত; সেমেটিক জাতির উগারিট নগর হতে আদমকে বহিষ্কার হতে হলো। অন্যদিকে; ইভও ব্যর্থ হয় নিষেধের বিধিমালা হতে। যারফলে; আপন ভূমিতে তাঁরও ঠাঁই হলো না। আদমের প্রেমে ডুবে যাওয়া ইভও স্বীয় জন্মভূমি হতে বিতাড়িত হলেন। অবশেষে; আদম নিজ সৃষ্ট স্বর্গরাজ্য হারালেন এবং ইভও আপন মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হলেন। শেষপর্যন্ত; আদম অজানা এক নরকভূমির পথ ধরে হেঁটে চললেন। আর ইভও আপন প্রিয়তমের খোঁজে তাঁর পিছে পিছেই হেঁটে চললেন।”

কালক্রমে; মানব নির্মিত এসব শাশ্বত কাব্য বা রূপক উপন্যাস সরে গিয়ে ইঞ্জিলের ঈশ্বরের অমর বাণীতে পরিণত হয়েছে। যেমন; দেখা যায়; ভারতবর্ষের অমর মরমীকবি বাল্মীকির নির্মিত আদি বাল্মীকি রামায়ণ মহাকাব্যের ক্ষেত্রে। একজন মরমী কবির মনের মাধুরী মিশিয়ে রূপকার্থে শাশ্বতভাবে অঙ্কিত বাল্মীকি রামায়ণ। এর কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্র রাম। রাম পৌরাণিক চরিত্রটি; বর্তমানে বাল্মীকিকে ছাড়িয়ে ভগবান রামচন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়; ঠিক তেমনিভাবেই, একজন মরমী কবির মনের মাধুরীতে আঁকা গ্রিক পৌরাণিক চরিত্র হলো আদম। পৌরাণিক চরিত্র হতে আদমমুসলমান ও খ্রিস্টানদের একাংশের নিকট বাস্তব আদিমানবে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু মূলে ‘আদম’ ছিলেন জনৈক অজ্ঞাত মরমী কবির মনের মাধুরীতে রূপকভাবে অঙ্কিত এক অনন্য চরিত্র। পরবর্তীকালে, তাঁর সঙ্গিনীর নামটি পরিবর্তন করে ‘হাওয়া’ করা হয়েছে। অর্থাৎ; বাইবেলের ইভ কুরানে হাওয়া হয়েছে (দ্বন্দ্বে ও দ্বৈরথে)

Semitism এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো; এটি ঐশিবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। Semitism বলতে আরবি, আসিরীয়, ফার্সি, ফিনিসীয় (উগারিট), হিব্রু, সুরিয়ানি ইত্যাদি ভাষা ও জনগোষ্ঠী সম্বন্ধীয়, ঐসব জনগোষ্ঠীর সদস্য বুঝায়। সারা মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক জনগোষ্ঠী এমন মতবাদে বিশ্বাসী যে; “তারা মনে করে সৃষ্টিকর্তা বিশেষ কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকেন। প্রভু যে ব্যক্তির মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেন; সেমিটরা তাঁকেই নবী বা রাসুল বলে থাকেন। অন্যদিকে; Indians mythology-কে বলা হয় Non-Semitism. ভারতীয় পৌরাণিক মনীষীগণ মনে করেন যে; সৃষ্টিকর্তা কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর মতামত প্রকাশ করেন না; বরং সৃষ্টিকর্তা নিজেই যুগে যুগে মানব রূপে আত্মপ্রকাশ করে মতামত প্রকাশ করে থাকেন।

২. Non-Semitism (নন-সেমিটিজম)
পাশ্চাত্য ইংরেজি গবেষকদের মতে; Indian mythology-কে non-Semitism বা ভারতীয় অবতারবাদ বলা হয়। ভারতবর্ষে প্রায় ছয় হাজার (৬,০০০) বছর পূর্বে; পুরাণ নির্মাণের সূচনা হয়, এবং তা শেষ হয় প্রায় তিন সহস্র বছর (৩,০০০) পূর্বে। এরই মধ্যে; এখানে; নির্মিত হয়েছিল; বেদ, রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণের মতো বিশ্ববিখ্যাত মহাগ্রন্থগুলো। এ মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো; “কখনও কখনও; সৃষ্টিকর্তা নিজেই মানুষ্য রূপ-ধারণ করে এ ধরাধামে আবির্ভূত হন। আবার কখনওবা; অন্য রূপ-ধারণ করে ধরাধামে অবতরণ করেন। ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত আছে যে; ইতোপূর্বে তিনি দশবার অবতরণ করেছেন। যখনই; পৃথিবী পাপে ভরে উঠে; তখনই; স্রষ্টা মনুষ্য বেশে আবির্ভূত হন। ‘কৃষ্ণ’ ও ‘রাম’ সৃষ্টিকর্তার অবতারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর ভিত্তি করে বাংভারতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পুরাণ। গড়ে উঠেছে নাটক, জারি-সারি ও যাত্রাপালা। এমনকি; পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবি পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এখনও; নির্মাণ করা হচ্ছে এসব অবতারের নতুন নতুন গল্প-কাহিনী। তবে; শক্ত করেই বলা যায় যে; মহাগ্রন্থ আর নির্মাণ হচ্ছে না।

আবার; বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে স্বর্গদূত দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান স্বর্গদূত ও ২. উপমিত স্বর্গদূত।

. উপমান স্বর্গদূত (Analogical angel)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে বর্ণিত স্বর্গধাম হতে অবতরণকারীকে উপমান স্বর্গদূত বলে। রাবণ, গণেশ ও হনুমান ইত্যাদি।

. উপমিত স্বর্গদূত (Compared angel)
বাঙালী শ্বরবিজ্ঞানে ও বাঙালী পুরাণে; বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পৌরাণিক মূলক সত্তার রূপক নামে দেবতায়ন করে সৃষ্ট পৌরাণিক চরিত্রকে রূপকার্থে উপমিত স্বর্গদূত বলে। যেমন; জ্ঞান, মন, দাড়ি, শুক্র, দুগ্ধ, রজ, সুধা ও মধু ইত্যাদি।

স্বর্গদূতের পরিচয় (Identity of angel)
এটি বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর দেহাংশ পরিবারের বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা বিশেষ। কিছু কিছু সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদে স্বর্গ হতে অবতরণকারী অবতারকেই স্বর্গদূত বলা হয়। বিশ্বের মাত্র কয়েকটি সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর কমবেশী ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি; একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে; সাধারণ পাঠক-শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত; পুরাণে; স্বর্গদূতের চরিত্রকে ব্যক্তির চরিত্রের মতো নির্মাণ করা হয়। যেমন; নাসিকার চরিত্ররূপ হলো বংশীবাদক। অতঃপর; বংশীবাদক দ্বারা পুরাণে অসংখ্য উপাখ্যান নির্মাণ করা হয়েছে। পাঠক ও শ্রোতারা উপন্যাসগুলো পড়ে ও শ্রবণ করে; বংশীবাদকের প্রকৃত অভিধা সহজে বের করতে সক্ষম হয় না। এজন্য; তারা বংশীবাদককে সব সময় স্বর্গদূত রূপে মেনে নিতে বাধ্য হয়। এককথায় বলা যায়; যতক্ষণ পর্যন্ত; বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী এর পৌরাণিক মূলক সত্তা, রূপক, উপমান, চারিত্রিক ও ছদ্মনাম পরিভাষাগুলো পাঠক ও শ্রোতারা  ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে সক্ষম হবে না; ততক্ষণ পর্যন্ত; শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণের কোনকিছুই জানতে ও বুঝতে সক্ষম হবে না। তাই; শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণে ব্যবহৃত বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষাগুলোর পৌরাণিক মূলক সত্তা সম্পর্কে জানা ও বুঝা পাঠক-শ্রোতা মাত্রই একান্ত প্রয়োজন।

এখন পর্যন্ত; অনেকেরই জানা নেই যে; ব্যক্তির দেহ, আত্মা, মন, জ্ঞান ও ইন্দ্রিয়াদির রূপক ও ছদ্মনাম পরিভাষাকে স্বর্গদূত বলা হয়। সাধারণত; সাধারণ মানুষ স্বর্গদূত বলতে; সাম্প্রদায়িক ভুতুড়ে ও অশরীরী এবং সূক্ষ্মদেহধারী অবতারকেই বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃত স্বর্গদূত হচ্ছে; ব্যক্তির দাড়ি, গোঁফ, স্ফীতাঙ্গ, রজ, শুক্র, সুধা ও মধু। কারণ; এগুলো নিরাকার স্বর্গ হতে ক্রমে ক্রমে দেহ নামক মর্ত্যে অবতরণ করে। পরিশেষে বলা যায়; শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণ না জানা ও না বুঝাই হচ্ছে; আধ্যাত্মিক জ্ঞান দৈন্যতার মূল কারণ।

শ্বরবিজ্ঞান ও পুরাণ না জানা এবং না বুঝাই হচ্ছে; সারাবিশ্বের সব প্রকার সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মূল কারণ। পরিশেষে বিশেষভাবে স্মরণ করা যায় যে, তাই; চিরদিনই সাম্প্রদায়িকরা রাজনীতিকদের ক্রীড়ানক এবং চিরদিনই সাম্প্রদায়িকরা রাজনৈতিক বলির পাঁঠা।

তথ্যসূত্র (References)

(Theology's number formula of omniscient theologian lordship Bolon)

১ মূলক সংখ্যা সূত্র (Radical number formula)
"আত্মদর্শনের বিষয়বস্তুর পরিমাণ দ্বারা নতুন মূলক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়।"

রূপক সংখ্যা সূত্র (Metaphors number formula)

২ যোজক সূত্র (Adder formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে ভিন্ন ভিন্ন মূলক সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন যোজক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, গণিতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা-সহগ যোগ করে নতুন রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায় না।"

৩ গুণক সূত্র (Multiplier formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে এক বা একাধিক মূলক-সংখ্যার গুণফল দ্বারা নতুন গুণক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৪ স্থাপক সূত্র (Installer formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে; এক বা একাধিক মূলক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্থাপন করে নতুন স্থাপক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

৫ শূন্যক সূত্র (Zero formula)
"শ্বরবিজ্ঞানে মূলক সংখ্যার ভিতরে ও ডানে শূন্য দিয়ে নতুন শূন্যক রূপক সংখ্যা সৃষ্টি করা যায়; কিন্তু, মূলক সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয় না।"

< উৎস
[] উচ্চারণ ও ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
() ব্যুৎপত্তির জন্য ব্যবহৃত
> থেকে
√ ধাতু
=> দ্রষ্টব্য
 পদান্তর
:-) লিঙ্গান্তর
 অতএব
× গুণ
+ যোগ
- বিয়োগ
÷ ভাগ

Here, at PrepBootstrap, we offer a great, 70% rate for each seller, regardless of any restrictions, such as volume, date of entry, etc.
There are a number of reasons why you should join us:
  • A great 70% flat rate for your items.
  • Fast response/approval times. Many sites take weeks to process a theme or template. And if it gets rejected, there is another iteration. We have aliminated this, and made the process very fast. It only takes up to 72 hours for a template/theme to get reviewed.
  • We are not an exclusive marketplace. This means that you can sell your items on PrepBootstrap, as well as on any other marketplate, and thus increase your earning potential.

পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী

উপস্থ (শিশ্ন-যোনি) কানাই,(যোনি) কামরস (যৌনরস) বলাই (শিশ্ন) বৈতরণী (যোনিপথ) ভগ (যোনিমুখ) কাম (সঙ্গম) অজ্ঞতা অন্যায় অশান্তি অবিশ্বাসী
অর্ধদ্বার আগধড় উপহার আশ্রম ভৃগু (জরায়ুমুখ) স্ফীতাঙ্গ (স্তন) চন্দ্রচেতনা (যৌনোত্তেজনা) আশীর্বাদ আয়ু ইঙ্গিত ডান
চক্ষু জরায়ু জীবনীশক্তি দেহযন্ত্র উপাসক কিশোরী অতীতকাহিনী জন্ম জ্ঞান তীর্থযাত্রা দেহাংশ
দেহ নর নরদেহ নারী দুগ্ধ কৈশোরকাল উপমা ন্যায় পবিত্রতা পাঁচশতশ্বাস পুরুষ
নাসিকা পঞ্চবায়ু পঞ্চরস পরকিনী নারীদেহ গর্ভকাল গবেষণা প্রকৃতপথ প্রয়াণ বন্ধু বর্তমানজন্ম
পালনকর্তা প্রসাদ প্রেমিক বসন পাছধড় প্রথমপ্রহর চিন্তা বাম বিনয় বিশ্বাসী ব্যর্থতা
বিদ্যুৎ বৃদ্ধা মানুষ মুষ্ক বার্ধক্য মুমুর্ষুতা পুরুষত্ব ভালোবাসা মন মোটাশিরা যৌবন
রজ রজপট্টি রজস্বলা শুক্র মূত্র যৌবনকাল মনোযোগ রজকাল শত্রু শান্তি শুক্রপাত
শুক্রপাতকারী শ্বাস সন্তান সৃষ্টিকর্তা শুক্রধর শেষপ্রহর মূলনীতি সন্তানপালন সপ্তকর্ম স্বভাব হাজারশ্বাস
ADVERTISEMENT
error: Content is protected !!